বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


বিশ্বজুড়ে মানসিক সমস্যায় ১২০ কোটি মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ জুন, ২০২৬ ২৩:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এবার ভয়ংকর এক তথ্য সামনে এনেছে বিশ্ব খ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীতে ১২০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। সংখ্যাটা শুধু বড় নয়, ভীতিকরও। কারণ ১৯৯০ সালের তুলনায় এই হার বেড়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উদ্বেগজনিত সমস্যা, অর্থাৎ অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, ও মারাত্মক বিষণ্নতা বা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার। গবেষকরা বলছেন, এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত মানসিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে এই দুই রোগ।

তবে সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় হলো, এই চাপটা যাচ্ছে তরুণদের ওপর। বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে মানসিক সমস্যার বিস্তার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। কিশোর বয়সের হাসি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আড়ালে নীরবে জমছে ভয়, দুশ্চিন্তা ও একাকীত্ব।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও খাওয়াজনিত মানসিক সমস্যা বেশি। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে অটিজম, এডিএইচডি বা আচরণগত সমস্যার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হঠাৎ কেন এত বাড়ছে মানসিক রোগ?

গবেষকদের একজন ড. ডামিয়ান স্যান্টোমাউরো জানিয়েছেন, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। তবে তার সহকর্মী ড. রবার্ট ট্রেস্টম্যান মনে করেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে নিজের কষ্ট নিয়ে বেশি কথা বলছে। আগে যেসব অনুভূতি চেপে রাখা হতো, এখন সেগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

তবে সবাই এই ব্যাখ্যায় একমত নন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আধুনিক সমাজে সাধারণ মানসিক চাপকেও দ্রুত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আগে ক্লাসে অস্থির কোনো শিশুকে শুধু দুরন্ত বলা হতো। এখন খুব সহজেই তার কপালে জুড়ে যাচ্ছে এডিএইচডির তকমা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল ওষুধ শিল্প। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের বাজার এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর রোগ নির্ণয় বাড়াতে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছে।

তবে শুধু ব্যবসা নয়, আধুনিক জীবনও যেন মানুষকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ক্লান্ত করে দিচ্ছে। সারাদিন স্ক্রিনে ডুবে থাকা, ঘুম কমে যাওয়া, শরীরচর্চাহীন জীবন, প্রক্রিয়াজাত খাবার, একাকীত্ব ও চারপাশের নেতিবাচক খবর সব মিলিয়ে মানুষ যেন হারিয়ে ফেলছে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়াও বড় একটি কারণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্যের সাজানো জীবন দেখতে দেখতে অনেক তরুণ নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের সংকট।


সাময়িকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরান-ইসরায়েলের

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আহ্বানের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে তেহরান স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা পুনরায় সামরিক যুদ্ধ শুরু করবে।

এই পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ইরানের সামরিক বাহিনী প্রথম দফার হামলা শেষের ঘোষণা দিলে তা আবার কমে যায়।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নিচে নেমে আসে। ইসরায়েলি প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের পর তেল আবিবও ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে বৈরুতের উপকণ্ঠে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গত রোববার (৭ জুন) রাতে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় নিখুঁত হামলা চালায়।

এর পর পরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি সমমানের শিল্প কারখানায় পাল্টা আঘাত হানে, যদিও এই ঘটনায় কোনো পক্ষেই নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এই তীব্র উত্তেজনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ অবসানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মক জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধটি গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, উভয় পক্ষই এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান বা হিজবুল্লাহর সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করলে ইসরায়েলকে হয়তো একাই লড়াই করতে হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের চাপের বিষয়টি অস্বীকার করে একে দুই নেতার দীর্ঘ বন্ধুত্বের মধ্যকার একটি সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা বলে অভিহিত করেছেন। অন্য দিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানও একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার মুখপাত্র ফারহান হকের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন যে, চরম সন্দেহজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের বার্তা বিনিময় চলছে। ইরানের সংসদীয় কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বা ইয়েমেনের হুতিদের মতো মিত্রদের ওপর যেকোনো আঘাতের চড়া মূল্য দিতে হবে।

