সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রাশিয়ার বেলগোরদে সশস্ত্র দলের হামলা

রাশিয়ার বেলগোরদের আকাশে হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায়। ছবি: বিবিসি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৩ ২৩:২০

ইউক্রেনের ভেতর থেকে সশস্ত্র একটি দল রাশিয়ার বেলগোরদ অঞ্চলে ঢুকে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে এবং তাতে সেখানকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয় গভর্নর ভিচেস্লাভ গ্লাদকোভ বলেছেন, গ্রাভোরোনস্কি সীমান্ত এলাকায় যারা হামলা করেছে, সেই ‘নাশকতাকারীদের’ খুঁজতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী।

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই হামলার ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে বলে তার এক মুখপাত্র জানান। এদিকে এ সংঘাতের ঘটনার দায় অস্বীকার করে ইউক্রেন সরকার দাবি করেছে, ওই ঘটনার পেছনে রাশিয়ার দুটি আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরাই জড়িত।

গভর্নর ভিচেস্লাভ গ্লাদকোভ বলেছেন, ওই ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। একটি গ্রামে গোলা নিক্ষেপ করার পর দুজন বাসিন্দাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরেকটি ঘটনায় গ্রেভোরন শহরে আহত হয়েছেন তিনজন। সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি বাড়ি এবং একটি প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি ‘খুবই উত্তেজনাকর অবস্থায়’ রয়েছে বলে তিনি জানান।

গভর্নর জানান, ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের খুঁজতে পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়েছে। যারা এ অভিযানে রয়েছে, তাদের বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যাতে পরিচয় যাচাই এবং যোগাযোগব্যবস্থায় নজরদারি করতে পারে।

একটি ড্রোন থেকে তোলা ভিডিও ফুটেজে বেলগোরদের দক্ষিণ সীমান্তের একটি চেক পয়েন্টের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া গাড়ি দেখা যায়। সেই এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে, এমন ভিডিও ফুটেজও পেয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বেলগোরদে আসলে কী হচ্ছে, সেটা এসব ভিডিও দেখে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ইউক্রেন সরকারের দাবি, বেলগোরদের এসব ঘটনার পেছনে রাশিয়ার লিবার্টি অব রাশিয়া লেজিওন এবং দ্য রাশিয়ান ভলান্টিয়ার কর্পস জড়িত রয়েছে। এদিকে ইউক্রেনভিত্তিক রাশিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী লিবার্টি অব রাশিয়া লেজিওন এক টুইটে জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উৎখাত করতে রাশিয়ার ভেতরে কাজ করছে। তারা সীমান্ত শহর কোজিঙ্কা ‘পুরোপুরি স্বাধীন’ করেছে এবং তাদের অগ্রবর্তী দল গ্রেভোরন শহরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তবে পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলোকে বলেছেন, নাশকতাকারী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের শহর বাখমুত থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়া, যে শহরটি অনেক মাস ধরে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা বাহিনী দখল করেছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্য আমরা ভালোভাবেই বুঝতে পারছি।’ বাখমুত থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়া, শহরটি হাতছাড়া হওয়ায় ইউক্রেনের যে রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সেটাকে কমিয়ে তোলা। যদিও কিয়েভ এখনো দাবি করছে, বাখমুত শহরের কিছু অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা ইউরিক সাক মন্তব্য করেছেন, এসব হামলার পেছনে রাশিয়ার নাগরিকরাই রয়েছে, যারা সে দেশের সন্ত্রাসবাদী শাসকদের ওপর বিরক্ত।

তাদের স্বাগত জানালেও বিবিসি রেডিও ফোরের ওয়ার্ল্ড টুনাইট অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ওই হামলাকারীদের তার দেশ সহায়তা করছে কি না বা আশ্রয় দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত বা নাকচ- কোনোটাই করতে পারবেন না।

সর্বশেষ এসব ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু করার পর বেলগোরদ এবং আরও কিছু রাশিয়ান এলাকা প্রায়ই গোলা বা ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে।

এ জন্য ইউক্রেনের গোলন্দাজ বাহিনীকে দায়ী করছে রাশিয়ান বাহিনী, যদিও ইউক্রেন বরাবরই রাশিয়ান ভূখণ্ডে কোনো ধরনের নাশকতা বা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের বেলগোরদ শহরের ওপর গত এপ্রিলে রাশিয়া ভুলক্রমে একটি বোমা নিক্ষেপ করেছিল। কয়েক দিন পর অবিস্ফোরিত একটি বোমা পাওয়া যাওয়ায় সেখানকার তিন হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।


