রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুইডেন উপকূলে ‘গুপ্তচর’ তিমি

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৩ ২১:১২

সুইডেন উপকূলে একটি বেলুগা তিমির দেখা মিলেছে। দ্য ওয়ানহোয়েল নামের একটি সংস্থার ধারণা, এটি রাশিয়ার গুপ্তচর তিমি।

আল-জাজিরা জানায়, সুইডেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে গত রোববার তিমিটির দেখা মেলে। ২০১৯ সালে এই গুপ্তচর তিমিটিকে প্রথমবার নরওয়েতে দেখা গিয়েছিল। তখন এর গলায় লাগানো বর্মের মধ্যে একটি অ্যাকশন ক্যামেরা সংযুক্ত ছিল এবং প্লাস্টিকের হুকে লেখা ছিল ‘ইকুইপমেন্ট সেন্ট পিটার্সবার্গ’।

ওই সময় নরওয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, বেলুগা তিমিটি সম্ভবত তার আবাসস্থল ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। রুশ নৌবাহিনী হয়তো এটিকে গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তিমিটি মানুষের কাছাকাছি থাকতে অভ্যস্ত বলে জানিয়েছিলেন নরওয়ের কর্মকর্তারা।

ওয়ানহোয়েল সংস্থা গত সোমবার জানায়, তিমিটি গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আস্তে আস্তে নরওয়ের উপকূলের অর্ধেকটা পাড়ি দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এটি স্বাভাবিকের চেয়ে গতি বাড়িয়ে নরওয়ের উপকূলের বাকি অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে সুইডেনে পৌঁছেছে।


নির্বাচিত

ন্যাটো-ইইউ ভাঙতে পুতিনের নতুন ছক

ভ্লাদিমির পুতিন
আপডেটেড ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের মধ্যে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ভাঙতে গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইউক্রেনের পর মলদোভাকে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ন্যাটো ও ইইউকে ‘ভেতর থেকে ধ্বংস’ করতে পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন বলে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি গোপন বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুই দেশের কর্মকর্তাদের বরাত দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মস্কো দুটি পথে এই কৌশল এগিয়ে নিচ্ছে।

এই দুটি কৌশল হচ্ছে- ক) ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোকে রক্ষায় জোটটি কতটা দৃঢ়, তা পরীক্ষা করা

খ) মলদোভাকে অস্থিতিশীল করা।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলতি বছর ন্যাটোর দৃঢ়তা তথা ঐক্যের পরীক্ষা নিতে পারে রাশিয়া । এর সম্ভাব্য উপায় হিসেবে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে সাইবার হামলা, নাশকতা, অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে অভিযান কিংবা ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় কোনো সদস্যদেশে সীমিত সামরিক অনুপ্রবেশের কথা বলা হয়েছে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেছেন, পুতিনের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে ইউক্রেন দখল করা আর দ্বিতীয় প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে মলদোভার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। কর্মকর্তাদের ধারণা, মলদোভার রাজধানী কিশিনাউতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ছাড়াও দক্ষিণ ইউক্রেন দখল করে রাশিয়া থেকে মলদোভা পর্যন্ত একটি স্থল করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছেন পুতিন।

এই করিডোরের ফলে ইউক্রেন ও ন্যাটো-ইইউভুক্ত ভূখণ্ডের মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ২৪ লাখ জনসংখ্যার মলদোভা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়বে। মলদোভার ভূখণ্ডে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়া রয়েছে। সেখানে কয়েক দশক ধরে রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে ইউক্রেন সীমান্তের কাছেই এবং মলদোভার রাজধানী কিশিনাউয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির মতো অবস্থানে মস্কোর একটি বিদ্যমান সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মলদোভার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইইউ ও ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারবে রাশিয়া।

মলদোভাকে অস্থিতিশীল করতে রাশিয়ার সরাসরি সামরিক অভিযান একমাত্র পথ নয়। মার্চে ইউক্রেনের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলার পর ডিনিয়েস্টার নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মলদোভায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহরসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ে।

