যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নাম লেখালেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এই দলীয় প্রতিযোগিতার মাঠে সাবেক বস ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পেন্সকে লড়তে হবে।
আল-জাজিরা জানায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন পেতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন। এ দিন নিজের কাগজপত্র ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের কাছে জমা দেন। ৬৩ বছর পেন্স আইওয়া থেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্স প্রথমে একটি ভিডিও বার্তা এবং তারপরে একটি বক্তৃতা দিয়ে প্রচারণা শুরু করবেন বলে তার ভোট ম্যানেজাররা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। নিজেকে একজন চিরায়ত রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরা পেন্স গত দুই বছরের বেশির ভাগ সময় আইওয়া এবং হ্যাম্পশায়ারের মতো প্রারম্ভিক মনোনয়ন লড়াইকারী অঙ্গরাজ্যে। তিনি এসব অঙ্গরাজ্যে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ‘খ্রিষ্টান, রক্ষণশীলতা এবং রিপাবলিকান’ প্রচারে জোর দিয়েছেন।
ডয়চে ভেলে জানায়, রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ হয়ে গেলেন পেন্স। ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর থেকে ক্রসেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের থেকে ব্যবধান তৈরি করতে শুরু করেন পেন্স। তিনি প্রকাশ্যে ক্যাপিটল হামলার প্রতিবাদ করেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। পেন্স সেই অভিমতও সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। বস্তুত, তখন থেকেই দুই রিপাবলিকান নেতার দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে।
আল-জাজিরা জানায়, ট্রাম্পের পাশাপাশি ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যানটিস, সিনেটর টিম স্কট, সাউথ ক্যারোলিনার সাবেক গভর্নর নিক্কি হ্যালি রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন। নর্থ ডাকোটার গভর্নর ডগ বারগাম এবং নিউজার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিসটিও কিছুদিনের মধ্যেই নিজেদের নাম ঘোষণা করতে পারেন। ট্রাম্পবিরোধীদের আশঙ্কা, এত সব মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড়ে ট্রাম্পবিরোধীদের ভোট বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে করে ট্রাম্পেরই আখেরে লাভ হবে। তিনি একাই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে যাবেন।
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী ন্যুকের রাস্তায় বরফের স্তর ক্রমাগত ঘন হয়ে উঠছে। পাহাড়ের ঢালগুলো মাঝে মাঝে কুয়াশার আড়ালে মিলিয়ে যায় এবং তীব্র আর্কটিক বাতাসে মানুষগুলো কাঁপছে। বছর শেষে এটাই এখানে স্বাভাবিক শীতকালীন চিত্র। কিন্তু এবার শীতের সাথে এসেছে এক নতুন ধরনের উত্তেজনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডকে সহজ বা কঠিন উপায়ে দখল করার হুমকি।
স্থানীয় শিক্ষক সিমোনে বাগাই বলেন, ‘তিনি সংবিধানগত অধিকার ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতি কোনো সম্মান দেখাননি। গ্রিনল্যান্ড আমাদের এবং আমরা চাই না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ জায়গা দখল করুক। আমরা এ বিষয়ে বারবার সভ্যভাবে জানিয়েছি।’
তিনি জানান, ‘বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলা তার জন্যই কঠিন ছিল, কিন্তু ট্রাম্পের রূঢ় বক্তব্যে মানুষের উদ্বেগ প্রকাশ করার প্রয়োজন রয়েছে।
ন্যুকের একজন পৌর প্রকৌশলী লুডভিগ পিটারসেন বলেন, ‘আমরা কখনও চাইনি আমেরিকার অংশ হই। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার বেসরকারীকরণ এখানে মানিয়ে নেওয়ার মতো নয়। ট্রাম্প আমাদের জোর করে দখল করতে চাইলে আমি সত্যিই ভীত।’
গ্রিনল্যান্ডের জীবনযাপনই এমন, কঠোরতা ও বাধ্যবাধকতার সাথে মানিয়ে চলা অপরিহার্য। ন্যুকের এক ইনুইট ট্যাক্সি চালক জানান, তাদের ঐতিহ্যগত জীবন, যেমন সীল শিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ৩৮টি কুকুরও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প এই বাস্তবতা বোঝেন না।
সীলচামড়ার পোশাক ব্যবসায়ী মিয়া কেমনিটজ বলেন, ‘যখন আমরা গ্রিনল্যান্ডের কথা বলি, আমরা আমাদের মানুষ, পরিবার ও সমাজের কথা বলি। কিন্তু বাইরের বিশ্বের আলোচনায় সব সময় এটি শুধু ভূখণ্ড ও সম্পদের ব্যাপার। আমরা একে অপরের কথা বোঝাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপ্রিয়। কখনও যুদ্ধ করিনি। আমাদের কোনো সামরিক বাহিনী নেই। তাই কেউ আমেরিকান সেনা বাহিনীকে প্রতিহত করতে পারবে না। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা জরুরি।’
বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে এবং আগামী দুই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত হবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাবে। এই ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের পেছনে রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ফলে ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী শিল্প কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং নতুন সরকারের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
এছাড়া, এসব কারণে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও পূর্বাভাসের তুলনায় দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের জুন মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধি ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৬ শতাংশে নামবে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে।
তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, বর্তমান পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ২০২০-এর দশকটি ১৯৬০-এর দশকের পর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল দশক হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রত্যাশিত নীতিগত পরিবর্তনের আগে বাণিজ্যে অগ্রিম তৎপরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দ্রুত সমন্বয়ের ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সহায়তা পেয়েছিল। কিন্তু এসব সাময়িক প্রণোদনা ২০২৬ সালে কমে যাবে, কারণ বাণিজ্য গতি শ্লথ হবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হবে।
