পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জামিন পেয়েছেন। ১৪ মামলায় তাকে জামিন দিয়েছে ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আদালত (এটিসি)।
শনিবার ইসলামাবাদ এটিসির বিচারক মালিক ইজাজ আসিফ এই রায় দেন।
ইমরান খানের পাশাপাশি জামিন দেয়া হয়েছে তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) নেতা শাহ মেহমুদ কুরেশিকে। ১৩ মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি।
গত ৯ মে দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলো থেকে তারা জামিন পেয়েছেন। কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে ওই দিন আদালত চত্বরে ইমরান খান গ্রেপ্তার হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তেহরিক-ই ইনসাফের নেতা-কর্মীরা।
পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নির্বাচন হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি। অ্যাসেম্বলিতে মোট আসন ২৬৬টি। আসনগুলোর মধ্য থেকে একটি বাদে বাকি আসনগুলোর সবগুলোতে নির্বাচন আনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও প্রশাসন তদারকের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি পরিষদ গঠন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মেক্সিকোকেও এই পরিষদের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
তবে তার সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করেছে মেক্সিকো। কারণ, দেশটির সরকার মনে করে— এই পরিষদে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই স্বল্প।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মেক্সিকো যেহেতু ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাই স্বভাবিক কারণেই আমরা মনে করি যে বোর্ড অব পিসে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন— উভয়েরই সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কিন্তু এক্ষেত্রে এমন হয়নি।’
‘এ কারণে আমরা বোর্ড অব পিসের পূর্ণ সদস্যপদের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে মেক্সিকো পরিদর্শক হিসেবে এই পরিষদে থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জাতিসংঘে মেক্সিকোর দূত এই পরিষদে পরিদর্শক হিসেবে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি পরিকল্পনা পেশ করেন ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয় সেই পরিকল্পনা।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে যে যুদ্ধবিরতির পর গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করা হবে, যার নাম হবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)।
আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি আন্তঃদেশীয় পরিষদ গঠন করা হবে এবং গাজার টেকনোক্র্যাট সরকার ও আইএসএফ ‘বোর্ড অব পিস’-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বোর্ড অব পিস গঠন করেন ট্রাম্প এবং বিভিন্ন দেশকে বোর্ড অব পিসে সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই সঙ্গে বোর্ড অব পিসের প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের জন্য ১০০ কোটি ডলার করে চাঁদা নির্ধারণ করেন তিনি। গাজার পুনর্গঠন খাতে ব্যয় হবে এই অর্থ।
পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্যপদ নিয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এ বোর্ডের প্রথম বৈঠকও হয়েছে।
ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলো দেশে বুধবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। তাই রমজানের প্রথম তারাবিহ নামাজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আদায় করেছে এসব দেশের মানুষ। তাই প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করতে ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছিলেন হাজারো ফিলিস্তিনি।
তবে, নানা অজুহাতে বিধি-নিষেধ আরোপের পাশাপাশি তরুণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়। এছাড়া নামাজ আদায়ের সময় ইসরায়েলি পুলিশ পুরো মসজিদ ঘিরে রাখে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নামাজের সময় মসজিদের প্রার্থনালয় এবং খোলা প্রাঙ্গণগুলো পূর্ণ ছিলক। আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনে নামাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনলাইনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরায়েলি পুলিশ প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা তদারকি করছে।
এর আগে, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হুসাইন ঘোষণা করেন, বুধবার রমজানের প্রথম দিন। তিনি বলেন, রমজানের চাঁদ ইসলামী বিধি অনুসারে দেখা গেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ ইসলামী হিজরি ১৪৪৭ সালের রমজানের প্রথম দিন।
নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে, বিশেষ করে প্রাচীন শহর ও আল-আকসা কমপ্লেক্সের আশেপাশে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কড়া পাহারায় ছিল। এতে আটক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।
ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, রমজানের আগে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে যা উপাসনাস্থলে প্রবেশকে প্রভাবিত করেছে।
