সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

মেক্সিকোতে বাস খাদে পড়ে গেল ১৮ প্রাণ

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৩ ১০:০৮

মেক্সিকোতে একট যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পশ্চিম মেক্সিকোর একটি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসটিতে ভারত ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র ও আফ্রিকাশ দেশগুলোর নাগরিকসহ অন্তত ৪২ জন যাত্রী ছিল। দেশটির প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসটি উত্তর সীমান্ত শহর টিজুয়ানা যাওয়ার পথে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে ১৮ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় বাসচালককে আটক করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বাসটিতে বেশিরভাগ বিদেশি যাত্রী ছিলেন। তাদের কেউ কেউ মার্কিন সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।

গত মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওক্সাকাতে বাস দুর্ঘটনায় ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে অভিবাসীদের বহনকারী একটি বাস মধ্য মেক্সিকোতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ১৭ জন নিহত হয়।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চীনের হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংই। ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেষ্টার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের ‘কখনোই সমাধান হবে না’। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এমন শাসনে ফিরে যেতে পারে না।’

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, ‘রঙিন বিপ্লব বা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি সেখানকার জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনও হওয়া উচিত ছিল না এবং এই যুদ্ধ কারও কোনো উপকার করছে না। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে।’

ওয়াং আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই এই অঞ্চলের বিষয়গুলো স্থানীয় দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া উচিত, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।

কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে ওয়াং ই বলেন, সব পক্ষের দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত, সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করা এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি যোগ করেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। এর আগে গত বুধবার ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যস্থতার জন্য একজন বিশেষ দূত পাঠাবে চীন।


ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা, অনড় অবস্থানে তেহরান

* হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা * কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা * ইসরায়েল ও জর্ডানে হামলার দাবি ইরানের
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের চারটি তেলের ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পরিবহন কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। শনিবার (৭ মার্চ) রাতের এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোর গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের জাতীয় তেল উত্তোলন ও বিতরণ কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী কেরামাত বিয়েসকারামি দেশটির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তেহরান এবং আলবোর্জ প্রদেশে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বোমা হামলায় চারটি তেলের ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পরিবহন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন তেলের ট্যাংকার ট্রাকের চালক ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পৃথক এক বিবৃতিতে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, হামলার পর তেলের ডিপোগুলোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। এই হামলার ফলে ইরানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী একটি টাগবোট ডুবে গেছে। এ ঘটনায় তিনজন ইন্দোনেশীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুসাফাহ-২ নামের টাগবোটটি শুক্রবার (৬ মার্চ) ডুবে যায়। এতে মোট সাতজন নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও ফিলিপাইনের নাগরিকরা ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সাতজনের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনজন ইন্দোনেশীয় নাবিক এখনো নিখোঁজ।

ডুবে যাওয়ার আগে জাহাজটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরে এতে আগুন ধরে যায় বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ সাফিন প্রেসটিজকে সহায়তা করতে যাওয়ার সময় টাগবোটটি দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই কনটেইনার জাহাজটিও বুধবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল বলে সংস্থাটি জানায়।

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা

কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে রোববার (৮ মার্চ) সকালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ। এদিন সকালে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মিনিট পর আগুন নিয়ন্ত্রণের খবর এলো। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলো ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর এক্স পোস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলো ড্রোনের হামলার মুখে পড়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা। মুখপাত্র বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা ‘শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের ঢেউ’ মোকাবিলা করছে।

ইসরায়েল ও জর্ডানে হামলার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েলের তেল আবিব ও বিয়ারশেবা শহরের ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, জর্ডানের আজরাক শহরে অবস্থিত ‘আমেরিকান আগ্রাসী যুদ্ধবিমানগুলোর সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় আক্রমণাত্মক ঘাঁটি’ মুওয়াফফাক আল-সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে।

