সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পর্ক ‘মেরামতে’ সৌদি আরবে ব্লিংকেন

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গতকাল জেদ্দায় সৌদিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৩ ২১:১৮

গত কয়েক বছর ধরেই নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের মতবিরোধ চলছে। সেসব বৈরী মনোভাব মিটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক চলমান অবস্থা থেকে উন্নত করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সৌদি আরব গেছেন।

এএফপি জানায়, ব্লিংকেন লোহিত সাগর তীরবর্তী শহর জেদ্দায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অবতরণ করেন। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে যোগ দিতে গতকাল বুধবার তিনি রিয়াদে পৌঁছান।

ব্লিংকেন জেদ্দায় সৌদিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ১ ঘণ্টার ৪০ মিনিটের বৈঠকে ব্লিংকেন সাধারণ ও নির্দিষ্ট উভয় ক্ষেত্রেই মানবাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন বলে মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে মূলত আর্থিক সহযোগিতা, ক্লিন এনার্জি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে নিয়ে কথা হয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অনুরোধ করেছেন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক। সৌদি আরব নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প চালু, এর বাস্তবায়নে মার্কিন সহযোগিতা ও এ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে।

ব্লিংকেন এবার অন্য সৌদি নেতাদের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে জানা গেছে।

গত কয়েক বছর ধরে ইরান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, তেলের দাম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ সামনে এসেছে। সৌদি আরব দিনে ১০ লাখ ব্যারেল কম তেল উৎপাদন করেছে। মূলত, তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কিন্তু রিয়াদের এই সিদ্ধান্তে মোটেও সন্তুষ্ট নয় ওয়াশিংটন। তা ছাড়া সৌদিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও জোরালো আওয়াজ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এএফপি জানায়, চলতি বছর মার্চে আঞ্চলিক দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের প্রভাব দিন দিন বাড়ার প্রেক্ষাপটেও ব্লিংকেন এ সফরে এলেন।

ব্লিংকেনের এই সফরের দুটি উদ্দেশ্য আছে। এক. তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখা। দুই. মধ্যপ্রাচ্যে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা। তা ছাড়া তাদের আশা, সৌদি ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কও এবার ভালো হবে।

এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক ফাউন্ডেশন অব ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের পরামর্শদাতা রিচার্ড গোল্ডবার্গ বলেছেন, ‘ব্লিংকেনের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো, চীন ও সৌদি আরব যাতে খুব কাছাকাছি না আসে তা নিশ্চিত করা। ব্লিংকেন সৌদি আরবকে বোঝাবার চেষ্টা করবেন, চীন কেন সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে চাইছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকলে সৌদির কী লাভ হবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বাইরের গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত দিল্লি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এদিন বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। মোট জরিমানার মধ্যে পিইউসি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি, দিল্লির সীমান্তে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২ লাখ রুপি এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজের কারণে সৃষ্ট দূষণের জন্য পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি আদায় করা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ যানবাহনকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানে ১২৭টি চালান দেওয়া হয় এবং ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। ২ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।

ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনের মধ্যে ছিল ১৪০টি হালকা মোটরযান (এলএমভি), ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান (এলসিভি), ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান এবং ৩৪টি বাস। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে।

পরিবেশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গন্তব্য দিল্লি নয় এমন ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহনও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনো চালান দেওয়া হয়নি।

সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ধরনের মোট ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বৈধ পিইউসি সনদ ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অভিযানে ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। পরিবহন বিভাগ দিয়েছে ৭৩টি চালান, যার বিপরীতে জরিমানার পরিমাণ ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি।

নির্মাণ ও ভাঙার কাজের স্থান থেকে ছড়ানো ধুলা নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ৩২টিতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের মধ্যে ৫০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের বড় নির্মাণস্থল ছিল ৯১টি। এর মধ্যে ১৬টিতে নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিলেছে।

