বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

বিশ্বের সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ দেশ মিয়ানমার

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:০১

বিশ্বের সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ দেশ এখন মিয়ানমার। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা নির্ধারণ বিষয়ে নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট বা এসিএলইডি নামের একটি সংস্থা।

বিশ্বের সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ ৫০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থাটি। এ তালিকায় পরের চারটি চরম সংঘাতপ্রবণ দেশ হচ্ছে যথাক্রমে সিরিয়া, মেক্সিকো, ইউক্রেন এবং নাইজেরিয়া।

তালিকায় আছে বাংলাদেশের নামও। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকেও বাংলাদেশের পাশাপাশি ‘উচ্চমাত্রার সংঘাতপ্রবণ’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান ১৩, ভারত ১৬ ও পাকিস্তান আছে তালিকার ১৯ নম্বরে। তবে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২২ নম্বরে।

গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধাদানকারীদের নতুন ভিসা নীতিতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণা দেয়া যুক্তরাষ্ট্রও আছে সংঘাতপ্রবণ শীর্ষ ৫০ দেশের তালিকায়। আছে ইউক্রেনে আগ্রাসন সৃষ্টিকারী রাশিয়ার নামও।

এসিএলইডি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যভিত্তিক একটি উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তালিকা প্রণয়নবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা। এ তালিকা প্রকাশে আগে বিশ্বের ২৪০টির বেশি দেশ এবং অঞ্চল থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।

এসিএলইডি জানায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত মোট ১২ মাসে সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতার ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি ঘটনা তালিকাভুক্ত করে। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।

প্রসঙ্গত, গত এক বছরে সংগৃহীত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি দেশ ও অঞ্চলকে চারটি নির্দেশকের মাত্রার ভিত্তিতে সংঘাত সূচকে ক্রমঅনুসারে তালিকাভুক্ত করে এসিএলইডি। এই নির্দেশকগুলো হলো মৃত্যু-আশঙ্কার তীব্রতা, বেসামরিক ব্যক্তিদের জন্য বিপদের মাত্রা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা ও বিভক্তি।

গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেশিরভাগ দেশই কমপক্ষে একটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। তবে অনেক বেশি সংঘাতের তালিকায় রয়েছে শীর্ষ ৫০টি দেশ। এসব দেশকে উচ্চমাত্রার সংঘাতের কারণে ‘চরম’, ‘উচ্চ’, বা ‘অশান্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে মিয়ানমারে। এ পরিস্থিতি নিয়ে দেশটি ‘চরম’ পর্যায়ভুক্ত হয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গাদের ওপরে নৃশংস নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের দেশ ছাড়া করার পর এখনো দেশটির অভ্যন্তরে আঞ্চলিক সন্ত্রাস ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও জান্তা শাসনের কারণে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা অং সান সুচি এখনো অন্তরীণ। ফলে রাজনৈতিক হানাহানি দেশটিতে লেগেই রয়েছে।

চরম সংঘাতময় পরিস্থিতির অপর দেশগুলো হচ্ছে ইউক্রেন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, ব্রাজিল, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, নাইজেরিয়া ও মেক্সিকো।

‘উচ্চমাত্রা’র সংঘাতপ্রবণ দেশ হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সুদান, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, ক্যামেরুন, নাইজার, মালি, ভেনেজুয়েলা, হন্ডুরাস, গুয়েতেমালা, হাইতিসহ কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্রকে।

‘অশান্ত’ দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, লিবিয়া, ঘানা, শাদ, তুরস্ক, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেমিয়া, মোজাম্বিক, ইকুয়েডরসহ আরো কিছু রাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের নাম এ তালিকায় আসার অন্যতম কারণ দায়ী করা হয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান বিস্তারকে। আর ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে দেশের ভেতরে নানা ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিবাদ, ভাড়াটে যোদ্ধাদের আগ্রাসন ইত্যাদি রাশিয়াকে তালিকায় টেনে এনেছে।

এসিএলইডির যোগাযোগ বিভাগের প্রধান স্যাম জোনস বলেন, এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু দরিদ্র বা অগণতান্ত্রিক দেশেগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি আরো বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিভাজন; বিশেষ করে, এই দুটি সূচকের অবনতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এ তালিকায় এসেছে।


গাজা বিষয়ে বাইডেন-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় বন্দি জিম্মি মুক্তি ও মানবিক সহায়তা সক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। খবর সিনহুয়ার।

