শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গাজা বিষয়ে বাইডেন-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১৭:১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় বন্দি জিম্মি মুক্তি ও মানবিক সহায়তা সক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। খবর সিনহুয়ার।

ফোনালাপকালে বাইডেন গত তিন দিনে হামাসের হাতে বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দুই নেতা হামাসের হাতে বন্দি সকল জিম্মির মুক্তির ক্ষেত্রে সমর্থন অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ব্যাপারে দুই নেতা সম্মত হয়েছেন যে- কাজটি এখনো শেষ হয়নি এবং তারা এক্ষেত্রে সকল জিম্মির মুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। উভয় নেতা আগামী দিনগুলোতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই নেতা গাজায় যুদ্ধ বিরতি এবং মানবিক সহায়তা আরো বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছেন।


সুপারসনিক বোমারু বিমানে চড়লেন পুতিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম একটি সুপারসনিক সামরিক বিমানে পরীক্ষামূলক যাত্রা করেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।

মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের মাত্র দুদিন আগে তারা এ শক্তি প্রদর্শন করল। এ ধরনের যুদ্ধবিমান তৈরির মধ্যদিয়ে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে আরও গতি অর্জনের চেষ্টা করছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, সুপারসনিক এ বোমারু বিমানটিকে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কাজানে অবস্থিত বিমান প্রস্তুতকারক একটি কোম্পানির রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন করে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসতে দেখা যায়।

পুতিন এ বিমান থেকে নেমে আসার পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি নতুন যন্ত্র। এটি বিভিন্ন দিক থেকে একেবারেই নতুন একটি বিমান। এটি পরিচালনা করাও অনেক সহজ। এমনকি আপনি একেবারে খালি ও অপ্রশিক্ষিত চোখ দিয়েও দেখতে পারেন।’

এ বোমারু বিমানের কাছে কর্মকর্তাদেরকে পুতিনের শুভেচ্ছা জানানোর ভিডিও ফুটেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বারবার প্রচার করা হয়। ভিডিও ফুটেজে ৭১ বছর বয়সী রাশিয়ার এ নেতাকে বিমানটি থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, পুতিন বিমানটিতে ৩০ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। এটি সোভিয়েত পরিকল্পিত একটি কৌশলগত বোমারু বিমান যা রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগারের অংশ।


ইউক্রেনের জন্য ৮৮ কোটি ডলার অনুমোদন আইএমএফের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বৃহস্পতিবার বলেছে, গত বছর অনুমোদিত ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের তৃতীয় ধাপে তারা ইউক্রেনের জন্য ৮৮ কোটি ডলার ছাড় করতে যাচ্ছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিয়েভ লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি এই অর্থ দিতে যাচ্ছে। খবর এএফপি’র।

রাশিয়ার বাহিনী সীমান্ত অতিক্রমের দিন থেকে প্রায় দুই বছর পর ঘোষিত এই সহায়তা অবশ্যই এখন আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে।

সম্প্রতি ওয়ারশ’তে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে আইএমএফ দলের প্রধান গ্যাভিন গ্রে সাক্ষাত করেন। এই সময় তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কর্মক্ষমতা শক্তিশালী হয়েছে।’

এক বছর আগে চার বছরের জন্য এই সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়। দলটি এ সহায়তা প্যাকেজের বিভিন্ন লক্ষ্য মূল্যায়ন করে।
আইএমএফ দল বলেছে, যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেনের জন্য ৪৮৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

বিষয়:

পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রমজানে কোনো কিছুর (অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের) অভাব হবে না। ইতোমধ্যেই সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক জার্মানি সফর সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছোলা, খেজুর, চিনিসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।’

‘সুতরাং, এগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না কারণ আমরা অনেক আগেই এর জন্য ব্যবস্থা করেছি,’ তিনি যোগ করেন।

আগামী পাঁচ বছরে সরকারের কাজের প্রাধান্য তুলে ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছর কাজ হবে যেহেতু আমাদের উন্নয়নশীল দেশের যাত্রা শুরু হবে ২০২৬ থেকে কাজেই যে সময়টুকু পাব সেটাকে কাজে লাগিয়ে যথাযথভাবে এগিয়ে যাওয়া এবং সেদিকে আমরা মনোযোগ দিয়েছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন করে আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’

