শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

শাটডাউনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের বিরোধিতার মুখে কেন্দ্রীয় সরকারকে অর্থায়ন করার বিল বাতিল হয়েছে। এ অবস্থায় রোববার থেকে যুক্তরাষ্ট্র শাটডাউনের মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সিগুলো আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ৪০ লাখ কেন্দ্রীয় কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম যাতে বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে তহবিল জোগানোর মেয়াদ ৩০ দিন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিল আনা হয়েছিল । কিন্তু শুক্রবার রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে সেই বিল ২৩২-১৯৮ ভোটে পরাজিত হয়েছে। সেই বিলে রিপাবলিকানদের পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি অভিবাসন সীমিত করার প্রস্তাব ছিল। সে কারণে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল খুবই কম। একদিকে বিল পাস হয়নি অন্যদিকে শাটডাউন এড়ানোর কোনো সুস্পষ্ট কৌশলও পাওয়া যায়নি।

শাটডাউন হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ৪০ লাখ কেন্দ্রীয় কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আর্থিক খাতের নজরদারি থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার তহবিল।

হোয়াইট হাউস অফিস অব ম্যানেজমেন্ট ও বাজেটের পরিচালক শালান্দা ইয়ং বলেন, ‘রিপাবলিকানরা অভ্যন্তরীণ বিভাজন শেষ করতে পারলে শাটডাউন এড়ানোর এখনো একটি সুযোগ রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ-পিয়েরে বলেন, ‘স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে তার দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

এবার যদি শাটডাউন হয় সেটি হবে ১০ বছরে মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ শাটডাউন। এর মাত্র চার মাস আগে জাতীয় ঋণসীমা বৃদ্ধি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে চলে গিয়েছিল। ওই সময়ও শাটডাউনের শঙ্কা দেখা দিলেও শেষ মুহূর্তে তা এড়ানো সম্ভব হয়।


নির্বাচিত

মুক্তি পেলেন আইসা প্রধান নেহা বোরা

নেহা বোরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) প্রধান নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে এখনো প্রতিরোধমূলক আটকের আওতায় রয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তাদের আটক করা হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎ ডিপকেকে আটক করা হয়েছে। তাকে দিনের পরবর্তী সময়ে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন, অভিজিৎকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না। আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, অভিজিৎকে আটক করে এসইএম আদালতে হাজির করার কথা জানানো হলেও তার অবস্থান এখনো অজানা।

মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন। অভিজিৎসহ আটক অন্য বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সিজেপি ও আইসা তাদের দুই নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, আটকের পর আইনজীবী ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সিজেপির দাবি, অভিজিৎকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে দলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে, আইসার অভিযোগ ছিল, নেহা বোরাকে মঙ্গোলপুরীর অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্সের কার্যালয়ে একা আটকে রাখা হয়েছিল।

নির্বাচনী তালিকায় অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সিজেপি, বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

ইউক্রেনে ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে বিধ্বস্ত ভবন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

দেশটির নয়টি অঞ্চলে হামলা চালানো হয়। পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরের তিনটি জেলায় হামলায় ৭১ বছর বয়সি এক নারী ও ৫৮ বছর বয়সি এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ জন। খারকিভের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ এ তথ্য জানিয়েছেন।

দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্মুখসারির শহর ক্রামাতোরস্কে দুইজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুইজন। পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোলিন অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে ওই অঞ্চলের গভর্নর রোমান রোমানিউক জানিয়েছেন।

ড্রোন হামলায় কোভেল শহরের একটি শুল্ক টার্মিনালেও আঘাত হানা হয়। এতে সেখানে প্রায় ১০টি ট্রাকে আগুন ধরে যায়। কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থিত এই শহর।

রিভনে অঞ্চলে ড্রোন হামলায় একটি বড় শপিং সেন্টার ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর কোভাল। এ ছাড়া সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত সুমি শহরের একটি শপিং সেন্টারেও হামলা হয়েছে।

শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) হামলায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ১০ লাখের বেশি মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ মেরামতকারী দলগুলো পুনরায় চালু করেছে বলে ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, ভোলিন অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অন্তত এক লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজধানী লুৎস্কে বিদ্যুৎবিভ্রাট অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র আন্দ্রি রাজুমোভস্কি।

এ ছাড়া রিভনে অঞ্চলেরও বড় একটি অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বিমান হামলার অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ইউক্রেনে অন্তত ৩২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২ হাজার ১০৫ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৫ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনে ২ হাজার ৫৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৫ হাজার ২১১ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি।


নির্বাচিত

হুতিদের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে ইরান

ইয়েমেনে আয়োজিত এক সমাবেশে ব্যানারের সামনে হুতি যোদ্ধারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগত ও নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। সৌদি জোটের হামলায় শত শত যোদ্ধা হারালেও গোষ্ঠীটি উন্নত কৌশল ব্যবহার করছে। সৌদিতে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলায় গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে মিত্র ইরান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সহায়তার মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। এসব সহায়তা ইয়েমেনে দ্রুত ভূখণ্ড দখলেও হুতিদের ভূমিকা রেখেছে। গোষ্ঠীটি এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন উপকূলের নিজেদের অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার, জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।

আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা হুতিদের লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির জন্য হুমকি তৈরি করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার মোতায়েনে সহায়তা করেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে শুরু হওয়া এক অভিযানে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা মোতায়েন করে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে। এ সময় তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে নেয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে হুতিবিরোধী বাহিনীর এক ব্যক্তি বলেন, আগের লড়াইগুলোর তুলনায় হুতিরা এবার আরও উন্নত কৌশল দেখিয়েছে। তারা পদাতিক বাহিনীর হামলার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সমন্বয় করছে। এসব ড্রোনের মধ্যে ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোনও রয়েছে।

হুতিবিরোধী আরেক কর্মকর্তা বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তারা সামনের সারিতে থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনায় সহায়তা করছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, তেহরান ও হুতিদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার সম্পর্ক ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’। তিনি বলেন, ‘হুতিদের সাফল্যে ইরানের বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে।’ তিনি এই সম্পর্ককে নিছক পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রিত গোষ্ঠীর সম্পর্কের পরিবর্তে কৌশলগত সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরানের সামরিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের অভিযোগ তেহরানের ভূমিকা অতিরঞ্জিত করে এবং হুতিদের নিজস্ব সক্ষমতা বিকাশের বিষয়টি উপেক্ষা করে।

গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’ তিনি হুতিদের ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন পক্ষ, যারা নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়’ বলে বর্ণনা করেন।

২০২৪ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল দেখতে পায়, হুতিরা নিজেদের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য লেবানন ও ইরাকে যৌথ অভিযান পরিচালনার কক্ষ স্থাপন করেছিল।

এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, দেশটির বন্দরনগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। শুক্রবার রানওয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা একটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পড়েছিল। উড়োজাহাজটির সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন। এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এডেন প্রদেশে বদর ক্যাম্পে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়েছে। এর এক দিন আগে এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কেন্দ্রস্থল এডেনে সর্বশেষ এ হামলার মধ্য দিয়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-ঘনিষ্ঠ হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা শুক্রবার সানা থেকে উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, বিমান সহায়তায় বাহিনীটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার পাশাপাশি শতাধিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকেজো করা হয়েছে।

যুদ্ধের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র তাইজ গভর্নরেটেও হুতিদের কয়েকটি বড় আক্রমণ প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। তাদের দাবি, এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তাইজ এলাকায় হুতিদের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ ড্রোন দলকে আটক করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ ঘিরে ফেলেছে। শহরটির দক্ষিণে এডেনগামী প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে হামলায় উৎসাহ দিচ্ছে।


নির্বাচিত

 ‘ককরোচ আন্দোলন ভারতে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত’

প্রখ্যাত লেখক সালমান রুশদি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতে চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠা ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) প্রতীক নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রখ্যাত লেখক সালমান রুশদি এবং খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ার।

