পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ভেনিজুয়েলার বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, ভূমিকম্পের পর সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
সরকারের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত চার হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন। কতজন মানুষ এখনও নিখোঁজ, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি।
গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি কারাকাস এবং উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরাতে আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য লা গুয়াইরা এবং পার্শ্ববর্তী কারাকাসের স্টেডিয়াম, চত্বর ও ফুটপাথগুলোতে ক্যাম্প বা অস্থায়ী ছাউনি গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯ হাজার ৫৮৩ জন বর্তমানে এসব ক্যাম্পে বসবাস করছেন।
এর আগে শনিবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ভাই ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের আগে যেসব অ্যাপার্টমেন্টের নির্মাণকাজ চলছিল, সেগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বরাদ্দ দেওয়া শুরু করবে সরকার।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে সাহায্যের একটি চালান এসে পৌঁছেছে। মার্কিন দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণের তথ্য জানিয়েছে।
ভেনিজুয়েলায় মানবিক সহায়তা রাশিয়ার
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। খাদ্য ও জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রাশিয়ার প্রথম মানবিক সহায়তাবাহী বিমান দেশটির রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে। শিগগিরই আরও একটি ত্রাণবাহী বিমান পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক সহায়তা বহনকারী বিমানটি কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই মেলিক-বাগদাসারভ এবং ভেনিজুয়েলার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবেন দারিও মোলিনা পেনা ত্রাণবাহী বিমানটি গ্রহণ করেন।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই মেলিক-বাগদাসারভ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘দুটি ভূমিকম্পের মর্মান্তিক পরিণতিতে ভেনিজুয়েলার ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের শোকের অংশীদার রাশিয়া। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পিছপা হতে পারি না।’ রাষ্ট্রদূত আরও জানান, এটি রাশিয়ার পাঠানো প্রথম মানবিক সহায়তাবাহী বিমান। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণ নিয়ে আরেকটি বিমানও অচিরেই ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে।
ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই চালানে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে এসব সামগ্রী ব্যবহার করা হবে।
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গত মে-জুন মাসের তীব্র দাবদাহে গরম-জনিত নানা উপসর্গে দুই হাজার সাতশরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, দেশটির আবহাওয়া দপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের একদল গবেষকের যৌথ মূল্যায়নে এই তথ্য উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট এই আবহাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা সুস্থ-সবল মানুষের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
গবেষকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনুমিত মৃত্যুর সিংহভাগই ঘটেছে গত জুন মাসের তীব্র তাপপ্রবাহের সময়। এটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে উষ্ণতম মাস ছিল। এই সময় নরফোকের লিংউড এলাকায় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (৯৯.৯ ফারেনহাইট) পৌঁছায়, যা ১৯৫৭ সালের পুরোনো রেকর্ডকে ভেঙে দেয়। আবহাওয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সে সময় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বেশ কিছু অংশে সর্বোচ্চ ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ বা লাল সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ থেকে ২৯ মে-র মধ্যবর্তী সময়ে তীব্র গরমে প্রায় ৫৫০ জন এবং ১৮ থেকে ২৮ জুনের প্রচণ্ড দাবদাহে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৬ মে কিউ গার্ডেনসে মে মাসের তাপমাত্রা রেকর্ড ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯২২ সালের আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূলত ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের কারণে এই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে একটি নির্দিষ্ট উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় ধরে অঞ্চলের ওপর তপ্ত বাতাসকে আটকে রাখে। মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই হিট ডোম পরিস্থিতি আরও ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
তীব্র গরমের পাশাপাশি রাতের বেলা ক্রান্তীয় অঞ্চলের মতো ভ্যাপসা গরম থাকায় সাধারণ মানুষের শরীর ঠান্ডা হওয়ার কোনো সুযোগ পায়নি। এর ওপর যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ ঘরবাড়ি শীতকালীন আবহাওয়ার উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার মতো অনুকূল নয়, যা বাসিন্দাদের আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে রক্ত সঞ্চালনের জন্য হৃদ্যন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়, ফলে মানবশরীরে প্রচণ্ড শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে। এতে করে শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই হৃদ্রোগ বা অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। এ ছাড়া বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ঘামের মাধ্যমেও শরীর ঠান্ডা হতে পারছিল না।
ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফ্রেডি অটো বলেন, ‘এই চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিকে কেউ যেন অবমূল্যায়ন না করেন। আপনি কেবল ফিট এবং সুস্থ বলেই যে সম্পূর্ণ নিরাপদ, তা ভাবার কোনো কারণ নেই।’ এই সংকটের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক এমিলি শাকবার্গ জানান, গত মাসে তীব্র দাবদাহের মধ্যেই তার বাবা স্ট্রোক করেন। সে সময় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় হাসপাতালে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয় এবং দুর্ভাগ্যবশত তিনি মারা যান।
গবেষকেরা মূলত পূর্ববর্তী বছরগুলোর মৃত্যুর রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের মে ও জুনের এই গাণিতিক মডেল বা সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যাটি বের করেছেন। তবে বাস্তব সংখ্যা এর চেয়ে কমও হতে পারে।
এই গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ডক্টর ক্লেয়ার বার্নস। ডক্টর ক্লেয়ার বলেন, ‘এই পূর্বাভাসের মাধ্যমে যদি আমরা মানুষকে সচেতন করতে পারি এবং তারা যদি পরবর্তী তাপপ্রবাহে নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন করে, তবে আমাদের এই অনুমিত সংখ্যা ভুল প্রমাণিত হবে। কিন্তু এতেও আমরা খুশি হব। কারণ আমরা এত মানুষের মৃত্যু দেখতে চাই না।’
নেপালে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ফের আন্দোলন শুরু হয়েছে। যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশাকে কেন্দ্র করে কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আন্দোলন ঘিরে গত ৩ দিনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরো একজন।
জেন-জি নেপাল সংগঠনের দাবি, বালেন শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক বাজেট ও সরকারি নীতিতে যুবকদের কর্মসংস্থান বা আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মতো কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই।
কাঠমান্ডুতে গত সপ্তাহে পুলিশের চাকা লক করার ঘটনায় নিজের শরীরে আগুন দেন ২৫ বছর বয়সী এক রাইড-শেয়ারিং চালক। এতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই নেপালে নতুন করে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গণেশ নেপালি নামের ওই চালক বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পুলিশ এসে হঠাৎ তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদের মরিয়া পদক্ষেপ হিসেবে তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুক্রবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
দেশটির তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z) নাগরিকরা, আবারও কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে ঘটনার জবাবদিহি দাবি করছেন। মাত্র এক বছরেরও কম সময় আগে বিপুল সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হওয়া সরকারের কাছে তারা এর দায় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছেন। রাজধানীর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গরিবের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’। বিক্ষোভকারীরা অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ এবং বালেন শাহ প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুচ্যুত বস্তিবাসীদের জন্য আশ্রয়েরও দাবি জানান।
নেপালি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মহানগর পুলিশের কঠোর অভিযান বেড়েছে। তার প্রশাসন বিশেষ করে ফুটপাত ও অনানুষ্ঠানিক বাজার উচ্ছেদ এবং নদীর তীরবর্তী বস্তি সরিয়ে দেওয়ার নীতির জন্য পরিচিত।
এসব উচ্ছেদ অভিযান বহুবার সহিংস সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রশাসনের আচরণ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানায়, স্থানীয় প্রশাসন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে একটি সহায়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কার্যত জাতীয় পুলিশ বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক ফনতেনব্লো বনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আগুনে ছাই হয়েছে ৮০০ হেক্টর বা প্রায় ১,৯৮০ একর বনভূমি। ফরাসি কর্মকর্তারা এই আগুনকে ‘অত্যন্ত মারাত্মক’ ও ‘অস্বাভাবিক মাত্রার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বা বাস্তিল দিবসের ছুটির ঠিক আগে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। রাজধানী প্যারিস থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বিশাল ফনতেনব্লো বনটি একসময় রাজকীয় শিকার ক্ষেত্র ছিল, যার চারপাশে বর্তমানে অসংখ্য শান্ত গ্রাম রয়েছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্যারিস অঞ্চলে চরম বিপর্যয় ও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির প্রশাসন দক্ষিণ অঞ্চল থেকে জরুরি ভিত্তিতে দুটি অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা সোমবার জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতার কারণে দেশের প্রধান উত্তর-দক্ষিণ সংযোগকারী ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘এ৬’ মহাসড়কের একটি অংশ আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। রাতের অন্ধকার নেমে আসায় আকাশ থেকে পানি বর্ষণকারী অগ্নিনির্বাপক বিমানগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে।
দাবানলের কারণে বনের নিকটবর্তী ভাদোইউ গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই এলাকার আরও বেশ কয়েকটি শহরকে আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আতঙ্কিত বাসিন্দারা গ্রামের যুদ্ধ স্মারকস্তম্ভের কাছে জড়ো হয়ে জরুরি যান চলাচলের দৃশ্য দেখছেন ও তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি এখনও নিরাপদ আছে কি না, তা জানার জন্য অনবরত খোঁজখবর নিচ্ছেন।
ভাদোইউ গ্রামের বাসিন্দা ভ্যালেরি ও তার স্বামী ড্যানিয়েল ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়ার মুহূর্তের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তারা আকাশ থেকে অনবরত ছাই পড়তে দেখছিলেন। তারা তাদের পোষা বিড়াল ও কুকুরগুলোকে দ্রুত গাড়িতে তুলে নেন এবং সে সময় তারা রাস্তার দুই পাশেই আগুন জ্বলতে দেখছিলেন।’
