রোববার, ৪ জুন ২০২৩

এক ফোন উদ্ধারে ‘অপচয়’ ২১ লাখ লিটার পানি

আপডেটেড
২৭ মে, ২০২৩ ১১:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কথায় আছে ‘মশা মারতে কামান দাগা’। তবে এই সরকারি কর্মকর্তা মশা মারতে কামানের দারস্থ না হলেও বাঁধের ১৫ ফুট গভীর পানিতে পড়ে যাওয়া সাধের ফোনটি উদ্ধারে শরণাপন্ন হয়েছিলেন দুটি পাম্পের। ফোন উদ্ধারে ৩০ হর্স পাওয়ারের সেই পাম্প দুটি দিয়ে টানা তিন দিন ধরে সেচা হলো বাঁধের ২১ লাখ লিটার পানি, সেই পরিমাণ পানি দিয়ে ১ হাজার ৫০০ একর জমি চাষ করা যেত!

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের ছত্তিশগড়ের কাঁকের জেলার কোইলিবেড়া ব্লকে খেরকাট্টা বাঁধে গত রোববার বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন রাজেশ বিশ্বাস নামে দেশটির খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। হঠাৎ হাত ফসকে বাঁধের পানিতে পড়ে গিয়েছিল ১ লাখ ভারতীয় রুপি দামের মোবাইল ফোন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানির মধ্যে থেকে ফোন খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন ওই কর্মকর্তা। কিন্তু খুঁজে না পাওয়ায় বাঁধ থেকে পানিই তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার পরই ৩০ হর্স পাওয়ারের দুটি পাম্প নিয়ে এসে টানা তিন দিন ধরে বাঁধের পানি ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজেশের বিরুদ্ধে।

দেশটির সেচ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাঁধ থেকে যে পরিমাণ পানি ফেলা হয়েছে, সেই পানি দিয়ে ১ হাজার ৫০০ একর জমি চাষ করা যেত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যায় পাম্প লাগিয়ে বাঁধ থেকে পানি তোলা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সেচ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযোগ পেয়ে পানি সেচা বন্ধ করেন।

সেচ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তিন দিনে বাঁধ থেকে ৯ ফুট পানি ফেলা হয়। এত ফেলার পরও বাঁধে ৬ ফুট গভীর পানি ছিল। গরমের সময় ১০ ফুটের বেশি পানি থাকে এই বাঁধে। প্রাণীরা প্রায়ই এই বাঁধে পানি খেতে আসে।

কেন এই কাজ করলেন? আর কে তাকে বাঁধের পানি ফেলার অনুমতি দিয়েছিল জানতে চাইলে রাজেশ দাবি করেন, সেলফি তোলার সময় ফোনটি পানিতে পড়ে গিয়েছিল। যেহেতু ফোনে খাদ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সব নথি ছিল, তাই সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু যারা ফোন খোঁজার জন্য পানিতে নেমেছিলেন তারা জানান, পানির নিচে পাথর থাকায় ফোনটি পাওয়া যায়নি। রাজেশের দাবি, এর পরই তিনি সাব-ডিভিশনাল কর্মকর্তাকে ফোন করেন। বাঁধের পানি তুলে ফেলার জন্য তার কাছে অনুরোধ করেন। তখন তিনি নাকি তাকে অনুমতি দেন, তিন-চার ফুট পানি তুলে নিলে কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ ওই পানি ‘কোনো কাজে লাগে না’। এর পরই পাম্প দিয়ে বাঁধের পানি তোলা শুরু করেন রাজেশ।

অবশ্য এতকিছু করেও শেষ রক্ষা হয়নি রাজেশের বরং ‘দুকূল’ই হারিয়েছেন তিনি। তিন দিন ধরে পানির নিচে থাকায় রাজেশের সাধের ফোনটা আর কাজ করছে না। এদিকে এত পানি ‘অপচয়’ করার জন্য তাকে সামরিক বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


ভারতের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৮৮, ঘটনাস্থলে মোদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ভারতের উড়িষ্যায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৮৮ জন নিহত এবং ৮০৩ জন আহত হয়েছেন। রেল কর্মকতাদের বরাতে শনিবার সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া জনিয়েছে গত আহতদের মধ্যে অন্তত ৫৬ জন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের এক যাত্রী টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, তিনি ২০০-৩০০ মরদেহ দেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তিনি বলেছেন, এই দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিগন্যালের ত্রুটির কারণে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাজ্যটির বালেশ্বর জেলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন আরেকটি ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় পণ্যবাহী আরও একটি ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