পরে রুশ ড্রোন পশ্চিম ইউক্রেনের একটি উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে হামলা চালায়। ওই লাইনটির মাধ্যমেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ মলদোভায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এতে প্রতিবেশী দেশের যুদ্ধের সঙ্গে মলদোভার অবকাঠামো কতটা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত তা স্পষ্ট হয়।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মস্কো চাপ সৃষ্টি করছে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করেন। মলদোভা ক্রমেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়া রাজনৈতিক বিভাজন, অপতথ্য ও অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির এই ইউরোপমুখী অবস্থানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল কার্স্টেন ব্রয়ার সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া এরই মধ্যে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে, হাইব্রিড অভিযান চালাচ্ছে।

পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলো তাদের বাঁধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় নির্মিত ড্রোন ব্যবহার করে ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ হামলা চালাতে পারে রাশিয়া।

একজন বাল্টিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, এ ধরনের অভিযানের লক্ষ্য শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে ন্যাটোর অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হতে পারে। এর ফলে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের রাজধানীগুলোকে বিতর্কে জড়াতে হবে। এসব হামলার জন্য রাশিয়া দায়ী কি না এবং ন্যাটোর পক্ষ থেকে এর জবাব দেওয়া উচিত কি না এই বিষয়ে তাদের মধ্যে বিতর্কের উদ্ভব এবং তা থেকে বিভাজনের সৃষ্টি করবে।


নির্বাচিত

এবার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে মনোযোগ ভারতের

ভারতের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইংরেজদের করায়ত্ত থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭৯তম বর্ষপূর্তি পালন করেছে ভারত। রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক মুঘল দুর্গ লালকেল্লা থেকে পতাকা উত্তোলন করে বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে এবার উদযাপিত হয়েছে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বছর। এই প্রথমবার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে লালকেল্লায় গাওয়া হলো ‘বন্দে মাতরম’।

শনিবার (১৫ আগস্ট) লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মোদি তার দেশকে আর সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অনাগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। সামরিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে এবার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্ববাজারে রপ্তানিতেও মনোনিবেশের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও ব্লু ইকোনমিসহ অন্তত ছয়টি খাতের বিষয়ে বিশেষ বার্তা দেন মোদি।

হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সপ্তধারা’র পঞ্চম শক্তি হলো প্রতিরক্ষা শক্তি। প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরশীল হওয়া আমাদের জন্য জরুরি। যখন সারা বিশ্ব শুধু নিজের কথাই ভাবছে, তখন ভারত কেবল বিশ্বের জন্য একটি বাজার হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের বৈশ্বিক সরবরাহকারী হতে হবে। হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মোদি এসব সক্ষমতাকে ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন। বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উদীয়মান সামরিক প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ঘোষিত দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো আকাশপথের হুমকি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের লক্ষ্য শুধু নিজেদের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করা নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হয়ে ওঠা। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ গুণ বেড়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১০০টি দেশে ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানিকারক শক্তি হিসেবে উঠে আসার বৃহত্তর রূপান্তরের অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে। সার্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১.৭৮ লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছাবে, যেখানে ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার কোটি রুপি।

প্রতিরক্ষা খাতকে মোদি ‘শক্তি কি সপ্তধারা’ উদ্যোগের পঞ্চম ধারা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সাতটি ধারার এই কাঠামোয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা, পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন, রপ্তানি এবং বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২০২১ সালের শুরুতে বিশ্বের চতুর্থ দেশে হিসেবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রধারী দেশগুলেঅর অভিজাত ক্লাবে যোগ দেয় ভারত। টানা কয়েক মাসের নিরলস গবেষণার পরে দেশে তৈরি হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমনস্ট্রেটর ভেহিকলের (এইচএসটিডিভি) সফল পরীক্ষা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছিল দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। ভারত ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের শুধু এই হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

চলতি বছরের জুনে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘সুপারসনিক’ (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বা তারও বেশি দ্রুতগতির) স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় ভারত। দেশটি এখনও কোনো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করেনি। তবে ফিলিপাইনের কাছে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ রপ্তানি করেছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছেও র‍্যামজেট চালিত ক্ষেপণাস্ত্রটি বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি।


