শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৬ বছর পর কারামুক্ত পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট

আপডেটেড
৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২১:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২১:৫৪

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ১৬ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর বুধবার কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

মূলত শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই ৮৫ বছর বয়সি ফুজিমোরিকে মুক্তি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে ক্ষমা পাওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পান আলবার্তো ফুজিমোরি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্টে ছিলেন তিনি। তার এক দশকের দীর্ঘ শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার আদালত এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সমালোচনা সত্ত্বেও দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার মানবিক কারণে ৮৫ বছর বয়সি ফুজিমোরিকে ক্ষমা ঘোষণার একটি আপিলের পক্ষে রায় দেন।

২০০৭ সালে চিলি থেকে প্রত্যার্পণ করার পর ফুজিমোরি গত প্রায় ১৬ বছর ধরে কারাগারেই ছিলেন।

পেরুর রাষ্ট্রচালিত ন্যাশনাল পেনটেনশিয়ারি ইনস্টিটিউট ফুজিমোরিকে ‘অবিলম্বে মুক্তির’ নির্দেশ দেওয়ার পরপরই বুধবার তাকে কারাগার থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে উঠতে দেখা যায়। তার মুক্তির এ ঘটনাটি স্থানীয় টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

পরে সাবেক এ প্রেসিডেন্টের মুক্তির সময় তার বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও সাংবাদিকদের ফুজিমোরিকে বহনকারী গাড়ির পেছনে পেছনে যেতে দেখা যায়। কারাগারের বাইরে অপেক্ষারত ফুজিমোরির সমর্থক ক্যাটালিনা পন্স বলেন, ‘ফুজিমোরির বিরুদ্ধে এই অবিচারের অবসানের সময় এসেছে।’

ফুজিমোরির সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, তিনি সন্ত্রাসবাদ এবং অর্থনৈতিক পতন থেকে পেরুকে রক্ষা করেছিলেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, শাইনিং পাথ গেরিলাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের যুদ্ধের সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং নৃশংসতা চালিয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে শাইনিং পাথ গেরিলাদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ২৫ জনকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ২০০৯ সালে ফুজিমোরিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে সে সময় ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০১৭ সালে পেরুর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পেড্রো পাবলো কুজিনস্কি তাকে ক্ষমা করেন। পরে আন্তঃআমেরিকান আদালত ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের চাপের মুখে দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটির নিম্ন আদালত সেই ক্ষমার আদেশ বারবার বাতিল বা স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মানবিক কারণে ক্ষমার আদেশ পুনর্বহাল রেখে রায় দেওয়ায় মুক্তি পেলেন আলবার্তো ফুজিমোরি।

বিষয়:

নির্বাচিত

বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটের মুখে মুসলিম ব্রাদারহুড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কাঠামোগত সংকটে ভুগছে।

প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই সংগঠনটি এখন বিভক্ত হয়ে তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। একসময় মিশরসহ গোটা আরব বিশ্বে যাদের ব্যাপক রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, তারা আজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

সংগঠনটির এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিবন্ধটিতে তাদের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিভক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে স্পষ্টতই দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার একটির কেন্দ্র লন্ডনে এবং অন্যটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে।

নেতৃত্বের দুর্বলতা, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এই দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে। প্রবীণ নেতাদের এই ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং দিকনির্দেশনাহীনতার কারণে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ কর্মীরা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন, যার ফলে অনেকেই সংগঠন থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছেন।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই ব্রাদারহুড দেশটির সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী হয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, নয়তো বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতেও সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা মিসর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ইস্তাম্বুল বা দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোতেও এখন তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

শুধু মিসর নয়, বরং তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিত্ররা ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ বলছে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পুরোনো আবেদন হারিয়েছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও বিভক্তির কারণে সংগঠনটি আদৌ এই গভীর সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদক কার্টেলগুলো যেখানে সক্রিয়, সেখানেই হামলা চালানো হতে পারে