কঠোর হামলার হুমকিতেও অনড় তেহরান

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির ওপর আরও কঠোর ও বিস্তৃত পরিসরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের আরও নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা ও দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না বলে আবারও জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকালও ইসরায়েলে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ থেকে ইরান আক্রান্ত না হলে পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান।

যুদ্ধের অষ্টম দিনে ইরানে হামলা আরও তীব্র করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে দিনের শুরুতেই ব্যাপক হামলা চালানোর কথা জানায় ইসরায়েলি বাহিনী।

মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলায় হাইপারসনিক (শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা বিমানঘাঁটি ও কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে দুবাই বিমানবন্দরে।

ইরানের হামলায় মানামায় একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মাল্টা ও মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী দুটি তেলের জাহাজে আঘাত হানার দাবি করেছে আইআরজিসি।

চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ছাড়া এসব দেশে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রোববার (৮ মার্চ) সংযুক্ত আমিরাতের দুবাইয়ে আল–বারশা এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন গাড়িচালক নিহত হন। ইরানে নিহতের সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য রোববার (৮ মার্চ) জানানো হয়নি। শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন।

কঠোর আঘাত হানার হুমকি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বিবৃতিতে ইরানকে ‘খুবই কঠোরভাবে আঘাত’ হানার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতিবাচক আচরণের কারণে কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নেতৃস্থানীয়ও আরও কিছু ব্যক্তিকে হত্যা করা হতে পারে। এসব স্থাপনা ও ব্যক্তিকে আগে নিশানা করার সিদ্ধান্ত ছিল না। এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ও ‘নতি স্বীকার’ করেছে। পাশাপাশি দেশটি তাদের ওপর আর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৮৩ শিশুসহ নিহত ৪০০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণহত্যাকারী ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে প্রতিবেশী লেবাননের গ্রামের পর গ্রাম। ইতোমধ্যে রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক শহরের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসামরিক নাগরিক এবং স্থাপনা। এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৮৩ শিশুসহ প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রোববার (৮ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ৮৩টি শিশু আছে। প্রাণ হারানোর ব্যক্তিদের মধ্যে ৪২ নারীও আছেন। অন্তত ১ হাজার ১৩০ জন আহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯৪ জন; মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ১০০ জন বেড়েছে।

এদিকে গণহত্যাকারী ইসরায়েল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। এ যুদ্ধ চলমান থাকাবস্থায়ই লেবাননে হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর থেকে লেবাননের শিয়া সমর্থিত ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লা ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।


ইরানে বিদেশি স্থলবাহিনী ঢুকলে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি স্থলবাহিনী প্রবেশ করলে তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো শত্রুর মোকাবিলায় ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমাদের অত্যন্ত সাহসী সেনারা শত্রুর অপেক্ষায় আছে। যারা ইরানের মাটিতে পা রাখবে, তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে।”

হাজার বছরের পুরোনো পারস্য সভ্যতার ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস জুড়ে ইরান নিজ ভূখণ্ড রক্ষা করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলাকে আত্মরক্ষার বৈধ পদক্ষেপ হিসেবেও তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সংঘাত শুরু করেছে তার প্রতিক্রিয়াতেই তেহরান পাল্টা আঘাত হানছে।

আরাগচি বলেন, ‘এটি আমাদের পছন্দের যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধ আমাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চাপিয়ে দিয়েছে।’

তিনি চলমান সংঘাতকে ‘উসকানিবিহীন, অযৌক্তিক ও অবৈধ’ বলেও আখ্যা দেন।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। এসব ঘাঁটি প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও সেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্র: আল-জাজিরা।


ভারত বড় কোনো শক্তি নয়, কিছুই বানাতে পারে না: রাহুল গান্ধী

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ফাইল ফটো।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দৌড়ে ভারত বড় কোনো শক্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। এমনকি ভারত কিছুই বানাতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, গত বৃহস্পতিবার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার মারিয়ান কলেজ কুট্টিক্কানাম (অটোনোমাস)-এ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আলোচনায় রাহুল গান্ধী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা আদর্শিক আক্রমণের মুখে পড়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্যদের দিকে তাকালে দেখা যাবে, তাদের অনেককেই উপাচার্য করা হয়েছে কারণ তারা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। অবশ্যই এটি বন্ধ করতে হবে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা বিশেষ করে আরএসএসের বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।’

লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির উত্থানের সময় ভারত সফল হতে পারেনি। এতে তিনি পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে মন্তব্য করেন, কারণ মোদি ভবিষ্যতে এই খাতে ভারতকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এআইয়ের খেলায় মূলত দুটি বড় শক্তি রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোবোটিক্স, এআই বা আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত বড় কোনো খেলোয়াড়ই নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের সঙ্গে তুলনা করলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এআই সামিটেই আমরা দেখেছি, একটি চীনা রোবটকে ভারতীয় রোবট হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদি এআইয়ে শক্তিশালী হতে চান, তাহলে নিজের ডেটার নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।’ তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করা সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পুরো ডেটা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যাচ্ছে।

রাহুল বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমরা এআইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। আমাদের দেশের প্রধান ভরসা ছিল সেবা ও সফটওয়্যার খাতের চাকরি; কিন্তু এআইয়ের কারণে সেগুলোও হারিয়ে যেতে পারে।’

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ডেটা, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন ঘটছে; কিন্তু ভারত শুধু তা দেখেই যাচ্ছে।’

এদিকে বিশ্বজুড়ে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। রাহুল গান্ধী সাম্প্রতিক ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও মোদি সরকারের সমালোচনা করেন। বিরোধীদের দাবি, এই চুক্তি কৃষকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, ‘কোনো দেশকে এআইয়ের ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে হলে তার নিজের ডেটার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।’


লেবাননের কয়েকটি এলাকা থেকে বাংলাদেশিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধাবস্থার জন্য লেবাননের কয়েকটি এলাকা থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। রোববার দূতাবাসের এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সতর্ক বার্তায় বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলা হয়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল (দাহিয়ে) বুরুজ আল বারাজনে এবং হাদাছ এলাকা ত্যাগ করুন এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করুন।

উল্লেখ্য, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ শুরু করেছে। সে কারণে এই অঞ্চল থেকে সব নাগরিকরা নিরাপদে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৮৩ শিশুসহ অন্তত ৩৯৪ জন নিহত

ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৯৪ জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে ৮৩ জন শিশু রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় অন্তত ১,১৩০ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর এক হামলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে আইডিএফের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত দুই সেনার মধ্যে একজনের নাম প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তিনি হলেন ৩৮ বছর বয়সি সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস মাহের খাতার। তিনি ৯১তম গ্যালিলি রিজিওনাল ডিভিশনের কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের হেভি মেশিনারি অপারেটর ছিলেন। খাতার মাজদাল শামস এলাকার বাসিন্দা। নিহত দ্বিতীয় সেনার নাম পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলি সীমান্তের মানারা সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের একটি সেনা পোস্টের কাছে এই ঘটনা ঘটে। আইডিএফের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই এলাকায় অভিযান চলাকালীন একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) আটকা পড়ে। সেটি উদ্ধারের জন্য আইডিএফ আরেকটি সাঁজোয়া যান এবং দুটি ডি-৯ সাঁজোয়া বুলডোজার পাঠায়। উদ্ধারকাজ চলাকালে একটি ডি-৯ বুলডোজার লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ হামলা করে।

আইডিএফ আরও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বুলডোজারটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে থাকা দুই সেনা সদস্য নিহত হন। এই ঘটনায় আরও একজন কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ।


নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ?

বালেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালের নির্বাচনের পর ভোট গণনা এখনো চলছে, তবে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ নেপালের সাধারণ নির্বাচনে শুরুতেই বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, যা তাকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। খবর বিবিসির।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ জানুয়ারি পর্যন্ত নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র ছিলেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে, যাদের মধ্যে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং নেপালি কংগ্রেসের গগন থাপা।

শনিবার সকাল পর্যন্ত যত ভোট গণনা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে বালেন্দ্র শাহের মধ্যপন্থি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় এগিয়ে আছে।

নেপালি কংগ্রেস দ্বিতীয় অবস্থানে অনেক পিছিয়ে এবং ইউএমএল তৃতীয় স্থানে। চূড়ান্ত ফলাফল আগামী সপ্তাহের আগে নাও আসতে পারে। পাহাড়ি দেশ নেপালে ভোট গণনা ঐতিহ্যগতভাবে ধীরগতির এবং দূরবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে ব্যালট আনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়। ফলে চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগেছিল।

বালেন্দ্র শাহ কে?

বালেন্দ্রা শাহ নাম হলেও স্থানীয়ভাবে বালেন নামে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সি এই নেতা অবকাঠামো প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং কয়েক বছর ধরে নেপালের হিপ হপ অঙ্গন ‘নেফপ’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

তিনি বহু গান প্রকাশ করেছেন, যেগুলোর বেশিরভাগই সামাজিক বার্তাধর্মী। এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত গান ‘বালিদান’ যা ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, পরে যা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার ক্ষোভে পরিণত হয়, সে সময় দেশের তরুণদের মধ্যে শাহের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

ওই সময় ৭৭ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর নেপালের তৎকালীন নেতা কেপি ওলিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তবে ৭৪ বছর বয়সি ওলি এবারও নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বালেন্দ্র শাহ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছিলেন এবং একপর্যায়ে কেপি ওলিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।

এসব বক্তব্যের কারণে সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, দেশ পরিচালনার জন্য তিনি কতটা উপযুক্ত। মেয়র হিসেবে রাজধানীর সড়কগুলো পরিষ্কার রাখতে এবং অবৈধ ব্যবসা দমনে তিনি রাস্তার হকার ও ভূমিহীন মানুষের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পুলিশ ব্যবহার করেছেন, যার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

এসব বিষয়ে বালেন্দ্র শাহের প্রচারণা টিমের সদস্যরা বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। বালেন্দ্র শাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেপি ওলির একই আসন ঝাপা ৫-যা ঐতিহ্যগতভাবে ওলির শক্ত ঘাঁটি। এ পর্যন্ত ভোট গণনায় দেখাচ্ছে বালেন্দ্র শাহ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

তবে প্রচারণার সময় তিনি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এড়িয়ে গেছেন এবং নির্বাচনের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সেদিন তিনি তার স্বভাবসুলভ কালো সানগ্লাস পরে সাংবাদিকদের ভিড় পেরিয়ে দ্রুত চলে যান।

নেপালের গণমাধ্যম আশঙ্কা করছে, তিনি ক্ষমতায় গেলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবু বিবিসির সঙ্গে কথা বলা বহু তরুণ ভোটার বলছেন, তারুণ্য ও উদ্যমই এখন দেশের প্রয়োজন এবং শাহ নেপালের ভবিষ্যতের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক।

নেপালিরা ঠিক কীসের জন্য ভোট দিয়েছেন?

বৃহস্পতিবার দেশের পরবর্তী নেতাকে নির্বাচিত করার পাশাপাশি নেপালিরা পার্লামেন্টের ২৭৫ সদস্য নির্ধারণের জন্যও ভোট দিয়েছেন। এটি সম্পন্ন হয়েছে সরাসরি ভোট (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট) এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার সমন্বয়ে। প্রতিটি ভোটার দিয়েছেন দুটি করে ভোট।

মোট ১৬৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে, যেখানে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী আসনটি জিতে নেন। বাকি ১১০ জন সাংসদ নির্বাচিত হন জাতীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার ভিত্তিতে।

মোট প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে কর্মকর্তারা জানান, ভোটের হার প্রায় ৬০ শতাংশ হতে পারে।

এই নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গত বছরের বিক্ষোভের পর এই নির্বাচনকে পুরোনো এবং নতুনের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এগিয়ে থাকা আরএসপি ২০২২ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে ছিল।

