বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

গাজায় স্কুলে হামলায় ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর, ২০২৩ ২৩:০৯

গাজার একটি স্কুলে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-ফাখূরা স্কুলে ইসরায়েলি বোমা হামলায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত জাতিসংঘের পরিচালিত স্কুলটিতে কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির আবাসস্থল।

এর আগে গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতাল এক ঘণ্টার মধ্যে খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সেনারা। হাসপাতালটি তিনদিন ধরে অবরুদ্ধ রেখে অভিযান পরিচালনার পর আজ শনিবার এই নির্দেশনা দেয় ইসরায়েল।

গত ১৫ নভেম্বর আল-শিফা হাসপাতালের ভেতরে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও আশ্রয় নেওয়া মিলিয়ে ৭ হাজার লোক হাসপাতালটিতে আটকা পড়েছে। আজ শনিবার হাসপাতালটির আইসিইউতে থাকা সব রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় আল জাজিরা। এর পরপরই হাসপাতালটি খালি করার নির্দেশ দিলো ইসরায়েলি বাহিনী।


আমিরাতে বন্দরে হামলায় আগুন, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান

আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাটি ইরানের পরিকল্পিত কোনও হামলা নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা। এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুঃসাহসিকতাকে’ দায়ী করেছেন তিনি। মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সামরিক বাহিনীর ওই কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবিকে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‌‌‘উল্লিখিত তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার কোনও পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ছিল না। যা ঘটেছে তা মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুঃসাহসিকতার ফল; যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর সংরক্ষিত জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করা।’

তিনি বলেন, এ জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অবশ্যই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শক্তি প্রয়োগের অনুচিত প্রথা বন্ধ এবং এই সংবেদনশীল তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলে সামরিক দুঃসাহসিকতা থামাতে হবে। তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরি হচ্ছে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নৌ-নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ইরানের এই স্পিকার বলেন, ‘তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের এই অপকর্ম অবশ্যই প্রশমিত হবে।’ গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয়। আর ইরান এখনো (পাল্টা ব্যবস্থা) শুরুই করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকার ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অধিকৃত ভূখণ্ড এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ৪০ দিনব্যাপী ১০০ দফার এই পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইরানের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। পরবর্তীতে এই জলপথে আরও বিধিনিষেধ আরোপ এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের শর্তজুড়ে দেয় তেহরান। ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর ইরান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


মমতার পরাজয়ের কারণ কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:৪৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরুর পর থেকে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস কেন পরাজিত হয়েছে? বামদের ‘দুর্গ’ পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপি ‘ভূমিধস জয়’-পেল?

নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পেছনে বেশকিছু কারণ আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে একটি ব্যাপার হলো, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক) নামক একটি পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে জরিপের কাজ করাতো তৃণমূল কংগ্রেস। আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন প্রশান্ত কিশোর, যিনি নিজে বিহারে রাজনীতি করছেন। অতীতে তার পরামর্শ তৃণমূল কংগ্রেসকে নানাভাবে এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আর সেই প্রতিষ্ঠানে নেই। সেই কারণে আই-প্যাক যথাযথ পরামর্শও দিতে পারেনি। তাই পশ্চিমবঙ্গের মতো জটিল সমীকরণের একটি রাজ্যে আই-প্যাকের ওপর অতি নির্ভরতায় বিপদে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, মুসলিম ভোটের ওপর অত্যাধিক নির্ভরতা। অতীতে মুসলিম ভোটের ৭৫-৮০ শতাংশ তারা পেয়েছে। এবারও তারা ভেবেছিল মুসলিমদের ৮৫-৯০ শতাংশ ভোট পাবে। কিন্তু নতুন দুটো দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও মুর্শিদাবাদের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি মুসলিমদের ভোট নিজেদের দিকে নিতে সফল হয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কমেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ফল পাওয়া যায়নি। পেলে দেখা যাবে তারা কত শতাংশ ভোট টানতে পেরেছে।

এরপর আসে হিন্দু ভোট। কোনো দল যখন হিন্দু ভোটের ৫৫ শতাংশ পায়, তারা জয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এখন পর্যন্ত বিজেপির নিশ্চিত জয়ী ও এগিয়ে থাকা আসন বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬০-৬৫ শতাংশ কিংবা তারও বেশি হিন্দু ভোট পেয়েছে দলটি।

সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘ভূমিধস’ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বিজেপি। এর মাধ্যমে একটি বিষয় আবারও প্রমাণ হতে যাচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মানুষ যাকে দেয়, তাকে ঢেলেই দেয়।

বিজেপির জয়ে উদ্বেগ

বিজেপির জয়ে নতুন সম্ভাবনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমন উদ্বেগের জায়গাও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, উত্তর ভারতের দল বিজেপি কীভাবে বাঙালির মনন-সংস্কৃতির সঙ্গে মিশবে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান জনসংখ্যা রয়েছে। বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দল কীভাবে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে মিশবে?

সবশেষ চ্যালেঞ্জ হলো, ভবিষ্যতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কতটা শেকড় গাড়তে পারবে। কারণ, প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বামপন্থি রাজনীতির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় তারা কী করবে, কীভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে, সেটাই দেখার বিষয়।

আর প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ২ হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত আছে। এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করবে, এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুপ্রবেশসহ সীমান্ত ইস্যুতে কীভাবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা ও কাজ করবে, এর ওপরেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করবে।

কেউ যদি মনে করে থাকে যে, এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কেবল গত ৫-৬ মাস কাজ করেছে, সেটা কিন্তু ঠিক নয়। গত ৩-৪ বছর ধরেই তারা গভীর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যেটা তারা সেভাবে প্রকাশ করেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণেই তারা আজ জয়ের পথে।

দ্বিতীয় ব্যাপার হলো, তৃণমূল কংগ্রেস গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। একইসঙ্গে দলের ভেতরে বিভাজন দেখা দিয়েছিল। ফলে সেটার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাতা দেন, তারা ক্ষমতায় এলে সেটা দ্বিগুণ করে দেবে। এই ঘোষণা গ্রামের মানুষকে ব্যাপক হারে আকর্ষিত করেছে। ধরুন, একটা পরিবারে চারজন থাকলে তারা জনপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা পাচ্ছে। বিজেপি এলে তারা ১২ হাজার টাকা পাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটা বড় ব্যাপার। বিজেপির জয়ের পেছনে তাদের এই ক্যাম্পেইনটিও সফলভাবে কাজ করেছে।

আবার স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করে প্রায় ২৭ লাখ ‘বহিরাগত’ ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটিও বিজেপির পক্ষেই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। নমিনেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এবার বাইরের কাউকে বাছাই করেনি। পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয়দেরই মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। গতবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নেতাদের তারা মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এবার সেটাও তারা দেয়নি। এটিও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।


পদত্যাগ না করার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, বিজেপির কাছে এই পরাজয় জনমতের স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়, বরং এর পেছনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব ও কেন্দ্রীয় শক্তির গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) কালীঘাটে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগ করছেন কবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মমতা জানান, এখনই তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?

তিনি বলেন, যেখানে লড়াইটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ছিল, সেখানে ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়া মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা।

রাজনৈতিক মহলে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা চললেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। বরং এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মমতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।


হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌযান লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা যাত্রীবাহী ছোট নৌকায় আঘাত হেনেছে। সোমবার ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের দিকে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে নিশ্চিত করেছে।

তবে ইরানের এই দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে বাধা দিতে এসেছিল আইআরজিসির ছয়টি নৌযান। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সেই নৌযানগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের এই সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের এক অজ্ঞাতনামা সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন দাবির পর তাঁরা একটি নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করেছেন। সেই তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, আইআরজিসির কোনো সামরিক নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং ওমান থেকে ইরানগামী সাধারণ যাত্রীবাহী দুটি ছোট নৌকাই মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় নৌকা দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন আরোহী প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মহলে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্পের আওতায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারার মাধ্যমে পারাপারে সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এই অভিযানের ফলে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বারবার পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির দাবি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


