তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আরও ৫ বছরের জন্য তুরস্কের শাসনভার তার হাতেই থাকছে। বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠা এরদোয়ানের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।
ডয়চে ভেলে জানায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত রোববার এক টুইট বার্তায় বাইডেন বলেন, ‘ন্যাটো মিত্র হিসেবে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু ও অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুরস্কের সঙ্গে আমি একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানিয়ে তুরস্ককে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র ও অংশীদার বলে বর্ণনা করেছেন।
এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এরদোয়ানের জয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। কারণ, তুরস্ককে এতদিন ধরে এরদোয়ান যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বন্ধু হিসেবেও তুরস্ককে চিহ্নিত করেছেন পুতিন। তিনি ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গাঢ় হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টুইট করে জানিয়েছেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষেই এগোবে ইউক্রেন। এরদোয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে তারা।
বস্তুত, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে খাদ্যশস্যের চুক্তি জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হয়েছে। এর ফলে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিশ্বের অন্যত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা তুরস্কে বৈঠক করেছিলেন শান্তির লক্ষ্যে। যদিও তা সফল হয়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এরদোয়ানের জয়ে চীনের পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে তুরস্কের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে আগ্রহী চীন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটোর তরফেও এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দুই জোটই জানিয়েছে, তুরস্কের কাছে তারা আরও বড় ভূমিকা আশা করে। তারা চান, এরদোয়ান আরও বেশি সহায়ক শক্তি হয়ে উঠুন।
তুরস্কের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়ী হয়েছেন এরদোয়ান। তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে এরদোয়ান পেয়েছেন ৫২ দশমিক ১ শতাংশ। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। গত ১৪ মে দেশটিতে প্রথম দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কেউই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এরদোয়ানকে অনেকটা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দেশটির মুদ্রার ধারাবাহিক দরপতন, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যসামগ্রীর চড়া দাম, অর্থনৈতিক সংকট এবং সর্বশেষ দেশটিতে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারানোয় তার জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। যার প্রভাব পড়েছিল ভোটের ময়দানে। তবে শেষ হাসি হাসলেন এরদোয়ানই।
৩০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছে লাখো মানুষ। প্রজন্মে একবার দেখা যায় এমন এই মহাজাগতিক ঘটনায় কোথাও আংশিক, আবার কোথাও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর সূর্যগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় চাঁদ সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি ঢেকে দেয়। তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দেখা গেছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সেখানে কিছু সময়ের জন্য পুরো আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে এ দৃশ্য দেখতে বড় ভিড় জমে। সূর্যগ্রহণের মুহূর্তে অনেককে বিস্ময়ে চিৎকার ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা বলেন, এমন ঘটনা মহাবিশ্বের বিস্ময়কর সৌন্দর্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয় রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের সাইবেরিয়া থেকে। এরপর এটি আর্কটিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে বাঁক নিয়ে সন্ধ্যার দিকে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর দিয়ে যায় আংশিক সূর্যগ্রহণের রেখা।
স্কটল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে শুরু হয় ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে।
শুরুতে পরিবর্তনটি খুব একটা বোঝা না গেলেও মেঘমুক্ত আকাশে থাকা মানুষজন ধীরে ধীরে চাঁদকে সূর্যের ওপর এগিয়ে যেতে দেখেন। মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের অনেক এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকায় সূর্যের ওপর দিয়ে চাঁদের ধীরে ধীরে অতিক্রম করার দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে আকাশ তুলনামূলক মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তারপরও দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানে সূর্যগ্রহণ দেখতে মানুষের ঢল নামে।
সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমার চাহিদাও বেড়ে যায়। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা চশমা বিভিন্ন দোকানে শেষ হয়ে গেলেও অনেকে নিরাপদে গ্রহণ দেখার জন্য চালুনি, সিরিয়ালের বাক্স ও কাগজের তৈরি পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
কীভাবে হয় সূর্যগ্রহণ?
