পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ইতালির রাজধানী রোমে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে নৃশংসতার কালো ছায়া। অজ্ঞাতপরিচয় এক দুর্বৃত্তের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিগ্লো এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পরিবারের প্রধান কামাল হোসেনের (৪৫) পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার আদি নিবাস বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি দীর্ঘকাল ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন। হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন কামাল হোসেনের স্ত্রী এবং তাদের মাত্র ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা।
এই নৃশংস ঘটনায় কামালের ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই ঘাতক অস্ত্র নিয়ে কামালের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। এ সময় বড় ছেলে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেটি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে করতে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এলে প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়েই ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী ‘কারাবিনিয়েরি’ এবং অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সেখান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলেটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এদিকে, এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো পিনেতা সাচেত্তি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘাতককে শনাক্ত করতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে রোম পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে—তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং লোমহর্ষক একটি অপরাধ। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তবে তদন্তে অগ্রগতি হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে নতুন করে আবারও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন কম্পন জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আল জাজিরার শনিবারের (২৭ জুন) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে সর্বশেষ এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।
গত বুধবার আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যা বর্তমানে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই দুর্যোগে রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সেই বিভীষিকা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার মাটি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইএমএসসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, নতুন এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বশেষ এই কম্পনে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে, শুক্রবারও কারাকাস ও মারাকাই শহরের বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানে। উদ্ধারকাজ চলার সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর মতে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১৭২ জন আটকা পড়ে আছেন এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা রাজ্যের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনসাধারণের যাতায়াত সীমিত করা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের তীব্র উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গৃহীত বিশেষ সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) এখন গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক আঞ্চলিক সংঘাত কমিয়ে এনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার শুক্রবারের (২৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভূরাজনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা অধ্যয়নের বিশিষ্ট প্রভাষক রব গেইস্ট পিনফোল্ড আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক সমঝোতাটি বর্তমানে ‘গুরুতরভাবে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে’ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ গেইস্ট পিনফোল্ড জানান, এই সমঝোতাটি মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ বা সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এর পেছনে দুটি প্রধান এবং জরুরি লক্ষ্য ছিল; যার প্রথমটি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশের বাড়তে থাকা সহিংসতা ও সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং দ্বিতীয়টি হলো লেবাননের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। এর পাশাপাশি এই সমঝোতার হাত ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের পক্ষ থেকে নানা সহযোগিতার মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে বড় আকারে আলোচনার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যও ছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক অবনতির কথা উল্লেখ করে গেইস্ট পিনফোল্ড হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দুঃখজনকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবার আগের জটিল অবস্থায় ফিরে গেছে। একদিকে লেবাননের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কোনো স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের সামরিক উত্তেজনাও সমানে অব্যাহত রয়েছে।
তিনি যোগ করেন বলেন, আন্তর্জাতিক মহল আশা করেছিল যুদ্ধ ও শান্তির মাঝামাঝি থাকা এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে দুই দেশ হয়তো একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে এগোতে পারবে।
