রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফার সাধারণ নির্বাচন আজ: সেনাসমর্থিত দলের জয়ের পথ পরিষ্কার

আপডেটেড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তীব্র গৃহযুদ্ধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই সেনাশাসিত মিয়ানমারে আজ রবিবার সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটারদের আশানুরূপ উপস্থিতি না থাকা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মুখেও জান্তা সরকার এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনটি একটি একপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। প্রথম ধাপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতেই জয়লাভ করেছে। তবে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা দেশটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৫ ও ২০২০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি এই নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, জান্তা সরকার আইনি মারপ্যাঁচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের আগেভাগেই সরিয়ে দেওয়ায় ইউএসডিপি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভের পথে রয়েছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) প্রধান বিরোধী দলগুলোকে এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘসহ বিশ্বের অনেক মানবাধিকার সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু কিংবা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে প্রথম দফার নির্বাচনকে সফল বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, জনগণের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তারা বর্তমান প্রশাসনের অধীনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে আগ্রহী।

নির্বাচনের পরবর্তী এবং চূড়ান্ত ধাপটি আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে পর্যায়ক্রমে ভোট নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে অনেক এলাকায় সেনাশাসকদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। সেনাশাসকরা দাবি করছে যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সরকারকে আন্তর্জাতিক মহল কখনোই বৈধতা দেবে না। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এই দীর্ঘকালীন গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখেও জান্তা সরকারের নির্বাচনি কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


ইরানে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় এই লাইন কোনোভাবেই পেরোনো যাবে না।

রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলা বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই সময়ে এসেছে এই হুঁশিয়ারি। তবে রেড লাইন বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছে আইআরজিসি, তা জানানো হয়নি।

একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জনসম্পদ ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।

আইআরজিসি জানায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষা ও দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি লাল রেখা। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনো ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে। পশ্চিম ইরানে টেলিফোনে যোগাযোগ করা এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তার এলাকার আশপাশে আইআরজিসি মোতায়েন রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

এই পরিস্থিতির মধ্যে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।’

ইরান সরকার এই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভে ডজনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আছেন।


বাংলাদেশ কেন পাকিস্তানের জেএফ–১৭ কিনতে আগ্রহী?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নতুন বছরের শুরুতেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের বৈঠকের পর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের কাছে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি হতে পারে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ‘পুরোনো’ বিমানবহর আধুনিকীকরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার একীভূতকরণে সহায়তা চান। একই সঙ্গে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ প্লেন দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেয় পাকিস্তান।

আগ্রহী সৌদি আরব-লিবিয়াও

বাংলাদেশের পাশাপাশি সৌদি আরব ও লিবিয়ায়ও জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান রপ্তানির চেষ্টা করছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও সৌদি আরব প্রায় দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ–১৭ চুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করছে। এর মাধ্যমে দুদেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খবর আসে, লিবিয়ার স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় চার বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের একটি চুক্তিতে পৌছেছে পাকিস্তান। চুক্তিতে এক ডজনের বেশি জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির কথা রয়েছে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখনো এসব চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

জেএফ–১৭ কী ধরনের যুদ্ধবিমান?

জেএফ–১৭ থান্ডার পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি হালকা, সব আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী বহুমুখী যুদ্ধবিমান। পাকিস্তানের কামরায় অবস্থিত পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সে এর পূর্ণাঙ্গ সংযোজন করা হয়, যদিও এর বড় অংশ তৈরি হয় চীনে। সবচেয়ে আধুনিক ব্লক–থ্রি সংস্করণটি ‘চার দশমিক পাঁচ প্রজন্মের’ যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়, যাতে উন্নত অ্যাভিওনিক্স, এএসইএ রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে।

কেন বাড়ছে জেএফ–১৭র কদর?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধ জেএফ–১৭ ও পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ভারত প্রথমে তা অস্বীকার করলেও পরে কিছু ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম দামে উন্নত প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান এখন অনেক দেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রতিটি জেএফ–১৭’র আনুমানিক দাম ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন (আড়াই কোটি থেকে তিন কোটি) ডলারের মধ্যে, যেখানে ফ্রান্সের রাফায়েল বা সুইডেনের গ্রিপেনের মতো যুদ্ধবিমানের দাম ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

ইসলামাবাদভিত্তিক এক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের ভাষায়, কম খরচ, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সংযোজনের নমনীয়তার কারণে জেএফ–১৭ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ‘সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর’ সমাধান।

কোন কোন দেশ কিনেছে জেএফ–১৭?

