রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই
আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ নেতার হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা নাইম কাসেমের গত শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণের পর এই আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে এ খবর জানা গেছে।
টেলিভিশনের সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেছেন, কয়েকদিন আগে হিজবুল্লার শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এই হত্যাকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
২৩ নভেম্বর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হায়থাম আলী তাবতাবাই নিহত হন। এ ঘটনার পর উদ্বেগ আরও তীব্র হয়।
পাল্টা জবাব দেওয়ার দিনক্ষণ তারাই ঠিক করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার হুমকি হিজবুল্লাহকে প্রভাবিত করে না।
নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনাদের কি মনে হয়, ভবিষ্যতে যুদ্ধ হতে পারে? হ্যাঁ, কোনো এক সময় এটা হতে পারে, এই ঝুঁকি আছে। আবার যুদ্ধ নাও হতে পারে—এই সম্ভাবনাও রয়েছে।
সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধে তাদের অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে বলেন, ইসরায়েলের মুখোমুখি হতে লেবাননের উচিত ‘নিজের সেনাবাহিনী ও জনগণের ওপর নির্ভর করে’ একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, পোপ লিওর আসন্ন লেবানন সফর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে দাবি জানিয়ে আসছে ইসরায়েল। কাসেমের বক্তব্যের পরে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র অ্যাভিখাই আদ্রেয়ি বলেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র জব্দে লেবানন সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা ‘অপর্যাপ্ত’।
আদ্রেয়ি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, হিজবুল্লাহ এখনো গোপনে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েল লেবাননে হামলা ও দেশের দক্ষিণের পাঁচটি পয়েন্ট দখল বজায় রাখা অব্যাহত রাখলে তাদের পক্ষে অস্ত্র ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, কাসেমের বক্তব্য প্রচারের কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিখাই অ্যাদ্রেই এক বিবৃতিতে জানান, লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর অস্ত্র উদ্ধারে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। তিনি দাবি করেন, ‘হিজবুল্লাহ এখনো দক্ষিণ লেবাননে গোপনে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার টিকিয়ে রেখেছে এবং সেনাবাহিনীকে প্রভাবিত করছে।’
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যতদিন ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে হামলা চালাবে এবং দক্ষিণের পাঁচটি সীমান্তচৌকি দখলে রাখবে, ততদিন তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।


প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তার প্রেমিকা জোডি হেইডনকে বিয়ে করেছেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম বিয়ে।

৬২ বছর বয়সি আলবানিজ ক্যানবেরায় তার সরকারি বাসভবন ‘দ্য লজ’-এর বাগানে এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে জোডি হেইডনকে বিয়ে করেন। হেইডন পেশায় ফিন্যান্স সেক্টরের কর্মী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলবানিজ একটি মাত্র শব্দে লেখেন, ম্যারিড। সঙ্গে বউয়ের হাত ধরে থাকা একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যায় হাসিমুখে হাঁটছেন নবদম্পতি।

এক যৌথ বিবৃতিতে দম্পতি বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত- আমাদের ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ জীবন একসঙ্গে কাটানোর অঙ্গীকার পরিবার ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সামনে ভাগ করে নিতে পেরে।

২০২৪ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডেতে প্রস্তাব দেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর বিয়ের এই আয়োজন। তখন আলবানিজ বলেছিলেন, তিনি এমন একজনকে পেয়েছেন যার সঙ্গে জীবন কাটাতে চান।

তারা গত সোমবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরেই পাঁচ দিনের হানিমুনে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ২০১৯ সালে আগের স্ত্রীকে তালাক দেন। তার এক প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে রয়েছে। পাঁচ বছরেরও বেশি আগে মেলবোর্নে একটি ব্যবসায়ী ডিনারে আলবানিজের পরিচয় হয় জোডি হেইডনের সঙ্গে।

লেবার পার্টির এই নেতা এই বছরের মে মাসে বিপুল ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি স্কুলজীবনেই লেবার পার্টিতে যোগ দেন এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।


ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত : ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোর সাথে অচলাবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি।

ট্রাম্প গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘সব এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক কারবারি এবং মানব পাচারকারীদের প্রতি আহ্বান থাকবে—অনুগ্রহ করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং আশপাশের আকাশপথকে পুরোপুরিই বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

কারাকাস এই সতর্কবার্তাকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে ‘ভেনিজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অতিরঞ্জিত, অবৈধ এবং অযৌক্তিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীসহ ব্যাপক সামরিক সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ্ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, মাদকের পাচার ঠেকাতে এই সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু কারাকাসের দাবি, মাদুরো সরকারকে উৎখাত করাই ওয়াশিংটন আসল উদ্দেশ্য।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০টির বেশি ‘মাদকবাহী’ নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় ৮৩ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

