পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৪ জন। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই বিপর্যয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। বন্যায় ভেসে যাওয়ায় অনেক মৃতদেহ কয়েকশ কিলোমিটার ভাটি থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। নেপালে নিখোঁজ ২ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী এবং ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৮৫ জন নিরাপত্তাকর্মীরও সন্ধান মিলছে না, যার মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ জন সদস্য রয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিব্বত অংশে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয় এবং ১৮ জন মার্কিন নাগরিক। বেইজিং কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা অবহিত করেছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গত জেলাগুলোতে সরকার নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে। মরদেহগুলো শনাক্ত করা কর্তৃপক্ষের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের কৌশলগত জ্বালানি মজুত ‘রেড অ্যালার্ট’ পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং বর্তমান হারে মজুত থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ফুরিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির মতবিরোধও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতি ও তীব্র জ্বালানিসংকট মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত এই কৌশলগত মজুত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রুত ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি বিশেষজ্ঞদের একাংশ এভাবে মজুত খালি করে ফেলার পরিণতি নিয়ে সতর্ক করলেও পেট্রলপাম্প সচল রাখা ও জনমনে উদ্বেগ কমাতে সরকার মজুত থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চাইছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান হারে জ্বালানি উত্তোলন চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অবশিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হলে বা আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ইরানে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পেট্রল উৎপাদিত হলেও চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি লিটার। ইরানের এনার্জি অপটিমাইজেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান আলী আকবর সাঘাব এসফাহানিও ১৫ আগস্ট দৈনিক ১ কোটি ৪০ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার ঘাটতির কথা জানান।
এর আগে আমদানির মাধ্যমে ঘাটতির প্রায় অর্ধেক পূরণ করা হতো, যার বড় অংশ আসত রাশিয়া থেকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ, রাশিয়ার তেল শোধনাগার অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা ও কাস্পিয়ান সাগরের সরবরাহপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরানের জ্বালানি আমদানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংকট ইতোমধ্যে রাজধানী তেহরানেও পৌঁছেছে। জ্বালানি না থাকায় কিছু পেট্রলপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে এবং আশপাশের প্রদেশ থেকে জ্বালানি এনে কয়েকটি স্টেশন পুনরায় চালু করা হয়েছে। তেহরানসহ আলবোরজ, দক্ষিণ খোরাসান ও রাজাভি খোরাসান প্রদেশে দীর্ঘ সারি এবং পেট্রোলপাম্প বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিনটি বিকল্প বিবেচনা করছে—দেশীয় উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ সীমিত করা, ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির কোটা কমিয়ে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে তা বাজারদরে বিক্রি করা অথবা যানবাহনের পরিবর্তে ব্যক্তির নামে জ্বালানি কোটা বরাদ্দ করা।
তবে পেট্রোলের দাম বাড়ালে নতুন করে গণবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে আকস্মিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ার পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে আপাতত কৌশলগত মজুত ব্যবহার করে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু সেই জরুরি মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসায় ইরানের জ্বালানিসংকট নতুন ও আরও গভীর পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ বিপর্যয় ও আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন অভিযোগ করেছেন সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি।
সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে আটবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ, অপহরণ, গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান ওলাবি।
এদিকে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। দেশটিতে এখনো ৫৫ লাখের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এর মধ্যে ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ১,২০০টিরও বেশি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থলমাইন ও বিস্ফোরকের আঘাতে হতাহত ২,৪০০ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৮৬৫ জন নিহত হয়েছেন।
ওলাবি জানান, উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সিরিয়া আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে ইসরায়েল হামলা ও অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপ-দূত ক্লদিও কর্দোনে বলেন, দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।
