ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একজোট হতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া।
গত রোববার পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআইএফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। কাতারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে হামাসের সাবেক প্রধান খালেদ মিশালও উপস্থিত ছিলেন। খবর জিও নিউজের।
জেইউআইএফ মুখপাত্র আসলাম ঘৌরি বলেছেন, উভয় পক্ষ ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আলোচনায় পাকিস্তানের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক হামাস নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া পোস্টে মাওলানা ফজলুর রহমান গাজায় ইসরায়েলের নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান কাতারে বসে আরব নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর পথ বের করার আশা করেন।
বৈঠকে ইসমাইল হানিয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাসী প্রায় এক মাস ধরে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিয়মিত প্রাণহানি দেখছে। নিহতের সংখ্যা মানুষকে হতবাক করছে।
আল জাজিরা গতকাল সোমবার জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৯ হাজার ৯২২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি।
এল নিনোর ভয়ংকর রূপ নিয়ে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং গত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে রূপ নিতে পারে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আবহাওয়া ব্যুরো বলেছে, অঞ্চলটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া বায়ুমণ্ডলীয় বিভিন্ন সূচকও এটি শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্রান্তীয় মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শক্তিশালী থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় অর্ধেক গাণিতিক মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছ, ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা এল নিনোগুলোর মধ্যে এবারেরটি তীব্রতার দিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই আবহাওয়ার প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং এশিয়ায় প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে এশিয়ায় ফসল রোপণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো বলছে, এল নিনোর প্রভাবে শীত ও বসন্তকালে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এটি বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রভাব ফেলে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দেশটির জন্য এই আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষতিকর। কারণ এটি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারের এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী ও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৩-২০২৪ সালে এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল। এর ফলে দেশটি ইতিহাসে রেকর্ড শুষ্ক তিন মাস অতিবাহিত করেছিল। এর আগে ২০১৫-২০১৬ এল নিনোর প্রভাবে কারণে ব্যাপক খরা দেখা দিয়েছিল। এতে দেশটির তেলবীজ ও শস্য উৎপাদন অনেক কমে গিয়েছিল।
ঐতিহাসিকরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে অতীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছেন। এরমধ্যে ১৮৭৭ এবং ১৮৭৮ সালের দুর্ভিক্ষ উল্লেখযোগ্য।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলছে, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি পর্যায়। এটি সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর দেখা দেয়। একেকবার এটি ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
গত ২ জুন সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো ঘটার ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এটি নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি রয়েছে।
ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, এমন পরিস্থিতিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কতা’ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এটি সমাধানের জন্য বর্তমান সংকটের সমানুপাতিক জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার অবসান ঘটানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ত্বরান্বিত করা, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সকলের জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন একটি আইন পাস করেছে সুইডেন। নতুন আইনের আওতায় কোনো অভিবাসী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত না হলেও ‘খারাপ আচরণ’-এর অভিযোগে তার আবাসিক অনুমতি (রেসিডেন্সি পারমিট) বাতিল করা যাবে।
গত সোমবার সুইডিশ পার্লামেন্টে আইনটি পাস হয়। ফলে বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা, কর ফাঁকি দেওয়া, ঘোষণাবিহীন কাজ করা কিংবা উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার মতো আচরণকে আবাসিক অনুমতি বাতিলের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।
নতুন আইনটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যাদের আবাসিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এটি পূর্ববর্তী অনুমতির ওপরও কার্যকর হবে।
কোন আচরণে বাতিল হতে পারে অনুমতি?
