সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই
আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলায় ক্ষমা চেয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন। তার যুক্তি চলমান ফৌজদারি মামলায় সরকার চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই ইসরায়েলের স্বার্থে ক্ষমা করা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে।

দুর্নীতি, প্রতারণা ও আস্থাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু সবসময়ই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে তার আইনজীবীরা বলেন, তারা বিশ্বাস করেন আদালতের প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ খালাস পাবেন।

লিকুদ পার্টি প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, আজ আমার আইনজীবীরা প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমার আবেদন পাঠিয়েছেন। দেশের ভালোর জন্য যে কেউ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন বলে আশা করি।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্‌জগের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এটি একটি অসাধারণ আবেদন। সব মতামত পর্যালোচনা করে প্রেসিডেন্ট দায়িত্বশীলভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় এখনো দেওয়া হয়নি। সাধারণত আদালত রায় দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু নেতানিয়াহু রায় ঘোষণার আগেই ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারবেন। যদিও এটি খুবই বিরল ঘটনার একটি হবে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তিনটি আলাদা মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলা হয়েছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে। প্রত্যেক মামলায় জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিচার ২০২০ সালে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এটি এখনো শেষ হয়নি।

এর আগে চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হার্‌জগকে চিঠি লিখে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা দেওয়ার আহ্বান জানান। চলমান আদালত প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।


‘ডেথ সেলে’ ইমরান খানের নিঃসঙ্গ বন্দিজীবন

ইমরান খান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কারাগারের একটি ‘ডেথ সেল’-এ নিঃসঙ্গ বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এমন অভিযোগ করেছেন তার ছেলে কাসিম খান। তিনি জানান, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে ইমরান খানের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তার জীবিত থাকারও কোনো প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না।

লন্ডনে বসবাসরত কাসিম বলেন, তার বাবা দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধকার, জানালাবিহীন ও সীমিত বায়ু চলাচল করা কক্ষে বন্দি। সেখানে ফোনকল, সাক্ষাৎ বা চিকিৎসক দেখার সুযোগ পর্যন্ত নেই।

তিনি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ইমরান খানকে দিনে ২২ ঘণ্টা একটি ডেথ সেলে বন্দি রাখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, ছয় মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলা বন্ধ, কোনো সাক্ষাৎ নেই—এটি তার ওপর সরাসরি মানসিক নির্যাতন। তার মনোবল ভাঙার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা।

ইমরান খানের তিন বোন নুরিন খান, আলীমা খান ও উজমা খান এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা ইমরানের সুস্থতার প্রমাণ দেখানো এবং সাক্ষাৎ অনুমোদনের দাবি জানান। আদালতে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনও করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, আদালতের আদেশ থাকলেও সাক্ষাতের আবেদন গড়িমসি করে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কখনো সরাসরি বলা হচ্ছে সাক্ষাৎ দেওয়া হবে না।

এদিকে, কারাগারের সামনে প্রতিবাদে যোগ দিতে গেলে ইমরানের বোনদের পুলিশ রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, হেফাজতে থাকা অবস্থায় ইমরান খান মারা গেছেন। তবে পাকিস্তান সরকার ও পিটিআই– উভয়েই এই দাবি অস্বীকার করে।

কাসিম সতর্ক করে বলেন, তার বাবার নিরাপত্তা ও এই অমানবিক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন বন্দি অবস্থার পরিণতির জন্য পাকিস্তান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকতে হবে।

ইমরান খান বর্তমানে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। অভিযোগ, তিনি ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি ক্ষমতায় থাকতে আল-কাদির ট্রাস্টের নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুস হিসেবে জমি গ্রহণ করেছিলেন। তবে তারা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন জমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য দেওয়া হয়েছিল।

কাসিমের কথায়, যদি দুর্নীতির কথা বলা হয়, তাহলে পাকিস্তানের বহু রাজনীতিককে জেলে থাকা উচিত। কিন্তু ইমরান খানকে টার্গেট করা হয়েছে কারণ তিনি পরিবর্তনের প্রতীক ছিলেন, সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করেন, লাখো মানুষকে আশা দিয়েছেন।

২০২৪ সালের মার্চে জাতিসংঘের ইচ্ছাকৃত আটকবিরোধী কার্যদল (ইউএনডব্লিউজিএডি) ইমরান খানের আটককে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনি ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছিল।

কাসিম খান জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী বিশেষ প্রতিবেদনকারী ড. অ্যালিস এডওয়ার্ডসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন ইমরান খানের ওপর চলমান এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।


দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু ৫০০ ছাড়াল

থাইল্যান্ডে বন্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মুষলধারে বৃষ্টিতে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার তিন দেশে হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঘরবাড়ি ছাড়া লাখ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেশগুলোর জরুরি পরিষেবার কর্মীদের হিমশিমও খেতে হচ্ছে।