নিউইয়র্কে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে রুশদি ভারতের তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করে তাদের ভারতের জন্য দীর্ঘদিনের মধ্যে ‘সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মিরা নায়ার নিজেকে ‘ককরোচ মম’ (তেলাপোকা মা) হিসেবে আখ্যা দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরত তরুণদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শাসকদল সমর্থক ও হিন্দুত্ববাদীরা তাদের ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী বলে অভিযুক্ত করছেন। বিপরীতে অন্য বিশ্লেষকরা রুশদির এই মন্তব্যের পর হিন্দুত্ববাদীদের দ্বৈত আচরণের কথা তুলে ধরছেন।

নিউইয়র্কে ‘এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপ’-এর এক তহবিল সংগ্রহ ও প্রাক-দিওয়ালি নৈশভোজে এই মন্তব্য করে দুই প্রখ্যাত ভারতীয়। লেখক অমিতাভ কুমার তার সাবস্ট্যাক পেজে এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, অনুষ্ঠানটিতে মিরা নায়ারের জন্মদিনও উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সালমান রুশদি বলেন, ‘বর্তমানে ভারতে একটা কিছু ঘটছে। ভারত ফুটছে। কোনো রেস্তোরাঁয় দাঁড়িয়ে হয়তো এটা বলা ঠিক নয়, তবুও “তেলাপোকা” প্রতীককে সেলিব্রেট না করলে ভুল হবে। ভারতের তরুণ সমাজ আমাদের দীর্ঘ সময় পর সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক এক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।’

একই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ারও ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় সোচ্চার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।

অনলাইনে রুশদি ও মিরা নায়ারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ‘দ্য ফ্রি প্রেস’-এর সিনিয়র রাইটার রুপা সুব্রহ্মণ্য লেখেছেন, ‘ভারতীয় আন্দোলনকারীদের দাবি যুক্তিসংগত হতে পারে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে।’ তবে রুশদি ও মিরা নায়ারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, দুজনেই এমন এক ইংরেজি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত ভারতীয় অভিজাত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যারা দীর্ঘ দিন ধরে নরেন্দ্র মোদিকে অবজ্ঞার চোখে দেখে আসছেন।

সামাজিকমাধ্যম এক্সে রুপা লেখেন, ‘বিষয়টি হয়তো খুব একটা আশ্চর্যের নয়, কারণ তারা দুজনেই সেই উচ্চবিত্ত ও ইংরেজি মাধ্যমীয় অভিজাত সমাজের প্রতিনিধি, যারা দীর্ঘ দিন ধরে মোদিকে কটাক্ষ করে আসছে।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাস প্রকাশের পর থেকে রুশদি কীভাবে চরমপন্থিদের হুমকির মুখে পড়েছিলেন এবং ২০২২ সালে নিউইয়র্কে কীভাবে হামলার শিকার হয়েছিলেন।

অন্য একাধিক ব্যবহারকারী রুশদি এবং মিরা নায়ারের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ তোলেন যে তারা ভারতবিরোধী মনোভাব পোষণ করেন। এক নেটিজেন দাবি করেন, রুশদি ভারতের বিনাশ চান, অথচ সাধারণ ভারতীয়রা সব সময় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তবে বিপরীত সুরও শোনা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এক স্বাধীন সাংবাদিক ‘এক্স’-এ উল্লেখ করেন, দশকের পর দশক ধরে হিন্দু ডানপন্থিরা সালমান রুশদিকে সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন কারণ তিনি ইসলামী চরমপন্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু আজ যখন তিনি হিন্দু চরমপন্থা বা মোদি সরকারের সমালোচনা করছেন, তখন তার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ছেন।

তিনি লেখেন, ‘হিন্দু ডানপন্থিরা এত দিন ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য রুশদিকে মাথায় তুলে রেখেছিল। এখন যখন তিনি তাদের ভাবধারার সমালোচনা করছেন, তখন তাদের আর পাল্টা কিছু বলার মুখ থাকছে না।’