বড় নির্মাণস্থলগুলোর ক্ষেত্রে দুটি কাজ বন্ধের নির্দেশ এবং চারটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪ লাখ রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ৫০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ২০৯টি ছোট নির্মাণস্থলের মধ্যে ১৭টিতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের বিরুদ্ধে ১৫টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৫টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে পরিদর্শন করা ৩০০টি নির্মাণস্থলের বিরুদ্ধে ১৭টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানের ওপর মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে। তবে ছাড় পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

রাশিয়ার তেল স্থাপনায় আবারও হামলা ইউক্রেনের 

রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এর আগে সামারা অঞ্চলে রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হোয়াইট হাউসের চাপ মেনে নিয়েছে ইউক্রেন। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার যে দাবি জানানো হয়েছিল, তাতে সম্মতি দেয়নি কিয়েভ।

রাশিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার থেকে ইউক্রেন আবারও হামলা শুরু করেছে। ক্রেমলিনের অভিযোগ, কিয়েভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাকে সরাসরি উপেক্ষা করছে।

এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয় তার প্রশাসন।

সাম্প্রতিক তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি। তবে তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা।

ওই কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো বলে দাবি করেছেন তিনি। হামলায় রাশিয়ার প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি ইউনিট ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান জেলেনস্কি। তিনি এসব হামলাকে ইউক্রেনের চলমান ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জেলেনস্কির বক্তব্য, ইউক্রেনের শহরগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রোববার রাতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। এতে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার তীব্রতা অনেক বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নিতে চাইছে মস্কো।

রাজধানী কিয়েভেও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত রোববার শহরের বিভিন্ন এলাকায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। জেলেনস্কির দাবি, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার ৪০০ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে এটি রাশিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষয়ক্ষতি।

তিনি আরও দাবি করেন, গত মাসে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। একই সময়ে রাশিয়া দখল করতে পেরেছে ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা।

রাশিয়ার অধিকৃত ওলেশকি শহরে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি রোববার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এটি বহাল ছিল।

যুদ্ধবিরতির সময় উত্তর ইউক্রেনে কয়েকশ মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন। দুই পক্ষই এই উদ্ধার অভিযানকে সফল বলে উল্লেখ করেছে। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেন, এই যুদ্ধবিরতি মানবিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।

তবে ইউক্রেনের পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সুযোগে রাশিয়ার সেনারা ওলেশকিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত সেনাদের সরিয়ে নতুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

দনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ইউক্রেনের পুনর্দখল করা খেরসন শহরের বিপরীতে অবস্থিত। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ায় ওই এলাকায় রাশিয়ার নতুন সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

জেলেনস্কি ফোন করলে আমি কথা বলব: পুতিন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফোন করলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই ফোন ধরবেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ দাবি করেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি অবশ্যই ফোন ধরবেন। পুতিন কখনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানাননি।’

চলতি মাসে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে উশাকভ এ মন্তব্য করলেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে ফোনালাপও হয়নি।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দুই নেতার সরাসরি দেখা হয়েছিল। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত নরম্যান্ডি ফরম্যাটের আলোচনায় তারা অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছে কিয়েভ। এ জন্য গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার উদ্যোগও নিয়েছে ইউক্রেন।

গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এতে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি। তবে শুক্রবার কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার সরাসরি বৈঠক এড়াতে ফোনালাপের প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন।

ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে ফোনে এ ধরনের আলোচনার চেষ্টা করেছে।’ শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন 'সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ আরও বলেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি।’ এর আগে পুতিন সরাসরি আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তিনি জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ নেতা’ বলে অভিহিত করেন।


নির্বাচিত

ইরানি জাহাজ ছিনতাই করলো সোমালিয়া জলদস্যুরা, জিম্মি ২৩ আরোহী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    ছিনতাইকৃত ওই নৌযানটিতে ২১ জন ইরানি জেলে ও সোমালিয়ার দুজন নিরাপত্তারক্ষীসহ সর্বমোট ২৩ জন আরোহী অবস্থান করছিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার আবহেই উত্তর-পূর্ব সোমালিয়া উপকূলে একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার নিজেদের দখলে নিয়েছে সোমালি জলদস্যুরা। ছিনতাইকৃত ওই নৌযানটিতে ২১ জন ইরানি জেলে ও সোমালিয়ার দুজন নিরাপত্তারক্ষীসহ সর্বমোট ২৩ জন আরোহী অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র (এমএসসিআইও)।