রাফাহতে হামলা গাজায় সাহায্যের ‘কফিনে চূড়ান্ত পেরেক’ : জাতিসংঘ প্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাফাহতে একটি পূর্ণ মাত্রায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান গাজায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটাবে। যেখানে বর্তমান ‘সম্পূর্ণভাবে অপর্যাপ্ত’ সহায়তাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

সোমবার জাতিসংঘের প্রধান সতর্ক করে দিয়ে এ কথা বলেছেন।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সামনে বক্তৃতাকালে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গাজার দক্ষিণতম শহরে সর্বাত্মক আক্রমণ ‘সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকের জন্য কেবল ভয়ঙ্করই হবে না; এটি আমাদের সাহায্য কর্মসূচির কফিনেও চূড়ান্ত পেরেক ঠুকে দেবে।’


ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে নিজের শরীরে আগুন দিয়েছেন মার্কিন বিমানকর্মী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৩৮
বাসস

গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য রোববার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে নিজের শরীরে অগ্নিসংযোগ করেছেন। কর্মকর্তাদের বরাতে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়, ‘তিনি গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে নিজের শরীরে অগ্নিসংযোগ করছেন।’

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ‘ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে আগুন লাগার একটি বার্তা’ পেয়ে রাজধানীর ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা জরুরি প্রতিক্রিয়ায় দুপুর ১টার দিকে (১৮০০ জিএমটি) আগে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসে দেখেন সিক্রেট সার্ভিসের অফিসাররা ইতিমধ্যেই আগুন নিভিয়ে ফেলেছেন এবং তারা মার্কিন রাজনৈতিক নেতা, সফররত রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্যদের নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছেন।

ফায়ার ডিপার্টমেন্ট বলেছে, ‘লোকটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন, তিনি বিমান বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন, তবে এ সম্পর্কে কোনো বিবরণ দেননি।

ইসরায়েলি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই ঘটনায় কোনো কর্মী আহত হয়নি এবং ওই ব্যক্তি তাদের কাছে অজানা ছিলেন।’

ইউএস মিডিয়া জানিয়েছে, ইউনিফর্ম পরিহিত লোকটি এ সময় সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি অগ্নিসংযোগ সম্প্রচার করেছে এবং ঘোষণা করেছেন, ‘তিনি ফিলিস্তিনি গণহত্যায় জড়িত হবেন না।’

‘ফিলিস্তিন মুক্ত করুন!’ বলে চিৎকার করতে করতে তিনি নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেন, যতক্ষণ না তিনি মাটিতে পড়ে যান।


রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের ৩১ হাজার সেনা নিহত

জেলেনস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার সঙ্গে গত দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের ৩১ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর পরের দিন রোববার কিয়েভে ‘ইউক্রেন. ইয়ার ২০২৪’ ফোরামে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। খবর আল জাজিরার।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেন রুশ সেনারা। এ যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই অনেক প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই ইউক্রেনের জন্য মহান আত্মত্যাগ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ডগুলোতে হাজারো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা পাওয়া যাবে না।’

ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটিতে পূর্ণমাত্রায় রুশ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো নিহত সেনার সংখ্যা জানাল ইউক্রেন।

যুদ্ধে নিহত সেনার সংখ্যা নিয়ে রাশিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে খুব কম তথ্য দিয়েছে।

দেশটির স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা শনিবার জানায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হন ৭৫ হাজার রুশ নাগরিক।


মারা গেলেন চীনের সাবেক সেরা ধনী জং কিংহো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

চীনের সাবেক ধনী জং কিংহো রোববার মারা গেছেন। তার কোম্পানি একথা জানিয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। কিংহোর শীর্ষস্থানীয় কোমল পানীয় সংস্থা তাকে একসময় দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বানিয়েছিল।

কিংহো ছিলেন ওয়াহাহা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠানের ছিল বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, চা এবং অন্যান্য পণ্যে।

প্রতিষ্ঠানটি তার ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি শোক বার্তায় বলেছে, ‘অসুস্থতার শোক বার্তায় বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংজুতে কোম্পানির অফিসে বুধবার জং-এর জন্য স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, জং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু তিনি কী রোগে আক্রান্ত ছিলেন তার কোনো উল্লেখ করা হয়নি।

