পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান- মুসলিম বিশ্বের এই তিন দেশ সম্প্রতি যে ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ সই করেছে, তাতে বাংলাদেশও যোগ দেবে কি না তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। একদিকে সামরিক তাৎপর্য, অন্যদিকে জোটের সম্প্রসারণের চেষ্টা দুটি মিলিয়েই এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশেও আগ্রহ আছে। যদিও গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখানো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি। যদিও চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ ‘ইতিবাচক অবস্থানে’ আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, এ সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত সপ্তাহের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বা মক্কা প্যাক্টে যোগদানে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না। একই সঙ্গে অন্য অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এই চুক্তি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (১) হুমায়ুন কবির।
গতকাল রোববার ঢাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী চুক্তি, যা নতুন নানা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে বাংলাদেশ ‘ইতিবাচক’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গেই এই আলোচনা ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে।’
সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারকদের একটি এবং একইসঙ্গে বড় অর্থনৈতিক শক্তি। তুরস্ক নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত মানের এবং দেশটির আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, মিসাইল সমৃদ্ধ শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। আর মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রশক্তির দেশ পাকিস্তান। তিনটি দেশ মিলে যে চুক্তি সই করে তার আনুষ্ঠানিক নাম মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এটা স্বাক্ষরও হয় মুসলিমদের সর্বোচ্চ পবিত্র নগরী মক্কায়। একে এমন একটি জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে মুসলিম দেশগুলো একত্রিত হচ্ছে।
সামরিক জোটের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় আর গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোন দেশ কতটুকু অবদান রাখবে, তা নিয়ে সব দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে সামরিক তাৎপর্য থাকায় তিনটি দেশের এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট বৈশ্বিক রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই এটাকে ‘মুসলিম নেটো’ নামেও ডাকছেন।
প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত সাতই অগাস্ট এই চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।
তিনি আরও বলেন, এতে যোগদান করার বিষয়টি এখানো আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে যারা এই প্যাক্টের সদস্য, তাদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করেন বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে নেওয়ার জন্য, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্যাক্ট হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটা ব্যবস্থা এবং এটা আমাদের মুসলিম পরিবারের আভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এটা নিয়ে কারো, অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নাই।
একইসঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়নি ফলে এখানে যোগ দিলে কী লাভ হবে সেগুলোও আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।
মক্কা প্যাক্ট মূলত প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। নামেই প্রতিরক্ষা শব্দটি আছে। চুক্তিতেও আলোচনা হচ্ছে মূলত এই জোটের যৌথ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তুরস্ক ও পাকিস্তান। যৌথ জোটের দেশগুলো সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় থেকে শুরু করে অস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় পর্যন্ত যেতে পারে।জোটের তিনটি দেশের তিন ধরনের সক্ষমতা আছে। যেটা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। সৌদি আরবের আছে অঢেল অর্থ, তেল, ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা এবং রাজনৈতিক শক্তি। তুরস্কের আছে অত্যাধুনিক সামরিক শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি, মিসাইল, সেন্সর, নৌশক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা। আছে উন্নত মানের অস্ত্র প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ।
পাকিস্তানের আছে দক্ষ সৈন্য, বিশাল পেশাদার সেনাবাহিনী ও অবকাঠামো, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরমাণু অস্ত্র। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের জন্য আমেরিকার বাইরে অস্ত্র সংগ্রহের নতুন দ্বার খুলে যাচ্ছে। তারা তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমদানি করতে পারবে। অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের দরকার অর্থ। তারা অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রি করে সেটা পাবে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন বিনিয়োগ করতে পারবে। এই দেশগুলো যদি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে তাহলে সেটা দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আর এখানেই আসছে বাংলাদেশসহ নতুন দেশগুলো যদি মক্কা জোটে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের লাভবান হওয়ার সুযোগ। সেগুলো কী?
