শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পর্ক ‘মেরামতে’ সৌদি আরবে ব্লিংকেন

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গতকাল জেদ্দায় সৌদিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৩ ২১:১৮

গত কয়েক বছর ধরেই নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের মতবিরোধ চলছে। সেসব বৈরী মনোভাব মিটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক চলমান অবস্থা থেকে উন্নত করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সৌদি আরব গেছেন।

এএফপি জানায়, ব্লিংকেন লোহিত সাগর তীরবর্তী শহর জেদ্দায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অবতরণ করেন। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে যোগ দিতে গতকাল বুধবার তিনি রিয়াদে পৌঁছান।

ব্লিংকেন জেদ্দায় সৌদিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ১ ঘণ্টার ৪০ মিনিটের বৈঠকে ব্লিংকেন সাধারণ ও নির্দিষ্ট উভয় ক্ষেত্রেই মানবাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন বলে মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে মূলত আর্থিক সহযোগিতা, ক্লিন এনার্জি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে নিয়ে কথা হয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অনুরোধ করেছেন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক। সৌদি আরব নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প চালু, এর বাস্তবায়নে মার্কিন সহযোগিতা ও এ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে।

ব্লিংকেন এবার অন্য সৌদি নেতাদের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে জানা গেছে।

গত কয়েক বছর ধরে ইরান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, তেলের দাম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ সামনে এসেছে। সৌদি আরব দিনে ১০ লাখ ব্যারেল কম তেল উৎপাদন করেছে। মূলত, তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কিন্তু রিয়াদের এই সিদ্ধান্তে মোটেও সন্তুষ্ট নয় ওয়াশিংটন। তা ছাড়া সৌদিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও জোরালো আওয়াজ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এএফপি জানায়, চলতি বছর মার্চে আঞ্চলিক দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের প্রভাব দিন দিন বাড়ার প্রেক্ষাপটেও ব্লিংকেন এ সফরে এলেন।

ব্লিংকেনের এই সফরের দুটি উদ্দেশ্য আছে। এক. তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখা। দুই. মধ্যপ্রাচ্যে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা। তা ছাড়া তাদের আশা, সৌদি ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কও এবার ভালো হবে।

এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক ফাউন্ডেশন অব ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের পরামর্শদাতা রিচার্ড গোল্ডবার্গ বলেছেন, ‘ব্লিংকেনের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো, চীন ও সৌদি আরব যাতে খুব কাছাকাছি না আসে তা নিশ্চিত করা। ব্লিংকেন সৌদি আরবকে বোঝাবার চেষ্টা করবেন, চীন কেন সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে চাইছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকলে সৌদির কী লাভ হবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

পবিত্র মদিনা নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৩৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় পবিত্র মদিনা নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে হুতিদের ছোড়া ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইয়েমেন থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল নিশানা ঠিক কোথায় ছিল কিংবা এটি ধ্বংস করার সময় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সামরিক জোটের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

সৌদি জোটের এই দাবির বিষয়ে হুতি বিদ্রোহীদের তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তাকারী সৌদি জোট এবং হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর আগে বুধবারও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা হুতি বিদ্রোহীরা দখল করে নেওয়ার পর ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওই আঞ্চলিক জোট।


নির্বাচিত

ইউরোপজুড়ে বিমানে বোমা হামলার হুমকি, জরুরি সতর্কতা জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বিমান সংস্থা বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। এসব হুমকির কারণে অন্তত দুটি বিমানকে নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্যত্র অবতরণ করানো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হুমকিগুলো ছিল ‘ভুয়া’।

একযোগে একাধিক বিমানে হামলার হুমকি আসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ১৯টি বিমান হামলার হুমকি পেয়েছিল। এর মধ্যে দুটি বিমানকে অন্যত্র অবতরণ করানো হয়। বাকি বিমানগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।

এ ছাড়া অন্তত দুটি বিমান হুমকির কারণে উড্ডয়ন করেনি। পরে সেগুলোতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। তবে এখন পর্যন্ত হুমকি পাওয়া কোনো বিমানেই বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইদি আলেক্সান্ডার বলেছেন, ইউরোপজুড়ে বিমানগুলো ‘ভুয়া হামলার হুমকির’ শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, ইউরোপের স্বল্পসংখ্যক বিমান এ হুমকির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

