শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই
আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১৮

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


ইরানে ট্রাম্পের কী গোপন বার্তা পৌঁছালেন আসিম মুনির

আসিম মুনিরকে অভ্যর্থনা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা ছাপিয়ে এখন কূটনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের এই ‘কূটনৈতিক ব্লিৎজ’ বা ঝটিকা তৎপরতাকে দেখা হচ্ছে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে। ওয়াশিংটনের বিশেষ বার্তা নিয়ে আসা এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা সংস্থা এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার তেহরানে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৈঠকে আরাকচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বলেন, সংলাপ আয়োজনে পাকিস্তানের চমৎকার আতিথেয়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এটি আমাদের গভীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ় এবং অভিন্ন।’

প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য হলো ইরানি নেতৃত্বের কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পরিকল্পনা করা। পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এই আগমন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকেই গুরুত্ববহ করে তুলছে।

মুনিরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামাবাদই পরবর্তী ভেন্যু হিসেবে উঠে আসছে। গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

আল-জাজিরাকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা পারমাণবিক ইস্যুতে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী, আর এটিই মুনিরের এই বিরল কূটনৈতিক সফরের মূল কারণ। দোহা থেকে আল-জাজিরার ওসামা বিন জাভেদ বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে কোনো একটি চুক্তির প্রস্তুতি চলছে, তবে আমাদের সতর্ক করা হয়েছে যে সব পক্ষেই এর বিরোধিতাকারী রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এই বিরোধিতাকারীদের মধ্যে তেহরান এবং ওয়াশিংটন ডিসির কিছু গোষ্ঠী যেমন রয়েছে, তেমনি পাকিস্তানি সূত্রগুলোর মতে তাদের মধ্যে সবচাইতে বড় পক্ষ হলো ইসরায়েল—যারা কোনো শান্তি চুক্তি চায় না এবং এই অঞ্চলে একটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ বজায় রাখতে চায়।

আলোচনার প্রধান তিনটিস্টিকিং পয়েন্টবা বাধা

পাকিস্তান বর্তমানে তিনটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে। প্রথমত; ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলেও নিজেদের প্রয়োজনে তা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল। দ্বিতীয়ত; বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত এই জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান। তৃতীয়ত; যুদ্ধের ফলে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসিম মুনিরের এই বিরল সফরের অন্যতম কারণ হলো পারমাণবিক ইস্যুতে একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনার বিষয়ে কিছুটা আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, বিশ্ব যেন একটি ‘অ্যামেজিং দুই দিন (বিস্ময়কর দুই দিন)-এর জন্য প্রস্তুত থাকে, কারণ যুদ্ধ শেষের পথে। তিনি আলোচনার সফলতার জন্য জেনারেল আসিম মুনিরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং পরবর্তী দফার আলোচনা আবারও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।

পথে কাঁটা: নৌ-অবরোধ ইসরায়েলি ফ্যাক্টর

শান্তি আলোচনার সমান্তরালে উত্তেজনাও কম নয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। বুধবার পর্যন্ত ৯টি জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে ইরান লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েল। পাকিস্তানি সূত্রগুলো বলছে, ইসরায়েল চায় না এই অঞ্চলে কোনো শান্তি চুক্তি হোক; বরং তারা একটি চিরস্থায়ী যুদ্ধের পক্ষে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইয়েল ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’: পেজেশকিয়ান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং চরম অমানবিক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি একে পুরোপুরি ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে এক আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ইরানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমানে ইরানের সাধারণ মানুষের সম্পদ ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের এই বর্বরোচিত আগ্রাসনই প্রমাণ করে যে প্রকৃত অর্থে কারা বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং কারা আসল সন্ত্রাসী।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই ক্ষোভ প্রকাশের মূল কারণ হলো গত কয়েক দিনে ইরানের বেশ কিছু স্পর্শকাতর বেসামরিক স্থাপনায় পশ্চিমা বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। তেহরান মনে করছে, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তে জনপদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত ইরানকে মানসিকভাবে দুর্বল করার একটি অপকৌশল। তবে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে এবং একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষে পরবর্তী দফার কূটনৈতিক আলোচনার জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে দুই পক্ষ।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, সংঘাত নিরসনে পরবর্তী পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি সম্ভবত পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আগের দফার আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ইসলামাবাদকে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথটিও সচল রাখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানের এই অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানই একমাত্র রাষ্ট্র যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। যদিও বর্তমান বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে বা সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা ও মধ্যস্থতার সক্ষমতার ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখছেন। ক্যারোলিন লেভিট উল্লেখ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন পাকিস্তানের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল এবং সেই লক্ষ্যেই মার্কিন প্রতিনিধি দল কাজ করে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর এই শেষ মুহূর্তের চেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন যুদ্ধের তীব্রতা ইরানের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছেছে, তখন ইসলামাবাদের এই প্রস্তাবিত সংলাপই হতে পারে রক্তপাত থামানোর একমাত্র উপায়। বেসামরিক জানমালের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই আলোচনার ফলাফল কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি।