মিয়ানমার, নাইজেরিয়া এবং আজারবাইজান এরই মধ্যে জেএফ–১৭ তাদের বিমানবহরে যুক্ত করেছে। আজারবাইজান ২০২৪ সালে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে ১৬টি জেট কেনার চুক্তি করে। আরও কয়েকটি দেশ, যেমন- ইরাক, শ্রীলঙ্কা ও সৌদি আরব আগ্রহ দেখালেও এখনো চুক্তি করেনি।

বাংলাদেশের আগ্রহের কারণ কী?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে ঢাকায় সরকার পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। জেএফ–১৭ বা সুপার মুশশাকের মতো প্লেন কেনা মানে কেবল অস্ত্র কেনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক অংশীদারত্বের সূচনা হওয়া।

এক সাবেক পাকিস্তানি বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধবিমান কেনা মানে তিন থেকে চার দশকের অঙ্গীকার। তার কথায়, বাংলাদেশ যদি জেএফ-১৭ বা সুপার মুশশাক প্রশিক্ষক বিমান নেয়, এর মানে তারা প্রশিক্ষণ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। তারা চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমানের প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছে, যার অর্থ কৌশলগতভাবে তারা ভবিষ্যতে কাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় তা নির্ধারণ করেছে।


আরব সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

আরব সাগরে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তর আরব সাগরে একটি বিশাল মহড়া পরিচালনা করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী, যেখানে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মাঝারি পাল্লার একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে তারা। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ‘উত্তর আরব সাগরে একটি বিস্তৃত মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে, যা নৌযুদ্ধের ক্রমবর্ধমান গতিবিধি অনুসারে প্রচলিত এবং মানবহীন উভয় ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন করে।’

এতে বলা হয়েছে, এই মহড়ায় একটি বর্ধিত পরিসরে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থেকে এলওয়াই-৮০ (এন) নামে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল লাইভ ফায়ারিং অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দূরপাল্লার ক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করেছে এবং তা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে, যা পাকিস্তান নৌবাহিনীর নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

রাশিয়ান বুক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে চীনের সাংহাই একাডেমি অব স্পেসফ্লাইট টেকনোলজির তৈরি মাঝারি পাল্লার এলওয়াই-৮০ (এন) ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধজাহাজ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য। এটি ৪ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, তবে কিছু ভেরিয়েন্টের রেঞ্জ ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি। এতে সেমি-অ্যাক্টিভ রাডার হোমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৫ মিটার থেকে ১৮,০০০ মিটার উচ্চতার যেকোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করে। যা মূলত যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান ( ইউএভি) আটকানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ ছাড়া সামুদ্রিক ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলো নৌবাহিনীর উচ্চ-গতির কর্মক্ষমতা এবং মিশন-সমালোচনামূলক স্থায়িত্বকে একত্র করার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। প্রদর্শিত মূল ক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে সুশৃঙ্খল গতিবিধি, নির্ভুল নেভিগেশন এবং আবহাওয়ার স্থিতিস্থাপকতা।

আইএসপিআর বলেছে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নৌবাহিনীর অফিসারদের ‘পেশাদারত্ব এবং পরিচালনাগত দক্ষতার’ প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘সকল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সমুদ্র প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর দৃঢ় সংকল্প।’


ওয়াইসির বক্তব্যে বিতর্ক

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভবিষ্যতে কোনো একদিন হিজাব পরা এক মেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি।

ওয়াইসি মনে করেন, মুসলিমদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলটি মুসলিম নারীদের হিজাব পরতে বাধা দিচ্ছে বলেও হায়দ্রাবাদের সাংসদের অভিযোগ। এরপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ওয়াইসি এসব কথা বলেন।

মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ভোটপ্রচারে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ‘এটা পাকিস্তান নয়, এখানে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। তার আশা, বিজেপির এই ঘৃণার রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না।’

ওয়াইসি অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপির বর্তমান সরকার মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরতে দেয় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর প্রচার করেন। তিন তালাক নিষিদ্ধ করেন। অথচ মুসলিম মহিলাদের সম্ভ্রম রক্ষার বিরোধী।