সাম্প্রতিককালে ভারতের সবচেয়ে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করমন্ডল এক্সপ্রেস এবং একটি পণ্যবাহী ট্রেন এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক টুইটে বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

ভয়াবহ এ ট্রেন দুর্ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

করমণ্ডল এক্সপ্রেসটি ছিল ২৩ কামরার ট্রেন। তার অন্তত ১৫টি কামরা লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় মালগাড়ির উপরে উঠে পড়ে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন। একাধিক কামরা দুমড়ে মুচড়ে যায়।

তুবড়ে যাওয়া ট্রেনের বগি সরিয়ে, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রেললাইন সারিয়ে আবার কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দক্ষিণ ভারতগামী বহু ট্রেন এই দুর্ঘটনার জেরে বাতিল করতে হয়েছে।

বিষয়:

ভারতে ভয়াবহ যত ট্রেন দুর্ঘটনা

উড়িষ্যায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আড়াইশ ছাড়িয়ে গেছে। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ১৮:২৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে ভারত। গত শুক্রবার উড়িষ্যায় ভয়াবহ ওই ট্রেন দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬১ জন নিহত এবং ৯০০ জনের মতো মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আহতদের মধ্যে গুরুতর অনেকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির সরকারি কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রেল ব্যবস্থাপনার সুখ্যাতি থাকলেও দেশটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। অতীতের একাধিক ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে গত শুক্রবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি।

৬ জুন, ১৯৮১: সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে বিহার রাজ্যে। ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে বাগমতি সেতু পার হওয়ার সময় ভিড়েঠাসা একটি ট্রেনের পেছন দিকের ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে নদীতে পড়ে যায়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ৮০০ মানুষ।

৮ জুলাই, ১৯৮৮: একটি এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দক্ষিণ ভারতের কুইলনের কাছে বর্ষায় পানি উপচে পড়া একটি হ্রদে ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০৬ জন নিহত হন।

২০ অগাস্ট, ১৯৯৫: দিল্লির ২০০ কিলোমিটার দূরে উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কালিন্দি এক্সপ্রেস ট্রেনকে ধাক্কা দেয় পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস ট্রেন। সে সময় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে সাড়ে ৩শ মানুষের মৃত্যু হয়।

২৬ নভেম্বর ১৯৯৮: পাঞ্জাবের খান্না এলাকায় গোল্ডেন টেম্পল মেইল ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ অবস্থায় পেছন থেকে এসে ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয় জম্মু তাবি–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ট্রেন। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২১২ জন।

২ অগাস্ট, ১৯৯৯: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের গাইসালে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রহ্মপুত্র মেইল ট্রেনে সজোর ধাক্কা দেয় অবধ আসাম এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে ২৮৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন ৩ শতাধিক মানুষ। হতাহতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্য।

২৯ অক্টোবর, ২০০৫: দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশে ভেলুগোন্দার কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে মৃত্যু হয় অন্তত ১০২ জনের।

১০ জুলাই, ২০১১: ভারতের ফতেহপুরে একটি মেইল ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৭০ জন মারা যায়, আহত হয় তিনশর বেশি মানুষ।

২০ নভেম্বর, ২০১৬: উত্তর প্রদেশে একটি এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয় ১৪৬ জন নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয় দুইশর বেশি মানুষ।

২১ জানুয়ারি, ২০১৭: অন্ধ্র প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে ৪১ জন নিহত হন।

১৯ অক্টোবর, ২০১৮: পাঞ্জাবের অমৃতসরে দশেরা উৎসব উপলক্ষে রেললাইনের ওপর জড়ো হওয়া কয়েকশ’ মানুষের ওপর দিয়ে একটি কমিউটার ট্রেন চলে গেলে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়,আহত হন আরও ৫৭ জন মানুষ।

বিষয়:

‘সিগন্যালের ত্রুটিতে উড়িষ্যায় রেল দুর্ঘটনা’

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ১৭:২৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিগন্যালের ত্রুটির কারণে ভারতের উড়িষ্যায় ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ। রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি যৌথ পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনন্দবাজার পত্রিকা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ওই যৌথ রিপোর্টে সিগন্যালের ত্রুটির কথাই বলছেন রেল কর্মকর্তারা। তবে এটি প্রাথমিক প্রতিবেদন। বিস্তারিত তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

