শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


নির্বাচিত

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে: দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। এই পরিসংখ্যানটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, পিয়ংইয়ংয়ের ভাণ্ডারে ৫৭টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, 'উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি ওয়ারহেড রয়েছে বলে সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হয়', যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে এই অস্ত্রের নিখুঁত সংখ্যা নির্ণয় করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এই তথ্যটি মূলত বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার পর্যালোচনার ভিত্তিতে পাওয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এটি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করেনি। কিম জং উনের কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবির প্রেক্ষিতে আন মন্তব্য করেন, 'সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে'।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এমন ধারণা থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়া দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। সিউলের দীর্ঘদিনের নীতি হলো কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তার দেশ কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করবে না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করবে না এবং নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনও সমর্থন করবে না। এর পরিবর্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা বলয়ের ওপর সরাসরি নির্ভর করবে।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার নতুন সূত্র খুঁজছেন। আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে এনেছে। ট্রাম্প এই মহড়াগুলোকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি 'শত্রুতামূলক' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে পিয়ংইয়ং এই উদ্যোগকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং মন্তব্য করেছেন যে, মহড়ার সময় কমানো হলেও এগুলো এখনো উসকানিমূলক ও আগ্রাসী। তিনি একে ওয়াশিংটনের কোনো অর্থবহ সদিচ্ছার ইঙ্গিত হিসেবে মানতে রাজি নন।

অবশ্য কিম ইয়ো জং এটিও উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক 'চমৎকার'। ট্রাম্পও চলতি বছরের শেষের দিকে কিমের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকে বসার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক আলোচনাগুলো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ব্যর্থ হলেও, নতুন এই সম্ভাব্য বৈঠক স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক যোগাযোগে আবারও গতি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

হোমওয়ার্ক না আনায় শিক্ষকের প্রহারে স্কুলেই মৃত্যু শিশুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক বেসরকারি স্কুলে বাড়ির কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগে শিক্ষকের প্রহারের পর প্রাণ হারিয়েছে ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষকের মারধরের পরপরই শিশুটি শ্রেণিকক্ষেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর নাম প্রণয় তেজা, যে বিশাখাপত্তনমের ওয়ান টাউন এলাকার লিটল গার্ডেন স্কুলের ছাত্র ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাড়ির কাজ না করায় এক শিক্ষক তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং এরপরই সে লুটিয়ে পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে কিং জর্জ হাসপাতালে (কেজিএইচ) নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিহত প্রণয়ের পিতা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় নিজে থেকেই স্কুলে যাওয়ার বায়না ধরেছিল। তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সকাল প্রায় ৮টার দিকে আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠে বলল, সে স্কুলে যেতে চায়। সে স্কুলে যাওয়ার জন্য জোর করছিল।’ পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় শেষ পর্যন্ত পরিবার তাকে স্কুলে পাঠাতে রাজি হয়। বিদায় বেলায় প্রণয় বলেছিল, ‘ঠিক আছে বাবা, আমি যাচ্ছি’। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় প্রণয়ের মাঝে কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল না বলে তার স্বজনেরা দাবি করেছেন। কিন্তু দুপুরের দিকে তারা ছেলের সাথে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার খবর পান।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন যে, বিপদের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায়নি। তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে কেউ আমাকে ফোন করেনি। আমার ভগ্নিপতির বাড়ির কাছাকাছি কাজ করা স্থানীয় কয়েকজন রাঁধুনি ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।’ হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে তিনি আরও জানান, ‘চিকিৎসক আমাদের জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।’

স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে শিক্ষকের মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। প্রণয়ের বাবার ভাষ্যমতে, ‘স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক শিশুটিকে ভয় দেখাচ্ছিলেন। তিনি তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং আতঙ্ক ও ভয়ের কারণে সে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে।’ এনডিটিভি তাদের সংগ্রহ করা ফুটেজেও শিক্ষককে শিশুটিকে আঘাত করতে দেখার বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