কিন্তু এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। তা ছাড়া নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল, এমন কোনো প্রমাণও তারা দিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই হামলাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমান, এমনকি যদি সেগুলো পরিচিত পাচারকারীদের লক্ষ্য করেও হয়ে থাকে।

ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প এই সপ্তাহের শুরুতে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ‘স্থলপথে’ ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার বন্ধ করার প্রচেষ্টা ‘খুব শিগগিরই’ শুরু হবে।

ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী ডোমিনিকান রিপাবলিক এবং ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেখানে ডোমিনিকান রিপাবলিক বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে মার্কিন মেরিন কোরের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক উড়োজাহাজকে ‘সতর্কতা অবলম্বনের’ নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র - বাসস


ইমরান খান ইস্যুতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি

কারাগারের বাইরে পিটিআই নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার ও দলের নেতাদের সাক্ষাতের অনুমতি না দিলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পাকিস্তানের বিরোধী জোট। তারা বলেছে, সরকার ‘ভুল পথে’ চলা বন্ধ না করলে সারাদেশে বৃহত্তর বিক্ষোভ শুরু হবে।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, গত শুক্রবার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পাখতুনখোয়া মিল্লি আওয়ামি পার্টির (পিকেএমএপি) সভাপতি মাহমুদ আচাকজাই। তিনি বলেন, ‘আমরা সিন্ধি, বেলুচ, পশতুন, পাঞ্জাবিদের রাস্তায় নামা ঠেকিয়ে রেখেছি। তা না হলে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে পরিস্থিতি জটিল করে তুলত।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদকে ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করেছে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক বাইরের নির্দেশে কাজ করছেন। তার দাবি, উপজাতীয় এলাকায় মানুষ নিহত হলেও গুরুতর এই বিষয়ে কথা বলতে বিরোধীদের সুযোগ দিচ্ছেন না স্পিকার।

ইমরান খানকে জেলে বন্দি রাখা এবং তাকে তার বোনদের ও দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে না দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আচাকজাই। তিনি বলেন, ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আদিয়ালা জেলের বাইরে বসে আছেন, কিন্তু ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার আবেদনে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

এ সময় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার বলেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গণতন্ত্রকে ‘সমাধিস্থ’ করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হারিপুরের উপনির্বাচনে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ওমর আইয়ুবের স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। কায়সারের দাবি, ‘ফর্ম ৪৭–এ যে ফল ছিল তা পরিবর্তন করা হয়েছে।’

অন্যদিকে ব্যারিস্টার গওহর বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা পার্লামেন্ট ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ হয়ে থাকতে চান। কিন্তু উপনির্বাচনে ‘কারচুপি’র অভিযোগ তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতটা ইমরান খানকে চিনি, তিনি আর এই পার্লামেন্টের অংশ হয়ে থাকতে আমাদের অনুমতি দেবেন না।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদকে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করেছে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক অন্য কোথাও থেকে নির্দেশ নিচ্ছেন।

তার দাবি, উপজাতীয় এলাকায় মানুষ নিহত হচ্ছিল, কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগও বিরোধীদের দেওয়া হয়নি।

ইমরান খানকে কারাগারে আটক রাখার কারণ ও তাকে কেন তার বোন ও দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই নেতা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।

পিটিআই নেতা গহর বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ থাকতে চান, কিন্তু উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

যা বলল পাকিস্তান সরকার

ইমরান খান। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধানের মৃত্যুর গুঞ্জন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু বিদেশি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এবং পিটিআই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদিয়ালা কারাগারের একান্ত সেলে অবস্থান করছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি এইদিন কারাগারের বাইরে উপস্থিত ছিলেন ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি আফ্রিদির অষ্টমবারের চেষ্টা।

ইমরানের আইনজীবী, চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদেরও সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তরের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। জাপানি একটি পত্রিকা এবং বিবিসি এই গুজব তুলে ধরেছে। সকাল থেকেই সামাজিক মাধ্যমে #ইমরান_খান_কোথায় হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে থাকে।

পিটিআইয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইমরানের ছেলে কাসিম খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বাবা জীবিত থাকার প্রমাণ পাঠিয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশমতে সাক্ষাতের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এআরওয়াই নিউজকে জানান, ‘ইমরান খান ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য একটি দল নিয়মিত কাজ করছে। চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম সবকিছুর দিকে যথাযথ নজর দেওয়া হচ্ছে।’