নির্বাচিত

ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ অ্যাখ্যা দিলেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনকি ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ‘প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বর্তমানে ব্রিটেনকে ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন’’ বলা যায়।’ তিনি দাবি করেন, ‘দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি আগের ব্রিটেনের চেয়ে অনেক বদলে গেছে।’

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, নেতানিয়াহু শুধু ব্রিটেনকে কেন লক্ষ্য করছেন- পুরো ইউরোপের পরিস্থিতিই কি এমন নয়? জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইউরোপের অনেক দেশেই একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন’’।’

তবে বাস্তবে ব্রিটেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র নয়। পাকিস্তানের সরকারি নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান’ এবং দেশটি ১৯৯০-এর দশক থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পেছনে ব্রিটেনের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও খারাপ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহাম গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির আগের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে দলটি সঠিক অবস্থান নিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল সরকারের ওপর আরও চাপ দেওয়া হবে।

জুলাইয়ে বার্নহাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিক আভি দাবুশ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল যখন ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা ‘‘ভয়াবহ কূটনৈতিক ব্যর্থতার’’ উদাহরণ।’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। দপ্তরটি বলেছে, তার মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় অবশ্য এই মন্তব্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইসলামবিদ্বেষী ডানপন্থি বক্তব্যের প্রতিফলন রয়েছে বলেও সমালোচনা উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে ‘ইসলামপন্থি দেশ’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।


নির্বাচিত

আরও দরিদ্র ও দমনমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে আফগানিস্তান

একদল তালেবান যোদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। বর্তমানে দেশটিতে বিদেশি সেনা নেই, বড় ধরনের সশস্ত্র বিরোধিতাও গড়ে উঠতে পারেনি। তালেবান সরকার দেশটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। তবে এর বিনিময়ে আফগানিস্তান আরও দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন ও দমনমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের ওপর নানা বিধিনিষেধ তালেবান শাসনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কান্দাহার থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন। গত পাঁচ বছরে তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী থেকে তালেবানকে একটি কঠোর কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থায় রূপান্তর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও কান্দাহারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রভাব রয়েছে।

কাবুলে মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, মাওলভি ইয়াকুব ও আমির খান মুত্তাকির মতো নেতারা দৈনন্দিন প্রশাসন, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছেন। তবে বড় রাজনৈতিক, বিচারিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কান্দাহারের নেতৃত্বের প্রভাবই বেশি।

তালেবান তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে না। পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থিক সুবিধা, আদর্শগত আনুগত্য এবং প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে অনুগতদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে। প্রায় ১৫ হাজার নিবন্ধিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভাতা ও বেতন দেওয়ার ব্যবস্থাও এই নেটওয়ার্কের অংশ।

ক্ষমতা নেওয়ার পর আফগানিস্তান বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাচ্ছে। তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে আসত। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেই সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়।

তালেবান সরকার শুল্ক ও খনিজ রয়্যালটি থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে সক্ষম হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার বড় সুফল দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মে মাসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আফগান অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়লেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ২০২৩ সালের পর ৫০ লাখের বেশি আফগানকে ফেরত পাঠানোয় জনসংখ্যার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

তালেবান শাসনের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দিক নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ। মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের পড়াশোনা ও শিক্ষকতা নিষিদ্ধ। চলাফেরা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও নারীরা নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়ছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ও প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে নারীদের ওপর নিপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখার অর্থনৈতিক প্রভাবও বড়। জাতিসংঘের হিসাবে, নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ সীমিত করার কারণে আফগানিস্তানের বছরে ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ।

একসময় তালেবানের ক্ষমতায় ফেরাকে পাকিস্তান নিজেদের জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক এখন গভীর সংকটে। তালেবান পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে- এমন অভিযোগে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে।

পাকিস্তান ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে প্রায় ২৬ লাখ আফগানকে ফেরত পাঠিয়েছে, সীমান্তপথ একাধিকবার বন্ধ করেছে এবং আফগান ভূখণ্ডে পাল্টা বিমান হামলাও চালিয়েছে। অন্যদিকে তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এই পরিস্থিতি তালেবানের জন্য বড় একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যাও তৈরি করেছে। কারণ, গোষ্ঠীটির কট্টরপন্থি অংশ টিটিপির সদস্যদের ঐতিহাসিক মিত্র হিসেবে দেখে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া তালেবানের ভেতরেও রাজনৈতিকভাবে কঠিন।

