সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
৫ মাঘ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই
আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজারে পৌঁছেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে চলমান দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তিনি ‘নিরপরাধ ইরানিদের’ হত্যার জন্য ‘সন্ত্রাসী এবং সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে আরও বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দিশ এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় এবং অতীতের সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটিয়েছে।’

কর্মকর্তা আরও বলেন, মৃতের সংখ্যা দ্রুত এতো বৃদ্ধি পাবে তা মোটেই আশাযোগ্য নয়। ইসরায়েল এবং বিদেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাস্তায় নেমে আসা ব্যক্তিদের সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে সাহায্য করেছে।’

ইরানি কর্তৃপক্ষ এই নিয়মিত অস্থিরতার জন্য বিদেশী শত্রুদের বিশেষ করে ইসরায়েলকে দায়ী করেছে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রধান শত্রু। যারা জুন মাসে ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক (এইচআরএএনএ) অধিকার গোষ্ঠী শনিবার জানিয়েছে, ইরান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটির এই সংঘাতে আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।এছাড়াও এইচআরএএনএ ২৪ হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, নরওয়েতে অবস্থিত ইরানি কুর্দি অধিকার গোষ্ঠী হেনগাও জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি এলাকাগুলোতে।


তেলের আশীর্বাদ থেকে অভিশাপ:  ভেনিজুয়েলার শিক্ষা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলার ইতিহাস আমাদের সামনে এক কঠিন কিন্তু অপরিহার্য প্রশ্ন তুলেধরে- প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য কি সত্যিই একটি দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে? তেলের বিপুল ভান্ডার থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার বর্তমান বাস্তবতা এই প্রশ্নের উত্তরকে গভীর সন্দেহের মুখে দাঁড় করায়। দেশটির অভিজ্ঞতা দেখায়, সম্পদ যদি সঠিক নীতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা উন্নয়নের বদলে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের জন্ম দিতে পারে। স্পেনীয় উপনিবেশ স্থাপনের বহু আগে ভেনিজুয়েলার ভূখণ্ড ছিল আরাওয়াক, কারিবসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি। তারা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিকাজ, শিকার ও মাছ ধরার মাধ্যমে জীবন গড়ে তুলেছিল। ষোড়শ শতকে স্পেনীয় উপনিবেশবাদ এই স্বাভাবিক সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেয়। ইউরোপ থেকে আসা রোগ, জোরপূর্বক শ্রম ও সহিংসতা আদিবাসী সমাজকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। উপনিবেশিক অর্থনীতি কোকো ও কফির মতো কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং ভূমি ও ক্ষমতা সীমিত একটি শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়—যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব স্বাধীনতার পরও রয়ে যায়।

উনিশ শতকের শুরুতে সিমন বলিভারের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন ভেনিজুয়েলাকে রাজনৈতিক মুক্তি দিলেও অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর দেশটি দীর্ঘদিন সামরিক শাসন, আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে আটকে থাকে। সাধারণ মানুষের জীবন তখনও দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রের সীমিত উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

বিশ শতকের শুরুতে তেলের আবিষ্কার ভেনিজুয়েলার জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দেয়। ১৯২২ সালে মারাকাইবো অঞ্চলে তেল উত্তোলন শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক হয়ে ওঠে। তেল রপ্তানি থেকে বিপুল রাজস্ব আসতে থাকে, শহরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হয়, অবকাঠামো গড়ে ওঠে। কিন্তু এই উন্নয়নের আড়ালে একটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়—অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কৃষি ও শিল্প খাত অবহেলিত হয় এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য গড়ে ওঠে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে, বিশেষ করে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ভেনিজুয়েলার মাথাপিছু আয় লাতিন আমেরিকার মধ্যে অন্যতম উচ্চ ছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটে। ১৯৭০-এর দশকে তেলের দাম বৃদ্ধির পর সরকার তেল শিল্প জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পিডিভিএসএ গঠন করে। তবে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব তেল আয়ের সঠিক ব্যবহারকে ব্যাহত করে। উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও তা ছিল ভঙ্গুর এবং তেলমূল্যের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল।

এই ভঙ্গুরতা প্রকট হয়ে ওঠে ১৯৮০-এর দশকে তেলের দাম কমে গেলে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, ঋণ সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ১৯৮৯ সালে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘কারাকাসো’ গণবিক্ষোভ রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার বিশ্বাস ভেঙে পড়ার প্রতীক হয়ে ওঠে। দমন-পীড়নের মাধ্যমে সেই সংকট সামাল দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা গভীর হয়।

