পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার উত্তর অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় দুর্গাপূজা মণ্ডপে চরম বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুসহ অন্তত উনিশ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত পঁচিশ জন মানুষ গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাতের প্রথম প্রহর অর্থাৎ সাতটা থেকে আটটার মধ্যকার সময়ে চোরবাগান এলাকার ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বাইরে থাকা বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থী একসঙ্গে হুড়োহুড়ি করে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
এলাকাটি অত্যন্ত সরু গলিপথ হওয়ায় এবং একসঙ্গে চারজন মানুষের বেশি পাশাপাশি হাঁটার সুযোগ না থাকায় সেখানে মারাত্মক জনজট তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাইকে ভিড় না কমালে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন একটি সতর্কতামূলক ঘোষণা আসার পরই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আতঙ্কে লোকজন ছুটোছুটি শুরু করলে এই পদদলনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবহুল এই উৎসবে ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক বা পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন যে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নিহতের পরিবারকে পঁচিশ লাখ রুপি আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং একটি করে 'গ্রুপ ডি' পদের সরকারি চাকরি প্রদান করা হবে।
তিনি আরও জানান, ভিড় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং পূজার আয়োজকদের ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পাশাপাশি ফরেনসিক ও ফায়ার সার্ভিসের দলগুলোও তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের প্রতিটি পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য পঞ্চাশ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া সম্ভাব্য পরিস্থিতি পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য সফরসূচিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে।
হামের বিরুদ্ধে সফল ছিল বাংলাদেশ। সংক্রামক এই রোগটিকে ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল অনেক বছর। কিন্তু ২০২৫ সালে রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির প্রভাবে এ সফলতায় বড় ধাক্কা লাগে। সেসময় যাদের হামের টিকা দেয়া হয়নি বড় মূল্য চোকাতে হচ্ছে তাদের। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে দেশের শিশুরা। তাদের সঙ্গে লড়াই করছে বাংলাদেশও। দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ে প্রচারের ঘাটতি এবং টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে এই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের হার কমে গেলে কী ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, বিশ্ববাসীর জন্য বাংলাদেশ এখন সেই বাস্তব সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২২ হাজার রোগীর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বে সন্দেহভাজন হামের রোগীর হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ। অতি সংক্রামক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ৯৪ ভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো দেশে মহামারি ঠেকাতে অন্তত ৯৫ ভাগ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এই লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি থাকলেও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার জেরে সেই টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রথম ডোজের কভারেজ নেমে আসে ৯০ ভাগে এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮৬ ভাগে।
এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, টিকা আমদানিতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে তদারকির অভাবে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল পাবলিক হেলথ স্কুলের অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচওর টিকা উপদেষ্টা মার্ক জিৎ বলেন, যেকোনো দেশের জন্যই এটি একটি চরম সতর্কবার্তা। তিনি জানান, জরুরি মহামারি মোকাবিলার চেয়ে নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ।
ভুল তথ্য ও প্রস্তুতির ঘাটতি
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারের জরুরি টিকাদান কার্যক্রমে মারাত্মক ত্রুটি ছিল। এপ্রিলে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দিয়ে সরকার সব শিশুকে আওতাভুক্ত করার দাবি করলেও জুনের অন্য এক স্বাস্থ্য কার্যক্রমে দেখা যায় একই বয়সী আরও ৪০ লাখ শিশু তালিকার বাইরে থেকে গেছে। এছাড়া সাধারণ সময়ে টিকাদান অভিযানের আগে চারটি ধাপে প্রস্তুতি যাচাই করা হলেও সময় স্বল্পতার অজুহাতে মাত্র একটি ধাপে তা শেষ করা হয়েছিল। ফলে টিকাদান কার্যক্রমের আগেও আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮২ ভাগ যেমন টিকাহীন ছিল, ক্যাম্পেইনের পরও তা ৮৫ ভাগে অপরিবর্তিত থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে জানান, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অভিভাবকদের অনীহা বা অসুস্থতার কারণে কিছু শিশু বাদ পড়ে থাকতে পারে।
সিলেটে ট্র্যাজেডি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ
হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগ। সেখানে সরকারি হিসাবেই ১৮০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, তাদের গ্রামে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী সময়মতো টিকা দিতে আসেনি। শিশুর মৃত্যুর পরই কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সেখানে হাজির হয়েছে।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৯৮ জন নতুন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিলেটের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই এই বয়সি শিশু। সাধারণত ছয় মাসের কম বয়সি শিশুরা মাতৃগর্ভ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। কেন এই শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তা নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
