বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

ধ্বংসস্তূপে পরিণত লিবিয়ার শহরে মরদেহের উৎকট গন্ধ

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৮:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৮:১১

লিবিয়ার ডেরনা শহরে যেতে এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। বেনগাজি থেকে সড়ক ধরে যেতে যেতে দেখা যায় দুপাশের জমিগুলো মরিচা ধরা লালচে পানিতে তলিয়ে গেছে। কাছে গেলেই দেখা যায় যানবাহনের গতি ধীর। ভূমি থেকে উপড়ে গেছে তারবাহী বিদ্যুতের পিলারগুলো। সড়কের এখানে-সেখানে তৈরি হওয়া গর্তে পড়ে বেহাল দশা হয়ে পড়ছে যানবাহনের। ভূমধ্যসাগরঘেঁষা এ শহর যেন পরিণত হয়েছে সাক্ষাৎ মৃত্যুপুরীতে। ডেরনার কাছেই একটি সেতু বন্যার পানিতে পুরোপুরি ভেসে গেছে। সেখানে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকজন ছবি তুলছে।

কাছেই সেনাসদস্যদের দেখা গেল প্রতিটি গাড়ির চালক ও যাত্রীকে মাস্ক দিচ্ছেন। মাস্ক পরেই বিকল্প পথে যানবাহন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন চালকরা। কিছুদূর গেলেই বোঝা যায় এর কারণ কী। শহরের বিভিন্ন জায়গায় মরদেহের যে গন্ধ তার বর্ণনা দেয়া প্রায় অসম্ভব। নিশ্বাস নিলে কিছুটা স্যুয়ারেজের গন্ধ মনে হলেও বাকিটা কেমন তা বর্ণনা করা কষ্টসাধ্য।

ভাঙা কাঠের টুকরো, ভেসে যাওয়া ভাঙা গাড়ি, টায়ারসহ নানা কিছু। সব মিলেমিশে একাকার হয়ে ভেসে আছে পানিতে। ছবি ও ভিডিও দেখলে হতভম্ব হবেন যে কেউ। তবে সেগুলো দেখলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। পানির ধ্বংস করার ক্ষমতা ছিল অবিশ্বাস্য।

খেলনার মতো যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে গাড়ি। মসজিদের দেয়াল উড়ে গেছে। আবার কোথাওবা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মোটা কংক্রিটের দেয়ালের কোনো চিহ্ন নেই। শিকড় বেরিয়ে এসেছে গাছপালার।

এখানে শুধু কয়েক হাজার মানুষ পানিতে ভেসে যায়নি। ভেসে গেছে তাদের ঘরবাড়ি, তাদের জীবন। মানবতা যেন ধুয়ে-মুছে গেছে শহরের এ অংশ থেকে। যারা বেঁচে আছেন তাদের জীবন পাল্টে গেছে। এখন শুধু দুঃখ আর ক্ষোভ।

ফারিস গাসার তার পরিবারের পাঁচজনকে হারিয়েছেন। ‘আমাদেরকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছিল,’ বলেই কাঁদছিলেন তিনি। ‘তাদের বলা উচিত ছিল যে, ঝড় আসছে আর বাঁধটি নাজুক হয়ে পড়েছে। কয়েকশ বছরের পুরোনো ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা পুরোপুরি রাজনীতি। পশ্চিমে একটি সরকার, পূর্বে আরেকটি সরকার। এটাই আমাদের বড় সমস্যা।’

ফারিস গাসার নিহত স্বজনদের মধ্য একজন তার দশ মাস বয়সি কন্যা।

আমাকে ছবি দেখানোর জন্য তিনি মোবাইল ফোন আনলেন। প্রথমে জীবিত। এরপর মৃতদেহ। কম্বলে মোড়ানো ছিল। মুখমণ্ডল দেখেই পরিস্থিতি আঁচ করা যায়।

পূর্বাঞ্চলীয় প্রধানমন্ত্রী ওসামা হামাদকে বিবিসির প্রতিনিধি জিজ্ঞেস করেন, মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই তো বাঁধ করা হয়েছিল তারপরেও এমনটা কীভাবে ঘটল। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল খুবই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। বাঁধের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এটাই প্রকৃতি এবং এটাই আল্লাহ।’

