সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

চীনের সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কায় তাইওয়ানের প্রস্তুতি

গত সোমবার তাইয়ানের জাতীয় দিবসে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর, ২০২২ ১০:৩২

চীনের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার শঙ্কা থেকে নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করছে তাইওয়ান। চলতি বছরের আগস্টে স্বশাসিত দ্বীপটির কাছে চীনের যুদ্ধমহড়া কয়েক দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

তবে এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার জাতীয় দিবসে দেয়া ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বলেছেন, কোনোভাবেই যুদ্ধ কোনো বিকল্প নয়। তবে সাই এটাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটি বার্তা দিতে চাই, আর তা হলো- তাইওয়ান নিজেদের আত্মরক্ষার দায়িত্ব নেবে, আমরা কোনো কিছুই ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেব না।’ আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসকে লক্ষ্য করেই সাই এমনটা বলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস হয়। এবারের কংগ্রেস শি’কে নজিরবিহীনভাবে তৃতীয় মেয়াদের জন্য নেতা নির্বাচিত করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। চীনের আগ্রাসনের হুমকি সঙ্গে নিয়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাইওয়ানের জনজীবনে বেইজিংয়ের হামলা নিয়ে কোনো উদ্বেগ-আতঙ্ক দেখা না গেলেও কর্মকর্তারা সতর্ক রয়েছেন।

তাইওয়ান এমন এক সময়ে নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিল, যখন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তৃতীয় মেয়াদে চীনের নেতা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং চেষ্টা করছেন স্বশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের করতলে নেয়ার। যা তার কোনো পূর্বসূরিই করতে পারেননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাস বইয়ে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করতে, সম্ভব হলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে না হলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হলেও গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অংশ করতে শি নিজের আকাঙ্ক্ষা কখনোই গোপন রাখেননি।

তাইওয়ানের ঊর্ধ্বতন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, শির তৃতীয় মেয়াদ তাইওয়ান উপকূলজুড়ে ‘অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা’ নিয়ে আসতে পারে। তবে গত মাসে চীন হংকংকে দেয়া স্বায়ত্তশাসন মডেলে ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ নীতিতে তাইওয়ানকেও ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে’ চীনের সঙ্গে একীভূত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল। তাইওয়ান অবশ্য ‘হংকং মডেলে’ চীনের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।


ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘পরাজিত’ হয়েছেন: মার্কিন সিনেটর

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বিপরীতে ইরান উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আজ সোমবার এনবিসি-র বরাতে আনাদোলু এজেন্সি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সিনেটর ক্রিস মারফি জানান, চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ হলেও তিনি বর্তমানে তা সমর্থন করবেন। তিনি মনে করেন, আলোচনার পথ রুদ্ধ থাকায় এই কৌশলগত জলপথটি ব্যবহারের ব্যয় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্য ওয়াশিংটন টাইমস-এর তথ্যমতে, ইরানি কর্মকর্তারা এই মুহূর্তে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়, বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মারফি বলেন, ‘যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো প্রয়োজন, কারণ যুদ্ধ প্রতিদিন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আমেরিকা তত দুর্বল হচ্ছে এবং ইরান শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, এই যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য কোনো ধরনের নতুন অর্থায়নে তিনি সম্মতি দেবেন না। তবে সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান ঘটার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ পুনর্গঠনের যেকোনো উদ্যোগে তাঁর সমর্থন থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


গাজায় এক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলল ১৯ মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশুর বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। এক বিবৃতিতে এই উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার কথা জানায় সিভিল ডিফেন্স। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে ধীরগতিতে চলা এবং মূলত হাতে পরিচালিত কার্যক্রমের সর্বশেষ ঘটনা এটি। ভেঙে পড়া কংক্রিট সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে এসব উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানের তদারককারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান জানান, টানা চার দিন ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছে গাজার পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ ভবনে। অবশেষে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হলো। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা এখন গাজার অন্য কোথাও তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করবে।

এর আগে মঙ্গলবার গাজা সিটিতে একটি গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ১১২ জনের মরদেহ দাফন করা হয়। তাদের মরদেহ গাজার সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়েছিল।