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় মাদকপাচারকারি চক্রগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও কঠোর ও বিস্তৃত করার এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদকবাহী নৌযানে বিমান হামলার পর এবার স্থলভাগেও সরাসরি অভিযান চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতিতে এই পরিবর্তন মাদকবিরোধী যুদ্ধকে এক নতুন এবং ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মাদক কার্টেলগুলো যেখানে সক্রিয়, প্রয়োজনে সেখানেই হামলা চালানো হতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মাদকবিরোধী লড়াই এবার সমুদ্রের সীমানা ছাড়িয়ে সরাসরি স্থলভাগে অবতীর্ণ হচ্ছে। হেগসেথের ভাষ্যমতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ১৯ দেশের একটি বিশেষ জোটের প্রধান আলোচ্যসূচিতে মাদকপাচারকারি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে।

পানামার জঙ্গলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হেগসেথ জানান, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌযানে হামলায় যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে, স্থলভাগেও তারা একই ধরনের রণকৌশল অবলম্বন করতে চান। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগেও আমরা একই ধরনের প্রভাব তৈরি করতে চাই। তাই আমরা ইকুয়েডরের সঙ্গে কাজ করছি, কলম্বিয়ার সঙ্গে কাজ করছি এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে মিলে স্থলভাগে মাদকপাচারকারি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে এগোচ্ছি।’ উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা মাদকবিরোধী বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বির্তক সৃষ্টি হয়েছে।

পানামায় চলমান ২০টিরও বেশি দেশের যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়ে হেগসেথ মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বার্তা প্রদান করেন। সৈন্যদের উপস্থিতিতে তিনি কঠোর সুরে বলেন, ‘আপনি যেখানেই মাদকপাচার করবেন, অথবা আমেরিকান জনগণ কিংবা আমাদের অংশীদারদের জন্য হুমকি তৈরি করবেন, সেখানেই আপনি লক্ষ্যবস্তু হবেন, ঠিক যেমন আইএসআইএস বা আল-কায়েদা।’ ‘আমেরিকানস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ নামের ১৯ দেশের এই জোটে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো থাকলেও মেক্সিকোর অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। হেগসেথ তার বক্তব্যের শেষে মাদকপাচারকারি নেটওয়ার্কগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন সরকারের হাতে থাকা প্রতিটি সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা এসব নেটওয়ার্ককে চূড়ান্তভাবে ঘিরে ফেলব এবং ধ্বংস করব।’


নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত রোটেশন বা পর্যায়ক্রমিক বদলির অংশ হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামক এই অত্যাধুনিক রণতরিটিকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এটি বর্তমানে সেই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে।

লাইভমিন্টের সংবাদ এবং লাইভস্কোয়াকের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ এবং বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে এটি রেকর্ড ২০০ দিন ধরে কোনো বন্দরে নোঙর করার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘ এই অবস্থানের ফলে রণতরিতে থাকা হাজার হাজার নাবিকের জীবনযাত্রার মান এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জাহাজে সুপেয় পানির সংকট, দূষিত পানি সরবরাহ, প্লাম্বিং বা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।

তবে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নাবিকদের মানসিক অবসাদ এবং রসদ সংকটের খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে মন্তব্য করে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ রুটগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজটিতে সাময়িকভাবে রসদ বা প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

এদিকে নতুন রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ সম্প্রতি ভিয়েতনামের দা নাং এলাকা ত্যাগ করেছে এবং সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করে বর্তমানে ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার ফলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন নৌ-উপস্থিতি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যখন ওয়াশিংটন বিশেষ নজর দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে ইরানের সঙ্গে বিরোধের জেরে এমন স্থানান্তর মার্কিন সামরিক কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতি তুলে চীনের ম্যাগলেভ ট্রেনের বিশ্বরেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। দেশটির একটি পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ ট্রেন স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডের মধ্যে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। হুবেই প্রদেশের দুংহু ল্যাবরেটরির মাত্র এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্র্যাকে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়। এর মাধ্যমে অতি উচ্চগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ গতিবৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।

