বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

করোনার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফাইল ছবি
আপডেটেড
৫ মে, ২০২৩ ২১:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ মে, ২০২৩ ২০:৩১

কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) মহামারি আর জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নয়। এই জরুরি অবস্থা জারির তিন বছর পর শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই তিন বছরে করোনাভাইরাস বিশ্বের প্রায় দুই কোটি মানুষের প্রাণ কেড়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাবের প্রায় তিন গুণ।

বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোচ্চ সতর্কতা। এই সতর্কতা প্রত্যাহার করার মাধ্যমে সংস্থাটি কার্যত মহামারি শেষের পথে বলে ইঙ্গিত দিল। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হলেও কোভিড-১৯ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এর ছয় সপ্তাহ পর সংস্থাটি কোভিড-১৯-কে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকারি হিসাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা গেছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় তিনগুণ।’ এই সংখ্যা প্রায় দুই কোটি।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হলেও করোনাভাইরাস এখনো বড় ধরনের হুমকি হয়ে রয়ে গেছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন সপ্তাহে ১ লাখের বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর দিনে দিনে এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার কমেছে। গত ২৪ এপ্রিল নাগাদ সাপ্তাহিক মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।’

তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি কমিটি ১৫তম বারের মতো বৈঠক করে এবং আমাকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়েছে। আমি সে পরামর্শ মেনে নিয়েছি। কাজেই আমি ঘোষণা দিচ্ছি যে কোভিড-১৯ আর বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নেই।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মহামারির সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিম্নগামী। এই প্রবণতার কারণে সিংহভাগ দেশই মহামারি-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ বেড়ে গেলে তিনি আবার ইমার্জেন্সি কমিটির বৈঠক ডেকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের বিশ্বে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, এখনো করছে। কাজেই আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যতে নতুন নতুন ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটতে পারে, যা ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে।’

তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়গুলোর একটি হলো কোভিড-১৯-এর এভাবে আঘাত হানার কথা ছিল না। আমাদের মহামারির জন্য প্রস্তুত হতে, আগে থেকেই সম্ভাব্য মহামারির আভাস পেতে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং তার সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রযুক্তি ছিল এবং আছে। কিন্তু বিশ্বজুড়েই সমন্বয়হীনতার কারণে, অসমতার কারণে, সংহতি না থাকায় ওইসব উপকরণ ও প্রযুক্তি আমরা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। আমাদের অবশ্যই নিজেদের কাছে, আমাদের সন্তানদের কাছে, সন্তানদের সন্তানদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আমরা এই ভুল আর করব না।’

ডব্লিউএইচওর হেলথ ইমার্জেন্সিস প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ড. মাইক রায়ান বলেন, ‘করোনাভাইরাস এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে রয়ে গেছে। আমরা প্রতিদিনই এই ভাইরাসকে পরিবর্তিত হতে দেখছি। কাজেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত থাকবে বলেই ধরে নিচ্ছি আমরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরবর্তী মহামারি আঘাত হানার আগ পর্যন্ত আগের মহামারি অব্যাহত থাকে। আমি জানি, এটি একটি ভয়ানক চিন্তা। কিন্তু মহামারির ইতিহাস এটাই বলে।’

ডব্লিউএইচওর কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় কারিগরি দলের প্রধান মারিয়া ভন কারখোভ বলেন, ‘কোভিড-১৯ সংকটের জরুরি পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। তবে রোগটা রয়ে গেছে এবং থাকবে। খুব শিগগির এই ভাইরাস ও তার কারণে সৃষ্ট রোগ চলে যাবে না। কাজেই আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে। রোগতত্ত্ব অনুসারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এরপরও বাড়বে, আবার কমবে। আমরা আশাবাদী যে, এই ভাইরাস পরবর্তীকালে বড় ধরনের ক্ষতি যাতে করতে না পারে, তার যথাযথ উপকরণ এখন আমাদের আছে। আমাদের এখন শুধু এই ভাইরাসটিকে নজরে রাখতে হবে, কারণ এটি পরিবর্তিত হতে থাকবে, সংক্রমণ ঘটাতে থাকবে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ছড়ায় চীনে ২০১৯ সালের শেষদিকে। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানায়, চীনের উহানে অজানা কারণে নিউমোনিয়ার মতো এক ধরনের রোগ ছড়াচ্ছে। এক সপ্তাহ পরই নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীন করোনায় প্রথম মৃত্যু নিশ্চিত করে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি। ২৩ জানুয়ারি উহানে লকডাউন দেয়া হয়।