ওই যৌথ পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আপ মেন লাইনে সবুজ সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রেনটি সেই লাইনে ঢোকেইনি। ট্রেন ঢুকেছিল লুপ লাইনে। সেখানে আগে থেকে একটি মালগাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। তার সঙ্গে সংঘর্ষে করমণ্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়।’

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এর মাঝে ডাউন লাইন দিয়ে বালেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনের দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়।’

কিন্তু মেন লাইনে সবুজ সিগন্যাল পাওয়া সত্ত্বেও করমণ্ডল এক্সপ্রেস কী ভাবে লুপ লাইনে ঢুকে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার সন্ধ্যার এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল। তাদের তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা ৬৫০-এর বেশি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, আহতের সংখ্যা ৯০০।

তবে তুবড়ে যাওয়া ট্রেনের বগি সরিয়ে, লাইন সারিয়ে আবার কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দক্ষিণ ভারতগামী বহু ট্রেন এই দুর্ঘটনার জেরে বাতিল হয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুপুর ৩টার দিকে হাওড়ার নিকটবর্তী শালিমার স্টেশন থেকে ছাড়ে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উড়িষ্যার বালেশ্বরে পৌঁছায়, আধ ঘণ্টা পর বাহানগা বাজারের কাছে ২৩ কামরার ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

বিষয়:

‘বেঁচে আছি বাবা’

ছবি: আনন্দবাজার
আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ১৭:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দুর্ঘটনার খবর শুনেছিলেন গণমাধ্যমে। ভেসে আসছিল মৃত্যুর আলাদা আলাদা পরিসংখ্যান। সেই থেকে করমণ্ডল এক্সপ্রেসে যাত্রা করা ছেলের সঙ্গে টানা যোগাযোগের চেষ্টা করে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার বাসিন্দা সুনীল হালদার। সুনীলের ছেলে নবীন কেরালার পরিযায়ী শ্রমিক।

আনন্দবাজার পত্রিকায় জানিয়েছে, ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার করমণ্ডলে চেপে ফিরে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু রাতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রেন। খবর আসার বেশ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নবীনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তার পরিবার। দুর্ঘটনার খবরে বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন প্রতিবেশি ও আত্মীয়রা। এর পর রাত পৌনে তিনটার দিকে সুনীলের ফোনে কল আসে। ধরতেই উল্টো দিক থেকে ভেসে আসে, নবীনের কণ্ঠস্বর। নবীন বলেন, ‘বেঁচে আছি বাবা’। দীর্ঘ উদ্বেগের পর স্বস্তির কান্নায় ভেঙে পড়েন সুনীল।

সুনীল জানিয়েছেন, অন্যের মোবাইল থেকে ফোন করেছিল ছেলে। তার আগে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠাতেই প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা কাটাতে হয়েছিল তাঁদের।

সুনীল কিছুটা স্বস্তি পেলেও এখনও যোগাযোগ করা যায়নি, নদিয়ার করিমপুর থেকে কেরালায় কাজ করতে যাওয়া চার পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ফোন হাতে অপেক্ষা করছেন তাঁদের পরিবারও।

ভারতের উড়িষ্যায় বালেশ্বরের ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৬০ জন ছাড়িয়েছে। আহত ৯০০ জনের মতো।

মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া করমণ্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনের এক যাত্রী টুইটে লিখেছেন, ‘সেখান থেকে অক্ষত ফিরতে পেরে আমি চির কৃতজ্ঞ। সম্ভবত এটি ভারতের সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা।’

এনডিটিভি জানিয়েছে, অনুভব দাস নামের সেই যাত্রী লিখেন, ‘বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের তিনটি সাধারণ কোচ সম্পূর্ণভাবে লাইনচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া করমণ্ডল এক্সপ্রেসের জেনারেল, স্লিপার, এসি থ্রি টায়ার এবং এসি টু টায়ারসহ প্রায় ১৩টি কোচ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

নিজেই ২০০-২৫০ এরও বেশি জনকে মৃত দেখেছেন বলে দাবি করেছেন অনুভব দাস।

জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে কেরালা কর্মরত অনেক পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরেছিলেন। দিন দশেকের ছুটি কাটিয়ে করমণ্ডলে চেপে কেরল ফিরছিলেন অনেকে। তাদের মধ্যে ছিলেন নদিয়ার করিমপুর এলাকার বেশ কয়েক জন পরিযায়ী শ্রমিক। ছিলেন নবীনও।