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে এবং সূর্যের কিছু বা পুরো আলো আটকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। এর ফলে পৃথিবীর ওপর চাঁদের ছায়া পড়ে।
যুক্তরাজ্য থেকে দেখা গ্রহণটি ছিল আংশিক। দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় চাঁদ সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢেকে দেয়। কর্নওয়ালে এই হার ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ৯৫ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর এটিই যুক্তরাজ্যে দেখা সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ।
তবে স্পেনের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি ছিল আরও বিস্ময়কর। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় নিখুঁতভাবে একই সরলরেখায় চলে আসে। ফলে সেখানে দেখা যায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।
স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লা কোরুনিয়ায় এই দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যান চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন ক্যাট্রিচেও। পূর্ণগ্রহণের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল এবং নিজেদের দেখা দৃশ্যের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এই অনুভূতি বর্ণনা করার মতো কোনো শব্দ নেই। মহাবিশ্ব অসাধারণ।’
পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় ১৮ মাস পরপর পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে এমন ঘটনা দেখা অত্যন্ত বিরল—গড়ে প্রায় ৪০০ বছরে একবার।
পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদের আড়াল থেকে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দেখা যায়। অতি উত্তপ্ত গ্যাসের এই প্রবাহ হাজার হাজার কিলোমিটার মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে গোলাপি রঙের ছোট ছোট গ্যাসের লুপও দেখা যেতে পারে, যেগুলো সূর্যের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারোলিন লেভিট। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পরিবার ও সন্তানদের আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের মাত্র দুই মাস পর তিনি আবারও হোয়াইট হাউসে কাজে ফিরেছিলেন। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকাকালীনই পদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন লেভিট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত তাকে ফোন করে কবে কাজে ফিরবেন জানতে চাইতেন। তবে সবদিক বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন লেভিট।
জুলাইয়ে কাজে ফেরার পর তিনি চরম মানসিক চাপ ও বার্নআউটে ভুগছিলেন বলেও জানান তার ঘনিষ্ঠরা। একজন সূত্র ডেইলি মেইলকে বলেন, সন্তানদের সামলে এই কাজ করা অত্যন্ত চাপের ছিল। ঘুমেরও ঘাটতি হচ্ছিল। একই সঙ্গে নিজের কর্মদক্ষতায় যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে চাইছিলেন লেভিট। তাই যতদিন সম্ভব দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে লেভিটকে ধরে রাখতে ট্রাম্প সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন সূত্রগুলো।
একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, ট্রাম্প লেভিটকে হারাতে চাননি। কারণ তিনি তার ওপর আস্থা রাখেন এবং কাজের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন কাউকে নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে আনতে চান না। লেভিট পদ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্পের সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার বলেন, সন্তান জন্মের পর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার বদলে যেতে পারে। ছোট সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময়টি জীবনে একবারই আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেভিটের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। পরিবারকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, লেভিট হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এ ছাড়া নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্যও লেভিট গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী কণ্ঠ হয়ে থাকবেন বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি লেভিটকে হোয়াইট হাউসে একজন ‘প্রকৃত নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তার কাজের প্রশংসা করেন। ২০১৮ সাল থেকে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে তার ভূমিকারও প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
বিষয়: সময়ের আলো যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে ‘ভুল হিসাব’ করে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভুল করেছে ওয়াশিংটন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আরও বড় ধরনের ভুল হিসাবের উদাহরণ। তিনি বলেন, ভুয়া খবরের চেয়েও ভয়ংকর হলো ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য।
এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, দেশটি শিগগিরই ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠিত বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এনডিবি) যোগ দিতে যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে হেম্মাতির এ বক্তব্য প্রকাশিত হয়। ভারতে ব্রিকসের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এনডিবির করপোরেট কমিউনিকেশন বিভাগ ইরানের যোগদানের তথ্যটি নিশ্চিত করেনি।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্যোগে ২০১৫ সালে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই ব্যাংকে পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ আরও কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতি যোগ দেয়।
