শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
২৬ পৌষ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


এবার মেক্সিকোতে হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর এবার মেক্সিকোর ভূখণ্ডে হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘পানিপথে আসা মাদকের ৯৭ শতাংশ আমরা বন্ধ করে দিয়েছি, এখন আমরা কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করব।’

ট্রাম্প দাবি করেন, ‘কার্টেলগুলোই মেক্সিকো চালাচ্ছে।’ তবে দেশটির ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে মাদকের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ক্যারিবীয় সাগরে বহু নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে মার্কিন প্রশাসন দাবি করলেও এখনো এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি তারা।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় হামলা করে মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। চীন, রাশিয়া এমনকি ইউরোপের কিছু দেশও এই অভিযোগ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বুক ফুলিয়ে বলেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না।

ট্রাম্পের স্থল হামলার হুমকির পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এমন কিছু হবে না।’ তিনি নিজ ভূখণ্ডে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মেক্সিকোর অধিকার জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয় মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন ট্রাম্প এককভাবে মেক্সিকোর ভূখণ্ডে হামলার ঘোষণা দিলেন।

সূত্র: গালফ নিউজ


যুক্তরাষ্ট্রে খালেদা জিয়ার নামে সড়ক

আপডেটেড ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক  

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রমিক শহরের ‘কারেপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ নামে পরিচত হবে। শহরটির সিটি কাউন্সিলে সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসনের সন্মানে এই নামকরণ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি মিডিয়া সেল।

মিডিয়া সেলের ফেসবুকে পেজে এই সংবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। হ্যামট্রমিক শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে তার নামেই পরিচিত হবে। শহর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

হ্যামট্রমিক সিটির জোসেফ ক্যাম্পাও এবং কোনাল্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশটি বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাবটি সম্প্রতি সিটি কাউন্সিল অনুমোদন দেয়। বর্তমানে এই কাউন্সিলে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের সক্রিয় প্রচেষ্টায় এই নামকরণ সম্ভব হয়েছে।

প্রবাসীদের মতে, এটি কেবল একটি সড়কের নতুন পরিচয় নয়, বরং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের এক আন্তর্জাতিক দলিল।

বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো নেতার নামে রাস্তার নামকরণ এবারই প্রথম নয়। এর আগে শিকাগো শহরে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল। এবার মিশিগানে খালেদা জিয়ার নামে সড়কটি যুক্ত হওয়ায় মার্কিন মুলুকে বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য রাজনৈতিক অধ্যায় স্থায়ী রূপ নিল।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের ইতিহাস ও দেশনেত্রীর অবদান সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এই অর্জনে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, এটি প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্ষমতারও একটি বড় প্রমাণ। হ্যামট্রমিক শহরটি তার বৈচিত্র্যময় জনপদের জন্য পরিচিত এবং সেখানে বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে সড়কের নামকরণ দুই দেশের মধ্যকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। পরেরদিন তাকে শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মরযাদায় সমাহিত করা হয়।


যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে নির্বাচন ও বাণিজ্য
আপডেটেড ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক 

নতুন বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেমিট্যান্স, ভিসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর দুই সিদ্ধান্ত অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের মতো বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পাঁচ দিনের সফরে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন গেছেন।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই সফরে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পূরক শুল্কের আলোচনায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তার পর্যালোচনার প্রসঙ্গ এই সফরের আলোচনায় আসবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে পৌঁছান।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, খসড়া সূচি অনুযায়ী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরও উপস্থিত থাকবেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের আজ শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিংবা মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যাঙ্গডাও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ওই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আগামী ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


পূর্ব জেরুজালেমে ৩ হাজার নতুন বসতি নির্মাণ করছে ইসরায়েল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশন’ জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি সরকার ইতিমধ্যে এই নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-ওয়ান’ এলাকায় এই বিশাল আবাসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

