সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত ‘জাপানে’ বৃদ্ধ এবং অতিবৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। সে তুলনায় জনসংখ্যা বাড়ছে না দেশটিতে।
জাপানের জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিবিসি জানায়, বর্তমানে জাপানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছরের ওপরে।
সরকারের দেয়া ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশটিতে প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের বয়স ৬৫ বছরের ওপরে, যা মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি এবং এটি ২০৪০ সালে ৩৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
জাতিসংঘ আরেক প্রতিবেদনে বলেছে, জাপান বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের দেশ। ইতালি ও ফিনল্যান্ড রয়েছে এ তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে।
জাপানে বৃদ্ধ মানুষের হার বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না জন্মহার।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, যথেষ্ট কর্মক্ষম জনসংখ্যা না থাকায় জাপানিজ সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এর ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার কমে যাচ্ছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য হুমকি মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে দেশটিতে তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু সেটি বাস্তবায়নে যে লোকবল প্রয়োজন, তা থাকবে কি না তাই দেখার বিষয়।
জাপানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় এ সমস্যা থাকলেও তা এতটা প্রকট না। মূলত দেশটির দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অন্যান্য অভ্যাস যৌন জীবনের প্রতি জাপানিদের আগ্রহী করতে পারছে না বলে মনে করেন নেটিজেনরা।
কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়াতে দেশটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে জনশক্তি আমদানি করা বা এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনাও দেখা যাচ্ছে না।
মস্তিষ্কের কোটি কোটি স্নায়ুকোষের ভিড়ে কোন নিউরন কীভাবে স্মৃতি তৈরি করছে, অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করছে কিংবা আচরণ বদলে দিচ্ছে—বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এটি ছিল বড় এক রহস্য। এবার সেই রহস্যের আরও গভীরে পৌঁছানোর পথ খুলে দেওয়া গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি অপটোজেনেটিক্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসারথ এবং জার্মানির পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি তাদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি তাদের পুরস্কার দিয়েছে ‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স-সংক্রান্ত আবিষ্কারের’ জন্য। তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের অর্থ পুরস্কার।
শুরুটা হয়েছিল শৈবাল নিয়ে: শুনতে অবাক লাগলেও মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের এই প্রযুক্তির শিকড় মানুষের মস্তিষ্কে নয়, এককোষী শৈবালে। বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান জানতে চেয়েছিলেন, কীভাবে এককোষী শৈবাল Chlamydomonas আলোর উৎসের দিকে সাঁতার কাটে। এই কৌতূহল থেকেই শুরু হয় এমন একটি গবেষণা, যা পরে স্নায়ুবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তন আনে।
হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল শৈবালের কোষে চ্যানেলরোডপসিন নামের একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন শনাক্ত করেন। আলো পড়লে এই প্রোটিনের মাধ্যমে কোষের ভেতরে বৈদ্যুতিক পরিবর্তন তৈরি হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রোটিন অন্য কোষে প্রবেশ করালেও সেই কোষ আলোতে সাড়া দিতে পারে। এই আবিষ্কার থেকেই বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করেন—যদি এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষে বসানো যায়, তাহলে কি আলো ব্যবহার করে নিউরনকে ইচ্ছামতো চালু বা বন্ধ করা সম্ভব?
