পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সচিব জন ফেলান তার পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ফেলান তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ছেড়ে যাচ্ছেন। তার পরিবর্তে নৌবাহিনীর আন্ডারসেক্রেটারি বা উপসচিব হাং কাওকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে একে পদত্যাগ বলা হলেও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাকে মূলত বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দফতর বা পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে জন ফেলানের সম্পর্কের চরম অবনতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে অনেকেই মনে করতেন যে, ফেলানের চেয়ে হাং কাও এই পদের জন্য বেশি উপযুক্ত ও যোগ্য। কয়েক দিন ধরেই পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে ফেলানের অবস্থান নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাকে পদ ছাড়তে হলো।
বরখাস্তের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ সামনে এসেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি সিনেটর মার্ক কেলি সেনাদের ‘অবৈধ নির্দেশ না মানার’ যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে ফেলান যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে পারেননি বলে মনে করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে হেগসেথের ডেপুটি স্টিফেন ফিনবার্গের সঙ্গেও ফেলানের তীব্র মতবিরোধ ছিল। মূলত নেতৃত্বের এই সমন্বয়হীনতার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই নাটকীয় পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে জড়িত। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন অবরোধ নীতির কারণে নৌবাহিনীর গুরুত্ব বর্তমানে অনেক বেশি। যদিও সামরিক অভিযানের মূল নেতৃত্ব সেন্টকম এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ দেবেন, তবুও বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শীর্ষ বেসামরিক নেতৃত্বে এই রদবদল মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে একযোগে এই ভোট নেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই দফার ভোট চলছে। ভোট শুরুর আগে ভোর সাড় ৫টা থেকে মকপোল অনুষ্ঠিত হয় এবং সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের প্রথম দফায় ৩ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মোট ৪৪ হাজার ৩৬৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে এবং এর জন্য ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ নিরাপত্তা কর্মী নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রথম দফার এই নির্বাচনে ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে, যার মধ্যে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিধায়ক রয়েছেন। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণকে এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনি ফলাফল অনুযায়ী, এই ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৯২টি এবং বিজেপি ৫৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল। ফলে এই দফার ভোট উভয় শিবিরের জন্য শক্তি পরীক্ষার বড় ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের শুরুর দিকে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার একটি বুথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ভোট শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনেও একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। এর আগে কেরালা, আসাম ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আজকের এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রথম দফার ভোট শেষে আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। সব দফার ভোট গণনা শেষে আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাবে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বুধবার দিনের শুরুতে এশীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার অপেক্ষা করছেন।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ছে, সেই উদ্বেগ কাটেনি। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধানও এখন অধরা। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৯০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাঝেই গতকাল বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি কনটেইনার জাহাজে ইরানি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজকে জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংলাপ শুরুর চেষ্টা চলাকালীনও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর গত সাত সপ্তাহ ধরে তেহরান ওই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে; যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং করপোরেশনের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভবত নিজ নিজ প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কে আগে নতি স্বীকার করে সেই লড়াইয়ে নেমেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফলাফল যাই হোক না কেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দিতে পারে।’
সূত্র: এএফপি।
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে দুটি জাহাজ আটক করা হয়েছে; যার মধ্যে একটি ইসরায়েলি পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ। আটকের পর জাহাজ দুটি ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে বলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জাহাজ দুটি হলো এমএসসি ফ্রান্সিসকা এবং ইপামিনোদেস। আইআরজিসি দাবি করেছে, এমএসসি ফ্রান্সিসকা ইসরায়েলি পরিবহন সংশ্লিষ্ট।
