পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাইগঞ্জে আয়োজিত এক রাজনৈতিক জনসভায় গরু জবাই, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাবেশে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যে কোনো গরু জবাই করা হলে পরিণতি অত্যন্ত খারাপ হবে। একই সঙ্গে তথাকথিত অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী শরণার্থীদের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়েও তিনি কথা বলেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সনাতন ধর্মের বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে গরু রক্ষার পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গরু অত্যন্ত পবিত্র এবং এর কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেউ যেন ‘গোমাতা’র ওপর আঘাত না হানে; আর যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে, তবে তাঁর চেয়ে কঠোর বা খারাপ কেউ হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
গরু সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার জনসংখ্যা ও অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেন এই বিজেপি নেতা। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর বিপরীতে যেসব হিন্দু শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের দেশের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিধিমালার আওতায় দ্রুত বৈধ নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠান বা মাদরাসা চলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সংহতি ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের জাতীয়তাবিরোধী কার্যক্রম যেন সংঘটিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই সীমান্ত এলাকার অবৈধ মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় চালুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং বাংলাদেশের জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এই তথ্য জানায়। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে। মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকির মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি কয়েকটি দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তেহরান সফরের ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কাতারের প্রতিনিধিদলের এই সফরের ঠিক এক দিন আগে ইরানি গণমাধ্যম প্রকাশ করে যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান জেনারেল মোহসেন রেজায়ির উদ্দেশে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি হস্তান্তর করা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো চিঠিটি গত রোববার রেজায়ির কাছে পৌঁছানো হয়। অন্যদিকে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ উল্লেখ করেছে, চিঠিতে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তের চেয়ে মূলত সম্ভাব্য আলোচনার একটি কার্যকর কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে কাতার ও পাকিস্তানের সমন্বিত মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে; যার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার মস্কোয় এক বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সংকট সমাধানে চলতি সপ্তাহে তেহরান সফর করেছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও, যারা গত আগস্টে মক্কায় একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হন। ওই হামলার জবাবে ইরান আঞ্চলিক মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে সরাসরি নৌ-অবরোধ আরোপ করে দেশটির তেল রপ্তানি ও বহির্বাণিজ্য মারাত্মকভাবে সীমিত করে ফেলে।
বিদ্যমান এই অচলাবস্থা নিরসনে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে তেহরান দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের সামনে সাতটি শর্ত পূরণ করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের রাষ্ট্রীয় আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির জ্বালানি তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দরগুলোতে আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা।
পশ্চিমা বিশ্বের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে পাঁচ হাজারের বেশি গোপন ও ছায়া সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল আমদানি করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই সুবিশাল নেটওয়ার্কের কেবল একটি সংস্থাই ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মাত্র ১৮ মাসে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক উপকরণ আমদানি করেছে। এসব আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরির রাসায়নিক উপাদান, উড়োজাহাজের খুচরা যন্ত্রাংশ, সূক্ষ্ম শিল্পযন্ত্র এবং শত শত ভারী সামরিক সহায়ক ট্রাক।
ইসরায়েলি-আমেরিকান ঝুঁকিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘২৪০ অ্যানালিটিক্স’-এর সহায়তায় ইরানের প্রায় ১৯ হাজার আমদানিসংক্রান্ত নথিপত্র, ব্যাংকিং রেকর্ড ও করপোরেট দলিল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম সাধারণত ‘এমওডি’ দিয়ে শুরু, যা তেহরানে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিক বিভাগের ঠিকানায় নিবন্ধিত। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইরানের প্রভাবশালী বাণিজ্যিক সংগঠন ‘বোনিয়াদ’ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। কাগজপত্রে সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দেখানো হলেও মূলত কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ২০১৩ সালের দিকে এগুলোর বড় অংশ গড়ে তোলা হয়েছিল। পর্যালোচিত মোট চালানের ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই সরাসরি কোনো বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর হয়নি; বরং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী এবং তেল বিক্রির মাধ্যমে বিদেশে রক্ষিত তহবিল থেকে এসব দেনা পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’ নামের একটি নির্দিষ্ট সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং ৪৩৫টি ইভেকো ট্রাক আমদানি করেছে, যা ছদ্মবেশী মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক হিসেবে ব্যবহারোপযোগী। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের হাত ঘুরে হাজার হাজার টয়োটা হিল্যাক্স, ল্যান্ড ক্রুজার ও টুন্ড্রা ট্রাক সংগ্রহ করেছে তেহরান। নথিপত্র অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর ঠিক আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চীন থেকে ৯৩ মেট্রিক টন টাইটানিয়াম ও শত শত টন রাসায়নিক দ্রব্য এনেছে দেশটি। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে পাঁচটি চালানে মোট ৭৬ লাখ ডলার মূল্যের ডেটোনেটর আমদানি করা হয়, যার একটি চালান পৌঁছেছিল চলতি বছরের জুনে। এসব সামরিক চালান মূলত রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে, মধ্য এশিয়া হয়ে স্থলপথে ট্রাকে এবং চীন থেকে কার্গো বিমানের মাধ্যমে ইরানে পৌঁছেছে।
এমন সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদরেজা আরেফ ঘোষণা করেছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশটির বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অতীতের ১২ দিনের বা ৪০ দিনের যুদ্ধের চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যখন তেহরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো। ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পরবর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ২০০৬ সালের জাতিসংঘের পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা, ২০১৮ সালে ওয়াশিংটনের পরমাণু চুক্তি থেকে প্রস্থান এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পরও ইরানের এই সরবরাহ লাইন সচল থাকার বাস্তবতা বিদ্যমান বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলায় একটি হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক হড়পা বানের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার জেরে মো ছু নদীর জলস্তর হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র বন্যা দেখা দেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বন্যার তোড়ে মো ছু নদীর তীরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ ‘গাসা ছাছু’র অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি ভেসে গেছে। তবে ঝুঁকি আঁচ করতে পেরে আগেই ওই এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। মো ছু নদীর উৎপত্তিস্থলে থাকা শিনতাফু হ্রদটিকে ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়; এর আগে ২০২১ সালের ২৬ আগস্টও এক হড়পা বানে মো ছু নদী গতিপথ পরিবর্তন করে এই উষ্ণ প্রস্রবণটি ভাসিয়ে নিয়েছিল।
শুক্রবার সকালে বন্যার জল পুনোখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের কাবেসা গেওগের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করে ভাটির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ভুটান সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনোখার গুমা গেওগের অধীন দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা চিওগে কৃষিকাজে সেচ সুবিধার জন্য চলতি বছরের শুরুর দিকে স্থাপিত আধুনিক সৌর সেচ ব্যবস্থাটি হড়পা বানে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জোমলিংথাং এলাকায় পুনোখা-গাসা মহাসড়কের একটি অংশ ঢেকে ফেলে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
হিমবাহ হ্রদের পানি ভাটির দিকে নেমে আসতে থাকায় সীমান্তবর্তী ভারতীয় ভূখণ্ড প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে ভুটান সরকার অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম প্রশাসনকে সতর্ক করেছে। আসামের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়সহ আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোচবিহারে উত্তর ভুটান থেকে উৎপন্ন হয়ে পরবর্তীতে আসামের ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হওয়া সংকোষ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানান, সব প্রশাসনিক সংস্থা তৎপর রয়েছে এবং আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের (সিডব্লিউসি) বন্যা পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ অধিদপ্তর পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং আসামের ধুবড়ি জেলার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, পুনাৎসাংছু বা সংকোষ নদীর উচ্চ অববাহিকায় হড়পা বানের কারণে ভাটির দিকে নদীর পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে এবং পরবর্তী ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে এই পানি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় জেলাগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী অববাহিকার স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ বজায় রাখতে এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক আক্রমণে জড়িয়ে পড়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে মার্কিন কংগ্রেসে দলগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্য। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদের শেষ দুই বছরে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা থাকায় রিপাবলিকানদের পক্ষে মাঠে নেমে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে বেশ কিছুদিন রাজনৈতিক আলোচনার আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কড়া সমালোচনা করছেন ওবামা।