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি চুক্তিতে যোগ দেয়, তাহলে ঝুঁকি অনেকগুলোই আছে। প্রথমটিই হচ্ছে, জোটের একটি নির্দিষ্ট নীতি যেখানে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটা জোটের বাকি দেশগুলোর উপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে বলা হচ্ছে, নেটোর আদলে এমন কোনো জোটে বাংলাদেশ থাকলে সেটা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। মক্কা জোটে পাকিস্তান থাকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত শুরু থেকেই এই জোটকে এক ধরনের হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যেকোনো সংঘাতে মক্কা জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের ঝুঁকি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে।
মক্কা জোটে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, আমাদের প্রায়োরিটি অনেকগুলো আছে। সেগেুলো মাথায় রেখে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে, আমি একটি সামরিক জোটে জয়েন করতে চাই কি না। একইসঙ্গে আমাকে চিন্তা করতে হবে যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের জন্য আমার দক্ষিণ এশিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি একটি সামরিক জোটে যোগ দেওয়া বেশি প্রয়োজন।
গবেষণা সংস্থা ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ বলেন, আমরা তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন, আরমার্ড ভেহিকেল এরকম অনেক কিছুই আমদানি করি। এই অংশীদারত্বটা আরো বড় হতে পারে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের একটা সুযোগও আসে যে, তুরস্কের মতো একটা দেশের সঙ্গে আমরা জয়েন্ট কোলাবরেশনে গিয়ে কোনোকিছু উন্নত করতে পারি কি-না, বিশেষত মিলিটারি টেকনোলজির ক্ষেত্রে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিনও মনে করেন, মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রে নৌ-চলাচল এবং নিরাপত্তা একটা বড় উদ্দেশ্য। তাছাড়া সৌদি আরবে বহুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন। দেশটি বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি প্রধানতম উৎস। সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগীও বটে। ফলে চুক্তিতে থাকলে সেটা বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সহায়তারও নতুন দ্বার খুলতে পারে।
বাংলাদেশের একজন ভূ-রাজনীতির গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ এই জোটে যখনই যুক্ত হবে, তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে। সেদিক, বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ভারত ভাবতে পারে সে অনিরাপদ। তখনই সে ইসরায়েলে শরণাপন্ন হতে পারে। এই ইস্যুতে তখন ভারতকে সহযোগিতায় আগ্রহী হতে পারে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হতে পারে সামরিক উত্তেজনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর হাবীব গণমাধ্যমকে বলেন, একটি জোটের দিকে ঝুঁকলে অন্য পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই আন্তর্জাতিক বিষয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে এসেছে। একই সাথে, বেশ কয়েকটি দেশের সাথে আমাদের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই মূল প্রশ্ন হলো—এই নির্দিষ্ট জোটে যোগ দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু উপযুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, এই নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হবে? এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেমন হবে? দায়িত্ব ও ব্যয়ের ভাগাভাগি কীভাবে পরিচালিত হবে? বাংলাদেশ এখানে কী ভূমিকা বা অবদান রাখবে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। তাই বলা যায়, আমরা কীভাবে এগোব সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রস্তাবিত জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের যুক্ত করা একেবারেই আবশ্যক।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেন, মক্কা চুক্তিতে ঢাকার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে নানামুখী জল্পনা বাড়ছে। আর এর মধ্য দিয়েই নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, এটি যদি একটি সামরিক জোট হয়, তবে এর সকল সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সাথে মিলে যায়, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান নিজে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। এটি একটি জটিল বিষয় এবং আমাদের খুব সতর্কতার সাথে এর মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে আলোচনার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমাদের যুক্ত থাকতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেছেন, এই জোটে যোগ দিলে কি বাড়তি কোনো প্রতিরক্ষা সুবিধা নিশ্চিত হবে? সেই নিরাপত্তার কি আদৌ প্রয়োজন আছে? কিংবা জোটে থাকা দেশগুলোর পক্ষে কি সত্যিই এই সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব? আর এই তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়ার সম্ভাব্য মূল্য বা মাশুল কতটুকু হতে পারে?