আইনটিতে ‘খারাপ আচরণ’-এর নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি। তবে সরকার কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-
১. বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা।
২. কর না দেওয়া বা কর ফাঁকি।
৩. ঘোষণাবিহীন বা অবৈধ কাজ করা।
৪. অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা।
৫. উগ্রবাদী বা চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিবাসীদের আবাসিক অনুমতি পুনর্বিবেচনা করবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি। তবে কোনো ব্যক্তির অনুমতি বাতিল করা হলে তিনি মাইগ্রেশন আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনের আগে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা
আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ডানপন্থি জোট সরকার এবং তাদের সমর্থক জাতীয়তাবাদী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান জোরদার করছে।
২০২২ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার সময় বর্তমান সরকার অভিবাসন কমানো ও অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছরে দেশটি একের পর এক কঠোর অভিবাসন আইন প্রণয়ন করেছে।
সরকারের দাবি, যারা দেশের আইনকানুন মেনে চলবে না বা সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সুইডেনে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
‘ভালো আচরণ আইন’ নিয়ে সমালোচনা
তবে আইনটি বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সিভিল রাইটস ডিফেন্ডারস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নতুন আইন অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।’
সংগঠনটির মতে, আইনটি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি কোন ধরনের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে মানুষ বোঝতে পারবে না কোন বক্তব্য, মতামত বা কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। তাদের ভাষায়, এই আইন আইনের শাসন এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতিকে দুর্বল করতে পারে।
সরকারের অবস্থান
সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী জোহান ফরসেল মার্চ মাসে বিলটি উপস্থাপনের সময় বলেছিলেন, ‘যারা সঠিক কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করে না, তারা সুইডেনে থাকার নিশ্চয়তা আশা করতে পারে না।’
সরকারের মতে, নতুন আইন সুইডিশ সমাজে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করবে ও দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়াবে।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, ‘ভালো আচরণ’ ও ‘খারাপ আচরণ’-এর অস্পষ্ট সংজ্ঞা ভবিষ্যতে আইনটির অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বহু অভিবাসীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে।
দীর্ঘ ৫৩ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে নিউইয়র্ক নিক্স। এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জনের পরপরই পুরো নিউইয়র্ক শহরজুড়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন হাজার হাজার ভক্ত। তবে রাতের সেই আনন্দঘন উদযাপন মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় এক ভয়াবহ সহিংসতায়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে আকস্মিক গোলাগুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসবে শামিল হওয়া মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারের ৪২তম স্ট্রিট এবং ব্রডওয়ের সংযোগস্থলের কাছে আচমকা অন্তত সাতটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এই সময় সেখানে উপস্থিত শত শত বাস্কেটবল ভক্ত প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। গোলাগুলির এই ঘটনায় ১৭ বছর বয়সি এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়।
কিন্তু রাস্তায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে ঘটনাস্থলে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারেনি। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের নিজস্ব গাড়িতে করেই গুরুতর আহত ওই কিশোরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। গোলাগুলির পাশাপাশি সেখানে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে, যাতে আরও চারজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্ক পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের শেয়ার করা অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারের বিশাল ভিড়ের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে জাপটে ধরে তার কোমরের বেল্ট থেকে একটি লোড করা পিস্তল উদ্ধার করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
তবে উৎসবের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজিত জনতার একাংশ পুলিশের গাড়িতে ব্যাট দিয়ে আঘাত করে উইন্ডশিল্ড ভেঙে ফেলে এবং সড়কবাতি ও ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটিতে চড়ে বসেন। এমনকি ভিড়ের মাঝেই বিপজ্জনকভাবে আতশবাজি ফোটানো শুরু হয়।
এই তাণ্ডবের শিকার হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দর্শকদের আনা নেওয়ার কাজে নিয়োজিত বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা। ফুটবল ভক্তদের যাতায়াতের জন্য সিটি গভর্নমেন্টের ভাড়া করা বেশ কিছু স্কুল বাসের ওপর চড়ে বসেন অনেক বাস্কেটবল সমর্থক।
