পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে রাজনৈতিক পতনের পূর্বাভাস নতুন নয়। গত আড়াই বছরে বিশ্লেষকরা বহুবার বলেছেন, তার সরকারের পতন ঘটতে চলেছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সংকট এড়িয়ে গেছেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তার জোটেরই গুরুত্বপূর্ণ শরিক অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর চাপ সরকারকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।
আগামী ২০ মে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট হতে পারে। আর সেটি হলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে।
নেতানিয়াহু হয়তো এই ভোট ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করবেন, তবে তিনি বড়জোর আর কয়েক সপ্তাহ সময় পাবেন। কারণ বর্তমান নেসেটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এবং আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করা আইনিগতভাবে বাধ্যতামূলক।
নেতানিয়াহু সরকারের সম্ভাব্য পতনের তাৎক্ষণিক কারণটি হলো কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর একটি দাবি। তারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সেমিনারি) শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দিয়ে আইন পাসের চাপ দিচ্ছিল। নেতানিয়াহু এই আইন পাসে রাজি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভোট মেলাতে ব্যর্থ হন। কারণ ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বৈষম্যমূলক আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিদের বড় অংশই মনে করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সরকার তাদের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এটিই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হতে যাচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা ও সামরিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এতদিন জোট টিকিয়ে রেখেছিলেন। সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি জনগণকে ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় এখনো অধরা।
গাজার বেশিরভাগ অংশ এখন ধ্বংসস্তূপ, যেখানে ইসরায়েলের আংশিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বাকি অংশ এখনো হামাসের হাতেই রয়ে গেছে। লেবাননে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার পরও স্থলযুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সহায়তায় ইরানে দুবার হামলা চালালেও তেহরান এখনো অটল। নেতানিয়াহু হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফের ক্ষমতায় আসার দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মতে, নির্বাচন বা নিকট ভবিষ্যতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির এক পার্লামেন্ট সদস্য অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় আমরা হয়তো আগামী নির্বাচনে হারতে যাচ্ছি।’ তবে এই নির্বাচন গাজা যুদ্ধের নৃশংসতার কোনো জবাবদিহি হবে না, কারণ বেশিরভাগ ইসরায়েলি এখনো এই যুদ্ধগুলোকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই সমর্থন করে। মূলত বিরোধী জোটের কাছে এই লড়াই নেতানিয়াহুর হাত থেকে ইসরায়েলের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র লড়াই।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে থেকেই নেতানিয়াহুর সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ইসরায়েলি রাস্তায় নেমেছিলেন। যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের কল্যাণে সাময়িক স্থিতিশীলতা থাকলেও, কট্টর অর্থোডক্সদের পেছনে দেদারসে সরকারি অর্থ অপচয় নিয়ে মধ্যপন্থি ও বামপন্থিদের ক্ষোভ তুঙ্গে। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৮৩ হাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন, যা ইসরায়েলে বড় ধরনের ‘মেধা পাচার’ (ব্রেন ড্রেন)-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, এবারও নেতানিয়াহুর ক্যাম্পের কাছে হেরে যাওয়া হবে তাদের জন্য ‘অসহনীয়’।
গত তিন বছরের প্রায় সব জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তবে বিরোধী দলগুলোও একজোট হতে হিমশিম খাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের মধ্যে জোটের কথা চললেও, ডান ও মধ্যপন্থিদের কোন্দল এবং আরব-ইসরায়েলি দলগুলোকে জোটে নেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে বিরোধীদের একক কোনো নেতা এখনো উঠে আসেনি। আর এই বিভক্তির কারণেই জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এখনো একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে রয়েছে।
ইসরায়েলে গোলাবারুদ বোঝাই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন কার্গো বিমান পৌঁছেছে। জার্মানির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে আসা এসব বিমান গত ২৪ ঘণ্টায় তেল আবিবে অবতরণ করেছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই গোলাবারুদ সরবরাহ করছে।