অস্ট্রেলিয়ার জিলং তেল শোধনাগারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চরম উত্তেজনার মাঝেই বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির মেলবোর্ন শহরের অদূরে জিলংয়ের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ‘ভিভা এনার্জি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার মধ্যরাতের ঠিক আগে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণ দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে এক বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে শোধনাগারটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুততম সময়ে দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে তা নেভাতে হিমশিম খেতে হয় উদ্ধারকারীদের। টানা ১৩ ঘণ্টা জ্বলতে থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল কর্মীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, যার ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

এই শোধনাগারটি অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। এটি কেবল ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদাই মেটায় না, বরং সমগ্র অস্ট্রেলিয়ার মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ নিশ্চিত করে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে শোধনাগারটির পেট্রোল উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশের বিমান চলাচল ও জরুরি পরিবহন খাত সচল রাখতে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অগ্নিকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির জন্য এক চরম দুঃসংবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বর্তমানে এমনিতেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বৈশ্বিক এই সংকটের কারণে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে চাপের মুখে ছিল। এমতাবস্থায় নিজেদের প্রধান একটি শোধনাগার অচল হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে তেলের তীব্র সংকট এবং খুচরা বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকার বর্তমানে জরুরি মজুদ ব্যবহার এবং বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আপাতত শোধনাগারটি পুনরায় সচল করতে কতদিন সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


মার্কিন অবরোধের মধ্যেই হরমুজ পার হলো ইরানি জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে দ্বিতীয় একটি ইরানি সুপারট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য সংগ্রহকারী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘শিপ ট্র্যাকার্স’-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি এড়িয়েই বিশাল এই ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিল যে, সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধ অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই এটি ভেদ করতে পারেনি। সেন্টকমের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানি বন্দরের দিকে যেতে বাধা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মার্কিন বাহিনীর এই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি। বুধবার সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি বিশালাকার ইরানি সুপারট্যাংকার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এখন ইরানের ‘ইমাম খোমেনি’ বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ‘আরএইচএন’ (RHN) নামের একটি বিশালাকার অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি (VLCC) পারস্য উপসাগরের জলসীমায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণে সক্ষম এই বিশাল জাহাজটি ঠিক কোন গন্তব্যে যাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও এর মুভমেন্ট বা গতিবিধি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর মাত্র এক দিন আগেই ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরও একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ইরাকের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই এই জাহাজ দুটি নিয়মিতভাবে ইরানি তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর থেকে কিছু কড়াকড়ি শিথিল করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কঠোর অবস্থানে ফিরে এসেছে। আসন্ন পরবর্তী দফা আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানি তেলের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের বা ‘সেকেন্ডারি’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে। এর বিপরীতে তেহরান একটি নমনীয় প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যদি কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে ইরান ওমানি উপকূল দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে কোনো ধরণের আক্রমণের ঝুঁকি ছাড়াই অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ওপেকের এই সদস্য রাষ্ট্রটির অর্থনীতি এখনই ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। ইরান বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে এবং দেশটির স্থলভাগে বিশাল ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে, যা তাঁদের অন্তত কয়েক সপ্তাহ রপ্তানি সচল রাখতে সাহায্য করবে। কেপলারের তথ্যমতে, চলতি এপ্রিল মাসের এ পর্যন্ত ইরান দৈনিক গড়ে ১৭ দশমিক ১ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে, যা গত মাসের তুলনায় সামান্য কম হলেও অবরোধের মুখেও তাঁদের নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যেরই ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির এই নিয়ন্ত্রণ ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।