পিটিআই নেতা আলি জাফরও জানিয়েছেন, ‘খবরে কোনো সত্য নেই। এখনই সরকারের উচিত আমাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া, তাহলেই সবাই নিশ্চিত হতে পারবেন।’ পিটিআই কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব ওয়াকাস আকরাম বলেন, ‘ভারত ও আফগানিস্তান থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল। আমরা তা অস্বীকার করেছি। সরকার ইমরান খানের ক্ষতি করতে পারে না।’

পাশাপাশি, পাকিস্তানের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো গুরুতর সমস্যা নেই এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব শুধুই ভিত্তিহীন এবং দেশ-বিদেশের অনেকে এই খব

রে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।


দিল্লির বাজারে পচছে পেঁয়াজ, ২ রুপিতেও মিলছে না খদ্দের

বাংলাদেশে রপ্তানি ‘বন্ধ’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের। দিল্লির গাজিপুর পাইকারি বাজারে পচছে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ। কিছু পেঁয়াজের দাম নেমেছে মাত্র দুই রুপিতে, তবুও মিলছে না খদ্দের।

শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি জানিয়েছে, এবারের শীত মৌসুমে পেঁয়াজের পাইকারি দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশসহ প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ থাকায় পুরো বাজারে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

কেজি নেমেছে ২ রুপিতে

গাজিপুর পাইকারি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পারমানন্দ সাইনি জানান, নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু—সব জায়গা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ দুই থেকে সর্বোচ্চ ১৩ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

সাইনির কথায়, কৃষকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তাদের কমিশন চার্জ দিতে হচ্ছে, আবার উৎপাদন খরচও মেটাতে হচ্ছে। এক বস্তা ৫০ কেজি ছোট পেঁয়াজের দাম ১০০ রুপি, সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ১২০ রুপি। এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকের সাধারণ খরচও ওঠে না।

আরেক ব্যবসায়ী সচ্ছা সিং অভিযোগ করেন, সরকারি সংস্থাগুলো এমন সময় আগের মজুত করা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে, যখন উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত এক বছর ধরে বন্ধ। ফলে বাজারে জমে আছে পণ্য, কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত—আমরাও সমস্যায় পড়ছি। কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনতেই হয়, কিন্তু সেই পেঁয়াজ দ্রুত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

পণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লোকেশ গুপ্ত বলছেন, সরকারের উচিত বেসরকারি ও সরকারি সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট মজুতসীমা নির্ধারণ করা, যাতে অযথা মজুতদারি বন্ধ হয়। তাঁর মতে, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বাজারকে বহুমুখী করতে হবে। এক দেশের সঙ্গে রপ্তানি বন্ধ হলে যেন অন্য দেশে সরবরাহ করা যায়।

তিনি আরও প্রস্তাব দেন, ভারতীয় কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা এনএএফইডির বিদেশে শাখা খোলা উচিত। বাংলাদেশ ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

কেন পেঁয়াজের বাজার হারাচ্ছে ভারত?

রপ্তানি বাজার হারানোর কারণ হিসেবে লোকেশ গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশ আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ কিনত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ নিজস্ব উৎপাদন রক্ষা ও কৃষকদের স্বার্থে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে। একইভাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন ও ইরান থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পেঁয়াজ কিনছে এবং নিজেদের উৎপাদনও যথেষ্ট।

ভারত ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সম্পূর্ণ বন্ধের মতো বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালে ছয় মাসের জন্য পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ ছিল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বাজার হারাচ্ছে ভারত। অবৈধভাবে পেঁয়াজ বীজ রপ্তানির ফলে কিছু ঐতিহ্যবাহী ক্রেতা দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ভারতের বাজার দখল করছে।

কৃষকদের অনেকে আশঙ্কা করছেন, দাম না বাড়লে আগামী মৌসুমে তাঁরা পেঁয়াজের চাষই কমিয়ে দেবেন।


২৪ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেল ক্যারিবীয় দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ক্যারিবীয় দেশ সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস শুক্রবার ২৪ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। নির্বাচনে বামঘেঁষা নেতা রালফ গনসালভেস পরাজিত হন।

জর্জটাউন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গনসালভেস ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। তিনি ২০০১ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন। তবে এবার তার ইউনিটি লেবার পার্টি ১৫ আসনের মধ্যে মাত্র একটি আসন পায়।

অন্যদিকে গডউইন ফ্রাইডের নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি বাকি ১৪টি আসনে জয়লাভ করে।

মাত্র এক লাখ জনসংখ্যার পর্যটননির্ভর এ দ্বীপ রাষ্ট্রে এটি ছিল তার ব্যাপক বিজয়।

গনসালভেস শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। তবে তার ছেলে ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্যামিলো গনসালভেস নিজ আসনে পরাজয় মেনে নেন।

