মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

সিরিয়ায় ফের ইসরায়েলি হামলা

রোববার (স্থানীয় সময়) রাত পৌনে ১২টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৯ মে, ২০২৩ ১৮:০৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২৩ ১৮:০৫

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে গত রোববার রাতে ‘ইসরায়েলি আগ্রাসন’ চালানো হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘দামেস্কের আশপাশের নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনা’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়।

মার্চ মাসের পর দামেস্কে এটি ছিল প্রথম বিমান হামলার ঘটনা। গত ২ মে সিরিয়ায় ইসরায়েলের সর্বশেষ বিমান হামলায় সাতজন নিহত হন।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল সিরিয়ার বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি দামেস্কের মিত্র এবং ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে শত শতবার বিমান হামলা চালায়।

ইসরায়েল খুব কমই তাদের বিমান হামলার বিষয়ে মন্তব্য করে। তবে দেশটি জানায়, তারা তাদের দোরগোড়ায় ইরানের অবস্থান প্রতিরোধ করতে চায়।


নির্বাচিত

১০০ দিনেও ফেরেনি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ইন্টারনেট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সেবা সীমিত রয়েছে। গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা বন্ধ। নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর কয়েক দফায় নির্বাচন হলেও ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি চালু হয়নি।

স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নেটব্লকস জানিয়েছে, ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পরও এর প্রভাব কাটেনি।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপেও প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর প্রভাব পড়েছে। এমনকি প্রবেশিকা পরীক্ষাও স্থগিত করেছে সরকার।

স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে উত্তেজনা শুরু হয়। ২৭ জুলাই সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ৫ জুন কর্তৃপক্ষ জাম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) নিষিদ্ধ করে।

এই সংগঠনটি ছিল বিভিন্ন স্থানীয় গোষ্ঠীর একটি জোট। আইনসভায় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির থেকে পাকিস্তানে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল তারা।

সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার দিনই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়। পরে ২৭ জুলাই তা প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে এসব মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে নির্বাচন তিন দফায় অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ধাপের ভোট হয় ১০ আগস্ট।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বিক্ষোভের কিছু প্রধান এলাকায় ভোট গ্রহণ করা যায়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির অন্য এলাকাগুলোর নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।


নির্বাচিত

চীন সফরে যাচ্ছেন আরাগচি

আব্বাস আরাগচি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ বুধবার চীন সফরে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাজধানী বেইজিংয়ে ওয়াং ই ও আরাগচির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই এ সফর হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ থামাতে চীন মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন বৈঠকে যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং সংঘাত বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে গত জুলাইয়ে ওয়াং ই ও আরাগচির মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে তাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে দেখা যায়।

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চীন। ফলে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অচলাবস্থা এবং মার্কিন নৌঅবরোধের প্রভাবে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে চীনা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ কারণেই আরাগচির চীন সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির সংকট নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

‘ইরানের শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বার্তায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘‘আলোচনা হবে না’’ থেকে ‘‘আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত’’—এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তায় কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেল ও প্রণালীগুলোকে ঘিরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সামনে যা আসছে, তা ঠেকাতে পারবে না।’ রেজাই জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না, এটাই চূড়ান্ত।’

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে। তবে তেহরানের অবস্থান থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে যে, নিজেদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী নয়।


নির্বাচিত

হুতিদের হামলা চলছেই

ইয়েমেনের হুতিদের একটি দল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হামলা অব্যাহত রেখেছে ইয়েমেনের হুতিরা। সৌদি আরবের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা হুতিরা গত সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব এল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন প্রায় বন্ধ বলা চলে। এ রকম প্রেক্ষাপটে বাব এল-মান্দেব এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব এল-মান্দেব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে হুতিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণা করেছে।

হুতিরা সৌদি আরবের দিকে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, এর জেরে সৌদি আরব নিজ দেশের খামিস মুশাইত ও আবহায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সতর্কতা জারি করে। খামিস মুশাইতের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তিনি ‘তীব্র বিস্ফোরণের’ শব্দ শোনেছেন। বিস্ফোরণের পর আগুন অনেকক্ষণ ধরে জ্বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা একেবারেই ঘুমাতে পারিনি।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের সমর্থন দিয়ে আসছে। তেহরান তাদের অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়েও সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের পেছনে ইরানের ভূমিকা কতটা, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

