বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


নির্বাচিত

আসাদের চাচাতো ভাই ওয়াসিমের মৃত্যুদণ্ড

ওয়াসিম আল-আসাদ
আপডেটেড ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আদালতে উপস্থিত ওয়াসিমকে গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

৪৬ বছর বয়সি ওয়াসিমের বিরুদ্ধে বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।

বিচারক ফখর আল-দীন আল-আরিয়ান জানান, ওয়াসিম একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার সঙ্গে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে। এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, ওয়াসিম সাবেক সরকারের প্রতি অনুগত দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করেছিলেন। এসব গোষ্ঠী রাজধানী দামেস্কের আশপাশে প্রাণঘাতী হামলায় অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়া গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া, মানুষকে বেআইনিভাবে আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

তবে মাদকপাচার ও চোরাচালানের অভিযোগ থেকে ওয়াসিমকে খালাস দিয়েছে আদালত। এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি আবারও খোলার সুযোগ রেখেছে আদালত।

এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান কাসেশন কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। ওয়াসিম আল-আসাদের বিচার শুরু হয় গত জুনের শেষ দিকে। এর আগে গত বছর লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের কাছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, একটি অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।

তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে ছিলেন না। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। সে সময় ওয়াসিমকে একটি আধাসামরিক বাহিনীর নেতা এবং আঞ্চলিক মাদকপাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

গৃহযুদ্ধের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াসিমকে দামি গাড়ির পাশে ছবি তুলতে দেখা যেত। কখনো তাকে সামরিক পোশাকে ও অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। অন্য সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। এসব পোস্টে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সিরিয়ার আদালত বাশার আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়। নতুন সরকারের অধীনে এটিই বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে প্রথম এমন রায়।

এ ছাড়া সাবেক ছয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাশারের ভাই মাহের আল-আসাদ, যিনি সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী চতুর্থ ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন।

সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতিফ নাজিব—যিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন—তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান থাকাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয় প্রায় ১৪ বছর আগে। গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে, পরবর্তী সময়ে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এ ছাড়া দশ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব জানিয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও গত সপ্তাহে বলেছে, দীর্ঘদিনের বিচার, জবাবদিহি ও সত্য জানার দাবি পূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ মাত্র কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এ সময় তিনি তার অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে পেছনে রেখে যান।


নির্বাচিত

হজে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি নয়: নাগরিকদের কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তি, অনুমতি ছাড়া অর্থ সংগ্রহ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরবে নিযুক্ত পাকিস্তানি দূতাবাস এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আগত সব ওমরাহযাত্রী ও কর্মীকে সৌদি আরবের আইনকানুন ও ভিসার যাবতীয় শর্ত পুরোপুরিভাবে মেনে চলার এই জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

দেশটির দূতাবাস স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার, আটক এবং চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাক দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘পাকিস্তান থেকে আগত সব ওমরাহযাত্রী ও কর্মীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ শিরোনামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আইন ভঙ্গের পরিণতি হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

পাকিস্তানি দূতাবাস তাদের বার্তায় জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি এবং অনুমতিবিহীনভাবে যেকোনো ধরনের অর্থ বা সহায়তা চাওয়ার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর আশপাশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানি দর্শনার্থীদের অনুমোদনহীন স্থানীয় কোনো সেবা গ্রহণ না করার এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই বৈধ ও অনুমোদিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তার শেষাংশে পাক দূতাবাস সে দেশে গমনকারী সব হজযাত্রী ও কর্মীকে তাদের ভিসার ধরন, শর্ত এবং মেয়াদ কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে সৌদি আরবে অবস্থান করা কিংবা ভিসার আওতায় অনুমোদিত নয় এমন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে নাগরিকদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি জটিলতায় না পড়েন।


নির্বাচিত

ফিলিপাইনে স্কুলে ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৪, আহত ৯

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাম্বোয়াঙ্গা সিটিতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ‘আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা’ নামক একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এনবিআই) নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী এবং দুইজন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ম্যানিলা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়েরই চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রটি একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে কোনো ধরণের উসকানি ছাড়াই একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করতে শুরু করে। হামলাকারী ছাত্রের বাবা স্থানীয় কাস্টমস অফিসে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

জাম্বোয়াঙ্গা সিটির মেয়র খাইমার আদান ওলাসো এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে হামলাকারী এবং নিহতদের একজন শিক্ষার্থী—উভয়েই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকের গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ভবন থেকে জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক দৌড়ে পালাচ্ছে।