তবে বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার শিথিলতা এবং কয়েকটি বড় অর্থনীতিতে রাজস্ব সম্প্রসারণ এই মন্দা কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে কমে ২.৬ শতাংশে নামবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে শ্রমবাজারের শীতলতা এবং জ্বালানির দাম কমার ভূমিকা রয়েছে।
বাণিজ্য প্রবাহে সমন্বয় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমলে ২০২৭ সালে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্ডারমিত গিল বলেন, ‘প্রতিটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি সৃষ্টিতে কম সক্ষম হলেও নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রতি যেন আরও স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ধীরগতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের রেকর্ড উচ্চমাত্রা যুক্ত হলে তা সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ঋণবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজস্ব চাপ বাড়ছে, যেখানে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রসপেক্টস গ্রুপের পরিচালক এম আয়হান কোসে বলেন, ‘উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় রাজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এখন জরুরি অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, সঠিকভাবে নকশা করা রাজস্ব বিধি ঋণ স্থিতিশীল করতে ও নীতিগত সুরক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়ন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের বৈঠক নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে ভারত। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এই আলাপচারিতাকে সেই নিয়মিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, ভারতীয় দুই কূটনীতিক গত বছর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভারতীয় কূটনীতিকরা সাক্ষাতের বিষয়টি শুরুতে জনসমক্ষে না আনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে রয়টার্সের মাধ্যমে এই খবর সামনে আসলে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
সেসময় শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’
সে সময় জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য চেয়েছিল রয়টার্স। তবে কোনো সাড়া মেলেনি। প্রায় ১৫ দিন পর অবশেষে বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল ভারত।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন দেশটির নির্বাসিত শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন যে, বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উচিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিদায়ঘণ্টা বাজানো। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে পাহলভি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই। এটি হবে নাকি হবে না, প্রশ্ন সেটি নয়। পতন কখন হবে প্রশ্ন হলো সেটি।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং প্রাণহানি কমাতে তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ওপর সরাসরি সার্জিক্যাল হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান, যা তাঁর মতে পরিবর্তনের পথকে আরও সুগম করবে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রেজা পাহলভি ঘোষণা দেন যে, ‘তিনি ইরানে ফিরবেন এবং দেশটির সংবিধান পরিবর্তন করবেন।’ তবে পরবর্তী শাসক কে হবেন—এমন জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি জনগণের সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘এটি ইরানের মানুষ ঠিক করতে। আমি শুধু তাদের স্বাধীন হতে সহায়তা করছি।’ পাহলভি আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানানোয় সরকার বিদেশ থেকে মিলিশিয়া বাহিনী এনে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে এতে ২ হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও ইরান সরকার এই সহিংসতার দায় শত্রুদের প্ররোচণায় দাঙ্গাবাজদের ওপর চাপিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সৌদি আরবের ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদকে রিয়াদের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) রাজকীয় আদালতের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই প্রবীণ শাসককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রয়্যাল কোর্টের বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, ‘নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমানকে কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য যে, হাসপাতালে ভর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে গত মঙ্গলবারও তিনি মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
২০২৪ সালেও ফুসফুসে প্রদাহজনিত সমস্যার কারণে উন্নত চিকিৎসা নিতে হয়েছিল সৌদি আরবের এই সপ্তম শাসককে। তবে এবারের পরীক্ষার বিষয়ে বিশদ কোনো তথ্য রাজকীয় আদালত প্রকাশ করেনি। ১৯৩৫ সালে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করা বাদশাহ সালমান তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় অত্যন্ত দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। তিনি ১৯৫৪ সালে রিয়াদের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর এবং ১৯৬৩ সালে পূর্ণাঙ্গ গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হয়ে কয়েক দশক সেই দায়িত্ব পালন করেন।