নির্বাচিত

সকালে উঠে নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নারী হিসেবে জন্ম নেওয়ার কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের তুলনায় বাড়তি সময় কাজ করতে হয় বলে মন্তব্য করে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তার এই বক্তব্য দেশটির গতানুগতিক লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক ভূমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি পার্লামেন্টের একটি অধিবেশনে নিজের দৈনন্দিন রুটিন ও ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করা, সকালের নাস্তা তৈরি করা, থালাবাসন ধোয়া এবং মেকআপ করার মতো কাজগুলো সারতে হয় তাকে। পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় এই সমস্ত সাধারণ দৈনন্দিন কাজের পেছনে তার অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার এই মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের অনেকেই মনে করছেন যে ঘরের কাজ বা মেকআপের মতো অজুহাত দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা কিংবা কাজের দীর্ঘসূত্রতাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা প্রকাশ করায় তা কর্ম ও জীবনের ভারসাম্য নষ্টের ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে বলেও সমালোচকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির জেরে তার নতুন মন্ত্রিসভার কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগ করার ঘটনাটিও সরকারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

এদিকে সংসদীয় অধিবেশনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানোর পরামর্শ দিয়ে বিরোধী দলের এক নেতা প্রস্তাব করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেফ বা গৃহকর্মী নিয়োগ করা উচিত, যাতে দেশের সরকারপ্রধান কেবল গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন।


নির্বাচিত

রাজস্থানে বাস খাদ্যে পড়ে আটজনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজস্থানের কোটা অঞ্চলে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে ছিটকে পড়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পাঁচ নারীসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন আরোহী।

পুলিশের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে রাজস্থানের খাটু শ্যাম মন্দিরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ফলে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সোজা পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজে নামে এবং উপস্থিত চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহত ও নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তীতে নিহতদের শনাক্ত করা হয়; তারা হলেন অরুণা, বৈষ্ণবী, তৃষা, কৃষ্ণা, অনিতা, ওম, সূর্যবংশী ও রাজু।

আহত ১৭ জনকে চিকিৎসার জন্য কোটার এমবিএস হাসপাতাল এবং নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর সার্বিক পরিস্থিতি ও চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে জেলা কালেক্টর পীযূষ সামারিয়া এবং পুলিশের আইজি হরেন্দ্র মাহাওয়ার এমবিএস হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকাল আটটার দিকে তারা দুর্ঘটনার খবর পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, তাদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়।


নির্বাচিত

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর প্রস্তাবিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে অনুমোদিত একটি আইনের আওতায় এসব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তে থাকা টানাপোড়েন এবং দীর্ঘ চার বছরের রুশ আগ্রাসনে কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির শৈথিল্যের মধ্যেই এই পদক্ষেপ এলো, যা ইউরোপীয় মিত্রদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় মস্কোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ শতভাগ শুল্ক বসানোর বিধান রাখা হয়েছিল, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের অন্যতম বড় উৎস বাধাগ্রস্ত হয়।

হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “এ মুহূর্তে এ ধরনের অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে- এ মর্মে আমি কংগ্রেসকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।” তবে এই অব্যাহতি কীভাবে ওয়াশিংটনের স্বার্থরক্ষা করবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামানুসারে প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর অধীনে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন একে নেতৃত্বের ‘চরম ও অনুমেয় ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, কংগ্রেসের অভিপ্রায় অগ্রাহ্য করে ট্রাম্প মূলত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই সংঘাত জিইয়ে রাখার সুযোগ করে দিলেন। আইনটির অন্যতম প্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা নয়, বরং পুতিনকে তোষণ করার মনোভাব কাজ করেছে।

এদিকে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রফতানি নিয়ে ট্রাম্পের এক সমঝোতায় ইউরোপীয় নেতারা যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি জেলেনস্কিও নিজেকে প্রতারিত বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক রাখতে ইউক্রেনকে রুশ তেল স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেন কিছুদিন হামলা স্থগিত রেখে পুনরায় তা শুরু করে, বিপরীতে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় জোরালো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধকে কাঠগড়ায় তুললেও, ইরানে মার্কিন সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নিজ দেশেই তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।

পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদিও ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সামরিক সংস্করণে কড়াকড়ির ফলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, আগাম সতর্কতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি গতিশীল হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। নিউজম্যাক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সাথে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো তাঁর কাছে অনেক বেশি কঠিন।

