আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণাধীন নাগারনো-কারাবাখ অঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছেন জাতিগত আর্মেনীয় বাসিন্দারা। তারা আর্মেনিয়ার মূল ভূখণ্ডে চলে যাবেন।
বিবিসি জানায়, নাগারনো-কারবাখে এক লাখ ২০ হাজার আর্মেনীয় বাসিন্দা বাস করেন। গত সপ্তাহের লড়াইয়ে আজারবাইজানের কাছে পরাজয় মেনে নিয়েছে কারাবাখ কর্তৃপক্ষ। তবে আর্মেনীয় বাসিন্দারা আজারবাইজানের অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে বাস করতে চান না। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নাগোরনো কারাবাখের আর্মেনীয় বাসিন্দাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন তারা।
কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। তবে এলাকাটি দখলে রেখেছিল আর্মেনিয়া। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে দুটি যুদ্ধ হয়। ২০২০ সালে ছয় সপ্তাহের লড়াইয়ে অঞ্চলটিতে উভয় পক্ষের বহু মানুষ হতাহত হন। গত ৯ মাস ধরে আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ কারাবাখ-আর্মেনিয়ার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক লাচিন করিডোর অবরুদ্ধ করে রাখে। গত সপ্তাহে জাতিগত আর্মেনিয় অধ্যুষিত এই অঞ্চলটিতে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান চালায় আজারবাইজানের সেনাবাহিনী। পরে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় বির্তকিত অঞ্চলটিতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে জাতিগত আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ।
আজারবাইজান জানিয়েছে, তারা জাতিগত আর্মেনীয়দের অধিকারের নিশ্চয়তা দেবে এবং এই অঞ্চলকে একীভূত করবে। কিন্তু আর্মেনীয়রা জানিয়েছে, তারা দমন-পীড়নের আশঙ্কা করছে। নাগোরনো কারাবাখ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আমাদের জনগণ আজারবাইজানের অংশ হিসেবে থাকতে চায় না। ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ আমাদের ঐতিহাসিক ভূমি ছেড়ে চলে যাওয়াটা বেছে নিয়েছে।
এদিকে কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই নাগোরনো-কারাবাখে আজারবাইজানের সেনাদের কাছে পরাজয় মেনে নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আর্মেনিয়ার জনতা। তারা আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনইয়ানের পদত্যাগের দাবি করে বিক্ষোভ করেন।
কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর প্রস্তাবিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে অনুমোদিত একটি আইনের আওতায় এসব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তে থাকা টানাপোড়েন এবং দীর্ঘ চার বছরের রুশ আগ্রাসনে কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির শৈথিল্যের মধ্যেই এই পদক্ষেপ এলো, যা ইউরোপীয় মিত্রদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় মস্কোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ শতভাগ শুল্ক বসানোর বিধান রাখা হয়েছিল, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের অন্যতম বড় উৎস বাধাগ্রস্ত হয়।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “এ মুহূর্তে এ ধরনের অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে- এ মর্মে আমি কংগ্রেসকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।” তবে এই অব্যাহতি কীভাবে ওয়াশিংটনের স্বার্থরক্ষা করবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামানুসারে প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর অধীনে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন একে নেতৃত্বের ‘চরম ও অনুমেয় ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, কংগ্রেসের অভিপ্রায় অগ্রাহ্য করে ট্রাম্প মূলত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই সংঘাত জিইয়ে রাখার সুযোগ করে দিলেন। আইনটির অন্যতম প্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা নয়, বরং পুতিনকে তোষণ করার মনোভাব কাজ করেছে।
এদিকে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রফতানি নিয়ে ট্রাম্পের এক সমঝোতায় ইউরোপীয় নেতারা যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি জেলেনস্কিও নিজেকে প্রতারিত বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক রাখতে ইউক্রেনকে রুশ তেল স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেন কিছুদিন হামলা স্থগিত রেখে পুনরায় তা শুরু করে, বিপরীতে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় জোরালো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধকে কাঠগড়ায় তুললেও, ইরানে মার্কিন সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নিজ দেশেই তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।
পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদিও ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সামরিক সংস্করণে কড়াকড়ির ফলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, আগাম সতর্কতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি গতিশীল হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। নিউজম্যাক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সাথে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো তাঁর কাছে অনেক বেশি কঠিন।
অন্যান্য সামরিক জটিলতার মধ্যে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তবে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিয়েভের পাশে থাকার বার্তা জোরালো করেছে। বেলজিয়ামে আয়োজিত এক সম্মেলনে জেলেনস্কি ইউরোপের ‘প্রকৃত নেতাদের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ না করলে চাপ আরও বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ২২তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সাত দিন পার হওয়ার আগেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ থেকে কেটি জাচারিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অফিসে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার আইনগত পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এছাড়া নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তার কাজের ধরন ও পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই বিদায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে হারাতে বসল। অথচ এই সময়ে প্রেসিডেন্ট তার প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর কেটি জাচারিয়াকে তার চাকরি নিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি তাকে বলেছি, আমার মনে হয় তুমি সুখী হতে চাও এবং আমি নিশ্চিত নই যে এ ধরনের দায়িত্বে তুমি সুখী হতে পারবে কি-না। যদি আমি তোমার জায়গায় থাকতাম, তাহলে এ ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করতাম…(তুমিও) ভেবে দেখো। আমি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতাম।”