জং শুধুমাত্র তার ৪০-এর দশকে ব্যবসায় নেমেছিলেন। শিশুদের কাছে কোমল পানীয় বিক্রি করতো এবং কথিত আছে যে, নগদ অর্থের এত অভাব ছিল যে তিনি বেইজিংয়ের একটি সেতুর নীচে শুয়েছিলেন। কারণ, তার হোটেলে থাকার সামর্থ্য ছিল না।

তিনি ১৯৮৭ সালে ওয়াহাহা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে একটি পানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন। যার পানীয়গুলো চীন জুড়ে দোকান এবং সুপারমলে বিক্রি হতো।

২০১০ সালে জং ফোর্বস ম্যাগাজিন দ্বারা চীনের সবচেয়ে সেরা ধনী ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। তার সম্পদের মূল্য ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

টাইকুন এর আগে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ট্যাক্স কমানোর জন্য সমর্থন জানিয়েছিলেন কিংহো। ২০১৩ সালে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য কোনো সমস্যা নয়।

সেই সময়ে জং বলেছিলেন, ‘সম্পদ সৃষ্টিতে মানুষকে উৎসাহিত করাই উত্তম।’

বিষয়:

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে জান্তা সরকার

মিয়ানমারে পুরুষদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পুরুষদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে জান্তা সরকার। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া রোহিঙ্গা পুরুষদের নাগরিকত্বের একটি পরিচয়পত্র, জনপ্রতি এক বস্তা চাল এবং মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার কিয়াট বেতন দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এসব তথ্য জানিয়েছে। ইরাবতী জানায়, বিভিন্ন গ্রাম ও শরণার্থীশিবির থেকে অন্তত ৪০০ রোহিঙ্গা পুরুষকে ধরে নিয়ে তাদের দুই সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জান্তা বাহিনী তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী ও রাখাইনের অধিকারকর্মীরা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি সব নারী-পুরুষের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছে জান্তা সরকার। এর পরই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি পুরুষদের তালিকা তৈরির জন্য বুথিডং, মংডু এবং সিত্তের গ্রাম প্রশাসক ও রোহিঙ্গা নেতাদের চাপ দিচ্ছে জান্তা বাহিনী।

এদিকে মিয়ানমারের গণমাধ্যম নারিনজার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র হাতে নেওয়ার অনুরোধ জানায় জান্তা সরকার। তবে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের আহ্বানকে প্রতারণা বলে মনে করছেন রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেওয়া, সব সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া জান্তা সরকারের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের। নিজেদের জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে বেশ সোচ্চার তিনি। মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অনেকটা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন রোহিঙ্গাদের এই নেতা।

মো. জোবায়ের বলেন, ‘এখন তারা (জান্তা) আরেকটা নতুন খেলা এনেছে। আমাদের আকিয়াবের মুসলমান রোহিঙ্গা কমিউনিটিকে জান্তার পক্ষে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তা না হলে রোহিঙ্গাদের সরাসরি গিয়ে মারতে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ সাধারণ নাগরিকদের মারলে পৃথিবী জান্তাকে খারাপ বলবে। রোহিঙ্গারা হাতে হাতিয়ার তুলে নিলে তাদের সুবিধা হবে। কয়েকজন যারা আছে তারাও বাংলাদেশে পালিয়ে যাবে। এটা হচ্ছে তাদের নতুন খেলা।’

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে দেশটির বেশির ভাগ অঞ্চল দখলে নেয় আরাকান আর্মি। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যসহ ৩৩০ জন। বিপর্যস্ত মিয়ানমারকে শক্তিশালী করতে জান্তা সরকার দেশের সব যুবক-যুবতীর সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছে। এর পরপরই জান্তা সরকারের পক্ষ হয়ে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের লড়াই করার আহ্বান জানানো হয়।


কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাফায় বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মিসরের সীমান্তবর্তী রাফা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এত দিন রাফাকে নিরাপদ মনে করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গাজার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা রাফায় আশ্রয় নিয়েছিল। এদিকে গাজার দেইর এল-বালাহ অঞ্চলে একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।

৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হামালায় গাজায় ২৯ হাজার ৬০৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৭ জন। তা ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাছে এ পরিকল্পনা উত্থাপন করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যত দিন পর্যন্ত হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক সক্ষমতা নির্মূল এবং সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনাসহ অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত না হবে, তত দিন গাজায় যুদ্ধ চলবে। যুদ্ধ শেষে স্থানীয় যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী দেশ ও গোষ্ঠীর কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তারা গাজা পরিচালনা করবেন। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে (পিএ) এতে রাখা হবে কি না, তা এ পরিকল্পনায় স্পষ্ট করা হয়নি।

