চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝু প্রদেশে গত রোববার একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ আগুনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
গত রোববার রাতে প্যানঝু নগর সরকারের ওয়েবসাইট পোস্টে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে শানজিয়াওশু কয়লা খনিতে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, কনভেয়ার বেল্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ১৬ জন আটকা পড়ে। তবে এতে সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা কীভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরুরি কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কয়লা খনিটির তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ঘটনার পর প্রাথমিক যাচাইয়ে ১৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্যানঝু নগর খনিটি রাজধানী বেইজিং থেকে প্রায় ৩,৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর চীনে ১৬৮টি দুর্ঘটনায় ২৪৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। গত মাসে চীনের উত্তর শানজি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে এক বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হয়।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার ড্রোন ও বোমা হামলার ধরন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো নতুন ধরনের ড্রোন হামলাকে স্থানীয়রা ‘সাফারি’ নামে অভিহিত করছেন। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী নারী উদ্যোক্তা কাতেরিনা লাহুতার সামুদ্রিক খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুটি রুশ বোমা আঘাত হানে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই শহরটি রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধরন আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।
নিজের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে কাতেরিনা লাহুতা বলেন, “ছয় মাস আগেও পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল, কিন্তু এখনকার মতো নয়। এখন এটি যেন একটি ‘সাফারি’তে পরিণত হয়েছে।” ইউক্রেনীয়দের ভাষায়, ড্রোনের মাধ্যমে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে খুঁজে খুঁজে আক্রমণ করার কৌশলকেই ‘সাফারি’ বলা হচ্ছে।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা লাহুতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় বিস্ফোরকবাহী ছোট ও দ্রুতগতির ড্রোনের গুনগুন শব্দ শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন।
লাহুতা বলেন, “প্রতিটি দিনই যেন এক একটি যুদ্ধ। গ্রাহক কমে গেছে, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও সম্ভব হচ্ছে না।”
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া এখন জনমনে ভয় সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যেই হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। আগে তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোনের পাশাপাশি এখন নিয়মিত গ্লাইড বোমাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরভ রয়টার্সকে বলেন, “শত্রুপক্ষ এখন বেসামরিক জনগণের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সড়কের ওপর প্রতিরক্ষামূলক জালের ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১২টি বাস ও ট্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালকদের সতর্ক করতে ড্রোন শনাক্তকারী মনিটর এবং যানবাহনের কাচ সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
শহরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী আনিয়া সিভোভা বলেন, “শুনতে ভয়ানক লাগলেও আমরা এই জীবনেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আপাতত আমাদের অন্য কোনো পথ নেই।”
অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী তাতিয়ানা জানান, গত মাসে এক সপ্তাহের মধ্যে তার এলাকায় ছয়বার বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে গেছি। আমার ভেতরে আর কোনো আবেগ কাজ করে না।”
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশের সরকারি সামরিক ব্যারাকে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ধ্বংসযজ্ঞের দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত সৌদি সমর্থিত হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস এবং ফার্স্ট মিলিটারি রিজিয়নের প্রশিক্ষণরত সেনাদের ওপর বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রক্তক্ষয়ী আঘাত হানা হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মারিবের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়েছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এই বর্বরোচিত আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানিয়ে মার্কিন দূতাবাস একে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন নাজরান শহরে হুথিদের ছোঁড়া প্রক্ষেপকের আঘাতে নারী ও শিশুসহ ১১ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনার দায় হুথিরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।
হামলা প্রসঙ্গে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাল্টা জবাব হিসেবে তারা এই আক্রমণ চালিয়েছেন এবং সেনাদের প্রতি সৌদি শিবির ছেড়ে নিজ গৃহে ফেরার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইয়েমেনের পরামর্শ ও পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতি আবদুল মালিক আল-মেখলাফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় মন্তব্য করেছেন যে প্রতিকূল চাপে পড়েই হুথিরা যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছে। সানা বিমানবন্দরে ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়, যার জেরে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ আক্রমণ ও সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ বর্তমানে চরম অস্থিরতার সম্মুখীন।