এ ছাড়া অন্য জাহাজটি গ্রিসের বলে জানা গেছে যা মূলত ভারতগামী একটি কনটেইনার জাহাজ ছিল। গ্রিক টেকনোমার শিপিং কোম্পানির ইপামিনোদেস জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানি বাহিনীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
আইআরজিসি-এর মতে, জাহাজগুলো অনুমোদন ছাড়া চলাচল করছিল, বারবার নিয়ম ভঙ্গ করছিল। একই সঙ্গে নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থার সাথে কারচুপি করে গোপনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
সংস্থাটি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজ দুটি শনাক্ত করে আটক করা হয় এবং ইরানের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষার অংশ হিসেবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে জাহাজগুলোকে ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় নিয়ে গিয়ে তাদের পণ্য ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী আরও সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানের ঘোষিত নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো চেষ্টা বা এই কৌশলগত জলপথে নিরাপদ নৌচলাচলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম হলে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর হামলায় মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন দফায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে।
পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত স্থগিত করে। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে নিয়োগের এক মাসেরও কম সময়ের মাথায় পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আমার পদের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত কিংবা স্বার্থের সংঘাত তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে আজ আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
গুরুং বলেছেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও অন্যান্য বাবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে সাম্প্রতিক জনমনে ওঠা প্রশ্নগুলোকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতা বড় এবং জনআস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। দেশে চলমান ‘জেন জি’ আন্দোলন, যা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছে; সেটিও এই বার্তাই দিয়েছে, জনজীবন অবশ্যই পরিচ্ছন্ন এবং নেতৃত্বকে জবাবদিহি করতে হবে। যদি আমার ৪৬ জন ভাই-বোনের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গঠিত সরকার নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে, তাহলে তার উত্তর হলো নৈতিকতা।’
গত সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা গুরুং। জেন জি আন্দোলনে কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের ছয় মাস পর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত ২৭ মার্চ শপথ নিয়েছিলেন তিনি।
৩৬ বছর বয়সি গুরুংয়ের এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ তিনি নিজে ‘মিলেনিয়াল’ প্রজন্মের হলেও আন্দোলন সংগঠিত করেছিল ‘জেন জি’ বা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম; যারা দুর্নীতি নির্মূল ও জবাবদিহিতার দাবি তুলেছিলেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের অংশ হিসেবে নেপালের পুলিশ সম্প্রতি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভাটকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গত কয়েকদিন ধরে দীপক ভাটের সঙ্গে গুরুংয়ের সম্পর্ক এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গুরুংয়ের নিয়োগ অনেককেই অবাক করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই তিনি মারমুখী অবস্থানে যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
নতুন সরকার গঠনের একদিন পর ২৮ মার্চ ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রথম দিনে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা দুজনই মুক্তি পান।
বালেন্দ্র শাহর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে গুরুংয়ের এই বিতর্ক সরকারকে কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইরান আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তার মতে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে তেহরান এখন মরিয়া হয়ে এই নৌপথটি খুলে দিতে চাইছে।’ বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি লেখেন, ‘ইরান আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ছে! তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়। দেশটি টাকার জন্য হাহাকার করছে।’ ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে চায় না, তারা এটি খোলা রাখতে চায় যাতে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। এটি বন্ধ থাকলে তাদের এই পরিমাণ অর্থই লোকসান হবে।’
তিনি দাবি করেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের প্রেক্ষাপটে মুখ রক্ষা করতেই তেহরান এই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল।
শেষে তিনি আরও লেখেন, ‘চার দিন আগে লোকজন আমার কাছে এসে বলেছিল, স্যার, ইরান অবিলম্বে প্রণালিটি খুলে দিতে চায়। কিন্তু আমরা যদি তা করি, তাহলে ইরানের সাথে কখনোই কোনো চুক্তি হতে পারবে না, যদি না আমরা তাদের দেশের বাকি অংশ, তাদের নেতাদেরসহ উড়িয়ে দিই!’
