সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
২ চৈত্র ১৪৩২

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম বুলেট ট্রেন চালু করল ইন্দোনেশিয়া

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা বুলেট ট্রেন ‘হুশ’। ছবি: এএফপি
আপডেটেড
২ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৫

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম সর্বোচ্চ গতির বুলেট ট্রেন চালু করেছে ইন্দোনেশিয়া। চীনের অর্থায়নে সোমবার যাত্রা শুরু করে এই ট্রেন। চীনের সহযোগিতায় মাল্টি বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পকে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ‘দেশের আধুনিকীকরণের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা বুলেট ট্রেন ‘হুশ’ রাজধানী জাকার্তা ও বান্দুংয়ের মধ্যে চলাচল করবে। এই দুই নগরীর মধ্যে চলাচলে ট্রেনটির সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। ১৪০ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথ পাড়ি দিতে আগে সময় লাগত প্রায় তিন ঘণ্টা।

রাজধানীর প্রধান স্টেশনে এক অনুষ্ঠানে ইউদোদো বলেন, ‘জাকার্তা-বান্দুং হাই-স্পিড ট্রেনটি আমাদের দক্ষ, বন্ধুসুলভ এবং সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি নিদর্শন। এটি গণপরিবহনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের আধুনিকীকরণের প্রতীক, যা অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে নির্বিঘ্নে সংযোগ স্থাপন করছে।’

ইউদোদো বলেন, ৬০০ যাত্রী পরিবহন ক্ষমতার ট্রেনটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ গতির একটি পরিবহন।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৯ সালের মধ্যেই এটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল।

তবে নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকার এবং মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এটির কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগে এবং ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়।


গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১

আপডেটেড ১৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্য গাজার আল-জাওয়াইদা শহরের প্রবেশ পথের কাছে একটি পুলিশ যানবাহনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি পৃথক হামলায় একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের একটি ড্রোন হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা করে। এ হামলায় আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে একই দিনে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি পৃথক ড্রোন হামলা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এতে এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও তাদের সন্তান নিহত হন বলে জানিয়েছে আল-ওয়াদা হাসপাতাল।

এই দুটি হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মরদেহ ও ৮ জন আহত হাসপাতালে আনা হয়েছে।

তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৩ জনে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৬২ জন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২,২৩৯ জন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬১ জনে পৌঁছেছে।

গাজা ও ইরানে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার তারকারা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ হামলা এবং গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারা। যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রেড কার্পেটকে (লাল গালিচা) মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারকারা।

অনুষ্ঠান চলাকালীন পুরস্কার বিজয়ী স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম একটি পিন পরেছিলেন যাতে লেখা ছিল ‘NO A LA GUERRA’, যার বাংলা অর্থ হলো ‘যুদ্ধকে না’; এ ছাড়া তার পোশাকে ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করও’ (Free Palestine) লেখা আরও একটি পিন ছিল।

সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের পুরস্কার প্রদানের সময় তিনি যখন বলেন, ‘যুদ্ধকে না এবং ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো,’ তখন উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে পুরো মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে।’

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৯৮তম আসরে সেরা ছবি হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে পল থমাস অ্যান্ডারসন পরিচালিত ডার্ক কমেডি অ্যাকশন থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’।


হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তায় অস্বীকৃতি ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিসের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের তিন শক্তিশালী দেশ ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিস। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক জোটে অংশগ্রহণের জন্য প্রবল চাপ এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি থাকা সত্ত্বেও দেশগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই অঞ্চলে কোনো ধরনের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে ইচ্ছুক নয়। ট্রাম্পের এই আহ্বানে মিত্র দেশগুলোর এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একক আধিপত্যের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের অংশ হবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, মিত্র দেশগুলো যদি এই অঞ্চলে সামরিক সহায়তা না দেয়, তবে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে স্টারমার বলেন, এই মুহূর্তে ব্রিটিশ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ওই অঞ্চলে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মিত্রদের জানমাল রক্ষা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটেন নিজেকে কোনো ব্যাপক সংঘাতের অংশ হতে দেবে না, বরং ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

একই সুরে সুর মিলিয়ে জার্মানিও এই সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার সাথে ন্যাটোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। জার্মানি এই যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেবে না এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কোনো অভিযানেও তাদের নৌবাহিনী যোগ দেবে না। জার্মান প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, যতদিন এই সংঘাত চলবে, ততদিন তারা সামরিক তৎপরতা থেকে নিজেদের দূরে রাখবে এবং কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট উত্তরণের পথ খুঁজবে।