ছেলের পূর্ব কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তার বাবা বলেন, ‘একেবারেই কোনো সমস্যা ছিল না। আগের রাতে সে আনন্দের সঙ্গে খেলাধুলা করেছে এবং সকালে সুস্থ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেছিল। তার ভাইরাল জ্বর বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা ছিল না।’ পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এটি ওই স্কুলের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং নিয়মিত শারীরিক শাসনের অংশ।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অন্ধ্র প্রদেশের স্কুলশিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজস্ব বিভাগের ডিভিশনাল কর্মকর্তা (আরডিও) দিলীপ চক্রবর্তী হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং জানিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করছে। এছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আঞ্চলিক যুগ্ম পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও আরডিওর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ আরও জানিয়েছে, শিক্ষকদের আচরণ যেন মানবিক ও সংবেদনশীল হয় সে বিষয়ে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।


নির্বাচিত

মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি অত্যন্ত দুর্গম সামরিক রাডার ঘাঁটিতে আটজন আরোহী নিয়ে একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই বিমানে থাকা সকল যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কেপ নিউনহাম লং রেঞ্জ রাডার সাইট বিমানবন্দরে অবতরণের মুহূর্তে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলটি মূল শহর এঙ্করেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল (৭২৫ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থিত। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালনকালে এই প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন এয়ার ফোর্স ও আলাস্কা কমান্ড গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

আলাস্কা কমান্ড, আলাস্কা নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড রিজিয়ন এবং ১১তম এয়ার ফোর্সের কমান্ডার মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট ডেভিস এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক পরিবার এবং আমরা যে জনগোষ্ঠীর সেবা করি, তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং বড় ধরনের ক্ষতি।” বিধ্বস্ত বিমানে থাকা ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “বিধ্বস্ত এই বিমানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা একটি সুনির্দিষ্ট মিশনে নিয়োজিত ছিলেন।” তাদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে ডেভিস বলেন, “তারা ছিলেন একদল নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার, যারা একটি চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কঠিন সময়ে আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো তাদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করা।” এছাড়া দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, উড়োজাহাজটিতে দুইজন পাইলট এবং ছয়জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি এঙ্করেজ থেকে উড্ডয়ন করে বৃহস্পতিবার বিকেলের শুরুতে কেপ নিউনহামে নামার প্রস্তুতির সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

আলাস্কা কমান্ড সূত্রে জানা গেছে, কেপ নিউনহামের এই বিশেষ রাডার স্টেশনটি প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সেস রিজোনাল সাপোর্ট সেন্টার দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি একটি রিমোট রাডার নেটওয়ার্কের অংশ যা আলাস্কার আকাশসীমা এবং সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী সকল বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত। যদিও বিধ্বস্ত বিমানটি একটি ‘বেসামরিক চুক্তিবদ্ধ বিমান’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল, তবে বিমানে থাকা যাত্রীরা ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সংবাদ সংস্থা এপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


নির্বাচিত

পেরুতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর দক্ষিণাঞ্চল বৃহস্পতিবার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার এই কম্পনে অন্তত তিনজন আহতের খবর পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে যে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রাজধানী লিমা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে এবং আপাহুয়াচো শহরের ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ছিল এর উৎপত্তিস্থল, যার গভীরতা ছিল ৯৯ কিলোমিটার। তবে পেরুর নিজস্ব সংস্থা জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইজিপি) এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.২ এবং গভীরতা ১০৮ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করেছে।

ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকায় অন্তত ২২টি বসতবাড়ি, ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার ও সহায়তা দলগুলোকে দ্রুত আন্দিজ পর্বতমালা সংলগ্ন পুকিও ও কোরাকোরা শহরে পাঠানো হয়েছে।

আয়াকুচো অঞ্চলের কোরাকোরা শহরটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পেরুর গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ফুটেজে শহরটির আশপাশের পাহাড় থেকে পাথর ও মাটি ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোরাকোরার মেয়র ইয়োনি ওদোন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে ফোনে বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।” তবে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

পেরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে যে, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে কম্পনটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রায় অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর ৪.২ মাত্রার একটি আফটারশকও রেকর্ড করেছে আইজিপি। কম্পন অনুভূত হয়েছে কুসকো, আরেকুইপা এবং খোদ রাজধানী লিমাতেও, তবে সেখানে তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল বলে এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত জুন মাস থেকে দক্ষিণ আমেরিকার এই অঞ্চলে এটি তৃতীয় বৃহৎ ভূমিকম্প। এর আগে গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় এবং গত সপ্তাহে কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশগুলো ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে থাকে।


নির্বাচিত

নাইজেরিয়ায় মর্মান্তিক নৌকাডুবি, অন্তত ৪৬ জনের সলিল সমাধি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু বলে জানা গেছে। সোকোটো প্রদেশের এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশের ওই নৌকাটিতে ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী সওয়ার ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বর্তমানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্র আহমাদ রুফাই বৃহস্পতিবার বিবিসিকে জানান, "গোরোনি এলাকার গোরাউয়ের কাছে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জন।" রুফাই আরও যোগ করেন, "দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন। নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন।" বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ধান কাটার উদ্দেশ্যে খামারের মালিক ও শ্রমিকদের সাথে বেশ কিছু শিশুও ওই নৌকায় যাচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে সারি সারি মরদেহ দাফনের অপেক্ষায় রাখা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নেমা)-র মুখপাত্র ইজেকিয়েল মানজো বিবিসিকে বলেন, "গোরাউ খুবই দুর্গম এলাকা। আমাদের দল সেই দুর্গম জায়গাটিতে পৌঁছেছে।" নাইজেরিয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। মূলত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের জরাজীর্ণ দশা এবং নিরাপত্তা বিধির তোয়াক্কা না করার ফলেই বারবার এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ২৬ জন এবং গত বছর ডিসেম্বরে নাইজার নদীতে নৌকা ডুবে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ, নৌপথ খনন এবং চালকদের প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের সুপারিশ করা হলেও এগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এখনো অধরা। নাইজেরিয়ার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নদীপথ হলেও সড়কপথের বেহাল দশা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই এসব কাঠের নৌকায় চলাচল করতে হয়।


নির্বাচিত

চিকিৎসা শেষে পুনরায় কারাগারে ইমরান খান

ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পুনরায় জেলহাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাকে ‘সুস্থ’ ঘোষণা করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসির।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ইমরান খানকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিসিন চিকিৎসকসহ ‘যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল’ পরীক্ষা করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আরও জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে পরিচালিত হওয়া পূর্ণাঙ্গ এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় তিনি নিজে সশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। সেই আদেশে ইমরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তর করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের পক্ষ থেকে একইসঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়, যেহেতু দীর্ঘ কয়েকমাস তিনি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে তার বোন আজমা খান কারাগারে গিয়ে ভাইয়ের সাথে দেখা করেন।

সাধারণত ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তার বিরুদ্ধে আসা আদালতের রায়গুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে থাকে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক নির্দেশের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে দলটি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানাচ্ছে গণমাধ্যম।

এদিকে ইমরানের চিকিৎসা চলাকালীন শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। হাসপাতালের চারদিকে ব্যারিকেড ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁজোয়া যান দিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল যাতে ইমরানের এই হাসপাতাল উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংবাদ সম্মেলন করা না হয়। মূলত বিষয়টি যেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ না নেয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ইমরানের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, তিনি চোখের পীড়াসহ নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন কিন্তু কারাগারে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এমনকি গত ফেব্রুয়ারিতে তার এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন যে, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যদিও সরকার বরাবরই এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। মঙ্গলবারের আদেশে বিচারকেরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। আদালতের সেই নির্দেশনা মেনেই ইমরানের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল টিমে চক্ষু বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছিল।


নির্বাচিত

লন্ডনে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক 

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ব্রিটিশ রাজধানীতে নথিভুক্ত মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা ২০২৩ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা টেল মামা জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত তারা মুসলিমবিদ্বেষ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণের ১ হাজার ৩১টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। অথচ ২০২৩ সালের পুরো বছরে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৮টি।

ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার ক্ষেত্রে টেল মামা ‘অ্যান্টি-মুসলিম হেট’ এবং ‘অ্যান্টি-মুসলিম ভায়োলেন্স’- এই পরিভাষা ব্যবহার করে। চলতি বছরের শুরুতে বৃটিশ সরকারও ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটির পরিবর্তে একই পরিভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

টেল মামার পরিচালক ইমান আত্তা বলেন, এটি কোনো সাময়িক বিচ্যুতি নয়। মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণার ধারাবাহিক ও স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক, কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

টেল মামার পরিসংখ্যানে লন্ডনে মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার দ্রুত বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২১ সালে লন্ডনে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩১৩টি। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮১৮-তে। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি রেকর্ড ১ হাজার ৯০৯টিতে পৌঁছায়।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে হামলা, নামাজের সময় হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো ঘটনা রয়েছে।

ব্রিটেনজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এসব পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো। গত জুনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছিল, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ‘জরুরি মাত্রায়’ পৌঁছেছে।

জুলাইয়ে পুলিশ ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে হামলার কথিত পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ঘটনাটির সঙ্গে ‘চরম ডানপন্থি সন্ত্রাসবাদ’-এর যোগসূত্র রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে এডিনবরায় ছুরিকাঘাতের ঘটনায়ও মুসলিমরা হামলার শিকার হন। বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার মধ্যেও মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃটেনে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে উগ্র ডানপন্থি তৎপরতাও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের বিস্তারও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

মে মাসে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্স লীগের নেতা টমি রবিনসনসহ উগ্র ডানপন্থি ব্যক্তিরা মধ্য লন্ডনে ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামে একটি সমাবেশ আয়োজন করেন। সেখানে বক্তারা প্রকাশ্যেই মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দেন।

পাঁচ দিনে একটি মসজিদে হামলা

গত মাসে ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট ‘মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে বৃটেন সরকারের সরকারি অংশীদার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। মসজিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সরকারি তহবিল পেতেও অনেক প্রতিষ্ঠান সমস্যার মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অনেক মসজিদ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য সরকারি অর্থ সহায়তার আবেদন করে মাসের পর মাস সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আবার কিছু আবেদন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তবে এর মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারগুলোর নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ ৪ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি মুসলিমবিদ্বেষী হামলা ও উগ্র ডানপন্থি প্রচারণা ঠেকাতে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ জরুরি।


নির্বাচিত

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত আরও ২ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুইজন মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তারা হলেন—আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার (৩৫)। তাদের দুজনেরই বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এবং তারা উভয়েই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। তার নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যান। বুধবারই (১৯ আগস্ট) তার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হয়েছেন।

সাজুর বড় ভাই সাহেব আলী সরদার জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভাইয়ের খোঁজে তার মোবাইলে কল দিলে কলকাতার একটি থানা থেকে পুলিশ সদস্য ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান যে অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা গেছেন। পরে ছবি দেখে তারা পরিচয় নিশ্চিত করেন। সাজুর বড় ভাবি তানিজা আক্তার জানান, সাজু অবিবাহিত ছিলেন এবং হজ পালন করার পর থেকেই নিভৃত জীবন যাপন করতেন। তিনি সাজুর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত রেবতী সরকার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রেবতী ১১ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। তার স্বামী ভবেশ সরকার ইটভাটার শ্রমিক। তার ছোট ভাই তপন সরকার জানান, ফোনকলের মাধ্যমে তারা রেবতীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদপত্র-মিডিয়াসূত্রে জানা গিয়েছে। এই খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন থেকে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করার চেষ্টা করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুইজন নিহতের খবর পাওয়ার পর তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। নিহত অন্য বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন। তারা হলেন— দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু (৪০) এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত অপর দুইজন ভারতীয় নাগরিক।


নির্বাচিত

‘কিমের হাতে ৫৭টি পরমাণু বোমা রয়েছে’