মালাক্কা প্রণালীতে বিরল এক ঝড় সৃষ্টি হওয়ার পর সপ্তাহখানেক ধরে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছে। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ৪৩৫, থাইল্যান্ডে ১৭০ আর মালয়েশিয়ায় তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও রোববার পর্যন্ত দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ তিনটির উদ্ধারকর্মীরা বন্যা-আক্রান্ত অনেক জায়গায় এখনো পৌঁছাতেই পারেননি। বন্যার কারণে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এবং ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১১ লাখ বাসিন্দা চরম বিপাকেও পড়েছে, বলছে দেশ দুটির সরকারের তথ্য।

ইন্দোনেশিয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে, কারণ পশ্চিমের সুমাত্রা দ্বীপে যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ। বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে সুমাত্রার তিনটি দ্বীপের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পশ্চিম সুমাত্রার বিচ্ছিন্ন শহর পালেমবায়ানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে রয়টার্সের এক আলোকচিত্রী বিশাল এলাকা ও অসংখ্য ঘরবাড়িকে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখেছেন। হেলিকপ্টারটি যখন যে খেলার মাঠে নামে তার কাছেই খাবারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল কয়েক ডজন মানুষ।

অনেক এলাকায় ত্রাণ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠা লোকজন লুটপাটও করছে বলে খবর পাওয়া গেছে, গত শনিবার বলেছেন কর্মকর্তারা।

‘পানি হঠাৎ ঘরে উঠে এলো, আমরা ভয় পেয়ে পালালাম। গত শুক্রবার ফিরে এসে দেখি ঘরই নেই, ধ্বংস হয়ে গেছে’ পশ্চিম সুমাত্রার পাদাং শহরে রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন ৪১ বছর বয়সি আফ্রিয়ানতি।

ঘরের যে একচিলতে দেওয়াল টিকে আছে তার পাশে একটি তাঁবু টানিয়ে এখন সেখানেই পরিবারের ৯ সদস্যের সঙ্গে থাকছেন তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে এখনো ২৮৯ জন নিখোঁজ, ঘরবাড়ি ছেড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার মানুষ।

থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ১০২ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সংখলা প্রদেশে, ১৩১ জন।

প্রদেশটির সবচেয়ে বড় শহর হাত ইয়াইয়ে এক দিনেই ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, যা ৩০০ বছরে সর্বোচ্চ। অন্যান্য দিনগুলোতেও শহরটি মুষলধারে বৃষ্টি দেখেছে।

পার্শ্ববর্তী মালয়েশিয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখনো প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ মানুষ আছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। গত শনিবার আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝড় ও টানা বৃষ্টি-সংক্রান্ত সতর্কতা তুলে নিয়েছে। দেশের বেশিরভাগ অংশের আকাশ পরিষ্কার থাকবে বলেও পূর্বাভাসে বলেছে তারা।

গত সপ্তাহে দেশটির অনেক অংশ ভারী বৃষ্টি ও বাতাসের তাণ্ডব দেখেছে। থাইল্যান্ডে আটকা পড়া ৬ হাজার ২০০-র বেশি মালয়েশীয়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার মন্ত্রণালয়টি ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রায় থাকা নাগরিকদের জন্য নির্দেশনা জারি করে সহায়তা পেতে তাদের স্থানীয় কনসুলেটে নিবন্ধন করতে বলেছে। ওই এলাকায় এক ভূমিধসে ৩০ বছর বছর বয়সি এক মালয়েশীয় নিখোঁজ বলেও খবর পেয়েছে তারা।

শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯, নিখোঁজ দুই শতাধিক

বন্যায় বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দুর্যোগ থেকে বাঁচতে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাই নিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ এই বন্যায় দুই লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় এখনো নেই বিদ্যুৎ কিংবা নিরাপদ পানি।

কেলানি নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় কয়েকটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় জেলা কান্ডি ও বাদুল্লা। এসব এলাকার অনেক গ্রাম এখনো বিচ্ছিন্ন।

বাদুল্লার মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা জানান, ‘আমাদের গ্রামে দুজন মারা গেছেন… অন্যরা আশ্রয় নিয়েছেন মন্দিরে আর একটি অক্ষত ঘরে। আমরা কোথাও যেতে পারছি না, কেউ আসতেও পারছে না। পাহাড়ধসের কারণে সব রাস্তা বন্ধ। খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে এসেছে।’

উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় কুরুণাগালা জেলায় একটি বৃদ্ধাশ্রমে পানিবন্দি হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ১১ বাসিন্দা। অন্যদিকে আনুরাধাপুরায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি বাস থেকে ৬৪ যাত্রীকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী।

উদ্ধার হওয়া যাত্রী ডব্লিউএম শান্তা জানান, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান… যখন ছাদের ওপর ছিলাম, তার একটা অংশ ধসে পড়েছিল। তিনজন নারী পানিতে পড়ে গেলেও পরে সবাইকে নিরাপদে উঠিয়ে আনা হয়।

বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদের আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া দ্বীপরাষ্ট্রটির পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছিল, তবে পরে সরে গেছে। তবে এখনো সেখানে মৌসুমি বৃষ্টি চলছে। শ্রীলঙ্কায় এত ভয়াবহ আবহাওয়া খুবই বিরল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে। সে সময় ২৫৪ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।


ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৫ লাখ মানুষ

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত ভবন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হয়েছে এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো বলেছেন, শহরের পশ্চিমাঞ্চল বর্তমানে বিদ্যুৎবিহীন। রাশিয়া দাবি করেছে যে, তারা সংযুক্ত ক্রিমিয়ান উপদ্বীপ, রাশিয়ার অঞ্চল এবং আজভ সাগরে ১০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বিদ্যুৎ গ্রিডে রাশিয়ার হামলার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পাঁচ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের পাভলোহরাদ জেলায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ছয়টি বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, একটি গ্যাস পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং ৮৩ বছর বয়সি এক নারী আহত হয়েছেন।

আহত ওই নারীকে ‘ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা সহায়তা’ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত স্থানীয় পুলিশ প্রধান তার অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতরাত থেকে ইউক্রেনের বিমান কমান্ড দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ১২টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটক করেছে বা ধ্বংস করেছে।

টেলিগ্রামে শেয়ার করা তালিকায় ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোড অঞ্চলে ২৬টি, রোস্তভ অঞ্চলে ২০টি, রাশিয়া-অধিভুক্ত ক্রিমিয়ায় ১৯টি, রিয়াজানে ১১টি, কাসনোদারে ১১টি এবং অন্যত্র আরও বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের আরও ২৩০ সেনা নিহত

রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ সাউথ-এর সেনারা গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপটির মুখপাত্র ভাদিম আস্তাফিয়েভ। গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

রুশ মুখপাত্র বলেন, ‘ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ২৪ ঘণ্টায় ২৩০ জনেরও বেশি সৈন্য হারিয়েছে। এ সময়ে রুশ যৌথ বাহিনীর ইউনিট এবং আক্রমণকারী ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনের পাঁচটি সাঁজোয়া যুদ্ধযান (যার তিনটি পশ্চিমা নির্মিত), ১৯টি অটোমোবাইল, চারটি ফিল্ড আর্টিলারি গান, একটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন এবং চারটি গোলাবারুদ ও জ্বালানির গুদামও ধ্বংস করেছে।’

এদিকে সেভেরস্ক দিকের ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনের দুটি ইউএভি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, একটি স্টারলিংক টার্মিনাল এবং ছয়টি যোগাযোগ অ্যান্টেনা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে বলেও উল্লেখ করেন ভাদিম আস্তাফিয়েভ।

তিনি আরও জানান, ক্রামাতোরস্ক দিকের ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি স্থলভিত্তিক রোবোটিক কমপ্লেক্স ধ্বংস করে, একটি আর-১৮ অক্টোকপ্টার ভূপাতিত করে, একটি ইউএভি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, একটি স্টারলিংক টার্মিনাল, তিনটি এফপিভি ড্রোন অ্যান্টেনা ও তিনটি যোগাযোগ অ্যান্টেনায় আঘাত হানে।

এছাড়া, কনস্তানতিনোভকার দক্ষিণাঞ্চলের ড্রোন ইউনিটগুলো শত্রুপক্ষের তিনটি স্থল রোবোটিক সিস্টেম, একটি অস্থায়ী ঘাঁটি এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর ছয়টি ডাগআউট ধ্বংস করেছে বলেও জানান আস্তাফিয়েভ।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাশিয়া সবসময় শান্তির পক্ষে থাকলেও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য দেশটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ।

গত শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ওয়ান-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পেসকভের এই বক্তব্য আসে বেলজিয়ামে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস গনচারের এক মন্তব্যের পর।

গনচার সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্চর্যজনকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুদ্ধ বা শান্তি—কোনটি প্রত্যাশা করা উচিত—এমন প্রশ্নে পেসকভ বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের শান্তিই কামনা করা উচিত। কিন্তু যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। সর্বোচ্চ ভালো ফলাফলের আশা করতে হবে, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা জরুরি।’

ক্রেমলিন বরাবরই বলে আসছে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক সমাধানই তাদের প্রথম পছন্দ; তবে পশ্চিমা জোটগুলোর সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে রাশিয়ার অভিযোগ।


বৈধ অভিবাসনেও নজরদারি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একজন আফগান অভিবাসীর হাতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার পর বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাতেও কঠোরতা আরোপের দিকে এগোচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপ প্রথম মেয়াদের নীতিগুলোর পুনরাবৃত্তি এবং একই ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্প আফগান অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেন, আগের প্রশাসনে আশ্রয় পাওয়া সব আবেদনকারীর পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেন এবং ১৯টি দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ইঙ্গিত দেন।