এর আগে, গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালানোর লক্ষ্যে সবচেয়ে ‘জোরালো প্রস্তুতি’ শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহেই ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও খারগ দ্বীপকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তবে ইসরায়েলি বাহিনী তাতে যোগ দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে কান জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালায়, তবে ইসরায়েল সেই অভিযানে সরাসরি অংশ নেবে। এবারের হামলার প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনালাপ হয়। এই আলাপকালেই দুই নেতা ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় লড়াই শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সামরিক বাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রাখা হয়েছে। ইসরায়েল আশা করছে, যে কোনো হামলার আগে ওয়াশিংটন তাদের আগাম বার্তা দেবে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের সাথে নতুন করে যুদ্ধে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে চীনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে সামরিক সংঘাত এড়ানোর জন্য বড় ধরণের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক ‘অবৈধ দখলদারিত্ব বিরোধী’ উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিন্দা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে সুর চড়ান।
তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ওপর গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী রাজ্যে বুলডোজার শাসনের ভাষা হতে পারে না। সাধারণ নাগরিকদের ওপর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে, ভয় দেখিয়ে কিংবা জোর খাটিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির এই মহান ভূমিকে কোনোভাবেই শাসন করা যাবে না।
তৃণমূল সভানেত্রীর এই ঝাঁঝালো বিবৃতিটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতার পার্ক সার্কাস ও তিলজলা এলাকায় রেলওয়ে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি হাওড়া স্টেশনের চারপাশেও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আজ আমরা যা দেখছি তা হলো সরাসরি বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদার ওপর এক বড় আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার এবং সংগ্রামী পরিবারগুলো যারা দিনরাত কষ্ট করে ইট দিয়ে ইট গেঁথে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল, তারা আজ এই নতুন সরকারের কারণে নির্মমভাবে আক্রান্ত।
বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও লেখেন, হাওড়া স্টেশনের চারপাশের উচ্ছেদ এবং পার্ক সার্কাসের রাস্তায় ফুঁসে ওঠা গণঅশান্তি ও মানুষের ক্রমবর্ধমান হাহাকার প্রমাণ করে যে, এই নতুন সরকার মানবতার চেয়ে নিজেদের প্রচারের বিষয়ে বেশি মগ্ন। যে সরকার কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া আগে উচ্ছেদ করে এবং পরে ভুক্তভোগী মানুষের কথা শোনে, তারা আসলে বাংলার মূল চেতনাকেই পুরোপুরি ভুলে গেছে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, একটি রাজ্য তার সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়; তাদের কত দ্রুত উচ্ছেদ করে মুছে ফেলা যাচ্ছে, তা দিয়ে নয়। রাজনৈতিক অহংকারের চড়া মূল্য আজ বাংলার গরিব মানুষকে নিজের জীবিকা হারিয়ে চোকাতে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র নবান্নের অধীনে থাকা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন মমতার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; এগুলো কেবলই আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে পরিচালিত ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০৭টি আসন) নিয়ে নতুন সরকার গঠন করে বিজেপি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা নাটকীয়ভাবে নেমে আসে মাত্র ৮০-তে। নতুন এই বিজেপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং একমাত্র জীবিকা হারিয়েছেন।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে যেসব সরকারি সহায়তামূলক প্রকল্প চালু ছিল, সেগুলি ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
এর ফলে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ঘোষিত ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের সম্মানী প্রদানও আগামী মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, চলতি মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সুবিধা পাওয়া যাবে, তবে আগামী মাস থেকে এগুলো আর কার্যকর থাকবে না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসকে ভিত্তি করে যেসব অনুদান বা সহায়তা দেওয়া হতো, সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এর ফলে পূর্ববর্তী সময়ে চালু থাকা ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের মাসিক ভাতার মতো বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক অনুদান প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আগে এই ধরনের সুবিধার আওতায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ১৫০০ টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হতো, যা পরে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই ধরনের কাঠামোগত সহায়তা ব্যবস্থাই বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে।
সরকার গঠনের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছিল বিজেপি।
সেই প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই বড় ঘোষণা এলো। রাজ্য সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
তাইওয়ান যাতে নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ঘোষণা না করে সে বিষয়ে অঞ্চলটির নেতাদের সতর্ক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার চীন সফর শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাইপে বলেছে, তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানকে সমর্থন না দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ‘তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীনস্থ নয়।’