পশ্চিমা দেশগুলোর ভণ্ডামি নিয়ে আরাগচির ক্ষোভ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল বৃহস্পতিবার মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে এসব দেশের অবস্থান “স্পষ্ট ও লজ্জাজনক ভণ্ডামি”।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কারণে নৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলার সুযোগ তারা হারিয়েছে।
এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জুনে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি আবার কার্যকর করা এবং এর শর্তগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা ঠিক করার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে একেবারেই কোনো অগ্রগতি হয়নি।
জুনের ওই চুক্তিতে সব পক্ষের সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে। ৭ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটিকে শেষ বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, চুক্তিটি স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনর্বহাল ও এটি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। পারস্য উপসাগরে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তীব্র মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে আছে বলে জানান তিনি।
পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের নৌপথে নতুন করে জাহাজে হামলা এবং বুধবার ইরানের নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার পর এই সংকট সমাধানের আশা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পুরো সংঘাতজুড়ে ট্রাম্প একদিকে সংঘাত বাড়াবার হুমকি দিচ্ছেন, আবার পরক্ষণেই চুক্তি সন্নিকটে বলে দাবি করছেন। জুন মাসে দুই পক্ষ ‘সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের’ ঘোষণা দিয়ে অন্তর্বর্তী চুক্তি করেছিল। তবে দ্রুতই তা ভেস্তে যায়। ট্রাম্প ৭ জুলাই চুক্তিটি ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা দেন এবং এর এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তিটি ‘স্থগিত’করার ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার অঙ্গীকার রক্ষা করেনি ইরান। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে; যার মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।
ইরানের সূত্রটি রয়টার্সকে বলেন, “মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হওয়া আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে ফিরে আসা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।”
বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’রয়েছে। তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “ইরান কেবল মুখেই বড় কথা বলে, বাস্তবে কিছু করে না। পশ্চিম এশিয়ায় প্রভাবশালী অবস্থানে তারা আর নেই।”
তবে জলপথটি ব্যবস্থাপনার জন্য ইরানের গঠন করা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে এবং ইরানের দেওয়া শর্ত না মানা পর্যন্ত এটি খোলা হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইরানও ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে থাকা মার্কিন লক্ষ্যস্থল ও অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
জুনের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দুই পক্ষের সম্মতিতে মেয়াদ বাড়িয়ে ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তোলার একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো হবে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, দুই পক্ষ ওই ৬০ দিনের মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানি সূত্রটি রয়টার্সের কাছে সে দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, “মেয়াদ বাড়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ ইরানের দিক থেকে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদকাল আদৌ শুরুই হয়নি, তাই তা বাড়ানোর কিছু নেই। চুক্তি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করে এবং তার কয়েক দিন পর বের হয়ে যায়।”
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ এবং পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহ হতো। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে এই প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে, যা একপর্যায়ে সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি।
উপসাগরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার লোহিত সাগরে সন্দেহভাজন হুতি হামলা এবং ওমান সাগরে মার্কিন হামলার পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ওমান সাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করায় পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে তাদের এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নৌযানটির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা বিকল করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৮ ডলার এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৩ ডলারে ওঠানামা করছে।
তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ৭৫ শতাংশের বেশি এখনও অক্ষত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সত্ত্বেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার ৭৫ শতাংশের বেশি অক্ষত এবং এখনও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা।