এই এলাকাটি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের ‘মারে আদুমিম’ শহরের সংযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে নতুন বসতি স্থাপিত হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অখণ্ডতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজিন্সিকে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র চাপের কারণে গত প্রায় তিন দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের এই ধরনের সম্প্রসারণ কার্যক্রম বন্ধ ছিল, কিন্তু চলমান গাজা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। ইসরায়েল এখন আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে তাদের দখলদারিত্বের সীমানা বাড়িয়ে নিচ্ছে। মুআয়াদ শাবানের মতে, এই বসতি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করা এবং ওই এলাকায় ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঠেকানো।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ গাজা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের সমন্বয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল এবং সেই থেকে শহরটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

বর্তমানে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল তাদের বসতি স্থাপনের কাজকে ব্যাপক ত্বরান্বিত করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ১০ হাজার ৯৮টি বাড়ি নির্মাণের টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল সরকার, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই নতুন নির্মাণ প্রকল্পের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতি কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলের ভূমি কর্তৃপক্ষ যে টেন্ডার আহ্বান করেছে, তা ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ডে অধিকার আরও সংকুচিত করে তুলবে।

বসতি স্থাপন কার্যক্রমের এই ব্যাপক উল্লম্ফন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক বেইজিং

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তবে এই ঘটনার পর ভেনিজুয়েলার সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং দেশটিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একটি নতুন বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে নিজের ‘প্রভাব বলয়’ সম্প্রসারণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরুজ্জীবিত উনবিংশ শতাব্দীর মনরো মতবাদের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধকে একচ্ছত্র মার্কিন প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে দেখতে চান। তার সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপের পরিবর্তে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পশ্চিম গোলার্ধ চায়, যা ‘বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থেকে মুক্ত’-যার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে চীনের দিকে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলাকে তেল উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্ত দিচ্ছে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

চীন মাদুরো অপহরণকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে ভেনিজুয়েলায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনায় লাতিন আমেরিকায় চীনের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিমোনা গ্রানো বলেন, এই ঘটনা চীনের কাছে একটি দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে। একদিকে লাতিন আমেরিকায় চীনের অবস্থান দুর্বল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাব বলয়’ যুক্তি পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে, চীনের অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে।

চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলেছে। যদিও নিকট ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম, তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা অভিযান ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ভেনিজুয়েলা ইস্যু চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেটিজেন তাইওয়ানের সঙ্গে ভেনিজুয়েলার তুলনা টেনে মন্তব্য করেছেন যে, শক্তিশালী রাষ্ট্র না হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনিজুয়েলায় মাদুরোর অপসারণ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে লাতিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ এখন আগের তুলনায় বেশি রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে। তবুও বেইজিং এই অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার বদলে ঝুঁকি কমানোর কৌশলই বেছে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


পুতিনের মিত্র রমজান কাদিরভকে মাদুরোর মতো অপহরণের আহ্বান জেলেনস্কির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চেচেন নেতা রমজান কাদিরভকেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো করে তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই আহ্বান জানান তিনি।

জেলেনেস্কি কৌতুক করে বলেন, মাদুরোর পর যদি চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের একই রকম ফল হয়, তাহলে তা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করবে।’

জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দেওয়া। তাদের হাতিয়ার আছে, তারা জানে কীভাবে করতে হয় ও সত্যিই যখন তারা চাইবে, তারা একটা উপায় খুঁজে পেতে পারে।

তিনি মাদুরো কাণ্ডকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এখানে মাদুরোর উদাহরণ আছে, তাই না? তারা (যুক্তরাষ্ট্র) একটি অভিযান করেছিল, পুরো বিশ্ব ফলটি দেখেছে। তারা দ্রুত এটি করেছে। এবার তারা ‘খুনি’ কাদিরভের বিরুদ্ধে অভিযান চালাক। হয়তো তখন পুতিন তা দেখবে ও ইউক্রেনে শান্তি স্থাপনের বিয়য়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাববে।