চীন দ্বীপটিকে নিজেদের বলে দাবি করলেও সেখানে পৃথক শাসনব্যবস্থা ও সরকার আছে। তাইওয়ান নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অংশ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বেইজিং সফরে থাকার সময় শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি তাইওয়ান নিয়ে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত বাঁধবে।’ এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে স্বাধীনতার দাবি না করতে সতর্ক করেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি চাচ্ছি না কেউ হুট করে স্বাধীন হয়ে যাক। আপনারা তো জানেনই, একটি যুদ্ধ করতে আমাদের সাড়ে ৯ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাচ্ছি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চাই তারা (তাইপে) শান্ত হোক, বেইজিংও শান্ত থাকুক। আমরা কোনো যুদ্ধ জড়াতে চাচ্ছি না। পরিস্থিতি এখন যেভাবে আছে, সেভাবে বজায় রাখলে আমার মনে হয় চীনও তা মেনে নেবে।’
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে কেবল বেইজিংকেই স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তবে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতাও করেনি।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে তাদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য। তবে চীনের আক্রমণের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি তাইওয়ানের সহায়তায় এগিয়ে যাবে কি না সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে সবসময়ই একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখা হয়েছে।
তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে মনে করেন, দ্বীপটি ইতোমধ্যেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, তাই নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
তীব্র রাজনৈতিক সংকট, মন্ত্রিসভায় একের পর এক বিদ্রোহ আর দলের অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতার মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি যে আর ডাউনিং স্ট্রিটের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পেরেছেন স্টারমার। মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘কিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে ডাউনিং স্ট্রিটের এই বিশৃঙ্খলা আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি কেবল সসম্মানে এবং নিজের পছন্দমতো উপায়ে বিদায় নিতে চান। খুব শিগগিরই তিনি পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করবেন।’
তবে কবে নাগাদ এই ঘোষণা আসবে, তা নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কেউ কেউ তাকে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে ‘মেকারফিল্ড’ আসনের উপনির্বাচনের প্রথম দফার জনমত জরিপের ফল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। স্টারমারের সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ চেষ্টা করতে চাপ দিচ্ছেন।
মন্ত্রিসভায় স্টারমারের এক সমর্থক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী উপনির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না। কারণ সেটি তার জন্য চরম ব্যক্তিগত অবমাননার কারণ হতে পারে।
এদিকে ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এই উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে (সংসদে) ফেরার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বার্নহামের শিবিরের ধারণা, আগামী ১৮ জুনের উপনির্বাচনের আগে স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলে তাদের নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল কিছুটা ভেস্তে যেতে পারে। কারণ তারা প্রচারণায় ভোটারদের বলতে চান, ‘বার্নহামকে ভোট দিন, তিনি লন্ডনে গিয়ে স্টারমারকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে টেনে নামাবেন।’
গত এক সপ্তাহে ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরের পরিবেশ ছিল চরম উত্তেজনাকর। গত সোমবার যখন সরকারের কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী একযোগে পদত্যাগ করেন, তখনই স্টারমার বুঝতে পারেন যে তাকে বিদায় নিতে হবে। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক ব্রিফিং স্টারমারকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
সূত্র জানায়, স্টারমার অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ‘আমি সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করছি, আর তারা সবাই পেছন থেকে আমার পিঠে ছুরিকাঘাত করছে।’
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং স্টারমারের সাবেক প্রধান পরিকল্পনাকারী জশ সাইমন্সের কাছ থেকে। সাইমন্স ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমসে এক নিবন্ধে সরাসরি লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না প্রধানমন্ত্রী এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তিনি দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছেন। একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত।’