ফ্রান্সের জাতীয় ফায়ারম্যান ফেডারেশনের এরিক ব্রোকার্ডি জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম প্যারিস অঞ্চলের আগুন নেভানোর জন্য সাধারণত শুষ্ক ও উত্তপ্ত হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ অঞ্চল থেকে জলবোমা নিক্ষেপকারী বিমান পাঠাতে হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার ও একটি পর্যবেক্ষণ বিমানও যুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে প্যারিস অঞ্চলসহ ফ্রান্সের একটি বড় অংশ গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বনাঞ্চলে আগুনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান এই তাপপ্রবাহের কারণে এরই মধ্যে তাপমাত্রার পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।
বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া গত জুন মাসের এই তীব্র তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হওয়া ‘বাস্তবে অসম্ভব’।
ইউরোপের অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশও রেকর্ড-ভাঙা গড় তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছে। ফ্রান্সে অতিরিক্ত গরমের কারণে কর্মকর্তারা দেশের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি, বিখ্যাত সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’-এর আয়োজকরাও রুটের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর কারণে গত রোববারের রেসের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) কমিয়ে দিয়েছিলেন।
ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সোমবার ফনতেনব্লো বন পরিদর্শনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, চলতি বছরে এরই মধ্যে দেশটির ১৭ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও যোগ করেন, চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হলে এই পুড়ে যাওয়া বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার হেক্টরে গিয়ে দাঁড়াবে, যা গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারের বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জয় হলো।
আইনি সংবাদমাধ্যম লাইভ ল-এর বরাতে সোমবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুজুড়ে বাকরিদ (ঈদুল আজহা) বা অন্য যে কোনো দিন গরু এবং বাছুর জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করে তামিলনাড়ু সরকার। মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন, হাইকোর্টের রায়ের যে অংশে রাজ্যব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে পুনর্বিবেচনা বা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই লড়েন বিশিষ্ট প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।
সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু সরকার যুক্তি দেয়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই ঢালাও নির্দেশটি রাজ্যে প্রচলিত ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর সরাসরি পরিপন্থি। এই আইন অনুযায়ী, যেসব গরুর বয়স ১০ বছরের বেশি এবং যেগুলো কাজ বা প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত বলে সরকারিভাবে প্রত্যয়িত, সেগুলো জবাই করার আইনি অনুমতি রয়েছে।
রাজ্য আরও জানায়, কসাইখানাসংক্রান্ত অন্যান্য আইনগুলো মূলত পশুপালনের নিয়ম ও জবাইয়ের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু কোনোভাবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। ফলে হাইকোর্টের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা মূলত আদালতের মাধ্যমে নতুন করে আইন তৈরি করার মতো একটি বেআইনি প্রচেষ্টা।
গত ২৭ মে ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ‘হিন্দু মক্কাল কাচি’ নামক সংগঠনের সদস্য কে সূর্য প্রশান্ত একটি আবেদন দায়ের করেছিলেন। মূল আবেদনে কেবল কোয়েম্বাটুর এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে পশু জবাই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু হাইকোর্ট তার চেয়েও একধাপ এগিয়ে দুগ্ধ উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরনো কিছু রায়ের সূত্র ধরে পুরো রাজ্যজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে দেয়। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, হাইকোর্টের এই রায়টি অভ্যন্তরীণভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ আদালত এক লাইনে নির্দিষ্ট জায়গায় জবাইয়ের কথা বলে, অন্য লাইনে আবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছে।
তাছাড়া পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, প্রশাসন আগে থেকে খোলামেলা জায়গায় কোরবানি বন্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল, যা হাইকোর্ট পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোন বা অ্যাটাক ড্রোন কেনার অর্থায়ন করছে জার্মানি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। ইউক্রেনের জন্য কোনো পশ্চিমা সরকারের করা ড্রোন ক্রয়ের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ অর্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেন ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন উড়োজাহাজ বা ড্রোন ব্যবহার করছে। দেশটি প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ড্রোন উৎপাদন করছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিদিন হাজার হাজার ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে।
নতুন এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইফলের তৈরি শ্রাইক ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন সরবরাহ করা হবে। এসব ড্রোনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অটেরিওঁর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, যা উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলমান লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, অনুসরণ এবং আঘাত হানতে সক্ষম।
অটেরিওঁর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেঞ্জ মেয়ার চুক্তির আকার নিশ্চিত করে জানান, এর মূল্য প্রায় ৯ কোটি ইউরো (১০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার) এবং এর অর্থায়ন করেছে একটি ইউরোপীয় দেশ। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ইউক্রেন সরকারকে কিছু ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ড্রোনগুলোও চলতি বছরের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে।’