ফোনালাপকালে বাইডেন গত তিন দিনে হামাসের হাতে বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দুই নেতা হামাসের হাতে বন্দি সকল জিম্মির মুক্তির ক্ষেত্রে সমর্থন অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ব্যাপারে দুই নেতা সম্মত হয়েছেন যে- কাজটি এখনো শেষ হয়নি এবং তারা এক্ষেত্রে সকল জিম্মির মুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। উভয় নেতা আগামী দিনগুলোতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই নেতা গাজায় যুদ্ধ বিরতি এবং মানবিক সহায়তা আরো বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছেন।


নিলামে প্রিন্সেস ডায়ানার ব্লাউজ

প্রিন্সেস ডায়ানা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ ১৯৮১ সালে প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানার বাগদানের ঘোষণা দিয়ে তার একটি ছবি প্রকাশ করেছিল। সে ছবিতে ডায়ানাকে যে ব্লাউজটি পরা দেখা গিয়েছিল, সেটি এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত পোশাক ও অন্য জিনিস নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া একটি নিলামে ব্লাউজটি বিক্রির জন্য তোলা হবে।

ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার্লস ও ডায়ানার বাগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পাশাপাশি ডায়ানার একটি একক ছবি ভোগ সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবারের ফটোগ্রাফার লর্ড স্নোডন ছবিটি তুলেছিলেন। ওই ছবিতে ডায়ানার পরনে ছিল কুঁচি দেয়া কলারযুক্ত গোলাপি রঙের ক্রেপ কাপড়ের একটি ব্লাউজ।

ব্লাউজটির ডিজাইন করেছিলেন ডেভিড ও এলিজাবেথ এমানুয়েল। ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলসের (বর্তমান ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস) সঙ্গে ডায়ানার বিয়ে হয়। ডায়ানার সে বিয়ের পোশাকটিরও ডিজাইন করেছিলেন ডেভিড ও এলিজাবেথ এমানুয়েল। ২০১৯ সালে লন্ডনে কেনসিংটন প্রাসাদে ‘ডায়ানা: হার ফ্যাশন স্টোরি’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীতেও ব্লাউজটি রাখা হয়েছিল। জুলিয়েনস অকশনস অ্যান্ড টার্নার ক্ল্যাসিক মুভিজ (টিসিএম) চার দিনের এ নিলামের আয়োজন করেছে। সেখানে ডায়ানার পরা আরও একটি পোশাকও বিক্রির জন্য তোলা হবে।

রাজপরিবারের ফ্যাশন ডিজাইনার মরক্কোর বংশোদ্ভূত জ্যাকস আজাগুরি পোশাকটির ডিজাইন তৈরি করেছিলেন। ১৯৮৫ সালের এপ্রিলে ইতালির ফ্লোরেন্সে পোশাকটি পরেছিলেন ডায়ানা। নিলামে এটি এক লাখ ডলার থেকে শুরু করে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন হলিউড তারকাদের পরা পোশাক-পরিচ্ছদও ওই নিলামে তোলা হবে। আগামী ১৪ থেকে ১৭ ডিসেম্বর বেভারলি হিলসে এবং অনলাইনে ‘জুলিয়েনস অকশনস অ্যান্ড টিসিএম প্রেজেন্ট: হলিউড লেজেন্ডস’ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।


ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দি

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আইসিআরসির বাসে বাড়ি ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দি। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া চার দিনের যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় এ ৩৯ ফিলিস্তিনিকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে দ্বিতীয় ব্যাচে ১৩ ইসরায়েলিসহ আরও ১৭ বন্দির মুক্তি দিয়েছিল হামাস।

ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির দ্বিতীয় ব্যাচের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রোববার ইসরায়েলের কারাগার থেকে ছয় নারী এবং ৩৩ জন নাবালকসহ ৩৯ ফিলিস্তিনির মুক্তি দিয়েছে। এর আগে শনিবার ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রসের (আইসিআরসি) সমন্বয়ে গাজা থেকে ১৩ ইসরায়েলি এবং চার বিদেশিকে মুক্তি দেয়া হয়।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফা অনুসারে, মুক্তি পাওয়ার পর ৩৪ ফিলিস্তিনি বন্দিকে আইসিআরসির একটি বাস ইসরায়েলি ওফার কারাগার থেকে পশ্চিম তীরের মধ্যাঞ্চলীয় আল-বিরহে নিয়ে যায়।