হুতিদের নতুন করে চালানো হামলার ফলে আবারও তেলের দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে সুয়েজ খাল হয়ে এবং আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই সৌদি তেল এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে পৌঁছানোর একমাত্র নিরাপদ পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঁচ দিনে ৩০০ হামলা

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ প্রায় চার বছর স্থবির অবস্থায় ছিল। তবে জুলাইয়ে ইরানি একটি ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে রাজধানী সানায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর যুদ্ধ আবার শুরু হয়। ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ সংঘাতে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গত সোমবার জানান, তাদের সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটির যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে এবং গোলাবারুদের গুদাম। রিয়াদের চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সারি অভিযোগ করেন, সৌদি আরব গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনজুড়ে ‘৩০০টিরও বেশি বিমান হামলা’ চালিয়েছে।

গত রোববার ইয়েমেন সরকারের বাহিনী জানায়, তারা দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতি যোদ্ধাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে এবং বিমান হামলাও চালিয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবাকে তারা জানায়, এসব অভিযানে অন্তত ১০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সৌদি আরবের কার্যত শাসক ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুদ্ধটিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সোমবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, বৈঠকে ‘অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে মার্কিন এই অ্যাডমিরাল সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

এদিকে গত রোববার জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানায়, নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের কারণে আরববিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। মাত্র এক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ হাজার বেড়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তির পর দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে ভেনিজুয়েলার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে ওয়াশিংটন।’ সেই সঙ্গে বর্তমান সময়ের মতো ইরানের চারপাশে নিজেদের প্রহরা জারি রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। রোববার আয়ারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক গলফ টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ট্রাম্প।

সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভেনিজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত না নিই, তাহলে শেষ পর্যন্ত (ইরান থেকে) বেরিয়ে আসব; কিন্তু যদি নিই তাহলে (ইরানে) আমাদের উপস্থিতি থাকবে।’

এদিকে ইরান ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রের মধ্যে ওমানে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করেছে তেহরান। এমন একটি সময় এ ঘটনা ঘটল, যখন ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। তবে আলোচনা স্থগিতের কারণ হিসেবে ইরান বলছে, সৌদি আরবের অনুরোধে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেবে এবং সেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে ওমানের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে, তা তুলে ধরবে। ইরান যুদ্ধের আগে ওই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পারাপার হতো।


নির্বাচিত

মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজের সন্ধান পেল সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) মেট্রিক টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক এবং উচ্চমূল্যের বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) খনিজের বিশাল মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০তম নিয়মিত অধিবেশনে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক গভীর ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া এই আকরিক খণ্ডে ভারী উপাদানের উচ্চ ঘনত্বের বিরল খনিজের পাশাপাশি আশাব্যঞ্জক মাত্রার ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

মদিনার এই আবিষ্কারের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের বেসামরিক পারমাণবিক ও খনিজ কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষ করে গত ২২ জুলাই মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরের পর দ্বিপক্ষীয় সংবেদনশীল খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান এমপি ম্যাটেরিয়ালসের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলে সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাআদেন’। এই কৌশলগত রূপরেখার আওতায় সৌদিতে একটি নতুন বিরল ধাতু প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপনে মোট ব্যয়ের ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে সম্মতি দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), যার নিয়ন্ত্রণমূলক ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকবে সৌদির মাআদেনের হাতে।