এই ট্রেনের প্রধান বিশেষত্ব হলো ম্যাগলেভ প্রযুক্তি, যা চৌম্বক শক্তি ব্যবহার করে যানটিকে রেললাইনের সামান্য ওপরে ভাসিয়ে রাখে। লাইনের সঙ্গে ট্রেনের সরাসরি কোনো ঘর্ষণ না থাকায় এবং লাইনের চারপাশে থাকা কয়েলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে ট্রেনটিকে তীব্র গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। চীনা গবেষকরা সফলভাবে প্রদর্শন করেছেন যে, ট্রেনটি কেবল অকল্পনীয় গতিতেই পৌঁছাতে সক্ষম নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় ব্রেক ব্যবস্থার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পর ট্রেনটি মাত্র ২০০ মিটারের ব্যবধানে অত্যন্ত মসৃণভাবে থেমে যেতে সক্ষম হয়েছে।

১ দশমিক ১ টন ওজনের এই ট্রেনটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সেই সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতি তুলে প্রথম বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি যথাক্রমে ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙতে শুরু করে। চীনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষামূলক চালনার মাধ্যমে গবেষকরা উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন এবং জরুরি ব্রেক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতা যাচাই করে নিয়েছেন।

বর্তমানে চীন ও জাপানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো সাধারণত ঘণ্টায় ৩২০-৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। সে তুলনায় এই নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা কয়েকগুণ বেশি। যদিও এই গতির ট্রেন এখনই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপযোগী নয়। তবে গবেষকদের আশা, এর মূল নীতিগুলো ভবিষ্যতে রকেট এবং যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চীনা বিজ্ঞানীরা বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর দিয়ে অতি উচ্চগতির ট্রেন চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এ ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত বিপুল ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘ পথজুড়ে নিখুঁত ট্র্যাক নির্মাণ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এএফপি’র স্থিরচিত্র ও সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই সাফল্য ভবিষ্যতে বৈশ্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।


নির্বাচিত

জাপানের নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত, প্রাণহানি ৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা প্রিফেকচারে ইতিহাসের ভয়াবহতম বৃষ্টিপাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী এই অঞ্চলে গত কয়েক দিনের নজিরবিহীন বর্ষণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। জাপানি কর্তৃপক্ষ এই আবহাওয়াকে অত্যন্ত বিরল ও ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রায় ২০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী সারারাত আটকা পড়ে ছিলেন। যদিও কর্তৃপক্ষ শুরুতে সর্বোচ্চ লেভেল-৫ জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে তা কমিয়ে লেভেল-৪-এ আনা হয়। তবে ভূমিধস ও বন্যার চরম ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান বলে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে জাপান ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানার ধারাবাহিকতায় এই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্রের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দেশটির পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে ওপরের স্তরের শীতল বায়ুর সাথে মিশে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। টাইফুন ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামের তিনটি ঝড় চলতি সপ্তাহে এই অঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গভীর রাত পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাংবাদিকদের চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, ‘জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি। অতীতে আমি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি।’ তিনি আরও জানান, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার এবং সেই লক্ষ্যেই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চিবা প্রিফেকচারের কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এবার এই অঞ্চলে প্রায় তিনগুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা জাপানে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বর্ষণের অন্যতম। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি এবং আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন যিনি বন্যায় প্লাবিত সড়কে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় ১ লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অনেক যাত্রী মেট্রোস্টেশনে আটকা পড়েন এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারি ভবনে রাত কাটিয়েছেন।

চরের ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হয়েছিল, তাই এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।’ বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি তার ব্যবসা পুনরায় চালু করা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে নারিতা বিমানবন্দরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাপান এয়ারলাইন্স। জাপানের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ফিলিপাইনেও বন্যার আশঙ্কায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডলফিন ঝড়ের প্রভাবে চীনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। ডলফিন ছিল এ বছর চীনে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন, যা পুরো এশিয়াজুড়ে বিরূপ আবহাওয়ার সৃষ্টি করেছে।


