বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ভিসা পাননি অরুণাচলের খেলোয়াড়রা, চীনকে হুঁশিয়ারি ভারতের

সংগৃহীত ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:৫১

চীন ভিসা না দেয়ায় এশিয়ান গেমস থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন ভারতের অরুণাচল প্রদেশের তিন খেলোয়াড়। এ ঘটনায় চীনকে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে। প্রসঙ্গত, ভিসা নিয়ে টালবাহানার জেরে নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে হ্যাংঝৌ পৌঁছায় ভারতের ফুটবল দল।

অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা তিন খেলোয়াড়ের ভিসার আবেদনে সিলমোহর দেয়নি চীন প্রশাসন। ফলে এশিয়ান গেমসের আয়োজকদের তরফে ছাড়পত্র পেলেও চীনে প্রবেশাধিকার মেলেনি তাদের। বাধ্য হয়ে তিন খেলোয়াড়কে ছাড়াই চীনে পৌঁছেছে ভারতীয় দল।

এদিকে এশিয়ান গেমসে নামার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অরুণাচলের তিন খেলোয়াড় বাদ পড়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিকদের বাসস্থান বিচার করে বৈষম্যমূলক আচরণ একেবারে মেনে নেয়া হবে না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অখণ্ড অংশ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। বেছে বেছে কয়েকজন ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে আটকে দেয়া হয়েছে। এমন আচরণের জন্য দিল্লি ও বেইজিংয়ে চীনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। এশিয়ান গেমসের আদর্শেরও বিরোধিতা হয়েছে এই কাজে।’

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চীনকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, চীনের এই কাজের প্রতিবাদ জানানোর জন্য চীন সফর বাতিল করেছেন ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী। সেই সঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেশের স্বার্থ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রয়েছে ভারতের।’

বিষয়:

ইসরায়েল সফরে মোদি, ভাষণ দেবেন নেসেটে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত আট বছরের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর।

এই সফরে তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে মোদিকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে এই সফরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক সফরের পর দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মোদির এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভারত। ইসরায়েলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৩৪ শতাংশই কিনেছে ভারত, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১৩ শতাংশ। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ইসরায়েলের ওপর ভারতের এই বিশাল নির্ভরতা দুই দেশের কৌশলগত জোটকে আরও গভীর করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই সফরের মাধ্যমে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। নিরাপত্তা ছাড়াও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। তবে মোদির এই সফরকে ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

দেশটির একটি বড় অংশ এই জোটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করলেও, অন্য একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।

ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যকার এই বিশেষ সম্পর্ক কেবল অস্ত্রের লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ। ২০১৮ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফরের সময় নেওয়া বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগগুলো এই সফরে নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন নেসেটে মোদির দেওয়া ভাষণের দিকে, যেখানে তিনি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান শক্ত করতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও দানা বাঁধছে আন্দোলন

ইরানের সাজ্জাদ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সম্প্রতি রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ শেষ হলেও ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও দানা বাঁধছে আন্দোলন। ইরানের কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী স্লোগানে বিক্ষোভে নেমেছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানুয়ারির শুরুতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিক্ষোভ দমনের কৌশল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয় খামেনি প্রশাসন।

পুনরায় সরাসরি ক্লাস শুরু হওয়ায় আবার ঘনীভূত হচ্ছে ক্ষোভ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জানুয়ারির সহিংস দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণসভা রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য প্রতিবাদে। তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচি কখনও কখনও সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সমাবেশগুলোতে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। এই বিক্ষোভে ইরানের উৎখাত হওয়া শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা শাহ পাহলভীর নাম উচ্চারিত হয়েছে। ইরানের ‘বিপ্লবের নেতা’ হিসেবে তার নাম নিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রায় পাঁচ দশক পর রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি উঠেছে।

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন-‘এই ফুল ঝরে গেছে, মাতৃভূমির জন্য উপহার/ নারী, জীবন, স্বাধীনতা/ সহযোদ্ধাদের রক্তের শপথ, শেষ পর্যন্ত লড়ব।’