জেরুজালেম গভর্নরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আল-আকসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ২৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে ইসরায়েলি পুলিশ আল-আকসার ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করেছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এক সপ্তাহের জন্য মসজিদে তার প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে কার্যক্রম জোরদার করেছে। মার্কিন সমর্থনে গাজায় নৃশংস হামলা চালিয়ে দুই বছরের যুদ্ধে ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১,০০০ আহত হন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এছাড়া ৯০ শতাংশ গাজাবাসীর বসবাসের অবকাঠামো ধ্বংস হয়। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল এখনো বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল ইসরায়েল
রমজানের আগে দখলকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করল ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকেই আল-আব্বাসিকে আটক করেছে। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
ওয়াফা আরও জানায়, এই গ্রেপ্তার এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইসরায়েল আল-আকসা মসজিদ কেন্দ্র করে নানা সীমাবদ্ধতা জোরদার করেছে। ইমাম, খতিব ও মসজিদে অবস্থান নেওয়া মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ, প্রবেশে বাধা ও বসতি স্থাপনকারীদের বাড়তি আগ্রাসী অনুপ্রবেশ- সবই ইসরায়েলি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার সহায়তায় ঘটছে।
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শেখ আল-আব্বাসিকে এক সপ্তাহের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা পরে আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানানো হয়।
আব্বাসি বলেন, তাকে কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বছরখানেক আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ও সম্প্রতি আবার দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
এদিকে, রমজানের নামাজ কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের প্রস্তুতি জোরদার হওয়ায় ইসরায়েলের এই বিধিনিষেধ আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ সময় ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানটিতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি মুসল্লি একত্রিত হন।
‘ফ্যাসিবাদী দখলদার বাহিনী’
মঙ্গলবার হামাস শেখ আল-আব্বাসির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায়। তারা বলে, আল-আকসা মসজিদ ঘিরে ইসরায়েলি বাহিনীর যে আচরণ করছে, প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ও ইমামদের ওপর সরাসরি আক্রমণ।
হামাস আরও অভিযোগ করে, আল-আকসা মসজিদ ঘিরে ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলো পবিত্র স্থানের মর্যাদার ওপর ক্রমবর্ধমান লঙ্ঘনের সমান। মুসল্লিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, রমজানের প্রস্তুতি ব্যাহত করা ও বসতি স্থাপনকারীদের বাড়তি অনুপ্রবেশ, সবই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে হচ্ছে।
হামাস ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপকে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ও ‘ইহুদিীকরণের’ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে। ফিলিস্তিনি এই সংগঠনটির দাবি, দখলদারদের লক্ষ্য হলো, মুসল্লিদের স্বাধীনতা সীমিত করা ও বিভাজন চাপিয়ে দেওয়া।
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম; বিশেষ করে, পুরোনো শহর ও আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন এলাকা সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও গ্রেপ্তার করা।
‘ইয়েলো লাইন’ থেকে সরবে না ইসরায়েল
ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানো ইসরায়েল গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে এক মিলিমিটারও সরবে না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এমন মন্তব্য করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, হামাসকে নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে তারা এক মিলিমিটারও সরে যাবে না। ইয়েলো লাইন মূলত প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী যে সীমানা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল সে সীমানাকে নির্দেশ করে।
কাৎজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা কখনোই হামাসকে অস্ত্র ও সুড়ঙ্গসহ এখানে থাকতে দেব না। তিনি আরও যোগ করেন, হামাসকে অস্ত্র, সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য সবকিছুর থেকে নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত আমরা ইয়েলো লাইন থেকে এক মিলিমিটারও সরে যাব না।
বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, যেখানে বাংলাদেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করা হলেও তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, ওদের (ভারতের কমিশনের) শেখা উচিত। গত কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে নির্বাচন হলো। সবাই ভেবেছিলেন সহিংসতা হবে, কিন্তু দেখুন ওরা কত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভোট করেছে। আর ভারতে যা হচ্ছে তা লজ্জাজনক। নির্বাচন কমিশন এখন ‘তুঘলকি কমিশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বলেন, গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। রাজতন্ত্র বা তুঘলকি আমলেও এমনটা দেখা যায়নি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে লাখ-লাখ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক যোগ্য ভোটারও আছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেও অনেকের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে। এটা ‘জোচ্চুরি’। বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই ভোটার তালিকায় এই কারচুপি করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোট ৭৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি অনেকের মধ্যে আশংকা থাকলেও, বাস্তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে মানবিক বিপর্যয়ের আরেক প্রতিচ্ছবি। দুই বছর ধরে দখলদার ইসরায়েলের অবিরত হামলায় উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অসংখ্য ভবন আজও নৃশংসতার নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। সেই ধ্বংসস্তূপ ও চরম খাদ্য সংকটের মাঝেই পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানালেন গাজার নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। স্বজন হারানোর বেদনা ও শত কষ্ট ও দুর্দশা ভুলে রমজান উপলক্ষে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে চলছে সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন আয়োজন।
মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী ক্যাম্পের একটি ছোট তাঁবুতে পরিবার নিয়ে বাস করেন মাইসুন আল-বারবারাউই নামে এক ফিলিস্তিনি নারী। তিনি জানান, পবিত্র মাসের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পের বাসিন্দারা কাপড়ের তৈরি তাঁবুগুলোতে সাধারণ সাজসজ্জর ব্যবস্থা করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি তার নয় বছর বয়সী ছেলে হাসানকে একটি ছোট লণ্ঠন কিনে দিয়েছেন।
মাইসুন বলেন, ‘আমার সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাচ্চারা যেন খুশি থাকে... আমি চেয়েছিলাম এই সাজসজ্জাগুলো যুদ্ধের সময় গত দুই বছর ধরে আমাদের সাথে থাকা শোক ও বিষণ্ণতার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার একটি উপায় হোক’।
৫২ বছর বয়সি এবং দুই সন্তানের মা মাইসুনকে সবাই উম্মে মোহাম্মদ নামে চেনে- আল জাজিরাকে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বড় ছেলের বয়স ১৫ বছর, আর ছোট ছেলের বয়স নয় বছর। ওরা আমার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস। গত রমজানে একই সাথে দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধ ছিল। আগের দুর্ভিক্ষের সময় আমি আমার সমস্ত টাকা খরচ করে ফেলেছিলাম। সেই সময় আমার ছোট ছেলে খাবারের জন্য আকুল হয়ে মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করত। কল্পনা করতে পারো?’
আলজাজিরা জানায়, গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের জন্যও এবারের রমজান মাস গত দুই বছরের চেয়ে একটু আলাদা। গত ১০ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধবিরতির কারণে উপত্যাকাটি তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে।
আগের দুই বছরের রমজানে চরম পরিস্থিতি ও দুর্দশার কথা স্বরণ করে মাইসুন বলেন, ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত নয়, সবাই জানে যুদ্ধ সত্যিই থামেনি; এখনো মাঝে মাঝে গোলাগুলি চলছে। কিন্তু গত দুই বছরের যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় পরিস্থিতি সহনীয়।
রমজানের প্রথম দিনে মাগরিবের আযানের আগে শরণার্থী ক্যাম্পের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে ইফতারের জন্য রুটি তৈরিতে সাহায্য করার সময় আল জাজিরাকে মাইসুন বলেন, ‘এটা আমাদের তৃতীয় রমজান, যা বাস্তুচ্যুতির মধ্যে কাটিয়েছি। আমরা আমাদের ঘরবাড়ি, পরিবার এবং অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছি। কিন্তু এখানে ক্যাম্পে, আমাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধুবান্ধব আছে যারা একই রকম যন্ত্রণা ও কষ্ট ভাগ করে নেয় এবং আমরা সবাই সামাজিকভাবে একে অপরকে সমর্থন করতে চাই।’
আক্ষেপ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শূন্য থেকে জীবন এবং আনন্দ তৈরি করার চেষ্টা করছি। রমজানও ঈদ আসে এবং যায়, কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি একই থাকে।’
রমজানের প্রথম দিনে, তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি যে তিনি তার পরিবারের জন্য কী রান্না করবেন, কারণ সীমিত সামর্থ্যের কারণে সামান্য ও সাধারণ খাবারই খেতে পারে তার পরিবার।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী–এর একটি অংশ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামরিক মহড়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনায় বসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর জ্বালানি বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এই প্রণালী। ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট ক্রুডের প্রায় ৩১ শতাংশ। এ কারণে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল চোক পয়েন্ট’গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর এই প্রথম প্রণালীর কোনো অংশ বন্ধ করল ইরান।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ’ নামের মহড়ার অংশ হিসেবে সাময়িক এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য অপারেশনাল প্রস্তুতি বাড়ানো ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা। মহড়ার সময় গোলাবর্ষণের একটি এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রণালীতে প্রবেশপথের নৌচলাচলের রুটের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে গেছে। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গাইডিং প্রিন্সিপলস’ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে দ্রুত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই; এখনো অনেক কাজ বাকি।
এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকায় জ্বালানি বাজারের নজর ছিল এই আলোচনার ফলাফলের দিকে। শুরুতে দাম বাড়লেও পরে তা কমে যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৭.৪৮ ডলারে নেমে আসে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ০.৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬২.৬৫ ডলারে।
বিশ্ব জাহাজ মালিকদের সংগঠন বিমকোর নিরাপত্তা প্রধান জ্যাকব লারসেনের মতে, এই সাময়িক নিয়ন্ত্রণ বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি করবে না; তবে পারস্য উপসাগরমুখী জাহাজ চলাচলে কিছুটা বিলম্ব ও সামান্য অসুবিধা হতে পারে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের নির্দেশনা মেনে চলবে বলেও তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্বাচন থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অনেক কিছু শেখার আছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, প্রতিবেশী দেশে রক্তপাতহীন এবং সুশৃঙ্খল একটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে একটি বড় গণতান্ত্রিক উৎসবকে বিতর্কহীন রাখা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে অনেকের মনেই নানা আশঙ্কা ও উদ্বেগ ছিল। ধারণা করা হয়েছিল যে সেখানে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা হতে পারে। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দেশটিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও যদি নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো দুর্বলতা বা পক্ষপাত থাকে, তবে তা কমিশনের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন কমিশনের উচিত বাংলাদেশের পদ্ধতি ও সক্ষমতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
ভারতের নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘তুঘলকি কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে এবং দেশে ‘হুমকির রাজনীতি’ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অনেক কমিশন দেখেছেন, কিন্তু বর্তমান কমিশনের মতো এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আগে কখনো দেখেননি। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে রাজতন্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরও চারটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কমিশন এখন কেবল নির্দেশ দেওয়ার সংস্থায় পরিণত হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কমিশনের অযাচিত হস্তক্ষেপ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য এক বড় হুমকি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি একটি প্রতিবেশী দেশ নজিরবিহীন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সফলভাবে ভোট করতে পারে, তবে ভারতের মতো অভিজ্ঞ রাষ্ট্রে কেন বারংবার বিতর্ক তৈরি হবে? তিনি মনে করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভয়মুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করাই কমিশনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত, যা বর্তমানে ভারতে অনুপস্থিত। মমতার এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন দেশটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়েছে। মূলত প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি দিল্লির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যখন জেনেভায় ওমানি দূতের বাসভবনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরোক্ষ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ইরানের এই আকস্মিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছে। ১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক এই জলপথটি বন্ধ করার ঘোষণা দিল, যাকে সামরিক বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটনের প্রতি এক চরম শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে আয়োজিত এক বিশেষ সামরিক মহড়া ও নৌ-নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য এই প্রণালিটি সাধারণ চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়। মহড়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ভূমি থেকে সাগরে নিক্ষেপণযোগ্য তাজা ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘লাইভ মিসাইল’ ছুড়ে তাদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই সিদ্ধান্তের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। যদিও পরবর্তীতে আলোচনার খবর আসার পর দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এক বক্তৃতায় বলেছেন, "বিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী সেনাবাহিনীও মাঝে মাঝে এমন চড় খেতে পারে যে তারা আর সহজে উঠে দাঁড়াতে পারবে না।" মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন যে, বিশাল সব যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বড় বিপদ হলো সেই আধুনিক অস্ত্র যা মুহূর্তেই জাহাজকে সাগরের অতলে ডুবিয়ে দিতে পারে। খামেনির এই মন্তব্য মূলত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের বিপরীতে ইরানের আত্মরক্ষার সক্ষমতাকে ইঙ্গিত করছে।
