বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ পৌষ ১৪৩২

কারগিল যুদ্ধের বিরোধিতা করায় আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল:  নওয়াজ শরিফ

নওয়াজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২২:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২২:৩৯

কার্গিল যুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। শনিবার নিজ দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি নেতার এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সভায় পিএমএল-এন শীর্ষনেতা বলেন, ‘১৯৯৯ সালে আমাকে কেন ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তা বলা উচিত। কারগিল যুদ্ধের সময় আমি যখন বিরোধিতা করে বলেছিলাম, এই যুদ্ধে জড়ানো উচিত হবে না। তৎকালীন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ আমাকে তখন ক্ষমতাচ্যুত করলেন। আমি যা বলেছি, পরে তা সত্য হয়েছে।’

ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানান নওয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশ সফর করেছেন। একজন অটল বিহারি বাজপেয়ী এবং ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদি।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার তাগিদ দিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও ভালো করতে হবে। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নয়ন করতে হবে। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে হবে।’

আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে নওয়াজের দল পিএমএল-এন। নির্বাচনের আগে ভারত সম্পর্কে নিজের মনোভাব জানালেন নওয়াজ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-এর মে মাসে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে মুশকো, দ্রাস, কাকসার এবং বাতালিক, কারগিল সেক্টরে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাদের সরিয়ে দিতে অভিযানে নামে ভারতীয় সেনারা। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন বিজয়’। ১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তানের চার শতাধিক এবং ভারতের পাঁচ শতাধিক জওয়ান নিহত হয়। সে সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ।

আন্তর্জাতিক চাপে কারগিল থেকে পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। ১২ অক্টোবর ১৯৯৯ জেনারেল মোশাররফ তখন দেশের বাইরে। এই সুযোগে তাকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করেন নওয়াজ এবং সামরিক বাহিনীকে তার দেশে প্রবেশ ঠেকানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেনাবাহিনী উল্টো নওয়াজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করে বসে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তানের মসনদে জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে বসিয়ে দেয়।

বিষয়:

ইসরায়েল ছেড়ে পালিয়েছে ৭০ হাজার ইহুদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি জনগণের মাঝে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটি ছেড়ে গেছেন ৬৯ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত গবেষণায় সিবিএস জানিয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশটির নাগরিকদের মাঝে এই প্রভাব দেখা গেছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের ইসরায়েলের অভিবাসন ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়েছে।

সিবিএসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে (১০.১৭৮ মিলিয়ন) পৌঁছেছে।

আগের বছরের মতোই এই প্রবৃদ্ধি হার অপরিবর্তিত থাকলেও, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম ধীর বছরগুলোর একটি।

একই দিনে প্রকাশিত টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজ-এর একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যা হবে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে।

সিবিএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ নতুন অভিবাসী ইসরায়েলে এসেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮ হাজার কম। এই হ্রাসের বড় কারণ ছিল রাশিয়া থেকে আগত অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়া।

২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

অনেকে এই প্রবণতা পরিবর্তনের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৩ হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা—যা সমালোচকদের মতে দেশটির গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় বিদেশে বসবাসের পর প্রায় ১৯ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের উদ্দেশে আরও ৫ হাজার ৫০০ জন দেশটিতে প্রবেশ করেছেন।

২০২৪ সালে ৮২ হাজার ৭০০ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছিলেন, যা ওই বছরে আগত মানুষের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার বেশি।

জনসংখ্যাবিদদের মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়েই দেশটিতে আগত ইহুদির সংখ্যা দেশত্যাগকারীদের চেয়ে বেশি ছিল। তবে ১৯৫০ ও ১৯৮০–এর দশকের কিছু সময় ছিল এর ব্যতিক্রম।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মোট ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৭৭ লাখ ৭১ হাজার ইহুদি ও অন্যান্য, যা মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩ শতাংশ।

আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার, যা মোটের ২১.১ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ (২.৬ শতাংশ) বিদেশি হিসেবে বাস করে।


দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে রাজনাথ সিং: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হাইকমিশনে পৌঁছে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং সেখানে রক্ষিত শোক বইয়ে সশরীরে স্বাক্ষর করেন। এই সময় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের এই শীর্ষস্থানীয় নেতার সফরটি প্রতিবেশী দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভারতের সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের এই ধারাটি গত বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ সফরে ঢাকায় আসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তাটি তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে বর্তমানে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং শোক বই খোলা হয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে রাজনাথ সিংয়ের এই উপস্থিতি এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার গুরুত্ব ও তাঁর প্রতি বিভিন্ন দেশের গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও হাইকমিশনে এসে তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছেন।


পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মামদানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। মামদানির এই শপথ গ্রহণের বিশেষত্ব ছিল স্থান নির্বাচন; সিটি হলের নিচে সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনটিকে তিনি বেছে নিয়েছেন কর্মজীবী মানুষের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী নেতা নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মুহূর্তটিকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্য হিসেবে অভিহিত করেন।

জোহরান মামদানির রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। যদিও বিশ্লেষকরা তাঁর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন, তবে মামদানি তাঁর লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির বিরুদ্ধে তিনি নিউইয়র্কের অভিবাসীদের সুরক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল, তবে অভিবাসন ইস্যুতে ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণই এখন মামদানির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত একটি জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠানে মামদানি আবারও বড় পরিসরে শপথ নেবেন। সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ বক্তব্য দেবেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ এবং লেখক আরতুরো শোমবার্গের সংগ্রহ থেকে আনা তিনটি বিশেষ কোরআন শরীফ ব্যবহার করা হবে। নিউইয়র্ক সিটির চার বছর মেয়াদী এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মামদানির অভিষেক কেবল আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের অভিবাসী ও কর্মজীবী মানুষের কাছে এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আতশবাজি ও বর্ণিল উৎসবে বিশ্বজুড়ে নতুন বছর ২০২৬-কে বরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পুরনো বছর ২০২৫-এর স্মৃতি পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস আর বর্ণিল আতশবাজির মধ্য দিয়ে নতুন বছর ২০২৬-কে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববাসী। কালপঞ্জির নিয়মে মহাকালের গর্ভে আরও একটি বছর বিলীন হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নত আগামীর প্রত্যাশায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। বরাবরের মতোই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছাকাছি থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র কিরিতিমাতি, টোঙ্গা এবং নিউজিল্যান্ডে সবার আগে মধ্যরাতের ঘণ্টা বাজার মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজি আকাশকে বর্ণিল করে তোলে, যেখানে সাত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৪০ হাজার আতশবাজির খেলা উপভোগ করেন উপস্থিত জনতা। তবে সিডনির এবারের উৎসবে কিছুটা শোকের ছায়াও ছিল; সম্প্রতি এক হামলায় নিহতদের স্মরণে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং হারবার ব্রিজে বিশেষ আলোকচিত্রের মাধ্যমে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ঐতিহ্যবাহী বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে ৩৩ বার ঘণ্টা বাজিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়। অন্যদিকে, চীনে মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে এবং নাচে-গানে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানায় হাজার হাজার মানুষ। ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ায় দুপুর বেলাতেই নতুন বছর উদযাপনের এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য পালিত হয়েছে, যেখানে তীব্র শীত উপেক্ষা করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সাধারণ জনতা। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে এবার বিশ্বের বৃহত্তম নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় ঐতিহ্যবাহী 'বল ড্রপ' দেখার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

