শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছদ্মবেশে ৭ বাংলাদেশি আটক

সংগৃহীত ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:৪২

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছদ্মবেশ নেয় ৭ বাংলাদেশি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দেশটির সোংখলা ইমিগ্রেশন ও হাট ইয়াই পর্যটন পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার দেশটির থাইগার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুর বেশ ধরা ৭ বাংলাদেশি মাথার চুল কেটে ফেলেন, যেন তাদের প্রকৃত পরিচয় ধরা না পড়ে। স্থানীয় লোকজন এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশে যেতে তারা এ কৌশল নিয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ৪৬ বছর বয়সী রূপদা। তাদের গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া।

পাতায়া নিউজের খবরে জানা গেছে, দলটি বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের তাক প্রদেশে হয়ে অবৈধভাবে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে। তাদের বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।


পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য  

* বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলা * ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৪ * মাশহাদে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিতে বাহরাইন ও কুয়েতে পাল্টা আঘাত করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ইরানের শহর ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, কোনারক, চাবাহার ও বুশেহর এবং উত্তর-পূর্ব ইরানের আক কালা শহরে হামলা চালায়। ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় ইরান যেন বাধা দিতে না পারে, সেজন্য তাদের সামরিক শক্তি কমিয়ে আনাই এই হামলার লক্ষ্য।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের উপকূলের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রাখার গুদাম এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করার দাবি করেছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, বন্দর আব্বাসে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করছে। এরপরই সেন্টকমের পক্ষ থেকে হামলার কথা জানানো হয়। পরে ইরানি কর্মকর্তারা ফারস নিউজ এজেন্সিকে জানান, চাবাহারে হামলায় একটি মেরিটাইম কন্ট্রোল টাওয়ার ও একটি ডিপোতে হামলা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, আক কালায় একটি রেল সেতুতেও হামলা হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এক্সে লেখেন, ইরানিদের কঠিন আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকো। মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। একইসঙ্গে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রকেট ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর কথা জানায়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তারা বলেছে, আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলার জবাব দিতেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসি-র নৌ ও বিমানবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই যৌথ অভিযান চালায়। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই অভিযানে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম এবং বাহরাইনের জাফায়ের ও শেখ ঈসা—এই মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত মঙ্গলবারও ইরানে হামলা চালিয়েছিল। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা ওই হামলা চালায়। তারা ৮০টি স্থানে হামলার কথা জানায়।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। এর মাধ্যমে আগের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিল বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছিল।

মূল ঝামেলা শুরু হয় চুক্তির ৫ নম্বর ধারা নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছিল, পারস্য উপসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান সবরকম নিরাপত্তা দেবে এবং আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো চার্জ বা ফি নেবে না। এখন দুই পক্ষই সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

ইরান মনে করে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ কীভাবে যাতায়াত করবে তা ঠিক করার একমাত্র অধিকার তাদের। এই দাবি তুলে তারা তাদের অনুমতি ছাড়া চলাচল করা বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।

ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৪

ইরানের পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত দুই দিনে চালানো এসব হামলায় হতাহতের এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এসব তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ৮ ও ৯ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের কাছে একটি হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইরানের মাশহাদে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের মাশহাদ শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাশহাদ আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্মস্থান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআরবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় রেলপথকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে দুটি সেতু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের মুখপাত্র তাসনিম বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলরুটটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেরামতের চেষ্টা চলছে। তেহরান থেকে উত্তর-পূর্বের মাশহাদ পর্যন্ত এই রেলপথটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত।


ধেয়ে আসছে ২০০ কিমি গতির শক্তিশালী টাইফুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। যার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ১৯৮৭ সালের পর চীন ও তাইওয়ানে আঘাত হানতে এটি আকারে সবচেয়ে বড় টাইফুন।

