শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

দক্ষিণ গাজায় তুমুল যুদ্ধ

আপডেটেড
২৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২৩

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের তুমুল যুদ্ধ চলছে। ইসরায়েলী সেনাবাহিনী বলেছে, দক্ষিণ গাজায় বর্তমানের মূল যুদ্ধক্ষেত্র খান ইউনুসে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, খান ইউনুসে রোববার ইসরায়েলী হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া এই এলাকা থেকে দিনভর গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

প্যারিসে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইসরায়েল, মিশর ও কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান।

ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় এখনও উল্লেখযোগ্য ফাঁক রয়ে গেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা চলবে।

একটি নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হামাসের কাছ থেকে জিম্মিদের মুক্তির জন্যে আলোচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বার্নসকে প্যারিস পাঠিয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধের তীব্রতার কারণে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী শরণার্থী সংস্থার প্রতি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে জাতিসংঘের কর্মীরা জড়িত ছিল বলে ইসরায়েলী অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানীসহ কয়েকটি দাতা দেশ ফিলিস্তিনী শরণার্থী সংস্থার জন্যে তহবিলে অর্থ দেয়া আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে গুতেরেস দাতা দেশগুলোর প্রতি আবশ্যকীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গাজার মরিয়া জনগোষ্ঠীর তীব্র চাহিদা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিওএ) প্রধান ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি সতর্ক করে বলেছেন, তহবিল কমানোর অর্থ হলো গাজার ত্রাণ কার্যক্রমকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।

এদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলী দূত গিলাদ এরদান বলেছেন, ‘ইউএনআরডব্লিওএকে দেয়া তহবিল সন্ত্রাসী কাজে ব্যয় হবে।’ গিলাদ দাতাদের সংস্থাটি নিয়ে পুরো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

মেক্সিকোতে ৪৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজের এক দশক পর তৎকালীন গভর্নর গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মেক্সিকোর ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় ৪৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন মোড় নিয়েছে। আলোচিত এই মামলায় তৎকালীন গেয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যাঞ্জেল অগিরেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন এবং পরিকল্পিতভাবে ঘটনার প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল এরনেস্টিনা গোডোই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক তদন্তে অগিরের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করার সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এই ফুটেজগুলো হস্তান্তরের কথা থাকলেও তিনি তা নষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা কারিগরি ভুল ছিল না। রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জেনেশুনে প্রমাণ ধ্বংসের একটি চক্রান্ত চালানো হয়েছিল।" এর আগে এই মামলায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল জেসুস মুরিলো কারামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর আইগুয়ালা শহর থেকে ‘আইওতজিনাপা রুরাল টিচার্স কলেজের’ ৪৩ জন শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাসে করে যাওয়ার সময় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পুলিশ এবং একটি শক্তিশালী মাদক চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তদন্তে উঠে আসে যে, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলোকে ঘিরে মাদক পাচারের কোনো যোগসূত্র ছিল এবং সেই রোষানলেই শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়। তবে দীর্ঘ এক দশকেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সন্ধান মেলেনি; এ পর্যন্ত মাত্র তিনজনের হাড়ের অবশিষ্টাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

২০১৪ সালের অক্টোবরে এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো জুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হলে গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অগিরে। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রশাসন শুরু থেকেই মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবামের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলাটি নতুন করে সচল করা হয়। নতুন এই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুপরিকল্পিতভাবে প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আড়াল করা যায়।

