পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন ও সুরক্ষিত মার-এ-লাগো রিসোর্টে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় এক সশস্ত্র যুবক নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি জানান, নিহত যুবকের কাছে একটি শটগান এবং একটি গ্যাস ক্যান ছিল। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন এবং রিসোর্টে সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষাধীন অন্য কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না।
পাম বিচ কাউন্টির শেরিফ রিক ব্র্যাডশ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রিসোর্টের উত্তর গেট দিয়ে একটি গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার সময় ২১ বছর বয়সী ওই যুবক নিজের গাড়ি নিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেখানে উপস্থিত দুজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট এবং একজন শেরিফ ডেপুটি তাঁকে বাধা দিলে তিনি হাতে থাকা গ্যাস ক্যানটি নিচে রেখে শটগানটি লক্ষ্যস্থির করার ভঙ্গিতে উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম অস্টিন টাকার মার্টিন, যার বাড়ি উত্তর ক্যারোলিনায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উত্তর ক্যারোলিনা থেকে ফ্লোরিডা আসার পথেই মার্টিন শটগানটি ক্রয় করেছিলেন। তাঁর পরিবার সম্প্রতি তাঁকে নিখোঁজ বলে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিল। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এই অনুপ্রবেশের নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে সব ধরনের সম্পদ নিয়োগ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংস্থাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সিক্রেট সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে, অস্টিন মার্টিনের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর চাচাতো ভাই ব্রেডেন ফিল্ডস দাবি করেন, মার্টিন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং তাঁদের পুরো পরিবারই ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। মার্টিন কখনো রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতেন না এবং তিনি ঠিকমতো বন্দুক চালাতেও জানতেন না বলে পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই মার-এ-লাগো রিসোর্টের কাছে একটি গলফ ক্লাবে এবং পেনসিলভানিয়ার এক জনসভায় তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন। বর্তমান এই ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আফগানিস্তানের ভেতরে ও সীমান্তবর্তী এলাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের দাবি, তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তান বাহিনীর এসব হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্কুল ও আবাসিক বাড়িতে হামলা হয়েছে। আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন এসব হামলার ‘উপযুক্ত’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
আফগান সূত্র আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে যে নানগারহারে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। তবে পাকতিকায় কতজন হতাহত হয়েছে সেই সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
আফগানিস্তানে পাকিস্তান বাহিনীর এই হামলায় ফলে দেশ দুইটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি আরও নড়বড়ে হলো। সেইসঙ্গে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে সামরিক বাহিনী গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালিয়েছে।
ইসলামাবাদ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সংঘটিত হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে। এর ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ আমাদের হাতে রয়েছে।
ব্রাজিলের সঙ্গে খনিজ বাণিজ্য ও খননখাতে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজ মৌল নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে ভারত।
গত শনিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা-এর বৈঠকের পর এ চুক্তি চূড়ান্ত হয়। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতায় এটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের পর দুই নেতা কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার সুদূরপ্রসারী রূপরেখা ঘোষণা করেন। এতে ডিজিটাল রূপান্তর, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত সফর করছেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজ নিয়ে এই চুক্তি স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও কৌশলগত সমন্বয়ের প্রমাণ।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত থেকে ব্রাজিলে সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ওষুধ সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হবে।
লুলা দা সিলভা বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে মোদির ব্রাজিল সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। সে সময় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা, শক্তি পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৌশলগত শিল্প সহযোগিতা—এই পাঁচ ক্ষেত্রে নতুন রূপরেখা তৈরি হয়।
তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈব প্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধানে ভারতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে শিল্প সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে বিরল খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন, জেট ইঞ্জিন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এসব উপাদান ব্যবহৃত হয়। ব্রাজিলের কাছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ভান্ডার রয়েছে, ফলে এ ক্ষেত্রে ব্রাজিল ভারতের জন্য সম্ভাবনাময় বিকল্প উৎস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ক্রিটিক্যাল মিনারেলের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। বর্তমানে এ খাতে চীনের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। বিরল খনিজ খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চুম্বক তৈরির বড় অংশই তাদের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই চুক্তি শুধু সরবরাহ নিরাপত্তা নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, শক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায়ও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে মাথা নত করবে না ইরান। নতি স্বীকার না করার এমন অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতে প্রয়োজনে ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ মন্তব্য করেছেন পেজেশকিয়ান।