অনুমতি ছাড়া হজের চেষ্টা করলে গুনতে হবে মোটা অংকের জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনুমতি ছাড়া হজ পালনের অপচেষ্টা রোধে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ নির্দেশনায় জানিয়েছে, আসন্ন হজ মৌসুম উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৈধ হজ পারমিট ছাড়া কাউকে পবিত্র মক্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বিশেষ কড়াকড়ি কার্যকর থাকবে। যারা এই নিয়ম অমান্য করবেন কিংবা অবৈধভাবে কাউকে হজে সহায়তা করবেন, তাদের উভয় পক্ষকেই মোটা অংকের আর্থিক দণ্ড ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি যথাযথ অনুমোদন বা পারমিট ছাড়াই হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানার মুখে পড়তে হবে। একই সাথে যারা ভিজিট ভিসা নিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে মক্কায় অবস্থান করবেন বা প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মূলত হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতেই সৌদি সরকার চলতি বছর এমন কঠোর বিধিমালা প্রবর্তন করেছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় অংকের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তাদের, যারা ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে কিংবা অন্য কোনো কারণে অবৈধভাবে হজ পালনে কাউকে প্ররোচনা দেবেন বা যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা প্রদান করবেন। এক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ভিজিট ভিসাধারীদের পরিবহন সুবিধা দেয় কিংবা তাদের হোটেল বা ব্যক্তিগত বাসস্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের গুরুত্ব এবং জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা অনুযায়ী এই জরিমানার অংক আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও এবার অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশকারী বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী প্রবাসীদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত বা ডিপোর্ট করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি তাদের ওপর পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এছাড়া কোনো যানবাহন যদি অবৈধ হজযাত্রী বহনে ব্যবহৃত হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত সেই যানবাহনটি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিতে পারেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হজের শৃঙ্খলা এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনোভাবেই এই পবিত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় নিয়মবহির্ভূত প্রবেশ বরদাশত করা হবে না। তাই দেশি-বিদেশি সকল পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের প্রতি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং বৈধ অনুমতির মাধ্যমেই হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে হজের সময় মক্কার জননিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।


চীনের বিওয়াইডি গাড়ি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের শেনঝেন প্রদেশের পিংশান জেলায় অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি-র (BYD) একটি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঘটা এই দুর্ঘটনায় কারখানার একটি বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের দ্রুত ও সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আগুন বড় ধরণের বিপর্যয় সৃষ্টির আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বিওয়াইডি উৎপাদন কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত একটি বহুতল ‘ত্রিমাত্রিক’ পার্কিং গ্যারেজে। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশের শিল্পাঞ্চল আচ্ছন্ন হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল ওই ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুন্ডলী ভাসছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় মা লুয়ান এলাকার দমকল বাহিনী এবং পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর বিওয়াইডি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যে ভবনটিতে আগুন লেগেছিল সেটি মূলত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এবং বাতিল বা অচল হয়ে যাওয়া পুরাতন যানবাহন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। সেখানে গ্রাহকদের জন্য প্রস্তুত করা কোনো নতুন গাড়ি বা সচল অ্যাসেম্বলি লাইন ছিল না। ফলে অগ্নিকাণ্ডে মেয়াদোত্তীর্ণ ও যাচাইকরণের জন্য রাখা কিছু যানবাহনের ক্ষতি হলেও কোম্পানির মূল বাণিজ্যিক মজুত সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।