৪৩ শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাদের স্বজনেরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। নিখোঁজ এক শিক্ষার্থীর বাবা ক্লেমেন্টে রদ্রিগেজ এই গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "তাঁরা শুরু থেকেই অগিরেকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ঘটনার পেছনে যা ঘটেছে, তাঁকে তার সবটাই বলতে হবে।" যদিও মানবাধিকার সংস্থা ‘আগুস্তিন প্রো জুয়ারেজ হিউম্যান রাইটস সেন্টার’ জানিয়েছে যে, এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি পরিবারগুলোকে আগে জানানো হয়নি। তবুও যদি আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়, তবে দীর্ঘ এক দশক পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রকৃত সত্য ও সুবিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গাজায় প্রতিদিন একজন করে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় চলমান সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গত ৩০০ দিনে সেখানে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতের পাশাপাশি এই সময়ে আরও শত শত শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকরা বর্তমানে ভয়াবহ সামরিক অভিযানের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত গোলাবর্ষণ, বন্দুকযুদ্ধ এবং নৌবাহিনীর হামলার মুখে সেখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শিশুরা অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবার চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সামরিক অভিযানের কারণে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওসিএইচএ-র তথ্য অনুযায়ী, হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার তুবা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বেশ কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এর ফলে ১৪ শিশুসহ তিনটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই হামলায় দুই শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ১০ টন পশুখাদ্যসহ ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ২৫০টি ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ১ হাজার ৩৮০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটেমাটি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে, জেরুজালেম গভর্নরেটের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দুই দিনের অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ওসিএইচএ জানিয়েছে, চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মানবিক সহায়তাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে করে সাধারণ বাসিন্দাদের চিকিৎসা ও জরুরি সেবা গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং এসব বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সংকুচিত করার লক্ষ্যে আবারও এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি নতুন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো। ট্রাম্পের দাবি, অনেক বিদেশি পর্যটনের দোহাই দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করলেও তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে সেখানে সন্তান জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব হাসিল করা।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে এই আদেশ জারির সময় ট্রাম্প কড়া ভাষায় বলেন, "তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে একটি তামাশায় পরিণত করেছে।" মূলত অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

এর আগে গত জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের একটি পূর্ববর্তী উদ্যোগ বাতিল করে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের সেই রায়কে ট্রাম্প "খুবই দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে দমে না গিয়ে তিনি এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে এই অধিকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এই নতুন আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, এই আদেশের লক্ষ্য শুধু পর্যটক নয়, বরং আরও কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা। এর মধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সন্তান এবং বিদেশি সরকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বা তদবির চালানো ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিলারের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে যারা অনৈতিকভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ খুঁজছিল, তাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরও ট্রাম্প এমন একটি আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে বলা হয়েছিল, অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাবে না। তবে নিম্ন আদালতগুলো সেই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রতিটি শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারী। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকও এই সাংবিধানিক অবস্থান বহাল রেখেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং এর এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।" তবে ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছে। তাদের দাবি, ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সালের গৃহযুদ্ধের পর যখন এই সংশোধনী আনা হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাবেক দাসদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করা; এটি অবৈধ অভিবাসী বা বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় রয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ ‘এখতিয়ারের’ আওতাভুক্ত নন, ফলে তাদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অধিকার পেতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সংকুচিত করার এই চেষ্টা ট্রাম্পের বৃহত্তর অভিবাসন বিরোধী অভিযানেরই একটি প্রতিফলন। তার এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে লাখ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর থেকে বিশেষ সুরক্ষা সুবিধা প্রত্যাহার করা। বর্তমানে মার্কিন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা থাকলেও, ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশ দেশটির নাগরিকত্ব আইনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।


নির্বাচিত

রুশ ড্রোনের ‘সাফারি’ হামলায় আতঙ্কে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার ড্রোন ও বোমা হামলার ধরন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো নতুন ধরনের ড্রোন হামলাকে স্থানীয়রা ‘সাফারি’ নামে অভিহিত করছেন। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী নারী উদ্যোক্তা কাতেরিনা লাহুতার সামুদ্রিক খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুটি রুশ বোমা আঘাত হানে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই শহরটি রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধরন আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

নিজের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে কাতেরিনা লাহুতা বলেন, “ছয় মাস আগেও পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল, কিন্তু এখনকার মতো নয়। এখন এটি যেন একটি ‘সাফারি’তে পরিণত হয়েছে।” ইউক্রেনীয়দের ভাষায়, ড্রোনের মাধ্যমে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে খুঁজে খুঁজে আক্রমণ করার কৌশলকেই ‘সাফারি’ বলা হচ্ছে।