দীর্ঘ ৭৪ বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার সভাপতিত্ব করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ২০২৭ সালের বার্ষিক সভা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে দেশটি। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী সংস্থা দুটির বার্ষিক সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন। সেই হিসাবে সাত দশকেরও বেশি সময় পর আবারও এই দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে দেশটি।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে বার্ষিক সভার সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এ দায়িত্ব পালনের জন্য সাধারণত কোনো দেশের অর্থমন্ত্রী, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়।
পাকিস্তানে বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রম দেখভাল করে অর্থনৈতিকবিষয়ক বিভাগ এবং আইএমএফ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনা করে দেশটির অর্থ বিভাগ। বিশ্বব্যাংকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা। এ কারণে বার্ষিক সভার সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এর আগেও কয়েকবার এই দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে। ১৯৫০ সালে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চিন্তামন ডি দেশমুখ প্রথম এই দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান, ১৯৬৮ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ১৯৯৯ সালে নেপাল আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় সভাপতিত্ব করে।
তবে এই দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ২০২৭ সালের ৪ থেকে ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠেয় বার্ষিক সভার কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া হবে পাকিস্তানের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সভাপতির পদ পাওয়ার ফলে পাকিস্তান বাড়তি ভোটাধিকার বা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো সুবিধা পাবে না। কারণ, ঋণ অনুমোদন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংস্থা দুটির পৃথক কার্যকরী পর্ষদের হাতে।
তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার সুযোগ পাবে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে। গত শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) এই দরবৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্টের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ উদ্বেগের। কারণ, দেশের পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও কৃষি খাতে জ্বালানির বড় ভূমিকা রয়েছে। অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে, অন্যদিকে সরকারকে জ্বালানি খাতে বেশি ভর্তুকি দিতে হতে পারে। আমদানির বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দাম, উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের বরাতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে গত মার্চ থেকে ছয় মাসে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি পরিবহন ও হ্যান্ডলিংয়ের ব্যয়ও বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে উৎপাদন ও চাহিদার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বড় ভূমিকা রাখে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে এবং জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ ঝুঁকিতে পড়লে সরবরাহ কমার আগেই বাজারে দাম বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির জায়গা হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এটি। এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকি বিমা, জাহাজভাড়া এবং বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ে।
সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা সম্ভব। ফলে এই বিকল্প রপ্তানি পথের আশপাশে হামলার ঝুঁকি বাড়লে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনেও সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন, মজুত ও বিকল্প সরবরাহের পরিমাণও তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কিনতে ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে একই পরিমাণ জ্বালানি আমদানিতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে চাপ আরও বাড়ে।
বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের পাশাপাশি এলএনজিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে গ্যাসের আন্তর্জাতিক মূল্য ও সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের মোট জ্বালানি আমদানি ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যেতে পারে।
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। একই সময়ে তেলজাতীয় পণ্য ও লুব্রিক্যান্ট আমদানিতে ব্যয় বেড়েছিল ৮৪ শতাংশ, মোট ৭৮৯ কোটি ডলার। এই পরিসংখ্যান দেখায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ধাক্কা দেশের আমদানি ব্যয়ে কতটা বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিজেল বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন, কৃষি সেচ, নৌপরিবহন এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। ডিজেলের দাম বাড়লে ট্রাক, বাস ও পণ্যবাহী নৌযানের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা সেই বাড়তি ব্যয়ের কিছু অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে চাল, ডাল, সবজি, মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রভাব একদিনে সব পণ্যে সমানভাবে পড়বে না। পরিবহনব্যয়, মজুত, মৌসুমি উৎপাদন, বাজারের প্রতিযোগিতা এবং সরকারের মূল্য ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন পণ্যের দাম ভিন্নভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক জ্বালানির ভূমিকা রয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তরল জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার আমদানিনির্ভর এলএনজির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহের ব্যয়ও বাড়ে।