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারপন্থি ও বিরোধী শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সরকারপন্থিরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থনে স্লোগান দেন, আল্লাহু আকবর ও আমেরিকার মৃত্যু ধ্বনি তোলেন এবং দাঙ্গাবাজদের বহিষ্কারের দাবি জানান।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্বের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রেজা মোহাম্মদি আলির স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ গোষ্ঠীর অভিযোগ, বাসিজ ছাত্রসংগঠন অনুষ্ঠানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং দাবি করে নিহত শিক্ষার্থী সরকারপন্থি ছিলেন।

বিক্ষোভকারীদের কেও কেও ইরানে ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত নাম পুনর্বহালের দাবিও তুলেছেন।

ইরানে ২০০০ সালের এক আইনে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সামরিক, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ ও অভিযান চালানো নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে হামলার ঘটনার পর এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার এই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে।


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়ে ৩ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর দাবি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক যুদ্ধে তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের কারণে অন্তত ৩৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৩ কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কংগ্রেসে প্রদত্ত ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যকার পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে তার প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তার সম্পৃক্ততা না থাকলে এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটত।

ভাষণ চলাকালীন ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, তার প্রশাসনের প্রথম দশ মাসে তিনি অন্তত আটটি যুদ্ধ সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, যার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমন অন্যতম। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে দাবি করেন যে, তার নেতৃত্বেই বিদেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তার প্রশাসন বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক ব্যবস্থা আরোপের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে বড় ধরনের সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার দাবিকে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলার মধ্য দিয়ে, যেখানে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ইসলামাবাদে পাল্টা আক্রমণ চালালে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়।

যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভারতের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা চালায়। কয়েক দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে যে, তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরলস আলোচনার ফলেই একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতভাবেই নিজেকে এই অঞ্চলের শান্তিরক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, তার কঠোর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবস্থানই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে চূড়ান্ত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই দাবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও তিনি তার ভাষণে মার্কিন কূটনীতির এই সাফল্যকেই বিশ্ববাসীর সামনে বড় করে তুলে ধরেছেন।


বিপাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

সানায়ে তাকাইচি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চাপের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল বড় জয় পাওয়ার পর তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সংসদ সদস্যদের অভিনন্দনস্বরূপ উপহার বিতরণ করেছেন। এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এই চাপ তৈরি হয়েছে।

তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, ৩০০-এর বেশি আইনপ্রণেতাকে একটি ক্যাটালগ থেকে পছন্দমতো উপহার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, খুব কঠিন এই নির্বাচনে তাদের সাফল্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।

এই ঘটনা ২০২৩ সালে এলডিপিকে ঘিরে ওঠা তহবিল কেলেঙ্কারির স্মৃতি উসকে দিয়েছে, যার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পদত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি ইশিবার জোট গত বছর পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।

প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্সের নেতা জুনিয়া ওগাওয়া বলেন, এই ক্যাটালগ বিতরণের খবর মানুষকে সহজেই বলতে বাধ্য করতে পারে—‘প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, আপনিও? তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তাকে কঠোরভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে তাকাইচি জানান, প্রতিটি উপহারের মূল্য, পরিবহন খরচ ও করসহ প্রায় ৩০ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৯০ ডলার)। এ অর্থ তিনি যে নারা প্রদেশভিত্তিক এলডিপি শাখার প্রধান, সেই শাখার রাজনৈতিক তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি এক্সে আরও লেখেন, আইনপ্রণেতাদের ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের কাজে এই উপহারগুলো সহায়ক হবে বলে তিনি আশা করেন।

জাপানের রাজনৈতিক তহবিল আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো প্রার্থীকে সরাসরি অনুদান দেওয়া যায় না, তবে রাজনৈতিক দল বা তাদের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে অনুদান দেওয়া বৈধ।

এর আগে, গত মার্চে শিগেরু ইশিবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের অর্থে ১৫ জন নবনির্বাচিত নিম্নকক্ষ সদস্যকে ১ লাখ ইয়েন মূল্যের উপহার সনদ বিতরণ করেছিলেন।