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খুঁজে পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এদিকে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছুঁয়েছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নেপালে ৭৩৪ জন ও তিব্বতে ১৬ জনসহ মোট ৭৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল জানিয়েছে, দেশটিতে কয়েকশ বিদেশিসহ ২ হাজার ৪৯৮ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রোববার দেশটি মৃতের হালনাগাদ সংখ্যা ৭৩৪ জন বলে জানিয়েছে।
চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অনেকটাই সীমিত। ফলে এই অঞ্চলে দুর্যোগের ভয়াবহতার সংবাদ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি রোববার জানিয়েছে, তিব্বতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
টানেলে আটকা শতাধিক মানুষ
একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শতাধিক শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, শনিবার রাতে নেপালি সেনাবাহিনী ত্রিশুলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে পাইপ ঢুকিয়ে সেটির মাধ্যমে বাতাস পাঠানো শুরু করেছে।
তবে রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় ওই স্থানে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ রোববার উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। অসংখ্য শ্রমিক নদীর তীরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সময় সেখানে বরফ ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে আসে। এই ঘটনায় ৯৩৩ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন।
এ ধরনের উদ্ধারকাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে ভারত। সহায়তার জন্য চীনও নয় সদস্যের একটি টানেল উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। আগের কয়েক দিনে উদ্ধারকাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা একটি খালি হয়ে যাওয়া হ্রদ থেকে এটি ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই হ্রদ উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিধসের পর ‘এখন নতুন একটি হ্রদ তৈরি হচ্ছে’। সিসিটিভি জানায়, গিরং সীমান্তবন্দর এলাকার উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করেছে জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
পুনর্নির্মাণে লাগতে পারে বিলিয়ন ডলার
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, দেশটির ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ খরচ হতে পারে।‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করব এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করব। তবে সহায়তার জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনই দায়ী?
ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বুধবারের বিপর্যয়টি হিমবাহ ধসের কারণে ঘটেছে। এতে বরফ ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া রোববার জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘নেপালের লিরুং পর্বতের দক্ষিণ ঢালে থাকা একটি হিমবাহ’ ভেঙে যাওয়ায় বরফ ও পাথরের ধস নামে। জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হঠাৎ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যা এই পার্বত্য পরিবেশগুলোর ভঙ্গুর অবস্থাকে সবার সামনে উন্মোচন করেছে।’
অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো হামলাকে ‘অপরাধমূলক সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে বিরল নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত শনিবার উত্তর পশ্চিম তীরের কুসরা ও জালুদ গ্রামে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুসরা ও জালুদ গ্রামে একদল দাঙ্গাবাজের চালানো অপরাধমূলক সহিংসতার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। তারা আইন ভঙ্গ করছে, আইন মান্যকারী ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর মারাত্মক অবিচার করছে, আইডিএফের (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী ও সামরিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় শনিবার কুসরা গ্রামে হামলা চালায় কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসেফ আবদুল করিম হাসান জানান, কয়েকজন গ্রামবাসী একটি বাড়িতে কাজ করার সময় প্রথমে একদল বসতি স্থাপনকারী এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আরও বেশিসংখ্যক উগ্র বসতি স্থাপনকারীকে জড়ো করে বাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এর আগে চলতি আগস্ট মাসের শুরুর দিকে নাবলুসের নিকটবর্তী এই গ্রামের উপকণ্ঠে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতে খাবার ও জরুরি রসদ সরবরাহ বন্ধ করে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তারা।
সহিংসতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখতে পায় উগ্র দাঙ্গাবাজরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে অবস্থান নেওয়া বাসিন্দাদের ঘিরে রেখে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। এই ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহে বেশ কয়েকটি যানবাহন জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এলাকাটিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন বসতিতে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক বসবাস করছেন। অঞ্চলটিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা ব্যাপক রূপ নিয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলা ও সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৮ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছেন।