লিবিয়ার ডেরনা শহরে বন্যায় এখনো পর্যন্ত পাঁচ হাজার তিনশর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের একজন মন্ত্রী হিশাম চোকিওয়াত বলছেন, ‘সাগরে ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে লাশের পর লাশ’। আবার বহু মানুষ লাশের ব্যাগ জড়িয়ে ত্রাণ সহায়তার জন্য আকুতি জানাচ্ছে। নিহতদের অনেককে গণকবরে দাফন করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল রোববার আঘাত হানলে শহরের একটি বাঁধ ফেটে যাওয়ার পর ডেরনা শহর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। চোকিওয়াত বলছেন, ডেরনা শহরের কিছু এলাকা একেবারেই হাওয়া হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন একটি আবাসিক এলাকা পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। আপনি এখন দেখতেই পারছেন না। এটা আর নেই।’

সেখানে সাগরে ভেসে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলোকে। ডেরনা শহরের দুটি বাঁধ ও চারটি সেতু ধসে গেছে।

রেডক্রিসেন্ট বলছে, হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ আছে এবং মৃতের সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকর্মীরা ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম বলেছে, শহরটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ত্রিশ হাজার মানুষ। হাসপাতাল আর মর্গগুলোতে পড়ে আছে বহু মানুষের মৃতদেহ। ডেরনার কাছে একটি হাসপাতালে কর্মরত লিবিয়ার চিকিৎসক নাজিম তারহনি বলছেন, আরও সহায়তা দরকার।

‘হাসপাতালে আমার অনেক বন্ধু আছে যারা তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে। তারা সবকিছু হারিয়েছে,’ তিনি বিবিসি রেডিও ফোরকে বলছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার এমন লোকজন দরকার, যারা পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। এমন কুকুর প্রয়োজন যারা ঘ্রাণ শুঁকে মানুষ বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আমাদের মানবিক সহায়তা দরকার। এমন মানুষ দরকার, যারা জানেন তারা কী করছেন।’ এ ছাড়া সেখানে বিশেষায়িত ফরেনসিক ও রেসকিউ টিম দরকার। আরেক দল দরকার, যারা মৃতদেহ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ বলে জানিয়েছেন লিবিয়ান ডক্টরস ইউনিয়নের প্রধান মোহাম্মেদ আল ঘৌস।

মেডসো স্যাঁ ফ্রঁতিয়ে বা এমএসএফ বলেছে, ইতোমধ্যেই জরুরি মেডিকেল উপকরণ ও বডি ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে লিবিয়ার রেডক্রিসেন্টকে। ওদিকে শহরের রাস্তাঘাট এখনো কাদা আর ধ্বংসস্তূপে ঢেকে আছে।

ডেরনার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক তাহা মুফতাহ। তিনি বলছেন, ২০১১ সাল থেকে বিশেষজ্ঞরা ডেরনার বাঁধ নিয়ে সতর্ক করে আসছিলেন। তবে কেউ এজন্য কিছু করেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, বাঁধটা বিমান হামলার মতো করে ধ্বংস হয়ে গেছে।

গত সপ্তাহের রোববারের ঝড়ে সৌশা, আল মারজ ও মিসরাতা শহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


ভূমধ্যসাগরে দুটি নৌকাডুবিতে ১১ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৬৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

ইতালির দক্ষিণ উপকূলে ভূমধ্যসাগরে দুটি নৌকাডুবিতে ৬৪ জন নিখোঁজ এবং বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। এসময় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গতকাল সোমবার দুটি পৃথক নৌকাডুবিতে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জার্মান ত্রাণ সংস্থা রেসকিউশিপ সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছে, পৃথক একটি নৌকার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ডজন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে এবং ইতালির ছোট্ট ল্যাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে একটি কাঠের নৌকার ডেকের নিচে আটকেপড়া ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ক্যালাব্রিয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ডুবে যাওয়া নৌকাটি আট দিন আগে তুরস্ক থেকে যাত্রা করেছিল। কিন্তু নৌকাটিতে আগুন ধরে সেটি উল্টে গিয়েছিল।