উৎসবের এই আবহের মাঝেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কিয়েভে মানুষের চোখেমুখে ছিল শান্তির জন্য গভীর আকুতি। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধে ক্লান্ত এই জাতির কাছে নতুন বছরের একমাত্র চাওয়া হলো একটি নিরাপদ ও যুদ্ধমুক্ত দেশ। কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে বড়দিনের সাজানো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে শিশুদের কণ্ঠে ছিল নতুন ভোরে শান্তি ফেরার সহজ বিশ্বাস। সব মিলিয়ে আনন্দ, উৎসব এবং বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মাঝে এক বুক নতুন আশা নিয়ে সারা বিশ্বে যাত্রা শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছরের।


বিশ্বগণমাধ্যমে বেগম জিয়ার জানাজার খবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা ফলাও করে ছেপেছে বিশ্বের খ্যাতনামা কয়েকটি গণমাধ্যম।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা শিরোনাম করেছে, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমাগম, সাবেক নেত্রীকে বিদায়।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকায় আসেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য শোক জানাচ্ছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছেন বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ।

ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


বিশ্ব সংকটের জন্য দায়ী ক্রমবর্ধমান বিভাজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিদায়ী শরণার্থীবিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন সংঘাত ও সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তার মতে, বিভাজনের কারণে সহিংসতা ও যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি বৈরিতা বেড়েছে।’

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান হিসেবে নিজের এক দশকের পথচলার কথা স্মরণ করে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়ের একটি হলো- বিভাজনের কারণে বিশ্ব সংঘাত সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে না।’

ইতালীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘ভূরাজনীতির এই বিভাজন, যা এতগুলো সংকটের উত্থান ঘটিয়েছে, সম্ভবত সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্ব শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছে না এবং শান্তি স্থাপনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।’


নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬ সালকে বরণ করতে যখন হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী টাইমস স্কয়ারে ভিড় জমান, ঠিক তার আগেই পরিত্যক্ত এক সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। ওই স্টেশন আমেরিকার ‘গিল্ডেড এজ’ বা সমৃদ্ধির যুগে তৈরি করা হয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী জোহরান নববর্ষের আগের রাতে নিউইয়র্কের সিটি হলের নিচে অবস্থিত এ পরিত্যক্ত স্টেশনে শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে এ স্টেশন লোকাল ‘৫ নম্বর’ ট্রেনের ঘোরার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ব্যতিক্রমী জায়গা বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে মামদানি বলেন, এটি প্রতীকীভাবে একটি ‘নতুন যুগের সূচনা’–কে জাগিয়ে তুলছে।

জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ স্থাপনা এমন এক শহরের স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময় সুন্দর হওয়ার সাহস দেখাত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় কিছু গড়ে দিত। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে বা সিটি হলের সুড়ঙ্গের নিচে আটকা পড়ে না থাকে, সে জন্য এ আয়োজন। ওপরের ভবন (সিটি হল) থেকে যারা নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ পাবেন, তাদের লক্ষ্য হবে সে চেতনাকে ফিরিয়ে আনা।

জোহরান আরও যোগ করেন, নতুন সুযোগের এ যুগে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্য এবং শহরের এ মহান ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে পেরে নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।

১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে প্রথম চালু ২৮টি স্টেশনের একটি হচ্ছে এ স্টেশন। পরে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্কের ‘ল্যান্ডমার্ক’ এবং ২০০৪ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

নতুন মেয়র জোহরান মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। এরপর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে আরেকটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর ব্রডওয়েতে একটি বড় উৎসবের (ব্লক পার্টি) আয়োজন করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস বলেন, সাবওয়ে স্টেশন বেছে নেওয়াটা যথার্থ হয়েছে। কারণ, ট্রেনব্যবস্থা নিউইয়র্কবাসীর জন্য এক ‘মহাসাম্য’ বা সবাইকে এক করার জায়গা।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘জোহরান আমাদের পরবর্তী মেয়র। কারণ, তিনি বোঝেন, আমরা যে সাবওয়ে লাইনই ব্যবহার করি না কেন, একে অপরের পাশে থাকা সব নিউইয়র্কবাসীর এমন একটি শহর পাওয়ার অধিকার আছে, যেখানে তারা ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।’