কেরালায় বাম দুর্গে মুসলিম তরুণীর বিজয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কেরালার রাজনীতিতে ৪৬ বছরের অজেয় দুর্গের পতন ঘটিয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) তরুণ নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। সোমবার (৪ মে) ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, কোজিকোড জেলার পেরাম্বরা আসনে তিনি ক্ষমতাসীন এলডিএফ জোটের কনভেনার ও হেভিওয়েট নেতা টি পি রামকৃষ্ণানকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে তাহলিয়া কেবল নিজের দলের প্রথম নারী বিধায়ক হওয়ার গৌরবই অর্জন করেননি, বরং ১৯৮০ সাল থেকে সিপিআইএমের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা এই আসনে হানা দিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। পেশায় আইনজীবী ও হিজাব পরিহিত এই লড়াকু তরুণীর বিজয়কে কেরালার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বামপন্থিদের জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।

ফাতেমা তাহলিয়ার এই জয়ের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট নির্বাচন কমিশনে নালিশও করেছিল। তবে সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তাহলিয়া আইইউএমএলের ছাত্র সংগঠন এমএসএফের নারী শাখা ‘হারিতার‘ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের ভেতর নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে সাহসী কথা বলে বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসা এই তরুণী এখন কেরালা বিধানসভায় আইইউএমএলের নারী প্রতিনিধিত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পেরাম্বরার সাধারণ মানুষ প্রথাগত রাজনীতির বাইরে একজন শিক্ষিত, আধুনিক ও প্রতিবাদী তরুণীকে বেছে নিয়ে কেরালার ক্ষমতার ভারসাম্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


তেল স্থাপনায় ইরানি হামলার পর আমিরাতের হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা এমিরেতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় গত সোমবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে পরিচালিত এই হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে তেল শোধনাগার ও ডিপো সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। আহতদের শরীরে মাঝারি ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ত্বরিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এই আক্রমণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনো প্রকার দ্বিধা করবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এ ধরনের উস্কানিমূলক হামলার যথাযথ ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এবং সক্ষমতা আমিরাত রাখে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আমিরাত সরকারের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইরান থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আমিরাতের বিমান বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ফাঁকি দিয়ে সাগরে পতিত হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আমিরাতের পূর্বাঞ্চলের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে ইরানের ড্রোনগুলো হানা দেয়।

ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনটি আমিরাতের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে অসংখ্য তেল শোধনাগার এবং বৃহদাকার তেলের ডিপো রয়েছে যা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। উল্লেখ্য যে, এই হামলাটি এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি এই আঘাতের পর আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে।


চীনে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ২১, আহত ৬০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সোমবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হতাহতদের অধিকাংশই বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে কর্মরত ছিলেন এবং অনেকে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়া নিশ্চিত করেছে।

বিস্ফোরণটি লিউইয়াং শহরের হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানির ওয়ার্কশপে ঘটে। শহরটি চীনের আতশবাজি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৫০০ উদ্ধারকর্মী সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। অগ্নিকাণ্ড ও সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বিস্ফোরণ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কারখানার আশপাশের ৩ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, কারখানার অদূরেই কালো বারুদের দুটি বড় গুদাম থাকায় এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ঘরবাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে এবং জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে বেইজিং প্রশাসন।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী আতশবাজি রপ্তানিতে চীন একক আধিপত্য বজায় রেখে আসছে। ২০২৫ সালে চীনের কোম্পানিগুলো প্রায় ১১৪ কোটি ডলারের আতশবাজি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর যত আতশবাজি বিক্রি হয়, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই উৎপাদিত হয় চীনে। এই শিল্পের বিশাল বিস্তৃতির পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কারখানার কারিগরি মান নিশ্চিত করা এখন চীন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিল ওপেক প্লাস জোটের ৭ দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দৈনিক তেল উত্তোলন বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস জোটের সাতটি প্রভাবশালী সদস্যরাষ্ট্র। গত সোমবার এক অনলাইন বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, কুয়েত, আলজেরিয়া, ইরাক, কাজাখস্তান এবং ওমান সম্মিলিতভাবে এই পরিকল্পনায় ঐকমত্য পোষণ করে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশগুলো চলতি মাস থেকে শুরু করে আগামী জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন মোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিক্রমে নেওয়া এই উদ্যোগটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উত্তোলন বৃদ্ধির পরিমাণটি আগে আরও বড় হওয়ার কথা ছিল। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকগুলোতে আটটি সদস্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে গত ২৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা সংশোধন করতে হয়েছে। আমিরাতের অনুপস্থিতির কারণে উত্তোলনের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করে ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনই মূলত ওপেক প্লাসকে এই সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জোটটি এতদিন উৎপাদন কমিয়ে রাখার নীতি গ্রহণ করেছিল। তবে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