বর্তমানে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন এবং পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এই তরুণ শিক্ষার্থী এমন নৃশংস হামলার পথ বেছে নিল, তার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নিবিড় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হতাহতদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


নির্বাচিত

কলকাতা বিমানবন্দরের এটিসি ভবনে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ভবনের তৃতীয় তলায় আজ মঙ্গলবার ভোরে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের কর্মীরা ভোর ৪টার দিকে ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া নির্গত হতে দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বল্প সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগুন মূলত এটিসি ভবনের তৃতীয় তলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত মূল কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। রানওয়েতে বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণসহ যাবতীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং পাইলটদের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি দেখা দেয়নি। অগ্নিকাণ্ডের ফলে আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত বিমান চলাচল সূচি অপরিবর্তিত ছিল।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ভারতের স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট) উপলক্ষে ভবনটিতে যে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়েছিল, সেখান থেকেই কোনো বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষিতর পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।


নির্বাচিত

ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়: কুশনার

জ্যারেড কুশনার ( ছবি: সংগৃহীত)
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের কঠোর মনোভাব পুনরায় ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথ প্রশস্ত করতে দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি তেল আবিব সফরকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুশনার এসব মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে আমেরিকার শক্ত অবস্থান ও শর্তগুলোও সামনে আনেন তিনি।

কুশনার জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে তার সিদ্ধান্তে অবিচল। ট্রাম্পের অটল বিশ্বাস হলো, "ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর চুক্তিতে আসার ব্যাপারে আগ্রহী। তবে এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে তেহরানকে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক শর্তাবলি অবশ্যই মেনে নিতে হবে।

কুশনারের বক্তব্যে উঠে এসেছে, একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য ইরানকে এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত হতে হবে যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি করে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, কুশনারের এই সাম্প্রতিক বার্তা সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।

সূত্র: এএনআই


নির্বাচিত

হজে গিয়ে ভিক্ষা করবেন না, নাগরিকদের সতর্ক করল পাকিস্তানি দূতাবাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবে হজ ও ওমরাহ পালন করতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করার বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছে পাকিস্তান সরকার। এ ধরণের অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার, কারাদণ্ড এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো চরম পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার (১৬ আগস্ট) রিয়াদস্থ পাকিস্তান দূতাবাস এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে।

নাগরিকদের সচেতন করতে পাকিস্তান দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের দায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীর পবিত্রতা রক্ষায় সৌদি সরকার ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো ধরণের আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই স্বীকৃত ও বৈধ উপায়ে করতে হবে এবং কোনো অননুমোদিত স্থানীয় সেবার সাথে যুক্ত হওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য যে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই পাকিস্তানি নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সংঘবদ্ধ চক্র দরিদ্র মানুষকে ওমরাহ বা হজের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরবে পাঠায় এবং পরবর্তীতে তাঁদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ হাতিয়ে নেয়। এই সমস্যা সমাধানে পাকিস্তান সরকার ইতোমধ্যে হাজার হাজার সন্দেহভাজন ব্যক্তির ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং হজ যাত্রার পূর্বে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে না জড়ানোর’ মুচলেকা নেওয়াও বাধ্যতামূলক করেছে।

পাকিস্তান দূতাবাস বিশেষভাবে নাগরিকদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একদিনও অতিরিক্ত অবস্থান না করেন এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বারবার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পাকিস্তান সরকার এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যাতে সাধারণ ও প্রকৃত ওমরাহযাত্রীদের কোনো ধরণের বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়।


নির্বাচিত

সমঝোতার সময় শেষ, ইরানকে 'সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ' করতে বললেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও এই চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং তিনি ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। একই সাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত জুন মাসে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এর কার্যকারিতা ফুরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে এই আলোচনার আর কোনো গুরুত্ব বা কার্যকারিতা নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর কোনো ধরণের হামলা চালানো হলে তাঁর দেশের সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহত্তর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের যে সময়সীমা ধরা হয়েছিল, তা এখন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তিনি আলোচনার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো চেষ্টা করছেন না। ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাইলেও তাঁর ভাষায়, তেহরান এমন কোনো চুক্তিতে রাজি নয় যা যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় মনে করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় তাঁর মূল লক্ষ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আপনারা বুঝতে পারছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের তা থাকবেও না।’