ইরানের সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা শেখ এ তথ্য জানান। তার এই বক্তব্য ইরানের সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা শেখ বলেন, ওয়াশিংটন যেমন দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ততটা সফল হয়নি। শেখ বলেন, 'ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার ৭৫ শতাংশের বেশি অক্ষত এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।'
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়া এখন এক মৃত্যুপুরী। কমপক্ষে ২৫৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর আটকরা পড়ে আছেন কয়েক হাজার মানুষ। তাদের নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা অনুমান করা যাচ্ছে না। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে কলম্বিয়ায়। তারপর থেকে চারদিকে আতঙ্ক। জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
আতঙ্কিত মানুষ ধ্বংসস্তূপের ভিতর নিজের স্বজনদের খুঁজছেন। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। দেশটির কফি উৎপাদনকারী কেন্দ্রস্থল দিয়ে ভূমিকম্পটি বয়ে যাওয়ার সময় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনেকগুলোতে ফাটল ধরে, কিছু ভবন হেলে পড়ে এবং কিছু পুরোপুরি ধসে যায়। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া পৃথক প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ২৫৪ জন বলে জানানো হয়।
এর মধ্যে কফি উৎপাদন এলাকার গভীরে অবস্থিত পেরেইরায় ১০১ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরমুখী বনাঞ্চলীয় চোকো অঞ্চলের বহু আদিবাসী সম্প্রদায় এখনো বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলার শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন পরই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করে যেসব মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছেন, তাদের অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ন্যাশনাল কফি ফেডারেশন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। কৃষিখামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষতিও তারা মূল্যায়ন করছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান জার্মান বাহামন।
এদিকে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ক্রেন, খননযন্ত্র এবং নিজেদের হাত ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে তারা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে একে অন্যের হাতে বালতি তুলে দিচ্ছেন এবং আটকে পড়া মানুষদের খুঁজছেন।
পেরেইরায় স্বামী ও ১০ মাসের শিশুকে নিয়ে পরিচালিত অতিথিশালা থেকে কীভাবে পালিয়ে বেঁচেছেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন রোসা গনজালেজ। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ভবনটি কাঁপতে ও কড়কড় শব্দ করতে শুরু করে। আমরা বাইরে দৌড়ে বের হওয়ার পরই ভবনটি ধসে পড়ে। রোসা জানান, অতিথিশালার ভেতরে থাকা প্রায় ২০ জনের মধ্যে মাত্র আটজন জীবিত বের হতে পেরেছেন। একজন বয়স্ক ব্যক্তি একটি টেরেসে আটকা পড়েছিলেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, ওই ব্যক্তি নিহতদের মধ্যে থাকতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার হোসে গায়েগো ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা বিমানবন্দরে মাত্র পৌঁছেছিলেন। তিনি তখন লাইভ ভিডিও করছিলেন। ভিডিওতে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনের দৃশ্য ধারণ করা হয়। ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার সময় তিনি একটি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। গায়েগো বলেন, মানুষ আহত, রক্তাক্ত ও চিৎকার করছিল। তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। তিনি সারা রাত ঘুমাতে পারেননি এবং পরাঘাতের আশঙ্কায় খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কালী শহরে বাসিন্দারা রাস্তায় রান্না করেছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে সম্ভবপর জিনিসপত্র উদ্ধার করেছেন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া টোরেস দেল লিমোনার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সামনে উদ্ধারকর্মী, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জড়ো হন। গাছপালায় ঘেরা অভিজাত আবাসিক এলাকায় একসময় বহুতল দুটি ভবন নিয়ে দাঁড়িয়েছিল এই কমপ্লেক্সটি।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন নারীকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনলে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সবার ভাগ্য এতটা ভালো ছিল না। কালী শহরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচিব জার্মান এসকোবার জানান, শহরের মর্গ ইতোমধ্যে মৃতদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ রাস্তায় পড়ে থাকা আরও মরদেহ মর্গে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইরানর খনিগুলোতে মজুত তেলের পরিমাণ কমপক্ষে ২০৮.৬ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১১.৮২শতাংশ। ভেনিজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেলের মজুত। ইরানের অর্থনীতি অনেকাংশে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং এর সিংহভাগ (প্রায় ৯০শতাংশ) তেল চীনে রপ্তানি করা হয়।