চীনে বিভিন্ন উপকূলে কিছুদিন আগে আঘাত হানা টাউফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যে নতুন করে বড় ঝড়ের বার্তা এলো। উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পাশাপাশি ২৯ হাজার সেনা প্রস্তুত করেছে তাইওয়ান।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটিই দেশটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে। ওই টাইফুনে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত ‘বাভি’ উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং রয়টার্সকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঝড় খুবই বিরল।’ তার ভাষ্য, ১৯৮৭ সালের পর বাভিই দ্বীপটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংজি অঞ্চলে আঘাত হানা ওই ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন নিহত হন। এখনো অন্তত নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন, পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই আরও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এসব ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। এ বছর ‘এল নিনো’র সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এতে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ঘন ঘন ও আরও শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টি হতে পারে।

বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে ঝড়ের বাতাস কিছুটা দুর্বল হতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে আঘাত হানার সময় এটি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে।

এদিকে জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে শুক্রবার ও শনিবার প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। টাইফুন ‘মাসয়াক’-এর প্রভাবে চীনের হুবেই প্রদেশে অন্তত দুটি টর্নেডো ও ব্যাপক বন্যার ঘটনাও ঘটেছে।

টাইফুনের কারণে জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবার ৪৮টি অভ্যন্তরীণ ও দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও শুক্রবার ৩৪টি এবং শনিবার আরও ৩৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এতে মোট প্রায় ৭ হাজার ৭০০ যাত্রী প্রভাবিত হবেন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, ‘বাভির দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। কারণ, এটি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে বিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানলে বা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এমনকি এর গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৪ বাংলাদেশি নিহত

আরও ২৬ জনকে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ায় চাকরির চুক্তিতে গিয়ে বাধ্য হয়ে ইউক্রেনযুদ্ধে অংশ নিয়েছে ৩০ বাংলাদেশি কর্মী। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি (যাদের লাইসেন্স নম্বর আরএল নম্বর ১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের জোরপূর্বক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ক্যাম্প থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে– এমন তথ্য পাওয়ার পর সরকার ব্যবস্থা নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন রাশিয়ার মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়।’

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছে সরকার।’

মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় যান। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বাংলাদেশি কর্মীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ তুলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।


হরমুজ প্রণালীতে আটকা ৬ হাজার নাবিক: আইএমও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশে অন্তত ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গোয়েজ এই তথ্য নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খবর আলজাজিরার।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ আইএমও প্রধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলার কারণে এই নৌপথের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গোয়েজ বলেন, এই সমস্ত বেপরোয়া ও অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক হামলা নিরপরাধ সমুদ্রকর্মীদের আবারও মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোনো নাবিকেরই শুধু তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য এভাবে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।

আইএমওর মহাসচিব আরও যোগ করেন, আমরা যখন এই সংখ্যার (৬ হাজার নাবিক) দিকে তাকাই, আমাদের মনে রাখা উচিত এর পেছনে তাদের পরিবার জড়িয়ে আছে। এই ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সৃষ্ট মাশুল তাদেরই দিতে হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট, যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বাজারের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মার্কিন সেন্টকম কর্তৃক ইরানের ৯০টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে ইরানের নজিরবিহীন আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পর এই রুটে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শত শত পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ মাঝসমুদ্রে নোঙর ফেলে অপেক্ষা করছে।

শিপিং বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ৬ হাজার নাবিকের নিরাপত্তা ও মুক্তির বিষয়টি যদি দ্রুত সমাধান না করা হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।


প্রাকৃতিক বনকেও হার মানাচ্ছে চীন

চীনের হেবেই প্রদেশের সাইহানবা বন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উপগ্রহ থেকে পৃথিবীর বদলে যাওয়া রূপ দেখলে সাধারণত আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বনের সংকোচন কিংবা জলবায়ু বিপর্যয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধারণা করা হতো, বনের পুনর্গঠন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া। অনেকেই মনে করেন, প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের চেয়ে কৃত্রিম বনের বৃদ্ধি অনেক ধীর হয়। তবে পূর্ব এশিয়ার এক বিশাল পরিবেশগত প্রকল্প এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