এই বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অভিবাসন আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় শহরে ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টি আগে তেমনভাবে সামনে আনেননি।

গত বুধবারের হামলার পর ঘোষিত নতুন বিধিনিষেধগুলো ইঙ্গিত দেয় যে তার প্রশাসন এখন জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে বৈধ অভিবাসনেও নজরদারি জোরদার করতে চাইছে এবং আগের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনামূলক শিথিল নীতিকে দায়ী করছে।

নতুন সিদ্ধান্তগুলোর কিছু সম্পূর্ণ নতুন- যেমন সব আফগান অভিবাসন আবেদন স্থগিত- আবার কিছু ২০১৭-২১ মেয়াদে চালু হওয়া ট্রাম্প যুগের পুরোনো নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে।

ডগ র‌্যান্ড (বাইডেন প্রশাসনের সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা) বলেন, এই পদক্ষেপগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের আগের পরিকল্পনাগুলোই দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা, যা আমাদের নিরাপদ করবে না।

সমালোচকরা বলছেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে আফগানিস্তানসহ নির্দিষ্ট দেশের অভিবাসীদের অন্যায়ভাবে দায়ী করা হচ্ছে।

ভেটেরান ও স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠন আফগানএভ্যাক এক বিবৃতিতে বলেছে যে, এই সহিংস ঘটনা পুরো আফগান অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না; তারা যুক্তরাষ্ট্রে বহুমুখী অবদান রেখে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে কড়াকড়ি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে আসে।

রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারও বলেন, যে কঠোর যাচাই জরুরি হলেও, যুক্তরাষ্ট্রকে আফগান মিত্রদের প্রতি অঙ্গীকার ভাঙা উচিত নয়।

এদিকে ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন কড়াকড়ি এমন সময়ে আসছে যখন জরিপে তার অভিবাসন নীতির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা যায়, নভেম্বরের মাঝামাঝি ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে সমর্থন ছিল ৪১ শতাংশ- যা মার্চে ছিল ৫০ শতাংশ।

একদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বিস্তৃত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, সরকারি সংস্থাগুলো আপাতত সীমিত পরিসরে পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্প ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার কথা বললেও, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায় যে বিষয়টি মূলত আগের ১৯টি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার দেশকেই বোঝায়- যার মধ্যে আফগানিস্তান এরই মধ্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইউএসসিআইএস প্রধান জো এডলো জানান যে ‘উদ্বেগজনক দেশ’ থেকে গ্রীন কার্ড আবেদনগুলো কঠোরভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে বাইডেন প্রশাসনে অনুমোদিত সব আশ্রয় মামলা পুনর্বিবেচনা করার জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিপুলসংখ্যক পুরোনো মামলা পুনরায় খোলা নজিরবিহীন এবং এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ বিলম্ব হবে।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি অনাগরিকদের জন্য ফেডারেল সুবিধা বন্ধ করবেন, আইন ভঙ্গ করলে নাগরিকত্ব বাতিল করবেন এবং যারা পাশ্চাত্য সভ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রস্তাবের অনেকগুলোই আদালতে টিকবে না।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন ডেমোক্র্যাটদের প্রতিরোধকে দায়ী করে বলেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন দেশকে সুরক্ষিত করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট নেতারা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপগুলো প্রকৃত অপরাধীর বদলে সাধারণ অভিবাসীদেরও টার্গেট করছে এবং পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।


ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ নেতার হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা নাইম কাসেমের গত শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণের পর এই আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে এ খবর জানা গেছে।
টেলিভিশনের সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেছেন, কয়েকদিন আগে হিজবুল্লার শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এই হত্যাকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
২৩ নভেম্বর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হায়থাম আলী তাবতাবাই নিহত হন। এ ঘটনার পর উদ্বেগ আরও তীব্র হয়।
পাল্টা জবাব দেওয়ার দিনক্ষণ তারাই ঠিক করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার হুমকি হিজবুল্লাহকে প্রভাবিত করে না।
নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনাদের কি মনে হয়, ভবিষ্যতে যুদ্ধ হতে পারে? হ্যাঁ, কোনো এক সময় এটা হতে পারে, এই ঝুঁকি আছে। আবার যুদ্ধ নাও হতে পারে—এই সম্ভাবনাও রয়েছে।
সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধে তাদের অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে বলেন, ইসরায়েলের মুখোমুখি হতে লেবাননের উচিত ‘নিজের সেনাবাহিনী ও জনগণের ওপর নির্ভর করে’ একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, পোপ লিওর আসন্ন লেবানন সফর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে দাবি জানিয়ে আসছে ইসরায়েল। কাসেমের বক্তব্যের পরে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র অ্যাভিখাই আদ্রেয়ি বলেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র জব্দে লেবানন সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা ‘অপর্যাপ্ত’।
আদ্রেয়ি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, হিজবুল্লাহ এখনো গোপনে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েল লেবাননে হামলা ও দেশের দক্ষিণের পাঁচটি পয়েন্ট দখল বজায় রাখা অব্যাহত রাখলে তাদের পক্ষে অস্ত্র ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, কাসেমের বক্তব্য প্রচারের কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিখাই অ্যাদ্রেই এক বিবৃতিতে জানান, লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর অস্ত্র উদ্ধারে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। তিনি দাবি করেন, ‘হিজবুল্লাহ এখনো দক্ষিণ লেবাননে গোপনে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার টিকিয়ে রেখেছে এবং সেনাবাহিনীকে প্রভাবিত করছে।’
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যতদিন ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে হামলা চালাবে এবং দক্ষিণের পাঁচটি সীমান্তচৌকি দখলে রাখবে, ততদিন তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।