আর পারস্য উপসাগরের ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার এবং হরমুজ প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত ৫ বর্গমাইল আয়তনের খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ‘প্রাণ’ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাসের চালান এই দ্বীপ থেকেই বহির্বিশ্বে যায়। কৌশলগতভাবেও এ দ্বীপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মূলত খার্গ দ্বীপের ডিপো বা সংরক্ষণাগারগুলো থেকেই বর্হিবিশ্বে যায় ইরানের তেল ও তরল জ্বালানি গ্যাস। খনি থেকে তেল উত্তোলন এবং গ্যাস খনিগুলো থেকে সংগ্রহীত গ্যাস তরলীকৃত করার পর ইরানের বন্দরগুলো থেকে সেই তেল ও তরলীকৃত গ্যাস প্রথমে যায় ইরানের বন্দরগুলোতে। তারপর সেখান থেকে এই তেল ও তরলীকৃত গ্যাস মজুত করা হয় খার্গ দ্বীপের ডিপো বা টার্মিনালগুলোতে। সেখান থেকে তেল ও গ্যাস বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যায় ইরানি ট্যাংকারগুলো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তকরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।
তারপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইরান। ইরানের বন্দরগুলো থেকেও প্রহরা তুলে নেয় মার্কিন নৌবাহিনী।
কিন্তু ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় ইরান এবং হরমুজ প্রণালীতে ফের অবরোধ জারি করে। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে ফের পাল্টা অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রও।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে তেল ও গ্যাসের উত্তোলন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে ইরান। ফলে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালগুলোতেও নতুন কোনো পণ্য চালান আসছে না।
খার্গ দ্বিপে তেল ও গ্যাসের ৩টি বড় টার্মিনাল আছে ইরানের। উইন্ডওয়ার্ডের কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, টানা ২২ দিন ধরে খার্গ দ্বীপের ৩ টার্মিনালের কোনোটিতে নতুন চালান আসেনি।
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে তেল-গ্যাসের চালান না আসায় রপ্তানি চালনও থেমে আছে। গত ৩১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত খার্গ দ্বীপ থেকে নতুন কোনো রপ্তানি চালান যায়নি এবং দ্বীপের বন্দরে বর্তমানে ১৭টি ইরানি ট্যাংকার নোঙ্গর করা অবস্থায় আছে।
১৩ জুলাই ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর প্রথম দিকে অবশ্য ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ খানিকটা শিথিল ছিল, ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরা ফাঁকি দিয়ে ইরান তেলের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোও রপ্তানির এই অব্যাহত অবস্থাকে ‘সাফল্য’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল।
কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধও কড়া হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত ১৪ দিনে একটি জাহাজও ইরানের কোনো বন্দর ছেড়ে খার্গ দ্বীপে যেতে পারেনি।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। দেশটি রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের’ পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও বহাল রাখা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশ নিয়ে ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে কানাডা সরকার। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিক্ষোভের কারণে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সহিংস সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও কঠোর। সেখানে ‘সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার’ পরামর্শ বহাল রয়েছে। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে কানাডা।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বা ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত অনুসরণ এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের আগে কানাডা সরকারের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিয়ে দুই দফা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল কানাডা সরকার।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় শুধু তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি আঞ্চলিক আরও দেশকে এই চুক্তির আওতায় আনার প্রত্যাশা করেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) আরব সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, আমাদের এই লক্ষ্য শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা এটিকে আরও বিস্তৃত করতে চাই এবং সম্ভব হলে একদিন এই কাঠামোর আওতায় এ অঞ্চলের সব দেশকে নিয়ে আসতে চাই। দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে এটি হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কেবল এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি বলেন, এমন ব্যাখ্যা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বোঝা যাবে না।
চুক্তিটি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা চায়—এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণের জন্য এই চুক্তি উন্মুক্ত। এরদোয়ান বলেন, এই চুক্তির পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশ ও অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করার বিষয়ে নিজের আগের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক সেই অনুযায়ী কাজ করে আসছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান কী ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, তা তারা জানেন। এ কারণেই তুরস্ক সবসময় এমন নীতি অনুসরণ করেছে, যেখানে আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও সম্মিলিত প্রজ্ঞাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