ওয়াফা জানিয়েছে, এ সময় বন্দিদের মুক্তি উদ্‌যাপন করতে আল-বিরহ পৌরসভা চত্বরে শত শত ফিলিস্তিনি জড়ো হয়েছিলেন। এ ছাড়া অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা বাকি পাঁচ বন্দিকে আল-মাসকুবিয়াহ কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। সেখানে পরিবার তাদের গ্রহণ করে।
এর আগে হামাস শুক্রবার চার দিনের মানবিক বিরতির প্রথম দিনে ইসরায়েলের কারাগার থেকে ৩৯ ফিলিস্তিনির মুক্তি নিশ্চিত করে এবং বিনিময়ে ২৪ ইসরায়েলি ও বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দেয়। এরপর শনিবার ইসরায়েলের ১৩ বন্দিসহ আরও ১৭ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি। মুক্তি পাওয়া অন্য চার বন্দি থাইল্যান্ডের নাগরিক।

যদিও দ্বিতীয় দফায় এ মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে বেশ কয়েক ঘণ্টার বিলম্বের পর ওই ১৭ জনকে মুক্তি দেয় হামাস। ইসরায়েল চলমান যুদ্ধবিরতির একটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে হামাস অভিযোগ তোলার পর বন্দি মুক্তিতে ওই বিলম্ব হয়।

তবে এই বৈরিতা শনিবার কাতার এবং মিসরের মধ্যস্থতায় সমাধান করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস বন্দি মুক্তি দেয়ায় দ্বিতীয় ব্যাচে ইসরায়েল থেকে ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি পাওয়া বাকি ছিল। রোববার তাদেরই মূলত মুক্তি দেয়া হলো।


সাগরতলে জায়গা বদলাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিমবাহ

স্যাটেলাইট থেকে তোলা অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহের ছবি। ১৫ নভেম্বর তোলা ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিমবাহের নাম এ২৩এ। অ্যান্টার্কটিকার এই হিমবাহ আয়তনে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের দ্বিগুণেরও বড়। কয়েক দশক ধরে বিশাল এই হিমবাহ সাগরতলে আটকে ছিল। এখন গবেষকরা বলছেন, হিমবাহটি নড়তে শুরু করেছে। ক্রমে জায়গা বদলাচ্ছে এটি।

হিমবাহটি প্রায় ৪০০ মিটার বা ১ হাজার ৩১২ ফুট পুরু। এর আয়তন ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ১ হাজার ৫৪৪ বর্গমাইল। যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের আয়তন ১ হাজার ৫৭১ বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ৬০৭ বর্গমাইল। সে হিসাবে এ২৩এ হিমবাহের আয়তন লন্ডনের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

অ্যান্টার্কটিকায় বৃহদাকারের হিমবাহ ফিলচনার-রোনের অংশ ছিল এ২৩এ হিমবাহ। ১৯৮৬ সালে এটি ভেঙে পড়ে ওয়েডেল সাগরের তলদেশে তলিয়ে যায়। সেই থেকে হিমবাহটি সাগরতলে একই জায়গায় আটকে ছিল।

যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জরিপ চালানোর পর বিজ্ঞানী এলা গিলবার্ট ও অলিভার মার্শ বলেন, তিন দশকের বেশি সময় পরে এসে হিমবাহটি নড়ছে এবং জায়গা বদলাচ্ছে। তারা জানান, সমুদ্রের স্রোতে ভেসে হিমবাহটি ক্রমে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এখন এটির চলার গতি দৈনিক প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বা তিন মাইল।

এ দুই বিজ্ঞানীর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহে পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রতিবছর অ্যান্টার্কটিকায় প্রচুর পরিমাণে বরফ গলে যাচ্ছে। মূলত এ কারণে বৃহদাকারের এ২৩এ হিমবাহ সমুদ্রতলে জায়গা বদলাতে শুরু করেছে।


ইরানের দৃষ্টিতে যে কারণে যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল

ক্যাপশন: মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি
আপডেটেড ২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ১৫:০৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় হঠাৎ করে ইসরায়েল কেন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, তার কারণ জানিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি। তিনি জানিয়েছেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এ যুদ্ধে বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- এমনটি অনুভব করলে তেল আবিব কখনো যুদ্ধ থামাত না।

ইরানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের এক সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সালামি বলেন, ইসরায়েলের অক্ষমতা ও ব্যর্থতা আজ স্পষ্ট, তাই দেশটি যদি তার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নেয় এবং আবারও ভুল করে, তাহলে তারা আরও বড় ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েল তার দুর্গ থেকে গাজায় স্থল অভিযান চালানোর ফলে তাকে এর মূল্য দিতে হয়েছে। ৩০০ এর বেশি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে হামাস। শত্রুরা ভেবেছিল শিশু, নারী ও নবজাতক শিশুদের হত্যা করে তারা বিজয়ের পতাকা উড়াবে এবং তাদের কাছে বিজয়ের সংজ্ঞা কেবল এটাই যে, প্রতিরক্ষাহীন অসহায় বেসামরিক লোকদের ধ্বংসস্তূপের নিচে সমাধিস্থ করা।