এই নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে গত বুধবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার নিকটবর্তী শহর মরোতে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে অংশ নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেখানে তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের পক্ষে প্রচার চালান এবং ভোটারদের তাঁকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। এই আসনে অসফকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও আইনপ্রণেতা মাইক কলিন্স। সমাবেশে ওবামা আটলান্টায় সমাহিত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপস্থিত জনতাকে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বার্তা দেন।
সমাবেশের বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে কেবল রাজনৈতিক জয়-পরাজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। ওবামা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যদি মিথ্যাচার, প্রতারণা কিংবা অন্যকে ভয় দেখানোর মতো আচরণকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয় এবং অর্থই যদি মানুষের মর্যাদা ও মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়, তবে কোনোভাবেই দেশের ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সমতা এবং ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে প্রায় রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক আধিপত্য ও শক্ত রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখনও অটুট রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে রাখতে দলের ভোটারদের বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক প্রচার কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা মহলে সমালোচনা চললেও ওয়াশিংটন নিজেদের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতকে কোনো অবস্থাতেই ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ নিতে দেবেন না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার টেক্সাসের ফোর্থ ওয়ার্থে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘টাউন হল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান পার্টির এক সাধারণ ভোটারের প্রশ্নের মুখে পড়েন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ওই ভোটার জানতে চান, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় এসেছিল, তা বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না। সেই প্রশ্নের জবাবে নিজের অতীতে ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে জেডি ভ্যান্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদের মনে যে ক্ষোভ, হতাশা ও ক্লান্তি রয়েছে, তা তিনি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেন।
চলমান সামরিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সাত মাস ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে একটি সংঘাতমূলক পরিস্থিতির মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে। তবে দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই ভূরাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস দীর্ঘ ৪৭ বছরের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশ্বস্ত করে তিনি মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংকটকে কোনো অন্তহীন বা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে দেবে না।
তবে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করার অর্থ এই নয় যে ওয়াশিংটন প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের নীতি থেকে একেবারেই সরে আসবে—এমন ব্যাখ্যাও দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি পরিষ্কার করেন, সংঘাতের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে নির্দিষ্ট জাতীয় ও সামরিক লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছেন, প্রশাসন আগে সেগুলো পুরোপুরি অর্জন করবে। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের পর মার্কিন সরকার তাদের মনোযোগ ও সক্ষমতা অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতির দিকে সরিয়ে নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কৌশলগত বিকল্প নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ব্রিফিং করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক সংঘাত নতুন এক বিপজ্জনক মোড় নিল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওভাল অফিসে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান এয়ার ফোর্স জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রশাসনের শীর্ষ ক্যাবিনেট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব হোয়াইট হাউসেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও একটি পৃথক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রত্যক্ষ সামরিক ও কমব্যাট অপারেশন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে হোয়াইট হাউস। এই সম্ভাব্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবেই সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করেছে। অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বাড়ানো হয়েছে সংবেদনশীল যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ সরবরাহ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সমন্বিত তৎপরতার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলে অন্তত ১০টি বৃহৎ আকারের মার্কিন সামরিক কার্গো ও পরিবহণ বিমান অবতরণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভারী সামরিক রসদ ও সমরাস্ত্র পৌঁছানোর এই ঘটনা বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেও, এসব পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশের জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, বৃহস্পতিবার তেহরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর ঠিক এক দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে তারা হরমুজের প্রধান নৌপথগুলো সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট দিয়ে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তিনটি ট্যাঙ্কার মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়। অন্যদিকে