বিষয়টি এমন নয় যে, পুরুষ মানুষ গৃহস্থালি কাজ করেন না বা করতে চান না। তবে বাস্তবতা এমন যে, গৃহস্থালি কোন কাজগুলো করতে হবে বা করা প্রয়োজন, তাই আসলে বুঝে উঠতে পারেন না তারা। আর এই ‘বুঝে ওঠার’ ব্যাপারটিই সহজ করার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে চান অনেক পুরুষ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহস্থালি কাজে জেন্ডার বৈষম্য প্রকট। নারী বাইরের কাজ করলেও গৃহস্থালি কাজের ৭০ শতাংশ বা পুরোটাই তাকে করতে হয়। আর সন্তান লালন-পালনের অন্তত ৬৬ শতাংশ তো করতে হয়ই।
বিষয়টি মূলত নজরে আসে কোভিড মহামারি চলাকালে। সে সময় নারী, পুরুষ উভয়কেই বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করতে হয়েছে। ফলে ঘরে তারা একই পরিমাণ সময় কাটিয়েছেন এবং গৃহস্থালি কাজ নিয়ে উভয়ের মনোভাবের পার্থক্যগুলোও পরিষ্কার হয়ে ধরা দিয়েছে।
কাজ শেষে বাড়ি ফিরে অপরিচ্ছন্ন ঘর দেখলেই তা পরিষ্কার করার কথা মাথায় আসে নারীর। অথচ সেই অপরিচ্ছন্নতা পুরুষের দৃষ্টি না এড়ালেও পরিচ্ছন্নতার কাজটি যে করতে হবে, তা তার মাথাতেই আসে না।
একই ঘটনা রান্নাঘরের ক্ষেত্রেও। রান্নাঘরে ঢুকলেই নারী খুঁজে পাবেন কিছু নোংরা বাসনকোসন। আর সেগুলো ধুতে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন তিনি। অথচ পুরুষ মানুষের মাথায় সেগুলো ধোয়ার চিন্তা আসবেই না।
ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের টম ম্যাকক্লিল্যান্ড বলেন, ‘ঘরকন্নার কাজে নারী-পুরুষ বৈষম্য বিদ্যমান, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর অধিকাংশ পুরুষই এই কাজগুলোর ব্যাপারে অন্যমনস্ক, তার মানে হচ্ছে প্রথাগতভাবে যেসব ব্যাখ্যা এতদিন দিয়ে এসেছি আমরা, সেগুলোও সম্পূর্ণ নয়।’
তবে মানুষের উপলব্ধি বা অনুধাবন মূলত চর্চার দ্বারা সমৃদ্ধ হয়। আর মানুষ চাইলেই নিজেদের ভালো অভ্যাসের দ্বারা প্রশিক্ষিত করতে সক্ষম হতে পারেন, বলেন ম্যাকক্লিল্যান্ড।
‘আপনি যখন একদিন চায়ের কেটলিতে চা বানাতে গিয়ে ময়লা দেখে সচেতনভাবে সেটি পরিষ্কার করে নেবেন, এরপর থেকে যখনই আপনি চা বানাতে যাবেন, সেটি ময়লা থাকলে নিজের অজান্তেই তা আপনি পরিষ্কার করে ফেলবেন। তাই আসলে নিজেকে একটু একটু করে প্রশিক্ষিত করার মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারি, তা সে বড় কোনো কাজ হোক, বা গৃহস্থালির ছোট কাজ।’ ম্যাকিক্লিল্যান্ড বলেন।
এ কারণেই আসলে বিভিন্ন দেশে আজকার পিতৃত্বকালীন ছুটি দিচ্ছে সরকার। চার বা ছয় সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো আপনি নবজাতকের যত্ন নিলেন, আর তারপর বাকি জীবনের জন্য তার যত্নের বিষয়গুলো স্ত্রীর হাতে ছেড়ে দিলেন, তা নয়। এই ছুটি বরং আপনাকে একটু একটু করে প্রশিক্ষিত করবে, কীভাবে সন্তানের যত্ন নিতে হয়, কীভাবে স্ত্রীকে সহায়তা করতে হয়- এ বিষয়গুলো বুঝতে এবং তা অব্যাহত রাখতে।
সূত্র: এএফপি
লেবাননের ‘প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে দেশটির সরকার, জনগণ এবং হিজবুল্লাহর প্রতি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি এবং হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেমের কাছে পাঠানো পৃথক বার্তায় তিনি হিজবুল্লাহ ও লেবাননের প্রতি তেহরানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০০০ সালে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান সর্বদা পাশে থাকবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করার জন্য হিজবুল্লাহর তীব্র নিন্দা জানান এবং দেশটির সাধারণ জনগণকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৩,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনায় লেবানন যুদ্ধের অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা কাটেনি।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে লেবাননের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত রবিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননসহ সবকটি ফ্রন্ট থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘আত্মরক্ষার অধিকারের’ বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেছেন। তবে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের এই অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা লেবাননকে একা ফেলে যাবে না। যুদ্ধ অবসানের জন্য যেকোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় লেবানন ও হিজবুল্লাহর হাত ইরান শক্ত করে ধরে রাখবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে সৌদি আরবে আজ সোমবার (২৫ মে/৮ জিলহজ) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আচার-অনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হজযাত্রীরা মক্কা থেকে তাঁবুর শহর মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ শেষে হজযাত্রীরা বাসে চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে মিনার দিকে রওনা হন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ স্থানীয় নাগরিক। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই হজ পালন সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার আবশ্যিক।
হজের এই আধ্যাত্মিক কার্যক্রম মোট ছয় দিনব্যাপী স্থায়ী হবে। সাধারণত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে শুরু হয়ে ঈদের দুই দিন পর পর্যন্ত এই আনুষ্ঠানিকতা চলে। সৌদি আরবে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেই অনুযায়ী ২৯ মে হবে এবারের হজের শেষ দিন।
হজযাত্রীদের যাত্রা ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবাসন, আতিথেয়তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জিলকদ মাস থেকে এ পর্যন্ত হাজিদের তাঁবু ও সেবাকেন্দ্রগুলোতে ৮৩ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। মিনার ক্যাম্পে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ তদারকি দল মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে।
পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, সোয়াত থেকে পেশোয়ারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে চালক সেটি রাস্তার পাশে থামিয়ে দেন। বাসের মেরামতের অপেক্ষায় যাত্রীরা যখন নিচে অবস্থান করছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাস ও যাত্রীদের সজোরে ধাক্কা দেয়।
উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল আহমাদ ফাইজি হতাহতের তথ্য প্রদান করে বলেন, ‘অন্তত ১৭ জন নিহত হন এবং ১০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।’ এছাড়া চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক মুহাম্মাদ আলিও নিহতের এই সংখ্যাটি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বাসের যাত্রীদের অধিকাংশই আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সাধারণত পাকিস্তানে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের শিথিলতা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং সড়ক নিরাপত্তার নিম্নমানের কারণে প্রায়ই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ অবসানের পর আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই বিশেষ অনুরোধ জানান। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফোনালাপে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পর তার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, যা মূলত ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিরই একটি বর্ধিত রূপ। বিশেষ করে একটি সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে এই পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতারা যুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ অন্য নেতারা এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে নেতারা ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’ ফোনালাপ চলাকালীন ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সংকট মিটে যাওয়ার পর তিনি আশা করেন যারা এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেননি, তারা দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। তবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এই অনুরোধটি এতটাই অভাবিত ছিল যে, আলোচনার মাঝে এক পর্যায়ে স্তব্ধতা নেমে আসে। ওই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অনুরোধের পর লাইনে সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল এবং ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তারা এখনও লাইনে আছেন কি না।’ এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী তদারকির দায়িত্ব জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পরদিন রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিখেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, যা ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিতে তাদের যোগদানের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে।’ তিনি এমনকি সুদূর ভবিষ্যতে ইরানকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও তার পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে আরব নেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের নীতি নিয়ে সন্দিহান এবং তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে অনড় প্রতিশ্রুতি দাবি করে আসছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা একদম সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সাথে আয়োজিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে চীন সফরে রয়েছেন।
বেইজিংয়ে চীনা নেতৃত্বের সাথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনার সময় সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাশে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন।
এই বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্ব একটি অত্যন্ত সংকটময়, সংবেদনশীল ও জটিল মুহূর্ত অতিক্রম করছে। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন এবং ইরান তাদের ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে রাজি হয়েছে বলেও জানা যায়।
চলমান এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আশার বাণী শুনিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান সমস্ত প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো এখন সঠিক ট্র্যাকেই অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি তা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চীন যেভাবে বরাবর সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য তিনি চীনা নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
আজ সোমবার ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সারা বিশ্ব থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইহরামের সাদা পোশাকে এখন মিনার তাঁবুর নগরীতে অবস্থান করছেন। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হাজিরা ধাপে ধাপে মক্কার পবিত্র কাবা শরীফ থেকে মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো হজ এলাকা, যা বিশ্ব মুসলিমের এক অনন্য ও আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ অর্থাৎ আজ সারা দিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করবেন। সেখানে অবস্থানকালে তারা ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। আগামীকাল ৯ জিলহজ মঙ্গলবার ভোরে হাজিরা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন পালনের জন্য মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।
এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে দোয়া ও মোনাজাতে অবস্থানের পর হাজিরা মুজদালিফার দিকে যাবেন এবং সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ বড় জামরায় শয়তানের উদ্দেশে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হজের প্রাথমিক কার্যাবলি সম্পন্ন করবেন হাজিরা। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান শেষে পুনরায় মক্কায় ফেরার মাধ্যমে হজের সফর শেষ হবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে হজ পালনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার, তবে এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হাজিদের এই বিশাল সমাবেশ সামলাতে সৌদি আরব সরকার মিনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক তাঁবু ও উন্নত স্যানিটেশনসহ হাজিদের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