তবে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা সামনে এনেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে ও এর মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

গাজায় শিশু ও নারীর মৃত্যু ৬ গুণ

৭ অক্টোবরের পর থেকে গত সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের একটানা আক্রমণে গাজায় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলের মারাত্মক বর্বরতার বহির্প্রকাশ। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

আনাদোলু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ান-ইউক্রেনীয় যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলনা করেছে। ইসরায়েল প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থলে আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোমাবর্ষণ করছে। ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, গাজায় হামলায় ৬৬ হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১৮৩ টন। এই আগ্রাসনে ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছে।

জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণে গাজা উপত্যকায় ২২ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে। এই অঞ্চলে সাহায্য আনার ক্ষেত্রে তেল আবিবের বাধার কারণেও ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে। উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিরা পশুখাদ্য পিষে ময়দা তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউএন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশন (এইচআরএমএমইউ) অনুসারে, রাশিয়ার আগ্রাসনে ইউক্রেনে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫৭৯ শিশু এবং ২ হাজার ৯৯২ জন নারীসহ মোট ১০ হাজার ৩৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩২ জন। এর মধ্যে মোট ৮ হাজার ৯৫টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এবং ২ হাজার ২৮৩টি রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে। এইচআরএমএমইউ ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও কিছু বেশি হতে পারে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজায় সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের হাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা দুই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যার প্রায় ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, হামলার কারণে লক্ষাধিক ইউক্রেনীয় নাগরিক, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের স্বাগতও জানিয়েছে। কিন্তু গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধের অধীনে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার (১৩৯ বর্গ মাইল) এলাকায় আটকা পড়ে আছে। হামলার কারণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো নিরাপদ জায়গাও নেই।

উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের কারণে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহ শহরের ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেও আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পেরোলো, ভবিষ্যৎ কী?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্থাপনার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন সেনারা। ফাইল ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পেরিয়ে গেল। তবে সহসাই এ যুদ্ধ থামবে এমন কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। না ইউক্রেন, না রাশিয়া, না তাদের কোনো মিত্র, কারও পক্ষ থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো চিহ্ন নেই। কিয়েভ এ ব্যাপারে একরোখা যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তাদের যে সীমানা রয়েছে, রাশিয়ান সেনাদের হটিয়ে তা রক্ষিত রাখতে হবে। অন্যদিকে, ইউক্রেনকে যথাযথ রাষ্ট্র নয় দাবি করে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চায় রাশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জিতছে কে?

তীব্র মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই পক্ষেরই বেশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন প্রায় ১০০০ কিলোমিটার জুড়ে ও ২০২২ সালের শরতের পর থেকে এই এলাকায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। দুই বছর আগে রাশিয়ার পুরো মাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেনীয়রা রাশিয়ান সেনাদের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তরাঞ্চল থেকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। ওই বছরের শেষদিকে তারা পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলেও দখল করা বড় এলাকা উদ্ধার করে; কিন্তু এই মুহূর্তে রাশিয়া শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, আর ইউক্রেনীয়রা বলছে যে তাদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চলা পূর্বাঞ্চলের আভডিভকা শহর থেকে নিজেদের সেনাদের সরিয়ে নেয় ইউক্রেন। যেটাকে একটা বড় বিজয় হিসেবে দেখছে রাশিয়া। কৌশলগতভাবে আভডিভকা শহরটি আরও ভেতরে অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।

কিয়েভ জানায়, তারা সেনাদের জীবন রক্ষা করতেই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তা ছাড়া তাদের অস্ত্র ও সেনার সংখ্যা যে সেখানে অনেক কম ছিল সেটাও তারা লুকায়নি। গত বছরের মে মাসে বাখমুত দখলের পর এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বিজয়; কিন্তু আভডিভকা উত্তর-পশ্চিমের দোনেৎস্ক থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে, ইউক্রেনের যে শহরটি ২০১৪ সাল থেকেই রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থন কি কমে আসছে?