তেহরানে প্যারালিম্পিক দলের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা কোনো চাপ বা কঠিন পরিস্থিতির সামনে মাথা নত করব না। বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে একজোট হয়েছে, কিন্তু আমরা নতি স্বীকার করব না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং জেরাল্ড ফোর্ড দুটি বিমানবাহী রণতরি ও শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটি ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ বলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব গণমাধ্যম জানিয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দিতে রওনা হয়েছে।
ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সতর্ক বার্তা হিসেবে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, এই সামরিক প্রস্তুতিকে ‘কেবল বক্তব্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারা জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে কোনো আগ্রাসনের জবাব হবে ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক’।
চলতি মাসে ওমানে এবং পরে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষ আলোচনা ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি জানিয়েছেন, একটি কূটনৈতিক সমাধান হাতের নাগালে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটবে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সীমিত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনার কথাও স্বীকার করেন।
তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক নারী আল জাজিরাকে বলেন, নিজেদের জন্য না হলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা চিন্তিত। তবে কেউ কেউ আশাবাদীও। একজন বাসিন্দা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে তারা ইরানকে সহজে পরাস্ত করতে পারবে না।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজর কাড়ছে।
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন। গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। এদিকে, এ ঘটনায় কোনো বিক্ষোভকারী আটক হয়েছে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবারের (২১ ফেব্রুয়ারি) এই বিক্ষোভ শুরু হলো, যখন ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদযাত্রার ভিডিও যাচাই করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারপন্থিদের ধস্তাধস্তিও দেখা যায়।
তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। জানুয়ারিতে যে গণবিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা সেই নিহতদের স্মরণে এসব কর্মসূচি আয়োজন করে।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নতুন সেমিস্টারের শুরুতে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছেন। তাদের মধ্যে অনেকের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীদের ‘নায়কের মৃত্যু হোক’ বলেও স্লোগান দিতে শোনা যায়, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত। ভিডিওতে কাছেই সরকারপন্থি সমাবেশের সমর্থকদেরও দেখা যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির দৃশ্য ধরা পড়ে।
যাচাই করা ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানীর শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। অন্যদিকে, আমির কাবির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করা ফুটেজে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ ও ‘শিক্ষার্থীরা, অধিকার আদায়ে আওয়াজ তোলো’ বলে স্লোগান দেন।
শনিবার দিনের শেষদিকে আরও কয়েকটি স্থানে বড় সমাবেশের খবর পাওয়া যায় ও রোববার আরও জোরালো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
গত মাসের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ও ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হরানার দাবি, ওই সময় অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ শিশু ও ২১৪ জন সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। হরানা আরও দাবি করেছে, তারা আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত মাসের শেষে জানায়, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা সদস্য বা ‘দাঙ্গাকারীদের’ হাতে নিহত সাধারণ মানুষ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে- যা ইরান বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
এর আগে, ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতির কথা জানানো হয়। তবে সেই অগ্রগতি সত্ত্বেও ট্রাম্প পরে বলেন, সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগেও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, সহায়তা পথে আছে।
নির্বাসিত বিরোধী দলগুলো ট্রাম্পকে তার হুমকি বাস্তবায়ন করে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের আশা, এতে সরকারের দ্রুত পতন ঘটবে। তবে অন্য বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বাইরের হস্তক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করছে।
খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলছে যুদ্ধের দামামা। যেকোনো সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। আর এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে আসছেন যে ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিতে অতর্কিত হামলা চালাবে মার্কিন বাহিনী। চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলে তেহরানকে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারেন ট্রাম্প। তবে তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার ছেলে মোজতাবা খামেনিসহ ধর্মীয় নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা নিতে পারেন ট্রাম্প।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পকে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে পেন্টাগন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে একটি হলো খামেনি ও তার ছেলেকে সরিয়ে দিয়ে দেশটির ‘মোল্লাতন্ত্র’ ভেঙে দেওয়া।