ইতালির কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্রান্সের একটি নৌকার সহায়তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। নৌকাটি এমন একটি সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছিল, যেখানে গ্রিস ও ইতালি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল। জীবিতরা এবং সাগরে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিরা ইরান, সিরিয়া ও ইরাকের নাগরিক বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।

ইতালিয়ান মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারস্থলের কাছাকাছি থাকা দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে সরিয়ে নেয়। ইউরোপীয় সীমান্ত এবং কোস্টগার্ড এজেন্সি ফ্রন্টেক্সের সম্পদও সহায়তা করেছে।

বেঁচে যাওয়াদের রোকেলা জোনিকার ক্যালাব্রিয়ান বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। যেখানে তাদের নামিয়ে দিয়ে চিকিৎসা কর্মীদের সেবার জন্য হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ১১ অভিবাসীর মধ্যে একজন অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

দ্বিতীয় নৌকাডুবিতে, রেস্কশিপের নৌকা নাদিরে থাকা ক্রুরা কাঠের নৌকায় ৬১ জনকে দেখতে পান। যারা পানিতে ডুবছিল।

তারা বলেছে,‘আমাদের ক্রুরা ৫১ জনকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন অচেতন ছিলেন।’ ‘নিহত ১০ জন নৌকার নিচের ডেকে আটকে পড়েছিলেন।’


ইরানে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন রোগীর প্রাণহানি ঘটেছে।আজ মঙ্গলবার হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত দেড়টার দিকে রাশত শহরের ঘায়েম হাসপাতালে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ শনাক্ত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আইআরআইবি।

রাশতের গিলান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাগি আশোবি বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই অগ্নি দুর্ঘটনায় ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।’

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া রোগীদের বেশিরভাগই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন।

দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশতের ওই হাসপাতালে রোগীদের জন্য ২৫০ শয্যা রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ১৪২ জন রোগী ছিলেন।


যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবশেষে ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন। গতকাল রোববার মন্ত্রিসভার সঙ্গে এক বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে আজ সোমবার এ ঘোষণা দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর অতি ডানপন্থি জোটের অংশীদাররা নতুন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের চাপ দিচ্ছেন। বেনি গ্যান্টজ যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাদের পর এ আবেদন আরও জোড়ালো হচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশের চাপ সত্ত্বেও গাজায় আরও অধিকা হামলা চালানোর দাবি জানিয়ে আসছে। এ ছাড়া তারা যুদ্ধকালীন নতুন মন্ত্রিসভা গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার প্রয়োজন নেই। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।

নেতানিয়াহু এখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্ত্রিদের একটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। যাদের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং কৌশলগত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রন দারমার।

বিষয়:

পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে দাঁড়ালো ১৫ জনে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ জুন, ২০২৪ ১৬:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফাঁসিদেওয়া রাঙ্গাপানি স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটিতে ধাক্কা দেওয়া মালগাড়ি চালক ও কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ডসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। আহতদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। এই বৃষ্টির মধ্যেই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে রওয়ানা দিয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। নীচবাড়ি ও রাঙামাটি স্টেশনের মাঝে ঢুকতেই একটি মালগাড়ি পিছন দিক থেকে ট্রেনটিকে ধাক্কা মারে। আর তাতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিক থেকে পরপর দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে উলটে যায়। দুমড়েমুচড়ে গেছে অসংরক্ষিত কামরা। সেখানে আটকে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী।

এখনো কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ট্রেনটির একটি কামরা মাল গাড়ির ইঞ্জিনের উপর বিপদজনকভাবে ঝুলে আছে। সেটি দ্রুততার সঙ্গে সরানোর কাজ চলছে। তাই বিপদ এড়াতে ওই এলাকা থেকে যাত্রী ও স্থানীয়দের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিয়ালদহ স্টেশনে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে। নিহত সবার পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ও আহতদের আড়াই লাখ রুপি ও স্বল্প আহতদের ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ফান্ড থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি ও আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বজনহারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘রেল দুর্ঘটনায় যারা নিজেদের ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছেন, সেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইলো। আমি প্রার্থনা করছি, আহতদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হোক। উদ্ধার কার্য চলছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘটনা স্থলে যাচ্ছেন।’