এই প্রেক্ষাপটে হুগো চাভেজের উত্থান ঘটে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার কথা বলেন। তেল আয়ের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়। প্রথম দিকে এসব উদ্যোগ বহু মানুষের জীবনমান উন্নত করে। তবে অর্থনীতির বৈচিত্র্য না এনে আরও বেশি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রণ এবং তেলনির্ভরতা ভবিষ্যতের সংকটকে আরও গভীর করে তোলে।

চাভেজের মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে বৈশ্বিক তেলের দাম পতনের সঙ্গে সঙ্গে সংকট চরম আকার ধারণ করে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপানোর ফলে দেশটি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়ে। খাদ্য ও ওষুধের সংকট, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পানির অনিয়মিত সরবরাহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়।

এই অভ্যন্তরীণ সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনিজুয়েলার দীর্ঘ ও সংঘাতময় সম্পর্ক। ঠান্ডা যুদ্ধোত্তর সময়ে তেল ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুগো চাভেজ ও পরবর্তী সময়ে নিকোলাস মাদুরোর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শিক বিরোধ প্রকট হয়। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর ধারাবাহিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, বিশেষ করে তেল খাতকে লক্ষ্য করে। এসব নিষেধাজ্ঞা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে—রপ্তানি কমে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির মাধ্যমে।

ভেনিজুলার বাস্তবতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি দেশের সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ ভুল সিদ্ধান্তের ফল নয়; আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিষেধাজ্ঞা ও শক্তির ভারসাম্যও সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে কোনো দেশই বহিরাগত চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে না।

ভেনিজুয়েলার ইতিহাস তাই শুধু একটি দেশের উত্থান-পতনের কাহিনি নয়; এটি সব সম্পদসমৃদ্ধ উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই সুশাসন, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও মানবকেন্দ্রিক নীতির বিকল্প নয়। ভেনিজুয়েলার অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সম্পদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সম্পদ ব্যবহারের প্রজ্ঞা।

লেখক: ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে।


বৈশ্বিক সমুদ্র সম্পদ ঘিরে আর্কটিকের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক মহাসাগরের বরফ গলতে শুরু করায় রাশিয়ার নর্দার্ন সি রুট এবং কানাডার নর্থওয়েস্ট প্যাসেজের মতো নতুন নৌপথগুলো উন্মুক্ত হচ্ছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই পরিবর্তন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যের সিংহভাগ এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকা সরাসরি এর ওপর নির্ভরশীল। তবে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি এবং কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের অনেক জলরাশি সঠিকভাবে মানচিত্রায়িত না হওয়া এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা যেকোনো বড় দুর্ঘটনা সামাল দেওয়া কঠিন করে তুলছে। যদিও ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে আর্কটিক কাউন্সিলের কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তবুও বিজ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের তাগিদে নিকেল ও কোবাল্টের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বিশ্বের নজর পড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর তলদেশের দিকে। বিশেষ করে চীন নিয়ন্ত্রিত খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে গভীর সমুদ্রের খনিজ ভাণ্ডার আহরণে সরকার ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় এবং খননের ফলে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায় বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ এই কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় খনিজ আহরণ নিয়ে কাজ করা ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটি এখনো খনন চূড়ান্ত করতে না পারায় নরওয়ের মতো দেশগুলো ২০২৯ সাল পর্যন্ত তাদের লাইসেন্স স্থগিত রেখেছে। পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে বিএমডব্লিউ, ভলভো ও গুগলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোও আপাতত গভীর সমুদ্রের খনিজ ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছে।

সমুদ্রের এই বহুমুখী সংকটের মধ্যে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ উপকূলীয় জনপদের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে অনেক দেশ ‘হাই সিজ ট্রিটি’ অনুমোদন করে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংরক্ষিত এলাকা গঠনের পথ প্রশস্ত করেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো যৌথভাবে মাছ ধরার কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপরই এখন নির্ভর করছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সমুদ্রকেন্দ্রিক টেকসই নিরাপত্তা। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে সমুদ্রের এই ত্রিমুখী সংকট—নৌপথের প্রতিযোগিতা, খনিজ আহরণ এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা—মোকাবিলা করাই এখন বিশ্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


