বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই
আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


একদিনে সৌদি আরবে ৭ শিরশ্ছেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সৌদি আরবে একদিনে সাতজনের শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকার খবরের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সাতজনের এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০২২ সালের পর এটাই একদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ৮১ জনের শিরশ্ছেদ, যা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছিল।

উপসাগরীয় রাজ্যটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সরকারি সৌদি প্রেস এজেন্সি বলেছে, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরি ও এতে অর্থায়ন করার’ দায়ে ওই সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রকাশিত তাদের নাম-পদবি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই সৌদি আরবেরই নাগরিক।

বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্যানুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় সৌদি আরবে। গত বছর ১৭০ জনের শিরশ্ছেদসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২০২২ সালে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব, চীন এবং ইরান।

গত বছর সৌদিতে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত অপরাধে অভিযুক্ত ৩৩ জন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই সৈন্য অন্তর্ভুক্ত।


পাকিস্তানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালো পার্লামেন্ট

প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি। ফাইল ফটো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ২১ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার কথা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যেই অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। এ নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে পার্লামেন্ট।

পাকিস্তানে নবনির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট এবং জাতীয় পরিষদের সচিবালয়ের সঙ্গে তুমুল বিরোধিতা সৃষ্টি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভির। সেখানে সংবিধানের অধীনে নির্বাচনের ২১ দিনের মধ্যে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বানে বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে অধিবেশন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এরপর প্রেসিডেন্টকে এড়িয়ে অধিবেশন ডেকেছে জাতীয় পরিষদ।

এর কারণ, নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত আসনগুলোর আসন বণ্টন করেছে। কিন্তু ইমরান খানের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দিলেও তাদেরকে সংরক্ষিত আসন দেওয়া হয়নি, তা ঝুলিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এর কারণ জানানো হয়নি।

প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ছিলেন ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা। ২০১৮ সালের আগস্টে ইমরান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের মাসে পিটিআই মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আরিফ আলভি। মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সচিবালয় বলছে, নির্বাচন হওয়ার পর ২১তম দিনে অধিবেশন ডাকার জন্য প্রেসিডেন্ট বা স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির অধিবেশন আহ্বানে রাজি না হওয়ার প্রধান কারণ, তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আসনগুলো বণ্টন না হওয়ায় জাতীয় পরিষদ অসম্পূর্ণ রয়েছে। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) নির্বাচনে জয়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক হারে জাতীয় পরিষদের সংরক্ষিত ৭০টি আসন বণ্টন করে দেবে। এই আসনগুলো পেতে পিটিআই-সমর্থিত জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এরই মধ্যে সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু ওই কাউন্সিল সংরক্ষিত আসন পাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে, পাকিস্তানে সরকার গঠনের জন্য পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বে ছয়দলীয় জোট কাজ করছে। ২ মার্চের মধ্যেই এ সরকার গঠিত হতে পারে। জাতীয় পরিষদে ছয়দলীয় জোটের সদস্য ২০৭ জন। ৩৩৬ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য ১৬৯ আসন প্রয়োজন।

পিএমএল-এন ও পিপিপির সমঝোতা অনুযায়ী পিএমএল-এনের নেতা শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আর পিপিপির নেতা আসিফ আলী জারদারি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। অন্যদিকে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এসআইসিতে যোগ দিয়ে বসতে যাচ্ছেন বিরোধী দলে।


পেট্রোল রপ্তানিতে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ছয় মাসের জন্য পেট্রোল রপ্তানি নিষিদ্ধ করল রাশিয়া। আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন, যা ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের শুরুর দিকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল রাশিয়া।

রাশিয়ার অন্য একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যালেকজান্ডার নোভাক এক চিঠির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেন। এতে তিনি অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদার কথাও উল্লেখ করেন।

নোভাক বলেন, পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছরে গড়িয়েছে। কবে থামবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ তার কোনো ইঙ্গিতও মিলছে না। তবে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়ার ওপর আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