এরদোয়ানের ভাষায়, পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। এটি দৈনন্দিন কোনো ঘটনাপ্রবাহের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়। এরদোয়ান বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নতুন পরিস্থিতির ফল এবং এটি দেশগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থেকে এসেছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের সমস্যার দায়িত্ব নিজেরাই নেবে এবং নিজেদের মধ্যেই সমাধান করবে—তুরস্ক সবসময় এই নীতির পক্ষে। এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো এ অঞ্চলের নিজেদের পক্ষগুলোর মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। আমরা বলতে পারি, এখন আমরা সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান।
এরদোয়ান বলেন, এই চুক্তি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতার চেয়েও বড় বিষয়। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশী অন্য দেশগুলোর জন্যও এর দরজা খোলা রয়েছে। তার মতে, আঙ্কারা এই চুক্তিকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতির নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে।
ইউক্রেন থেকে পালিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে ইইতে ইউক্রেনীয় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৪৪ লাখ ১০ হাজার ছাঁড়িয়েছে। গত মে মাসের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছে ২৪ হাজার ৩৮০ জন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইউক্রেনীয় অস্থায়ী সুরক্ষা পেয়েছেন জার্মানিতে। জুনের শেষে দেশটিতে এ সুবিধার আওতায় ছিলেন ১২ লাখ ৮৬ হাজার ২৩০ জন। ইইউতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মোট ইউক্রেনীয়র ২৯ দশমিক ২ শতাংশই জার্মানিতে অবস্থান করছেন।
এরপরেই রয়েছে পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র। পোল্যান্ডে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন ৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭০ জন এবং চেক প্রজাতন্ত্রে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮১০ জন।
মে মাসের তুলনায় জুনে ইইউর ২৭টি দেশের মধ্যে ২৪টিতেই অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এই একমাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ এই সুরক্ষা পেয়েছেন ইতালিতে। দেশটিতে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১১৫ জনে। এরপর চেক প্রজাতন্ত্রে বেড়েছে ৩ হাজার ৮৩৫ জন এবং জার্মানিতে ২ হাজার ৯৬০ জন।
অন্যদিকে, ইইউর মাত্র তিনটি দেশে এই সংখ্যা কমতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে পোল্যান্ডে। দেশটিতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা কমেছে ৬ হাজার ৩৩৫ জন। এছাড়া বেলজিয়ামে কমেছে ৩৫ এবং আয়ারল্যান্ডে ১৫ জন।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষে ইইউতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশই ইউক্রেনের নাগরিক। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ২৭ শতাংশ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা পর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। তাদের সুরক্ষা দিতে ২০২২ সালের ৪ মার্চ অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে ইইউ।
প্রথমে এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইউরোপীয় কাউন্সিল এর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে, ইউক্রেনীয় বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে।
লেবাননে প্রাকৃতিক পরিবেশকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এর আগে গাজায় ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল দেশটির বিরুদ্ধে। দক্ষিণ লেবাননের দমকলকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলি বোমা হামলায় সৃষ্ট আগুনে বনাঞ্চল পুড়ে যাচ্ছে।
এক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি পরিকল্পিত ‘পরিবেশহত্যা’, যা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর শামিল। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের প্রাকৃতিক পরিবেশকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। সাম্প্রতিক সপ্তাহের দাবানলগুলো তাদের এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকৌশলের অংশ।
মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের খিয়ামের বাইরে একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দমকলকর্মীরা ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের বেশির ভাগ অভিযানের উদ্দেশ্য থাকে আগুন নেভানো। ইতোমধ্যে বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। সঠিক পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই, তবে ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি এলাকাগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
গত ১৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল। এতে দুই পক্ষের সংঘাত অনেকাংশে কমে গেলেও ইসরায়েলি সেনাদের কার্যক্রম থামেনি।
প্রায় দুই মাস কেটে গেলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের কার্যক্রমে আগুন ও দাবানলের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। বিশেষত জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে এসব আগুন লাগছে। বিষয়টি আগুন নেভানোর কাজে নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক ও দমকলকর্মীদের পোস্ট করা ভিডিও ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