গত কয়েক দশকে চীন লাখ লাখ একর মরুভূমিকে এক জীবন্ত বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তর করেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির মানবসৃষ্ট বনের পাতার বৃদ্ধি প্রাকৃতিক বনের চেয়ে অনেক দ্রুত হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’-এ এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ইউহাং লুও-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক কয়েক দশকের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। এ গবেষণায় চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের বনের বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি তুলনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, চীনের বিশাল কৃত্রিম বনগুলো পাতার উৎপাদনে কাছাকাছি থাকা প্রাকৃতিক বনের চেয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে।

সবুজ প্রাচীরের পেছনের রহস্য

মরুভূমির সম্প্রসারণ রোধ করতে চীন ১৯৭৮ সালে একটি মেগা প্রকল্প শুরু করে। এর আওতায় উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে শত কোটি গাছ লাগানো হয়। গবেষকেরা প্রথমে ভেবেছিলেন, একজাতীয় বা কৃত্রিম বনের বৃদ্ধি হয়তো মাটির পুষ্টির অভাবে থমকে যাবে। কিন্তু উপগ্রহের তথ্য সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখাচ্ছে। বায়ুমণ্ডলে বাড়তে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে এই কৃত্রিম বনগুলো দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই দ্রুত বৃদ্ধি ঘটছে। যেহেতু কৃত্রিম বনে দ্রুত বর্ধনশীল প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, তাই তারা কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত শোষণ করতে পারছে। অল্প বয়স এবং কার্বন সংবেদনশীলতার কারণে এই গাছগুলোর পাতা দ্রুত বাড়ছে এবং জঙ্গল ঘন হচ্ছে।

পরিবেশবিষয়ক আরেকটি সাময়িকী ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’-এ প্রকাশিত গবেষণায় কাই চেং এবং তার দল এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বন দ্রুত পাতা গজাতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্বন মজুতের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বনই বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক বনের বৈচিত্র্যময় প্রজাতির গাছ এবং অসমান ঘনত্বের কারণে সেখানে কার্বন বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়।

চীনের জাতীয় বন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, কৃত্রিম বনের ঘনত্ব বেশি হলেও একই বয়সী প্রাকৃতিক বন বেশি কার্বন ধরে রাখতে পারে। তবে মাটির ক্ষয় রোধ এবং ধূলিঝড় কমাতে কৃত্রিম বনের অবদান অনেক বেশি।

এই দুই গবেষণার ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন পথ দেখাচ্ছে। মানুষের তৈরি এই বনগুলো খুব দ্রুত সবুজ পাতা ছড়াতে পারে, যা মরুভূমির বালিকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। এটি বায়ুমণ্ডলের কার্বন শোষণেও প্রাথমিক বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কতটি গাছ লাগানো হলো, সেই সংখ্যার দিকে তাকালে চলবে না। এই কৃত্রিম বনের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর বৃদ্ধির গতি কমে আসতে পারে। তাই এই বনের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রজাতির গাছ যুক্ত করা এবং বনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।


স্টারমারকে তাজা গুলিসহ রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান

কিয়ার স্টারমার ও রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তাজা গুলিসহ একটি ব্যক্তিগত রিভলবার উপহার দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আঙ্কারায় আয়োজিত এ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের একই ধরনের উপহার দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল।

তবে যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নাম খোদাই করা এ রিভলবার দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এটি আপাতত তুরস্কে অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছেই রয়েছে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে অস্ত্রটি ফেরত পাঠানোর আগে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হবে। ফলে এটি দিয়ে আর কোনো তাজা গুলি ছোড়া সম্ভব হবে না।

জানা যায়, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এ উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন শিথিল করেছিলেন। তবে তাজা আগ্নেয়াস্ত্র যথাযথ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যে আমদানি করা অবৈধ হওয়ায় এটি তুরস্কেই রেখে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট অবশ্য এ রিভলবারের কোনো ছবি প্রকাশ করেনি।

