মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর জাতিসংঘের মাধ্যমে আরও চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মার্কিন কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। খবর এএফপির।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের পরামর্শক ডেরেক চোলেট জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন কূটনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর অধিকতর চাপ প্রয়োগের পক্ষে স্বীকৃত অনেক কারণ রয়েছে।’ মিয়ানমারে চলতি মাসে এক বিমান হামলায় স্কুলের ১১ জন ছাত্রছাত্রী হত্যা এবং গত জুলাইয়ে চার বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চোলেট। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।
চোলেট বলেন, তিনি মিয়ানমারের অন্যান্য সরকার এবং ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়টি এখনো একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে আছে যার সুনির্দিষ্টতাও স্পষ্ট নয়।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মিত্র দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে চোলেট বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন কীভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেবে তা নিয়ে আমাদের আরও বাস্তববাদী হতে হবে।’
সামরিক জান্তা মিয়ানমারে আগামী বছরের আগস্টে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। এ বিষয়ে প্রাক্তন একাধিক সরকারের সঙ্গে চোলেট কথা বলে জানতে পেরেছেন, আসন্ন নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আমি ওদের বলেছি যে, এসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জান্তা সরকার মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখে না, রাজবন্দিদের আটকে রেখে হত্যা করা হচ্ছে, আর অং সান সু চি মূলত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাকে গত ২০ মাসে কেউ দেখেনি।’
মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কর্মকর্তা টমাস অ্যান্ড্রুজ গত বৃহস্পতিবার বলেন, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি হবে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের ওপর এ পর্যন্ত ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জান্তা সরকারের নেতারাই মূলত এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান মিয়ানমারে চলমান সংকট নিয়ে কোনো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ ভারতও এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।
স্পেনজুড়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ এবং বিনিয়োগকারী তহবিলের মাধ্যমে আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে গত শনিবার মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ভ্যালেন্সিয়াসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ৫০টি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ভ্যালেন্সিয়া টেন্যান্টস ইউনিয়নের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শহরটিতে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে। পূর্ব উপকূলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ায় আবাসন খাতের একটি সম্মেলন চলাকালে পালাউ দে লেস আর্টস রেইনা সোফিয়া আর্টস সেন্টারের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।’
স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড সরিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। জবাবে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, এ ঘটনায় নয়জন পুলিশ সদস্য আহত এবং পাঁচজন বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রাজধানী মাদ্রিদে ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সেখানে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। টেন্যান্টস ইউনিয়নের দাবি, বিক্ষোভে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ভাড়ানির্ভর মুনাফালোভী ব্যবসার জন্য কোনো শান্তি নেই’ এবং ‘আমি পড়াশোনা করি ভবিষ্যতের জন্য, কোনো ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকার জন্য নয়’। তারা হাতে চাবি উঁচিয়ে ‘পুরো শহরের চাবি আমাদের হাতেই’ স্লোগান দেন। কেউ কেউ মাদ্রিদের প্রধান চত্বর পুয়ের্তা দেল সলে কয়েক দিন ধরে অবস্থানও করেন।
বিক্ষোভের আগে ডেভিড নামের এক বিক্ষোভকারী আরটিভিইকে বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো আনন্দ বা আরাম-আয়েশের জন্য আসিনি। আমরা এসেছি দৃঢ় বিশ্বাস ও তাগিদ থেকে।’
২৬ বছর বয়সি গ্রন্থাগারিক মার্কোস সাইঞ্জ এএফপিকে বলেন, ‘আগে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে দুই শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং মাসে ৯০০ ইউরো ভাড়া দিতেন। এখন একটি শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটের ভাড়াই অনেক সময় ১ হাজার ইউরোতে পৌঁছে যায়।’ তিনি বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ না কেউ এটি নিয়ন্ত্রণে আনার সাহস দেখায়। তা না হলে তাদের সবাইকে মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’
এদিকে স্প্যানিশ পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভকারীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাদের কয়েকজনকে নাৎসি স্যালুট দিতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আবাসন সংকটের সূত্রপাত হয় গত মাসে ৮৭ বছর বয়সি মারিকারমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারায় তাকে উচ্ছেদ করা হলে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক প্রতিবাদের মুখে তার ফ্ল্যাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠান আরবাগেস্তিয়ন কম ভাড়ায় তাকে আবার ফ্ল্যাটে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করে। তবে এরপরও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি জোট সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে দুটি ডিক্রি বা অধ্যাদেশের প্রস্তাব দেয়। তবে গত শুক্রবার পার্লামেন্টে দুটিই প্রত্যাখ্যাত হয়।
প্রথম ডিক্রিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ স্থগিত রাখা, ২০২৮ সালের আগে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ভাড়ার চুক্তি আরও দুই বছর বাড়ানো, পর্যটকদের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপার্টমেন্টের ওপর কর বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘ভালচার ফান্ড’-এর মাধ্যমে আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর বিধিনিষেধের প্রস্তাব ছিল।