জেনারেল সালামি আরও বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে ব্যস্ত রেখেছে এবং ইসরায়েল পশ্চিম তীরেও সংকটের শিকার হয়েছে। ফলে ইসরায়েল দিনরাত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’

গাজার যুদ্ধকে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে জেনারেল সালামি বলেছেন, ‘এ যুদ্ধে ইসরায়েলের সহযোগী হয়েছে মার্কিন, ফরাসি, ব্রিটিশ ও জার্মান সরকারসহ একদল মোনাফিক শক্তি। কিন্তু তারা সবাই পরাজিত ও হতাশ হয়েছে।’

বিষয়:

প্রায় ২শ ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকেছে গাজায়

ক্যাপশন: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শুক্রবার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন ১৯৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ফিলিস্তিন শাখা (পিআরসিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় শুক্রবার পিআরসিএস জানিয়েছে, ‘শুক্রবার গাজায় মোট ১৯৬টি ত্রাণ ও সহায়তা পণ্যবাহী ট্রাক রিসিভ করেছে পিআরসিএস। এসব ট্রাকের ৮টিতে ওষুধ ও মেডিকেল পণ্য, চারটি ট্রাকে হাসপাতাল শয্যা এবং বাকিগুলোতে খাদ্য, পানি ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী রয়েছে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গত দেড় মাসে এই প্রথম এক দিনে এত বেশিসংখ্যক ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করল। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলা চালানোর পর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। পরে ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর দিন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে শত শত সামরিক-বেসামরিক মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪২ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে গিয়েছিলেন হামাসের যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান ও স্থল বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে গাজায় নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনি। এই নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। টানা প্রায় দেড় মাস যুদ্ধ চলার পর নভেম্বরের মাঝামাঝি কাতারের মাধ্যমে ইসরায়েলের সরকারকে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় হামাস। সে প্রস্তাবে বলা হয়, ইসরায়েল যদি গাজা উপত্যকায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, রাফাহ ক্রসিংয়ে অপেক্ষারত ত্রাণ, জ্বালানি ও মানবিক সহায়তা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে প্রবেশ করতে দেয় এবং ইসরায়েলি কারাগারগুলো থেকে অন্তত ১৫০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়, তাহলে নিজেদের হাতে থাকা জিম্মিদের মধ্য থেকে ৫০ জনকে ছেড়ে দেবে হামাস।

প্রথমদিকে এই শর্ত আমলে না নিলেও পরে ইসরায়েলের নাগরিক, জিম্মিদের পরিবারের সদস্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ২১ নভেম্বর সেই প্রস্তাবে সায় দেয় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা।

বিষয়:

চীনে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছে ৬ দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দেশ চীন তার ঐতিহ্যবাহী ভূখণ্ড ঘুরে দেখার জন্য এবার ৬টি দেশকে এক বছরের জন্য ভিসামুক্ত সুবিধা দিতে যাচ্ছে। এ সুযোগ পাওয়া দেশগুলোর ৫টিই ইউরোপের, অপরটি এশিয়ার।

দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও মালয়েশিয়া।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এসব দেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত দেশটিতে ভিসা ছাড়াই ব্যবসা বা ভ্রমণ করতে পারবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং শুক্রবার বলেন, চীনের উন্নয়নকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেরই চীনে প্রবেশ করতে ভিসার প্রয়োজন হয়। তবে সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম শিথিল করে দিয়েছে চীন সরকার। এসব দেশের নাগরিকরা ১৫ দিনের বেশি সময় ভিসা ছাড়া চীনে ব্যবসা ও ভ্রমণ করতে পারেন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের মার্চে কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল চীন। তিন বছর পর এ বছর মার্চে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়।

মহামারির আগে প্রতি বছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থী চীনে ভ্রমণ করত।


গাজায় ক্ষণিকের স্বস্তি, চার দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু

গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সড়কে হাঁটছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
মাজেদুল হক তানভীর

অবশেষে গাজায় স্বল্প সময়ের জন্য বন্ধ হলো বোমা হামলা, যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের ওড়াউড়ি। কাতারের মধ্যস্থতায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতেই প্রথমবারের মতো স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন ফিলিস্তিনিরা। যদিও তারা জানেন, এই বিরতির পর আবারও আসছে ভয়াবহ হামলা।

গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) থেকে শুরু হয়েছে বহু আকাঙ্ক্ষিত এই যুদ্ধবিরতি। এ দিন ইসরায়েলের ১৩ জিম্মিকে ছেড়ে দেয়ার কথা রয়েছে হামাসের। যাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তারা কারা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এদিকে ১৩ ইসরায়েলিকে ছাড়ার আগে ১২ থাই নাগরিককে ছেড়ে দিয়েছে তারা।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের তুলে নেয়ার পথে রয়েছেন। তবে জিম্মিরা কোথায় আছে, তা নির্দিষ্ট করেননি।’

মিসরীয় স্টেট ইনফরমেশন সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিসরের নিবিড় প্রচেষ্টার ফলে ১২ জন থাই নাগরিককে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, থাই নাগরিকদের মুক্তি দেয়া তার অংশ নয়।

চার দিনের যুদ্ধবিরতির এই সময় মোট ৫০ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের শর্তে চার দিনের এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল কমপক্ষে ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এ ছাড়া তারা গাজায় আরও মানবিক সহায়তার অনুমতি দেবে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, হামাসের এ হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এ ছাড়া দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ইসরায়েল থেকে ধরে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে রেখেছে হামাস।

জবাবে ৭ অক্টোবর থেকেই গাজাকে অবরুদ্ধ করে নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়ে আসছিল ইসরায়েল। পাশাপাশি তারা গাজায় স্থল অভিযান চালাচ্ছিল।

গাজায় ঢুকছে ত্রাণবাহী ট্রাক

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে ট্রাক প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন রাফা ক্রসিংয়ের কর্মকর্তারা। তারা জানান, মিসর থেকে রাফা ক্রসিং দিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে বেশ কিছু ট্রাক প্রবেশ করছে।

রাফা ক্রসিং প্রশাসনের মুখপাত্রের বিবৃতিতেও গাজা উপত্যকায় সাহায্য ও জ্বালানি ট্রাকের প্রবাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মুখপাত্র জানান, ২৩০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারে।

যুদ্ধবিরতি শেষে ফের হামলা

এদিকে যুদ্ধবিরতি শেষে আবারও হামলা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। গত বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযান ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের বিরতি শেষ হলে আরও অন্তত দুই মাস হামাসের বিরুদ্ধে তীব্রতর লড়াই চালিয়ে যাবে ইসরায়েলের বাহিনী।

ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় আপনারা যেটা দেখবেন জিম্মিদের মুক্তি। তবে এটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হবে।’

সেনাদের উদ্দেশে ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, বিরতির সময় সংঘটিত হতে হবে। এ সময় প্রস্তুতি নিতে, তদন্ত করতে, আরও অস্ত্র সরবরাহ করতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, ‘যুদ্ধ চলমান প্রক্রিয়া। কারণ, আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে চাই। জিম্মিদের পরবর্তী দলগুলোর জন্য উদ্দীপনা তৈরি করতে চাই। কেননা, শুধু চাপ প্রয়োগের জেরেই জিম্মিরা আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। আশা করা হচ্ছে, আরও অন্তত দুই মাস এ লড়াই চলতে পারে।’

৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধে ইসরায়েল

যুদ্ধ পরিচালনায় এরই মধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে ইসরায়েল। আগামী দিনে এ খরচ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে বেসরকারি আর্থিক পরামর্শক সংস্থা। অনুমানিক হিসাবে চলতি বছর ও আগামী বছরে ইসরায়েলের আনুমানিক যুদ্ধব্যয় হচ্ছে চার হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

হিসাব করে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের এ যুদ্ধ হতে পারে অর্ধ শতকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। যার কারণে ঋণে জড়াতেও পারে তেল আবিব।
ইসরায়েলের সংস্থা লিডার ক্যাপিটাল মার্কেটের তথ্যানুসারে, এই ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশ বহন করবে তেল আবিব। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা তহবিল থেকে আসবে বাকি অংশ।

এর আগে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এক ঘোষণায় জানানো হয়, এবারের যুদ্ধে খরচ হবে পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তবে সাম্প্রতিক এ হিসাব সে তুলনায় অনেকটাই কম।

গত অক্টোবরে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গাজায় প্রতিদিনের হামলায় ইসরায়েলের ব্যয় হচ্ছে ২৭ কোটি ডলার। আরও বলেছিল, যুদ্ধের সমাপ্তি মানেই ক্ষতির সমাপ্তি নয়।