মধ্যপ্রাচ্যে ৩ শতাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনার প্রাক্কালে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে এই বিশাল বহর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনা যখন একটি স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন ওয়াশিংটনের এমন রণপ্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন এই বিমানবহর মূলত কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এছাড়া সমুদ্রসীমায় মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতেও বিপুল সংখ্যক আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ক্যারিয়ার বিমান প্রস্তুত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই বহর গোছাতে প্রায় ২৭০টি বিশাল সামরিক পরিবহন ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি উন্নত প্যাট্রিয়ট ও ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কৌশলগত ট্যাংকার বিমানগুলোকেও স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে আকাশপথেই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

সেন্টকম বা মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের এই বিশাল বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই সরাসরি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে এফ-১৫ই, এফ-১৬ এবং সর্বাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫এ ও সি মডেলের বিমানগুলো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ বহরে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের জন্য বিশেষায়িত ইএ-১৮জি গ্রাউলার এবং আকাশপথে আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের জন্য ‘অ্যাওয়াকস’ বা ই-৩ সেন্ট্রি বিমান রাখা হয়েছে। যদিও গত বছরের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি-২ বোমারু বিমানের নতুন কোনো গতিবিধি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সামগ্রিক আকাশশক্তি যেকোনো সম্ভাব্য বড় অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন সমরশক্তির পাশাপাশি ইসরায়েলও এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ইসরায়েল আরও ১২টি মার্কিন এফ-২২ র‌্যাপ্টর স্টিলথ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে, যা শত্রু রাডার ব্যবস্থা ধবংস করতে বিশেষভাবে সক্ষম। ইসরায়েলের নিজস্ব আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোও যদি এই মার্কিন বহরের সঙ্গে কোনো অভিযানে যোগ দেয়, তবে সম্মিলিত আকাশশক্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখতে চাইলেও প্রয়োজন হলে ‘প্রাণঘাতী’ সামরিক শক্তি ব্যবহারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। এই চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে দুই দেশ। সেখানে ইরান একটি লিখিত খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের সাজে পুরোপুরি প্রস্তুত।


ভালোবেসে ২২ বছরের তরুণীকে বিয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির চাকলালায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাকিম বাবর ও ২২ বছরের এক তরুণীর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের গভীরতা থেকেই তাঁরা এই অসম বয়সের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিয়ের খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দম্পতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সংমিশ্রণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এই দম্পতির সাক্ষাৎকার নিতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

সমালোচনার জবাবে হাকিম বাবর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যা হিসেবে অভিহিত করে মানুষের মনের সজীব থাকার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী ছিলেন। ধর্মীয় আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধ অনুসরণ করেই তিনি একজন ডিভোর্সি নারীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অনৈতিক বা লৌকিক সম্পর্কের চেয়ে বৈধ পন্থায় বিবাহিত জীবন অনেক বেশি সম্মানজনক বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রতারণামূলক সম্পর্কের পরিবর্তে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ থেকে সংসার শুরু করায় তিনি কোনো অপরাধ দেখেন না।

অন্যদিকে তাঁর তরুণী স্ত্রীও স্বামীর বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন। ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স কোনোভাবেই বড় বাধা হতে পারে না বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, কারো মধ্যে প্রকৃত নির্ভরতা, সততা ও ভালোবাসা খুঁজে পেলে দেরি না করে বিবাহের মাধ্যমে সেই সম্পর্ককে পূর্ণতা দেওয়া উচিত। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে নিজেদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালো থাকাকেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এই দম্পতি বেশ রোমাঞ্চকর কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগামী ঈদুল ফিতরের পরপরই তাঁরা প্রথমে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওমরাহ শেষে নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের নতুন দাম্পত্য জীবনের বিশেষ সময়গুলো উপভোগ করতে চান। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সূত্রে প্রাপ্ত এই খবরটি বর্তমানে পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বের নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। সামাজিক প্রথা ভেঙে এই দম্পতির সাহসিকতা যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কেরও সুযোগ করে দিচ্ছে।


ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস ফের চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবার চালু হচ্ছে ঢাকা-আগরতলা -কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা কমলাপুর বাস ডিপো থেকে পরীক্ষামূলক রয়েল মৈত্রীর একটি বাস আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা প্রবেশ করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ভিসা জটিলতার কারণে এ বাস সার্ভিস বন্ধ থাকে। দেড় বছরের বেশি সময় পর মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের পরীক্ষামূলক বাস যাত্রা শুরু করে।

ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিসের জিএম ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, আপাতত সপ্তাহে দুদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে সপ্তাহে তিন দিন করে নিয়মিত এ পরিষেবা শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরারাজ্যের আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছোতে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। তবে বাসে ঢাকা হয়ে সেই যাত্রাপথ অনেকটাই কমে যায়। আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে বাসে কলকাতায় মাত্র ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।

বাস পরিষেবা ফের চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও। রাজ্য সরকারের পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী দুপুরে রাজ্যের গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। এ বাস পরিষেবা শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

তিনি আরও জানান, এ পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় দুদেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

তার কথায়, বাংলাদেশকে ভারত সবসময়ই আত্মীয় ও প্রতিবেশী পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অস্থিরতা বা অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ভারতের মানুষের কাছেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে উভয়পক্ষই আগ্রহী বলে তিনি জানান।


ইরানে ফলবাজারে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের মধ্যাঞ্চলের ফল ও সবজির বাজারে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই এলাকা। ইসফাহান প্রদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার সময় যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, সেটিও এই অঞ্চলে।

রাষ্ট্রীয় টিভির তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি প্রশিক্ষণের কর্মসূচি হিসেবে আকাশে উড়ছিল। দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে বাজার এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ভূমিতে থাকা আরও দুজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এক সপ্তাহেরও কম সময়ে এটি ইরানে দ্বিতীয় বিমান দুর্ঘটনা। এর আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরের কাছে একটি এফ-৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক পাইলট নিহত হন।

ইরানে অতীতেও একাধিক প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে খুচরা যন্ত্রাংশের সংকট তৈরি হওয়ায় দেশটি পুরোনো হেলিকপ্টার ও বিমান বহরের ওপর নির্ভরশীল। যা সরকারি ও বাণিজ্যিক উড্ডয়নে ব্যবহৃত হয়।


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৭ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫০ দিনে মোট ৭ হাজার ৪৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অভিযান) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও কঠোর, সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে। যারা অভিবাসন আইন ও বিধি লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখা মোট ১ হাজার ৮৫৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ৩০ হাজার ১৭৭ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৪৩ জনকে অবৈধভাবে দেশে অবস্থানের দায়ে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০৪টি মামলা হয়েছে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৬(১)(সি) ধারায়, যা বৈধ পাস বা ভ্রমণ নথি ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অপরাধে প্রযোজ্য। এছাড়া ১,২৫০টি মামলা হয়েছে ১৫(১)(সি) ধারায়, অর্থাৎ অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করার কারণে।

আরও ৮০৬টি মামলা হয়েছে ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালার ৩৯(বি) বিধি অনুযায়ী, যা পাসের শর্ত ভঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বাকি ১৮৩টি মামলা অন্যান্য অপরাধের আওতায় নথিভুক্ত হয়েছে।

আটক বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভারত ও চীনের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়।


পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন দিল ইসরায়েলি দখলদাররা

পশ্চিম তীরের মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসে দখলকৃত পশ্চিম তীরে একটি মসজিদে আগুন দেওয়া ও দেওয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি দখলদারদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদের দরজায় আগুনের চিহ্ন ও ধোঁয়ার কালো দাগ দেখতে পান।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল শহরের মাঝামাঝি অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদের দেওয়ালে অবমাননাকর স্লোগান লেখা হয়। মসজিদের প্রবেশপথে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে দরজার কাচ ভেঙে যায় এবং অলংকৃত অংশ কালো হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মুনির রামদান বলেন, দরজা খুলে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি জ্বালানি ও স্প্রে পেইন্টের ক্যান নিয়ে মসজিদের দিকে যায় এবং কয়েক মিনিট পর দ্রুত সরে পড়ে। হামলাকারীরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে গ্রাফিতি লেখে এবং ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দ ব্যবহার করে, যা দখলদারদের ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তির ওপর হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি পরিচিত শব্দগুচ্ছ।

এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরেও দখলদার ও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা বেড়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও দখলদারদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতিমালা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করার পরিবেশ তৈরি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়মুক্তির সংস্কৃতিতে দখলদারদের সহিংসতা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও স্থানান্তরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

তাল গ্রামের বাসিন্দা সালেম ইশতাইয়েহ বলেন, রমজানে রোজাদার ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, দখলদাররা কেবল ব্যক্তি নয়, ইসলামী ধর্মবিশ্বাসকে লক্ষ্য করে উসকানি দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পশ্চিম তীরে ৪৫টি মসজিদে ভাঙচুর বা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজনদের খুঁজছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদারদের হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কার্যত দায়মুক্তি দিয়ে থাকে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল জোরদার

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে এবং বসতি স্থাপনকারীরা নতুন আউটপোস্ট গড়ে কৃষিজমি দখল করছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলার পর প্রায় এক লাখ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলে কাজের অনুমতি হারান। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও ইসরায়েলের হাতে বন্দি বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার বিষয় নিয়ে বিরোধের কারণে ইসরায়েল পিএর জন্য সংগৃহীত কর রাজস্ব আটকে রেখেছে।

পিএ জানিয়েছে, তাদের পাওনা এখন চার বিলিয়ন ডলারের বেশি। তারা সরকারি কর্মচারীদের বেতনের মাত্র ৬০ শতাংশ পরিশোধ করছে। ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত স্কুলগুলো সপ্তাহে মাত্র তিন দিন খোলা থাকে।

আল-মুঘাইয়িরের আট সন্তানের এক মা বলেন, বসতি স্থাপনকারী বা সেনারা আশপাশে থাকলে নিরাপত্তা শঙ্কায় স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, এত বিঘ্ন ঘটছে যে কিছু শিশু চতুর্থ শ্রেণিতে উঠেও পড়তে পারে না। তাই আমরা তাদের গ্রামে ব্যক্তিগত শিক্ষকের কাছে পাঠাই, যিনি বর্ণমালা থেকে আবার শেখানো শুরু করেন।

গ্রাম থেকে বের হলে দেখা যায় ইসরায়েলি সামরিক গেট, যা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে চলাচল সীমিত করতে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে বসতিগুলোকে সংযুক্ত করতে এবং জেরুজালেমে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য রাস্তা প্রশস্ত করছে ইসরায়েলি বুলডোজার। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত এসব বসতি রেকর্ড হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি পিএ’র ওপর আরও চাপ বাড়াচ্ছে। ৩০ বছরেরও বেশি আগে অসলো চুক্তির মাধ্যমে যে শান্তিচুক্তি হয়, তারপর পিএ গঠিত হয়েছিল। তখন আশা করা হয়েছিল এটি দ্রুত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ সরকারে রূপ নেবে। পিএ অহিংস আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছিল।

কিন্তু এক দশকেরও বেশি আগে সরাসরি আলোচনা ভেঙে পড়ে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সম্প্রসারণ ঠেকাতে না পারা এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি না হওয়ায় পিএর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। দুর্নীতি, রাজনৈতিক স্থবিরতা ও ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় অব্যাহত রাখায় অনেক ফিলিস্তিনির মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা কমেছে।

রামাল্লাহ, পিএর প্রশাসনিক কেন্দ্র, এখনো এমন একটি এলাকা যেখানে পিএ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে। তবে এখানেও শঙ্কা বাড়ছে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার।

পিএর সাবেক মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক দলের উপপ্রধান সাবরি সাইদাম বলেন, এটি আমাদের জীবনের এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র, পরিচয় এবং এই ভূখণ্ডে তাদের অস্তিত্ব এখন ইসরায়েলের পদক্ষেপে হুমকির মুখে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অস্তিত্বও প্রশ্নের মুখে।