বিওয়াইডি আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাদের চলমান উৎপাদন কার্যক্রমে কোনো ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কারখানার মূল অ্যাসেম্বলি লাইন এবং ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত রাখা গাড়িগুলো আগুনের আওতার বাইরে থাকায় বড় ধরণের আর্থিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে সুউচ্চ পার্কিং কাঠামোটির ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে শেনঝেন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি বা শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে বিওয়াইডি কর্তৃপক্ষ। জনাকীর্ণ এই শিল্পাঞ্চলে এমন বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শিল্প নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আপাতত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কারখানাটি তার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রেখেছে।


২০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিলো বিবিসি

আপডেটেড ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:১৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বা বিবিসি তাদের মোট কর্মীবাহিনীর ১০ শতাংশ বা প্রায় ২০০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করার এক চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বুধবার লন্ডনে বিবিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ২০১১ সালের পর এটিই বিবিসির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাপের ছাঁটাইয়ের ঘটনা হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন প্রতিষ্ঠানটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এবং আগামী ১৮ মে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ম্যাট ব্রিটিন বিবিসির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন।

বিবিসির এই বিশাল কর্মী ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বড় ধরণের আর্থিক ঘাটতি। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা তাদের বার্ষিক বাজেট থেকে অন্তত ৬০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক টালমাটাল অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ আয়-ব্যয়ের বড় ধরণের ব্যবধান মেটাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিবিসির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তারা কমপক্ষে ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে চায়।

প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক রদ্রি তালফান ডেভিস কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বিশেষ ইমেইলে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে প্রোডাকশন বা অনুষ্ঠান নির্মাণের ব্যয় যেমন বহুগুণ বেড়েছে, তেমনি লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক খাত থেকে আসা আয়ের উৎসগুলোও চাপের মুখে রয়েছে। ফলে ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে কর্মীর সংখ্যা হ্রাস করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, তবে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নীতিনির্ধারকরা স্বচ্ছতার সাথে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবিসির এই বর্তমান অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল গত নভেম্বরে, যখন তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা যুদ্ধ এবং ট্রান্স-জেন্ডার অধিকার সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে বিতর্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ সংবাদ কাভারেজ দেওয়ার অভিযোগে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই বিতর্কের জের ধরেই গত ২ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবিসি ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে নতুন নেতৃত্বের আগমনের অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি এখন আমূল সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিবিসির এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার কর্মীদের ইউনিয়ন ‘বেকটু’ (Bectu)। সংগঠনের নেত্রী ফিলিপ্পা চাইল্ডস ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এই মাত্রার কর্মী ছাঁটাই কেবল সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্যই নয়, বরং বিবিসির সার্বিক সংবাদ কার্যক্রমের গুণগত মানের ওপরও বিপর্যয় ডেকে আনবে। তিনি মনে করেন, বিবিসি একটি জাতীয় সম্পদ এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের উচিত এই সংবাদমাধ্যমে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো। এই ছাঁটাইয়ের ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদ অঙ্গনে বিবিসির দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সক্ষমতা কতটুকু বজায় থাকবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৬০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ৬ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য পাঠাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার অংশ হিসেবে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, তবে প্রশাসন অতিরিক্ত হামলা বা স্থল অভিযানের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে। এমনকি এই হামলা অবরোধ চলাকালেও হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং এর সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে প্রায় ৬ হাজার সৈন্য রয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা এই সামরিক তৎপরতার কথা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া, অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং এর সঙ্গে থাকা ১১ তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের প্রায় ৪ হাজার ২০০ সৈন্য মাসের শেষের দিকে সেখানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২২ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই সৈন্যরা ইরানি তৎপরতা মোকাবিলায় নিয়োজিত আনুমানিক ৫০ হাজার সেনা–লোকবলের সঙ্গে যোগ দেবে।

তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ–অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি চাইছেন ইরান যেন পারস্য উপসাগরের খনিজ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়। গত সপ্তাহান্তে আলোচনা থমকে গেলেও প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে তা আবারও শুরু হতে পারে। ফক্স বিজনেসকে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ শেষের ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে।