ডাউনিং স্ট্রিটের এক সমর্থক জানিয়েছেন, অনেক মন্ত্রী মুখে স্টারমারকে সমর্থনের কথা বললেও গোপনে তাদের বিশেষ উপদেষ্টাদের পাঠাচ্ছেন এমপিদের কাছে—যাতে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন। অনেকে আবার নতুন সরকারে নিজেদের মন্ত্রীত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে পদ ভাগাভাগির চুক্তি করাও শুরু করে দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার স্টারমারের বিদায় নিশ্চিত করে দেয় দুটি বড় ঘটনা। প্রথমত, চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলার সময় ‘প্রধানমন্ত্রী ও আমি’ বলার পরিবর্তে বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেন। মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মতে, এর মাধ্যমে চ্যান্সেলর নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে জশ সাইমন্স মেকারফিল্ড আসনটি ছেড়ে দেন, যাতে অ্যান্ডি বার্নহাম সেখানে নির্বাচন করে সংসদে ফিরে আসতে পারেন। ডাউনিং স্ট্রিট বার্নহামের এই ফিরে আসা ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করলেও দলের ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল তিন ঘণ্টার এক নাটকীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বার্নহামের মনোনয়ন নিশ্চিত করে স্টারমার শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন।
সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ফ্রান্সে কয়েকটি এনজিও-এর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউরো নিউজ।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) নামের এনজিওগুলো সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। জানা গেছে, ফরাসি এক তদন্তকারী বিচারক সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিককে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়। তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছিল এবং এখনো তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি মোহাম্মদ বিন সালমানকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছিল।
২০২২ সালের জুলাইয়ে সৌদি যুবরাজের ফ্রান্স সফরের সময় ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং ডেমোক্র্যাসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডিএডব্লিওএন)—(যে সংস্থায় জামাল খাশোগি কাজ করতেন) আইনি পদক্ষেপ নেয়। পরে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসও (আরএসএফ) মামলায় যোগ দেয়।
তবে, ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম প্রসিকিউটরস অফিস (পিএনএটি) প্রথমে তদন্ত শুরুর বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি ছিল, এ ধরনের অপরাধে অভিযোগ দায়ের করার আইনি অধিকার এনজিওগুলোর নেই।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে আরএসএফ-এর আইনজীবী ইমানুয়েল দাওয়াদ। তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি কর্তৃপক্ষকে অসন্তুষ্ট না করতে এবং ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য বাস্তববাদী রাজনীতি করা হয়েছে।
এনজিওগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন ও জোরপূর্বক গুমের সহযোগিতার অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, তিনি তার অধীনদের দিয়ে জামাল খাশোগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ফরাসি আপিল আদালতের মতে, এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পিএনএটি নিশ্চিত করেছে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ ইউনিটের একজন তদন্তকারী বিচারক এখন অভিযোগটি পরীক্ষা করে দেখবেন। যদিও ডিএডব্লিওএন শেষ পর্যন্ত মামলায় সরাসরি পক্ষ হতে পারছে না, তবুও সংস্থাটি এই পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে স্বাগত জানিয়েছে।
চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার বেইজিং যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফরে উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা ও সামগ্রিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা করবেন।
এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন ও শি প্রধান আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করবেন। আলোচনা শেষে তারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করবেন। সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন পুতিন। তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
তিন দিনের চীন সফর শেষে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেও বেশ কিছু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েই গেছে। এর পরপরই বেইজিংয়ে যাচ্ছেন পুতিন।
গত শুক্রবার চীন ছাড়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে অসাধারণ কিছু বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। এর মধ্যে আছে- বোয়িংয়ের ২০০টি জেট এবং মার্কিন তেল ও সয়াবিন কেনার ব্যাপারে চীনের প্রতিশ্রুতি। তবে এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি। চীনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তির কথা বলেনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চীন-যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরও বেশি উষ্ণ। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানের সময় ল্যাভরভ বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়েছে বা হতে যাচ্ছে, সেগুলো যদি চীনা বন্ধুদের স্বার্থে হয়, তবে তা মস্কোর জন্য আনন্দের ব্যাপার।’