বাংলাদেশে আইইডিসিআর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের তথ্য জানায় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানা যায় ১৮ মার্চ। এর আগে ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯কে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। পরদিন থেকে পুরো ইউরোপ লকডাউনে চলে যায়। এপ্রিল নাগাদ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশ লকডাউন কিংবা চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ২ এপ্রিল নাগাদ লকডাউনে পড়ে বিশ্বের ৩৯০ কোটিরও বেশি মানুষ। ধস দেখা দেয় বিশ্বের প্রায় সব পুঁজিবাজারে, অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে।

২০২০ সালের জুন নাগাদ ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ব্যাপক মানুষের মৃত্যু হতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রেও সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে, ব্যাপক প্রাণহানি হয়। তবে ওই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ করোনার টিকা চলে আসে, যা একটি রেকর্ড। এর আগে এত দ্রুত কোনো টিকা উদ্ভাবন হয়নি, অনুমোদনও পায়নি এত দ্রুত।

২০২১ সালের শুরুতেই করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হয়। বাংলাদেশেও জোরেশোরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে এই বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের আরেকটি ধাক্কা আসে। ভারতে মে মাস নাগাদ করোনার নতুন ধরন ডেল্টার প্রভাবে ব্যাপক মানুষের মৃত্যু হয়। এই ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। ওই বছরের নভেম্বরে করোনার আরেকটি নতুন ধরন অমিক্রন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। ২০২২ সালের শুরুতে তা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

অবশেষে ২০২৩ সালের মার্চে এসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কোভিড-১৯ মহামারি এই বছরই সাধারণ ঠাণ্ডা-সর্দির মতো রোগে পরিণত হতে পারে। এরপর শুক্রবার বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করল সংস্থাটি।


পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ৪ জনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার দুই সহস্রাধিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অন্তত চারজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) তিনজন জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত নিরাপত্তা কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

সহিংসতার প্রথম ঘটনায় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে জয় উদযাপনের সময় ৪৮ বছর বয়সী বিজেপি কর্মী যাদব বরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে নিউটাউনের বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মধু মণ্ডল নামে অপর এক বিজেপি কর্মী। অন্যদিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় নিখোঁজ তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয় এবং বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘটনায় নিহতের পরিবার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের দায়ী করে মামলা দায়ের করেছে।

রাজ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে। তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে তাদের শতাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বিজেপি দাবি করেছে, তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ছড়াচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু রাজধানী শহর থেকেই ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকেও আটক করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

মোজতবা খামেনি এবং ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে এবং পরমাণু ইস্যুতে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য কাঠামো নির্ধারণে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই মনে করছে হোয়াইট হাউস। এই বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং আরও দুটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দুই পক্ষ কোনো সমঝোতার এতটা কাছাকাছি এসেছে।

চুক্তির অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ (এনরিচমেন্ট) স্থগিতাদেশে সম্মত হবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করে দেবে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ওপর উভয় পক্ষের আরোপিত সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হবে।

তবে এই স্মারকে উল্লেখ করা অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। ফলে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা কিংবা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও মূল সমস্যার সমাধান হবে না। হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনো সন্দিহান যে, প্রাথমিক কোনো চুক্তিও আদৌ হবে কি না।

এর আগেও একাধিক দফা আলোচনায় এবং চলমান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে ঘোষিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মূলত আলোচনায় অগ্রগতির কারণে।

এই এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার এমওইউটি নিয়ে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা। আলোচনা হচ্ছে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও। বর্তমান খসড়ায় এমওইউটি অঞ্চলটিতে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘোষণা করবে এবং ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।

এই আলোচনাগুলো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ওই ৩০ দিনের সময়কালে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া হবে। যদি আলোচনা ভেঙে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জারি করতে বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশের মেয়াদ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এটি কমপক্ষে ১২ বছর হতে পারে, আর একটি সূত্র ১৫ বছরকে সম্ভাব্য সমঝোতার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরান প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বছরের স্থগিতাদেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে ২০ বছর।