পুরো উপত্যকাজুড়ে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকর্মীরা ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরাতে সাধারণ সরঞ্জাম এবং অতিরিক্ত কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করছেন। যার ফলে উদ্ধারকাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান কার্যক্রমটি সিভিল ডিফেন্সের মরদেহ উদ্ধারের প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অংশ। গত ১৯ জুলাই এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। এই প্রকল্প শুরুর সময় সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছিলেন, এই ধাপে ৮০০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হবে। গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্য গাজার গভর্নরেটগুলোর ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আনুমানিক ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাসাল বলেন, ‘খুবই সীমিত’ সম্পদ নিয়ে এই কাজ চালানো হচ্ছে। তাদের কাছে রয়েছে একটি খননযন্ত্র, একটি বুলডোজার ও একটি ট্রাক। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এ কাজে সহায়তা করছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দলগুলো। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে প্রায় ২২৬টি মরদেহ তখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার কারও পরিণতি এখনো জানা যায়নি।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে মরদেহ উদ্ধারের কাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ ইসরায়েলের দেওয়ার কথা ছিল। তবে গাজার কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইসরায়েল তা করেনি।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত ও ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে ধ্বংস হয়েছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো।


মোজতবা খামেনির ভিডিও প্রকাশ করল ইরানি গণমাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন—ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের কয়েক দিন পর তার একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের নিউজ’। ভিডিওটিতে তাকে বেশ সুস্থ দেখা গেলেও, এটি কবে ধারণ করা তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন থামাতেই এই ভিডিওটি সামনে এনেছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলায় মোজতবা খামেনির পিতা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর পরপরই মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি একবারও কোনো রাজনৈতিক বা পাবলিক অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত হননি। তিনি কেবল লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের নীতিসংক্রান্ত বার্তা দিয়ে আসছেন। এমনকি বাবার জানাজাতে অন্য ভাইয়েরা উপস্থিত হলেও তার দেখা মেলেনি।

বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সেই সামরিক হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করে কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছেন।

এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা বর্তমানে ‘অত্যন্ত কঠিন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ইরান সরকারের দাবি, সর্বোচ্চ নেতার আঘাত সামান্য ছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি সার্বক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন।

লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদে থাকা মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সম্প্রতি তেহরানের একটি গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকের জন্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পেজেশকিয়ানকে কালো কাঁচ ঢাকা একটি গাড়িতে তোলা হয়, যেখানে আগে থেকেই এক ব্যক্তি বসা ছিলেন, যাকে মোজতবা খামেনি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির জানালা ঢাকা ছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের পারস্পরিক স্পর্শ বা করমর্দন করতে দেননি। তারা কেবল কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কথা বলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ওই বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্বয়ং সংশয় প্রকাশ করেছিলেন—গাড়িতে শোনা কণ্ঠস্বরটি আসলেই সর্বোচ্চ নেতার ছিল কি না।

এর আগে গত জুলাই মাসে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আল হাদাস’ এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দাবি করে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানেই নেই। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মোজতবা খামেনি ‘৯০ শতাংশই নিঃশেষ হয়ে গেছেন’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা হারিয়েছেন।

তবে মেহের নিউজের প্রকাশিত সাম্প্রতিক ভিডিওতে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ করে ইরান সরকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যে, মোজতবা খামেনি বহাল তবিয়তে আছেন এবং দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এটি ধারণের সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ না করায় এবং লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচারে খামেনি না আসায় জল্পনার অবসান পুরোপুরি হয়নি।


মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দলীয় এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে কলকাতার কাছে উত্তর চব্বিশ পরগনায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট-পাথরের আঘাতে তার মাথা ফেটে যেত বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেত্রী।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর গাড়ি ঘিরে ফেলেন, গাড়িতে কাদা মাখিয়ে দেন এবং জুতা ও পানির বোতল ছোড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পেছনে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে পাথরের আঘাতে আমার মাথা ফেটে যেতে পারত। আমি মারা যেতে পারতাম, কিন্তু অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি। এমন হামলার মুখে আমি আগে কখনো পড়িনি। আমাদের নিরাপত্তায় পুলিশ কিছুই করেনি। তারা শুধু বিজেপিকে নিরাপত্তা দেয়।’