ইন্দোনেশিয়ায় প্লেনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ১১

ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ প্লেনের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ ছোট প্লেনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। প্লেনটি দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপের একটি পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্লেনটিতে ১১ জন আরোহী ছিলেন যাদের সকলেই নিখোঁজ রয়েছে।

বিমানে আটজন ক্রু সদস্য এবং সামুদ্রিক বিষয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা আকাশপথে সামুদ্রিক নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে যাত্রা করছিলেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাভা দ্বীপের জাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রাপথে প্লেনটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার দফতরের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানিয়েছেন, রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধারকারী দল মাউন্ট বুলুসারাউংয়ের ঢালে জঙ্গলে একটি বিমানের জানালার অংশ দেখতে পায়। পরে স্থলে থাকা উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে বিমানের মূল কাঠামো ও পেছনের বড় অংশ উদ্ধার করে যা পাহাড়ের উত্তর দিকের খাড়া ঢালে ছড়িয়ে ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার বলেন, বিমানের প্রধান অংশগুলোর সন্ধান পাওয়ায় অনুসন্ধান এলাকা অনেকটাই সীমিত করা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের যৌথ উদ্ধার দল মূলত যাত্রী ও ক্রুদের খোঁজে মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে কেউ জীবিত থাকলে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বিমানটি ছিল একটি টার্বোপ্রপ এটিআর- ৪২-৫০০ যা ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট পরিচালনা করছিল। শেষবার এটি দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস জেলার পাহাড়ি লিয়াং-লিয়াং এলাকায় শনাক্ত হয়।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির হাসানউদ্দিন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওকো জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হলেও রোববার স্থল ও আকাশপথে অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল।

জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ঘন কুয়াশায় ঢাকা সরু ও খাড়া পাহাড়ি পথে হেঁটে ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগের জন্য ছোট প্লেন ও ফেরির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি একাধিক প্লেন দুর্ঘটনা, বাস দুর্ঘটনা ও ফেরি ডুবে যাওয়ার মতো পরিবহন দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে।


রেজা পাহলভির নেতৃত্বে নতুন ইরান?

রেজা পাহলভি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ওয়াশিংটনে সপরিবারে বসবাসকারী ৬৫ বছর বয়সি এই সাবেক রাজপুত্র দৃঢ়তার সাথে বলেন, প্রশ্নটি এখন আর ‘যদি’ নয় বরং ‘কখন’ সরকার পড়বে তার ওপর নির্ভর করছে। তিনি নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে রূপান্তরের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর মতে, সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪২৮ ছাড়িয়েছে, যদিও অন্যান্য সূত্রমতে এই সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও গত দুই সপ্তাহে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি, বরং সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছে এবং এর জন্য তিনি তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন নরম অবস্থানে পাহলভি তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যেন তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার মতো ভুল না করেন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।

রেজা পাহলভি তার বক্তব্যে ইরানের এলিট বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ড কাঠামোর ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার জোরালো দাবি জানান। এছাড়া তিনি বিশ্বের সব দেশকে ইরানের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করার এবং দেশটিতে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর বিষয়ে সহায়তা করার অনুরোধ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে ক্ষমতায় এলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক গড়বেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ‘সাইরাস অ্যাকর্ড’ নামক ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করবেন।

ইরানের রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পাহাড় সমান সমালোচনা থাকলেও পাহলভি দাবি করেন, তিনি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে চান যা পরে গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সরকার ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে।

তার বাবার আমলের দমন-পীড়ন নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ইতিহাস লেখার দায়িত্ব ইতিহাসবিদদের, তিনি এখানে নতুন ইতিহাস গড়তে এসেছেন। ভাষণের শেষে তিনি অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করেন, তিনি ইরানে ফিরে যাবেন এবং দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবেন।


যেভাবে ভেনিজুয়েলা ছেড়ে পালান মাচাদো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিকোলাস মাদুরো সরকারের দমন-পীড়ন এবং গুম হওয়ার শঙ্কায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এরমাঝেই জানতে পারেন শান্তিতে নোবেল পেতে যাচ্ছেন। তড়িঘড়ি করে তাই ভেনিজুয়েলা থেকে পালানোর পরিকল্পনা করেন।