করিমপুর পাটাবুকা এলাকার ৮ জন, লক্ষ্মীপাড়া এলাকার ৩ জন, থানারপাড়া এলাকার ২ জন এবং হুগলবেড়িয়ার ১ জন পরিযায়ী শ্রমিক দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটিতে ছিলেন। নবীন-সহ আট জনই ছিলেন একই কামরায়। দুর্ঘটনার কারণে গুরুতর না হলেও তারা প্রত্যেকেই আঘাত পেয়ছেন। দুর্ঘটনার জেরে বেশিরভাগের ব্যাগ হারিয়ে গেছে। ব্যাগগুলিতেই তাদের টাকাপয়সা-সহ যাবতীয় নথি ছিল। সারা রাত স্থানীয় একটি স্কুলে রাত কাটানোর পর এক অটোচালকের সাহায্যে সকাল সাতটা নাগাদ বালেশ্বর স্টেশনে পৌঁছন নবীনরা। প্রাণে বাঁচলেও দুর্ঘটনার ক্ষত, শেষ সম্বল হারানোর যন্ত্রণা, দুর্বল শরীর নিয়ে ঘরে ফিরছেন তারা প্রত্যেকে।

নবীনদের খোঁজ পাওয়া গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি নদিয়ার বহু পরিযায়ী শ্রমিকের। ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারের। নবীন বলেন, ‘বাড়ি থেকে সবাই একসঙ্গে এসেছিলাম। তার পর স্টেশন থেকে কে কোথায় উঠেছে, বলতে পারব না। আমরা ৮ জন ঠিক আছি , কিন্তু বাকিদের ফোনে পাচ্ছি না।’

বিষয়:

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৬০ ছাড়াল 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশায় তিন ট্রেনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ১৪:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ওড়িশায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬১ জন নিহত এবং ৬৫০ জন আহত হয়েছেন। রেল কর্মকতাদের বরাতে শনিবার সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানায়, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস)।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাজ্যটির বালেশ্বর জেলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন আরেকটি ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় পণ্যবাহী আরও একটি ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

সাম্প্রতিককালে ভারতের সবচেয়ে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করমন্ডল এক্সপ্রেস এবং একটি পণ্যবাহী ট্রেন এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক টুইটে বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

ভয়াবহ এ ট্রেন দুর্ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানা গেছে।


ভারতে তিন ট্রেনে সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ২৩৮  

ছবি: টুইটার থেকে নেয়া
আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ১১:৩১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৯০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজ্যটির বালেশ্বর জেলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন আরেকটি ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মালবাহী আরও একটি ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

শনিবার সকালে ওড়িশার মূখ্য সচিব প্রদীপ কুমার জেনা জানান, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। আশপাশের জেলাগুলোর সব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনটি এনডিআরএফ ইউনিট, চারটি ওডিশা ডিজাস্টার র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইউনিট, ১৫টির বেশি ফায়ার রেসকিউ দল, ৩০ জন চিকিৎসক, ২০০ পুলিশ সদস্য এবং ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে ভারতের সবচেয়ে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনাগুলোর মধ্য এটি একটি। বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করোমন্ডল এক্সপ্রেস এবং একটি পণ্যবাহী ট্রেন এ দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক টুইটে বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

ভয়াবহ এ ট্রেন দুর্ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।


কলাগাছ দিয়ে আসবাবপত্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

খনার বচনে বলা হয়েছে- ‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড়, তাতেই ভাত।’ অর্থাৎ কলার গাছ লাগানোর পর তার পাতা কাটা যাবে না। তাহলে কলার ফলন ভালো হবে। কলা বিক্রি করে অনেক টাকা আসবে। আর সেই টাকা দিয়ে কেনা যাবে খাবার ও পরিধেয় বস্ত্র।

কলাগাছ যে আক্ষরিকভাবেই ‘কাপড়ের’ চাহিদা মেটাতে পারে, তা সম্প্রতি হাতে-কলমে দেখিয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মণিপুরী-অধ্যুষিত মাঝেরগাঁও গ্রামের রাধাবতী দেবী। কলাগাছের তন্তু থেকে সুতা তৈরি করে সেই সুতায় শাড়ি বানিয়ে তাক লাগিয়েছেন তিনি।

তবে শুধু শাড়ি-ই নয়, কলাগাছের তন্তু নিয়ে বানানো যায় আসবাবপত্রও। আফ্রিকা দেশ উগান্ডার শিল্পী আইজ্যাক নকোংগে কলাগাছের তন্তু দিয়ে আসবাব তৈরি করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