এমন পরিকল্পনা কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্পের কাছে পেশ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা বলেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী বেছে নেবেন তা কেউ জানে না। তিনি নিজেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে সব পথই খোলা আছে।
সিনিয়র একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান যেন তিনি দেশের মানুষের কাছে রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েল মনে করছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেয়ে যুদ্ধের সম্ভাবনাই বেশি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় ‘যেকোনো ভাষার ওপর আক্রমণকারীদের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই পুণ্যদিনে সম্মান জানাই বিশ্বের সকল ভাষা ও ভাষাভাষী মানুষকে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ভাষা-শহীদদের ও ভাষা-সংগ্রামীদের জানাই আমার প্রণাম ও অন্তরের শ্রদ্ধা।’
তিনি আরও লেখেন, ‘রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সুকান্ত-জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়, আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। এটা আমার গর্ব, আমাদের সময়ে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি, তেলুগু ভাষাকে আমরা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি। সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও আমরা সচেষ্ট হয়েছি। হিন্দি আকাদেমি, রাজবংশী ভাষা আকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা আকাদেমি, সাঁওতালি আকাদেমি– সব করা হয়েছে। এটাও সুনিশ্চিত করেছি, রাজ্যের প্রত্যেক ভাষা-ভাষী মানুষ তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।’
শেষে তিনি লেখেন, ‘একুশের এই পুণ্যদিনে আরও একবার অঙ্গীকার করছি— যেকোনো ভাষার ওপর যদি আক্রমণ আসে – আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। সকল ভাষা সমানভাবে সম্মানীয়।’
বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথে এক পোস্টে শুল্ক বাড়ানোর কথা জানান। এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আমদানি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পরপরই তিনি ১০ শতাংশ শুল্কারোপের নথিতে সই করেন। সেই সঙ্গে ট্রাম্প সর্বোচ্চ আদালতের ওই বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনাও করেন। বিচারপতিরা ট্রাম্পের শুল্কারোপকে ‘জাতির জন্য অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস লেখেছে, সুপ্রিম কোর্টের বাতিল করা কিছু শাস্তিমূলক শুল্কের পুনরাবৃত্তি করার পদক্ষেপ নেওয়ার এক দিন পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘নীতিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। একটি বড় আইনি বাধা সত্ত্বেও বাণিজ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন’ বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কারোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প পাঁচ দশকের বেশি সময় আগের একটি আইনের ধারাকে ফিরিয়ে আনেন। ট্রাম্প বলেন, ‘অবিলম্বে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার অধীনে শুল্ক বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর হবে। পাশাপাশি আরও শুল্কারোপের অনুমতি দিয়ে অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের তদন্ত শুরু করবেন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যমান আইনের অধীনে অতিরিক্ত শুল্কারোপের ক্ষমতা তার রয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে ট্রাম্পের শুল্কারোপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত জানান, ১৯৭৭ সালের একটি আইনের ধারার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প যে শুল্কারোপ করেছেন, সেটা অবৈধ। তার এ এখতিয়ার নেই। এ ধরনের শুল্কারোপের ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন আবশ্যক। ট্রাম্প আদালতের এ রুল অস্বীকার করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আদালতের রায় ভিন্ন অর্থে তাৎপর্য বহন করে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি অব ল’র সাংবিধানিক আইন ও প্রেসিডেন্সিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ পিটার শেইন বলেন, ‘আদালত এটা দেখাতে চেষ্টা করেছেন– ট্রাম্পের সবকিছুকে আইনি বৈধতা দেওয়ার কাজ তারা করবেন না।’
নতুন শুল্কের ধরন কী
ট্রাম্প যে ১৫ শতাংশ শুল্ক নতুন করে আরোপ করলেন, তা এক ধরনের অস্থায়ী আমদানি শুল্ক। এটি কার্যকর হবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে। ওভাল অফিসে এ শুল্ক-সংশ্লিষ্ট নথিতে সইয়ের পর হোয়াইট হাউসই এর ব্যাখ্যা দিয়েছে। এক তথ্যপত্রে জানানো হয়, ট্রাম্প ‘১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার অধীনে তার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে একটি অস্থায়ী আমদানি শুল্কারোপের ঘোষণায় সই করেছেন।’
ধারাটি আসলে কী
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আইনগত গবেষণা ও বিশ্লেষণে সহায়তা করে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস। সংস্থাটি বলছে, ‘১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রেসিডেন্টকে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে প্রয়োজনে অস্থায়ী আমদানি সারচার্জ (শুল্ক) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।’ তবে আইনটি এ ধরনের শুল্কের ওপর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট কেবল ‘১৫০ দিনের বেশি নয়’– এমন সময়ের জন্য এ শুল্কারোপ করতে পারেন। এ ছাড়া ‘১৫ শতাংশের বেশি’ শুল্কারোপ করা যাবে না।
কানাডা ও মেক্সিকো বাদ
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোকে নতুন অস্থায়ী শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গরুর মাংস, টমেটো ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো কিছু খাদ্যপণ্যও অব্যাহতির মধ্যে রয়েছে।
বিচার বিভাগের সঙ্গে বিরোধ
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্কারোপ ট্রাম্প প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে দ্বান্দ্বিক অবস্থানকে ইঙ্গিত করে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুল জারির পক্ষে ভোট দেন ছয় বিচারপতি; বিরোধিতা করেন তিনজন। রুলের পক্ষে থাকা বিচারপতিদের মধ্যে তিনজন তার দল রিপাবলিকান পার্টির মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