এর আগে গত সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন কেটি জাচারিয়া। পরের দিন মঙ্গলবার নিজের প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে তিনি জানান যে, আগের সপ্তাহের একটি দিনে তিনি এই পদের জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন।
দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তার কর্মজীবন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কারণ তিনি দাবি করেছিলেন যে অতীতে তিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে একজন আইনজীবী হিসেবেই সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
গত বুধবার এক ইমেইল বিবৃতিতে জাচারিয়া দাবি করেন যে, তিনি যথাযথ যোগ্যতা নিয়েই আন্তর্জাতিক লেনদেন বিষয়ক আইন প্র্যাকটিস করেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থার অনুসন্ধানে এমন কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র পাওয়া যায়নি যা প্রমাণ করতে পারে যে পেপারডিন ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের এই স্নাতক যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় নিবন্ধিত আইনজীবী ছিলেন বা কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জাচারিয়া স্বীকার করেন যে তিনি মূলত বার পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ডিগ্রি অর্জনের পর কোনো অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ না পেলে কেউ আইন পেশা পরিচালনা করতে পারেন না।
সাম্প্রতিক এই বরখাস্তের বিষয়ের ওপর মন্তব্য জানতে চেয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও কেটি জাচারিয়া কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাচারিয়া বলেছিলেন যে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দুজন ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রশাসন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রচার এবং ভাবমূর্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি মূলত এমন একজন নতুন মুখ খুঁজছিলেন যিনি প্রশাসনের অর্জনগুলোকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, আর এই ভাবনা থেকেই তিনি জাচারিয়াকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তার কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই।
কেটি জাচারিয়ার এই অতি দ্রুত বিদায়ের অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে প্রেস সেক্রেটারির সুদীর্ঘ ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে স্বল্পতম সময়ের জন্য এই দায়িত্ব পালন করলেন।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম শাসনকালে মাত্র দশ দিন যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন অ্যান্থনি স্কারামুচি এবং এতদিন পর্যন্ত প্রশাসনের সবচেয়ে কম সময় টিকে থাকার সেই রেকর্ডটি তারই দখলে ছিল।
গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় কেটি জাচারিয়ার চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে অ্যান্থনি মন্তব্য করেন, “রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।”
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লির রাজনীতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা এবং দুই আন্দোলনকারীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ পতাকা মিছিল ঘিরে ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে নিজ বাড়ি থেকে আটক হন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।
কনট প্লেস ও মধ্য দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ এবং বিক্ষোভস্থলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও আলোচনায় এসেছে।
মিছিলের আগে আটক, নিরাপত্তায় দিল্লি: শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। দলটির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
গত মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাসহ ১৪ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিলের আগে পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাকে কর্মসূচি না করার বিষয়ে নোটিশ দেয়। পরে তাকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা।
দিল্লি পুলিশের প্রায় ৬ হাজার সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৬ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজীব চক, প্যাটেল চক ও সংসদ মার্গেও ব্যারিকেড বসানো হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে সিজেপির নির্বাচিত কয়েকজন সদস্যকে বিকল্প কোনো স্থানে সীমিত পরিসরে পতাকা মিছিলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মূল বিরোধ: আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম। রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি শনাক্ত করা যায়নি—এমন ভোটারের নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে তারা সংশোধনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দাবি জানাচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত নিবন্ধিত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা নির্ভুল করা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। ভুলভাবে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগও রয়েছে।
রাহুল গান্ধীসহ বিরোধীদের সক্রিয়তা: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের তৎপরতা এ বিতর্ককে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করেছে। তবে বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য ও কর্মপদ্ধতি এক নয়। আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে তাদের সমন্বয়, জনসম্পৃক্ততা এবং দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর।
তরুণদের কর্মসংস্থান, চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও শিক্ষার সুযোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। ফলে নির্বাচনসংক্রান্ত বিতর্কের সঙ্গে তরুণদের বৃহত্তর প্রত্যাশার বিষয়গুলো যুক্ত হয়ে আন্দোলনের সামাজিক পরিসর বাড়াতে পারে।
আদালতের নজরে প্রতিবাদের অধিকার: ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী নেতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চেয়েছে। তবে আদালতের জবাব চাওয়া কোনো পক্ষের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না।
জনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকারও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিল ঘিরে ঘটনাপ্রবাহ ভারতের রাজনৈতিক বিরোধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ—এই তিনটি প্রশ্ন এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে এ আন্দোলনের ফলে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান বা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফল বদলে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে বিরোধীদের ঐক্য, আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে জীবিকা হারিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের ৪ কোটি ৫ লাখ পর্যন্ত মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি উদ্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব বলে মনে করছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ। ভারতের নয়াদিল্লি সফরকালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন।
আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য ও পশুখাদ্যের সংকট এবং জীবিকার সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় এই ঝুঁকি বাড়ছে।
অ্যামি পোপ বলেন, মানুষ যখন খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন না কিংবা গবাদিপশুর জন্য খাবার জোগাড় করতে পারেন না, তখন তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভারতের মতো দেশগুলোতে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের অভিবাসন বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাপপ্রবাহের কারণে মানুষ শহরাঞ্চলে চলে যাচ্ছেন বলে জানান আইওএমের মহাপরিচালক।
দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন অ্যামি পোপ। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গত ২৬ আগস্ট নেপালে পাহাড় ও হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ঘটনাও তুলে ধরেন আইওএমের মহাপরিচালক। ওই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল সংস্থাটি।
অ্যামি পোপের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও অভিযোজন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগে অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় কম। অথচ দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে আগেই প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ালে তুলনামূলক কম খরচে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব।
বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈধ আন্তর্জাতিক অভিবাসনকেও সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ মানুষের বিকল্প জীবিকার পথ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে যেসব দেশে শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের চাহিদা পূরণেও অভিবাসীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন অ্যামি পোপ। তা না হলে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত চক্রের শোষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন এক ভূরাজনৈতিক মোড়ে পৌঁছেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পারস্য উপসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলা, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে আঞ্চলিক সংকট এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরার।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সরকারি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমান্ড সেন্টার। হুতিদের দাবি, সৌদি সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অক্ষত রয়েছেন।
এ ঘটনার পাশাপাশি সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে হামলা ও হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের বিমানবন্দরকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হুতিরাও সৌদি বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছে।
সৌদি আরবকে চাপে রাখার কৌশল: সৌদি আরব ও হুতিদের বিরোধের শিকড় ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলের পর সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রাখলেও ২০২৬ সালে নতুন করে লড়াই তীব্র হয়েছে।
রয়টার্সের ১৫ অক্টোবরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা দেশটির অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। সৌদি আরবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অবস্থানকে পরোক্ষভাবে চাপে রাখার হিসাবও এতে থাকতে পারে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনায় পর্যটন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়লে নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার কারণে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল হতে পারে।
তবে হুতিদের কর্মকাণ্ডের সব উদ্দেশ্যকে শুধু ইরানের কৌশল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সৌদি সামরিক ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টাও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব: চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছে। ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি ১৫ অক্টোবর অভিযোগ করেন, ইরান হুতিদের হামলা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। সৌদি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সহায়তায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে তেহরান অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সরাসরি নির্দেশের প্রমাণও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের সহায়তা, হুতিদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ নিজ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা এবং সংঘাতকে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকানো। পাল্টা সামরিক অভিযান বাড়ালে হুতিদের সক্ষমতা দুর্বল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে; তবে এতে ইয়েমেনে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়া ও বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি নিরাপত্তার পরীক্ষা: পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর থেকে এখানে জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রণালীটিতে জাহাজে হামলা ও হামলার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারও বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার খবর দিয়েছে। ইরান নিজেদের নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকেরা বাণিজ্যিক জাহাজের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাস পরিবহন, জাহাজের বিমা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব ইউরোপ ও এশিয়ার বড় অর্থনীতির পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।