আলোকে বানানো হলো ‘সুইচ’: এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এগিয়ে আসেন কার্ল ডাইসারথ। তিনি চ্যানেলরোডপসিনের জিন স্নায়ুকোষে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা চালান। ২০০৫ সালে তিনি দেখান, নীল আলো ব্যবহার করে এ ধরনের স্নায়ুকোষে বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করা সম্ভব। দুই বছর পর, জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। এভাবেই গড়ে ওঠে অপটোজেনেটিক্স—জেনেটিক পরিবর্তন এবং আলোর প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিউরনের কার্যক্রম অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সহজ ভাষায় বললে, বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট নিউরনকে এমনভাবে প্রস্তুত করেন, যাতে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এরপর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রয়োগ করে সেই নিউরনকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা যায়। ফলে পুরো মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট নিউরনের ভূমিকা আলাদা করে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
বদলে গেল মস্তিষ্ক গবেষণার পদ্ধতি: অপটোজেনেটিক্সের আগে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারলেও কোনো নির্দিষ্ট নিউরন একটি আচরণ বা অনুভূতির জন্য সরাসরি দায়ী কি না, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা কঠিন ছিল। নতুন এই প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করে।
গবেষকেরা এখন নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে পারেন, ওই নিউরন সক্রিয় হলে প্রাণীর আচরণ বা মস্তিষ্কের কোনো নির্দিষ্ট কার্যক্রমে কী পরিবর্তন ঘটে। এর মাধ্যমে স্মৃতি, ভয়, শেখা, অনুভূতি, চলাফেরা এবং বিভিন্ন আচরণের সঙ্গে নির্দিষ্ট স্নায়ু সার্কিটের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হচ্ছে।
নোবেল কমিটির মতে, অপটোজেনেটিক্স জীবন্ত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে, তা বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিকিৎসায় কতটা সম্ভাবনা: অপটোজেনেটিক্সকে এখনই পারকিনসনস, আলঝেইমারস বা বিষণ্ণতার সরাসরি চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এসব রোগের পেছনে মস্তিষ্কের কোন স্নায়ু সার্কিট কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
পারকিনসনস, মৃগী, বিষণ্ণতা এবং অন্য স্নায়বিক ও মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নিউরন ও স্নায়ু সার্কিট নিয়ে গবেষণায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে এর বেশির ভাগ চিকিৎসাগত প্রয়োগ এখনো গবেষণা ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। তাই নোবেল পুরস্কারটি কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারের জন্য নয়; বরং মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পথ তৈরির মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতি।
তিন বিজ্ঞানীর তিন ধাপের অবদান: তিন বিজ্ঞানীর কাজকে একটি ধারাবাহিক গল্প হিসেবেও দেখা যায়। হেগেম্যান ও নাগেল খুঁজে বের করেন আলোর প্রতি সংবেদনশীল চ্যানেলরোডপসিন। এরপর ডাইসারথ সেই আবিষ্কারকে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর প্রযুক্তিতে রূপ দেন। অর্থাৎ শৈবালের একটি মৌলিক জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য থেকে তৈরি হয় মস্তিষ্ক গবেষণার শক্তিশালী নতুন হাতিয়ার।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কার্ল ডাইসারথের পাশাপাশি পিটার হেগেম্যান কাজ করেন বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং গেয়র্গ নাগেল জার্মানির ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের গবেষণা মিলে স্নায়ুবিজ্ঞানে এমন এক পদ্ধতির জন্ম দিয়েছে, যা এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নোবেল কমিটির এই স্বীকৃতি তাই শুধু তিন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণার পুরস্কার নয়; এটি মস্তিষ্কের জটিল জগতকে আরও নির্ভুলভাবে বোঝার এক নতুন যুগের স্বীকৃতিও। যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একদিন এককোষী শৈবালের আলো শনাক্ত করার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল, সেই গবেষণাই আজ মানুষ কীভাবে স্মরণ করে, অনুভব করে ও আচরণ করে—তার রহস্য উন্মোচনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বিজ্ঞানীর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়া হবে।
আবাসন সংকট নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্পেনে বিক্ষোভ চলছিল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এর মধ্যেই পার্লামেন্টে সরকারের আনা দুটি আবাসন-সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য আরও বেশি কাজ করতে হলে নতুন করে তাদের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে, পার্লামেন্টে আরও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, যাতে তার সরকার আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।’
সানচেজ সরকারের প্রস্তাবিত দুটি ব্যবস্থার মধ্যে একটিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভাড়াটেদের উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালুর কথা ছিল। অন্য প্রস্তাবে কিছু ভাড়ার চুক্তি আরও স্থিতিশীল করার কথা বলা হয়। তবে গত শুক্রবার পার্লামেন্টে দুটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হয়ে যায়।
এর পরদিন গত শনিবার আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরে বড় বিক্ষোভ হয়। সরকারের হিসাবে, শুধু মাদ্রিদেই বিক্ষোভে অংশ নেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। তবে আয়োজকরা দাবি করেছেন, প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বেশি।
আবাসন সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ অবশ্য এর আগেই বাড়ছিল। গত মাসের শেষদিকে মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সি মারাই দেল কারমেন আবাসকালকে ৭০ বছর ধরে বসবাস করা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল ভবনটি কিনে নেওয়ার পর ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় তাকে বাড়িটি ছাড়তে হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মানুষের ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়া সানচেজ সরকারের জন্য সম্প্রতি আরেকটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিভিন্ন প্রস্তাব পাস করাতে সানচেজ সরকারকে জোটসঙ্গী ও অন্য দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে, আইন পাস করতে সরকারকে বারবার অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে।