ঝড়-বৃষ্টির মাঝে দীর্ঘ সময়ের লড়াইয়ের পর সমুদ্রে তাকে নিরাপদে নেওয়ার সেই গল্প শুনিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উদ্ধারকারী দল গ্রে বুল। তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখানো হয়, কিভাবে মারিয়া পালিয়ে নরওয়ে পৌঁছান। খবর সিএনএন’র

গ্রে বুলের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল সমুদ্রে একটি ছোট নৌকা থেকে মাচাদোকে একটি দ্রুতগতির নৌযানে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে মাচাদো নিজেই নিশ্চিত করেন যে তিনি ‘জীবিত এবং নিরাপদ’ আছেন। ভেনিজুয়েলায় আত্মগোপনে থাকার কয়েক মাস পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্যে আসা।

উদ্ধারকারী দলটির প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান স্টার্ন জানান, এই অভিযানে ভেনিজুয়েলার উপকূল থেকে নৌকায় রওনা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গিয়ে মাচাদোকে তুলে নেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্ধারকারী দলটি মাঝ সাগরে আরেকটি নৌকায় অপেক্ষা করছিলেন।

শুক্রবার প্রকাশিত দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে মাচাদো কীভাবে দ্বিতীয় নৌকাটিতে পৌঁছে সেটিতে ওঠেন। মাচাদোর নৌকার আলো দূর থেকে দেখা গেলে স্টার্নকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই যে ওরাই’। মাচাদোর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্টার্ন তাকে নৌকায় তুলতে সাহায্য করেন, ভিডিওতে সেটি দেখা যায়নি যদিও।

নৌকায় ওঠার সময় স্টার্নকে বলতে শোনা যায়, ‘হাই, মারিয়া। আমার নাম ব্রায়ান। আপনাকে পেয়ে ভালো লাগছে। আমি আপনাকে নিরাপদে নিয়েছি।’ জবাবে মাচাদো বলেন, ‘আমি খুব ভিজে গেছি, খুব ঠাণ্ডা লাগছে।’

ভিডিওর পরের অংশে দেখা যায়, গাঢ় রঙের জ্যাকেট ও টুপি পরে মাচাদো সরাসরি ক্যামেরার দিকে কথা বলছেন, ‘আমি মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আমি জীবিত। আমি নিরাপদ এবং গ্রে বুলের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ।’

ভিডিওর শেষদিকে স্টার্ন ও তার দলের সঙ্গে মাচাদোর কয়েকটি স্থির ছবি দেখানো হয়। ছবিগুলোর ওপর স্টার্নের কণ্ঠ শোনা যায়, যেখানে তিনি নিশ্চিত করেন যে তারা সফলভাবে তার কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। এসময় স্টান বলেন, তারা ভেনিজুয়েলার কাছের দ্বীপ কুরাসাওর দিকে যাত্রা করছেন।

স্টার্ন জানান, দীর্ঘ, ঠান্ডা ও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ যাত্রার পর তারা ভোরের দিকে তীরে পৌঁছান। সেখান থেকে মাচাদো একটি বিমানে করে নরওয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

গ্রে বুল জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানটি প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে চলে এবং এর বেশিরভাগ অংশই উত্তাল সমুদ্রে গভীর রাতে। এই দলটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধারে কাজ করে। স্টার্নের নেতৃত্বে তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০০টি অভিযান পরিচালনা করেছে।

শুক্রবারের (১৬ জানুয়ারি) আগে মাচাদো নিরাপত্তাজনিত কারণে উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। এ বিষয়ে সিএনএন তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেও জবাব পায়নি।

তবে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মাচাদো জানিয়েছিলেন, তিনি মার্কিন সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন। তবে বিস্তারিত বলতে চাননি। সেসময় মাচাদো বলেন, ‘একদিন আমি সব বলব। কারণ এখন আমি তাদের ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না।

মাচাদোকে উদ্ধারের এই অভিযানটি অজ্ঞাত দাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রে বুলের অধিনায়ক স্টার্ন। তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন, মার্কিন সরকারের সরাসরি কোনো সহায়তা এখানে ছিল না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সমুদ্রে তাদের উপস্থিতির বিষয়ে তার দল মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।

আমেরিকার বিশেষ অভিযানে ভেনিজুয়েলার সরকারপ্রধান মাদুরো স্বস্ত্রীক আটক হয়েছেন। তাকে মাদকপাচারের মামলায় আদালতে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেলিস রদ্রিগেজ। তবে দেশটির বিরোধী দলের নেতা ও নোবেল শান্তি পাওয়া মাচাদো এখন কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। তবে বিশ্বের বেশ কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ইউরোপের বাইরে থাকতে পারেন।