অন্যদিকে, গ্রিসও এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়াবে না। ইউরোপীয় এই দেশগুলোর এমন সমন্বিত অবস্থান মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর এক ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন মিত্রদের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সংকুচিত করতে চাইছে, তখন ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই ‘না’ বলা ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারের সিংহভাগ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অজুহাতে মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা আদায় করতে চাইলেও ব্রিটেন, জার্মানি ও গ্রিসের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের পররাষ্ট্র নীতিতে আরও স্বাধীন ও সতর্ক। এই পরিস্থিতির ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সংহতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে ট্রাম্পের ন্যাটোভিত্তিক হুমকির পর এই দেশগুলোর অনড় অবস্থান আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে এক গভীর ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


যেসব দেশ সহায়তা করছে না, তাদের দেখে নেব: ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যেসব দেশ সহায়তা করবে না, তাদের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে মনে রাখবে। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন। ট্রাম্পের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহ পথে নিরাপত্তা বজায় রাখা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি রাষ্ট্রের এটি একটি অপরিহার্য কর্তব্য।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক টহল বা ‘পুলিশিং’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অভিযানে কোন দেশগুলো সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে এবং কারা কৌশলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে, তা তিনি এবং তাঁর প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই অংশগ্রহণকে একটি ‘অত্যন্ত ছোট প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, কোন দেশ এই আহ্বানে শেষ পর্যন্ত সাড়া দেয় তা দেখা হবে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। যারা এই বৈশ্বিক সংকটে পাশে দাঁড়াবে না, ভবিষ্যতে তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভিন্নভাবে’ ভাববে বলেও তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত মিত্র দেশগুলোর ওপর এক ধরনের তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। বিশেষ করে এশিয়াসহ বিশ্বের যেসব দেশ নিয়মিত এই জলপথ দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও তেল আমদানি করে, তাদের ওপর দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিই তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন। ট্রাম্পের এই বার্তার মূল লক্ষ্য হলো মিত্র দেশগুলোকে সরাসরি সামরিক বা কৌশলগত অংশগ্রহণে বাধ্য করা, যাতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ব্যয়ভার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর না পড়ে।

এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এই অঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্পের এই নতুন হুঁশিয়ারি মূলত সেইসব দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের জন্য একটি বড় চাপ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই প্রচ্ছন্ন হুমকির পর অস্ট্রেলিয়া বা জাপানের মতো দেশগুলো তাদের বর্তমান অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনে কি না। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ট্রাম্পের এই ‘পুলিশিং’ পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন কোনো উত্তজনা সৃষ্টি করে কি না, সেটিই এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: সিউলে ব্যাপক বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে রাজধানী সিউলের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সোমবার সিউলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির অংশ হতে চান না।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়াসহ মিত্র দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের এই আহ্বানের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিলেও সাধারণ জনগণ এর ঘোর বিরোধী। বিক্ষোভকারীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়া দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই জোটে অংশগ্রহণ করলে অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শত শত মানুষ প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ওয়াশিংটনের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন যে, দেশের নৌবাহিনীকে কোনো ভিনদেশি সামরিক অভিযানে পাঠানো হবে না। তাদের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শক্তি কেবল নিজেদের সীমানা রক্ষার জন্য ব্যবহার করা উচিত, অন্য কোনো দেশের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়। এই বিক্ষোভ সিউলের রাজনৈতিক মহলেও বেশ প্রভাব ফেলেছে এবং সরকারের জন্য মার্কিন প্রস্তাব গ্রহণ করা কঠিন করে তুলেছে।

উল্লেখ্য যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি এই এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা এবং ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মিত্র দেশগুলোকে এই জোটে যোগ দিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ মানুষের এই জোরালো প্রতিবাদ সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন ধরনের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের এমন প্রতিরোধের মুখে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এখন বড় ধরনের নীতিগত সংকটে পড়তে পারে।


‘সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাক ট্রাম্প’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি নাকচ করেছে ইরান। সোমবার (১৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানায়।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, ট্রাম্পের ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠিয়ে দেখুক কী পরিণতি হয়।

নাইনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি আইআরজিসি নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছেন, তাহলে, সাহস থাকলে তিনি তার জাহাজ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠাতে পারেন।