৬৬ বছর বয়সী ফ্রাইডে পেশায় ইতিহাসবিদ। তিনি নতুন মায়েদের আর্থিক সহায়তা, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকৃতির কারণে চাকরি হারানোদের পুনর্বাসন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হন।

তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোরও অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ফ্রাইডে বলেন, ‘আমি জানি আমরা একটি দরিদ্র দেশ। তবে আমাদের যা আছে, তা দিয়ে আরও অনেক কিছু করা সম্ভব। আমি সবাইকে সেই লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে।

ওয়াশিংটন বলছে, এর উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ঠেকানো।

তবে কারাকাসের দাবি, এর লক্ষ্য মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা।

গনসালভেস আঞ্চলিক সংগঠন সেলাক-এ নিয়মিত মাদুরোকে সমর্থন করেছেন। তিনি ২০২৩ সালে মাদুরো ও গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলির মধ্যে এক বৈঠকের আয়োজন করেন।

তখন এসেকুইবো অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়।

মাদুরোর পাশাপাশি গনসালভেস ছিলেন ব্রাজিলের বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও কিউবার মিগেল দিয়াজ-কানেলের ঘনিষ্ঠ। সূত্র: বাসস


পেঁয়াজে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে বাংলাদেশ, কাঁদছে ভারত

# গেল অর্থবছরে ভারত থেকে কেনা হয়েছিল সোয়া ৭ লাখ টন # চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১২৯০০ টনে # পাশের দেশগুলোও পেঁয়াজে হয়ে উঠছে স্বাবলম্বী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ভারতের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ও চীন থেকেও এই কৃষিপণ্যটি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এই পণ্যটি নিয়ে ভারতের বহুদিনের আধিপত্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানিতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। কাঁদছেন দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। মূলত এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে দিল্লি বারবার অস্থায়ীভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার কারণে। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়; বরং ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো অন্যত্র কেনাকাটা করায় তারাও এই পণ্যটিতে স্বাবলম্বী হতেও শুরু করেছে।
ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একসময় ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া পেঁয়াজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। তবে গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারত থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ পেঁয়াজ কিনেছে। যদিও ঢাকার বাজারে দাম ভারতের স্থানীয় বাজারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। অন্যদিকে, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পরিমাণে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করেছে।
এদিকে ভারতের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ বেআইনিভাবে রপ্তানি হচ্ছে। সেই বীজই ভারতের পেঁয়াজের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে, যা কিনা পণ্যটির বাণিজ্যে ভারতের বহুদিনের আধিপত্যকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

হর্টিকালচার প্রোডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা আমাদের গুণমানের জন্য অতিরিক্ত দাম নিতে পারতাম। যখন আমরা দীর্ঘদিন বাজারে ছিলাম না, তখন আমাদের গ্রাহকেরা বিকল্প সরবরাহকারীর খুঁজে নিয়েছে। এখন তারা (ভারতীয় পেঁয়াজের ক্রেতা) আর গুণমান তুলনা করে না; বরং আমাদের প্রতিযোগীদের সঙ্গে দামের তুলনা করে।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তার আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ মাসের জন্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশের বাজারগুলোয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।
২০২০ সালে, ঘন ঘন পেঁয়াজ রপ্তানির নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে ভারতকে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তাদের দেশের কৃষকদের সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ কিনেছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি হয়েছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। তার মানে বাংলাদেশ একাই আমদানি করেছিল ৪২ শতাংশ পেঁয়াজ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ কিনেছে বাংলাদেশ।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে, ঢাকায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ কম। তবে রপ্তানিকারকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, রপ্তানির নীতি ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলেই (যা মূলত স্থানীয় বাজারমূল্য দ্বারা প্রভাবিত হয়) ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো অন্যত্র কেনাকাটা করতে বাধ্য হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের ঐতিহ্যবাহী অনেক ক্রেতাকে হারাইনি, তারা ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে পেঁয়াজে স্বাবলম্বী হতেও শুরু করেছে।’
রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে না। সরকার যখন রপ্তানিকারকদের কাছে জানতে চায়, তখন তারা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
এইচপিইএ সরকারকে জানিয়েছে, সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা ইয়েমেন ও ইরান থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পেঁয়াজ কিনছে। এছাড়া স্থানীয় ফসল থেকেও তাদের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছে। এমনকি ফিলিপাইনসও চীন থেকে না পেলে তবেই ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে।
২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা পরবর্তী বছরগুলোয় কমতে কমতে থাকে। চলতি অর্থবছর এখন পর্যন্ত মাত্র ২২৩ টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করেছেন সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে ক্রমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। এ কারণে রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোয় পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে পেঁয়াজ উৎপাদন করছে। এই প্রবণতা ভারতীয় কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।


দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত বেড়ে ৩২১

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে আটকা পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিরাট এলাকাজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১–এ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেশিরভাগ এলাকায় পানি নামতে শুরু করায় তারা এখন আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার কাজ জোরদার করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিরাট অংশজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে, এদিকে মালাক্কা উপকূলেও বিরল এক ঝড় সৃষ্টি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে ১৭৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তিন প্রদেশের কর্তৃপক্ষ।

সুমাত্রার পদাং পারিয়ামান এলাকায় মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসিন্দারা এক মিটার পর্যন্ত উঁচু পানির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্যার পানি না কমায় শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি।

‘আমাদের খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে,’ বলেছেন ৪০ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ রাইস। গত বৃহস্পতিবার পানি বাড়তে থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।

দেশটির জাতীয় জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, দ্বীপটির অনেক জায়গা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং ভূমিধসের জঞ্জালে বন্ধ থাকা রাস্তা পরিষ্কারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।শুক্রবার বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিমানযোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে।

থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর হাত ইয়াইয়ে শুক্রবার বৃষ্টি থেমেছে। তবে বাসিন্দাদের এখনও গোড়ালি সমান উচ্চতার পানিকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বহু বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, বেশিরভাগই গত এক সপ্তাহে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে ব্যস্ত। একজন বলেছেন, তিনি ‘সবই হারিয়েছেন’।

প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায়ও এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড় ‘সেনিয়ার’ মধ্যরাতে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। উত্তাল সাগরে চলাচলে ছোট নৌযানকে সতর্কও থাকতে বলেছে তারা।

দেশটিতে ৩০ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল৩৪ হাজার।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের বন্যাকবলিত ২৫টিরও বেশি হোটেলে আটকা পড়া এক হাজার ৪৫৯ মালয়েশিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করেছে। এখনো প্রায় ৩০০ জন বন্যাক্রান্ত বিভিন্ন এলাকায় আটকা রয়েছেন, তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে।


শান্তি চুক্তি এখন অর্থহীন: পুতিন

ভ্লাদিমির পুতিন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের বর্তমান সরকার ‘অবৈধ’ এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি করা ‘অর্থহীন’।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি কোনো খসড়া চুক্তি নয়, বরং আলোচনার জন্য উত্থাপিত কিছু বিষয়মাত্র—যা ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।

পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন না হওয়ায় কিয়েভ সরকারের বৈধতা নষ্ট হয়েছে। তবে কিয়েভ বলছে, রাশিয়ার আগ্রাসন ও চলমান সামরিক আইন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিন দিনের কিরগিজস্তান সফর শেষে সাংবাদিকদের পুতিন বলেন, রাশিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় নিলেও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বসে কথা বলতে হবে। প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের দখলে থাকা অঞ্চল থেকে সরে গেলে যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। যদি তারা না সরে, তাহলে আমরা বলপ্রয়োগে তা বাস্তবায়ন করব।

আগেও পুতিন দাবি করেছেন, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের পুরো অংশ থেকে ইউক্রেনকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে—এমনকি যেসব এলাকা রাশিয়ার দখলে নেই, সেগুলো থেকেও। পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান বন্ধ রাখতে চান এবং পশ্চিমা সেনা উপস্থিতি নিষিদ্ধ করতে চান, যাতে দেশটিকে ধীরে ধীরে পুনরায় রাশিয়ার প্রভাবক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা যায়।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো সফর নির্ধারিত রয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল কিয়েভে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা চালায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাতের সূচনা করে।

শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কিরগিজস্তানে রাষ্ট্রীয় সফর চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতের কোনো চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে।

তিনি স্বীকার করেছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে, তবে কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি আছে। খসড়া পরিকল্পনাটির বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘সাধারণভাবে আমরা একমত যে এটি ভবিষ্যৎ চুক্তিগুলোর ভিত্তি হতে পারে।’ আরও আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই মস্কো সফর করবেন বলেও উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন দনবাস ও ক্রিমিয়া অঞ্চলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হয়ে যায়। তখন মনে করা হচ্ছিল যে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে রাশিয়া বেশি সুবিধা পাবে। এতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা বাদ দিতে বলা হয়েছিল। পরে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইউক্রেনের মুখ্য উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎস্যা বলেন, সংশোধিত সংস্করণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে ছয় লাখ সদস্যের সীমারেখা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টিও বাতিল করা হয়েছে।