যুক্তরাষ্ট্র একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যেখানে ইরান যদি সমৃদ্ধকরণ চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে। মেয়াদ শেষ হলে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমাত্রার সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে। এমওইউতে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে—তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা অস্ত্রায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম চালাবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এমন একটি ধারা নিয়েও আলোচনা চলছে, যেখানে ইরান ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে।

এ ছাড়া, ইরান আরও কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থায় সম্মত হবে, যার মধ্যে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের হঠাৎ (স্ন্যাপ) পরিদর্শনের সুযোগও থাকবে। এমওইউর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেবে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এত দিন তেহরান এটি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। একটি সূত্র বলেছে, এই উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের একটি বিকল্প নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, ‘আমাদের এক দিনেই পুরো চুক্তির লিখিত রূপ তৈরি করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’ তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত জটিল এবং কারিগরি একটি বিষয়। তবে আমাদের একটি কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে—কোন বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং শুরুতেই কী ধরনের ছাড় দিতে রাজি, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থবহ হয়।’ তবে রুবিও ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ‘মাথায় সমস্যা আছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন এবং তারা আদৌ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।


মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দু অধিকারী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সামনে আসছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজেপি সরকার গঠনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকেই অধিকারীকে বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে। জানা গেছে, দলের রাজ্য সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্য তার নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ তা ঘোষণা করবেন।

বৈঠকের পর অধিকারীসহ শীর্ষ নেতারা রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। পরদিন শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে, যা ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’র দিন অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

শুভেন্দু অধিকারী এর আগে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে তার ভূমিকা বিজেপির বড় জয়ের অন্যতম কারণ।

মুখ্যমন্ত্রী হতে শুভেন্দুকে পার হতে হবে আরও এক ধাপ

পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপির শীর্ষ পছন্দ হয়ে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’র সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ গুরুত্ব থাকছে।

অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।

এর আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন, যিনি বাঙালি, বাংলায় জন্মেছেন, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সেই মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যান।

বিজেপির সবচেয়ে বড় ভরসা শুভেন্দু

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। মাঠপর্যায়ের শক্ত অবস্থান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে এবারের নির্বাচনে তাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি আরও বড় চমক দেখিয়ে মমতার শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনও দখল করেন।

২০২০ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তৃণমূল ছাড়েন শুভেন্দু। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হন।

তৃণমূলে থাকাকালে তিনি বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী ছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সে সময় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।


দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’ উন্মোচন তুরস্কের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আঞ্চলিক ভূরাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’ প্রকাশ্যে এনেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনী ‘সাহা ২০২৬’-এ এই মারণাস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্মোচন তুরস্কের সামরিক শক্তিতে এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ম্যাক ২৫ গতিতে চলতে সক্ষম। এর পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার হওয়ায় এটি তুরস্কের মাটি থেকে ইউরোপের সিংহভাগ, এশিয়ার বড় অংশ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারবে। কারিগরি দিক থেকে উন্নত এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে জ্বালানি হিসেবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর শক্তিশালি চারটি রকেট ইঞ্জিন একে তুরস্কের সর্বাধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্মে উন্নীত করেছে।

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এই সামরিক অর্জনের প্রশংসা করেন। সাহা ২০২৬ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা খাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন বা মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঙ্কারার ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফল হিসেবে এই নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি আত্মপ্রকাশ করল।

ইস্তাম্বুলের এই মেগা ইভেন্টটি বর্তমানে অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা শিল্প মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো অংশ নিচ্ছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তুরস্ক কেবল তাদের সামরিক সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, বরং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিশ্ববাজারে বড় ধরনের রপ্তানি অংশীদার হওয়ার এবং প্রতিরক্ষা খাতে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যও পূরণ করছে।


হরমুজে জাহাজ পাহারার ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১০:৩৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ চালু করেছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। এ তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই বিরতি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’। ট্রাম্প বলেন, “আমরা পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছি যে, অবরোধ পূর্ণমাত্রায় কার্যকর থাকলেও, চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হতে পারে কি না তা খতিয়ে দেখতে স্বল্প সময়ের জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত রাখা হবে।”

ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রোজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

এ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যুদ্ধে ‘ধারাবাহিক ব্যর্থতার’ কারণে হরমুজ থেকে ‘পিছু হঠছেন’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস ও জ্বালানি পরিবহন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবরোধ জারি করে ইরান, যার ফলে প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় শতাধিক জাহাজ আটকা পড়ে।