উন্নয়ন টেকসই করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান গুরুত্বই থাকবে আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতির যেটা হয়েছে সেটা যেন টেকসই হয়। কারণ, যে পর্যায়ে থেকে আমরা উঠে এসেছি সেটা টেকসই করে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একটা হচ্ছে জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়ন ২০৩০ সালের মধ্যে, সেটা আমরা সময় পেয়েছি ২০৩২ সাল পর্যন্ত এবং এরমধ্যে যেগুলো আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য সেগুলো আমরা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়লাভের পর টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে এটাই ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। তিনি গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দেন।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মূলত, রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫ জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

সফরকে ফলপ্রসু উল্লেখ করে লিখিত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি।’

পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্যগণ, সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।


রাশিয়ার ৫ শতাধিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িত ৫শ’টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে, কারণ কিয়েভে মস্কোর আগ্রাসনের দুই বছর পর সেখানে এখনো যুদ্ধ চলছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।

ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র এএএফপি’কে বলেন, শুক্রবারের এ পদক্ষেপ ‘রাশিয়া, মস্কোর সক্ষমতা এবং দেশটির যুদ্ধযন্ত্রকে আঘাত করবে।’

মুখপাত্র আরো বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা মার্কিন ট্রেজারি এবং পররাষ্ট্র উভয় বিভাগ থেকে আরোপ করা হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথা উল্লেখ করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বলেছে, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় একক ধাপ।’

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশি দেশ ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা মস্কোর রাজস্ব এবং সামরিক শিল্প খাত লক্ষ্য করে অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ ধরনের প্রচেষ্টার মধ্যে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি থেকে মস্কোর রাজস্ব আয় কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো জ্বালানি তেলের মূল্যসীমা বেঁধে দেয়।

খবরে বলা হয়, ক্রেমলিনের বিরোধী দলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনি গত সপ্তাহে আর্কটিক কারাগারে মারা যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার নতুন করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে।

এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘নাভালনির মৃত্যুর জন্য দায়ী পুতিন।’


পুতিন কি বিজয়ের পথে?

ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ মনে করতেন, পুতিনের মনের ভেতরে কী চলছে তা আঁচ করতে পারেন তিনি। আরেক সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতাদের টেবিলে জায়গা প্রাপ্য পুতিনের। আর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ পুতিনকে তার সরকারি বাসভবনে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কে জর্জ ডব্লিউ বুশ, টনি ব্লেয়ার কিংবা ইমানুয়েল মাখোঁসহ পশ্চিমা অনেক নেতাদেরই ইতিবাচক ধারণা ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ইউক্রেনে আক্রমণ চালায় রাশিয়া। যারা মনে করতেন আড়াই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা ক্রেমলিনের এ নেতার রাজনৈতিক কৌশল ও উদ্দেশ্য কী তারা বুঝতে পারেন এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা এবং অংশীদারত্বের সম্ভাবনা দেখেন, তাদের ধারণায় তখন উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন আসে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের শুরুর দিকে মূল শহরগুলো সহজে ও দ্রুত দখল করতে না পারলেও ২০২৩ সালে এসে পুতিনকে কিছুটা সন্তুষ্টিতে দেখা যায়। কারণ তিনি গত বছর ইউক্রেনের পালটা আক্রমণ ভালোভাবেই প্রতিহত করেন এবং দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেন। গত সপ্তাহে রুশ সেনারা কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর পূর্ব ইউক্রেনের আভদিভকা শহরে দখল করে, যা মস্কোর জন্য একটি প্রতীকী বিজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়।

উপরন্তু, পুতিনের শীর্ষ সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনি, গত সপ্তাহে কারাগারে বন্দি অবস্থাতেই মারা গেছেন। পুতিন সরকারের ওপর তাকে হত্যার অভিযোগ এনেছে তার দল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা সত্যি যে প্রেসিডেন্ট পুতিন আত্মবিশ্বাসী। তিনি পশ্চিমাদের ছাড়িয়ে যেতে পারবেন। তাই তাকে ভুল প্রমাণ করে দেখানো আমাদের দায়িত্ব।’