লোহিত সাগর তীরবর্তী জেদ্দা নগরী থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাইদ প্রকল্পটি খনিজ মজুতের আয়তনের দিক থেকে বৈশ্বিকভাবে চতুর্থ বৃহত্তম স্থানে রয়েছে বলে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে। সিএসআইএসের বিশদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই খনিতে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল খনিজ এবং নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল ধাতুর মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত নিশ্চিত হওয়ায় সৌদি আরব যেমন নিজস্ব স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার পথে এগিয়ে গেছে, তেমনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসব অতিগুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান রপ্তানিরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ধারাবাহিক অনুসন্ধানের ফলে সৌদি আরবে আবিষ্কৃত সামগ্রিক বিরল খনিজ সম্পদের বাজারমূল্য ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৮ সালের মূল্যায়নের চেয়ে ৯০ শতাংশ বেশি। এর পাশাপাশি সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের প্রাথমিক গবেষণায় উন্নত অনুসন্ধান পর্যায়ে থাকা আরও দুটি এলাকায় প্রায় ৬৪৪ মিলিয়ন টন খনিজ সম্পদের উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সৌদি আরবের তিন শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তিন শহর খামিস মুশাইত, আভা এবং তায়েফে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। সোমবার দিবাগত রাতের এই আকস্মিক আক্রমণে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বসতবাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার ভোর থেকে আভা, জেদ্দা, জাজান, তায়েফ, ইয়ানবু ও আলউলাসহ সৌদি আরবের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক শহরে সর্বোচ্চ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে দেশটির সরকার।

হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, হুথিরা সুপরিকল্পিতভাবে নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ও লোকালয়ের অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব প্রাণঘাতী আক্রমণ পরিচালনা করছে, যা তাদের সহিংস চরিত্রের স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সামরিক জোট সর্বোচ্চ দৃঢ়তার সঙ্গে সৌদি ভূখণ্ড, সাধারণ মানুষ এবং বেসামরিক সম্পদ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। হুথিদের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার না করা হলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, গত রবিবার ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথি সামরিক স্থাপনায় সৌদি বিমানবাহিনীর ৭০টি বিমান অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিগত আগস্টের শেষদিক থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় রূপ নেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে গত ১১ সেপ্টেম্বর লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগত বাব এল মান্দেব প্রণালি হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে রিয়াদ; কারণ এই জলপথ দিয়েই সৌদি আরব তাদের সিংহভাগ জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাত। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে এক শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইয়েমেনি সেনাবাহিনীও রাজধানী সানামুখী অভিযান শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমান হামলাগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে সরকারি বাহিনীর সহায়তায় সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং সানাসহ হুথিদের কেন্দ্রীয় দুর্গে সরাসরি কোনো আক্রমণ চালানো হয়নি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং ২০১৫ সালে হুথিদের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলে আসছে। তৎকালীন সরকারপ্রধানের নির্বাসনের পর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বাসনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে রিয়াদ। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক ভূখণ্ড হুথি যোদ্ধাদের এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা সাম্প্রতিক এই সংঘাতের জেরে আবারও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে।


নির্বাচিত

সৌদির কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে হুতিদের হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরে অবস্থিত কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। সোমবার হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছেন।

সামরিক মুখপাত্র বলেন, ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে ও অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করে ডজন ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। হামলায় ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হুতির ভাষ্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবেই সৌদি ভূখণ্ডে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি যুদ্ধবিমান তিন শতাধিক হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে খামিস মুশাইত এলাকায় সাময়িক সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি সিভিল ডিফেন্স। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইয়েমেনে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে হুতি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংঘাতে রয়েছে হুতি গোষ্ঠী। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।


নির্বাচিত

একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর কয়েকজন এই সপ্তাহান্তে দিল্লিতে একটি বিশাল গোলাকার টেবিল ঘিরে একত্র হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে ঘোষণা করেন, তার পাশে বসা নেতাদের একজোট হয়ে ভবিষ্যতে ‘নিয়মের অনুসারী’ নয়, বরং ‘নিয়ম নির্ধারণকারী’ হয়ে উঠতে হবে।

মোদির পাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। দেশগুলো যে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা কিন্তু নয়; বরং তাদের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতেও জড়িয়েছে।

২০২০ সালে ভারত ও চীন তাদের বিতর্কিত সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। আর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন ব্যাপক আলোড়ন উঠেছিল, সে সময়ে তেহরান ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

দেশগুলো যে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা কিন্তু নয়; বরং তাদের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতেও জড়িয়েছে। এমন সময়ে ভারত যে এই নেতাদের এক জায়গায় সশরীর উপস্থিত করতে পেরেছে, সেটিই কম বড় অর্জন নয়। এটি ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ দিচ্ছে। ইরানের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্মেলন বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগও করে দিয়েছে।