হরমুজ প্রণালিতে পাহারা দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল জাপান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে তৈলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে জাপান। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে টোকিও’র নেই। ট্রাম্পের এই আহ্বানের পর প্রথম মিত্রদেশ হিসেবে জাপান তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক বার্তায় জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সুরক্ষা দিতে বিশেষ টহল শুরু করবে। এর দুই দিন পর, ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি জাপানসহ আরও পাঁচটি দেশ—চীন, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনকে এই কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। ট্রাম্প তার যুক্তিতে বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই এলাকা থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ পেয়ে থাকে, তাই নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় তাদেরই এগিয়ে আসা উচিত। তিনি একে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব না বলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার দায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টোকিও থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জাহাজ পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত তাদের সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। জাপান বর্তমানে তার নিজস্ব আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বতন্ত্রভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে। মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং আইনি ফ্রেমওয়ার্কের কথা মাথায় রেখেই জাপান এই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সরাসরি সামরিক উপস্থিতির ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জাপানের এই অবস্থানের সমর্থনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেটি আইনিভাবে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ এবং বাস্তবিক অর্থে কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কোইজুমির এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জাপান মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক জটে জড়াতে ইচ্ছুক নয়।

উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আহ্বানের তালিকায় চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলো থাকলেও এখন পর্যন্ত কেবল জাপানই তাদের আনুষ্ঠানিক অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে। বাকি দেশগুলো এই সংবেদনশীল ইস্যুতে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জাপানের এই প্রত্যাখ্যান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


হরমুজ প্রণালিতে রণতরি পাঠাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান নাকচ করল অস্ট্রেলিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে এই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধজাহাজ বা রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং দেশটির একটি সরকারি বেতার মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মুহূর্তে ওই জলপথে সামরিক শক্তি মোতায়েন করার বিষয়ে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই এবং এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অনুরোধও তাদের কাছে পৌঁছায়নি।

মন্ত্রী ক্যাথরিন কিং তাঁর বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাঁদের সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সীমাবদ্ধ। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম ও সহায়তা বজায় রাখছে। বিশেষ করে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক অস্ট্রেলীয় নাগরিক বসবাস করায় তাঁদের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিমান সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির সংকটে সরাসরি কোনো সামরিক জাহাজ মোতায়েনের সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথটি সচল রাখতে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে জাপানও একইভাবে এই অঞ্চলে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। একের পর এক মিত্র দেশগুলোর এমন নেতিবাচক সাড়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের প্রচেষ্টা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার সম্মুখীন হলো।


মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় ভয়াবহ খাদ্য সংকটের হুমকিতে বিশ্ব

* সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে * খাদ্য উৎপাদনের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে * সারের দাম দ্রুত বাড়ছে * সারের কাঁচামালের সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করেছে। ইরানও পাল্টা হামলা করছে। ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে বিশ্ব খাদ্যব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই যুদ্ধ বিশ্বে ভয়াবহ খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুতর চাপ তৈরি হচ্ছে।

যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বাড়বে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। অনলাইন আরটি’তে প্রকাশিত এক খবরে একথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের কৃষকদের জন্য সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। বসন্তকালীন চাষাবাদের মৌসুম শুরু হয়েছে। আর এই সময়ে সারের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সাধারণ ভোক্তারা যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি সারের দামও দ্রুত বাড়ছে এবং সারের কাঁচামালের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

চলমান সংঘাত সার উৎপাদনের পুরো শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করছে। বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে আধুনিক সার কীভাবে তৈরি হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক গ্যাস নাইট্রোজেনের সঙ্গে হাইড্রোজেন মিশিয়ে অ্যামোনিয়া তৈরি করা হয়। পরে সেই অ্যামোনিয়া থেকে তৈরি হয় ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং ইউরিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (ইউএএন)। এগুলোকে একত্রে নাইট্রোজেনভিত্তিক সার বলা হয়। কৃষকরা ফসফরাস ও পটাশিয়ামভিত্তিক সারও ব্যবহার করেন। তবে নাইট্রোজেন সারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। বিশ্বব্যাপী মোট সারের ব্যবহারের প্রায় ৫৯ শতাংশই নাইট্রোজেন সার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সার ছাড়া পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক খাদ্য উৎপাদনই সম্ভব হতো না।

প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈশ্বিক সার উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং রাশিয়া। তবে ইরান, সৌদি আরব এবং কাতার যথাক্রমে বিশ্বের নবম, দশম ও একাদশ বৃহত্তম উৎপাদক। বিশ্বের নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মার্চের শুরু থেকেই এই প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৭ মার্চ সেখানে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে চলাচল করত প্রায় ১২৯টি জাহাজ। ফলে বিপুল পরিমাণ সার বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারছে না। এর প্রভাব পড়েছে দামের ওপরও। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ছিল ৪৬৪ ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯৪ ডলার।

শুধু ইউরিয়া নয়, কৃষিতে ব্যবহৃত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সালফার, যা জীবাশ্ম জ্বালানির উপজাত। এর দামও চীনের বাজারে একই সময়ে ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্রপথে জাহাজের জ্বালানি ব্যয় এবং বীমা খরচের দ্রুত বৃদ্ধি।