প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তার প্রেমিকা জোডি হেইডনকে বিয়ে করেছেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম বিয়ে।

৬২ বছর বয়সি আলবানিজ ক্যানবেরায় তার সরকারি বাসভবন ‘দ্য লজ’-এর বাগানে এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে জোডি হেইডনকে বিয়ে করেন। হেইডন পেশায় ফিন্যান্স সেক্টরের কর্মী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলবানিজ একটি মাত্র শব্দে লেখেন, ম্যারিড। সঙ্গে বউয়ের হাত ধরে থাকা একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যায় হাসিমুখে হাঁটছেন নবদম্পতি।

এক যৌথ বিবৃতিতে দম্পতি বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত- আমাদের ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ জীবন একসঙ্গে কাটানোর অঙ্গীকার পরিবার ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সামনে ভাগ করে নিতে পেরে।

২০২৪ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডেতে প্রস্তাব দেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর বিয়ের এই আয়োজন। তখন আলবানিজ বলেছিলেন, তিনি এমন একজনকে পেয়েছেন যার সঙ্গে জীবন কাটাতে চান।

তারা গত সোমবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরেই পাঁচ দিনের হানিমুনে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ২০১৯ সালে আগের স্ত্রীকে তালাক দেন। তার এক প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে রয়েছে। পাঁচ বছরেরও বেশি আগে মেলবোর্নে একটি ব্যবসায়ী ডিনারে আলবানিজের পরিচয় হয় জোডি হেইডনের সঙ্গে।

লেবার পার্টির এই নেতা এই বছরের মে মাসে বিপুল ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি স্কুলজীবনেই লেবার পার্টিতে যোগ দেন এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।


ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত : ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোর সাথে অচলাবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি।

ট্রাম্প গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘সব এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক কারবারি এবং মানব পাচারকারীদের প্রতি আহ্বান থাকবে—অনুগ্রহ করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং আশপাশের আকাশপথকে পুরোপুরিই বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

কারাকাস এই সতর্কবার্তাকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে ‘ভেনিজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অতিরঞ্জিত, অবৈধ এবং অযৌক্তিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীসহ ব্যাপক সামরিক সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ্ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, মাদকের পাচার ঠেকাতে এই সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু কারাকাসের দাবি, মাদুরো সরকারকে উৎখাত করাই ওয়াশিংটন আসল উদ্দেশ্য।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০টির বেশি ‘মাদকবাহী’ নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় ৮৩ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

কিন্তু এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। তা ছাড়া নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল, এমন কোনো প্রমাণও তারা দিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই হামলাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমান, এমনকি যদি সেগুলো পরিচিত পাচারকারীদের লক্ষ্য করেও হয়ে থাকে।

ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প এই সপ্তাহের শুরুতে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ‘স্থলপথে’ ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার বন্ধ করার প্রচেষ্টা ‘খুব শিগগিরই’ শুরু হবে।

ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী ডোমিনিকান রিপাবলিক এবং ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেখানে ডোমিনিকান রিপাবলিক বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে মার্কিন মেরিন কোরের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক উড়োজাহাজকে ‘সতর্কতা অবলম্বনের’ নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র - বাসস


ইমরান খান ইস্যুতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি

কারাগারের বাইরে পিটিআই নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার ও দলের নেতাদের সাক্ষাতের অনুমতি না দিলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পাকিস্তানের বিরোধী জোট। তারা বলেছে, সরকার ‘ভুল পথে’ চলা বন্ধ না করলে সারাদেশে বৃহত্তর বিক্ষোভ শুরু হবে।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, গত শুক্রবার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পাখতুনখোয়া মিল্লি আওয়ামি পার্টির (পিকেএমএপি) সভাপতি মাহমুদ আচাকজাই। তিনি বলেন, ‘আমরা সিন্ধি, বেলুচ, পশতুন, পাঞ্জাবিদের রাস্তায় নামা ঠেকিয়ে রেখেছি। তা না হলে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে পরিস্থিতি জটিল করে তুলত।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদকে ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করেছে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক বাইরের নির্দেশে কাজ করছেন। তার দাবি, উপজাতীয় এলাকায় মানুষ নিহত হলেও গুরুতর এই বিষয়ে কথা বলতে বিরোধীদের সুযোগ দিচ্ছেন না স্পিকার।