এ ধরনের ভুয়া হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমন হুমকির কারণে ইউরোপে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

এদিকে কোনো বিমান সংস্থা হামলার হুমকি পেলে সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সূত্র: বিবিসি


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি

রণধীর জয়সওয়াল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সার্বিক অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের গতিপ্রকৃতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সার্বিক অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের প্রেক্ষিতে রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থানের কথা জানান। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখাই নয়াদিল্লির মূল লক্ষ্য।

এদিকে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে উন্নীত করে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানা আংশিক সচল করার উদ্যোগ নিলে শ্রমিকরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমান সরকার এই অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ এনেছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আন্দোলনের নেপথ্যের ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন চায়: ভ্যান্স

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য যুদ্ধ ও ইসরায়েল নীতি দায়ী
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের এমন ফলাফলের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভ্যান্স লিখেছেন, ‘প্রধান সমস্যা হলো ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।’ ভোটারদের মনোভাব নিয়ে জনমত সমীক্ষকদের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ‘যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তাদের প্রশ্ন করা হয়েছিল কী হলে তারা আমাদের দলে ফিরে আসবেন। প্রায় সব উত্তরদাতার মূল চারটি জবাব ছিল- ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকাকে প্রাধান্য দেওয়া, ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পরিবর্তন করা।’

প্রশাসনকে কূটনৈতিক পথে ইরান সংকট নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া এক রক্ষণশীল টিভি ব্যক্তিত্বের অবস্থানকে সমর্থন করে তিনি লেখেন, ‘দেখা যাচ্ছে তার রাজনৈতিক পরামর্শ সঠিক ছিল।’ এছাড়া ক্ষমতার ভারসাম্য হারানোর বিষয়টি মেনে নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনি যদি তর্ক করতে চান যে এটি সার্থক ছিল, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেট হারানো সার্থক ছিল, তবে তা করুন। তর্ক করুন যে এটি একটি অর্থবহ মূল্য ছিল। আপনি একমত হন বা না হন, অন্তত সেটি সততা হবে।’ পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার করে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমাদের হারার কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও কাল রাতে তা বলেছেন।’ ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সমর্থন করে তাঁর পোস্টটি পুনর্বার প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র; ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এর প্রতিটি শব্দ ১০০% ১০০% ১০০%।’

ভাইস প্রেসিডেন্টের এই নির্বাচন-পরবর্তী বিশ্লেষণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের অদূরে একটি নির্মাণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করি এটি অনেকটাই সত্য কারণ এটি স্বল্পমেয়াদে পেট্রোলের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে, আমাকে যদি আবার এটি করতে হয়, তবে আমাকে আবার এটিই করতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটিই একমাত্র উত্তর। আপনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারেন না।’ পরিস্থিতির প্রভাব সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি জানতাম যে যুদ্ধ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তবে আমি আলাদা কিছুই করতাম না।’

এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি মনে করি তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’ নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে পূর্বে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করা হবে। এবং মিডনাইট হ্যামারের মাধ্যমে সেটাই ঘটেছে।’ এই সংঘাতের সমাপ্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি যখন চাইব তখনই যুদ্ধ শেষ হবে। তবে এটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।’

তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের জয়

নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনায় জয়ী হয়েছেন চারজন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অগ্রযাত্রার আবহে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে চার বাংলাদেশি-আমেরিকানের বিজয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট এবং নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই চার রাজনীতিবিদ। তাঁদের মধ্যে একজন রিপাবলিকান পার্টির হলেও বাকি তিনজনই ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে লড়াই করে এ সাফল্য অর্জন করেন।

নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নে সপ্তমবারের মতো জয় ছিনিয়ে এনেছেন পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান শেখ রহমান জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে পঞ্চমবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে বড় ব্যবধানে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছেন চাঁদপুরের সন্তান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মাসুদুর রহমান। এছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সিনেটের ১৮ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির পতাকাতলে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুরের সন্তান হাসিব ফাতেমী।