থাইল্যান্ডের নন্তাবুরি প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর চালানো ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন নন্তাবুরি স্কুলে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মাহুতি দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত হামলাকারী ওই বিদ্যালয়েরই নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেগুনি রঙের ক্রীড়া পোশাক পরিহিত ওই কিশোর হঠাৎ স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এক শিক্ষার্থী জানায়, বন্দুকধারী কয়েক ডজন রাউন্ড গুলি ছুড়েছে এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে নন্তাবুরি প্রদেশের প্লাই ব্যাং উপজেলা পুলিশের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাসাকর্ন চাইতাউইওং জানিয়েছেন, "হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে নিহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।" স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পো তেখ তুং ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকর্মীরা এই হামলার খবর পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকের শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সেখানে দ্রুত একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পুরো বিদ্যালয় এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ভেতরে আটকে পড়া সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হাত ইয়াই জেলার একটি স্কুলেও বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হন। নন্তাবুরির এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি থাইল্যান্ডের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গাা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। ফেরত পাঠানোর আগে নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে দেশটির সরকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিহ্নিত ও ফেরত পাঠানোর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, তবে আমরা পুরো মানদণ্ড ও শর্তাবলী পর্যালোচনা করছি। যদি উপযুক্ত মনে হয়, কেবল তখনই তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও জীবন ঝুঁকিতে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করছে।’
এর আগে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ায় দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কমিউনিটি স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়ো হলে তাদের আটক করে কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।
রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভিযোগ করেছেন, উত্তরাঞ্চলের পেনাং অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছেন। এরপর তারা সহায়তা চাইতে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ে যান।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মালয়েশিয়া সরকারকে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক ব্রায়োনি লাউ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমার জান্তার নির্মমতার শিকার রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ফেরত না পাঠিয়ে, এই সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকারের উচিত আঞ্চলিক নেতৃত্ব দেওয়া।’
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় মালয়েশিয়া এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি।
বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এসব দেশের মুরগির মাংসের নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নির্ধারিত বৈশ্বিক সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হলো এমন এক ধরনের ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ বা উপাদান, যা ক্ষতিকারক অনুজীবদের ধ্বংস করে বা তাদের বংশবৃদ্ধি ও বৃদ্ধিকে থামিয়ে দেয়। অর্থাৎ, যেসব উপাদান আমাদের শরীরে বা পরিবেশে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবগুলোকে মেরে ফেলে বা নিষ্ক্রিয় করে, সেগুলোই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল।
মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকে এ সমস্যার প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে বলা হয়েছে।
গবেষণার অংশ হিসাবে ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড। মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল।
২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। নমুনাগুলো সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়ে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত নমুনার একাংশ সংগ্রহ করা হয় বাজারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের উপযোগী মুরগি থাকা খামার থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইইউ-এর দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।
গবেষকেরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মুরগির খাদ্য ও পানীয় জলের মাধ্যমেও এই দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এতদিন এশিয়ায় একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ পরিমাপের এমন কোনো তথ্য ছিল না। আশা করছি, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।
ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে বর্তমান গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে ইরান। পাঁচটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন। এরপরেই উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিশোধ নেয়ার কড়া সতর্কবার্তা দেয় তেহরান।
এই বিষয়ে জ্ঞাত ইরানের দুইজন সিনিয়র কর্মকর্তা, দুইটি উপসাগরীয় সূত্র এবং একজন আঞ্চলিক কূটনৈতিক জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ নিয়ে সৌদি, তুর্কি এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকেও হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দেন।