দেশটির সেনাবাহিনী পৃথকভাবে জানায়, হরমুজের পূর্ব দিকে একটি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের সময় আরও একটি তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, প্রথম তিনটি জাহাজ নিজেদের রাডার ও নৌ-চলাচল সংক্রান্ত স্বয়ংক্রিয় সব প্রযুক্তি বন্ধ রেখেছিল এবং তাদের নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও পুরোপুরি উপেক্ষা করেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী কিংবা ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে ইরান বিস্তারিত না জানালেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উত্তেজনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও গভীর রাতে জানায়, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আগুন লাগার তথ্য পেয়েছে তারা। এর আগে একই অঞ্চলে একটি ছোট পালতোলা নৌযান আগুনে ডুবে যাওয়া এবং আরেকটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছিল সংস্থাটি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বাগযুদ্ধ তীব্র রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক জাহাজ মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের মধ্যে অঞ্চলটিতে অভিযান পরিচালনাকারী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, প্রধান জাহাজ চলাচলের পথগুলো থেকে সব মাইন সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেন্টকমের এই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। তিনি কোনো ফাঁকা বিবৃতি না দিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণের মাধ্যমে নৌপথ মাইনমুক্ত করার দাবি প্রমাণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ওমানের উপকূলঘেঁষা পথগুলোতে মাইন পেতে রাখার কথা জানিয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দেয় যে এসব অননুমোদিত পথে চলাচলের সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক ও নাবিকদের বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করে ইরান। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলবাহী জাহাজ পাহারা দিয়ে চলাচলে সহায়তা দিয়ে আসছে; যার আওতায় গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়েছে বলে সেন্টকমের দাবি। এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার আইআরজিসি পৃথক আরেক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়ে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউএম-১৭০’ নজরদারি ড্রোন সফলভাবে আটক করেছে। তবে ড্রোন আটকের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়াজুড়ে টানা কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট তীব্র বায়ুদূষণের কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসেই আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশের জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিভিত্তিক পরিবেশ ও জ্বালানিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (সিআরইএ)-এর সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর থেকে বিপজ্জনক মাত্রার বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সিআরইএ’র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বন ও ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে সেপ্টেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়ার সামগ্রিক বায়ুমানের মারাত্মক অবনতি ঘটে। এর ফলে দূষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা এক ধাক্কায় ৩ হাজার ৫৬০ জনে পৌঁছায়, যা পূর্ববর্তী আগস্ট মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মূলত বাতাসে ভাসমান অতিসূক্ষ্ম ক্ষতিকর বস্তুকণা পিএম ২.৫-এর স্বল্পমেয়াদি সংস্পর্শে আসার কারণে সংঘটিত প্রাণহানিগুলো এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; অর্থাৎ বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এসব মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দাবানলজনিত এসব মৃত্যুর সিংহভাগই ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের অংশবিশেষ, সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে। দাবানলের ধোঁয়ার বাইরেও গবেষকেরা নগর অঞ্চল এবং ভারী কলকারখানা থেকে নির্গত বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, কেবল কলকারখানা ও নগরের নিয়মিত দূষণের কারণেই ওই একই মাসে ইন্দোনেশিয়ায় আরও ১ হাজার ৭৫০ জনের অকালমৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে দাবানলের ধোঁয়া এবং নগর-শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য উৎসের বায়ুদূষণে দেশটিতে মোট প্রাণহানির আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১০ জনে। প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জনবহুল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে পরিবেশের এমন বিপর্যয় ও নিয়ন্ত্রণহীন বিষাক্ত বাতাস সাধারণ নাগরিকদের জন্য এক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সাভানা রিভার কমপ্লেক্সে অবস্থিত একটি পারমাণবিক গবেষণাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। বাতাসে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই এলাকার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আকাশপথ ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের সাভানা রিভার সাইটে অবস্থিত সাভানা রিভার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে আগুন লাগে। রাতের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। গবেষণাগারটি এমন একটি কমপ্লেক্সে অবস্থিত, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি করা হয়।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। সেখানে কোনো ধরনের দূষণ বা তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। বর্তমানে সাইটটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।