প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করা সালমান কয়েক দশক ধরে পূর্ববর্তী বাদশাহদেরও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। রিয়াদের প্রিন্সেস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণকালীন তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে সুদক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য একটি বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি ইসরায়েলের হাতে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান গণহত্যা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এটি ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের, বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এই পরিষদের সদস্যদের নাম ‘শিগগির’ ঘোষণা করা হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এটি সর্বকালের, যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে গঠিত সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ পরিষদ।’
এই ঘোষণার কিছুদিন আগেই ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় দৈনন্দিন শাসন ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। এই কমিটি ‘শান্তি পরিষদের’ তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন।
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা ফিলিস্তিনি পুলিশ ইউনিটগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হামাসের শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখন বলটি মধ্যস্থতাকারী, মার্কিন গ্যারান্টর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোর্টে। তাদেরই কমিটিকে ক্ষমতায়ন করতে হবে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক্সে এক পোস্টে ঘোষণা করেন, ‘সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এটি এখন যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাট শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে এগোচ্ছে। পরবর্তী ধাপের লক্ষ্য হলো গাজার পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠন, বিশেষ করে সকল অননুমোদিত কর্মীদের নিরস্ত্রীকরণ।’ এটি মূলত হামাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এই পরিকল্পনায় গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাচাইকৃত ফিলিস্তিনি পুলিশ ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দিতে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামক ১৫ সদস্যের একটি টেকনোক্র্যাট কমিটি গাজার দৈনন্দিন শাসন পরিচালনা করবে। তবে গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারসহ বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথকে এই কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আলী শাথ বলেছেন, ‘এই কমিটি অস্ত্রের পরিবর্তে মেধার ওপর নির্ভর করবে এবং কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করবে না।’ হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম গত বৃহস্পতিবার এই কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন। একে ‘সঠিক দিশায় একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীটি গাজার প্রশাসন হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।
খামেনির সহযোগীসহ কয়েকজন ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি সুসংহত করতে, যুদ্ধে ফিরে আসা রোধ করতে, ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলা করতে এবং ব্যাপক পুনর্গঠনের প্রস্তুতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ মাঠপর্যায়ে বুলগেরিয়ার কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ নিকোলে ম্লাদেনভের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে মনোনীত সম্ভাব্য ‘বোর্ড অব পিস’ সদস্যদের কাছে গত বুধবার আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি প্রথম কার্যকর হয় গত বছরের ১০ অক্টোবর। এই পরিকল্পনার আওতায় হামাসের হাতে আটক সব বন্দীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং গাজায় গণহত্যার অবসান ঘটে। তবে এরপরও ইসরায়েল চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনিদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। এই বিষয়টি পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে থাকলেও এর জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষকের মতে, আংশিকভাবে ইসরায়েল-অধিকৃত এই ভূখণ্ডে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েল গাজায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে তারা আরও ৪৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আহত করেছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের বিকল্প এখনো খোলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে সব বিকল্প টেবিলে রয়েছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার খবরের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প একাধিকবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) তিনি কিছুটা অপেক্ষা-ও-পর্যবেক্ষণের অবস্থান নেন। ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমছে এবং বর্তমানে বড় পরিসরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ওয়াল্টজ বলেন, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে সব বিকল্প যে খোলা রয়েছে, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ইরান যে বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে, তা নাকচ করে দেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর জানা দরকার, ইরানি শাসনব্যবস্থা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল। তাই তারা এই মিথ্যা প্রচার করছে। তারা ভয় পেয়েছে—নিজেদের জনগণকেই তারা ভয় পাচ্ছে।
এর জবাবে জাতিসংঘে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত ঘোলামহোসেইন দারজি বলেন, ইরান কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, তথ্য বিকৃতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন। দারজি বলেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে দৃঢ়, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আইনসম্মত।