অন্যান্য সামরিক জটিলতার মধ্যে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

তবে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিয়েভের পাশে থাকার বার্তা জোরালো করেছে। বেলজিয়ামে আয়োজিত এক সম্মেলনে জেলেনস্কি ইউরোপের ‘প্রকৃত নেতাদের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ না করলে চাপ আরও বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ২২তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন


নির্বাচিত

নিয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যে বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাচারিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সাত দিন পার হওয়ার আগেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ থেকে কেটি জাচারিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অফিসে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার আইনগত পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এছাড়া নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তার কাজের ধরন ও পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই বিদায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে হারাতে বসল। অথচ এই সময়ে প্রেসিডেন্ট তার প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর কেটি জাচারিয়াকে তার চাকরি নিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি তাকে বলেছি, আমার মনে হয় তুমি সুখী হতে চাও এবং আমি নিশ্চিত নই যে এ ধরনের দায়িত্বে তুমি সুখী হতে পারবে কি-না। যদি আমি তোমার জায়গায় থাকতাম, তাহলে এ ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করতাম…(তুমিও) ভেবে দেখো। আমি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতাম।”

এর আগে গত সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন কেটি জাচারিয়া। পরের দিন মঙ্গলবার নিজের প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে তিনি জানান যে, আগের সপ্তাহের একটি দিনে তিনি এই পদের জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন।

দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তার কর্মজীবন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কারণ তিনি দাবি করেছিলেন যে অতীতে তিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে একজন আইনজীবী হিসেবেই সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

গত বুধবার এক ইমেইল বিবৃতিতে জাচারিয়া দাবি করেন যে, তিনি যথাযথ যোগ্যতা নিয়েই আন্তর্জাতিক লেনদেন বিষয়ক আইন প্র্যাকটিস করেছেন।

তবে আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থার অনুসন্ধানে এমন কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র পাওয়া যায়নি যা প্রমাণ করতে পারে যে পেপারডিন ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের এই স্নাতক যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় নিবন্ধিত আইনজীবী ছিলেন বা কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন।

পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জাচারিয়া স্বীকার করেন যে তিনি মূলত বার পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ডিগ্রি অর্জনের পর কোনো অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ না পেলে কেউ আইন পেশা পরিচালনা করতে পারেন না।

সাম্প্রতিক এই বরখাস্তের বিষয়ের ওপর মন্তব্য জানতে চেয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও কেটি জাচারিয়া কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাচারিয়া বলেছিলেন যে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।

এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দুজন ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রশাসন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রচার এবং ভাবমূর্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি মূলত এমন একজন নতুন মুখ খুঁজছিলেন যিনি প্রশাসনের অর্জনগুলোকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, আর এই ভাবনা থেকেই তিনি জাচারিয়াকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

শুক্রবার একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তার কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই।

কেটি জাচারিয়ার এই অতি দ্রুত বিদায়ের অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে প্রেস সেক্রেটারির সুদীর্ঘ ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে স্বল্পতম সময়ের জন্য এই দায়িত্ব পালন করলেন।

এর আগে ট্রাম্পের প্রথম শাসনকালে মাত্র দশ দিন যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন অ্যান্থনি স্কারামুচি এবং এতদিন পর্যন্ত প্রশাসনের সবচেয়ে কম সময় টিকে থাকার সেই রেকর্ডটি তারই দখলে ছিল।

গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় কেটি জাচারিয়ার চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে অ্যান্থনি মন্তব্য করেন, “রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।”


নির্বাচিত

দিল্লি আন্দোলনে নতুন মোড়, চাপে বিজেপি

* রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সক্রিয় বিরোধীরা * পতাকা মিছিল ঘিরে ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী * ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’র আগে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা আটক * কনট প্লেসে নিষেধাজ্ঞা, বন্ধ সেন্ট্রাল পার্ক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লির রাজনীতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা এবং দুই আন্দোলনকারীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ পতাকা মিছিল ঘিরে ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে নিজ বাড়ি থেকে আটক হন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।

কনট প্লেস ও মধ্য দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ এবং বিক্ষোভস্থলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও আলোচনায় এসেছে।