পবিত্র হজের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল করতে সৌদি আরব প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটির বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ জানিয়েছেন, হাজিদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতে সব বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থার মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের ফলে এবারের হজ আরও শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মিনা থেকে আরাফাত পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও হাজিদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভারতে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। গত দশ দিনে দেশটিতে চতুর্থবারের মতো বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য। গতকাল শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৬১ রুপি এবং ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৭১ রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই দফায় দাম বাড়ার ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম একশ রুপির গণ্ডি ছাড়িয়ে ১০২ দশমিক ১২ রুপিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে, বর্তমানে যা প্রতি লিটার ৯৫ দশমিক ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ভারতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ দশমিক ৮৭ রুপি বেড়ে বর্তমানে ১১৩ দশমিক ৫১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৮০ রুপি বাড়ায় কলকাতায় তা বিক্রি হচ্ছে ৯৯ দশমিক ৮২ রুপিতে। মুম্বাইতে প্রতি লিটার পেট্রোল এখন ১১১ দশমিক ২১ রুপি এবং ডিজেল ৯৭ দশমিক ৮৩ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে। চেন্নাইয়েও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১০৭ দশমিক ৭৭ এবং ৯৯ দশমিক ৫৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত দশ দিনের ব্যবধানে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম মোটের ওপর সাত রুপিরও বেশি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সংঘাতের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় তেল সরবরাহকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ও ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রেখেছিল। এর ফলে প্রতিদিন সংস্থাগুলোর প্রায় এক হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ বাড়ার সরাসরি প্রভাবে ইতিমধ্যে বাজারে দুধ, রুটিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনগুলোতে ভারতের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, ভারতে গত ১৫ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ১৫ মে এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ রুপি বাড়ার পর ১৯ মে ও ২৩ মে আরও দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেলের এই ঊর্ধ্বগতি কবে নাগাদ স্থিতিশীল হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছে না তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তেহরানের সাথে বিদ্যমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা চুক্তি ‘আজই’ সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বর্তমানে ভারত সফরে থাকা রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘গত রাতে কিংবা আজ কোনো অগ্রগতির খবর আসতে পারে বলে আমরা ভেবেছিলাম। তবে এ নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না।‘ একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের আত্মরক্ষার বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, ‘ইসরাইলের নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার সবসময়ই আছে। যদি হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বা হামলা চালায়, তাহলে জবাব দেওয়ার অধিকার তেল আবিবের অবশ্যই রয়েছে।’
দিল্লি ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সাথে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো করবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার (২৪ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প পরিষ্কার করেন যে, সংশ্লিষ্ট চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত ও প্রত্যয়িত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ বলবৎ থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শনিবারের তুলনায় ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান কিছুটা সংহত, যদিও তিনি ইতিপূর্বে দাবি করেছিলেন যে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সেনাসদস্য বহনকারী একটি ট্রেনে হামলার ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকালে ট্রেনটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। হামলার দায় স্বীকারে বিবৃতি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
ওই কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় সংঘটিত এ হামলায় নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক।
ঘটনার পর প্রকাশিত ছবিতে একটি ট্রেনের বগিকে দুমড়েমুচড়ে পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। লোকজনকে ধ্বংসস্তূপের ওপর উঠে প্রিয়জনদের খুঁজতে দেখা গেছে। রক্তাক্ত আহতদের স্ট্রেচারে করে লাইনচ্যুত বগি থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এ সময় সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পাহারায় ছিলেন।