বিয়ে করলেই ১৬ লাখ, সন্তান নিলে মিলবে ৩২ লাখ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আল হাবতুর গ্রুপ কর্মীদের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আমিরাতি কর্মীদের বিয়ে ও পরিবার গঠনে উৎসাহিত করতে বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেই তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে ১৬ লাখ টাকা সমপরিমাণ অর্থ। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর সন্তান জন্ম দিলে এই সুবিধা আরও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হবে।

দুবাইয়ের প্রখ্যাত ধনকুবের এবং আল হাবতুর গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খালাফ আল হাবতুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো আমিরাতি নাগরিক বিয়ে করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার দিরহাম বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিয়ের দুই বছরের মধ্যে ওই দম্পতির ঘরে নতুন অতিথি বা সন্তান আসলে অনুদানের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ লাখ টাকার সমান।

খালাফ আল হাবতুর তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, বিবাহ এবং পরিবার গঠনকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখেন না, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী জাতি এবং স্থিতিশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সরকার যেভাবে যুবসমাজকে পারিবারিক জীবন শুরু করতে সহায়তা করে, ঠিক তেমনি দেশের সচ্ছল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত এমন বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ১৫ লাখে পৌঁছালেও সেখানে স্থানীয় নাগরিকদের হার মাত্র ১৫ শতাংশ। জনসংখ্যার এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবং স্থানীয় নাগরিকদের পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছে। আল হাবতুর গ্রুপের এই উদ্যোগ মূলত বেসরকারি খাতে আমিরাতি নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং তাদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই ঘোষণা সরকারি প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে এবং তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে।


বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত অন্তত ৫ হাজার, স্বীকার করলো ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে দেশটির সরকার। রবিবার দেশটির একজন আঞ্চলিক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় হতাহতের তথ্য যাচাই-বাছাই করে কর্তৃপক্ষ এই পরিসংখ্যান পেয়েছে। সরকারি ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা নিরীহ ইরানিদের হত্যা করেছে।

সরকারি ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সক্রিয়তা এবং অতীতের সহিংসতার রেকর্ডের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল এবং বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহ করছে। ইরান সরকার বরাবরের মতোই দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করেছে, যার মধ্যে তাদের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নামও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানির দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস ইরানি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ এবং বিক্ষোভে আহতের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার। ইরানি-জার্মান চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর আমির পারাস্তা সানডে টাইমসকে জানান, এবারের দমন-পীড়নে মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের মাথা, গলা ও বুকে গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া শটগানের গুলিতে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ শনিবার জানিয়েছিল, তাদের তথ্যমতে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে এবং আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও নিশ্চিত করেছে যে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে সহিংস রূপ ধারণ করেছিল।

উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি চরম আকার ধারণ করে। সে সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এবং ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে বর্তমানে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশে সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও তারা নিষিদ্ধ স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে হতাহতের এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।