ওয়াইসি বলেন, ‘যে হিজাবকে বিজেপি ঘৃণা করে সেই হিজাব পরা মহিলাই একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধান সেটার অনুমোদন দেয়। এ দেশে বাবাসাহেবের (ভীমরাও রামজি আম্বেদকর) সংবিধান একজন হিজাব পরা মহিলাকে মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি দেয়। আমার আশা একদিন হিজাব পরা মহিলাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভবিষ্যতে সেই দিন আসবে।’

তবে ওয়াইসির এই কথাগুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে বিজেপি। যদিও দলটির একাংশের দাবি এটি স্রেফ ভোট টানার জন্য বলছেন ওয়াইসি। তবে এটিকে ‘গাজাওয়াতুল হিন্দ’-এর অঙ্কুর রূপ হিসেবে দেখছে বিজেপি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের উচিত বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না থাকা। তিনি জানান, লক্ষ্য হলো আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই সহায়তা কমিয়ে আনা।

সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে, এই সহায়তা কি একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে- এর উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, হ্যাঁ।

নেতানিয়াহু জানান, সাম্প্রতিক এক সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে, তার জন্য ইসরায়েল গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তবে তিনি যোগ করেন, এখন ইসরায়েল নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং সামরিক দিক থেকে অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

গত ডিসেম্বর নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এর লক্ষ্য হলো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমানো।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি ১০ বছরের সামরিক সহায়তা চুক্তি সই করে, যা ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য এবং ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির জন্য বড় বড় আন্তর্জাতিক চুক্তিও সই হয়েছে।


বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহত ৬২

ইরানে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। দেশটির চিকিৎসকরা বলছেন, বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার পর হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করলেও বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় দুটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

এক চিকিৎসক বলেন, ‘তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতাল সংকটের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিবিসি অন্য একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন যে, রোগীদের ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই।’

গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ‘বড় সমস্যায়’ পড়েছে’ এবং সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের গুলি চালানো উচিত নয়; কারণ আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে ইরান এই বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুরের’ রূপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।’

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ ইরানে বড় বড় শহরগুলো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

দুটি মানবাধিকার গোষ্ঠীর কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিবিসি এবং অন্যান্য বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে ইরানের অভ্যন্তরে খবর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেটসেবা বন্ধ। ফলে তথ্য পাওয়া এবং যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার রাতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা ইরানের এক চিকিৎসক বলেন, ‘তেহরানের প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল সংকটের মুখে পড়েছে, জরুরি পরিষেবাগুলোও বিপর্যস্ত।’

জরুরি নয় এমন ভর্তি এবং অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ডাকা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিবিসি একটি ভিডিও এবং অডিও বার্তাও পেয়েছে। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত অনেক রোগীকে আনা হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই। তিনি দাবি করেন, ‘আহতদের অনেকের মাথা এবং চোখে গুলি লেগেছে।’

২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৪৭ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংগঠন জানিয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই হাজার ৩১১ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নয় শিশুসহ কমপক্ষে ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ান নিহতদের ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘এসব প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ খুবই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সেই অধিকার রক্ষা করার এবং সেই অধিকারকে সম্মান করার দায়িত্ব রয়েছে।’

ইরানে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে ‘ভেনিজুয়েলা-ধাঁচের’ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকা ছিল, যা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিজেই স্বীকার করেছে।

বৈরুতে সফরকালে লেবানিজ টিভি আলমানারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি ভেনিজুয়েলা-ধাঁচের ষড়যন্ত্র’ ব্যর্থ হয়েছে।’

তার দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষ ভেবেছিল, তিন দিনের মধ্যেই তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানকে লক্ষ্য করে যে ‘ভেনিজুয়েলা-ধাঁচের’ ষড়যন্ত্র ছিল, তা ‘সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ’ ও ভেস্তে গেছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও দৃঢ় অবস্থায় রয়েছে।’

এ সময় তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু লেবানন ও ইরানের মতো দেশগুলো শক্ত প্রতিরোধ দেখিয়েছে।’

আরাগচি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাজনিত নানা সমস্যার পরও ইরানের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেহরান পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি মর্যাদাপূর্ণ চুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও সদিচ্ছা নিয়ে ইরান এখনো নিশ্চিত নয়।’

ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে আহ্বান জানালেন রেজা পাহলভি

