পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন বছরের বার্তায় নিজেদের জয় নিয়ে আশার কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়া। নতুন বছর শুরুর প্রাক্কালে দেয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাক্ষাতকারে তিনি বলছেন, প্রায় ৪ বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করেন পুতিন। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে ইউক্রেনে লড়াই করা সেনাদের পাশে থাকার জন্য তিনি রুশ নাগরিকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের ওপর বিশ্বাস করি- আমাদের বিজয়ের ওপরেও’। তবে যুদ্ধের ফল এখনও অনিশ্চিত। কারণ একদিকে শান্তি আলোচনা চললেও অন্যদিকে তীব্র লড়াই অর্থাৎ একসঙ্গে দুটোই চলছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ২৬ বছর আগে বরিস ইয়েলৎসিনের নববর্ষের ভাষণের স্মৃতির প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই ভাষণকে দেখা হচ্ছে। সেদিন বরিস ইয়েলৎসিন আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করে ক্ষমতা তুলে দেন পুতিনের হাতে। এরপর থেকে দেশকে নিজের মতো করে বদলে নিয়েছেন পুতিন। কখনও তিনি স্তালিন যুগের ইতিবাচক দিকের কথা বলেছেন, আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার ‘অপমান’ কাটিয়ে ওঠার কথাও তুলে ধরেছেন।
তার শাসনে চেচনিয়ায় অভিযান, জর্জিয়া আক্রমণ, সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারকে সহায়তা- সবকিছুই হয়েছে। এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপরও তীব্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। ইউরোপে আশঙ্কা- যুদ্ধ শেষ না হলে এটি ইউক্রেনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে নববর্ষের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, তারা শান্তি চান- কিন্তু দুর্বল কোনও চুক্তি নয়। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধের শেষ চাই, কিন্তু ইউক্রেনের শেষ না’। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি ‘৯০ শতাংশ প্রস্তুত’, তবে বাকি ১০ শতাংশই সবকিছুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, ইউক্রেন পুতিনের নোভগোরোদ অঞ্চলের এক বাসভবনে হামলা চালাতে চেয়েছিল এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে- এটি বানানো ঘটনা; বরং আক্রমণ বাড়ানোর অজুহাত খুঁজছে মস্কো। রাশিয়া বলছে, ৯১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, কেউ আহত হয়নি এবং পুতিনের বাসভবন অক্ষত আছে।
পুতিনের বাসভবনে হামলার এই দাবি নিয়ে উদ্বেগ জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও পাকিস্তান। তবে কিয়েভ বলেছে, যে ঘটনা ঘটেনি, তা নিয়ে তাদের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। পশ্চিমা মিত্ররাও রুশ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মুখে তাইওয়ান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের দিকে রকেট নিক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন দেখছে—তাইওয়ানের জনগণের নিজেদের রক্ষার দৃঢ়তা কতটা রয়েছে।
তাইপের প্রেসিডেন্সিয়াল কার্যালয় থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে লাই বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার অবস্থান সব সময় স্পষ্ট—জাতীয় সার্বভৌমত্ব দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা।
এ সময় তিনি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন চান। তবে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে প্রস্তাবটি আটকে রয়েছে।
চীনের ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে লাই বলেন, চীন তার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ে অর্জন করতে পারবে কি না, সেটা এক বিষয়। তবে ২০২৬ সাল তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে সেরা ফলের আশাও রাখতে হবে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে লাই বলেন, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতায় তাইওয়ান আগ্রহী। তবে শর্ত হলো—চীনকে তাইওয়ানের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে এবং তাইওয়ানের জনগণের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে হবে।
তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত ভূখণ্ড হলেও চীন এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে আসছে। তাইপে বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট লাইয়ের ভাষণের পর চীন কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, লাই চিং-তে তাইওয়ানের জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন।
মুখপাত্রের ভাষায়, লাই চিং-তের বক্তব্য মিথ্যা, দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি, শত্রুতা ও বিদ্বেষে ভরা।
লাইয়ের ভাষণ আসে চীনের ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বৃহৎ সামরিক মহড়ার মাত্র দুই দিন পর। ওই মহড়ায় চীন তাইওয়ানের দিকে কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করে এবং দ্বীপটির আশপাশে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। এতে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তাইপে এই মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও স্পষ্ট উসকানি বলে নিন্দা জানায়। বুধবার গভীর রাতে বেইজিং জানায়, মহড়া শেষ হয়েছে, তবে চীনা সেনাবাহিনী তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছরের ভাষণে আবারও বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ ঠেকানো যাবে না।
তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূতকরণের অঙ্গীকার শি’র
তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আবার একীভূত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
জিনপিং এমন এক সময় এ অঙ্গীকার করলেন, যার এক দিন আগে তাইওয়ানের চারপাশে দুই দিনব্যাপী বড় ধরনের সামরিক মহড়া শেষ করেছে চীন।
তিনি ভাষণে বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমিকে একীভূত করা এখন সময়ের দাবি, যা কোনোভাবেই থামানো যাবে না।’
চীন স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছে দেশটি। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো এলাকাও নিজের বলে দাবি করে চীন। এ নিয়ে আশপাশের ছোট দেশগুলোর সঙ্গে তার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শি জিন পিংয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
ইতোমধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শি জিন পিংয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
গত সোম ও মঙ্গলবার তাইওয়ানকে ঘিরে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বড় সামরিক মহড়া চালায় চীনের সেনাবাহিনী। এ সময় তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান ও কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়।
তাইওয়ানের দাবি, মহড়া চলাকালে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ান উপকূলের মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আঘাত হানে।
মহড়া শেষ হলেও তাইওয়ান এখনো উচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। কারণ, এখনো দ্বীপটির চারপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ২৫টি জাহাজ মোতায়েন আছে। দুটি নজরদারি বেলুনও পাঠিয়েছে চীন। এর একটি তাইওয়ানের উত্তর উপকূল দিয়ে উড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের পাল্টা জবাব হিসেবে এ মহড়া চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন কোনও দুর্বল শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়, তবে কোনও মূল্যে নয়। ইউক্রেনে লড়াইরত সেনারা চার বছরের যুদ্ধে ক্লান্ত। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক ইউক্রেনীয় শহরে জার্মান দখলের চেয়েও বেশি সময়। কিন্ত ইউক্রেনীয় সেনারা হাল ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নয়।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়রা কী চায়? শান্তি, কিন্ত যেকোনও মূল্যে নয়। আমরা যুদ্ধের অবসান চাই কিন্তু ইউক্রেনের ধ্বংস চাই না। আমরা খুব ক্লান্ত? এর মানে কি আমরা আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত? যারা এমনটা ভাবছে তারা ভুল করছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্বল চুক্তির উপর স্বাক্ষর কেবল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার ইন্ধন জোগায়। আমি স্বাক্ষর করব একটি শক্তিশালী চুক্তিতে। যা একদিন, এক সপ্তাহ বা দুই মাসের জন্য নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে শান্তি নিশ্চিত করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম যুদ্ধে রূপ নেয় তা। চলমান যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। রুশবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলমান রয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি জনগণের মাঝে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটি ছেড়ে গেছেন ৬৯ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত গবেষণায় সিবিএস জানিয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশটির নাগরিকদের মাঝে এই প্রভাব দেখা গেছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের ইসরায়েলের অভিবাসন ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়েছে।
সিবিএসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে (১০.১৭৮ মিলিয়ন) পৌঁছেছে।
আগের বছরের মতোই এই প্রবৃদ্ধি হার অপরিবর্তিত থাকলেও, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম ধীর বছরগুলোর একটি।
একই দিনে প্রকাশিত টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজ-এর একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যা হবে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে।
সিবিএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ নতুন অভিবাসী ইসরায়েলে এসেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮ হাজার কম। এই হ্রাসের বড় কারণ ছিল রাশিয়া থেকে আগত অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়া।
২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
অনেকে এই প্রবণতা পরিবর্তনের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৩ হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা—যা সমালোচকদের মতে দেশটির গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় বিদেশে বসবাসের পর প্রায় ১৯ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের উদ্দেশে আরও ৫ হাজার ৫০০ জন দেশটিতে প্রবেশ করেছেন।