ওই আঞ্চলিক কূটনৈতিক বলেন, আরাঘচি ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদের এই বার্তা দিতে আহ্বান জানান যে ট্রাম্প যেন তেহরানে নতুন করে হামলা না চালায়। সেই সঙ্গে আরাগচি সতর্ক করেন, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ওই আঞ্চলিক কূটনৈতিক আরও জানিয়েছে, আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্যক নেতাকে বলেছেন যে আমরা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত কিন্তু অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা এবং ধ্বংস এড়াতে আমরা একটি কূটনৈতিক সমাধানও খুঁজছি।
উপসাগরীয় একটি সূত্র জানায়, ইরানের হুমকি ছিল দ্ব্যর্থহীন: যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করে তাহলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও অন্যান্য আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলা চালাবে।
রয়টার্স বলছে, ইরানের এই কূটনৈতিক কৌশল তুলে ধরে যে, দেশটি কীভাবে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বৃহত্তর আঞ্চলিক ধ্বংসের হুমকি ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
পরবর্তীতে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মেদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে বারংবার কথা বলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করার আহ্বান জানান। এতে তিনি একটি আলোচনায় ফেরার পথ তৈরি করেন এবং যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক বন্দোবস্তা নিশ্চিত করেন।
আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশকে ইরান প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল এবং এটি সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করেছে। তার মধ্যে একসময়ের বৈরি দেশ সৌদি আরবও রয়েছে। ইরানের দ্বিতীয় কর্মকর্তা বলেন, প্রতিশোধ নেয়ার হুমকির মধ্যে কাতার, ওমান এবং সৌদি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়।
এরপর গত ২ আগস্ট টাম্প বলেন, তিনি ইরানের অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে নতুন করে হামলা চালানোর পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন। উপসাগরীয় প্রথম সূত্রটি জানায়, সৌদি আরবের আশঙ্কা নতুন করে উত্তেজনা কেবল ধ্বংসই ডেকে আনবে। এ কারণে তারা ট্রাম্পকে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথ খুঁজতে আহ্বান জানায়।
তবে ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানালেও রিয়াদ স্পষ্ট করেছিল যে তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনিয়ে দ্বিতীয় উপসাগরীয় সূত্রটি জানায়, সৌদি এই বলে সতর্ক করে যে তাদের ভূখণ্ড হামলার শিকার হলে তারা সামরিকভাবে জবাব দেবে।
ভারতীয়রা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের সেবা নিয়ে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছেন দেশটির কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনেকে ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ আখ্যা দিয়ে নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে তিনি অভিযোগ করেন, এই আইনের মাধ্যমে স্বাধীন কণ্ঠগুলোকে চেপে ধরতে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন করে লেখার চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়া নিউজের মোহাম্মদ অসীমের সম্পাদনায় প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে এই সংবাদের বিশদ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রস্তাবিত এই আইনে কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তাদের বৈদেশিক অনুদান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে ‘নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো উপাসনালয় এর আওতায় পড়লে তার ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। থারুর জানান যে সরকারের এমন নীতি ও কঠিন নিয়মের কারণে বিদেশি তহবিল ৮৭ শতাংশ কমে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার সামাজিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে বসেছে।
কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে নতুন নিয়মে অবকাঠামো ও জমি বাজেয়াপ্ত করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এক শতকের বেশি সময় ধরে সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম অস্থিরতার মুখে ফেলবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে একটি সচল দাতব্য হাসপাতাল সরকারের দখলে চলে যেতে পারে, যার চূড়ান্ত শিকার হবে সেবা নিতে আসা সাধারণ ভারতীয়রা।
কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা প্রস্তাবিত বিলটিকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সংসদে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ার জন্য সব বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা প্রায় ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে, অন্যদিকে ২২ হাজার ৪৯৮টির নিবন্ধন বাতিল এবং ১৫ হাজার ২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের জল্পনা যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, জনসমক্ষে না থাকলেও দেশের প্রতিরোধে মোজতবা খামেনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টকে ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন এবং আলোচনা ও চলমান সংঘাতসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ বাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে আর জনসমক্ষে আসেননি। ওই হামলাতেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সূচনা হয়। একই হামলায় নিহত হন তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন।
নেতৃত্বে দ্বন্দ্বের জল্পনা
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪, তেহরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রভাব কার্যত খর্ব করে দিয়েছেন। কারণ, তিনি প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের উদ্যোগ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেননি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নীতিগত মতবিরোধের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনও করেছিলেন। সে সময় তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তার প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