‘তৃতীয় বিশ্ব’ থেকে অভিবাসন চিরতরে বন্ধ করছেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার জন্য কাজ করবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, তিনি ‘অ-নাগরিকদের’ জন্য সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করবেন।

তিনি আরও জানান, ‘যারা দেশের শান্তি নষ্ট করে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করবেন’ এবং ‘যে কোনো বিদেশিকে’ বহিষ্কার করবেন- যদি তারা ‘রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়, নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে, বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়’।

প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিতে এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলায় একজন আফগান নাগরিক জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর ঠিক পরপরই ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে আমি তৃতীয় বিশ্বের সকল দেশ থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে স্থগিত করব।’

একইসঙ্গে তিনি তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অনুমতি পাওয়া 'লাখো' মানুষের অনুমোদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকিও দেন।

তিনি অঙ্গীকার করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নন এমন সবাইকে বের করে দেওয়া হবে।’

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আমেরিকান নন এমন সব নাগরিককে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুবিধা দেওয়া বন্ধ করবেন।

পাশাপাশি, যেসব বিদেশি নাগরিক ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচিত অথবা ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না’, তাদের তিনি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবেন।

‘অবৈধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন জনসংখ্যা কমানোর লক্ষ্য অর্জনে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে’, যোগ করেন ট্রাম্প।

তিনি বিষয়টিকে ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পরিস্থিতির নিরসনে এই উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

পোস্টের শেষে মার্কিনিদের থ্যাংকসগিভিংয়ের শুভেচ্ছা জানান ট্রাম্প। তবে এটাও উল্লেখ করতে ভুলেননি, যে ‘যারা ঘৃণা, চুরি, হত্যা ও আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে যায় এমন সব কিছু ধ্বংসে লিপ্ত আছেন’, তাদের জন্য এই শুভেচ্ছা প্রযোজ্য নয় এবং ‘তারা খুব বেশিদিন এই দেশে থাকতে পারবেন না’, বলেও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।


পুরো গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস

কয়েকজন হামাস যোদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী ও প্রতিরোধ সংগঠন হামাস গাজায় শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে। এমনকি তারা এখন শক্তভাবেই পুরো গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে। দখলদার ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ কথা স্বীকার করেছে।

প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নিরাপত্তা রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হামাস নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠনের মাধ্যমে গাজার প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। দখলদার সেনাবাহিনীর মতে, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল-১৩ জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মন্ত্রিসভার কাছে যে তথ্য উপস্থাপন করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে- হামাস গাজা উপত্যকায় তাদের প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামো পুনর্গঠন করছে।

এসব পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২৫টি পৌরসভার মধ্যে ১৩টিই ইতোমধ্যে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে; হামাসের অধীনস্থ পুলিশবাহিনীও পুনরায় মোতায়েন হচ্ছে ও অভ্যন্তরীণ চেকপোস্ট স্থাপন করছে।

এদিকে ‘আরব ৪৮’ নামক এক ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হামাস গাজায় বিস্তৃত এলাকায় ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে ফিরে এসেছে এবং তাদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হামাসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে বিষয়টিকে গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন দৈনিকটির মতে, গাজার নিরাপত্তাই মূলত এই পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ। গত মাসে অস্ত্রবিরতি স্থিতিশীল হওয়া ও ইসরায়েলি বাহিনী পিছিয়ে আসার পর আবারও হামাস সদস্যদের সেখানকার রাস্তায় দেখা যায়। তারা পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে টহল দিচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের তৎপরতায় অপরাধ ও লুটপাটের হার কমে যাওয়াকে গাজার জনগণ স্বাগত জানাচ্ছে। এ বিষয়ে গাজা শহরের ব্যবসায়ী হাজিম সারুর বলেছেন, ‘আমরা নিরাপত্তার ভাঙন দেখেছি, যার সঙ্গে ছিল চুরি, দাঙ্গাবাজি ও আইনহীনতা। হামাস ছাড়া কেউ তা থামাতে পারে না, এ কারণেই মানুষ তাদের সমর্থন করে।’

এদিকে মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদল গত ২৫ নভেম্বর কায়রোতে একত্রিত হয়, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার জন্য। এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি গাজায় অস্ত্রবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ।

মিসরের গোয়েন্দা বিভাগের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি মিসর ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা জোরদার করার পথগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পশ্চিম তীরে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরে আত্মসমর্পণকারী এবং নিরস্ত্র অবস্থায় থাকা দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি টিভির সংবাদে নৃশংস এই ঘটনার ফুটেজ দেখানো হয়।