তালেবান শাসনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপরও চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিয়া ও হাজারা জনগোষ্ঠী, যারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ, নানা ধরনের বঞ্চনার মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিয়া মতবাদের শিক্ষা ও আইনি স্বীকৃতি সংকুচিত হয়েছে। কিছু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শিয়া আলেমদের নতুন প্রাদেশিক উলামা পরিষদ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সালাফি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে।

পাঁচ বছর পর সামরিক ও প্রশাসনিকভাবে তালেবান এখনো শক্ত অবস্থানে। সংগঠিত কোনো বিরোধী গোষ্ঠীর হাতে এমন বিদেশি সমর্থন, ভূখণ্ড বা ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব নেই, যা কাবুলের নিয়ন্ত্রণকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তবে তালেবানের জন্য বড় ঝুঁকি রয়েছে ভেতরেই। নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জীবিকার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠছে। বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি এই চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।


নির্বাচিত

কেমব্রিজ অধ্যাপকের আত্মহত্যা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডেকে দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে নিজ বাসভবন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা গবেষণায় জালিয়াতি বা ‘প্লাজিয়ারিজম’-এর অভিযোগ এবং তীব্র মানসিক চাপের মুখে কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ৪১ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদের করুণ মৃত্যু ঘটল।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস থেকে খবর পেয়ে তারা ব্যাটারসির একটি ঠিকানায় যান। পুলিশ তাঁর মৃত্যুকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ হিসেবে বর্ণনা করলেও আপাতত এতে কোনো রহস্য বা সন্দেহজনক কিছু নেই বলে জানিয়েছে।

জেসন আরডের পরিবার এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, এই অসামান্য পিতা, সঙ্গী, ভাই ও ছেলেকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। জেসনের বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, তা তাঁর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব ছিল না। তিনি অত্যন্ত নম্র প্রকৃতির একজন মানুষ ছিলেন, যিনি সব সময় সবার ভালো চাইতেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডেবোরা প্রেন্টিস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এমন মর্মান্তিক খবর শুনে আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে জেসন আরডের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।’

যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই বিতর্ক বা সমালোচনার পেছনে একজন বাস্তব মানুষ ও তাঁর পরিবার ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বর্ণবাদ, শিক্ষা ও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন জেসন আরডে। ২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে অনন্য ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।

কিন্তু সম্প্রতি তার গবেষণাকর্মে প্লাজিয়ারিজম বা অন্যের লেখা চুরির অভিযোগ ওঠায় বিতর্কের সূচনা হয়। নাথান কফনাস নামে এক সাবেক কেমব্রিজ অধ্যাপক জেসনের প্রকাশিত গবেষণায় বিভিন্ন অসংগতি ও প্লাজিয়ারিজমের অভিযোগ তোলেন। যদিও আরডে কোনো ধরনের ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিলেন। তবে তিনি তার আগের কিছু কাজে ভুলত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করেন।

আরডে জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় তিনি অটিজমে আক্রান্ত ছিলেন এবং ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না। এমনকি ১৮ বছর বয়সের আগে তিনি ঠিকমতো লিখতে ও পড়তে জানতেন না। পরবর্তীতে ‘অনুকরণ’ বা ‘মিমিক্রি’র মাধ্যমে শেখার প্রক্রিয়ার কারণেই তার শুরুর দিকের একাডেমিক গবেষণায় কিছু ভুলত্রুটি রয়ে গিয়েছিল।

তবে মিডিয়া ও একাডেমিয়ায় টানা ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে গত সপ্তাহে তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় আরডে বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছে, তা শিক্ষায় একাডেমিক পর্যালোচনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তবে আমার পদত্যাগের অর্থ এই নয় যে আমি সব অভিযোগ স্বীকার করে নিচ্ছি।’