পূর্ব ভূমধ্যসাগর লাগোয়া সাইপ্রাসের উত্তর উপকূলের কাছে প্রায় ২৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। গতককাল রোববার অভিবাসীদের নিয়ে যাত্রা শুরুর পর সাইপ্রাস উপকূলের কাছে যাত্রীবাহী ওই নৌকা উল্টে যায়। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তুরস্ক ও সাইপ্রাসের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে নৌকাডুবির স্থানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। সাইপ্রাসের কাইরেনিয়া শহরের মেয়র মুরাত সেনকুল সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন তুর্ককে বলেছেন, নৌকায় থাকা ২৫৮ জন যাত্রীর মাঝে ১৫৯ জনের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
সাইপ্রাসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিব্রিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূল থেকে প্রায় চার মাইল দূরে থাকা অবস্থায় নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে সেটি উল্টে যাওয়ায় যাত্রীরা সমুদ্রে ভাসতে থাকেন। নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর সেখানে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
দেশটির স্থানীয় সরকার বলেছে, বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রীবাহী নৌকাটি উত্তর সাইপ্রাস উপকূলে উল্টে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিভাজিত সাইপ্রাস দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ শাসনকারী তুর্কি রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ১৪ কোটির কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাসের মধ্যেও বাজেট ১৬ শতাংশ কমাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। এছাড়াও ৩ হাজার ৫০০ কর্মী পদ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএনএইচসিআর। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানায়, অর্থসংকটের কারণে ২০২৭ সালের বাজেট কমিয়ে ৭১৪ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ট্রাম্প প্রশাসন এবং অন্যান্য বড় দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা কমানোর ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় সংস্থাটির কাজের ব্যাপ্তি এবং বাজেট এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। জেনিভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি বৈঠকে এই সংশোধিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। তবে ইউএনএইচসিআরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অতীতে অনুমোদিত অনেক পদ পূরণ না হওয়ায় বাস্তবে সরাসরি এত বড় ছাঁটাই কার্যকর নাও হতে পারে।
মুখপাত্র আরও জানান, ২০২৫ সালের বড় ধরনের ঘাটতির কারণে ইতোমধ্যে কর্মী ছাঁটাইসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার অফিস বন্ধ করা হয়েছে এবং খরচ বাঁচাতে জেনিভার সদর দপ্তর কম ভাড়ার ভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বজায় রাখার আশা প্রকাশ করেছেন সংস্থার প্রধান বারহাম সালিহ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ২০২৫ সালের ৮০ কোটি ডলার থেকে কমে এ বছর মাত্র ১১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। নতুন এই বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আমেরিকা অঞ্চলে, যেখানে বরাদ্দ কমছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ২২ শতাংশ এবং সুদান সংকটে থাকা পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ২১ শতাংশ বাজেট কমছে।
ইউক্রেন ও সুদান সংকটের কারণে ২০২৭ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছানোর পূর্বাভাস সত্ত্বেও এই বাজেট কাটছাঁটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও উগান্ডার মতো আশ্রয়দাতা দেশগুলো। আগামী অক্টোবরে নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রস্তাবিত এই বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
সৌদি আরবে তায়েফ শহরে কামরুল নামে এক বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ওই সৌদি তরুণ নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। কামরুলের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। সৌদি আরবের সময় রোববার ভোর (৩০ আগস্ট) আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কামরুল জামান তার কর্মস্থল একটি সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। হামলাকারীকে দেখে প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে কর্মস্থল সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত অন্য দুই কর্মী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পরে হামলাকারী সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে।
ইউরোপ মহাদেশে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা বেশ গুরুত্ব দিয়েই চিন্তা করছেন বলে বিস্ফোরক দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত আন্দ্রে বেলোউসভ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আরটি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপজ্জনক কৌশলের কথা তুলে ধরেন।
রুশ কূটনীতিক বেলোউসভ বলেন, রাশিয়া যেসব সাধারণ বা ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডের জন্য কোনো হুমকি নয়। অথচ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সভায় যুক্তরাষ্ট্র কেবল রাশিয়ার এসব পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েই বারবার প্রশ্ন তুলছে।