তবে সামরিক এই মারমুখী অবস্থানের সমান্তরালে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। জেনেভায় আয়োজিত জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর জন্য একটি ‘নতুন জানালা’ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই ইরান এই দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আলোচনার বিষয়ে এখনো গোপনীয়তা বজায় রাখলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, আলোচনা কিছু ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু সুনির্দিষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা ইরান এখনো মেনে নিতে দ্বিধাগ্রস্ত। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের নির্দেশে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যে বিস্তারিত প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা এই দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনে কতটা জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে বিষাক্ত ডার্ট ফ্রগের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।
তবে নাভালনির হত্যাকাণ্ডের জন্য পুতিন প্রশাসনকে দায়ী করা হলেও পশ্চিমা বিশ্বের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত নাভালনির মৃত্যু হয় দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায়। তখন তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর।
রুশ সরকারের দাবি, তিনি ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ করে মারা গেছেন’। কিন্তু তার শরীরে পাওয়া উপাদানের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা জানিয়েছে, নাভালনির শরীরে ডার্ট ফ্রগের এপিবাটিডিন বিষ পাওয়া গেছে।
‘রাশিয়ার কারাগারে নাভালনি বন্দি থাকা অবস্থায় এই বিষ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেবল রুশ সরকারেরই সক্ষমতা, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ ছিল,’ জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
যদিও যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে রাশিয়া। বিষয়টি ‘ইনফরমেশন ক্যাম্পেইন বা প্রচারণা’ বলে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা তাসে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার বলেছেন, পুতিন প্রশাসন অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ‘হুমকি হিসেবে দেখতো’। কাজেই তাদের হস্তক্ষেপ ব্যতিত নাভালনির শরীরে এপিবাটিডিন বিষ যাওয়ার অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই।
নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া বার বার দাবি করে আসছিলেন, তার স্বামীকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে রাশিয়া। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মি. নাভালনির বিধবা স্ত্রী নাভালনায়ার সঙ্গে দেখা করেন।
তিনি বলেন, এপিবাটিডিনের মতো একটি প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহার করার মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতি পুতিন সরকারের যে প্রবল ভয় রয়েছে, সেটি আবার স্পষ্ট হয়েছে।
বিরোধী মত দমনে রুশ সরকার যে নানা রকমের ‘ঘৃণ্য হাতিয়ার’ ব্যবহার করছে, সেই বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে মন্তব্য করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ক্রেমলিনকে দায়ী করে যৌথ বিবৃতি
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ডার্ট ফ্রগ হলো এক ধরনের ছোট আকারের, উজ্জ্বল রঙের ব্যাঙ যা মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে পাওয়া যায়।
এদের শরীরের ত্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ থাকে। আদিম যুগে শিকারিরা এই বিষ তীরের অগ্রভাগে ব্যবহার করে শিকার করতো বলে জানা যায়। নাভালনির শরীরে এপিবাটিডিন বিষ পাওয়া গেছে, যা প্রাণঘাতী ডার্ট ফ্রগ থেকে পাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ।
এই বিষ ‘মরফিনের চেয়েও দুইশ’ গুণ বেশি শক্তিশালী’ বলে বিবিসি রাশিয়াকে জানিয়েছেন বিষবিদ্যা বিশেষজ্ঞ জিল জনসন।
বিষ প্রয়োগে অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যু নিয়ে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে।
‘সাইবেরিয়ার একটি জেল কলোনিতে বন্দি থাকার সময় নাভালনির ওপর মারাত্মক ওই বিষ প্রয়োগ করার সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ ছিল কেবল রুশ সরকারেরই কাছেই ছিল এবং আমরা তার মৃত্যুর জন্য রাশিয়াকে দায়ী মনে করি’, বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
‘দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চলে ডার্ট ব্যাঙের শরীরে এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। বন্দি অবস্থায় ডার্ট ব্যাঙ এই বিষ উৎপাদন করে না এবং রাশিয়ায় সেটি প্রাকৃতিকভাবেও পাওয়া যায় না। কাজেই নাভালনির শরীরে এর উপস্থিতির কোনো নির্দোষ ব্যাখ্যা নেই,’ যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থাকে রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই অবহিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।
গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করায় নাভালনির প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি ‘অত্যন্ত সাহসী ছিলেন’ উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যের এই নেতা বলেন, ‘সত্য প্রকাশে তার এই দৃঢ় সংকল্পের কথা আগামীতেও সবাই মনে রাখবে।’
‘রাশিয়ার হুমকি ও পুতিনের খুনি উদ্দেশ্য থেকে আমাদের জনগণ, মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রাকে রক্ষা করার জন্য আমি যা যা করা দরকার, সেগুলোই আমি করছি,’ বলেন কিয়ার স্টারমার।
কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে দেশটির সরকার ও তার পরিবারের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে বলে সরকারি মেডিকেল বোর্ড যে দাবি করেছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তার বোন আলিমা খান। মঙ্গলবার (ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
গত সপ্তাহে আদালতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইমরান খান তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই সদস্যের একটি সরকারি মেডিকেল বোর্ড রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। বোর্ডের রিপোর্টে দাবি করা হয়, চিকিৎসার ফলে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৩৬ থেকে উন্নত হয়ে এখন ৬/৯ এ দাঁড়িয়েছে (অর্থাৎ সাধারণ মানুষ ৯ মিটার দূর থেকে যা দেখে, তিনি তা ৬ মিটার দূর থেকে দেখতে পাচ্ছেন)।
ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. আসিম ইউসুফ জানিয়েছেন, সরকারি চিকিৎসকরা তাকে উন্নতির কথা বললেও তিনি নিজে ইমরান খানকে দেখার সুযোগ না পাওয়ায় এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
ইমরান খানের পরিবার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই মেডিকেল রিপোর্টের ওপর আস্থা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। আলিমা খান অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক বা পরিবারের কোনো প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, এটি কেবল অবহেলা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ। পরিবারের পক্ষ থেকে ইমরান খানকে অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে পিটিআই নেতারা অভিযোগ করেছেন যে সরকার ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে লুকোচুরি করছে। দলের সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা জানান, চিকিৎসকরা দাবি করেছেন ইমরান এখন দেয়ালের ঘড়ি দেখতে পাচ্ছেন, যা আগে পারতেন না।
কিন্তু আলিমা খান পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পরিস্থিতি সত্যিই ভালো হয় তবে কেন পরিবার ও ব্যক্তিগত ডাক্তারকে তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না? অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার দাবি করেছেন, যথাযথ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
এই চিকিৎসা সংক্রান্ত অচলাবস্থার মধ্যেই পিটিআই সমর্থকরা পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। আলিমা খান জানিয়েছেন, তিনি আজ আদিয়ালা কারাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, লন্ডনে অবস্থানরত ইমরান খানের দুই ছেলের ভিসার আবেদনও ঝুলে আছে, যা তাদের বাবার সঙ্গে দেখা করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরমাণু ইস্যুতে সুইজারল্যান্ডে ফের দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এরই মধ্যে এতে যোগ দিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় প্রথম দফার বৈঠকে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। তবে এবার ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তির জন্য বাস্তব প্রস্তাব নিয়ে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জান গেছে, এই বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকবেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আছে, তবে চুক্তি করা কঠিন হবে। এরপরও আমরা আশা করি, ইরান একটি যৌক্তিক সমাধানে রাজি হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জানান, জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তিনি ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। ট্রাম্পের বিশ্বাস, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়।
বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে কোনো সমঝোতা হবে না। তাদের দাবি, সমঝোতা হলে তা হতে হবে দেওয়া-নেওয়ার ভিত্তিতে। শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি তারা মানবে না।
এদিকে গত সোমবার আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে দেখা করেন আরাঘচি। এ সময়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার চায় আইএইএ।
যদিও তেহরান জানায়, বিকিরণের ঝুঁকি থাকায় নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে পরিদর্শন করতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন কিছুটা বাস্তবধর্মী হয়েছে। তবে আইএইএ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার নিন্দা না করায় তেহরান অসন্তোষ জানিয়েছে।
এদিকে ওমান উপকূলে অবস্থান করছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড নামে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই পরিপ্রেক্ষিতে ইরান সতর্ক করে বলেছে, হুমকি এলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌমহড়া ইরানের