ভারতের দার্জিলিংয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালগাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। নিহত আটজনের মধ্যে মধ্যে পাঁচ জন যাত্রী ও ৩ জন রেল কর্মচারী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন।

আজ সোমবার (১৭ জুন) দার্জিলিং থেকে শিয়ালদহের দিকে যাওয়ার পথে ফাঁসি দেওয়া রাঙাপানি স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি। একটি মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিকের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

দার্জিলিং পুলিশের অ্যাডিশনার এসপি অভিষেক রায়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, এই মাত্র দার্জিলিংয়ের ফাঁসি দেওয়া এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেলাম। বিস্তারিত এখনও জানতে পারিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে মালগাড়ি ধাক্কা দিয়েছে শুনেছি। জেলা প্রশাসক, এসপি, চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তৎপরতায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে রেলওয়ে ও এনডিআরএফ (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স) উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


গাজায় পশু কোরবানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজার সব কয়টি সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়ে কোরবানির পশু প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

গতকাল শনিবার গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, কোরবানির পশু প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঈদুল আজহা উদযাপন এবং ইসলামী ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবে কোরবানি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাজার কয়েক হাজার পরিবার।

এক বিবৃতিতে গাজা কর্তৃপক্ষ বলেছে, দখলদার বাহিনী একটি নতুন অপরাধ করেছে। রাফা সীমান্ত ক্রসিং দখল এবং বন্ধ করাসহ গাজা উপত্যকার সবগুলো ক্রসিং বন্ধ করে কোরবানির পশু প্রবেশে বাধা দিয়েছে তারা। এটিকে ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবিক ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি পুরোপুরি অবজ্ঞা’ বলে উল্লেখ করেছে গাজার মিডিয়া অফিস।

গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ।

টানা আট মাস ধরে চলা ইসরায়েলি আক্রমণে গাজার লাখ লাখ মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতিতে ভুগছে।ইসরায়েলের হামলায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছে বহু গবাদি পশু। অনাহারেও মারা গেছে অনেক। এর ফলে এ বছর সেখানে কোরবানির পশুর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। এ অবস্থায় বাইরে থেকে পশু প্রবেশে বাধা দেওয়া গাজাবাসীর জন্য নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয়:

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই শেষ হজের আনুষ্ঠানিকতা, আজ সৌদি আরবে ঈদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ জুন, ২০২৪ ০৪:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই শেষ হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের হজে আরাফাত ময়দানে ১৫ লাখেরও বেশি মুসলমান জড়ো হন। গতকাল শনিবার সৌদির তাপমাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তীব্র গরমের মধ্যেই মহান আল্লাহতায়ালার কাছে চোখের জল ফেলে নিজ নিজ জীবনের সব পাপ মুছে ফেলার আকুতি নিয়ে হাজিরা প্রার্থনায় ছিলেন মশগুল।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে অবস্থিত পাথুরে আরাফাত পর্বত। ৭০ মিটার (২৩০ ফুট) উচু এই পাহাড়টিতে আরোহণ করে প্রার্থনা করেন হাজিরা। সেখানে নবী মোহাম্মদ (সা:) তাঁর শেষ ভাষণ দিয়েছিলেন।

এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। নিজের পাপের বোঝার কথা স্মরণ করে লাখ লাখ মুসল্লির অবিরল অশ্রুধারায় ভিজেছে ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দান। তাঁদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আরাফাত ময়দান প্রকম্পিত হয়েছে।

এসময় হাজিদের কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তাঁরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মহান আল্লাহর কাছে অঝোরে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। নামাজ আদায় করার পাশাপাশি অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থেকেছেন।

মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় সার্বক্ষণিক জিকির করেছেন। প্রায় সারাক্ষণ তালবিয়া পড়েছেন। আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য প্রকাশ করছেন।