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার বিতর্কিত প্রস্তাবটি নিয়েও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ‘এটি এখন একটি দারুণ ধারণা’। মার্কিন নৌ অবরোধের ফলে প্রণালিটি বর্তমানে তাঁদের হাতের মুঠোয় রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি। নৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার ভালো লাগে।’ তাঁর মতে, এই অবরোধের ফলে প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ তেল ওই অঞ্চল থেকে নিরাপদে পরিবাহিত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ইরান বর্তমানে ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে এবং কঠোর সামরিক চাপের মুখে পিছু হটা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহবান তালেবানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত করার পাঁচ বছর পর, ওয়াশিংটনকে আবারও কাবুলে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে তালেবান। তবে এবার কোনো সামরিক বাহিনীর জন্য নয়, বরং কূটনীতিক ও বিনিয়োগ নিয়ে ফিরে আসার জন্য এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কাবুলে নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, 'আমরা যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হয়েছে বলে মনে করি। এখন থেকে আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ইতিবাচক সম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন অধ্যায়ের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।'

মুত্তাকি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে 'তার দূতাবাস পুনরায় চালু করতে পারে, কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারে এবং বিনিয়োগ করতে পারে'। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিশাল খনিজ সম্পদ, বাঁধ এবং সড়ক খাতে বিনিয়োগের জন্য তিনি আহ্বান জানান। অথচ বিগত তিনটি মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্ররা এসব খাতের উন্নয়নে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছিল এবং তালেবান বিদ্রোহীরা দীর্ঘ দুই দশক ধরে সেগুলো ধ্বংস করতে লড়েছিল।

বিগত কয়েক বছরের মধ্যে তালেবানের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটিই প্রথম এই ধরনের প্রকাশ্যে কূটনৈতিক আহ্বান। দেশটির আন্তর্জাতিক একাকীত্ব দূর করার লক্ষ্যে কাবুল সরকারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার অংশ এটি।

গত এক বছরে তালেবান প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করেছে এবং উজবেকিস্তানের মতো মধ্য এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কয়েক ডজন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তাদের কর্মকর্তারা নিয়মিত উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করছেন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ-এর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এছাড়া আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহী ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গেও তারা সহযোগিতা করছে।

কাবুলের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে পরিচিত সাবেক পাঁচজন মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করাকে তারা তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখবে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যিক কূটনীতির প্রতি আগ্রহ রয়েছে এবং মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের বিশেষ কড়াকড়ি নেই।

তালেবানদের দাবি, তারা আফগানিস্তানজুড়ে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে এনেছে, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করেছে এবং বিদেশী বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক এবং তালেবানের শাসনকাল নিয়ে বইয়ের লেখক হাসান আব্বাস বলেন, 'ওয়াশিংটনে এই বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই। কেউই এই বিষয়টি নিয়ে ঘাটতে চায় না। সবাই আফগানিস্তানের কথা ভুলে যেতে চায়।'

প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসন গত এক বছরে তালেবান থেকে নিজেদের আরও দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তারা আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তানের কাছাকাছি এসেছে, যারা চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া তালেবানের অন্যতম অংশীদার ইরানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলছে। যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে অন্যায়ভাবে আটকের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মনোনীত করেছে, আফগানদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে এবং তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে দাবি করা কয়েকটি বিষয়ও তালেবান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন বাহিনীর ২০ বছর ধরে দখলে রাখা বাগরাম বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া, আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন অস্ত্র ফেরত দেওয়া এবং একজন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া (যাকে আটক রাখার বিষয়টি তালেবান অস্বীকার করে আসছে)।

সাদা রঙের তালেবান পতাকার সামনে বসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি বলেন, 'ইতিহাস যেমনটি প্রমাণ করেছে, কোনো আফগানই তাদের মাটিতে অন্য কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না।'

এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, তালেবান আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনতে এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কেবল তখনই তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যখন তা আমেরিকান জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হয়।


নির্বাচিত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ভবিষ্যৎ কী

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। সংঘাত অবসানের জন্য এই সমঝোতা করা হয়। এর আওতায় হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি শর্ত ছিল। সমঝোতাটির মেয়াদ সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

সমঝোতা হওয়ার কয়েকদিন পর থেকে উভয়পক্ষ শর্ত লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে। এখন তাই এর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দুই পক্ষের কেউই তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি।’

এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালীতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে একটি পৃথক চুক্তির কাজ চলছে। কেবল রাজনৈতিক সমাধান অর্জন হলেই এই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই হরমুজ প্রণালী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি তুলবে। সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রকৃত অর্থ কী- তা নির্ভর করছে আপনি কোন পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করছেন সেটির ওপর।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। তাই সেটির মেয়াদ বাড়ানো বা নবায়নের কিছু নেই।’ উল্লেখ্য, সমঝোতাটিকে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপান্তরের জন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা ছিল। এই আলোচনা পর্বের মেয়াদ ছিল ৬০ দিন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্প্রতি একটি রদবদল হয়েছে। যা ইঙ্গিত দেয়, দেশটি ভবিষ্যতে পিছু হটার বদলে সম্ভবত আরও কঠোর অবস্থান নেবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আইআরজিসির সাবেক প্রধান মহসেন রেজাইকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর প্রধান করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশমের মতে, এই নিয়োগ ও নেতৃত্বে অন্যান্য পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, ইরান মনে করছে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে আছে। নতুন করে কোনো আলোচনা শুরু হলে তারা আরও বেশি দাবি তুলবে। যার মধ্যে গাজা যুদ্ধের অবসান থেকে শুরু করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ তুলে নেওয়া, এমনকি ইসরায়েলের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন প্রণালী কেন্দ্রিক বাগাড়ম্বর ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পুরোপুরি পরাস্তের পর, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’

একইদিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এমন কিছু কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োগ করবে যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের গবেষক বার্বারা স্লাভিন আল জাজিরাকে বলেছেন, ট্রাম্পের হাতে তেহরানের ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করার মতো কার্যকর হাতিয়ার খুব একটা নেই।

আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে। কৌশলগত তেলের মজুতও প্রায় খালি। বিমানবাহী রণতরীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামগুলো অতিরিক্ত সময় ধরে সাগরে মোতায়েন আছে। এর অর্থ হলো, সামরিক কৌশলের দিক থেকে ওয়াশিংটনের সামনে বিকল্প একেবারেই সীমিত।

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গে বার্বারা স্লাভিন বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করে তেহরান প্রমাণ করেছে, তারা নিজেরাই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে সক্ষম। তারা এখানে বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। সমঝোতা স্মারকটি না মানার কারণে তেহরান ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ।

স্লাভিনের মতে, কোনো না কোনোভাবে ইরান তাদের যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করে নেবে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের বড় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। এই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে একটি চুক্তির মাধ্যমে। কিন্তু সেটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) তেহরানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ দাবি করেন, সমঝোতা স্মারকে ইরান যেসব সুবিধা আদায় করেছে তা তাদের গর্ব ও বিজয়ের প্রতীক। গালিবাফ বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সামরিক ও রাজনৈতিক উভয়ক্ষেত্রে ইরান চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছে।’

যুদ্ধবিরতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য—হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া—বাস্তবায়িত হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা আগে থেকেই ক্ষীণ ছিল। তেহরান ও ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর সামা টিভি অনলাইনের।

যদিও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়াকে অনেকটা প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কার্যত ওই চুক্তি আর টিকে নেই।


নির্বাচিত

গাজা ইস্যুতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে কুশনার

জ্যারেড কুশনার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান করা ১৫ দফার গাজা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। সোমবার (১৭ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েল সফরের ঠিক আগের দিন মিসরের আল-আলামিনে কাতারি, তুর্কি ও মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। বোর্ড অব পিসের মহাপরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভ ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সফরে হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেও এক বিরল আলোচনায় বসেন তিনি।

জুলাই মাসের শেষের দিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, হামাসের অস্ত্রসংবরণের একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যার পেছনে ভূমিকা ছিল ট্রাম্পের আজীবন সভাপতিত্বে গঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিসের। তবে অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ও হামাসের ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণের বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও নেতানিয়াহু তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে হামাস পরিকল্পনাটি গ্রহণ করলেও বাস্তবায়ন শুরুর জন্য আগে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে।

২০২৫ সালের শেষের দিকে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আওতায় বোর্ড অব পিস গঠন করা হয়েছিল, যদিও সেই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৬০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। কূটনৈতিক অচলবস্থা কাটাতেই মিসর ও ইসরায়েল সফররত দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুশনার।


নির্বাচিত

এবার ওমানকে বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে এবার ওমানের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাণিজ্যপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে ওমানকে বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এবং দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কড়া হুঁশিয়ারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকীর্ণ জলপথ, যার ভেতর দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথটি প্রায় বন্ধ অবস্থাতেই রয়েছে। প্রণালীটির উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমানের অবস্থান হওয়ায়, এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ওমানও নিজেদের মতো করে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সামনে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা হলে তিনি ওমানের প্রতি এই ধ্বংসাত্মক পরিণতির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। এ সময় ইরানকে 'ভালো পোকার খেলোয়াড়' হিসেবে আখ্যায়িত করলেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে তারা এখন মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে এবং অবিলম্বে তাদের আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা ওড়ানো উচিত।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই হুমকির ঠিক আগেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজেদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল ইরান। গত শনিবার তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানা কারিগরি আলোচনার পর হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নির্দিষ্ট নৌপথের মানচিত্র নিয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই চুক্তির খবরের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া সামনে এলো।


