শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

ইতালির নির্বাচনে কট্টরপন্থি মেলোনির দল বিজয়ী

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কট্টর-ডানপন্থি নেতা জর্জিয়া মেলোনি ইতালির নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এতে দেশটিতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) প্রধান মেলোনি গতকাল সোমবার বলেছেন, তিনি ইতালির সব নাগরিকের সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

বিবিসি জানায়, গত রোববার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মেলোনির দল বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তারা সবার জন্য সরকার গড়বেন এবং জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না।

রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে গতকাল কথা বলেন মেলোনি। এ সময় তার হাতে ‘ধন্যবাদ ইতালি’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ছিল। সাময়িক ফলাফল অনুযায়ী তিনি ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যপন্থি এনরিকো লেত্তার চাইতে মেলোনি অনেক এগিয়ে রয়েছেন।

কট্টরপন্থি দল এফডিআই জনতুষ্টিবাদী ও ইউরোপের সুরক্ষাবাদী আদর্শের রাজনীতি করে। এই দলে নব্য ফ্যাসিবাদীদের শিকড় রয়েছে বলে সমালোচকরা বলে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এ ধরনের কট্টর-ডানপন্থি দল ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল জর্জিয়া মেলোনির দল জিতবে। আর নির্বাচনী ফলাফলে সেরকমই দেখা যাচ্ছে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এফডিআই একটি জোটের নেতৃত্ব দেবে।

মেলোনির এ সাফল্যে ইতালির রাজনীতি ও সরকারি নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি ইতালি। আর ইউরো জোনের এটি তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। সুইডেনে কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কট্টর-ডানপন্থিরা তেমন ভালো করতে না পারলেও ইতালিতে এই আদর্শের দল বিজয়ী হওয়ায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। মেলোনির দল বিজয়ী হলেও সরকার গঠন করতে তাদের কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মেলোনি জনসাধারণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মন জয় করেছেন। তার রাজনৈতিক দল ইউরোপের ইহুদি-খ্রিষ্টান ঐতিহ্যের পক্ষে প্রচার চালানোর কথা বলে থাকে। এতে দেশটির সংখ্যালঘু বিভিন্ন গোষ্ঠী উদ্বেগ জানিয়েছে।

মেলোনির ডানপন্থি জোটে মাত্তেও সালভিনির নেতৃত্বাধীন কট্টর-ডানপন্থি লিগ এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির মধ্য-ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াও রয়েছে। তারা জোটবদ্ধভাবে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টের সিনেট ও চেম্বার অব ডেপুটিজের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

মেলোনির দল এফডিআইয়ের নাটকীয় সাফল্য জোটের অন্য শরিকদের দুর্বলতাকে আড়াল করে দিয়েছে। সালভিনির দল ৯ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছে। আরেক শরিক দল ফোরজা ইতালিয়ার প্রাপ্ত ভোট আরও কম। চার বছর আগে এফডিআই মাত্র চার শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিল। তবে এবার তারা জাতীয় ঐক্যের সরকারের বাইরে থাকায় লাভবান হয়েছে। ওই সরকার গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে।

ইতালির পরবর্তী নেতা কে হবেন সেই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা নেবেন। আর তাতে সময় লাগবে। যদিও মেলোনি নিজের ভাবমূর্তি কিছুটা নমনীয় করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন, তার রাজনৈতিক দল প্রাক্তন ফ্যাসিবাদী একনায়ক বেনিত্তো মুসোলিনির আদর্শে পরিচালিত বলে দুর্নাম আছে। মেলোনি অবশ্য সম্প্রতি ইউক্রেনের পক্ষে কথাবার্তা বলেছেন, আর ইইউবিরোধী বক্তব্য দেয়া থেকেও বিরত ছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি সমকামিতার ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ইউরোপের সীমান্ত সুরক্ষা, অভিবাসীদের রুখতে উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে বড় অঙ্কের ঋণ না দেয়ার পক্ষেও তিনি বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

গত রোববারের ভোটগ্রহণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল- মাত্র ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৮ সালের তুলনায় এটি ৯ শতাংশ কম। সিসিলি দ্বীপসহ ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল।