তবে, দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতি এখনো ব্যাপক এবং অধিকাংশ সিরিয়াসবাসীর জীবনযাত্রা কঠিন বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের স্থল অভিযান, বাড়িতে তল্লাশি এবং ব্যক্তিগত ও কৃষিজ সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও তুলে ধরেন।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার হওয়া ৬৭৫টি মরদেহের মধ্যে যেসব মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আগে সেগুলোর ডিএনএ নমুনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট তাঁর এই বিবৃতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারের এই বিশেষ ব্যবস্থাপনা কেবল পরিচয়হীন ও দাবিহীন মরদেহগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। যে সকল মরদেহের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেগুলো সরাসরি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। মূলত অজ্ঞাত মরদেহগুলোর পরিচয় ভবিষ্যতে যেন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই ডিএনএ ও তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিচয়হীন এসব মরদেহ বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সংরক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছে নেপাল সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত মরদেহগুলো বর্তমানে সুরক্ষিতভাবে এয়ারটাইট ব্যাগে রাখা হচ্ছে। সরকারের প্রণীত ‘পরিচয়হীন ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৬’ পুরোপুরি অনুসরণ করে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকারের মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বন্যাকবলিত ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারের উদ্ধার তৎপরতা এবং গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
হিমালয়ের বরফ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দেশটির সর্বশেষ আপডেটে এই তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে, তিব্বতে আরও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন সরকার। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা ৬৮২ জনে পৌঁছেছে। গত বুধবার চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদী দিয়ে তীব্র বেগে এই পাহাড়ি ঢল নেমে আসে।
পাহাড়ি এই ঢলের সঙ্গে বড় বড় পাথর ও কাদামাটি তীব্র বেগে ধেয়ে আসে, যার নিচে চাপা পড়েই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্রোতের তীব্রতা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতই ভয়াবহ ছিল যে, বিশেষজ্ঞরা এই বন্যাকে ‘পাহাড়ের সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা এখনও অজানা। ফলে নিহতের সংখ্যা সামনে আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকস্মিক এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই ব্যাপক যে, উদ্ধারকারীদের পক্ষে সব জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কিছু বন্যাকবলিত স্থানে কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমেই পৌঁছানো যাচ্ছে। ফলে অনেক দুর্গত মানুষের কাছে উদ্ধারকর্মীরা এখনও পৌঁছাতেই পারেননি, যার কারণে উদ্ধার অভিযানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে নদীর নিম্নাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। বন্যার পানির তোড় এতই বেশি ছিল যে, অনেক মরদেহ ভাসতে ভাসতে কয়েকশ মাইল দূরে ভারতেও চলে গেছে। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে অন্তত আটটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দুর্যোগকবলিত স্থানে একটি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের কাজ চলছিল। নেপাল সরকারের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ওই প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৩ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ৭০০ জনই বিদেশি পর্যটক। শনিবার (২৯ আগস্ট) এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
স্বজনহারাদের কান্না আর বাড়তে থাকা লাশের মিছিল জানান দিচ্ছে প্রকৃতির কতটা ভয়ংকর আঘাত প্রত্যক্ষ করছে হিমালয় অঞ্চল। তবে বরফ আর পাহাড়ের এই তাণ্ডব মানব ইতিহাসে এবারই প্রথম নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী এমন বিধ্বংসী হিমবাহ বিপর্যয়ে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেছে পৃথিবীর অনেক জনপদ।
বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী কিছু হিমবাহ বিপর্যয়ের তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১৯৪১ — হুয়ারাজ, পেরু
১৯৪১ সালে উত্তর পেরুর আন্দিজ পর্বতে অবস্থিত একটি হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পানির তীব্র তোড়ে হুয়ারাজ শহরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনায় আনুমানিক ৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই দুর্যোগকে মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
১৯৬২ — রানরাহিরকা, পেরু
১৯৬২ সালে পেরুর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট হুয়াসকারান থেকে বিশালাকার বরফের চাঁই ভেঙে পড়ে। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ১ কোটি ঘনমিটার পাথর, বরফ ও তুষার পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। এতে করে রানরাহিরকা গ্রাম এবং আশপাশের কয়েকটি বসতি ১২ মিটার গভীর কাদা ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে। এই বিপর্যয়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
১৯৭০ — ইয়ুংগে, পেরু