কিম জং উন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে ৫৭টি ‘শক্তিশালী’ পরমাণু বোমা রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রধারী কিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের সময় ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা তৈরি হতে দেওয়া উচিত ছিল না। তবে এখন কিমের হাতে এসব অস্ত্র রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিমের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের ৫৭টি পরমাণু বোমার দাবিটি অবশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার হাতে প্রায় ৬০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে। পাশাপাশি আরও অন্তত ৩০টি ওয়ারহেড তৈরির মতো বিভাজনযোগ্য উপাদান দেশটির কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জানিয়েছেন, বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে বলে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়। তবে সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। ফলে ট্রাম্পের ৫৭টির হিসাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নের পার্থক্য রয়েছে।

কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। নভেম্বর মাসে চীনের শেনঝেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন—এপেকের সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই সফরকে ঘিরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি

প্রিন্স হ্যারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরতে যাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তারা লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। খবর বিবিসির।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফ ও দ্য সানের প্রাথমিক তথ্যমতে, হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকবেন। এটি রাজপরিবারের কোনো বাসভবন নয়।

তাদের সন্তান সাত বছর বয়সি প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সি প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে একটি ব্রিটিশ স্কুলে পড়াশোনার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার রাজা চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে হ্যারি বা মেগান কারোরই রাজপরিবারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে ফেরার পরিকল্পনা নেই।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সন্তানদের নিয়ে হাইগ্রোভে রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন হ্যারি ও মেগান। তবে তখন তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বিবিসি জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তের আগে রাজা চার্লস এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি হ্যারি, মেগান ও নাতি-নাতনিদের আরও কাছে পাওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

হ্যারি ও মেগানের রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকবেন। ২০২০ সালের শুরুতে হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং যুক্তরাজ্য ছেড়ে যান। ওই বছরের মার্চে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

এরপর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। তবে গত জুলাইয়ে রাজা চার্লস ও কুইন ক্যামিলার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়।

গ্লুচেস্টারশায়ারে রাজার ব্যক্তিগত বাসভবনে ওই সাক্ষাৎ হয়। রাজপ্রাসাদ এটিকে 'ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান' হিসেবে বর্ণনা করে। চার বছরেরও বেশি সময় পর ওই প্রথম রাজা চার্লস তার নাতি-নাতনিদের সরাসরি দেখার সুযোগ পান।

২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর হ্যারি ও মেগান আর একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে আসেননি।

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে ছিলেন হ্যারি ও মেগান। পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর গত জুলাইয়ের সফর বাতিল করার কথাও তারা ভেবেছিলেন।

গত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে করা আইনি লড়াইয়েও হেরে যান হ্যারি। রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে মেগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তার নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার খবর প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, রাজপরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নির্ধারণ করে ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি ফর দ্য প্রটেকশন অব রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস’। যুক্তরাজ্য সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ‘অত্যন্ত কঠোর ও মানানসই’ বলেও জানান তিনি।

হ্যারি অবশ্য আগেই বলেছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে পারছেন না। গত জুলাইয়ের সফরে হ্যারি আহত ও অসুস্থ সাবেক সামরিক সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ইনভিক্টাস গেমস’-এর প্রচারণায় অংশ নেন। আগামী বছর বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন।

ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের চিফ প্রোগ্রামস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অফিসার ডেভিড ওয়াইজম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘আগামী বছরের বার্মিংহাম ইভেন্টের আগেই প্রিন্স হ্যারিকে যুক্তরাজ্যে ফিরে পাওয়া অত্যন্ত চমৎকার একটি খবর।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি দেশে ফিরে আসছেন দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। ঠিকানা পরিবর্তন করা যেকোনো মানুষের জন্যই বেশ মানসিক চাপের, তাই আশা করছি সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হবে এবং বাচ্চারাও তাদের নতুন স্কুলে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে।’

তবে গত জুলাইয়ের হ্যারির সফর একটি মামলায় হাইকোর্টে তার হেরে যাওয়ার কারণে কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। ‘ডেইলি মেইল’ ও ‘মেইল অন সানডে’-এর প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের বিরুদ্ধে ওই গোপনীয়তা-সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন তিনি।


নির্বাচিত

ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা ইরানের! 