এ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পথ আরও সুগম হবে।

সম্মেলন শেষে এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, এ আয়োজনের পর ন্যাটো জোট আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এটি একটি সফল সম্মেলন ছিল জানিয়ে স্টারমার বলেন, ‘আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তা পেরেছি, আর তা হলো জোটের ঐক্য। বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইরানের চলমান সংঘাতের এ সময়ে আমাদের এ ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

এর আগে, গত মাসে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল স্টারমারের শেষ কোনো বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন।


পুরোনো বিমানেই তুরস্ক ছাড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

কাতারের উপহার দেওয়া বিমানের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের হামলার ভয়ে পুরোনো বিমানে তুরস্ক ছেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন সংস্কার করা বিমানেই গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্ক গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এটি ছিল নতুন বিমানটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে তুরস্ক ছাড়ার সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে সেই বিমান ব্যবহার করেননি। এর পরিবর্তে তিনি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন।

ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ঘাঁটিতে নেমে তিনি আবার নতুন বিমানে উঠে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের মতে, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয় এবং সিক্রেট সার্ভিসের জোরালো পরামর্শেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত নতুন বিমানটি নিয়ে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট যত দ্রুত সম্ভব উড়োজাহাজটি ব্যবহারের উপযোগী করতে চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে উড়োজাহাজটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। আইনপ্রণেতা এবং কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, তড়িঘরি সময়সীমার কারণে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য পরিবর্তন হয়তো যথাযথভাবে সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ। এতে উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট এবং তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রুর লক্ষ্যবস্তু তিনি। তাই এসব হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করি, যার মধ্যে বিভ্রান্তিমূলক কৌশল এবং দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।’

তবে নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা, যারা স্পর্শকাতর নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, নতুন উড়োজাহাজটিতে পুরোনো উড়োজাহাজটির সব সুবিধা নেই। তাদের ভাষ্য, তুরস্ক থেকে ফেরার সময় প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কোনো হুমকির কারণে নয়; বরং সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল।

নিজের নতুন উড়োজাহাজের বিলাসবহুল সুবিধাগুলো নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করা ট্রাম্প গত সোমবার রাতে সেই নতুন উড়োজাহাজেই ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই ইরানের সঙ্গে সংঘাত আবার শুরু হয় এবং ট্রাম্প ও ন্যাটো নেতারা যখন আঙ্কারায় প্রায় এক হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালায়।

গত বুধবার (৮ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্বীকার করেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তিনি উড়োজাহাজ পরিবর্তন করেছিলেন। বরং তিনি দাবি করেন, নতুন উড়োজাহাজটি যাতে আগেভাগে রওনা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে থামতে পারে এবং সেখানে অবস্থানরত সেনাদের দেখানো যায়, সে কারণেই এই পরিবর্তন করা হয়েছিল। তার ভাষায়, উড়োজাহাজটি ‘অসাধারণ’।

তবে আঙ্কারায় সাংবাদিকরা যখন তাকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে চাপ দিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন ট্রাম্প বারবার বলেন, তিনি ইরানের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি তেহরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা দেখেছেন অথবা সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছিলেন, তিনি ‘পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ আঙ্কারা থেকে পুরোনো বিমানেই যাত্রা করবেন। আর নতুন উড়োজাহাজটি ইংল্যান্ডের মিলডেনহল ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা উড়োজাহাজটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।

সিক্রেট সার্ভিস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টই এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। ট্রাম্প যখন আঙ্কারা ত্যাগ করেন, তখন তিনি অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে পুরোনো বিমানে ওঠেন। ফলে তার সঙ্গে সফররত সাংবাদিকরা সাধারণত যেভাবে সিঁড়ি বেয়ে বিমানে ওঠার দৃশ্য দেখেন বা ছবি তোলেন, সেদিন তা করতে পারেননি।

এ ছাড়া বিমানে থাকা যাত্রীদের উড্ডয়নের আগে জানালার পর্দা নামিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উড়োজাহাজটি গত বুধবার গভীর রাতে মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর প্রেসিডেন্ট নতুন বিমানে উঠে ওয়াশিংটনে ফিরে যান।