নতুন বছরকে সবার আগে স্বাগত জানাল কিরিতিমাতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কিরিবাতি ও প্রথম অঞ্চল হিসেবে দেশটির কিরিতিমাতি নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ হলো কিরিবাতি। এটি হাওয়াইয়ের দক্ষিণ এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। দেশটি অসংখ্য প্রবাল প্রাচীরের দ্বারা গঠিত এবং এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত।

কিরিবাতির মানুষ নিজেদের দেশকে কিরিবাস নামে ডাকেন। এটি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হয়। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক রিজার্ভ এটি। দেশটির অনেক প্রবাল প্রাচীর আছে যেখানে কোনো প্রাণী বসবাস করে না। এগুলোর বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

কিরিবাতিতে সবমিলিয়ে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ থাকেন। যদিও হাওয়াইয়ের প্রায় সরাসরি দক্ষিণ দিকে দেশটির অবস্থান। কিন্তু কিরিবাতি হাওয়াইয়ের একদিন আগে নতুন বছরের উৎসব পালন করে।


ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রতি মোসাদ ‘আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, ময়দানেই আছি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে যত ধরনের ষড়যন্ত্র হয়, তার সব কিছুর সঙ্গেই যেন জড়িয়ে থাকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম। ইরানের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নেই।

সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে মোসাদ। রাজধানী তেহরান ও দেশের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘মাঠেই আছে’। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মোসাদের ফার্সি ভাষায় পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, ‘আপনারা সবাই একত্র হয়ে সড়কে নেমে আসুন। এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমরা শুধু দূরে বসে থেকে বা কথা বলে দায় সারছি না। আমরা আপনারে সঙ্গে ময়দানেই আছি।’

দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির দাবিতে গত রোববার থেকে তেহরানের খুচরা দোকানমালিকরা পথে নামে।

তাদের এই বিক্ষোভ অন্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি রিয়ালের মূল্যমান ডলার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বারবার কমেছে। যার ফলে আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এতে খুচরা দোকানিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক শেষে নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

বলেছেন, পরমাণু বা ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প পুনর্নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে তেহরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।

জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে জড়ায়। ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে এই সংঘাত শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলে দাবি করে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা বিঘ্নিত করা ও ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা।

ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেয় ইরান। একপর্যায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে পরমাণু স্থাপনার ওপর হামলায় যোগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘাতের অবসান ঘটে।

ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না ইরান। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও মোসাদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর অভিযোগ এনেছে তেহরান।

বিশেষত, পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংস ও বিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনায় মোসাদের সরাসরি সংযোগ আছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সরাসরি সমর্থন জোগানোর অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা বিশ্ব।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাবেক হামাস নেতা ইসমাঈল হানিয়াকে তেহরানে হত্যা করা হয়। ওই হামলায় মোসাদের সংযোগ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।


ইয়েমেনে হামলা সৌদি আরব ও আমিরাতের বিশ্বাসের ঘাটতি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলার পর দেশটি থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পদক্ষেপটি সৌদি–আমিরাত উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশ দুটির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও বিশ্বাসের ঘাটতি থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায়। এর পরপরই আরব আমিরাত তাদের সেনাদের ইয়েমেন ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

আরব আমিরাত বলেছে, তারা এ বিমান হামলার ঘটনায় বিস্মিত। এর ঠিক পরেই তারা ঘোষণা দেয় যে সেনাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইয়েমেন থেকে তাঁতার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতের মধ্যকার এ সংকটের সূত্রপাত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে। ওই সময় দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হঠাৎ অগ্রসর হতে শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর মধ্য দিয়ে তেল খাতে কোটাব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

সৌদি আরবের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি উপসাগরীয় সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, গত নভেম্বরে ওয়াশিংটনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রটি আরও বলেছে, ডিসেম্বর থেকে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও ফোনালাপ হয়েছে। তবে তা এখনো বাস্তব কোনো ফল দেয়নি।