ফুটেজে দেখা যায়, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর জেনিনে সশস্ত্র ইসরায়েলি বাহিনী একটি ভবন অবরুদ্ধ করে আছে। সেখান থেকে দুই যুবককে বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। তারা নিরস্ত্র ছিল - তাদের শার্ট তুলে বারবার সেটি দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং মাটিতে শুয়ে পড়ে আত্মসমর্পণ করছেন।

এ সময় দখলদার বাহিনীর কয়েকজন সশস্ত্র লোক তাদের ঘিরে ধরে এবং খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুলিতে যে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন তারা হলেন, ২৬ বছর বয়সি মনতাসির আবদুল্লাহ এবং ৩৭ বছর বয়সি ইউসুফ আসাসা।

দখলদার বাহিনী বরাবরের মতোই দাবি করেছে, গুলি চালানোর পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তারা আত্মসমর্পণের পরও কেন গুলি চালানো হলো, সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। জেনিনের গভর্নর কামাল আবু আল-রুব এটিকে ‘ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তারা নিরস্ত্র ছিল এবং আত্মসমর্পণ করেছিল।

ফিলিস্তিনের যে জায়গা দখল করতে চায় ইসরায়েল

দখলকৃত পশ্চিমতীরে রোমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সরকারের একটি নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। দখল করা হলে এটি হবে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূমি দখল। পুরোনো পাথরে জমে থাকা ইতিহাসের মাঝে এই নতুন উত্তেজনার গন্ধ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

পশ্চিমতীরে রোমান যুগের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের কথা এমন এক সময় সামনে এলো যখন এই অঞ্চলে লাগামহীন সহিংসতা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মহল ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলিদের হামলা প্রায়শই হচ্ছে কোনো বাধা ছাড়াই, এবং অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায়। ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, তারা পশ্চিমতীরের সেবাস্তিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিতে চায়। স্থানটি প্রায় ৪৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি রোমান যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।

‘পিস নাও’ নামের একটি বসতি-বিরোধী সংগঠন মনে করছে, গত ১২ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি আদেশেই দখল করতে চাওয়া জমির তালিকা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, এই দখলের উদ্দেশ্য একটাই—পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে সেবাস্তিয়ার প্রত্নস্থলকে নিজেদের মতো সাজানো।

ধারণা করা হয়, সেবাস্তিয়ার ধ্বংসাবশেষের নিচেই ছিল প্রাচীন সামারিয়া রাজ্যের রাজধানী। খ্রিস্টান ও মুসলমান উভয়ই বিশ্বাস করেন যে জন দ্য ব্যাপটিস্টের সমাধিও এখানে আছে। এই বিষয়ে আপত্তি জানানোর জন্য ফিলিস্তিনিদের মাত্র ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।


হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হংকংয়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪ জনে পৌঁছেছে। গত বুধবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

দমকল কর্মীরা আজ শুক্রবার আবাসিক ওই বহুতল ভবনের শেষ ফ্ল্যাটগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটটি আবাসিক ভবনের ওই কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পর চারটি ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ওই কমপ্লেক্সে প্রায় ২ হাজার ইউনিট রয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। যার মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর ও ২৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক লোক নিখোঁজ রয়েছে। যদিও এই নিখোঁজ লোকদের সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

সুয়েন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ভয়াবহ এই আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। আমি দেখলাম, পানি দিয়ে কয়েকটি ভবনকে আগুনের কবল থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তখন আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে এই কাজটি ‘খুবই ধীর গতিতে’ চলছে।

শুক্রবার ঘটনাস্থলে থাকা এএফপি’র একজন প্রতিবেদক বলেন, ওয়াং ফুক কোর্টে আগুনের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে ভবনের ভেতর থেকে এখনও মাঝে মাঝে স্ফুলিঙ্গ ও ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আগুনের সূত্রপাতের কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে ভবনগুলোর চারপাশে থাকা বাঁশের মাচা ও প্লাস্টিকের জালের বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজের তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে তারা অগ্নিকাণ্ডের স্থানে অবহেলার সঙ্গে ফোম প্যাকেজিং ফেলে দেওয়ার সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। সূত্র: বাসস


বই-ব্যাগ ছাড়াই স্কুলে ফিরছে গাজার শিশুরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কাঁধে ব্যাগ নেই; নেই বই বা ইউনিফর্ম। পরনে ছেঁড়া জামা আর জোড়াতালি দেওয়া প্যান্ট। তবু প্রতিদিন গাজা সিটির ভাঙা রাস্তায় হেঁটে হেঁটে অস্থায়ী স্কুলে যায় ১১ বছরের লাইয়ান হাজি।

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে তার এই পথচলা যেন বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মাঝেও আশার আলো খোঁজার যাত্রা।