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মাউন্ট হুয়াসকারানের উত্তর দিকের প্রাচীর ভেঙে পড়ে। বরফ আর পাথরের বিশালাকার স্তূপ ঘণ্টায় ৩৩৫ কিলোমিটার গতিতে নিচের ইয়ুংগে ও রানরাহিরকা শহরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে করে পুরো এলাকা বিপুল পরিমাণ কাদার আস্তরণের নিচে চাপা পড়ে যায়। এই হিমবাহ ধসের কারণে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মারা যান। ভূমিকম্প ও বরফধস মিলিয়ে মোট প্রাণহানি সেই সময় ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
১৯৮১ — চিরেনমা কো, তিব্বত
১৯৮১ সালে চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে চিরেনমা কো নামের হিমবাহ হ্রদে পাহাড়ের বিশাল বরফখণ্ড ভেঙে পড়ে। হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। প্রায় ২ কোটি ঘনমিটার পানি, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ তীব্র বেগে নেপালের দিকে ধেয়ে আসে। এই দুর্যোগে নেপালে আনুমানিক ২০০ মানুষ নিহত হন। সেতু, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।
২০২১ — চামোলি, ভারত
ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নন্দা দেবীর কাছে রন্টি পিক থেকে বরফের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। পাথর, ধুলাবালি ও বরফের বিধ্বংসী স্রোত উপত্যকার দেড় হাজার মিটার নিচে নেমে আসে। উত্তরাখণ্ড রাজ্যে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হন। বহু গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায় এবং দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পানির তোড়ে ভেসে যায়।
২০২৬ — নেপাল-তিব্বত সীমান্ত
বুধবার হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ে। এতে নেপাল ও তিব্বতজুড়ে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কাদামাটির তীব্র স্রোত তিব্বতের গিরোং বন্দরে আঘাত হানে এবং পরে তা নেপালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে যায় এবং পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
তেহরানকে চাপে ফেলতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের যে অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তা থেকে ইরানের আত্মরক্ষার উপায় বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে তিনি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরানের সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে গত কাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকারকে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, মূল্য ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য ও পরিষেবা বাজারের নিয়ন্ত্রণসহ পরস্পর সংযুক্ত অর্থনৈতিক ও জীবন-জীবিকার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্সবার্তায় মোজতবা বলেছেন, ‘এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া, উৎপাদন বৃদ্ধি করা, মার্কিন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা এবং পরিশেষে, প্রতিরোধ অর্থনীতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা—এগুলো সবই সেবা-ভিত্তিক সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।’
বার্তায় খামেনি আরও বলেন, আমদানি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা গেলে ইরানের অর্থনীতির ‘অন্ধকার দিকগুলো’ ধীরে ধীরে কমে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। ‘এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভরতা বাড়ানো।’
উল্লেখ্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আলোচনা-হুঁশিয়ারি পর গত ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে; অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের আওতায় নিষেধাজ্ঞার মাত্রা অভূত মাত্রায় বৃদ্ধি করা হবে, বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত হবে এবং কোনো দেশ যদি ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে সেই দেশের ওপরও নেমে আসবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জেরে চলতি সপ্তাহে মুক্ত বাজারে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গিয়ে এযাবতকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
মোজতবা খামেনি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেজো ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বিমান বাহিনীর হামলায় স্ত্রী, পুত্রবধূ এবং নাতনিসহ নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মোজতবা খামেনি হন গুরুতর আহত।
আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। বর্তমানে ইরানের ইসলামপন্থি সরকারের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত স্থানে আছেন তিনি।
বিজেপি ‘চুরি করে বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) দখল করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে এবং খুব শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবে।
রাখিবন্ধন ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরেকটি ‘পরিবর্তন’ আসন্ন।”
মমতা বলেন, ‘চুরি করে বাংলা দখল করেছে। কিন্তু চিন্তা করবেন না। বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে। খুব শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে। আর বিজেপির লোকেরাই বিজেপির জবাব দেবে।’
বিজেপির বিরুদ্ধে পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করার অভিযোগও করেন তিনি। মমতার দাবি, দলটির সঙ্গে যুক্ত ‘লুম্পেন’ বা উচ্ছৃঙ্খল লোকজন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছে। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর বলে একটা জিনিসও আছে। ওরা বলেছিল, আমাকে বের হতে দেওয়া হবে না। দেখি ওদের কতটা সাহস আছে। শুধু পেশিশক্তি দিয়ে সবকিছু চালানো যায় না।’