অন্যদিকে ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটের ৩৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন নোয়াখালীর সন্তান সাদ্দাম আজলান সেলিম। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই রাজনীতিক ২০২৪ সালে জয়যুক্ত হয়েছিলেন এবং আগামী বছর তাঁর আসনে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান সংহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এই ধারাবাহিক সাফল্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসের মূলধারার রাজনীতিক শাহজাহান শেখ এ প্রসঙ্গে বলেন, “গত দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যায়-অপকর্মের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ফলাফল আগামী দিনে রাজনীতিক ও শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কার্যপদ্ধতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে, যা সাধারণ খেটে খাওয়া আমেরিকানদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফাইজুল ইসলাম পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, “মিথ্যাচার আর ভণ্ডামি বেশিদিন টিকে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লাগাতার অন্যায়-অবিচার-একনায়কতন্ত্রের কবলে পড়ে আমেরিকানরা ত্যক্ত-বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। তারই প্রকাশ ঘটল ব্যালট বিপ্লবে।” তাঁর মতে, ট্রাম্পের রাজনীতির কারণে রিপাবলিকানদের ভিত্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দলটির পুনরুত্থানের জন্য ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে দেওয়াই এখন একমাত্র পথ।

লং আইল্যান্ডের ব্যবসায়ী ও আরএলবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল মনে করেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি জনমনে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বৈরিতা বৃদ্ধি, শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের ফলে অনেক কট্টর রিপাবলিকান সমর্থকও বিরক্ত হয়েছেন। তদুপরি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার সংকটও গভীর হয়েছে। তাঁর মতে, জনগণ এমন সংকটের অবসান চাইছিলেন এবং তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা গেছে ব্যালটে।

কুইন্সের বাসিন্দা ও মূলধারার রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “এ বিজয়ের কৃতিত্ব ডনাল্ড ট্রাম্পের। কারণ ট্রাম্প যে প্রার্থীকে আক্রমণ করেছেন. তারাই জয়ী হয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আহ্বান জানান, আগামী দুই বছর পার্লামেন্টে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ না করলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পাওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

মেরিল্যান্ডের প্রবীণ লেখক ও সাবেক বিজ্ঞানী আশরাফ আহমেদ বলেন, “এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের যতোটা না বিজয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থার বিজয় হয়েছে বলে মনে করি।” তিনি মনে করেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের নানা বাধার মুখে দাঁড়িয়েও ডেমোক্র্যাটরা জনগণের অর্থনৈতিক সংকট কতটা কাটিয়ে তুলতে পারেন, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। এটি নিশ্চিত করতে না পারলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তাদের জন্য জটিল রূপ নেবে। তবে হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেসে যে দলই নেতৃত্বে থাকুক না কেন, বাংলাদেশের প্রতি ওয়াশিংটনের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো রদবদলের সম্ভাবনা দেখছেন না এই বিশ্লেষক।


নির্বাচিত

সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী

ছবি: অ্যাবার কাওয়াস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান অ্যাবার কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের আইন সভায় দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ফিলিস্তিনি আমেরিকান ও প্রথম হিজাব পরিহিত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে রিপাবলিকান প্রার্থী হান খন টোর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন কাওয়াস। তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গভীর রাতে তার বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’

মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্যানুযায়ী, ফিলিস্তিনি অভিবাসী দম্পতির ঘরে নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন কাওয়াস। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অভিবাসীদের অধিকার, শ্রমিক অধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।

‘মর্যাদার জন্য তহবিল দিন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়ুন’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালান তিনি। তার নির্বাচনী কর্মসূচিতে ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বাড়ি ভাড়া স্থিতিশীল রাখা, গণপরিবহনে বরাদ্দ বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা জোরদার করা।

বিশেষ করে কঠোর ফেডারেল নীতির মুখে থাকা অভিবাসী পরিবারগুলোর সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাওয়াস।

তার এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী চক্রের সমাপ্তি হলো। জুনে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের পর জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পান।

২০২৭ সালে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আরবেনিতে আইনসভার নতুন সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেবেন কাওয়াস। দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত ফিলিস্তিনি আমেরিকান প্রতিনিধিদের ছোট তালিকায় যুক্ত হবেন তিনি।


নির্বাচিত

একসঙ্গে কোণঠাসা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের ছবি সংবলিত কাটআউট হাতে দুই ইরানি শিশু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীন দল। যা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা। একই রকম ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (৪ নভেম্বর) তার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শুরু হচ্ছে। যেটির সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবারের মধ্যে সামনে আসতে পারে।