ইরানের প্রয়াত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই আবেদন জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটন এলাকায় বসবাসকারী রেজা পাহলভি লেখেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার দৃষ্টি, সমর্থন ও পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। অনুগ্রহ করে ইরানের জনগণকে সহায়তা করতে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’ তিনি কী ধরনের হস্তক্ষেপ চান, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

পাহলভি লেখেন, ‘আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এবং সংখ্যার জোরে নিরাপত্তা বাহিনীকে চাপে ফেলতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছি। গত রাতে তারা সেটাই করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অপরাধী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপনার হুমকি তাদের সন্ত্রাসীদেরও কিছুটা দমিয়ে রেখেছে। কিন্তু সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ আবার রাস্তায় নামবে। আমি আপনাকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করছি।’

গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।


অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের তাণ্ডব, ঘরবাড়ি হারিয়ে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে এক প্রলয়ংকরী দাবানল বিরাজ করছে, যা শতাধিক বাড়িঘর তছনছ করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যে অন্তত ১৩০টিরও বেশি স্থাপনা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে এবং প্রায় ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে এই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুতই তা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি বড় ধরণের আগুন এখনো সক্রিয় রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কয়েক হাজার দমকলকর্মী দিনরাত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ২০১৯-২০২০ সালের সেই কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে এটিই সবচেয়ে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ক্যানবেরা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে চরম ও বিপজ্জনক অগ্নিঝুঁকির মোকাবিলা করছে এবং ভিক্টোরিয়ার একটি বড় অংশকে ইতিমধ্যে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে সরকারের পূর্ণ সমর্থনের নিশ্চয়তা দেন। দাবানলের ঝুঁকিতে থাকা অসংখ্য জনপদ থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পর্যটকদের সুরক্ষায় রাজ্যের প্রধান পার্ক ও ক্যাম্পগ্রাউন্ডগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নিউ সাউথ ওয়েলস এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতেও উচ্চ তাপপ্রবাহ ও অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা বজায় রয়েছে। প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এখন এক থমথমে ও আতঙ্কিত পরিবেশ বিরাজ করছে।


‘বিপ্লবের বিজয় নিকটবর্তী’: ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়াতে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি পাহলভির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে এক বড় ধরণের রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। শনিবার এক বিশেষ বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের আগামী দুই রাত রাজপথে থেকে বড় বড় শহরগুলোর নগরকেন্দ্রগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে আন্দোলনের ধার আরও বৃদ্ধি করতে তিনি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন খাতের কর্মীদের প্রতি দেশব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করার ডাক দিয়েছেন। পাহলভি মনে করেন, বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর্থিক জীবনরেখা যদি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায়, তবে সরকারের সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এই উত্তাল আন্দোলনের মধ্যেই তিনি নিজে ইরানে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় রেজা পাহলভি তাঁদের সাহস ও অদম্য দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন যে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে যে ঐক্য প্রদর্শন করেছে, তা বর্তমান সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নড়বড়ে রূপ বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি কেবল প্রতীকী প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বড় শহরগুলোর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো দখল করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এখন সময়ের প্রধান দাবি। এজন্য তিনি বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দিক থেকে নগরকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে এবং আলাদা মিছিলগুলোকে একীভূত করে একটি বিশাল জনস্রোত তৈরি করার নির্দেশ দেন।

আন্দোলনকারীদের দীর্ঘ সময় রাজপথে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী আগেভাগেই প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাসিত এই নেতা। এছাড়া তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের সেই সকল সদস্যদের প্রতি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন যারা পরোক্ষভাবে বিরোধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি তাঁদেরকে অনুরোধ করেন যেন তাঁরা সরকারের ‘দমনযন্ত্র’কে ধীর করে দেন অথবা এর কার্যক্রম ব্যাহত করেন যাতে সেটি পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। পাহলভি বিশ্বাস করেন যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোনো স্বৈরাচারী শক্তিই বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না এবং বর্তমানে ইরান সেই সন্ধিক্ষণেই দাঁড়িয়ে আছে।