তবে, আগাম নির্বাচন সানচেজের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জনমত জরিপে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে দলটি উগ্র ডানপন্থি ভক্স পার্টির সমর্থন নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ছেড়ে যাওয়া এমপি ও বিধায়কদের ফিরে আসার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দলটির প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময়ের মধ্যে ফিরতে না পারলে তাদের আর জায়গা থাকবে না বলে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূলের বড় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা যেসব এমপি ও বিধায়ককে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছি, তাদের অনেকেই বিশ্বাসঘাতক। তাদের এখানে কোনো জায়গা নেই। আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরব। যারা তৃণমূল ছেড়েছেন, তারা ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে এলে ঠিক আছে। এরপর আর তাদের আর জায়গা থাকবে না।’
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট শক্তিশালী হতে পারে না। বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় দল পুনর্গঠনে তৃণমূলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের গুরুত্ব তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, নেতারা নয়, সাধারণ কর্মীরাই দলের মূল শক্তি। ১৯৯৮ সালে যেভাবে তিনি দল গড়ে তুলেছিলেন, সেভাবেই আবার তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারবেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হয়ে মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও দলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তার ডান চোখের বেশির ভাগ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের দিকে লং মার্চ শুরু করেছেন তার হাজারো সমর্থক।
গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে লং মার্চটি শুরু হয়। ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরের শহরটি থেকে যাত্রা করে রাতে লং মার্চে বিরতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে আবার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে লং মার্চটি শুরু করার কথা রয়েছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহেই লং মার্চটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে, সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা চলায় কর্মসূচিটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।
ইমরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। গত বছর দুর্নীতির একটি মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে, ইমরান বরাবরই বলে আসছেন, তার বিরুদ্ধে করা এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লং মার্চ
টি ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমের একটি শহরে পৌঁছাতে পারে।
এ সময় দেশের মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, ইমরানের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পাওয়ায় সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতে দলটির নেতারা ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
পাশাপাশি, তার দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছিল দলটি। গত আগস্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইমরানকে সাময়িকভাবে কারাগার থেকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে, তার পরিবার ও পিটিআইয়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়নি।
এর আগে, ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে অন্তত আটজন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী গতকাল সোমবার বাব আল–মান্দেব প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখল করেছে। সামরিক ও সরকারি সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুতিরা যেসব এলাকায় অগ্রসর হয়েছিল, সেসব এলাকা পুনর্দখল করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ থেকে সরিয়ে দিতে সরকারি বাহিনী লড়াই করছে।
তিন সামরিক কর্মকর্তা ও এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনী বাব আল–মান্দেব প্রণালীর দিকে নজর রাখা ধুবাব জেলার বড় একটি অংশ দখল করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপক বিমান সহায়তায় তারা ওই এলাকার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এর আগে হুতিপন্থি গণমাধ্যম সরকারি বাহিনীর ওই এলাকায় অগ্রসর হওয়ার খবর অস্বীকার করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনে ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে তীব্র লড়াই চলছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা স্থবির থাকা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল–মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি এরই মধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ইয়েমেনে লড়াই শুরু হওয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথও হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং এমন একটি অঞ্চলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যেখানে এরই মধ্যে ব্যাপক সংঘাত চলছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখলের জন্য তারা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, দেশকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত’ না করা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সৌদি আরব এই সামরিক অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। হুতিদের পিছু হটাতে সৌদি আরব তার মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তাও চেয়েছে। এর লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা বন্ধ করা।
ইয়েমেনের বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে সংঘাত চললেও সবচেয়ে তীব্র লড়াই হচ্ছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে বাব আল–মান্দেব প্রণালীর কাছের উপকূলীয় এলাকা এবং তাইজ শহরের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে হুতিরা সরকারি বাহিনীকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত এক সংবাদ সংস্থা এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিযোদ্ধারা তাইজ প্রদেশের আল-মাওয়াসিত জেলা থেকে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছে। তারা ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান আল-আলিমির বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