সংস্থাটির বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার (১ নভেম্বর) ইরানের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোমালিয়ার বন্দর শহর ‘বান্দার বেইলা’র পূর্ব দিক থেকে প্রায় ১৮৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অতর্কিতে ‘আজিনি’ নামের ট্রলারটিতে উঠে পড়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভেতরে থাকা ক্রুদের সার্বিক নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১২ জন জলদস্যু ওই ট্রলার ও এর ২৩ জন আরোহীকে জিম্মি করে রেখেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ‘আজিনি’ ট্রলারটির নির্মাণশৈলী সোমালি জলদস্যুদের ‘মাদার শিপ’ বা মূল জাহাজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য বেশ উপযুক্ত। সাধারণ ছোট নৌযান ছিনতাই করে জলদস্যুরা সেগুলোকে গভীর সমুদ্রে অভিযানের জন্য ভ্রাম্যমাণ ঘাঁটি হিসেবে কাজে লাগায়।

উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে সাধারণ স্পিডবোট নিয়ে যেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, সেখানে গিয়ে বৃহৎ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতেই তারা এই কৌশল প্রয়োগ করে। এমএসসিআইও আরও জানিয়েছে, শনিবার নাগাদ অপহৃত ট্রলারটি পূর্ব দিকে আরও ১১০ নটিক্যাল মাইল অগ্রসর হয়েছে, যা অঞ্চলটির অত্যন্ত ব্যস্ত আন্তর্জাতিক নৌপথের অত্যন্ত সন্নিকটে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এই ইরানি ট্রলারটিকে তারা পরবর্তী দস্যুবৃত্তির ‘মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই সোমালিয়া সংলগ্ন জলসীমায় জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু গ্রীষ্মের মৌসুমেই তারা অন্তত ছয়টি জলযান দখল করে, যার কয়েকটিতে প্রাণহানির নজিরও রয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে অপহৃত জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার ‘অনার ২৫’ উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় পুলিশ ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করে। তবে উদ্ধার অভিযান শুরুর পূর্বেই জলদস্যুদের গুলিতে ৫ জন জিম্মির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি।

বিষয়:

নির্বাচিত

ট্রাম্পের বাসভবনের অদূরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে ৯ জনের প্রাণহানি

ফ্লোরিডায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে নিহত সবাই
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ এলাকায় একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ে চালকসহ আরোহী ৯ জনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাস্থলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব মার-এ-লাগো বাসভবন থেকে মাত্র ৯ মাইল (১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।

শনিবার (১ নভেম্বর) অপরাহ্ণে পাম বিচের ক্রেসহ্যাভেনের একটি লোকালয়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল তদারককারী সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিনের বার্গস্ট্রম বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এবং এতে মোট ৯ জন যাত্রী ছিলেন।

এফএএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচের ক্রেসহ্যাভেন অংশে বিমানটি ভূপাতিত হয়। আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে বিকট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।

দুর্ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটনে এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) একযোগে তদন্ত শুরু করেছে, যার মূল দায়িত্বে রয়েছে এনটিএসবি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত কারণ পরে প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে এফএএ।

এদিকে উদ্ধার তৎপরতা নির্বিঘ্ন করতে জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও ১০ম অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল সড়কটিতে যান চলাচল রুদ্ধ করে দিয়েছে এবং সাধারণ পথচারীদের ওই এলাকা পরিহার করতে বলা হয়েছে।

পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টের এক বার্তায় জানায়, “এলাকায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই সবাইকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে আসতে দেখা যায়। এর পরপরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশ ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখায় ছেয়ে যায়।