আরডের মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যের শিক্ষাঙ্গন ও নাগরিক সমাজে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার ও আইনি সংস্থা ‘গুড ল প্রজেক্ট’-এর জোলিয়ন মম প্রশ্ন তুলেছেন, ‘একজন অধ্যাপক পদত্যাগ করার পরও তাঁকে কেন এভাবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে হেনস্তা করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।’

আরডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্ল্যাক স্টাডিজের অধ্যাপক কেহিন্ডে অ্যান্ড্রুজ বিবিসি নিউজনাইটকে জানান, পদত্যাগের পর জেসন ভীষণ হতাশ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিনি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ছিলেন যে ঘর থেকে বেরই হচ্ছিলেন না। ব্রিটিশ শিক্ষাঙ্গনে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদরা কতটা বৈষম্য ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হন, এটি তারই একটি চরম সতর্কবার্তা।’

বর্ণাঢ্য জীবনে প্রথমে শারীরিক শিক্ষার (পিই) শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন জেসন আরডে। পরবর্তীতে পিএইচডি সম্পন্ন করে ডারহাম ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ, ফলে কেমব্রিজে তার যোগদানকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়েছিল।

আগামী ২৭ আগস্ট তার আত্মজীবনী ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে শৈশবের প্রতিবন্ধকতা জয় করে কেমব্রিজের অধ্যাপক হওয়ার অবিশ্বাস্য গল্প তুলে ধরা হয়েছে। তবে তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রস্থান যুক্তরাজ্যের শিক্ষাঙ্গন এবং মিডিয়া ট্রায়ালের সীমা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


নির্বাচিত

জেন-জিদের শুভেচ্ছা জানালেন বিজয়

সি. জোসেফ বিজয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় তার প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জেন-জি প্রজন্মকে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জ থেকে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই তিনি বিশ্বজুড়ে থাকা তামিল জনগোষ্ঠী ও জেন-জি প্রজন্মকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমার সব তামিল ভাই-বোন ও জেন-জি বন্ধুদের ভানাক্কম।’

উল্লেখ্য, ‘ভানাক্কম’ তামিল ভাষার একটি সম্ভাষণ। বাংলায় এর অর্থ নমস্কার, প্রণাম বা প্রসঙ্গভেদে শুভেচ্ছা। পতাকা উত্তোলনের আগে বিজয়ের বাবা এসএ চন্দ্রশেখর, মা শোবা চন্দ্রশেখর এবং অভিনেত্রী তৃষা সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় বলেন, ‘প্রশাসনিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার সরকার সহযোগিতা করবে।’ তবে রাজ্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে—এমন কোনো নীতির বিরোধিতা সবসময় করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

তিনি জানান, দুর্নীতি দূর করাও এক ধরনের স্বাধীনতা। তার সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। সরকারি রাজস্ব যাতে ব্যক্তিবিশেষের হাতে চলে না যায়, তা ঠেকানো হয়েছে এবং সব বিভাগ থেকে দুর্নীতি নির্মূলে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘তার সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করা শক্তিগুলোকে পরাজিত করা হবে এবং সরকারকে ঘিরে যেকোনো ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।

জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিষয়ে বিজয় জানান, আগের সরকারগুলোর চালু করা জনগণের উপকারী প্রকল্পগুলোও তার সরকার অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে এআইএডিএমকের ‘আম্মা ক্যান্টিন’ এবং ডিএমকের স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য সকালের নাশতার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দ্রাবিড় আন্দোলনের নেতা সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য ‘থাইমামান থাঙ্গা মোথিরাম’ নামে স্বর্ণের আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করা হবে বলেও জানান বিজয়। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি।

বিজয় জানান, জনগণ জাতপাত ও ধর্মের বিভেদ এবং অর্থ ও পেশিশক্তির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে তার সরকারকে সমর্থন করেছে। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার এবং জনগণের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া সাবেক সেনাসদস্যদের মেয়েদের বিয়েতে দেওয়া আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার রুপি করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের মাসিক সহায়তাও ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার রুপি করা হবে।

একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের পেনশন ২৩ হাজার রুপি এবং পারিবারিক পেনশন ১২ হাজার ৫০০ রুপি নির্ধারণের ঘোষণা দেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।