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো শুধু সারই উৎপাদন করে না, তারা বিদেশি সার কারখানার জন্য গ্যাসও রপ্তানি করে। যুদ্ধের কারণে কাতার হঠাৎ করেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজার থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়েছে ভারতের সার শিল্পে। ভারতীয় ইউরিয়া উৎপাদকরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে এবং কিছু কারখানা বন্ধ করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়ে ভোক্তাদের ওপর। অর্থাৎ খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সারের দাম বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে খাদ্যের দাম ২০১৯ সালের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার গ্যাসের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের এলএনজির ওপর নির্ভর করছে।

কিন্তু এখন সেই সরবরাহও ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের অনেক সার কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। পোল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত সার কোম্পানি গ্রুপা আজোটি এসএ (গ্রুপা আজোটি এসএ) মার্চের শুরুতে নতুন অর্ডার নেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। কারণ ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। পরে বাজারদর অনুযায়ী কয়েক দিন পর আবার অর্ডার নেয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে রয়েছে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো।

জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদান, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, কেনিয়া এবং মোজাম্বিক- এই ছয়টি দেশ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা সারের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুদানে ব্যবহৃত সারের ৫৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ব্যবহৃত সারের ৩৬ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। উন্নয়নশীল দেশের কৃষকরা সাধারণত উৎপাদন খরচ বাড়লে তা সামাল দিতে পারেন না। ফলে দ্রুত খাদ্য ঘাটতি তৈরি হয় এবং অনেক সময় তা দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে।

তেল-গ্যাসের বাজারের মতো সারের বাজারেও উচ্চ দাম কিছু দেশের জন্য লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। এর অন্যতম উদাহরণ রাশিয়া। বেলারুশ-সহ এই দুই দেশ বিশ্বের মোট সার রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। রাশিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির সার উৎপাদন ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ৬৫.৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে- যা একটি নতুন রেকর্ড।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া ও বেলারুশের সারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ‘রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করা।’ কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে উল্টো ফল হয়েছে। রাশিয়া তার সার রপ্তানি ঘুরিয়ে দিয়েছে ব্রিকস দেশগুলোর দিকে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব দেশে রাশিয়ার সার রপ্তানি ৬০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির কৃষকেরাও এখন তুলনামূলক সস্তা সার পাচ্ছেন। ফলে রাশিয়ায় নতুন ধনী শ্রেণি তৈরি হচ্ছে।

ফোর্বস-এর ২০২৬ সালের বিলিয়নিয়ার তালিকা অনুযায়ী, গত বছর রাশিয়ায় নতুন যে ১৪ জন ডলার বিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৭ জনই কৃষি ও খাদ্য খাত থেকে সম্পদ অর্জন করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন আলেকজান্দর তাকাচেভ, বৃহৎ কৃষি প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকমপ্লেক্স-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ভাদিম মশকোভিচ, বৃহৎ খাদ্য কোম্পানি রুসাগ্রোর নিয়ন্ত্রক। এছাড়া সার ব্যবসায়ী আন্দ্রেই মেলনিচেঙ্কো এবং দিমিত্রি মাজেপিন-এর সম্পদও ইউরোপের সারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আরও বেড়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের দেশ ছাড়ার জন্য জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। দূতাবাস বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে এখনই সৌদি আরব ত্যাগ করা উচিত।

রোববার (১৫ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক গণমাধ্যম গলফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্র সচিব রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে আমেরিকান নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

দূতাবাস আরও জানায়, রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম বিমানবন্দর খোলা এবং কার্যকর রয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আকাশপথে নিয়মিত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যাত্রীরা ফ্লাইটের আগে সরাসরি এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপডেট যাচাই করতে হবে। যারা দেশ ছাড়তে পারছেন না, তাদের জন্য দূতাবাস নির্দেশ দিয়েছে—বাড়ি বা কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিশ্চিত করুন এবং প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধসহ অন্যান্য জিনিস সংগ্রহ করুন।

দূতাবাস সব আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলতে হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।


হরমুজ প্রণালিতে আটকা ৩১ নাবিকসহ ‘বাংলার জয়যাত্রা’, কূটনৈতিক সহায়তা চাইল বিএসসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে আটকা পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বিএসসির মালিকানাধীন ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ নামের জাহাজটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পার হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করে। তবে ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জাহাজটি শেষ পর্যন্ত পথ পরিবর্তন করে আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়।

এ ঘটনায় জাহাজটির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সহায়তা চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএসসি। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ম্যারিটাইম ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি এখন শারজা উপকূলের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে।