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে রাজি আছে ইরান। তবে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। তবেই আবার আলোচনায় বসবে তেহরান।’
মেহের নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’
ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরাকে পাঠানো তেল বিক্রির প্রায় ৫০ কোটি ডলারের নগদ চালান আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকনোট বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে ইরাকে অর্থ সরবরাহ করতে বাধা দেয় ওয়াশিংটন। এটি বাগদাদের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ থেকে এই নগদ চালান আসার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আগ্রাসনের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থার আওতায় ইরাকের তেল রপ্তানির আয়ের বড় অংশ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে। ফলে দেশটির আর্থিক প্রবাহে ওয়াশিংটনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি, তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এ বিষয়ে কিছু না বললেও গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশে মার্কিন ডলারের কোনো ঘাটতি নেই। হজযাত্রী, ভ্রমণকারী ও বৈদেশিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর সব চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরাকে নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থায়নও স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী কার্যক্রমও রয়েছে। ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর থেকে এই সহযোগিতা দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।
এক জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি শনিবার বাগদাদে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।’
এর আগে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার কথা জানায়। তবে তার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা হয়।
এএফপি জানায়, ইরাক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাবের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সেই ভারসাম্যকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
এক ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর কারণে ওয়াশিংটন ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হওয়ার ক্ষোভ থেকে নিজের প্রেমিককে দড়িতে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণীর নাম প্রেরণা এবং নিহতের নাম কিরণ; উভয়ের বয়সই ২৭ বছর। তারা দুজনেই বেঙ্গালুরুর একটি টেলিকম স্টোরে একসঙ্গে কাজ করতেন এবং গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি প্রেরণার অভিযোগ ছিল যে, কিরণ তাকে আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং তাকে বিয়ে করতেও রাজি নন। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর অঞ্জনাপুরায় নিজের বাড়িতে কিরণকে ডেকে পাঠান প্রেরণা। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি কিরণকে একটি চেয়ারে বসিয়ে চোখ বেঁধে ফেলেন। কিরণকে দড়ি দিয়ে বাঁধার সময় প্রেরণা তাকে জানান যে এটি বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নতুন ধরনের এক ‘প্রস্তাব’ বা প্রপোজ করার অংশ। সরল বিশ্বাসে কিরণ তাতে সম্মতি দিলেও মূলত এটি ছিল তাকে হত্যার একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ।
কিরণকে চেয়ারে শক্ত করে বাঁধার পর প্রেরণা তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; প্রেরণা এই পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণী আগুনের লেলিহান শিখায় কিরণের মৃত্যুযন্ত্রণা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং প্রেরণার ফোন থেকে সেই নারকীয় ভিডিও উদ্ধার করে।
বেঙ্গালুরু পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ডি এল নাগেশ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিয়েতে অনীহার কারণেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ট্রাম্প তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, ইরান সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে মারাত্মক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা তার কাছে আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পেছনে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বড় ধরনের মধ্যস্থতা রয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে এই হামলা স্থগিত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের এই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি প্রতিনিধি দল ও নেতাদের একটি ঐক্যবদ্ধ এবং গঠনমূলক শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ করে দেওয়া।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ এখনই শিথিল হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সব দিক থেকে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সক্ষম থাকে। অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং সেই আলোচনার ফলাফল চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় পরিষ্কার করেছেন যে, আলোচনার টেবিলে একটি অর্থবহ সমাধান না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক ছাড় দিতে রাজি নয়। মূলত পাকিস্তানের অনুরোধ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এই বাড়তি সময় দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক মহল ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। যুদ্ধের মাঝপথে এই বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা কিছুটা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করলেও বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখা ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিপাকে ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান মার্কিন শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করে কি না এবং পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত সংঘাত নিরসনে কতটুকু সফল হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চরম সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে এই প্রণালী দিয়ে ৪০টিরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র শনিবারই রেকর্ডসংখ্যক ৩৭টি জাহাজ চলাচল করেছে।
সামুদ্রিক পরিবহন চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে এত বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচলের ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১৬টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছিল। এছাড়া গত ১৯ এপ্রিল প্রণালীটি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত আরও ৮টি জাহাজ এটি পার হতে সক্ষম হয়।