তবে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে বাজার পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছেন না। ব্রিটিশ জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’-র মতে, বর্তমানে তেলের দাম বাড়ার পেছনে পণ্যের ঘাটতির চেয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়াই প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক না হবে, ততক্ষণ উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। অর্থাৎ, কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই এখন বাজারের জন্য বেশি জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, ওপেক প্লাসের এই পদক্ষেপকে বাজারের অস্থিরতা কমানোর একটি জোরালো প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত এই তেল উৎপাদন বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন অনেকখানি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ওপর। আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন এই সিদ্ধান্তের সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী জুন মাসের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।


মমতার দুর্গে মোদির জয়, পশ্চিমবঙ্গে ফুটল ‘পদ্ম’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অঙ্গ এবং কলিঙ্গ জয় আগেই হয়েছিল। মাঝখানে বাকি ছিল মমতার দুর্গখ্যাত পশ্চিমবঙ্গ। এবার সেখানেও জয় পেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল-ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। জয় পেয়ে সমাজমাধ্যমে মোদি লিখলেন ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে!’ আর এই পদ্ম ফোটার মধ্য দিয়েই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটল। দেশটির প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একসময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সাফল্য পেলেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শক্ত ভিত্তি গড়তে পারছে না। দীর্ঘ সময় পর তার সেই আক্ষেপও এবার ঘুঁচল।

সোমবার (৪ মে) সব শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। আর ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৭৯টি। এই হিসেবে এবার আগের নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির আসন বেড়েছে ১৩১টি। আর তৃণমুলের কমেছে ১৩৫টি। রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। যা পার করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। ফলে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায় ঘটল। সূত্র এনডিটিভি।

নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনে দলটির ‘চাণক্য’—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিচক্ষণ কৌশল এবং অভিজ্ঞতাকে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। তিনি ১৪ দিন ধরে রাজ্যে অবস্থান নিয়ে দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় করেন, নির্দেশনা দেন। মাঠ পর্যায়ে কৌশলকে বাস্তবে রূপ দিতে, তিনি দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত তাদের সঙ্গে অবিরাম সাংগঠনিক বৈঠক করতেন এবং দিন কাটাতেন র‍্যালি ও রোডশোতে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার। তবে এবারের নির্বাচনে এই সমীকরণে বড় ধরণের ওলটপালট দেখা গেছে। রাজ্যের ৫৪টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনের মধ্যে তৃণমূল গতবারের তুলনায় ১১টি আসন হারিয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে তারা ৫২টি আসন পেয়েছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬টিতে। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে গতবার মাত্র ১টি আসন পাওয়া বিজেপি এবার ১২টি আসনে জয় পেয়েছে।

নির্বাচনের আগে সবথেকে আলোচিত বিষয় ছিল ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত এই কার্যক্রমে প্রায় ১ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন। এই সংশোধনীর প্রভাব পড়া ৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপির বড় উত্থান ঘটেছে। গত নির্বাচনে এসব আসনে বিজেপি ২২টি আসন পেলেও এবার তারা ৬৩টিতে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ৭২ থেকে কমে ৩০-এ নেমেছে। এছাড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৭ শতাংশ ভোট ব্যাংকও বিজেপি নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ দিয়ে হেরে যাননি কখনোই মমতা: রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকে কখনোই প্রতিবাদ বা অন্যায়ের প্রতিকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি মমতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জন্ম দিয়েছেন অসংখ্য আইকনিক ঘটনারও। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে তিনি তার সঙ্গে করে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দিপালী বসাক নামে একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীকে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে যান। দিপালী নামের ওই নারী একজন সিপিএম নেতা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়োছিলেন এবং এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর আশু পদক্ষেপ কামনা করেছিলেন মমতা।