এখানে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের গুরুত্ব বাড়ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে বিকল্প রুট থাকলেই সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয় না। পাইপলাইন, পাম্পিং স্টেশন, শোধনাগার, বন্দর ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইয়ানবু রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা: সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারে ফ্রান্স সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফেরাঁ জানান, সৌদি জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের সমঝোতা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এর আগে ইয়ানবু অঞ্চলের নিরাপত্তায় সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে মোতায়েন করা সরঞ্জামের পরিমাণ ও সেগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এ উদ্যোগ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহাসিকভাবে দেশটির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ একাধিক দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। তবে ফ্রান্সের সহায়তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি সম্পর্কের অবসান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও অন্যান্য সক্ষমতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।
তায়েজ থেকে বাব আল-মান্দেব: বাণিজ্যপথে নতুন উদ্বেগ: রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তায়েজ নতুন করে তীব্র লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। হুতিদের অগ্রগতিতে শহরটির সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তায়েজ প্রদেশে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়ছে।
তায়েজের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শহরটি এডেন ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথের কাছাকাছি। সেখানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সুয়েজ খালমুখী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। জাহাজকে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলতে হলে সময়, জ্বালানি ও বিমা ব্যয় বাড়বে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রবাসীদের জন্য বার্তা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের ওপর কয়েকটি পথে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিমান চলাচল, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়লে আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব, জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি এবং বিকল্প পরিবহনপথের কার্যকারিতার ওপর। শুধু হামলার খবরের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জ্বালানির দাম বা প্রবাসী আয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সংকটের ভবিষ্যৎ কোন পথে: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই নৌপথেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা কত দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
সামরিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হামলা বাড়তে থাকলে ইয়েমেনের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হতে পারে। বিপরীতে, কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে হামলা বন্ধ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইয়েমেনের রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা গেলে সংঘাতের বিস্তার সীমিত করার সুযোগ থাকবে। হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংকটে তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে রয়েছে।
ভারতের দিল্লিতে মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে শিক্ষার্থী নেতা নেহা বোরাকে যন্তর মন্তরের কাছে থেকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে, নিজ বাসা থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিল করার কথা ছিল তার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দিপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল।
দিল্লিতে তিরঙ্গা কর্মসূচির আগে ককরোচ নেতা অভিজিৎ দিপকে আটকদিল্লিতে তিরঙ্গা কর্মসূচির আগে ককরোচ নেতা অভিজিৎ দিপকে আটক
গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করায় সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগের দিন ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই দুই সদস্যের গ্রেফতারও শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ।
এদিকে, সপ্তাহান্তে ককরোচ যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের অভিযানের মধ্যে আটক হওয়া পরিচিত কর্মীদের একজন নেহা বোরাও। ২৯ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী নেতাকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় দিপকেকে বলা হয়, আপনি নয়াদিল্লিতে যেতে পারবেন না। আমরা আপনাকে আটক করছি। জবাবে তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে যেতে পারব না, অন্য কোথাও তো যেতে পারি। আমি কোন আইন ভেঙেছি?
শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) আটকের আগে দিল্লি পুলিশ দিপকের বাসায় গিয়ে মিছিল না করার বিষয়ে তাকে একটি নোটিশ দেয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত তিরঙ্গা যাত্রার জন্য নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ককরোচ জনতা পার্টি মিছিল আয়োজন করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
গান্ধীর ছবি আঁকা সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা ৩১ বছর বয়সী দিপকেকে পুলিশ জানায়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরোধী নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং জনসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে। এ ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে পতাকা বিধির বিধান সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়।
প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বসার ঘরে হলুদাভ রঙের সোফায় বসে আছেন দিপকে। তার কাঁধে ছোট একটি জাতীয় পতাকা জড়ানো। সামনে কাচের টেবিলে রাখা কয়েকটি কাগজের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করতে করতে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছেন?