এর প্রভাব পড়তে পারে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক, ইস্পাত, সিমেন্ট, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ জ্বালানিনির্ভর শিল্পে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন এবং সময়মতো পণ্য পাঠানোর চাপ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশের বাজারে দাম একই হারে না বাড়ালে আমদানিকারক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতে আর্থিক ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সেই ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হয় অথবা অন্য খাতের ব্যয় সংকোচন করতে হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশবিষয়ক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ভর্তুকির কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে এবং আমদানি ব্যয় বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ পড়তে পারে। বিশেষত সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলা কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, এলএনজিও গুরুত্বপূর্ণ। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ চলাচলের ওপর নির্ভরশীল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরবরাহে বিঘ্নের কারণে কাতারএনার্জি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পিত পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছিল। এর বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনা এবং অন্য দেশ থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা খুঁজতে হয়েছে। স্পট মার্কেটে দাম বেশি থাকলে একই পরিমাণ গ্যাস কিনতেও বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়াতে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমাতে এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সংকট মোকাবিলায় শুধু তাৎক্ষণিক জ্বালানি কেনার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; আমদানি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সুরক্ষা এবং জ্বালানির বিকল্প উৎস নিয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে অনুমোদিত অতিরিক্ত ৩৫ কোটি ডলারের অর্থায়নের লক্ষ্য ছিল এলএনজি আমদানিতে অর্থায়নের সুবিধা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করা। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ অর্থনীতি সচল রাখা, শিল্পের উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মত হলো, শুধু আমদানির সক্ষমতা বাড়ালেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। আমদানির উৎস, জ্বালানির ধরন এবং সরবরাহের পথ বহুমুখী করা প্রয়োজন।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম সতর্ক করেছেন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়াতে পারে। তার বিশ্লেষণে দেশীয় গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক জলবিদ্যুতের মতো বিকল্পের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার একটি প্যান্ডেলে পদদলিত হয়ে ১৭ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যারমধ্যে ১৩ জনই নারী। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন শিশু।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) চোরবাগান সার্বজনিন পূজা প্যান্ডেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এরপর ৩৫ জনকে এমসিএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কলকাতা পুলিশ এ নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, “আজ ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানার চোরবাগান সার্বজনিন পূজার প্যান্ডেলের বের হওয়ার গেটে পদদলনের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় প্যান্ডেলের ভেতর সাধারণ মানুষের প্রচুর ভিড় হয়। তখনই অনেকে পদদলিত হন। আহত সবাইকে উদ্ধার করে এমসিএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হওয়ার পর প্যান্ডেলটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, পদদলনের সময় অনেক মানুষ জ্ঞান হারান। এরপর তাদের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য বাহনে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেছেন, “প্যান্ডেলে ঢোকার গেটটি অনেক সরু ছিল, বের হওয়ার গেটটিও সরু ছিল। ওই এলাকায় কোনো লাইটিংও ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতি আহত হয়ে হাসপাতালে আছে।”
ঘটনার ভয়াবহতা বেশি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল হাসপাতালে ছুটে গেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অপরদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
তিনি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “চোরবাগান পূজা প্যান্ডেলে পদদলনের ঘটনা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত ব্যথিত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে সব আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি এই শোক সওয়ার মতো শক্তি কামনা করছি।”
সূত্র : এনডিটিভি
ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) প্রধান নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে এখনো প্রতিরোধমূলক আটকের আওতায় রয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তাদের আটক করা হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎ ডিপকেকে আটক করা হয়েছে। তাকে দিনের পরবর্তী সময়ে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন, অভিজিৎকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না। আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, অভিজিৎকে আটক করে এসইএম আদালতে হাজির করার কথা জানানো হলেও তার অবস্থান এখনো অজানা।
মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন। অভিজিৎসহ আটক অন্য বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সিজেপি ও আইসা তাদের দুই নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, আটকের পর আইনজীবী ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সিজেপির দাবি, অভিজিৎকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে দলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে, আইসার অভিযোগ ছিল, নেহা বোরাকে মঙ্গোলপুরীর অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্সের কার্যালয়ে একা আটকে রাখা হয়েছিল।
নির্বাচনী তালিকায় অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সিজেপি, বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
দেশটির নয়টি অঞ্চলে হামলা চালানো হয়। পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরের তিনটি জেলায় হামলায় ৭১ বছর বয়সি এক নারী ও ৫৮ বছর বয়সি এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ জন। খারকিভের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ এ তথ্য জানিয়েছেন।
দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্মুখসারির শহর ক্রামাতোরস্কে দুইজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুইজন। পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোলিন অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে ওই অঞ্চলের গভর্নর রোমান রোমানিউক জানিয়েছেন।
ড্রোন হামলায় কোভেল শহরের একটি শুল্ক টার্মিনালেও আঘাত হানা হয়। এতে সেখানে প্রায় ১০টি ট্রাকে আগুন ধরে যায়। কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থিত এই শহর।
রিভনে অঞ্চলে ড্রোন হামলায় একটি বড় শপিং সেন্টার ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর কোভাল। এ ছাড়া সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত সুমি শহরের একটি শপিং সেন্টারেও হামলা হয়েছে।
শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) হামলায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ১০ লাখের বেশি মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ মেরামতকারী দলগুলো পুনরায় চালু করেছে বলে ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, ভোলিন অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অন্তত এক লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজধানী লুৎস্কে বিদ্যুৎবিভ্রাট অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র আন্দ্রি রাজুমোভস্কি।
এ ছাড়া রিভনে অঞ্চলেরও বড় একটি অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বিমান হামলার অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ইউক্রেনে অন্তত ৩২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২ হাজার ১০৫ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৫ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনে ২ হাজার ৫৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৫ হাজার ২১১ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগত ও নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। সৌদি জোটের হামলায় শত শত যোদ্ধা হারালেও গোষ্ঠীটি উন্নত কৌশল ব্যবহার করছে। সৌদিতে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলায় গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে মিত্র ইরান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সহায়তার মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। এসব সহায়তা ইয়েমেনে দ্রুত ভূখণ্ড দখলেও হুতিদের ভূমিকা রেখেছে। গোষ্ঠীটি এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন উপকূলের নিজেদের অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার, জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা হুতিদের লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির জন্য হুমকি তৈরি করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার মোতায়েনে সহায়তা করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে শুরু হওয়া এক অভিযানে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা মোতায়েন করে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে। এ সময় তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে নেয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে হুতিবিরোধী বাহিনীর এক ব্যক্তি বলেন, আগের লড়াইগুলোর তুলনায় হুতিরা এবার আরও উন্নত কৌশল দেখিয়েছে। তারা পদাতিক বাহিনীর হামলার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সমন্বয় করছে। এসব ড্রোনের মধ্যে ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোনও রয়েছে।
হুতিবিরোধী আরেক কর্মকর্তা বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তারা সামনের সারিতে থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনায় সহায়তা করছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, তেহরান ও হুতিদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার সম্পর্ক ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’। তিনি বলেন, ‘হুতিদের সাফল্যে ইরানের বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে।’ তিনি এই সম্পর্ককে নিছক পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রিত গোষ্ঠীর সম্পর্কের পরিবর্তে কৌশলগত সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরানের সামরিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের অভিযোগ তেহরানের ভূমিকা অতিরঞ্জিত করে এবং হুতিদের নিজস্ব সক্ষমতা বিকাশের বিষয়টি উপেক্ষা করে।
গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’ তিনি হুতিদের ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন পক্ষ, যারা নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়’ বলে বর্ণনা করেন।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল দেখতে পায়, হুতিরা নিজেদের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য লেবানন ও ইরাকে যৌথ অভিযান পরিচালনার কক্ষ স্থাপন করেছিল।
এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, দেশটির বন্দরনগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। শুক্রবার রানওয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা একটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পড়েছিল। উড়োজাহাজটির সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন। এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এডেন প্রদেশে বদর ক্যাম্পে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়েছে। এর এক দিন আগে এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কেন্দ্রস্থল এডেনে সর্বশেষ এ হামলার মধ্য দিয়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-ঘনিষ্ঠ হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা শুক্রবার সানা থেকে উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, বিমান সহায়তায় বাহিনীটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার পাশাপাশি শতাধিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকেজো করা হয়েছে।
যুদ্ধের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র তাইজ গভর্নরেটেও হুতিদের কয়েকটি বড় আক্রমণ প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। তাদের দাবি, এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তাইজ এলাকায় হুতিদের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ ড্রোন দলকে আটক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ ঘিরে ফেলেছে। শহরটির দক্ষিণে এডেনগামী প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে হামলায় উৎসাহ দিচ্ছে।
ভারতে চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠা ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) প্রতীক নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রখ্যাত লেখক সালমান রুশদি এবং খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ার।
নিউইয়র্কে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে রুশদি ভারতের তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করে তাদের ভারতের জন্য দীর্ঘদিনের মধ্যে ‘সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মিরা নায়ার নিজেকে ‘ককরোচ মম’ (তেলাপোকা মা) হিসেবে আখ্যা দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরত তরুণদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শাসকদল সমর্থক ও হিন্দুত্ববাদীরা তাদের ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী বলে অভিযুক্ত করছেন। বিপরীতে অন্য বিশ্লেষকরা রুশদির এই মন্তব্যের পর হিন্দুত্ববাদীদের দ্বৈত আচরণের কথা তুলে ধরছেন।
নিউইয়র্কে ‘এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপ’-এর এক তহবিল সংগ্রহ ও প্রাক-দিওয়ালি নৈশভোজে এই মন্তব্য করে দুই প্রখ্যাত ভারতীয়। লেখক অমিতাভ কুমার তার সাবস্ট্যাক পেজে এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, অনুষ্ঠানটিতে মিরা নায়ারের জন্মদিনও উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সালমান রুশদি বলেন, ‘বর্তমানে ভারতে একটা কিছু ঘটছে। ভারত ফুটছে। কোনো রেস্তোরাঁয় দাঁড়িয়ে হয়তো এটা বলা ঠিক নয়, তবুও “তেলাপোকা” প্রতীককে সেলিব্রেট না করলে ভুল হবে। ভারতের তরুণ সমাজ আমাদের দীর্ঘ সময় পর সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক এক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।’
একই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ারও ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় সোচ্চার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।
অনলাইনে রুশদি ও মিরা নায়ারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ‘দ্য ফ্রি প্রেস’-এর সিনিয়র রাইটার রুপা সুব্রহ্মণ্য লেখেছেন, ‘ভারতীয় আন্দোলনকারীদের দাবি যুক্তিসংগত হতে পারে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে।’ তবে রুশদি ও মিরা নায়ারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, দুজনেই এমন এক ইংরেজি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত ভারতীয় অভিজাত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যারা দীর্ঘ দিন ধরে নরেন্দ্র মোদিকে অবজ্ঞার চোখে দেখে আসছেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে রুপা লেখেন, ‘বিষয়টি হয়তো খুব একটা আশ্চর্যের নয়, কারণ তারা দুজনেই সেই উচ্চবিত্ত ও ইংরেজি মাধ্যমীয় অভিজাত সমাজের প্রতিনিধি, যারা দীর্ঘ দিন ধরে মোদিকে কটাক্ষ করে আসছে।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাস প্রকাশের পর থেকে রুশদি কীভাবে চরমপন্থিদের হুমকির মুখে পড়েছিলেন এবং ২০২২ সালে নিউইয়র্কে কীভাবে হামলার শিকার হয়েছিলেন।