পরিচয় প্রকাশ না করে আরেক কর্মকর্তার বরাতে এএফপি জানায়, সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বহনকারী ট্রেনটি কোয়েটা থেকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে যাচ্ছিল। কোয়েটার চামান পাটাক এলাকায় একটি সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ট্রেনের একটি বগিতে আঘাত হানে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
ওই কর্মকতা বলেন, বিস্ফোরণে ট্রেনের জানালার কাচ উড়ে যায় ও আশপাশের কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়। সেনাসদস্যরা আসন্ন ঈদ উদযাপনের জন্য ভ্রমণ করছিলেন।
আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে দেশটিতে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া বিবৃতিতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এটিকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ বলেছে।
বিএলএ বলেছে, সকালে বেলুচ লিবারেশন আর্মির ফিদায়ী (আত্মত্যাগী) ইউনিট মজিদ ব্রিগেড একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিদায়ী হামলায় কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখলদার বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই অভিযানের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র ও আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম প্রদেশ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রায় সব সূচকেই এটি দেশের অন্য অংশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, স্থানীয় জনগণকে উপকৃত না করে পাকিস্তান সরকার প্রদেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিপুল খনিজ সম্পদ ব্যবহার করছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের ২০ দিন পর মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক লাইভে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। আরও একটি আসনে জিতছে বিজেপি। এদিনই ফেসবুক লাইভে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাংবাদিক সম্মেলন বাদে, ফল প্রকাশের পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি মমতাকে। এবার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেছেন মমতা। তার দাবি, ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের, কিন্তু পাশা উল্টে দেওয়া হয়েছে। খবর টিভি নাইন বাংলার।
ফেসবুক লাইভে এসে তিনি নির্বাচনের ফলাফল, দলীয় পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
লাইভে মমতা বলেন, এটা কি সত্যি নির্বাচন হয়েছে? নাকি প্রহসন হয়েছে? জাতীয় নির্বাচন কমিশন ডেটা হ্যাকিং করেছে। আমাদের কাছে খবর আছে। আমাকে, আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাশাটা উল্টে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১৫০ সিটে। আমরা ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পেতাম। মানুষের কোনও দোষ নেই। এইভাবে কোনও রাজ্য চলতে পারে না। অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ ভাবছেন আমার চাকরিটা কী হবে, কেউ ভাবছেন আমার ব্যবসাটা কী হবে!
যুবভারতীর মূর্তি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ছোট ছোট শিশুরা ওখানে সেলফি তুলত। ফিফা অ্যাপ্রিসিয়েট করেছিল। সেটা ভেঙে দিলেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা আজান চান না। শব্দের মাত্রা বেঁধে দিন। সবার জন্য একই নিয়ম করুন। কারও অধিকার আপনি কাড়তে পারেন না। যে সুদীপ পোল্লে, পহেলগাঁও-এর ঘটনায় মৃতের পরিবারের দেখাশোনা করেন, তাকে গ্রেপ্তার করলেন। আপনারা ভোট লুট করেছেন। আমাদের দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছেন, হকারদের জীবন-জীবিকা কেড়ে নিয়েছেন। পার্টি অফিস ভেঙে দিয়েছেন।
মমতা বলেন, ইভিএম মেশিনের রিপোর্ট চাই আমাদের। উপরওয়ালা দেখছে। আপনি বাংলাকে লুট করেছেন। আপনার দিল্লি চলে যাবে। আইন সবার জন্য এক। আপনারা সত্যি জিতলে অত্যাচার করতেন না। আমার অস্ত্র আমার ফেসবুক। আমি এখন কোনও মিডিয়ায় কথা বলব না। আগামী দিনে কিছু বলার থাকলে ফেসবুক লাইভেই বলব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ‘জনগণের রায়’ হিসেবে মেনে নিচ্ছি, তবে কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা প্রশাসনিক প্রভাব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভোটের ফলকে প্রভাবিত করেছে।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের পাশে থাকলেই আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি দলীয় স্তরে কিছু পরিবর্তনের আভাস দেন।
মমতা আরও জানান, আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নীতিগত সমালোচনা তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফেসবুক লাইভ ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা— দল পুনর্গঠনের ইঙ্গিত এবং কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা। তবে বিরোধী শিবির মমতার এই বক্তব্যকে ‘পরাজয় ঢাকার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টার স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, সে বিষয়ে নাগরিকদের মতো জানতে আগামী অক্টোবর মাসে একটি গণভোট হতে যাচ্ছে। এটি শুধু আলবার্টার ভবিষ্যৎই নয়, বরং পুরো কানাডার ঐক্যের জন্যও গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ভোটাভুটিতে ঠিক হবে প্রদেশটি কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চায় নাকি স্বাধীনতা লাভের জন্য একটি চূড়ান্ত আইনি গণভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। গত ২১ মে এক টেলিভিশন ভাষণে আলবার্টার নেতা প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই ভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবিভক্ত কানাডাকে সমর্থন করেন বলে জানিয়েছেন।
কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশটিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আবেগ প্রবল হচ্ছে। স্বাধীনতা নিয়ে একটি গণভোট আয়োজনের দাবিতে অন্তত ৩ লাখ মানুষ একটি পিটিশন সই করার পরই ভোটাভুটির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণভোটের প্রশ্নটা কী হবে?