ফ্লাইট নজরদারিকারী পোর্টাল ফ্লাইটরাডার২৪-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লিয়ারজেট মডেলের ওই উড়োজাহাজটি বেলা ৩টা ৩৭ মিনিটে অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল এবং দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে এটি ৪১ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ছিল।


নির্বাচিত

মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া পৃথক দুই সংঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার মণিপুর রাজ্য পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের’ মাঝে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

‘এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো তল্লাশি অভিযানে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।’

কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের শীর্ষ এক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা বলেছে, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকিদের ওপর সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝেই ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ভারতের প্রান্তিক এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকি ও নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই পক্ষের মাঝে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক এই সংঘাত মণিপুরের বিরাজমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে কুকি সম্প্রদায়।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।


নির্বাচিত

যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইরান, বিপ্লবী গার্ড কমান্ডারের হুঁশিয়ারি

শত্রুরা যে পরিকল্পনাই করুক আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান। যেকোনো ধরনের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন বাহিনী ইরানে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ-এর কাছে নিজের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরে ইয়াদোল্লাহ বলেন, “শত্রুরা যে পরিকল্পনাই করুক আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”

বিপ্লবী গার্ডের এ শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, এবার আর কোনো আকস্মিক আগ্রাসনের মুখে পড়ে ইরান অপ্রস্তুত থাকবে না। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো আঘাত এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।

মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে দাবি করে কড়া সতর্কবার্তা দেন ইয়াদোল্লাহ। তিনি বলেন, “শত্রুরা যে অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করবে, হোক সেটি বিমান হামলা চালিয়ে বা সীমান্ত অতিক্রম করে সেটি তাদের জন্য ‘হত্যার ময়দান’ হয়ে উঠবে।”

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই ইরানে স্বল্পমেয়াদি অথচ অত্যন্ত তীব্র মাত্রার সামরিক আঘাত হানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন বাস্তবতায় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলার সূচনা যুক্তরাষ্ট্র করতে পারলেও সেই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে তাদের নিজেদের শর্তে; অর্থাৎ আঘাত হেনে ওয়াশিংটনের নির্বিঘ্নে সরে পড়ার কোনো সুযোগ রাখা হবে না।


নির্বাচিত

তৃতীয় দেশে ইউরেনিয়াম সরানোর প্রস্তাব, হরমুজ প্রণালী খুলতে চায় ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রাথমিক কাঠামোয় তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতিতে তৃতীয় কোনও দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো এবং প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া কাঠামোয় ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন ও তা দীর্ঘস্থায়ী করতে নিশ্চয়তাদাতা পক্ষ হিসেবে চীনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনা ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজনের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হলে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র।

চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও যাচাইব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে বা শর্ত লঙ্ঘন করলে তা সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতা পক্ষগুলোর সমন্বয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গত শুক্রবার সকালে তেহরানে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাদের এ সফর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরির প্রস্তাবসংবলিত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কাতারের দূতেরা।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চলছে। তারা কথা বলতে চায়। তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ইরানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতে পারছে না। তারা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি একটি যুদ্ধ, তবে প্রচলিত ধরনের যুদ্ধ নয়; আমরা সেখানে সাত মাস ধরে রয়েছি।’


নির্বাচিত

ভারতকে কতটা বদলাতে পারলেন মোদি?

ছবি: নরেন্দ্র মোদি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাহী সরকার প্রধান হিসেবে আড়াই দশক পূর্ণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে ভারতের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থাকে তিনি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করেছেন, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে রয়েছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নসহ সার্বিক পর্যালোচনায় তার এই দীর্ঘ শাসনামলের অর্জন, ব্যর্থতা ও পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