দেশের তরুণ ভোটারদের মধ্যে ৮ লাখ প্রথমবারের ভোটার ছিলেন যাদের আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক দলগুলো চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, দুর্নীতি মোকাবিলা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নেপাল বারবার জোট সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, যার নেতৃত্বে ছিল প্রধানত তিনটি দল, যার দুটি ছিল কমিউনিস্ট দল।

কিন্তু এবার কোনো দলই বড় ধরনের জাতীয় জোট করেনি, ফলে ভোটারদের কাছে দল ও প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।

এছাড়া এই নির্বাচনে নতুন অনেক দল ও নতুন মুখ দেখা গেছে এবং এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীই স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়েছেন। এসবই ইঙ্গিত করে যে বহু নেপালি নতুন ধারণা ও নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করছেন, যা তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যদি বালেন্দ্র শাহ নির্বাচিত হন, তবে তা নেপালের রাজনীতিতে এক ভূমিকম্পসদৃশ পরিবর্তন হবে, কারণ দশকের পর দশক ধরে একই পুরোনো নেতৃত্বের অধীনে অস্থিতিশীল জোট সরকারের পর এটি হবে এক ভিন্নধর্মী মুহূর্ত।


ইরানে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে কুর্দিরা

ক্যাপশন: সশস্ত্র কুর্দিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকভিত্তিক ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘খাবাত অর্গানাইজেশন’-এর সেক্রেটারি জেনারেল বাবাশেখ হোসেইনি জানিয়েছেন, ইরানে একটি স্থল অভিযান পরিচালনার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমানে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান না চললেও দীর্ঘ সময় ধরে এর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হোসেইনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অভিযানের জন্য অত্যন্ত অনুকূল এবং শীঘ্রই তারা এই পথে হাঁটতে পারেন।

হোসেইনি আরও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী এবং কুর্দি চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি, তবে ওয়াশিংটন বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থা মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই যোগাযোগগুলো মূলত কুর্দি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উন্নত সমরাস্ত্রের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন এই কুর্দি নেতা। তিনি জানান যে তাদের কাছে বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ এবং পুরনো আমলের অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ড্রোন বা উন্নত বিস্ফোরকের মতো আধুনিক সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি কোনো সহযোগিতা গড়ে ওঠে, তবে তাদের প্রধান দাবি হবে উন্নত অস্ত্র সহায়তা। মাঠপর্যায়ে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে এ ধরনের আধুনিক সরঞ্জামের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মনে করেন।

কুর্দিরা ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে গুঁড়িয়ে দিব

কুর্দিরা ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)।

শনিবার তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা আজ শনিবার সকালে ইরাকের কুর্দি–অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দিদের তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে ইরাকভিত্তিক ইরানি কুর্দি বাহিনী জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র ইউনিট প্রস্তুত করছে। এই ইউনিট প্রয়োজনে ইরানে পাঠানো হবে। এর আগে খবর বেরিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, কুর্দিদের দিয়ে ইরানে বিদ্রোহ শুরুর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কিন্তু অতীতের ঘটনাগুলো বলছে, সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এমনকি কাজ শেষে পরিত্যাগ করার অভিযোগও আছে।

কুর্দি কারা?

কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় জাতিগোষ্ঠী। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি বলে ধারণা করা হয়। ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বাধীন রাষ্ট্র কিংবা স্বায়ত্তশাসনের দাবি করে আসছে।

কুর্দিরা কি পারবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে

ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দেশটির কুর্দি জনগোষ্ঠীকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী কুর্দিরা হয়তো শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সম্ভাব্য শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, এই গোষ্ঠীর পক্ষে দ্রুত ও সফল সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলা এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।

খবরে বলা হচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এমনকি গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে বিদ্রোহে উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে—যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরানের কুর্দিদের অবস্থান