ইতোমধ্যেই লোহিত সাগরে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের ইলাত এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণকারী হুথিদের এই যুদ্ধ সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। এদিকে তেহরানের আকাশেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, লেবাননে তাদের হিজবুল্লাহ বিরোধী অভিযান আমেরিকার সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনার বাইরে থাকবে এবং সেখানে হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্য দিকে তেহরানের দাবি, লেবাননে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি না হলে আমেরিকার সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ঈসা সোমবার জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার স্থগিত আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল চলাচল বন্ধ রেখেছে তেহরান এবং আমেরিকাও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্পূর্ণ বন্ধ করা। এর বিপরীতে ইরানের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তাদের অবরুদ্ধ বিলিয়ন ডলার তহবিল মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

‘ইরান-ইসরায়েল আরও এক সপ্তাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত’

একে অপরের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তিনি পাল্টা আঘাত করেছেন, আর এজন্য আমি তাকে কোনো দোষ দিতে পারি না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, প্রথমে ইসরায়েল আক্রান্ত হয়, এরপর তারা এর জবাব দেয় এবং এখন তারা এই সংঘাত সমাপ্ত ঘোষণা করেছে। এর ফলে তারা আগামী অন্তত একটি সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় একে অপরকে কোনো ধরনের ঘাঁটাঘাঁটি না করে শান্ত থাকবে।


ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন

ফিলিস্তিনির ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি কারাগারে এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া মুহাম্মদ আল-বাকরি তেমনি একজন। তাকে যে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল সেই দিনটির কথা তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল, রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়।

বাকরি জানান, এই ঘটনার এক মাস আগে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে গাজার এই সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, নির্যাতন, হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল।

আল-বাকরি বলেন, তাকে আরও সাতজন বন্দির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। তাদের সবাইকে বিবস্ত্র করে, চোখে পট্টি বেঁধে ও হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাপড় খুলে ফেলার পর ধর্ষণ করা হয়েছিল। আমরা আল্লাহ বলে চিৎকার করছিলাম, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল আর আমাদের ভিডিও করছিল।

গাজার এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বন্দিদের যৌন নির্যাতনের সময় ইসরায়েলি রক্ষীরা কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশেই আমাদের আক্রমণ করছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-বাকরি তাদের মধ্যে একজন, যারা আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘বডিস অব এভিডেন্স: ইসরায়েল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ এর জন্য নিজেদের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

এই প্রামাণ্যচিত্রে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো তদন্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানেজের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর যৌন সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আকার ধারণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্থা প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরসহ বিভিন্ন সংস্থা ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরায়েলি সেনারা কুকুর ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো সহিংসতা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়- এগুলো কয়েক দশক পুরোনো। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার পর গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইল যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল কর্তৃক যৌন সহিংসতা, প্রজনন-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ‘পদ্ধতিগত’ ব্যবহার সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া গেছে।


ভারত রক্ষায় ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর

রাহুল গান্ধী । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের স্বার্থে এবং সংবিধান রক্ষার্থে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ বজায় রাখলে জোটের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপিকে পরাস্ত করতে হলে জোটের সব শরিক দলকে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একসঙ্গে পথ চলতে হবে বলে তিনি জোরালো হুঁশিয়ারি দেন।

প্রায় ১৫ মিনিটের এই দীর্ঘ বক্তব্যে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা জোটের কিছু শরিক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘ভোট চুরি’র মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর ইস্যুতে কিছু সহযোগী দলের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে জোটে অন্তর্ভুক্ত থেকেও যারা নিয়মিতভাবে জাতীয় কংগ্রেসের সমালোচনা ও বিরোধিতা করে চলেছে, তাদের তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তার এই সমালোচনার মূল তির ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলোর দিকে।

এই বৈঠকেই ভোটার তালিকা জালিয়াতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়ম নিয়ে জোটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, যা খুব দ্রুতই তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। রাহুল গান্ধী যুক্তি দেখান যে বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেই প্রমাণিত হয়েছে বিজেপিকে পরাজিত করা অসম্ভব কিছু নয়, তাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে শক্তি বাড়াতে হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ২৪০টি আসনে থমকে যায় বিজেপি, যা ২০১৯ সালের ৩০৩টি আসনের চেয়ে অনেক কম। অন্যদিকে কংগ্রেস ২০১৯ সালের মাত্র ৫২টি আসন থেকে একলাফে ৯৯টি আসনে উন্নীত হয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয়। লোকসভায় বিরোধীদের সাম্প্রতিক একতার বড় প্রমাণ ছিল সরকারের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি সম্মিলিতভাবে রুখে দেওয়া।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় মোদি সরকারের বিতর্কিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি সর্বসম্মতভাবে প্রতিহত করার বিষয়টিকে জোটের একতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা মোকাবিলায় এই সংহতি আরও জোরদার করা আবশ্যক। চার রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরপরই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে আসাম ও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করেছে, কেরালায় জিতেছে কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুতে বড় জয় পেয়েছেন সুপারস্টার বিজয়। তিন বছর আগে গঠিত এই জোটটি এখন থেকে প্রতি দুই মাস পরপর বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পরবর্তী সভাটি আগামী আগস্ট মাসে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।


হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর নজরদারি এবং হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ ভাঙার তৎপরতার মাঝেই একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। হেলিকপ্টারটি ইরানের প্রভাবাধীন হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত কাছে থাকাকালীন এই পরিস্থিতির শিকার হয়। তবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি সরাসরি ইরানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়েছে নাকি কোনো যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে, ঘটনাটির কারণ নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হবে।

নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলট অক্ষত ও সুরক্ষিত আছেন। কেউ আহত হননি।” দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দীর্ঘদিনের নৌ-অবরোধ অকার্যকর করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিয়মিতভাবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। যদিও এর আগে তেহরান প্রায় ৩০টি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল।

জেরুজালেম পোস্ট এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে যে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো সচরাচর টহল দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হলেও সম্প্রতি সেন্টকমের পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এগুলোকে ইরানের সীমানার অভ্যন্তরেও পাঠানো হচ্ছিল। গত রবিবারও মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ইরানের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছিল। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানি আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে তৎপর রয়েছে।


হজযাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে ফের চালু হলো তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবারও পুরোপুরি সচল হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোররাতে সৌদি আরব থেকে হজযাত্রীবাহী বিমানগুলো নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণের মাধ্যমে এই স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার ভোরে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার খাতিরে সব ধরণের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। এর ফলে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে যুদ্ধাবস্থা প্রশমিত হওয়ার পর এবং ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনার প্রেক্ষিতে আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান সরকার। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা হজযাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইটগুলো নিয়মিতভাবে অবতরণ করায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে।

উল্লেখ্য যে, গত রবিবার রাতে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী সব ফ্লাইটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আকাশপথ সচল হওয়ার সংবাদ আসার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ইরানের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমানে তেহরান থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


খাদ্যবাহিত রোগে বছরে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা প্রতিবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্বাস্থ্যকর কোনো খাবার খাওয়ার পর খাদ্যবাহিত রোগ যে শুধু একটি বিরক্তিকর সমস্যা তা নয়। এটি অনেক সময় গুরুতর রোগ থেকে শুরু করে মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন দেখা গেছে, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু খাদ্যবাহিত রোগের কারণে হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘দূষিত খাবার থেকে সৃষ্ট এই বিশাল রোগের বোঝা কমাতে খাদ্যনিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য দেশগুলোর কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।’

সংখ্যাটি উদ্বেগজনক হলেও বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি বিস্ময়কর নয় বলে জানান নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আরভিং মেডিকেল সেন্টারের সিস্টেমস বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ডা. হ্যারিস ওয়াং। তিনি এই গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন না।

কানাডার কুইবেকে লাভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. জুলি জিন বলেন, বিশ্বের একটি বড় অংশ হয়তো এই মৃত্যুর হার এবং এর সামগ্রিক বোঝা-যার অর্থ মৃত্যু এবং সেইসাথে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ও প্রতিবন্ধকতা-সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনকাল বা ডিঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স দেখে অবাক হতে পারে।

হ্যারিস ওয়াংয়ের মতো জিনও এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না। তার মতেও, এর প্রভাব এইচআইভি বা ম্যালেরিয়ার মতো অন্যান্য বড় সংক্রামক রোগের প্রভাবের সঙ্গে তুলনীয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক ঘটনা মৃদু হওয়ায় বা রিপোর্ট না হওয়ায় খাদ্যবাহিত রোগের প্রকৃত প্রভাব প্রায়ই অবমূল্যায়িত হয়। কিন্তু এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে খাদ্যবাহিত রোগ শুধু একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি সামষ্টিক ও কাঠামোগত সমস্যাও। তবে এই ধরনের অসুস্থতা প্রতিরোধে ঘরেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