৩০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৩৩তম এবং ৯৯তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বিশ্বের ১১টি দেশের ৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এদের মধ্যে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানোর দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর ৩৩তম এবং ৯৯তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাজ্য এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বন্দিদের নির্যাতন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ধর্ষণের জন্য সেনাদের প্ররোচনাদানকারীসহ সহিংস কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি বলেন, ‘মানুষের মৌলিক অধিকার জঘন্যভাবে লঙ্ঘনের পেছনে যারা রয়েছেন, আমাদের নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে তাদের মুখোশ উন্মোচনের পথ আরও সুগম হয়েছে।’

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধানের কার্যালয় যুক্তরাজ্যের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য বলছে, মিয়ানমারে গত বছরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে যৌন সহিংসতাসহ দেশব্যাপী দমন-পীড়নের সঙ্গে কার্যালয়টি জড়িত। এ ছাড়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ৩৩তম এবং ৯৯তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চলাকালে রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন সহিংসতাসহ নির্যাতন চালিয়েছে ওই দুই ডিভিশন। এরা দেশব্যাপী এখনো নৃশংস তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের কারাগারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ১০ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেভল্যুশনারি আদালতের সঙ্গে যুক্ত ছয়জন রয়েছেন। ওই আদালত মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদানসহ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
ইরানে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মাহসা দেশটির ‘নৈতিকতা পুলিশের’ হাতে আটক হওয়ার পর মারা গিয়েছিলেন। দুই মাসের বেশি সময় ধরে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর সম্প্রতি নৈতিকতা পুলিশ বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় ইরান। দেশটি গত বৃহস্পতিবার এক তরুণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধে জড়িত রাশিয়ার ৯০তম ট্যাংক ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে রুশ কর্নেল রামিল রাখমাতুলোভিচ ইবাতুলিনের ওপর যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ইউক্রেনে লড়াইরত ৯০তম রুশ ট্যাংক ডিভিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের একজন সিনিয়র লেফটেন্যান্টকে যুদ্ধের সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। রাশিয়া, মিয়ানমার এবং ইরান অতীতেও মানুষের ওপর নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে লন্ডনে এসব দেশের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় পাকিস্তান, কসোভো, সার্বিয়া, নিকারাগুয়া, মালি, মলদোভা, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডার এক বা একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন।


মাস্কের রকেটে চাঁদে যাবেন ডিজে, ইউটিউবার ও কোরিয়ান র‌্যাপার

সহযাত্রীদের ছবিসহ পোস্ট দিয়েছেন জাপানি বিলিয়নিয়ার ইউসাকু মায়েজাওয়া। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় চন্দ্রভ্রমণের আয়োজন করেছেন এক জাপানি বিলিয়নিয়ার। এই প্রাইভেট ফ্লাইটে বাহন হিসেবে থাকবে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের রকেট। যাত্রী হিসেবে কমার্শিয়াল ডিজে, দক্ষিণ কোরীয় সংগীতশিল্পী (কে-পপ র‌্যাপার) এবং একজন মহাকাশ ইউটিউবার থাকবেন। এ ছাড়া এই তালিকায় ভারতীয় একজন অভিনেতাও রয়েছেন। খবর বিবিসির।

গত বছর সৃজনশীল ব্যক্তিদের জন্য বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানের পর শুক্রবার ব্যবসায়ী ইউসাকু মায়েজাওয়া এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে এই ভ্রমণে কত খরচ হবে, তা জানানো হয়নি।

আগামী বছর এই চন্দ্রভ্রমণে যাওয়া হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে এটিই হতে যাচ্ছে ১৯৭২ সালের পর মানুষের প্রথম কোনো চন্দ্রভ্রমণ।

যদিও এই ভ্রমণে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানির রকেটের জন্য অনুমতি দেয়নি। এদিকে টুইটারে এই ভ্রমণে সহযাত্রীদের ছবিসহ পোস্ট দিয়েছেন জাপানি বিলিয়নিয়ার ইউসাকু মায়েজাওয়া।

এর আগে ২০২০ সালে চন্দ্রভ্রমণে সঙ্গী হতে আহ্বান করে প্রেমিকা খুঁজেছিলেন জাপানি বিলিয়নিয়ার ইউসাকু মায়েজাওয়া।

