বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনকে অগ্রাহ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের পথে সাই

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। ছবি: রয়টার্স
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ২৩:১১

চীনের হুমকি অগ্রাহ্য করে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন সাই। সফর শুরুর আগে চীনকে ইঙ্গিত করে সাই বলেছেন, ‘বাইরের চাপে বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ রাখা বন্ধ করবে না তারা।’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎকার নিয়ে চীনের হুঁশিয়ারিকে উড়িয়ে দেন সাই।

রয়টার্স জানায়, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই মূলত গুয়েতেমালা ও বেলিজে যাবেন। তবে যাত্রাপথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এবং ফিরতি পথে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিরতি নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রাবিরতির সময়টুকুই সাইয়ের নির্ধারিত ১০ দিনের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাককার্থির সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ম্যাককার্থির সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই সাক্ষাৎ করলে প্রতিশোধ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। তবে চীনের চোখ রাঙানিকে খুব একটা পাত্তা না দেয়ার বিষয়টি সাইয়ের কথায় পরিষ্কার হয়ে গেছে।

চীনের নাম উচ্চারণ না করেই তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাই বলেন, ‘বাইরের কোনো চাপ আমাদের বিশ্বের কাছে যাওয়ার সংকল্পকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। আমরা স্থির ও আত্মবিশ্বাসী। আমরা কারও কথা মেনেও নেব না আবার কাউকে উসকানিও দেব না। তাইওয়ান দৃঢ়ভাবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে এবং বিশ্বের কাছে যাবে। যদিও এই পথ কঠিন, তবে তাইওয়ান একলা নয়।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পথে সাইয়ের যাত্রার কিছু সময় পরই বেইজিংয়ে চীনের তাইওয়ান-বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝু ফেংলিয়ান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঝু ফেংলিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রাবিরতির পথে সাই বিমানবন্দরে বা হোটেলে পরের বিমানের জন্য অপেক্ষায় থাকবেন ব্যাপারটা এমন নয়। আদতে তিনি এই সময়ে মার্কিন কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।’

ঝু ফেংলিয়ান আরও বলেন, যদি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ম্যাককার্থির সঙ্গে সাই যোগাযোগ করেন, তাহলে সেটা হবে একক চীন নীতির গুরুতর লংঘন করার আরেকটা উসকানি, যা চীনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ক্ষতি করবে এবং তাইওয়ান প্রণালির শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। চীনের তাইওয়ান-বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এগুলোর দৃঢ় বিরোধিতা করছি এবং অবশ্যই পাল্টা পদক্ষেপ নেব।’

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রাবিরতি নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়াকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্রে বিরতি নেয়ার ঘটনা আগেও দেখা গেছে। এখন সাইয়ের এই ‘ট্রানজিটকে’ কাজে লাগিয়ে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়া চীনের উচিত হবে না বলে তারা মনে করেন।

ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, চলতি সপ্তাহে ও এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে সাইয়ের ‘ট্রানজিটকে’ কেন্দ্র করে চীনের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো মানে নেই। আগের ট্রানজিটগুলোতেও সাই মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য, প্রবাসী তাইওয়ানি ও অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকসহ নানান কিছু করেছেন, বলেছেন ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই এমন একসময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ট্রানজিট’ নিচ্ছেন, যখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ক ১৯৭৯ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। চীনের কাছে তাইওয়ান অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু। তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে চীন। স্বশাসিত দ্বীপটিকে বাগে আনতে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

এদিকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘একক চীন’ নীতি সমর্থন দেয়। কূটনৈতিক স্বীকৃতি না দিলেও স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

বিষয়:

অতিথি পাখি দেখতে উলুপুর দিঘিতে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

একটু পরপর আকাশ অন্ধকার করে উড়ে যাচ্ছে পাখির ঝাঁক। মুহূর্তেই নেমে আসছে দিঘির জলে। কেউ ডুব দিয়ে খাবার খুঁজছে, কেউ জলের ওপর ভেসে আছে, কেউবা গাছের ডালে বসে রোদ পোহাচ্ছে। হঠাৎ আবার একসঙ্গে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে শত শত পাখি। ডানার ঝাপটানিতে বাতাস কাঁপছে, আর তাদের কলকাকলিতে ভেঙে যাচ্ছে সকালের নীরবতা।

দিঘির জলে তখন আকাশের নীল আর পাখিদের ছায়া মিশে তৈরি করছে অপূর্ব এক দৃশ্য। পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যাচ্ছে সেই দৃশ্যে। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ নিঃশব্দে তাকিয়ে আছেন প্রকৃতির এই অবিশ্বাস্য আয়োজনের দিকে।

