ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলা চলছেই। টানা প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই প্রায় ১২ হাজার। আহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৪৪ হাজারে। এদিকে গাজায় হামাসের হামলায় ১০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। অন্যদিকে গাজায় মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে কাতার ও সৌদি আরব।
এক বিবৃতিতে গাজার মিডিয়া অফিস জানায়, নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৭ হাজার ১১২ জন শিশু এবং ৪ হাজার ৮৮৫ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৪৩ হাজার ৬১৬ জন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভূখণ্ডটিতে এখনো প্রায় ৭ হাজার ৬০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তারা ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন।
অক্টোবরের ৭ তারিখে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় নির্বিচার হামলা ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে ইসরায়েল। প্রায় দুই মাসের এই যুদ্ধে উপত্যকাটিতে ৪০ হাজার টন বোমা ফেলেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে ভূখণ্ডটিতে।
হামাসের হামলায় ১০ ইসরায়েলি সেনা নিহত
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে ১০ ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এ ছাড়া হামাসের হামলায় ইসরায়েলি ট্যাংক, সামরিক যান এবং সামরিক বুলডোজারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামাসের হাতে নিহতের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় ১০ ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস জানিয়েছে। গোষ্ঠীটির সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডস জানিয়েছে, খান ইউনিস শহরের পূর্বে ‘পয়েন্ট-ব্লাংক রেঞ্জে’ অর্থাৎ ‘খুব কাছ থেকে গুলি করে’ ওই ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা করেন হামাসের যোদ্ধারা। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, সেনাদের হত্যার পাশাপাশি খান ইউনিসের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে হামাসের যোদ্ধারা তিনটি ইসরায়েলি ট্যাংক, দুটি সেনাবাহী সামরিক যান এবং তিনটি সামরিক বুলডোজারে অ্যান্টি-আরমার শেল দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। হামাসের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী মানবিক বিরতির পর গত শুক্রবার থেকে গাজা উপত্যকায় পুনরায় বিমান ও স্থল হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। বিরতির পর শুরু হওয়া এই অভিযানে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার সেনারা।
গাজায় মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান কাতার-সৌদির
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে কাতার এবং সৌদি আরব। কাতার-সৌদি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের এক যৌথ বিবৃতিতে কাতারের আমির এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গাজা উপত্যকার মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার গুরুত্বের বিষয়ে জোর দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।
উভয়পক্ষ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বন্ধে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এবং আরব শান্তি উদ্যোগের নীতি অনুসারে ফিলিস্তিন সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এই দুই শীর্ষ নেতা।
এদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন। একটি ভিডিও ফুটেজে একটি ধসে পড়া ভবন দেখা গেছে। সেখানে হামলার পর লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গত দুই দিনে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ওই শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালাল ইসরায়েলি বাহিনী।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদে ঘরবাড়ি, জীবিকা ও নিরাপদ বসবাসের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু অভিযোজনের অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ৩১) সামনে রেখে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বরাতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনের আগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরছে ইউএনএইচসিআর। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে জলবায়ু দুর্যোগের ঝুঁকি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
উপকূলীয় বাংলাদেশের সংকট: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর চাপ তৈরি করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বহু মানুষ। দুর্যোগের পরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাস ও জীবিকা পুনর্গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু নতুন করে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে না, বরং ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনও কঠিন করে তুলছে।
বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি: ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের টিকে থাকার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু অর্থায়ন পৌঁছানো জরুরি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশগুলোতে ফিরেছেন, যেগুলো নিজেরাই মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ফলে প্রত্যাবর্তনের পরও তাদের আবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।’
সিরিয়ায় সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ফিরে এসেছেন। কিন্তু দেশটিতে পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত। গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পানিসংকট ও তাপপ্রবাহে বিপন্ন জীবন: প্রতিবেদনে সুদানের এক শরণার্থীর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে আল-ফাশিরে যুদ্ধের সময় পালিয়ে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন তিনি।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে আশপাশের নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কখনো কখনো প্রায় এক সপ্তাহ বিশুদ্ধ পানি পান করা সম্ভব হয়নি। পানির বিকল্প উৎস খুঁজতে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৈনন্দিন সংকটের চিত্র তুলে ধরে। নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর পরও পানি, খাদ্য ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাবে তাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকছে।
অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ: ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, এল নিনোর প্রভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া অনেক দেশে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। চলতি বছরের শেষদিকে পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ সংঘাতপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত দেশগুলোতে পৌঁছায়। অথচ এসব দেশের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশ ও অর্থদাতা সংস্থাগুলোকে অভিযোজন তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ বসবাস এবং পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই সহায়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান 'উয়েনো'-র ধস এবং এর জেরে সৃষ্ট তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
ব্যাংকটির পতনের ফলে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন, যা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম স্থিতিশীল এই দেশটির অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির ভেতর নিজের রাজনৈতিক সমর্থন হারিয়ে ফেলা পেনা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জবাবদিহির অংশ হিসেবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করতে তিনি সিনেটের শুনানিতে উপস্থিত হবেন এবং আটকে থাকা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সচ্ছলতা না থাকার অভিযোগে উয়েনোর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে মূলত এই সংকটের সূত্রপাত হয়। ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেনশন তহবিলের প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল পরিচালনা করত এই ডিজিটাল ব্যাংকটি। এই পতনের পর ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদত্যাগ করেছেন এবং উয়েনোর আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন।
বিরোধী আইনপ্রণেতারা পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও পেনশন তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুললেও তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৩ সালে নির্বাচিত পেনার বিরুদ্ধে সাবেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেজের সাথে তার অতীতের সম্পৃক্ততা নিয়েও তীব্র নজরদারি চলছে।
বৃহস্পতিবার পেনার পদত্যাগপত্র জমা পড়ার পর সিনেট তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরায় সচল করে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সিনেটে তার বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিনি সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা বাড়ানোর আবেদন জানান, যা সিনেট নাকচ করে দেয়। ফলে উয়েনোর পতনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে প্যারাগুয়ের ক্ষমতার পালাবদল এখন এক জটিল মোড় নিয়েছে।
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে উগ্রপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এডিএফ) সন্দেহভাজন হামলায় অন্তত ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের বেনী অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে একযোগে এই হামলা চালানো হয়। বেনী অঞ্চলের নাগরিক সমাজের নেতা জাঁ কাতুহোর বরাতে শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, বিদ্রোহীরা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং বনের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় অসংখ্য বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অতর্কিত এই প্রাণঘাতী হামলার পর প্রাণভয়ে গ্রাম ছেড়ে আশপাশের তুলনামূলক নিরাপদ স্থানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন বহু স্থানীয় বাসিন্দা। এই নৃশংস ঘটনার ঠিক আগেই বৃহস্পতিবার উত্তর কিভু প্রদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কঙ্গোয় নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (মনুস্কো) প্রধান জেমস সোয়ান। ওই বৈঠকে তিনি অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে কঙ্গো কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সোয়ান উল্লেখ করেছিলেন যে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের মূল অগ্রাধিকার এবং এ জন্য সার্বক্ষণিক উপস্থিতি, নিয়মিত টহল ও যেকোনো বিপদে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
হামলার পেছনে দায়ী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এডিএফ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের (দায়েশ) সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বেশ কয়েক বছর ধরেই কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। বিদ্রোহীদের এই দৌরাত্ম্য রুখতে ২০২১ সাল থেকে উগান্ডা ও কঙ্গোর সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এডিএফের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতা সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে বিদ্রোহীদের অতর্কিত চোরাগোপ্তা হামলা ও সহিংসতা থামানো যাচ্ছে না।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের গত জুলাই মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই কঙ্গোয় এডিএফের হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এখনো ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক সশস্ত্র দল হিসেবে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারে ইউরোপজুড়ে গড়ে ওঠা বিশালাকার ডেটা সেন্টারগুলোর লাগামহীন সম্প্রসারণের প্রতিবাদে অঞ্চলজুড়ে সমন্বিত গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘স্টপ ডার্টি ডেটা সেন্টারস’ নামের একটি নাগরিক ও পরিবেশবাদী জোট শুক্রবার ও শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে। অবিলম্বে ইউরোপে বৃহৎ পরিসরের ডেটা সেন্টার নির্মাণে কার্যকর স্থগিতাদেশ (মোরাটোরিয়াম) জারির দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