পাহাড়ি এই জেলাটি তাইজ থেকে এডেন যাওয়ার প্রধান সড়কের কাছে অবস্থিত। গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাইজ শহরটি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। সরকারি বাহিনীর জন্য শহরটিতে প্রবেশের এটিই ছিল সর্বশেষ সড়কপথ।
ইয়েমেন যুদ্ধের পটভূমি
ইয়েমেনে বর্তমান সংঘাতের শুরু ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের সরকারকে পুনর্বহাল করা এবং ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। জোটটি এ লক্ষ্যে বিমান হামলা শুরু করে।
তবে যুদ্ধ দ্রুতই রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থায় পরিণত হয়। ইয়েমেনের বেশির ভাগ যুদ্ধফ্রন্টে দীর্ঘদিন কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়। এমনিতেই ইয়েমেন ছিল আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। চলতি গ্রীষ্ম পর্যন্ত সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল।
সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের
সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব এলাকা ফিরে পেতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইরানপন্থি হুতিরাও দেশের ভেতরে আরও এগিয়ে গেছে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘিরে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে দেশের বাকি অংশ পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে। পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে এই অভিযান সহজ হবে না। সম্প্রতি হুতিদের হঠাৎ অভিযানে লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এই প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা কৌশলগত একটি সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই পথ তাইজ শহরকে সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারি বাহিনী সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা দেয়।
তাইজ ও তার আশপাশে কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের লড়াইয়ে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকা দখল করে নিয়েছে। প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে এবং থানাও দখল করেছে। সেখানে এখনো তুমুল সংঘর্ষ চলছে।
পাকিস্তানে লংমার্চ করবে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এদিকে পিটিআইর লংমার্চ কোনোভাবেই ইসলামাবাদের সীমানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
রোববার তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনায় মতবিরোধ দেখা দেয়।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘লংমার্চ ইসলামাবাদের সীমানায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার আলোচনার খসড়া চুক্তিতে দু-তিনবার পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার এখনো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিজের ভূমিকা পালন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিতে সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি।’
সানাউল্লাহর ভাষায়, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।’
তবে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার চিকিৎসার বিষয়েও আলোচনায় কথা হয়েছে বলে জানান সানাউল্লাহ। তিনি এসব বিষয়কে তুলনামূলকভাবে ছোট ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার চিকিৎসার বিষয়গুলো আইন ও কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সেভাবেই এগুলো পরিচালনা করা হবে।’ রাজনৈতিক উদ্দেশে এসব সাক্ষাৎ ব্যবহার না করা হলে সরকার কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলেও জানান তিনি।
এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গতকাল রোববার ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ শুরুর ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দুপুর ১টায় লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে লংমার্চের প্রথম ধাপ শুরু হবে।
ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান, উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু ও লাক্কি মারওয়াতের নেতা-কর্মীরা এই যাত্রায় যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার রাতে কাফেলা কারাকের কাছে অবস্থান করবে। পরদিন কারাকের নেতা-কর্মীরাও এতে যোগ দেবেন। এরপর লংমার্চ কোহাট, পেশোয়ার ও চরসাদ্দার দিকে এগিয়ে যাবে।
৮ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে পিটিআই সমর্থকদের খাইরাবাদে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আফ্রিদি। অন্যদিকে সানাউল্লাহ বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে কেন্দ্রীয় সরকার কোনোভাবেই সরে আসবে না।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’
তবে পিটিআই ও খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলে আবারও আলোচনায় বসার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, তারা প্রস্তুত থাকলে আজ, কাল বা পরদিনও আলোচনায় আসতে পারে।
তবে নতুন করে আলোচনা কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প সরকারের হাতে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সানাউল্লাহ।
পিটিআইয়ের লংমার্চ সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। আলোচনার একপর্যায়ে দুপক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ছিল, আলোচনার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিষয়েই সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। মাত্র এক-দুটি বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গিয়েছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে লংমার্চ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে বিরোধী দল জানিয়েছিল, আলোচনায় অগ্রগতি হলে লংমার্চ স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সরকারি প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, কাশ্মীরবিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী, রানা সানাউল্লাহ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতারা।
বিরোধী দলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান, সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, আসাদ কায়সার, সালমান আক্রম রাজা, আমির দোগার ও হালিম আদিল শেখ। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে সরকার ইমরান খানের সঙ্গে আল্লামা নাসির আব্বাস ও মাহমুদ খান আচাকজাইয়ের সাক্ষাতের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়। অন্যদিকে বিরোধী দল লংমার্চ বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি ছিল।