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল পরিবহনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে প্যারিস। বিশেষ করে লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ইয়ানবু এবং সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাসকাল কনফেরাঁ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা শুধু দেশটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি নয়, এর প্রভাব ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা কেবল সৌদির নিরাপত্তা বা এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না; এর ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছি আমরাও। জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পরতে হবে আমাদের।”
তিনি আরও বলেন, “তছাড়া আপনার এ-ও জানেন যে গত ২৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ফ্রান্স সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ইয়ানাবু পূর্ব-পশ্চিম করিডোর রক্ষায় সহযোগিতা করবে। সেই প্রতিশ্রুত সহযোগিতার অংশ হিসেবেই সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।”
গত মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে সেনাসদস্য ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে তাঁর দেশ। এর উদ্দেশ্য লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শহরটি সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সে সময় ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব সীমিত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা এই স্থানটিকে সুরক্ষিত রাখতে সামরিক সম্পদ—অর্থাৎ সৈন্য, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছি।”
তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন, সৌদি আরবে সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে ফ্রান্স সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহে ইয়ানবুর কৌশলগত গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর ইউরোপে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ থাকায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
পারস্য উপসাগর উপকূলের সৌদি তেল উৎপাদনকেন্দ্র থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭৫০ মাইল দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন এই সরবরাহব্যবস্থার মূল অবকাঠামো। এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পাঠাতে পারে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলেও বিকল্প পথে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকে।
আশির দশকের শুরুর দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়লে এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারও সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিতে এর গুরুত্ব বেড়েছে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন ও শোধনাগার
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা। গত সেপ্টেম্বরে ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে হুথিদের একটি হামলায় ইয়ানবুতে অবস্থিত ‘ইয়াসরেফ’ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির কারণে শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সম্ভাবনা
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক সহায়তার পরিধি কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ইয়ানবুর নিরাপত্তায় ফ্রান্স রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলে কিছু ফরাসি যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যে রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। আপাতত সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর মাধ্যমে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইয়ানবু বন্দর ও ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু সৌদি আরবের রপ্তানি নয়, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। তবে ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশটিতে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত শক্তিশালী বোমার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, এটি বিশাল আকারের প্রচলিত বিস্ফোরক অস্ত্র, পারমাণবিক বোমা নয়।
ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। পিক্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত ওই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এখন আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেনের দিকে নজর দিচ্ছি। সেখানে হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। আমরা ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাব এবং দ্রুত ধ্বংস করে দেব।
তবে এ অভিযানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন ট্রাম্প। ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাকে নিজের প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্পের মতে, এ লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে এক বছরের মধ্যে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হবে। একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এটি দ্রুত শেষ হবে।’
যুদ্ধের অবসান ঘটলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে জ্বালানির দামও কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। তাঁর ভাষ্য, চলমান আলোচনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাজনীতির জগতে তিনি কাউকেই বিশ্বাস করেন না।
ভূমধ্যসাগরের তলদেশে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর আগের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে আন্তালিয়া প্রদেশের কেকোভা দ্বীপের কাছে পাওয়া নিদর্শনটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের, যে সময় মিসরের গিজার বিখ্যাত মহাপিরামিড নির্মাণ করা হচ্ছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের নিচে থাকার কারণে জাহাজটির কাঠের কাঠামো আর অবশিষ্ট নেই। তবে এর বহন করা মাটির পাত্র ও পাথরের নোঙর এখনো সমুদ্রতলে টিকে আছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
কেকোভা দ্বীপের উপকূলের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে ঢালু তলদেশে ছড়িয়ে রয়েছে জাহাজটির নিদর্শন। সেখানে তিনটি বড় পাথরের নোঙরের পাশাপাশি পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ৩০টির বেশি মাটির পাত্র পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক পরিভাষায় এসব পাত্রকে ‘অ্যামফোরা’ বলা হয়।
জাহাজটির কাঠের অংশ না থাকায় রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে এর বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গবেষকেরা পাত্রগুলোর আকৃতি, নকশা ও অলংকরণ বিশ্লেষণ করে এর সময়কাল নির্ধারণ করেছেন।
