বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নওয়াজ শরিফ

পিএমএল-এন’র প্রধান নেতা নওয়াজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১২:৩২

পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ মিলিয়ে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। ভোট দিচ্ছেন প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার।

এই ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হবে আগামী পাঁচ বছর দেশটির শাসন ক্ষমতায় কারা থাকবেন। তবে বৈশ্বিক নানান গণমাধ্যম ও থিংক ট্যাংক বলছে, দেশটির এবারের নির্বাচনে জিততে চলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এই অনুমান সঠিক হলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে নওয়াজের হবে এটি চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসা।

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল। সেখানে বলা হয়, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রধান নেতা নওয়াজ শরিফ ২০২৪ সালের এই সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হবেন বলে মার্কিন মিডিয়া এবং থিংক ট্যাংকগুলোর পাশাপাশি বিবিসি, গার্ডিয়ান এবং এএফপিসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়া আউটলেটগুলো অনুমান করছে।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানিরা যখন সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবে তখন নওয়াজ শরিফকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে না পারাটা হবে আশ্চর্যজনক।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চতুর্থ দফায় ক্ষমতায় আসার পর নওয়াজ শরিফ সেই অভিযোগগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করার সুযোগ পাবেন যার কারণে তিনি ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারিয়েছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে নওয়াজ শরিফকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অস্থির সমর্থকদের সম্মুখীনও হতে হবে।

ইউএস টিভি ব্লুমবার্গ রিপোর্ট করেছে, ‘গত সপ্তাহে করাচিতে পাকিস্তানের অভিজাত ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেওয়া অনেক লোক বৃহস্পতিবারের এই নির্বাচনে ঝুলন্ত সংসদ এবং তারপর একটি দুর্বল জোট সরকার গঠন হতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। বেশিরভাগই আশা করছেন, সেই জোট সরকার নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বেই হবে অথবা তার ভাই শেহবাজের নেতৃত্বেও হতে পারে।’

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্র নীতির ফেলো মাদিহা আফজালের মতে, নওয়াজ শরিফ যদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন, তাহলে তিনি দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। একটি হলো ‘পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করা, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি’। অন্যটি, ‘শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঠিকঠাকভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করা।’

আরেক মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ‘নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিলেন ইমরান খানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফ। ৭৪ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী পুনরায় নির্বাচিত হতে চাইছেন এবং তেমনটি হলে বিদেশে কয়েক বছরের স্বেচ্ছানির্বাসনের পর এটি হবে নওয়াজের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন।’

সিএনএন আরও বলেছে, ‘নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির কাছ থেকে নওয়াজ শরিফকে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ৩৫ বছর বয়সী বিলাওয়াল এবারই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হয়েছেন।’

যুক্তরাজ্যের সাবেক সিনিয়র কূটনীতিক এবং কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টিম উইলাসি উইলসি বলেছেন, ‘নওয়াজ শরিফ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। তিনি সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারদর্শী। তিনি ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক চাইবেন।’

কিন্তু পিএমএলএনের বিজয়ের সম্ভাবনা এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিত ‘অত্যন্ত কম’ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

বার্তাসংস্থা এপি রিপোর্ট করেছে, ‘গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফেরার পর আদালত তার দোষী সাব্যস্ত এবং কারাদণ্ডের রায় বাতিল করার পর চতুর্থ মেয়াদে শরিফের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পরিষ্কার পথ রয়েছে। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমরান খান এখন কারাগারে থাকায় কার্যত ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতোই এবারও একই ধরনের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেসময় নওয়াজ শরিফ আইনি বেড়াজালের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এবং নির্বাচনে জিতে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর এবার ইমরান খান কারাগারে থাকায় বিশ্লেষকরা নওয়াজ শরিফের আরেকটি জয়ের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।’

ইউএস থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট উল্লেখ করেছে, ‘ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে নওয়াজ শরিফ এবং তার দল পিএমএলএন ক্ষমতার দৌড়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যদি পিটিআইসংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যদি জয় তুলে নিতে পারে, তাহলে তা হবে বিশাল বিস্ময়কর। এ ছাড়া তেমন কিছু হলে তা পিটিআই-এর জন্যও হবে অলৌকিক ঘটনা।’