বর্তমানে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির শীর্ষ ক্রেতা চীন। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
ট্রাম্প চীনে পৌঁছানোর আগে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে আলোচনার অনুরোধ করেছিলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে শি ও ট্রাম্পের দুই দফা বৈঠক হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। মস্কো জানিয়েছে, কিয়েভ যদি ক্রেমলিনের সবোর্চ্চ দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা যুদ্ধবিরতিসংক্রান্ত কোনো আলোচনায় বসবে না।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীন নিয়মিত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো রুশ সেনা অভিযানের নিন্দা জানায়নি। বরং নিজেদেরকে নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় কোনো ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টিকেও অস্বীকার করেছে। বিপরীতে বেইজিং দাবি করেছে, ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে রক্তক্ষয়ী সংঘাত দীর্ঘ করছে।
আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফিরতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, এর প্রভাব সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর ওপরও পড়ছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লেখেন, আমেরিকানদের বলা হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে পছন্দের এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ তাদেরই বহন করতে হবে। পোস্টটির সঙ্গে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাড়তে থাকা সুদের হারের একটি ছবিও যুক্ত করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই হয়ে থাকে।
আরাগচি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের বুদবুদ বাদ দিলেও আসল চাপ শুরু হবে তখন, যখন মার্কিন ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হার বাড়তে থাকবে। গাড়ির ঋণখেলাপির হার ইতোমধ্যেই গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, যতদিন যুদ্ধের হুমকি থাকবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতিও বাড়তেই থাকবে। এই চাপ শেষ পর্যন্ত ঋণের সুদ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুদ্ধের আর্থিক চাপের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে এক্সে লেখেন, তাহলে আপনারা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে ঋণ নিচ্ছেন, যাতে ব্যর্থ টেলিভিশন উপস্থাপক পিট হেগসেথ হরমুজে ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ সেজে ঘুরতে পারেন?
গালিবাফ বলেন, ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের চেয়েও বড় পাগলামি হলো একটি অভিনয়সুলভ যুদ্ধের জন্য আর্থিক সংকটপূর্ব সময়ের মতো উচ্চ সুদে অর্থ জোগানো। এর ফল হতে পারে নতুন একটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকট।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রির পর এ মন্তব্য এসেছে। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এমন ঘটনা এই প্রথম। গত শুক্রবার ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার একটি বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ। ইরান চাইছে, এই জলপথের ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি শনিবার বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি পেশাদার ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, এই ব্যবস্থায় কেবল ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী বাণিজ্যিক জাহাজ সুবিধা পাবে। জাহাজগুলোকে ফি দিতে হবে এবং ওয়াশিংটনের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সমর্থনকারী দেশগুলোর জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
তেহরানে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ ঐতিহাসিক স্থাপনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে অন্তত ৬০টি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। এর মধ্যে ১০টি স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাতের কারণে তেহরানের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি শতাব্দীপ্রাচীন নিদর্শনও রয়েছে, যা দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এদিকে চীন সফর শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত চীনের আগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি; বেইজিং এখনো সরাসরি কোনো নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘চলমান থাকবে’। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ফি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংকটের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে তেহরানের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি শুধু ইরানের জন্য নয়, বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালীতে ক্ষমতার নতুন উৎস খুঁজছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গোপন এক ধমনীর দিকে তারা নজর দিচ্ছে। জলপথটির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ও আর্থিক ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। ইরান এখন এই ক্যাবলের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে থেকে ফি আদায় করতে চায়। এরই মধ্যে দেশটির রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সাবমেরিক ক্যাবলের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ফি না দিলে ইন্টারনেট ট্রাফিক ব্যাহত বা বিঘ্নিত হতে পারে। তেহরানের পার্লামেন্টের সদস্যরাও গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা দেন, ‘আমরা ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর ফি আরোপ করব।’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমও জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও আমাজনের মতো কোম্পানিগুলোকে ইরানি আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে। এই ক্যাবলগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একচেটিয়া অধিকার থাকবে ইরানি সংস্থাগুলোর হাতে।
গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটসহ অন্য টেকজায়ান্টদের মধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলের পেছনে বিনিয়োগ করেছে। তবে ক্যাবলগুলো আসলেই ইরানের জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তা ছাড়া কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর পক্ষে ইরানকে যেকোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে ইরানি শাসনগোষ্ঠী কীভাবে তাদের এই আইন মানতে বাধ্য করবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা আছে।
রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে সাবমেরিন ক্যাবলের ক্ষতি করার প্রচ্ছন্ন হুমকিও আছে। এমনটা হলে তা বৈশ্বিক ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতিসাধন করতে পারে। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপটি নিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভাবনা জানতে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতূর রিসার্চ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক মোস্তফা আহমেদ পারস্য উপসাগরের সাবমেরিন যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি প্রধান আন্তঃমহাদেশীয় সাবমেরিন ক্যাবল হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে গেছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক অপারেটররা প্রণালীর ইরানি জলসীমা এড়িয়েছেন। তারা বেশিরভাগ ক্যাবল জলপথটির ওমান অংশে স্থাপন করেছেন।’
ইরানের সম্ভাব্য কোনো হামলায় এই সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস রপ্তানির পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গবেষক আহমেদের মতে, এই অঞ্চলের বাইরে ভারতের ইন্টারনেটনির্ভর খাতগুলোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে আউটসোর্সিং শিল্প কয়েকশ কোটি ডলার লোকসানের ঝুঁকিতে পড়বে।
সাবমেরিন ক্যাবলগুলো মূলত বৈশ্বিক যোগাযোগের মেরুদণ্ড। এগুলোর ক্ষতি করা হলে শুধু ইন্টারনেটের গতিই কমবে না, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সামরিক যোগাযোগ ও এআই ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে শুরু করে রিমোট ওয়ার্ক, অনলাইন গেমিং এবং স্ট্রিমিং সার্ভিসের মতো সব ক্ষেত্রই হুমকির মুখে পড়বে।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলছেন, ‘ইরানের এই হুমকি মূলত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের প্রভাব প্রদর্শন করার এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা নিশ্চিতের একটি কৌশল। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এমন এক বিশাল ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ইরানে আক্রমণের সাহস না পায়।’
ইরানি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর ফি আরোপের প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তারা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (ইউএনক্লস) কথা উল্লেখ করেছে। এর ৭৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশকারী ক্যাবল বা পাইপলাইনের ওপর শর্ত আরোপের অধিকার রাখে।
গণমাধ্যমগুলো মিসরের সুয়েজ খালেরও উদাহরণ দিয়েছে। কায়রো ইউরোপ ও এশিয়াকে যুক্ত করা বহু সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর ফি নির্ধারণের মাধ্যমে বছরে শত কোটি ডলার রাজস্ব আয় করে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার একটি নতুন পারিবারিক আইন চালু করেছে। এই আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও বাল্যবিবাহের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের নীতিমালা শীর্ষক ৩১ অনুচ্ছেদের এই ডিক্রি অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আফগান সংবাদমাধ্যম আমু টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ওই নথিতে তালেবান শাসনামলে বিয়েসংক্রান্ত বিরোধ, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব এবং বিয়ে বাতিলের বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রূপরেখা আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
এই ডিক্রির অন্যতম বিতর্কিত একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ মৌনতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কোনো ছেলে বা বিবাহিত নারীর মৌনতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে না।’
নথিতে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতি এবং এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা ও দাদাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ‘আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ঠিক করা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারে, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।’