সাবেক অ্যাডমিরাল জেমস ফগো বলেন, অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াবে এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের হাতে আলোচনার বাইরেও বিকল্প পথ খোলা রাখবে। তিনি এই অতিরিক্ত শক্তিকে ‘রিজার্ভ ক্যাপাসিটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন যদি ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়। তিনি আরও বলেন যে, ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং মার্কিন আলোচকেরা তাদের ‘রেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নতুন এই বাহিনী পৌঁছালে ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন থাকবে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জানুয়ারি থেকে সেখানে আছে এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বর্তমানে হর্ন অব আফ্রিকার কাছাকাছি রয়েছে এবং এটি একটি দীর্ঘ পথ ঘুরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করবে। অন্য দিকে, বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ গত সপ্তাহে হাওয়াই থেকে রওনা দিয়েছে।

এক সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের অবরোধ কার্যকরে নিয়োজিত বাহিনী সম্ভবত ইরানকে সহায়তা করছে এমন সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর দিকে নজর রাখছে। নেভি সিল, মেরিন বা কোস্ট গার্ডের সশস্ত্র দল প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে জাহাজ দখলে নিতে সক্ষম। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা না ঘটলেও অভিযান শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করা হয় এবং সেগুলোকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ইরানের বন্দরে ফেরত পাঠানো হয়।


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম পূর্ণ দিনে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ইরান-সংযুক্ত তিনটিসহ আটটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধ ঘোষণা করেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহান্তের শান্তি আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ার পর।

এই অবরোধ জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান, তেল কোম্পানি ও যুদ্ধঝুঁকি বীমা প্রদানকারীদের জন্য আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যেখানে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা তার একটি ছোট অংশে নেমে এসেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি। তারা আরও জানায়, ছয়টি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে ঘুরে ইরানের বন্দরে ফিরে গেছে।

ইরান-সংযুক্ত তিনটি জাহাজ প্রণালি পার হলেও সেগুলো ইরানের কোনো বন্দরের দিকে যাচ্ছিল না, ফলে অবরোধের প্রভাব পড়েনি। পানামা পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ নামের একটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে বলে তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থার ডেটায় দেখা গেছে।

জাহাজটি সাধারণত ইরানের ন্যাফথা নামের পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরে নিয়ে যায়, যেখান থেকে তা এশিয়ায় রপ্তানি করা হয়। এর আগে দুটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজও এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে।

‘মুরলিকিশান’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ ১৬ এপ্রিল ইরাকে গিয়ে জ্বালানি তেল লোড করবে বলে তথ্য রয়েছে। ‘এমকেএ’ নামে পরিচিত এই জাহাজটি আগে রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহন করেছে।

আরেকটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ ‘রিচ স্ট্যারি’ অবরোধ শুরু হওয়ার পর প্রথম জাহাজ হিসেবে প্রণালি অতিক্রম করে উপসাগর ছেড়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বলে তথ্য থেকে জানা গেছে।

এই জাহাজ ও এর মালিক প্রতিষ্ঠান সাংহাই শুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘রিচ স্ট্যারি’ একটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ, যাতে প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল মিথানল রয়েছে। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর থেকে এটি পণ্য বোঝাই করেছে। চীনা মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে চীনা নাবিকরা কাজ করছেন বলেও তথ্য থেকে জানা গেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও এটি উত্তেজনা আরও বাড়াবে। তবে চীনা জাহাজগুলো প্রণালি অতিক্রম করছে কি না—সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

সোমবার গ্রিনিচ সময় দুপুর ২টা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার পর আরও পাঁচটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে দুটি রাসায়নিক ও গ্যাসবাহী জাহাজ, দুটি শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ এবং ‘ওশান এনার্জি’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে, যা ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দরে নোঙর করেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজগুলো এই অবরোধের আওতার বাইরে থাকবে।

ইতালির জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্যাব্রিজিও কোটিকিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের জাহাজ আটকে দিতে হবে না বা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে হবে না; তারা বিরতিসূচক অবরোধও চালাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জাহাজগুলোর ওপর হামলা হবে না, বরং তাদের দিক পরিবর্তন করে দেওয়া হবে ও উল্লেখ করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওমান উপসাগরে অবস্থান করবে।