একপর্যায়ে তারা বাসের ভেতরে ঢোকে চালকের আসনে বসে পড়েন এবং মোট পাঁচটি স্কুল বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে পুলিশের পাঁচটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ব্যাপক সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গিয়ে অন্তত ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনকে মুখে ঘুষি মারা হয়েছে এবং অন্য একজনের গায়ে কাঁচের বোতল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে এখন পর্যন্ত ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সত্ত্বেও এই জয়টি নিউইয়র্ক নিক্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসের জন্য একটি স্মরণীয় মাইলফলক।
১৯৭৩ সালের পর তারা আর এই ল্যারি ও’ব্রায়েন ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি, এমনকি ১৯৯৯ সালের পর তারা ফাইনালেও উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার সান আন্তোনিও স্পার্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিক্সের এই গৌরব উদযাপন করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি বিজয় শোভাযাত্রার (প্যারেড) আয়োজন করা হবে, যার জন্য পুরো শহরজুড়ে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার ধারাবাহিকতায় এবার মাঝারি-পাল্লার স্থল-আক্রমণকারী টমাহক সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (এলআরএলএসিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। সোমবার (১৫ জুন) রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে মার্কিন টমাহক সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ভারতীয় সংস্করণের প্রথম সফল পরীক্ষা চালানো হয়।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই পরীক্ষাকে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখনো আনুষ্ঠানিক নাম না পাওয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এটি ব্যর্থ ‘নির্ভয়’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে পাল্লা, নেভিগেশন ও নির্ভুলতা বৃদ্ধিসহ একাধিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থল, সমুদ্র ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে আরও দুটি উন্নয়নমূলক এবং দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
ডিআরডিওর প্রকাশিত তথ্য সীমিত হলেও জানা গেছে, সাবসনিক গতির এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ০.৮ ম্যাক গতিতে উড়তে সক্ষম। ভূমির খুব কাছাকাছি দিয়ে উড়তে পারায় শত্রুপক্ষের রাডারের পক্ষে এটি শনাক্ত করা কঠিন। এছাড়া এতে প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের গুরুত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কাছে ২০১০ সাল থেকেই ‘বাবর’ নামে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে চীনের অস্ত্রভান্ডারে বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের এই অস্ত্রটি আফগানিস্তানের খোস্তে আল-কায়েদা সন্ত্রাসী শিবিরে ১৯৯৮ সালে মার্কিন হামলায় উদ্ধার হওয়া একটি অবিস্ফোরিত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। বাবর ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরির জন্য পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে পূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছে ও বিনিময়ে মার্কিন টমাহক প্রযুক্তি লাভ করেছে।
এর আগে, গত ২২ মে স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-১-এর সফল পরীক্ষা চালায় ভারত। ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ছাড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ সুবিধা হলো ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন ১০০০ কেজি হওয়ায় পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনেও সক্ষম। অগ্নি-১ ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম, যা নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানায় ডিআরডিও।
তারও আগে ৯ মে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের জলসীমায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় ভারত। ওই দিন সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়।
পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি দেখতে অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো না হলেও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) শ্রেণির। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ঘোষণা করেনি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। তবে ডিআরওডি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করেনি।
চীন স্নাতক পর্যায়ে ১২ হাজারের বেশি কোর্স বাতিল করেছে। দেশটি এমন এক সময়ে এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রকে নতুনভাবে গড়ে দিচ্ছে। কর্মীরা ক্রমাগত নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ ভয় রয়েছে—এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ কর্মীদের কাছে তারা পিছিয়ে পড়তে পারেন।
চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ১২ হাজার ২০০টি স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রাম বাতিল করেছে। তারা এসব ডিগ্রিকে অপ্রচলিত বা অকার্যকর বলে মনে করছে। এর বদলে ১০ হাজার ২০০টি নতুন কোর্স চালু করা হয়েছে, যা শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে চীনের মোট ডিগ্রি প্রোগ্রামের ৩০ শতাংশেরও বেশি অংশে।