দ্বিতীয় ডিক্রিতে ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিধান রাখা হয়েছিল। এটি বামপন্থি দল ও ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। সংসদ সদস্যরা ১৭৮ ভোটের বিপরীতে ১৭২ ভোটে প্রথম ডিক্রিটি প্রত্যাখ্যান করেন। দ্বিতীয় ডিক্রির বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৮৪টি, পক্ষে ১৬৬টি।
ভোটের আগে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থি ভক্স উভয় উদ্যোগের বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছিল। ফলে সংখ্যালঘু সরকারকে কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলের ছোট জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে সংসদীয় অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে মধ্য-ডানপন্থি ও স্বাধীনতাপন্থি দল টুগেদার ফর কাতালোনিয়া উভয় প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় সেগুলো পাসের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
প্রস্তাব দুটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আগাম সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টি ও তাদের সহযোগী সুমার অ্যালায়েন্সের জোট সরকারের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। যদিও আগামী গ্রীষ্মের আগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না।
মাদ্রিদের টেন্যান্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো অপর্যাপ্ত হলেও সেগুলো বাতিল হওয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সংগঠনটি আবাসন সংকটের প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
দেশটিতে আবাসন সংকট কতটা তীব্র, তার চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও। নতুন বাড়ি নির্মাণ ও চাহিদার পার্থক্যের ভিত্তিতে ব্যাংক অব স্পেনের ধারণা, দেশটিতে প্রায় সাত লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনই’র ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে স্পেনে বাড়ির দাম ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান আইডিয়ালিস্তার তথ্য অনুযায়ী, ভাড়ার বাড়ির ঘাটতির কারণে ২০২৫ সালে দেশটিতে বাড়িভাড়া ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। শুধু মাদ্রিদে ভাড়া বেড়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
বর্ষাকালে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে ব্যাংককের রাস্তায় পানি জমা নতুন কিছু নয়। থাইল্যান্ডের রাজধানীর অনেক উঁচু ভবনঘেরা কেন্দ্রীয় এলাকাতেও কখনও কখনও রাস্তাগুলো নদীর মতো হয়ে যায়। তবে এবার বৃষ্টির তীব্রতা ছাড়িয়ে গেছে স্বাভাবিক মাত্রা। মাত্র দুই দিনে শহরের কিছু এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি লন্ডনের গড় ছয় মাসের বৃষ্টিপাতের প্রায় সমান। এতে ব্যাংককের অনেক এলাকা রাস্তাঘাট নয়, বরং স্থির পানির বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান শনিবার (৩ অক্টোবর) এ খবর জানিয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। শহরের ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।
৭৩ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা সুলিমাস কুরাংকুলের বাসার নিচতলার সিঁড়ি এখনো পানির নিচে। তিনি জানান, গত সপ্তাহান্তের বৃষ্টি স্বাভাবিক সন্ধ্যার ঝড়ের মতো ছিল না বরং সারাদিন-সারারাত অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ব্যাংককের ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত খালং চান আবাসিক এলাকাটি এখন দুর্যোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বাদামি পানির মধ্যে ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পার্ক করা গাড়ির ছাদও পানির ওপর সামান্য দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ অংশের পানি অনেকটা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।
চাও ফ্রায়া নদীর বিশাল বন্যাপ্রবণ সমভূমির ওপর গড়ে ওঠা ব্যাংকক শহরের পানি নিষ্কাশনে খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণে শহরের খালব্যবস্থার বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে শহরটি।
ব্যাংককের ৫০টি জেলার সবকটিতেই বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। কিছু এলাকায় তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক দৃশ্য। কেউ ফোলানো প্লাস্টিকের পুলে চড়ে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও ভাসমান ফ্রিজকেও নৌকার মতো ব্যবহার করতে দেখা গেছে। প্রধান সড়কে জেটস্কি চালানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
বন্যার কারণে ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। একপর্যায়ে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী কাজে যেতে না পারায় হাজারো লাগেজ জমে যায় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। অনেক স্কুল বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র যানজট থাকায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের বলেছেন, উত্তরের দিক থেকে আসা বন্যার পানির কারণে ব্যাংককের মহানগর এলাকা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষও গঠন করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আগামী সপ্তাহে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম বন্যার প্রবণতা ইতোমধ্যেই বাড়ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্র থেকে বেশি পানি বাষ্পীভূত হয় এবং উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাংককের বন্যা সহনশীলতা নিয়ে গবেষণায় যুক্ত পরামর্শক নাইম লায়েনি বলেন, কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টির তীব্রতা কর্তৃপক্ষ সম্ভবত অবমূল্যায়ন করেছিল। ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন খালগুলো সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি সামলাতে পারে। উন্নত কিছু অংশে এই সক্ষমতা ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে এবং পরপর বৃষ্টির কারণে পানি সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি।
ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে আরও কয়েক হাজার সেনা। ইরান যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশের সময় দুই পক্ষই সামরিক সংঘাত বাড়ানো কিংবা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। এমন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অর্থ কী? এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত? নাকি আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন?
মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি বহর রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর একদিন পর ওই অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ)। এ ইউনিটে রয়েছে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নতুন এই রণতরি বহর ও নৌবাহিনীর অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৯ থেকে ১০ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য ওই অঞ্চলে যুক্ত হতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং উভচর অভিযানে সক্ষম দুটি সামরিক দল অবস্থান নেবে। এই বিপুল সামরিক উপস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তানিয়া নুরি জানান, নতুন মোতায়েনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই অবস্থান করা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে নতুন করে সামরিক শক্তি যুক্ত হবে।
পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে নুরি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই এগোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখাই এই মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও আপাতত সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালাতে ‘প্রস্তুত’ রয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। সে সময় লেবাননে মার্কিন মেরিন ও স্থলসেনার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারে পৌঁছেছিল।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ থেকে ৫০ হাজার সেনা অবস্থান করছিলেন। তারা বড় স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট অগ্রবর্তী সামরিক স্থাপনাতেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। শুরুতে আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়।
শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ ক্লাসরুমের প্রতিবাদে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় দেশজুড়ে চার শতাধিক হাই স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্যারিস অঞ্চল থেকে গত মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক স্কুলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মার্শেইতে আন্দোলন চলাকালে অসাবধানতাবশত শিক্ষকদের ওপর পেট্রোল ছিটানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া স্ট্রাতসবুর্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং তুলুজে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতায় রূপ নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ দাবিদাওয়া দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ যুক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির চার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্যারিস অঞ্চলের কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভের সূচনা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর অবস্থা খারাপ। দীর্ঘ স্কুল সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
১,০২৭ প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন: ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৭টিতে কোনো না কোনো ধরনের আন্দোলন বা বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি প্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ ছিল। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় শুক্রবার ৪০০-এর কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ক্লাসের পরিবর্তে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানানো হয়েছে।
শুধু দাবি-দাওয়ার কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি আন্দোলন। নঁতের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মার্সেইয়ে একটি স্কুলের কাছে পেট্রল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। স্ট্রাসবার্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। প্যারিসেও কয়েকটি স্কুলের প্রবেশপথে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এক দিনেই আটক প্রায় দুই হাজার: বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৯৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, সহিংসতা ও বেআইনি জমায়েতের মতো অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সোমবার থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার মানুষ আটক হওয়ার তথ্যও এসেছে। আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ কিশোর বলে জানিয়েছেন ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানা।
আহত পুলিশ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কর্মী: সংঘর্ষে ৩০৫ জন পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে আন্দোলন শুরুর পর থেকে ১৭০ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতের ৬৫ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। আহত শিক্ষা কর্মীদের মধ্যে ৪০ জন স্কুলপ্রধান রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে।
আন্দোলনের কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো কিশোর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, সহিংসতা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
সংকট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু আন্তঃমন্ত্রণালয় সংকট বৈঠক করেন। একই দিনে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ দেশের ৩৬ জন প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। সরকারের পক্ষ থেকে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে সংলাপের পথও খোলা রাখছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শুক্রবার শিক্ষার্থী সংগঠন ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকার শিক্ষার্থীদের মূল দাবির কিছু অংশ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে।
আন্দোলনে রাজনৈতিক বিতর্ক: শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের কিছু নেতা বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দলটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে সরকার বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত কিছু ভর্তি-ফি পরিবর্তন প্রত্যাহার করেছে। অ-বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিটিএস ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সে নির্ধারিত ফি নেওয়ার প্রস্তাব বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনীতির একাধিক প্রশ্নকে একই সঙ্গে সামনে এনেছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষা-পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ; অন্যদিকে অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ—দুই বাস্তবতার মাঝেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। শুক্রবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে সংলাপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, এখন সেদিকেই নজর।
