শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


নির্বাচিত

থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলায় শিক্ষকসহ নিহত ৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অদূরে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় একজন শিক্ষকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর ওই শিক্ষার্থী নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের বাং কুরাই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্কুলটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা দেচরাপি কংদি জানান, হামলাকারী প্রায় ১৪ বছর বয়সি নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি স্কুল ভবনের তৃতীয়তলার একটি কক্ষ থেকে গুলি চালায়। কয়েক দফা গুলিবর্ষণের পর সে নিজের ওপরও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।

হামলায় নিহত শিক্ষক ছাড়াও আহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক এবং তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গুলি চলার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শ্রেণিকক্ষে লুকিয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা তাদের ধাপে ধাপে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

ঘটনার পর পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য ও কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্রের নাগাল পেয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ বন্দুক ও ছুরি হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।


নির্বাচিত

গ্রিসে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গ্রিসের উপকূলীয় অঞ্চলে লিবিয়া থেকে আসা বেশ কিছু অভিবাসীকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে দক্ষিণ ক্রিতে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী ধারাবাহিক যাত্রার মাধ্যমে গ্রিসের দ্বীপে পৌঁছানোর পর তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃতদের বড় একটি অংশ সুদান ও বাংলাদেশের নাগরিক, এছাড়া কিছু মিশরীয় নাগরিকও রয়েছেন। ক্রিতের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় অভিবাসীদের এমন ধারাবাহিক আগমন সেখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘দিমোকরাতিয়া জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূল পাহারা সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর একটি বিমানের মাধ্যমে নজরদারির পর ইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৪০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নতুন নৌকা শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একটি কোস্টগার্ড টহল দল ও একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় যাত্রীদের ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়।

এই উদ্ধার অভিযানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আরও দুটি নৌকা মোট ১১২ জন অভিবাসী নিয়ে সেখানে পৌঁছায়। প্রথম দলটিতে ৩১ জন সুদানি ও ২৫ জন বাংলাদেশি সহ মোট ৫৬ জন এবং দ্বিতীয় দলটিতে ৪৭ জন বাংলাদেশি ও ৯ জন মিসরীয় সহ আরও ৫৬ জন অভিবাসী ছিলেন।

দ্বীপটিতে অভিবাসীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল অভিবাসী -কে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এদিকে পৃথক আরেকটি ঘটনায়, ইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৮.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পূর্বে উদ্ধার হওয়া ৫০ জন অভিবাসীকে পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের নাগরিক ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরকে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসীদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই কিশোর লিবিয়ার তবরুক শহর থেকে গ্রিস পর্যন্ত অভিবাসী বোঝাই নৌকাটি পরিচালনা করেছিল এবং প্রতিটি অভিবাসীর কাছ থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই কাজ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের নয়াদিল্লিতে গত বুধবার (৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার বিষয়টিতে সরকারের কোনো হাত ছিল না এবং ভারত তার বক্তব্য সমর্থন করে না বলে জানিয়েছে দিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য রাখা প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। আর সেই প্ল্যাটফর্মে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে—বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকার সম্পর্কে ওই অনুষ্ঠানে যা বলা হয়েছে, ভারত সরকার তার কোনো বক্তব্যকে সমর্থন করে না।’

এর আগে, শেখ হাসিনা ভারতে বসে যাতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে বা দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে আগেভাগেই দিল্লিকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও নয়াদিল্লিতে তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য দিলে বিষয়টি নিয়ে গভীর দুঃখ ও কড়া প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম আঘাত।


নির্বাচিত

হামলার ভয়ে ইরান আমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পাঞ্চবোল নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব ও মার্কিন রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ইরান চুক্তি, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, চীন ও প্রযুক্তির আধিপত্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে এসেছে।

ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়। তারা চায় না আমরা তাদের ওপর হামলা চালাই।

তেলের দামের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা না হলে পেট্রলের দাম কমবে, আর হামলা হলেই কেবল দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান নতুন কোনো সংঘাত বা হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।

আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প বেশ আশাবাদী। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয়ক্ষেত্রেই রিপাবলিকান পার্টি জয়লাভ করবে। তবে মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের নির্বাচন সবসময়ই গোলমেলে ও অব্যবস্থাপনাপূর্ণ, যা ২০২০ সালসহ বিভিন্ন সময়ে প্রমাণিত হয়েছে।

কিছু মার্কিন অঙ্গরাজ্য যেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে, তাকে তৃতীয় বিশ্বের দেশের সাথে তুলনা করেন ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করতে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ -এর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

চীন ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই চীন ছাড়িয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই না ক্রিপ্টো বিশ্বে চীন আধিপত্য বিস্তার করুক। আমি চাই না এআই এবং ক্রিপ্টোর ক্ষেত্রে চীন জয়ী হোক।