ভোটারদের জন্য প্রশ্নটা শুধু সাধারণ কোনো ‘থাকবেন’ নাকি ‘যাবেন’ গোছের হবে না। এর বদলে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে: ‘আলবার্টা কি কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি আলবার্টা সরকারের উচিত কানাডার সংবিধান অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত প্রাদেশিক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা—যাতে ঠিক করা যায় যে আলবার্টা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে কি না?’
প্রিমিয়ারের দপ্তর থেকে বিবিসিকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ভোটাররা মূলত দুটি বিকল্প পাবেন—‘ক’ বিকল্প হলো কানাডার অংশ হিসেবে থাকা, আর ‘খ’ বিকল্প হলো একটি আইনি গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করা।
কেন এই পরিস্থিতি?
এই ভোটাভুটির সূত্রপাত মূলত কিছু আলবার্টাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, কানাডা থেকে আলবার্টার পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যাওয়া উচিত।
গত এক বছর ধরে তারা পুরো প্রদেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মতামত বোঝার জন্য অনেক জনসভার আয়োজন করেছিলেন। এরপর, গত বছরের শুরুতে আলাদা হওয়ার দাবিতে সাধারণ মানুষের সই করা একটি পিটিশন তৈরি করেন তারা। সেখানে তিন লাখেরও বেশি মানুষ সই করেছিলেন।
তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে আলবার্টার একটি আদালত ওই পিটিশনটি আটকে দিয়েছিল। আদালতের রায় ছিল—নাগরিক পিটিশন আইনের অধীনে স্বাধীনতা ভোটের জন্য মানুষের সই জোগাড় করতে সরকার যে অনুমতি দিয়েছিল, তাতে কিছু আদিবাসীদের (ফার্স্ট নেশন্সের) সঙ্গে কোনো কথা বলা হয়নি। যদি আলবার্টা সত্যি সত্যি একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে আদিবাসীদের জায়গাজমি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
এদিকে, আলবার্টার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী টমাস লুকাজুকের নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ ‘ফরেভার কানাডিয়ান’ নামে আলাদা না হওয়ার পক্ষে একটি পিটিশন খুলেছিল। সেখানে প্রদেশটির প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছিলেন।
আলবার্টার বর্তমান জনসংখ্যা মাত্র ৫০ লক্ষের সামান্য বেশি। প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছিলেন যে তিনি ওই আদালতের রায় নিয়ে ‘খুবই চিন্তিত’ এবং কোনো একজন বিচারককে ‘আলবার্টার লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠকে থামিয়ে দিতে’ দেবেন না।
তার সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলেও তিনি জানান। তবে তিনি এও বলেছিলেন যে, ‘এই ইস্যু নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা মানেই এই অত্যন্ত আবেগময় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কটিকে দীর্ঘায়িত করা।’
তাই কোনো আইনি সিদ্ধান্তের পরোয়া না করে স্বাধীনতাকামীদের প্রবল চাপের মুখেই তিনি গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এই স্বাধীনতাকামী কারা এবং তারা আসলে কী চান?