স্কাইফল জার্মানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ক্রয়সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেনে ব্যবহৃত কম খরচের শ্রাইক ড্রোনটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্কাইফল এবং যুক্তরাজ্যের স্কাইকাটারের যৌথভাবে তৈরি শ্রাইক–১০ এফ সংস্করণটি সম্প্রতি পেন্টাগন পরিচালিত একটি প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে শীর্ষস্থান অর্জন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচির অংশ, যার লক্ষ্য হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন সংগ্রহ করা। অটেরিয়নের সফটওয়্যার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একাধিক ড্রোনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
লরেঞ্জ মেয়ার জানান, বিভিন্ন হার্ডওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এবং একাধিক পশ্চিমা সরকারের অর্থায়নে অটেরিয়ন চলতি বছরে ইউক্রেনের জন্য মোট এক লাখ ড্রোন সরবরাহে সহায়তা করছে। তিনি আরও জানান, এর মধ্যে পেন্টাগনের ৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তির আওতায় ৩৩ হাজার ড্রোন রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত মাসে যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, বৃহত্তর ৭৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১০১ কোটি মার্কিন ডলার) সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে চলতি বছর ইউক্রেনকে ১ লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করবে।
কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্র বা লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে ইরান। গত রবিবার (১২ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কুয়েত ভূখণ্ডে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই সফল আক্রমণ চালানো হয়। উক্ত হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক এবং রকেট বোঝাই একটি বিশাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সেগুলো পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, মূলত ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার উদ্দেশ্যেই এই লঞ্চারগুলো সেখানে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল।
অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে আইআরজিসি দাবি করেছে যে, রবিবারের এই ড্রোন অভিযানে কুয়েতের ঐ ঘাঁটিতে দায়িত্বরত অন্তত ৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। উল্লেখ্য, হিমার্স বা ‘হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম’ হলো আমেরিকার তৈরি অত্যন্ত হালকা ও নির্ভুল একটি বহুমুখী রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যা সাধারণত ট্রাকের ওপর স্থাপন করা থাকে।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত আটটি শহরে গত রাতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রদেশটির নিরাপত্তা ও আইনপ্রয়োগকারী বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী গত কয়েক ঘণ্টায় খুজেস্তানজুড়ে অন্তত আটটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে দফায় দফায় এই আক্রমণগুলো পরিচালিত হয়।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে হায়াতি জানান, কর্মকর্তারা এখনো প্রতিটি এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছেন। তবে আহভাজ বিমানবন্দরে সরাসরি হামলার খবর তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শহরের কাছে বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে দুটি হামলা হয়েছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, মাহশাহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। নভেম্বরের আসন্ন নির্বাচনের আগে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বেশ স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার বেশ কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। যথাযথ বার্তা দেওয়ার পরেও তারা গতিপথ পরিবর্তন না করায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আইআরজিসি কঠোরভাবে জানিয়েছে যে, এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা পাল্টা হামলা শুরু করে। ইরান এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল যে, কন্টেইনার জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালেও বিশ্বের ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদী ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং শেনজেন অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত এই দেশগুলোর নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কোনো প্রকার ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত জার্মানিতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে জার্মানি ঘোষিত এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই, যার ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের দেশটিতে ভ্রমণের জন্য পূর্বের ন্যায় নির্ধারিত ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, তালিকায় স্থান পাওয়া দেশগুলোর নাগরিকরা ১৮০ দিনের একটি নির্দিষ্ট চক্রে অনধিক ৯০ দিন জার্মানিতে থাকার অনুমতি পাবেন। এই সুবিধার আওতায় তাঁরা ব্যবসায়িক সভা কিংবা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও কোনো ধরণের নিয়মিত কর্মসংস্থান বা চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন না। জার্মানির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ যেমন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইসরায়েল এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, কলাম্বিয়া, মেক্সিকো, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরাও এই বিশেষ সুবিধা লাভ করবেন। তালিকায় আরও রয়েছে আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, ইউক্রেন এবং ভ্যাটিকান সিটির মতো দেশগুলো। মূলত জার্মানির সাথে বিশেষ কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই ৬২টি দেশকে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের লাটফ্রাও এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১২ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক মার্কেট ও ইউনিয়ন মলের সন্নিকটে অবস্থিত এই বারে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘ ৩৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টটিতে আকস্মিক এক বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ভবনটি গ্রাস করে ফেলে। সে সময় আতঙ্কিত মানুষজন বাঁচার জন্য দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের ভেতর আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জন নারী এবং ৯ জন পুরুষ রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুরুতে ভবনের মেইন সুইচ বোর্ডে আগুন লাগে এবং এর পরপরই একটি জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে। ভবন থেকে বের হওয়ার পথ পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেকেই দাহ্য ধোঁয়া ও আগুনের হাত থেকে বাঁচতে পেছনের দিকে সরে যান এবং টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন যে, বেশিরভাগ মৃতদেহ ওই টয়লেট এবং ভবনের সংকীর্ণ স্থানগুলো থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুথিন চার্নভিরাকুল রাত ১টা ৪২ মিনিটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রেস্টুরেন্টের চিমনি অত্যন্ত সরু হওয়ার কারণে ধোঁয়া বের হতে না পেরে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছিল। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ আরও ১৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে চলমান অভিযানের নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০২ জনে পৌঁছাল।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। এতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে।
পাকিস্তানের দাবি, সমন্বিত বিমান ও স্থল অভিযানে এসব সশস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে আরও ১৬ জন নিহত হওয়ায় শুধু ‘অপারেশন শাবানে’ই নিহতের সংখ্যা ৬৪ জনে পৌঁছেছে। আর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ১০২। তবে চলমান অভিযানের মধ্যেই সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ ৪২ জন নিহত হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, শেষ সশস্ত্র ব্যক্তিকে নির্মূল না করা পর্যন্ত বেলুচিস্তানে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, এন-২৫ মহাসড়কে পৃথক এক অভিযানে আরও দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, জিয়ারাতে হামলাকারীরা ভারতের সমর্থিত ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করলেও ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করেছিল।
পাকিস্তানের দাবি, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে।
এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে সীমান্তপারের অভিযান চালায়। পাকিস্তানের দাবি, এতে আফগান তালেবান ও তাদের মিত্রদের বহু সদস্য নিহত ও আহত হয়।
এছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র নিহত হন এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনাসদস্য নিহত হন।
পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও আফগান তালেবান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ৪৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ২ থেকে ৮ জুলাই দেশজুড়ে চালানো যৌথ নিরাপত্তা অভিযানের তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমওআই) নিশ্চিত করেছে। খবর সৌদি গেজেটের।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৭ হাজার ৯১৩ জন আবাসন, ৪ হাজার ৩৭ জন সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ৩ হাজার ৪৮০ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছে।
এছাড়া, অবৈধভাবে সৌদি প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৫৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।
একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরব ছাড়ার চেষ্টা করার অভিযোগে আরও ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করার অভিযোগে আরও ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে ২৯ হাজার ২৮৬ জন আইন লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ১২৭ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৫৯ জন নারী।
সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব প্রক্রিয়ার আওতায় ১৭ হাজার ৩৫৩ জনকে ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে, ৫ হাজার ৪৩৮ জনের দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৮০০ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের অবৈধভাবে সৌদি প্রবেশে সহায়তা করা, তাদের পরিবহন বা আশ্রয় দেয়া কিংবা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করা গুরুতর অপরাধ।
এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি জব্দ করার বিধান রয়েছে।
ভারতের আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপা জেলায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৮ জন সক্রিয় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হন। পরে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়াও কাদাপার ৪৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতা নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে হাসপাতালের করোনা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এনডিটিভি বলছে, নতুন সংক্রমণের পর স্বাস্থ্য বিভাগ রাজ্যটির ওই জেলায় বিশেষ টিম মোতায়েন করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের এক বৈঠকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে জেলায় আটজন সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছে। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত এবং সংক্রমণের ধরন বোঝার জন্য নমুনা পুনের একটি পরীক্ষাগারে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।