সাক্ষাতটি আগে থেকে নির্ধারিত থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী জ্যেতি বসু শেষ পর্যন্ত ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেননি। এর প্রতিবাদে মমতা ব্যানার্জী সচিবালয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তাকে জোরপূর্বক সরিয় নিতে এবং আটক করতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাকে জোরপূর্বক আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয় এবং তার চুল টেনে ধরা হয়। যখন তাকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তার পরনের শাড়িও ছিড়ে যায়। এই ঘটনার পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আর কখনোই সচিবালয়ে প্রবেশ করবেন না। তার এই প্রতিজ্ঞা অটুট ছিল, ১৯ বছর পর মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তিনি আবার ওই ভবনে প্রবেশ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা: ২০১১ সাল মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক মাইলফলকের বছর। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো তরুণ তুর্কী থেকে তিনিই হয়ে উঠলেন সরকার! এর আগের ১৫টা বছর ধরে এ অবস্থানে আসার জন্য তিলে তিলে যার ভিত গড়েছেন মমতা নিজেই। দলের মুখ হিসেবে রাজ্যে রয়েছে তার ব্যাপক জনসমর্থনও।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পূর্বসুরিদের থেকে অনেকটাই যেন আলাদা ধাঁচে গড়া ছিলেন তিনি। নিজেকে সাধারণের একজন হিসেবে দাবি করা মমতা যেমন বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে নেচেছেন-গেয়েছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলাফেরাও করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। এতে করে কলকাতার ‘ভদ্রলোক’ বা ‘উঁচুতলার মানুষের’ সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হলেও এ ঘটনা তাকে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের অনেকটাই কাছাকাছি নিয়ে আসে। আর এ কারণেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভোটব্যাংকও ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীর সমর্থক-ভোটারদের একটা বড় অংশই নারী। কন্যাশ্রী কিংবা লক্ষ্মী ভান্ডারের মতো স্কিমগুলো চালুর মাধ্যমেও তাই মমতা সবসময়ই তার প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশ এগিয়েই ছিলেন নির্বাচনগুলোতে।

তবে, সবকিছুই তার জন্য এতটা সহজ ছিল- এটা ভাবাটাও ভুল। তার নিজের মুখ থেকে আসা বিভিন্ন নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্যও তাকে সমালোচনা কুড়াতে হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে বহুল আলোচিত পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের বিষয়ে মমতার মন্তব্য (মমতা এটিকে সাজানো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছিলেন) রাজ্য এবং দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় অতি সম্প্রতি কলকাতায় সরকারি আর-জি কর হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই নারী চিকিৎসকের মা এবারের নির্বাচনে বিজেপির হয়ে মমতার দলের বিরুদ্ধেই লড়ছেন!

মমতার অধীনে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি হলো দুর্নীতি। সাবেক মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জিসহ তৃণমূলের অন্য অনেক নেতার বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দুর্নীতির তদন্ত করছে। পার্থ চ্যাটার্জির নিজস্ব বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধারের খবরও টেলিভিশন-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ফলাও করে। এর ওপর সুপ্রিম কোর্টে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি ওঠা যেন তৃণমূলের জন্য হয়েছে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।

১৫ বছর ধরে সমর্থনের পাশাপাশি মমতার দল এবং সরকারের প্রতি গড়ে ওঠা অসন্তোষও কম নয়। আর তাকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসতে এবার বিজেপিও আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছে। তবে, এবারের নির্বাচনে সবকিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এসআইআর। যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশন বলছে, এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে ভোটার তালিকায় থাকা ভুল-ভ্রান্তি দূর করার উদ্দেশে। তবে, মমতা ও তার দলের দাবি- নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবেই বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে।

এতসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও মমতা ব্যানার্জী সেটাই করেছেন যেটা তার করা উচিত। তিনি গিয়েছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তিনি সভা-সমাবেশ করেছেন এবং এসআইআর এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। ফল বের হবে আজই। প্রশ্ন এখন একটাই, গাড়ির বনেটে দাঁড়ানো সেই তরুণ তুর্কী চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে ছিটকে পড়লেন। তৃণমূলের জয়যাত্রা থামিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো গেরুয়া বিপ্লব।