পরবর্তীতে এসব জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের লক্ষ্যে ৪ মে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা এখন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।


পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা

* তৃণমূল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার * বিজেপির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ * বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সহিংসতা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে কলকাতায় এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড় এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনে বিজয়ী আইএসএফ নেতা-কর্মীরা রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। বিশেষ করে নিমকুড়িয়া গ্রামে তৃণমূল সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

ফিরোজ মোল্লা নামে এক ভুক্তভোগী তৃণমূল কর্মী জানান, আইএসএফ-এর বুথ সভাপতির নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ফিরোজের মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া বেঁওতা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ ওই পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইএসএফ বা বিজেপি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক নামে এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবক নির্বাচনের দিন তৃণমূলের বুথ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পরিবারের দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হলে বাড়ির সামনেই তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ জানায়, বিশ্বজিতের পকেট থেকে একটি ভাঙা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বেলেঘাটা থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং কললিস্ট যাচাই করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোট চলাকালীন বড় কোনো প্রাণহানির খবর না থাকলেও ফলাফল পরবর্তী এই সহিংসতা পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির পুরোনো সংঘাতময় চিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজেপির কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ

ভোটের ফলপ্রকাশের পর হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্ত।

স্থানীয় এবং বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বয়স ৪৮ বছর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাকে তৃণমূল আশ্রিত ব্যক্তিরা খুন করেছে বলে অভিযোগ।

উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন যাদব। পরিবার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিজেপির সমর্থক। রাজ্যজুড়ে বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করছিলেন যাদব। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েক জন। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় যাদবকে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে যান ঘটনাস্থলে।

এরপর রক্তাক্ত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে উদয়নারায়ণপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা এলাকায়। ইতিমধ্যে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এক জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে তার নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি।


চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের মধ্যাঞ্চলে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৬১ জন আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (৫ মে) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে হুনান প্রদেশের লিউয়াং এলাকার লিউয়াং হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, পাহাড় ঘেরা একটি গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছে এবং আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে।

ঘটনার পর সিসিটিভির ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, যেখানে আগে ভবন ছিল সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা এক্সকাভেটর দিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন।

অক্ষত থাকা কিছু ভবন থেকেও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই ছাদ উড়ে গেছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ৪৮০ জনেরও বেশি উদ্ধারকারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলের আশেপাশের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই পুলিশ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আটক করেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

লিউয়াং চীনের একটি প্রধান আতশবাজি উৎপাদনকেন্দ্র। এখানে চীনের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া আতশবাজির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং বিদেশে রপ্তানি করা আতশবাজির ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

গত বছর হুনানের অন্য একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালে উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরের আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হুবেই এবং জিয়াংসু প্রদেশের আতশবাজির দোকানে পৃথক দুটি বিস্ফোরণে যথাক্রমে ১২ জন এবং ৮ জন নিহত হন।


পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিহত ১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের একাধিক শহরে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এই হামলায় মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হামলায় কথিত ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ ও নিরাপত্তা সদস্যসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। যাতে ১০ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্য এবং আরো ৪ জন কথিত ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ নিহত হয়েছেন।

বেলুচিস্তান প্রদেশের খারান, ওয়াশুক, আভারান, কেচ ও মাস্তুং জেলায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএনআইর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির মুখপাত্র মেজর গওহরাম বেলুচ জানান, এসব অভিযানে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের চেকপোস্ট, সামরিক ক্যাম্প, সামরিক বহর, সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যাদেরকে ‘ডেথ স্কোয়াড এজেন্ট’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ বলা হয়।

বিএলএফ দাবি করে, খারান শহরের গাজি রোডে একটি ফ্রন্টিয়ার কর্পস চেকপোস্টে রকেট ও গ্রেনেড লঞ্চার দিয়ে হামলা চালানো হয়। সেখানেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ওয়াশুকের নাগ-গ্রারি এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এতে দুজন ‘সশস্ত্র এজেন্ট’ নিহত হয়েছে। সেখান থেকে অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল জব্দের কথাও জানায় গোষ্ঠীটি।