তিনি দাবি করেন, আসল সত্য আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে। ইউরোপের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের যে পারমাণবিক বোমাগুলো বসানো রয়েছে এবং তারা যে নতুন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে, বিশ্ববাসীর নজর তা থেকে ঘুরিয়ে দিতেই তারা রাশিয়ার পেছনে লেগেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চায় আলোচনার অজুহাতে রাশিয়ার এসব পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারিত হিসাব জেনে নিতে এবং একপর্যায়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে। রাশিয়া যদি নিজেদের এই পারমাণবিক সুরক্ষাব্যূহ সরিয়ে নেয়, তবে ইউরোপের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র হামলা চালানোর পথ শতভাগ সুগম হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে তাদের বন্ধু দেশগুলোর জমিকে যুদ্ধের ময়দান হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেন এই শীর্ষ কূটনীতিক। ইউরোপের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বার্থপর ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলার মূল উদ্দেশ্য দ্রুত বুঝতে এবং সময় থাকতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা হোসেইনি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মুসলিম ঐক্যের বিরুদ্ধে ‘সোর্ন এনিমি বা চির বা প্রকৃত শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে বিভেদ ভুলে, প্রকৃত শত্রুদের মোকাবিলা করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা। ইসলামিক ইউনিটি উইক উপলক্ষে দেওয়া লিখিত এক বার্তায় তিনি এই বার্তা জানান।
মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি সমগ্র ইসলামী বিশ্বে আরও বেশি সংহতি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ঐক্য, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা এবং ‘শত্রুদের’ বিরুদ্ধে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন এই নেতা। মোজতবা খামেনি লিখিত বার্তায় উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের ‘প্রকৃত শত্রুকে’ চিহ্নিত করার, তাদের পরিকল্পনা বোঝার এবং তা মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ইরানসহ যেকোনো ইসলামী দেশের মুসলিম জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার অজুহাত হিসেবে বিভিন্ন জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পার্থক্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবৃতিতে খামেনি আরও বলেন, ‘এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি এবং এর শক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় থাকে।’
খামেনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত, তাহলে কি ফিলিস্তিনি জাতি এতটা প্রতিরক্ষাহীন অবস্থায় থাকত এবং দখলদারদের নিপীড়ন ও অপরাধের শিকার হতো?
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, পারস্য উপসাগরের চারপাশে বসবাসকারী দেশ ও সরকারগুলো যদি ইসলামের পতাকার নিচে নিজেদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করত, তাহলে কি হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা দুর্নীতিগ্রস্ত ও পরিচয়হীন দুর্বৃত্তরা তাদের ভূমি ও সম্পদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ার সাহস পেত?
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা শুধু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ও ইরানি জাতির শত্রু নয়, একই সঙ্গে ইসলামী প্রতিরোধের বিশাল ফ্রন্টেরও শত্রু। তারা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধেও শত্রুতা পোষণ করে, যার মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার জনগণও রয়েছে।
নতুন সংকটে পড়েছেন নেপালের বন্যা দুর্গত মানুষেরা। বন্যায় ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে আশ্রয়শিবিরে থাকা অনেক মানুষ নিয়মিত ওষুধ পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় ওষুধ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত কমে আসছে। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুর্গত এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
নুয়াকোটের ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা রেখা দেবী গোসাইনের জন্য বন্যা থেকে বেঁচে ফেরাই শেষ বিপদ ছিল না। তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। বন্যায় তার ঘর ও চারটি দোকান ভেসে গেছে। গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও হারিয়েছেন তিনি। ফলে সঙ্গে থাকা ওষুধও রক্ষা করতে পারেননি।
এখন পরিবারের সঙ্গে ত্রিশূলী হাসপাতালের কাছে একটি আশ্রয়শিবিরে আছেন রেখা দেবী। কিন্তু হাসপাতালেও তার প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। তার ছেলে রঘুবীর বলেন, ‘আমার মায়ের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে সেগুলো নেই। তিন দিন ধরে তিনি ওষুধ খেতে পারেননি।’
ওষুধের সংকটের পাশাপাশি ওই পরিবারকে আরও বিপদে পড়তে হয়েছে। আশ্রয়শিবিরে থাকা অবস্থায় রঘুবীরের বোনের শ্বশুরবাড়ির একজন নারী প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন। ত্রিশূলী হাসপাতালে তার প্রসব করানো সম্ভব হয়নি। আবার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাকে কাঠমান্ডুতেও নেওয়া যাচ্ছিল না। পরে বারবার অনুরোধের পর গত শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে তাকে কাঠমান্ডুর পারোপকার মাতৃ ও নারী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শুধু রেখা দেবীর পরিবার নয়, বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগীই কয়েক দিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছাড়াই আছেন। কলানি এলাকার একটি আশ্রয়শিবিরে ৬২ বছর বয়সি মায়ের দেখাশোনা করছেন কোপিলা পারিয়ার। তার মা হাঁপানিতে আক্রান্ত এবং নিয়মিত দুই থেকে তিন ধরনের ওষুধ সেবন করেন।