খাদ্যবাহিত অসুস্থতার কারণ

জিন বলেন, খাবার যখন বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান দ্বারা দূষিত হয়, তখন মানুষ খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে পরজীবী, রাসায়নিক পদার্থ এবং অণুজীব। সাধারণ উদাহরণ হিসেবে সালমোনেলা, ইশেরিশিয়া কোলাই, নোরোভাইরাস এবং লিস্টেরিয়ার কথা উল্লেখ করা যায়।

ওয়াং বলেন, এসব রোগজীবাণু গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এগুলো আরও গুরুতর জটিলতায় রূপ নিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে সেপসিস এবং ব্যাকটেরেমিয়া—যে অবস্থায় ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে।

কিছু খাদ্যবাহিত রোগের ক্ষেত্রে সমস্যার মূল কারণ হলো তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। অর্থাৎ খাবার যথেষ্ট পরিমাণে রান্না না করা বা এমন তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। অন্যদিকে অনেক ক্ষেত্রে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান জিন।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সুযোগ সমান নয়। জিন বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মৃত্যু ও গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। বিভিন্ন দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মকানুন এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতার পার্থক্য এসব রোগের বিস্তারে প্রভাব ফেলে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

ঝুঁকি ব্যক্তিভেদেও ভিন্ন হতে পারে। ওয়াং বলেন, ‘যেসব ছোট শিশুর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকশিত হয়নি, যেসব বয়স্ক মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল, তারা খাদ্যবাহিত রোগে বিশেষভাবে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।’

জিন আরও বলেন, গর্ভাবস্থা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে, ফলে গর্ভবতী নারীরাও গুরুতর খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ওয়াং বলেন, কিছু ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অন্ত্রের অণুজীবের স্বাভাবিক ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে খাবারে থাকা রোগজীবাণুর কারণে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। খাদ্যবাহিত রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা এবং জ্বর।

টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুষদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ সেরে যায়। তবে তিন দিনের বেশি স্থায়ী ডায়রিয়া, উচ্চমাত্রার জ্বর বা মলে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ওয়াং। তিনি বলেন, ‘শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে উপসর্গ ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি সারা শরীরে ধাক্কার মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে।’

রান্নাঘরে প্রতিরক্ষা

খাবার প্রস্তুত ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনই হলো প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলে জানান জিন। সাধারণভাবে আধা-সেদ্ধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস ও ডিম, কাঁচা ময়দা এবং অপরিশোধিত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের কাঁচা মাছ, বাজারে প্রস্তুত বিক্রয়যোগ্য পাতলা কাটা মাংসজাত খাবার (পুনরায় গরম না করলে) এবং আগে থেকে প্যাকেটজাত সালাদও এড়িয়ে চলা ভালো বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন।

টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিছু খাবার দীর্ঘ সময় কক্ষ তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া নিরাপদ নয়—পরে গরম করে জীবাণু ধ্বংস করার চেষ্টা করা হলেও। কোনো খাবার কাটা, খোসা ছাড়ানো বা রান্না করার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার না করলে দুই ঘণ্টার মধ্যে তা হিমায়িত সংরক্ষণে রাখতে হবে।

ওয়াং বলেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে খাদ্যবাহিত রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাও শক্তিশালী করা সম্ভব। অন্ত্রের অণুজীবের সুস্থ ভারসাম্য এবং শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য কোনো একক ‘অলৌকিক খাদ্য’ নেই। এর মূল চাবিকাঠি হলো ভারসাম্য, বৈচিত্র্য এবং ধারাবাহিকতা।

খাদ্যতালিকায় এমন বিভিন্ন ধরনের খাবার রাখা উচিত, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করবে এবং রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে পূর্বের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুষদের পুষ্টিবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার গার্ডনার।

এসব পুষ্টি সাধারণত তাজা ও বৈচিত্র্যময় ফল ও শাকসবজি, পূর্ণ শস্যজাত খাবার, চর্বিহীন আমিষ এবং স্বাস্থ্যকর তেল থেকে পাওয়া যায়। ওয়াং আরও বলেন, ‘যথাযথ পুষ্টি গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এসব সাধারণ অভ্যাসই ভালো স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর।’


ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৩২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) সকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনসহ ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে কয়েকটি অঞ্চলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৩৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই বাণিজ্যিক স্থাপনা।

ইউএসজিএস জানায়, সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।

ফিলিপাইনের সিসমোলজি সংস্থা ‘ফিভলকস’ জানিয়েছে, মিন্দানাও দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত সারাঙ্গানি প্রদেশের জেনারেল সান্তোস সিটির উপকূলে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সারাঙ্গানি প্রদেশের আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান বেনজি আনচেতা টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি আমাদের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।’

তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় থানায় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি চলছিল এবং তীব্র ঝাঁকুনিতে থানার ভবনে ফাটল দেখা দেয়। কোনো মৃত্যুর খবর না পাওয়া গেলেও শক্তিশালী কম্পনের আতঙ্কে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতির ছবিগুলো প্রথম সামনে এসেছে।

ভূমিকম্পের পর জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র। আক্রান্ত এলাকার নাগরিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত প্রদেশগুলোর আমাদের দেশবাসী, দয়া করে সুনামির সতর্কবার্তায় কান দিন। এখনই উঁচু স্থানে চলে যান। দেরি করবেন না। পেছনে ফেলে যাওয়া যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাদের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’

মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনের কিছু অংশে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে ১ থেকে ৩ মিটার উঁচুতে সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। ফিভলকসও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়া তাদের উত্তর-পূর্ব উপকূলে এবং জাপান তাদের দক্ষিণ উপকূলে (ইবারাকি থেকে ওকিনাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চল পর্যন্ত) সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে কোনো সুনামির হুমকি নেই বলে জানিয়েছে সে দেশের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস।

উল্লেখ্য, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপান—তিনটি দেশই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। এই এলাকায় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার কারণে ঘন ঘন শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে থাকে।

ফিলিপাইনে ভবন ধস, একের পর এক আফটারশক

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পটির পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এগুলোর মাত্রা রিখটার স্কেলে ১ দশমিক ৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ছিল।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা জেনারেল সান্তোস সিটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এসেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা ফিলিপাইন ইনফরমেশন এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের বড় বড় ভবন ও বিপণিবিতান ধসে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিপাইনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন জলিবির অন্তত দুটি শাখা হুড়মুড় করে ভেঙে সড়কের ওপর ধসে পড়ছে।

জেনারেল সান্তোস সিটির পুলিশ কর্মকর্তা মাস্টারসার্জেন্ট রবার্ট ডাগন জানান, বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ায় সেখানে জরুরি উদ্ধারকাজ চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ফিলিপাইন রেড ক্রস দেশজুড়ে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি

ফিলিপাইনে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সুনামি সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিপাইনের এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার তিনটি উপকূলীয় এলাকায় সুনামির ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএমকেজি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের কেডি, উলু সিয়াউ এবং মেলোঙ্গুয়ানে এলাকায় সুনামি ঢেউ আঘাত হানে। তবে এই ঢেউগুলোর উচ্চতা ছিল জোয়ারের চেয়ে ০ দশমিক ০৯ মিটার থেকে ০ দশমিক ১৯ মিটার পর্যন্ত। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

জাপানেও সুনামির সতর্কতা

ফিলিপাইনের এই ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে জাপান সরকার। জাপানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী প্রদেশগুলোতে এক মিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে। এই আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ভারতের জয়পুরে মন্দির-মসজিদ ঘিরে ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন

উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য পুরো এলাকায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে একটি রাস্তা প্রশস্ত করার লক্ষ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জেডিএ)। তবে বিপত্তি দেখা দিয়েছে উচ্ছেদ অভিযান সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো নিয়ে। জানা গেছে, অধিকাংশ স্থাপনাই স্থানীয় মন্দির ও মসজিদসংলগ্ন। ফলে এই অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য পুরো এলাকায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জয়পুর উত্তর ও জয়পুর পূর্ব পুলিশ জেলার ৩৪টি থানায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট, বাল্ক এসএমএস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

জেডিএ ও জেলা প্রশাসনের এই যৌথ উচ্ছেদ অভিযানটি চলছে জয়পুরের জগতপুরা এলাকার নন্দপুরী আন্ডারপাসের কাছে। রেললাইনের সমান্তরালে চলা দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি বর্তমানে মাত্র ২৫-৩০ ফুট চওড়া, যা মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ৮০ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে।