গত শনিবার বিবিসি লিখেছে, রুল জারি ও আমদানি শুল্ক বাতিলের ঘটনাকে ‘ভয়ানক’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। তার বাণিজ্যনীতিকে প্রত্যাখ্যান করা ছয় বিচারপতিকে তিনি ‘বোকা’ বলেও বর্ণনা করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বিকল্প রয়েছে, ভালো বিকল্প আছে। এটার চেয়েও শক্ত বিকল্প আছে।’ পরে তিনি নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। বিরোধিতা করা তিন রিপাবলিকান বিচারপতি প্রসঙ্গে বলেন, তাদের মনোনয়ন নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত লজ্জিত। তাদের দেশপ্রেম নেই, সংবিধানের প্রতিও তারা শ্রদ্ধাশীল নন।
সুপ্রিম কোর্টের রুলে প্রভাব কেমন হবে
দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি পণ্যে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে সাহসী রায় দিয়েছেন, তাতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা খুব দ্রুতই কেটে যাবে, এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্যনীতিবিষয়ক প্রধান উইলিয়াম বাইন বলেন, ‘শুল্কারোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্পর্কে এ রুল স্পষ্ট ধারণা দিতে সক্ষম হলেও এটি বাণিজ্যের ঘোলাজল সামান্যই পরিষ্কার করতে পেরেছে।’
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর প্রদেশে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ ও আরোহীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে হেলিকপ্টারটির চালকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আমুর অঞ্চলের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, রোমনেনস্কি জেলায় নিখোঁজ হওয়া 'রবিনসন' মডেলের হেলিকপ্টারটির সন্ধানে বড় ধরনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের নিথর দেহ এবং আকাশযানটির বিধ্বস্ত অংশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় আকাশযানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকারীরা সম্ভাব্য এলাকায় কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অস্পষ্ট থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে বড় ধরনের আইনি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পূর্ব-সাইবেরীয় পরিবহন প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির মালিক ছিলেন নিহত সেই পাইলট নিজেই। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ওই পাইলটের হেলিকপ্টারটি চালানোর কোনো বৈধ অনুমতি বা লাইসেন্স ছিল না। এছাড়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আকাশযানটি সরকারিভাবে নিবন্ধিতও করা হয়নি। মূলত নিবন্ধনহীন এবং অনুমতিহীন অবস্থায় আকাশযানটি পরিচালনা করার সময় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
নিরাপত্তা বিধির এমন চরম লঙ্ঘনের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মৃতদেহগুলো শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছোট ছোট হেলিকপ্টার বা বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আইন অত্যন্ত কঠোর হলেও, এই ঘটনায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের এই অভিযানে আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। যদিও এই হামলার বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে আফগান সূত্রগুলো হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত সাতটি গোপন আস্তানা ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এই হামলায় গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ক্যাম্পেও হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলাসহ সাম্প্রতিক সময়ের বড় বড় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আফগানিস্তানে অবস্থানরত সশস্ত্র নেতাদের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শনিবার রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু বিভাগে সংঘটিত একটি আত্মঘাতী হামলার পরপরই পাকিস্তান এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল। বান্নুর ওই হামলায় এক লেফটেনেন্ট কর্নেলসহ দুজন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হন। এর আগে গত সোমবার বাজাউরে নিরাপত্তা চৌকির কাছে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১১ জন সেনা ও এক শিশু প্রাণ হারায়, যার সঙ্গে আফগান নাগরিকের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। মূলত নিজ দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূল করতেই পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে এই বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক চরম অস্থিরতার মুখে পড়ল।
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্তত এর বড় অংশের ওপর ইসরায়েলের ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ রয়েছে। পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ইসরায়েল যদি পুরো ভূখণ্ডও নিয়ে নেয়, তাতেও তার আপত্তি নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা ও আরকানসাসের সাবেক গভর্নর সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের ব্যাখ্যা নিয়েও কথা বলেন।
আলোচনায় বাইবেলের একটি আয়াতের প্রসঙ্গ তোলেন কার্লসন। সেখানে বলা হয়েছে, ঈশ্বর ইব্রাহিমের বংশধরদের জন্য মিসরের নদী থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক মানচিত্রে ওই এলাকা লেভান্ট অঞ্চলসহ ইসরায়েল, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন এবং সৌদি আরব ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
জবাবে হাকাবি বলেন, এটি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে এটিকে তিনি একটি বিশাল ভূখণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, সৃষ্টিকর্তা ইব্রাহিমের মাধ্যমে নির্বাচিত এক জনগোষ্ঠীকে এই ভূমি দিয়েছেন।
কার্লসন সরাসরি জানতে চান, ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের অধিকার আছে কি না। উত্তরে হাকাবি বলেন, তারা যদি পুরোটা নিয়ে নেয়, সেটাই সুন্দর হবে।