চ্যানেল ১৪–এর দাবি, মোজতবা খামেনির সর্বশেষ অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তিনি এখন পুরোপুরি ইরানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। এর ফলে কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে।
যা বললেন পেজেশকিয়ান
সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই মুহূর্তে তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন। কিন্তু যাই হোক, তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশাল শক্তির উৎস, যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময়েও তার জনসমক্ষে না আসা ইরানের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
গত মাসে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং সেখানে তিনি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও অত্যন্ত যুক্তিসংগত চিন্তাভাবনা’ দেখেছেন।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে ও তার একটি ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে তেহরান। এটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি হবে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তার বরাতে আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ইরানের দাবির দিকে এমন অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও সূত্রগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি আসন্ন। তাদের মতে, এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর একজন রয়টার্সকে বলেন, ‘হরমুজের ওপর কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
অন্য আঞ্চলিক সূত্রটি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ’বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু বিষয় নির্ধারণ করা বাকি। উপসাগরীয় দেশগুলোর আলোচকরা চাইছেন, জাহাজ তল্লাশির তদারকি আঞ্চলিক দেশগুলো করুক এবং যেকোনো ফি প্রদান যেন স্বেচ্ছাভিত্তিক হয়।
জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রটি বলেন, আলোচনাধীন চুক্তির খসড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি হলো, বিপরীত দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ভূমিকা কী হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে এসব তথ্য প্রকাশের পরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ইরানকে দেওয়া হবে, এমন কোনো ব্যবস্থা তারা কখনোই মেনে নেবেন না।
তবে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি খুবই কাছাকাছি। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন।
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি আন্দোলন জানায়, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নৌপথে এটি সর্বশেষ হামলা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এরপর বুধবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।
তবে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো জুলাইয়ের শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। কারণ গত দুই দিনে ট্রাম্প নতুন করে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করে আলোচনার কথা ঘোষণা করার পর তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তার দাবি, ওই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর বিপরীত তীরের নিয়ন্ত্রণ ওমানের হাতে। গত সপ্তাহে ওমানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল ইরান। তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওই প্রস্তাবে তাদের ভূমিকা খুবই সীমিত রাখা হয়েছিল।
এদিকে, ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ এবং মঙ্গলবার ‘সারাদিন ধরে আলোচনা’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই খুলে যাবে।’ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা যদি আবারও পিছিয়ে যায়, তাহলে তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালানো হবে।’
গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ওপর ‘ব্যাপক হামলার’ পরিকল্পনা বাতিল করার কারণই ছিল এই আলোচনা। পুরো যুদ্ধজুড়েই তিনি একাধিকবার একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন।
তবে জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রটি দ্রুত কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে। কিন্তু ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।’
আরেক ইরানি সূত্র বলেন, ‘আসল বিষয় লুকিয়ে থাকে খুঁটিনাটিতে। ট্রাম্পের একটি টুইটই পুরো বিষয়টি ভেঙে দিতে পারে।’রয়টার্স জানায়, ইরানকে যদি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে তেহরানের পক্ষে বড় পরিবর্তন।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের ফি দিতে হতো না। কিন্তু ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ মাধ্যমে শেষ হবে এবং তিনি নিজেই দেশটির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন, এখন এমন একটি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে চাপের মুখে রয়েছেন। কারণ বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন ভোটাররা দুই-এক অনুপাতে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন।
জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য, হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায় ইরান। ওমান প্রায় ৩ শতাংশের মতো কম ফি নিয়ে আলোচনা করছে। আর ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ফিই চায় না।
কমপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফি প্রদানের বিষয়টি স্বেচ্ছাভিত্তিক করা এই অচলাবস্থা কাটানোর একটি উপায় হতে পারে। যদিও ইরানি হামলার অন্তর্নিহিত আশঙ্কার কারণে অর্থ না দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে অনেক শিপিং কোম্পানিই অনিচ্ছুক হতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর কয়েক মাসের অভিযান, যার মধ্যে জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের বিমান হামলাও রয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারেনি। জুলাইয়ে মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে।