সবচাইতে আলোচিত বিষয় হলো, রেজা পাহলভি তাঁর এই বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি সশরীরে ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়াতে স্বদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বর্তমান আন্দোলনকে ‘জাতীয় বিপ্লবের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, খুব শীঘ্রই ইরান এক নতুন ভোরে পদার্পণ করবে এবং সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি জনগণের সাথে রাজপথে শামিল হতে চান। তাঁর এই ফেরার ঘোষণা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহলভির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইকে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন তেহরানের রাজপথের দিকে, যেখানে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের এক বুক আশা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।


ইউক্রেনে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নিক্ষেপ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।খবর রয়টার্স।

বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে গত রাতে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ড্রোন নির্মাণ কারখানা এবং দেশটির মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং তা সফল হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ওরেশনিক নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের দুর্বৃত্ত সরকারের প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর রাশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরোদ প্রদেশে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনী ৯১টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে রুশ সেনাবাহিনী দাবি করে, মূল লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সব ড্রোন প্রতিহত করা হয়।

এদিকে লভিভের মেয়র আন্দ্রিয়ে সাদোভয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শহরের একটি ‘জটিল অবকাঠামো’ রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তিনি জানাননি।

রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নামটি রুশ ভাষায় ‘হ্যাজেল গাছ’ বোঝায়। মাঝারি আকারের ঝোপালো এই গাছের গঠন ও বিস্ফোরণের ধরন ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক সর্বোচ্চ ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নয়, তবে এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতি। শব্দের গতি যেখানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৩১ মিটার, সেখানে ওরেশনিকের গতি শব্দের চেয়ে ১১ গুণ বেশি বলে দাবি করছে রাশিয়া। তাদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম নয়।

এছাড়া ওরেশনিক সাধারণ বিস্ফোরকের পাশাপাশি পারমাণবিক বিস্ফোরক বহন করতেও সক্ষম। ফলে প্রয়োজনে এটিকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।


ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরানে বিক্ষোভের পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ প্রতিহত করতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সরকার। আর তাতেই বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি। স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির টেলিযোগাযোগও, বাতিল করা হয়েছে বহু ফ্লাইট। এর আগ পর্যন্ত ইরানের কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্বল্প পরিসরে আপডেট তথ্য দিতে পারছিল।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতেই ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে ইরানে ফোন করার চেষ্টা করেও সফল হননি রয়টার্সের সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুবাই ও ইরানের বিভিন্ন শহরের মধ্যে নির্ধারিত অন্তত ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে। খামেনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশিদের ‘ভাড়াটে দালাল’ হিসেবে কাজ করা কাউকেই তেহরান সহ্য করবে না।

গত মাসের শেষ দিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশটির সব প্রদেশেই অস্থিরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এরই মধ্যে বহু মানুষের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

দেশটির বিভিন্ন শহরে আগুন জ্বলতে থাকার দৃশ্যও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে দাবি করা হয়, বাস, গাড়ি ও মোটরবাইক পোড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন ও ব্যাংকেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব সহিংসতার পেছনে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ভেঙে যাওয়া বিরোধী সংগঠন পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন (এমকেও) জড়িত বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি।

ক্যাস্পিয়ান সাগর উপকূলের বন্দর শহর রাশতের শরিয়াতি স্ট্রিটে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে এক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাংবাদিক বলেন, এটা দেখতে পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো লাগছে। সব দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের বাইরে থাকা বিরোধী গোষ্ঠীগুলো শুক্রবার আরও জোরালো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। প্রয়াত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্বের চোখ তোমাদের ওপর। রাস্তায় নেমে আসো।

গত সপ্তাহে তেহরানকে সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। অবশ্য শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাহলভিকে সমর্থন করা উপযুক্ত হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি সন্দিহান।

ইরান এর আগেও আরও বড় আকারের বিক্ষোভ দমন করেছে। তবে বর্তমানে দেশটি আরও গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত সেপ্টেম্বর থেকে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার এক ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র ইরানকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে নারী অধিকার ইস্যুতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল, এবারের আন্দোলন এখনো সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি। তবে সেটির পর থেকে এটিই কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ একদিকে অর্থনৈতিক ইস্যুতে হওয়া বিক্ষোভকে ‘যৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করছে, অন্যদিকে তথাকথিত সহিংস দাঙ্গাকারীদের নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জোগাতে গত রাতে তেহরানে একদল ভাঙচুরকারী ও দাঙ্গাকারী রাষ্ট্রের, অর্থাৎ জনগণের একটি ভবন ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, নিজের দেশ সামলান।