এছাড়া তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন এবং সে সময় দুই নেতার বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


নির্বাচিত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নয়া সামরিক জোট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং জ্বালানি সরবরাহে অবরোধের মুখে একজোট হয়েছে সুন্নি মুসলিম বিশ্বের তিন প্রধান শক্তি। শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি ‘যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। এই চুক্তির ফলে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং শক্তিশালী মেরুকরণের সূচনা হলো।

মক্কায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সম্মেলনে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির শক্তিশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ত্রিদেশীয় জোট মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই চুক্তি সই করেছে।

‘একজনের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা’
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Agreement) অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী তিন দেশের মধ্যে যেকোনো একটি দেশ যদি সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হয়, তবে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তির এই ধারাটি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর সামষ্টিক প্রতিরক্ষা নীতির অনুরূপ। তুরস্কের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, "এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা নীতিভিত্তিক এবং এর উদ্দেশ্য কেবল পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয় এবং আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোর জন্য এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তজনা ও নেপথ্যের কারণ
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তার মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছায়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল রিয়াদ। গত এক বছর ধরে চলা দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে শুক্রবার এই চুক্তি চূড়ান্ত হলো।

তিন শক্তির রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকরা এই জোটকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন। তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী এবং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প। সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম স্থানের রক্ষক এবং বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ সাগের বলেন, "এই শীর্ষ সম্মেলনের রাজনৈতিক প্রতীকী অর্থ অত্যন্ত গভীর। মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী তিনটি দেশ এমন এক অনিশ্চিত সময়ে একত্রিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেরাই সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।"

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
এই চুক্তির ফলে তিন দেশের সামরিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রায় ৮ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। তুরস্কও রিয়াদের কাছে তাদের উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন বিক্রি করছে, যা আঙ্কারার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি মূলত ভারতের দিকে কেন্দ্রীভূত থাকায় এই চুক্তিতে পারমাণবিক কোনো উপাদানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা কম।

মক্কায় এই চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে এর ধর্মীয় ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেল। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন সৌদি আরব ইরাকি মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে। এই ত্রিদেশীয় জোট মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি শক্তিশালী ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


নির্বাচিত

মেক্সিকোতে ৪৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজের এক দশক পর তৎকালীন গভর্নর গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মেক্সিকোর ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় ৪৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন মোড় নিয়েছে। আলোচিত এই মামলায় তৎকালীন গেয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যাঞ্জেল অগিরেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন এবং পরিকল্পিতভাবে ঘটনার প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল এরনেস্টিনা গোডোই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক তদন্তে অগিরের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করার সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এই ফুটেজগুলো হস্তান্তরের কথা থাকলেও তিনি তা নষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা কারিগরি ভুল ছিল না। রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জেনেশুনে প্রমাণ ধ্বংসের একটি চক্রান্ত চালানো হয়েছিল।" এর আগে এই মামলায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল জেসুস মুরিলো কারামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর আইগুয়ালা শহর থেকে ‘আইওতজিনাপা রুরাল টিচার্স কলেজের’ ৪৩ জন শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাসে করে যাওয়ার সময় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পুলিশ এবং একটি শক্তিশালী মাদক চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তদন্তে উঠে আসে যে, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলোকে ঘিরে মাদক পাচারের কোনো যোগসূত্র ছিল এবং সেই রোষানলেই শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়। তবে দীর্ঘ এক দশকেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সন্ধান মেলেনি; এ পর্যন্ত মাত্র তিনজনের হাড়ের অবশিষ্টাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

২০১৪ সালের অক্টোবরে এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো জুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হলে গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অগিরে। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রশাসন শুরু থেকেই মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবামের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলাটি নতুন করে সচল করা হয়। নতুন এই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুপরিকল্পিতভাবে প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আড়াল করা যায়।