গত দুই বছর ধরে মিত্ররা ইউক্রেনকে প্রচুর পরিমাণ সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সাহায্য দিয়ে আসছে। কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির হিসাবে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯২ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। আর ৭৩ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমাদের সরবরাহ করা ট্যাঙ্ক, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার আর্টিলারি ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে; কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহায়তার পরিমাণ অনেক কমে গেছে ও ইউক্রেনকে আদতে কত দিন তাদের মিত্ররা সহায়তা চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে এই মুহূর্তে ইউক্রেনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও চাপের মধ্যে রয়েছে। সামনেই দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে ইউক্রেনের জন্য বাইডেন সরকারের নতুন ৬০ বিলিয়ন বা ৬ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘরোয়া রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে কংগ্রেসে আটকে রয়েছে। আর ইউক্রেনের সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা ভর করেছে যে যদি নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতে যান, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা থমকে যাবে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফেব্রুয়ারিতে নানা আলোচনা ও হাঙ্গেরির সঙ্গে দর কষাকষির পর ৫৪ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া ইইউ মার্চের মধ্যে ইউক্রেনকে যে পরিমাণ আর্টিলারি সরবরাহ করতে চেয়েছে, তার অর্ধেক দিতে পারবে। রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী বেলারুশ, যাদের বিভিন্ন এলাকা ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইউক্রেনে প্রবেশ করছে রুশ সেনারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ বলছে, ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়াকে অল্প কিছু ড্রোন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছিল ইরান।

আবার পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে চেয়েছিল, তাদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বহর রাশিয়ার ওপর সেভাবে কাজ করেনি। রাশিয়া এখনো যেমন তেল বিক্রি করতে সমর্থ হচ্ছে, তেমনি তাদের সামরিক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও অন্য দেশ থেকে আনতে পারছে।

রাশিয়ার লক্ষ্য কি বদলে গেছে?

এখনো বেশির ভাগের বিশ্বাস যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুরো ইউক্রেন পেতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ব্যাপারে তার মতামত তুলে ধরেন। তার দাবি, ইউক্রেনের সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে, পূর্বে দনবাস অঞ্চলের মানুষ রাশিয়ার শাসনে থাকতে চায়। যুদ্ধের আগে পুতিন একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লেখেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে বলেন, রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানরা আসলে একই জনগোষ্ঠী।


গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯,৬০৬ জনে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৬০৬ জনে। গাজা উপত্যকার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি যোদ্ধা এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধে অবরুদ্ধ এ উপত্যকায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৯ হাজার ৬০৬ জন নিহত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়টির এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৯২ জন নিহত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে মোট ২৯ হাজার ৬০৬ জনে দাঁড়াল।

এদিকে গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট ৬৯,৭৩৭ জন আহত হয়েছে।


শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন আসছে ইউক্রেনে?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বড় সাধ ছিল ওয়াশিংটনের। ভেবেছিল যুদ্ধের প্যাঁচে রাশিয়াকে নাকাল করে মস্কোয় শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করা দেশগুলোয় ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসকগোষ্ঠী বদলের ইতিহাস নতুন নয়; কিন্তু, এবার হতে চলেছে কি উল্টোটাই? কেননা অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাশিয়ায় নয়, বরং কিয়েভেই তখত পাল্টানোর সম্ভাবনা এখন বেশি। কিয়েভে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে সদ্য সমাপ্ত রক্তক্ষয়ী আভদিভকার লড়াই। ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের রাজধানী দনেয়স্ক শহরের খুবই সন্নিকটে আভদিভকা। আবার আজভ সাগরতীরের মারিওপোল ও উত্তরের লুহানস্কের প্রায় মাঝামাঝি অবস্থান দনেয়স্কের।

দনেয়স্ক ও লুহানস্ক উভয় অঞ্চলই পূর্ব ইউক্রেনে। যেখানে রুশ ভাষাভাষী জনসংখ্যাই বেশি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে খেরসন ও ঝাপোরিঝিয়াসহ এ দুটি অঞ্চলকেও রাশিয়ান ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আভদিভকা নিয়ে সাম্প্রতিকতম লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল মাস চারেক আগে। এরপর গত জানুয়ারি থেকে শহরটি প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের নাকাল করতে থাকে রুশ বাহিনী। তারা উত্তর দিক থেকে যেমন হামলা চালায়, তেমনি মূল বাহিনীর একটি অংশ কোক প্ল্যান্টের দখল নেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। সমানতালে দক্ষিণদিক থেকেও বারবার আক্রমণ আসতে থাকে।

ফলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের শেষ নাগাদ, রুশ বাহিনী শহরটিকে দুইভাগে বিভাজিত করে ফেলে। এ সময় কামানের ব্যাপক গোলাবর্ষণ এবং বিমান থেকে এফএবি বোমা হামলা চালানো হয়, যার আড়ালে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। ৫০০ ও ১৫০০ কেজি ওজনের এই বোমাগুলো শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইউক্রেনীয়দের কচুকাটা করেছে একপ্রকার।