কিন্তু বাস্তবে আবারও সেই পুরোনো অস্থিতিশীল জায়গায় ফিরে যেতে হচ্ছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই আঞ্চলিক উত্তেজনা যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান সমঝোতাটি কার্যকর রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না এবং শেষ পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট সর্বোচ্চ বহুতল ভবন সিটিক টাওয়ার বা ‘চায়না জুন’-এ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে একটি ছোট হালকা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আকস্মিক ও ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার জেরে পুরো বেইজিং শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর শুক্রবারের (২৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দুর্ঘটনার তথ্য ও প্রাথমিক চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা যায়, ১০৯ তলা বিশিষ্ট বিশাল ভবনটির ওপরের অংশে বিমানটি আঘাত হানার পর সেখান থেকে ভেঙে যাওয়া ভবনের নানাবিধ ধ্বংসাবশেষ নিচের রাস্তায় আছড়ে পড়ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণী অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের কাছে বিমানের লেজের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ এবং ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্যাক্সিক্যাবও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সিটিক টাওয়ার ভবনটি দ্রুত ও সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়। ভবনটির চারপাশে এবং পুরো এলাকায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিপুলসংখ্যক ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পুলিশ ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।
তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো হতাহত বা সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাপ্তরিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বেইজিং পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো কেবল জানিয়েছে যে, তারা পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় কবলিত উড়োজাহাজটি চীনে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ-৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। এটি মূলত বেইজিংয়ের একটি স্থানীয় জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানাধীন, যারা সাধারণত শিক্ষানবিসদের পাইলট প্রশিক্ষণ, বিনোদনমূলক উড্ডয়ন এবং আকাশ থেকে ড্রোনের মতো চিত্র ধারণের সেবা দিয়ে থাকে।
এদিকে অনলাইনে প্রকাশিত প্রাথমিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানটি তার পূর্বনির্ধারিত স্বাভাবিক উড্ডয়নপথ থেকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল।
উল্লেখ্য, বেইজিংয়ের আকাশসীমার নিরাপত্তা বজায় রাখতে গত ১ মে থেকে সেখানে সরকারি বিশেষ অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের ড্রোন ও ছোট উড়োজাহাজ পরিচালনার ওপর দেশটির সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে অন্তত ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২ হাজার ৯৮০ জন মানুষ।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভূমিকম্পের পর থেকে ধসে পড়া শত শত বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার বিশেষ সময়সীমা বা ‘গোল্ডেন উইন্ডো’র মধ্যে অলৌকিকভাবে হলেও জীবিতদের খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বড় বড় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগোবে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, বিপন্ন মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং নিখোঁজদের উদ্ধার করতে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নেয়নি।
এ সময় তিনি বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মুহূর্তে জরুরি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিদেশি দক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলোর দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন এবং তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যৌথ উদ্ধার অভিযানে ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ভিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাপক আকারে জোরদার করা হয়েছে।
পাশাপাশি দুর্গত ও গৃহহীন হাজার হাজার মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের বিশাল জরুরি মজুতকেন্দ্র স্থাপন করেছে দেশটির সরকার।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পরিচালিত সর্বশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ সমাপ্তির এক বছরেরও বেশি সময় পর সেই যুদ্ধে প্রাণ হারানো ভারতীয় সেনাদের তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘আর্মি ওয়্যার মেমোরিয়াল’-এর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মোট ৬ জন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন— সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুদমুরলি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার। এই শহীদ বীরদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের নাম এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত করা হলো।
এই সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী। গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ কঠোর কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিপরীতে পাকিস্তানও ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
তীব্র উত্তেজনার একপর্যায়ে গত ১০ মে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সংক্ষিপ্ত ও ঝটিকা অভিযান চালায় ভারত। নয়াদিল্লির দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে পাকিস্তানের ৭০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা ৩১ জন বলে দাবি করা হয় এবং তাঁরা সন্ত্রাসী ছিল না বলেও প্রচার করা হয়। দীর্ঘ গোপনীয়তা রক্ষার পর অবশেষে এই অভিযানে প্রাণ হারানো নিজস্ব সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করল ভারত সরকার।