অন্য একাধিক ব্যবহারকারী রুশদি এবং মিরা নায়ারের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ তোলেন যে তারা ভারতবিরোধী মনোভাব পোষণ করেন। এক নেটিজেন দাবি করেন, রুশদি ভারতের বিনাশ চান, অথচ সাধারণ ভারতীয়রা সব সময় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তবে বিপরীত সুরও শোনা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এক স্বাধীন সাংবাদিক ‘এক্স’-এ উল্লেখ করেন, দশকের পর দশক ধরে হিন্দু ডানপন্থিরা সালমান রুশদিকে সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন কারণ তিনি ইসলামী চরমপন্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু আজ যখন তিনি হিন্দু চরমপন্থা বা মোদি সরকারের সমালোচনা করছেন, তখন তার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ছেন।
তিনি লেখেন, ‘হিন্দু ডানপন্থিরা এত দিন ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য রুশদিকে মাথায় তুলে রেখেছিল। এখন যখন তিনি তাদের ভাবধারার সমালোচনা করছেন, তখন তাদের আর পাল্টা কিছু বলার মুখ থাকছে না।’
নারী হিসেবে জন্ম নেওয়ার কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের তুলনায় বাড়তি সময় কাজ করতে হয় বলে মন্তব্য করে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তার এই বক্তব্য দেশটির গতানুগতিক লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক ভূমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি পার্লামেন্টের একটি অধিবেশনে নিজের দৈনন্দিন রুটিন ও ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করা, সকালের নাস্তা তৈরি করা, থালাবাসন ধোয়া এবং মেকআপ করার মতো কাজগুলো সারতে হয় তাকে। পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় এই সমস্ত সাধারণ দৈনন্দিন কাজের পেছনে তার অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার এই মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের অনেকেই মনে করছেন যে ঘরের কাজ বা মেকআপের মতো অজুহাত দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা কিংবা কাজের দীর্ঘসূত্রতাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা প্রকাশ করায় তা কর্ম ও জীবনের ভারসাম্য নষ্টের ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে বলেও সমালোচকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির জেরে তার নতুন মন্ত্রিসভার কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগ করার ঘটনাটিও সরকারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে সংসদীয় অধিবেশনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানোর পরামর্শ দিয়ে বিরোধী দলের এক নেতা প্রস্তাব করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেফ বা গৃহকর্মী নিয়োগ করা উচিত, যাতে দেশের সরকারপ্রধান কেবল গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন।
ভারতের রাজস্থানের কোটা অঞ্চলে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে ছিটকে পড়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পাঁচ নারীসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন আরোহী।
পুলিশের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে রাজস্থানের খাটু শ্যাম মন্দিরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ফলে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সোজা পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজে নামে এবং উপস্থিত চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহত ও নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তীতে নিহতদের শনাক্ত করা হয়; তারা হলেন অরুণা, বৈষ্ণবী, তৃষা, কৃষ্ণা, অনিতা, ওম, সূর্যবংশী ও রাজু।
আহত ১৭ জনকে চিকিৎসার জন্য কোটার এমবিএস হাসপাতাল এবং নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর সার্বিক পরিস্থিতি ও চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে জেলা কালেক্টর পীযূষ সামারিয়া এবং পুলিশের আইজি হরেন্দ্র মাহাওয়ার এমবিএস হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকাল আটটার দিকে তারা দুর্ঘটনার খবর পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, তাদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়।
কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর প্রস্তাবিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে অনুমোদিত একটি আইনের আওতায় এসব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তে থাকা টানাপোড়েন এবং দীর্ঘ চার বছরের রুশ আগ্রাসনে কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির শৈথিল্যের মধ্যেই এই পদক্ষেপ এলো, যা ইউরোপীয় মিত্রদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় মস্কোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ শতভাগ শুল্ক বসানোর বিধান রাখা হয়েছিল, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের অন্যতম বড় উৎস বাধাগ্রস্ত হয়।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “এ মুহূর্তে এ ধরনের অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে- এ মর্মে আমি কংগ্রেসকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।” তবে এই অব্যাহতি কীভাবে ওয়াশিংটনের স্বার্থরক্ষা করবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামানুসারে প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর অধীনে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন একে নেতৃত্বের ‘চরম ও অনুমেয় ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, কংগ্রেসের অভিপ্রায় অগ্রাহ্য করে ট্রাম্প মূলত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই সংঘাত জিইয়ে রাখার সুযোগ করে দিলেন। আইনটির অন্যতম প্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা নয়, বরং পুতিনকে তোষণ করার মনোভাব কাজ করেছে।