কয়েকদিনের ব্যবধানে হওয়া দুই দেশের নির্বাচন প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতার শেষের শুরু করেছে। তাদের রাজনৈতিক পতন অবশ্যম্ভাবী- সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। বরং বলা যায়, তারা দুজনই এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে ক্ষমতা ধরে রাখার চেয়ে ক্ষমতার শর্তগুলো নিজেদের পক্ষে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে তার দলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল সরাসরি সরকার গঠনের প্রশ্ন তুলেছে। তার দল লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নেই।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা আড়াইটায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রয়োজনীয় ২১৮ আসনের বিপরীতে তারা জিতেছে ২২৫টিতে। ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় থাকা আরও ৩৮টি আসনে দলটি এগিয়ে আছে।

উচ্চকক্ষ সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসন অতিক্রম করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ৫৪টিতে নিশ্চিতভাবে জিতেছে, এগিয়ে আছে আরও একটিতে। বিপরীতে পরিষদ ও সিনেট উভয়কক্ষে রিপাবলিকানরা পেয়েছে যথাক্রমে ১৩৬ ও ৪৩ আসন। চূড়ান্ত ফলাফলে সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।

এই ফলকে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনমতের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় মেয়াদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও শুল্কের প্রভাব সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনের লড়াই ছিল না; এটি ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণভোটে পরিণত হয়।

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সংকটের ধরন ট্রাম্পের থেকে আলাদা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার দল লিকুদ পার্টি নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে এককভাবে ২৭টি পেয়েছে। জোটের শরিকদের আসন মিলিয়ে তা দাঁড়ায় ৫৩টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। বিরোধী জোট ৪৮ আসন পেলেও তাদের সমর্থন দিচ্ছে ১৯ আসন পাওয়া আরব দলগুলো। ফলে বিরোধীরা সরকার গঠনের দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি সরকার গঠনের জন্য সম্ভাবনাময় জোটের একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের সঙ্গে আরবদের সমর্থন থাকায় প্রথমে গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়াগুলোতেও শেষের আবেগের বার্তা আছে। নির্বাচনের আগেরদিন গত সোমবার ট্রাম্প তার ভাষণে নীতিগত বিষয় নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি। বরং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং ওয়াশিংটনকে আরও সুন্দর করে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অবসরের প্রস্তুতির মতো বার্তা।

অপরদিকে নেতানিয়াহু সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী- তিনি বলেছেন, ‘জয় চুরি হয়ে গেছে।’

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ডেমোক্র্যাটরা এখন তদন্ত কমিটি গঠন, শুনানি ও তলবের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে পারবে। সেটি হলে বাজেট, ঋণসীমা, শুল্কনীতি ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

তবে নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ফল মেনে নিতে প্রস্তুত এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আপত্তি নেই। কিছুদিন আগেও নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের নীতির বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। এখন তিনি সুর নরম করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানো মানেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষ নয়। ট্রাম্পের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতি পরিচালনার সুযোগ থাকবে। তাই ডেমোক্র্যাটরা তার পথ কঠিন করতে পারলেও সব সিদ্ধান্ত থামিয়ে দিতে পারবে না।

মঙ্গলবার এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে পারেন। একই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণার প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাস বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘নিরলসভাবে সক্রিয়’ থাকবেন বলে মনে হচ্ছে। কানাডার প্রতি তার সাম্প্রতিক বৈরী মনোভাবেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

এদিকে নেতানিয়াহুকে আপাতত বিরোধী জোটের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক যদি বিরোধী জোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন, তবে তারা ৪২ দিন সময় পাবে। এ সময়ে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। তারা সেটি করতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন নেতানিয়াহু।

বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে গত ২৮ অক্টোবর রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।


নির্বাচিত

আমেরিকার জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন: ওবামা

ছবি: বারাক ওবামা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ধারাবাহিক জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, মার্কিন জনগণ এমন রাজনীতি চান, যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে ঐক্যবদ্ধ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওবামা লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমেরিকান জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন-তারা এমন রাজনীতি চান, যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করে। তারা এমন নেতাদের চান, যারা মানুষের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারেন।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এই ফল সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবামা। একসময় যেসব এলাকাকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন নির্বাচনি এলাকা বলে মনে করা হতো, সেখানেও প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ওবামা বলেন, ‘তারা ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি থেকে এসেছেন এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও তাদের মধ্যে বৈচিত্র্য ছিল। তবে অভিন্ন মূল্যবোধ, জনসেবার প্রতি বিশ্বাস এবং নিজেদের নির্বাচনি এলাকার মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার তাদের এক করেছে।’