আলবার্টার এই স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের সামনে রয়েছেন মূলত দুজন ব্যক্তি—বনিভিল শহরের একটি অস্ত্রের দোকানের মালিক মিচ সিলভেস্টার এবং ক্যালগেরির একজন আইনজীবী জেফরি রাথ। আন্দোলনের পথ ধরে আরও অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
তারা দুজনেই ‘আলবার্টা প্রোসপারিটি প্রজেক্ট’ বা ‘আলবার্টা সমৃদ্ধি প্রকল্প’ নামের একটি গ্রুপের সাথে যুক্ত। তাদের বিশ্বাস, লিবারেল পার্টির (কানাডার সরকার) দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আলবার্টার অর্থনীতি খুব বেশি সামনে এগোতে পারেনি।
তাদের রাগের মূল কারণ হলো পরিবেশ সংক্রান্ত সরকারি নানা কড়াকড়ি নীতি বা নিয়মকানুন। তাদের মতে, এসব নিয়মের কারণে তেলসমৃদ্ধ আলবার্তায়, যেখানে মানুষ একটু বেশি রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ ভাবাপন্ন, সেখানে পাইপলাইন বানানো এবং নিজেদের তেলের বড়সড় সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার ভারতে পৌঁছেছেন। এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপড়েন শুরু হয়। এ ছাড়া পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সুসম্পর্ক গড়ার কারণে দিল্লির মুখ ভার। এই ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রুবিওর এই সফর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
বিবিসি লিখেছে, রুবিওর সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সম্প্রতি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় রুবিও ভারত সফরে এলেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে এটিই তার প্রথম সফর।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবতরণ করেন রুবিও। এখানে তিনি মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্থার সদরদফতর পরিদর্শন করেন। রুবিও নিজেই রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। দূতাবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে নয়াদিল্লিতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মোদি বলেন, বৈশ্বিক কল্যাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, রুবিও শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিকজুড়ে ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য আলোচনা করেছেন।
বৈঠকের বিবরণ জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর লিখেছেন, ‘নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলো আমাদের উভয় দেশকে শক্তিশালী এবং একটি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিককে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে রুবিওর প্রচেষ্টা
শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন সৃষ্টির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্য বিষয়ে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি। দিল্লি সফর করতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে আসছিল মোদি সরকার। কিন্তু দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের শুল্ক নিয়ে টানাপড়েনের কারণে ট্রাম্পের আর ভারত সফরে আসা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধসহ অন্যান্য কারণে ট্রাম্পের সফরটি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টায় ইসলামাবাদ একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি নতুন অস্বস্তির কারণ। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ভারতকে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
রুবিও বলেন, ‘ভারতের জ্বালানি সরবরাহে নিজেদের অংশ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আলোচনা করছে। ভারত যতটা কিনবে, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই।’
পরামর্শক সংস্থা দ্য এশিয়া গ্রুপের সাবেক দক্ষিণ এশিয়া নীতি বিশেষজ্ঞ বসন্ত সাঙ্ঘেরা মনে করেন, ‘ট্রাম্পের বেইজিং সফর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।’ সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থিঙ্কট্যাঙ্কের রিচার্ড রসো আশা করেন, ‘দুদেশের সম্পর্কের বর্তমান নিম্নমুখী গতিপথ পরিবর্তনে রুবিও খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবেন।’
ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। গত শনিবার পানামা সফরের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি ভেনিজুয়েলার প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে বৈঠক করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মাচাদো বলেন, ‘আমি প্রার্থী হবো।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনিজুয়েলা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তার বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পথ তৈরি করবে।
মাচাদো বলেন, এখানে একটি লক্ষ্যই রয়েছে। আর তা হলো- আমাদের দেশকে মুক্ত করা এবং স্বাধীন ও সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা, যেখানে সব ভেনেজুয়েলাবাসী ভোট দিতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ওপর বিশ্বাস রাখি, আস্থা রাখি ও অর্জিত অগ্রগতির জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
সোমবার পানামায় অবস্থানকালে মাচাদো দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এবং জাতীয় পরিষদে সফর করবেন। ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করার পর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনো কোনো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তবে এ অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে গোপন আলোচনা চলছিল।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একটি সূত্র জানায়, মাদুরো ক্ষমতা ছাড়লে ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেমন হবে, এসব ছিল মূল আলোচনার বিষয়। তবে ওই আলোচনায় বিরোধী নেত্রী মাচাদোর নাম একবারের জন্যও আসেনি। মাদুরো-পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনাতেই তাকে বিবেচনা করা হয়নি।
অথচ মাচাদো দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের কঠোর সমালোচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পক্ষে সরব অবস্থান নিয়েছিলেন। মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট বলেছিলেন, মাচাদোর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট জনসমর্থন নেই।
কয়েক সপ্তাহ পর মাচাদো হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তাকে উপহার দেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানান, এতে ট্রাম্পের অবস্থান বদলায়নি।