যুদ্ধে ৩১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন তার তথ্য দেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ এটি রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।

বিষয়:

আরও এক অপরাধে অভিযুক্ত ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:৫৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঘুষ নেওয়ার দায়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অভিযুক্ত করেছেন দেশটির আদালত। একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তার স্ত্রী বুশরাও।

মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে ইমরান খানের নিজ রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

পিটিআই জানিয়েছে, ঘুষ নেওয়ার নতুন অভিযোগটি করা হয়েছে আল-কাদির ট্রাস্ট নিয়ে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি মিলে এ ট্রাস্ট গঠন করেন।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনের আগে আরও কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। তিনটি মামলায় তাকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। এর পরও ওই নির্বাচনে তার দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ আসন পান।

৭১ বছর বয়সী পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার গত বছরের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সবগুলোই তিনি অস্বীকার করেছেন।

বিষয়:

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি শুরু আগামী সপ্তাহে: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যথা শিগগির সম্ভব সোমবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ কথা বলেছেন।

যুদ্ধবিরতির এ চুক্তিতে হামাসের কাছে আটক বেশকিছু সংখ্যক জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলে থাকা ফিলিস্তিনী বন্দীদের ছেড়ে দেয়ার কথা রয়েছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্যে মিসর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ অন্যান্যরা প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আলোচনা এখনও চলছে।

তারা ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের কাছে থাকা ইসরায়েলী জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে ইসরায়েলে আটক শত শত ফিলিস্তিনী বন্দীকেও মুক্তি দেয়া নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কবে নাগাদ শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন সোমবার বলেছেন, আমি আশা করছি আগামী সোমবার নাগাদ যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।

তবে তিনি এও বলেছেন, আমরা চুক্তির কাছাকাছি আছি। এখনও চুক্তির কাজ সম্পন্ন হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলী কর্মকর্তা আলোচনা ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছেন।

কিন্তু ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, যে কোন যুদ্ধবিরতিই গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় স্থল অভিযানকে বিলম্বিত করবে, কিন্তু প্রতিহত করতে পারবে না। কারণ, হামাসের বিরুদ্ধে পুরো জয়ের জন্যে সেখানে অভিযান চালানো প্রয়োজন।

এদিকে ইসরায়েল গত পাঁচ মাস ধরে গাজার সকল শহর এল্কাায় অভিযান চালিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষিতে প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনী এখন রাফায় আশ্রয় নিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে সোমবার বলা হয়েছে, রাফা থেকে বেসামরিক ফিলিস্তিনীদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী যুদ্ধকালীন কেবিনেটকে দেখিয়েছে।

তবে বাস্তুচ্যুত এসব লোক কোথায় যাবে তা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।


ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতায়েহ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতায়েহ। পশ্চিম তীরের কিছু অংশের শাসনকারী সরকারই ফিলিস্তিনের সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফিলিস্তিনের অপর অংশ গাজা শাসন করে স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতায়েহ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।

গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ শতায়েহ বলেন, ‘পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি এবং গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ, গণহত্যা এবং অনাহারের পরিস্থিতিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি যে পরবর্তী পর্যায় এবং এর চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য নতুন সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজন, যা গাজার নতুন বাস্তবতাকে বিবেচনা করে এবং ফিলিস্তিনি ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে সবার ঐকমত্যের প্রয়োজন।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে নাড়াতে এবং যুদ্ধের পর একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে শাসন করতে পারে এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামোয় কাজ শুরু করার জন্য মাহমুদ আব্বাসের ওপর মার্কিন চাপ বাড়ার পর এমন মন্তব্য করলেন শতায়েহ।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দখলদার ইসরায়েলের নির্বিচারে হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৬৯২ জনে পৌঁছেছে। রোববার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে কাতারে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় ইসরায়েল। রোববার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আক্রমণ অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩১ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব গাজা উপত্যকায় পরিবারের বিরুদ্ধে সাতটি গণহত্যা করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬ জন শহীদ ও ১৩১ জন আহত হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছে, কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।’

এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রাফাহতে একটি পূর্ণ মাত্রায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান গাজায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটাবে। যেখানে বর্তমান ‘সম্পূর্ণভাবে অপর্যাপ্ত’ সহায়তাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সামনে বক্তৃতাকালে গুতেরেস বলেন, গাজার দক্ষিণতম শহরে সর্বাত্মক আক্রমণ ‘সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকের জন্য কেবল ভয়ঙ্করই হবে না; এটি আমাদের সাহায্য কর্মসূচির কফিনেও চূড়ান্ত পেরেক ঠুকে দেবে।’


গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯,৭৮২ জনে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজা উপত্যকার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধা এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধে অবরুদ্ধ এ উপত্যকায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৯ হাজার ৭৮২ জন নিহত হয়েছে। খবর এএফপির।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৯০ জন নিহত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে মোট ২৯,৭৮২ জনে দাঁড়ালো।

এদিকে গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট ৭০ হাজার ৪৩ জন আহত হয়েছে।


রাফাহতে হামলা গাজায় সাহায্যের ‘কফিনে চূড়ান্ত পেরেক’ : জাতিসংঘ প্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাফাহতে একটি পূর্ণ মাত্রায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান গাজায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটাবে। যেখানে বর্তমান ‘সম্পূর্ণভাবে অপর্যাপ্ত’ সহায়তাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

সোমবার জাতিসংঘের প্রধান সতর্ক করে দিয়ে এ কথা বলেছেন।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সামনে বক্তৃতাকালে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গাজার দক্ষিণতম শহরে সর্বাত্মক আক্রমণ ‘সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকের জন্য কেবল ভয়ঙ্করই হবে না; এটি আমাদের সাহায্য কর্মসূচির কফিনেও চূড়ান্ত পেরেক ঠুকে দেবে।’


ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে নিজের শরীরে আগুন দিয়েছেন মার্কিন বিমানকর্মী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৩৮
বাসস

গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য রোববার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে নিজের শরীরে অগ্নিসংযোগ করেছেন। কর্মকর্তাদের বরাতে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়, ‘তিনি গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে নিজের শরীরে অগ্নিসংযোগ করছেন।’

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ‘ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে আগুন লাগার একটি বার্তা’ পেয়ে রাজধানীর ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা জরুরি প্রতিক্রিয়ায় দুপুর ১টার দিকে (১৮০০ জিএমটি) আগে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসে দেখেন সিক্রেট সার্ভিসের অফিসাররা ইতিমধ্যেই আগুন নিভিয়ে ফেলেছেন এবং তারা মার্কিন রাজনৈতিক নেতা, সফররত রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্যদের নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছেন।

ফায়ার ডিপার্টমেন্ট বলেছে, ‘লোকটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন, তিনি বিমান বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন, তবে এ সম্পর্কে কোনো বিবরণ দেননি।

ইসরায়েলি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই ঘটনায় কোনো কর্মী আহত হয়নি এবং ওই ব্যক্তি তাদের কাছে অজানা ছিলেন।’

ইউএস মিডিয়া জানিয়েছে, ইউনিফর্ম পরিহিত লোকটি এ সময় সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি অগ্নিসংযোগ সম্প্রচার করেছে এবং ঘোষণা করেছেন, ‘তিনি ফিলিস্তিনি গণহত্যায় জড়িত হবেন না।’

‘ফিলিস্তিন মুক্ত করুন!’ বলে চিৎকার করতে করতে তিনি নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেন, যতক্ষণ না তিনি মাটিতে পড়ে যান।


রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের ৩১ হাজার সেনা নিহত

জেলেনস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার সঙ্গে গত দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের ৩১ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর পরের দিন রোববার কিয়েভে ‘ইউক্রেন. ইয়ার ২০২৪’ ফোরামে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। খবর আল জাজিরার।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেন রুশ সেনারা। এ যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই অনেক প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই ইউক্রেনের জন্য মহান আত্মত্যাগ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ডগুলোতে হাজারো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা পাওয়া যাবে না।’

ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটিতে পূর্ণমাত্রায় রুশ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো নিহত সেনার সংখ্যা জানাল ইউক্রেন।

যুদ্ধে নিহত সেনার সংখ্যা নিয়ে রাশিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে খুব কম তথ্য দিয়েছে।

দেশটির স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা শনিবার জানায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হন ৭৫ হাজার রুশ নাগরিক।


মারা গেলেন চীনের সাবেক সেরা ধনী জং কিংহো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

চীনের সাবেক ধনী জং কিংহো রোববার মারা গেছেন। তার কোম্পানি একথা জানিয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। কিংহোর শীর্ষস্থানীয় কোমল পানীয় সংস্থা তাকে একসময় দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বানিয়েছিল।

কিংহো ছিলেন ওয়াহাহা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠানের ছিল বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, চা এবং অন্যান্য পণ্যে।

প্রতিষ্ঠানটি তার ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি শোক বার্তায় বলেছে, ‘অসুস্থতার শোক বার্তায় বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংজুতে কোম্পানির অফিসে বুধবার জং-এর জন্য স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, জং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু তিনি কী রোগে আক্রান্ত ছিলেন তার কোনো উল্লেখ করা হয়নি।

জং শুধুমাত্র তার ৪০-এর দশকে ব্যবসায় নেমেছিলেন। শিশুদের কাছে কোমল পানীয় বিক্রি করতো এবং কথিত আছে যে, নগদ অর্থের এত অভাব ছিল যে তিনি বেইজিংয়ের একটি সেতুর নীচে শুয়েছিলেন। কারণ, তার হোটেলে থাকার সামর্থ্য ছিল না।

তিনি ১৯৮৭ সালে ওয়াহাহা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে একটি পানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন। যার পানীয়গুলো চীন জুড়ে দোকান এবং সুপারমলে বিক্রি হতো।

২০১০ সালে জং ফোর্বস ম্যাগাজিন দ্বারা চীনের সবচেয়ে সেরা ধনী ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। তার সম্পদের মূল্য ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

টাইকুন এর আগে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ট্যাক্স কমানোর জন্য সমর্থন জানিয়েছিলেন কিংহো। ২০১৩ সালে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য কোনো সমস্যা নয়।

সেই সময়ে জং বলেছিলেন, ‘সম্পদ সৃষ্টিতে মানুষকে উৎসাহিত করাই উত্তম।’

বিষয়:

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে জান্তা সরকার

মিয়ানমারে পুরুষদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পুরুষদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে জান্তা সরকার। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া রোহিঙ্গা পুরুষদের নাগরিকত্বের একটি পরিচয়পত্র, জনপ্রতি এক বস্তা চাল এবং মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার কিয়াট বেতন দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এসব তথ্য জানিয়েছে। ইরাবতী জানায়, বিভিন্ন গ্রাম ও শরণার্থীশিবির থেকে অন্তত ৪০০ রোহিঙ্গা পুরুষকে ধরে নিয়ে তাদের দুই সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জান্তা বাহিনী তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী ও রাখাইনের অধিকারকর্মীরা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি সব নারী-পুরুষের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছে জান্তা সরকার। এর পরই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি পুরুষদের তালিকা তৈরির জন্য বুথিডং, মংডু এবং সিত্তের গ্রাম প্রশাসক ও রোহিঙ্গা নেতাদের চাপ দিচ্ছে জান্তা বাহিনী।

এদিকে মিয়ানমারের গণমাধ্যম নারিনজার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র হাতে নেওয়ার অনুরোধ জানায় জান্তা সরকার। তবে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের আহ্বানকে প্রতারণা বলে মনে করছেন রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেওয়া, সব সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া জান্তা সরকারের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের। নিজেদের জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে বেশ সোচ্চার তিনি। মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অনেকটা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন রোহিঙ্গাদের এই নেতা।