তুরস্কের আকদেনিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাকান ওনিজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে গবেষকেরা দেখতে পান, পাত্রগুলোর দুই পাশে হাতল, মাঝখানে উঁচু খাঁজ এবং নিচে সমতল তলদেশ রয়েছে। মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া একই ধরনের প্রাচীন পাত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জাহাজটিকে প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের বলে চিহ্নিত করেছেন। ওনিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পাত্রগুলোর অলংকরণ কৌশল পর্যালোচনা করে জাহাজটির সময়কাল সম্পর্কে তাঁরা অত্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন।
প্রাচীন বাণিজ্যপথের সন্ধান
জাহাজটি কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলের কোনো বন্দর থেকে এটি যাত্রা করেছিল। বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের উপকূলীয় অঞ্চল সম্ভাব্য যাত্রাপথের মধ্যে রয়েছে।
গবেষকেরা মনে করছেন, জাহাজটি বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন ট্রয় নগরী কিংবা গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের মিনোয়ান সভ্যতার কোনো গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। মিসরের গিজা, সাক্কারা ও আবুসিরের পাশাপাশি ট্রয় ও ক্রিটে একই ধরনের পাত্র পাওয়ার ঘটনা প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত বাণিজ্যিক যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়। এতে বোঝা যায়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া কিছু পাত্রের ভেতরে এখনো ঘন ও চকচকে পদার্থের অবশিষ্টাংশ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ড. কারিন সোভাডা পাত্রগুলো পরীক্ষা করে এ আবিষ্কারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার পরও কিছু পাত্রের ভেতরে দৃশ্যমান অবশিষ্টাংশ টিকে থাকাকে তিনি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
গবেষকেরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, পাত্রগুলোতে কী ধরনের পণ্য রাখা হয়েছিল। এগুলোতে জলপাই তেল, ওয়াইন কিংবা গাছের রজন বহন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পাত্রগুলো একাধিকবার ব্যবহৃত হয়ে থাকলে বর্তমানে পাওয়া অবশিষ্টাংশ আগের কোনো পণ্যেরও হতে পারে।
প্রাচীন জাহাজডুবির রেকর্ডে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
কেকোভা দ্বীপের আশপাশের সমুদ্রপথ প্রাচীনকাল থেকেই বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। প্রবল বাতাস ও স্রোতের কারণে এ অঞ্চলে বহু জাহাজ ডুবে গেছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এলাকাটিতে শত শত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
সমুদ্রের গভীরে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান চালানোও বেশ কঠিন। পানির নিচে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ডুবুরিদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরীক্ষা ও উদ্ধারের কাজ এগিয়ে নিতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে গবেষকদের।
অধ্যাপক ওনিজ বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর তাঁরা প্রথমবারের মতো এসব বস্তু স্পর্শ করছেন। তাঁর কাছে এ আবিষ্কার কেবল একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেই সময়ের নাবিক, পাত্র নির্মাতা, পণ্য পরিবহনকারী শ্রমিক এবং তাঁদের জন্য অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জীবনকাহিনি।
এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির রেকর্ড নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। এর আগে গ্রিসের দোকোস দ্বীপের কাছে পাওয়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষকে সবচেয়ে প্রাচীন বলে বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে, কাঠের কাঠামো সংরক্ষিত থাকা প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলে, যার বয়স প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছর।
কেকোভার এই আবিষ্কার প্রাচীন সামুদ্রিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার বছর আগে সমুদ্রপথে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিস্তার সম্পর্কেও নতুন ধারণা দিতে পারে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুনে বনাঞ্চল পুড়ছে, বাড়ছে প্রাণহানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা গ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। একই সঙ্গে দাবানল মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব জাভার মাউন্ট ব্রোমো তেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানের দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে বন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের গতিপথ, বাতাসের দিক এবং জরুরি সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
এদিকে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে দাবানল সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে এসব অঞ্চলে ৯৯টি হটস্পট বা সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের স্থান শনাক্ত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২৪টির বেশি। তবে বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি হটস্পটই যে পৃথক দাবানলের ঘটনা, তা নয়। কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক লাখ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ আশপাশের দেশগুলোতেও। পরিস্থিতির অবনতিতে মালয়েশিয়া ও পূর্ব তিমুরের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা গ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরমানাথা নাসির শুক্রবার জানান, এ বিষয়ে দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবির কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বিদেশি সহায়তার প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে কোন পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হবে।
গত মাসে মালয়েশিয়া তিনটি হেলিকপ্টার, একটি উড়োজাহাজ এবং ৫২ জন কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। দাবানলের ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত আরেক প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুরও সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের বিস্তীর্ণ পিটভূমিতে আগুন দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে জ্বলতে পারে। উপরিভাগে আগুনের শিখা কমে এলেও ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুন যেকোনো সময় আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে এসব অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
দাবানলের বিস্তারে ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ধোঁয়াজনিত দূষণ কমানো এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক মন্ত্রী। সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কার্যক্রম এ প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মন্ত্রী জানান, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে তিনটি এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সদর দপ্তরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানান, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তাকর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। শহরের বাসিন্দারাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিনদানি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ বলে অভিহিত করেন। বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের ওপর হামলাকে হুতিদের অব্যাহত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত আল-মাশিক প্রাসাদ এবং সেখানে থাকা অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে এটিই প্রথম হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এ হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনেও তেহরানের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছে রিয়াদ।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তেলসমৃদ্ধ মারিব শহর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।