শিল্প সূত্র জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর যুদ্ধঝুঁকি বীমার খরচ বাড়েনি, তবে অতিরিক্ত সাপ্তাহিক খরচ এখনো কয়েক লাখ ডলারের মধ্যে রয়েছে। সাধারণত প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় এই বিমা কভার পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

জাহাজ দালাল প্রতিষ্ঠান বিআরএস এক প্রতিবেদনে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা এখন এক সপ্তাহ আগের তুলনায় আরও দূরে সরে গেছে, বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ শুরু করার পর।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, নিকট ভবিষ্যতে এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল খুবই কম বা প্রায় শূন্যে নেমে আসতে পারে।


তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

শাহবাজ শরীফ। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতায় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে চার দিনের কূটনৈতিক সফরে যাচ্ছেন। খবর আল জাজিরার।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সরকারি সফর বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। সৌদি আরব ও কাতারে বৈঠকগুলো ‘দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে’ অনুষ্ঠিত হবে এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ব বৈঠকে অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, শাহবাজ শরিফ তাকে তার সহযোগী মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং আরও আলোচনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এই উদ্যোগটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চলবে।

আসিফ আলী জারদারি প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার নতুন শান্তি আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য গোপনে আলোচনা চলছে বলে অসমর্থিত খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে শাহবাজ শরিফের এই উদ্যোগের প্রতি দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে।

গত রোববার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে ২১ ঘণ্টার মুখোমুখি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্ট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে কি?

লেবাননের একটি গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্র হতে পারে।’

বিবিসি বলছে, এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। যদিও এই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, তবুও এটিকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংলাপের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেছে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর দুই দেশ সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই সংলাপ ভবিষ্যতে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সরকারি পর্যায়ের আলোচনা হচ্ছে।

বৈঠকে উভয় দেশই ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের ভেতরে ‘শক্তির একক নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বহিরাগত প্রভাব কমাতে উদ্যোগী হবে। একইসঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ‘অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ নিষ্ক্রিয় করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেইটার আলোচনাটিকে ‘শান্তি ও দায়িত্বশীলতার বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে সীমান্ত পারাপার হবে শুধু ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য, সংঘাতের জন্য নয়।

তার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক দ্বৈত চিত্র দেখা যাচ্ছে, একদিকে যুদ্ধ ও উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপের নতুন সম্ভাবনা। ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত, পাকিস্তানে মধ্যস্থতার ভূমিকা এবং ইসরায়েল-লেবাননের সরাসরি সংলাপ, সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কি নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে?

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের প্রাথমিক অগ্রগতি অনেক সময়ই ভঙ্গুর হয়। বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংঘাত কতটা কমে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা আন্তরিকভাবে সমঝোতার পথে এগোয় তার ওপর।


ভেবেছিলাম মেলোনির সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম: ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলেন মেলোনি।

মঙ্গলবার ইতালীয় দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি তার ওপর হতাশ। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় মেলোনি ট্রাম্পের পোপ পোপ লিও চতুর্দশের সমালোচনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলার একদিন পর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন পোপ।

ট্রাম্প ইংরেজিতে বলেন, তিনি (পোপ) অগ্রহণযোগ্য, কারণ তিনি পরোয়া করেন না যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে ও সুযোগ পেলে তারা দুই মিনিটে ইতালিকে ধ্বংস করে দেবে।

২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ইতালির নেতৃত্বে থাকা মেলোনি আগে ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভিন্নমতের মধ্যে সমন্বয় করতেও তিনি প্রায়ই ভূমিকা রাখতেন।