তিনি জানান, আগামী বছর চন্দ্রভ্রমণে তার সহযাত্রীদের তালিকায় থাকা একজন হলেন, আমেরিকান ডিজে স্টিভ আওকি। আরেকজন হলেন ইউটিউবার টিম ডড। তিনিও আমেরিকান। এ ছাড়া তালিকায় থাকা কোরীয় র‌্যাপারের নাম— চো সেং হুউ। রয়েছেন— চেক প্রজাতন্ত্রের কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী ইয়েমি এ.ডি, আয়ারল্যান্ডের আলোকচিত্রী রিয়ানন অ্যাডাম, যুক্তরাজ্যের বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী করিম ইলিয়া, মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রেন্ডন হল এবং ভারতীয় অভিনেতা দেব যোশি।


আরব নেতাদের সঙ্গে চিন পিংয়ের বৈঠক

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে স্বাগত জানান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তিন দিনের সফরে গত বুধবার সৌদি আরবে গেছেন। দেশটির রাজধানী রিয়াদে তিনি আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে সৌদির পাশাপাশি বাহরাইন, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

এএফপি জানায়, চীনের নেতা রিয়াদে আরব উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠকে যোগ দেন। করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর এটিই তার প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিম বলেছেন, চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক প্রয়াসের অংশ হিসেবে চিন পিং এই সফরে গেছেন।

সৌদি আরবের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী যুবরাজ আব্দুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, সৌদি আরব ও চীন পরস্পর নির্ভরযোগ্য বন্ধুপ্রতিম দেশ হয়ে থাকবে। দুই দেশের সম্পর্কে দ্রুত অগ্রগতি হবে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের পরিচিত রয়েছে। তারা এই তেলের জন্য সৌদি আরবের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সৌদি বার্তা সংস্থা জানায়, ২০০৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরব দেশগুলোতে চীনের যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে, তার ২০ শতাংশ সৌদি আরবে।

সৌদি সংবাদমাধ্যম বলছে, চিন পিংয়ের সফরের সময় রিয়াদে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের একটি চুক্তিতে বেইজিং স্বাক্ষর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের সুরক্ষাবিয়ষক মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, সৌদি আরবকে খুব গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করে। রিয়াদে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেইজিংয়ের তরফ থেকে করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখছে। চীন ও সৌদি আরব যেসব বিষয় নিয়ে যেভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফলপ্রসূ হবে না।


রাশিয়া পাগল হয়ে যায়নি: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়ছে উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া পাগল হয়ে যায়নি এবং তার দেশ আগ বাড়িয়ে এ ধরনের হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। গত বুধবার রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের বার্ষিক বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন।

পুতিন বলেন, ‘আমরা পাগল হয়ে যাইনি। পরমাণু অস্ত্র কী জিনিস তা আমরা বুঝি। বিশ্বের মধ্যে আমাদের কাছেই সবচেয়ে অত্যাধুনিক পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। তবে এটি নিয়ে আমরা বিশ্বের সামনে আস্ফালন চালাতে যাচ্ছি না।’ পুতিন জোর দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর হামলা চালানো হলেই কেবল এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয়া হবে।’ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা নেই। তবে তুরস্কসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।’
আল-জাজিরা জানায়, পুতিনের এমন বক্তব্যের দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নিড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এমন কথাবার্তা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন।’

মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনে রুশ সেনারা আরও দীর্ঘদিন লড়াই চালাতে পারে। তবে যুদ্ধের জন্য নতুন করে সেনা তলব করা হবে না বলে তিনি জানান। বিবিসি জানায়, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাচ্ছে রাশিয়া। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, পুতিন শুরুতে হয়তো ভেবেছিলেন, তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে জয়লাভ করবেন। তবে পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনের চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার সাফল্য নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। গত সেপ্টেম্বরে বিতর্কিত গণভোটে ইউক্রেনের ঝাপোরিঝিয়া, খেরসন, দোনেৎস্ক ও লুগানস্ক রাশিয়ার অংশ বলে ঘোষণা করে রুশ প্রশাসন। তবে কিয়েভ সরকার ও পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার এমন ঘোষণাকে মেনে নেয়নি।