কোপিলা বলেন, ‘সব ওষুধ তারা সংগ্রহ করতে পারছেন না। শিবিরে খাবার পানিও নেই। বোতলজাত পানি কেনার মতো অর্থও তাদের হাতে নেই। কাপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসেরও সংকট রয়েছে। বন্যায় কোপিলার ১৬ বছর বয়সি ভাই অবিনাশ এবং ৪৩ বছর বয়সি ভাবি শান্তিও নিখোঁজ রয়েছেন।’
ত্রিশূলী হাসপাতালেও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত দ্রুত কমে আসছে। হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মহেশ্বর যাদব জানান, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নিয়মিত দেওয়া হয়-এমন কিছু ওষুধ, যেমন অ্যাটেনোলল ও লোসার্টান, এখন পাওয়া যাচ্ছে না।
ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিও চালু রাখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা রিকেশ রানা বলেন, ‘আশপাশের আশ্রয়শিবিরে থাকা অনেকের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রয়েছে। কিন্তু তারা নিয়মিত ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না।’
ওষুধের পাশাপাশি পানির সংকটও তীব্র হয়েছে। বন্যায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার খাবার পানির প্রধান উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি খাল থেকে আগে পানি সংগ্রহ করা হতো। বন্যায় সেই খাল ধ্বংস হয়েছে। তুপচে হয়ে আসা আরেকটি পানির পাইপলাইনও ভেসে গেছে।
ত্রিশূলী হাসপাতালের আশপাশে তিনটি আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে। ভৈরুং মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি আচ্ছাদিত হল ও বেথান একাডেমিতে প্রায় ১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও অসুস্থ মানুষও রয়েছেন।
কিন্তু শিবিরগুলোতে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ত্রিশূলী হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক রাজেন্দ্র লামা বলেন, ‘এত মানুষ এক জায়গায় থাকায় রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপদ খাবার পানি ও পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবে বড় ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।’
দুর্গতরা শিবিরে দেওয়া খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়েও অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে না বলে তারা জানান।
বন্যায় এলাকার সব সেতু ধ্বংস হওয়ায় ত্রিশূলী হাসপাতালের সঙ্গে জেলা সদর এলাকার যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জরুরি রোগীদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে তাই হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের সময় সবসময় হেলিকপ্টার পাওয়া যাচ্ছে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বন্যার পর এলাকায় নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। হাসপাতালের আশপাশে বর্তমানে মাত্র সাত থেকে আটজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান রাজেন্দ্র লামা। তার দাবি, দিনের বেলাতেও লুটপাট শুরু হয়েছে এবং আরও পুলিশ মোতায়েন করা প্রয়োজন।
লামা বলেন, ‘গত শুক্রবার মুখোশ পরা চার-পাঁচজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে চিকিৎসকদের একটি অপারেশন থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পরে আশপাশের বাড়ি-ঘরেও লুটপাট শুরু হয়েছে।
বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহেও সমস্যা হচ্ছে। এর সুযোগে কালোবাজারি শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণের পাশাপাশি ওষুধ, নিরাপদ পানি, খাবার, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৪ জন। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই বিপর্যয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। বন্যায় ভেসে যাওয়ায় অনেক মৃতদেহ কয়েকশ কিলোমিটার ভাটি থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। নেপালে নিখোঁজ ২ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী এবং ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৮৫ জন নিরাপত্তাকর্মীরও সন্ধান মিলছে না, যার মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ জন সদস্য রয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিব্বত অংশে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয় এবং ১৮ জন মার্কিন নাগরিক। বেইজিং কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা অবহিত করেছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গত জেলাগুলোতে সরকার নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে। মরদেহগুলো শনাক্ত করা কর্তৃপক্ষের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের কৌশলগত জ্বালানি মজুত ‘রেড অ্যালার্ট’ পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং বর্তমান হারে মজুত থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ফুরিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির মতবিরোধও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতি ও তীব্র জ্বালানিসংকট মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত এই কৌশলগত মজুত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রুত ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি বিশেষজ্ঞদের একাংশ এভাবে মজুত খালি করে ফেলার পরিণতি নিয়ে সতর্ক করলেও পেট্রলপাম্প সচল রাখা ও জনমনে উদ্বেগ কমাতে সরকার মজুত থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চাইছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান হারে জ্বালানি উত্তোলন চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অবশিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হলে বা আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ইরানে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পেট্রল উৎপাদিত হলেও চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি লিটার। ইরানের এনার্জি অপটিমাইজেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান আলী আকবর সাঘাব এসফাহানিও ১৫ আগস্ট দৈনিক ১ কোটি ৪০ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার ঘাটতির কথা জানান।