বাতিল হওয়া ডিগ্রিগুলোর বড় অংশই মানবিক বিদ্যা, শিল্পকলা, ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি ভাষা ক্ষেত্রের। এগুলোকে এখন অনেকটাই পুরোনো বা বাজার-অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রোগ্রামগুলো চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি প্রোগ্রাম সরাসরি নতুন প্রজন্মের এআইকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে একীভূত করার ওপর কেন্দ্রীভূত।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিছু কোর্স বন্ধ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে মূলত স্নাতকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের (শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে) বেকারত্বের হার ফেব্রুয়ারির ১৬ দশমিক ১ শতাংশ থেকে মার্চে বেড়ে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
কিছু শিক্ষার্থী বলছেন, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি তাদের ডিগ্রিগুলোকে প্রায় অকার্যকর করে তুলছে। সাংহাই ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এ বছর তাদের প্রোডাক্ট ডিজাইন প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে। একজন স্নাতক বলেন, ‘এআইয়ের দ্রুত উন্নতি প্রোডাক্ট ডিজাইনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। মডেলিং ও রেন্ডারিংয়ের মতো অনেক মূল কাজ এখন এআই-ই করতে পারছে।’
এ পরিবর্তনের ছাপ এবারের গাওকাও পরীক্ষাতেও (চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা) স্পষ্ট ছিল। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ লাখ কমে ১ কোটি ২৯ লাখে নেমে এসেছে। এটি টানা দ্বিতীয় বছর পতন, যেখানে ২০২৪ সালের তুলনায় নিবন্ধন ৭০ হাজার কমেছিল বলে জানায় চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে বেকারত্ব পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ, এ বছরই ১ কোটি ২৭ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এদিকে এখন অনেক শিক্ষার্থী ভোকেশনাল কোর্সের দিকে ঝুঁকছে, যেগুলো সরাসরি পূর্ণকালীন চাকরির সুযোগ দিতে পারে। মে মাসে বেইজিংয়ের একটি ভোকেশনাল স্কুলে মাত্র ৩০টি আসনের বিপরীতে শত শত শিক্ষার্থী নিবন্ধনের জন্য ভিড় করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের মাত্র কিছুক্ষণ পরেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানটি একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বেসামরিক ঠিকাদার ছিলেন। দুর্ঘটনার সাথে সাথেই আকাশ জুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠায়।
বি-৫২ বোমারু বিমান দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে এবং বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র বহনের সক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান রণকৌশলগত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক অভিযানেও যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের বোমারু বিমান মোতায়েন করেছিল। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিমানবাহিনী।
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বিশ্বেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি জনগণের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই প্রতিপক্ষকে পিছু হটতে হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী আবারও খুলে দেওয়া হবে। এর আগে সেখানে পাতা মাইন অপসারণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। প্রণালীটি স্বাভাবিক হলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে এবং তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হবে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এই পথ চালু হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব শর্তে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো প্রধান বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।
ইরানের একটি দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে আগামী ১৯ জুন দুই পক্ষ এই খসড়া সমঝোতায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাবে।
সামরিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে নেওয়া বড় পদক্ষেপ হিসেবে খসড়া চুক্তি অনুযায়ী ইরান অবিলম্বে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াতের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের ওপর গত কয়েক মাস ধরে জারি রাখা তাদের নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে খসড়াটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে আর কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে না। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইরানের ওপর থাকা তেল রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, যার ফলে তেহরান আন্তর্জাতিক বাজারে অবাধে জ্বালানি তেল বিক্রি করার এবং তার উপার্জিত রাজস্ব সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। এই আটকে থাকা অর্থ সরাসরি নগদ তহবিল স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিশেষ আর্থিক ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ইরানকে ফেরত দেওয়া হবে।
সবচেয়ে সংবেদনশীল পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে তেহরান এই খসড়া চুক্তিতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ইরান কখনো কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা তা অর্জনের চেষ্টাও করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে, যার অর্থ এই সময়ে নতুন করে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা যাবে না এবং পরমাণু স্থাপনাগুলোর বর্তমান পরিধিও আর সম্প্রসারণ করা যাবে না।
তেলের বাজারে স্বস্তি