মিছিলের আগে আটক, নিরাপত্তায় দিল্লি: শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। দলটির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

গত মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাসহ ১৪ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিলের আগে পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাকে কর্মসূচি না করার বিষয়ে নোটিশ দেয়। পরে তাকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা।

দিল্লি পুলিশের প্রায় ৬ হাজার সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৬ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজীব চক, প্যাটেল চক ও সংসদ মার্গেও ব্যারিকেড বসানো হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে সিজেপির নির্বাচিত কয়েকজন সদস্যকে বিকল্প কোনো স্থানে সীমিত পরিসরে পতাকা মিছিলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মূল বিরোধ: আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম। রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি শনাক্ত করা যায়নি—এমন ভোটারের নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে তারা সংশোধনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দাবি জানাচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত নিবন্ধিত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা নির্ভুল করা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। ভুলভাবে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগও রয়েছে।

রাহুল গান্ধীসহ বিরোধীদের সক্রিয়তা: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের তৎপরতা এ বিতর্ককে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করেছে। তবে বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য ও কর্মপদ্ধতি এক নয়। আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে তাদের সমন্বয়, জনসম্পৃক্ততা এবং দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর।

তরুণদের কর্মসংস্থান, চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও শিক্ষার সুযোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। ফলে নির্বাচনসংক্রান্ত বিতর্কের সঙ্গে তরুণদের বৃহত্তর প্রত্যাশার বিষয়গুলো যুক্ত হয়ে আন্দোলনের সামাজিক পরিসর বাড়াতে পারে।

আদালতের নজরে প্রতিবাদের অধিকার: ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী নেতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চেয়েছে। তবে আদালতের জবাব চাওয়া কোনো পক্ষের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না।

জনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকারও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সব মিলিয়ে, দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিল ঘিরে ঘটনাপ্রবাহ ভারতের রাজনৈতিক বিরোধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ—এই তিনটি প্রশ্ন এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে এ আন্দোলনের ফলে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান বা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফল বদলে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে বিরোধীদের ঐক্য, আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


নির্বাচিত

দক্ষিণ এশিয়ায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে ৪ কোটি মানুষ

* মোকাবিলায় বাড়তি বিনিয়োগের তাগিদ জাতিসংঘের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে জীবিকা হারিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের ৪ কোটি ৫ লাখ পর্যন্ত মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি উদ্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব বলে মনে করছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ। ভারতের নয়াদিল্লি সফরকালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন।

আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য ও পশুখাদ্যের সংকট এবং জীবিকার সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় এই ঝুঁকি বাড়ছে।

অ্যামি পোপ বলেন, মানুষ যখন খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন না কিংবা গবাদিপশুর জন্য খাবার জোগাড় করতে পারেন না, তখন তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভারতের মতো দেশগুলোতে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের অভিবাসন বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাপপ্রবাহের কারণে মানুষ শহরাঞ্চলে চলে যাচ্ছেন বলে জানান আইওএমের মহাপরিচালক।

দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন অ্যামি পোপ। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

গত ২৬ আগস্ট নেপালে পাহাড় ও হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ঘটনাও তুলে ধরেন আইওএমের মহাপরিচালক। ওই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল সংস্থাটি।

অ্যামি পোপের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও অভিযোজন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগে অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় কম। অথচ দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে আগেই প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ালে তুলনামূলক কম খরচে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব।

বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈধ আন্তর্জাতিক অভিবাসনকেও সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ মানুষের বিকল্প জীবিকার পথ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে যেসব দেশে শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের চাহিদা পূরণেও অভিবাসীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন অ্যামি পোপ। তা না হলে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত চক্রের শোষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।


নির্বাচিত

হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দেব, সংঘাতের আঁচে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

* জ্বালানি নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব * সৌদি অবকাঠামোয় হুতিদের হামলা * ইয়ানবু রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা * চাপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কূটনীতি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন এক ভূরাজনৈতিক মোড়ে পৌঁছেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পারস্য উপসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলা, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে আঞ্চলিক সংকট এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরার।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সরকারি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমান্ড সেন্টার। হুতিদের দাবি, সৌদি সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অক্ষত রয়েছেন।