নরেন্দ্র মোদির বিরোধীরা শুরু থেকেই তার কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে আসলেও, তার সমর্থকদের কাছে তিনি বরাবরই উন্নয়নের প্রতীক। এর মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় তার ‘গুজরাট মডেল’-কে। এই মডেলে ব্যাপক শিল্পায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং দেশের একটা বড় অংশে চরম দারিদ্র্য অনেকটাই কমেছে। এছাড়া সরাসরি কল্যাণমূলক সাহায্য প্রদান, ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসার এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি হ্রাসের মতো কিছু দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে দেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ তাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখেছে।

তবে এত সাফল্যের পরও মোদির এই দীর্ঘ শাসনকাল পুরোপুরি ত্রুটিহীন বা একমুখী নয়। অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর নিয়ে বিশ্লেষকদের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। চীন বা অন্যান্য এশীয় দেশগুলো যেভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে ঐতিহ্যবাহী কৃষি খাত থেকে বের করে আধুনিক শিল্পকারখানায় চাকরি দিয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনটি অত্যন্ত ধীরগতির। গত ২৫ বছর ধরে দেশের জিডিপিতে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান প্রায় একই জায়গায় আটকে আছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে বড় কারখানা ও কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বেকারত্ব এখনো ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্র নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। মোদির এই আড়াই দশকের শাসনামলে দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনীতিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা যেভাবে জোরালো হয়েছে, তার জেরে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে নানাভাবে কোণঠাসা করার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন, বিদ্বেষমূলক আক্রমণ, মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা এবং সরকারি বুলডোজার দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার মতো ঘটনাগুলো দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সমালোচকদের মতে, এসব নীতি ও কর্মকাণ্ডের ফলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চরিত্র চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের কঠোর ও জোরালো শাসনপদ্ধতির কারণে সমাজের একটি অংশের মধ্যে একধরনের ক্লান্তি বা বিরক্তি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া আগের মতো অবাধ ও নিরপেক্ষ থাকছে কি না—তা নিয়ে সমালোচকদের উদ্বেগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

পরিশেষে বলা যায়, বিগত ২৫ বছরে নরেন্দ্র মোদি ভারতকে অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বটে, তবে দেশের ভেতরে কাঠামোগত সংস্কার, স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজে সবার জন্য আস্থার পরিবেশ ও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখনো অনেক পথ যাওয়া বাকি রয়েছে।


নির্বাচিত

আলোচনার দরজা খোলা রেখে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুপক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বার্তা এসেছে। এসব ডামাডোলে দুই দেশের মধ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলার দিকে যাচ্ছে, নাকি শান্তিচুক্তির পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত আলোচনার দরজা খোলা রেখে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে খবরটি।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে একই দিনে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে এসবের মধ্যেই জানা যায়, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আবারও তেহরান সফরে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা আলোচনা চালাচ্ছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। আলজাজিরার খবর বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন একদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও খোলা রাখছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান দেশটির নেগেভ অঞ্চলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এ ছাড়া আরও কিছু বিমান জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা যুদ্ধের আশঙ্কা নেই। তার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন। ফক্স নিউজকে ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের আরও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে আমি আপনাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করে বলতে পারি, আরেকটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই এমন যুদ্ধ চলতে দেবেন না।’

এদিকে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা আবার শুরু করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার সকালে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চিঠি পাঠানোর খবর প্রসঙ্গে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তেহরান ওই বার্তা পেয়েছে। তবে এখনও এর জবাব দেওয়া হয়নি।

পৃথকভাবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরানে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। সে বৈঠকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য আক্রমণ নিয়ে আলোচনা হয় গতকাল।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এর এক দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ওই নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো থেকে বাধা সরিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ পরিষ্কার করেছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টার সময় নিয়ম লঙ্ঘনকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয় এবং আগুন ধরে যায়।’

পরে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালীর পূর্ব দিকে আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগেছে। জাহাজটি ‘সীমাবদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায়’ চলাচলের সময় মাইনে আঘাত পেয়েছিল।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের সব রাডার ও নৌ চলাচল-সংক্রান্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল তারা। তবে এসব ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে কিংবা জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাবের প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সংস্থাটি জানায়, আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার বিষয়ে হুতিদের নতুন দাবির পর গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

