ওয়াশিংটনের রুশ দূতাবাসের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে মার্কিন সরকার। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে দুই মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কারের জেরে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানায়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করায় একে ‘সাধারণ প্রতিশোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ দূত আনাতোলি আন্তোনভ। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ওয়াশিংটন রাশিয়ার দূতদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পক্ষে কোন যুক্তি দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলছি, রুশ দূতাবাসের দু’জন কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রশাসন আরেকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোয় মার্কিন দূতাবাসের দুজন কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মস্কো ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আনাতোলি আন্তোনভ মস্কোতে মার্কিন দূতাবাসের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করার যে কোনো চেষ্টার উপযুক্ত জবাব দেয়ার বিষয়ে মার্কিন পক্ষকে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, বহিষ্কৃত আমেরিকানরা মূলত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছিল। এই ধরনের কাজের উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে তিনি মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের নাসাও জেলা পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিতর্কিত অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর, বলা ভালো খুব খারাপভাবে পরাজিত করার পর, শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। ট্রাম্প পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন যে, গত জুলাই থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যে কঠোর অবরোধ জারি করেছে, তা ‘ইস্পাতের দেওয়ালের’ মতো অব্যাহত থাকবে এবং কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ ও পাল্টা অবরোধের ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হলেও গত ৫ জুলাই ইরানি বাহিনীর হামলার পর সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ইরানের অবস্থান হলো, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না এবং অন্য দেশের জাহাজের জন্য বিশেষ টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এক বার্তায় সরাসরি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না এবং যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করবে, ততদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বহাল থাকবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের মনোভাব তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট এবং নতুন করে জ্বালানি সহায়তার অনুরোধসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিকেও ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারতের তরফ থেকে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণগুলো ইতোমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা জানেন, ডিজেল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি চলমান চুক্তি রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। আর আপনারা যে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধের কথা বললেন, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নিজেদের শোধন ক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের সার্বিক প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যালোচনা করা হবে।’
ভারতের প্রতি বাংলাদেশিদের ইতিবাচক মনোভাবে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৫৭ শতাংশ বাংলাদেশি ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে এসে তা ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। মানে বাংলাদেশে ভারতকে অপছন্দের সংখ্যা বেড়েছে। আর ভারতকে অপছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে পাকিস্তান। শতকার হিসাবে তা ৯১ শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৩৬টি দেশের ওপর চালানো নতুন জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়।
বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ৪৫ শতাংশ হলেও, বাংলাদেশের এই পতনই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের জরিপে যেখানে ৫৭ শতাংশ বাংলাদেশি ভারতকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতেন, ২০২৬ সালে তা ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে।
বিশ্বজুড়ে যে ১০টি দেশে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশেই এই পতনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে একই সময়ে ভারত বিষয়ে কোনো মতামত না দেওয়া বাংলাদেশির হার ২৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে বাংলাদেশে ভারতকে অপছন্দের সংখ্যা ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিপরীতে, ভারতের প্রতি সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে শ্রীলংকায়, যেখানে ৭৯ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আর পাকিস্তানিরা ভারতকে সবার চেয়ে বড় শত্রু মনে করেন। অন্যদিকে ভারতীয়রাও পাকিস্তানকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ‘বসন্ত ২০২৬ বৈশ্বিক মনোভাব সমীক্ষা’ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
এ ছাড়া কেনিয়া ও যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় সাতজনই ভারতকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। জার্মানি (৬৩ শতাংশ), ইসরায়েল (৬০ শতাংশ), ইতালি (৫৬ শতাংশ), সুইডেন (৫৫ শতাংশ), জাপান (৫৫ শতাংশ) ও থাইল্যান্ডেও (৫৫ শতাংশ) অধিকাংশ মানুষের মনোভাব অনুকূল।
বিপরীতে, তুরস্কে মাত্র ১৫ শতাংশ এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৮ শতাংশ মানুষ ভারতের পক্ষে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন; যার ফলে এসব এলাকায় ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক জনমত স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে ৪৫ শতাংশ ভারতকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। ২০২৩ সালের ৫১ শতাংশ থেকে যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতেও মতভেদ দেখা গেছে; ডেমোক্র্যাট ও উদারপন্থিদের (৫৪ শতাংশ) মধ্যে রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের (৪০ শতাংশ) তুলনায় ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করার প্রবণতা বেশি।