আঙ্কারা ছাড়ার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “সম্ভবত তাদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, কারণ ইরানের হুমকির কারণে তারা ‘একটি বিপজ্জনক উড়োজাহাজে’ ছিলেন।”

বহুদিন ধরেই জানা যায়, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যা আসন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রকে বিভ্রান্ত বা অকার্যকর করে দিতে পারে। এ ছাড়া এতে এমন বিশেষ ধাতব কণা ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রকে বিভ্রান্ত করে লক্ষ্যচ্যুত করতে সক্ষম।

কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমানটিতে এসব সক্ষমতার কতগুলো সংযোজন করা হয়েছে, বা আদৌ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অথচ ট্রাম্প দ্রুত এই উড়োজাহাজটিকে সরকারি দায়িত্বে ব্যবহার করতে আগ্রহী ছিলেন।

প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলেন, ‘এত বড় ধরনের নিরাপত্তা উন্নয়ন সম্পন্ন করতে প্রায় একশ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে এবং এতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’ তবে কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় ই. মেইঙ্ক বলেন, “এই পরিবর্তনগুলোর ব্যয় ‘সম্ভবত চল্লিশ কোটি ডলারেরও কম’ হবে।”


বন্যায় খামার তলিয়ে ভেসে গেল ৯০০ সাপ, লোকালয়ে আতঙ্ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহ বন্যায় একটি বিশাল সাপের খামার সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ আশপাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, লোকালয়ে ভেসে যাওয়া এই বিপুল সংখ্যক সাপের মধ্যে অত্যন্ত বিষধর গোখরাও রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সাপের কামড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাপগুলো দ্রুত উদ্ধার করতে উপদ্রুত এলাকায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোায়েন করা হয়েছে।

চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বন্যপ্রাণী ছড়িয়ে পড়ার কারণ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শক্তিশালী টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে অঞ্চলটিতে টানা কয়েকদিন ধরে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে গুয়াংজি অঞ্চলের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের একটি বড় সাপের খামার পানির নিচে তলিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত সাপ বন্যার পানির সাথে ভেসে ভেসে গ্রামের ঘরবাড়ি ও আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। দেংওয়েই গ্রামের স্থানীয় কমিটির প্রধান উ ঝি জানান, গত ৬ জুলাই সকালে আকস্মিকভাবে এই ঘটনা ঘটে এবং এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে একজন গ্রামবাসী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, খামার থেকে পালিয়ে যাওয়া সব প্রজাতির সাপ বিষধর নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই অঞ্চলের লিউলান ও ইউনবিয়াও জলাধারের প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সৃষ্ট বন্যায় নিচু এলাকার বেশ কয়েকটি ছোট-বড় সাপের খামার মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় এবং সেখান থেকেই এই বিপুল সংখ্যক সাপ উন্মোচিত হয়। স্থানীয় অভিজ্ঞ এক সাপচাষি লেই জানান, তাঁর নিজের খামারটি উচুঁ স্থানে অবস্থিত হওয়ায় বন্যাকবলিত হওয়া থেকে বেঁচে গেছে। তিনি আরও জানান যে, এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক খামারগুলোতে সাধারণত গোখরা, কিং র‍্যাট স্নেক এবং জলসাপ বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হয়, যার মধ্যে একমাত্র গোখরাই অত্যন্ত বিষধর ও প্রাণঘাতী। তবে সাপ জলচর প্রাণী হলেও দীর্ঘ সময় তীব্র স্রোত ও পানির নিচে নিমজ্জিত থাকলে পালিয়ে যাওয়া সাপের একটি বড় অংশই মারা যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, খামারটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে নতুন করে কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়াতে দেংওয়েই ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক ডজনেরও বেশি সাহসী বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি বিশেষ ‘সাপ ধরার দল’ গঠন করেছেন, যাঁরা বর্তমানে বিভিন্ন বাড়ি ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে ছড়িয়ে পড়া সাপগুলো উদ্ধারে কাজ করছেন।