রয়টার্সের সাংবাদিকরা লাহুতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় বিস্ফোরকবাহী ছোট ও দ্রুতগতির ড্রোনের গুনগুন শব্দ শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন।

লাহুতা বলেন, “প্রতিটি দিনই যেন এক একটি যুদ্ধ। গ্রাহক কমে গেছে, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া এখন জনমনে ভয় সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যেই হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। আগে তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোনের পাশাপাশি এখন নিয়মিত গ্লাইড বোমাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরভ রয়টার্সকে বলেন, “শত্রুপক্ষ এখন বেসামরিক জনগণের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সড়কের ওপর প্রতিরক্ষামূলক জালের ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১২টি বাস ও ট্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালকদের সতর্ক করতে ড্রোন শনাক্তকারী মনিটর এবং যানবাহনের কাচ সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।

শহরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী আনিয়া সিভোভা বলেন, “শুনতে ভয়ানক লাগলেও আমরা এই জীবনেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আপাতত আমাদের অন্য কোনো পথ নেই।”

অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী তাতিয়ানা জানান, গত মাসে এক সপ্তাহের মধ্যে তার এলাকায় ছয়বার বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে গেছি। আমার ভেতরে আর কোনো আবেগ কাজ করে না।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।


নির্বাচিত

ইয়েমেনে সামরিক ছাউনিতে হুথিদের হামলা, ৩০ সেনা নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশের সরকারি সামরিক ব্যারাকে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ধ্বংসযজ্ঞের দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত সৌদি সমর্থিত হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস এবং ফার্স্ট মিলিটারি রিজিয়নের প্রশিক্ষণরত সেনাদের ওপর বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রক্তক্ষয়ী আঘাত হানা হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মারিবের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়েছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এই বর্বরোচিত আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানিয়ে মার্কিন দূতাবাস একে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন নাজরান শহরে হুথিদের ছোঁড়া প্রক্ষেপকের আঘাতে নারী ও শিশুসহ ১১ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনার দায় হুথিরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।

হামলা প্রসঙ্গে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাল্টা জবাব হিসেবে তারা এই আক্রমণ চালিয়েছেন এবং সেনাদের প্রতি সৌদি শিবির ছেড়ে নিজ গৃহে ফেরার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইয়েমেনের পরামর্শ ও পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতি আবদুল মালিক আল-মেখলাফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় মন্তব্য করেছেন যে প্রতিকূল চাপে পড়েই হুথিরা যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছে। সানা বিমানবন্দরে ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়, যার জেরে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ আক্রমণ ও সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ বর্তমানে চরম অস্থিরতার সম্মুখীন।


নির্বাচিত

থাইল্যান্ডে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ৭

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

থাইল্যান্ডের নন্তাবুরি প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর চালানো ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন নন্তাবুরি স্কুলে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মাহুতি দেয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত হামলাকারী ওই বিদ্যালয়েরই নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেগুনি রঙের ক্রীড়া পোশাক পরিহিত ওই কিশোর হঠাৎ স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এক শিক্ষার্থী জানায়, বন্দুকধারী কয়েক ডজন রাউন্ড গুলি ছুড়েছে এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে নন্তাবুরি প্রদেশের প্লাই ব্যাং উপজেলা পুলিশের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাসাকর্ন চাইতাউইওং জানিয়েছেন, "হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে নিহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।" স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পো তেখ তুং ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকর্মীরা এই হামলার খবর পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকের শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সেখানে দ্রুত একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পুরো বিদ্যালয় এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ভেতরে আটকে পড়া সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হাত ইয়াই জেলার একটি স্কুলেও বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হন। নন্তাবুরির এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি থাইল্যান্ডের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।