সুবিধা পেল রাশিয়া

পুতিন গত ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিলেন ইউক্রেনের কোনো ভবিষ্যৎ নেই এবং বিতর্কিত ডানপন্থি মার্কিন টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সাথে সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় সংজ্ঞা অনুসারে অসম্ভব।

এ নিয়ে পশ্চিমা নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, চলমান ইউক্রেন রাশিয়া সংঘাতে রাশিয়াকে পরাজিত করাই এখন একমাত্র বিকল্প। আর মাখোঁ গত মাসে ঘোষণা করেছিলেন, ইউরোপের এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাশিয়াকে জিততে না দেওয়া। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন ব্যাপকভাবে বাড়লেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।

তবে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। পুতিন আসন্ন মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বিজয়ের প্রত্যাশা করছেন এবং ইউরোপের মধ্যে এ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) জ্যেষ্ঠ ফেলো আন্দ্রেয়া কেন্ডাল-টেইলর একে উভয় পক্ষের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পশ্চিমা অর্থায়ন যদি বাস্তবায়িত না হয় এবং রাশিয়া সুবিধা লাভ করে, তাহলে তা রাশিয়ার জন্য আরও আঞ্চলিক লাভ বয়ে আনতে পারে।

পরিস্থিতি নিতে পারে ভিন্ন মোড়

কেন্ডাল-টেইলর উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যদি ২০২৪ সালেও তার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখে তবে এটি ২০২৫ সালে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, পুতিনের দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৪ সালটি তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে শঙ্কিত, বিশেষত ২০২৩ সালে তার বিবৃতির পরে যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘাতের সমাধান করতে পারেন।

এদিকে ফ্রান্স ও জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থি দলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যারা রাশিয়ার প্রতি আরও নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।

উদ্বেগের কারণ

আর পলিটিক কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা স্তানোভায়া বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ২০২৪ সালকে যুদ্ধের গতিপথ রাশিয়ার পক্ষে ঘুরিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন পুতিন।

তাতিয়ানা বলেন, ‘গোলাবারুদের উৎপাদন আবার ২০২৫ সালের প্রথমদিকে বাড়বে। তাই এর জন্য পুতিন আশা করছেন পশ্চিমাদের সামরিক সহায়তা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে।’

তবে মার্কিন নির্বাচনের সময়, কিয়েভকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে কিয়েভকে তেমন সহায়তা না দিতে পারে এমন শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে পশ্চিমাদের আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু কারণ রয়েছে। চলমান যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জনসাধারণের চোখে-মুখে এখন ক্লান্তির ছাপ। পশ্চিমা সূত্র মতে, প্রায় সাড়ে তিন লাখ রুশ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে।

একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা পুতিনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি ব্যয় রাশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো দারা ম্যাসিকোট বলেন, পুতিনের মনোযোগ এখন দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায়। তিনি আরও বলেন, ‘যথেষ্ট পশ্চিমা সমর্থন ছাড়া, ইউক্রেনীয়দের আলোচনা করার মতো শক্তিশালী অবস্থান থাকবে না, যা তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে।’

বিষয়:

মিয়ানমারে আরও কয়েকটি সেনাঘাঁটি বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহী বাহিনী। ছবি: ইরাবতী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলো দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আরও কয়েকটি ঘাঁটি দখলের দাবি করেছে। গত চার দিনে এসব ঘাঁটির দখল নিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দখলকৃত ঘাঁটিগুলো হলো কাচিন, রাখাইন ও মন রাজ্য এবং সাগাইং ও বাগো অঞ্চলের। তবে সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

খবরে বলা হয়েছে, টানা তিন দিন লড়াইয়ের পর সোমবার আরাকান আর্মির সদস্যরা কাচিন রাজ্যের মানদালায়-মিটকিনিয়া সড়কে সেনাবাহিনীর একটি কৌশলগত ঘাঁটি অবরোধ করে। মানসি শহরের সিখাংগি গ্রামে সেই ঘাঁটিতে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি ও কাচিন রিজন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সও একই সঙ্গে হামলা চালায়। প্রায় ৩০ বছর পুরোনা সেই ঘাঁটিতে সেনাদের দুই পদাতিক বাহিনী অবস্থান করছিল।

সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ঘাঁটিটি রক্ষায় সেনারা ৬০ বারের বেশি বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় ছয় বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও আরও ১৫ জন আহত হন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে আরাকান আর্মির হাতে আরেকটি সেনাঘাঁটির পতন হয়েছে।

মিয়ানমারের ভারত সীমান্তবর্তী উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনগুলো। এর আগে গত শনিবার মিয়ানমারের থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী দক্ষিণে বাগো অঞ্চলে সেনাদের ওপর হামলা চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা।

আরেক প্রতিবেদনে ইরাবতী জানিয়েছে, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী।

আরাকান আর্মির দাবি, মিয়ানমার জান্তা ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী বোমা’ দিয়ে হাসপাতালে হামলা করেছে। তারা বলছে, জান্তার সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যের উপকূলীয় শহর রামরিতে আরও শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক বোমা ফেলতে শুরু করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রামরি শহরে আরাকান আর্মি এবং জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তারপর থেকে জান্তা বাহিনী এই শহরটিতে ঘন ঘন আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথে বোমাবর্ষণ করে চলেছে।


চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ বাড়াল ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেদ্ধ চাল রপ্তানির ওপর যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, সেই মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে দেশটি। চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক অনির্দিষ্টকাল জারি থাকবে বলে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। খবর ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির।

পর্যাপ্ত স্থানীয় মজুত বজায় রাখা এবং দেশে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বছরের আগস্ট মাসে চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্কারোপের এই আদেশ জারি থাকবে বলে তখন বলা হয়েছিল। পরে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গত বুধবার জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক জারি থাকবে।

ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি কমে ৫ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ডিসেম্বরে ছিল চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২২-২০২৩ শস্য বছরে চালের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টনে, যা তার আগের বছরের ১২৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টনের চেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে ভারত থেকে। এই দেশটি থেকে চাল রপ্তানি কমে যাওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া।


বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা ৬ মাসের মধ্যেই দিতে হবে: হাইকোর্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারীকে অবসরের ছয় মাসের মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

আদালত বলেন, ‘শিক্ষকদের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট (অবসরকালীন সুবিধা) পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনোভাবেই পার পান না। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এজন্য তাদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। এই অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারে না বলেও মন্তব্য করে আদালত।’

এডভোকেট ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, সারাদেশে এমপিওভুক্ত স্কুলকলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ লাখের বেশি শিক্ষক কর্মচারী অবসরকালীন সুবিধা পেতে ২০১৯ সালে একটি রিট দায়ের করেছিলাম। রিটে বলা হয়, ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে ৬ শতাংশ কেটে নেয়া হতো। সেই কর্তনকৃত টাকাসহ সুবিধা অবসরের পর দেয়া হতো। এই অবস্থায় ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে ১০ শতাংশ কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ শতাংশ কেটে নেয়া হলেও ৬ শতাংশের যে সুবিধা দেয়া হতো সেটাই বহাল রাখা হয়। যে কারণে আমরা রিট দায়ের করে বলেছি, যাতে ১০ শতাংশের সুবিধা দেয়া হয়। এরপর এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সেই রুলের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আদালত বলেছেন, ১০ শতাংশ কেটে নেয়া হলেও তাদের যেন বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়। একইসঙ্গে অবসরের ছয় মাসের মধ্যে যেন অবসরকালীন সুবিধা দেয়া হয়।

ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধান ছিল। যার বিপরীতে শিক্ষকদের ট্রাস্টের তহবিল থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা দেয়া হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল উল্লিখিত প্রবিধানমালাগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধানগুলো সংশোধনপূর্বক ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার পরিবর্তে ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ কাটার বিধান করা হলেও উক্ত অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনো বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি। পরে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারীদের এপ্রিল-২০১৯ মাসের বেতন থেকে ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। ফলে অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে কোনো আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করেই শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা কাটার আদেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কাটার আদেশ বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।


গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯,৪১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজা উপত্যকার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বলেছে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধা এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধে অবরুদ্ধ এ উপত্যকায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৯ হাজার ৪১০ জন নিহত হয়েছে। খবর এএফপি’র।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৯৭ জন নিহত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে মোট ২৯ হাজার ৪১০ জনে দাঁড়াল।

এদিকে গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট ৬৯ হাজার ৪৬৫ জন আহত হয়েছে।


হুতি ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে আরও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আমেরিকান বাহিনী বুধবার ইয়েমেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। হুতিদের এসব ক্ষেপণাস্ত্র লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌবাহিনীর জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।

ইরান সমর্থিত হুতিরা ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ইসরাইলের সাথে তারা সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নভেম্বর থেকে হুতি বিদ্রোহীরা গুরুত্ব্পূর্ণ এ সাগর পথে জাহাজ চলাচলে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, সানার স্থানীয় সময় বুধবার ভোর রাতের দিকে ‘মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী জাহাজ বিধ্বংসী হুতিদের সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে আত্মরক্ষামূলক চার দফা হামলা চালায়। আর এটি লোহিত সাগর অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা ছিল।


ভেনিজুয়েলায় খনি ধসে ১৫ জনের প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ-পূর্ব বলিভার রাজ্যের অ্যাঙ্গোস্তুরা শহরের লা প্যারাগুয়ায় একটি খনি ধসে ১৫ জনের প্রাণহানি এবং ১১ জন আহত হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বুধবার রাতে এ কথা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি আরও বলেছেন, আটকে পড়া খনি শ্রমিকদের উদ্ধারে ওই এলাকায় স্থল ও বিমান সহযোগে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

মাদুরো বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে খনন কাজ কিছুটা করার পরেই খনিটি ৩০ মিটার গভীরে ধসে পড়ে।


দেশে দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভাষাশহীদদের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেসকো স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৯৯ সালে। সেই থেকে এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে গণমাধ্যমগুলোতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ভারতের কোলকাতা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দিবসটি পালনের খবর পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে মাতৃভাষা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটের সঙ্গে মিল রেখে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টায় ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

গতকাল বুধবার ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানিয়েছে বাসস। এতে বলা হয়, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশ্বজিত সাহার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশের ভাষাশহীদদের আত্মদানের বিনিময়ে আজ পৃথিবীব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাসহ পৃথিবীর অন্যান্য ভাষা সংরক্ষণ এবং উত্তরণে আমাদের সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখতে হবে’। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে গত ৩৩ বছর ধরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ভাষা দিবস পালনের গৌরবময় অধ্যায়ের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।

এ ছাড়া নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, প্রজন্ম একাত্তরের সভাপতি শিবলী ছাদিক এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার বক্তৃতা করেন।

এর আগে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বঙ্গমাতা পরিষদ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, প্রজন্ম ৭১, জ্যাকসন হাইটস মহানগর আওয়ামী লীগ, যুব লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জগন্নাথ হল এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, গাইবান্ধা সোসাইটি ইনক ও প্রবাসী মতলব সমিতি। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ এ সময় দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

কলকাতা

যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভারতের কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এই উপলক্ষে বুধবার কলকাতা বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ রাখা হয়।

সকালে কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে এক সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের হয়। হাতে বর্ণিল পোস্টার, ফুলের মালাসহ এই প্রভাতফেরিতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গান গেয়ে প্রভাতফেরি কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপহাইকমিশন প্রাঙ্গণে।

এরপর মিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সালাম-বরকত-জব্বারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপ -হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) শামসুল আরীফ, প্রথম সচিব (ভিসা) আলমাস হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে মিশন প্রাঙ্গণে মুজিব মঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। উপহাইকমিশনার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আলাদা আলাদাভাবে শহীদ বেদিতে ফুল দিয় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয় ইন্দো বাংলা প্রেস ক্লাব, কলকাতা প্রেসক্লাব, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি, বাংলাদেশ বিমান সোনালি ব্যাংকের তরফ থেকে। পরে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে।

এদিন বিকালে মিশন প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতাস্থ বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলা আমার তৃষ্ণার জল’।

বিকালে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

দিবস উপলক্ষে সোমবার রাতব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হওয়া রাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবে নাটক, বাউল, লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পীরাও যোগদান করেন। বুধবার সকালে প্রভাত ফেরির মধ্য দিয়ে সেই অনুষ্ঠানের শেষ হয়।