পাঁচ ক্রুসহ আরব সাগরে বিমান নিখোঁজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি আসার পথে পাঁচজন ক্রুসহ পাকিস্তানের একটি মালবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে করাচির এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে কেটু এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭-৪০০ মডেলের কার্গো বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে বিমানটির পাইলট দিকনির্ণয় ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এর জবাবে স্থানীয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে পথ দেখানোর চেষ্টা করলেও, মাত্র তিন মিনিট পরেই রাডার থেকে বিমানটি সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানটি করাচি উপকূল থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের উপরে অবস্থান করছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগে বিমানটির উচ্চতায় চরম ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।

শেষ মুহূর্তে বিমানটি মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ৫০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এর ঠিক ৩০ সেকেন্ড পর এটি আবার ৬০০০ ফুট ওপরে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে একবারে খাড়া নিচের দিকে আছড়ে পড়তে শুরু করে।

রাডারে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১১০০ ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় প্রতি মিনিটে ২২৪০০ ফুট (ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার) গতিতে নিচে নামছিল।

পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, উড়োজাহাজে পাঁচজন ক্রু ছিলেন। শারজাহ থেকে করাচিগামী কে-২ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ পাকিস্তান কার্গো ফ্লাইটটি রাত ৯টা ১৮ মিনিটে নেভিগেশনাল সিস্টেমে সমস্যার কথা জানিয়েছিল। এরপরই করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (এসিসি) তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নির্দেশনা দেয়।

নিখোঁজ বিমান ও ক্রুদের সন্ধানে সাগরে সমন্বিত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইটরাডারের তথ্যানুযায়ী, এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭-৪এম০ (বিডিএসএফ), যা ২০২৪ সালে কে-২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল।

এই উড়োজাহাজ মূলত ১৯৯৯ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে অ্যারোফ্লটে যুক্ত হয়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বহরে যুক্ত হয়। এটিকে ২০১২ সালে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।


ভুল গোয়েন্দা তথ্যের শিকার ১৬৮ ইরানি শিশু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাবের শাজারেহ তাইয়িবা স্কুলে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনাগুলোর একটি। এই হামলায় ১৬৮ ইরানি শিশু মারা যায় যার নেপথ্যে ছিল ভুল গোয়েন্দা তথ্য।

মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য গুরুতরভাবে পুরোনো হয়ে গেছে বলে সতর্কবার্তা ছিল। কিন্তু এ তথ্য পেন্টাগনের ডেটাবেসে থাকা সত্ত্বেও মার্কিন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডাররা তা উপেক্ষা করে কয়েকটি হামলার অনুমোদন দেন। এর মধ্যে একটি হামলায় একটি স্কুলে আঘাত হানে, যাতে প্রায় ২০০ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়িবা স্কুলে ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ শিশু ও ১৪ জন শিক্ষক নিহত হন। হামলার আগে কীভাবে মার্কিন কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্য উপেক্ষা করেছিলেন, তা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সূত্রগুলো জানায়, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহৃত ডেটাবেসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে গোয়েন্দা তথ্য বহু বছর আগের এবং তা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো স্থানকে হামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমোদনও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুটি সূত্রের ভাষ্য, যুদ্ধের শুরুতে দ্রুত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করার তাগিদে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা ‘দ্রুততার স্বার্থে’ সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তই স্কুলটিতে সরাসরি হামলার কারণ হয়।

২০১৩ সালের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, স্কুলটি এবং পাশের আইআরজিসি ঘাঁটি একসময় একই কমপাউন্ডের অংশ ছিল। তবে ২০১৬ সালের ছবিতে দেখা যায়, স্কুলটিকে ঘাঁটির বাকি অংশ থেকে আলাদা করতে একটি বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে এবং স্কুলের জন্য পৃথক প্রবেশপথও তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্রে স্কুলের আঙিনায় কয়েক ডজন মানুষকে খেলাধুলা করতেও দেখা যায়।