আভারানের তিরতিজ এলাকায় একটি প্রধান সামরিক ক্যাম্পে স্নাইপার হামলা এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। একই এলাকায় একটি সামরিক বহর ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ওপর হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা সরকারি কোনো সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, হরমুজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ সামরিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক উপস্থিতিই পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সোমবার (৪ মে) হরমুজ প্রণালীর ভেতরে ও আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান, কয়েকটি ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। যদিও তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন রণতরীকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ফুজাইরাহতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। যদিও ঘটনার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করা হয়নি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ড্রোন হামলা ও রহস্যজনক বিস্ফোরণের মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী শিপিং ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো সংকট নিরসনের স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও পুরো অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা:

হরমুজ প্রণালীতে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। সোমবার ওমানের খাসাব বন্দর থেকে ইরানের উপকূলের দিকে যাত্রা করা বেসামরিক ওই জাহাজ দুটি মাঝপথে হামলার শিকার হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে।

তাসনিমের বরাতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের কয়েকটি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার যে দাবি করেছিল, সেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে নতুন এই হামলার তথ্য সামনে আসে। ঘটনার পরপরই দুই দেশের মধ্যে দোষারোপ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নৌকাগুলো বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছিল এবং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ইরান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

তেহরান জানিয়েছে, সোমবার কোনো ইরানি নৌযান ধ্বংস বা আক্রান্ত হয়নি। বরং তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজ দুটি ওমান থেকে পণ্য নিয়ে ইরানের দিকে যাচ্ছিল। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী হওয়ায় এখানে যেকোনো সংঘাত বা হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রক্ষা ও নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ পরিস্থিতিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

হরমুজ প্রণালীতে সহিংসতা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে সহিংসতা ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ফলে হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে তেলের দাম।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড সোমবার প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।


আমিরাতে বন্দরে হামলায় আগুন, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান

আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাটি ইরানের পরিকল্পিত কোনও হামলা নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা। এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুঃসাহসিকতাকে’ দায়ী করেছেন তিনি। মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সামরিক বাহিনীর ওই কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবিকে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‌‌‘উল্লিখিত তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার কোনও পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ছিল না। যা ঘটেছে তা মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুঃসাহসিকতার ফল; যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর সংরক্ষিত জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করা।’

তিনি বলেন, এ জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অবশ্যই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শক্তি প্রয়োগের অনুচিত প্রথা বন্ধ এবং এই সংবেদনশীল তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলে সামরিক দুঃসাহসিকতা থামাতে হবে। তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরি হচ্ছে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নৌ-নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ইরানের এই স্পিকার বলেন, ‘তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের এই অপকর্ম অবশ্যই প্রশমিত হবে।’ গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয়। আর ইরান এখনো (পাল্টা ব্যবস্থা) শুরুই করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকার ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অধিকৃত ভূখণ্ড এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ৪০ দিনব্যাপী ১০০ দফার এই পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইরানের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। পরবর্তীতে এই জলপথে আরও বিধিনিষেধ আরোপ এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের শর্তজুড়ে দেয় তেহরান। ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর ইরান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


মমতার পরাজয়ের কারণ কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:৪৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরুর পর থেকে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস কেন পরাজিত হয়েছে? বামদের ‘দুর্গ’ পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপি ‘ভূমিধস জয়’-পেল?

নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পেছনে বেশকিছু কারণ আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে একটি ব্যাপার হলো, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক) নামক একটি পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে জরিপের কাজ করাতো তৃণমূল কংগ্রেস। আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন প্রশান্ত কিশোর, যিনি নিজে বিহারে রাজনীতি করছেন। অতীতে তার পরামর্শ তৃণমূল কংগ্রেসকে নানাভাবে এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আর সেই প্রতিষ্ঠানে নেই। সেই কারণে আই-প্যাক যথাযথ পরামর্শও দিতে পারেনি। তাই পশ্চিমবঙ্গের মতো জটিল সমীকরণের একটি রাজ্যে আই-প্যাকের ওপর অতি নির্ভরতায় বিপদে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, মুসলিম ভোটের ওপর অত্যাধিক নির্ভরতা। অতীতে মুসলিম ভোটের ৭৫-৮০ শতাংশ তারা পেয়েছে। এবারও তারা ভেবেছিল মুসলিমদের ৮৫-৯০ শতাংশ ভোট পাবে। কিন্তু নতুন দুটো দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও মুর্শিদাবাদের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি মুসলিমদের ভোট নিজেদের দিকে নিতে সফল হয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কমেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ফল পাওয়া যায়নি। পেলে দেখা যাবে তারা কত শতাংশ ভোট টানতে পেরেছে।