জানুয়ারিতে সই হবে ট্রাম্পের ২০-পয়েন্ট শান্তি পরিকল্পনা : জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে ২০টি পয়েন্ট সংবলিত নতুন শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী জানুয়ারি মাসেই কিয়েভ ও মস্কো এই পরিকল্পনায় সই করবে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক ঘোষণায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ‘ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আমার সাম্প্রতিক বৈঠক সফল হয়েছে। আশা করছি, আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে এবং এটি স্বাক্ষরিত হবে।’

বিবরণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ বছর ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জেলেনস্কি এই মেয়াদ ৫০ বছরে উন্নীত করার জন্য আলোচনায় আছেন।

গত মঙ্গলবারের (৩০ ডিসেম্বর) ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করছি, ইউক্রেন এবং তার নাগরিকদের নিরাপত্তাগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেবল মার্কিন সেনাবাহিনীই ইউক্রেনে অবস্থান করবে। ইউক্রেনকে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের অগ্রণী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রদান করবে।

এ ছাড়া যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়েও জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন কোম্পানি ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করবে। আমাদের লক্ষ্য যুদ্ধ পরবর্তী নাগরিকদের গড় মজুরি বা আয় বৃদ্ধি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন, যার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’


সব সময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন খালেদা জিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত নীতি নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। হাসিনা ভারতকে বন্ধুসুলভ হিসেবে দেখেন। খালেদা জিয়া তার প্রাথমিক বছরগুলোতে মোটামুটি সতর্ক। কখনো কখনো বিরোধী অবস্থান বজায় রাখেন। সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় ভারতের সঙ্গে স্থলপথ সংযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার প্রতি তার বিরোধিতা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এক প্রতিবেদনে এ কথা লিখেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ৮০ বছর বয়সে হৃদরোগ ও ফুসফুস সংক্রান্ত সংক্রমণ, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ছিলেন। তাকে কৃতিত্ব দেয়া হয় দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের জন্য। গত তিন দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা, এই দুই নারী প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।

এনডিটিভি আরও লিখেছে, বিএনপিকে ‘বাংলাদেশের স্বার্থের রক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খালেদা তার নীতিগুলোকে ‘ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা’ হিসেবে সাজিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে ঢাকায় এক সভায়, যখন হাসিনা প্রধানমন্ত্রী এবং খালেদা বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন তিনি ভারতের জন্য শুল্কমুক্ত সংযোগ প্রদানের কারণে হাসিনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ভারতের রাজ্য বানানোর চেষ্টা প্রতিরোধ করব।’ তবে খালেদার লক্ষ্য কেবল সংযোগের অধিকার প্রত্যাখ্যান করা ছিল না, বরং তার দেশের জন্য বাস্তব লাভ নিশ্চিত করা ছিল। ২০১৪ সালে ঢাকার একটি পত্রিকা তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে, সংযোগ অনুমতি অবশ্যই তিস্তা জল চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে তিনি সমালোচনা করেছেন। ১৯৭৫ থেকে কার্যকর এই চুক্তি। গঙ্গা থেকে হুগলির দিকে পানি প্রবাহের জন্য ব্যবহৃত হয় এই চুক্তি। সমালোচনায় তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশকে গঙ্গার পানি থেকে বঞ্চিত করছে। ২০০৭ সালে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে তারা বাঁধ খুলে দিয়ে দেশের বন্যা পরিস্থিতি খারাপ করেছে। সংযোগ ও অবকাঠামোর বাইরে প্রতিকূল অবস্থান ছিল তার কৌশলগত নীতির অংশ। ২০০২ সালে তিনি চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেন এবং ভারতের প্রতি উদাসীনতা দেখান। চীনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ঢাকার প্রধান সরবরাহকারী হয় ট্যাঙ্ক, ফ্রিগেট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।

ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সরাসরি কৌশলগত। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি এবং দিল্লি কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে, বিএনপি সরকারের উপর বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠন আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ আনে ভারত। খালেদার ভারতবিরোধী অবস্থান ছিল বাস্তবমুখী। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯২ সালের তিন বিঘা করিডোর লিজের কথা বলা যায়। এর ফলে ঢাকাকে দহগ্রাম-আঙরপোতা এলাকায় স্থায়ী অ্যাক্সেস দেয়, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে ২০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি এবং নতুন মাদক তস্কর বিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরও তার বাস্তবমুখী নীতি প্রমাণ করে। ২০১২ সালের দিল্লি সফরের পর ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকায় সফরে এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

যাইহোক, চাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০১৬-২০২৪ সালের মধ্যে তার ভারতবিরোধী ভাষণ, সীমান্ত হত্যা এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা, খালেদার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। আগস্ট ২০২৪-এর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বিএনপি সমান ও সম্মানজনক সম্পর্কের জন্য ইঙ্গিত দেয়। যখন তার স্বাস্থ্য অবনতি হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইটে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খবর জেনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তার মৃত্যুর পর তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি ২০১৫ সালে ঢাকায় তার সঙ্গে আমার উষ্ণ সাক্ষাৎ স্মরণ করি।’


‘এক কিংবদন্তি নেত্রীর বিদায়’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব রাজনীতিতে। দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রভাবশালী নেত্রীর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন দেশের মিশন, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এসব বিদেশি মিশন তাদের ফেসবুক পেজে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানায়। শোকবার্তায় তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ত্যাগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

পাকিস্তানের শোক- ‘একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধুকে হারালাম: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং ত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক আবেগঘন বার্তায় খালেদা জিয়াকে ‘পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে খালেদা জিয়ার আজীবন অবদান অবিস্মরণীয়। পাকিস্তান সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আলাদা বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্রদ্ধা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়নে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান সবসময় স্মরণ করা হবে। ২০১৫ সালে ঢাকা সফরের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ‘উষ্ণ সাক্ষাতের’ স্মৃতিচারণ করে মোদি আশা প্রকাশ করেন যে, খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারত্বকে পথ দেখাবে।

চীনের শোক- ‘পুরোনো বন্ধুর বিদায়’: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লি কিয়াং লিখেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন চীনের জনগণের একজন পুরোনো বন্ধু। তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালেই চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চীনের পক্ষ থেকে তার অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন- ‘আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার’: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের দপ্তর তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীর শোকাহত। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার এবং তার প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এ সময়ে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।’

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাস তাদের ফেসবুকে পেজে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্সের দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই শোকের সময়ে ফ্রান্স তার পরিবার, তার দল এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। তার অবদান স্মরণীয় হয়ে কবে।

জার্মানি দূতাবাসের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গত কয়েক দশকে তার সঙ্গে জার্মানির সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে জার্মানি। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশকা ফিশারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের সঙ্গে বৈঠক। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জার্মানির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

ফেসবুক পেজে আরও লেখা হয়েছে, এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তার (খালেদা জিয়া) অবদানকে সম্মান জানাচ্ছে এবং তার পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শান্তিতে বিশ্রাম নিক।

কানাডা হাইকমিশন তাদের ফেসবুকে লিখেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তার মৃত্যুতে তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কানাডা আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার যেন শক্তি ও সান্ত্বনা খুঁজে পায়—এ কামনা করেছে কানাডা।

যুক্তরাজ্যের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই সময়ে তার পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

জাপান দূতাবাস তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া দুবার জাপান সফর করেন এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে মূল্যবান অবদান রাখেন। তার নিষ্ঠা ও উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার আত্মা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিক।

অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন ফেসবুক পেজে লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।

ইরান দূতাবাস খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপির নেতা–কর্মীর প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছে।

শোক বার্তায় বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন বিশিষ্ট জাতীয় নেতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় ছিল।


banner close