নির্বাচিত

প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গাা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। ফেরত পাঠানোর আগে নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে দেশটির সরকার।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিহ্নিত ও ফেরত পাঠানোর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, তবে আমরা পুরো মানদণ্ড ও শর্তাবলী পর্যালোচনা করছি। যদি উপযুক্ত মনে হয়, কেবল তখনই তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও জীবন ঝুঁকিতে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করছে।’

এর আগে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ায় দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কমিউনিটি স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়ো হলে তাদের আটক করে কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভিযোগ করেছেন, উত্তরাঞ্চলের পেনাং অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছেন। এরপর তারা সহায়তা চাইতে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ে যান।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মালয়েশিয়া সরকারকে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক ব্রায়োনি লাউ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমার জান্তার নির্মমতার শিকার রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ফেরত না পাঠিয়ে, এই সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকারের উচিত আঞ্চলিক নেতৃত্ব দেওয়া।’

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় মালয়েশিয়া এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি।


নির্বাচিত

পোলট্রি মুরগির মাংসে মিলল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এসব দেশের মুরগির মাংসের নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নির্ধারিত বৈশ্বিক সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হলো এমন এক ধরনের ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ বা উপাদান, যা ক্ষতিকারক অনুজীবদের ধ্বংস করে বা তাদের বংশবৃদ্ধি ও বৃদ্ধিকে থামিয়ে দেয়। অর্থাৎ, যেসব উপাদান আমাদের শরীরে বা পরিবেশে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবগুলোকে মেরে ফেলে বা নিষ্ক্রিয় করে, সেগুলোই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল।

মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকে এ সমস্যার প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে বলা হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসাবে ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড। মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল।

২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। নমুনাগুলো সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়ে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত নমুনার একাংশ সংগ্রহ করা হয় বাজারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের উপযোগী মুরগি থাকা খামার থেকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইইউ-এর দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

গবেষকেরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মুরগির খাদ্য ও পানীয় জলের মাধ্যমেও এই দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এতদিন এশিয়ায় একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ পরিমাপের এমন কোনো তথ্য ছিল না। আশা করছি, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।

ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে বর্তমান গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।


নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ‘গুঁড়িয়ে দেয়ার’ হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে ইরান। পাঁচটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন। এরপরেই উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিশোধ নেয়ার কড়া সতর্কবার্তা দেয় তেহরান।

এই বিষয়ে জ্ঞাত ইরানের দুইজন সিনিয়র কর্মকর্তা, দুইটি উপসাগরীয় সূত্র এবং একজন আঞ্চলিক কূটনৈতিক জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ নিয়ে সৌদি, তুর্কি এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকেও হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দেন।

ওই আঞ্চলিক কূটনৈতিক বলেন, আরাঘচি ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদের এই বার্তা দিতে আহ্বান জানান যে ট্রাম্প যেন তেহরানে নতুন করে হামলা না চালায়। সেই সঙ্গে আরাগচি সতর্ক করেন, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।

ওই আঞ্চলিক কূটনৈতিক আরও জানিয়েছে, আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্যক নেতাকে বলেছেন যে আমরা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত কিন্তু অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা এবং ধ্বংস এড়াতে আমরা একটি কূটনৈতিক সমাধানও খুঁজছি।

উপসাগরীয় একটি সূত্র জানায়, ইরানের হুমকি ছিল দ্ব্যর্থহীন: যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করে তাহলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও অন্যান্য আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলা চালাবে।

রয়টার্স বলছে, ইরানের এই কূটনৈতিক কৌশল তুলে ধরে যে, দেশটি কীভাবে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বৃহত্তর আঞ্চলিক ধ্বংসের হুমকি ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মেদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে বারংবার কথা বলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করার আহ্বান জানান। এতে তিনি একটি আলোচনায় ফেরার পথ তৈরি করেন এবং যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক বন্দোবস্তা নিশ্চিত করেন।

আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশকে ইরান প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল এবং এটি সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করেছে। তার মধ্যে একসময়ের বৈরি দেশ সৌদি আরবও রয়েছে। ইরানের দ্বিতীয় কর্মকর্তা বলেন, প্রতিশোধ নেয়ার হুমকির মধ্যে কাতার, ওমান এবং সৌদি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়।

এরপর গত ২ আগস্ট টাম্প বলেন, তিনি ইরানের অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে নতুন করে হামলা চালানোর পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন। উপসাগরীয় প্রথম সূত্রটি জানায়, সৌদি আরবের আশঙ্কা নতুন করে উত্তেজনা কেবল ধ্বংসই ডেকে আনবে। এ কারণে তারা ট্রাম্পকে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথ খুঁজতে আহ্বান জানায়।

তবে ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানালেও রিয়াদ স্পষ্ট করেছিল যে তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনিয়ে দ্বিতীয় উপসাগরীয় সূত্রটি জানায়, সৌদি এই বলে সতর্ক করে যে তাদের ভূখণ্ড হামলার শিকার হলে তারা সামরিকভাবে জবাব দেবে।


নির্বাচিত

ভারতীয়রা বিশাল ক্ষতির মুখে: শশী থারুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতীয়রা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের সেবা নিয়ে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছেন দেশটির কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনেকে ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ আখ্যা দিয়ে নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে তিনি অভিযোগ করেন, এই আইনের মাধ্যমে স্বাধীন কণ্ঠগুলোকে চেপে ধরতে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন করে লেখার চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়া নিউজের মোহাম্মদ অসীমের সম্পাদনায় প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে এই সংবাদের বিশদ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রস্তাবিত এই আইনে কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তাদের বৈদেশিক অনুদান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে ‘নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো উপাসনালয় এর আওতায় পড়লে তার ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। থারুর জানান যে সরকারের এমন নীতি ও কঠিন নিয়মের কারণে বিদেশি তহবিল ৮৭ শতাংশ কমে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার সামাজিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে বসেছে।

কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে নতুন নিয়মে অবকাঠামো ও জমি বাজেয়াপ্ত করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এক শতকের বেশি সময় ধরে সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম অস্থিরতার মুখে ফেলবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে একটি সচল দাতব্য হাসপাতাল সরকারের দখলে চলে যেতে পারে, যার চূড়ান্ত শিকার হবে সেবা নিতে আসা সাধারণ ভারতীয়রা।

কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা প্রস্তাবিত বিলটিকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সংসদে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ার জন্য সব বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা প্রায় ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে, অন্যদিকে ২২ হাজার ৪৯৮টির নিবন্ধন বাতিল এবং ১৫ হাজার ২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।


নির্বাচিত

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব, মুখ খুললেন পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের জল্পনা যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, জনসমক্ষে না থাকলেও দেশের প্রতিরোধে মোজতবা খামেনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টকে ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন এবং আলোচনা ও চলমান সংঘাতসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ বাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে আর জনসমক্ষে আসেননি। ওই হামলাতেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সূচনা হয়। একই হামলায় নিহত হন তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন।

নেতৃত্বে দ্বন্দ্বের জল্পনা

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪, তেহরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রভাব কার্যত খর্ব করে দিয়েছেন। কারণ, তিনি প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের উদ্যোগ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেননি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নীতিগত মতবিরোধের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনও করেছিলেন। সে সময় তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তার প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

চ্যানেল ১৪–এর দাবি, মোজতবা খামেনির সর্বশেষ অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তিনি এখন পুরোপুরি ইরানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। এর ফলে কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে।

যা বললেন পেজেশকিয়ান

সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই মুহূর্তে তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন। কিন্তু যাই হোক, তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশাল শক্তির উৎস, যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময়েও তার জনসমক্ষে না আসা ইরানের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

গত মাসে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং সেখানে তিনি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও অত্যন্ত যুক্তিসংগত চিন্তাভাবনা’ দেখেছেন।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে ও তার একটি ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছে।