এদিকে, ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। প্রধানমন্ত্রীর লব্জে বার বার উঠে এসেছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারংবার অনুপ্রবেশকারী সমস্যাকে ইস্যু করেছেন।

বিজেপির জয়ের পেছনে মূল পাঁচটি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো:

নারী ভোট : তৃণমূলকে ‘নারী-বিরোধী’ প্রমাণে বিজেপির প্রচার এবং নারী সংরক্ষণ বিল পাসের প্রভাব সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপকভাবে দাগ কেটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে রাজ্যে নারীদের ভোট অন্তত ৫ শতাংশ গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকেছে।

সরকারি কর্মী ও বকেয়া ডিএ : সপ্তম বেতন কমিশন চালু, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো এবং শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি রাজ্যের প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ সরকারি কর্মচারী ও সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের মন জয় করতে সফল হয়েছে।

কেন্দ্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের ‘গ্যারান্টি’ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস প্রথমবার তরুণ ভোটার এবং মধ্যবিত্ত ভোটারদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

নিরাপত্তা ও সরকার-বিরোধী ক্ষোভ : আর জি কর কাণ্ডের প্রভাব এবং রাজ্যের শাসকদলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিজেপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে। পাশাপাশি, নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সাধারণ মানুষ এবার নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন।

স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ও ‘বহিরাগত’ ইস্যু : স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করে প্রায় ২৭ লাখ ‘বহিরাগত’ ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির মতে এর ফলে প্রকৃত ভোটাররা সঠিকভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।


আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে রহস্যময় ভাইরাস, মৃত্যু তিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী হঠাৎ পরিণত হয়েছে আতঙ্কের কেন্দ্রে। অজানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের মধ্যে পরে শনাক্ত হয়েছে বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রহস্যজনক হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি সতর্কতা জারি করেছে, আর সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তদন্ত ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দেগামী এমভি হোনডিয়াস জাহাজে একজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে এবং আরও অন্তত পাঁচ যাত্রী আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও জানায়, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।

হান্টাভাইরাস ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়া একটি বিরল রোগ।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীতে সম্ভাব্য এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্ত করছে। প্রমোদতরীটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশে যাচ্ছিল।

সংস্থাটি জানায়, বিস্তারিত তদন্ত চলছে, যার মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মহামারি বিদ্যাগত বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাত্রী ও ক্রুদের চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণও চলমান রয়েছে।

ডব্লিউএইচও আরও জানায়, আরও দুই যাত্রীর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মূলত হান্টাভাইরাস একটি বিরল রোগ। এটি সংক্রমিত ইঁদুরের মল বা মূত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের কারণ হতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রমোদতরীটিতে ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতার’ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন মারা গেছেন এবং আরেকজন জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যায় আছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে নিশ্চিত করেন, জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমে ৭০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি অসুস্থ হন। তিনি প্রমোদতরীতেই মারা যান। তার লাশ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।

পরে তার ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়। পরে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মোহালে এএফপিকে জানান, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ৬৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে এএফপি জানিয়েছে।


কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রথমবারের মতো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বিজেপির জয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হতেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন তা নিয়েই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়েছিলেন যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন, যেন তৃণমূলের ‘বহিরাগতদের’ দল হওয়ার বয়ানকে খণ্ডন করা যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উঠেছে।

শুভেন্দু অধিকারী

সবদিক থেকেই এগিয়ে আছেন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, মমতার একসময়ের লেফটেন্যান্ট। ২০২১ সালের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তার এই দলত্যাগ সে সময় তৃণমূল চেয়ারপারসন মমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। সে সময় শুভেন্দু নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

শমীক ভট্টাচার্য

আরএসএস’র পুরোনো কর্মী এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো একজন মধ্যপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিত শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপিতে শুরু থেকেই সক্রিয়। তিনি রাজ্যের প্রথম নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক, যিনি ২০১৪ সালের উপনির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত হন। বিজেপি যদি কোনো বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীকে বেছে নেয় তবে তিনি হবেন এসব বিকল্পের মধ্যে অন্যতম।