এদিকে, জেলেনস্কির এই মন্তব্যের জবাব দিতে দেরি করেননি কাদিরভ। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ভাঁড় লোকটা মার্কিন সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে যে তারা যেন আমাকে অপহরণ করে। খেয়াল করুন, তিনি নিজে এই হুমকি দেননি, যেমনটা একজন সুপুরুষ করে। জেলেনস্কি আসলে বলতে চাইছে যে এমন ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে, তাহলে তিনি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে মজা দেখবে।

পুতিনের কট্টোর সমর্থক রমজান কাদিরভ ২০০৭ সাল থেকে রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেরও অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার তিনি। কাদিরভ নিজেকে প্রায়ই ‘পুতিনের যোগ্য সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার শাসনামলে চেচনিয়া বিশ্বে এক বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দুই বার চেচনিয়াকে রুশ ফেডারেশন থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেছে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে মস্কো। তবে সহজেই যে তা করা গিয়েছিল, তা নয়।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন করতে রুশ ও চেচেন বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়, যাতে উভয় পক্ষের বহু যোদ্ধা হতাহত হয়েছিলেন এবং যুদ্ধে কাদিরভ রুশ বাহিনীর পক্ষে ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্ররা বহু বছর ধরে কাদিরভ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে, জেলেনস্কির এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনার শীর্ষে। বিশেষ করে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিতর্কিত’ সামরিক অভিযান ও রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে অস্বীকৃতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


 ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক-২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেটেড ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০-২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক-২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের শিল্প সক্ষমতা তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্কের জাভিতস কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনটি বিশ্বের একটি প্রভাবশালী ও বৃহৎ টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃত। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটিতে কৌশলগত নেতৃত্ব দিচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), যা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচারে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।

ইপিবির ব্যানারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে এম অ্যান্ড এ কম্পোজিট লিমিটেড, গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটারস, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস এবং ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন।

সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এই দলের বাইরে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস স্বতন্ত্র প্রদর্শক হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ড এন ওয়াই সি যৌথভাবে আয়োজিত এই ইভেন্ট একই ছাদের নিচে জড়ো করছে শত শত আন্তর্জাতিক ফেব্রিক্স সরবরাহকারী, অ্যাপারেল উৎপাদক কারখানা। এখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাজুয়াল কটন ও নিট থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, লেস এবং আধুনিক টেকসই উপকরণসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন করবে।

বাংলাদেশের উদীয়মান টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্প, যা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তার শক্তি ও চাহিদার জন্য বিশ্বময় জনপ্রিয়। টেক্সওয়ার্ল্ড ইউ এস এ সৃজনশীল ও নতুনত্ব, টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ড তৈরি ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় একটি উপর্যুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত।


রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাওয়া করার পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় মস্কো–ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জব্দ হওয়া পুরোনো ও জীর্ণ জাহাজটির আগের নাম ছিল ‘বেলা ওয়ান’। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। অভিযোগ ছিল, এটি ইরানের অবৈধ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ।

গত মাসে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহের উদ্দেশে যাত্রার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড প্রথমবার জাহাজটি আটকানোর চেষ্টা করে। তখন এটি গায়ানার পতাকাবাহী হিসেবে চলাচল করছিল। তবে জাহাজের ক্রুরা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে জাহাজে উঠতে দেয়নি এবং হঠাৎ করে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে দিক পরিবর্তন করে।

পরবর্তীতে জাহাজটির গায়ে রাশিয়ার পতাকা আঁকা হয় এবং রাশিয়ার শিপিং রেজিস্টারে নতুন নাম ‘মারিনেরা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কীভাবে জব্দ হলো জাহাজটি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে জানা যায়, অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও বিমানগুলো পুনর্বিন্যাস করে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে ভি-২২ অস্ট্রে বিমানগুলোকে প্রশিক্ষণ মিশনে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি রোববার মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছায় দুটি এসি-১৩০ গানশিপ।

জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক জানায়, আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ১৯০ মাইল দূরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বুধবার জাহাজটি জব্দ করা হয়। ওই সময় জাহাজটি হঠাৎ দক্ষিণ দিকে মোড় নেয়।

রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জাহাজে ওঠার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী নেভি সিল সদস্যরা অংশ নেন। ‘নাইট স্টকারস’ নামে পরিচিত সেনাবাহিনীর ১৬০তম বিশেষ বিমান রেজিমেন্টের হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তারা অভিযানে সহায়তা দিয়েছে।

কী বলছে রাশিয়া

জাহাজ জব্দের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী অন্য দেশের বৈধভাবে নিবন্ধিত জাহাজের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। এখানে উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে সই করেনি।

জাহাজে থাকা রুশ নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রুশ আইনপ্রণেতা লিওনিদ স্লুতস্কি এই ঘটনাকে ‘একবিংশ শতাব্দীর জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এই ঘটনায় রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা নেই। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইতিবাচক।

এদিকে চীনও এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।

আরও জাহাজ জব্দের ইঙ্গিত

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর মাধ্যমে অবৈধভাবে তেল পরিবহন রোধ করাই তাদের লক্ষ্য।////

তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে অন্তত ১৬টি জাহাজে তেল বা জ্বালানি তোলা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো জাহাজ এআইএস ট্রান্সমিটার বন্ধ করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জব্দ অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাশিয়ার তেল কিনলেই ৫০০% শুল্ক

রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ '৫০০ শতাংশ শুল্ক' আরোপের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন এবং ভারত-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আইএসএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এসব পদক্ষেপের কারণে জ্বালানি ইস্যুতে ভারত দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের যোগদানের আগে আগে এই সিদ্ধান্ত নিলো যুক্তরাষ্ট্র।

গত সেপ্টেম্বরে এই কূটনীতিক বলেছিলেন, ভারতের রুশ তেল আমদানি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করাই হবে তার 'শীর্ষ অগ্রাধিকার'। দ্য হিন্দু বলছে, আগামী ১২ জানুয়ারি দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত এবং 'দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত' হিসেবে দায়িত্ব শুরু করবেন সার্জিও গোর।

এদিকে প্যারিসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসলোভ সিকোরস্কি রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমে আসায় 'সন্তোষ' প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, 'ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভারতসহ কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি রাশিয়া থেকে ভারতে তেল আমদানি কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করছি, কেননা এর ফলে (রুশ প্রেসিডেন্ট) পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে অর্থের জোগান বন্ধ হচ্ছে।' সেসময় সেখানে উপস্থিত জয়শঙ্কর এই মন্তব্যের কোনো বিরোধিতা করেননি।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট গতকাল বুধবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে 'সবুজ সংকেত' দিয়েছেন, যা নিয়ে 'আগামী সপ্তাহের শুরুতেই' কংগ্রেসে ভোট হতে পারে।

তিনি বলেন, 'এই বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধে অনুপ্রাণিত হয়—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে।'

রাশিয়া ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনটি (রাশিয়া স্যাংশনস অ্যাক্ট) একটি দ্বি-দলীয় বিল, যা গত এপ্রিল মাসে সিনেটে উত্থাপন করা হয়। এখন পর্যন্ত সিনেটের মোট ১০০ সদস্যের মধ্যে ৮৪ জন এবং প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ১৫১ জন এটি অনুমোদন করেছেন। এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভোটে তোলা হলে বিলটি সহজেই পাস হয়ে যাবে।


জাতিসংঘের ৩১টিসহ ৬৬ সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে জলবায়ু, শ্রম, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বহু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এসব সংস্থাকে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, যেগুলোকে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যয় কমানোর এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব সংস্থা ও জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিল।

জার্মানীর একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেক সংস্থাই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও প্যানেল- যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণে কাজ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার তহবিল কমিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তা বড় পরিসরে কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করা বেশ কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে- যখন ট্রাম্প দেশের ভেতরে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রতারণা’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ‘স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্ত্ররাষ্ট্র।

যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্যানেল (আইপিসিসি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইরেনা), আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরাম, ইউএন উইমেন, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন ওয়াটার এবং ইউএন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ু, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে।


এবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব। এ জন্য দেশ দুইটি আলোচনা করছে বলে পাকিস্তানের দুইটি সূত্র জানিয়েছে। গত বছর উভয় দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের কয়েক মাস পর এই আলোচনা শুরু হওয়ায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। তবে সৌদি আরব পকিস্তানকে যে ঋণ দিয়েছে তার আওতায় এ চুক্তি হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান যখন তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে, তখন সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে দুই মিত্র দেশ।

গত সেপ্টেম্বরে সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, আলোচনার মূল বিষয় হলো পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে উন্নত এবং পাকিস্তানে নির্মিত জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ। অন্য সূত্রটি জানায়, জেএফ–১৭ই প্রধান বিকল্প হলেও আরও কিছু সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রথম সূত্রের দাবি, পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার হবে ঋণ রূপান্তর, আর বাকি অর্থ যাবে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম কেনায়। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এ সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করেন। সেখানে তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল তুর্কি বিন বান্দার বিন আবদুলআজিজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদ বলেন, জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হওয়ায় এর বাজারযোগ্যতা বেড়েছে এবং এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচের। পাকিস্তান দাবি করেছে, গত বছর মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই ছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে, আর সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও বাকিতে তেল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সম্প্রতি পাকিস্তান অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে প্রতিরক্ষা কূটনীতি জোরদার করেছে। গত মাসে দেশটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করে, যেখানে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও জেএফ–১৭ বিক্রি নিয়ে আলোচনা চলছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি বলেন, দেশটির অস্ত্র শিল্পের সাফল্য অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। বর্তমানে পাকিস্তান ৭০০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সমালোচনার মুখে ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে তার প্রতিষ্ঠান এক্সএআই। এসব ছবির বেশিরভাগই নারীদের, যাদের অনেকেই বাস্তব মানুষ। ব্যবহারকারীরা গ্রোককে নির্দেশ দিচ্ছে ওই ব্যক্তিদের ছবি থেকে ‘ডিজিটালি পোশাক খুলে দিতে’ কিংবা আপত্তিকর ভঙ্গিতে উপস্থাপন করতে।

গত সপ্তাহে একাধিক ঘটনায় এমন ছবিও দেখা গেছে, যেগুলো নাবালকদের বলে মনে করা হচ্ছে। এতে করে অনেকে এসব ছবিকে শিশু পর্নোগ্রাফি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্মিলিত ব্যবহারের ঝুঁকি সামনে এনেছে—বিশেষ করে যখন পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেইল’ না থাকে। এসব কনটেন্ট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং নারী ও শিশুদেরসহ অনেককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ইলন মাস্ক ও এক্সএআই দাবি করেছে, তারা এক্স প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্ট, বিশেষ করে শিশু যৌন নির্যাতন–সংক্রান্ত উপাদান অপসারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মধ্যে কনটেন্ট সরানো, অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তবে এরপরও গ্রোকের জবাবে নারীদের যৌনভাবে উপস্থাপন করা ছবির বন্যা থামেনি।

প্রকাশ্যে ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ‘ওক’ এআই মডেল ও সেন্সরশিপের বিরোধিতা করে আসছেন। সিএনএনকে এক্সএআই–এর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, গ্রোকের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরুদ্ধেও অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি জানিয়েছেন মাস্ক।

গ্রোক শুরু থেকেই অন্যান্য মূলধারার এআই মডেলের তুলনায় ব্যতিক্রম ছিল, কারণ এতে যৌনভাবে স্পষ্ট কনটেন্ট অনুমোদিত—কিছু ক্ষেত্রে উৎসাহিতও করা হয়েছে। পাশাপাশি গুগলের জেমিনি বা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপরীতে গ্রোক সরাসরি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এর সঙ্গে যুক্ত।