আভদিভকার প্রতিরোধ কাঠামো খুবই দৃঢ়ভাবে তৈরি করা হয়েছিল, ফলে রুশ সেনাবাহিনীর পক্ষে এর দখল নেওয়াও বেশ কঠিনই ছিল। তাই সম্মুখসারির পেছন ও পাশ থেকে হামলার ওপরে তারা জোর দেয়। এতে আভদিভকায় ইউক্রেনীয় সেনাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করা বা নতুন সেনা পাঠানো দুরূহ হয়ে পড়ে। এমনকি লড়াইয়ের শেষ সপ্তাহ নাগাদ শহরের ভেতর ও বাইরের সড়কগুলোও রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এলে পুরোপুরি ঘেরাওয়ের ঝুঁকিতে পড়ে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আভদিভকাকে রক্ষার ওপরই তার মান বাজি ধরেছিলেন এবং যেকোনো মূল্যে এই শহর রক্ষা করতে চেয়েছেন। আভদিভকার লড়াইকে বৃথা মনে করা ইউক্রেনের সর্বোচ্চ কমান্ডার জেনারেল ভ্যালেরি ঝালুজনিকেও বরখাস্ত করতে দ্বিধা করেননি।

আভদিভকায় শত্রুর সঙ্গে সবচেয়ে কাছের সংঘাতরেখা থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরিয়ে এনে, পেছনদিকের দৃঢ় প্রতিরক্ষা কাঠামোগুলোয় রাখতে চেয়েছিলেন ঝালুজনি, যাতে কিয়েভসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর রক্ষায় তা কাজ করে।

ইউক্রেনের নয়া সেনাপ্রধান আলেক্সান্ডার সিরস্কি, যিনি ঝালুজনির অধীনে এর আগে একজন কমান্ডার ছিলেন। এখন তাকেই করা হয়েছে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সর্বাধিনায়ক। এই সিরস্কিই সেই ব্যক্তি যার কৌশলের কারণে বিপুল সেনা হারানোর পরেও বাখমুতের যুদ্ধে হারে ইউক্রেন। সিরস্কির ভুল কৌশলে ‘মিট গ্রাইন্ডার’-এর মতোন কুখ্যাত আখ্যা পায় এই লড়াই। আভদিভকার পতন ঠেকাতেও জরুরি ভিত্তিতে তিন থেকে চার ব্রিগেড সেনা জড়ো করেন সিরস্কি; কিন্তু শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই চরম সংকটে পড়ে এই উদ্ধার পরিকল্পনা। আভদিভকায় পাঠানোর জন্য উল্লিখিত ব্রিগেডগুলোকে এর প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের সেলিদভ নামক মফস্বলে সমবেত ও সংগঠিত করা হয়। সেলিদভে ইউক্রেনীয়দের কর্মকাণ্ড আবিষ্কার করে ফেলে রুশ বাহিনী। তারপর ওই অবস্থানে বহু ইস্কান্দার ব্যালেস্টিক মিসাইল, ক্লাস্টার বোমা আর রকেট ছোড়ে।

রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত যেসব ব্যক্তি বা সংগঠন টেলিগ্রাম বা ‘এক্স’-এর মতো সামাজিক মাধ্যমে রয়েছে, তারা জানায়, রুশ আক্রমণে অন্তত একটি ব্রিগেড নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, অন্য ব্রিগেডগুলোরও অনেক সেনা নিহত হয়। বিপর্যয়ের এই সংবাদ চাপা দিতে এগিয়ে আসে ইউক্রেনের প্রোপাগান্ডা যন্ত্র। তারা অভিযোগ করে, সেলিদভে একটি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে রাশিয়া। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, লক্ষ্য ছিল সামরিক এবং তাতে ইউক্রেন এক থেকে দেড় হাজার সেনা হারায়।

ইউক্রেনের মিথ্যাকেই গ্রহণ করে বেশির ভাগ পশ্চিমা গণমাধ্যম। এভাবেই এ বিপর্যয় তারা বিশ্বের থেকে গোপন করে। ওই সময়ে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যাচ্ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কিয়েভ ত্যাগের আগে সিরস্কিকে আভদিভকার পতন ঠেকানোর নির্দেশ দেন তিনি।

একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে তখন শহরটিকে রক্ষা করার জন্য থার্ড ব্রিগেডকে পাঠান সিরস্কি। মূলত আজভ ব্রিগেডকে পুনর্গঠিত করে তৈরি করা হয়ে এই থার্ড ব্রিগেড। আর ইউক্রেনে কট্টর-জাতীয়তাবাদী সমর্থনের মেরুদণ্ড হচ্ছে এই আজভ ব্রিগেড। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনীয় নাৎসি যাদের বলেন, সেই আখ্যার ন্যায্য দাবিদার ইউক্রেনের কোনো সংগঠন যদি হয়– তবে সেটি এই আজভ ব্রিগেড।

ভলোদিমির জেলেনস্কির রাজনৈতিক ক্ষমতা এখন সেনাবাহিনীর সমর্থন এবং বিশেষত তাদের মধ্যকার উগ্র জাতীয়তাবাদীদের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু যতটা ঢেরা পেটানো হয়েছে থার্ড ব্রিগেড নিয়ে, কার্যত তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই ব্রিগেডের ইউনিটগুলো যখন আভদিভকায় আসে, তখন তারা এসেছিল উত্তর দিক থেকে। পরিস্থিতি কতটা সঙ্গীন অচিরেই সেটা তারা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারে।

থার্ড ব্রিগেড যখন আভদিভকায় আসে, ততদিনে একেবারে কোণঠাসা সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা ইউক্রেনীয় সেনারা। যাদের একটি অংশ, প্রায় সাড়ে চার হাজার জন শহরের উত্তরে অবস্থিত একটি কোক কারাখানায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আর শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় মহল্লাগুলোর কাছাকাছি অবস্থান করছিল আরও সাড়ে তিন হাজার সেনা। অবস্থা বেগতিক দেখে নির্দেশ অমান্য করে শহর ছেড়ে পালায় থার্ড ব্রিগেড। এমনকি সিরস্কি ও জেলেনস্কির সুস্পষ্ট নির্দেশকে তারা গ্রাহ্য করেনি।

মিউনিখে জেলেনস্কি এসেছিলেন আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ চাইতে, এই অবস্থায় সঠিক সংবাদটি প্রচারিত হলে তাকে চূড়ান্ত বিব্রত হতে হতো। এদিকে থার্ড ব্রিগেডের অনেক সেনা আবার রুশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে থাকে। মূলত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আভদিভকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন সিরস্কি।


নানজিংয়ে অগ্নিকাণ্ড, অন্তত ১৫ জন নিহত

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১২:২৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নানজিংয়ে একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার এ কথা জানিয়েছে।

শুক্রবার সকালে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়, কর্মকর্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত করা হয়েছে, আগুনের সূত্রপাত ভবনের প্রথম তলায়, যেখানে বৈদ্যুতিক বাইক রাখা হয়েছিল।

ভবনটি নানজিং এর ইউহুতাই জেলায় অবস্থিত, আট মিলিয়নেরও বেশি লোকের এই শহরটি সাংহাই থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার (১৬২ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা নাগাদ আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।


এই প্রথম চাঁদে নামল বেসরকারি মহাকাশযান

চাঁদের মাটিতে ছয় পায়ের রোবট অডিসিয়াস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এই প্রথম কোনো বেসরকারি সংস্থার তৈরি মহাকাশযান চাঁদের মাটি ছুঁয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মালার্পেট নামে একটি চন্দ্রখাতের কাছে নেমেছে এই মার্কিন চন্দ্রযান। অ্য়াপলো ১৭ চন্দ্রাভিযান করেছিল ১৯৭২ সালে। এবার অডিসিয়াস মিশন সফলভাবে চাঁদে নামল।

এই মহাকাশযানটি তৈরি করা এবং তার উড্ডয়নের মূল কারিগর ছিল হিউস্টনের সংস্থা ইনটুইটিভ মেশিন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২৩ মিনিটে (জিএমটি) তা চাঁদে নামে। এই প্রথম একটি বেসরকারি সংস্থার চন্দ্রাভিযান সফল হলো।

ইনটুইটিভ মেশিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আমরা চাঁদের মাটিতে নামতে পেরেছি। সিগন্যাল পাঠাতে পারছে চন্দ্রযানটি।’

মিশন ডিরেক্টর টিম ক্রেইন বলেছেন, ‘এখনো সিগন্যাল একটু দুর্বল আছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে আরও স্পষ্ট সিগন্যাল আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, আমাদের মেসিনপত্র এখন চাঁদে আছে। সেখান থেকে বার্তাও আসছে।’

মিশন কী?