গত শনি ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো সদস্যদের কাছে ব্রিকস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব কমিয়ে আনা যায়। যদিও ব্রিকসকে পশ্চিমাবিরোধী জোট হিসেবে তুলে ধরতে ভারত অনিচ্ছুক। সম্মেলনে মোদি নিজেই বলেছেন, এই জোট ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’।

দিল্লির জন্য এই পার্থক্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরস্পরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত। সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকার পরও এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই কোনো উল্লেখ নেই। ব্রিকসের আগের ঘোষণাগুলোর তুলনায় এবারেরটিতে এটি একটি ব্যতিক্রম।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে দুবার ব্রিকসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার সম্মেলনের প্রথম দিনই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে। যদিও যেসব বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো পাশ কাটিয়ে এই ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে—এমনকি ঐকমত্যে সমস্যাগুলোর সমাধান বিষয়েও তেমন কোনো উল্লেখ নেই।

যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার’ নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে এসবের জন্য কাউকেই দায়ী করা হয়নি।

এ ছাড়া এতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করার বিরোধিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করা হয়েছে, যা ‘দখলদারত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে’। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্মেলনে অন্যতম দিক হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মুখোমুখি বৈঠক। মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন বৈঠক কল্পনা করা কঠিন ছিল। যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই কোনো উল্লেখ নেই। ব্রিকসের আগের ঘোষণাগুলোর তুলনায় এবারেরটিতে এটি একটি ব্যতিক্রম।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। ঘোষণায় ‘বাছবিচারহীনভাবে বাড়তে থাকা শুল্ক’ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের বাণিজ্যিক হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় পাল্টে যেতে শুরু করা বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এখন অনেক সদস্যদেশের অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে এ সম্মেলনে অন্যতম দিক হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মুখোমুখি বৈঠক। মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন বৈঠক কল্পনা করা কঠিন ছিল। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এই সম্মেলনে তেহরানের বিশ্বের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ইরান যে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি, এই সম্মেলনে তা প্রমাণ হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইরানের নৌবন্দর অবরোধ করে রেখেছে, তা সত্ত্বেও ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান মালয়েশিয়া, ভারত, ইথিওপিয়াসহ ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।


নির্বাচিত

প্রিমিয়ার ও উঝোউ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে আলোচনা

চীনের উঝোউ ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এসএম নছরুল কদির
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ও চীনের উঝোউ ইউনিভার্সিটির মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল সোমবার চীনের উঝোউ ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেসে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের সফর উপলক্ষে এ কর্মসূচি হয়। সোমবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত উঝোউ ইউনিভার্সিটির নর্থ ল্যাবরেটরি বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার সভাকক্ষ-২০১-এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির, উঝোউ ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. কিন শিয়ংবিয়াও, ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ অফিসের পরিচালক মিস হি এন, কলেজ অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেসের ডিন মিস সং ইয়িনচিউ এবং স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের উপ-ডিন মি. ইয়াং শাংচিয়াও।

কর্মসূচির শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্ব হয়। পরে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদল উঝোউ ইউনিভার্সিটির ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করে। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেও বক্তব্য প্রদান করা হয়। আলোচনায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং পারস্পরিক একাডেমিক সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাডেমিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। পরবর্তীতে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এ সময় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ একাডেমিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ও উঝোউ ইউনিভার্সিটির মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।


নির্বাচিত

স্বাধীনতার জন্য গণভোটের দাবি ব্রিটেনের স্বশাসিত ৩ রাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রিটেন কি এবার ভেঙে যেতে পারে? তাদের অখণ্ডতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে শুরু করেছে। কারণ, ব্রিটেনের তিন স্বশাসিত রাষ্ট্র একযোগে সুর চড়াচ্ছে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের দাবিতে। ওয়েস্ট মিনস্টারকে চাপে রাখতে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন ওই তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রের নেতারা। ব্রিটেনের বিভাজনের সম্ভাবনা নিয়ে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড।

তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রই সম্প্রতি ওয়েস্টমিনস্টারের (ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় প্রশাসন) বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে বৈঠকে বসছেন তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রের নেতারা।