বিএসসি সূত্র জানায়, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল জাহাজটি। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে তা জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু ঠিক পরদিনই ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালালে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় জাহাজটি নতুন পণ্য বহনের পরিকল্পনা বাতিল করে নিরাপদে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করলেও পথে নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ায় জাহাজটি আর অগ্রসর হয়নি।

নাবিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। একই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ডও নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে জাহাজটি পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে।

‘এমভি জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল একপ্রকার বন্ধই আছে। সেখানে কয়েকটি জাহাজে মিসাইল বা ড্রোন হামলাও হয়েছে। গত মঙ্গলবারে একটি চীনা জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে শুনেছি। গত দুই দিন কোনো জাহাজের মুভমেন্ট ছিল না।

তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই, জাহাজ ভাড়াকারী প্রতিষ্ঠান এ গন্তব্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে আমরা শারজাহ বন্দরের অদূরে জাহাজ নোঙ্গর করে আছি।

জয়যাত্রার সব নাবিক সুস্থ এবং তাদের মনোবল অটুট রয়েছে জানিয়ে বিএসসি এমডি মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজে সব ধরনের খাবার ও সুপেয় পানি পর্যাপ্ত রয়েছে, জাহাজ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেলও রয়েছে। আগামী কয়েক মাস এসবের কোনো সমস্যা হবে না। নাবিকদের নিরাপদে থাকার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন পরামর্শ আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জাহাজটি আপাতত শারজার নোঙর এলাকায় রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতার থেকে নতুন করে পণ্য বহনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর অলভিয়া বন্দরে অবস্থানরত বাংলাদেশের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই হামলায় জাহাজের প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন এবং পরে আটকে পড়া ২৮ নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জ্বালানিমন্ত্রীর অনুরোধে বিষয়টি তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালি ও তার আশপাশে অন্তত ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দুবাই উপকূলের কাছে ‘সোর্স ব্লেসিং’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে আগুন লাগলেও জাহাজের নাবিকেরা প্রাণে বেঁচে যান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে প্রায় ১১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ব শিপিং কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী জো ক্রামেক বলেন, সংঘাতে জড়িত না থাকলেও নাবিকেরা এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।


কেনিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, ৬২ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কেনিয়ায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় গত এক সপ্তাহে অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪২। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। রাজধানী নাইরোবিতে পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় একটি মিনিবাস পানিতে আটকে পড়ে। পরে উদ্ধারকারীরা সেখান থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করেন। একই রাতে পানিতে প্লাবিত একটি বাড়ি থেকে দুই শিশুকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেনিয়া রেড ক্রস।

গত সপ্তাহজুড়ে ভারি বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব কমই দেখা গেছে। অনেক নদীর পানি তীর ছাপিয়ে আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এতে অসংখ্য বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববার এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, ফলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও তার ফলে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

মৃতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর বাসিন্দা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরটির দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়াও বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থাও পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে বন্যার প্রভাব শুধু কেনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়াতেও বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণাঞ্চলে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার পেছনে নানা কারণ থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ হয়ে ওঠা বায়ুমণ্ডল অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে বিশ্বে গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যে প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না হলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।


ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২২৩ নারী ও ২০২ শিশু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর হামলায় অন্তত ২২৩ জন নারী এবং ২০২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। নিহতের এই মিছিলে ৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ৫ বছরের কম বয়সি ১২টি শিশুও রয়েছে।

রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেহরান জানিয়েছে, কেবল প্রাণহানিই নয়, বর্বরোচিত এই হামলায় ৪১ জন শিশু গুরুতর জখম হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ইসরায়েল ও আমেরিকার এই যৌথ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি আগ্রাসনে ইরানের স্বাস্থ্য খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সারাদেশে অন্তত ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশটির চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে আহতদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ হাসপাতালগুলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।


ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার দাবি ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তর এবং একটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্রে শক্তিশালী চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। রোববার ভোরের দিকে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রোববার সকালে ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিটের প্রধান কার্যালয় ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি ও কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’ লক্ষ্য করে এই জোরালো হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আক্রান্ত স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান কিংবা এই হামলার ফলে কী ধরনের বা কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে চালানো ক্রমাগত হামলার জেরে ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান এই সংঘাতের প্রভাবে গত এক দিনে অন্তত ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই ব্যক্তিরা ঠিক কীভাবে আহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আহতদের একটি অংশ ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা লেবানন থেকে আসা রকেটের আঘাতে সরাসরি জখম হয়েছেন। এ ছাড়া আক্রমণের সতর্ক সংকেত শোনার পর দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে পড়েও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে ৮১ জন নাগরিক বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চল জুড়েই এখন চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


banner close