ইমরান খানকে জেলে বন্দি রাখা এবং তাকে তার বোনদের ও দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে না দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আচাকজাই। তিনি বলেন, ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আদিয়ালা জেলের বাইরে বসে আছেন, কিন্তু ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার আবেদনে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

এ সময় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার বলেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গণতন্ত্রকে ‘সমাধিস্থ’ করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হারিপুরের উপনির্বাচনে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ওমর আইয়ুবের স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। কায়সারের দাবি, ‘ফর্ম ৪৭–এ যে ফল ছিল তা পরিবর্তন করা হয়েছে।’

অন্যদিকে ব্যারিস্টার গওহর বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা পার্লামেন্ট ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ হয়ে থাকতে চান। কিন্তু উপনির্বাচনে ‘কারচুপি’র অভিযোগ তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতটা ইমরান খানকে চিনি, তিনি আর এই পার্লামেন্টের অংশ হয়ে থাকতে আমাদের অনুমতি দেবেন না।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদকে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করেছে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক অন্য কোথাও থেকে নির্দেশ নিচ্ছেন।

তার দাবি, উপজাতীয় এলাকায় মানুষ নিহত হচ্ছিল, কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগও বিরোধীদের দেওয়া হয়নি।

ইমরান খানকে কারাগারে আটক রাখার কারণ ও তাকে কেন তার বোন ও দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই নেতা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।

পিটিআই নেতা গহর বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ থাকতে চান, কিন্তু উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

যা বলল পাকিস্তান সরকার

ইমরান খান। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধানের মৃত্যুর গুঞ্জন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু বিদেশি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এবং পিটিআই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদিয়ালা কারাগারের একান্ত সেলে অবস্থান করছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি এইদিন কারাগারের বাইরে উপস্থিত ছিলেন ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি আফ্রিদির অষ্টমবারের চেষ্টা।

ইমরানের আইনজীবী, চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদেরও সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তরের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। জাপানি একটি পত্রিকা এবং বিবিসি এই গুজব তুলে ধরেছে। সকাল থেকেই সামাজিক মাধ্যমে #ইমরান_খান_কোথায় হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে থাকে।

পিটিআইয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইমরানের ছেলে কাসিম খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বাবা জীবিত থাকার প্রমাণ পাঠিয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশমতে সাক্ষাতের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এআরওয়াই নিউজকে জানান, ‘ইমরান খান ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য একটি দল নিয়মিত কাজ করছে। চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম সবকিছুর দিকে যথাযথ নজর দেওয়া হচ্ছে।’

পিটিআই নেতা আলি জাফরও জানিয়েছেন, ‘খবরে কোনো সত্য নেই। এখনই সরকারের উচিত আমাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া, তাহলেই সবাই নিশ্চিত হতে পারবেন।’ পিটিআই কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব ওয়াকাস আকরাম বলেন, ‘ভারত ও আফগানিস্তান থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল। আমরা তা অস্বীকার করেছি। সরকার ইমরান খানের ক্ষতি করতে পারে না।’

পাশাপাশি, পাকিস্তানের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো গুরুতর সমস্যা নেই এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব শুধুই ভিত্তিহীন এবং দেশ-বিদেশের অনেকে এই খব

রে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।


দিল্লির বাজারে পচছে পেঁয়াজ, ২ রুপিতেও মিলছে না খদ্দের

বাংলাদেশে রপ্তানি ‘বন্ধ’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের। দিল্লির গাজিপুর পাইকারি বাজারে পচছে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ। কিছু পেঁয়াজের দাম নেমেছে মাত্র দুই রুপিতে, তবুও মিলছে না খদ্দের।

শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি জানিয়েছে, এবারের শীত মৌসুমে পেঁয়াজের পাইকারি দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশসহ প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ থাকায় পুরো বাজারে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

কেজি নেমেছে ২ রুপিতে

গাজিপুর পাইকারি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পারমানন্দ সাইনি জানান, নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু—সব জায়গা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ দুই থেকে সর্বোচ্চ ১৩ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

সাইনির কথায়, কৃষকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তাদের কমিশন চার্জ দিতে হচ্ছে, আবার উৎপাদন খরচও মেটাতে হচ্ছে। এক বস্তা ৫০ কেজি ছোট পেঁয়াজের দাম ১০০ রুপি, সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ১২০ রুপি। এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকের সাধারণ খরচও ওঠে না।