ইরানে কুর্দিদের সংখ্যা আনুমানিক এক থেকে দেড় কোটি। তারা মূলত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে বসবাস করে, যা ইরাক ও তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের সন্নিকটে। তবে ইরাক বা সিরিয়ার কুর্দিদের তুলনায় ইরানের কুর্দিরা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সামরিক অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য তাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। ২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগানে সেই আন্দোলন দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং কুর্দি অঞ্চলগুলোতে এর তীব্র প্রভাব ছিল।

ইরানের কর্তৃপক্ষ ঐতিহাসিকভাবেই কুর্দি আন্দোলন নিয়ে সতর্ক। তাই কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সব সময়ই বেশি। ২০২৫ সালের শেষদিকে এবং চলতি বছরের শুরুতে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তাতেও কুর্দি অঞ্চলগুলোতে কঠোর দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠে।

ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা

সম্প্রতি উত্তর ইরাকে রাজনৈতিক সদর দপ্তর থাকা পাঁচটি কুর্দি সংগঠন একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার অবসান এবং কুর্দিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

এই জোটে দুটি সংগঠন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর একটি হলো—কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, অন্যটি ফ্রি লাইফ পার্টি অব কুর্দিস্তান। এই দুটি সংগঠনের নিজস্ব সশস্ত্র শাখাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ অনেকটা ১৯৯০-এর দশকে সাদ্দাম হুসেইন সরকারের বিরুদ্ধে ইরাকি কুর্দিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মতো।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধাও সামনে এসেছে। উত্তর ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ‘কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার’ (কেআরজি) ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান চালানো যাবে না। কারণ অতীতে ইরান এই অঞ্চলে কুর্দি বিদ্রোহীদের উপস্থিতির অভিযোগে গোলাবর্ষণ করেছে।

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের দুই প্রধান কুর্দি নেতা—মাসউদ বারজানি এবং বাফেল তালাবানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই নেতাদের আঞ্চলিক কুর্দি রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে ইরানি কুর্দিদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছেন এবং অস্ত্র সরবরাহের কথাও ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের নিরাপত্তা অবকাঠামো—পুলিশ স্টেশন, বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটি এবং স্থানীয় মিলিশিয়া কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে একটি কার্যকর বিদ্রোহ গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় লাগে। নতুন যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, সংগঠন গঠন এবং সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে মাস নয়, বরং বছরও লাগতে পারে।


ইরান ইস্যুতে স্টারমারের সঙ্গে এরদোগানের ফোনালাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর হামলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

শনিবার (৭ মার্চ) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতি তুরস্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আলাপচারিতায় এরদোগান বলেন, যদি এই সামরিক পদক্ষেপ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুতর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, চলমান সংকট মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপই হতে পারে কার্যকর পথ। এরদোয়ানের মতে, এখনও একটি সংলাপের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ রয়েছে। তুরস্ক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফোনালাপে দুই নেতা তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথের কেন্দ্রবিন্দু ‘দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ তাদের সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক জরুরি নির্দেশনায় জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ক্রুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুবাই থেকে সকল ধরণের বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরণের বিমান হামলা শুরু করে। এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও দমে না থেকে ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ চালায়। তেহরানের পক্ষ থেকে কেবল ইসরায়েলকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই সব দেশেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো এখন এই সংঘাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কবলে পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এখন ওই অঞ্চলের অন্তত ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এক নজিরবিহীন আঞ্চলিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

দুবাই বিমানবন্দরের এই আকস্মিক বন্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে এসেছে। এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার যাতায়াতে দুবাই একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে আটকা পড়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পরবর্তী আপডেট না পাওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় এই অঞ্চলের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের অপ্রতিহত আক্রমণের ফলে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই সংঘাতের দ্রুত অবসানের দাবি জানালেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে অন্য কথা। আকাশপথের এই স্থবিরতা কেবল পর্যটন নয়, বরং বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এখন সবার নজর মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।