অভিযানস্থলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজস্থান আর্মড কনস্ট্যাবুলারির (আরএসি) ১২টি কোম্পানিসহ প্রায় ৩ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো নন্দপুরী এলাকাটি সব দিক থেকে সিল করে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্ছেদ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

উচ্ছেদের তালিকায় ৫টি ধর্মীয় স্থাপনা

এবারের অভিযানে রাস্তার সীমানার মধ্যে থাকা ৫টি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি মসজিদ, একটি মাজার বা দরগাহ, দুটি মন্দির এবং একটি সৎসঙ্গ হল রয়েছে। জেডিএ-র পক্ষ থেকে এর আগে ধর্মীয় স্থাপনার কমিটি ও মালিকদের নিজস্ব উদ্যোগে এগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় প্রশাসন সরাসরি বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করে।

এই অভিযানের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিতর্কিত বিষয়টি হলো নূরানী মসজিদ উচ্ছেদ। রোববার রাতে মোতি দুঙ্গরি রোডের মুসাফিরখানায় মসজিদ কমিটি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে এই উচ্ছেদের বিরোধিতা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দোয়া মাহফিলের একটি ভিডিওতে কংগ্রেস বিধায়ক আমিন কাগজিকে আবেগপ্রবণ হয়ে বলতে দেখা যায়, ‘আমরা নিজেদের হাতে মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমরা শুধু অনুরোধ করেছিলাম মসজিদের আকার ৪০ ফুট থেকে কমিয়ে ২০ ফুট করা হোক, যাতে নামাজ পড়ার জায়গা থাকে। কিন্তু প্রশাসন তাতে রাজি হয়নি।’

সভায় উপস্থিত আরেক বিধায়ক রফিক খান দাবি করেন, এই মাজারটি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের এবং নূরানী মসজিদটি ১৯৮১ সালে নিজস্ব অর্থায়নে কেনা জমিতে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে এর উন্নয়ন ফি-ও জেডিএ-তে জমা দেওয়া হয়। অথচ ২০০০ সালের পর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মাস্টারপ্ল্যানে রাস্তাটি ৮০ ফুট চওড়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের চেয়ে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বেশি দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা আইনিভাবেই এই লড়াই লড়বেন।


লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে হুতির নিষেধাজ্ঞা

লোহিত সাগরে শত্রুপক্ষের জাহাজে হুতির হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলে। এবার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হুতিরা। সোমবার লোহিত সাগরে ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েলগামী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও এর আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিকি ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, সোমবার সকালে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

হামলার পরপর হুতিরা লোহিত সাগর নিয়ে তাদের নতুন এবং কঠোর সামরিক নীতি ঘোষণা করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ওপর এখন থেকে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এই জলসীমায় ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের চলাচল তাদের বাহিনীর বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি। লোহিত সাগর অঞ্চলে এই প্রণালির অবস্থান হওয়ায় বাণিজ্যিক দিক থেকে তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হুতিরা এর আগেও ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের বা তাদের মিত্রদের পণ্যবাহী জাহাজে বেশ কয়েকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার হুতির

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার সকালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেছে। হুতিদের সামরিক উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলি শত্রুর একাধিক সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল ব্যারেজ) নিক্ষেপ করেছে। হুতিদের দাবি, তাদের এই বিশেষ অভিযান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার ভোরেই নিশ্চিত করেছিল, ইয়েমেন থেকে ধেয়ে আসা একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশে সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

হামলার পরপরই লোহিত সাগরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌরুটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে হুতি গোষ্ঠীটি। তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি পতাকাবাহী ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক নৌচলাচলের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি। এই বিবৃতি প্রকাশের মুহূর্ত থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের নৌ-আনাগোনাকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সম্পূর্ণ বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগেও গাজা সংকটের জের ধরে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজে ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে চরম স্থবিরতার মুখে ফেলেছিল এই হুতি আন্দোলন। গত এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সোমবারের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরে পুনরায় ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটে।


চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কিনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কিনে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে মরিশাসের কাছে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা স্থবির হয়ে পড়ার পর বিকল্প পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন।

এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাপারে মন্তব্য চাইলেও হোয়াইট হাউস আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনাধীন প্রস্তাবগুলোর একটি হলো যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি দ্বীপপুঞ্জটি কিনে নেওয়া। এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের কেন্দ্রে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তবে এমন কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের আগে দ্বীপপুঞ্জটির সার্বভৌম মর্যাদা নির্ধারণ করতে হবে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র মরিশাসের সঙ্গে সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবে। গত এপ্রিলে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তাবিত আইনগত উদ্যোগগুলো স্থগিত হয়ে যায়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তির থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চাগোস কেনার ধারণাটি বর্তমানে বিবেচনাধীন একাধিক বিকল্পের মধ্যে একটি। এই প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তবে প্রশাসনের ভেতরে এটি এখনো প্রধান বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মরিশাসের কাছে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হলে তা চীনের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, চীনের মিত্র হিসেবে বিবেচিত মরিশাসের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সফররত চাগোস রিফিউজি গ্রুপের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগ করেছে, দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক ব্রিটিশ রাজনীতির অভ্যন্তরে আটকে পড়েছে। প্রতিনিধি দলের নেতা লুই অলিভিয়ে ব্যানকুল্ট বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে অধিকার প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের অধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জনগণের জন্য সমাধান খুঁজে বের করার প্রকৃত সদিচ্ছা ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের অবশ্যই একটি পথ বের করতে হবে। আমরা এখনো ভোগান্তির মধ্যে আছি এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমাদের জন্মভূমিতে বসবাস করার অধিকার রয়েছে।’

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন করে আলোচনার পেছনে বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

মধ্য ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এই ঘাঁটি ইরান থেকে প্রায় ২ হাজার ৩৬০ মাইল বা ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে। এখানে এমন একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করতে পারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ইতোমধ্যে দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। মার্চের শেষ দিকে পরিচালিত একটি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ প্রতিহত করে। মার্চ মাসেই যুক্তরাজ্য দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর অনুমতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, অনুমোদনটি ‘খুব দেরিতে’দেওয়া হয়েছে। তার মতে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আরও আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।


৭ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন তিনি। এ সময় তাকে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং জন উন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোডং সিনমুনে প্রকাশিত এক লেখায় জিনপিং বলেছেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক নবসূচনা হয়েছে। কিমের সঙ্গে তার এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এটি চলতি বছরে শি জিনপিংয়ের প্রথম বিদেশ সফর।

শি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দুই দেশই সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক আদান-প্রদান ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। আমাদের আধিপত্যবাদ, কর্তৃত্ববাদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন সামরিক উত্থানের সব ধরনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছানোর পর কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল জু জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। এসময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং শিশুরা ফুলের তোড়া উপহার দিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর কিম ইল সুং স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ড দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছে। এই চত্বরটি অতীতে সামরিক কুচকাওয়াজ ও রাষ্ট্রীয় উদ্‌যাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি বলেছে, অনুষ্ঠানে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নেতাদের বিশালাকৃতির প্রতিকৃতির নিচে জড়ো হয়ে জনতা নানা স্লোগান এবং রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

দুই দিনের এই সফরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন শি জিনপিং। সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় এটি প্রথম সফর করছেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী হয়েছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র ফেলো ক্রেইগ সিংলেটন বলেন, শি-কিম শীর্ষ বৈঠক আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে বেইজিং এখনো পিয়ংইয়ংকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।

তিনি বলেন, চীন, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও ইরানের একটি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং তার মিত্রজোটগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।


ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তবে একই সাথে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে যে, তেল আবিব যদি পুনরায় লেবাননে আগ্রাসন শুরু করে, তবে আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক আঘাত হানা হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবিলম্বে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেল।

রবিবার রাতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতিটি বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ইরান ও ইসরায়েল এখন একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও জানান, কোনো পক্ষের হটকারিতা বাধা হয়ে না দাঁড়ালে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সবশেষ অভিযান থেকে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের যথাযথ শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের আগ্রাসন বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইরান আগের চেয়ে আরও বেশি বিধ্বংসী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলে এই অভিযানের জন্য ইরান ও ইয়েমেনকে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তারা এই উত্তজনা ও বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার জন্য ইসরায়েলের লাগামহীন আগ্রাসনকেই দায়ী করেছে।

ইরানের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে, তারা ইরানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। মূলত হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


banner close