শুরুর দিকে বিক্ষোভ মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক ছিল। গত বছর রিয়ালের বিপরীতে ডলারের মূল্য অর্ধেকে নেমে আসে এবং ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান যুক্ত হয়।

বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ ও ১৯৭৯ সালে উৎখাত হওয়া সাবেক রাজতন্ত্রের প্রশংসা। তবে ইরানের ভেতরে রাজতন্ত্র বা এমকেওর প্রতি প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, তাদের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী তরুণ পুরুষ। তবে ভিডিওগুলো যাচাই করতে পারেনি সংস্থাটি।

কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে ফেললো বিক্ষোভকারীরা

ইরানের ফার্স প্রদেশে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছেন বিক্ষোভকারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চলমান বিক্ষোভের ১১তম দিন বুধবারে ফার্স প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা সোলাইমানির ভাস্কর্য গুড়িয়ে দিচ্ছেন।

২০২০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক হামলায় নিহত হন কাসেম সোলাইমানি। তার হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ওই সময় একটি পৃথক ঘটনায় ভুলবশত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যরা একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা সব যাত্রী প্রাণ হারান।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও বিক্ষোভ থামেনি। রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

বিক্ষোভের মধ্যে ইস্ফাহান শহরে সরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।


গাজায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চায় না ইসরায়েল

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে গাজায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি চায় না ইসরায়েল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার।

তিনি বলেন, গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী— ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ করেছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না ইসেরায়েল।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে যেখানে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, কিন্তু তার জন্য হামাসকে ভেঙে ফেলতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই।’

তিনি বলেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে তারা সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক কারণ তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ইচ্ছা পোষণ করে না, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল বাহিনীর ধারণাকে অর্থহীন করে তুলেছে।

এনডিটিভি বলছে, উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যোগসূত্রের কারণে গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকায় ইসরায়েল কি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত দৃঢ়ভাবে ‘না’ উত্তর দেন, যা ইঙ্গিত দেয় গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যেকোনো ভূমিকার প্রতি ইসরায়েলের অসম্মতি।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যেকোনো দেশ সাধারণত কেবল তাদেরকেই সহযোগিতা করে যাদের তারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সাথে তাদের যথাযথ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন নয়’।

এনডিটিভির দাবি, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য করে স্পষ্ট করে যে, গাজা স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থায় ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে না।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সেনা নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) নামে বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো বিষয়গুলো থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মার্কিন সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও আজারবাইজানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে তারা এই বহুজাতিক বাহিনীতে অংশ নেয়।


আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নিউইয়র্ক টাইমসকে এসব কথা বলেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি তা মানছেন। তিনি আরও বলেন, এটি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা আপনি কীভাবে দিচ্ছেন।

ট্রাম্প তার পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর নৃশংস শক্তি প্রয়োগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করে। এদিন রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। সমালোচকরা এ ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, এটি কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের ঘটনা।

ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবাজ মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি গত মাসে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার পান।

হামলার পরপরই ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে চালাবে এবং দেশটির বিশাল তেলের ভাণ্ডার কাজে লাগাবে। যদিও মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

এদিকে রদ্রিগেজ সম্পর্কে রোববার ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিককে বলেন, যদি সে সঠিক কাজ না করে, তাহলে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।

এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর বিরুদ্ধেও হামলা চালাতে পারে। এ ছাড়া তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণে প্রচেষ্টা আরও তীব্র করেছেন।

জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যোগ দেন ট্রাম্প। দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন তিনি।

ট্রাম্পের সহযোগী ও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, এখন থেকে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘নিঃসন্দেহে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।

মিলার সোমবার সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা নিজেদেরকে পরাশক্তি হিসেবেই পরিচালনা করব।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন হলো দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের নিয়ম ও আদর্শের সমষ্টি। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের কনভেনশন ও বহুপাক্ষিক চুক্তি।

বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্গারেট স্যাটার্থওয়েট আলজাজিরাকে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে উড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্ব হয়তো সাম্রাজ্যবাদের যুগে ফিরে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা ওয়াশিংটনের প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে তাদের আগ্রাসন শুরু করতে উৎসাহ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন দেশগুলোকে ভয়াবহ কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না, যদি তারা সেটি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে।


banner close