এরপর আসে হিন্দু ভোট। কোনো দল যখন হিন্দু ভোটের ৫৫ শতাংশ পায়, তারা জয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এখন পর্যন্ত বিজেপির নিশ্চিত জয়ী ও এগিয়ে থাকা আসন বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬০-৬৫ শতাংশ কিংবা তারও বেশি হিন্দু ভোট পেয়েছে দলটি।

সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘ভূমিধস’ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বিজেপি। এর মাধ্যমে একটি বিষয় আবারও প্রমাণ হতে যাচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মানুষ যাকে দেয়, তাকে ঢেলেই দেয়।

বিজেপির জয়ে উদ্বেগ

বিজেপির জয়ে নতুন সম্ভাবনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমন উদ্বেগের জায়গাও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, উত্তর ভারতের দল বিজেপি কীভাবে বাঙালির মনন-সংস্কৃতির সঙ্গে মিশবে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান জনসংখ্যা রয়েছে। বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দল কীভাবে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে মিশবে?

সবশেষ চ্যালেঞ্জ হলো, ভবিষ্যতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কতটা শেকড় গাড়তে পারবে। কারণ, প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বামপন্থি রাজনীতির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় তারা কী করবে, কীভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে, সেটাই দেখার বিষয়।

আর প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ২ হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত আছে। এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করবে, এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুপ্রবেশসহ সীমান্ত ইস্যুতে কীভাবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা ও কাজ করবে, এর ওপরেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করবে।

কেউ যদি মনে করে থাকে যে, এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কেবল গত ৫-৬ মাস কাজ করেছে, সেটা কিন্তু ঠিক নয়। গত ৩-৪ বছর ধরেই তারা গভীর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যেটা তারা সেভাবে প্রকাশ করেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণেই তারা আজ জয়ের পথে।

দ্বিতীয় ব্যাপার হলো, তৃণমূল কংগ্রেস গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। একইসঙ্গে দলের ভেতরে বিভাজন দেখা দিয়েছিল। ফলে সেটার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাতা দেন, তারা ক্ষমতায় এলে সেটা দ্বিগুণ করে দেবে। এই ঘোষণা গ্রামের মানুষকে ব্যাপক হারে আকর্ষিত করেছে। ধরুন, একটা পরিবারে চারজন থাকলে তারা জনপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা পাচ্ছে। বিজেপি এলে তারা ১২ হাজার টাকা পাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটা বড় ব্যাপার। বিজেপির জয়ের পেছনে তাদের এই ক্যাম্পেইনটিও সফলভাবে কাজ করেছে।

আবার স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করে প্রায় ২৭ লাখ ‘বহিরাগত’ ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটিও বিজেপির পক্ষেই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। নমিনেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এবার বাইরের কাউকে বাছাই করেনি। পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয়দেরই মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। গতবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নেতাদের তারা মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এবার সেটাও তারা দেয়নি। এটিও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।


পদত্যাগ না করার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, বিজেপির কাছে এই পরাজয় জনমতের স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়, বরং এর পেছনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব ও কেন্দ্রীয় শক্তির গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) কালীঘাটে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগ করছেন কবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মমতা জানান, এখনই তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?

তিনি বলেন, যেখানে লড়াইটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ছিল, সেখানে ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়া মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা।

রাজনৈতিক মহলে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা চললেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। বরং এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মমতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।


হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌযান লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা যাত্রীবাহী ছোট নৌকায় আঘাত হেনেছে। সোমবার ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের দিকে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে নিশ্চিত করেছে।

তবে ইরানের এই দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে বাধা দিতে এসেছিল আইআরজিসির ছয়টি নৌযান। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সেই নৌযানগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের এই সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের এক অজ্ঞাতনামা সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন দাবির পর তাঁরা একটি নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করেছেন। সেই তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, আইআরজিসির কোনো সামরিক নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং ওমান থেকে ইরানগামী সাধারণ যাত্রীবাহী দুটি ছোট নৌকাই মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় নৌকা দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন আরোহী প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মহলে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্পের আওতায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারার মাধ্যমে পারাপারে সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এই অভিযানের ফলে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বারবার পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির দাবি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


banner close