মো. জোবায়ের বলেন, ‘এখন তারা (জান্তা) আরেকটা নতুন খেলা এনেছে। আমাদের আকিয়াবের মুসলমান রোহিঙ্গা কমিউনিটিকে জান্তার পক্ষে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তা না হলে রোহিঙ্গাদের সরাসরি গিয়ে মারতে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ সাধারণ নাগরিকদের মারলে পৃথিবী জান্তাকে খারাপ বলবে। রোহিঙ্গারা হাতে হাতিয়ার তুলে নিলে তাদের সুবিধা হবে। কয়েকজন যারা আছে তারাও বাংলাদেশে পালিয়ে যাবে। এটা হচ্ছে তাদের নতুন খেলা।’

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে দেশটির বেশির ভাগ অঞ্চল দখলে নেয় আরাকান আর্মি। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যসহ ৩৩০ জন। বিপর্যস্ত মিয়ানমারকে শক্তিশালী করতে জান্তা সরকার দেশের সব যুবক-যুবতীর সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছে। এর পরপরই জান্তা সরকারের পক্ষ হয়ে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের লড়াই করার আহ্বান জানানো হয়।


কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাফায় বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মিসরের সীমান্তবর্তী রাফা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এত দিন রাফাকে নিরাপদ মনে করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গাজার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা রাফায় আশ্রয় নিয়েছিল। এদিকে গাজার দেইর এল-বালাহ অঞ্চলে একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।

৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হামালায় গাজায় ২৯ হাজার ৬০৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৭ জন। তা ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাছে এ পরিকল্পনা উত্থাপন করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যত দিন পর্যন্ত হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক সক্ষমতা নির্মূল এবং সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনাসহ অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত না হবে, তত দিন গাজায় যুদ্ধ চলবে। যুদ্ধ শেষে স্থানীয় যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী দেশ ও গোষ্ঠীর কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তারা গাজা পরিচালনা করবেন। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে (পিএ) এতে রাখা হবে কি না, তা এ পরিকল্পনায় স্পষ্ট করা হয়নি।

তবে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা সামনে এনেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে ও এর মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

গাজায় শিশু ও নারীর মৃত্যু ৬ গুণ

৭ অক্টোবরের পর থেকে গত সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের একটানা আক্রমণে গাজায় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলের মারাত্মক বর্বরতার বহির্প্রকাশ। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

আনাদোলু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ান-ইউক্রেনীয় যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলনা করেছে। ইসরায়েল প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থলে আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোমাবর্ষণ করছে। ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, গাজায় হামলায় ৬৬ হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১৮৩ টন। এই আগ্রাসনে ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছে।

জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণে গাজা উপত্যকায় ২২ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে। এই অঞ্চলে সাহায্য আনার ক্ষেত্রে তেল আবিবের বাধার কারণেও ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে। উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিরা পশুখাদ্য পিষে ময়দা তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউএন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশন (এইচআরএমএমইউ) অনুসারে, রাশিয়ার আগ্রাসনে ইউক্রেনে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫৭৯ শিশু এবং ২ হাজার ৯৯২ জন নারীসহ মোট ১০ হাজার ৩৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩২ জন। এর মধ্যে মোট ৮ হাজার ৯৫টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এবং ২ হাজার ২৮৩টি রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে। এইচআরএমএমইউ ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও কিছু বেশি হতে পারে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজায় সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের হাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা দুই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যার প্রায় ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, হামলার কারণে লক্ষাধিক ইউক্রেনীয় নাগরিক, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের স্বাগতও জানিয়েছে। কিন্তু গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধের অধীনে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার (১৩৯ বর্গ মাইল) এলাকায় আটকা পড়ে আছে। হামলার কারণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো নিরাপদ জায়গাও নেই।

উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের কারণে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহ শহরের ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেও আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।


banner close