মার্কিন এই থিংক ট্যাংক আরও বলেছে, ইমরানের পিটিআই পাকিস্তানের বৃহত্তম দল হয়ে উঠেছে এবং ২০১৮ সালে দলটি এমন নির্বাচনে জয় পেয়েছিল যে নির্বাচনের মাঠ ইমরানের খানের পক্ষে এবং নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে ছিল বলে বলা হয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবার আগের সেই পরিস্থিতিও ওলটপালট হয়ে গেছে। সুতরাং, এবারের নির্বাচনটি এমন একটি নির্বাচন যার পরিবেশ ইমরান খানের বিরুদ্ধে এবং নওয়াজ শরিফের পক্ষে রয়েছে।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ বলেছে, ‘পাকিস্তানের রাজনীতিতে চূড়ান্তভাবে টিকে থাকা নওয়াজ শরিফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন নিয়ে তার দলের সংসদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। নওয়াজ শরিফ এমন একজন ব্যক্তি যার নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামরিক বাহিনীর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি নমনীয়।’

রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক রিপোর্ট করেছে, ‘নির্বাচনের পর নতুন নেতাকে দেশের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। এই অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতিকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রতিবেশী এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী (নওয়াজ শরিফ) এবারের নির্বাচনে জোরালো লড়াইয়ের পরিবর্তে নতুন করে সরকার গঠনের আশা করছেন বলে মনে হচ্ছে। কারণ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইমরান খানকে শাস্তির আওতায়ে ফেলে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থিত প্রার্থী ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) প্রার্থীদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল গত জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল।

আর ইমরানের অনুপস্থিতিতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন)-এর নওয়াজ শরিফকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ৩৫ বছর বয়সী ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও ভোটে জয়ের জন্য বেশ আক্রমণাত্মক প্রচারণাই চালিয়েছেন।

বিষয়:

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ছে আরও ১০ লাখ ডলার

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত সরকারপ্রধান সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের পারিশ্রমিক আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নতুন পরিকাঠামো মোতাবেক, তার বার্ষিক আয় ২২ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার থেকে উন্নীত হয়ে ৩৬ লাখ ডলারে পৌঁছাবে। এতে তার পারিশ্রমিক প্রায় ১৪ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার বা ১০ লাখ মার্কিন ডলারের মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে। খবর এনডিটিভির।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির আইনসভায় এই পারিশ্রমিক পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে অবহিত করেন লরেন্স ওং। সিঙ্গাপুর প্রশাসন দীর্ঘকাল ধরেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আসছে। তাদের অভিমত, প্রতিযোগিতামূলক বেতন প্রতিভাবান ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে এবং কার্যকর সুশাসন বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

তবে বিষয়টি দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। কেননা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের আয় অনেক বেশি।

নতুন বিন্যাস অনুযায়ী, দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক পারিশ্রমিক ১৮ লাখ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩০ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অর্পিত দায়িত্ব ও পদমর্যাদার নিরিখে মন্ত্রীরা বছরে ১৮ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাবেন।

লরেন্স ওং বলেন, "প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মেয়াদে বেতন বৃদ্ধির পুরো অতিরিক্ত অর্থ তিনি উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।"

তিনি আরও বলেন, "রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি কঠিন ও আবেগপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় এই অর্থ অনেক বেশি হওয়ায় জনগণের এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে।"

তবে ওংয়ের ভাষ্যমতে, সামগ্রিক বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না, তার ওপর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও মন্ত্রীদের পারিশ্রমিক কাঠামোয় এমন বড় ধরনের রূপান্তর আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি স্বতন্ত্র কমিটির সুপারিশমালার আলোকেই এই পরিমার্জন করা হয়েছে।

অবশ্য দায়িত্বরত মন্ত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত নতুন বেঞ্চমার্ক বেতন পাচ্ছেন না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট ও কর্মদক্ষতার নিরিখে তাদের ক্ষেত্রে এককালীন সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত পারিশ্রমিক সমন্বয় কার্যকর হবে। পরবর্তী সময়ে বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রেও দায়িত্বের পরিধি ও ব্যক্তিগত পারদর্শিতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানান ওং।

সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে। উচ্চ পারিশ্রমিক নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক থাকলেও দেশটি বৈশ্বিক পরিসরে নিয়মিতভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