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্যতম স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে বনগাঁ পৌরসভার উদ্যোগে পেট্রাপোল বন্দরসংলগ্ন এলাকায় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন দুদেশের প্রতিনিধি ও ভাষাপ্রেমীরা।
শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও ভারত ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের অন্য ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে বাংলা গান গেয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে অংশ নেন।

বিশেষ এই দিনটিকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলোতে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় ‘অমর একুশে’। এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তরফে বিশেষ মর্যাদায় বিশেষ দিনটি পালন করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া

নয় দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

গত মঙ্গলবার দেশটির কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার টেলরস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সহযোগিতায় ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে বহুভাষিকতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।

খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেইলর’স বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্র্যান্ড হলে’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, প্যানেল আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং নয়টি দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ধারণ করা বক্তব্য প্রচার করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তব্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মরণে বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আয়োজিত ভিন্নমাত্রিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন সারা বিশ্বে ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাসহ শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করি।’

অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সভায় অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, পরিচালক, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, বাংলাদেশ এবং মিসেস মাকি কাতসুনো-হায়াশিকাওয়া, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইউনেসকো আঞ্চলিক অফিস, জাকার্তার ধারণরা বক্তব্য প্রচারিত হয়।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. অনিন্দিতা দাশগুপ্ত, বিভাগীয় প্রধান-স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, টেলরস ইউনিভার্সিটি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অফ ফিউচার ইন এডুকেশন অ্যান্ড সোসাইটির (এপিজেএফইএস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড. কালাই ভানি রাজন্দ্রাম এবং স্যার এম বিশ্বেশ্বরায়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ব্যাঙ্গালোরের শিক্ষক গৌথম কুমার। এ সময়, আলোচকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে সবার ঐক্যের চেতনার কথা বলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। গতকাল দিবসের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেসকোর প্রতিনিধিগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে, দূতাবাসে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত মো. তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষা আন্দোলনের সব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত মাতৃভাষা লালনের গুরুত্ব এবং জাতি গঠনে মাতৃভাষার মূল্যের ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাকার্তায় বসবাসরত শিশু-কিশোররা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।


ইংল্যান্ডের সব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইংল্যান্ডের সব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

মোবাইলের ওপর বিধিনিষেধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, স্কুলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ফোন। ব্যাহত হয় পাঠদান। সরকারি নির্দেশিকায় বিষয়টিতে নজরদারির জন্য প্রধান শিক্ষকের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নানা উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে ফোন না নিয়ে আসে তা শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আবার কেউ ফোন আনলে তা যাতে লকারে সুরক্ষিতভাবে রাখা যায়, সেই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, ক্লাস চলাকালীন যেন কেউ যাতে ফোন ব্যবহার না করে কিংবা ফোনের আওয়াজে পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্কুলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতার ওপরে জোর দিয়েছেন।

মোবাইল ফোন কীভাবে কাজে বিঘ্ন ঘটায়, তা বোঝাতে ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ঋষি সুনাক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি যখনই কিছু বলতে যাচ্ছেন, বারবার বেজে উঠছে ফোন।

ঋষি সুনাক বলেছেন, ‘প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, ফোনের জন্য কীভাবে তাদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে। অনেক স্কুল ইতোমধ্যেই ফোনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশের উন্নতি ঘটেছে। এবার নতুন করে এ বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হলো। যাতে সব স্কুলই এই বিষয়টি মেনে চলে। শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষা প্রয়োজন, তা যেন সবাই পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই আমরা।’

তবে সুনাকের এই ভিডিওর সমালোচনা করেছেন অনেকেই। বিরোধী লেবার পার্টিও ওই ভিডিওকে ব্যঙ্গ করে একই ধরনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সুনাক কিছু বলতে যাচ্ছেন কিন্তু বারবার ফোনে নোটিফিকেশন আসছে। কখনো ব্রিটেনে আর্থিক মন্দার খবর, আবার কখনো অভিবাসন কিংবা স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যার বার্তাও আসছে ফোনে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।


banner close