টানা তাপপ্রবাহ এবং বৃষ্টির অভাবে চরম সংকটে পড়েছে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নদী। কিছু কিছু জায়গায় পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ নেমে গেছে। এ ভয়াবহতা এতটাই প্রকট যে তা মহাকাশ থেকেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।
তীব্র খরার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন নদীর পানি অনেক কমে গেছে। পানি কমে যাওয়ায় নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সাধারণত পানির নিচে ডুবে থাকা দীর্ঘ বালুচর এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
২০২৩ সালের স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়, তখন নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক। সেই তুলনায় এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা এই মহাদেশে গ্রীষ্মকাল দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহে মাটি ও নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, আর দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর প্রভাবও ব্যাপক। ইউরোপের নদীগুলো পণ্য পরিবহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতল রাখা, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, পর্যটন এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নদীগুলোর পানি কমে যাওয়ায় মানুষ, অর্থনীতি ও পরিবেশ সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালে ইউরোপের নদীগুলোর পানির স্তর কমে যাওয়া নতুন নয়। তবে এ বছর অনেক জায়গায় তা নজিরবিহীন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে মহাদেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ নদী দানিউব ও রাইন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জার্মানি থেকে উৎপন্ন হয়ে ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে কৃষ্ণসাগরে গিয়ে মিশেছে ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউব। সেই নদীর পানির স্তর হাঙ্গেরিতে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, সোমবার রাজধানী বুদাপেস্টে দাদনিউবের পানির গভীরতা নেমে আসে মাত্র ৪ ইঞ্চিতে। এতে ২০১৮ সালে রেকর্ড হওয়া ১৩ ইঞ্চির সর্বনিম্ন স্তরও ভেঙে গেছে। এ সপ্তাহে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নদীর পানির স্তর আরও কমে যেতে পারে।
দানিউবের পানি কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরিতে জ্বালানি সংকটও দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতলীকরণের জন্য দানিউবের পানির ওপর নির্ভরশীল। সেটি বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। পানির স্তর কমে যাওয়ায় কেন্দ্রটির একটি ছাড়া বাকি সব রিঅ্যাক্টর বন্ধ রাখতে হয়েছে। নদীর পানি আরও কমে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের ম্যাজিয়ার সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সাধারণ মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
রোমানিয়াও জ্বালানি সংকটে পড়েছে। সোমবার দেশটির নৌবাহিনী বিস্ফোরণের মাধ্যমে পাথর ভেঙে দানিউব নদীর পানি ঘুরিয়ে একমাত্র চালু থাকা চেরনাভোদা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
দানিয়ুব নদীর পানির গতিপথ চেরনোভোদা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে ঘোরাতে বালা চ্যানেলে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর ফাটাচ্ছে রোমানিয়ার নৌবাহিনী। ছবি: রয়টার্স।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আরও বেশি পানি পৌঁছাতে দানিউবের একটি শাখা নদীতে পাথরভর্তি দুটি বার্জ ডুবিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক নদীভিত্তিক প্রমোদতরী ভ্রমণ বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। গত সপ্তাহে বুলগেরিয়ায় দানিউব নদীর একটি বালুচরে একটি প্রমোদতরী আটকে যায়।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শনও প্রকাশ পাচ্ছে। গত সপ্তাহে উত্তর বুলগেরিয়ায় একটি প্রাচীন ম্যামথের বলে ধারণা করা দেহাবশেষ এবং সার্বিয়ায় ডুবে থাকা নাৎসি যুগের একটি যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
এদিকে, সুইস আল্পস থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর সাগরে গিয়ে মিশেছে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী রাইন। খাদ্য, খনিজ, কয়লা ও তেল পরিবহনের প্রধান এই নৌপথের পানির স্তরও এখন সংকটজনকভাবে কমে গেছে।
সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর ফরেস্ট, স্নো অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ রিসার্চের জলবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মাসিমিলিয়ানো জাপ্পা বলেন, আল্পসে শীতকালে কম তুষারপাত, বৃষ্টির অভাব এবং রাইন অববাহিকাজুড়ে টানা পাঁচটি তাপপ্রবাহের কারণে নদীর পানির স্তর এত নিচে নেমেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা। প্রতিষ্ঠানটির চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান এই ঘটনাকে একটি ভুল হিসেবে স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে মেটা কর্মকর্তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করে।
বৈঠকে মোদির ভিডিও সরানোর প্রসঙ্গের পাশাপাশি মেটা প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিও এবং বিভিন্ন পরিচালনগত ত্রুটি নিয়ে কড়া আলোচনা হয়। জোয়েল কাপলান জানান, প্রধানমন্ত্রীর পোস্টটি সীমিত করার যে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন। একই সাথে মেটা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু অবৈধ কনটেন্টও প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে তা পুনর্বহাল করে মেটা এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে দাবি করেছিল, তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সেই ব্যাখ্যাকে পুরোপুরি প্রত্যাখান করে। ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মেটা নিজেরাই যদি কনটেন্ট প্রচার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, তবে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে তারা কোনো বিশেষ আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে কি না—তা ভেবে দেখার বিষয়।