মধ্য কলকাতায় টিএমসিপির প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি কর্মসূচির আয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই মমতার এসব মন্তব্য আসে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, সড়কের এক পাশে সভা আয়োজনের কথা ছিল এবং পাশের লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে জনসমাগমের কারণে যান চলাচলের লেনে যানজট তৈরি হলে মমতা ব্যানার্জী তার সভা থামিয়ে পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, অনুষ্ঠানটি ব্যাহত করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
টিএমসিপির কালিঘাটপন্থি অংশের মূল কর্মসূচি আয়োজন করা হয় ক্যাথেড্রাল রোডে। অন্যদিকে, ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশ তাদের কর্মসূচি করে এসপ্ল্যানেডের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে, দুই পক্ষের কাউকেই মায়ো রোডে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থাপনা নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা ব্যানার্জী। তিনি বলেন, ‘তার এলাকার সড়কগুলো একটি গাড়িবহরের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।’ তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। মূল প্রতিবেদনে ওই গাড়িবহরকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মমতা বলেন, ‘বাবু বের হয়েছেন, তাই রাস্তা বন্ধ। ৪০টি গাড়ির কনভয় চলছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে আমার পাড়ার সব রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। বাবু কখন যাবেন? আমরা কি তাকে স্যালুট করব? স্যালুট করতে হলে নবান্নে গিয়ে করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নবান্ন তার সরকারের আমলেই তৈরি করা হয়েছিল।’ রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কাজও তাদের সরকারের সময়ে শুরু হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প (২০)। জীবনে তৃতীয় দশকে পা রাখার সময়েও নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে ‘নিঃসঙ্গ’ দিনযাপন করছেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রাণঘাতী হামলাচেষ্টার আশঙ্কা থেকেই এই সর্তকতা অবলম্বন করছেন তিনি। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার তার বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্প হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। ইরানের হামলার ‘ভয়েই’ ব্যারন ট্রাম্প নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদন উঠে এসেছে।
একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পড়ালেখা শেষ করার পর ব্যারন নিজেকে পুরোপুরি লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় তিনি নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে তার মা ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে অতিবাহিত করেছেন।
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ব্যারন বেশ ইন্ট্রোভার্ট স্বভাবের। আরেকটি সূত্রের দাবি, সচরাচর তিনি বাইরে বের হওয়া বা জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যারন রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের অনুরাগী ও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর ব্যারন ভীষণভাবে প্রভাবিত হন এবং বাবাকে ফোন করে ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘বাইরে বেরোলেই এমন বিপদ ঘটে।’
ব্যারনের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক মা মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে যেন কোনো গণমাধ্যমে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য প্রকাশ না করা হয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ শেষে যখন ব্যারনের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার কথা ছিল, তখন মেলানিয়ার অনুরোধে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন বিশেষ বিবেচনায় ব্যারনের নিরাপত্তা বহাল রাখার অনুমোদন দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যারন ট্রাম্পের জীবন ঘিরে এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক হুমকির খবর সামনে এসেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-সমর্থিত গণমাধ্যম ও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘চ্যানেল ৩’-এ ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী ঘরানার ভিডিও তথ্যচিত্র সম্প্রচার করা হয়।
তথ্যচিত্রে ব্যারনের দৈনন্দিন গতিবিধি চিহ্নিত করে তাকে হত্যার পথ বাতলে দেওয়া হয় এবং তার তথ্যদাতার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার (৯৫ কোটি রুপিরও বেশি) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর আগেও গত মাসে মেলানিয়া ও ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি হুমকি সংবলিত ভিডিও প্রকাশ করে ইরানি গণমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমে শেষ সতর্কবার্তা ছিল, ‘এটা তো কেবল শুরু। ব্যারন ট্রাম্প, আমাদের জন্য অপেক্ষা করো।’
সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানিয়েছেন, ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিও ও প্রাণনাশের হুমকির ব্যাপারে তারা পুরোপুরি অবগত আছেন। পাশাপাশি সুরক্ষিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধানে যে কোনো হুমকির বিষয়ে নিয়মিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কৌশলগত কারণে তারা সব তথ্য প্রকাশ করছেন না।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার লেবাননের আল মানার টিভি-তে প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্রকে হত্যার পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত এই প্রতিবেদনগুলোকে ভিত্তিহীন ও ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের এক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতীতে এসসিও সম্মেলনগুলোকে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ‘বহুমুখী বিশ্ব’ গড়ার এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছর এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ছয় মাসের মাথায় এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, শি জিনপিং, পেজেশকিয়ান ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নেবেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা কবলিত দুই দেশ—রাশিয়া ও ইরান তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মস্কো ও বেইজিংকে ইরানের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পুতিন ও পেজেশকিয়ানের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে গেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের গুঞ্জন অনুযায়ী, র্যাটক্লিফ রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ঐতিহাসিকভাবে এসসিও মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ১০টি স্থায়ী সদস্য ছাড়াও বর্তমানে এই জোটের ১৫টি ‘সংলাপ অংশীদার’ রয়েছে; যার মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতার অন্যতম। এছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া এই জোটের পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রয়েছে।
এসসিও-র প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, এই গ্রুপটি ‘অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোট নয়। তবে পুতিন ও জিনপিং প্রায়শই এই মঞ্চ থেকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছেন। গত বছরের সম্মেলনেও পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেছিলেন এবং শি জিনপিং মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
বিশকেকের এই সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন জোটের দুই প্রধান সদস্য দেশ (রাশিয়া ও ইরান) সরাসরি সামরিক যুদ্ধে লড়ছে এবং অন্য সদস্যরা (চীন ও ভারত) মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের মুখোমুখি।
চলতি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান ও সমুদ্র পরিবহন খাতের ওপর দ্বিতীয় স্তরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার লক্ষ্য মূলত ইরানি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। ওয়াশিংটন ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।
ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চীন এর জবাবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ ‘দৃঢ়ভাবে রক্ষা’ করবে। অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ সময় নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ইরানও জানিয়েছে যে তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না, যদিও তাদের দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইরান মাত্র ২০২৩ সালে এই ব্লকের পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘তেহরান বিশ্বাস করে এসসিও-র মতো জোটে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বড় সাহায্য করবে।’ তবে এই জোট থেকে ইরান আসলে কতটা সুনির্দিষ্ট সুবিধা পাবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো সংকটের সময়ে এই জোটগুলো ইরানের সমস্যা সমাধানে খুব কমই ভূমিকা রাখতে পেরেছে।’
যদিও এসসিও দাবি করে যে তারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে জোটের ভেতরের অভ্যন্তরীণ অমিল ও বিরোধও স্পষ্ট। মধ্য এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটির ওপর প্রভাব বিস্তার নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই রয়েছে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যের প্রধান রুট। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘাত ও শীতল সম্পর্কও এই জোটের ঐক্যকে প্রায়শই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
পাকিস্তানে গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের অস্বাভাবিক যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ভারতে। মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যে তুরস্কের কয়েকটি সামরিক বিমান পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে যাতায়াত করেছে বলে ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্যে জানা গেছে।
তুরস্কের C-130 হারকিউলিস ও A400M মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এর মধ্যে ‘TUAF526’ কলসাইন ব্যবহারকারী একটি বিমানও ছিল।
এসব বিমানে কী ছিল, তা তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা চলছে, এসব বিমানে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম আনা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
জল্পনার মধ্যে রয়েছে তুরস্কের Baykar-এর নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন K2 এবং Asisguard-এর ড্রোন ব্যবস্থা। তবে এগুলো পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
প্রতিরক্ষা চুক্তির পরেই বিমান চলাচল
তুরস্কের সামরিক বিমানগুলোর এই তৎপরতা দেখা যায় গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই চুক্তির পর পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন যাতায়াতকে তাই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহল।
ভারতে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তান কি ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে?