২০২৪ সালে ৮২ হাজার ৭০০ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছিলেন, যা ওই বছরে আগত মানুষের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার বেশি।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়েই দেশটিতে আগত ইহুদির সংখ্যা দেশত্যাগকারীদের চেয়ে বেশি ছিল। তবে ১৯৫০ ও ১৯৮০–এর দশকের কিছু সময় ছিল এর ব্যতিক্রম।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মোট ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৭৭ লাখ ৭১ হাজার ইহুদি ও অন্যান্য, যা মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩ শতাংশ।
আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার, যা মোটের ২১.১ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ (২.৬ শতাংশ) বিদেশি হিসেবে বাস করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হাইকমিশনে পৌঁছে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং সেখানে রক্ষিত শোক বইয়ে সশরীরে স্বাক্ষর করেন। এই সময় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের এই শীর্ষস্থানীয় নেতার সফরটি প্রতিবেশী দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভারতের সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের এই ধারাটি গত বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ সফরে ঢাকায় আসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তাটি তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে বর্তমানে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং শোক বই খোলা হয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে রাজনাথ সিংয়ের এই উপস্থিতি এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার গুরুত্ব ও তাঁর প্রতি বিভিন্ন দেশের গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও হাইকমিশনে এসে তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। মামদানির এই শপথ গ্রহণের বিশেষত্ব ছিল স্থান নির্বাচন; সিটি হলের নিচে সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনটিকে তিনি বেছে নিয়েছেন কর্মজীবী মানুষের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী নেতা নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মুহূর্তটিকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
জোহরান মামদানির রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। যদিও বিশ্লেষকরা তাঁর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন, তবে মামদানি তাঁর লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির বিরুদ্ধে তিনি নিউইয়র্কের অভিবাসীদের সুরক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল, তবে অভিবাসন ইস্যুতে ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণই এখন মামদানির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত একটি জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠানে মামদানি আবারও বড় পরিসরে শপথ নেবেন। সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ বক্তব্য দেবেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ এবং লেখক আরতুরো শোমবার্গের সংগ্রহ থেকে আনা তিনটি বিশেষ কোরআন শরীফ ব্যবহার করা হবে। নিউইয়র্ক সিটির চার বছর মেয়াদী এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মামদানির অভিষেক কেবল আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের অভিবাসী ও কর্মজীবী মানুষের কাছে এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুরনো বছর ২০২৫-এর স্মৃতি পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস আর বর্ণিল আতশবাজির মধ্য দিয়ে নতুন বছর ২০২৬-কে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববাসী। কালপঞ্জির নিয়মে মহাকালের গর্ভে আরও একটি বছর বিলীন হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নত আগামীর প্রত্যাশায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। বরাবরের মতোই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছাকাছি থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র কিরিতিমাতি, টোঙ্গা এবং নিউজিল্যান্ডে সবার আগে মধ্যরাতের ঘণ্টা বাজার মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজি আকাশকে বর্ণিল করে তোলে, যেখানে সাত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৪০ হাজার আতশবাজির খেলা উপভোগ করেন উপস্থিত জনতা। তবে সিডনির এবারের উৎসবে কিছুটা শোকের ছায়াও ছিল; সম্প্রতি এক হামলায় নিহতদের স্মরণে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং হারবার ব্রিজে বিশেষ আলোকচিত্রের মাধ্যমে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ঐতিহ্যবাহী বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে ৩৩ বার ঘণ্টা বাজিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়। অন্যদিকে, চীনে মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে এবং নাচে-গানে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানায় হাজার হাজার মানুষ। ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ায় দুপুর বেলাতেই নতুন বছর উদযাপনের এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য পালিত হয়েছে, যেখানে তীব্র শীত উপেক্ষা করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সাধারণ জনতা। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে এবার বিশ্বের বৃহত্তম নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় ঐতিহ্যবাহী 'বল ড্রপ' দেখার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