নির্বাচিত

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার স্বার্থ অভিন্ন: মাসুদ পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার অভিন্ন স্বার্থ, ঐতিহাসিক মেলবন্ধন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড় ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ইরানি প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা বার্ষিকী কেবল পাকিস্তানের লড়াকু জনগণের মহান অর্জন ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করার একটি অমূল্য সুযোগ নয়, বরং এটি তেহরান ও ইসলামাবাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা প্রেস টিভি ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এই সংবাদের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।

অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সাংস্কৃতিক, সভ্যতামূলক এবং পারস্পরিক অনন্য বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন। দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইরান ও পাকিস্তানের বন্ধুত্ব কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং এক গভীর সামাজিক ও সভ্যতামূলক সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এই সম্পর্ক এক অসামান্য সম্পদ।”

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বার্তায় আরও জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে সমন্বয় ও জোরালো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এখন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত এবং শক্তিশালী করতে সম্পূর্ণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

পরিশেষে ইরানি প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং উভয় দেশের হাতে থাকা বিশাল সম্ভাবনাকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও কার্যকর এবং শক্তিশালী যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।


নির্বাচিত

উত্তরাখণ্ডে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ধস, নিহত ৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের উত্তরাখণ্ডে একটি নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ভূমিধস ও পানি প্রবেশের ঘটনায় অন্তত সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হিমালয় সংলগ্ন এই রাজ্যে একটি সরকারি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলার সময় এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র জানায়, রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অন্তত তিন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।’ টেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের আওতাধীন এই প্রকল্প এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথায় টর্চ জ্বেলে উদ্ধারকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অস্থায়ী ভেলার সাহায্যে টানেলের ভেতরে পানিতে প্লাবিত অংশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

গত কয়েক দিন ধরে উত্তরাখণ্ডজুড়ে চলা প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতে বড় ধরনের নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হলেও পরিবেশবিদরা মনে করছেন, ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর আগে গত মাসে উত্তর-পূর্ব ভারতের সিকিম রাজ্যে একটি সরকারি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কাজ করার সময় ২০ জন নিহত হন। এছাড়া ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে অন্য একটি টানেল ধসে পড়ার পর ৪১ জন শ্রমিককে ১৭ দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছিল।

চলতি বছরের জুন মাসে মৌসুমি বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন একসঙ্গে দুর্যোগের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটাচ্ছে এবং সেগুলোর তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে হিমালয় অঞ্চলের এই ভঙ্গুর ভৌগোলিক পরিবেশে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি পুনরায় বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


নির্বাচিত

দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন দাবদাহে কৃষি ও জনজীবনে মহাবিপর্যয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে দেশটির কৃষি ও জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। তীব্র তাপে ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকা গ্যাংওন প্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। সেখানকার কৃষকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগেও যেসব জমি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, এখন সেখানে ফসল তোলার মতো কোনো অবস্থা নেই। অনেক এলাকায় আলু মাটির নিচে থাকা অবস্থাতেই পচে নরম হয়ে গেছে, যা দেখে মনে হচ্ছে সেগুলো মাঠেই সেদ্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াংগু কাউন্টির আলু চাষি লি সাং-হিয়ক নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, 'এটা শুধু একটি-দুটি জমির ঘটনা নয়। বিষয়টি কীভাবে ভাষায় প্রকাশ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।' প্রায় ৪০ বছর ধরে কৃষিকাজে যুক্ত এই চাষি জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি। একই এলাকায় কয়েক হাজার পিয়ং (কোরীয় জমির একক) জমিতে চাষ করা বাঁধাকপিও তীব্র রোদে পুড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বাজারে ভালো দামের আশায় কৃষকরা ফসল তুলতে দেরি করেছিলেন, কিন্তু আবহাওয়া তাদের সেই আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি কোরীয় ওন বা কয়েক হাজার পাউন্ডের সমপরিমাণ।