দক্ষিণ কোরীয়দের বয়স কমে যাচ্ছে

দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়স গণনার পদ্ধতি নিয়ে নতুন আইন হয়েছে। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের বয়স গণনার চিরাচরিত রীতি বাতিল করে বৃহস্পতিবার নতুন আইন করা হয়েছে। এখন দেশটির নাগরিকদের আন্তর্জাতিক নিয়মে বয়স গণনা করতে হবে। এই পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ কোরীয়দের বয়স সরকারি নথিপত্রে এক বা দুই বছর কমে যাবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি শিশু জন্মালে তাকে একবছর বয়সী বলে ধরে নেয়া হয়। এরপর প্রতি বছরের পয়লা জানুয়ারি তার বয়সের সঙ্গে এক বছর যোগ করা হয়। এই বয়সটিই কোরীয়রা জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে।

বয়স নির্ণয়ের আরেকটি পদ্ধতি দক্ষিণ কোরিয়ায় চালু আছে। সেটা হলো, জন্মের সময় কারও বয়স শূন্য ধরে পরবর্তী পয়লা জানুয়ারিতে একবছর যোগ করা। ধুমপান বা মদ্যপানের আইনসম্মত বয়স নির্ধারণের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এটিই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা যা ১৯৬০এর দশকের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় চিকিৎসা ও আইনি নথিপত্রে ব্যবহৃত হতে থাকে।

এখন অন্তত দাপ্তরিক কাগজপত্রে হলেও বয়স নির্ণয়ের দুই ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হতে চলেছে। নতুন আইন অনুযায়ী আগামী বছরের জুন মাস থেকে সবার বয়স আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে গুনতে হবে।

পার্লামেন্টে আইনটি পাসের বিষয়ে সরকারি দলের সদস্য ইউ সাং-বুম রয়টার্সকে বলেন, বয়স গণনায় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি চালু থাকলে যেমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তেমনি আইনি ও সামাজিক বিরোধ মেটাতে গিয়ে আর্থসামাজিক খরচও বেড়ে যায়। সেসব সমস্যা দূর করতে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুন আইন প্রণয়ণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বয়সের প্রশ্নে আমার উত্তর শুনলে বিদেশিদের চোখে সংশয় বা বিভ্রান্তি দেখেছি। এটা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। আর বয়স দু-একবছর কম হলে, সেটা কার না ভালো লাগে?’


মাত্র ১৮ বছর বয়সে মেয়র!

জেলেন স্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আমেরিকার আরকানসাসে মেয়র নির্বাচিত হয়ে সাড়া ফেলেছেন এক কলেজশিক্ষার্থী। মাত্র ১৮ বছর বয়স তার। নাম জেলেন স্মিথ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার আর্ল শহরের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ওই তরুণ।

তবে আমেরিকার ইতিহাসে ১৮ বছর বয়সী তরুণের মেয়র হওয়ার ঘটনা নতুন নয়।

২০০৫ সালে মাইকেল সেশনস নামে ১৮ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষার্থী মিশিগানের হিলসডেল শহরের মেয়র হন। সেসময় তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন, আমি তাকে বলে দিয়েছি যে, সে ভোটে জিতলেও স্কুলের ‘হোমওয়ার্ক’ তাকে করতেই হবে। আমি তাকে স্কুল থেকে বরখাস্তও করবো না। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।

ভোটে জেতার পর স্মিথ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আর্লের ভালো অধ্যায় সৃষ্টি করার এখনই সময়।’

তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি কিছু করতে চান, যেখানে যে অবস্থায় আছেন সেখান থেকেই শুরু করতে হবে। আমি ত্রিশ-চল্লিশ বছর বয়সে মেয়র হতে চাইনি। কারণ যেটা আমি এখনই পারবো, সেটার করতে অতদিন কেন অপেক্ষা করবো!’