এর আগে ইসরায়েল সফরে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ‘অস্বাভাবিক আচরণের’ শিকার হওয়ার দাবি করেছিলেন কার্লসন। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, তিনি নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়েই গেছেন।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কার্লসনের সমালোচনা করেন। একইভাবে হাকাবিও এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ইসরায়েলসহ যেকোনও দেশে ভ্রমণকারীদের নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা ও নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কার্লসন রক্ষণশীল রাজনীতির মূলধারায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, হাকাবি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে মার্কিন প্রশাসন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তাঁর পুত্র ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনাও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই অচলাবস্থা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সরাসরি সামরিক সংঘাতের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি বিশেষ শর্তে ইরানকে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে, তবে তার জন্য দেশটিকে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি পরিত্যাগের অকাট্য প্রমাণ দিতে হবে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী যা তিনি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। তবে তেহরান যদি সময়ক্ষেপণ করে কিংবা শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে পেন্টাগনের হাতে থাকা ‘চরম বিকল্পগুলো’ সক্রিয় করা হতে পারে। এই বিকল্পগুলোর মধ্যেই আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তাঁর ঘনিষ্ট মোল্লাতন্ত্রের শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করার পরিকল্পনাটি কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পেন্টাগন যে কোনো সময় ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং খবর পাওয়া যাচ্ছে যে মার্কিন বাহিনী চলতি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই হামলার নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার চেয়ে সামরিক সংঘাতেরই সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে যৌথ মহড়া তেহরানের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে তাঁরা একটি বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব জমা দেবেন। জেনেভায় আলোচনার সূত্র ধরে তেহরান দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটন তাঁদের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণে’র জন্য বাধ্য করেনি, বরং পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও যুক্ত আছেন। প্রস্তাবিত কারিগরি ব্যবস্থার মধ্যে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ কিংবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য ব্যাপক নজরদারির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, বল এখন ইরানের কোর্টে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তেহরানের লিখিত প্রস্তাবটি কতটা বিস্তারিত এবং আন্তরিক, তার ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। যদি কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প যে কোনো মুহূর্তে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। ২০১৭ সালে শেষবার চীন সফরের পর আবারও বেইজিং যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে যোগাযোগ ইতিবাচক ছিল। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটেই এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিকল্পিত সফর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি মারাত্মক একটি সফর হতে চলেছে।’
ট্রাম্পের এই সফরের ঘোষণা আসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আগে। ওই রায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর তার আরোপিত শুল্ক বাতিল করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য দেশকে নীতিগত সমর্থনে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবেই ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
বেইজিং বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে শুল্ক ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপের বিষয়ে চীনের প্রতিক্রিয়াও উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি কমানো বা বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে, যা একসময় চীনে মার্কিন রপ্তানির শীর্ষ পণ্য ছিল।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই হামলায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বন্দুকধারীরা। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই তাণ্ডব শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জামফারা রাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুছে গ্রামে অব্যাহত ছিল। মোটরসাইকেলে চড়ে আসা শত শত বন্দুকধারী গ্রামটিতে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। স্থানীয় আইনপ্রণেতা হামিসু এ ফারু এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক গ্রামে আক্রমণ চালিয়েছে।
এই নারকীয় ঘটনার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীর চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। গ্রামবাসীদের দাবি, হামলার অন্তত একদিন আগে প্রায় ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র লোকজনকে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল এবং এ বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে এই বিশাল পরিমাণ প্রাণহানি ঘটেছে। জামফারা ও পার্শ্ববর্তী নাইজার অঙ্গরাজ্যগুলোতে গত কয়েক বছর ধরেই সশস্ত্র ডাকাত দল ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই নাইজার অঙ্গরাজ্যে পৃথক এক হামলায় আরও ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্রটিই ফুটিয়ে তোলে।
নাইজেরিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা দমনে সহায়তার লক্ষ্যে সম্প্রতি ১০০ মার্কিন সেনার একটি বিশেষ দল নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছে। নাইজেরীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই মার্কিন সেনারা সরাসরি কোনো সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেবেন না; বরং তাঁরা স্থানীয় বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করবেন। মূলত ড্রোন প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে অপরাধী চক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে এই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় এই সহায়তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না স্থানীয়দের মধ্যে।