আরেক ব্যবসায়ী সচ্ছা সিং অভিযোগ করেন, সরকারি সংস্থাগুলো এমন সময় আগের মজুত করা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে, যখন উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত এক বছর ধরে বন্ধ। ফলে বাজারে জমে আছে পণ্য, কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত—আমরাও সমস্যায় পড়ছি। কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনতেই হয়, কিন্তু সেই পেঁয়াজ দ্রুত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

পণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লোকেশ গুপ্ত বলছেন, সরকারের উচিত বেসরকারি ও সরকারি সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট মজুতসীমা নির্ধারণ করা, যাতে অযথা মজুতদারি বন্ধ হয়। তাঁর মতে, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বাজারকে বহুমুখী করতে হবে। এক দেশের সঙ্গে রপ্তানি বন্ধ হলে যেন অন্য দেশে সরবরাহ করা যায়।

তিনি আরও প্রস্তাব দেন, ভারতীয় কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা এনএএফইডির বিদেশে শাখা খোলা উচিত। বাংলাদেশ ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

কেন পেঁয়াজের বাজার হারাচ্ছে ভারত?

রপ্তানি বাজার হারানোর কারণ হিসেবে লোকেশ গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশ আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ কিনত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ নিজস্ব উৎপাদন রক্ষা ও কৃষকদের স্বার্থে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে। একইভাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন ও ইরান থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পেঁয়াজ কিনছে এবং নিজেদের উৎপাদনও যথেষ্ট।

ভারত ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সম্পূর্ণ বন্ধের মতো বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালে ছয় মাসের জন্য পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ ছিল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বাজার হারাচ্ছে ভারত। অবৈধভাবে পেঁয়াজ বীজ রপ্তানির ফলে কিছু ঐতিহ্যবাহী ক্রেতা দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ভারতের বাজার দখল করছে।

কৃষকদের অনেকে আশঙ্কা করছেন, দাম না বাড়লে আগামী মৌসুমে তাঁরা পেঁয়াজের চাষই কমিয়ে দেবেন।


২৪ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেল ক্যারিবীয় দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ক্যারিবীয় দেশ সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস শুক্রবার ২৪ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। নির্বাচনে বামঘেঁষা নেতা রালফ গনসালভেস পরাজিত হন।

জর্জটাউন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গনসালভেস ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। তিনি ২০০১ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন। তবে এবার তার ইউনিটি লেবার পার্টি ১৫ আসনের মধ্যে মাত্র একটি আসন পায়।

অন্যদিকে গডউইন ফ্রাইডের নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি বাকি ১৪টি আসনে জয়লাভ করে।

মাত্র এক লাখ জনসংখ্যার পর্যটননির্ভর এ দ্বীপ রাষ্ট্রে এটি ছিল তার ব্যাপক বিজয়।

গনসালভেস শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। তবে তার ছেলে ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্যামিলো গনসালভেস নিজ আসনে পরাজয় মেনে নেন।

৬৬ বছর বয়সী ফ্রাইডে পেশায় ইতিহাসবিদ। তিনি নতুন মায়েদের আর্থিক সহায়তা, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকৃতির কারণে চাকরি হারানোদের পুনর্বাসন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হন।

তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোরও অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ফ্রাইডে বলেন, ‘আমি জানি আমরা একটি দরিদ্র দেশ। তবে আমাদের যা আছে, তা দিয়ে আরও অনেক কিছু করা সম্ভব। আমি সবাইকে সেই লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে।

ওয়াশিংটন বলছে, এর উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ঠেকানো।

তবে কারাকাসের দাবি, এর লক্ষ্য মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা।

গনসালভেস আঞ্চলিক সংগঠন সেলাক-এ নিয়মিত মাদুরোকে সমর্থন করেছেন। তিনি ২০২৩ সালে মাদুরো ও গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলির মধ্যে এক বৈঠকের আয়োজন করেন।

তখন এসেকুইবো অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়।

মাদুরোর পাশাপাশি গনসালভেস ছিলেন ব্রাজিলের বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও কিউবার মিগেল দিয়াজ-কানেলের ঘনিষ্ঠ। সূত্র: বাসস


পেঁয়াজে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে বাংলাদেশ, কাঁদছে ভারত

