শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

২০২৪ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে তিন ঝুঁকি, আস্থা কমেছে বাইডেনে

আপডেটেড
২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১৫:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১৫:৪৬

২০২৩ সালে মার্কিন অর্থনীতি পূর্বাভাসকারীরা বলেছিলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর ও মন্দার দিকে যাচ্ছে। অবশ্য ওই পূর্বাভাসের যুক্তিসংগত কারণও ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, দেশটির অর্থনীতি দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে থাকে। এমনকি মূল্যস্ফীতিও কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিশ্লেষকই হতাশা থেকে সরে এসেছেন। এবার তাদের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালে মন্দা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া মূল্যস্ফীতিও তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।

তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। প্রথমত, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারের বৃদ্ধি ও এর প্রভাবের মধ্যে সবসময় দেরি। ২০২৩ সালে ভোক্তা ও কোম্পানিগুলোর সঞ্চয় ছিল, যা তাদের অর্থায়নের প্রয়োজনকে সীমিত করেছিল। ২০২৪ সালে তাদের ‌‘থিনার বাফার’ থাকবে এবং উচ্চ হারে তাদের এক্সপোজার বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয়ত, যদিও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানো শেষ করে ফেলেছে। তবে প্রকৃত হার ক্রমশ আরও সীমাবদ্ধ হয়ে উঠবে, কারণ মূল্যস্ফীতি কমছে।

তৃতীয়ত, বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং ফের ধীরগতির দিকে এগোচ্ছে অর্থনীতি।

এই প্রবণতার মধ্যে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। এরই মধ্যে মার্কিন ভোটাররা বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটিকরা।

১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে চারজনেরও কম ব্যক্তি বাইডেনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন। যদিও তার প্রশাসন বেশ কিছু সফলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেগুলো হলো মন্দা এড়িয়ে যাওয়া, বেকারত্বের হার কম রাখা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগে আইনও পাস করেছে বাইডেন সরকার।

তবে এসব সফলতায় আপাতত মন গলছে না মার্কিনিদের। কারণ বাইডেন যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, সে সময় থেকে দ্রব্যমূল্য এখনো প্রায় ২০ শতাংশের বেশি রয়েছে।

বিষয়:

ইরানি জনগণকে ক্ষমতা দখলের আহ্বান জানালেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানের মধ্যে নতুন ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে ও দেশটির ক্ষমতা দখলের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের জনগণের উচিত রাস্তায় নেমে আসা এবং তাদের সরকারের পতন ঘটিয়ে শাসন ব্যবস্থার দখল নেওয়া। তাদের সহযোগিতায় তেহরানের শাসকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

আত্মসমর্পণ করুন, নইলে মৃত্যু নিশ্চিত: ইরানি কর্মকর্তাদের ট্রাম্প

ইরানে ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।

ভিডিওটির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।’

ইরানের প্রশাসনের উদ্দেশে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আত্মসমর্পণ করুন, নইলে মৃত্যু নিশ্চিত।’ একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

অন্যদিকে সিএনএন জানায়, ট্রাম্প ভিডিওতে উল্লেখ করেছেন যে ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইরানের শাসকরা মানুষ হত্যার চেষ্টা করবে। সাহসী আমেরিকান বীরদের হতাহতের আশঙ্কা আছে—যুদ্ধে সাধারণত যা হয়। তবে আমরা এখন তা হতে দিচ্ছি না; ভবিষ্যতের কথা বলছি। এটি একটি মহৎ অভিযান।’

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সিএনএন আরও জানায়, ট্রাম্প বর্তমানে পাম বিচে তার ব্যক্তিগত ক্লাব মার-এ-লাগোয়তে সাপ্তাহিক অবকাশ যাপন করছেন।


ইরানিদের প্রতি যে আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর নিজের প্রথম ভিডিও বার্তায় তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের জোয়াল’ ঝেড়ে ফেলে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ার আহ্বান জানান। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের এই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ ইরানের সাহসী জনগণের জন্য তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করার পরিবেশ তৈরি করে দেবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও একইভাবে ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এবারের ভিডিও বার্তার শুরুতেই নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক নেতৃত্বের’ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই খুনি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না, কারণ এর মাধ্যমে তারা সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে কেবল সামরিক হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সরাসরি তেহরানের মসনদ উল্টে দেওয়ার লড়াই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং ইরান এর তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে রাজধানী তেহরান থেকে সরিয়ে একটি বিশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত তার প্রধান কার্যালয় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। তেহরানের আকাশসীমায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এবং খামেনির সদরদফতরের সন্নিকটে ধোঁয়া উড়তে দেখায় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, “প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তার কোনো সমস্যা নেই।” স্থানীয় আরও কয়েকটি গণমাধ্যম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা তেহরানের আকাশজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন। তবে এই শব্দগুলো সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে হয়েছে নাকি ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে ঘটেছে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে তেহরানের দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি ও এএফপি