সূত্র : এনডিটিভি


যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে বিপর্যয়, বাতিল সহস্রাধিক ফ্লাইট

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দৃশ্য। ছবি: এপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যজুড়ে আকাশপথে যোগাযোগে নজিরবিহীন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এ ঘটনার জেরে দেশটিতে সহস্রাধিক উড়োজাহাজ চলাচল বাতিল করা হয়। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দর টার্মিনাল ও উড়োজাহাজের ভেতর চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েন হাজার হাজার আরোহী।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS) জানায়, সন্ধ্যার দিকে তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের ত্রুটি সারিয়ে তোলা সম্ভব হলেও ততক্ষণে আকাশপথের শিডিউলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তা সহজে স্বাভাবিক করা যায়নি। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে ব্রিটেনের অন্তত ১৫টি বিমানবন্দরসহ গোটা ইউরোপের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে।

লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই ফ্লাইটের যাত্রী জোসি ডনোহু টার্মিনালের চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে সান ফ্রান্সিসকোর কুখ্যাত সাবেক কারাগার আলকাট্রাজ থেকে পলায়নের চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করে একে ‘ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন’ বলে বর্ণনা করেন।

এদিকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন পুনরায় শুরু করা গেলেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাতের অবশিষ্ট সময়ের জন্য আগত সকল ফ্লাইট স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের দীর্ঘ বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকার আগাম সতর্কতাও জারি করা হয়। হিথ্রো থেকে বাল্টিমোরগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের প্রায় চার ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতর বসিয়ে রাখার পর নামিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার সময় তাদের পাস্তা ও চিকেন কারি পরিবেশন করা হয়েছিল; কেউ তখন সিনেমা দেখে কিংবা বিমানের ভেতরে পায়চারি করে সময় পার করেন। তবে বিমান থেকে নামার পরও ভোগান্তির অবসান হয়নি। লাগেজ হ্যান্ডলিং এলাকায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেককে জানায়, মালপত্র হস্তান্তরে তাৎক্ষণিক কর্মী সংকট রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ নিশ্চিত করেছে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের জটিলতায় তাদের শতাধিক ফ্লাইট বাতিল কিংবা রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে। অন্যদিকে বাজেট এয়ারলাইন রায়ানএয়ার জানিয়েছে, সংকটটির কারণে ৬৫ হাজারের বেশি ভ্রমণকারী দুর্ভোগে পড়েছেন এবং তাদের ৫০টির অধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংকটের ব্যাপকতা এত তীব্র ছিল যে বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ও ক্রু আটকে পড়ায় পরবর্তী শিডিউল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

স্ট্যানস্টেড ও লন্ডন সিটি বিমানবন্দর ছাড়াও ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, গ্যাটউইক এবং স্কটল্যান্ডের একাধিক বিমানবন্দরে এ অচলাবস্থার ঢেউ লাগে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর একটি বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেট জানিয়েছে, সার্ভারের ত্রুটির কারণে তাদের বেশ কিছু ফ্লাইট পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ধাক্কা যুক্তরাজ্যের সীমান্ত ছাড়িয়ে ইউরোপের বহু আকাশপথেও অনুভূত হয়েছে।


হরমুজে দুই মার্কিন জাহাজ ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও বড় পরিসরে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ এবং আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব আক্রমণ চালানো হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আরও ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজ’কে লক্ষ্যবস্তু করার কথাও জানিয়েছে ইরানের এই বাহিনী। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় আইআরজিসি।

বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার’ জবাব দিতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বাহিনীটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানি ও সহযোগিতায়’ ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ অঞ্চল’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এখনো আইআরজিসির ‘কঠোর ও কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের’ মধ্যে রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিও করে। ইরানের বাহিনীটির দাবি, ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করেছিল। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ‘সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে যায়’ এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি।

পরে পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সেন্টকম। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার ট্যাংকারগুলোর মধ্যে রয়েছে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো। এসব জাহাজ ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের ভাষ্য, হামলার আগে মার্কিন বাহিনী সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের জাহাজ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালানো হয় এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের সামুদ্রিক এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।


নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাবে ইরান

কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনাপতি মোহসেন রেজাই। বর্তমানে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। মোহসেন রেজাই কিছুদিন আগেই জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে যুদ্ধ কৌশল বদলাচ্ছে ইরান। তেহরান এখন শুধু প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগে নিজেদের সীমিত রাখবে না। সেই ধারায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে রেজাই জানান, নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেয়েছে দেশটির সেনা। এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইরান এখন তার শত্রুদের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাবে।

মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। মোহসেন রেজাই ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কথা তুলে ধরে দাবি করেন, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ‘পরীক্ষা’ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এপি জানায়, সলিড-ফুয়েলের মাধ্যমে চালিত ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর হাতে এসেছে। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই সেই ‘পরীক্ষা’ চালানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়, এই উন্নত প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের নতুন সামরিকনীতি তুলে ধরেছে। সেই নীতি হলো, ‘কেউ হামলার হুমকি দিলে তা বাস্তবায়নের আগেই তার বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাবে ইরান।’

গত শনিবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি জানায় ওয়াশিংটন। এই হামলার জবাবে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন জাহাজে আগাম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উসকানিমূলক এবং এতে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা বেড়ে যেতে পারে। তারা আরও বলেন, এর আগে ছয় মাসের যুদ্ধে সমুদ্রে ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত বাণিজ্যিক পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ। এবারই প্রথম যুদ্ধজাহাজে সরাসরি হামলার খবর পাওয়া গেল। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় শুধু মোহসেন রেজাই নন, ইরানের পক্ষ থেকে আসা সকল বক্তব্যেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার ছাপ লক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

ইরানের অন্যতম উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে ‘কাসেম বাসির’কে বিবেচনা করা হচ্ছে। দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতা আগের কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।

গত বছর প্রথমবারের মতো ‘কাসেম বাসির’-এর নাম শোনা যায়। সে সময় বলা হয়েছিল, এটি অন্তত এক হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দূরে আঘাত হানতে পারবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সব আন্তর্জাতিক আইন অবজ্ঞা করে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দুই সামরিক ক্ষমতাধর দেশের এই হামলার পেছনে একাধিক কারণের অন্যতম ছিল ইরানের গতিশীল ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে রাশ টেনে ধরা। পাশাপাশি, দেশটির পরমাণু কর্মসূচিও চিরতরে বন্ধ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু।

তবে ওই যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এসব লক্ষ্য পূরণের ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারেননি এই দুই নেতা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাণিজ্যে উল্টো যোগ হয়েছে বাড়তি খরচ।

গত ৬ সেপ্টেম্বর মোহসেন রেজাই ঘোষণা দেন, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি ‘সীমিত চলাচল’ এলাকা তৈরি করবে। এটি শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নৌ-অবরোধ এলাকা থেকে। সেখান থেকে এটি হরমুজ প্রণালী হয়ে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনেও বিষয়টি জানা গেছে। রেজাই জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হবে। তবে এই পরিকল্পনা নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের দাবি, হরমুজের পুরো অংশই এখন উন্মুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র এর নিরাপত্তা দিচ্ছে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিটি মাইনমুক্ত করেছে এবং আগামীতে সেখানে ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশের উদ্দেশে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বাড়বে।

ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশটির বন্দরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ৯৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তিনটি জাহাজ চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়েছে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পুরোপুরি হামলা চালাতে সক্ষম ইরান

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার ক্ষমতা তেহরানের নেই বলে ওয়াশিংটনের দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনে রেজা।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদারকারী যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা ইরানের নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের সেনা দল মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে পারবে কিনা জানতে চাওয়া হলে মজিদ ইবনে রেজা জোর দিয়ে বলেন, এই প্রযুক্তি ইরানের কাছে রয়েছে। এছাড়াও ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পুরোপুরি হামলা চালাতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আপনারা দেখতে পাবেন; আপনারা এর পরিণতি নিজেরাই দেখতে পাবেন।’ ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহারে হামলা চালাতে পারবে কি পারবে না।


যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করছে ইউক্রেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিপুল খরচ সামলাতে এবার ভিন্নধর্মী এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউক্রেন। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে এবং সেনাবাহিনীর রসদ জোগাতে পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন বিনোদন শিল্পকে বৈধ করে তার ওপর কর বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি বা শেয়ার করা সম্পূর্ণ বেআইনি, যার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইন্টারনেটে বিশাল এক অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ‘অনলিফ্যানস’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় তরুণ-তরুণী কনটেন্ট বানিয়ে বিপুল অর্থ আয় করছেন। হিসাব মতে, শুধু ২০২৩ সালেই প্রায় আট হাজার ইউক্রেনীয় এই মাধ্যম থেকে ১৩ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

এতদিন তারা গোপনে কাজ করলেও বিপত্তি বাধে যখন সরকারের আয়কর বিভাগ এদের কাছ থেকে কর আদায় শুরু করে। নিয়ম মেনে কর দিতে গেলে আবার উল্টো পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে অবৈধ পর্নোগ্রাফির মামলা ঠুকে দিচ্ছিল। এই অদ্ভুত সমস্যা কাটাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির প্রধান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক জানান, পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করে করের আওতায় আনা গেলে প্রতি বছর অন্তত ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার রাজস্ব আসবে। এই টাকা দিয়ে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এক বছরে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব হবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে এক জনপ্রিয় অনলিফ্যানস মডেল সভেতলানা দ্বোরনিকোভার বড় ভূমিকা রয়েছে। পুলিশি হয়রানির শিকার হয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার দাবিতে একটি আবেদন করেন। খুব দ্রুতই হাজার হাজার মানুষ সেই আবেদনে সই করলে প্রেসিডেন্ট বিষয়টি পার্লামেন্টে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

প্রস্তাবিত আইনটি ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—নিজেদের সম্মতিতে করা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে পুলিশের দুর্নীতি ও ব্ল্যাকমেইল বন্ধ হয় এবং সেই করের টাকায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা যায়।


লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। গতকাল সোমবার ভোরে একাধিক এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম।

নাবাতিয়েহ জেলার কাফর রেম্মানে মধ্যরাতের পর একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন।

একই এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতেও ইসরায়েলি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইসলামিক রিসালা স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্যারামেডিক নিহত হন। সংগঠনটি লেবাননে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকাজে যুক্ত একটি স্কাউট সংগঠন। এছাড়া নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও আরবসালিম এলাকাতেও একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়।

দেইর আল-জাহরানিতে রাতের দিকে একটি ভবন ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের ভবন থেকে অন্তত ৩০০ মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়। এর প্রায় ২২ মিনিট পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভবনটি ধ্বংস করে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ভবনটি হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনা ছিল। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন ইসরায়েলি সেনাদের দিকে পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন’ করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হিজবুল্লাহ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৪ হাজার ৩৬২ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েল ৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।


প্রলয়ঙ্করী বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১৩৪২, নেপালে আজ জাতীয় শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহ তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার নেপালজুড়ে জাতীয় শোক পালিত হচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও শিলা ধসের ফলে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আজ ১৩তম দিন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে মৃত্যুর ১৩তম রজনীকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ শোকের সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই উপলক্ষে নেপালের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ছুঁতে পারে, যদিও পুলিশি হিসাবে এই সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯২। নিয়মিত তালিকায় কাটছাঁট এবং শনাক্তকরণের ফলে নিখোঁজের সংখ্যায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোদমে চলছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের জীবন বাঁচাতে নেপালি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল নিরলস কাজ করছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি বিশেষ দল উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। দীর্ঘ ১০ দিন পর চীনা নাগরিক লু হাইতাওসহ বেশ কয়েকজনকে সুড়ঙ্গ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে, ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে তাঁর পরিবার মৃত ভেবে শোক পালন শুরু করলেও পরবর্তীতে তাঁকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বন্যার ভয়াবহতায় নেপালে প্রায় ৭ হাজার ৫৭০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সড়ক, দীর্ঘ সেতু এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে নেপাল সরকার।