গুয়াতেমালায় তিনটি কারাগার দখলে নিয়ে বন্দিদের দাঙ্গা: ৪৬ জন জিম্মি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার কারা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির তিনটি কারাগারে একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বন্দিরা। শনিবার সংঘটিত এই দাঙ্গার সময় বন্দিরা কারাগারের টহল টাওয়ার এবং বিভিন্ন উঁচু স্থান দখল করে নেয়। একই সঙ্গে দাঙ্গাকারী বন্দিরা অন্তত ৪৬ জন ব্যক্তিকে জিম্মি করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই জিম্মিদের মধ্যে বেশিরভাগই কারারক্ষী, তবে তাদের সঙ্গে একজন মনোবিজ্ঞানীও আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো অ্যান্তোনিও ভিলেদা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল পর্যন্ত জিম্মিদের মধ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি এই ঘটনার জন্য কুখ্যাত ‘ব্যারিও ১৮’ গ্যাং সদস্যদের দায়ী করেছেন। ভিলেদা জানান, এই তিনটি কারাগারে দাঙ্গা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত গ্যাংটির নেতারা উন্নত পরিবেশ ও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশায় অন্য একটি কারাগারে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছে এবং সেই দাবি আদায়েই তারা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে যাবেন না এবং তাদের ব্ল্যাকমেইলের কাছে সরকার মাথা নত করবে না।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে গুয়াতেমালা সরকার কারাগারের অভ্যন্তরে অপরাধী চক্রের আধিপত্য কমানোর জন্য বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ব্যারিও ১৮ এবং মারা সালভাত্রুচার মতো ভয়ংকর গ্যাং নেতাদের ‘রেনোভাশন ১’ নামক একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগারে স্থানান্তর করে তাদের বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এর ফলে আগে কারাগারের ভেতর থেকে তারা যেভাবে বাইরের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করত, সেই সুযোগটি বন্ধ হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্যাং নেতাদের এই বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বাতিল করার সরকারি পদক্ষেপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন ‘রেনোভাশন ১’ কারাগারসহ বিদ্রোহ কবলিত অন্যান্য কারাগারের চারপাশ বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ দল ঘিরে রেখেছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে পারে। কারাগারের টহল টাওয়ারগুলোতে বন্দিদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে, যাদের অনেকের মুখ কাপড়ের মাস্ক দিয়ে ঢাকা। কাঁটাতারের আড়াল থেকে এক মুখোশধারী বন্দি অভিযোগ করেছে যে তারা কারাগারে নিরাপদ নয় এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে ফ্রাইজানেস-২ কারাগার থেকে ব্যারিও ১৮ গ্যাংয়ের ২০ জন শীর্ষ নেতা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর দেশটির তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো অ্যান্তোনিও ভিলেদা দায়িত্ব গ্রহণ করে কারাগার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নীতি প্রয়োগ শুরু করেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালা উভয় দেশই ব্যারিও ১৮ গ্যাংকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার ফলে তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনায় বসা বা সুবিধা দেওয়া সরকারের জন্য আইনত নিষিদ্ধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীদের সুবিধা দেওয়া মানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, যা সরকার হতে দেবে না।


বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তারেক রহমান, পেছনে ফেললেন ট্রাম্পকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তালিকায় সম্মানজনক স্থান করে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্লেড প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তিনি ৬৩তম অবস্থানে উঠে এসেছেন। রবিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই তথ্যে দেখা যায়, জনপ্রিয়তার এই দৌড়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন। র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী ট্রাম্পের অবস্থান তারেক রহমানের চেয়ে চার ধাপ নিচে।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে রবিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সোশ্যাল ব্লেডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কনটেন্ট পোস্টের সংখ্যা এবং জনসম্পৃক্ততা বা এনগেজমেন্টের বিচারে তারেক রহমানের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজটি বর্তমানে দারুণ অবস্থানে রয়েছে। তার পেজে বর্তমানে ৫৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি লাইক রয়েছে এবং পেজটি নিয়ে আলোচনার মাত্রা বা এনগেজমেন্ট প্রায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজারের ওপরে। পেজটির এমন চমৎকার পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কারণে সোশ্যাল ব্লেড এটিকে এ প্লাস প্লাস বা সর্বোচ্চ গ্রেড প্রদান করেছে।

বিশ্লেষণধর্মী ওই ওয়েবসাইটের তথ্যে আরও দেখা যায়, গত ১৪ দিনে তারেক রহমানের পেজে প্রায় ৪৮ হাজার নতুন লাইক যুক্ত হয়েছে এবং দৈনিক গড়ে ৩৯ হাজারেরও বেশি লাইক বাড়ছে। সোশ্যাল ব্লেড মূলত ফেসবুকে যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় এবং যাদের কনটেন্ট সর্বাধিক শেয়ার করা হয়, তাদেরই শীর্ষ ক্রিয়েটরের তালিকায় স্থান দেয়। সেই মানদণ্ডেই তারেক রহমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিলেন।


গ্রিনল্যান্ড না বেচলে ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দিলে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কেনার কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে আগামী ১ জুন থেকে এই শুল্কের হার আরও বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং সেখানে মজুদ থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও বেছে নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ডেনমার্কের অনুরোধে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ দ্বীপটিতে সামরিক সদস্য পাঠিয়েছে, যা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা এবং তারা এমন ঝুঁকি তৈরি করেছে যা গ্রহণযোগ্য নয়।

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা ছাড়া অন্য কোনো সমাধান মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতারা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে বিস্ময়কর হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা রক্ষার উদ্যোগের জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপানো সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত।