নির্বাচিত

টুইট করে হরমুজ প্রণালী দখল করা যাবে না: ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদী এক কড়া বার্তায় বলেছেন, শুধুমাত্র টুইট বার্তা, বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন কিংবা নির্বাচনী ভাষণের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ঘরিবাবাদীর এই প্রতিক্রিয়া মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রকার হুমকি বা গায়ের জোরে ভয় পায় না। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথটি চালু রাখা বা বন্ধ করার পূর্ণ কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইরানের রয়েছে। মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই পাল্টাপাল্টি হুমকির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।


নির্বাচিত

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপপুঞ্জে শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রলয়ংকরী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মাউমেরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাতুর রহমান এএফপি-কে জানিয়েছেন, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই জন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর হাজার হাজার মানুষ সুনামির আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পাহাড় ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নাগেকেও রিজেন্সিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন যে সমুদ্রের পানি হঠাৎ করে উপকূল থেকে অনেক দূরে সরে গেছে, যা সাধারণত সুনামির পূর্বলক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ সুনামির সতর্কতা তুলে নিয়েছে, তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে মাউমেরেসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পনটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও অগভীর, যা স্থানীয় সময় ভোরবেলায় মানুষকে গভীর ঘুমে থাকাকালীন অবাক করে দেয়। নাগেকেও এলাকার একজন বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো বলেন, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর মানুষ দিশেহারা হয়ে চারদিকে দৌড়াতে থাকে এবং নিরাপত্তার জন্য পাহাড়ের দিকে ছুটতে শুরু করে। মাউমেরে শহরের একটি হাসপাতালের রোগীসেবা বিভাগের কর্মকর্তা লুকাস লোটার জানান, কম্পনের তীব্রতায় হাসপাতালের রোগীদের তড়িঘড়ি করে বাইরে বের করে আনা হয় এবং অনেক ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মূল কম্পনের পর ওই অঞ্চলে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালীসহ বেশ কয়েকটি আফটার শক অনুভূত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ১৯৯২ সালে ফ্লোরেস দ্বীপেই একই মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর আগে ২০০৪ সালে সুমাত্রার অদূরে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


নির্বাচিত

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রলয়ংকরী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা না থাকায় তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রাদেশিক গভর্নর এবং পুলিশ প্রধান এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইন্দোনেশিয়ার ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়। কম্পনটি প্রায় এক মিনিট স্থায়ী ছিল এবং এর পরপরই বেশ কয়েকটি শক্তিশালী পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়। ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কে লোকজনকে রাস্তায় ছোটাছুটি করতে এবং বড় বড় ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে।

ইস্ট নুসা টেঙ্গারার পুলিশ প্রধান রুডি দারমোকো জানান, সিক্কা রিজেন্সিতে দুইজন এবং মাঙ্গারাই রিজেন্সিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, নাগেকেও এলাকার প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে এবং একটি হাসপাতালের রোগীদের বাইরে বের করে আনা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পের ফলে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড বা পার্শ্ববর্তী কোনো দ্বীপপুঞ্জে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। ভৌগোলিকভাবে ইন্দোনেশিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘প্যাসিফিক রিং অভ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটি নিয়মিতভাবে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের শিকার হয়। এর আগে ২০০৪ সালে সুমাত্রা উপকূলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।


নির্বাচিত

ইরানকে হারিয়ে হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব : ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে তিনি মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের নাসাও জেলা পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিতর্কিত অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর, বলা ভালো খুব খারাপভাবে পরাজিত করার পর, শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। ট্রাম্প পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন যে, গত জুলাই থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যে কঠোর অবরোধ জারি করেছে, তা ‘ইস্পাতের দেওয়ালের’ মতো অব্যাহত থাকবে এবং কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ ও পাল্টা অবরোধের ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হলেও গত ৫ জুলাই ইরানি বাহিনীর হামলার পর সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ইরানের অবস্থান হলো, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না এবং অন্য দেশের জাহাজের জন্য বিশেষ টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এক বার্তায় সরাসরি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না এবং যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করবে, ততদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বহাল থাকবে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের মনোভাব তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট এবং নতুন করে জ্বালানি সহায়তার অনুরোধসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিকেও ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারতের তরফ থেকে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণগুলো ইতোমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা জানেন, ডিজেল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি চলমান চুক্তি রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। আর আপনারা যে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধের কথা বললেন, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নিজেদের শোধন ক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের সার্বিক প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যালোচনা করা হবে।’