লাইয়ান বলে, ‘অন্তত আধা ঘণ্টা কষ্টকরে হাঁটতে হয়। চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তূপ। খুব মন খারাপ হয়। তবু আবার পড়াশোনা করতে পেরে আমি খুশি। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।’

গাজা সিটি থেকে এএফপি জানায়, দু’বছর ধরে চলা ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের পর গাজার শিশুদের জন্য ফের কিছু স্কুল খুলেছে। আল-লুলুয়া আল-কাতামি স্কুলে লায়ানের মত প্রায় ৯শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শুরু করেছে।

তবে এই স্কুল এখন আর আগের সেই স্কুল নেই। দেয়াল ও করিডোরে কোন রঙ নেই, নেই রং-বেরংয়ের আঁকিবুকিও। ভাঙা স্কুলভবনের ভেতরে টাঙানো তাঁবুই এখন তাদের শ্রেণিকক্ষ।

লাইয়ান জানায়, ‘বই নেই, খাতাও নেই। বোমা হামলায় লাইব্রেরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ এবং গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি সোদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকাগুলোর শিশুরা ধীরে ধীরে স্কুলে ফিরতে শুরু করেছে।

১৬ বছরের সাঈদ শেলদানও স্কুলে ফিরতে পেরে আনন্দিত। কিন্তু লায়ানের মত তার কাছেও কোন শিক্ষা উপকরণ নেই। নেই চেয়ার-টেবিল, বিদ্যুৎ কিংবা পানিও।

সে জানায়, ‘প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি সংগ্রহ করতে হয় এবং রুটির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়।’

যুদ্ধের মধ্যে শেলদানের পরিবারকে কমপক্ষে ১০ বার বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। বর্তমানে তাদের আর কোন বাড়ি নেই।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ৫০ বছর বয়সী ইমান আল-হিনাওয়ি আশা করছেন খুব শিগগিরই বিনামূল্যে বই ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করতে পারবেন।

তবে আক্ষেপ করে জানান, যুদ্ধে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী নিহত হওয়ার কারণে গাজার অনেক শিশু ‘কঠোর শ্রম’ করতে বাধ্য হচ্ছে।

জাতিসংঘ যেখানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছিল, সেই অঞ্চলের শিশুরা এখনও ‘কাঠ কুড়ায়, পানি সংগ্রহ করে, এমনকি খাবারের জন্য লাইনেও দাঁড়ায়।’

এএফপি সংবাদদাতারা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন, প্লাস্টিকের বালতি, পুরনো হাঁড়ি কিংবা শুধু প্লেট হাতে অসংখ্য শিশু ভীড়ের মধ্যে কান্না আর চিৎকার করতে করতে তাদের পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহ করছে।

যদিও শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে স্কুলে নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি চালু হয়েছে। পড়ানো হচ্ছে খেলাধুলার মাধ্যমে। মেয়েরা নাচের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গণিত সমাধান করছে। কেউবা অভিনয় করে কবিতা আবৃত্তি করছে।

স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফয়সাল আল-কাসাস বলেন, শিশুরা সবসময়ই রুটি ও পানির সংগ্রহের লাইনের চিন্তায় মগ্ন থাকে।

গাজার ৯৭ শতাংশ স্কুল কোন না কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সেগুলোর বেশিরভাগেরই পুনর্নির্মাণ বা বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

এসব স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বহু ফিলিস্তিনি ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের দাবি, হামাস যোদ্ধারা এসব স্থাপনায় লুকিয়ে ছিল।

স্কুলগুলো মূলত আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন ইউএনআরডব্লিউএ সেখানে অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র খুলেছে।

গত মাসে সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানান, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার শিশু পড়াশোনা শুরু করেছে। আরও তিন লাখ শিশু অনলাইনে ক্লাস করবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গাজায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি।

দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থানীয় উদ্যোগে শিশুদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

‘এডুকেশন অ্যাবাব অল ফাউন্ডেশন’ নামে কাতার ‘রিবিল্ডিং হোপ ফর গাজা’ কর্মসূচি চালু করেছে। এতে ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্কুল নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ, ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা এবং মানসিক সহায়তা দেওয়া। তবে আল-মাওয়াসির একটি স্কুলে আপাতত আরবি, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান এই চার বিষয় পড়ানো হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হাযেম আবু হাবিব বলেন, ‘প্রাথমিক কোর্স দিয়ে শুরু হলেও আমরা যত বেশি সম্ভব শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে চাই।’

যুদ্ধের আগে গাজা নিরক্ষরমুক্ত ছিল। আর এখন শিক্ষাই সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে।


banner close