বর্তমান প্রশাসনের হাতে আরও দুই বছর ক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ হলো কাজে নেমে পড়া-যেখানে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে, সেখানে পরিবর্তন আনা, আরও ক্ষতি ঠেকানো এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি তৈরি করা।’

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখা দুই দলের হাজারো নির্বাচনী কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, তারা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে হারিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। ভোট গণনার সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এদিকে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ‘ভালো করেছে’ বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করলেও নিজের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মোট আসন ১০০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন। দুই স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কয়েকটি আসন ছিনিয়ে নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

এবারের নির্বাচনে টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেডকে হারিয়ে আবার সিনেটে ফিরেছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন। এসব জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেন ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশনে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের মনোনীত মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সিনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতা বাড়বে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণে ভোট গণনা চলছে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে বিস্ময় ও অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।


নির্বাচিত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্প শিবির

রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি
ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পর এবার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতছাড়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আইনসভার উভয় কক্ষের আধিপত্য পুনরুদ্ধার করল বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ফলস্বরূপ, দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও কড়া নজরদারি প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী ক্ষমতা তৈরি হলো ডেমোক্র্যাটদের হাতে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন ইতোমধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে ডেমোক্র্যাটরা, এবং তারা আরও ৩৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত ১২৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ৪৬টিতে এগিয়ে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজিরবিহীনভাবে হ্রাস পাওয়া জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যে লাল শিবিরকে হটিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আসন পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে দলটি।

দীর্ঘদিনের লাল দুর্গ সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলেইন গ্রাহামকে পরাজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ; সেখানে ১৯৯৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে। এদিকে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো টেক্সাসে কোনো অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো; তিনি পরাজিত করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে। পাশাপাশি ওহাইওতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে হটিয়ে আসন পুনরুদ্ধার করেছেন শেরউড ব্রাউন এবং কানসাসে ক্ষমতাসীন সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন, যা অঙ্গরাজ্যটিতে ১৯৩২ সালের পর প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাটের সিনেট বিজয়।

বিদায়ী ১১৯তম কংগ্রেসে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন, বিপরীতে দুই স্বতন্ত্র নেতাসহ ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭ আসন। মঙ্গলবারের এই ফলাফলের মাধ্যমে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অর্জিত হোয়াইট হাউস, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ—এই তিন ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে রিপাবলিকানদের গড়ে তোলা 'ট্রাইফেক্টা' বা নিরঙ্কুশ আধিপত্যের চূড়ান্ত অবসান ঘটল।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই অনুমিত থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন বিবেচনা করা হচ্ছিল। এবারের নির্বাচনে নিয়মিত ৩৩টি আসনের পাশাপাশি ওহাইও ও ফ্লোরিডায় দুটি বিশেষ নির্বাচনসহ মোট ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও ট্রাম্পের সরকারে যোগ দেওয়ায় ওই আসন দুটি শূন্য হয়েছিল। তীব্র লড়াইয়ের মুখেও জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ এবং ভার্জিনিয়ায় দীর্ঘদিনের সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার নিজেদের আসন অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড ভোটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে, যার প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলাফলে। সিএনএনের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেন না। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের গৃহীত নীতির ফলেই মার্কিন অর্থনীতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাজির করতে আইনি সমন জারির ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। একই সাথে সিনেটের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ এমনকি সুপ্রিম কোর্টের শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও দলটির হস্তগত হলো। তবে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিনেটে আইন পাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৬০ ভোটের নিয়মের কারণে নিজেদের আইন বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ডেমোক্র্যাটদেরও বাধার মুখে পড়তে হবে। তথাপি, ওয়াশিংটনে ক্ষমতার এই নাটকীয় পরিবর্তন ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরকে চরম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও চাপে ফেলতে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ

দেশটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মুসলিম সিনেটর হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে
আব্দুল এল-সায়েদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ। ভোট গণনার অগ্রগতিতে ৪১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মুসলিম সিনেটর হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৪ ভোট, যা মোট গণনাকৃত ভোটের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়ে সংগ্রহ করেছেন ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ভোটের এই ব্যবধানকে সামনে রেখে মার্কিন শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যেই সায়েদের জয়কে প্রায় সুনিশ্চিত বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে।

তবে আব্দুল এল-সায়েদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার লড়াই একেবারেই সহজ ছিল না। দলের প্রাইমারি নির্বাচনে আইনপ্রণেতা হেলি স্টিভেনসকে পরাজিত করে সিনেট লড়াইয়ের টিকিট পান তিনি। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে নিজ দলের প্রার্থীকে ফেলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেন স্টিভেনস। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের পাশাপাশি প্রচারের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শিবিরের কড়া ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে 'জঙ্গি' ও 'জিহাদির' তকমা দেওয়া হয়।

সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে মিশিগানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার জরুরি সংকটগুলো সমাধানের বিষয়কেই প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিলেন সায়েদ। নির্বাচনী মাঠে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, "মুসলিম সিনেটর হতে তিনি দাঁড়াননি, মিশিগানের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দাঁড়িয়েছেন।"

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত ৫০টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৫৩টি আসন পেয়ে এই কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের নজিরবিহীন ভরাডুবি ঘটেছে। ঐতিহাসিক এই ফলাফলে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫৪টি আসন দখল করে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছে।


নির্বাচিত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের দল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। একই সঙ্গে টেক্সাস, ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন ডেমোক্র্যাটরা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, কেনটাকি, নিউ জার্সি ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে অন্তত আটটি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জোরালো অবস্থানে রয়েছে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও ডেমোক্র্যাটরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

সিনেট নির্বাচনে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করে আবারও সিনেটে ফিরছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন। অন্যদিকে টেক্সাসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধীদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের মুখে কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমস তালারিকো। এছাড়া সাউথ ক্যারোলাইনায় সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার আসনে দায়িত্ব পাওয়া ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। এর আগে নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনেও জয় তুলে নেন ডেমোক্র্যাট রয় কুপার।

মিশিগান ও মিনেসোটায় নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজনীয় চারটি অতিরিক্ত আসন পাওয়ার সমীকরণ ইতিমধ্যেই মিলে গেছে। এছাড়া জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারেও নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন তারা।

জর্জিয়ায় জয় পাওয়ার পর এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেন, "এক ব্যাপক ও চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন জনগণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নামের ব্যক্তির অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।"

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর ঝুঁকি স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, "ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তবে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতাম! এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় ভোটারদের তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে এ নির্বাচনে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ মার্কিন প্রধান গণমাধ্যমগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি ভোটার এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ ভোটার দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের ওপর কংগ্রেসের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য চান বলে জানিয়েছেন।

এমনকি শক্ত রিপাবলিকান ঘাঁটি ফ্লোরিডায়ও প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মাত্র ৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে নিজের আসন রক্ষা করতে পেরেছেন রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলে মুডি।

এদিকে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে, যাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তদারকি অভিযান বলা হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত ও আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।


নির্বাচিত

যুদ্ধ বন্ধে তেহরান-ওয়াশিংটন চুক্তি এখনো অধরা

গ্রাফিক্স ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো অনেক দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যে আবার বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে সোমবার রাতভর ইরানের কেশম দ্বীপে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, হামলাগুলো সীমিত পরিসরে চালানো হয়েছে এবং এগুলো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দেয় না।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে কাতার। বিশেষ করে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত নতুন করে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।’ গত আট দিন ধরে আলোচনাধীন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তির একটি সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার রাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া প্রস্তাবগুলোও পর্যালোচনা করছে তারা। তেহরান সফর করা কাতারের প্রতিনিধিদল দোহায় ফিরে গেলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় যৌথ প্রচেষ্টা চলছে।’ ভবিষ্যতে আলোচনার পথ তৈরি করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই কেবল পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ মেনে নেবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরেও শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ওয়াশিংটনের কোর্টে বল, বলছে ইরান

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তেহরান ইতোমধ্যে নিজেদের ‘শক্তিশালী ও যৌক্তিক জবাব’ দিয়েছে। গালিবাফ বলেন, ‘হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায় শত্রুপক্ষ। কিন্তু তারা মারাত্মক ভুল করছে। ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভুল হিসাব করলে তার জবাব হবে অননুমেয় এবং তা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে চলবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন-এমন আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে।