এর আগে, পবিত্র হজ পালনের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে সৌদি আরবে আসা বিশ্বের ২৫ লাখ মুসল্লি হজের দ্বিতীয় রুকন আদায়ের জন্য শনিবার সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানেই অবস্থান করেন তাঁরা। আরাফাতের দিনকে মনে করা হয় বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। এদিন মহান আল্লাহ বান্দাদের পাপ মাফ করে দেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় মূলত পরদিন ঈদুল আজহায় কোরবানির মধ্য দিয়ে। আজ রোববার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। খুব সকালে ঈদের জামাত আদায়ের পর কোরবানি দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা ঈদের আনন্দে মেতে উঠবেন। দিনটি বরকতময়। এদিন হাজিরা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে কাটাবেন।


‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখোরিত আরাফাতের ময়দান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছেন মক্কায়। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান।

আজ শনিবার (১৫জুন) মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ৯ই জিলহজ ইয়াওমুল আরাফা বা হাজিদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন। এটিই হজের অন্যতম প্রধান রোকন বা ফরজ। এই দিনকেই হজের দিন বলা হয়।

আরাফাত দিবসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ নামিরা থেকে হজের খুতবা ও নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে পালিত হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাতে এ দিনের আনুষ্ঠানিকতাকে মূল হজ বলা হয়।

এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। এদিন রাতে পবিত্র মিনায় অতিবাহিত করেছেন হজযাত্রীরা। সেখান থেকে আজ দলে দলে আরাফাতের ময়দানে যাচ্ছেন হজযাত্রীরা।

হজের নিয়ম অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন হজযাত্রীরা। এরপর সেখানে অবস্থান করেন তারা।

এবার হজের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়েখ মাহের আল মুয়াইকিল। তিনি আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে হাজিদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেবেন। এ ছাড়া এই মসজিদে জোহর এবং আসরের নামাজের ইমামতিও করবেন তিনি।

এরপর সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন। ওই সময় প্রতীকি শয়তানকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করার জন্য তারা নুড়ি পাথরও সংগ্রহ করবেন।

মুজদালিফায় হজযাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। এরপর ফজর নামাজ পড়ে তারা আবারও চলে যাবেন তাঁবুর শহর মিনায়।


কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ১৮:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুয়েতে দক্ষিণাঞ্চলে আহমাদি গভর্নরেটের মানগাফ এলাকায় বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওনমানোরামার তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ ভারতীয় নাগরিক আছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই কেরালার বাসিন্দা। ওই ভবনে ১৯৫ শ্রমিক ছিলেন; যাদের বেশিরভাগই কেরালা ও তামিলনাড়ুর বাসিন্দা।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার ভবনটি মালয়ালি ব্যবসায়ী কেজি আব্রাহামের মালিকানাধীন এনবিটিসি গ্রুপের বলে জানিয়েছে ওনমানোরামা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডের খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। সেখানে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধ-শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। আমাদের রাষ্ট্রদূত ক্যাম্পে গেছেন। আমরা বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।’

কুয়েতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘আজকের অগ্নিকাণ্ডে আহত ৩০ জনেরও বেশি ভারতীয় শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইদ আল ওয়াইহান প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ৩৫ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে আহতদের মধ্যে আরও ছয়জন একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির জেনারেল ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একটি সূত্র বলছে, ভবনটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে আগুন লাগার পর ধোঁয়া ওপরের দিকে উঠে যায়। যে কারণে সেখানে ঘুমিয়ে থাকা শ্রমিকরা দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘটনার পর মানগাফ ও তার আশপাশের এলাকার সব হাসপাতালে উচ্চ-সতর্কতা জারি করেছে।

অগ্নিকাণ্ডে আহত অন্তত ৪৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।


রকেট হামলা চালিয়ে কমান্ডার হত্যার জবাব দিল হিজবুল্লাহ

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলে শতাধিক রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তাদের সিনিয়র ফিল্ড কমান্ডার সামি আবদুল্লাহ নিহত হওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা যায়।

আজ বুধবার এই হামলার মধ্য দিয়ে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সংঘর্ষের উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সীমান্তে গুলি বিনিময় করছে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা শত্রুতা উভয়পক্ষ যে একটি বড় সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননের জুয়াইয়াতে হামলায় নিহত হন তালেব। বুধবার বিকালে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর সবচেয়ে সিনিয়র এই কমান্ডার দক্ষিণ সীমান্তের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হিজবুল্লাহর কমান্ডার ছিলেন। এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওই হামলার জবাবে ১০০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় রকেট হামলার ঘটনা এটি।