ব্যবহারকারীরা গ্রোকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথোপকথন করতে পারলেও, প্রকাশ্য পোস্টে গ্রোককে ট্যাগ করেও অনুরোধ জানাতে পারেন, যার জবাব গ্রোক প্রকাশ্যেই দেয়।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে ‘ডিজিটালভাবে পোশাক খুলে দেওয়ার’ প্রবণতা ব্যাপক আকার নেয়। তখন অনেক ব্যবহারকারী আবিষ্কার করেন যে এক্স–এর কোনো পোস্ট বা থ্রেডের ছবি এডিট করার অনুরোধ করে গ্রোককে ট্যাগ করা যায়। শুরুতে অনেকে গ্রোককে ছবি থাকা ব্যক্তিদের বিকিনি পরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ইলন মাস্ক নিজেও নিজের এবং তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিল গেটসের বিকিনি পরা ছবি পুনরায় পোস্ট করেন।

এআই শনাক্তকরণ ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান কপিলিকসের গবেষকরা জানান, এই প্রবণতার সূচনা হতে পারে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের মাধ্যমে, যারা নিজেদের যৌনভাবে উপস্থাপিত ছবি তৈরি করে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছিলেন। তবে খুব দ্রুতই ব্যবহারকারীরা এমন নারীদের ছবি নিয়েও একই ধরনের অনুরোধ জানাতে শুরু করেন, যারা কখনোই এ ধরনের ব্যবহারে সম্মতি দেননি।


৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বৈপ্লবিক নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে একাধিক জাতিসংঘ সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানান। ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘ পর্যালোচনায় এই সংস্থাগুলোকে অকার্যকর, অপচয়কারী এবং মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাহী আদেশ ১৪১৯৯-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই সংস্থাগুলো বর্তমানে নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে নির্দিষ্ট মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং প্রগতিশীল মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান যে, মার্কিন জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ আর এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা হবে না যা থেকে আমেরিকার কোনো দৃশ্যমান অর্জন নেই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশের স্বার্থে ব্যয় করার দিন এখন শেষ। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এক সময় শান্তি ও সহযোগিতার লক্ষ্যে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বর্তমানে এক বিশাল ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ বা বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সীমিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গোঁড়ামি এবং জেন্ডার ইক্যুইটি বা লিঙ্গ সমতার মতো বিষয়গুলোকে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়াকে এই সংস্থাগুলো থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নাম প্রত্যাহার করা ৬৬টি সংস্থার মধ্যে ৩১টি সরাসরি জাতিসংঘের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং বাকি ৩৫টি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC), জাতিসংঘ ডেমোক্র্যাসি ফান্ড এবং জাতিসংঘ পপুলেশন ফান্ড। অন্যদিকে জাতিসংঘ বহির্ভূত সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্স, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC), এবং কলম্বো প্ল্যান কাউন্সিল। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেসব সংস্থা মার্কিন স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক বা অপ্রাসঙ্গিক সেখানে কোনো ধরণের কূটনৈতিক পুঁজি বা সম্পদ নষ্ট করা হবে না। তবে যেসব ক্ষেত্রে জনগণের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা হবে, সেখানে সীমিত পরিসরে সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে আরও বেশ কিছু সংস্থার কার্যক্রম নিবিড় পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে বলে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।


বাংলাদেশে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের কাছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের আলোচনা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাফল্যকে কাজে লাগাতে চায় ইসলামাবাদ। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সংঘাত ছিল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই।

পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার সংগ্রহ করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।

যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার এই আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মাঝে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানের আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‌‌এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

শেখ হাসিনার ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাঝে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র তৈরি কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। এই বিমান আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তিরও অংশ।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে দেশের অস্ত্র শিল্পের সাফল্য। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‌‌আমাদের বিমান পরীক্ষিত, আর আমরা এত অর্ডার পাচ্ছি যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজনই হবে না।


banner close