পিটিআই ইমরানের বোনদের পাশাপাশি দলের সংসদ সদস্য ও কর্মীদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছিল। বিরোধী নেতারা জানিয়েছিলেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ইমরান খানকে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন।
তবে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ কাটেনি। ফলে আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপর পিটিআই নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী লংমার্চ শুরু করার পথে এগোয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করে আসছিলেন, পিটিআইয়ের লংমার্চকে ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ওই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের এ দাবি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গত শনিবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনা নিশানা করে ‘সামরিক অভিযান’ চালানো হয়েছে বলে জানান হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তিনি বলেন, ‘এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়।’ হামলাগুলো ‘নির্ভুল ও সরাসরি’ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘হামলায় স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। একই দিন রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়।’
পরে, গত শনিবার সৌদি আরবের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল মালিকি বলেন, ‘রিয়াদে হামলার বিষয়ে হুতিদের দাবি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে গতকাল রোববার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, হুতিদের নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ঠেকাতে তোর আল বাহা ফ্রন্ট ও তাইজ এলাকায় ৯৭টি ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা’ চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল নাজিলি বলেন, ‘এসব হামলায় অন্তত ২৬০ জন হুতি যোদ্ধাকে নিশানা করা হয়েছে।’ একই সঙ্গে, ৪৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অচল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে, গত মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের লোহিত সাগরবন্দর ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল হুতিরা। সে সময় সৌদি আরব জানায়, তাইফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। আরামকোর স্থাপনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানায় দেশটি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, গত মঙ্গলবার মুসলিমদের পবিত্র শহর মদিনার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
এর আগে, ২০২২ সালে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি জুলাইয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ইয়েমেনে লড়াই আবার তীব্র হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগর মোখা এবং বাব আল মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ দখল করে।
বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ পথে পরে হুতিবিরোধী বাহিনী নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে দেশটিতে যুদ্ধ চলছে। ওই সময় ইয়েমেনের সরকারকে এডেনে সরে যেতে হয়। এরপর থেকে চলা সংঘাতে দেশটির কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশেষ করে যুদ্ধ আবার তীব্র হয়ে ওঠার পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উৎপাদনের চুক্তি চূড়ান্ত এবং নতুন সামরিক ও জ্বালানি সহায়তা ঘোষণা করতে কিয়েভে পৌঁছেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস। গতকাল রোববার জার্মান প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে ইউক্রেনে পৌঁছান তিনি।
জার্মান সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেরৎসের সফরে ইউক্রেনকে ১ বিলিয়ন ইউরোর সামরিক সহায়তা এবং দেশটির জ্বালানি খাত মেরামতে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরেরও আশা করা হচ্ছে।
কিয়েভে পৌঁছে মেরৎস বলেন, ‘আগামী সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের জার্মানির পূর্ণ সমর্থন প্রয়োজন।’ রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, আবাসিক ভবন ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে থামানো না গেলে তাদের যুদ্ধযন্ত্র একসময় ইউরোপের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারে।’
মেরৎসের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথারিনা রাইখে এবং একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল। এতে সিমেন্স এনার্জি, হেনসোল্ডট, ডিল ডিফেন্স ও কোয়ান্টাম সিস্টেমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। ইউক্রেনে দুর্নীতি দমনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন মেরৎস।
গত বুধবার মেরৎসের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার উৎপাদনের বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি চূড়ান্ত করবে ইউক্রেন। এর মধ্যে দ্রুতগতির ‘অ্যান্টি-জেট’ ড্রোন উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম সিস্টেমস এসব ড্রোনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।
গত এপ্রিলে কোয়ান্টাম সিস্টেমস ও ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান ডব্লিউআইওয়াই ড্রোনস যৌথ উদ্যোগে ‘কোয়ান্টাম ডব্লিউআইওয়াই ইন্ডাস্ট্রিজ’ গঠনের ঘোষণা দেয়। এই উদ্যোগের আওতায় ‘স্ট্রিলা’ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনসহ আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তির আওতায় ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার অস্ত্রও যৌথভাবে উন্নয়ন ও উৎপাদন করা হবে। এসব অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ার আরও গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
জার্মান কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সহযোগিতা বাড়লে অর্থ ও প্রযুক্তির একটি অংশ জার্মানিতে ফিরে আসবে। এর মাধ্যমে অস্ত্র উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আসা ড্রোন মোকাবিলার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
এদিকে গত শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনে পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখবে মস্কো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের হামলার জবাবেই এসব পাল্টা হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের ইউক্রেনে অবস্থান বা ভ্রমণ না করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