মনে হচ্ছে, শীতের নরম রোদে তাড়াশের মাটিতে যেন নেমে এসেছে এক টুকরো আকাশ—আর সেই আকাশজুড়ে উড়ছে হাজারো অতিথি।

এ দৃশ্য এখন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের উলুপুর দিঘিতে। শীতের অতিথি পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনায় দিঘিটি পরিণত হয়েছে প্রাণের এক অনন্য মিলনমেলায়। সকাল হলেই এখানে শুরু হয় পাখিদের ব্যস্ততা, আর সেই ব্যস্ততা দেখতে পাড়ে জমে ওঠে মানুষের ভিড়।

সকালের আলো ফুটতেই বদলে যায় উলুপুর দিঘির পরিবেশ। সাধারণ দিনে যে দিঘি শান্ত ও নিরিবিলি, পাখিদের উপস্থিতিতে সেটিই যেন হয়ে ওঠে প্রকৃতির এক জীবন্ত মঞ্চ।

জলের ওপর ভেসে থাকা পাখির দল, গাছের ডালে সারি সারি পাখি আর আকাশে উড়ে চলা ঝাঁক—সব মিলিয়ে তৈরি হয় অন্যরকম আবহ।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী রাজ শেখ, সোহাগ হাসান ও নাইম বলেন, উলুপুর দিঘির চারপাশের গাছপালা পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর শীত এলেই এখানে পাখির সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। পরিবেশটি রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি পাখির সমাগম ঘটতে পারে।

তাদের মতে, দিঘির পাড়ে মানুষের উপস্থিতিও এখন পাখি দেখার একটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে দর্শনার্থীদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তাদের কারণে পাখির স্বাভাবিক বিচরণে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

প্রকৃতির টানে সকাল-বিকেলে উলুপুর দিঘির পাড়ে ছুটে আসছেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই।

বারুহাস ইউনিয়ন থেকে পরিবার নিয়ে পাখি দেখতে আসা সাগর তালুকদার বলেন, পাখির বিচরণ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সারাক্ষণ কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখরিত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে। সুযোগ পেলে আবারও বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে আসবেন।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শাপলা খাতুন, নার্গিজ বেগম ও সামিউল হাসান জানান, দিঘির ওপর একসঙ্গে এত পাখির বিচরণ দেখতে তাদের খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে পাখির দলবদ্ধভাবে উড়ে যাওয়া এবং আবার একসঙ্গে পানিতে নেমে আসার দৃশ্য তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

দর্শনার্থীদের অনেকেই মনে করেন, উলুপুর দিঘিকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয়ভাবে পাখি দেখার একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।

শীত মৌসুমে শুধু উলুপুর দিঘি নয়, তাড়াশের বিস্তীর্ণ চলনবিলেও দেখা মেলে পরিযায়ী পাখির। বিলের জলাভূমি, দিঘি ও আশপাশের চরাঞ্চল হয়ে ওঠে নানা প্রজাতির পাখির বিচরণক্ষেত্র।

সোলি, বদর, লালমোন, শামুকখোল, বক, বালিহাঁসসহ বিভিন্ন পাখির আনাগোনায় এ সময় প্রাণ ফিরে পায় জলাভূমিগুলো।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জলজ খাবারের সহজলভ্যতা এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে শীত মৌসুমে এসব এলাকায় পাখির আনাগোনা বাড়ে।

শীতপ্রধান অঞ্চলে তীব্র শীত ও খাদ্যসংকট দেখা দিলে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। বাংলাদেশের বিল, হাওর, জলাভূমি ও দিঘিগুলো তখন তাদের অস্থায়ী আবাস হয়ে ওঠে।

যমুনা সেতু পশ্চিম ইকোপার্কের ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের প্রকোপ কমে গেলে অতিথি পাখিরা আবার নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যায়। আপন ভূমিতে ফেরার জন্য তাদের আবারও হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়।

তিনি অতিথি পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীন জীবনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার। পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে, যা দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

তিনি আরো বলেন, এসব পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। পাখি শিকার বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত বলেন, অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ফসলের ক্ষতিকর পোকা খাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহার কমতে পারে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমে। পাশাপাশি পাখির বিষ্ঠা জমিতে প্রাকৃতিক সারের কাজ করে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শুধু পাখি শিকার বন্ধ করলেই হবে না। বিল, দিঘি ও চরাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

আর শীত এলেই আবার ভোরের নীরবতা ভেঙে আকাশজুড়ে উঠুক ডানার শব্দ—কলকাকলিতে জেগে উঠুক উলুপুর। পাখি বাঁচুক, জলাভূমি বাঁচুক; বেঁচে থাকুক প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য।


ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত ঘরের পাশে বসে আছেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস মস্কোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলা চালানো হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপসংক্রান্ত একটি বিস্তৃত আইন পাস করেছে। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে তৈরি এই বিলের লক্ষ্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো। বিলটি এখন আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিল পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে এই আইন একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হতে পারে, যা রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে সহায়তা করবে। ইউক্রেনের যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি প্রতীকী যে ইউক্রেনে আবারও ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার হামলার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট পাস করেছে।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ওপর বিমান হামলা আরও বাড়িয়েছে মস্কো। এ সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ইউক্রেনে সংকটজনকভাবে কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতের হামলায় অনিক্স অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১৬০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে কতটি প্রতিহত করা হয়েছে, তা জানায়নি ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জরুরি। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শান্তির জন্য সব প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আমাদের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের আটটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মস্কো সুমি ও ওদেসা অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত নৌযানগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

কিয়েভে রাতভর আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেতের সাইরেন এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তখন জেটচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চলছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানিয়েছেন, শহরে ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের বেশির ভাগই একটি ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ তলা আবাসিক ভবনের বাসিন্দা। শহরের চারটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুদামঘর ও একটি পেট্রল স্টেশনও রয়েছে। এসব স্থাপনাও এখন প্রায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

হামলার কারণে দিনিপ্রো নদীর বাম তীরে পানির সরবরাহও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসায় ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় একটি ১৯ তলা আবাসিক ভবন, অন্যান্য আবাসিক ভবন এবং আরও কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্প স্থাপনায় আঘাত হানে এবং এর একটি অংশে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনও হামলা বাড়িয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বৃহস্পতিবার ওই অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল শহরের একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।


মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস: ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে ভারতসহ ১০ দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে একটি নতুন বিল পাস হয়েছে। এই বিলটি পাসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতসহ মোট ১০টি দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি মার্কিন শুল্কের ঝুঁকিতে থাকা অন্য দেশগুলো হলো—চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।

গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়। পরিষদের মোট ৪৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪২১ জন এই ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ২৬২ জন এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৫৯টি। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে আগেই পাস হওয়া এই বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তর হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। সেখানে প্রেসিডেন্ট বিলে স্বাক্ষর করলেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর আইনে পরিণত হবে।

এই বিলের মূল কারণ হিসেবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে শুরু হওয়া রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু যেসব দেশ সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়মিত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে তারা পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়াকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে। তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ওয়াশিংটনকে দেওয়া হয়েছে এই বিলে।

আলোচিত এই ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ৭ আগস্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে তাঁর এই বিলটি পাস হয়। তবে বিলটি সিনেটে পাসের মাত্র চার দিন পর, ১১ আগস্ট ওয়াশিংটনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এই প্রবীণ মার্কিন সিনেটর।


ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।


সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।


ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এই ব্যয়ের পরিমাণ গত ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।


গত আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে।


সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।


ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে।’
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে।


সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


গত জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে।
পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। গত ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে।


যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে।
এদিকে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।


মহাকাশে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র?

মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পৃথিবীর কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মোতায়েন করেছে—এমন ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কী ধরনের অস্ত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে? মহাকাশে সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এই অস্ত্রের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।

ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত অস্ত্রটির বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে থাকা এই অস্ত্র প্রয়োজনীয়। তবে অস্ত্রটির ক্ষমতা কী, কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে বা কীভাবে এটি কাজ করে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) সহযোগী গবেষক এবং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোপলিটিকস বিশেষজ্ঞ ড. ব্লেডিন বোয়েন মনে করেন, এটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও সংকেত বাধাগ্রস্ত করার কোনো ব্যবস্থা হতে পারে।

বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, ‘এমন একটি অস্ত্র হলে সেটি তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাত্মক উপায়ে শত্রুর কৃত্রিম উপগ্রহের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে পারে। পৃথিবীতে এ ধরনের প্রযুক্তি আগে থেকেই রয়েছে। কোনো উপগ্রহের সঙ্গে মাটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারলে সেটি কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।’

তবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বোয়েনের মতে, এর মধ্যে থাকতে পারে এমন কোনো ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’, যা অন্য একটি উপগ্রহের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খেয়ে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে। আরেকটি সম্ভাবনা হতে পারে এমন কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ, যা অন্য উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে পর্যবেক্ষণ, আঁকড়ে ধরা বা তার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