আন্দোলনকারী গোষ্ঠীটি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন শহর ও লোকালয়ে এআই ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তার পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তার দায়ভার বহন করা আর সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে এসব ডেটা সেন্টারের কারণে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পানি অপচয় এবং চলমান জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এ ছাড়া আবাসিক সংকটের সৃষ্টি, সাধারণ মানুষের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিষাক্ত সরবরাহ চেইনের মতো নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে আয়োজকেরা সতর্ক করেছেন।
জনস্বার্থবিরোধী এই প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণের পেছনে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আধিপত্যকে দায়ী করে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামোর বিস্তার গণতন্ত্রকে করপোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি করছে। একই সঙ্গে নাগরিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লোভ নয়, বরং মানুষের কল্যাণ ও পৃথিবীর সুরক্ষায় এআই ও ডেটা সেন্টারগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত স্থানীয়, জাতীয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা জরুরি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে জনমত গড়ে তুলতে শুক্রবার ও শনিবার ইউরোপের অন্তত ১২টি দেশে একযোগে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ড। পরিবেশ ও জীবনযাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব দেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে রাজপথে নামছে।
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে প্যারাগুয়ের প্রায় অর্ধেক মানুষ নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তুলতে না পারায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
তবে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কংগ্রেস আপাতত পদত্যাগ গ্রহণ স্থগিত রেখেছে। ফলে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য তাকেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ঘটনার সূত্রপাত দুই দিন আগে। প্রেসিডেন্ট পেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা উয়েনো ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ব্যাংক আমানত আটকে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অবসরভোগীরাও রয়েছেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানী আসুনসিওনে কংগ্রেস ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের ‘আমাদের টাকা ফেরত দাও’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এর আগে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী আন্দ্রেস মালদোনাদো এএফপিকে বলেন, ‘আমার পরিবারের টাকা শেষ হয়ে গেছে। হাতে কোনো নগদ অর্থ নেই। সান্তিয়াগো পেনা একজন অপরাধী। তাকে কারাগারে যেতে হবে।’
ব্যাংকিং সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, অসদাচরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার পেনার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট পেনা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অভিশংসন বিচারে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে তিনি প্যারাগুয়ের জনগণের কাছে ক্ষমাও চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পেনা বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা নিজেদের সঞ্চয় আমাদের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে জমা রেখেছেন, সেই প্যারাগুয়ের জনগণের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দূর করা।’
এদিকে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনরিক রিয়েরাও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেয়েছেন কার্লোস বেনিতেজ।
প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূলধনের গুরুতর ঘাটতির কারণে উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা নাদিয়া গনজালেজ এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম বাড়ি কেনার জন্য উয়েনো ব্যাংক ঋণ অনুমোদন করেছিল। কিন্তু সেই অর্থ কখনো ছাড় করা হয়নি। এখন আমাদের মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই।’
মঙ্গলবার ও বুধবার রাজধানী আসুনসিওনে উয়েনো ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সামনে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট পেনার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ছিল। তবে গত বছর তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করে দেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কার্লোস কারভালোর পদত্যাগের অনুরোধ জানান। কারভালো তাতে সম্মত হন। পাশাপাশি ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার পেনার পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে, নাকি তা প্রত্যাখ্যান করে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়।
তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য উপস্থিত না থাকায় অধিবেশনে কোরাম পূরণ হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো ভোটাভুটি করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী আরেকটি বিশেষ অধিবেশনে শুক্রবার সকালে পেনার অভিশংসন বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, পেনার পদত্যাগ কার্যকর হলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত আগস্টে তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ আক্রান্ত দেশের পাশে দাঁড়াবে এবং সহযোগিতা করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী শক্তি সৌদি আরব একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় যুক্ত হলো।
ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে তুরস্কের।
অন্যদিকে, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টে ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন আইনপ্রণেতা।
পার্লামেন্টে আলোচনার সময় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) আইনপ্রণেতা জিয়া আলতুনইয়ালদিজ বলেন, এ চুক্তি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে তা প্রতিরোধ করাই এর উদ্দেশ্য।
সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহর, তেল স্থাপনা ও নৌপরিবহন লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
গত জুলাইয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