ছয় পেয়ে রোবট অডিসিয়াস চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মালার্পেট নামে চন্দ্রখাতের কাছে নেমেছে। এবার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দিয়ে উচ্চপ্রযুক্তির সাহায্য়ে তা কাজ করবে। এটি চলবে সৌরশক্তির সাহায্যে। চন্দ্রপৃষ্ঠ, চাঁদের পরিবেশসহ অনেক বিষয়ে নতুন তথ্য পাঠাবে এই ল্যান্ডার।

অডিসিয়াসের যাত্রা

অডিসিয়াস ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। স্পেস এক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট তাকে মহাকাশে নিয়ে যায়। এখানে এই প্রথম সুপারকুল তরল অক্সিজেন, তরল মিথেন প্রোপালশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে খুবই তাড়াতাড়ি তা মহাকাশে পৌঁছে গেছে।


সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে মিয়ানমারের সরকার!

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদ্রোহীদের সঙ্গে দেশের ভেতরে যুদ্ধে লেজে-গোবরে অবস্থা এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। এ অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ও দেশের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। বলা হচ্ছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ইরাবতি।

রাখাইনের অধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জান্তা বাহিনী জানিয়েছে, যেসব রোহিঙ্গা পুরুষ সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন তাদের এক বস্তা চাল, নাগরিকত্বের একটি পরিচয়পত্র এবং মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার কিয়াট বেতন দেওয়া হবে। যা বাংলাদেশি অর্থে সাড়ে চার হাজার টাকার সমান।

তবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করতে না পেরে এখন জোরপূর্বক তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। যাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের রাজধানী সিত্তেতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে দুই সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে যেতে বিভিন্ন গ্রাম এবং শরণার্থী ক্যাম্পে হানা দিচ্ছে জান্তা বাহিনী। গ্রামবাসী ও অন্যদের আশঙ্কা, তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা পুরুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নে সান বলেছেন, ‘প্রশিক্ষণের সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। যাদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাদের জান্তা বাহিনী শুধু মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।’

এর মধ্যে সিত্তের এবং বুচিডংয়ের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব নারী-পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করে। এর পরই রোহিঙ্গা পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করে জান্তা।

সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, জান্তা বাহিনী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সবার তালিকা তৈরির জন্য বুচিডং, মংডু এবং সিত্তের গ্রাম প্রশাসক ও নেতাদের চাপ দিয়েছে।

এর মধ্যে ছোট গ্রাম থেকে অন্তত ৫০ জন, বড় গ্রাম ও প্রতিটি শরণার্থী ক্যাম্প থেকে অন্তত ১০০ জনের তালিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নে সান আরও বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি বুধবার পর্যন্ত সিত্তের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ৩০০ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তারা এখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।’

এর আগে বুচিডং থেকে গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি শতাধিক মুসলিম রোহিঙ্গা পুরুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

যদিও আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি শুধু মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও এখন তাদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, যাদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; তাদের জন্য তারা সবাই চিন্তিত। তারা আরও চিন্তিত কারণ, যেকোনো সময় তাদেরও প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।’

এদিকে গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। তাদের হামলায় অনেক ঘাঁটি ও ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছে জান্তা সেনারা। এখন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সূত্র: ইরাবতি


সুপারসনিক বোমারু বিমানে চড়লেন পুতিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম একটি সুপারসনিক সামরিক বিমানে পরীক্ষামূলক যাত্রা করেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।

মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের মাত্র দুদিন আগে তারা এ শক্তি প্রদর্শন করল। এ ধরনের যুদ্ধবিমান তৈরির মধ্যদিয়ে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে আরও গতি অর্জনের চেষ্টা করছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, সুপারসনিক এ বোমারু বিমানটিকে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কাজানে অবস্থিত বিমান প্রস্তুতকারক একটি কোম্পানির রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন করে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসতে দেখা যায়।

পুতিন এ বিমান থেকে নেমে আসার পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি নতুন যন্ত্র। এটি বিভিন্ন দিক থেকে একেবারেই নতুন একটি বিমান। এটি পরিচালনা করাও অনেক সহজ। এমনকি আপনি একেবারে খালি ও অপ্রশিক্ষিত চোখ দিয়েও দেখতে পারেন।’

এ বোমারু বিমানের কাছে কর্মকর্তাদেরকে পুতিনের শুভেচ্ছা জানানোর ভিডিও ফুটেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বারবার প্রচার করা হয়। ভিডিও ফুটেজে ৭১ বছর বয়সী রাশিয়ার এ নেতাকে বিমানটি থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, পুতিন বিমানটিতে ৩০ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। এটি সোভিয়েত পরিকল্পিত একটি কৌশলগত বোমারু বিমান যা রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগারের অংশ।


banner close