মেয়রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন জেলেন স্মিথ। তিনি একজন প্রসিকিউটর হতে চান।


প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট পেলো পেরু

দিনা বলুয়ার্তে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:৩১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট পেল পেরু। সংসদ ভেঙে দেয়ার চেষ্টার দায়ে অভিশংসিত হয়েছেন পেড্রো কাস্টিলো। গত বুধবার অভিশংসিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয়ভাবে তার জায়গায় সমাসীন হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে। খবর বিবিসির।

এর আগে ওইদিনই কাস্টিলো ঘোষণা দেন কংগ্রেসের পরিবর্তে একটি ‘ব্যতিক্রমী জরুরি সরকার’ গঠন করা হবে।

কিন্তু আইনপ্রণেতারা তা উপেক্ষা করেন এবং জরুরি বৈঠকে তাকে অভিশংসিত করেন। এরপর তাকে আটক করা হয় এবং বিদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ৬০ বছর বয়সী আইনজীবী বলুয়ার্তে বলেছেন, তিনি ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই পদে থাকবেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাস্টিলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ওই সময়ে।

শপথ গ্রহণের পর বক্তৃতাকালে দেশকে আঁকড়ে ধরে থাকা সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে একটি রাজনৈতিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান বলুয়ার্তে। বলেন, ‘একটু বিরতি দরকার, দেশকে উদ্ধার করার জন্য সময় চাই।’

বুধবারের ঘটনাগুলো নাটকীয়ভাবে শুরু হয়েছিল যখন প্রেসিডেন্ট কাস্টিলো জাতীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

বামপন্থী কাস্টিলো তার ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী কেইকো ফুজিমোরিকে পরাজিত করে গত বছরের জুনে নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অবশ্য এটি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি চক্রান্তের অংশ বলে দাবি করেছিলেন কাস্টিলো।


গুজরাটে জয়ের পথে মোদি

আমদাবাদে বিজেপির রাজ্য সদরদপ্তরে উল্লাস। ছবি: পিটিআই
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:২০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পথে নরেন্দ্র মোদির দল ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী ১৫৪ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কংগ্রেস পেয়েছে ২০টি আসন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ) ৫টি ও অন্যান্য দল পেয়েছে তিনটি আসন।

গুজরাট বিধানসভায় মোট আসন ১৮২টি। সরকার গঠনে দরকার ৯২টি।

১৯৯৮ সাল থেকে এ রাজ্যে টানা ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এর আগে অবশ্য ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসেছিল দলটি। তবে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারেনি। গুজরাটে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি। ফলে প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: গুজরাটে মোদিই বিজেপির বড় শক্তি

গত ১ ডিসেম্বর গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হয়। দ্বিতীয় ধাপের ভোট নেয়া হয় ৫ ডিসেম্বর।

এ নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ৩৯ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। সরকার গঠনে দরকার ৩৫ আসন। হিমাচলে বিজেপি পেয়েছে ২৬টি আসন, অন্যান্য দল ৩টি। তবে আপ এখনো কোনো আসন পায়নি।


বিক্ষোভের দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: এপি
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    মাহসা আমিনির মৃত্যু

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভে জড়িত একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। চলমান বিক্ষোভের ঘটনায় দোষী হিসেবে দেশটিতে এই প্রথম কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। খবর আল জাজিরার।

বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, লম্বা ছুরি দিয়ে এক নিরাপত্তারক্ষীকে আহত করা এবং তেহরানের একটি রাস্তা বন্ধ করায় ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহসেন শেখারি। তার বিষয়ে আর কিছু জানায়নি সংবাদ সংস্থাটি।

খবরে বলা হয়, বিবাদীর করা আপিল প্রত্যাখ্যান করে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট। তার কর্মকাণ্ড ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অপরাধ’ হিসেবে উপস্থাপন করে এই সাজা দেয়া হয় ।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মাহসা দেশটির ‘নৈতিকতা পুলিশে’র হাতে আটক হওয়ার পর মারা গিয়েছিলেন।

‘শালীনতা এবং হিজাবের সংস্কৃতি’ ছড়িয়ে দিতে ইরানে নৈতিকতা পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। সংস্থাটি দাপ্তরিকভাবে ‘গাশত-ই এরশাদ’ বা ‘গাইডেন্স পেট্রোল’ নামে পরিচিত। ২০০৬ সালে শুরু হয় এই পুলিশের যাত্রা।

সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া মাহসা আমিনি গোটা দেশে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ হেফাজতেই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। ঘটেছে বহু হতাহতের ঘটনাও। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভের পর সম্প্রতি নৈতিকতা পুলিশ বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মনতাজেরির উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, বিচার বিভাগের সঙ্গে নৈতিকতা পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিষয়:

মরুর বুকে মাছ

আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রখর রৌদ্রতপ্ত মরুতে একে মরীচিকা বলে উড়িয়ে দিতে পারেন অনেকেই। কিন্তু আলোকচিত্রী খালেদ আল এনাজির তোলা ছবিটি দেখলে বিষয়টি যে মায়া বা ভ্রম নয়, তা স্পষ্ট হবে।

সৌদি আরবের আল উলা অঞ্চলে সম্প্রতি দেখা মিলেছে মাছ আকৃতির এক পাথুরে কাঠামোর। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, চিকচিকে সোনালি বালুরাশির মধ্যে বিশালাকায় একটা মাছ ভেসে আছে। এর পিঠের দুই পাশে ছোট পাখনাও রয়েছে, যা দেখে মনে হতে পারে— বিশাল এক হাঙর তার শিকারকে তাড়া করতে উদ্যত।

সম্প্রতি মরুভূমির কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের রেকর্ড তৈরির জন্য আল এনাজি ড্রোনের সাহায্যে বিভিন্ন এলাকার প্রাচীন স্থাপত্যগুলোর ছবি তুলেছেন। এই মাছ আকৃতির পাথুরে কাঠামোর নাম দিয়েছেন তিনি ‘মরুর পাথুরে মাছ’।

ছবিগুলো শেয়ার করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অতি কল্পনাপ্রবণ কথাবার্তায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এনাজি। তাদের দাবি, পাথরগুলো একটি বিশাল সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ।

এনাজি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন, এটি আসলে মাছ, যা লাখ লাখ বছর আগে জীবাশ্ম হয়ে গিয়েছিল। তবে বিষয়টি তা নয়। এটি বেলে পাথরের তৈরি একটি অবকাঠামো।’ সূত্র: সিএনএন


বাইডেন কি আবার লড়াইয়ে নামবেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ। এখন সবার নজর ২০২৪ সালে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদ শেষ হবে ওই বছর। অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সে নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রথা ভেঙে রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় আছেন ফ্লোরিডার গভর্নর আরেক রিপাবলিকান রন ডিসান্টিসও।

তবে ডেমোক্র্যাট শিবির এখনো নীরব। জো বাইডেনই প্রার্থী হবেন, নাকি নতুন কোনো মুখ হাজির হবে দৃশ্যপটে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে জো বাইডেনের হাবভাব বলছে, তিনিই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হতে চলেছেন। অবশ্য তিনি বলেছেন, ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ বছর আশিতে পা দিয়েছেন। আর দুই বছর পর যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়বে, তখন তার বয়স হবে ৮২ বছর। ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই বাইডেন সবচেয়ে বেশি বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে ওই মেয়াদ শেষে তার বয়স হবে ৮৬ বছর। অনেকেরই ধারণা, ২০২৪ সালে নির্বাচনী লড়াই এবং দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে রাষ্ট্র সামলানোর ধকল নেয়ার মতো বয়স বাইডেনের এখন আর নেই।

তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কার্যকলাপ কিন্তু বলছে অন্য কথা। গত মঙ্গলবার তিনি ওয়াশিংটন থেকে অ্যারিজোনায় গেছেন, ৮০ বছর বয়সেও দিনভর নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত থেকেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই মরুময় অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের এটিই প্রথম সফর। এরপর অবশ্য কেউ কেউ বলতে শুরু করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকলেও বাইডেন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু করেছেন। অ্যারিজোনার সফর তারই ইঙ্গিত।

হোয়াইট হাউস বলেছে, বাইডেন অ্যারিজোনায় গিয়েছিলেন ফিনিক্সে নতুন বড় একটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানার পক্ষে প্রচারণা চালাতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে গভীরভাবে বিভক্ত অ্যারিজোনা যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বাইডেন হয়তো সেই বিষয়টি আঁচ করে এখনই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাইডেনের জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছিল। তবে এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়জয়কারে যে লাল ঢেউ আসার কথা ছিল, তা আসেনি। প্রতিনিধি পরিষদ সামান্য ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেও সিনেটে তারা আসন হারিয়েছে। সে হিসাবে বাইডেনের প্রথম মেয়াদের পুরো চার বছরই অনেকটা নিষ্কণ্টক বলা চলে। এদিকে অর্থনীতিতে যতটা মন্দা আঘাত হানার পূর্বাভাস ছিল, সেটিও হয়নি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারও বেড়েছে।