এ সময় মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভা সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) পুলিশকে ব্যবহার করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।

এর আগে রোববার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় গিয়েছিলেন মমতা। সেখানে তিনি সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। কেওট পুলিশের হেফাজতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে কাঞ্চরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা অভিযোগ করেছেন, থানার লকআপে তার স্বামীকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ হেফাজতে কেওটের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে এখনো পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


গুরুতর অসুস্থ বাইডেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রোস্টেট ক্যানসার তার শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন।

বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার সময় বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হান্টার বাইডেন। তিনি বলেন, ‘ক্যানসার বাবার হাড় ও শশীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে ফেলছে। এটি খুব, খুব কঠিন। তাকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা সত্যিই খুব দুঃখের।’

তবে, এখনো তার বাবা দেশ ও জনগণের কল্যাণে প্রকাশ্যে কথা বলে যাচ্ছেন বলে জানান হান্টার বাইডেন। তিনি বলেন, ‘তিনি এখনো তার কাজ করে যাচ্ছেন। এই দেশের ওপর তার গভীর ও অবিচল বিশ্বাস রয়েছে।’

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র চার মাস পর গত বছরের মে মাসে জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। ক্যানসার তখন তার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ক্যানসার বেশ আগ্রাসী ধরনের।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন জানান, ক্যানসারের খবর প্রথমবার জানা তাদের পরিবারের জন্য বিরাট ধাক্কা ছিল। জো বাইডেন যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তখন তার ক্যানসার শনাক্ত হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন সাবেক ফার্স্ট লেডি।

সবচেয়ে বেশি বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। তারপরও ২০২৪ সালে ৮১ বছর বয়সে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে ওই বছরের জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে তার পারফরম্যান্স ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এরপর ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

পরে বাইডেনের বদলে দলের প্রার্থী হন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। নির্বাচনে তাকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রকে ৬ শর্ত দিল ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৬টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপার পুনরায় শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই শর্তগুলো মানতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এবং ইরানের নির্ধারিত কয়েকটি দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কয়েক দফায় সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধ অচলাবস্থায় থাকলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা করছে ইরান ও ওমান। হরমুজ ইস্যুতে দেশ দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শনিবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও সংঘাত এখনো বন্ধ হয়নি বরং মাঝপথে আছে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক কাইলি ম্যাকএনানিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, গত কয়েক দিনে আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি বলে আমি মনে করি।

এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। তবে আলোচনাকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেন ভ্যান্স। ভ্যান্স সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হওয়ার কাছাকাছি নয়; বরং ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড় আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সংঘাত নিয়ে এক বিবৃতিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেন, কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তার আচরণ সংশোধন করতে হবে। এসব দাবি ইরানি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। যুদ্ধ হোক বা আলোচনা-সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এসব দাবি থেকে পিছু হটবে না।

রোববার জোলঘাদরের এমন শর্ত সম্বলিত তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি। তিনি ইরানের ছয়টি শর্ত তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-

১) ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা;

২) ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা;

৩) ইরানকে অবরোধে যুক্ত মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার করা;

৪) সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া;

৫) যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা;

৬) ইরানের জব্দ করা সম্পদ ও অর্থ মুক্ত করে দেওয়া

এদিকে যুদ্ধ নিয়ে ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটি এখনও শেষ হয়নি। স্পষ্টতই এটি শুরুর পর্যায়েও নেই। আমরা এখন মাঝপথে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করতে আমরা কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক-বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’

ভ্যান্সের এই মন্তব্যের আগে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি ‘বিকল্প পথ’ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ থেকে বের হতে বিকল্প পথ অনুসন্ধানের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় কেইন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথ খোঁজার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এসব আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

একটি সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘কেইন একটি বিকল্প পথ খুঁজছেন।’ দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাটি আরও সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে যে, শুধু ইরানে অব্যাহত মার্কিন বিমান হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

কেইন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে, ইরানে বোমাবর্ষণ চালিয়ে তেহরানকে ট্রাম্পের শর্তে কোনো চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভবত কঠিন হবে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা সামরিক বিকল্পগুলো নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরও সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে এমন কিছু সামরিক বিকল্পও রয়েছে, যেগুলোর জন্য ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না।