উৎসবের এই আবহের মাঝেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কিয়েভে মানুষের চোখেমুখে ছিল শান্তির জন্য গভীর আকুতি। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধে ক্লান্ত এই জাতির কাছে নতুন বছরের একমাত্র চাওয়া হলো একটি নিরাপদ ও যুদ্ধমুক্ত দেশ। কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে বড়দিনের সাজানো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে শিশুদের কণ্ঠে ছিল নতুন ভোরে শান্তি ফেরার সহজ বিশ্বাস। সব মিলিয়ে আনন্দ, উৎসব এবং বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মাঝে এক বুক নতুন আশা নিয়ে সারা বিশ্বে যাত্রা শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছরের।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা ফলাও করে ছেপেছে বিশ্বের খ্যাতনামা কয়েকটি গণমাধ্যম।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা শিরোনাম করেছে, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমাগম, সাবেক নেত্রীকে বিদায়।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকায় আসেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য শোক জানাচ্ছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছেন বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ।
ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিদায়ী শরণার্থীবিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন সংঘাত ও সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তার মতে, বিভাজনের কারণে সহিংসতা ও যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি বৈরিতা বেড়েছে।’
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান হিসেবে নিজের এক দশকের পথচলার কথা স্মরণ করে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়ের একটি হলো- বিভাজনের কারণে বিশ্ব সংঘাত সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে না।’
ইতালীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘ভূরাজনীতির এই বিভাজন, যা এতগুলো সংকটের উত্থান ঘটিয়েছে, সম্ভবত সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্ব শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছে না এবং শান্তি স্থাপনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।’
২০২৬ সালকে বরণ করতে যখন হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী টাইমস স্কয়ারে ভিড় জমান, ঠিক তার আগেই পরিত্যক্ত এক সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। ওই স্টেশন আমেরিকার ‘গিল্ডেড এজ’ বা সমৃদ্ধির যুগে তৈরি করা হয়েছিল।
৩৪ বছর বয়সী জোহরান নববর্ষের আগের রাতে নিউইয়র্কের সিটি হলের নিচে অবস্থিত এ পরিত্যক্ত স্টেশনে শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে এ স্টেশন লোকাল ‘৫ নম্বর’ ট্রেনের ঘোরার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ব্যতিক্রমী জায়গা বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে মামদানি বলেন, এটি প্রতীকীভাবে একটি ‘নতুন যুগের সূচনা’–কে জাগিয়ে তুলছে।
জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ স্থাপনা এমন এক শহরের স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময় সুন্দর হওয়ার সাহস দেখাত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় কিছু গড়ে দিত। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে বা সিটি হলের সুড়ঙ্গের নিচে আটকা পড়ে না থাকে, সে জন্য এ আয়োজন। ওপরের ভবন (সিটি হল) থেকে যারা নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ পাবেন, তাদের লক্ষ্য হবে সে চেতনাকে ফিরিয়ে আনা।
জোহরান আরও যোগ করেন, নতুন সুযোগের এ যুগে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্য এবং শহরের এ মহান ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে পেরে নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।
১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে প্রথম চালু ২৮টি স্টেশনের একটি হচ্ছে এ স্টেশন। পরে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্কের ‘ল্যান্ডমার্ক’ এবং ২০০৪ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
নতুন মেয়র জোহরান মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। এরপর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে আরেকটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর ব্রডওয়েতে একটি বড় উৎসবের (ব্লক পার্টি) আয়োজন করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস বলেন, সাবওয়ে স্টেশন বেছে নেওয়াটা যথার্থ হয়েছে। কারণ, ট্রেনব্যবস্থা নিউইয়র্কবাসীর জন্য এক ‘মহাসাম্য’ বা সবাইকে এক করার জায়গা।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘জোহরান আমাদের পরবর্তী মেয়র। কারণ, তিনি বোঝেন, আমরা যে সাবওয়ে লাইনই ব্যবহার করি না কেন, একে অপরের পাশে থাকা সব নিউইয়র্কবাসীর এমন একটি শহর পাওয়ার অধিকার আছে, যেখানে তারা ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।’