স্বপন দাসগুপ্ত

সাবেক সাংবাদিক স্বপন দাসগুপ্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত করেন। রাজ্য বিজেপির এই নেতা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও বেশ ঘনিষ্ঠ।

দিলীপ ঘোষ

রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলটিকে প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সহায়তা করেন। সে সময় তিনি দলের তিন নম্বর বিধায়ক ছিলেন। তার নেতৃত্বে ২০১৯ সালে দলটি ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে, যা এখন পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনে দলটির সেরা ফলাফল। ২০২১ এবং তারপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর দিলীপ ঘোষ দল থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার সঙ্গে দেখা করার পর তাকে আবার দলে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি তার খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হতে চলেছেন।

সুকান্ত মজুমদার

বিজেপির আরেক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দল যদি তাদের শক্ত ঘাঁটি উত্তরবঙ্গ থেকে শীর্ষ পদের জন্য কোনো মুখ চায়, তবে তিনিই হতে পারেন তাদের প্রথম পছন্দ।


কেনিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় টানা ভারি বর্ষণজনিত বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, থারাকা নিথি, এলজিও-মারাকওয়েট এবং কিয়াম্বু কাউন্টিতে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমিধস ও কাদার স্রোতে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, পাশাপাশি অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানী নাইরোবির বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানির মধ্যে দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

টানা বৃষ্টিতে সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা। রোববার তারা সড়ক সংস্কার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভও করেন।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছিল, অতিবৃষ্টির কারণে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং কৃষিজমির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি কেনিয়ায় দ্বিতীয় বড় বন্যা-দুর্যোগ। গত মার্চেও রাজধানী নাইরোবিতে বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে বন্যা ও খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।


নিজ আসন ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে বিপুল ভোটে হারলেন মমতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয় পুনরাবৃত্তি ঘটল। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ছায়া এবার আছড়ে পড়ল খোদ কলকাতার ভবানীপুরে। তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের খাসতালুক ও দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনেই তাঁকে পরাজিত করে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটালেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পরাজয়ের পর যে আসনটি মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে টিকে থাকার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিল, এবার সেই ভবানীপুরেই তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সেনাপতি শুভেন্দুর কাছে ধরাশায়ী হলেন তিনি।

সোমবার সকাল থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট গণনার কক্ষগুলোতে ছিল টানটান উত্তেজনা। 'মিনি ইন্ডিয়া' হিসেবে পরিচিত এই আসনের ফলাফলে ক্ষণে ক্ষণে নাটকীয় মোড় ঘুরতে দেখা গেছে। গণনার শুরুতে পোস্টাল ব্যালটে শুভেন্দু অধিকারী লিড নিলেও দুপুরের দিকে চিত্রটি পাল্টে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে ১৯,০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যান, যা দেখে মনে হচ্ছিল তাঁর জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি ফের পাল্টাতে শুরু করে। রাত ৯টার দিকে ১৮তম রাউন্ডের গণনায় শুভেন্দু ১১,০০০ ভোটে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫,০০০ ভোটের ব্যবধানে চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে শুভেন্দু এবার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—উভয় আসনেই বিশাল জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়লেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের আবাসের নিকটবর্তী এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পতন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের বিশ্লেষণে এই পরাজয়ের পেছনে বেশ কিছু গভীর কারণ উঠে এসেছে। বিশেষ করে আরজি কর মেডিকেল কলেজে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ঘটনা রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে তীব্র গণঅসন্তোষ তৈরি করেছিল, তা মমতার ভাবমূর্তিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে সৃষ্ট প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির সুসংহত ভোট ব্যাংক এবারের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। অত্যন্ত নির্ভীক ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া ভোটারদের কোনো চাপ ছাড়াই নিজেদের রায় প্রদানের সুযোগ করে দিয়েছিল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

কেবল ভবানীপুরেই নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে প্রায় ২০০টি আসনে জয়ী হয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজের খাসতালুকে খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় তৃণমূল শিবিরের জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের ক্ষত মুছতে মমতা ভবানীপুরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও ২০২৬ সালে এসে সেই কেন্দ্রটিই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সামনে এক কঠিন প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল।


banner close