পিউ গবেষণার তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (যেমন জার্মানি ও ফ্রান্স) ভারতের প্রতি ইতিবাচক জনমত বাড়লেও, দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে ভারতের ভাবমূর্তি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কাঠামোগত সংকটে ভুগছে।
প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই সংগঠনটি এখন বিভক্ত হয়ে তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। একসময় মিশরসহ গোটা আরব বিশ্বে যাদের ব্যাপক রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, তারা আজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
সংগঠনটির এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিবন্ধটিতে তাদের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিভক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে স্পষ্টতই দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার একটির কেন্দ্র লন্ডনে এবং অন্যটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে।
নেতৃত্বের দুর্বলতা, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এই দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে। প্রবীণ নেতাদের এই ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং দিকনির্দেশনাহীনতার কারণে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ কর্মীরা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন, যার ফলে অনেকেই সংগঠন থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছেন।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই ব্রাদারহুড দেশটির সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী হয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, নয়তো বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতেও সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা মিসর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ইস্তাম্বুল বা দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোতেও এখন তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
শুধু মিসর নয়, বরং তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিত্ররা ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ বলছে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পুরোনো আবেদন হারিয়েছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও বিভক্তির কারণে সংগঠনটি আদৌ এই গভীর সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় মাদকপাচারকারি চক্রগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও কঠোর ও বিস্তৃত করার এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদকবাহী নৌযানে বিমান হামলার পর এবার স্থলভাগেও সরাসরি অভিযান চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতিতে এই পরিবর্তন মাদকবিরোধী যুদ্ধকে এক নতুন এবং ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মাদক কার্টেলগুলো যেখানে সক্রিয়, প্রয়োজনে সেখানেই হামলা চালানো হতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মাদকবিরোধী লড়াই এবার সমুদ্রের সীমানা ছাড়িয়ে সরাসরি স্থলভাগে অবতীর্ণ হচ্ছে। হেগসেথের ভাষ্যমতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ১৯ দেশের একটি বিশেষ জোটের প্রধান আলোচ্যসূচিতে মাদকপাচারকারি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে।
পানামার জঙ্গলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হেগসেথ জানান, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌযানে হামলায় যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে, স্থলভাগেও তারা একই ধরনের রণকৌশল অবলম্বন করতে চান। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগেও আমরা একই ধরনের প্রভাব তৈরি করতে চাই। তাই আমরা ইকুয়েডরের সঙ্গে কাজ করছি, কলম্বিয়ার সঙ্গে কাজ করছি এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে মিলে স্থলভাগে মাদকপাচারকারি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে এগোচ্ছি।’ উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা মাদকবিরোধী বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বির্তক সৃষ্টি হয়েছে।
পানামায় চলমান ২০টিরও বেশি দেশের যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়ে হেগসেথ মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বার্তা প্রদান করেন। সৈন্যদের উপস্থিতিতে তিনি কঠোর সুরে বলেন, ‘আপনি যেখানেই মাদকপাচার করবেন, অথবা আমেরিকান জনগণ কিংবা আমাদের অংশীদারদের জন্য হুমকি তৈরি করবেন, সেখানেই আপনি লক্ষ্যবস্তু হবেন, ঠিক যেমন আইএসআইএস বা আল-কায়েদা।’ ‘আমেরিকানস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ নামের ১৯ দেশের এই জোটে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো থাকলেও মেক্সিকোর অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। হেগসেথ তার বক্তব্যের শেষে মাদকপাচারকারি নেটওয়ার্কগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন সরকারের হাতে থাকা প্রতিটি সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা এসব নেটওয়ার্ককে চূড়ান্তভাবে ঘিরে ফেলব এবং ধ্বংস করব।’
ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত রোটেশন বা পর্যায়ক্রমিক বদলির অংশ হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামক এই অত্যাধুনিক রণতরিটিকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এটি বর্তমানে সেই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে।
লাইভমিন্টের সংবাদ এবং লাইভস্কোয়াকের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ এবং বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে এটি রেকর্ড ২০০ দিন ধরে কোনো বন্দরে নোঙর করার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘ এই অবস্থানের ফলে রণতরিতে থাকা হাজার হাজার নাবিকের জীবনযাত্রার মান এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জাহাজে সুপেয় পানির সংকট, দূষিত পানি সরবরাহ, প্লাম্বিং বা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নাবিকদের মানসিক অবসাদ এবং রসদ সংকটের খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে মন্তব্য করে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ রুটগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজটিতে সাময়িকভাবে রসদ বা প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।
