পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ত্রিমুখী যুদ্ধ কেবল জ্বালানি তেল, সার, ওষুধ বা বৈশ্বিক অর্থনীতিকেই লণ্ডভণ্ড করছে না; এই যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব এখন পড়ছে সমুদ্রের বিশাল আকার প্রাণী তিমির ওপর। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় এলাকায় তিমির বসতিতে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধ এড়িয়ে চলা পণ্যবাহী জাহাজগুলো।
২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করলে প্রথম এই রুটে বিঘ্ন ঘটে। অতি সম্প্রতি, বর্তমানে ইরানের অবরোধের মুখে থাকা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের পথ ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে ঘুরপথে জাহাজ পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘পোর্টওয়াচ মনিটরের’ তথ্যানুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে পাড়ি দিয়েছে। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪টি।
দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় ৪০টিরও বেশি প্রজাতির তিমির বাস। দেশটির দক্ষিণপ্রান্ত ‘কেপ অব গুড হোপ’ মূলত সাউদার্ন রাইট হোয়েল, হাম্পব্যাক হোয়েল এবং ব্রাইডস হোয়েলের প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র। এ ছাড়া এখানে ওড়কা বা কিলার হোয়েল, স্পার্ম হোয়েল, মিঙ্ক হোয়েল এবং ডলফিন দেখা যায়।
বিশেষ করে হাম্পব্যাক তিমির এক বিশাল দল এই এলাকায় খাবার খায় এবং এখান থেকেই অ্যান্টার্কটিকার দিকে তাদের বার্ষিক পরিভ্রমণ শুরু করে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি পৃথিবীতে পরিচিত হাম্পব্যাক তিমির বৃহত্তম দল। কিছু গবেষণায় এদের সংখ্যা ১১ হাজার থেকে ১৩ হাজার বলা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীতে বাণিজ্যিক শিকারের কারণে অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছিল। বর্তমানে সাউদার্ন রাইট ও হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা বাড়লেও অ্যান্টার্কটিক ব্লু, ফিন এবং সসেই তিমির মতো প্রজাতিগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার ‘রেড লিস্টে’ এখনো ‘বিপন্ন’ বা ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
জাহাজ চলাচল বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তিমির ওপর। প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অনেক সময় কার্গো জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের করা ভিডিওতে দেখা যায় তারা হাম্পব্যাক তিমির বিশাল পালের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।’
আইডব্লিউসি সভায় উপস্থাপিত এই গবেষণার প্রধান ভারমিউলেন বলেন, ‘তিমিরা প্রায়ই বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকে না, বিশেষ করে যখন তারা খাবার খেতে ব্যস্ত থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তারা লেখে—‘‘বাহ, দেখ কত সুন্দর সব তিমি দেখছি’’। কিন্তু তা দেখে আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়; কারণ আমি জানি ওই জাহাজগুলো হয়তো দু-একটি তিমিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দ্রুতগতির জাহাজ চলাচল (যা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) এখন এই এলাকায় চারগুণ বেড়েছে।’
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের ‘প্রটেক্টিং হোয়েলস অ্যান্ড ডলফিনস ইনিশিয়েটিভের’ বৈশ্বিক প্রধান ক্রিস জনসন বলেন, ‘তিমিরা এখনো জাহাজের গতির সাথে মানিয়ে নিতে শেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘আপনি হয়তো ভাবছেন বিকট শব্দ শুনলে তারা চলে যাবে। কিন্তু কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে তা ঘটে না।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেসে নীল তিমিরা যখন জাহাজের শব্দ শোনে, তখন তারা পালানোর বদলে উল্টো পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায়।
ব্লু ইকোনমি কনসালট্যান্ট কেন ফিন্ডলে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তিমির আচরণগত পরিবর্তনও তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকার হাম্পব্যাক তিমিরা ২০১১ সাল থেকে পশ্চিম উপকূলে খাবার সংগ্রহ শুরু করেছে, যা এখন অত্যন্ত ব্যস্ত একটি রুট।
গবেষকরা বলছেন, মানুষের তৎপরতা বাড়ার সাথে সাথে এই ঝুঁকিও বাড়ছে। ভারমিউলেনের দল ২০২২ সালের নভেম্বরে সাউদার্ন রাইট তিমির মৃত্যু নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছিল। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মোট ৯৭টি তিমির মৃত্যুর মধ্যে ১১টি সরাসরি জাহাজের ধাক্কায় হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৬টি তিমির শরীরে জাহাজের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল যা সরাসরি মৃত্যুর কারণ কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের ব্যবধান কাটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে তাঁকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ সালে তাঁর প্রথম দফার সফরের পর এশিয়ার এই পরাশক্তি দেশে এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। বিমানবন্দরে অবতরণের পর ট্রাম্পকে আড়ম্বরপূর্ণ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। আগামী কয়েক দিন তিনি বেইজিংয়ে অবস্থান করবেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সেশনে অংশ নেবেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের বেইজিং সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর সফরসঙ্গীদের উচ্চপর্যায়ের তালিকা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একঝাঁক শীর্ষ নির্বাহী এবং বিনিয়োগকারী এই সফরে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন। এই বিশেষ তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্কের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এক ডজনেরও বেশি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এই সফরে