এর আগে আমদানির মাধ্যমে ঘাটতির প্রায় অর্ধেক পূরণ করা হতো, যার বড় অংশ আসত রাশিয়া থেকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ, রাশিয়ার তেল শোধনাগার অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা ও কাস্পিয়ান সাগরের সরবরাহপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরানের জ্বালানি আমদানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংকট ইতোমধ্যে রাজধানী তেহরানেও পৌঁছেছে। জ্বালানি না থাকায় কিছু পেট্রলপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে এবং আশপাশের প্রদেশ থেকে জ্বালানি এনে কয়েকটি স্টেশন পুনরায় চালু করা হয়েছে। তেহরানসহ আলবোরজ, দক্ষিণ খোরাসান ও রাজাভি খোরাসান প্রদেশে দীর্ঘ সারি এবং পেট্রোলপাম্প বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিনটি বিকল্প বিবেচনা করছে—দেশীয় উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ সীমিত করা, ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির কোটা কমিয়ে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে তা বাজারদরে বিক্রি করা অথবা যানবাহনের পরিবর্তে ব্যক্তির নামে জ্বালানি কোটা বরাদ্দ করা।
তবে পেট্রোলের দাম বাড়ালে নতুন করে গণবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে আকস্মিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ার পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে আপাতত কৌশলগত মজুত ব্যবহার করে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু সেই জরুরি মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসায় ইরানের জ্বালানিসংকট নতুন ও আরও গভীর পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ বিপর্যয় ও আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন অভিযোগ করেছেন সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি।
সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে আটবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ, অপহরণ, গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান ওলাবি।
এদিকে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। দেশটিতে এখনো ৫৫ লাখের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এর মধ্যে ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ১,২০০টিরও বেশি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থলমাইন ও বিস্ফোরকের আঘাতে হতাহত ২,৪০০ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৮৬৫ জন নিহত হয়েছেন।
ওলাবি জানান, উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সিরিয়া আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে ইসরায়েল হামলা ও অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপ-দূত ক্লদিও কর্দোনে বলেন, দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।
তবে, দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতি এখনো ব্যাপক এবং অধিকাংশ সিরিয়াসবাসীর জীবনযাত্রা কঠিন বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের স্থল অভিযান, বাড়িতে তল্লাশি এবং ব্যক্তিগত ও কৃষিজ সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও তুলে ধরেন।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার হওয়া ৬৭৫টি মরদেহের মধ্যে যেসব মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আগে সেগুলোর ডিএনএ নমুনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট তাঁর এই বিবৃতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারের এই বিশেষ ব্যবস্থাপনা কেবল পরিচয়হীন ও দাবিহীন মরদেহগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। যে সকল মরদেহের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেগুলো সরাসরি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। মূলত অজ্ঞাত মরদেহগুলোর পরিচয় ভবিষ্যতে যেন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই ডিএনএ ও তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিচয়হীন এসব মরদেহ বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সংরক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছে নেপাল সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত মরদেহগুলো বর্তমানে সুরক্ষিতভাবে এয়ারটাইট ব্যাগে রাখা হচ্ছে। সরকারের প্রণীত ‘পরিচয়হীন ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৬’ পুরোপুরি অনুসরণ করে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকারের মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বন্যাকবলিত ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারের উদ্ধার তৎপরতা এবং গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।