শুধু শাকসবজিই নয়, তীব্র দাবদাহের প্রভাব পড়েছে ফলের বাগানগুলোতেও। অতিরিক্ত রোদের কারণে আপেলের খোসা পুড়ে গিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, আর পিচফলগুলো ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপেল চাষি চন জং-থে এসবিএসকে জানান, সেপ্টেম্বর মাসের চুসক উৎসবের সময় ফল সংগ্রহের কথা থাকলেও বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি থেমে গেছে। সূর্যের প্রখর তাপে ফলের একাংশ লাল হলেও অন্য অংশ সাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ফসল বাঁচাতে কৃষকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। পিচচাষি পার্ক ওয়ান-সন আক্ষেপ করে বলেন, 'তারা আমাদের দিনের বেলা বাইরে গিয়ে কাজ না করতে বলছে। কিন্তু এই পিচগুলো তো পচে যাচ্ছে।'

কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের তীব্র গরমে দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কৃষিখাতের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; মারা গেছে ৯ লাখেরও বেশি গবাদিপশু এবং খামারের প্রায় ১৪ লাখ মাছ। গত ২ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরের তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯০৪ সালে আধুনিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা পরিমাপ শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে মন্ত্রিসভাকে জাতীয় সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের চরম আবহাওয়া ক্রমেই একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে যাচ্ছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, আসন্ন শরৎকালীন ফসল উৎসব 'চুসক'-এর আগে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। গবেষকরা আগে থেকেই আলুকে তীব্র গরমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ফসল হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। ‘পটেটো রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন তাপসহনশীল জাতের আলু চাষের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও আবহাওয়া চরম রূপ নিয়েছে। জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অত্যন্ত ভয়াবহ গরমের দিন’ রেকর্ড করা হয়েছে, হংকংয়ে তাপমাত্রা ১৮৮৪ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে এশিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার আগের তিন দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে


নির্বাচিত

বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ওকলাহোমা, টেনেসি এবং আলাবামা অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে এক দিনে এত বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।

টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসের (কারা কর্তৃপক্ষ) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল অ্যান্থনি হাইন্স (৬৬) নামের এক দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ন্যাশভিলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কারাগারে তার এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসে মোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও চার সন্তানের জননী ক্যাথরিন জেনকিন্সকে (৫৪) হত্যার দায়ে হাইন্স দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, এই অঙ্গরাজ্যে এর আগে গত মে মাসে এক আসামির দণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হলেও চিকিৎসাকর্মীরা তার শরীরের রক্তনালি বা রগ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছিল। এরপর অঙ্গরাজ্যটিতে এটিই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা।

অন্যদিকে, মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্য ওকলাহোমার ম্যাকালেস্টার কারাগারে কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ (৭০) নামের আরেক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে ওকলাহোমার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। ২০০৩ সালে নিজের ‘লিভ-ইন’ সঙ্গী ওলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে তার এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাবামায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০২১ সালে কামারি হোল্যান্ড নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে তার এ শাস্তি হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্র ‘ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার’ (ডিপিআইসি)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। সাম্প্রতিকতম এই তিনজনের মৃত্যুর পর চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২–এ। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় ১২ জন, টেক্সাসে ৪ জন, ওকলাহোমায় ৩ জন এবং অ্যারিজোনা, টেনেসি ও আলাবামায় একজন করে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টিতে ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও পেনসিলভানিয়া—এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে দণ্ড কার্যকর করার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি রয়েছে। গত বছর দেশটিতে ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালে ৫২ জন কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডের সাজা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ৩৯টি ক্ষেত্রে বিষাক্ত ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্যদের মধ্যে ৩ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে ও ৫ জনকে নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতিতে মুখের মাস্কে নাইট্রোজেন গ্যাস পাম্প করা হয়, যার ফলে কয়েদি দমবন্ধ হয়ে মারা যান। তবে জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন গ্যাসের এ ব্যবহারকে একটি নিষ্ঠুর এবং অমানবিক পদ্ধতি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।