কার্ডিফের এক পাঁচতারা হোটেলের ওই বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়, তার ভিত্তিতে পরবর্তী গতিবিধি স্থির করতে পারে এই তিন স্বশাসিত রাষ্ট্র।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্য গণভোট আয়োজনের দাবিতে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করতে পারেন নেতারা। অনুমান করা হচ্ছে, ওয়েস্টমিনস্টারের উপর চাপ তৈরির জন্যই এই যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে কার্ডিফের ওই বৈঠকে থাকতে পারেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নেল।

তারা কোনো যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করলে, তাতে কী কী বিষয়ের উল্লেখ থাকবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে কৌতূহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সে দেশের হাউস অফ কমন‌্‌সে একটি মন্তব্য করেন। সেখান থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে মনে করছেন অনেকে। বার্নহ্যাম সেখানে বলেন, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবিতে কোনও ‘সুস্পষ্ট ঐকমত্য’ থাকলে তিনি সেখানে গণভোটের অনুমতি দেবেন।

কিন্তু পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। জানিয়ে দেন, তিনি কোনও গণভোটে সায় দেবেন না। ব্রিটেনের বিভাজনের এই শঙ্কার মধ্যেই বিতর্ক আরও বৃদ্ধি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে আবার ঐক্যবদ্ধ হিসেবে দেখতে চান।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্যের জেরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উপরে ঘরোয়া রাজনীতিতে আরও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেনের অখণ্ডতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং টানাপড়েনের মধ্যে সোমবার মুখোমুখি বসছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা।


নির্বাচিত

ইউরোপের জন্য ইসলাম বড় কোনো হুমকি নয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো গুরুতর হুমকি নয়। ইউরোপে মুসলিম অভিবাসীদের সমাজে একীভূত হওয়া নিয়ে প্রচলিত নানা আশঙ্কাকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাময়িকীটির প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের শিরোনাম—‘ইউরোপে ইসলাম নিয়ে সত্য ও মিথ্যা’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো গুরুতর হুমকি নয়। তবে ইসলামপন্থি মতাদর্শ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষকে আলাদা দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছে সাময়িকীটি।

মুসলিম অভিবাসীরা ইউরোপীয় সমাজে ব্যাপকভাবে একীভূত হতে ব্যর্থ—এমন দাবির বিরোধিতা করতে গিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট।

সাময়িকীটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ব্রিটেনে স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। একই ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, এই পরিসংখ্যান মুসলিম অভিবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাগত অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তাদের মতে, অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী যে দেশে বসতি গড়েছেন, সেখানে নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান; তারা সাধারণত নিজেদের পূর্বপুরুষের সমাজকে হুবহু পুনর্গঠন করতে চান না।

তবে শিক্ষাগত ও সামাজিক একীভবনের পাশাপাশি মুসলিমদের কিছু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সাময়িকীটি।

দ্য ইকোনমিস্টের জন্য পরিচালিত এক জরিপে ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম সমকামিতাকে ভুল বলে মনে করার কথা জানিয়েছেন। ৩৫ বছরের কম বয়সি মুসলিমদের মধ্যে ৪১ শতাংশ বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অপমানের ঘটনায় সহিংসতা ন্যায্য হতে পারে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সি মুসলিমদের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশ।

তবে সাময়িকীটি সতর্ক করেছে, এসব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগকে ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বৃহত্তর ‘জনমিতিক হুমকি’ হিসেবে দেখার দাবির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী ও ইসলামবিরোধী রাজনীতি জোরদার হওয়ার সময়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। দ্য ইকোনমিস্ট জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি ফ্রান্সে জনসমক্ষে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার মেরিন ল্য পেনের প্রস্তাবের প্রতি ৬০ শতাংশ ফরাসি ভোটারের সমর্থন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তির পর দেশটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে ওয়াশিংটন। সেই সঙ্গে বর্তমান সময়ের মতো ইরানের চারপাশে নিজেদের প্রহরা জারি রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

গত রোববার আয়ারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক গলফ টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভেনিজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত না নিই, তাহলে শেষ পর্যন্ত (ইরান থেকে) বেরিয়ে আসব; কিন্তু যদি নিই— তাহলে (ইরানে) আমাদের উপস্থিতি থাকবে।’