উগান্ডাকে আফ্রিকার কলার রাজধানী বলা হয়। ৫০টিরও বেশি জাতের পাকা কলা ও কাঁচকলা সে দেশে চাষ করা হয়। নানাভাবে সেই কলা প্রতিদিন খাওয়াও হয়। অন্য কোনো দেশের মানুষ উগান্ডানদের মতো এত কলা খায় না। তবে উগান্ডার মানুষের কাছে কলা শুধু মিষ্টি এক ফলই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার টেকসই উৎপাদনের চূড়ান্ত নিদর্শন।

কলাগাছের ডালে মাত্র একবারই ফল ধরে। তাই নতুন ফল ফলনের জন্য সেটি কেটে ফেলা জরুরি। সে কারণে ফসল তোলার পর গাছের বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়ার বদলে আইজ্যাক সেগুলো নতুন করে ব্যবহার করেন। কলাগাছ দিয়ে তৈরি তার আসবাবের মূল উপাদান প্রাকৃতিক তন্তু।

এ প্রসঙ্গে আইজ্যাক নকোংগে বলেন, ‘আমাদের এখানে চারদিকে কলার তন্তু ছড়িয়ে রয়েছে, পেঁপে ও ডাঁটাও পাওয়া যায়। আমাদের স্থানীয় উপাদান ব্যবহারের প্রণালি গ্রহণ করতে হবে। কোনো রাসায়নিক না থাকায় সেগুলো পরিবেশবান্ধবও বটে। কয়েক বছরের মধ্যে রাসায়নিক আমাদের জগৎ ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু আমরা স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করলে অবশ্যই আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে।’

আইজ্যাক হাতে করে বাইরের অংশ থেকে তন্তু বের করেন। শিষগুলো চিকন করে কেটে তিনি রোদে শুকিয়ে তারপর প্রক্রিয়াজাত করেন। দক্ষতার সঙ্গে তন্তু পাকালে দীর্ঘ দড়ি তৈরি করা যায়। পরে কাঠ বা ধাতুর ফ্রেমে সেই দড়ি বোনা হয়।

সাজানোর জিনিস ও সংসারের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুর উপাদান হিসেবে কলাগাছের তন্তু বেশ উপযোগী। আইজ্যাক নিত্যনতুন সামগ্রী তৈরি করে চলেছেন। তবে সত্যিকারের শক্ত চেয়ারের মতো আরও বড় আসবাব তৈরি করতে প্রায় এক হাজার মিটার তন্তু লাগে। প্রায় ১০০টি কলাগাছ থেকে এত পরিমাণ তন্তু সংগ্রহ করা যায়। আইজ্যাক অন্যদেরও এই বিপুল সম্পদ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে চান। তিনি বলেন, ‘আফ্রিকায় আমরা অঢেল সম্পদে বিশ্বাস করি। যেমন এই ডাল কলার কাঁদিতে ভরা। চাষি কলাগাছ পোঁতার কিছুকাল পর ফসল তুলে কিছু আয় করবেন। অর্থাৎ আমরা সেই অঢেলতা ও ভালো ফসলে বিশ্বাস করি।’

তবে আইজ্যাকের শিল্পকলা দেখে কলা সম্পর্কে উগান্ডার মানুষের ধারণা কতটা বদলায়, সেটি দেখতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। কলাগাছের তন্তু দিয়ে হাতে তৈরি তার আসবাব বাসায় আফ্রিকার সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের ছোঁয়া আনে। আর সেই আসবাব প্রকৃত অর্থে টেকসইও বটে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে


ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ২৩৩, আহত ৯০০

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশায় তিন ট্রেনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ১১:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯০০ জন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজ্যটির বালেশ্বর জেলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন আরেকটি ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মালবাহী আরও একটি ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খবর এনডিটিভির।

শনিবার সকালে দুর্ঘটনায় হতাহতদের হালগাদ তথ্য জানিয়েছেন ওড়িশার মূখ্য সচিব প্রদীপ কুমার জেনা। তিনি বলেছেন, ট্রেন দুর্ঘটনাটিতে নিহতের সংখ্যা ২৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ৯০০ জন। একইসঙ্গে তিনটি ট্রেন এ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

সাম্প্রতিককালে ভারতের সবচেয়ে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনাগুলোর মধ্য এটি একটি। বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করোমন্ডল এক্সপ্রেস এবং একটি পণ্যবাহী ট্রেন এ দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

এনডিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। আশপাশের জেলাগুলোর সব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনটি এনডিআরএফ ইউনিট, চারটি ওডিশা ডিজাস্টার র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইউনিট, ১৫টির বেশি ফায়ার রেসকিউ দল, ৩০ জন চিকিৎসক, ২০০ পুলিশ সদস্য এবং ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে ওড়িশার মুখ্য সচিব জানিয়েছেন।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক টুইটে বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে সাহায্য করার জন্য বিমানবাহিনীকেও ডাকা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার রুপি দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন এ মন্ত্রী।

ভয়াবহ এ ট্রেন দুর্ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গ থেকে চেন্নাইগামী ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে, নিহত ৩০

ছবি: এনডিটিভি
আপডেটেড ২ জুন, ২০২৩ ২২:০৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে থেকে তামিলনাড়ুর চেন্নাইগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমস। এছাড়া আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, পশ্চিমবঙ্গের শালিমার স্টেশন থেকে শুক্রবার দুপুরে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে করমণ্ডল এক্সপ্রেস। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাহানগা বাজারের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ২৩ কামরার ট্রেনটি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে উদ্ধারকারী বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, করমণ্ডল এক্সপ্রেস ধাক্কা মারে মালবাহী ট্রেনটিতে। এর ফলে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের প্রথম তিনটি কামরা বাদে সবক’টি কামরাই লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার আঘাত এতটাই ছিল যে, করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনটি মালবাহী ট্রেনের ওপর গিয়ে ওঠে।

সংকেতজনিত ত্রুটি নাকি চালকের ভুল—কিসের জেরে এত যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল করমণ্ডল এক্সপ্রেস, তা জানার চেষ্টা চলছে।

বিষয়:

তীব্র তাপমাত্রায় পুড়ছে এশিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এশিয়ার দেশগুলো আরেক দফা তীব্র তাপমাত্রার কবলে পড়েছে। এই অঞ্চলজুড়ে মৌসুমি তাপমাত্রার রেকর্ড টপকে গেছে। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সূর্যের প্রখর উত্তাপ, গরম বাতাস এসব দেশের মানুষ কতটা সহ্য করতে পারবে, তা নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত এপ্রিলে এশিয়া মহাদেশের বিস্তৃত অংশজুড়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। তবে তাতেও যেন মানুষের শাস্তি ফুরায়নি। গত মে মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা আবারও বেড়ে যায়।

এশিয়ার চীন এবং অন্যান্য স্থানে মৌসুমের রেকর্ড তাপমাত্রা নিবন্ধিত হয়। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, আগামীতে আরও দুর্দিন আসছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও চড়া হবে।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী সারাহ পারকিন্স কির্কপ্যাটিক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে। তাই বলে আমরা বলতে পারি না যে, এ রকম বিষয়ের সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’

ভিয়েতনামে তাপপ্রবাহ জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে ব্যাপকহারে এয়ার কন্ডিশনার চালানোয় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। তবে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কর্তৃপক্ষ রাস্তার আলো জ্বালানো বন্ধ করছে। গত ৬ মে দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজধানী হ্যানয় থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে থান হোয়া প্রদেশে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। গত বুধবার ভিয়েতনামের আরেকটি প্রদেশে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

ভিয়েতনামের আবহাওয়া বিভাগ গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে আবাসিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তারা জানায়, দেশটির তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে। এই সময় পানিশূন্যতা, অবসাদ এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, চীনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল ভয়ংকর দাবদাহে পুড়ছে। মে মাসের তীব্র গরমের পর জুনেও তাপমাত্রা কমার কোনো আভাসই মেলেনি। সাংহাই, শেনজেনের মতো মেগা সিটিগুলোয় বাড়িঘর, অফিস, কারখানায় পুরোদমে এয়ারকন্ডিশনার চলছে। এতে বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর ওপর তুমুল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির আবহাওয়াবিদরা গতকাল শুক্রবার পূর্বাভাসে বলেছেন, আগামী তিন দিন চীনের দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় পুড়বে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা এমনকি ৪০ ডিগ্রিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গ্রীষ্ম আসার আগেই চীনও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চরম তপ্ত আবহাওয়া দেখছে। গত সোমবার সাংহাই শতাধিক বছরের মধ্যে মে মাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত দিন দেখে।