জার্মানির কঠোর সমালোচনায় আরাগচি

ছবি: আব্বাস আরাগচি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছরের যুদ্ধের সময় তেল আবিবের প্রতি জার্মানির সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ‘ধ্বংসাত্মক আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। খবর দ্য মিডল ইস্ট আইয়ের।

ইউরোপের জ্বালানি ব্যয় ১০ হাজার কোটি ইউরো (প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলার) বেড়ে যাওয়ার জন্য চলমান সংঘাতকে দায়ী করে জার্মানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আরাগচি।

তিনি বলেন, ‘গত বছর ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা শুরুর সময় জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ওই হামলাকে ‘‘ইউরোপের নোংরা কাজ করে দেওয়া’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।’

আরাগচি বলেন, ‘১০ হাজার কোটি ইউরো কিছুই নয়, এর তুলনায় আমাদের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যে ধ্বংসাত্মক আঘাত হানবে, তা অনেক বড়।’

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া যাবে না: উত্তর কোরিয়া

তিনি আরও বলেন, ‘আগের মতো কোনো সীমারেখা এখন আর কার্যকর নয়।’


নির্বাচিত

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনের চেষ্টা

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলে ভোট গণনা শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের থেকে বেশি আসন পেয়েছে। কিন্তু কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি ও রাআম পেয়েছে আটটি। সরকার গঠনের জন্য ৬১ জন পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন জরুরি। সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটে আছে দক্ষিণপন্থি এবং অতি দক্ষিণপন্থিরা। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটে আছে মধ্যপন্থি ও উদারপন্থিরা। দুটি আরব-ইসরায়েলি লিস্ট-এ থাকা দলগুলো ১৯টি আসনে জিতেছে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে সরকার গঠন করতে গেলে এই আরব দলগুলোকে সরকারে নিতে হবে অথবা তাদের সমর্থন জোগাড় করতে হবে প্রধান দুই জোটকে।

বামপন্থি-প্রগতিবাদী ডেমোক্র্যাট নেতা ইয়াইর গোলান জানিয়েছেন, তিনি বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর ল্যাপিদ এবং আরব রাআম পার্টির মনসুর আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং কথা বলেছেন। তিনি আইজেনকটের সঙ্গে দেখা করার পর এক্সে পোস্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলকে বাঁচানোর জন্য আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুবরোধী আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট আরব দলগুলোর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত হাত মেলায় কি না সেটা দেখার।

ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তার দল লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে রক্ষণশীল হেরাডি ইহুদিদের দল হিসেবে পরিচিত ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) বিরোধী শিবিরের সহযোগী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি। ইসরায়েলি চ্যানেল-১২ এতে দাবি করা হয়েছে, ইউটিজে নেতৃত্ব এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে ইসরায়েলে একটি নতুন সরকার গঠনের আশা দেখা যাচ্ছে।

তবে সরকার গঠনে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে কি না সেটিও দেখার অপেক্ষায় আছেন অনেক ইসরায়েলি। সরকার গঠনের আরেকটি বিকল্প হলো, নেতানিয়াহু এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করুক। কিন্তু তাতে মধ্যপন্থি ভোটদাতারা বিরূপ হবেন। ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর ইসলামপন্থিদের নিয়ে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইসলামপন্থিদের বাদ দিয়ে কট্টরপন্থিদের ইহুদিদের বাদ দিয়ে একটি মধ্যপন্থি ইহুদিদের নিয়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।


নির্বাচিত

 ইউক্রেনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

পোল্যান্ডে অবস্থিত একটি সেনা ঘাঁটিতে ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল লঞ্চার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদনের কথা জানায়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে অনুমোদন পেলেও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক বছর সময় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, অনুমোদন পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো উৎপাদিত হয়নি। ২০৩০-এর দশকের শুরুর কয়েক বছর আগে সেগুলো সরবরাহের সম্ভাবনা কম।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরবরাহের সময় এগিয়ে আনতে পেন্টাগনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে পরে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একজন।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে আরও বেশি ইন্টারসেপ্টর বা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের উত্তেজনাও বেড়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন। পাশাপাশি রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের অনীহার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেন।

জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করলেও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদনের জন্য প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি জনাকীর্ণ রেল প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। একই দিনে দুটি প্রাদেশিক শহরে হামলায় আরও পাঁচজন এবং সন্ধ্যায় রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের অর্থে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল্য পরিশোধ করবে ইউক্রেন। ইউএস জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির মাধ্যমে এ অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সাপোর্ট লোন থেকে পাওয়া অর্থও ব্যবহার করা হবে। এ বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে না।

পেন্টাগনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির আওতায় মিত্র দেশগুলোর অনুদান দিয়ে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র, বিভিন্ন পরিষেবা ও প্রশিক্ষণ কেনা হয়। রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে দেশটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

এর আগে গত আগস্টে এ কর্মসূচির আওতায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৩ হাজার ৩৫০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়েছিল। জোন ৫ টেকনোলজিস ও কোঅ্যাসপায়ার নামের দুটি কোম্পানি এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বিক্রির ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।

যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মিত্র দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করছে, অন্যদিকে নিজেদের সামরিক অভিযানেও গোলাবারুদ ব্যবহার করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত জুলাইয়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লকহিড মার্টিনকে সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ দেয় মার্কিন সেনাবাহিনী। লকহিড জানিয়েছে, এ চুক্তির ফলে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ পিএসি-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া আরকানসাসের ক্যামডেন কারখানায় কর্মীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ২ হাজার প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল।


নির্বাচিত

ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত শিগগিরই শেষ হবে, বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুতই ইতি টানবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুতই ইতি টানবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কীভাবে এই রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থার অবসান ঘটবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি তুলে ধরেননি। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গত শুক্রবার কানসাস সিটির বেতারকেন্দ্র কেসিএমওকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন তিনি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে ওয়াশিংটন ইরানে কোনো সামরিক আক্রমণ চালাবে না বলে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। আমাদের এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন, যাতে (ইরান) কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে।’

দুই দেশের মধ্যকার এই লড়াই থামাতে বর্তমানে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে কাতার। মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে গতকাল আবারও তেহরানে পৌঁছান কাতারি প্রতিনিধিরা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বিত প্রক্রিয়ারই অংশ বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। পাশাপাশি তেহরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের সাথে সরাসরি সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আল–জাজিরা ওয়াশিংটন পোস্টের সূত্রে বিষয়টি প্রকাশ করলেও তেহরান এখনো এতে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

শান্তি আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের প্রত্যাশায় বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমস্ত মজুত হস্তান্তর করতে হবে। বিপরীতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির বন্দরে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধের অবসান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিক থেকে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি এবং জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়াসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।

কূটনৈতিক আলোচনার তোড়জোড়ের মাঝেই অবশ্য নতুন করে আগ্রাসনের প্রস্তুতিও জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার ইরানে পুনরায় হামলা পরিচালনার সম্ভাব্য রূপরেখা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শেষেই দেশটিতে যৌথ অভিযান চালানোর ব্লুপ্রিন্ট চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনকি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযানের লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা এবং জ্বালানিসহ বিভিন্ন জাতীয় অবকাঠামো।

বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে আল–জাজিরা জানিয়েছে, ওয়াশিংটন মূলত সামরিক চাপ বজায় রেখেই আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার দ্বৈত কৌশল অনুসরণ করছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন করে কোনো তীব্র সংঘাতে না জড়ালেও ভোট শেষ হলে পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় নিতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেছেন যে ট্রাম্প এই লড়াইকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে দেবেন না। তবে চলমান সংকটের চূড়ান্ত সমাধান শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে মিলবে নাকি নতুন সামরিক পদক্ষেপে গড়াবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।


নির্বাচিত

banner close