দাবানলের প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। ফাকিহ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির পরপরই তারা এসব শুরু করেছে এবং প্রতিদিনই তারা অগ্নিসংযোগকারী বোমা ব্যবহার করছে। ছোট ড্রোন এসে দাহ্য পদার্থ ফেলে যায়। বনাঞ্চলে [সাদা] ফসফরাসের গোলা ছোড়া হয়। এর পাশাপাশি দিনের বেলায় আলোকসৃষ্টিকারী ফ্লেয়ারও ফেলা হয়, যাতে গাছপালায় আগুন ধরে যায়।’
দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকার দমকলকর্মী ও বাসিন্দারাও শুষ্ক ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে ইসরায়েলি গোলাবারুদ ও ড্রোনের মাধ্যমে একইভাবে আগুন লাগানোর কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার ঘন বনাঞ্চলপূর্ণ দুটি এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবারুদের কারণে বড় ধরনের দাবানল সৃষ্টি হয়। এর একটি সীমান্তের কাছে কাফারচৌবায় এবং অন্যটি জেজিন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী এলাকায়।
ওই এলাকার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের প্রধান সামির হারদান বলেন, শুক্রবার বিকেলে একটি ড্রোন বনাঞ্চলে গোলাবারুদ ফেললে কাফারচৌবার কাছে আগুন ধরে যায়। শনিবার আগুন নেভানোর পর রোববার একটি দ্বিতীয় ড্রোন আবারও সেখানে আগুন লাগায় বলে জানান হারদান। দমকলকর্মীদের তাদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।
সেনাবাহিনী তাদের অনুরোধ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীসহ একটি ‘সংঘাত এড়ানোর’ সমন্বয়কারী দলের কাছে পাঠায়। তবে আগুন নেভানোর জন্য তাদের মাত্র দুটি স্থানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল; যেসব অন্যান্য এলাকায় আগুন জ্বলছিল, সেখানে নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব আগুন লেবাননের পরিবেশের ওপর ইসরায়েলি হামলার একটি ধারাবাহিকতার অংশ। এর ফলে দেশটির বনাঞ্চল ও এসব বননির্ভর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে তারা মত দিয়েছেন।
লেবাননের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন গ্রিন সাদার্নার্সের প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস বলেন, ‘এগুলো দীর্ঘদিনের বনাঞ্চল, যেখানে ওক গাছের পাশাপাশি প্রচুর উচ্চফলনশীল জাতের স্টোন পাইন গাছও রয়েছে। এসব বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিস্তৃত এই এলাকাটি পরিযায়ী পাখিদের চলাচল ও বিশ্রামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।’
ইউনেস ইসরায়েলি হামলাগুলোকে ‘পরিবেশহত্যা’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে গোলাবারুদ, আগুন ও রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করে দক্ষিণ লেবাননের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করছে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইসরায়েল বারবার লেবাননের বনাঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর আগের দিন হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ছুড়েছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অতীতে দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ তাদের যোদ্ধা ও সুড়ঙ্গ আড়াল করতে এসব বনাঞ্চল ব্যবহার করে থাকে। পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, আগুন এবং পরিবেশের ব্যাপক ধ্বংসের অন্যান্য কর্মকাণ্ড বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ইসরায়েলি সেনারা মধ্যযুগীয় নিক্ষেপযন্ত্র ‘ট্রেবুশে’ ব্যবহার করে লেবাননের সীমান্ত দেয়ালের ওপর দিয়ে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ ছুড়েছিল। একই সময়ে লেবাননের সেনাবাহিনী কিছু ইসরায়েলি ড্রোনের ছবি প্রকাশ করে। সেগুলোতে বনাঞ্চলে দাহ্য পদার্থ ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত পাইপ যুক্ত করা ছিল।
ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলি উড়োজাহাজ দক্ষিণ লেবাননের কৃষিজমিতে আগাছানাশক ছড়িয়েছে। ওই রাসায়নিকের সঙ্গে ক্যানসারের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো মার্কিন পক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি।’ জেলেনস্কি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে এবং যুদ্ধ সমাপ্তির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে মার্কিন মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকার মধ্যে এই নতুন প্রস্তাবের কথা সামনে এল। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ তিন দফা শান্তি আলোচনায় অংশ নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত ও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে যাওয়ায় সেই আলোচনা থমকে যায়।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পরপরই রাশিয়া বিপুলসংখ্যক নতুন সেনা তলবের পরিকল্পনা করছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ কয়েক লাখ এবং আগামী বছর সমপরিমাণ নতুন রুশ সেনাকে দ্রুত গতিতে যুদ্ধে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে।
ইউক্রেনে ৫ লাখ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি রাশিয়ার, চালাতে পারে পারমাণবিক হামলাইউক্রেনে ৫ লাখ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি রাশিয়ার, চালাতে পারে পারমাণবিক হামলা
এর আগে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আংশিক সামরিক মোতায়েনের অনুমোদন দিলে ৩ লাখ সেনা রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পুনরায় সেনা মোতায়েনের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ মার্চ মাসে জানান, নতুন সেনা সমাবেশ এজেন্ডায় নেই। পাশাপাশি গত মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সহ-সভাপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, দেশে নতুন করে সেনা ডাকার কোনো প্রয়োজন নেই এবং এই সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন।
চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়ে দেশটিকে ‘বিশ্বের কারখানা’ বানানো দূরদর্শী সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের গণমাধ্যমের খবরে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, তুলনামূলক কম ধৈর্যের অধিকারী ও ক্ষুরধার বাকপটু এই সংস্কারক ১৯৯০-এর দশকে চীনের রাষ্ট্রীয় শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনেন এবং দেশটিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরাণ্বিত করার কাজে সহায়তা করেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, বুধবার চীনের স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ঝু। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
বিশ্বের অন্যান্য কমিউনিস্ট শাসিত দেশের সংস্কারের প্রশংসা করায় যাকে একসময় শারীরিক পরিশ্রমের জন্য প্রত্যন্ত গ্রামে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল, সেই ঝু ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে বসে চোখধাঁধানো পরিবর্তনের ধারা বাস্তবায়ন করেছিলেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও লাভজনক করে তোলার প্রক্রিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টির রক্ষণশীল এবং রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন ঝু। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারালেও ২০১০ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করতে সহায়তা করে তার এই পদক্ষেপ।
দেশটির সাবেক নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৭৯ সালের সংস্কারকে আরও এগিয়ে নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের সদস্যপদ লাভের মতো ইতিহাস সৃষ্টিকারী সব পরিবর্তন বাস্তবায়নে ঝুর বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তাকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হয়; যা চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরে সাহায্য করে।
এসব পরিবর্তন ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চীনের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে নিয়ে যায়। আর ২০০৭ সালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়।
১৯৯৮ সালে ৬৯ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা ঝু কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির সমালোচনা এবং সরকারের ব্যর্থতার দায় নিজে স্বীকার করে দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। কঠোর চাহিদাপূর্ণ কাজের শৈলী দেশটিতে তাকে ‘বস’ এবং ‘ঝু ফেংজি’ বা ‘পাগলা ঝু’ ডাকনাম এনে দিয়েছিল।
ভারতের গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দেশজুড়ে প্রচারাভিযান চালুর ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগামী ১৫ আগস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’ নামে এ কর্মসূচি শুরু হবে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিজিৎ দীপকে অভিভাবকদের সরকারি বিদ্যালয়গুলোর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সামাজিক নিরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার স্কুলগুলোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে গ্রামপ্রধানদের (সরপঞ্চ) প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি গ্রাম থেকে এ উদ্যোগ শুরু করবেন তিনি। সেখানে গ্রামের সরপঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নের অনুরোধ জানাবেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১৫ আগস্ট আমাদের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু গত ৮০ বছরে যদি কোনো বিষয় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও উপেক্ষিত হয়ে থাকে, তা হলো আমাদের গ্রামের সরকারি স্কুলগুলো। গ্রামের শিশুদের এখনো স্কুলে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক স্কুলে গিয়ে তারা পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও পায় না।’
‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন গ্রামের সরপঞ্চদের সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবে সিজেপি। যেসব সরপঞ্চ কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, তাদের প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুলের উন্নয়নের আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সরপঞ্চদের উদ্যোগ তুলে ধরা হবে।
অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি পরে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামে। পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তরমন্তরে সংগঠনটির ৩৬ দিনের আন্দোলন গত ২৫ জুলাই শেষ হয়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে সংগঠনটি।
এদিকে সিজেপিকে ঘিরে সিবিআই তদন্ত এবং আদালতকক্ষের মন্তব্য অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগে করা একটি আবেদন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিবিআই ও বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন।
আবেদনে গত ১৫ মে আদালতকক্ষে প্রধান বিচারপতির করা ‘ককরোচ’ মন্তব্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্তব্যটি ‘ক্ষোভ উস্কে দেওয়া অ্যালগরিদম’ ও ‘ট্রলিং সংস্কৃতির’ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।