সাভানা রিভার সাইট একটি বিশাল কমপ্লেক্স। সেখানে মার্কিন সরকার একসময় পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উপাদান, বিশেষ করে ট্রিটিয়াম ও প্লুটোনিয়াম-২৩৯ উৎপাদন করত। গবেষণাগারটি কমপ্লেক্সের উত্তর-পশ্চিম কোণে, সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত।
অগ্নিকাণ্ডের পর জরুরি কার্যপ্রণালি চালু করা হয়। উদ্ধার ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত নন, এমন কর্মীদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে নিজ নিজ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়। এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাছাকাছি রেল, জল ও আকাশপথে চলাচলও সীমিত করা হয়।
সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষায় দূষণের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলোও তুলে নেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর কারণ ছিল ভূপৃষ্ঠে অপরিশোধিত তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিঃসরণ বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় একজন কর্মী সামান্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাইরে কোনো দূষণ শনাক্ত হয়নি।
১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত সাভানা রিভার কমপ্লেক্সে মূলত মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্লুটোনিয়াম ও ট্রিটিয়াম উৎপাদন করা হতো। সেখানকার চুল্লিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রক্ষণাবেক্ষণে কমপ্লেক্সটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে কমপ্লেক্সটিতে ট্রিটিয়াম প্রক্রিয়াকরণ ও পুনরায় পূরণের কাজ করা হয়। ট্রিটিয়াম হাইড্রোজেনের একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, যা পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রটিতে পারমাণবিক উপাদান ব্যবস্থাপনা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার কাজও পরিচালিত হয়।
মার্কিন সরকার তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কমপ্লেক্সে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের জন্য প্লুটোনিয়াম কোর উৎপাদনের একটি কেন্দ্রও তৈরি করছে।
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা তার বিরোধী শিবির, কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দলের আপত্তি থাকায় রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) আংশিক নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ ও দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৮ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট গণনার পরও আসনবণ্টনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। নিয়মিত ভোটকেন্দ্রগুলোর ফল যাচাইয়ের পাশাপাশি সেনাসদস্য, কূটনীতিক, বন্দি ও নিজ এলাকার বাইরে ভোট দেওয়া অন্যদের ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোট ‘ডাবল এনভেলপ’ বা দ্বিস্তর খামের ভোট হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত না হলেও সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী জোটের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে জেরুজালেম, তেল আবিব ও হাইফায় বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৩০০ মানুষ। জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার, তেল আবিবের মেসিলা পার্ক এবং হাইফার ইউনেসকো স্কয়ারে এ বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার স্বাধীনতা’ এবং ‘ইহুদি-আরব সরকার চাই’।
নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছে। হারেৎজ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবিও সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইহুদি ও আরব দলকে নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন বামপন্থি দল দ্য ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়াইর গোলান। তিনি বিরোধী জোটের নেতাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
গোলানের মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আরব ভোটারদের সমর্থনকে রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোলান বলেন, তিনি বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে চান। তার ভাষ্য, ইসরায়েলের মানুষের জন্য আশা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বর্তমান সরকারের বিচার বিভাগ সংস্কার পরিকল্পনা বন্ধ করার জন্য নতুন সরকার গঠন প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলে তরুণদের মধ্যেও এমন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে যে, তারা আদৌ এ দেশে থাকতে চান কি না।’
জয়েন্ট লিস্ট জোটের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিকল্প সরকার গঠনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রক্তপাতের রাজনীতির বিকল্প দিতে চাইলে বিরোধীদের আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের একটি অংশের নেতা আহমাদ তিবি বলেছেন, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। তবে বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন।
আইজেনকোটও আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের বিষয়ে আগে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ফলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে বলে আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরব দলগুলোর জন্য এটি রেকর্ডসংখ্যক আসন।
আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এ ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা পেলেও আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া তাদের সরকার গঠন কঠিন।
জয়েন্ট লিস্ট জোট সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে বিকল্প সরকারকে সমর্থন করার প্রস্তাব দিয়েছে। জোটটির নেতারা বলেছেন, পার্লামেন্টে তাদের বাড়তি আসন ব্যবহার করে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীদের ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হবে।