ইরানের নিজেদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও জোরদার করলে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইরান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানানো হয়, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।

সম্ভাব্য আক্রমণের তালিকায় থাকা ঘাঁটিগুলোর মধ্যে বুলগেরিয়ার বিজমার বিমানঘাঁটি অন্যতম, যা গত মাসে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। এ ছাড়া গত মার্চে প্রথম দফায় ড্রোন হামলার শিকার সাইপ্রাসের ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতেও পুনরায় আঘাত হানার কথা ভাবছে তেহরান।

ইরান তাদের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক মার্কিন সামরিক আউটপোস্টে হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের পানির নিচের ফাইবার-অপটিক কেবলগুলোতেও সাবোটাজ বা নাশকতা চালানোর বিষয়টি তাদের সামরিক ভাবনায় রয়েছে।

ইরানের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকা যদি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে, তবে ইরান যেকোনো মূল্যে আত্মরক্ষা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্ত ছাড়িয়ে ইউরোপেও হামলা চালাবে। গত সোমবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং শান্তিবৈঠক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার হামলায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছাতে পারলেও সেগুলোর নির্ভুলতা ও শক্তির পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। এর আগে ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ার মার্কিন-যুক্তরাজ্য ঘাঁটিতে হামলা ব্যর্থ হলেও সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছিল তেহরান।

ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ বলল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ঘিরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ লেখা ছিল। যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা হবে—এর আগে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই তিনি এই ছবি প্রকাশ করেন। পরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের পোস্টটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়।

এর জবাবে এক্সে ইরানের সরকারি ‘ইরান ইন হায়দরাবাদ’ অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এতে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড।’

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও ট্রাম্পের পোস্টের জবাব দেন। এক্সে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার বিভ্রম শিগগিরই হয় ঠিক হবে, নয়তো আমরা এই বিভ্রান্ত মানুষটির বিভ্রম ঠিক করব।’

ইরানের বাইরে ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের সবচেয়ে বড় বসতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনেক ইরানি-আমেরিকান বাস করেন। ইউসিএলএর তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান রয়েছেন।

১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি সম্প্রদায়ের বিস্তার ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। এলাকাটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামে পরিচিত।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই দুই দেশের উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তী সময়ে একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে এর বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরে আলোচনা থমকে যায়।

এদিকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

‘ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে নজর সরানোর কৌশল’

তেহরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরুর হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আসলে আমেরিকার নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি লেখেন, ‘তথাকথিত ইকোনমিক ডি-ডে হলো আমেরিকার নিজস্ব সংকটের দিক থেকে নজর সরানোর চেষ্টা, যার মধ্যে রয়েছে অভূতপূর্ব ঋণ এবং লাফিয়ে বাড়তে থাকা সুদের খরচ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যর্থ নীতিগুলোকে বারবার জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেবল আরও পরাজয় এবং ইরানিদের শত্রুতাকে ডেকে আনবে। মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এবং সার্বিক সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ চালু করতে যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তেহরানকে যেকোনো উপায়ে সমর্থনকারী যেকোনো দেশকে মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যোগ করেন, এটি একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হতে যাচ্ছে এবং ইরানের এই হুমকিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে আমেরিকার সমস্ত মিত্রদের একসঙ্গে দাঁড়ানো প্রয়োজন।


নির্বাচিত

নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে বুলডোজার চালাল ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা ‘কিউ-লাইনার’ (নিরাপত্তা বেষ্টনী) বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনে বাইরে পার্কিং খুঁটি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে দেওয়ার তিন দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নিল ভারত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এএনআই। এদিন সকালে বুলডোজার চালিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে দেওয়া হয়। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান হাইকমিশন চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা রেলিং, ধাতব কাঠামো, প্লাস্টারের টুকরো, কংক্রিটের টুকরো, ইট ইত্যাদি। এছাড়াও দেখা গেছে টিনের শেড, সাদা ধাতব বেড়া প্রভৃতি। তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল ভবন বা মূল প্রবেশপথটি অক্ষত রয়েছে।