তবে এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুরুতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দিয়ে জানায়, মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা পুনরায় এই প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসি জাহাজ মালিকদের মার্কিন কোনো নির্দেশনা না মেনে শুধুমাত্র ইরানের পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছে, যা দিয়ে অল্প সময়েই কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল।
সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, তার সংস্থার পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। অথচ ইরান যুদ্ধের মাত্র ১২ দিনের খরচ দিয়েই এই বিশাল তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল।
তিনি বলেন, প্রতিদিন এই যুদ্ধে দুই বিলিয়ন ডলার অপচয় হচ্ছে। অথচ আমার বাজেটে বর্তমানে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে সাব-সহারা ও পূর্ব আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে।
ট্রাম্পের সমালোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ইরানকে বোমা মেরে পাথর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া’র মতো উগ্র ভাষার কঠোর সমালোচনা করেন ফ্লেচার। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাতে বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী শাসকদের উৎসাহিত করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে ফ্লেচার বলেন, সেখানে রাষ্ট্রনীতির চেয়ে ‘রিয়েল এস্টেট’ মানসিকতা বেশি কাজ করে। তারা প্রতিষ্ঠান বা নিয়ম-নীতির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা মনে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত রাখলে বেশি ফল পাওয়া যায়।
তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, তবে তাকে নোবেল দেওয়া হোক, কিন্তু বাস্তবে তা করে দেখাতে হবে।
যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক এই ব্রিটিশ কূটনীতিক নিজের দেশের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব কমেছে। বৈদেশিক সহায়তায় বড় ধরনের বাজেট কর্তন করায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে এখন যুক্তরাজ্যকে নিয়ে হাসাহাসি করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবিক সহায়তায় গভীর সংকট
ফ্লেচার জানান, বর্তমানে জাতিসংঘ এক ভয়াবহ অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো তাদের সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। গত তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ত্রাণকর্মীদের হত্যা করা এখন যেন একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর কোনো বিচার নেই।’
তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কেবল বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ত্রাণকর্মীদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেন এবং যুদ্ধবাজদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের কোনো প্রতিনিধি দল এখন পর্যন্ত সেখানে পৌঁছায়নি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, এখন পর্যন্ত তেহরান থেকে কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে এখনও বেশ অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই সংলাপে বসার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর নির্ভর করছে। ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান ও নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন না এলে ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী নয় বলে তারা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মূলত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার এই বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংকট নিরসন করা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হলেও ইরানের অনড় অবস্থান বিষয়টিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্তে আপাতত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানো নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও এই বিলম্ব নিয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে মার্কিন শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডিরেমার সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের পর থেকে ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ছাড়তে যাওয়া তৃতীয় নারী কর্মকর্তা হলেন তিনি।
এর আগে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং চলতি মাসের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চিয়াং এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, শ্যাভেজ-ডিরেমার আমেরিকান শ্রমিকদের সুরক্ষায় অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি এখন প্রাইভেট সেক্টরে একটি পজিশনে জয়েন করতে যাচ্ছেন। তার অবর্তমানে বর্তমান ডেপুটি লেবার সেক্রেটারি কিথ সান্ডারলিং অ্যাক্টিং লেবার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শ্যাভেজ-ডিরেমারের পদত্যাগের কোনো অফিসিয়াল কারণ উল্লেখ করা না হলেও নিউইয়র্ক পোস্টের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি একজন সাবঅর্ডিনেট কর্মীর সঙ্গে ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট রিলেশনশিপ গড়ার অভিযোগে ইনভেস্টিগেশনের মুখে ছিলেন এবং অফিস আওয়ারের মধ্যে নিজের দপ্তরে মদ্যপান করতেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।
দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে ডিরেমারের কিছু পলিসি নিয়ে ডিফারেন্স ছিল। তিনি ইউনিয়নপন্থী ‘প্রোটেকটিং দ্য রাইট টু অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট’ বা পিআরও অ্যাক্টের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, যার ফলে ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ এবং টিমস্টারসের প্রেসিডেন্ট সিন ও’ব্রায়েন তার নিয়োগে সমর্থন দিয়েছিলেন।
তবে সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অ্যান্টি-রেগুলেশন পলিসির সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হয়ে ওঠে। কয়লাখনি শ্রমিকদের সিলিকা এক্সপোজার লিমিটেড করার দাবিতে রেসপন্স করতে দেরি করার কারণে তার মন্ত্রণালয় সমালোচিত হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ট্রাম্প যখন ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের ডিরেক্টর এরিকা ম্যাকএন্টারফারকে বরখাস্ত করেন, তখন শ্যাভেজ-ডিরেমার সেই সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সাপোর্ট করেছিলেন।