ডেনমার্কে মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান বা ইসলামিক ‘কল টু প্রেয়ার’ প্রচার নিষিদ্ধ করার একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বডসকভ। ডেনমার্কের কিছু এলাকার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ইসলামাবাদের কোনো শহরতলী’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান। দেশটির বর্তমান কেন্দ্র-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস পার্টির এই প্রভাবশালী নেতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নতুন সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনি বৈধতা পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্ত শুরু করবে। বার্তা সংস্থা ‘রিটজৌ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বডসকভ সাফ জানিয়ে দেন, ‘ডেনমার্কের ছাদগুলোর ওপর দিয়ে আজানের সুর ভেসে আসা উচিত নয়। ডেনমার্কে এর কোনো স্থান নেই। ডেনমার্কের রাস্তায় হাঁটার সময় কারো মনে এমন সন্দেহের উদ্রেক হওয়া উচিত নয় যে তিনি ইসলামাবাদের কোনো শহরতলীতে চলে এসেছেন।’
ইতোমধ্যেই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনসহ বেশ কিছু বড় শহরে কঠোর শব্দদূষণ নীতি কার্যকর থাকায় মিনারের লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার ওপর স্থানীয় আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে মন্ত্রী বডসকভের দাবি, ডেনমার্কে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ‘ইসলামীকরণ’ সাধারণ মানুষের উন্মুক্ত স্থানগুলোকে সংকুচিত করে ফেলছে। উল্লেখ্য যে, ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার জন্য আইনি কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কোনো অভিবাসন মন্ত্রীর এটি তৃতীয় দফার প্রচেষ্টা; এর আগে ২০২০ এবং ২০২৫ সালেও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল যা ফলপ্রসূ হয়নি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসন নীতি বজায় রাখা হয়েছে। দেশটির বিতর্কিত ‘ঘেটো’ আইনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার ওপর চলে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের অন্য এলাকায় সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ব্যয় মেটাতে তাঁদের ব্যক্তিগত অলঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী জমা রাখার মতো কঠোর নিয়মও দেশটিতে প্রচলিত রয়েছে। তবে আজান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার এই প্রচেষ্টা বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেনমার্কের সংবিধানে জনসমক্ষে ধর্মীয় উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করা থাকলেও গণতন্ত্রবিরোধী প্রচারণা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমী নিয়ম রয়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন জার্মানি এবং ব্রিটেনে আজান প্রচারের ক্ষেত্রে শব্দ ও সময়ের ওপর সুনির্দিষ্ট কঠোর নিয়ম রয়েছে যাতে প্রতিবেশীদের অসুবিধা না হয়। বর্তমানে ডেনমার্কের প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ২ লক্ষ ৭০ হাজার মুসলিম নাগরিক বসবাস করছেন এবং দেশটিতে প্রায় ১০০টি মসজিদ রয়েছে। গত মার্চ মাসে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে কিনে নেওয়ার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে জাতীয় ম্যান্ডেট শক্তিশালী করতে আগাম নির্বাচন ডেকেছিলেন ফ্রেডেরিকসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর বর্তমানে তিনি একটি চারদলীয় জোট সরকার পরিচালনা করছেন যা রাজনৈতিক মহলে ‘ফোর-লিফ ক্লোভার’ জোট নামে পরিচিত।
প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান—এই তিন দেশের ওপর কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি নাগরিকদের এই দেশগুলোতে ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং এই তিন দেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভিসা প্রদানসহ সৌদিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি আসা যাত্রীদের জন্য নয়; বরং যারা সৌদি আরবে প্রবেশের ২১ দিন আগে এই তিনটি দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে আসতে চাইলে তাঁদের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়েকায়া’ জানিয়েছে, সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তারা এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে আগত যাত্রীদের জন্যও বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের সকল প্রবেশপথে এই দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। ওয়েকায়া আশ্বস্ত করেছে যে, এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহামারি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে এই সুপারিশমালা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হতে পারে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বিদ্যমান অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের আরও ৬টি দেশের নাগরিকরা এখন থেকে দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে ভিসার সুবিধা পাবেন। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন দেশগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ‘গালফ নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ছয়টি দেশের পর্যটক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দুই ধরনের মেয়াদী অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী ১৪ দিন অথবা ৬০ দিনের যেকোনো একটি ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফি’র বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ১৪ দিনের ভিসার জন্য ১০০ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৩৪১ টাকা) এবং ৬০ দিনের ভিসার জন্য ২৫০ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ৩৫১ টাকা) পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে পর্যন্ত বিশ্বের মোট ৩৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য আমিরাতে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ বিদ্যমান ছিল। এই তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন নতুন করে এশিয়া ও আফ্রিকার আরও ছয়টি দেশ যুক্ত হওয়ায় এই বিশেষ সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১টিতে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ছয় দেশের দর্শনার্থীরা যাতে “আমিরাতের সংস্কৃতি, বিশ্বমানের পর্যটন, গতিশীল অর্থনীতি, আকর্ষনীয় বাণিজ্য পরিবেশ এবং বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন— সেজন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।” আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতেই আমিরাত সরকার এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে আটকা পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ‘ইউএসজিএস’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭.২ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই ৭.৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠের অগভীরে এই কম্পনগুলো উৎপন্ন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। একটি জাতীয় ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাসগৃহে অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে ত্রুজিলো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো এবং মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মুখে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন যে, রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুইরা শহরের অন্তত ২৫০টি ভবন ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা মানুষের আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও বিভীষিকাময় করে তুলেছে। রাজধানীর প্রধান মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে এর সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে, মূল ভূকম্পনের পর অন্তত ৩০টি ‘আফটারশক’ অনুভূত হয়েছে।
ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দুর্যোগে "১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ"। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯০০ সালের পর এটিই ভেনেজুয়েলায় অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং ১৯৬৭ সালের পর রাজধানী কারাকাসের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং প্লেট দুটির অভ্যন্তরীণ চাপ হঠাৎ মুক্ত হওয়ার ফলেই এই মহাবিপর্যয় ঘটেছে।
এই সংকটকালীন সময়ে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কাতার, মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও এল সালভাদর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা ও অনুসন্ধান কাজের জন্য সামরিক পরিবহন বিমান ও জাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলসহ জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক ত্রাণ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ১৬৪ জনের নিহতের খবর মিলেছে। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে, বহু মানুষ আটকা পড়েছেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে। বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ভবন খালি করা হয়। এমনকি প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চল পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়।
গত বুধবার (২৪ জুন) গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভূমিকম্পে প্রধান বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’ পাশাপাশি কয়েক দিনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রথমে জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ বলা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন এলাকার পশ্চিমে, কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
ইউএসজিএস জানায়, এর মাত্র এক মিনিট পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরন থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে গত বুধবারের ভূমিকম্প অন্যতম। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু সময় পর ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে।
এ সময় রাজধানী কারাকাসে দুলতে থাকা ভবনগুলো থেকে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। কোথাও কোথাও ভবন ও পুরো দেওয়াল ধসে পড়ায় রাস্তা থেকেই ভবনের ভেতরের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছিল। রাজধানীর দুই এলাকায় ধুলার কুণ্ডলীও দেখা যায়। এসব এলাকায় সাধারণত রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় মানুষের ভিড়ও কিছুটা বেশি ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাসামগ্রী এবং মানবিক সহায়তা পাঠাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈদেশিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লিউইন।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন ভেনিজুয়েলা সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এমন একটি দুর্যোগ সহায়তা দল রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।’
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানিয়েছেন, তার দেশ ৫০ টন সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি ৩০০ উদ্ধারকর্মীও প্রস্তুত রয়েছেন, যারা ‘কারাকাসের উদ্দেশে রওনা হতে প্রস্তুত’। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া আজিনও জানিয়েছেন, তার দেশ ভেনিজুয়েলায় তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।
এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, ‘ভেনিজুয়েলাকে সহায়তা করতে তার দেশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হবে।’ তিনি ভেনিজুয়েলাকে ব্রাজিলের ‘বন্ধুপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রবার্তো ভেলাস্কো আলভারেজও ভেনিজুয়েলাকে ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংহতি ও সহায়তা’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সেখানকার কাতিয়া লা মার শহর বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার বহু ঘরবাড়ি ও উঁচু ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শহরটি।
এর মধ্যে অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তাদের সারারাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন আত্মীয়-স্বজনরা। আটকে পড়াদের অনেকে জীবিত থাকলেও তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।