সৌদি আরবের রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সরাসরি লড়াই এখন পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী একযোগে হামলা শুরু করার পর এই সংকটের সূত্রপাত হয়। এর পাল্টা জবাব দিতে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিধ্বংসী মিসাইল হামলা শুরু করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, আবুধাবি ও দুবাইয়ের পর এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও সরাসরি আঘাত হেনেছে।

বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি সতর্কবার্তায় সে দেশের নাগরিকদের দ্রুত নিকটতম নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানে চলমান এই বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বনির্ধারিত হামলা’ শুরু করা হয়েছে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে।”

অন্যদিকে, ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহুরি এলাকা ছাড়াও কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ নগরীতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তা ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও তেহরানের পাল্টা আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে বিস্ফোরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘‘বড় ধরনের যুদ্ধের অভিযান’’ শুরু হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। এর আগে একই দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েল।

এই সাঁড়াশি অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার প্রশাসন তাদের দেশের সকল বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে এবং সব ধরনের সামরিক স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদরদপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আল-জাজিরা আরও জানায়, কাতারের রাজধানী দোহায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটায় কর্তৃপক্ষ জনগণকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

হামলার পর এক কড়া হুঁশিয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করবো।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা নিশ্চিত করবো, এই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ প্রক্সিগুলো আর অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। আমরা নিশ্চিত করবো, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এটি খুবই সহজ বার্তা—তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই শাসনব্যবস্থা খুব শিগগিরই শিখবে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।”

এদিকে মার্কিন এই অভিযানকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যে পরিণত হবে।” স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, কাতার তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো অঞ্চলটি এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।


ইরানে হামলা চালাল ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেম পোস্টের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আইডিএফ জানায়, “ইসরায়েলে দিকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র আসার পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য এটি একটি সক্রিয় সতর্কতা।”

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা–র সরাসরি সম্প্রচারে বলা হয়েছে, তেহরানে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশটিতে অবস্থানরত তাদের সাংবাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের জমহৌরি এলাকা ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের জল্পনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।

ঘটনাটিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


আফগান ইস্যুতে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’কে সমর্থন জানাল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন কূটনীতিক আলিসন হুকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ রয়েছে বলে একমত প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে ইসলামাবাদের প্রতি এই অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতকে ইসলামাবাদ ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালালেও তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তালেবান একটি বিশেষভাবে ঘোষিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন কূটনীতিক আলিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালোচের সঙ্গে আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং প্রাণহানির খবরে ওয়াশিংটন গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে যায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পাকিস্তান পরিচালিত বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’-এ এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তালেবানদের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলায় পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মার্কিন পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তালেবান প্রশাসন বারবার তাদের সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আফগানিস্তানকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে তাদের নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সূত্র: জিও নিউজ


পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ৬৭০-এর বেশি হতাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ২২টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী। এই বিধ্বংসী অভিযানে অন্তত ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, 'গজব আল-হক' নামক এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলায় আফগানিস্তানের ৮৩টি সীমান্ত চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ১৭টি দখল করে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১১৫টি ট্যাংক, আর্টিলারি ইউনিট ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ১২ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সফলভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিপক্ষের সব ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “কূটনৈতিক সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, আফগান তালেবানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকটের সমাধান করতে এখনো প্রস্তুত।

দুই দেশের এই সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে উভয় পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান। অন্যদিকে, ভারত এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

গত কয়েক মাস ধরেই দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে দুই দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। ওই সময়কার সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের সীমান্তে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে, যদিও কাবুল কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সূত্র : শাফাক নিউজ


বলিভিয়ায় টাকা ভর্তি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন নিহত

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় বিমানবাহিনীর একটি মালবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সান্তা ক্রুজ থেকে ছেড়ে আসা উড়োজাহাজটি রাজধানী লা পাজের নিকটবর্তী এল আলতো শহরের বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পরই এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

নিয়ন্ত্রণ হারানোর একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে পিছলে লাগোয়া একটি ব্যস্ত মহাসড়কে ঢুকে যায়। সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িকে এটি সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই ওই বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের উড়োজাহাজটির মাধ্যমে বলিভিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ কাগুজে মুদ্রা পরিবহন করা হচ্ছিল।

হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে এতে ১৫ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন, অন্যদিকে বিবিসি নিহতের সংখ্যা ১১ বলে দাবি করেছে।

ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি এভাবে বিধ্বস্ত হলো, তা উদ্ঘাটনে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাংক নোটগুলো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং হোসপাইপের মাধ্যমে জলকামান ব্যবহার করে।

যদিও ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও বা ছবির শতভাগ সত্যতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু দৃশ্যে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির অস্তিত্ব দেখা গেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওই ব্যাংক নোটগুলোর কোনো বৈধ বিনিময় মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা নেই। এসব মুদ্রা সংগ্রহ করা বা যেকোনোভাবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, “জনসাধারণকে দূরে থাকতে এবং কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে,”।


রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

২২৮ তালেবান যোদ্ধা ও ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত
ডুরাল্ড লাইনে আফগান বাহিনী নজরদারি চালাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্তে এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে তালেবান সরকারের দাবি, সংঘর্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষে অন্তত ৩১৪ জন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানে হামলা করে তালেবানের ৭৪টি নিরাপত্তা চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও ১৮টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পোস্টের বিরুদ্ধে পরিচালিত পাল্টা অভিযান শেষ হয়েছে। সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরাতের নির্দেশে স্থানীয় সময় রাত ১২টায় অভিযান সমাপ্ত করা হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অভিযানে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আফগান বাহিনী কয়েকশ হালকা ও ভারী অস্ত্র জব্দ করেছে এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত আটক করেছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় পাকিস্তান বাহিনীর দুটি সদরদপ্তর ও ১৯টি চেকপোস্ট দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষে আটজন আফগান সেনা নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

সীমান্তে চলছে গোলাগুলি

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ে গুলি ও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। সংবাদমাধ্যম এএফপি এমন তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তানের তোরখাম শহর এবং আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশ সংযোগকারী তোরখাম ক্রসিং দুই দেশের মধ্যে বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত বেশিরভাগই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তোরখাম ক্রসিংসহ কয়েকটি এই তালিকায় নেই।

পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার জন্য অনেক আফগান নাগরিক এই ক্রসিং ব্যবহার করেন। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহে তাদের অনেকেই ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছেন। জীবনযাত্রার অবনতির কথাও বলেছেন।

একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ক্রসিংয়ের কাছে থাকা শিবিরে বৃহস্পতিবার রাতে চালানো হামলায় বেশ কয়েকজন শরণার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে ফিরেছেন এমন এক ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি রক্ত দেখেছেন। আহত শিশু ও নারীদেরও দেখেছেন। অন্য এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে সবাই পালিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)- এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারশন গজব-লিল হক’ অভিযানে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন।

এনিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬ টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছে ওসিন্ট ইউরোপ। সেখানে বলা হয়েছে, কাবুলে সদরদপ্তর লক্ষ্য করে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাসহ কয়েকজন সিনিয়র তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

তবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এনিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পাকিস্তানের হামলায় নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি আফগানিস্তানের। উল্টো আফগানিস্তান দাবি করেছে, তাদের হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করে তালেবান বাহিনী। এই বাহিনীর শীর্ষনেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তালেবান সরকার তার নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলে।

পাকিস্তানের তিন শহরে আফগানদের হামলা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিনটি শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার বলেন, আফগানিস্তান থেকে অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নোসেরাতে ড্রোন প্রবেশ করেছিল। এসময় ড্রোন বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সবগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে আফগান তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়।

আফগান পক্ষের ভাষ্যমতে, ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ, নোসেরার একটি সেনা ক্যাম্প, জামরুদের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি মিলিটারি কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরপর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয় যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকে।

‘ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে, তারপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি’

কাবুলের ৬ নম্বর জেলার দাশতি বারচি এলাকার একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের হামলার সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাড়ি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটা ভূমিকম্প, কারণ কয়েক দিন আগে কাবুলে ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপরই আমরা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো ওই বাসিন্দা বলেন, দাশতি বারচির মানুষ বিস্ফোরণের পরপরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে এবং পুরো রাত জেগে থাকে। এরপর আর কেউ ঘুমায়নি। সবাই ভয় পাচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের অল্প কিছুক্ষণ পর কাবুলের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। যখন আমরা মাথার ওপর জেট উড়তে দেখলাম, বুঝতে পারলাম এগুলো পাকিস্তানের সামরিক বিমান।


আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

আন্তোনিও গুতেরেস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তজুড়ে চলমান সংঘর্ষের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে দুই পক্ষকে সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এ কথা জানান।

মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, আফগানিস্তানের দে ফ্যাক্টো নিরাপত্তা বাহিনী এবং পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে সংঘর্ষের যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা মহাসচিব উদ্‌বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি আরও জানান, মহাসচিব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে দুজারিক বলেন, গুতেরেস উভয় পক্ষকে কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।


ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ২১ বিলিয়ন ডলার চাইলেন মামদানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক অঘোষিত ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মেয়র মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি বিশাল পরিকল্পনা পেশ করেন। তিনি কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে ১২ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এই প্রকল্পের জন্য ফেডারেল সরকার থেকে ২১ বিলিয়ন ডলার অনুদান চেয়েছেন।

মামদানির মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে গত ৫০ বছরের মধ্যে এটিই হবে নিউইয়র্ক সিটির বৃহত্তম আবাসন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ।

বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ইউনিয়ন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। মেয়র মামদানি ট্রাম্পের সামনে একটি প্রতীকি সংবাদপত্রের পাতা প্রদর্শন করেন, যেখানে ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’ শিরোনাম দেওয়া ছিল। এটি ১৯৭৫ সালের বিখ্যাত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের একটি ইতিবাচক পাল্টা রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মেয়রের এই উদ্ভাবনী উপস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ উৎসাহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন, তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আবাসন প্রকল্প ছাড়াও এই বৈঠকে মানবাধিকার ও অভিবাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু উঠে আসে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আটকের বিষয়ে মেয়রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে দ্রুত মুক্তির আশ্বাস দেন। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আবাসন খাতের এই বিশাল ফেডারেল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হবে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বৈঠক শেষে মামদানি এক্সে লিখেছেন, আজ বিকেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে আরও আবাসন নির্মাণে আমি আশাবাদী। দুই পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রকল্প ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।

বৈঠকের পর মামদানি জানান, ট্রাম্প সেদিন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক এক শিক্ষার্থীর মুক্তির বিষয়েও সম্মতি দিয়েছেন।


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইসরায়েল উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি

বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে, সঙ্গে সামরিক উপস্থিতিও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরির নাম ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন এই রণতরি ইসরায়েলের উপকূলে পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি বিমান হামলা চালাতে বহুসংখ্যক যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান পাঠানোর প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েল এসব তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ডেটা পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচটি মার্কিন কেসি-৪৬এ রিফুয়েলিং বিমান নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবং আরেকটি ট্যাংকার নর্থ ক্যারোলাইনার সেমুর জনসন বিমানঘাঁটি থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েললে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন এফ-৩৫, এগ-১৫, এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার জন্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দাবি

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। তবে সম্ভাব্য চুক্তি যুদ্ধ এড়াতে পারবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।

বৃহস্পতিবার আলবুসাইদি জানান, নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ শেষে দুই পক্ষ “শিগগিরই” আবার আলোচনায় বসবে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হবে।

ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও অন্য ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে। তিনি ‘ভালো অগ্রগতি’র কথা উল্লেখ করে জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফা বৈঠক হবে।

এই অগ্রগতির সম্ভাবনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়নের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। ট্রাম্প ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, ইরান যেকোনো হামলার জবাবে পাল্টা শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ইরানই একমাত্র অ-পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ, যারা প্রায় অস্ত্রমানের কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, আলোচনায় তেহরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানির অধিকার দাবি করেছে এবং নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ ও প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে অপ্রকাশিত কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও নাকি রাখা হয়েছে। একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পর আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের অনুমতির কথা আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।

চুক্তির বিনিময়ে আরাগচি ইরানি টেলিভিশনকে জানান, দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। বিরোধীরা বলছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে শাসকগোষ্ঠী নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে।

জেনেভায় দুই দফায়—সকালে তিন ঘণ্টা ও সন্ধ্যায় সংক্ষিপ্ত সেশন—পরোক্ষ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকপ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার ( আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিও আলোচনায় যোগ দেন।

গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তখন ট্রাম্প দাবি করেন, স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে। ইরান জানায়, হামলার পর সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্প ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা পারমাণবিক স্থাপনায় প্রাথমিক হামলার কথা বিবেচনা করছিলেন। আলোচনা ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেও বৃহত্তর অভিযান হতে পারে—এমন আভাসও দেয়া হয়েছে।


banner close