এই ঘটনার জেরে ডেনমার্কের বিশাল আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের এমন দাবির প্রতিবাদে শনিবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বিক্ষোভকারীরা দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিজস্বভাবে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।


ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটি ছেড়েছে মার্কিন সেনারা, পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরাকি বাহিনীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে অবশেষে মার্কিন সেনারা তাদের অবস্থান প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কেবল মার্কিন বাহিনীই নয়, তাদের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের অন্যান্য দেশের সেনারাও এই ঘাঁটি ত্যাগ করেছে। শনিবার ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন ও জোট বাহিনীর সরে যাওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরাকি সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এই ঘাঁটিটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক ইতিহাসে বেশ আলোচিত। ২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এক মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে অবস্থানরত অনেক মার্কিন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত বা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই সামরিক স্থাপনাটি।

মূলত ২০২৪ সালে বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেনা প্রত্যাহার চুক্তির অংশ হিসেবেই এই সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। ইরাকি সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, লজিস্টিক বা রসদ সংক্রান্ত কিছু কাজ বাকি থাকায় নগণ্য সংখ্যক সেনা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। কাজ শেষ হওয়ামাত্রই তারাও ঘাঁটি ত্যাগ করবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কখন থেকে সেনা প্রত্যাহারের মূল কার্যক্রম শুরু করেছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শত শত সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। চূড়ান্ত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ঘাঁটি খালি করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল, যা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।


ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক: সম্পদের পরিমাণ ৭৮০ বিলিয়ন ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ইলন মাস্কের আধিপত্য দিন দিন আরও সুসংহত হচ্ছে। সম্পদ বৃদ্ধির যে অবিশ্বাস্য গতি তিনি ধরে রেখেছেন, তাতে ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। টেসলা ও স্পেসএক্সের এই প্রধান নির্বাহী বর্তমানে ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৮০০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার কোটি ডলারে।

মাস্কের সম্পদের এই সাম্প্রতিক উল্লম্ফনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই হোল্ডিংস। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই নতুন বিনিয়োগের পর কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ২৫০ বিলিয়ন ডলারে। অথচ গত মার্চে যখন এক্সএআইকে মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স বা সাবেক টুইটারের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন কোম্পানিটির মূল্য ধরা হয়েছিল ১১৩ বিলিয়ন ডলার। নতুন বিনিয়োগের ফলে দেখা যাচ্ছে, সেই মূল্যায়নের তুলনায় বর্তমানে এক্সএআইয়ের বাজারমূল্য বহুগুণ বেড়েছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে এক্সএআই হোল্ডিংসে মাস্কের ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের তুলনায় ৬২ বিলিয়ন ডলার বেশি।

ইলন মাস্কের এই ব্যবসায়িক সাফল্যে লাভবান হয়েছেন এক্সএআইয়ের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য হাই-প্রোফাইল বিনিয়োগকারীরাও। তাদের মধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল আল সৌদ, টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি এবং ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন অন্যতম। ফোর্বসের হিসাবে, এক্সএআই হোল্ডিংসে প্রিন্স আলওয়ালিদের প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তার মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে জ্যাক ডরসি ও ল্যারি এলিসন উভয়ের কাছেই আনুমানিক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে ডরসির মোট সম্পদ বেড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার এবং এলিসনের সম্পদ ২৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গত এক বছরে ইলন মাস্ক একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে চলেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে টেসলার শেয়ারদর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তিনি ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় বছরের শুরুতে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির বা ডজ-এর প্রধানের পদ ছেড়ে তিনি পুরোদমে ব্যবসায় মনোযোগ দেন। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। সে সময় তার রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের মূল্যায়ন ৪০০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর মাত্র চার দিন পর ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি রায় বাতিল করলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে মাস্কের সঙ্গে তালিকার অন্য ধনীদের ব্যবধান আকাশচুম্বী। ফোর্বসের আজকের হিসাবে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৭৭৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গুগলের ল্যারি পেইজের সম্পদ মাত্র ২৭০ বিলিয়ন ডলার। তালিকার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে জেফ বেজোস, সের্গেই ব্রিন ও ল্যারি এলিসন। তাদের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ২৪৯ দশমিক ৮, ২৪৯ দশমিক ১ ও ২৪০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা, মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এক্সএআই—এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মাস্কের সাম্রাজ্য তাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে। উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশলের ফলে ইলন মাস্ক ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন।


banner close