এদিকে নতুন রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ সম্প্রতি ভিয়েতনামের দা নাং এলাকা ত্যাগ করেছে এবং সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করে বর্তমানে ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার ফলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন নৌ-উপস্থিতি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যখন ওয়াশিংটন বিশেষ নজর দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে ইরানের সঙ্গে বিরোধের জেরে এমন স্থানান্তর মার্কিন সামরিক কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। দেশটির একটি পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ ট্রেন স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডের মধ্যে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। হুবেই প্রদেশের দুংহু ল্যাবরেটরির মাত্র এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্র্যাকে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়। এর মাধ্যমে অতি উচ্চগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ গতিবৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।
এই ট্রেনের প্রধান বিশেষত্ব হলো ম্যাগলেভ প্রযুক্তি, যা চৌম্বক শক্তি ব্যবহার করে যানটিকে রেললাইনের সামান্য ওপরে ভাসিয়ে রাখে। লাইনের সঙ্গে ট্রেনের সরাসরি কোনো ঘর্ষণ না থাকায় এবং লাইনের চারপাশে থাকা কয়েলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে ট্রেনটিকে তীব্র গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। চীনা গবেষকরা সফলভাবে প্রদর্শন করেছেন যে, ট্রেনটি কেবল অকল্পনীয় গতিতেই পৌঁছাতে সক্ষম নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় ব্রেক ব্যবস্থার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পর ট্রেনটি মাত্র ২০০ মিটারের ব্যবধানে অত্যন্ত মসৃণভাবে থেমে যেতে সক্ষম হয়েছে।
১ দশমিক ১ টন ওজনের এই ট্রেনটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সেই সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতি তুলে প্রথম বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি যথাক্রমে ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙতে শুরু করে। চীনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষামূলক চালনার মাধ্যমে গবেষকরা উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন এবং জরুরি ব্রেক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতা যাচাই করে নিয়েছেন।
বর্তমানে চীন ও জাপানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো সাধারণত ঘণ্টায় ৩২০-৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। সে তুলনায় এই নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা কয়েকগুণ বেশি। যদিও এই গতির ট্রেন এখনই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপযোগী নয়। তবে গবেষকদের আশা, এর মূল নীতিগুলো ভবিষ্যতে রকেট এবং যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চীনা বিজ্ঞানীরা বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর দিয়ে অতি উচ্চগতির ট্রেন চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এ ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত বিপুল ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘ পথজুড়ে নিখুঁত ট্র্যাক নির্মাণ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এএফপি’র স্থিরচিত্র ও সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই সাফল্য ভবিষ্যতে বৈশ্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা প্রিফেকচারে ইতিহাসের ভয়াবহতম বৃষ্টিপাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী এই অঞ্চলে গত কয়েক দিনের নজিরবিহীন বর্ষণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। জাপানি কর্তৃপক্ষ এই আবহাওয়াকে অত্যন্ত বিরল ও ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রায় ২০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী সারারাত আটকা পড়ে ছিলেন। যদিও কর্তৃপক্ষ শুরুতে সর্বোচ্চ লেভেল-৫ জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে তা কমিয়ে লেভেল-৪-এ আনা হয়। তবে ভূমিধস ও বন্যার চরম ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান বলে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে জাপান ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানার ধারাবাহিকতায় এই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্রের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দেশটির পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে ওপরের স্তরের শীতল বায়ুর সাথে মিশে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। টাইফুন ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামের তিনটি ঝড় চলতি সপ্তাহে এই অঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গভীর রাত পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাংবাদিকদের চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, ‘জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি। অতীতে আমি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি।’ তিনি আরও জানান, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার এবং সেই লক্ষ্যেই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চিবা প্রিফেকচারের কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এবার এই অঞ্চলে প্রায় তিনগুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা জাপানে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বর্ষণের অন্যতম। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি এবং আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন যিনি বন্যায় প্লাবিত সড়কে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় ১ লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অনেক যাত্রী মেট্রোস্টেশনে আটকা পড়েন এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারি ভবনে রাত কাটিয়েছেন।