ধ্বংসস্তূপ থেকে ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার, ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে মৃত ভেবে যাঁর পরিবার শোক পালন শুরু করেছিল, সেই বৃদ্ধাকে ১১ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামে ওই নারীকে বেত্রাওয়াতি এলাকায় তাঁর চারতলা ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করেন নেপালি পুলিশের একটি দল। বন্যার প্রলয়ে বাড়িটি প্রায় মাটির সাথে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের মাঝে বাতাসের একটি সরু প্রবাহ ও সামান্য ফাঁকা জায়গার কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল শনিবার নিয়মিত তল্লাশি চালানোর সময় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ স্বরে ‘বাঁচাও’ আর্তনাদ শুনতে পান। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে বৃদ্ধাকে বের করে আনা হয়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনীর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শ্রেষ্ঠার পরিবার ধরে নিয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই এবং তাঁরা ১১ দিনের আনুষ্ঠানিক শ্রাদ্ধ বা শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন মুহূর্তে তাঁর ফিরে আসা শোকাতুর পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে।

বেত্রাওয়াতি নেপালের বর্তমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি, যেখানে শত শত বাড়িঘর ও বাজার কাদা এবং ধ্বংসাবশেষে পুরোপুরি চাপা পড়ে গেছে। উদ্ধারকারীরা এখনো শিস বাজিয়ে বা শব্দ করে ধসে পড়া ভবনগুলোর ফাঁকফোকরে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছেন। এর আগে একই এলাকা থেকে বেশ কিছু পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

নেপালে সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন। দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ও টানেল থেকে একাধিক ব্যক্তির জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।


মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, ৫ জনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে বিধ্বস্ত হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফায়ার বিভাগের প্রধান রায়ে জাদাল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়া ৩২ বছরের পুরনো বোয়িং কার্গো উড়োজাহাজটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান শহর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে এসেছিল। অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি যানবাহনকে আঘাত করে এবং মুহূর্তেই এতে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ফায়ার সার্ভিসের ৬০টি ইউনিটের প্রায় ৬০০ জন উদ্ধারকর্মী একযোগে কাজ করেন।

দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের ৪টি রানওয়েতে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে সন্ধ্যার দিকে দুটি রানওয়ে পুনরায় সচল করা হয়েছে। আহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অগ্নিনির্বাপণের সময় উদ্ধারকর্মীরা উড়োজাহাজটির জ্বালানি ট্যাংকে ছিদ্র লক্ষ্য করেছেন, তবে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। সংস্থাটির চেয়ারপারসন জেনিফার হোমেন্ডিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তারা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ।


পাকিস্তানে সেনা অভিযানে নিহত ২০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে একাধিক সামরিক অভিযানে অন্তত ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। গত ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব অভিযান চালানো হয় বলে রোববার দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা (আইএসপিআর) জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদতপুষ্ট এবং তারা নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্য, যাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ আখ্যা দেওয়া হয়।

এর আগে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের রাতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ২৫ জনকে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরে একই এলাকায় আরও একটি দলের অনুপ্রবেশ রুখে দিয়ে সাতজনকে এবং কোহাট ও ডেরা ইসমাইল খানে পৃথক দুই যৌথ অভিযানে আরও চার সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।

ক্রমাগত আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের এসব ঘটনার জেরে আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে আফগান তালেবান সরকারের চরম ব্যর্থতা আরও একবার প্রমাণিত হলো। তারা কার্যকরভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমন চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

দেশটি থেকে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল করতে ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীর এই চিরুনি তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণগতিতে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।


ভারতে বিষাক্ত মদ পানে ১২ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদ পানে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দশজনেরও বেশি মানুষ। ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রামে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে এবং আগাম সতর্কতা হিসেবে স্থানীয় ছয়টি মদের দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন, এটি মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়া হতে পারে।

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করব এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের সরকার এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।’

ইতিমধ্যে প্রশাসনিক দল ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। অসুস্থদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীদের শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া এবং মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। এ ছাড়া বমি, তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরের মতো লক্ষণও দেখা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক দল ও চিকিৎসকেরা সাগর জেলার নৌরা ও ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সাগরের মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) দেবেশ পাতেরিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিক দল উপদ্রুত গ্রামগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। রোগীদের যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

দেবেশ আরও জানান, আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রাথমিক স্থিতিশীল করে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যারা মদ পান করেছেন বা যাদের মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, তাঁরা যেন অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন।