ফিলিপাইনের কাছে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসের বিক্রি বাড়াতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিনটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির আওতায় ফিলিপাইনকে প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হতে পারে। এতে মোট প্রায় ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সম্ভাব্য এই চুক্তির আর্থিক মূল্য হতে পারে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের প্রথম চুক্তির আওতায় ফিলিপাইন নৌবাহিনীর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই নতুন এই বৃহৎ সামরিক ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক সংঘর্ষ ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক বাহিনী আধুনিকায়ন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ম্যানিলা। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্সেনিও অ্যান্ডোলং রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অতিরিক্ত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া গত বুধবার ‘দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগ’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জানান, ফিলিপাইনের ভৌগোলিক পরিবেশ ও প্রতিরক্ষা চাহিদার সঙ্গে আরও উপযোগী করে তুলতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর দেশ দ্রুতই অতিরিক্ত ব্রহ্মস ইউনিট সংগ্রহের প্রত্যাশা করছে।
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যা স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি মাধ্যম থেকেই সমান দক্ষতায় নিক্ষেপ করা সম্ভব। গত বছর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের সময় ভারত প্রথমবারের মতো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে; যার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। যদিও চলমান এই নতুন চুক্তি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিলিপাইন ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের বাজার দ্রুত বিস্তার করছে ভারত। গত জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মস সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ভিয়েতনামের সঙ্গেও চুক্তি সম্পন্ন করেছে দিল্লি। এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরে ভারতের মোট প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপি বা ৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কয়েকশ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারির তদন্তের অংশ হিসেবে তুরস্কের সাবেক এক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন ও অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে ইস্তাম্বুলের একটি আদালত বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
কায়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তুরস্কের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) উপপ্রধান ছিলেন।
প্রধান বিরোধী দল ইয়েনি পার্টির পক্ষ থেকে ফাতমার বিরুদ্ধে বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বিপুল অর্থ লাভের অভিযোগ ওঠার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, কায়া ও তার স্বামী বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আয় করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই তারা ওই শেয়ার বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের (ইনসাইডার ট্রেডিং) অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরে কায়া ক্ষমতাসীন দল থেকেও পদত্যাগ করেন।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগ তহবিলসংক্রান্ত কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তুরস্ক। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপকভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা।
গত মঙ্গলবার তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, এ ঘটনায় বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে শুক্রবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই তারা ফোনালাপ করলেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একের পর এক কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন— এমন আশঙ্কার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
কাতারের আমিরের দপ্তর আমিরি দিওয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প ফোন করার পর দুই নেতা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের নেওয়া ‘কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো’ নিয়ে আলোচনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমির শেখ তামিম বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সংলাপ অব্যাহত রাখা ও কূটনৈতিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ইউক্রেনকে ৪৩৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের নতুন একটি সামরিক সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করেছে স্পেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়ে ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের জরুরি ও সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা চাহিদাগুলো নিয়ে আলোচনার পর এই সহায়তার ঘোষণা আসে।
বৈঠকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং রেলপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে বিস্তারিত জানান জেলেনস্কি। রুশ বিমান হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছর রাশিয়া তাদের এত বেশিসংখ্যক রেল লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা যুদ্ধের বিগত সব বছরের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বেশি।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে জেলেনস্কি জানান, দেশটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ লাইনগুলো প্রতিনিয়ত রুশ আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভের সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে সামরিক সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ইউক্রেনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইউক্রেনের জনগণের পাশে স্পেনের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সানচেজ জানান, ইউক্রেনীয় জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং সার্বিক ইউরোপীয় ঐক্যের সুরক্ষাকে সুসংহত করা। এ সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে শুরু থেকেই ইউক্রেনকে ধারাবাহিকভাবে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাওয়ার জন্য স্পেনের নেতৃত্বের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে রদবদলের গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন—এমন তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়েই রিপাবলিকানদের এই বড় পরাজয়ের জন্য প্রায় নয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে পদ ছাড়ছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি নিজে। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করাই তাঁর একমাত্র পরিকল্পনা এবং তিনি নিজের কাজকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হোয়াইট হাউসও রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট হলেও কিছুটা রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, হেগসেথকে নিয়ে তাঁর কাছে কিছু কল এলেও তাঁকে স্বপদে বহাল রাখার পূর্ণ ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন এবং গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করাসহ বিভিন্ন সামরিক সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন। তবে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হেকসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ম্যাসি সতর্ক করে লিখেছেন, আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্পের উচিত সিনেটের বর্তমান রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে হেকসেথের বিকল্প নিশ্চিত করা। এছাড়া হেগসেথ টেনেসি অঙ্গরাজ্যের খালি হওয়া একটি সিনেট আসনে লড়তে আগ্রহী বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক নাটক আখ্যা দিয়ে এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন পিট হেগসেথ। তিনি জানান, বিরোধীরা তাদের কার্যকারিতা দেখেই ব্যক্তিগত ধ্বংসের রাজনীতিতে নেমেছে। নিজের মেয়াদে সামরিক বাহিনীতে রিক্রুটমেন্ট পুনরুজ্জীবিত করা, প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সংস্থায় বৈচিত্র্যসংক্রান্ত উদ্যোগগুলো বাদ দিয়ে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হেগসেথ দায়িত্বে থাকলেও আট মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে সরাসরি সামরিক দিকনির্দেশনা দেওয়া দুই শীর্ষ কর্মকর্তা—জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদদের সাফল্যও প্রবাসীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজয়ী চারজনের মধ্যে তিনজন ডেমোক্র্যাট এবং একজন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
পিরোজপুরের বাসিন্দা আবুল খান রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট শেখ রহমান জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৫ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুরের বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট মাসুদুর রহমান কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৪ থেকে বিপুল ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে গাজীপুরের বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট হাসিব ফাতমি নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১৮ থেকে জয় পেয়েছেন।
এ ছাড়া নোয়াখালীর বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট সাদ্দাম আজলান সেলিম ২০২৪ সালে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৩৭ নম্বর জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন। আগামী বছর তার আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদদের সাফল্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। ব্রঙ্কসের মূলধারার রাজনীতিবিদ শাহজাহান শেখ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত দুই বছরের ‘অপকর্মের’ উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। তিনি বলেন, ‘এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’ এই নির্বাচনের ফলাফল রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড গ্লোবাল ক্যাম্পাসের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক ফাইজুল ইসলাম বলেছেন, মিথ্যা ও ভণ্ডামি বেশিদিন টেকে না। ট্রাম্পের অবিচার ও স্বৈরাচারী আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আমেরিকানরা ‘ব্যালট বিপ্লবের’ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফাইজুল ইসলামের মতে, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দলটিকে ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।
লং আইল্যান্ডভিত্তিক আরএলবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আখতার হোসেন বাদল বলেছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকেই তার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানো শুল্কনীতি এবং অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ কিছু রিপাবলিকান ভোটারকেও হতাশ করেছে। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
আখতার হোসেন বাদলের ভাষায়, আমেরিকানরা এসব পরিস্থিতির অবসান চান। নির্বাচনের ফলাফলে সেই মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী আশরাফ আহমেদ বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের চেয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটারদের জোরালো অবস্থানের প্রতিফলন বেশি। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা কতটা লাঘব করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তার মতে, এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির জয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় পবিত্র মদিনা নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে হুতিদের ছোড়া ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইয়েমেন থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল নিশানা ঠিক কোথায় ছিল কিংবা এটি ধ্বংস করার সময় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সামরিক জোটের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
সৌদি জোটের এই দাবির বিষয়ে হুতি বিদ্রোহীদের তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তাকারী সৌদি জোট এবং হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর আগে বুধবারও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা হুতি বিদ্রোহীরা দখল করে নেওয়ার পর ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওই আঞ্চলিক জোট।