‘আস্থা ফেরাতে পারলে শান্তি আলোচনায় বসবে ইরান’

পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই শান্তির পথে হাঁটবে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো মেনে ইরান শান্তির পথে হাঁটতে প্রস্তুত। এখনই চুক্তিতে পৌঁছানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ দেশে এখন সংহতি, শক্তি ও ঐক্য রয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা সমঝোতা স্মারককে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের তৈরি করা অবিশ্বাসের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিকতার নীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যতটা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে, ইরানও সেই মাত্রায় নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।


সৌদির দুই জ্বালানি স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও আগুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের জিজান এবং জুবাইল অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনায় হামলার পর সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়, তবে এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। জুবাইল এলাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটার সংবাদ পাওয়া গেলেও তা ঠিক কী কারণে হয়েছে, সে বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

এদিকে আরবের বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির গ্যাস স্থাপনাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছিল, যার ফলে সেখানে দাবানলের মতো আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব সূত্র থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুন লাগার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যদিও আগুনের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে মন্ত্রণালয় নীরবতা পালন করছে, তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে তারা জানিয়েছে। এর পূর্বে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জিজানে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল। জিজান ও জুবাইলের এই জোড়া ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।


ব্রাজিলে পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অবস্থিত তিজুকা ন্যাশনাল পার্কে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ চারজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটি ঘন অরণ্য ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিমানের ভেতরে থাকা চালক ও তিন নারী পর্যটক দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।

দেশটির ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত তিন নারী পর্যটক একই পরিবারের সদস্য এবং তারা কলম্বিয়ার নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় জি১ নিউজ সাইট এবং এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনাটি তিজুকা বনের ভেতরে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত ‘ভিস্তা শিনেসার’ সন্নিকটে একটি পাহাড়ে ঘটে।

রিও ডি জেনিরোতে এটি গত দুই মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় বড় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা। এর আগে গত জুন মাসে দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষে বিশ্বখ্যাত মার্কিন গায়ক অলিভার ট্রিসহ ছয়জন নিহত হয়েছিলেন। শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের কাছে হেলিকপ্টার ভ্রমণ অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও বারবার এমন দুর্ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিয়োগান্তক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিও ডি জেনিরোর মেয়র এদুয়ার্দো কাভালিয়েরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক এক্স বার্তায় জানান যে, ব্রাজিলের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


‘মক্কা চুক্তি’ ইরান বা অন্য কোনো দেশ বিরুদ্ধে নয়, জানাল তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত জোট গঠন করেছে। তবে এই জোট কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকেই শত্রু বা যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার মক্কায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় ঘোষণা করা হয়েছে যে, স্বাক্ষরকারী তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা জোটের সকল সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’

এই প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ফিদান এটিকে ন্যাটোর বিখ্যাত ‘৫ নম্বর অনুচ্ছেদ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই যেকোনো আক্রমণের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আক্রমণের শিকার কোনো দেশকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে হবে এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিট মোতায়েন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।’ এই জোট পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন করা হবে এবং নিয়মিত সমন্বয়ের জন্য তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।

প্রতিরক্ষা শিল্পের পারস্পরিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফিদান জানান, তিনটি দেশ যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে। মক্কায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে সামরিক প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যম-কে অবহিত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তির প্রাথমিক কাজ প্রায় দুই বছর আট মাস আগে শুরু হয়েছিল। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সাম্প্রতিক আচরণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়।

তবে এই নতুন জোট গঠন নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ইরান কিছুটা অস্বস্তি ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছে। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন সৌদি আরবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সৌদি নেতাদের বোঝা উচিত যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।’ একই কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাই এই সমঝোতাকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি এই চুক্তির নাম উল্লেখ না করলেও এক বার্তায় আঞ্চলিক দেশগুলোকে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ বজায় রাখার এবং নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে আটক ৫১ হাজার অভিবাসী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে দেশটিতে এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।

আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড ছিল জুনে। ওই মাসে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসে আটকের নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার করেছেন ট্রাম্প। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে তার প্রশাসন।

দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটকের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুনে ডিএইচএস জানায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করা হয়েছে। ডিএইচএসের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অভিযানটি শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও অভিযান আরও জোরদারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল বলেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনো কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ প্রণালী: ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তাদের।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে।

সারদার মোহেবি বলেন, ‘আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালী শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি উপাদান।’

তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সব শর্ত ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালী অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।’

এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টি যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে, সে বার্তাই দিল তেহরান। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবে—এমন ধারণাও নাকচ করেছে আইআরজিসি।


ভারতে বাস উল্টে নিহত ৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় একটি বেসরকারি বাস উল্টে নিচের সড়কে পড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। নিহতদের মধ্যে বাসটির চালক ও কন্ডাক্টরও রয়েছেন।

শনিবার সকালে চাম্বা জেলার বৈরাগড়-তিসা সড়কের চালুঞ্জ মোড়ের কাছে দেবিকোঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি বৈরাগড় থেকে চাম্বার দিকে যাচ্ছিল।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, শর্মা বাস সার্ভিসের বাসটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বৈরাগড় থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং নিচের একটি সড়কের ওপর গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালক ও কন্ডাক্টরসহ মোট ১৮ জন ছিলেন। কয়েকজন যাত্রী বাসটির নিচে চাপা পড়েন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), হোম গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের চাম্বার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চাম্বা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।


অরুণাচল প্রদেশ ঘিরে চীন-ভারত বিরোধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে চীনের বারবার দাবি তোলার জবাবে এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। রাজ্যটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে ভারতের সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলোর মানসম্মত ভারতীয় নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে স্থানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো এসব এলাকার সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।’

চীন দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের দাবি করে সেখানকার স্থানগুলোর চীনা নামকরণ করে আসছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লি বারবার জোর দিয়ে বলেছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে।’

ভারতের নতুন অফিশিয়াল মানচিত্রে স্থান পাওয়া ২৭টি এলাকার মধ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা’ (এলএসি) সংলগ্ন ‘লং জু’ এলাকা, যা ১৯৫৯ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রাথমিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। পাশাপাশি আপার সুবানসিরি জেলার ‘মাজা’ গ্রামকেও মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক গিরিপথ: ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের সূচনালগ্নের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র ‘থাগ লা’ গিরিপথ। এ ছাড়া বিসা গ্রাম, জো লা, রিজা লা এবং পুকুর লা-এর মতো উঁচু পর্বতের সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পথসমূহ।

রসদ সরবরাহ কেন্দ্র: চ্যাংলাং জেলার ‘জয়রামপুর’, যা পূর্ব অরুণাচল ও মিয়ানমার সীমান্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যাতায়াত ও রসদ সরবরাহের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ: তাওয়াং রোডে অবস্থিত ১৯৬২ সালের যুদ্ধে নিহত জাসওয়ান্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিবিজড়িত ‘জাসওয়ান্তগড়’ এবং প্রয়াত মেজর ত্রিলোক সিং থাপার স্মরণে নির্মিত ‘শের-ই-থাপা মেমোরিয়াল’।

অন্যান্য ভৌগোলিক স্থান ও গ্রাম: উঁচু পাহাড়ের জলাশয় ‘সংভো সরোবর’, ‘বড় কুন্দুন’, ‘ছোট কুন্দুন’, ধান বাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর, সাগর, পদ্মা, জ্যোতি নগর, বৈশাখী, ছোট রোপুক, বড় রোপুক, শিবাজী নগর, সুনপুরা, কামলাং অভয়ারণ্যের সংলগ্ন কামলাং নগর এবং বুদ্ধ মন্দির।

চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’বা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে থাকে। ২০১৭ সালে চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের চীনা নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের চীনা নামের তালিকা প্রকাশ করে বেইজিং।

নয়াদিল্লি শুরু থেকেই চীনের এসব তথাকথিত ‘কাল্পনিক নাম দেওয়ার’প্রচেষ্টাকে সরাসরি নাকচ করে আসছে। ভারত সরকারের মতে, ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত সত্যকে বদলে দেওয়া যাবে না, বরং চীনের এমন আচরণ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।


banner close