গত সোমবার পারস্য উপসাগরে ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ’ নামে এই নৌমহড়া শুরু হয়েছে বলে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সোমবার কমান্ডার ইন চিফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের তত্ত্বাবধানে নৌবাহিনী এসব নিবিড় মহড়া পরিচালনা করছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় পরিসরে নৌবাহিনী মোতায়েন করার পরই এই মহড়া শুরু হলো।
গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের প্রতিনিধির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি ওই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব এবং সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহযোগিতা করবে তালেবান
ইরানে হামলা চালানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও একটি নৌবহর পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরানকে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান।
এর আগে মার্কিন হামলার হুমকির মুখে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়ারা। তবে সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত ইরাকসহ অন্য কোনো দেশ সম্ভাব্য যুদ্ধে তেহরানের পক্ষাবলম্বনের বিষয়ে কিছুই জানায়নি। যদিও সবাই যুদ্ধের বিরোধীতা করে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।
আফগানিস্তান সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হলেও শিয়া মুসলিমদের শাসিত ইরানকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গত রোববার রেডিও ইরানের পশতু ভাষা বিভাগকে জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটলে তালেবান যোদ্ধারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে।
জাবিহুল্লাহ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরান অনুরোধ করলে আফগানিস্তানের জনগণ সহানুভূতি দেখাবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা করবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এর অর্থ এই নয় যে সুন্নি এই গোষ্ঠীটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।
পাশাপাশি, তালেবানের পক্ষ থেকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে, তারা আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কোনো সংঘাত চায় না। তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধানে যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং নিরবচ্ছিন্ন আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দেয়।
ইরানিদের যুদ্ধজয়ের কথা উল্লেখ করে জাবিহুল্লাহ বলেন, ‘গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান জয়ী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আক্রমণ করলে ইরানিরা আবারও জিতবে।’
তিনি বলেন, ‘ইরান আবারও জিততে সক্ষম হবে, কারণ দেশটির সেই সামর্থ্য আছে, তারা ন্যায়ের পথে আছে এবং নিজেদের রক্ষা করার অধিকার তাদের আছে।’
গত জুনে ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা করেছিল তখন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, সামরিক নেতৃত্ব ও অন্যান্য কৌশলগত অবস্থানে আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল তালেবান।
ভারতে শুরু হয়েছে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। এই সম্মেলনের অফিসিয়াল ‘গ্লোবাল ভিশনারিজ’ তালিকা থেকে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ওঠা বিতর্কের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডিজিটাল ভারত ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শুরু হয় এআই সামিট।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। প্রথমে গ্লোবাল ভিশনারিজ তালিকায় বিল গেটসের নাম ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং গুগলের সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সামিটে যোগ দিতে বিল গেটস ভারতে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অন্ধ্র প্রদেশের অমরাবতীতে গন্নাভরম বিমানবন্দরে বিল গেটসকে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী নারা লোকেশ ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা।
এক্সে এক পোস্টে নারা লোকেশ লেখেন, ‘মিস্টার বিল গেটসকে অমরাবতীতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। আজ (মঙ্গলবার) গেটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারকে গন্নাভরম বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো আমাদের জন্য সম্মানের।’
তবে বিল গেটসের এই সফর ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী কংগ্রেস দল অন্ধ্র প্রদেশের সরকারকে গেটসকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সমালোচনা করে।
কংগ্রেস নেতা অনুপ ধোটে বলেন, ‘এপস্টেইন ফাইলে তার নাম একাধিকবার এসেছে, এমনকি ছবিও রয়েছে। এসব জানার পর কারওই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা উচিত নয়।’
অন্যদিকে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং যৌন কেলেঙ্কারির সকল ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিল গেটস। তিনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ৬০ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজায় নতুন করে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুচস জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন।