একটি সূত্র জানায়, একজন বিশ্লেষক আগেই একটি গোয়েন্দা বিশ্লেষণ টুলে ওই স্থানের পরিবর্তনের বিষয়টি নথিভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু সেই টুলের সঙ্গে সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ডেটাবেসের কোনো সংযোগ ছিল না। ফলে সেই সতর্কবার্তা কখনোই কমান্ডারদের কাছে পৌঁছায়নি।

একটি সূত্র বলেছে, ‘স্কুলে হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বোঝে গিয়েছিলেন ভুলটি কীভাবে ঘটেছে। স্পষ্টতই এটি ছিল পুরোনো তথ্যের ফল।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা হাজারো লক্ষ্যবস্তুর তথ্য হালনাগাদ করতে তড়িঘড়ি শুরু করেন। তবে হামলা শুরুর আগে সব তথ্য হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক লক্ষ্যবস্তুর তথ্য ১০ বছরেরও বেশি পুরোনো ছিল।

দুটি সূত্র জানায়, বিশ্লেষকরা প্রথমে ‘উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত’ লক্ষ্যবস্তুর তথ্য হালনাগাদে মনোযোগ দেন। এর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও বিমানের মতো চলমান লক্ষ্যবস্তু, যেগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতো। স্কুলে পরিণত হওয়া সামরিক স্থাপনার মতো স্থায়ী লক্ষ্যবস্তুগুলো সাধারণত নিম্ন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ছিল। কারণ এগুলো স্থান পরিবর্তন করে না। ফলে এসব স্থাপনার তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই হালনাগাদ হয়নি।

দুটি সূত্র জানায়, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহৃত ‘মডার্নাইজড ইন্টিগ্রেটেড ডেটাবেস’ বা এমআইডিবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘মার্স’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে ইরানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই হালনাগাদ করতে হবে। তবে নতুন প্ল্যাটফর্ম মাসে রূপান্তরের কাজ নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে এবং এখনো এমআইডিবিই প্রধান তথ্যভাণ্ডার।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র জানায়, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল, কারণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর বেসামরিক হতাহত কমানোর কর্মসূচিতে বড় কাটছাঁট করেন। সামরিক কমান্ডগুলোতে এই কর্মসূচির জনবল ৯০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল কমান্ডের ১০ সদস্যের দলকে কমিয়ে মাত্র একজন পূর্ণকালীন কর্মীতে নামিয়ে আনা হয় এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণকারী হামলা-পরিকল্পনা দল থেকে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বিশেষজ্ঞদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়।

একটি সূত্র বলেছে, ‘সেন্টকমের দল তখনো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিল। কিন্তু হেগসেথের সিদ্ধান্তের কারণে তাদের প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ ছিল না।’ আরেকটি সূত্র বলেছে, ‘পেন্টাগন সবাইকে আরও দ্রুত কাজ করতে চাপ দিচ্ছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সাবেক হেজ ফান্ড কর্মকর্তা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্বদেরও প্রভাব ছিল। তবে সেন্টকমের নেতৃত্বও এর বিরোধিতা করেনি।’

হামলার পরপরই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এর জন্য ইরান দায়ী হতে পারে। পরে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার দায় কার তা হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, ‘এ হামলার ‘‘পূর্ণাঙ্গ’’ তদন্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক হতাহত এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে।’ হেগসেথের বেসামরিক হতাহত কমানোর কর্মসূচিতে আনা পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দপ্তর কোনো জবাব দেয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এই তদন্ত এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায় না।’ লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব দিতে পেন্টাগন বিষয়টি সেন্টকমের কাছে পাঠায়। তবে চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করে সেন্টকম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগন এখনো এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।


নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতে কারাবন্দি কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনয় এবং তার উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত অভিযোগপত্রে (ইন্ডাইটমেন্ট) বলা হয়েছে, বিশনয় এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, লরেন্স বিশনয় ভারতের কারাগার থেকে চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এই অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি নিজ্জারকে হত্যার সুবিধার্থে একজন সহযোগীকে তার ছবি এবং একাধিক ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। অন্যদিকে বিশনয়ের শৈশবের বন্ধু গোল্ডি ব্রার উত্তর আমেরিকায় তাদের এই অপরাধী চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা ‘লরেন্স বিশনয় অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ নামে পরিচিত।

কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জার ভারতে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র ‘খালিস্থান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নয়াদিল্লি তাকে আগেই ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ২০২৩ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে। নয়াদিল্লি ট্রুডোর সেই অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

তবে লরেন্স বিশনয় ও গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দায়ের করা এই সাম্প্রতিক অভিযোগপত্রে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসেয়ালি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকা বা তাদের আগে থেকে জানার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তোলেননি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশনয় এবং ব্রারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন মূলত মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষের একটি বৃহত্তর যৌথ তদন্তের অংশ। এই তদন্তে ভারতভিত্তিক তিনটি অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকপাচার এবং চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডীয় পুলিশ নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাদের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল। তবে মার্কিন অভিযোগপত্রে ওই শ্যুটারদের সরাসরি আসামি না করে কেবল ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরদীপ সিং নিজ্জারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের যে চরম অবনতি ঘটেছিল, কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অধীনে তা কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কার্নি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে ভারতে যান এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেন, যা চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে কানাডার বর্তমান সরকারের এই আপসকামিতা ও নরম মনোভাবের সমালোচনা করছে দেশটির বেশ কয়েকটি শিখ সংগঠন। তাদের অভিযোগ, অটোয়া প্রশাসন ভারতকে যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং কানাডীয় শিখদের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।


ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য তেহরান দায়ী। এর জবাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ হামলার ফলে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন এবং পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইরাক সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে গেছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত গোলার খণ্ডে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মিনাবের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি মাছ ধরার জেটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েকটি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, শত্রুপক্ষের হামলার কারণেই ওই এলাকায় কালো ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে ইরানের প্রেস টিভি জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী সিরিকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে জানানো হয়, সিরিকে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ও মাছ ধরার জেটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, বন্দর আব্বাসের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কেশম দ্বীপ এবং জ্বালানি রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর আসে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং প্রণালীর আশপাশে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর ৬০টির বেশি ছোট নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, সমঝোতা লঙ্ঘিত হলে প্রয়োজনে আবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষিপ্ত বস্তু আঘাত হানে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্র জানায়, একটি কাতারি এলএনজি ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে এবং সৌদি পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছিল।

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া একটি বিশেষ লাইসেন্সও বাতিল করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে অবস্থানকালে এই হামলার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ ইরানই নির্ধারণ করবে।


‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা সময়ের অপচয়। আমরা গত (মঙ্গলবার) রাতে ইরানের অত্যন্ত বিপজ্জনক লোকদের ওপর খুব শক্তিশালী হামলা চালিয়েছি। ওরা দুষ্ট, অসুস্থ লোক। ওদের কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।

বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ৩৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান সরকার একটি ‘ক্যান্সার’, যা শুরুতেই ছেঁটে ফেলতে হবে। ওরা দুষ্ট, অসুস্থ লোক। আমাদের এই ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে হবে... ক্যান্সার শুরু ছেঁটে ফেলতে হবে।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ তেহরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি ভেস্তে গেছে এবং যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’ ইরানিদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে ইরানের অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে ‘শক্তিশালী’ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে চাওয়া তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা করেছে। যদিও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান। পরে মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের অন্তত ৮৫টি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি।

এসব হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক শোভাযাত্রা প্রায় শেষের দিকে এবং আজ বৃহস্পতিবার মাশহাদে তার জন্মভূমিতে দাফন করা হবে।

ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিল হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারায় ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্প আরও জানান, তিনি তার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদ্রিদকে ন্যাটোর একটি ‘ভয়াবহ অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে (তেলবাহী ট্যাংকার) হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে শক্তিশালী সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির সাময়িক ছাড়ও প্রত্যাহার করেছে।


banner close