নির্বাচিত

ইতালিতে গোলাবারুদ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতালির রাজধানী রোমের অদূরে কোলেফেরো শহরের একটি গোলাবারুদ তৈরির কারখানায় এক বিধ্বংসী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সংঘটিত এই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কারখানাটিতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে, যার ফলে পুরো শিল্পাঞ্চল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

কারখানাটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেএনডিএস অ্যামো ইতালি’ জানিয়েছে যে, বিস্ফোরণের সময় কারখানাটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। ফলে সেখানে কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরণের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কোলেফেরোর মেয়র জিউলিও কালামিতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, কারখানায় কোনো কর্মী না থাকাটি ছিল একটি বড় স্বস্তির বিষয়। বর্তমানে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুনের অবশিষ্টাংশ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

কেএনডিএস গ্রুপের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই কারখানায় মূলত নৌ ও স্থলবাহিনীর জন্য মাঝারি ও বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদ এবং মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ যানের বিশেষ জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদ সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সাথেও যুক্ত। বড় ধরণের জানমালের ক্ষতি না হলেও এই বিস্ফোরণটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।


নির্বাচিত

ইরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার হুমকি মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানকে বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর এমন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করা হবে যা বিশ্ব ইতিবাচকভাবে আগে কখনো দেখেনি। গত বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘নিউজম্যাক্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন এবং পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যেই এই সংক্রান্ত নতুন ও বড় ধরনের পদক্ষেপ ঘোষণার ইঙ্গিত দেন। বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে অব্যাহত অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে কোনো কিছু প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হবে দ্বিমুখী— একদিকে ইরানের ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হবে, অন্যদিকে দেশটির সকল সমুদ্র বন্দরে কার্যত পূর্ণাঙ্গ অবরোধ আরোপ করা হবে। তাঁর এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য হলো নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমিয়ে আনা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই বিষয়টি বর্তমানে তাঁদের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে মার্কিন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, অর্থমন্ত্রী বেসেন্টের এই কঠোর অবস্থান তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। গত ৪ আগস্ট সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে তেহরানের সাথে খুব শীঘ্রই একটি সমঝোতা হতে পারে। তাঁর সেই ইতিবাচক বার্তার ফলে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গিয়েছিল। তবে সর্বশেষ এই নতুন হুমকি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে শাখা তৈরির চেষ্টা করছে আল-কায়েদা: জাতিসংঘ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার অনুসারী গোষ্ঠী ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) বাংলাদেশে নতুন করে জঙ্গি আস্তানা বা ‘সেল’ গঠনের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য জটিল ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৩৮তম এই নজরদারি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস বড় কোনো ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিকেন্দ্রীভূত ‘সেল’ বা শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লাল কেল্লার কাছে হামলার জন্য একিউআইএস-কে দায়ী করেছে জাতিসংঘ। মেট্রো স্টেশনের কাছের ট্র্যাফিক সিগন্যালের ওই হামলা ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।

আল-কায়েদা ও আইএসআইএল (দায়েশ) বিগত বহু বছর ধরে মারাত্মক রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে জাতিসংঘের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে তারা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সাফল্য পায়নি। তবে অনলাইনে এসব মারণাস্ত্র ও বিষাক্ত উপাদান তৈরির নির্দেশাবলি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসআইএল বা দায়েশ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের ইংরেজি ভাষার ম্যাগাজিন ‘ইনভেড’-এ বোটুলিনাম টক্সিন ও সায়ানাইড তৈরির বিস্তারিত পদ্ধতি প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া গোষ্ঠীটি মারাত্মক ‘রিসিন’ নামক বিষ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে ভারতে একজন চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিদেশে অবস্থানরত একটি আইএসআইএল সেল তাদের বাংলাদেশে ও ভারতে প্রয়োগের উদ্দেশে রিসিন তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল।