৪৩ শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাদের স্বজনেরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। নিখোঁজ এক শিক্ষার্থীর বাবা ক্লেমেন্টে রদ্রিগেজ এই গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "তাঁরা শুরু থেকেই অগিরেকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ঘটনার পেছনে যা ঘটেছে, তাঁকে তার সবটাই বলতে হবে।" যদিও মানবাধিকার সংস্থা ‘আগুস্তিন প্রো জুয়ারেজ হিউম্যান রাইটস সেন্টার’ জানিয়েছে যে, এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি পরিবারগুলোকে আগে জানানো হয়নি। তবুও যদি আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়, তবে দীর্ঘ এক দশক পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রকৃত সত্য ও সুবিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গাজায় প্রতিদিন একজন করে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় চলমান সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গত ৩০০ দিনে সেখানে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতের পাশাপাশি এই সময়ে আরও শত শত শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকরা বর্তমানে ভয়াবহ সামরিক অভিযানের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত গোলাবর্ষণ, বন্দুকযুদ্ধ এবং নৌবাহিনীর হামলার মুখে সেখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শিশুরা অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবার চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সামরিক অভিযানের কারণে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওসিএইচএ-র তথ্য অনুযায়ী, হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার তুবা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বেশ কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এর ফলে ১৪ শিশুসহ তিনটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই হামলায় দুই শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ১০ টন পশুখাদ্যসহ ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ২৫০টি ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ১ হাজার ৩৮০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটেমাটি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে, জেরুজালেম গভর্নরেটের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দুই দিনের অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ওসিএইচএ জানিয়েছে, চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মানবিক সহায়তাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে করে সাধারণ বাসিন্দাদের চিকিৎসা ও জরুরি সেবা গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং এসব বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সংকুচিত করার লক্ষ্যে আবারও এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি নতুন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো। ট্রাম্পের দাবি, অনেক বিদেশি পর্যটনের দোহাই দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করলেও তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে সেখানে সন্তান জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব হাসিল করা।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে এই আদেশ জারির সময় ট্রাম্প কড়া ভাষায় বলেন, "তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে একটি তামাশায় পরিণত করেছে।" মূলত অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

এর আগে গত জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের একটি পূর্ববর্তী উদ্যোগ বাতিল করে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের সেই রায়কে ট্রাম্প "খুবই দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে দমে না গিয়ে তিনি এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে এই অধিকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এই নতুন আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, এই আদেশের লক্ষ্য শুধু পর্যটক নয়, বরং আরও কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা। এর মধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সন্তান এবং বিদেশি সরকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বা তদবির চালানো ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিলারের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে যারা অনৈতিকভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ খুঁজছিল, তাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরও ট্রাম্প এমন একটি আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে বলা হয়েছিল, অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাবে না। তবে নিম্ন আদালতগুলো সেই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রতিটি শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারী। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকও এই সাংবিধানিক অবস্থান বহাল রেখেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং এর এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।" তবে ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছে। তাদের দাবি, ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সালের গৃহযুদ্ধের পর যখন এই সংশোধনী আনা হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাবেক দাসদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করা; এটি অবৈধ অভিবাসী বা বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় রয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ ‘এখতিয়ারের’ আওতাভুক্ত নন, ফলে তাদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অধিকার পেতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সংকুচিত করার এই চেষ্টা ট্রাম্পের বৃহত্তর অভিবাসন বিরোধী অভিযানেরই একটি প্রতিফলন। তার এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে লাখ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর থেকে বিশেষ সুরক্ষা সুবিধা প্রত্যাহার করা। বর্তমানে মার্কিন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা থাকলেও, ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশ দেশটির নাগরিকত্ব আইনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।


নির্বাচিত

রুশ ড্রোনের ‘সাফারি’ হামলায় আতঙ্কে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার ড্রোন ও বোমা হামলার ধরন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো নতুন ধরনের ড্রোন হামলাকে স্থানীয়রা ‘সাফারি’ নামে অভিহিত করছেন। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী নারী উদ্যোক্তা কাতেরিনা লাহুতার সামুদ্রিক খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুটি রুশ বোমা আঘাত হানে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই শহরটি রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধরন আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

নিজের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে কাতেরিনা লাহুতা বলেন, “ছয় মাস আগেও পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল, কিন্তু এখনকার মতো নয়। এখন এটি যেন একটি ‘সাফারি’তে পরিণত হয়েছে।” ইউক্রেনীয়দের ভাষায়, ড্রোনের মাধ্যমে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে খুঁজে খুঁজে আক্রমণ করার কৌশলকেই ‘সাফারি’ বলা হচ্ছে।

রয়টার্সের সাংবাদিকরা লাহুতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় বিস্ফোরকবাহী ছোট ও দ্রুতগতির ড্রোনের গুনগুন শব্দ শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন।

লাহুতা বলেন, “প্রতিটি দিনই যেন এক একটি যুদ্ধ। গ্রাহক কমে গেছে, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া এখন জনমনে ভয় সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যেই হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। আগে তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোনের পাশাপাশি এখন নিয়মিত গ্লাইড বোমাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরভ রয়টার্সকে বলেন, “শত্রুপক্ষ এখন বেসামরিক জনগণের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সড়কের ওপর প্রতিরক্ষামূলক জালের ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১২টি বাস ও ট্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালকদের সতর্ক করতে ড্রোন শনাক্তকারী মনিটর এবং যানবাহনের কাচ সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।

শহরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী আনিয়া সিভোভা বলেন, “শুনতে ভয়ানক লাগলেও আমরা এই জীবনেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আপাতত আমাদের অন্য কোনো পথ নেই।”

অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী তাতিয়ানা জানান, গত মাসে এক সপ্তাহের মধ্যে তার এলাকায় ছয়বার বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে গেছি। আমার ভেতরে আর কোনো আবেগ কাজ করে না।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।


নির্বাচিত

ইয়েমেনে সামরিক ছাউনিতে হুথিদের হামলা, ৩০ সেনা নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশের সরকারি সামরিক ব্যারাকে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ধ্বংসযজ্ঞের দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত সৌদি সমর্থিত হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস এবং ফার্স্ট মিলিটারি রিজিয়নের প্রশিক্ষণরত সেনাদের ওপর বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রক্তক্ষয়ী আঘাত হানা হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মারিবের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়েছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এই বর্বরোচিত আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানিয়ে মার্কিন দূতাবাস একে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন নাজরান শহরে হুথিদের ছোঁড়া প্রক্ষেপকের আঘাতে নারী ও শিশুসহ ১১ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনার দায় হুথিরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।

হামলা প্রসঙ্গে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাল্টা জবাব হিসেবে তারা এই আক্রমণ চালিয়েছেন এবং সেনাদের প্রতি সৌদি শিবির ছেড়ে নিজ গৃহে ফেরার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইয়েমেনের পরামর্শ ও পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতি আবদুল মালিক আল-মেখলাফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় মন্তব্য করেছেন যে প্রতিকূল চাপে পড়েই হুথিরা যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছে। সানা বিমানবন্দরে ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়, যার জেরে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ আক্রমণ ও সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ বর্তমানে চরম অস্থিরতার সম্মুখীন।


নির্বাচিত

থাইল্যান্ডে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ৭

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

থাইল্যান্ডের নন্তাবুরি প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর চালানো ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন নন্তাবুরি স্কুলে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মাহুতি দেয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত হামলাকারী ওই বিদ্যালয়েরই নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেগুনি রঙের ক্রীড়া পোশাক পরিহিত ওই কিশোর হঠাৎ স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এক শিক্ষার্থী জানায়, বন্দুকধারী কয়েক ডজন রাউন্ড গুলি ছুড়েছে এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে নন্তাবুরি প্রদেশের প্লাই ব্যাং উপজেলা পুলিশের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাসাকর্ন চাইতাউইওং জানিয়েছেন, "হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে নিহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।" স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পো তেখ তুং ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকর্মীরা এই হামলার খবর পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকের শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সেখানে দ্রুত একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পুরো বিদ্যালয় এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ভেতরে আটকে পড়া সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হাত ইয়াই জেলার একটি স্কুলেও বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হন। নন্তাবুরির এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি থাইল্যান্ডের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।


নির্বাচিত

প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গাা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। ফেরত পাঠানোর আগে নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে দেশটির সরকার।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিহ্নিত ও ফেরত পাঠানোর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, তবে আমরা পুরো মানদণ্ড ও শর্তাবলী পর্যালোচনা করছি। যদি উপযুক্ত মনে হয়, কেবল তখনই তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও জীবন ঝুঁকিতে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করছে।’

এর আগে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ায় দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কমিউনিটি স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়ো হলে তাদের আটক করে কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভিযোগ করেছেন, উত্তরাঞ্চলের পেনাং অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছেন। এরপর তারা সহায়তা চাইতে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ে যান।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মালয়েশিয়া সরকারকে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক ব্রায়োনি লাউ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমার জান্তার নির্মমতার শিকার রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ফেরত না পাঠিয়ে, এই সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকারের উচিত আঞ্চলিক নেতৃত্ব দেওয়া।’

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় মালয়েশিয়া এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি।


নির্বাচিত

পোলট্রি মুরগির মাংসে মিলল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এসব দেশের মুরগির মাংসের নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নির্ধারিত বৈশ্বিক সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হলো এমন এক ধরনের ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ বা উপাদান, যা ক্ষতিকারক অনুজীবদের ধ্বংস করে বা তাদের বংশবৃদ্ধি ও বৃদ্ধিকে থামিয়ে দেয়। অর্থাৎ, যেসব উপাদান আমাদের শরীরে বা পরিবেশে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবগুলোকে মেরে ফেলে বা নিষ্ক্রিয় করে, সেগুলোই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল।

মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকে এ সমস্যার প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে বলা হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসাবে ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড। মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল।

২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। নমুনাগুলো সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়ে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত নমুনার একাংশ সংগ্রহ করা হয় বাজারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের উপযোগী মুরগি থাকা খামার থেকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইইউ-এর দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

গবেষকেরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মুরগির খাদ্য ও পানীয় জলের মাধ্যমেও এই দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এতদিন এশিয়ায় একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ পরিমাপের এমন কোনো তথ্য ছিল না। আশা করছি, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।

ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে বর্তমান গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।


নির্বাচিত

banner close