আগের সংঘাতেও সহায়তার অভিযোগ
ভারতের দাবি, গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আগে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল।
এর মধ্যে চীনের PL-15 আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং HQ-9 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করা হয়। তুরস্কের তৈরি Bayraktar ড্রোন ও Asisguard Songar কামিকাজে ড্রোন সরবরাহের কথাও বলা হয়েছিল।
এ ছাড়া চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য এবং কৌশলগত সহায়তা দিয়েছিল বলেও ভারতীয় পক্ষের অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের চার দিনের সংঘাতে ভারতীয় বাহিনী তাদের বহুপদক্ষেপের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সমন্বিত কমান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা মোকাবিলা করে বলে ভারত দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক অস্ত্র বহনে উপযোগী একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মস্কোতে সিআইএ প্রধানের গোপন সফরের কয়েক দিন পরই রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল।
যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির মুখে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার সামরিক বাহিনীকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দৈনিক দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন হামলার সংখ্যা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজারে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর কিয়েভে টানা তিন দিন ধরে চলা আকাশপথে হামলায় স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী শহরটির দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফলভাবে পরীক্ষা করা ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটারেরও (৪,১৬০ মাইল) বেশি। এটি রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখাংগেলস্ক অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং দেশটির দূর প্রাচ্যের কামচাতকা উপদ্বীপে অবস্থিত কুরা টেস্ট সাইটে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফের সম্প্রতি গোপনে মস্কো সফরের মাত্র কয়েক দিন পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল ক্রেমলিন।
ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে আক্রমণ না করার ব্যাপারে রাশিয়াকে সতর্ক করতেই সিআইএ পরিচালক সেখানে যান বলে জানা গেছে। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই সফরকালে সিআইএ প্রধানের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কোনো বৈঠক হয়নি।
গতকাল শনিবার ইউক্রেনের স্থানীয় কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিয়েভের নিকটবর্তী বুচা জেলায় রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় সৃষ্ট ভয়াবহ আগুন দ্রুত স্থানীয় বাড়িঘর ও একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, বুচা জেলার মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলা চালানো হয় এবং এর পরপরই সেখানে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এই বিস্ফোরণের পেছনে নিজস্ব কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ইঙ্গিত দিয়ে ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও নিয়মকানুন রয়েছে—বাসাবাড়ি বা আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কোনো ধরনের গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যাবে না।’
তিনি আরও জানান, হামলায় একটি বৃদ্ধাশ্রম, প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে ইতোমধ্যে ৩৭০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো জারি রয়েছে।
মস্কোর তীব্র আক্রমণের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিয়েভ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ড্রোন হামলার হার তিন গুণেরও বেশি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি মস্কোয় সংঘটিত কিছু উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কে ওয়াশিংটন কিয়েভকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ‘আজ আমরা আমেরিকান পক্ষের কাছ থেকে মস্কোয় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বৈঠক সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছি। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ সরকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শনিবার (২৯ আগস্ট) ডনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘জায়নবাদ প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ যারা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে চায়, ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইসরায়েলের গণহত্যা সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের আইনহীন নীতি এবং সমস্ত নিয়ম, নীতি ও সীমানা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বক্তব্যে এরদোয়ান অভিযোগ করেন, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় যারা কাজ করছে, ইসরায়েল তাদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঞ্চলটির শান্তি ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের আইনবহির্ভূত নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুর্বল প্রতিক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েলের তথাকথিত গণহত্যার নেটওয়ার্ক নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও সীমারেখা উপেক্ষা করে চলেছে।
এরদোয়ান আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই এরদোয়ানের এই মন্তব্য এলো। তুরস্ক এর আগেও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসেছে এবং আঞ্চলিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।