ভারতের চলমান যুব আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিক্ষোভকে ‘বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাম্প্রতিক বিক্ষোভেরও সমালোচনা করেছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লক্ষ্ণৌয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনাথ দাবি করেন, এই আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কার কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নয়। বরং তরুণদের অরাজক রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে।
বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের যুবসমাজকে অরাজক রাজনীতির দাবার ঘুঁটি বানানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো করে এখানেও রাজপথের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা চলছে।’ তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আবার কেউ রাজপথে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানোর কথা বলছেন। এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেসের সমালোচনা করে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, দলটির নেতারা ঐতিহ্যবাহী ‘গান্ধী’ নাম ব্যবহারের নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের ব্যবহৃত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’-এর মতো পরিভাষা থেকে বোঝা যায়, তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নয়। বরং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ভেঙে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
এদিকে, বিজেপিপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেহা বোরা নামের এক আন্দোলনকারীর তারিখবিহীন ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। বিজেপি নেতাদের শেয়ার করা ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দেশের আনাচকানাচে জেন-জিদের যে আন্দোলন আমরা দেখছি, তা প্রথমে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল। আমাদের পথ দেখানোর জন্য এবং এই দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’
ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ মূলত ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের মতোই একটি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। তবে বিজেপিপন্থী সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির ধারণের সময় এবং সত্যতা সম্পর্কে এখনো নিরপেক্ষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের নতুন করে হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন তিনি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, “সে যা করছে, তাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। আমার মতে, এটি লজ্জাজনক।” ট্রাম্প আরও বলেন, “অনেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো যায়। কিন্তু যখন ডিজেল উৎপাদনকারী শোধনাগারে হামলা চালানো হয়, যেখানে ডিজেল তেল তৈরি হয়, আর আমাদের ও বিশ্বের সেটি প্রয়োজন, তখন সে বিশ্বের জন্য ভালো কিছু করছে না।” গত সপ্তাহে ট্রাম্প একতরফাভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—কোনো পক্ষই এতে সম্মতির কথা জানায়নি। পরে জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ এ উদ্যোগ থেকে সরে আসছে। এরপর রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবার হামলা শুরু করে ইউক্রেন।
গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর শর্তে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেন ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছে। জেলেনস্কি এর সমালোচনা করে বলেন, এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পায়নি। নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি জেলেনস্কির খুব বড় ভক্ত নই।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, তারা দুজনই আসলে যুদ্ধের অবসান দেখতে চান। তবে পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো আমার কাছে বেশি কঠিন বলে মনে হয়।”
শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে ব্রাসেলসে পৌঁছান জেলেনস্কি। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর নেতাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁদের ‘প্রকৃত নেতা’ বলে অভিহিত করেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধের অবসান চায়, কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তুতির কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে চলতি সপ্তাহে আরও টানাপোড়েন তৈরি হয়। ইউক্রেনের দাবি, স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা সীমিত করায় তাদের ড্রোন হামলা পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বৃহস্পতিবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁকে সরাসরি বৈঠকে আশ্বস্ত করেছেন যে গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থাটি পুনরায় চালু হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্ট্রিটিং বলেন, এ বিঘ্নের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে মতবিরোধের ঘটনা এটাই প্রথম নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন নিয়ে ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা বলেন, যুদ্ধের সময় সহায়তার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার পথেও ইউক্রেন ইউরোপের সমর্থন পাবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, ইইউ ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু রাশিয়া এক মুহূর্তের জন্যও তা মেনে চলেনি; বরং হামলা আরও বাড়িয়েছে। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দেশটির বিরুদ্ধে ২২তম দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করব না।” এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গের অনুরোধে রাশিয়ার দুই প্রভাবশালী ধনকুবেরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিল ইইউ। এদিকে, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘প্রিয় ইউক্রেনীয় বন্ধুরা ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই—আপনারা একা নন।’
ব্রাসেলসে মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের লুৎস্ক শহরের জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ক্রেমলিন অভিযোগ করেছে, তেল শোধনাগারে হামলা পুনরায় শুরু করে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।