এ মাসে ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এগুলো ধীরে ধীরে কার্যত সংযুক্তিকরণের শামিল।

নতুন ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসরায়েল বড় অংশের জমিকে রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে দাবি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েলি উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া পিএর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকায় পরিবেশ ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিধিমালার প্রয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।


চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছয়টি সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঠিক হয়নি। এ সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য

*দূরপাল্লা: প্রায় ২৯০ কিলোমিটার।

*সুপারসনিক গতিতে উড়ে খুব নিচু উচ্চতায় চলা।

*জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে হামলা চালানোর সক্ষমতা।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো মোতায়েন হলে ইরানের আঘাত করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় হুমকি তৈরি করবে।

চুক্তির পেছনের প্রেক্ষাপট

*অন্তত দুই বছর আগে আলোচনা শুরু।

*গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দ্রুত অগ্রগতি।

*গত গ্রীষ্মে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা চীন সফর করেন।

*ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরাইও ওই সফরে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোয়িক্জ বলেন, “ইরান যদি জাহাজে হামলার জন্য সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে পুরো পরিস্থিতিই বদলে যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।”

চুক্তিতে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, এর আর্থিক মূল্য কত বা শেষ পর্যন্ত চীন তা কার্যকর করবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্সকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে, এবং এখন সেই চুক্তিগুলো প্রয়োগের উপযুক্ত সময়।”

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধিদল মন্তব্যের জন্য বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে নির্দেশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন। হোয়াইট হাউসও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব, নয়তো আগের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


ভারত যাচ্ছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

মার্ক কার্নি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে ভারত সফর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করা এবং ‘ভাঙা সম্পর্ক’ স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়েই তার এই সফর।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এটি প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। ভারতের পর অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান সফরেও যাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করাই এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। খবর এএফপির।

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতে যাচ্ছেন মার্ক কার্নি। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি পা রাখবেন দিল্লিতে। বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।

ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার উদ্দেশেই তার এই সফর। কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার পরও আগের সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশা করা উচিত হবে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখে কার্নি প্রধান এশীয় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে আগে থেকে দুর্বল সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত মাসে তিনি কয়েক বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বেইজিং সফর করেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ট্রুডোর ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবের প্রমাণ বারবার মিলেছে। কিন্তু ট্রুডোর উত্তরসূরি কার্নি সেই পথে হাঁটতে নারাজ। দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে উদ্যোগী তিনি। এই আবহে তার ভারত সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি অনিশ্চিত বিশ্বের মধ্যে কানাডা সেই বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিচ্ছে যা, আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি যাতে দেশের বেশি স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।’


ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ঘোষিত ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক কার্যকর করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

রায় প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন। পরে তিনি শুল্কহার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকি দিলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেননি। ফলে আপাতত ১০ শতাংশ হারেই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করছে। এই ধারায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রয়েছে প্রেসিডেন্টের।

বিনিয়োগ ব্যাংক আইএনজি গ্রুপ-এর বিশ্লেষক কারস্টেন ব্রজেস্কি মনে করেন, ঘন ঘন শুল্কহার পরিবর্তন ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিবিসি-র ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারেরা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, ফলে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি বেড়েছে।

নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, অস্থায়ী আমদানি শুল্কের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মার্কিন কৃষক, শ্রমিক ও উৎপাদকদের স্বার্থ সুরক্ষা।

তবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতি বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় (আইইইপিএ) ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ৬–৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে জানায়, ওই আইনের আওতায় বৈশ্বিক শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

রায়ের পর ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত মার্কিন স্বার্থবিরোধী। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যেসব দেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টালবাহানা করবে, তাদের ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির অনুমোদন আপাতত স্থগিত রাখা হবে। পরিস্থিতি অবনতি হলে তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।অন্যদিকে ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় ও নতুন শুল্ক কার্যকরের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোর প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে।


banner close