নয়াদিল্লির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে স্থাপিত ‘কিউ-লাইনার’টি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থেকে পার্কিংয়ের খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলেছিল।

সূত্রটি আরও জানায়, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে পার্কিংয়ের খুঁটি সরানোর ঘটনায় পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা পার্কিংয়ের খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার পর, দিল্লিতে একটি গলিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের পার্কিংয়ের সারির লাইনও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন দাবি করেছে যে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে ও ভিসা বিভাগের কাছে রাখা হয়েছিল ব্যারিকেড, ধাতব রেলিং। নির্মাণ করা হয়েছিল গেটসহ একাধিক কাঠামো। কিন্তু জানা যাচ্ছে, সেগুলো সরকারি অনুমোদিত সীমানার বাইরে ছিল। অভিযোগ পেতেই পদক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় অবৈধ নির্মাণগুলো।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার জবাবে ভারতীয় বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান শুরু করলে ১০ মে

যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তা শেষ হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক চরম অবনতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, আঞ্চলিক সুরক্ষার উন্নতি প্রত্যক্ষ করে বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর সফর করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সার্জিও গোর জম্মু ও কাশ্মীরকে স্পষ্টভাবে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে অবিহিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে সিকিউরিটি পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আমেরিকান নাগরিকদের জন্য এই অঞ্চলে ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের এই মন্তব্য ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রকাশ্য স্বীকৃতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে একটি ‘কড়া প্রতিবাদপত্র’ হস্তান্তর করেছে এবং গোরের বক্তব্যকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে দাবি করেছে।


নির্বাচিত

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট

জ্বালানি সংকটে ভুগছে রাশিয়ার ভোক্তারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত কয়েক মাস থেকে রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতে ড্রোন হামলার চালাচ্ছে ইউক্রেন। এতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে দেশটিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

রাশিয়া জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যেই ভারত থেকে একটি জাহাজে করে পেট্রোল পৌঁছেছে দেশটিতে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তবে যুদ্ধে জড়ানোর পর দেশটির জ্বালানি খাত বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

ইউক্রেনের হামলায় নিজেদের তেল শোধনাগার ও ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আমদানির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই অভিযান রাশিয়াজুড়ে এবং রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

ভারত থেকে অন্তত একটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশ করেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন শিল্প খাতের তিনটি সূত্র। জাহাজ চলাচলের তথ্যেও এর প্রমাণ মিলেছে। বেলারুশ ও কাজাখস্তান থেকেও রেলপথে পেট্রোল আমদানির ব্যবস্থা করছে রাশিয়া। পাশাপাশি জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, রাশিয়া এশিয়া থেকেও ডিজেল আমদানি শুরু করেছে।

রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার পোর্ট সাইদের কাছে সমুদ্রে ‘শিপ-টু-শিপ’ পদ্ধতিতে প্রায় ৬৮ হাজার টন পেট্রোল নেয়। ওই পেট্রোল ভারতের ভাদিনার বন্দরে ‘অগ্নি’ নামের একটি ট্যাংকারে তোলা হয়েছিল। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ট্যাংকারটি রাশিয়ার আর্কটিক বন্দর ভিতিনোতে পেট্রোল খালাস করে।

যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞায় রুশ তেল কম দামে বিক্রি হওয়ায় ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। এতদিন ভারত ছিল রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা; সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সম্পর্কের প্রবাহে নতুন এক চিত্র তুলে ধরছে।

মূলত যুদ্ধের প্রভাবে নিজেদের পরিশোধন সক্ষমতায় সংকট তৈরি হওয়ায় ভারত থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে আরও অন্তত দুটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বুধবার (১৯ আগস্ট) আমদানি শুরুর বিষয়টি স্বীকার করলেও কত পরিমাণ জ্বালানি এবং কোন কোন দেশ থেকে তা আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী ও জ্বালানি সরবরাহকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আবারও জ্বালানি কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাশিয়ার বৃহত্তম তেল কোম্পানি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোসনেফট জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের সব স্টেশনে একবারে সর্বোচ্চ ৩০ লিটার পেট্রোল কেনা যাবে।


নির্বাচিত

banner close