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কিরিবাতি ও প্রথম অঞ্চল হিসেবে দেশটির কিরিতিমাতি নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ হলো কিরিবাতি। এটি হাওয়াইয়ের দক্ষিণ এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। দেশটি অসংখ্য প্রবাল প্রাচীরের দ্বারা গঠিত এবং এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত।
কিরিবাতির মানুষ নিজেদের দেশকে কিরিবাস নামে ডাকেন। এটি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হয়। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক রিজার্ভ এটি। দেশটির অনেক প্রবাল প্রাচীর আছে যেখানে কোনো প্রাণী বসবাস করে না। এগুলোর বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
কিরিবাতিতে সবমিলিয়ে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ থাকেন। যদিও হাওয়াইয়ের প্রায় সরাসরি দক্ষিণ দিকে দেশটির অবস্থান। কিন্তু কিরিবাতি হাওয়াইয়ের একদিন আগে নতুন বছরের উৎসব পালন করে।
বিশ্বজুড়ে যত ধরনের ষড়যন্ত্র হয়, তার সব কিছুর সঙ্গেই যেন জড়িয়ে থাকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম। ইরানের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নেই।
সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে মোসাদ। রাজধানী তেহরান ও দেশের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘মাঠেই আছে’। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মোসাদের ফার্সি ভাষায় পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, ‘আপনারা সবাই একত্র হয়ে সড়কে নেমে আসুন। এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমরা শুধু দূরে বসে থেকে বা কথা বলে দায় সারছি না। আমরা আপনারে সঙ্গে ময়দানেই আছি।’
দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির দাবিতে গত রোববার থেকে তেহরানের খুচরা দোকানমালিকরা পথে নামে।
তাদের এই বিক্ষোভ অন্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি রিয়ালের মূল্যমান ডলার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বারবার কমেছে। যার ফলে আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এতে খুচরা দোকানিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক শেষে নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
বলেছেন, পরমাণু বা ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প পুনর্নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে তেহরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে জড়ায়। ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে এই সংঘাত শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলে দাবি করে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা বিঘ্নিত করা ও ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা।
ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেয় ইরান। একপর্যায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে পরমাণু স্থাপনার ওপর হামলায় যোগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘাতের অবসান ঘটে।
ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না ইরান। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও মোসাদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর অভিযোগ এনেছে তেহরান।
বিশেষত, পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংস ও বিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনায় মোসাদের সরাসরি সংযোগ আছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সরাসরি সমর্থন জোগানোর অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা বিশ্ব।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাবেক হামাস নেতা ইসমাঈল হানিয়াকে তেহরানে হত্যা করা হয়। ওই হামলায় মোসাদের সংযোগ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলার পর দেশটি থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পদক্ষেপটি সৌদি–আমিরাত উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশ দুটির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও বিশ্বাসের ঘাটতি থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায়। এর পরপরই আরব আমিরাত তাদের সেনাদের ইয়েমেন ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
আরব আমিরাত বলেছে, তারা এ বিমান হামলার ঘটনায় বিস্মিত। এর ঠিক পরেই তারা ঘোষণা দেয় যে সেনাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইয়েমেন থেকে তাঁতার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি ও আমিরাতের মধ্যকার এ সংকটের সূত্রপাত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে। ওই সময় দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হঠাৎ অগ্রসর হতে শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর মধ্য দিয়ে তেল খাতে কোটাব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি সামনে চলে আসে।
সৌদি আরবের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি উপসাগরীয় সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, গত নভেম্বরে ওয়াশিংটনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রটি আরও বলেছে, ডিসেম্বর থেকে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও ফোনালাপ হয়েছে। তবে তা এখনো বাস্তব কোনো ফল দেয়নি।