অবশ্য ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় প্রথম দুই বছর যে সুবিধা বাইডেন ভোগ করেছেন, তা হয়তো পরবর্তী দুই বছরে আর পাবেন না।

তাই বলে বাইডেন বসে নেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক- উভয় অঙ্গনে তিনি তৎপর।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সিইও কাউন্সিল সম্মেলনে গত সোমবার বাইডেনের চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইন বলেছেন, ‘আমার ধারণা, নির্বাচনে লড়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ছুটি শেষে তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে মনে হচ্ছে, তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রার্থী হবেন।’

এর আগে গত রোববার ফক্স নিউজকে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্য হাকিম জেফরিস বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই চাই, তিনি (বাইডেন) নির্বাচন করুন।’ নতুন প্রতিনিধি পরিষদে হাকিম জেফরিস হবেন সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের নেতা।

এদিকে গত সপ্তাহে আরেক জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা জেমস রুজভেল্ট জুনিয়র বলেছেন, ‘বিষয়টা পরিষ্কার (বাইডেন লড়বেন)।’ বাইডেনের বন্ধু সিনেটর ক্রিস কুনস এএফপিকে একই কথা বলেছেন।

অবশ্য বাইডেন প্রার্থী হবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহলের নয়, বড় ভূমিকা থাকবে তার চিকিৎসক ও পরিবারের। থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে সম্প্রতি আটলান্টিক সমুদ্র তীরবর্তী নানটাকেট রিসোর্ট দ্বীপে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের জড়ো করেছিলেন বাইডেন। সেখানে কিছু আলোচনা হয়েছে। বড়দিনের ছুটিতেও আলোচনা হবে। আর তাতে বড় প্রভাব থাকবে ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনের। প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনও আসবে খুব শিগগির। এর সবকিছুই পরবর্তী নির্বাচন ঘিরে তার সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখবে।

অবশ্য ৮০ বছর বয়সী বাইডেনের কার্যকলাপে বয়সের ছাপ এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। হাঁটার সময় একটু এলোমেলো হয়ে যাওয়া, কখনো মুখভঙ্গিতে অমনোযোগের ছাপ কিংবা কথা বলতে কখনো কখনো আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে বাইডেনের সিদ্ধান্তগ্রহণ কিংবা রাষ্ট্রপরিচালনায় বয়স এখনো কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেই বাইডেনের চটপট জবাব, ‘আমাকে লক্ষ্য করুন।’

এক বছর আগে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সফলভাবে সামাল দিতে পুরোপুরি সক্ষম।

প্রশ্নটা হলো, এখনো কি সে ঘোষণা সত্য? জবাবটা জানা যাবে খুব শিগগির।

বিষয়:

করোনাভাইরাস: চীনজুড়ে বিধিনিষেধ শিথিল

চীনের সাংহাইয়ের একটি এলাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হচ্ছে।ছবি: বিবিসি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিক্ষোভের মুখে অবশেষে দেশজুড়ে কঠোর কোভিড বিধিনিষেধের নিয়ম শিথিল করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। চীনা জনগণ এখন থেকে করোনা টেস্ট ছাড়াই দেশের ভেতর স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে। এ ছাড়া লকডাউনের নিয়ম বহাল থাকলেও তা খুবই সীমিত পরিসরে দেয়া হবে।

চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এখন থেকে মৃদু বা উপসর্গহীন করোনা রোগীদের সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে যেতে হবে না। তারা বাড়িতে বসেই করোনা পরীক্ষা করতে পারবেন। এ ছাড়া হাসপাতাল এবং স্কুল ছাড়া অন্যান্য জনসমাগমস্থলে করোনার পিসিআর পরীক্ষা ছাড়াই যাওয়া যাবে। লকডাউনের নিয়মও অনেক সহজ করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে এমন নির্দিষ্ট ভবন, ফ্ল্যাটে লকডাউন দেয়া হবে। একটি ভবনে কেউ আক্রান্ত হলে পুরো এলাকা বা শহরে লকডাউন আরোপ করা হবে না। লকডাউনের আওতাধীন ভবনে যদি নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হন, তাহলে পাঁচ দিন পর বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হবে। যদি স্কুলে দু-তিনজন সংক্রমিত হয়, তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। তবে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে স্কুল বন্ধ করা যেতে পারে।