ল্যারি রোজাস নামে ৪৯ বছর বয়সি এক নারী বলেছেন, ‘আমাদের আর কিছুই নেই। একটু শক্তিও নেই ধসে পড়া ভবনের কাছে যাওয়ার।’ তিনি তার ধসে পড়া বাড়ির সামনে বসে আছেন। এর ভেতর তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন আটকা পড়ে আছেন।
আরেক নারীর এক মেয়ে ১২ তলা উঁচু একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছে। কিন্তু ভূমিকম্পের পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার মেয়েকে কেউ উদ্ধার করতে আসেনি। তিনি বলেছেন, ‘ধসে পড়া ভবনের নিচে জীবিত মানুষ আছেন। কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ আসছেন না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিন বিচারক মামলা দায়ের করেছেন। গত বছর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তারা ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কানাডার বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট, উগান্ডার সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি অ্যালাপিনি গানসু গত বুধবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, বিচারবহির্ভূত চাপ প্রয়োগের জন্য তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো তাদের শাস্তি দেওয়া এবং নতি স্বীকারে বাধ্য করা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তের জন্য গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বেশ কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের থাকা তাদের সব সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে লেনদেনও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১২৫টি সদস্য দেশে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সুপারিশ করলে সে ক্ষেত্রেও আদালত বিচার করতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইসরায়েলের মতো কিছু দেশ আইসিসিরি কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।
বিচারকরা অভিযোগ করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আইনের পরিপন্থি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের লঙ্ঘন। কোনো ধরনের প্রকৃত জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অস্বাভাবিক হুমকির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে তাদেরসহ আইসিসির অন্য বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিচারকরা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে বিচারকরা এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংকিংসেবা গ্রহণ, আমাজন ও গুগলের মতো সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ভ্রমণের টিকিট বুকিং এবং এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমাও পাচ্ছেন না।’
বিচারকরা আরও বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের কাছে বিচারাধীন বা ভবিষ্যতের কোনো মামলায় তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ব্রিটেনে পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর বয়সি দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম তারেক মিয়া। তিনি ১২ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ ও ৯ বছর বয়সি আরেক শিশুকে অনলাইনে গ্রুমিং করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, তারেক এখনো মেয়েশিশুদের জন্য ‘অত্যন্ত উচ্চঝুঁকি’ তৈরি করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, তারেক মিয়া তিন বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়েস্ট সাসেক্সের ওয়ার্থিংয়ে বাস করতেন। ২০২৩ সালের আগস্টে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মাধ্যমে ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। মেয়েটি নিজের বয়স জানালেও তারেক বারবার তাকে চাপ দিয়ে দেখা করতে রাজি করান। তারেকের বয়স সে সময় ১৭ বছর ছিল।
প্রসিকিউশনের আইনজীবী স্টিভেন মলয় জানান, প্রথম দেখাতেই তারেক গাড়িতে করে মেয়েটিকে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে নির্যাতন করেন। বাড়িটির ভেতরে, গাড়ির পেছনে ও অন্যান্য স্থানে মেয়েটিকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই সময়ে তারেক কোনো সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে মেয়েটির কোনো যৌন অভিজ্ঞতা ছিল না। ঘটনার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আদালতে ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ওই ঘটনা মনে পড়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। ছয় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে হয়েছে। দরজায় মাথা ঠেকিয়ে মেঝেতে শুয়েছি। আমি এখনো সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এটা আমার শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে।’
মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ের মানসিক ক্ষতি হয়েছে। সে এখন ভুল জিনিস দেখে ও শোনে। আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে গেছে।’ প্রবেশন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেকের সাংস্কৃতিক পটভূমি মেয়েশিশুদের প্রতি তার মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২৪ সালের মে মাসে তারেক দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন—যার বয়স ছিল তখন মাত্র ৯ বছর। তারেক ওই শিশুকে নিজের হস্তমৈথুনের ভিডিও পাঠান এবং ওই শিশুকেও যৌনকাজের ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার পর মেয়েটি খুব ‘উদ্বিগ্ন’ বোধ করতে শুরু করে।
দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি নাচের ক্লাস ছেড়ে দিয়েছি। স্কুলে মন বসে না। মায়ের কাছে থাকতে চাই। তিনি আমার ইমোশনাল পার্টনার।’ তার মা বলেন, ‘ঘটনার পর খুব ছোট বয়সেই আমাদের মেয়েকে যৌনতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।’
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক ঘটনাগুলোকে ‘সিলি মিসটেক’ ও ‘বয়সের দোষ’ বলে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জামিনে থাকার সময়ও তিনি অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তার ডিভাইসে শিশু পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত উপাদানও পাওয়া গেছে।