নির্বাচিত

দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ভাটা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ব্যাপক আকারে কমিয়ে’আনতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কারণ হিসেবে যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিতে সিউলের অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

মহড়া শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই মহড়ায় অংশ নিতে সম্মত হওয়ায় তিনি ‘খুশি নন’। একই সঙ্গে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ বিষয়টি তুলে ধরেন।

ট্রাম্প লেখেন, কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারা ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার’ মার্কিন প্রচেষ্টায় যোগ দিতে চান কি না। জবাবে তারা নাকি বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ!’

ট্রাম্প লেখেন, এসব মহড়া শুধু ব্যয়বহুলই নয় বরং একটি দেশের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বার্তা পাঠাবে যে দেশ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং সম্মানজনক আচরণ করেছে।

রয়টার্সের তথ্য মতে, ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে প্রতিবছর যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া। এই বছর তাদের এই যৌথ সামরিক মহড়া ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার নির্ধারিত সময়েই মহড়া শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ব্লু হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক মহড়া নিয়ে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ব্লু হাউস থেকে জানানো হয়েছে, তারা ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে তারা আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের পথ খুলে দেবে এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা এগিয়ে নিতে আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে মার্কিন প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে কোরীয় উপদ্বীপে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়াও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নগুলো হোয়াইট হাউসে পাঠিয়ে দেন। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানতে চাওয়া অনুরোধের জবাব দেয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার ব্যয় ভাগাভাগি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা নিয়েও সিউলের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধ রয়েছে।

উত্তর কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করে।

গত সপ্তাহেই উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর কয়েক দিন আগেও দেশটি একই ধরনের স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল।

স্টিমসন সেন্টারের গবেষণা কর্মসূচি ৩৮ নর্থের প্রধান জেনি টাউন বলেন, এই সিদ্ধান্ত পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সুযোগ তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে সিদ্ধান্তটি যেভাবে নেওয়া হয়েছে, তাতে উত্তর কোরিয়ার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে অনেকবার নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় উত্তর কোরিয়ার নেতাকে ‘লিটল রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেছিলেন ট্রাম্প। এর জবাবে ট্রাম্পকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে আক্রমণ করেছিলেন কিম।

তবে, পরবর্তীতে দুজন তিনটি শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। কিমের সঙ্গে চিঠি বিনিময়ের পর ট্রাম্প এমনকি বলেছিলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।’ কিন্তু এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কোনোটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করতে পারেনি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) কোরিয়া কর্মসূচির প্রধান ভিক্টর চা মনে করেন, ট্রাম্প হয়ত উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন। এর কারণ ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছে।


নির্বাচিত

রাশিয়ায় ব্যাপক হামলা ইউক্রেনের

ইউক্রেনের ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ায় এ বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে চালানো এই হামলায় ইউক্রেন প্রায় ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ ড্রোন হামলা শুধু রাজধানী মস্কোকে নিশানা করে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন।

মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি। মস্কোতে ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

এছাড়া, মস্কো থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে কোলোদিনো এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুদামটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এসময় তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন।

রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও রাতভর হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরদ অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি বেসামরিক বাসে ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রোববার রাতে কিয়েভে চারবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজে উঠে।

এদিন ইউক্রেনের রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। আহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, শনিবার রাতে কিয়েভে তাদের এই ফায়ারপয়েন্ট নামের একটি স্থাপনাকে নিশানা করে চালানো হয়েছে। সেখানে ইউক্রেনের ফ্লামিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি করছিল বলে দাবি মস্কোর। এসময় ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরি একটি কারখানাও হামলার নিশানা করা হয়েছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দেশটির ১৩টি অঞ্চল রুশ হামলার শিকার হয়েছে। এসময় রাশিয়া ১ হাজার ৫৫০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে, দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে স্থলযুদ্ধে দুই পক্ষেরই অগ্রগতি সীমিত। ফলে, যুদ্ধের ধরনও অনেকটা বদলে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাই এখন হয়ে উঠেছে সংঘাতের অন্যতম প্রধান দিক। দুই দেশই একে অপরের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close