চরের ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হয়েছিল, তাই এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।’ বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি তার ব্যবসা পুনরায় চালু করা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে নারিতা বিমানবন্দরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাপান এয়ারলাইন্স। জাপানের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ফিলিপাইনেও বন্যার আশঙ্কায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডলফিন ঝড়ের প্রভাবে চীনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। ডলফিন ছিল এ বছর চীনে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন, যা পুরো এশিয়াজুড়ে বিরূপ আবহাওয়ার সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার অভিন্ন স্বার্থ, ঐতিহাসিক মেলবন্ধন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড় ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ইরানি প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা বার্ষিকী কেবল পাকিস্তানের লড়াকু জনগণের মহান অর্জন ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করার একটি অমূল্য সুযোগ নয়, বরং এটি তেহরান ও ইসলামাবাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা প্রেস টিভি ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এই সংবাদের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।
অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সাংস্কৃতিক, সভ্যতামূলক এবং পারস্পরিক অনন্য বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন। দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইরান ও পাকিস্তানের বন্ধুত্ব কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং এক গভীর সামাজিক ও সভ্যতামূলক সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এই সম্পর্ক এক অসামান্য সম্পদ।”
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বার্তায় আরও জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে সমন্বয় ও জোরালো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এখন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত এবং শক্তিশালী করতে সম্পূর্ণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
পরিশেষে ইরানি প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং উভয় দেশের হাতে থাকা বিশাল সম্ভাবনাকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও কার্যকর এবং শক্তিশালী যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে একটি নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ভূমিধস ও পানি প্রবেশের ঘটনায় অন্তত সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হিমালয় সংলগ্ন এই রাজ্যে একটি সরকারি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলার সময় এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র জানায়, রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অন্তত তিন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।’ টেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের আওতাধীন এই প্রকল্প এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথায় টর্চ জ্বেলে উদ্ধারকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অস্থায়ী ভেলার সাহায্যে টানেলের ভেতরে পানিতে প্লাবিত অংশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
গত কয়েক দিন ধরে উত্তরাখণ্ডজুড়ে চলা প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতে বড় ধরনের নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হলেও পরিবেশবিদরা মনে করছেন, ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর আগে গত মাসে উত্তর-পূর্ব ভারতের সিকিম রাজ্যে একটি সরকারি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কাজ করার সময় ২০ জন নিহত হন। এছাড়া ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে অন্য একটি টানেল ধসে পড়ার পর ৪১ জন শ্রমিককে ১৭ দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছিল।
চলতি বছরের জুন মাসে মৌসুমি বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন একসঙ্গে দুর্যোগের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটাচ্ছে এবং সেগুলোর তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে হিমালয় অঞ্চলের এই ভঙ্গুর ভৌগোলিক পরিবেশে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি পুনরায় বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে দেশটির কৃষি ও জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। তীব্র তাপে ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকা গ্যাংওন প্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। সেখানকার কৃষকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগেও যেসব জমি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, এখন সেখানে ফসল তোলার মতো কোনো অবস্থা নেই। অনেক এলাকায় আলু মাটির নিচে থাকা অবস্থাতেই পচে নরম হয়ে গেছে, যা দেখে মনে হচ্ছে সেগুলো মাঠেই সেদ্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াংগু কাউন্টির আলু চাষি লি সাং-হিয়ক নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, 'এটা শুধু একটি-দুটি জমির ঘটনা নয়। বিষয়টি কীভাবে ভাষায় প্রকাশ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।' প্রায় ৪০ বছর ধরে কৃষিকাজে যুক্ত এই চাষি জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি। একই এলাকায় কয়েক হাজার পিয়ং (কোরীয় জমির একক) জমিতে চাষ করা বাঁধাকপিও তীব্র রোদে পুড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বাজারে ভালো দামের আশায় কৃষকরা ফসল তুলতে দেরি করেছিলেন, কিন্তু আবহাওয়া তাদের সেই আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি কোরীয় ওন বা কয়েক হাজার পাউন্ডের সমপরিমাণ।
শুধু শাকসবজিই নয়, তীব্র দাবদাহের প্রভাব পড়েছে ফলের বাগানগুলোতেও। অতিরিক্ত রোদের কারণে আপেলের খোসা পুড়ে গিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, আর পিচফলগুলো ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপেল চাষি চন জং-থে এসবিএসকে জানান, সেপ্টেম্বর মাসের চুসক উৎসবের সময় ফল সংগ্রহের কথা থাকলেও বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি থেমে গেছে। সূর্যের প্রখর তাপে ফলের একাংশ লাল হলেও অন্য অংশ সাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ফসল বাঁচাতে কৃষকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। পিচচাষি পার্ক ওয়ান-সন আক্ষেপ করে বলেন, 'তারা আমাদের দিনের বেলা বাইরে গিয়ে কাজ না করতে বলছে। কিন্তু এই পিচগুলো তো পচে যাচ্ছে।'
কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের তীব্র গরমে দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কৃষিখাতের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; মারা গেছে ৯ লাখেরও বেশি গবাদিপশু এবং খামারের প্রায় ১৪ লাখ মাছ। গত ২ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরের তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯০৪ সালে আধুনিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা পরিমাপ শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে মন্ত্রিসভাকে জাতীয় সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের চরম আবহাওয়া ক্রমেই একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে যাচ্ছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, আসন্ন শরৎকালীন ফসল উৎসব 'চুসক'-এর আগে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। গবেষকরা আগে থেকেই আলুকে তীব্র গরমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ফসল হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। ‘পটেটো রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন তাপসহনশীল জাতের আলু চাষের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও আবহাওয়া চরম রূপ নিয়েছে। জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অত্যন্ত ভয়াবহ গরমের দিন’ রেকর্ড করা হয়েছে, হংকংয়ে তাপমাত্রা ১৮৮৪ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে এশিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার আগের তিন দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে
গত ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ওকলাহোমা, টেনেসি এবং আলাবামা অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে এক দিনে এত বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।
টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসের (কারা কর্তৃপক্ষ) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল অ্যান্থনি হাইন্স (৬৬) নামের এক দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ন্যাশভিলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কারাগারে তার এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসে মোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও চার সন্তানের জননী ক্যাথরিন জেনকিন্সকে (৫৪) হত্যার দায়ে হাইন্স দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, এই অঙ্গরাজ্যে এর আগে গত মে মাসে এক আসামির দণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হলেও চিকিৎসাকর্মীরা তার শরীরের রক্তনালি বা রগ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছিল। এরপর অঙ্গরাজ্যটিতে এটিই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা।
অন্যদিকে, মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্য ওকলাহোমার ম্যাকালেস্টার কারাগারে কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ (৭০) নামের আরেক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে ওকলাহোমার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। ২০০৩ সালে নিজের ‘লিভ-ইন’ সঙ্গী ওলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে তার এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাবামায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০২১ সালে কামারি হোল্যান্ড নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে তার এ শাস্তি হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্র ‘ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার’ (ডিপিআইসি)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। সাম্প্রতিকতম এই তিনজনের মৃত্যুর পর চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২–এ। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় ১২ জন, টেক্সাসে ৪ জন, ওকলাহোমায় ৩ জন এবং অ্যারিজোনা, টেনেসি ও আলাবামায় একজন করে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টিতে ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও পেনসিলভানিয়া—এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে দণ্ড কার্যকর করার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি রয়েছে। গত বছর দেশটিতে ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালে ৫২ জন কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডের সাজা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ৩৯টি ক্ষেত্রে বিষাক্ত ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্যদের মধ্যে ৩ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে ও ৫ জনকে নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতিতে মুখের মাস্কে নাইট্রোজেন গ্যাস পাম্প করা হয়, যার ফলে কয়েদি দমবন্ধ হয়ে মারা যান। তবে জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন গ্যাসের এ ব্যবহারকে একটি নিষ্ঠুর এবং অমানবিক পদ্ধতি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইতালির রাজধানী রোমের অদূরে কোলেফেরো শহরের একটি গোলাবারুদ তৈরির কারখানায় এক বিধ্বংসী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সংঘটিত এই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কারখানাটিতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে, যার ফলে পুরো শিল্পাঞ্চল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
কারখানাটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেএনডিএস অ্যামো ইতালি’ জানিয়েছে যে, বিস্ফোরণের সময় কারখানাটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। ফলে সেখানে কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরণের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কোলেফেরোর মেয়র জিউলিও কালামিতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, কারখানায় কোনো কর্মী না থাকাটি ছিল একটি বড় স্বস্তির বিষয়। বর্তমানে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুনের অবশিষ্টাংশ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
কেএনডিএস গ্রুপের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই কারখানায় মূলত নৌ ও স্থলবাহিনীর জন্য মাঝারি ও বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদ এবং মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ যানের বিশেষ জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদ সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সাথেও যুক্ত। বড় ধরণের জানমালের ক্ষতি না হলেও এই বিস্ফোরণটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।