সমঝোতার খবর প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৬৫ ডলার বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী খুলে গেলে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে চাপ কমবে। ফলে জ্বালানি মূল্য আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব
সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া এবং হংকংয়ের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন বাজারেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক সূচকের ফিউচার লেনদেনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।
মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তি
যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনায় মার্কিন ডলারও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমে আসা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তেলের দাম ও ডলার—দুটোকেই নিচের দিকে নিয়ে গেছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে ইসরায়েলি হামলার ক্ষোভ ঝেরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ তেল আবিবের এই আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির সম্ভাবনা ভেস্তে যাওয়া ঝুঁকি তৈরি করেছে। উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি খুব কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে।
গত রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের ওপর আর কোনো হামলা করা উচিত হবে না। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বৈরুতের ওপর হামলা হওয়া উচিত হয়নি, বিশেষ করে এমন একটি বিশেষ দিনে যখন আমরা ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি আছি।’
তিনি বলেন, ‘হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের আছে, কিন্তু যে হামলার জবাব দেওয়া হচ্ছিল তা ছিল খুবই ছোট ও অর্থহীন, এতে কেউ আহত বা নিহত হয়নি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি যা লেবাননসহ এই অঞ্চলে শান্তি আনবে এবং সব পক্ষেরই সরে আসা উচিত। লেবাননের কোথাও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো হামলা হওয়া উচিত নয়, কিন্তু হিজবুল্লাহসহ অন্য কোনো পক্ষের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা হওয়া উচিত নয়।’
সংঘাতে লিপ্ত থাকা পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ ও সুন্দর শান্তির সূচনা হতে পারে—আসুন আমরা এটিকে নষ্ট না করি!’
বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে অবগত ছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। অ্যাক্সিওসের বিশ্ব পরিস্থিতিবিষয়ক সংবাদদাতা বারাক রাভিদের মতে, হামলার কিছুক্ষণ আগে আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় তাদের হামলার বিষয়ে সেন্টকমকে অবহিত করেছিল।
ইরানের মতে, বৈরুতের ওপর যে কোনো ইসরায়েলি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এর ফলে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যাহত হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে আলোচনা বানচাল করার চেষ্টা করছেন। লেবাননের ওপর হামলা বন্ধ করতে তিনি স্পষ্টতই অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক, নয়তো তা বাস্তবায়নে অক্ষম। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়া হবে।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।’ তিনি বলেন, ‘বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে জায়নবাদী হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা নেই, নয়তো তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই।’
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়া হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার ‘উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে’।”
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত রোববার বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরও দখলে রেখেছে তারা।
লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৫ লাখের বেশি মানুষ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি হচ্ছে, তা গত রোববারই স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরান এই সময়সূচি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বিবেচনাধীন।
বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যখন চুক্তির এত কাছাকাছি, তখন এই হামলা হওয়া উচিত ছিল না’। তিনি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর শান্তি’ প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে।’
অবশ্য ইরান বলছে, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, দেশটির জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিক।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেহরান, ওয়াশিংটন এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির বর্তমান পরিস্থিতি ও সময়সীমা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
কয়েক সপ্তাহের আলোচনা কি আসলেই বড় কোনো সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে, নাকি শেষ মুহূর্তে এসে এখনও রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি দেশটির আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে চলমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা ঘোষণা করেনি।
প্রতিবেদনে দেশটির কট্টরপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার বিষয়টিও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তারা বলেছেন, এই চুক্তি কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে।