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত ডিসেম্বরে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবস্যালুট ডিজল্ভ’ চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসী মাফিয়া গ্যাংগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে নিউইয়র্কের আদালতে। সেই মামলার বিচারকির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চভবন সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ‘ভেনিজুয়েলার তেল খাত বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়ুক— এমনটা আমরা চাই না। এ কারণে দেশটির তেল উত্তোলন, বিপননসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।’

মার্কিন প্রশাসন ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল মজুত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বা একশ বছরের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রির সমস্ত আয় মার্কিন নিয়ন্ত্রাধীন অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং এর ব্যবহার বা বণ্টন কীভাবে হবে তা যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করবে।

ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপ ও চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং এটি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে মত দিয়েছেন।

আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের বেলাতেও একই নীতি অনুসরণ করতে পার যুক্তরাষ্ট্র।


নির্বাচিত

‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে নাগরিক সেবা এখন হাতের মুঠোয়

# দৈনিক বাংলার মুখোমুখি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় কাটা রোধ, পুকুর ভরাট ও খাল দখলমুক্ত করার পাশাপাশি স্মার্ট সেবা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ। এই অ্যাপের কার্যকারিতা ও সামগ্রিক নগর পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে মুখোমুখি হয়েছেন দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জিয়াউল হক ইমন।

দৈনিক বাংলা: আপনারা সম্প্রতি ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামের একটি স্মার্ট অ্যাপ চালু করেছেন। নাগরিক সেবা সহজীকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এটি কীভাবে কাজ করছে?

মেয়র: ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপটির মূল লক্ষ্যই হলো চসিকের সেবা শতভাগ ডিজিটালাইজড করা এবং নাগরিকের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া। এখন নগরের প্রতিটি নাগরিক ঘরে বসেই রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি ও নর্দমাসহ ১০টি ক্যাটাগরির যেকোনো সমস্যার তথ্য সরাসরি ছবি ও লোকেশনসহ সিটি করপোরেশনকে পাঠাতে পারছেন। শুধু অভিযোগ জানানোই নয়, অভিযোগ সমাধান প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে—তাও অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি লাইভ ট্র্যাকিং করা যায়। পাশাপাশি আমাদের অফিসার ড্যাশবোর্ড, ওয়ার্ডভিত্তিক হিটম্যাপ এবং স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে নাগরিকদের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি সেবা, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে। গুগল, প্লে-স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নিতে আমি চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিককে অনুরোধ করছি। অ্যাপে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

দৈনিক বাংলা: পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট বা খাল দখলের মতো বড় পরিবেশগত অপরাধ বন্ধে চসিক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয় কেমন?

মেয়র: এসব পরিবেশগত অপরাধ প্রতিরোধে একাধিক সংস্থার এখতিয়ার থাকে, তাই সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আমরা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিডিএকে সাথে নিয়ে একটি যৌথ তদারকি সেল গঠন করেছি। অ্যাপ বা হটলাইনে পরিবেশ ধ্বংসের কোনো খবর এলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে সমন্বয় করে আমরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করি। এই আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ফলে এখন আইনিব্যবস্থা নেওয়া অনেক দ্রুত ও কার্যকর হচ্ছে।

দৈনিক বাংলা: নগরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চসিকের মাঠপর্যায়ের বর্তমান কৌশল ঠিক কী?

মেয়র: ডেঙ্গু প্রতিরোধকে আমরা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। মশক নিয়ন্ত্রণে সনাতন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এবার আমরা বৈজ্ঞানিক কৌশল ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছি। হিটম্যাপের মাধ্যমে হটস্পট চিহ্নিত করে সফটওয়্যারভিত্তিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হচ্ছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও ফগিং চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চসিকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেসব স্থানে জমা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক বাংলা: খাল উচ্ছেদের কিছুদিন পরই দেখা যায় তা পুনরায় দখল হয়ে যায়। খাল ও ড্রেন দখলকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের স্থায়ী প্রতিরোধ পরিকল্পনা কী?