দুবাই থেকে এমিরেটসের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং দুবাই বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনার প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এমিরেটস। শনিবার (৭ মার্চ) এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের সমস্ত ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে কোনো ফ্লাইট যেমন উড্ডয়ন করবে না, তেমনি কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেখানে অবতরণও করবে না। মূলত যাত্রী এবং ক্রুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এমিরেটস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তাঁরা বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা না হন। কারণ বিমানবন্দরের নিয়মিত সকল কার্যক্রম আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা চেক-ইন সুবিধাগুলোও স্থগিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাঁদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার এবং এই বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আপডেট যথাসময়ে জানানো হবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিশেষ রি-বুকিং এবং রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের সুবিধা ঘোষণা করেছে এমিরেটস। যেসব যাত্রীর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ভ্রমণের টিকিট বুক করা ছিল, তাঁরা চাইলে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তাঁদের ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আগামী ৩০ এপ্রিল বা তার আগের যেকোনো সময়ের জন্য বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরাসরি এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কেনা যাত্রীদের এমিরেটসের সাপোর্ট চ্যানেলে এবং যারা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেটেছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে বিস্ফোরণের খবরটি এই অঞ্চলের বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান এই আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুবাই বিমানবন্দর এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে এমিরেটস। আকাশপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে এখন এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।


‘খুব শিগগির’ কিউবার পতন ঘটবে: ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন যে, খুব শিগগিরই কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর উপস্থাপক ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরার একপর্যায়ে ট্রাম্প কিউবা প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, কিউবা বর্তমানে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিউবার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন। রুবিও নিজেও কিউবান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হওয়ায় এই ইস্যুটি তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, তাই আমি মার্কোকে সেখানকার দায়িত্ব দেব। তারপর দেখব শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’ তবে বর্তমানে তাঁর প্রশাসনের মূল মনোযোগ ও অগ্রাধিকারের জায়গা যে ইরান, সেটিও তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যেও ট্রাম্প কিউবা নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আভাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়াটা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রশংসা করে ট্রাম্প তখন জানান, রুবিও বর্তমানে ইরানের ইস্যুটি শেষ করার জন্য অপেক্ষা করছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটলেই ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ণশক্তি নিয়ে কিউবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ বা সংঘাতে না জড়ানোর কৌশলগত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চাইলে অনেক কিছু একসাথেই শুরু করা যেত, কিন্তু তাড়াহুড়ো করলে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ধাপে ধাপে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো কিউবার ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য এক বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মিটলেই লাতিন আমেরিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ওয়াশিংটনের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।


ইরানে ইতিহাসের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে আজ রাতে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির এক ভয়াবহ মোড় নিয়ে আজ রাতে ইরানের ওপর এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ এবং বিধ্বংসী বিমান হামলা বা বোমাবর্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সরাসরি এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্কট বেসেন্ট তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আজ রাতের এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে, যাতে তেহরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে অচল হয়ে পড়ে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ এনে বলেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ মূলত সেই হুমকি মোকাবিলা এবং ইরানকে চূড়ান্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি অংশ।

এদিকে, এই যুদ্ধের সমীকরণে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে খবর এসেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও রাডার সিস্টেমের অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে নিয়মিত গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে রাশিয়া। এই খবরের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র মাঠপর্যায়ের প্রতিটি গতিবিধি এবং কে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে তা নিবিড়ভাবে ট্র্যাক করছে।” তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, কমান্ডার-ইন-চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্দার আড়ালের প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছেন এবং সে অনুযায়ী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুদ্ধের ছক সাজানো হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এমন আগ্রাসী অবস্থান এবং ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’-এর ঘোষণা পুরো বিশ্বকে এক নজিরবিহীন আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের খবর এই যুদ্ধে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ রাতটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব শান্তির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম পদক্ষেপের জবাবে ইরান বা তার মিত্ররা কী ধরণের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


banner close