লিডার ক্যাপিটাল মার্কেটের এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্লুমবার্গ বলছে, সম্ভবত ইসরায়েল অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়েছে। সংস্থাটি যে পরিসংখ্যান উত্থাপন করেছে, তাতে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বৈদেশিক ঋণের দ্বারস্থ হতে হবে।

ইসরায়েলের অতর্কিত হামলায় গাজা উপত্যকায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৫৪ জনে। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।


৬০০ দিন পর কারামুক্ত কাশ্মীরের সাংবাদিক ফাহাদ শাহ

সাংবাদিক ফাহাদ শাহ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কারামুক্ত হয়েছেন ভারতের কাশ্মীরের আলোচিত সাংবাদিক ফাহাদ শাহ। ৬০০ দিনের বেশি কারাবন্দি থাকার পর আদালত জামিন মঞ্জুর করলে বৃহস্পতিবার মুক্তি পান তিনি। সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করে উপস্থাপন, ভুয়া খবর ছড়ানো এবং জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে উসকানির অভিযোগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফাহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জম্মুর কট ভালওয়াল কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ফাহাদ। গত সপ্তাহে জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট জামিন আদেশে বলেছেন, ফাহাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করে উপস্থাপনের ‘পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ’ পাওয়া যায়নি।

ফাহাদ স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল কাশ্মীর ওয়ালার মালিক ও সম্পাদক। এ বছরের আগস্টে পোর্টালটি নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। তবে এর কারণ জানানো হয়নি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হওয়ার ২২ দিন পর জামিন পান ফাহাদ। কিন্তু এর পরপরই অন্য একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

ওই বছরের মার্চে আবার জামিন হলেও তৃতীয় একটি মামলায় ফাহাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এখন তিনটি মামলাতেই জামিন পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।


গাজায় যুদ্ধ বিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েল-হামাস চলমান যুদ্ধে চার দিনের যুদ্ধবিরতি শুক্রবার শুরু হয়েছে। বন্দীদের বিনিময়ে জিম্মিদেরও মুক্তি দেয়া শুরু হবে। চলমান যুদ্ধে সাত সপ্তাহের মধ্যে এটি প্রথম বিরতি। ইসরায়েলি ধ্বংসাত্মক হামলায় গাজায় হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এদের মধ্যে বেশির নারীও শিশু।

দীর্ঘ আলোচনা, সমঝোতা এবং বিলম্বের পর আজ (স্থানীয় সময়) সকাল ৭টায় (০৫০০ এজিএমটি) এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

শান্তি আলোচনা মধ্যস্থতাকারীরা কাতার জানায়, গাজায় বন্দী ১৩ জিম্মিদের প্রথম দল এবং ইসরায়েলি কারাগার থেকে অনির্ধারিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।

চুক্তিটি ইসরায়েলি অবিরাম বোমাবর্ষণ থেকে গাজার দুই মিলিয়নেরও বেশি বাসিন্দাদের জন্য একটু স্বস্তির অবকাশ দেবে। গাজা উপত্যাকা হামাস সরকার বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১৫,০০০ লোক নিহত হয়েছে এবং আরও অগণিত লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারের জন্য যুদ্ধবিরতি অনেক দেরিতে আসে।

ফিদা জায়েদ যার ২০ বছর বয়সী ছেলে উদাই সাম্প্রতিক বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন ‘এখানে যারা জীবিত আছে কার্যত তারাও মৃতপ্রায়।’

তিনি বলেন, ‘শেষ কথাটি তিনি আমাকে বলেছিলেন, তিনি শুক্রবার যুদ্ধবিরতির জন্য অপেক্ষা করছেন।’ ‘উদাই আমাকে তার জন্য ভাত এবং মুরগির মাংস প্রস্তুত করতে বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আমি এবং আমার সন্তানরা এখানে মারা যাবে যাতে আমাদের একে অপরকে শোক পালন করতে পারবো না।’

কাতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, মুক্তি পাওয়া ১৩ জন জিম্মির ‘প্রথম ব্যাচ’ একই পরিবারের নারী ও শিশু হবে।

চার দিনে অন্তত ৫০ জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি ট্রমা বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎকদের দল তাদের জন্য অপেক্ষা করবে। সাথে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত সৈন্যরা থাকবে। যাদের নির্দেশিকা অনুসারে তাদের নিরাপদে রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং শিশুদের জন্য প্রিয় একটি খাবারের আইটেম বহন করবে। তা পিৎজা বা চিকেন স্নিজেল যাই হোক না কেন।

ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি বন্দীদেরও শুক্রবার মুক্তি দেওয়া হবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি কতজন মুক্তি পাবেন তা উল্লেখ না করে বলেছেন, বন্দীদের নামের তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে।

আনসারি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী এই সময় আকাশ পথ ও স্থলে কোন আক্রমণ ছাড়াই সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে’ এবং ড্রোন থেকে পরিষ্কার আকাশ ‘নিরাপদ পরিবেশে জিম্মিদের মুক্তির অনুমতি দেয়ার জন্য’ আকাশ ড্রোন মুক্ত থাকবে।’

হামাসের সশস্ত্র শাখা নিশ্চিত করেছে, খাদ্য, পানি এবং জ্বালানীর অভাবের সাথে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রামরত গাজাবাসীদের সহায়তা প্রদানের উদ্দেশে ‘এই চুক্তির অধীনে সকাল ৭টায় লড়াই বন্ধ করা হবে।’

এতে বলা হয়েছে, জিম্মিদের প্রত্যেকের জন্য তিনজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, যাদের মুক্তি পাওয়ার কথা তাদের ‘নামের প্রথম তালিকা’ পাওয়ার পর তারা জিম্মিদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছে। এতে কারা ছিল তা উল্লেখ করা হয়নি।


শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান গাজা: ইউনিসেফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা বিশ্বে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার (ইউনিসেফ) নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, অনেক চেষ্টার পর গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সাময়িক যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা শিশুদের জীবন বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানকার পরিস্থিতি নজিরবিহীন। যা দেখলাম ও শুনলাম তাতে আমি হতভম্ব, স্তম্ভিত।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজার দক্ষিণাঞ্চল সফরে তার অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই তুলে ধরেছেন তিনি। নিরাপত্তা পরিষদকে বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।

ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, ‘৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে যা মোট নিহতের ৪০ শতাংশ।’

গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি শিশুদের জীবন বাঁচাতে যথেষ্ট নয়। শিশুদের বাঁচাতে ও ত্রাণকর্মীদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।’

গাজায় আরও ১ হাজার ২০০ শিশুর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, ‘তারা হয়তো ইসরায়েলের বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, নয়তো নিখোঁজ।’

তিনি বলেন, ‘গাজায় শিশুরা খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আগামী কয়েক মাসে এ শিশুদের তীব্র অপুষ্টির মাত্রা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।’

প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে নিহত হন ১ হাজার ২০০ জন। সেদিন ইসরায়েলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ২৪০ জনকে জিম্মিও করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। হামাসের হামলার কিছুক্ষণ পরই গাজায় নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েল বাহিনী। এরপর থেকে অব্যাহত হামলায় গাজার ১৪ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

ইসরায়েল সরকার ও হামাস বুধবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে একমত হয়। সে অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে গাজায় চার দিন ইসরায়েলি হামলা বন্ধ রাখার কথা ছিল। এ ছাড়া চুক্তির আওতায় অন্তত ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়ার কথা ইসরায়েলের। পাশাপাশি গাজায় আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে। বিনিময়ে ইসরায়েল থেকে জিম্মি করা অন্তত ৫০ জনকে মুক্তি দেবে হামাস।

তবে বুধবার রাতে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকায় শুক্রবারের (আজ) আগে হামলা বন্ধ করবে না ইসরায়েল। এর আগে জিম্মি করা ব্যক্তিদের মুক্তি দেবে না ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসও।’


২০২৪ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে তিন ঝুঁকি, আস্থা কমেছে বাইডেনে

আপডেটেড ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১৫:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৩ সালে মার্কিন অর্থনীতি পূর্বাভাসকারীরা বলেছিলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর ও মন্দার দিকে যাচ্ছে। অবশ্য ওই পূর্বাভাসের যুক্তিসংগত কারণও ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, দেশটির অর্থনীতি দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে থাকে। এমনকি মূল্যস্ফীতিও কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিশ্লেষকই হতাশা থেকে সরে এসেছেন। এবার তাদের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালে মন্দা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া মূল্যস্ফীতিও তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।

তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। প্রথমত, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারের বৃদ্ধি ও এর প্রভাবের মধ্যে সবসময় দেরি। ২০২৩ সালে ভোক্তা ও কোম্পানিগুলোর সঞ্চয় ছিল, যা তাদের অর্থায়নের প্রয়োজনকে সীমিত করেছিল। ২০২৪ সালে তাদের ‌‘থিনার বাফার’ থাকবে এবং উচ্চ হারে তাদের এক্সপোজার বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয়ত, যদিও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানো শেষ করে ফেলেছে। তবে প্রকৃত হার ক্রমশ আরও সীমাবদ্ধ হয়ে উঠবে, কারণ মূল্যস্ফীতি কমছে।