নির্বাচিত

ভারতকে অপছন্দ করা বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রতি বাংলাদেশিদের ইতিবাচক মনোভাবে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৫৭ শতাংশ বাংলাদেশি ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে এসে তা ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। মানে বাংলাদেশে ভারতকে অপছন্দের সংখ্যা বেড়েছে। আর ভারতকে অপছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে পাকিস্তান। শতকার হিসাবে তা ৯১ শতাংশ।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৩৬টি দেশের ওপর চালানো নতুন জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়।

বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ৪৫ শতাংশ হলেও, বাংলাদেশের এই পতনই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের জরিপে যেখানে ৫৭ শতাংশ বাংলাদেশি ভারতকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতেন, ২০২৬ সালে তা ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে।

বিশ্বজুড়ে যে ১০টি দেশে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশেই এই পতনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে একই সময়ে ভারত বিষয়ে কোনো মতামত না দেওয়া বাংলাদেশির হার ২৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে বাংলাদেশে ভারতকে অপছন্দের সংখ্যা ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিপরীতে, ভারতের প্রতি সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে শ্রীলংকায়, যেখানে ৭৯ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আর পাকিস্তানিরা ভারতকে সবার চেয়ে বড় শত্রু মনে করেন। অন্যদিকে ভারতীয়রাও পাকিস্তানকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ‘বসন্ত ২০২৬ বৈশ্বিক মনোভাব সমীক্ষা’ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।

এ ছাড়া কেনিয়া ও যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় সাতজনই ভারতকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। জার্মানি (৬৩ শতাংশ), ইসরায়েল (৬০ শতাংশ), ইতালি (৫৬ শতাংশ), সুইডেন (৫৫ শতাংশ), জাপান (৫৫ শতাংশ) ও থাইল্যান্ডেও (৫৫ শতাংশ) অধিকাংশ মানুষের মনোভাব অনুকূল।

বিপরীতে, তুরস্কে মাত্র ১৫ শতাংশ এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৮ শতাংশ মানুষ ভারতের পক্ষে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন; যার ফলে এসব এলাকায় ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক জনমত স্পষ্ট হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে ৪৫ শতাংশ ভারতকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। ২০২৩ সালের ৫১ শতাংশ থেকে যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতেও মতভেদ দেখা গেছে; ডেমোক্র্যাট ও উদারপন্থিদের (৫৪ শতাংশ) মধ্যে রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের (৪০ শতাংশ) তুলনায় ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করার প্রবণতা বেশি।

পিউ গবেষণার তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (যেমন জার্মানি ও ফ্রান্স) ভারতের প্রতি ইতিবাচক জনমত বাড়লেও, দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে ভারতের ভাবমূর্তি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।


নির্বাচিত

বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটের মুখে মুসলিম ব্রাদারহুড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কাঠামোগত সংকটে ভুগছে।

প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই সংগঠনটি এখন বিভক্ত হয়ে তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। একসময় মিশরসহ গোটা আরব বিশ্বে যাদের ব্যাপক রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, তারা আজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

সংগঠনটির এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিবন্ধটিতে তাদের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিভক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে স্পষ্টতই দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার একটির কেন্দ্র লন্ডনে এবং অন্যটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে।

নেতৃত্বের দুর্বলতা, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এই দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে। প্রবীণ নেতাদের এই ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং দিকনির্দেশনাহীনতার কারণে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ কর্মীরা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন, যার ফলে অনেকেই সংগঠন থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছেন।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই ব্রাদারহুড দেশটির সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী হয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, নয়তো বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতেও সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা মিসর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ইস্তাম্বুল বা দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোতেও এখন তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

শুধু মিসর নয়, বরং তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিত্ররা ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ বলছে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পুরোনো আবেদন হারিয়েছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও বিভক্তির কারণে সংগঠনটি আদৌ এই গভীর সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close