জুয়াইয়াতে ইসরায়েলের হামলাকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করে দেশটিতে অন্তত চারটি হামলার ঘোষণা দিয়েছিল হিজবুল্লাহ। এর মধ্যে একটি ইসরায়েলি সামরিক কারখানায় নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যোদ্ধারা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমিতে প্রায় ৫০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

অপর একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে, লেবানন থেকে আনুমানিক ৯০টি উড়ন্ত বস্তুকে ইসরায়েলের দিকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটিকে প্রতিহত করেছে ইসরায়েল। তবে অন্যগুলো উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে পড়েছিল। এতে বেশ কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগে। তবে উড়ন্ত বস্তুগুলো ডোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি।

বিষয়:

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত

নিহত হিজবুল্লাহ কমান্ডার সামি আবদুল্লাহ। ছবি: এক্স
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ১৭:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ‘সামি আবদুল্লাহ’ নিহত হয়েছেন।

লেবাননের একটি সামরিক সূত্র গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

সামরিক সূত্রটি বলছে, ‘ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর পর হিজবুল্লাহর যেসব সদস্য নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তি।’

গাজা যুদ্ধের জেরে লেবাননের সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। লেবাননের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

লেবাননের সামরিক সূত্রের তথ্যমতে, দেশটির জুয়াইয়া শহরে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহর বরাতে এএফপির খবরে বলা হয়, সংগঠনটির নিহত কমান্ডারের নাম সামি আবদুল্লাহ ওরফে আবু তালেব। তার জন্ম ১৯৬৯ সালে।

বিষয়:

কুয়েতে শ্রমিক ভবনে আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুয়েতের মাঙ্গাফ শহরে শ্রমিক ভবনে আগুন লেগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪১ জনে।

দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এ তথ্য দিয়েছেন। ওই ভবনটিতে প্রায় ১৬০ জন শ্রমিক বসবাস করত বলে জানা গেছে। তারা সবাই একই কম্পানির অধীনে কাজ করতেন।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহদ আল ইউসেফ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ ঘটনার জন্য আবাসনের মালিকদের দায়ি করে বলেছেন, তাদের লোভ ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভবনের মালিকদের লোভের কারণেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।’

আজ বুধবার ভোর ৬টায় কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার খবর পায় বলে জানিয়েছেন কুয়েত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইদ রাশিদ হামাদ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জেনারেল হামাদ বলেন, ‘যে ভবনে আগুন লেগেছে সেটিতে শ্রমিকরা থাকতো।’

সেখানে বহু শ্রমিক ছিল। এদের মধ্যে অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের অনেকের মৃত্যু হয়েছে।’ ভবনগুলোতে একসঙ্গে অনেক শ্রমিককে না রাখার জন্য তারা ‘সবসময় সতর্ক করে আসছেন’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশই ঘুমের মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে মাঙ্গাফ শহরের ছয়তলা ভবনের একটি রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহদ আল ইউসেফ এ ঘটনাকে একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেজর জেনারেল ইদ রশিদ জানান, অগ্নিনির্বাপক ও ফরেনসিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশী নাগরিকও রয়েছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে আহত প্রায় ৪৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং আগুন লাগার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।


কুয়েতে আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ৩৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুয়েতের দক্ষিণ আহমেদি গভর্নরেটের মানগাফ শহরে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। ভবনটি শ্রমিকদের আবাসিক ভবন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় আরব নিউজ।

কুয়েতের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মানগাফের একটি ভবনে আগুন লেগে অন্তত চারজন এবং পাশের আরেকটি ভবনের অন্তত ৩৫ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ, মোট ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তার।

তবে হতাহতের এই সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দমকলকর্মীরা এখনও আগুন নেভাতে কাজ করছেন। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনার তথ্য অনুসারে, অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪৩ জন আহত হয়েছেন।

চিকিৎসার জন্য তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।


banner close