অন্যদিকে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে টানা সংঘর্ষ ও আন্তঃসীমান্ত হামলার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে চরম উচ্চতায় রয়েছে। আফগান তালেবান তাদের ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, সংস্থাগুলো বলছে, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে সীমান্ত অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের হুমকি অপরিবর্তিত রয়েছে। কার্যত তালেবান কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করা সত্ত্বেও এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয় যে, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘রাহবারি শুরা’ (নেতৃত্ব পরিষদ) বৈঠকের পর নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে। নতুন এই বিন্যাসে তারা ‘বেলুচিস্তান ও মধ্যাঞ্চল’ এবং ‘কাশ্মীর ও গিলগিট’ নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ যুক্ত করার পাশাপাশি ‘টিটিপি বিমান বাহিনী’ নামে একটি বিতর্কিত সামরিক ইউনিট চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, একিউআইএস বর্তমানে পাকিস্তানে সক্রিয় ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ (টিএমপি)-এর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থানরত সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা শাসকগোষ্ঠী আফগান তালেবানের সঙ্গে সরাসরি নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি আল-কায়েদার প্রচার মাধ্যম ‘আস-সাহাব মিডিয়া ফাউন্ডেশন’ তালেবান ও টিটিপির প্রতি তাদের প্রকাশ্য সমর্থনও ব্যক্ত করেছে।

২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক চাপে কিছুটা কোণঠাসা হলেও দক্ষিণ এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে তাদের আঞ্চলিক শাখাগুলো ক্রমান্বয়ে নিজস্ব প্রভাব ও নাশকতামূলক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।


নির্বাচিত

চরম মানসিক চাপে ভুগছেন মার্কিন নৌসেনারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান এবং প্রতিকূল পরিবেশের জেরে চরম মানসিক চাপে ভুগছেন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিক ও মেরিন সদস্যরা। চলমান মোতায়েনের সময় জাহাজটিতে একাধিক আত্মহত্যার চেষ্টা ও এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কার তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, লিঙ্কনের প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য ইরান যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছেন। তাদের মোতায়েন ইতোমধ্যে নবম মাসে পড়েছে।

এর মধ্যে টানা ২৫০ দিন কোনো স্থলভাগে না নেমে সমুদ্রে থাকার ঘটনাটি যেকোনো বিমানবাহী রণতরীর জন্য আধুনিক যুগের রেকর্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ এই মোতায়েন নিয়ে নৌসেনাদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক টাউন হল বৈঠকে প্রায় ২০০ সেনা পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সেখানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে থাকা স্বজনদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একাধিক পরিবার তাদের উদ্বেগের কথা জানান। এক নৌসেনার স্ত্রী জানান, তার স্বামী সম্প্রতি তাকে একটি বার্তা পাঠিয়ে নিজের চরম মানসিক বিপর্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন।

বৈঠকে পরিবারগুলোর অভিযোগ ও উদ্বেগ সরাসরি নৌবাহিনীর নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনীবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হাং কাওসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নেভি টাইমসের প্রতিবেদনে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সাম্প্রতিক কয়েকটি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা উঠে এসেছে। এক নৌসেনার স্ত্রী নেভি টাইমসকে জানিয়েছেন, তার স্বামী সাগরে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিলেন। সে সময় সৌভাগ্যবশত এক সহকর্মী তা দেখে ফেলেন এবং তাকে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রেখে নিরাপদে ডেকে ফিরিয়ে আনেন।

এদিকে জাহাজটির জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন নৌসেনাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘জাহাজে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, দীর্ঘ সময় কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং গরম পানির সংকট রয়েছে।’

খাবারের মান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সময় নাবিকদের খাবার হিসেবে অল্প পরিমাণ ভাত ও টরটিলা (এক প্রকার রুটি) দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাবান, ডিওডোরেন্ট ও টুথপেস্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে।

আফগানিস্তান ও ইরাকে দায়িত্ব পালন করা সাবেক আর্মি রেঞ্জার এবং কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রোও লিঙ্কনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে দিন দিন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েন নিয়ে নৌবাহিনীর ওপর এখন সেনাদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার পরিবেশ উন্নত করার চাপ বাড়ছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও যুদ্ধকালীন দায়িত্বের পাশাপাশি সেনাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

banner close