কী বলছেন ট্রাম্প?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি শিগগিরই স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেছেন, চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে আলোচনায় বারবার বিলম্ব হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, একটি বড় ধরনের সাফল্য খুব দ্রুতই আসছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দ্রুত সাফল্য আসার সময়সীমা নিয়ে বিশ্লেষকরা এখন সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
যা বলছে ইরান
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা ঘোষণা করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তি সইয়ের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি এবং এটি রোববার হচ্ছে না।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নিশ্চিত করা হয়নি।
একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি সই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের এই ইঙ্গিতের মাঝেই চুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; যা কূটনৈতিক আশাবাদ এবং সরকারি সতর্কতার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান স্পষ্ট করছে।
চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে বলে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। কূটনীতিকরা এই সফরকে চুক্তির ‘চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার’ লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চূড়ান্ত করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি চুক্তিটি
ইরানি কর্মকর্তারা এই সময়সীমার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য ইরানি আলোচক দলের জেনেভা কিংবা অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি এর আগে কখনোই এত কাছাকাছি পৌঁছায়নি। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত করার পর্যায়ে আসেনি। কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার কথা না জানিয়ে তিনি বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জনসমক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, চুক্তিটি আজই সই হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এই প্রণালী খুলে দেওয়া হলে তা বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করবে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত এই রূপরেখায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আরও আলোচনা শুরু করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।
কূটনীতিকরা বলছেন, এই উদীয়মান চুক্তিটি এখনও বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, ইউরেনিয়ামের মজুত এবং লেবাননের চলমান উত্তেজনাসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো এই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই পরস্পরবিরোধী বার্তা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও সামনে এনেছে। সেখানে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রস্তাবিত এই চুক্তির সমালোচনা করেছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চুক্তিটি ওয়াশিংটনের কাছে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার শামিল হতে পারে।
চুক্তির কোনো যৌথ খসড়া প্রকাশ না করা এবং চুক্তি সইয়ের নির্দিষ্ট কোনো স্থান নিশ্চিত না হওয়ায় সব পক্ষের কর্মকর্তারাই এখন বাস্তব আলোচনার চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতেই বেশি ব্যস্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকার পরও চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের দাবি নাকচ আইআরজিসির
ইরানের সঙ্গে আলোচিত শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি জানিয়েছে, সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয় এবং ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো সম্ভাবনাও নেই।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দিন নির্ধারিত হয়েছে।’ তার মতে, চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেছে, ইরানের আলোচকরা স্পষ্ট করেছেন যে, সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং রোববার স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। তাদের ভাষ্য, এই ঘোষণা ইরানের আলোচক দলের জন্য এক ধরনের ‘পরীক্ষা’।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিন ছিল রোববার। জীবনের গৌরবময় ৮০ বছর পূর্ণ করে রোববার তিনি পা রাখলেন নবম দশকে। তবে এই বিশেষ দিনটি নিয়ে মোটেও ‘খুশি নন’ ট্রাম্প। জীবনের এই বড় মাইলফলকটি তিনি পারলে একপ্রকার উপেক্ষা করতে চান।
জন্মদিনের তিন দিন আগে, গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রশাসক ডক্টর মেহমেত ওজের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজের এই অসন্তোষের কথা প্রকাশ্যে আনেন। কাকতালীয়ভাবে সেদিন ওজের ৬৬তম জন্মদিন ছিল।
ওজের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, আপনাদের কাউকে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে হবে না। কারণ, এই জন্মদিনটি নিয়ে আমি মোটেও খুশি নই। ৮০ সংখ্যাটি নিয়ে আমি আগে কখনও ভাবিনি, এটি আমার পছন্দের কোনো সংখ্যা নয়। তবে যাই হোক, আমি আজ এখানে আছি।
ভিডিওতে ওভাল অফিসের পেছনের সাউথ লনে রোববার অনুষ্ঠিতব্য ইউএফসি কেজ ম্যাচের বিশাল অষ্টভুজাকার স্টেডিয়ামের কাঠামোটিও দেখা যায়।