তৃতীয়ত, বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং ফের ধীরগতির দিকে এগোচ্ছে অর্থনীতি।

এই প্রবণতার মধ্যে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। এরই মধ্যে মার্কিন ভোটাররা বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটিকরা।

১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে চারজনেরও কম ব্যক্তি বাইডেনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন। যদিও তার প্রশাসন বেশ কিছু সফলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেগুলো হলো মন্দা এড়িয়ে যাওয়া, বেকারত্বের হার কম রাখা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগে আইনও পাস করেছে বাইডেন সরকার।

তবে এসব সফলতায় আপাতত মন গলছে না মার্কিনিদের। কারণ বাইডেন যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, সে সময় থেকে দ্রব্যমূল্য এখনো প্রায় ২০ শতাংশের বেশি রয়েছে।

বিষয়:

অবশেষে গাজায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে হামাস যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। ৫০ জন জিম্মির বিনিময়ে অবরুদ্ধ গাজায় চার দিন যুদ্ধবিরতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে গাজা ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময় ঘোষণা করা হবে। চার দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে আর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের হাতে জিম্মি ৫০ জন শিশু ও নারীকে মুক্তি দেয়া হবে। এদিকে কাতারের শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে এ চুক্তিতে পৌঁছানোর পেছনে তাদের অসাধারণ নেতৃত্ব এবং অংশীদারিত্বের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

হামাসের কাছে জিম্মি ২৪০ জনের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এ পর্যন্ত দুই দফায় চার জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস।

এর আগে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তারা। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছিলেন, ‘হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা কাজ করছি। এখন আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা হয়তো জিম্মিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে পারব। কিন্তু সব কিছু হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।’

হামাস-ইসরায়েল সমঝোতা চুক্তিতে যা আছে

ইসরায়েলি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের মুক্তি দেয়া হবে তাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে হামাস বলছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করবে, চিকিৎসা ও জ্বালানিসহ যেসব অনুদান গাজায় পাঠানো হবে তা যেন নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে, দক্ষিণ গাজায় চার দিন যুদ্ধবিরতি থাকবে আর উত্তর গাজায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ড্রোনের ব্যবহার বন্ধ থাকবে। যুদ্ধবিরতি চলাকালে গাজায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না ইসরায়েলি সেনারা এবং হামলা চালানো বন্ধ রাখবে। তবে ঠিক কবে জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামাস বলছে, কারাবন্দি ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। তাদের সবাই নারী ও শিশু। সেই সঙ্গে ত্রাণ ও অনুদান যেন গাজায় ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে সে জন্য রাফাহ সীমান্ত খুলে দিতে হবে।

এদিকে ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, প্রতি ১০ জন অতিরিক্ত জিম্মি মুক্তির জন্য যুদ্ধবিরতি একদিন করে বাড়ানো হবে।

ইসরায়েল কেন সমঝোতায় রাজি হলো

ইসরায়েল সরকার জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে অভ্যন্তরীণ তীব্র চাপের মধ্যে পড়ে। তেল আবিবে নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনেও এ নিয়ে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার রাতে জিম্মিদের স্বজনদের নিয়ে বৈঠকে বসলে নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন তারা।

অন্যদিকে গাজায় চলমান মানবিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজার ১৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেই সঙ্গে খাবার, পানি, ওষুধ, জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১০টিতে সেবাদান কাজ চালু আছে। শরণার্থী শিবির, হাসপাতাল কোনো কিছুই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থেকে রেহাই পায়নি। এ অবস্থায় ইরান, তুরস্ক, লেবাননসহ আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েলের দোসর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাও তাদের সুর নরম করেছে। ফলে পুরো পরিস্থিতি ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য করেছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য কাতার-মিসরকে ধন্যবাদ বাইডেনের

এদিকে গাজা উপত্যকায় প্রস্তাবিত চার দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য চলমান যুদ্ধের দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার এবং মিসরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জিম্মিদের মুক্তির ব্যাপারটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ায় সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে যেসব সাহসী হৃদয়ের মানুষ সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর জিম্মায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করেছেন- তারা ফিরে আসবেন, নিজেদের বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন- এর চেয়ে আনন্দের কিছু আর হতে পারে না। আমি এবং জিল (যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন) খুবই আনন্দিত।’

গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালানোর পর এর জবাবে গাজায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি সেনারা। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।


banner close