চীনের দাবদাহ নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী সারাহ বলেন, ‘এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে আমি অবাক হইনি। কিন্তু বিস্মিত যে এটা যেভাবে হচ্ছে, তাতে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা একটার পর একটা রেকর্ড ভাঙছে। এটা অবিরাম চলছে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো গত এপ্রিলে দুর্বিষহ দাবদাহের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। এতে বিস্তৃত পরিসরে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হিটস্ট্রোকের ঘটনা বেড়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশ ৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম দিন দেখে। এই সময়ে থাইল্যান্ডে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে।

গুয়াংডংয়ের মতো দক্ষিণের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। চীনে দুটি গ্রিড অপারেটর প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে সাউদার্ন পাওয়ার গ্রিড সম্প্রতি পিকটাইমে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ২০ কোটি কিলোওয়াট ছাড়িয়ে যেতে দেখেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাইনানে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৭০ লাখ কিলোওয়াট পেরিয়ে গেছে; রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়েছে গুয়াংসিকেও, জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

ইউনান ও গুইঝৌর মতো দক্ষিণের অন্য প্রদেশগুলোতেও সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনজুড়ে জুনের তাপমাত্রা গত বছরের মতোই থাকতে পারে; তবে সাংহাইসহ ইয়াংসি রিভার ডেল্টার বিভিন্ন এলাকা এবং সিচুয়ান ও ইউনানের মতো দক্ষিণ-পূর্ব চীনের কিছু অংশে তাপমাত্রা গত বছরের তুলনায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি বেশি হতে পারে, শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন চীনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টারের উপপরিচালক গাও রং।

গত বছর গ্রীষ্মে ভয়াবহ গরমের কারণে চীনের কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের ব্যবহার রেশনিং করতে বাধ্য হয়েছিল। টানা খরার মতো পরিস্থিতির কারণে সেবার জলবিদ্যুতের পরিমাণও কম ছিল তাদের। সিচুয়ানের মতো চীনের বড় বড় অনেক প্রদেশই জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।

চীনের মধ্যাঞ্চলসহ কোথাও কোথাও টানা বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি গমের জন্যও বিপদ হয়ে এসেছে। দেশটির শস্যভাণ্ডার খ্যাত হেনান প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অন্তত ৪ জুন পর্যন্ত দেখা যেতে পারে, বলছে আবহাওয়া পূর্বাভাস।


যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা তুলে দেয়ার বিল সিনেটে পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণসীমা তুলে দেয়াসংক্রান্ত বিল এবার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটেও পাস হয়েছে। আর্থিক সংকটের হাত থেকে বাঁচল যুক্তরাষ্ট্র।

কংগ্রেসের বেঁধে দেয়া সীমা অনুযায়ী বছরে ৩১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ওই সীমা আপাতত স্থগিত করার প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার সিনেটের অনুমোদন পেয়েছে। ফলে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো সীমা থাকল না। আপাতত যথাসময়ে ঋণ পরিশোধের কাজটাও করতে পারবে সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি অবিলম্বে ওই বিলে সই করবেন, যাতে তা আইনে পরিণত হয়।

ডয়চে ভেলে জানায়, প্রস্তাবিত বিলটিতে বলা হয়, আগামী দুই বছরের জন্য ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমা থাকবে না। ২০২৫ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এই বিল নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ চলছিল। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট এমপিরও বিলটির ব্যাপারে আপত্তি ছিল। তারা মনে করেন, এই বিলে এমন একটি ধারা আছে, যার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। শেষ পর্যন্ত সিনেটে ৬৩-৩৬ ভোটে তা পাস হলো। গত বুধবার বিলটি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছিল।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতারা বলেছেন, তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ডিফলটার হবে না। তারা যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকার জন্য এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


অনুষ্ঠান মঞ্চে হোঁচট খেয়ে পড়লেন বাইডেন

বাইডেন পড়ে যাওয়ায় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে সাহায্য করতে ছুটে আসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ জুন, ২০২৩ ১৩:২২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মঞ্চে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার দেশটির কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমির স্নাতকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক (৮০ বছর) প্রেসিডেন্ট বাইডেন পড়ে যাওয়ায় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে সাহায্য করতে ছুটে আসেন। তবে কারও সাহায্য ছাড়াই তিনি উঠে নিজ আসনে ফিরে যান।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে দেড় ঘণ্টার মতো দাঁড়িয়েছিলেন বাইডেন। এ সময়ে তিনি ৯২১ জন গ্র্যাজুয়েট ক্যাডেটের প্রত্যেকের সঙ্গে করমর্দন করেছেন।

এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক বেন লাবোল্ট বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ভালো আছেন।’ তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘যখন তিনি ক্যাডেটদের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, তখন মঞ্চে বালির ব্যাগ ছিল। সেটিতেই হোঁচট খেয়েছেন।’

ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন করমর্দন শেষে হেঁটে তার আসনের দিকে ফিরে আসার সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এরপর একাই উঠে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে বালি ভর্তি কালো রঙের ব্যাগের দিকে ইশারা করতে দেখা যায়। ব্যাগগুলোর ওপরে মূলত টেলিপ্রম্পটার রাখা হয়েছিল।

তবে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে স্বাভাবিকভাবেই হাঁটা-চলা করতে দেখা গেছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বাইডেনের এভাবে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাইকেল থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়ও একবার হোঁচট খেয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বাইডেনের বয়সটা খুব বেশিই। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের অধিকাংশই বাইডেনের বার্ধক্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তার বয়স হবে ৮২ বছর। ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

এদিকে বাইডেনের পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নির্বাচনে তিনিও লড়বেন বলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্প বাইডেনের বয়স নিয়ে মাঝেমধ্যেই মজা করে থাকেন।

আইওয়াতে একটি প্রচারণা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি আশা করি তিনি ব্যথা পাননি।’

বিষয়:

শিকার ও শিকারি যখন বন্ধু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের গুজরাটের এক প্রত্যন্ত গ্রাম। সেখানে এক গৃহস্থের গোয়ালে ছিল দুটো ষাঁড় ও একটি গাভি। হঠাৎ এক দিন গৃহস্থ লক্ষ্য করলেন একটু রাত হতেই এক চিতাবাঘ এসে হাজির। ভয়ে পরিবারসহ ঘরে খিল দিলেন তিনি। ভাবলেন, আজ বুঝি শেষ তার গরুগুলো। কিন্তু জানালা দিয়ে লক্ষ করলেন, গরুগুলো লাফালাফি বা চিৎকার করছে না। বরং শান্ত হয়ে আছে। এরপর তিনি যা দেখলেন, তা অভূতপূর্ব। চিতাবাঘটি সোজা চলে গেল গাভিটির কাছে।

গাভিটিও আস্তে ‘হাম্বা’ রবে তাকে স্বাগত জানাল যেন। এরপর চিতাটি দীর্ঘক্ষণ বসে রইল গাভির গা ঘেঁষে। যেন কত দিনের বন্ধুত্ব তাদের! শিকার তো দূরের কথা, তাদের এই ভালোবাসা ও সহাবস্থান মন কেড়ে নিল গৃহস্থের। এরপর থেকে প্রতিদিন রাতেই চিতাবাঘ আসত তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। তারা একঙ্গে বেশ খানিকটা সময় কাটাত। আবার রাত ভোর হওয়ার আগেই চলে যেত।

গৃহস্থ জানান, প্রতিদিনই রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে আসত চিতাবাঘটি। এর পদচারণে কোনো আগ্রাসী ভাব থাকত না। তাই তারাও চিতাটি সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন না। কখনো সেটিকে মেরে ফেলা বা আটকে ফেলার কথা ভাবেননি।

প্রায় এক মাস নিয়মিত আসার পর অনেক দিনের বিচ্ছেদ ছিল চিতা ও গাভিটির। এরপর আবারও সেটি আসতে শুরু করে। কিন্তু ২০০৩ সালের মার্চের পর চিতাটিকে আর দেখা যায়নি। প্রাণীটি মারা গেছে, নাকি দূরের কোনো জঙ্গলে চলে গেছে, সেটিও জানে না কেউ।

তবে বাঘ আর গরুর এই বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক গুজব, কল্পনা ডালপালা মেলেছে। অনেকে বলেন, বাঘটি যখন শাবক ছিল, তখন মাকে হারায়। এরপর এই গাভির দুধ খেয়ে বেঁচে ছিল সে। তাই গাভিটির প্রতি তার এত মমতা। তবে এসব কথার সত্যতা মেলেনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবেশবাদী এইচ এস সিং বলেন, ‘হতে পারে, বাঘটি লোকালয়ের বাঘ ছিল। অপ্রাপ্ত বয়স্ক এই চিতার মধ্যে বুনো চিতার স্বভাব একটু কম ছিল। আর গরু, ছাগলসহ খামারের পশুপাখি দেখে অভ্যস্ত ছিল বলে সেগুলোকে শিকার করার প্রবৃত্তি তার তৈরি হয়নি।’

সূত্র সিএনএন


banner close