এদিকে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রফতানি নিয়ে ট্রাম্পের এক সমঝোতায় ইউরোপীয় নেতারা যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি জেলেনস্কিও নিজেকে প্রতারিত বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক রাখতে ইউক্রেনকে রুশ তেল স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেন কিছুদিন হামলা স্থগিত রেখে পুনরায় তা শুরু করে, বিপরীতে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় জোরালো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধকে কাঠগড়ায় তুললেও, ইরানে মার্কিন সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নিজ দেশেই তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।
পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদিও ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সামরিক সংস্করণে কড়াকড়ির ফলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, আগাম সতর্কতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি গতিশীল হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। নিউজম্যাক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সাথে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো তাঁর কাছে অনেক বেশি কঠিন।
অন্যান্য সামরিক জটিলতার মধ্যে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তবে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিয়েভের পাশে থাকার বার্তা জোরালো করেছে। বেলজিয়ামে আয়োজিত এক সম্মেলনে জেলেনস্কি ইউরোপের ‘প্রকৃত নেতাদের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ না করলে চাপ আরও বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ২২তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সাত দিন পার হওয়ার আগেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ থেকে কেটি জাচারিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অফিসে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার আইনগত পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এছাড়া নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তার কাজের ধরন ও পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই বিদায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে হারাতে বসল। অথচ এই সময়ে প্রেসিডেন্ট তার প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর কেটি জাচারিয়াকে তার চাকরি নিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি তাকে বলেছি, আমার মনে হয় তুমি সুখী হতে চাও এবং আমি নিশ্চিত নই যে এ ধরনের দায়িত্বে তুমি সুখী হতে পারবে কি-না। যদি আমি তোমার জায়গায় থাকতাম, তাহলে এ ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করতাম…(তুমিও) ভেবে দেখো। আমি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতাম।”
এর আগে গত সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন কেটি জাচারিয়া। পরের দিন মঙ্গলবার নিজের প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে তিনি জানান যে, আগের সপ্তাহের একটি দিনে তিনি এই পদের জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন।
দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তার কর্মজীবন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কারণ তিনি দাবি করেছিলেন যে অতীতে তিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে একজন আইনজীবী হিসেবেই সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
গত বুধবার এক ইমেইল বিবৃতিতে জাচারিয়া দাবি করেন যে, তিনি যথাযথ যোগ্যতা নিয়েই আন্তর্জাতিক লেনদেন বিষয়ক আইন প্র্যাকটিস করেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থার অনুসন্ধানে এমন কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র পাওয়া যায়নি যা প্রমাণ করতে পারে যে পেপারডিন ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের এই স্নাতক যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় নিবন্ধিত আইনজীবী ছিলেন বা কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জাচারিয়া স্বীকার করেন যে তিনি মূলত বার পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ডিগ্রি অর্জনের পর কোনো অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ না পেলে কেউ আইন পেশা পরিচালনা করতে পারেন না।
সাম্প্রতিক এই বরখাস্তের বিষয়ের ওপর মন্তব্য জানতে চেয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও কেটি জাচারিয়া কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাচারিয়া বলেছিলেন যে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দুজন ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রশাসন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রচার এবং ভাবমূর্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি মূলত এমন একজন নতুন মুখ খুঁজছিলেন যিনি প্রশাসনের অর্জনগুলোকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, আর এই ভাবনা থেকেই তিনি জাচারিয়াকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তার কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই।
কেটি জাচারিয়ার এই অতি দ্রুত বিদায়ের অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে প্রেস সেক্রেটারির সুদীর্ঘ ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে স্বল্পতম সময়ের জন্য এই দায়িত্ব পালন করলেন।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম শাসনকালে মাত্র দশ দিন যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন অ্যান্থনি স্কারামুচি এবং এতদিন পর্যন্ত প্রশাসনের সবচেয়ে কম সময় টিকে থাকার সেই রেকর্ডটি তারই দখলে ছিল।
গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় কেটি জাচারিয়ার চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে অ্যান্থনি মন্তব্য করেন, “রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।”