তবে ট্রাম্প বলেন, এই মাসে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। অনেক দিন ধরেই তার সঙ্গে কথা হয় না ও তিনি ন্যাটোতে আমাদের সাহায্য করছেন না। তিনি আরও বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে থামাতে সাহায্য করতে চান না। খুবই দুঃখজনক… তিনি আমার ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ট্রাম্প ন্যাটো সামরিক জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ও ইউরোপকে সমালোচনা করে বলেন, তারা হরমুজ প্রণালির জন্য লড়তে রাজি নয়, যেখানে থেকে তারা জ্বালানি পায়। তিনি আরও বলেন, মেলোনি আর আগের মতো নেই। ইতালিও আগের মতো দেশ নয়। অভিবাসন ইতালি ও পুরো ইউরোপকে ধ্বংস করছে।

মেলোনির প্রতি দেশীয় সমর্থন

এদিকে, ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করলেও ইতালির প্রধানমন্ত্রীর মিত্র ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উভয়েই তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি এক্সে লিখেছেন, আমরা পশ্চিমা ঐক্যের দৃঢ় সমর্থক ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য মিত্র। তবে এই ঐক্য পারস্পরিক আনুগত্য, সম্মান ও সততার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, এতদিন ট্রাম্প মেলোনিকে সাহসী মনে করতেন এবং তিনি ভুল ছিলেন না, কারণ তিনি এমন একজন নারী, যিনি নিজের মত প্রকাশে কখনো পিছপা হন না।

মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা এলি শ্লেইন ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘গুরুতর অসম্মান’ বলে নিন্দা জানান। তিনি পার্লামেন্টে বলেন, আমাদের সংবিধান স্পষ্ট ও ইতালি যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে মঙ্গলবার আলাদাভাবে ইতালি ইসরায়েলের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করেছে, যার মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় ও প্রযুক্তি গবেষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতালীয় গণমাধ্যমের বরাতে মেলোনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত সপ্তাহে লেবাননে ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের বহরের দিকে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর অভিযোগে ইতালীয় সরকার ইসরায়েলি বাহিনীকে অভিযুক্ত করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।


বুশরা বিবিকে নির্যাতন করা হচ্ছে: ইমরান খান

ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, তাকে বিচার বিভাগের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে কারাগারে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে।

বুধবার ইমরান খানের বোন আলিমা খানম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে অত্যন্ত ‘নিষ্ঠুর পরিস্থিতির’ মধ্যে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে।

আলিমা খানম এই পরিস্থিতির জন্য বিচার বিভাগকে দায়ী করে বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জামিন শুনানি স্থগিত রাখছেন, যাতে তাদের কারাবাস দীর্ঘায়িত করা যায়।

ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সাফদারের বরাত দিয়ে আলিমা খানম জানান, বুশরা বিবিকে দীর্ঘ সময় ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে রেখে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে ইমরান খান সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন। তবে ইমরান খান তার আইনজীবীর মাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন যে, তিনি নিজে যেকোনো পরিস্থিতি সহ্য করতে প্রস্তুত কিন্তু তার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করার এই কৌশল সফল হবে না।

ইমরান খান তার বার্তায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘কোনো সমঝোতা নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়; হয় মুক্তি, নয় মৃত্যু।’ আলিমা খানম আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার ইমরান খানের ম্যান্ডেট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে এবং বিচারক ডগার সরাসরি সরকারকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন।

কারাগারে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তিনি তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন এবং গত মাসে তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

এর আগে ইমরান খানের দুই বোন আলিমা ও উজমা খান অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মিলে ইমরান খানকে কারাগারে ধীরে ধীরে মেরে ফেলার একটি ‘ঘাতক ষড়যন্ত্র’ করছেন। ইমরান খান নিজেও তার বোনকে জানিয়েছিলেন যে, অসীম মুনিরই তার এই অবস্থার জন্য দায়ী থাকবেন।

গত মাসে ঈদের সময় নিজের ছেলে কাসিম খানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালেও ইমরান খান বুশরা বিবির ওপর চলমান ‘অমানবিক আচরণের’ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ইমরান খান বলেছেন, ‘এ দেশের বিচারকদের নিজেদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত।

তারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য নিজেদের বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন।’ তিনি দাবি করেন, বুশরা বিবিকে সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়। মূলত ইমরান খানকে মানসিকভাবে দুর্বল করতেই তার স্ত্রীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করছে পিটিআই নেতৃত্ব।


banner close