এদিকে রাশিয়ার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও প্রকাশ্য আগ্রাসনকে জাস্টিফাই করার জন্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-এর পক্ষ থেকে বক্তব্য পাঠ করে শোনান সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মার্থা পোবে। তিনি বলেন, এই সংবেদনশীল সময়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো জরুরি। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে, যা আরও প্রাণহানি বা বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার পাঁচ ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে নেপথ্যে থেকে ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, ইরানি নেতাদের অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোয় পাঠানো হচ্ছে কি না, সেদিকে তারা নজর রাখছে।
মার্কিন অর্থ দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডারসহ মোট পাঁচ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ দমনের ‘মূল রূপকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
যুক্তরাষ্ট্র ফারদিস কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, এ কারাগারে নারীরা ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক আচরণের’শিকার হয়েছেন।
প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানের নেতাদের প্রতি ওয়াশিংটনের বার্তা স্পষ্ট। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জেনেছে যে আপনারা সংকটময় মুহূর্তে নিজেরা বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ইরানি পরিবারগুলোর কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা সেই অর্থ ও আপনাদের খুঁজে বের করব।’
বেসেন্ট আরও বলেন, ‘আপনারা আমাদের সঙ্গে একত্র হয়ে কাজ করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আছে। যেমনটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন যে সহিংসতা বন্ধ করুন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।’
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশটিতে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তাদের দীর্ঘদিনের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যেসব অর্থনৈতিক সমস্যা কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, তার কিছু সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিনিময় হারের সমস্যাগুলো মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানে জিনিসপত্রের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে দেশটিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূচনা হয়। এটি ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলেছে, এ পর্যন্ত তারা ২ হাজার ৪৩৫ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫৩ জন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি নিহত হওয়ার তথ্য যাচাই করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবারই বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনে দেশটির শাসকগোষ্ঠীও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানিদের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবির পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। অর্থ দপ্তর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নেপথ্যে থাকা সবাইকে শাস্তি দিতে সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করবে।’
মার্কিন অর্থ দপ্তর আরও ১৮ জনের ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন। মূলত বিদেশি বাজারে ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির অর্থ পাচারের সঙ্গে তারা জড়িত বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সর্বশেষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গতকালের এ পদক্ষেপ। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প আবার ইরানের ওপর তাঁর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি চালু করেছেন। এ প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য হলো, ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখা। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার উপহার দিয়েও স্পষ্ট সমর্থন পেলেন না ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের সময় ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল তুলে দেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার সাবেক শক্তিশালী শাসক নিকোলাস মাদুরোর কট্টর সমালোচক মাচাদো গত বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তার প্রত্যাশা ছিল, ট্রাম্পকে এই পুরস্কার প্রতীকী উপহার হিসেবে দিয়ে হয়তো তিনি ভেনেজুয়েলার পরবর্তী শাসক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারবেন।
তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ বৈঠক শেষে মাচাদোকে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস ছাড়াই হোয়াইট হাউস থেকে বের হতে দেখা গেছে। সেসময় তার হাতে ছিল একটি ট্রাম্প-ব্র্যান্ডেড উপহারের ব্যাগ।
বর্তমানে মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব নিয়ে দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাচাদো তাদের একজন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন মাচাদো। ট্রাম্পের হাতে একটি বড়, সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ফলক, যাতে নোবেল পদকটি সংযুক্ত ও একটি উৎসর্গ বার্তা লেখা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার প্রতীক ও স্বাধীন ভেনেজুয়েলা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিগত ও দৃঢ় পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে এই উপহার।
এ বিষয়ে ট্রাম্প নিজেও ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন, মারিয়া আমাকে আমার করা কাজের জন্য তার নোবেল শান্তি পুরস্কার উপহার দিয়েছেন। এটি পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন।