অংশ নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এই শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তবে ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে বেইজিং তাদের কূটনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও পরিষ্কার বার্তা প্রদান করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিং চারটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস প্রকাশিত এই তালিকার প্রধান ইস্যুটি হলো তাইওয়ান। এছাড়া গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং দেশটির উন্নয়নের অধিকারকে বাকি তিনটি রেড লাইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও শি জিনপিং এই চারটি সীমারেখার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে, তবে তা অবশ্যই চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে হতে হবে। বিশ্ব রাজনীতি ও বর্তমান টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর এবং বড় বড় টেক জায়ান্টদের উপস্থিতি নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যের একটি জনাকীর্ণ বাজারে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি বলেছে, গত রোববার (১০ মে) দুপুরের দিকে ওই এলাকায় একাধিক সামরিক বিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সব বিমান পুনরায় ফিরে এসে জনাকীর্ণ বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়।
এর আগে, গত এপ্রিলে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার জিলি এলাকায় সাপ্তাহিক এক বাজারে একই ধরনের বিমান হামলায় অন্তত ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। দেশটির সেনাবাহিনী বর্তমানে ওই হামলার ঘটনার তদন্ত করছে।
হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরুর জন্য নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্থানীয়রা বলছেন, রোববার (১০ মে) জামফারার জুরমি জেলার দুর্গম তুমফা বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী। এক মাসের ব্যবধানে উত্তর নাইজেরিয়ার জনাকীর্ণ ওই বাজারে দ্বিতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, হামলায় আহত কয়েক ডজন মানুষকে জুরমি ও নিকটবর্তী শিনকাফি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মঙ্গলবার (১২ মে) গুয়াহাটির খানাপাড়ায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ বিজেপি ও এনডিএ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার পাঁচজন সদস্যও এদিন শপথ নেন। তারা হলেন-সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি, আসামগণ পরিষদের সভাপতি অতুল বরা, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের নেতা চরণ বোরো এবং বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী অজন্তা নেওগ।
অনুষ্ঠানে এনডিএ শাসিত ২২টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া পোশাকে মঞ্চে আসেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এ সময় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বিপুল জয় পেয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছে। ২০২১ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এবার দ্বিতীয়বারের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। একই সঙ্গে অসমে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করে উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও মজবুত করল বিজেপি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের (settlers) হামলায় ফিলিস্তিনি শিশুদের চরম মানবেতর পরিস্থিতির বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর মুখপাত্র জেমস এল্ডার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে শিশুরা এক অসহনীয় মূল্য দিচ্ছে।’
এল্ডার জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকে যখন ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ব্যাপক পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে, তখন থেকে গড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আরও অন্তত ৮৫০ জন শিশু আহত হয়েছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিহত বা আহত শিশুদের অধিকাংশেরই শরীরে সরাসরি গুলি ব্যবহার করা হয়েছে।’
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। এল্ডার জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের বেঁচে থাকার এবং বেড়ে ওঠার মৌলিক পরিবেশগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি শিশুদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হচ্ছে, পানির ব্যবস্থায় হামলা চালানো হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানোর পথ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে তাদের চলাচলের ওপরও আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তিন দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও রাশিয়ার সঙ্গে লড়াই অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, গত চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহ নেই।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৯ মে থেকে তিন দিনের এক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। তবে এই সময়ের মধ্যেও হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দায়ী করেছে।
যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে সোমবার (১১ মে) দেওয়া নিয়মিত ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আজও যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো নীরবতা ছিল না; লড়াই অব্যাহত ছিল। আমরা প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ রাখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে রাশিয়ার এই যুদ্ধ থামানোর কোনো সদিচ্ছা নেই। উল্টো তারা নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বৈঠকগুলোর বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে ইউরোপের এই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও সেখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং এতে মার্কিন জনগণের সমর্থন রয়েছে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা আড়ালে চলে যায়। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে আলোচনার আশা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেই এখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দলটির বহু এমপি ও মন্ত্রী চাইছেন, স্টারমার যেন তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও সেই মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, যারা স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছেন। এতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়েই বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের ভেতরে অস্থিরতা
সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীকে (পিপিএস) সরিয়ে দেয়। তারা কেউ পদত্যাগ করেছিলেন, আবার কেউ স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত লেবার পার্টির ৭২ জন এমপি স্টারমারের পদত্যাগ অথবা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
যারা পদত্যাগ করেছেন
সোমবার পদত্যাগকারীদের তালিকায় ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পিপিএস জো মরিস। ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। মরিস বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন আর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারছেন না।
এছাড়া পদত্যাগ করেছেন, উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড, ক্যাবিনেট অফিসমন্ত্রী ড্যারেন জোনসের পিপিএস নওশাবাহ খান, পরিবেশমন্ত্রী এমা রেনল্ডসের পিপিএস টম রাটল্যান্ড।
আরও দুজন সরাসরি স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তারা হলেন- পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেনের পিপিএস গর্ডন ম্যাকি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পিপিএস স্যালি জেমসন।
স্টারমারের অবস্থান
এর আগে এক ভাষণে স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, তিনি সন্দেহকারীদের ভুল প্রমাণ করবেন ও পদত্যাগ করছেন না। তিনি স্বীকার করেন, তার সরকার কিছু ভুল করেছে। তবে তার দাবি, বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।
কিন্তু এই বক্তব্যের পরও তার সরে যাওয়ার দাবিতে চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সমর্থকরা স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের দাবি তুলেছেন।
দলের ডানপন্থি অংশও চাপ দিচ্ছে
শুধু বামঘেঁষা অংশ নয়, লেবার পার্টির ডানপন্থি অংশ থেকেও দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠ নেতারাও দ্রুত স্টারমারের বিদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
নির্বাচনে ভরাডুবির পর চাপ
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ইংল্যান্ডজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর হারানোর পর থেকেই স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে ও গ্রিন পার্টিও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে লেবারের ভোটব্যাংকে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওয়েলসেও শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে লেবার।
স্কটিশ পার্লামেন্টে ১২৯ আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে মাত্র ১৭টি আসন, যা হোলিরুড নির্বাচনের ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফল।
এমপিদের ক্ষোভ
এক বিবৃতিতে হেক্সহামের এমপি জো মরিস বলেন, লেবার কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের এমন সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়েছে, যেগুলো তাদের ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ভোটাররা বিশ্বাস করছে না যে তিনি সেই পরিবর্তন আনতে পারবেন, যার জন্য তারা ভোট দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশ ও দলের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত একটি সময়সূচি ঘোষণা করা উচিত, যাতে নতুন নেতা জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন ও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
ইস্ট ওর্থিং অ্যান্ড শোরহামের এমপি টম রাটল্যান্ড বলেন, আমার কাছে পরিষ্কার যে প্রধানমন্ত্রী শুধু পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির ভেতরেই নয়, পুরো দেশেই তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন ও তিনি তা আর ফিরে পাবেন না।
গিলিংহ্যাম অ্যান্ড রেইনহামের এমপি নওশাবাহ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি রাজনীতিতে এসেছি ব্যর্থতা দেখে চুপ করে থাকার জন্য নয়। এখনই আমাদের পরিষ্কার দিক পরিবর্তন প্রয়োজন, কোনো রাজনৈতিক খেলা নয়।’
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন থালাপতি বিজয়। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজ্যের সমস্ত ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী দু-সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে প্রশাসনকে। মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল-কলেজ ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশনের সবগুলো দোকানই এই নির্দেশের আওতায় পড়বে।
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে এখন স্টেট মার্কেটিং করপোরেশনের মোট ৪ হাজার ৭৬৫টি রিটেইল মদের দোকান আছে। যে ৭১৭টি দোকান বন্ধের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৭৬টি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কাছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে ১৮৬টি এবং ২৫৫টি দোকান বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন।
মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজয়ের এই নীতিগত সিদ্ধান্তকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকায় মদের অবাধ বিক্রি নিয়ে রাজ্যটির সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। সেই উদ্বেগ কাটাতেই নতুন সরকার এই পদক্ষেপকে একটি প্রধান ‘সামাজিক সংস্কার’ হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন এখন রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম বৃহৎ উৎস। তাই এই দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে রাজ্য সরকারের কোষাগারে কী ধরনের প্রভাব পড়বে এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে কোনো বাধার সৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে।
৫১ বছর বয়সি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় গত রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার দল তামিলাগা ভেত্রি কালাগাম (টিভিকে) নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কংগ্রেস, বামপন্থি দল, ভিসিকে ও মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে টিভিকে তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন করেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়। আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের পাশাপাশি রাজ্যে মাদকের বিস্তার রোধে প্রতি জেলায় একটি করে মাদকবিরোধী ইউনিট গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন বিজয়।
তবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর বিজয়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা প্রতিপক্ষ দল ডিএমকে-কে লক্ষ্য করে। তিনি ঘোষণা দেন, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মেয়াদে রাজ্যের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার খতিয়ান দিতে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণেই বিজয় বলেন, ‘তামিলনাড়ু সরকারের বর্তমান পরিস্থিতির কথা আপনাদের জানাতেই হবে। রাজ্যের ঘাড়ে ১০ লাখ কোটি রুপির বেশি ঋণের বোঝা রয়েছে। কোষাগার পুরোপুরি খালি। এই বোঝা সত্যিই অসহনীয়।’
এ ছাড়াও নারী সুরক্ষায় আরও কড়া পদক্ষেপ এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তিরুচিরাপল্লি পূর্ব কেন্দ্র থেকে বিজয় ইস্তফা দেওয়া তামিলনাড়ু বিধানসভায় টিভিকের বিধায়ক সংখ্যা এখন ১০৭। এর পাশাপাশি কংগ্রেস, ভিসিকে, আইইউএমএল ও বাম দলগুলোর ১৩ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাদের পক্ষে। শিগগিরই বিধানসভায় আস্থাভোটের মাধ্যমে বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ইরানের একটি তেল শোধনাগারে গোপন হামলা চালিয়েছে আমিরাত। এই অভিযানের মাধ্যমে দেশটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জোটে সরাসরি অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ইরানের ‘লাভান আইল্যান্ড’ এ অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলা চালায় আমিরাত। লাভান আইল্যান্ড ইরানের দশম বৃহত্তম শোধনাগার, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
ওয়াশিংটন এই হামলার বিষয়টি আগে থেকেই জানত এবং তারা আমিরাতের এই পদক্ষেপকে পরোক্ষভাবে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার কথা স্বীকার করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে যে, কোনো শত্রুভাবাপন্ন আচরণের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। ইরানি বাহিনী আমিরাতের ভূখণ্ড, বিমানবন্দর এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রায় ২,৮০০টি মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। এর ফলে দেশটির পর্যটন ও আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নামে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষয়ক্ষতির প্রতিশোধ নিতেই আবুধাবি তাদের আধুনিক বিমানবাহিনী (যাতে ফরাসি মিরাজ ও অত্যাধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে) ব্যবহার করে ইরানে এই অপারেশন চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা জানিয়েছে, আমিরাতের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরান পাল্টা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সামরিক মেরুকরণ ওই অঞ্চলের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের নীতি নির্ধারণী পরিষদের সদস্য এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ও আরব দেশগুলোকে ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক লক্ষ্য’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মোহসেন রেজায়ি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইসরায়েল বা ‘জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী’ এই অঞ্চলে সংঘাত ও বিভেদ ছড়িয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ড এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা।
তিনি সরাসরি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আরব ও মুসলিম ভাইয়েরা! জায়নবাদী শাসনের লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে বিবাদ ও সংঘাতের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, যাতে তারা আপনাদের ভূমি ও সম্পদের দখল নিতে পারে।’
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের এই ‘বিপজ্জনক প্রকল্পের’ সাথে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হলে তার ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক হবে। বিশেষ করে যারা নিজেদের ক্ষমতার বাইরে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে।
আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সতর্ক এবং বিচক্ষণ হোন।’ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রেজায়ির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৭৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ আকাশচুম্বী আকার ধারণ করেছে। ‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’ পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের ৭১তম দিন নাগাদ মার্কিন সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ৭৭ বিলিয়ন (৭ হাজার ৭০০ কোটি) মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।
রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহকারী এই পোর্টালটি মূলত অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনা সদস্য, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামরিক ব্যয় হিসাব করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গণনার ভিত্তি হিসেবে পেন্টাগনের কংগ্রেসে দেওয়া একটি প্রতিবেদনকে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে উল্লেখ ছিল—অভিযানের প্রথম ছয় দিনেই খরচ হয়েছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী প্রতিদিনের গড় খরচ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে এপ্রিলের শেষদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জুলস হার্স্ট হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে জানিয়েছিলেন, এই সংঘাতের খরচ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে পরদিনই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, এই হিসাবে মার্কিন সামরিক স্থাপনা মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রকৃত খরচ ছিল প্রায় দ্বিগুণ।
‘মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের দেওয়া জবাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেও তা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ করছে না তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘স্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো উস্কানি বা আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। গালিবাফ আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, তেহরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হাতে রেখেছে এবং তাদের বিরোধীরা পরিস্থিতির আকস্মিকতায় ‘বিস্মিত’ হবে।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কোনো গুরুত্ব তাদের কাছে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটির মতে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তখন বুঝতে হবে যে সেই পরিকল্পনাটি প্রকৃতপক্ষে কার্যকর ও ভালো।
চীনের হয়ে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্কাডিয়া শহরের মেয়র আইলিন ওয়াং। এই অভিযোগে নিজেকে দোষী স্বীকার করতেও রাজি হয়েছেন তিনি।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আইলিন ওয়াং চীনের সরকারের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে বেইজিংপন্থি প্রচারণা চালিয়েছেন ও সেই তথ্য মার্কিন সরকারের কাছে গোপন রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্থানীয় সময় গত সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বলে, ৫৮ বছর বয়সি আইলিন ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার’ একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ওই ফৌজদারি অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী সোমবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় এলাকার মার্কিন জেলা আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হওয়ার কথা রয়েছে ওয়াংয়ের। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইলিন ওয়াং ২০২২ সালের নভেম্বরে আর্কাডিয়া সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। পাঁচ সদস্যের ওই কাউন্সিল থেকেই পর্যায়ক্রমে মেয়র নির্বাচন করা হয়।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, ‘যিনি আগে চীনা সরকারের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নির্দেশ নিয়েছেন ও তা বাস্তবায়ন করেছেন, তিনি এখন জনআস্থার একটি পদে রয়েছেন। এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ওই বিদেশি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি কখনও প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থেই কাজ করা উচিত।’
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, ‘যারা গোপনে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করে, তারা আমাদের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। চীনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াংয়ের এই স্বীকারোক্তি আরেকটি সাফল্য।’
এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ও গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোঝাভস্কি বলেন, ‘ওয়াং নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা- যারা বিদেশি সরকারের হয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে কাজ করবেন, তাদের শনাক্ত করা হবে, তদন্ত করা হবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
এফবিআই জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করা তাদের মূল দায়িত্বের অংশ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওয়াং ও ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো হিলস এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি ইয়াওনিং মাইক সান চীনা সরকারের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে চীনের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে চীনপন্থি প্রচারণা চালানোও ছিল। মাইক সান গত বছরের অক্টোবরে একই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। বর্তমানে তিনি চার বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ওয়াং ও সান একসঙ্গে ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। সেটিকে স্থানীয় চীনা-আমেরিকান কমিউনিটির সংবাদমাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ‘চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ওই ওয়েবসাইটে চীনপন্থি কনটেন্ট প্রকাশ করতেন।’ উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ২০২১ সালের জুনে এক চীনা কর্মকর্তা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মাধ্যমে ওয়াং ও অন্যদের কাছে আগে থেকেই লেখা কিছু সংবাদ পাঠান।
এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত এক চীনা কর্মকর্তার লেখা নিবন্ধও ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, শিনজিয়াংয়ে কোনো গণহত্যা হয়নি, তুলা উৎপাদনসহ কোনো ক্ষেত্রেই জোরপূর্বক শ্রম নেই। এসব গুজব ছড়িয়ে চীনকে অপমান করা, শিনজিয়াংয়ের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং চীনের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওয়াং ওই নিবন্ধ নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন ও লিংকটি চীনা কর্মকর্তাকে পাঠান। গ্রুপ চ্যাটের অন্য সদস্যরাও একই কাজ করেন। এর জবাবে চীনা কর্মকর্তা লেখেন, এত দ্রুত! সবাইকে ধন্যবাদ।
২০২১ সালের আগস্টেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ওয়াং ও আরও তিনজন নিজেদের তথাকথিত ‘নিউজ’ ওয়েবসাইটে একই নিবন্ধের লিংক শেয়ার করেন। পরে চীনা কর্মকর্তা তাদের ‘রিপোর্টিংয়ের’ জন্য ধন্যবাদ জানান।
চীনা কর্মকর্তার অনুরোধে ওয়াং নিবন্ধে কিছু পরিবর্তনও করেন। এরপর সংশোধিত নিবন্ধের লিংক পাঠান ও জানান, সেটি ১৫ হাজার ১২৮ বার দেখা হয়েছে। জবাবে ওই কর্মকর্তা লেখেন, দারুণ! এর উত্তরে ওয়াং লেখেন, ধন্যবাদ নেতা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন যে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবং আক্রমণকারীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক যুদ্ধবিরতিকে ‘নাজুক’ অভিহিত করার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে এবং আক্রমণকারীদের শিক্ষা দিতে প্রস্তুত। ভুল কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল সবসময়ই খারাপ হয় — বিশ্ব ইতোমধ্যেই তা বুঝতে পেরেছে।’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক পথে হাঁটার ভুল সিদ্ধান্ত নেয় তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কেবল ‘টিকে থাকার লড়াইয়ে’ আছে। তিনি ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবের প্রতি ইরানের দেওয়া পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইতিপূর্বে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের সেই জবাবটি ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি— একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরণের সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন কারিগরি দিক ও বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সাময়িক বিরতির ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত বন্ধ থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা যেকোনো সময় পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শান্তি স্থাপনের লক্ষে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তসমূহকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
শান্তি আলোচনার টেবিলে ইরান বেশ কিছু অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, চলমান সংঘাতের ফলে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি তারা বিশ্ব তেলের প্রধান বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বের আইনি স্বীকৃতি দাবি করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এসব দাবিকে ‘আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করে নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইরানের এই ধরণের অযৌক্তিক দাবি গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাময়িক শান্তি বজায় রাখার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে।
এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। গত কয়েক বছরের ইতিহাসে তেলের মূল্যের এই উল্লম্ফন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এরই মাঝে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা মূলত যারা অবৈধভাবে ইরান থেকে চীনে তেল রপ্তানিতে সহায়তা করছে তাঁদের ওপর কার্যকর হবে।
ইরান সরকার তাদের দাবিতে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সকল শর্তই আন্তর্জাতিক আইনে ন্যায্য এবং যেকোনো বিদেশী আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে যদি দ্রুত কোনো সম্মানজনক সমঝোতা না হয়, তবে তারা আবারও কঠোর সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটবে।
সরকার গঠন করে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জমি দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের নতুন সরকার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি বুঝিয়ে দেবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সোমবার (১১ মে) হাওড়ায় রাজ্য সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে শুভেন্দু এ ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। তাই প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। এনিয়ে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হল। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
এবারের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে ব্যাপক সরব ছিল বিজেপি। দলটির নেতৃত্ব ঘোষণা দেয়, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তাই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর লক্ষ্যে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ’কে জমি দেয়ার অনুমোদন দিল রাজ্যটির নতুন সরকার।
এর আগে একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তে বিএসএফকে জমি না দেয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত শনিবার (৯ মে) শপথগ্রহণের পর পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। আজকের বৈঠক ঘিরে রোববার থেকেই বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নবান্ন এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সবরকম নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিশান কোম্পানির গাড়িটি আনা হয়েছিল ঝাড়খন্ড থেকে। ঘাতকদের সন্ধানে এরইমধ্যে উত্তর প্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের একটি দল।