এ ট্র্যাজেডির পর এলাকায় অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি বন্ধে স্থানীয় আবগারি বিভাগের নজরদারি ও ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেই একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ ব্যবসায়ী ‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে একটি কৃত্রিম ও ভেজাল মদের ব্র্যান্ড বিক্রির বিষয়ে আবগারি বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাত্র চার দিন আগে লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে আবগারি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকেও অবৈধ মদ বিক্রির বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়েছিল।

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মদের উৎস, সরবরাহকারী এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল খতিয়ে দেখতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।


ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

মাসুদ পেজেশকিয়ান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও দেশের সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট জানান, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির সব চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে গত মাসে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে। ওয়াশিংটন এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বর্ণনা করেছে। লক্ষ্য হলো ইরান সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) টিকিয়ে রাখার অর্থনৈতিক উৎসগুলো বন্ধ করে দেওয়া।

তবে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন, এসব চাপের কারণে সরকার কোনো নীতি পরিবর্তন করবে না। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

গত শুক্রবার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধ, অবরোধ আর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শত্রুরা দেশের ভেতরে বিভেদ, ফাটল ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। তার বক্তব্যে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিক্ষোভের কথাও উঠে এসেছে। সে সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মানুষ এখন এমনিতেই চাপে আছে। আমি যদি তাদের ওপর আরও চাপ দিই, তাহলে তারা হয়তো সীমা অতিক্রম করে ফেলবে।

তবে তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্ধারিত তিন স্তরের পেট্রল কোটার মধ্যে একটি স্তরের দাম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিগুণ করা হবে। একইসঙ্গে মাসিক পেট্রোল কোটাও কমানো হবে।

ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট চলছে। ব্যাপক জ্বালানি পাচার, তেল-গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও অবহেলা এবং ব্যয়বহুল কিন্তু নিম্নমানের ও বেশি জ্বালানি খরচ করা যানবাহনকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পেট্রলের দাম আরও বাড়লে পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহের খরচ বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতিতেও, যা ইতোমধ্যেই ইরানের প্রায় সব পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। শনিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে তেহরানের বাজার খুলতেই ইরানি রিয়ালের মান ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার রিয়ালে।


পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিয়েভের পথে উইটকফ-কুশনার

পুতিনের সঙ্গে উইটকফ এবং কুশনারের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তির পথ খুঁজতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। শনিবারের এ বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। তবে আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মস্কোর বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হন উইটকফ ও কুশনার। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, মস্কোর মতো কিয়েভেও আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে।

ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বেশ কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি জানাননি। উশাকভ বলেন, পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ অর্জন করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য পূরণে তারা আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে সংঘাতের ‘সব মূল কারণ’ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই মস্কো যুদ্ধের মূল কারণগুলো সমাধানের কথা বলে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই দূরপাল্লার বিমান হামলা জোরদার করেছে। তবে সম্মুখসারির অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৈঠকটি ছিল ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

উশাকভ বলেন, বৈঠকে শুধু ইউক্রেন সংকট সমাধান নিয়ে মতবিনিময় হয়নি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বড় প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈঠকটি ছিল সময়োপযোগী এবং উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, বৈঠকটি ছিল ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর’। বৈঠকে দিমিত্রিয়েভ ও উশাকভ উভয়েই উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছেন পুতিন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেও ট্রাম্প সমঝোতা অর্জন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে অবদান রাখার চেষ্টা থেকে বিরত হননি।

শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতদের সফরকে কেন্দ্র করে পুতিন রুশ বাহিনীকে তিন দিন কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। গত ১০ দিন ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দিন-রাত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়াতে ইউক্রেন গ্রীষ্মজুড়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত মস্কোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

ট্রাম্পের দূতদের সফরের খবর প্রকাশের আগেই ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, পুতিন আরও ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রয়টার্সকে ওই ব্যক্তি বলেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত সম্মুখরেখা নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ওই সূত্র আরও জানান, কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রগতির কারণে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা এমন সম্ভাবনাকে ক্ষীণ বলে মনে করেন।

ইউক্রেনও বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে রক্ষা করা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিয়েভ এ ধরনের শর্তকে আত্মসমর্পণের শামিল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছে, দুই বছর আগে এক ভাষণে পুতিন যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, তা এখনো ‘অটল’ রয়েছে। ওই অবস্থানের মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।


banner close