# গেল অর্থবছরে ভারত থেকে কেনা হয়েছিল সোয়া ৭ লাখ টন # চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১২৯০০ টনে # পাশের দেশগুলোও পেঁয়াজে হয়ে উঠছে স্বাবলম্বী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ভারতের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ও চীন থেকেও এই কৃষিপণ্যটি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এই পণ্যটি নিয়ে ভারতের বহুদিনের আধিপত্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানিতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। কাঁদছেন দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। মূলত এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে দিল্লি বারবার অস্থায়ীভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার কারণে। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়; বরং ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো অন্যত্র কেনাকাটা করায় তারাও এই পণ্যটিতে স্বাবলম্বী হতেও শুরু করেছে।
ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একসময় ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া পেঁয়াজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। তবে গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারত থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ পেঁয়াজ কিনেছে। যদিও ঢাকার বাজারে দাম ভারতের স্থানীয় বাজারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। অন্যদিকে, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পরিমাণে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করেছে।
এদিকে ভারতের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ বেআইনিভাবে রপ্তানি হচ্ছে। সেই বীজই ভারতের পেঁয়াজের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে, যা কিনা পণ্যটির বাণিজ্যে ভারতের বহুদিনের আধিপত্যকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

হর্টিকালচার প্রোডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা আমাদের গুণমানের জন্য অতিরিক্ত দাম নিতে পারতাম। যখন আমরা দীর্ঘদিন বাজারে ছিলাম না, তখন আমাদের গ্রাহকেরা বিকল্প সরবরাহকারীর খুঁজে নিয়েছে। এখন তারা (ভারতীয় পেঁয়াজের ক্রেতা) আর গুণমান তুলনা করে না; বরং আমাদের প্রতিযোগীদের সঙ্গে দামের তুলনা করে।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তার আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ মাসের জন্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশের বাজারগুলোয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।
২০২০ সালে, ঘন ঘন পেঁয়াজ রপ্তানির নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে ভারতকে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তাদের দেশের কৃষকদের সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ কিনেছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি হয়েছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। তার মানে বাংলাদেশ একাই আমদানি করেছিল ৪২ শতাংশ পেঁয়াজ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ কিনেছে বাংলাদেশ।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে, ঢাকায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ কম। তবে রপ্তানিকারকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, রপ্তানির নীতি ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলেই (যা মূলত স্থানীয় বাজারমূল্য দ্বারা প্রভাবিত হয়) ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো অন্যত্র কেনাকাটা করতে বাধ্য হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের ঐতিহ্যবাহী অনেক ক্রেতাকে হারাইনি, তারা ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে পেঁয়াজে স্বাবলম্বী হতেও শুরু করেছে।’
রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে না। সরকার যখন রপ্তানিকারকদের কাছে জানতে চায়, তখন তারা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
এইচপিইএ সরকারকে জানিয়েছে, সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা ইয়েমেন ও ইরান থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পেঁয়াজ কিনছে। এছাড়া স্থানীয় ফসল থেকেও তাদের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছে। এমনকি ফিলিপাইনসও চীন থেকে না পেলে তবেই ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে।
২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা পরবর্তী বছরগুলোয় কমতে কমতে থাকে। চলতি অর্থবছর এখন পর্যন্ত মাত্র ২২৩ টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করেছেন সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে ক্রমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। এ কারণে রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোয় পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে পেঁয়াজ উৎপাদন করছে। এই প্রবণতা ভারতীয় কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।


দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত বেড়ে ৩২১

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে আটকা পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিরাট এলাকাজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১–এ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেশিরভাগ এলাকায় পানি নামতে শুরু করায় তারা এখন আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার কাজ জোরদার করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিরাট অংশজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে, এদিকে মালাক্কা উপকূলেও বিরল এক ঝড় সৃষ্টি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে ১৭৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তিন প্রদেশের কর্তৃপক্ষ।

সুমাত্রার পদাং পারিয়ামান এলাকায় মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসিন্দারা এক মিটার পর্যন্ত উঁচু পানির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্যার পানি না কমায় শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি।

‘আমাদের খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে,’ বলেছেন ৪০ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ রাইস। গত বৃহস্পতিবার পানি বাড়তে থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।

দেশটির জাতীয় জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, দ্বীপটির অনেক জায়গা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং ভূমিধসের জঞ্জালে বন্ধ থাকা রাস্তা পরিষ্কারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।শুক্রবার বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিমানযোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে।

থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর হাত ইয়াইয়ে শুক্রবার বৃষ্টি থেমেছে। তবে বাসিন্দাদের এখনও গোড়ালি সমান উচ্চতার পানিকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বহু বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, বেশিরভাগই গত এক সপ্তাহে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে ব্যস্ত। একজন বলেছেন, তিনি ‘সবই হারিয়েছেন’।

প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায়ও এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড় ‘সেনিয়ার’ মধ্যরাতে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। উত্তাল সাগরে চলাচলে ছোট নৌযানকে সতর্কও থাকতে বলেছে তারা।

দেশটিতে ৩০ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল৩৪ হাজার।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের বন্যাকবলিত ২৫টিরও বেশি হোটেলে আটকা পড়া এক হাজার ৪৫৯ মালয়েশিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করেছে। এখনো প্রায় ৩০০ জন বন্যাক্রান্ত বিভিন্ন এলাকায় আটকা রয়েছেন, তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে।


banner close