বিবিসি জানায়, করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় তিন বছর ধরে চীনের বাসিন্দাদের কঠোর বিধিনিষেধের বেড়াজালে জীবন কাটাতে হয়েছে। এবার জীবনযাত্রা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘অবশেষে! সংক্রমিত হওয়া বা কারও সংস্পর্শে যাওয়া নিয়ে আমি আর চিন্তা করব না।’ আরেকজন লেখেন, ‘কেউ কি আমাকে ব্যাখ্যা করতে পারেন কী ঘটছে? কেন হঠাৎ এত বড় পরিবর্তন?’ তবে কেউ কেউ সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রবীণদের মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

চীনে এখন প্রতিদিনই ৩০ হাজারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণের এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটি কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা থেকে পিছু হটল। এমন বড় পরিবর্তনে আভাস মিলছে যে, চীন অবশেষে তার জিরো কোভিড পলিসি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো তারা ‘ভাইরাস নিয়ে বাঁচতে’ চাইছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, লকডাউনের আওতাধীন ভবনে জরুরি প্রস্থানব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে হবে, যেন অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বের হয়ে যেতে পারেন। লকডাউনের মধ্যে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলের উরুমকি শহরে সম্প্রতি একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, লকডাউনের কারণে এসব বাসিন্দা ভবনটিতে থেকে বের হতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিস সেখানে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় ‘জিরো কোভিড’ পলিসির বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে মানুষ। চীনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেন। চীনে এ ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বিরল। বিক্ষোভের পর থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার ইঙ্গিত দেয় সরকার। আস্তে আস্তে বেইজিং, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ শিথিল করা শুরু হয়। এবার দেশজুড়েই করোনা বিধিনিষেধ শিথিল করল সরকার।


জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল তালেবান

ফাঁসির প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তানে বুধবার জনসমক্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কট্টরপন্থি সংগঠন তালেবান গত বছর দেশটির শাসনক্ষমতায় ফিরে আসার পর এটিই প্রথম প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

তালেবানের একজন মুখপাত্র জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম ফারাহ প্রদেশের একটি জনাকীর্ণ স্টেডিয়ামে তাজমির নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাজমির একজনকে খুনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তালেবান সরকারের বেশিরভাগ শীর্ষ মন্ত্রীসহ অনেক নেতা ওই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিবিসি জানায়, বিচারকদের শরিয়া আইন পুরোপুরি কার্যকর করার নির্দেশ দেয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল। তালেবান গত বছর ক্ষমতায় আসার পর আশ্বাস দেয় যে, তারা আগের মতো কট্টর শাসনব্যবস্থা চাপাবে না। তবে তারা যে কথা রাখেনি তা বুধবারের জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত মাসে লোগার প্রদেশে একটি জনাকীর্ণ ফুটবল স্টেডিয়ামে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়। এবার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা স্বীকার করলো তালেবান।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, দণ্ডাদেশ কার্যকরের সময় সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন বিচারপতি, সামরিক সদস্য এবং আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। আফগানিস্তানের পাপ-পূণ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ খালেদ হানাফিও এসময় উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হাসান আখুন্দ উপস্থিত ছিলেন না বলে তালেবান মুখপাত্র জানান।

তালেবান জানায়, হেরাত প্রদেশের বাসিন্দা তাজমির প্রায় পাঁচ বছর আগে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনটি তালেবান আদালতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তালেবানের সুপ্রিম লিডার মোল্লা আখুন্দজাদা তাজমিরের সর্বোচ্চ সাজা অনুমোদন করেন। এদিকে নিহত মোস্তফার মা বিবিসিকে জানান, তালেবান নেতারা তার কাছে এসে তাজমিরকে ক্ষমার করা যায় কি না তা বিবেচনা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাস্তবায়নের পক্ষে অনঢ় ছিলেন।


banner close