তবে এ ঘটনার পরপরই নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল পিস সেন্টার জানিয়ে দেয়, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক কোনোভাবেই ভাগাভাগি বা হস্তান্তর করা যায় না। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটি জানায়, একটি পদকের মালিকানা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি কখনো হস্তান্তরযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, মাচাদো বৈঠকটি নিয়ে আশাবাদী অবস্থান নেন। তিনি একে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা এবং একটি নতুন, প্রকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় এরই মধ্যে এদমুন্দো গনজালেস বৈধ প্রেসিডেন্ট (নির্বাচিত) হিসেবে রয়েছেন। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র যাকে বিরোধী প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ নিকোলাস মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করে, যার ফলে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হন। তবে তখন বিরোধী নেতারা, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে হঠাৎ করেই মাদুরো আটক হন ও তাকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও ট্রাম্প প্রশাসন মাচাদো বা গনজালেসের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেয়নি। বরং ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সমর্থন জানান, যা মাদুরোবিরোধী মহলকে অবাক করে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বৈঠক শুরুর সময় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও সাংবাদিকদের জানান, মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্পের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রেসিডেন্ট এই বৈঠক নিয়ে আগ্রহী ছিলেন ও তিনি আশা করেছিলেন আলোচনা ইতিবাচক হবে। মাচাদোকে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘একজন সাহসী ও উল্লেখযোগ্য কণ্ঠ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। পুরোনো সংঘাতগুলো আবার তীব্র হচ্ছে এবং নতুন নতুন সংকটপূর্ণ অঞ্চল তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ৩০টিরও বেশি দেশের নতুন রাষ্ট্রদূতদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পুতিন। বক্তব্যে তিনি বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই মানবজাতির টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
পুতিন বলেন, শান্তি সহজে আসে না। প্রতিদিন তা গড়ে তুলতে হয়। শান্তির জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা, দায়িত্ববোধ এবং সচেতন সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে- এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত করবে না। পুরোনো সংঘাতগুলো তীব্র হচ্ছে এবং নতুন গুরুতর সংকট তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে কূটনীতি ও সমঝোতার প্রচেষ্টা ক্রমে একতরফা ও বিপজ্জনক পদক্ষেপের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে।
পুতিন বলেন, বিশ্বজুড়ে বহু দেশ তাদের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার মধ্যে পড়ছে এবং নিজেদের রক্ষা করার মতো শক্তি ও সম্পদের অভাবে ভুগছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সব সদস্যকে একটি আরও ন্যায়সঙ্গত বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানান।
বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, ইউক্রেন ঘিরে সৃষ্ট সংকট ছিল রাশিয়ার বৈধ স্বার্থ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করার সরাসরি ফল। আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা এবং ন্যাটোকে রাশিয়ার সীমান্তের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সচেতন নীতি এর জন্য দায়ী, যা আমাদের দেওয়া প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতির পরিপন্থি।
একই সঙ্গে পুতিন ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি রাশিয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সহিংসতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হারাজ বলেন, তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তিটি গত বছর ঘোষিত পাকিস্তান–সৌদি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে আলাদা। তিনি জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে হলে তিন দেশের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান–সৌদি আরব–তুরস্ক ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এরই মধ্যে পাইপলাইনে রয়েছে। খসড়া চুক্তি আমাদের কাছেও আছে, সৌদি আরবের কাছেও আছে এবং তুরস্কের কাছেও আছে। তিন দেশই এটি নিয়ে আলোচনা করছে। গত ১০ মাস ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আলোচনা হয়েছে ঠিকই, তবে এখনো কোনো চুক্তি সই হয়নি।
ফিদান বলেন, আঞ্চলিক অবিশ্বাসের কারণে যে বিভাজন ও সমস্যা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বহিরাগত শক্তির আধিপত্য, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদের জন্ম হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সব আঞ্চলিক দেশকে নিরাপত্তার প্রশ্নে একসঙ্গে বসে একটি সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একে অপরের ওপর আস্থা রাখলে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৃহত্তর সহযোগিতার কাঠামো তৈরির দিকে বলে উল্লেখ করেন ফিদান, যদিও তিনি সরাসরি পাকিস্তান বা সৌদি আরবের নাম নেননি।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টে (এসএমডিএ) যোগ দিতে তুরস্ক উন্নত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। তবে মন্ত্রী হারাজ স্পষ্ট করেন, নতুন এই খসড়া চুক্তিটি এসএমডিএ থেকে আলাদা।
পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য করভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করেছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এফ–১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণ করেছে এবং ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর পাকিস্তান যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর আমাদের যুদ্ধবিমানের চাহিদা বেড়েছে। অনেক দেশই আমাদের কাছ থেকে এসব বিমান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এর আগে প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে পাকিস্তান বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার নানা দিক উঠে আসে।
চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব সালেহ শিবলীর বরাত দিয়ে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএনপি জানিয়েছে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। গুলশানে নিজ বাসা থেকে বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার।
ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট–আইসিই এজেন্টরা একটি গাড়ি থেকে টেনে–হিঁচড়ে বের করে নেওয়ার সময় চিৎকার করতে থাকা যে নারীর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি একজন প্রযুক্তিবিদ, এলজিবিটি ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী অধিকারকর্মী। নিজেকে তিনি পরিচয় দেন ‘ফ্রেন্ডলি নেবারহুড ডিনায়েবল অ্যাসেট’ হিসেবে।
আলিয়া রহমান নামে ওই নারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং দীর্ঘদিন ধরে কোডিং ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে ক্যামেরা ব্যবহারের নীতির পক্ষে কাজ করছেন এবং ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে যুক্ত। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়—ফেডারেল এজেন্টরা আলিয়া রহমানের গাড়ির জানালা ভেঙে তাকে জোর করে টেনে বের করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক বিক্ষোভ চলাকালে আইসিইর গাড়ি চলাচলে বাধা দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটে রেনে নিকোল গুড নামের এক নারীর গুলিতে নিহত হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে, ওই এলাকার কাছেই।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িচালক আলিয়া রহমান চিৎকার করে বলছিলেন, তিনি ‘শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন’ এবং ‘ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।’ এ সময় একাধিক মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্ট তাকে হাতকড়া পরিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যায়।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সি আলিয়া রহমান মিনিয়াপোলিসে বসবাসরত ‘কমিউনিটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।’ কর্মজীবনে ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার ও ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি একাধিক প্রযুক্তি-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি কত দিন ধরে মিনিয়াপোলিসে বসবাস করছেন, তা স্পষ্ট নয়। তার সর্বশেষ প্রকাশ্যে পাওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, তিনি আইওয়ার সিডার ফলসে থাকতেন। এক্সে নিজের প্রোফাইলে আলিয়া রহমান নিজেকে উল্লেখ করেছেন—‘ফ্রেন্ডলি নেবারহুড ডিনায়েবল অ্যাসেট’ হিসেবে। তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের একজন ফেলো ছিলেন। সেখানে তার প্রথম প্রকল্প ছিল পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা এবং সেগুলো কীভাবে নীতিমালার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে।
ওই ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে তার বায়োতে বলা হয়েছে, ‘তার কাজের ভিত্তি তৈরি হয়েছে আইন প্রণয়ন, নির্বাচন ও কমিউনিটি সংগঠনে বর্ণ ও ফৌজদারি বিচারসংক্রান্ত আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের জন্য ১৫ বছরের সফটওয়্যার উন্নয়নকাজ এবং অতীতে একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে সরকারি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে।’
আলিয়া রহমান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। তবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই তিনি পরিবারের সঙ্গে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চলে যান। টেক ফর সোশ্যাল জাস্টিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শৈশবে দেখা ‘বিপ্লবী পরিবেশ’ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, ‘আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। আমি দেখেছি পোশাকশ্রমিকেরা—যাদের বেশির ভাগই নারী—রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে।’
আঞ্চলিক চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি তেহরানে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী নন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো যুদ্ধ চায় না এবং ইরানের পক্ষ থেকেও যেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো অবস্থানে হামলা চালানো না হয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প তেহরানকে আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও মসজিদে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, এই ফোনালাপে আরাগচি ইরানের সীমান্ত রক্ষায় “দৃঢ়ভাবে” অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর বিপরীতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনীতি ও সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তুরস্কের পক্ষ থেকেও এই সংকট নিরসনে সংলাপের জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান যেকোনো প্রকার সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের জানান, “সংকটের সমাধান অবশ্যই সংলাপের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।”
তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান চাইলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে কিংবা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে পারে। মূলত ট্রাম্পের নমনীয় সুর এবং আঞ্চলিক শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতার আহ্বানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানোর একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।