নির্বাচিত

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে তেহরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে তেহরান। এটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি হবে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তার বরাতে আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

ইরানের দাবির দিকে এমন অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও সূত্রগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি আসন্ন। তাদের মতে, এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর একজন রয়টার্সকে বলেন, ‘হরমুজের ওপর কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

অন্য আঞ্চলিক সূত্রটি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ’বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু বিষয় নির্ধারণ করা বাকি। উপসাগরীয় দেশগুলোর আলোচকরা চাইছেন, জাহাজ তল্লাশির তদারকি আঞ্চলিক দেশগুলো করুক এবং যেকোনো ফি প্রদান যেন স্বেচ্ছাভিত্তিক হয়।

জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রটি বলেন, আলোচনাধীন চুক্তির খসড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি হলো, বিপরীত দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ভূমিকা কী হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে এসব তথ্য প্রকাশের পরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ইরানকে দেওয়া হবে, এমন কোনো ব্যবস্থা তারা কখনোই মেনে নেবেন না।

তবে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি খুবই কাছাকাছি। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন।

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি আন্দোলন জানায়, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নৌপথে এটি সর্বশেষ হামলা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এরপর বুধবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

তবে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো জুলাইয়ের শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। কারণ গত দুই দিনে ট্রাম্প নতুন করে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করে আলোচনার কথা ঘোষণা করার পর তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তার দাবি, ওই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীর বিপরীত তীরের নিয়ন্ত্রণ ওমানের হাতে। গত সপ্তাহে ওমানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল ইরান। তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওই প্রস্তাবে তাদের ভূমিকা খুবই সীমিত রাখা হয়েছিল।

এদিকে, ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ এবং মঙ্গলবার ‘সারাদিন ধরে আলোচনা’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই খুলে যাবে।’ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা যদি আবারও পিছিয়ে যায়, তাহলে তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালানো হবে।’

গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ওপর ‘ব্যাপক হামলার’ পরিকল্পনা বাতিল করার কারণই ছিল এই আলোচনা। পুরো যুদ্ধজুড়েই তিনি একাধিকবার একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন।

তবে জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রটি দ্রুত কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে। কিন্তু ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।’

আরেক ইরানি সূত্র বলেন, ‘আসল বিষয় লুকিয়ে থাকে খুঁটিনাটিতে। ট্রাম্পের একটি টুইটই পুরো বিষয়টি ভেঙে দিতে পারে।’রয়টার্স জানায়, ইরানকে যদি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে তেহরানের পক্ষে বড় পরিবর্তন।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের ফি দিতে হতো না। কিন্তু ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ মাধ্যমে শেষ হবে এবং তিনি নিজেই দেশটির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন, এখন এমন একটি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে চাপের মুখে রয়েছেন। কারণ বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন ভোটাররা দুই-এক অনুপাতে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন।

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য, হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায় ইরান। ওমান প্রায় ৩ শতাংশের মতো কম ফি নিয়ে আলোচনা করছে। আর ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ফিই চায় না।

কমপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফি প্রদানের বিষয়টি স্বেচ্ছাভিত্তিক করা এই অচলাবস্থা কাটানোর একটি উপায় হতে পারে। যদিও ইরানি হামলার অন্তর্নিহিত আশঙ্কার কারণে অর্থ না দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে অনেক শিপিং কোম্পানিই অনিচ্ছুক হতে পারে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কয়েক মাসের অভিযান, যার মধ্যে জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের বিমান হামলাও রয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারেনি। জুলাইয়ে মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে।


নির্বাচিত

তীব্র গরমে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের নদী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টানা তাপপ্রবাহ এবং বৃষ্টির অভাবে চরম সংকটে পড়েছে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নদী। কিছু কিছু জায়গায় পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ নেমে গেছে। এ ভয়াবহতা এতটাই প্রকট যে তা মহাকাশ থেকেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।