মস্কোর নতুন বিমান হামলা নীতির জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা জোরদার করবে ইউক্রেন। তবে বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কিছু নথি পেয়েছে, যেগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শীতের আগে ইউক্রেনের শহর ও অবকাঠামোয় আরও বিস্তৃত হামলার অনুমোদন দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার নতুন নীতিতে অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, সড়ক, স্কুল ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য মানুষকে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা।
তবে রাশিয়া জেলেনস্কির এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে। দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে তার জবাব রাশিয়ার জ্বালানি খাতেই দেওয়া হবে। বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করা হবে, কারণ এসব স্থাপনা থেকে রাশিয়া যুদ্ধের জন্য অর্থ পায়। তবে বেসামরিক স্থাপনায় রাশিয়ার মতো করে হামলা চালানো হবে।’
এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ‘ভিভালদি’ নামে ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানে দোনবাস অঞ্চলের প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলছে। অন্যদিকে রাশিয়া শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে পুরো দোনবাসের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, সড়ক ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ডিনিপ্রো নদীর ওপর কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করা সেতুগুলোতেও প্রথমবারের মতো হামলা হয়েছে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলার ধরন পরিবর্তনের জবাবে ইউক্রেনকেও নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করতে হচ্ছে।’ এদিকে রাশিয়া শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
রাশিয়ার দ্রুতগতির জেটচালিত শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে। জেলেনস্কি জানান, এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে এফ-১৬ ও মিগ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিমানগুলোর ২০ মিলিমিটার গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে। চলতি অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন ধরনের ছোট ও তুলনামূলক সস্তা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান পাওয়ার আশা করছে ইউক্রেন।
স্পেনজুড়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ এবং বিনিয়োগকারী তহবিলের মাধ্যমে আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে গত শনিবার মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ভ্যালেন্সিয়াসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ৫০টি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ভ্যালেন্সিয়া টেন্যান্টস ইউনিয়নের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শহরটিতে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে। পূর্ব উপকূলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ায় আবাসন খাতের একটি সম্মেলন চলাকালে পালাউ দে লেস আর্টস রেইনা সোফিয়া আর্টস সেন্টারের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।’
স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড সরিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। জবাবে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, এ ঘটনায় নয়জন পুলিশ সদস্য আহত এবং পাঁচজন বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রাজধানী মাদ্রিদে ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সেখানে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। টেন্যান্টস ইউনিয়নের দাবি, বিক্ষোভে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ভাড়ানির্ভর মুনাফালোভী ব্যবসার জন্য কোনো শান্তি নেই’ এবং ‘আমি পড়াশোনা করি ভবিষ্যতের জন্য, কোনো ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকার জন্য নয়’। তারা হাতে চাবি উঁচিয়ে ‘পুরো শহরের চাবি আমাদের হাতেই’ স্লোগান দেন। কেউ কেউ মাদ্রিদের প্রধান চত্বর পুয়ের্তা দেল সলে কয়েক দিন ধরে অবস্থানও করেন।
বিক্ষোভের আগে ডেভিড নামের এক বিক্ষোভকারী আরটিভিইকে বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো আনন্দ বা আরাম-আয়েশের জন্য আসিনি। আমরা এসেছি দৃঢ় বিশ্বাস ও তাগিদ থেকে।’
২৬ বছর বয়সি গ্রন্থাগারিক মার্কোস সাইঞ্জ এএফপিকে বলেন, ‘আগে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে দুই শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং মাসে ৯০০ ইউরো ভাড়া দিতেন। এখন একটি শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটের ভাড়াই অনেক সময় ১ হাজার ইউরোতে পৌঁছে যায়।’ তিনি বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ না কেউ এটি নিয়ন্ত্রণে আনার সাহস দেখায়। তা না হলে তাদের সবাইকে মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’
এদিকে স্প্যানিশ পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভকারীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাদের কয়েকজনকে নাৎসি স্যালুট দিতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আবাসন সংকটের সূত্রপাত হয় গত মাসে ৮৭ বছর বয়সি মারিকারমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারায় তাকে উচ্ছেদ করা হলে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক প্রতিবাদের মুখে তার ফ্ল্যাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠান আরবাগেস্তিয়ন কম ভাড়ায় তাকে আবার ফ্ল্যাটে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করে। তবে এরপরও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি জোট সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে দুটি ডিক্রি বা অধ্যাদেশের প্রস্তাব দেয়। তবে গত শুক্রবার পার্লামেন্টে দুটিই প্রত্যাখ্যাত হয়।
প্রথম ডিক্রিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ স্থগিত রাখা, ২০২৮ সালের আগে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ভাড়ার চুক্তি আরও দুই বছর বাড়ানো, পর্যটকদের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপার্টমেন্টের ওপর কর বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘ভালচার ফান্ড’-এর মাধ্যমে আবাসিক সম্পত্তি কেনার ওপর বিধিনিষেধের প্রস্তাব ছিল।