মহাকাশে সামরিক কার্যক্রম অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। মহাকাশ যুগের শুরুর দিক থেকেই বিভিন্ন দেশ সেখানে সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ইস্ত্রেবিতেল স্পুতনিকভ’ বা ‘স্যাটেলাইট ডেস্ট্রয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এমন কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছিল, যেগুলো অন্য উপগ্রহের দিকে ধাতব টুকরো বা প্রজেক্টাইল ছুড়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারত।

বর্তমানে সামরিক শক্তিধর দেশগুলো মহাকাশে নানা ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপদ যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজে এসব উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহারও তত বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাশিয়া ও চীনের কাছেও কক্ষপথে একই ধরনের অস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

রুসির সাবেক গবেষক জুলিয়ানা সুয়েস বিবিসিকে বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন—দুই দেশই মহাকাশে এমন কিছু কার্যক্রম চালিয়েছে, যা তাদের সম্ভাব্য মহাকাশ অস্ত্র সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।’

রাশিয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা কক্ষপথে থাকা দুটি উপগ্রহের মধ্যে অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। কোনো একটি পরীক্ষায় কক্ষপথে প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে।

গত এক দশকে রাশিয়া ও চীন মহাকাশে ‘রেন্ডেভু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বা আরপিও বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে একটি উপগ্রহ অন্য একটি উপগ্রহের খুব কাছে গিয়ে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা অনুসরণ করতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক ড. রড থর্নটনের মতে, এ ধরনের উপগ্রহ ভবিষ্যতে ‘হান্টার-কিলার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো অন্য উপগ্রহের সঙ্গে ধাক্কা দিতে পারে কিংবা সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

চীনের ‘স্পেস টাগ’ প্রযুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রযুক্তিতে একটি মহাকাশযান অন্য একটি উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে আঁকড়ে ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে।

এ ধরনের প্রযুক্তি মহাকাশের আবর্জনা সরানোর মতো শান্তিপূর্ণ কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। আবার একই প্রযুক্তি সক্রিয় সামরিক উপগ্রহ অচল করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস জাঙ্ক তৈরি হওয়া।

কিংস কলেজ লন্ডনের মহাকাশ নিরাপত্তা ও অস্ত্রায়ন বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক হিলবোর্ন বলেন, ‘সরাসরি ভূমি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে।’

২০০৭ সালে চীনের একটি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদাহরণও সামনে এসেছে। ওই পরীক্ষার ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষের অনেক অংশ এখনও কক্ষপথে রয়েছে এবং বিপজ্জনক হয়ে আছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

মহাকাশে সামান্য একটি বস্তুতেও বড় ক্ষতি হতে পারে। কারণ কক্ষপথে বস্তুগুলো অত্যন্ত বেশি গতিতে চলাচল করে। ফলে ছোট একটি ধাতব বা প্লাস্টিকের টুকরোও কোনো উপগ্রহে আঘাত করলে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। থর্নটনের মতে, রাশিয়ার হাতে এমন স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা মহাকাশে উঠে নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহে আঘাত করতে পারে। উচ্চতা থেকে বিমান থেকেও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি জানান।


ভারত-পাকিস্তানের দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামাবাদের কূটনীতিককে তলব করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সাদ আহমদ ওয়ারাইচকে ডেকে এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ভারতের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণ’ করেছে। ফলে ভারতীয় জাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তবে এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নৌযানের এই আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি পরিপন্থি। ওই চুক্তিতে সামরিক মহড়া, সামরিক গতিবিধি ও সেনা চলাচলের বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিবাদ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সব সামরিক ইউনিটকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং দুদেশের মধ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানাতে বলা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি সামনের সারির যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে একটি পাকিস্তানি নৌযান ভারতীয় জাহাজটির খুব কাছে চলে আসে।

সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানি জাহাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে অনিরাপদ ও অপেশাদার কায়দায় গতিপথ পরিবর্তন করছিল। একপর্যায়ে সেটি ভারতীয় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

তবে সংঘর্ষে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনার পর দুদেশের জাহাজই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যায়। ঘটনায় কোনো ধরনের ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌযান জড়িত ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ বাবর এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ গোদাবরী একই ধরনের একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘটনাটি দুদেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমুদ্রপথে চলাচল ও সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।


ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে বাস্তুচ্যুত এক লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় দেশের ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজারো মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে বাব আল মানদাব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।

ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক পরিবার অল্প সময়ের নোটিশে খুব সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। এরই মধ্যে স্থানীয় আশ্রয়স্থল ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও চলমান সংঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

ইরানসমর্থিত হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাব আল মানদাবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাব আল মানদাব একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প নৌপথ হিসেবেও এ জলপথের গুরুত্ব বেড়েছে।


ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে দুই জুলাই যোদ্ধা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুজনই ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং উপজেলা আহত জুলাই যোদ্ধা সমিতির নেতা বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)।

জেলা ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বৃষ্টি হোটেলের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাছান আলী ও মাহমুদুল হাসানকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

জেলা ডিবির উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিক্রির জন্য এলেঙ্গায় যাওয়ার দাবি

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁরা ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে এলেঙ্গায় এসেছিলেন। সেখানে ক্রেতার কাছে ইয়াবা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হাছান আলী ও মাহমুদুল হাসান নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা এবং মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।


সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরাতে চিঠি চালাচালি হচ্ছে: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’

আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’

ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়

এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালাল চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।’

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই; কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালাল চক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হব’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’


আনসার ব্যাটালিয়নের সহায়তায় মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানে ডিএনসিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী মার্কেট থেকে মিরপুর-২ নম্বরের সনি স্কয়ার পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে গতকাল বুধবার এক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বুধবার সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই মোবাইল কোর্ট অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী।

অভিযান চলাকালে রাস্তা ও ফুটপাতের উভয় পাশে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া ঝুলিয়ে রাখা বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড এবং ইউনিপোল সাইনও অপসারণ করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত দোকানপাটের বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগর আনসার পশ্চিম জোন কমান্ডারের নির্দেশে ঢাকা মহানগর আনসার ব্যাটালিয়ন (৪১ বিএন)-এর বিভিন্ন পদবির ৩০ জন সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন ছিলেন। থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা (মিরপুর)-এর উপস্থিতিতে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এই অভিযানে অংশ নেয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানটি শেষ হয়।

জনভোগান্তি রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। এই অভিযানের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হওয়া ফুটপাতগুলো অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইসরায়েলের সহায়তা চাইল সৌদি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সৌদি আরব। হুথিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা পেতে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মধ্যস্থতা করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমদ্য জেরুজালেম পোস্ট

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সেন্টকমের সহায়তা চেয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদারে ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। হুথিদের অবস্থান, সক্ষমতা ও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়াই এ যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ইসরায়েল নয়, মিসর এবং উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশের কাছেও একই ধরনের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ড, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের নিরাপত্তা জোরদার করতেই রিয়াদ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চাইছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একইভাবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি সেন্টকমের কাছ থেকেও।

তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে ইসরায়েলের ভেতরেও সতর্ক অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দেশটির সরকারকে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আইডিএফের আশঙ্কা, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতে ইসরায়েল যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

সৌদি আরব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মানদেব প্রণালি থেকে হুথিদের সরিয়ে দেওয়া এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ব্রিটেনের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে রিয়াদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

বাব আল-মানদেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই অঞ্চলে হুথিদের তৎপরতা বাড়লে শুধু সৌদি আরব নয়, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সৌদি-ইসরায়েল যোগাযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আলোচনার বিস্তারিত দিক এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।


কৃষিপণ্যে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আদা, মরিচ, টমেটো ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি এসব পণ্য রপ্তানির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে।’ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার জনবল, কার্যাবলি, উল্লেখযোগ্য অর্জন, কৃষিক্ষেত্রের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে কৃষিজমি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কৃষিতে গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। টেকসই কৃষি উৎপাদনের জন্য মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষির উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা জরুরি। এজন্য কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে।

বৈঠকে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং আরও জোরদার এবং কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে কৃষির বহুমুখীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন এবং চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম চাষ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে পাট খাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাটকে কৃষি ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করছে। কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষির আধুনিকায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় অধিকতর গতিশীল হয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম এমপি, মো. মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল এমপি, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি, মোছা. সাবিরা সুলতানা এমপি, মো. গোলাম রছুল এমপি এবং মো. আব্দুল বারী সরদার এমপি অংশ নেন।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ট্রাইব্যুনালে মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, লেখক ও শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

অন্য অভিযুক্তরা হলেন ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।

অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর পাঁচজন পলাতক বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

বুধবার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের হামলার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের পর তারা সেটিকে অনুসরণ করে অধীনস্থদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক থাকায় ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর সব আসামির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

আরও একটি মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এদিন আরও একটি মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিলের কথা জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের একটি সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন যুবকদের সরকারের সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে গুম করত এবং তাদের বিভিন্ন ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখা হতো।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কাউকে পরবর্তী সময়ে হত্যার পর ঘটনাকে ‘জঙ্গি নাটক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। আবার কিছু ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যেত না এবং তাদের লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। কাউকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।

এদিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন জানায়, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও ওই ৩০ আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। পরে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


banner close