তেল আবিবের এই শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, হামাসকে ৬০ দিনের মধ্যে সব অস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ সমর্পণ করতে হবে। মার্কিন প্রশাসন এই সময়সীমার জন্য অনুরোধ করেছিল বলেও জানান তিনি তারা। আর এর ফল না হলে নতুন করে আইডিএফ সামরিক অভিযানে নামবে বলে হুমকি দিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, হামাসের যোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। পাল্টা হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল সীমান্ত পয়েন্টে বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দিচ্ছে না। রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মাত্র ৮১১ জন পার হয়েছে। যা প্রত্যাশিত ২,৮০০ জনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ।
আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি হলেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকায় এখনও পুরোপুরি থামেনি ইসরায়েলি বর্বরতা। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে নেতানিয়াহু বাহিনী। এতে হতাহতও হচ্ছেন অনেকে।
এদিকে গাজার সব ধ্বংসস্তুপ পরিস্কার করতে বছর পেরিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচী ইউএনডিপি। স্থানীয় সময় সোমবার গাজা সিটি পরিদর্শনে গিয়ে একথা জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রতিনিধিদল। এমনকি তারা কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের জন্য বহু বাসিন্দাকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে বলেও জানান তারা।
অস্ত্র সমর্পণের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান হামাসের
৬০ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ইসরায়েলি সরকারের দেয়া আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। বিষয়টি জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
হামাসকে ৬০ দিনের মধ্যে সব ধরনের অস্ত্র—এমনকি একে-৪৭ রাইফেলও—সমর্পণ করতে হবে। এ সময়সীমা নির্ধারণে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধ ছিল। অন্যথায় ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ) পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে বলে সতর্ক করেন।
তবে হামাস এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাবি বলেন, এ ধরনের দাবির বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ধারণা নেই। ‘নেতানিয়াহু ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেয়া এসব বক্তব্য কেবল হুমকি; চলমান আলোচনায় এর কোনো ভিত্তি নেই।’ নতুন করে যুদ্ধ শুরুর যেকোনো হুমকি ‘এ অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা কখনও আত্মসমর্পণ করবে না।’
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে গাজায় ইসরায়েলি দখল অব্যাহত থাকলে অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হামাস।
চলতি মাসের শুরুতে গাজার বাইরে অবস্থানরত হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালও ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর অস্ত্র জমা দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, কোনো দখলকৃত জাতির কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিলে তারা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সহজেই দমন বা ধ্বংস করা যায়।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া ফের ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে। সোমবার প্রদেশটির পৃথক দুটি স্থানে শক্তিশালী বোমা হামলা এবং পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং এক শিশুসহ তিন জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় হামলাটি পরিচালিত হয় বাজাউর জেলায়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি তল্লাশি চৌকি লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ভর্তি একটি দ্রুতগামী যান দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। বিস্ফোরকবাহী গাড়িটি একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তল্লাশি চৌকির মধ্যবর্তী দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দিলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং এক কন্যাশিশু নিহত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নিকটস্থ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর মধ্যে একটি ভবন ধসে পড়লে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। এই হামলায় আরও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পৃথক আরেক ঘটনায় বান্নু শহরের মিরইয়ান পুলিশ স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রিকশায় পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এই হামলায় দুই জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ১৭ জন আহত হন। এছাড়া খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে জঙ্গিদের বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে, যাতে আরও তিন জন সৈন্য শাহাদাত বরণ করেন। সব মিলিয়ে এই হামলায় এখন পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এই হামলাগুলোকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে ‘ভারতীয় মদতপুষ্ট’ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জড়িত। আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে, যারা প্রায়ই সরকারি স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকার অস্থিতিশীলতা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।