এই নিয়মে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘যৌবন প্রাপ্তির পর অধিকার’ নামের একটি আইনি বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বয়ঃসন্ধির আগে হওয়া কোনো বিয়ে যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার পর সন্তানের অনুরোধে বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই বাতিল প্রক্রিয়ার জন্য ধর্মীয় আদালতের সম্মতির প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া জীবনসঙ্গী যদি অনুপযুক্ত বিবেচিত হন কিংবা মোহরানা যদি মাত্রাতিরিক্ত ভারসাম্যহীন হয়, তাহলে সেই বিয়ে আইনি দিক থেকে বৈধ হবে না। ডিক্রিতে তালেবানের বিচারকদের ব্যভিচার, ধর্ম পরিবর্তন, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিহারের (প্রাচীন ইসলামী ধারণা যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে এমন কোনো নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন যাকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ) মতো অভিযোগের বিরোধ নিষ্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এসব বিধানের আওতায় বিচারকরা বিশেষ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির আদেশ দিতে পারবেন। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নারী ও শিশুদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান সমালোচনা রয়েছে। এর মাঝেই দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার নতুন এ নিয়ম কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।
আফগানিস্তানে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ, নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াও বন্ধ এবং তাদের কর্মসংস্থান, ভ্রমণ ও জনসমাগমে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সাম্প্রতিক এই বাক্যবিনিময় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর আগে গত শনিবার ভারতীয় সেনাপ্রধান নয়াদিল্লিতে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে।’
তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে। অতীতের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আ‘গের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতীয় বাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। তার বক্তব্যকে ভারতের কৌশলগত অবস্থানের কঠোর পুনর্ব্যক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তর এক বিবৃতিতে এ ধরনের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানায়।
আইএসপিআর দাবি করে, পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্থাটি আরও জানায়, পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং এ ধরনের মন্তব্য কূটনৈতিক আচরণের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সংযম ও কৌশলগত পরিপক্বতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলের কিছু বক্তব্যকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে কাশ্মির ইস্যু বারবার দুই দেশের সম্পর্ককে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদ অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে অতীতেও দুই দেশের সম্পর্ক একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল বাক্যবিনিময় নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত অবস্থানের আরেকটি প্রকাশ। তারা মনে করছেন, এমন বক্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কোনো কূটনৈতিক সংলাপ বা বৈঠকের ঘোষণা নেই। ফলে এই উত্তেজনা কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে সতর্ক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মত দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ রাজ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহারকারীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। শনিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনি প্রচার উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদেরও ছাড়া হবে না।” একই সঙ্গে তিনি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী সরকারি ঘর, আম্ফান সহায়তা, পিএম কিষাণ নিধি এবং বার্ধক্য ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে ঘুষ নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আবাসের বাড়ি, আম্ফানের টাকা, পিএম কৃষাণ সম্মান নিধি, কৃষক বন্ধু, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, শৌচালয়, ১০০ দিনের কাজে যদি ঘুস নিয়ে থাকে, একটা যদি ডকুমেন্ট থাকে কমপ্লেন নেবেন। আর পঞ্চু বাবুকে ধরে সোজা জেলের ভেতরে ঢোকাবেন।” মা-বোনেদের ওপর শারীরিক নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধেও তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
রাজ্যে বিজেপির শাসনকালে নেওয়া পদক্ষেপের ফিরিস্তি দিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩২১ জন বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আটকে থাকা জনশুমারি বা আদমশুমারির কাজ ফের চালু করা হয়েছে এবং বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন যে, সিএএ-এর মাধ্যমে প্রকৃত শরণার্থীরা সুরক্ষা পাবে, তবে “অনুপ্রবেশকারীদের টাটা-বাই-বাই করা হবে।”
উল্লেখ্য, ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচনের দিন ইভিএম কারচুপি ও সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখার গুরুতর অভিযোগ ওঠায় আগামী বৃহস্পতিবার সেখানে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।