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি, জ্বালানি ও পরিবহন সংকট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের প্রভাবে গত সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত সর্বশেষ খাদ্যমূল্য সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক গড়ে ১৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের সংশোধিত ১৩৪ পয়েন্টের তুলনায় এটি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান। এক বছরের ব্যবধানে সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
এফএও জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে ফসলভিত্তিক তিনটি প্রধান খাদ্যপণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে দানাশস্যের দাম আগের মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ, চিনির দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং ভোজ্যতেলের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে মাংসের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।
এফএওর মতে, আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়া খাদ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার প্রভাব খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ছে। এর সঙ্গে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, হরমুজ প্রণালি ও কৃষ্ণ সাগরের সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের সঙ্গে জলবায়ুজনিত ধাক্কা যুক্ত হয়ে জ্বালানি, পরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে চিনির দামে। আগের মাসের তুলনায় চিনির দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সম্ভাব্য ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির প্রভাবে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোতে উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় চিনির বাজারে এ চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার ফলনের পূর্বাভাস কমে যাওয়া এবং কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বিঘ্নের কারণে দানাশস্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময় গমের বাজারেও সরবরাহসংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এফএওর সূচক আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের দামের পরিবর্তন পরিমাপ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক দামের পরিবর্তনের প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে।
এদিকে এফএও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক দানাশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস ২৯৭ কোটি ৯০ লাখ টন অপরিবর্তিত রেখেছে, যা রেকর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদন হতে পারে। তবে পরিবহন ও রপ্তানি বাধার কারণে ২০২৬-২৭ মৌসুমের বৈশ্বিক দানাশস্য বাণিজ্যের পূর্বাভাস ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়েছে সংস্থাটি।
ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও একজন আহত হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাবের বেডিয়ান সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, বিএসএফ নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘বিনা উসকানিতে প্রাণঘাতী শক্তি’ প্রয়োগ করেছে এবং এ ব্যবহার ছিল ‘অন্যায্য ও চরম মাত্রায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ’।
ইসলামাবাদ নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তাৎক্ষণিক, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল এবং গৃহীত পদক্ষেপ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
তবে ঘটনাটি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্যে ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। ভারতীয় পক্ষের দাবি, সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের একটি কথিত চেষ্টা প্রতিহত করার সময় বিএসএফ গুলি চালায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের থামার জন্য সতর্ক করা হলেও তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় গুলি চালানো হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতরা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ছিলেন এবং তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ঘটনার পরিস্থিতি ও গুলির কারণ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য ভারতকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা ও সীমান্তসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে অন্তত ছয়টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে কৌশলগত কারণে দেশগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করেননি তিনি। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইসহাক দার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।
ইসহাক দার বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এর কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটিতে হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এ ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। ইসহাক দার দাবি করেন, সৌদি আরব ইতোমধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি হামলার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের জোট গঠনের অনুমতি দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর উদাহরণ টানেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে মনোনীত করা হয়েছে। ইসহাক দার তাকে ‘অত্যন্ত ভালো ও ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তা’ বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালী নিয়েও কথা বলেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রমের জন্য কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ থাকা উচিত নয়।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শুভকামনা রয়েছে। তবে কাবুলকে নিশ্চিত করতে হবে, দেশটির ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আফগানিস্তানকে প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত শুক্রবার একদিনেই তার সম্পদ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মূলত মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় শুক্রবার এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান।
শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় মাস্ক এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।
স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত জুনে মাস্কের সম্পদ দ্রুত বেড়ে যায়। ওই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি আবার সেই অবস্থান হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।
এরপর ২৯ জুন মাস্ক আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে গেলে তিনি আবার সেই সীমার নিচে নেমে যান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে।
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ককটরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচির পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা অভিজিৎ দীপকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে এসে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন। তিনি কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ রাখার কথাও জানিয়েছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সিজেপির অভিযোগ, গত দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, ২০২৪ সালে ভারতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন প্রায় ৯৭ কোটি। লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২ শতাংশ—এমন দাবিও করেছেন দীপকে। তাঁর অভিযোগ, ব্যবধান বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই লোকসভা নির্বাচনের ১৫ দিন আগে জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
দীপকে আরও দাবি করেন, দিল্লিতে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিধানসভা আসনে ৪০ হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ৪ হাজার ভোটে পরাজিত হন। তামিলনাড়ুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের আসন থেকেও প্রায় ১ লাখ ভোটার বাদ দেওয়ার পর তিনি ১০ হাজার ভোটে হেরে যান বলে অভিযোগ করেন দীপকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের মতপার্থক্য নিয়েও বিতর্ক চলছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনার গত কয়েক মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তাদের কার্যক্রম আইনসম্মত। কমিশনের ভাষ্য, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো মৃত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।
এদিকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের ইসিআইনেট (ECINet) পোর্টালে প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন। তাঁর দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের এ-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগে পৌঁছেছিল। রমেশ আরও অভিযোগ করেন, যাঁর বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ওই কর্মকর্তা এখন নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধান করছেন।
তবে রমেশের এসব বক্তব্য কংগ্রেসের অভিযোগ। এ বিষয়ে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর অভিযোগের সবগুলো দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির নেতৃত্বে বড় বিক্ষোভ হয়। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। এরপর দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলব। তিনি আমার বন্ধু এবং আমি সবসময় তাকে খুশি রাখব।’
শুক্রবার (২ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তবে তুরস্কের ওপর ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট’ (সিএএটিএসএ) অনুযায়ী আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।
এর আগে জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি তুরস্কের ওপর সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলেছিলেন তিনি।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, রুশ নির্মিত এস-৪০০ ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এটি ন্যাটোর সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর সিএএটিএসএ-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্স ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধও ছিল।
তুরস্কের বক্তব্য, জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করতেই তারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা কিনেছিল। আঙ্কারা ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গেও একমত নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরে আসার বিষয়টি বর্তমানে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, এস-৪০০ নিয়ে আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলো সমাধানে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইয়েমেনের এক লাখের বেশি সেনা অংশ নিতে পারেন। তাদের সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে। তবে অভিযানের সময় ও পরিধি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় সীমিত অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় একযোগে হামলা—দুই ধরনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে রিয়াদ।
এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৪০ বিদ্রোহীকে হত্যা বা আহত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি এ তথ্য জানান। তবে হুতিদের হতাহতের এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সরকারি বাহিনীর কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কিছু জানাননি।
দুটি ঘটনার মধ্যে এমন এক সময়ে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, যখন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প নৌপথ হিসেবে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের গুরুত্বও বেড়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এ পথ দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। প্রণালীটি ইয়েমেনের উপকূল, আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগত অবস্থান পুনরুদ্ধার করা সৌদি অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ পাবে গোষ্ঠীটি।
পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় না সৌদি আরব।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি মনে করেন, সৌদি অভিযান ২০১৫ সালের বৃহৎ সামরিক অভিযানের তুলনায় সীমিত পরিসরে হতে পারে। তার মতে, হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করার পাশাপাশি সৌদি আরবের লক্ষ্য উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। প্রথমটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। দ্বিতীয়টি হলো ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সমন্বিত আক্রমণ চালানো। এ পরিকল্পনায় আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেট অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে অংশ নিতে পারেন। স্থল অভিযানের নেতৃত্বে থাকবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাদের সহায়তা দেবে সৌদি বিমানবাহিনী।
অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির দেওয়া ধারণা অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা শুরু হতে পারে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকার, হুতি গোষ্ঠী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। তাদের অগ্রযাত্রার মুখে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছেড়ে এডেনে আশ্রয় নেয়। ২০১৫ সালে ওই সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নেয়।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরনগরী এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসংলগ্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হুতিবিরোধী বাহিনী মূলত সম্মুখসারির অবস্থান স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আল-নাজিলি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় বেশিরভাগ হতাহত হয়েছে তাইজ গভর্নরেটে। সেখানে সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি তার। সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
গতকাল শনিবার ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা আম্মার আল-সামি আল জাজিরাকে জানান, তাইজের আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
বিরোধী দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এর আগে নয় বছর বন্ধ ছিল। মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়।
আল-সামি বলেন, এ সড়ক দিয়ে তাইজে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আশপাশে হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় ইয়েমেনের মানবিক সংকট। নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া—স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর—নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশ ৭০০-এর বেশি মানুষকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) একাধিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। শুক্রবারের (২ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী এবং রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ও অন্য সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে।
তবে এসব অভিযোগকে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআরের উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকা থেকে মৃত, একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত বা অন্যভাবে অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা।
বিক্ষোভের আগে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং নিউ দিল্লি এলাকায় জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। বিভিন্ন স্থান থেকে আটক ব্যক্তিদের পুলিশ বাসে করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। এআইএসএর নেত্রী নেহা বোরাও আটক হন। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ আরও কয়েকজন পরিচিত মুখকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
নেহা বোরাকে আটকের পর তাকে পুলিশি হেফাজত থেকে বিক্ষোভকারীরা মুক্ত করে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ: দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দেয়। দলটির নেতা অভিজিৎ দীপকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।
তবে মুম্বাই পুলিশ শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। এরপরও বিক্ষোভকারীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করলে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি নেয়।
সিজেপির দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। দলটি ভোটার তালিকা নিয়ে চলমান বিতর্কেরও অবসান চায়।
এসআইআর নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের ক্ষোভ এখন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যার মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত ও বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকার প্রশাসনিক সংশোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক আস্থা এবং প্রতিবাদের অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। খবর দ্য হিন্দু।
মস্কোর জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
বার্ষিক ভালদাই ফোরামে এক প্রশ্নের জবাবে পুতিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, দেওয়া হবে।’
গত মাসে পুতিন সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য জায়ান্ট নেসলে, ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওশাঁ, সাবেক লেরয় মারলিন ডিআইওয়াই চেইন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন।
পুতিন বলেন, রাশিয়া ‘কারও কাছ থেকে কিছু নেয় না, চুরি করে না বা জাতীয়করণ করে না।’
তিনি বলেন, আমরা কিছু প্রতিষ্ঠানকে বাহ্যিক ব্যবস্থাপনার অধীনে এনে থাকি। কিন্তু কিছু ইউরোপীয় দেশ কোনো নিয়মনীতির ধার না ধারে সরাসরি আমাদের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিয়েছে।
তিনি রাশিয়ার শীর্ষ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম, রসনেফ্ট এবং লুকঅয়েলের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রেমলিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর অধিকাংশ পশ্চিমা কোম্পানি দ্রুত রাশিয়ায় থাকা তাদের ব্যবসা ও শেয়ার বিক্রি করে দেয়—কিংবা অন্তত নিজেদের সেগুলোর থেকে আলাদা করে নেয়। কারণ নিষেধাজ্ঞার ফলে বেশিরভাগ পণ্যের ব্যবসা বাণিজ্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যান্য কোম্পানিগুলো কর্মী বা স্থানীয় নাগরিকদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে রাশিয়াতেই অবস্থান করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাপক মাত্রায় সংকুচিত করে ফেলে।
এরপর রাশিয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর দেশটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করে তোলে। এজন্য চুক্তির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পদ সরাসরিও জব্দ করা হয়।