দ্বিতীয় ডিক্রিতে ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিধান রাখা হয়েছিল। এটি বামপন্থি দল ও ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। সংসদ সদস্যরা ১৭৮ ভোটের বিপরীতে ১৭২ ভোটে প্রথম ডিক্রিটি প্রত্যাখ্যান করেন। দ্বিতীয় ডিক্রির বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৮৪টি, পক্ষে ১৬৬টি।
ভোটের আগে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থি ভক্স উভয় উদ্যোগের বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছিল। ফলে সংখ্যালঘু সরকারকে কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলের ছোট জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে সংসদীয় অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে মধ্য-ডানপন্থি ও স্বাধীনতাপন্থি দল টুগেদার ফর কাতালোনিয়া উভয় প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় সেগুলো পাসের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
প্রস্তাব দুটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আগাম সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টি ও তাদের সহযোগী সুমার অ্যালায়েন্সের জোট সরকারের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। যদিও আগামী গ্রীষ্মের আগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না।
মাদ্রিদের টেন্যান্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো অপর্যাপ্ত হলেও সেগুলো বাতিল হওয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সংগঠনটি আবাসন সংকটের প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
দেশটিতে আবাসন সংকট কতটা তীব্র, তার চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও। নতুন বাড়ি নির্মাণ ও চাহিদার পার্থক্যের ভিত্তিতে ব্যাংক অব স্পেনের ধারণা, দেশটিতে প্রায় সাত লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনই’র ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে স্পেনে বাড়ির দাম ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান আইডিয়ালিস্তার তথ্য অনুযায়ী, ভাড়ার বাড়ির ঘাটতির কারণে ২০২৫ সালে দেশটিতে বাড়িভাড়া ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। শুধু মাদ্রিদে ভাড়া বেড়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
বর্ষাকালে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে ব্যাংককের রাস্তায় পানি জমা নতুন কিছু নয়। থাইল্যান্ডের রাজধানীর অনেক উঁচু ভবনঘেরা কেন্দ্রীয় এলাকাতেও কখনও কখনও রাস্তাগুলো নদীর মতো হয়ে যায়। তবে এবার বৃষ্টির তীব্রতা ছাড়িয়ে গেছে স্বাভাবিক মাত্রা। মাত্র দুই দিনে শহরের কিছু এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি লন্ডনের গড় ছয় মাসের বৃষ্টিপাতের প্রায় সমান। এতে ব্যাংককের অনেক এলাকা রাস্তাঘাট নয়, বরং স্থির পানির বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান শনিবার (৩ অক্টোবর) এ খবর জানিয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। শহরের ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।
৭৩ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা সুলিমাস কুরাংকুলের বাসার নিচতলার সিঁড়ি এখনো পানির নিচে। তিনি জানান, গত সপ্তাহান্তের বৃষ্টি স্বাভাবিক সন্ধ্যার ঝড়ের মতো ছিল না বরং সারাদিন-সারারাত অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ব্যাংককের ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত খালং চান আবাসিক এলাকাটি এখন দুর্যোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বাদামি পানির মধ্যে ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পার্ক করা গাড়ির ছাদও পানির ওপর সামান্য দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ অংশের পানি অনেকটা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।
চাও ফ্রায়া নদীর বিশাল বন্যাপ্রবণ সমভূমির ওপর গড়ে ওঠা ব্যাংকক শহরের পানি নিষ্কাশনে খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণে শহরের খালব্যবস্থার বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে শহরটি।
ব্যাংককের ৫০টি জেলার সবকটিতেই বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। কিছু এলাকায় তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক দৃশ্য। কেউ ফোলানো প্লাস্টিকের পুলে চড়ে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও ভাসমান ফ্রিজকেও নৌকার মতো ব্যবহার করতে দেখা গেছে। প্রধান সড়কে জেটস্কি চালানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
বন্যার কারণে ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। একপর্যায়ে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী কাজে যেতে না পারায় হাজারো লাগেজ জমে যায় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। অনেক স্কুল বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র যানজট থাকায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের বলেছেন, উত্তরের দিক থেকে আসা বন্যার পানির কারণে ব্যাংককের মহানগর এলাকা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষও গঠন করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আগামী সপ্তাহে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম বন্যার প্রবণতা ইতোমধ্যেই বাড়ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্র থেকে বেশি পানি বাষ্পীভূত হয় এবং উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাংককের বন্যা সহনশীলতা নিয়ে গবেষণায় যুক্ত পরামর্শক নাইম লায়েনি বলেন, কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টির তীব্রতা কর্তৃপক্ষ সম্ভবত অবমূল্যায়ন করেছিল। ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন খালগুলো সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি সামলাতে পারে। উন্নত কিছু অংশে এই সক্ষমতা ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে এবং পরপর বৃষ্টির কারণে পানি সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি।
ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে আরও কয়েক হাজার সেনা। ইরান যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশের সময় দুই পক্ষই সামরিক সংঘাত বাড়ানো কিংবা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। এমন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অর্থ কী? এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত? নাকি আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন?
মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি বহর রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর একদিন পর ওই অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ)। এ ইউনিটে রয়েছে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নতুন এই রণতরি বহর ও নৌবাহিনীর অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৯ থেকে ১০ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য ওই অঞ্চলে যুক্ত হতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং উভচর অভিযানে সক্ষম দুটি সামরিক দল অবস্থান নেবে। এই বিপুল সামরিক উপস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তানিয়া নুরি জানান, নতুন মোতায়েনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই অবস্থান করা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে নতুন করে সামরিক শক্তি যুক্ত হবে।
পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে নুরি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই এগোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখাই এই মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও আপাতত সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালাতে ‘প্রস্তুত’ রয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। সে সময় লেবাননে মার্কিন মেরিন ও স্থলসেনার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারে পৌঁছেছিল।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ থেকে ৫০ হাজার সেনা অবস্থান করছিলেন। তারা বড় স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট অগ্রবর্তী সামরিক স্থাপনাতেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। শুরুতে আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়।
শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ ক্লাসরুমের প্রতিবাদে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় দেশজুড়ে চার শতাধিক হাই স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্যারিস অঞ্চল থেকে গত মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক স্কুলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মার্শেইতে আন্দোলন চলাকালে অসাবধানতাবশত শিক্ষকদের ওপর পেট্রোল ছিটানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া স্ট্রাতসবুর্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং তুলুজে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতায় রূপ নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ দাবিদাওয়া দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ যুক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির চার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্যারিস অঞ্চলের কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভের সূচনা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর অবস্থা খারাপ। দীর্ঘ স্কুল সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
১,০২৭ প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন: ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৭টিতে কোনো না কোনো ধরনের আন্দোলন বা বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি প্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ ছিল। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় শুক্রবার ৪০০-এর কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ক্লাসের পরিবর্তে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানানো হয়েছে।
শুধু দাবি-দাওয়ার কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি আন্দোলন। নঁতের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মার্সেইয়ে একটি স্কুলের কাছে পেট্রল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। স্ট্রাসবার্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। প্যারিসেও কয়েকটি স্কুলের প্রবেশপথে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এক দিনেই আটক প্রায় দুই হাজার: বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৯৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, সহিংসতা ও বেআইনি জমায়েতের মতো অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সোমবার থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার মানুষ আটক হওয়ার তথ্যও এসেছে। আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ কিশোর বলে জানিয়েছেন ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানা।
আহত পুলিশ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কর্মী: সংঘর্ষে ৩০৫ জন পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে আন্দোলন শুরুর পর থেকে ১৭০ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতের ৬৫ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। আহত শিক্ষা কর্মীদের মধ্যে ৪০ জন স্কুলপ্রধান রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে।
আন্দোলনের কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো কিশোর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, সহিংসতা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
সংকট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু আন্তঃমন্ত্রণালয় সংকট বৈঠক করেন। একই দিনে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ দেশের ৩৬ জন প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। সরকারের পক্ষ থেকে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে সংলাপের পথও খোলা রাখছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শুক্রবার শিক্ষার্থী সংগঠন ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকার শিক্ষার্থীদের মূল দাবির কিছু অংশ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে।
আন্দোলনে রাজনৈতিক বিতর্ক: শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের কিছু নেতা বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দলটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে সরকার বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত কিছু ভর্তি-ফি পরিবর্তন প্রত্যাহার করেছে। অ-বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিটিএস ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সে নির্ধারিত ফি নেওয়ার প্রস্তাব বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনীতির একাধিক প্রশ্নকে একই সঙ্গে সামনে এনেছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষা-পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ; অন্যদিকে অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ—দুই বাস্তবতার মাঝেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। শুক্রবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে সংলাপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, এখন সেদিকেই নজর।