তীব্র খরার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন নদীর পানি অনেক কমে গেছে। পানি কমে যাওয়ায় নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সাধারণত পানির নিচে ডুবে থাকা দীর্ঘ বালুচর এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

২০২৩ সালের স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়, তখন নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক। সেই তুলনায় এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা এই মহাদেশে গ্রীষ্মকাল দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহে মাটি ও নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, আর দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর প্রভাবও ব্যাপক। ইউরোপের নদীগুলো পণ্য পরিবহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতল রাখা, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, পর্যটন এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নদীগুলোর পানি কমে যাওয়ায় মানুষ, অর্থনীতি ও পরিবেশ সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালে ইউরোপের নদীগুলোর পানির স্তর কমে যাওয়া নতুন নয়। তবে এ বছর অনেক জায়গায় তা নজিরবিহীন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে মহাদেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ নদী দানিউব ও রাইন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জার্মানি থেকে উৎপন্ন হয়ে ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে কৃষ্ণসাগরে গিয়ে মিশেছে ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউব। সেই নদীর পানির স্তর হাঙ্গেরিতে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, সোমবার রাজধানী বুদাপেস্টে দাদনিউবের পানির গভীরতা নেমে আসে মাত্র ৪ ইঞ্চিতে। এতে ২০১৮ সালে রেকর্ড হওয়া ১৩ ইঞ্চির সর্বনিম্ন স্তরও ভেঙে গেছে। এ সপ্তাহে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নদীর পানির স্তর আরও কমে যেতে পারে।

দানিউবের পানি কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরিতে জ্বালানি সংকটও দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতলীকরণের জন্য দানিউবের পানির ওপর নির্ভরশীল। সেটি বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। পানির স্তর কমে যাওয়ায় কেন্দ্রটির একটি ছাড়া বাকি সব রিঅ্যাক্টর বন্ধ রাখতে হয়েছে। নদীর পানি আরও কমে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের ম্যাজিয়ার সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সাধারণ মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রোমানিয়াও জ্বালানি সংকটে পড়েছে। সোমবার দেশটির নৌবাহিনী বিস্ফোরণের মাধ্যমে পাথর ভেঙে দানিউব নদীর পানি ঘুরিয়ে একমাত্র চালু থাকা চেরনাভোদা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

দানিয়ুব নদীর পানির গতিপথ চেরনোভোদা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে ঘোরাতে বালা চ্যানেলে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর ফাটাচ্ছে রোমানিয়ার নৌবাহিনী। ছবি: রয়টার্স।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আরও বেশি পানি পৌঁছাতে দানিউবের একটি শাখা নদীতে পাথরভর্তি দুটি বার্জ ডুবিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থা।

নদীর পানি কমে যাওয়ায় পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক নদীভিত্তিক প্রমোদতরী ভ্রমণ বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। গত সপ্তাহে বুলগেরিয়ায় দানিউব নদীর একটি বালুচরে একটি প্রমোদতরী আটকে যায়।

নদীর পানি কমে যাওয়ায় বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শনও প্রকাশ পাচ্ছে। গত সপ্তাহে উত্তর বুলগেরিয়ায় একটি প্রাচীন ম্যামথের বলে ধারণা করা দেহাবশেষ এবং সার্বিয়ায় ডুবে থাকা নাৎসি যুগের একটি যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

এদিকে, সুইস আল্পস থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর সাগরে গিয়ে মিশেছে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী রাইন। খাদ্য, খনিজ, কয়লা ও তেল পরিবহনের প্রধান এই নৌপথের পানির স্তরও এখন সংকটজনকভাবে কমে গেছে।

সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর ফরেস্ট, স্নো অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ রিসার্চের জলবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মাসিমিলিয়ানো জাপ্পা বলেন, আল্পসে শীতকালে কম তুষারপাত, বৃষ্টির অভাব এবং রাইন অববাহিকাজুড়ে টানা পাঁচটি তাপপ্রবাহের কারণে নদীর পানির স্তর এত নিচে নেমেছে।


নির্বাচিত

banner close