আশির কোঠায় পা রাখলেও নিজের শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী। গত ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি তৎকালীন ৮১ বছর বয়সি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ ও উপহাস করেছিলেন। নিজের বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত মাসে মাতৃস্বাস্থ্যসংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, আমি আজ থেকে ৫০ বছর আগে যেমন অনুভব করতাম, এখনও ঠিক তেমনই আছি। কেন এমনটা হয় আমি জানি না। আমি যে খুব ভালো খাবার খাই তাও কিন্তু নয়।
ফাস্টফুডপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প বার্গার, সোডা আর ভারী স্টেক খেতে ভালোবাসেন। নিজের এই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কৌতুক করে তিনি বলেন, ‘হয়তো জাংক ফুডই শরীরের জন্য ভালো, আর বাকি খাবারগুলো খারাপ! আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যারা রেস্তোরাঁয় গিয়ে শুধু শাকসবজি খায় এবং ওজন কমানোর চিন্তায় মগ্ন থাকে, অথচ এক দিন হুট করেই মারা যায়।’
গত ২৬ মে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা প্রেসিডেন্টের বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষা করেন। রিপোর্টে ট্রাম্পকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী বলে ঘোষণা করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইসিজি রিপোর্টের বরাতে জানানো হয়, ট্রাম্পের হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা তার চেয়ে ১৪ বছর কম বয়সি কোনো যুবকের মতো।
ট্রাম্প এই রিপোর্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, সবকিছু একদম পারফেক্ট এসেছে।
তবে এই মেডিকেল রিপোর্টটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হয় যখন ট্রাম্পের গোড়ালি ফুলে যাওয়া এবং শরীরের কিছু ক্ষতচিহ্ন দেখা দেয়। গত মার্চ মাসে মেডেল অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ডান কানের পেছনে ত্বকের বিবর্ণতা ধরা পড়েছিল। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানায়, কানের পেছনে একটি বিশেষ ক্রিম ব্যবহারের কারণে ওই বিবর্ণতা তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া, বারবার করমর্দন এবং অ্যাসপিরিন ওষুধ খাওয়ার কারণে তার হাতে কালশিটে দাগ পড়েছিল এবং পায়ের শিরায় রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে গোড়ালি কিছুটা ফুলে গিয়েছিল।
অবশ্য জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনও সম্পূর্ণ নীরব। সেখানে ৮০টি মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কাটা হবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং মা মেরি অ্যান ম্যাকলিওড। কুইন্সের জ্যামাইকা এস্টেটসে এক বিত্তশালী পরিবারে তার শৈশব কাটে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প ছিলেন চতুর্থ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কিছু মানুষ। গত শনিবার রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার দেন আরাগচি। এরপরই মাসহাদে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।
বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো চাদর পরা এক নারী স্লোগান দিচ্ছেন ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’। এ সময় তিনি কালো ও লাল পতাকা উড়াচ্ছিলেন।
এসব বিক্ষোভকারীর মতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শর্তে চুক্তি হতে যাচ্ছে সেগুলো ইরানের স্বার্থ করবে না। এর সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য থাকা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণও ইরান হারাবে। তাদের অভিযোগ, চুক্তি করতে ইরানি আলোচকরা অনেক বেশি ছাড় দিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও তা নাকচ করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার ইরানি।
গত শনিবার সামাজিকমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সবধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই চলাচল নিশ্চিত হবে।’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও চুক্তি সইয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।
এর মধ্যেই ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। রাজধানী তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের অনেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা স্মারকটি আজ রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং বর্তমানে উভয় দেশ ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের’ জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ট্রাম্প তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তথা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করবেন এবং পরবর্তীতে তা ধ্বংস করা হবে।
তবে ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণার বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা স্মারকটি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তার মতে, রোববার এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বিবিসি-র বরাতে জানা গেছে, যদিও ট্রাম্প রোববারকেই চুক্তির দিন হিসেবে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তবে ইরানের এমন দোদুল্যমান অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াটিকে শেষ মুহূর্তে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি চুক্তিটি আজ স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়গুলোই এই আলোচনার প্রধান আকর্ষণ।