নির্বাচিত

সাইবার হামলায় ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট, অকেজো ফ্রিজ

ফ্রিজার অচল হওয়ার পর সুইডেনের সিওবো শহরে আইসিএ’র স্টোর থেকে পণ্য বের করে নিচ্ছেন কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাইবার হামলায় অকেজো হয়ে গেছে ইউরোপের সাতটি দেশের কয়েক ডজন সুপারমার্কেটের ফ্রিজ (রেফ্রিজারেটর) ও ফ্রিজার (ডিপ ফ্রিজ)। এতে দোকানগুলোর হিমায়ন ব্যবস্থা অচল হয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় ৪০টি সুপারমার্কেট এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডেরও কয়েকটি দোকানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় অচল কিছু ফ্রিজ বা ফ্রিজারের ‘ইভাপোরেটর’ ডিফ্রস্ট মোডে চলে যাওয়ায় সেগুলোতে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছে বেলজিয়ামের ফ্রিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সাবকোবেল। ধারণা করা হচ্ছে, গত মাসে ফ্রান্সের কয়েকশ সুপারমার্কেটে যে পদ্ধতিতে হামলা চালানো হয়েছিল, এবারও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

গত মাসের ওই হামলার পর ফ্রান্সে কয়েক মিলিয়ন ইউরো মূল্যের খাদ্যপণ্য ফেলে দিতে হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।

সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘এবারের ঘটনাটি সাইবার হামলা। আক্রান্ত ফ্রিজগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সে গত মাসের হামলার পর থেকেই গ্রাহকদের ফ্রিজকে এই দুর্বলতা থেকে সুরক্ষিত করার কাজ চলছিল। তবে শুধু সফটওয়্যার আপডেট করলেই হবে না। ফ্রিজগুলোর কিছু ফিজিক্যাল পরিবর্তনও প্রয়োজন।’

ইউরোপের অধিকাংশ সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দূর থেকে এসব যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি নির্ণয় করা যায়। মোয়েলানস বলেন, ‘নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ফ্রিজ ব্যবস্থাপনা করা সবচেয়ে সহজ সমাধান। ফ্রান্সের হামলার পর অধিকাংশ গ্রাহক এ ধরনের নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার শুরু করেছিলেন।’

তবে এবারও কয়েকটি দোকানের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বেলজিয়াম ও সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চল ফ্ল্যান্ডার্সের হুইলাার্টে ডেলহাইজের একটি শাখা জানিয়েছে, হামলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ইউরো মূল্যের খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে।

ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট চেইন ক্যারেফোর জানিয়েছে, বেলজিয়ামে তাদের ১৫টি দোকান আক্রান্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব দোকান খোলা রাখা সম্ভব হয়েছে।

বেলজিয়ামে স্পার স্টোর পরিচালনাকারী কোলরুইট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের পাঁচটি দোকানের ফ্রিজ ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে। সুইডেনের ফার্নিচার বিক্রেতা আইকিয়ার বেলজিয়ামের মন্স শহরের একটি দোকানের হিমায়ন ব্যবস্থাও আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, আরও কোনো শাখা আক্রান্ত হয়নি—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

সুইডেনের বৃহত্তম গ্রোসারি ও খুচরা বিক্রেতা চেইন শপ আইসিএ ও কুপের কয়েকটি দোকানেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আইসিএ জানিয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের বাইরে পরিচালিত অল্পসংখ্যক দোকানে ঘটনাটি ঘটেছে। আক্রান্ত দোকানগুলোকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ সুইডেনের সিওবো শহরের আইসিএ’র একটি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, রাতের মধ্যে তাদের ফ্রিজ ও ফ্রিজার ‘হ্যাক’ করে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে দেওয়া হয়েছিল। দোকানটি কিছু সময় বন্ধ রাখার পর আবার গ্রাহকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

সুইডেনে কুপের ৮০০ দোকানের মধ্যে সাতটি আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের কয়েকটি কে-স্টোরেও ফ্রিজে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ১৩টি সুপারভ্যালু সুপারমার্কেট আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রভাব নির্দিষ্ট একটি মডেলের ফ্রিজের মধ্যেই সীমিত ছিল।


নির্বাচিত

banner close