এ ঘটনার পাশাপাশি সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে হামলা ও হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের বিমানবন্দরকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হুতিরাও সৌদি বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছে।

সৌদি আরবকে চাপে রাখার কৌশল: সৌদি আরব ও হুতিদের বিরোধের শিকড় ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলের পর সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রাখলেও ২০২৬ সালে নতুন করে লড়াই তীব্র হয়েছে।

রয়টার্সের ১৫ অক্টোবরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা দেশটির অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। সৌদি আরবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অবস্থানকে পরোক্ষভাবে চাপে রাখার হিসাবও এতে থাকতে পারে।

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনায় পর্যটন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়লে নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার কারণে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল হতে পারে।

তবে হুতিদের কর্মকাণ্ডের সব উদ্দেশ্যকে শুধু ইরানের কৌশল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সৌদি সামরিক ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টাও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব: চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছে। ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি ১৫ অক্টোবর অভিযোগ করেন, ইরান হুতিদের হামলা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। সৌদি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সহায়তায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে তেহরান অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সরাসরি নির্দেশের প্রমাণও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের সহায়তা, হুতিদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ নিজ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা এবং সংঘাতকে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকানো। পাল্টা সামরিক অভিযান বাড়ালে হুতিদের সক্ষমতা দুর্বল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে; তবে এতে ইয়েমেনে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়া ও বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি নিরাপত্তার পরীক্ষা: পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর থেকে এখানে জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রণালীটিতে জাহাজে হামলা ও হামলার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারও বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার খবর দিয়েছে। ইরান নিজেদের নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকেরা বাণিজ্যিক জাহাজের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাস পরিবহন, জাহাজের বিমা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব ইউরোপ ও এশিয়ার বড় অর্থনীতির পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।

এখানে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের গুরুত্ব বাড়ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে বিকল্প রুট থাকলেই সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয় না। পাইপলাইন, পাম্পিং স্টেশন, শোধনাগার, বন্দর ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইয়ানবু রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা: সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারে ফ্রান্স সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফেরাঁ জানান, সৌদি জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের সমঝোতা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এর আগে ইয়ানবু অঞ্চলের নিরাপত্তায় সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে মোতায়েন করা সরঞ্জামের পরিমাণ ও সেগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এ উদ্যোগ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহাসিকভাবে দেশটির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ একাধিক দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। তবে ফ্রান্সের সহায়তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি সম্পর্কের অবসান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও অন্যান্য সক্ষমতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।

তায়েজ থেকে বাব আল-মান্দেব: বাণিজ্যপথে নতুন উদ্বেগ: রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তায়েজ নতুন করে তীব্র লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। হুতিদের অগ্রগতিতে শহরটির সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তায়েজ প্রদেশে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়ছে।

তায়েজের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শহরটি এডেন ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথের কাছাকাছি। সেখানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।

বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সুয়েজ খালমুখী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। জাহাজকে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলতে হলে সময়, জ্বালানি ও বিমা ব্যয় বাড়বে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রবাসীদের জন্য বার্তা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের ওপর কয়েকটি পথে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিমান চলাচল, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়লে আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এসব প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব, জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি এবং বিকল্প পরিবহনপথের কার্যকারিতার ওপর। শুধু হামলার খবরের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জ্বালানির দাম বা প্রবাসী আয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

সংকটের ভবিষ্যৎ কোন পথে: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই নৌপথেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা কত দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।

সামরিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হামলা বাড়তে থাকলে ইয়েমেনের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হতে পারে। বিপরীতে, কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে হামলা বন্ধ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইয়েমেনের রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা গেলে সংঘাতের বিস্তার সীমিত করার সুযোগ থাকবে। হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংকটে তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে রয়েছে।


নির্বাচিত

দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে যন্তর মন্তরের নেহা বোরা আটক

দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় নেহা বোরাকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের দিল্লিতে মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে শিক্ষার্থী নেতা নেহা বোরাকে যন্তর মন্তরের কাছে থেকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে, নিজ বাসা থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিল করার কথা ছিল তার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দিপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল।

দিল্লিতে তিরঙ্গা কর্মসূচির আগে ককরোচ নেতা অভিজিৎ দিপকে আটকদিল্লিতে তিরঙ্গা কর্মসূচির আগে ককরোচ নেতা অভিজিৎ দিপকে আটক

গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করায় সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগের দিন ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই দুই সদস্যের গ্রেফতারও শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ।

এদিকে, সপ্তাহান্তে ককরোচ যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের অভিযানের মধ্যে আটক হওয়া পরিচিত কর্মীদের একজন নেহা বোরাও। ২৯ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী নেতাকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় দিপকেকে বলা হয়, আপনি নয়াদিল্লিতে যেতে পারবেন না। আমরা আপনাকে আটক করছি। জবাবে তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে যেতে পারব না, অন্য কোথাও তো যেতে পারি। আমি কোন আইন ভেঙেছি?

শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) আটকের আগে দিল্লি পুলিশ দিপকের বাসায় গিয়ে মিছিল না করার বিষয়ে তাকে একটি নোটিশ দেয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত তিরঙ্গা যাত্রার জন্য নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ককরোচ জনতা পার্টি মিছিল আয়োজন করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

গান্ধীর ছবি আঁকা সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা ৩১ বছর বয়সী দিপকেকে পুলিশ জানায়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরোধী নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং জনসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে। এ ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে পতাকা বিধির বিধান সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়।

প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বসার ঘরে হলুদাভ রঙের সোফায় বসে আছেন দিপকে। তার কাঁধে ছোট একটি জাতীয় পতাকা জড়ানো। সামনে কাচের টেবিলে রাখা কয়েকটি কাগজের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করতে করতে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছেন?


নির্বাচিত

হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু ফ্রান্সের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল পরিবহনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে প্যারিস। বিশেষ করে লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ইয়ানবু এবং সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাসকাল কনফেরাঁ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা শুধু দেশটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি নয়, এর প্রভাব ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা কেবল সৌদির নিরাপত্তা বা এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না; এর ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছি আমরাও। জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পরতে হবে আমাদের।”

তিনি আরও বলেন, “তছাড়া আপনার এ-ও জানেন যে গত ২৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ফ্রান্স সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ইয়ানাবু পূর্ব-পশ্চিম করিডোর রক্ষায় সহযোগিতা করবে। সেই প্রতিশ্রুত সহযোগিতার অংশ হিসেবেই সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।”

গত মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে সেনাসদস্য ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে তাঁর দেশ। এর উদ্দেশ্য লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শহরটি সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সে সময় ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব সীমিত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা এই স্থানটিকে সুরক্ষিত রাখতে সামরিক সম্পদ—অর্থাৎ সৈন্য, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছি।”

তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন, সৌদি আরবে সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে ফ্রান্স সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে ইয়ানবুর কৌশলগত গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর ইউরোপে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ থাকায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পারস্য উপসাগর উপকূলের সৌদি তেল উৎপাদনকেন্দ্র থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭৫০ মাইল দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন এই সরবরাহব্যবস্থার মূল অবকাঠামো। এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পাঠাতে পারে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলেও বিকল্প পথে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকে।

আশির দশকের শুরুর দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়লে এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারও সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিতে এর গুরুত্ব বেড়েছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন ও শোধনাগার

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা। গত সেপ্টেম্বরে ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে হুথিদের একটি হামলায় ইয়ানবুতে অবস্থিত ‘ইয়াসরেফ’ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির কারণে শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সম্ভাবনা

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক সহায়তার পরিধি কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ইয়ানবুর নিরাপত্তায় ফ্রান্স রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলে কিছু ফরাসি যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যে রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। আপাতত সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর মাধ্যমে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইয়ানবু বন্দর ও ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু সৌদি আরবের রপ্তানি নয়, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।


নির্বাচিত

banner close