আরব দলগুলো নতুন সরকারের কাছে নিজেদের সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও চাইতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধ, আবাসন সংকট, বৈষম্য এবং দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি।
হারেৎজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা না করলে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সামনে বিকল্প হিসেবে আবার নির্বাচন অথবা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু অন্তত স্বল্প মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।
আংশিক ফলাফলে আরব দলগুলোর আসন বাড়তে দেখা যাওয়ার পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন ‘চুরি’র অভিযোগ তুলেছে। এ অভিযোগের পক্ষে দলটি কোনো প্রমাণ দেয়নি বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিকুদ পুলিশ ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে লিকুদের অভিযোগ পেয়েছে এবং নির্বাচনের পর নিয়মিত যাচাইপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তা পরীক্ষা করবে।
স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহতের ঘটনায় দেশটির পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ‘অবিবেচনা’র কারণে ঘটে থাকতে পারে। তারা দ্রুতগতির একটি ট্রেনকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথচ তখন ওই একই লাইনে আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়েছিল। মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রী দুর্ঘটনার পুনর্চিত্রায়ণ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মাদ্রিদের কন্ট্রোল সেন্টার ও ট্রেনের চালকদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ডগুলোও মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কম্পিউটারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে।
এই ট্রেন চলাচলের ‘লিনিয়েনজুগবিনফ্লুসুন’ (এলজেডবি) নামের পুরোনো প্রযুক্তিটি ষাটের দশকে তৈরি। ট্র্যাক সার্কিট এবং এক্সেল কাউন্টারের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি ট্রেনের গতি ও অবস্থান নজরে রাখে।
এর তথ্যের ভিত্তিতেই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে যে একটি ট্রেন কতটা দ্রুত ও নিরাপদে চলতে পারবে। সেই অনুযায়ী এই সিস্টেম সংকেত পরিবর্তন করে। প্রায় ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে ব্যবস্থাটি অকেজো হয়ে পড়ে। তাই সতর্কতা হিসেবে ওই পথে চলাচলকারী ছয়টি ট্রেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, এরপরই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মাদ্রিদের কন্ট্রোল সেন্টারের হাতে। তিনি জানান, কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে আলোচনার পর সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে সিদ্ধান্ত হয়, দ্রুতগতির ওই ট্রেন স্বাভাবিক যাত্রা চালিয়ে যাবে, যেটি ইরিও নামের স্থির ট্রেনটিকে পরে ধাক্কা দেয়।
মন্ত্রী আরও জানান, স্পেনের সরকারি রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘আদিফ’-এর ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা চলন্ত ট্রেনটিকে তাদের পূর্বনির্ধারিত যাত্রা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথচ তখন এর সামনেই আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
তিনি জানান, যে ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, সেটির চালককেও ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে সেটি আর চলতে পারেনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই চলন্ত ট্রেনটি গিয়ে স্থির ট্রেনকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, এভাবেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ‘নিয়ম অনুযায়ী চলন্ত ট্রেনটিকে সেই মুহূর্তেই থামিয়ে দেওয়া উচিত ছিল,’ যোগ করেন তিনি।
মাদ্রিদ-সেভিল রুটে বর্তমানে আধুনিকায়ন কাজ চলছে, যার আওতায় পুরোনো এলজেডবি সিস্টেমের বদলে আরও উন্নত ইউরোপিয়ান রেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বসানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, নতুন এই সিস্টেম চালুর ফলে সিগন্যালিংয়ের ক্ষেত্রে মানুষের ভুল অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্ত্রী আরও জানান, কন্ট্রোল সেন্টার যখন পেছনের ট্রেনটিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়, তখন অন্য একটি ট্রেনের চালক বিপদ বুঝতে পেরে কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি কন্ট্রোল অপারেটরকে পরামর্শ দেন, ট্রেনগুলো যেন স্বাভাবিকের চেয়ে ধীরগতিতে চালানো হয়। তখন ওই অপারেটর নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বীকার করেন, ‘ওহ, হ্যাঁ’।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার মতো কোনো সমঝোতা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই যোগাযোগের খবর প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে তারা জানায় যে, চিঠি এবং পরবর্তী আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে কথা হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরে নিউইয়র্ক টাইমসও এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এবং যোগাযোগ সম্পর্কে অবগত এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে একই তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিঠিটি পাঠানো হয় এবং রোববার তা ইরানি পক্ষের কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আজকের মধ্যেই মোহসেন রেজাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর জবাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই কাতার বা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরান ওই পরিকল্পনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে মানতে নারাজ; বরং একে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।