ভারতের সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটিও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্ল্যাটফর্মটিতে নারীদের অবমাননাকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে মেটার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মেটার অন্যতম বড় বাজার হলো ভারত, যেখানে শত মিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।
পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে একটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারতের পাঞ্জাব পুলিশ। গত মাসে দিল্লিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় যন্তর-মন্তরে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল। মঙ্গলবার পাঞ্জাব পুলিশ দাবি করেছে যে, তারা আইএসআই সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক সফলভাবে ধ্বংস করেছে এবং চারজন কিশোরসহ মোট ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে ৩টি পিস্তল, ৪টি পেট্রলবোমা ও তাজা কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিচালক গৌরব যাদব জানান, প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে বিদেশে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতেন এবং স্থানীয় তরুণদের বিপথগামী করে দলে ভেড়াতেন। প্রথম নেটওয়ার্কটি অমৃতসরের রাজাসানসি এলাকা থেকে শনাক্ত করা হয়, যেখানে সুখমান সিং এবং তার তিন নাবালক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সুখমান স্বীকার করেছে যে, ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালে যন্তর-মন্তরে বিস্ফোরণ ও হামলা চালানোর দায়িত্ব ছিল তার ওপর। সে স্বীকার করেছে যে এই অভিযানের লক্ষ্যে সে তার সঙ্গীদের নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিল, কিন্তু পুলিশের নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় পাঞ্জাবে ফিরে আসে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই নাশকতার ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানে থাকা গ্যাংস্টার ও সন্ত্রাসী শাহজাদ ভাট্টি। তদন্তে আরও দেখা গেছে যে, অভিযুক্তদের পাঞ্জাব পুলিশের বিভিন্ন ভবন ও সদস্যদের ওপর নজরদারি করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স একই পরিকল্পনার সাথে জড়িত মোহাম্মদ হামিম মন্ডল ও তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করে। হামিমের সাথেও শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যারা একইভাবে যন্তর-মন্তরে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার কারণে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়।
পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দ্বিতীয় নেটওয়ার্কটির সন্ধান পাওয়া যায় রেললাইনের ধারে সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে। তদন্তে জানা গেছে, ওই সিসিটিভি ফুটেজগুলো গোপনে বিদেশি হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এই অবৈধ কার্যক্রমে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হতো পেটিএম-এর মাধ্যমে। অমৃতসর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি থাকা জনৈক সুখদেব সিং এই নেটওয়ার্কের লেনদেন তদারকি করত। পুলিশের এই সাফল্যের ফলে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা থেকে দিল্লি রক্ষা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণেই জঙ্গিদের এই মিশনটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে গভীর রাতে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ৪৪ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ন্যাক্কারজনক হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে কিয়েভের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, মস্কো পুনরায় অত্যন্ত বড় আকারে এই অঞ্চলটিতে আঘাত হেনেছে, যার ফলে আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতভর চলা এই হামলায় কিয়েভের আকাশসীমা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সতর্কবার্তার সাইরেনে মুখরিত ছিল। বোরিসপিল, বুচা ও ফাস্তিভ জেলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ থেকে আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ইউক্রেন সরকার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের নিবিড় চিকিৎসায় রাখা হয়েছে।
বিপরীত দিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সপক্ষে দাবি করেছে যে, তারা ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহ কেন্দ্র, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং লজিস্টিক হাবগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়াও কৃষ্ণসাগরের ওডেসা বন্দরে সামরিক সরঞ্জামবাহী তিনটি কার্গো জাহাজেও সফল হামলার দাবি করেছে মস্কো। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক জনপদ ও অবকাঠামোতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মূলত যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার মস্কো অঞ্চলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে একটি গুদামে হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তার আগের দিন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের সমুদ্রসৈকতেও ড্রোন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল। উভয় দেশই আন্তর্জাতিক মহলে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিয়েভের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং সেখানকার নাগরিকরা নিরবচ্ছিন্ন হামলার আশঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। মূলত সামরিক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতেই এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ আরও জোরালো হচ্ছে।