মেয়র: সাময়িক উচ্ছেদই একমাত্র সমাধান নয়, স্থায়ী প্রতিরোধই আমাদের মূল লক্ষ্য। সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেগা প্রকল্পের অধীনে খালের যেসব জায়গা উদ্ধার হচ্ছে, সেখানে আমরা স্থায়ী রিটার্নিং ওয়াল ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করছি। পুনরায় দখল রোধে প্রতিরোধক বাউন্ডারির পাশাপাশি আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল সার্ভে ম্যাপিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। খাল ও নালা দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি স্পষ্ট— ‘জিরো টলারেন্স’।

দৈনিক বাংলা: পাহাড় কাটা ও অবৈধভাবে পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে চসিকের কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর হচ্ছে?

মেয়র: পাহাড় ও প্রাকৃতিক জলাশয় চট্টগ্রামের অমূল্য সম্পদ। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বা পুকুর ভরাট করে নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিনষ্ট করছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব বা পরিচয়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়মিত তদারকি করব। নগরবাসীদেরও অনুরোধ করব, যেকোনো স্থানে পরিবেশ ধ্বংসের চেষ্টা দেখলে সরাসরি তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করুন।

দৈনিক বাংলা: স্মার্ট, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গঠনে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার মূল বার্তা কী?

মেয়র: শহরটি আমাদের সবার। নগরবাসী সচেতন না হলে একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে শহরকে সুন্দর রাখা সম্ভব নয়। পাহাড়, পুকুর ও খাল রক্ষা করা এবং নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। আপনারা ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা নিন, অভিযোগ জানান এবং চসিককে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখুন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক বাংলা: নগরবাসীকে দিকনির্দেশনা ও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন: আপনাকে এবং দৈনিক বাংলার পাঠকদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

সুইডেনের নির্বাচনে এগিয়ে বামপন্থিরা

সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইউরোপের রাজনীতিতে আবারও বদলের আভাস দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়লেও কিছু দেশে বামপন্থিরাও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। সে ধারাবাহিকতায় সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে টানটান লড়াই। প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোটের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে মধ্য-বামপন্থি বিরোধী জোট।

গত রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় সুইডেনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে বিরোধী জোট ১৭৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৩টি আসন। তবে, মাত্র তিনটি আসনের ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গঠন করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

সুইডিশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন গত রোববার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ভোট গণনায় বিরোধী জোট এগিয়ে রয়েছে। এ ফল শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠন হবে বলেও জানান তিনি।

তবে, বিরোধী জোট এগিয়ে থাকলেও অ্যান্ডারসনের দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবার ভালো ফল করতে পারেনি। দলটি প্রায় ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দলটির সবচেয়ে খারাপ ফল হতে পারে। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার দলটির ভোট কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এদিকে, ক্ষমতাসীন জোটের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চূড়ান্ত ফল পাওয়ার পর অন্য দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এরপর সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তবে, এখনো ভোটগণনা শেষ হয়নি। সুইডেনে ডাকযোগে পাঠানো কিছু ভোট গণনা করা এখনো বাকি। বিদেশে দেশটির দূতাবাসগুলোতে দেওয়া ভোটও এখনো গণনা করা হয়নি। এসব ভোটের গণনা শুরু হবে আগামী বুধবার। ফলে, চূড়ান্ত ফল পেতে সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এবারের নির্বাচনের আগে বছরের শুরুতে বিরোধী জোট প্রায় ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। তবে, ভোটের সময় যত ঘনিয়ে এসেছে, সে ব্যবধানও তত কমেছে। নির্বাচনের শেষদিকে দুই জোটের ব্যবধান নেমে আসে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশীয় পয়েন্টে। ফলে, শুরুতে এগিয়ে থাকা বিরোধী জোটের জন্য শেষ সময়ের লড়াই কঠিন হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ডানপন্থি জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক সুইডেন ডেমোক্র্যাটস এবার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ এবার দলটির ভোট কমেছে প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। দলটির নেতা জিমি অ্যাকেসন বলেছেন, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

তবে, সুইডেন ডেমোক্র্যাটসকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্কও রয়েছে। অতীতে নিও-নাৎসি আন্দোলনের সঙ্গে দলটির যোগসূত্র ছিল। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর দলটি ডানপন্থি শিবিরের সবচেয়ে বড় দল হয়ে ওঠে। এরপর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের সংখ্যালঘু সরকারকে পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে দলটি। তবে, এখন পর্যন্ত সরকারে সরাসরি অংশ নেয়নি তারা।


নির্বাচিত

banner close