রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ মাঘ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


ওয়াশিংটনে গাজা ‘শান্তি পর্ষদ’র প্রথম বৈঠক ১৯ ফেব্রুয়ারি

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজা নিয়ে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদ’র এটি হবে প্রথম বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও বোর্ডে থাকা চারটি দেশের কূটনীতিকদের বরাতে এই বৈঠকের কথা জানা গেছে। তবে পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সময়সূচি বা কাঠামো বদলাতেও পারে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকটি ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের ঠিক আগের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। ফলে গাজা ইস্যুতে এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ছে।

এই বৈঠক শুধু রাজনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গাজা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহও এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি নিজেই এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই বোর্ডের লক্ষ্য হবে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের সমাধান খোঁজা। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ আশঙ্কা করছেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে।

বিশ্বের অনেক দেশই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশ এতে যুক্ত হলেও ইউরোপসহ পশ্চিমা অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র এখনো এই উদ্যোগে যোগ দেয়নি।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়া হয়। এই উদ্যোগে ‘বোর্ড অব পিস’ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভূমিকার কথাও বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবরে গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যা ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ ছিল। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সম্মতি দেয়।

গত বছরের শেষ দিকে প্রকাশিত ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ডের দায়িত্ব ছিল গাজার অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা তদারকি করা। পরে ট্রাম্প জানান, বোর্ডের কাজ শুধু গাজাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিয়েও কাজ করবে।

তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, কোনো বিদেশি ভূখণ্ডের প্রশাসনিক তদারকি করা ঔপনিবেশিক কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দেয়। আরও অভিযোগ উঠেছে, এই বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনও খুবই নাজুক। বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। পুরো অঞ্চলজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্যসংকট। গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।


মৌলভীবাজার–২ কুলাউড়া আসন: বাসদ মার্কসবাদী সংসদ সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনের বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত জেলার একমাত্র নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী তার ২০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুলাউড়ার ডাকবাংলো মাঠে পঞ্চব্রীহি ধানের আবিষ্কারক ও জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খসরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী উল্লেখ করেন শর্তহীনভাবে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে সংবিধানে যুক্ত করা; বয়স্ক, দুস্থ, অনাথ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মানুষের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিশ্চিত করা; বেকারদের কর্মসংস্থান ও ভাতা প্রদান; বিনামূল্যে চিকিৎসা, হেলথ কার্ড ও ওয়ার্ডভিত্তিক হেলথ সেন্টার চালু; স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা, কৃষি খাতে জাতীয় বাজেটের ৪০ শতাংশ বরাদ্দ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সার–বীজে ভর্তুকি, পচনশীল পণ্য সংরক্ষণে সরকারি হিমাগার নির্মাণ, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, শিশুশ্রম বন্ধ, নারী আসন ১০০-তে উন্নীত করে সরাসরি নির্বাচন, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমমজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মাদক ও জুয়া বন্ধ, প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, রেলওয়ের আধুনিকায়ন, হাকালুকি হাওর সুরক্ষা, কুলাউড়ার বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ের দাবি জানান। তিনি পেশিশক্তির রাজনীতির বিপরীতে আদর্শ, মানবিকতা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘কাঁচি মার্কায়’ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, সিপিবির মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান ও বাংলাদেশ জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম।


ইরানের দাঙ্গায় যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল

ইরানের দাঙ্গায় আগুন জ্বলছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসলামি বিপ্লবের প্রায় সাড়ে ৪ দশকের মধ্যে প্রথম সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছিল ইরান। অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ একপর্যায়ে দাঙ্গায় রূপ নেয়। এতে সরকারি হিসাবেই সাড়ে তিন সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানী হয়। দেশটি শুরু থেকেই এ বিশৃঙ্খলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত ছিল বলে অভিযোগ করলেও তার কোনো অকাট্য প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। তবে আসলেই তাতে ওয়াশিংটনের ইন্ধন ছিল বলে খোদ মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট কেনেথ হোমার বেসেন্ট স্বীকার করেছেন।

অর্থমন্ত্রী স্কট কেনেথ স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইরানে মার্কিন ডলারের ঘাটতি তৈরি করেছিল। এ পদক্ষেপের কারণে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক পতন ঘটে এবং এমন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়, যা গত ডিসেম্বরের দাঙ্গার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে সিনেটর কেটি এলিজাবেথ বয়েড দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট কেনেথকে প্রশ্ন করেন- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি জোরদার করতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যা করেছি তা হলো দেশটিতে ডলারের সংকট তৈরি করা, এটি ডিসেম্বরে একটি দ্রুত এবং বিশাল চূড়ান্ত পরিণতির দিকে মোড় নেয়, যখন ইরানের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তখন টাকা ছাপাতে হয়েছিল, দেশটির মুদ্রার মান হু হু করে পড়ে যায় এবং মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নেয়। ডলার সংকট তৈরি করার পাশাপাশি, একই চাপ প্রয়োগের অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানিও ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনে। এর মাধ্যমে সাধারণ ইরানিদের ওপর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কঠোর করা হয় এবং প্রকাশ্যে দেশটিতে আর্থিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।

গত ২০ জানুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট কেনেথ বলেছিলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত ইরানের মুদ্রাকে দুর্বল করার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছিল।

গত ২৮ ডিসেম্বর যখন মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়, তখন ইসরায়েলের মোসাদের সঙ্গে যুক্ত সুসংগঠিত দলগুলো সেখানে অনুপ্রবেশ করে। তারা বিক্ষোভকারী, নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি ভবন এবং মসজিদে হামলা চালায় এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষোভকে পরিকল্পিত সহিংসতায় রূপান্তর করে।

ইরানি পুলিশ দাঙ্গাকারী এবং তাদের পরিকল্পনাকারীদের আটক করেছে, যাদের মধ্যে বিদেশ থেকে অর্থ গ্রহণকারী এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনকারী ব্যক্তিরাও রয়েছে।

ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদ রেজা রাদান ব্যাখ্যা করেছেন যে, সমাবেশগুলো প্রথমে ‘বাজারের ব্যবসায়ীদের বৈধ অর্থনৈতিক প্রতিবাদ ছিল,’ কিন্তু ‘পরবর্তীতে সেগুলো দাঙ্গায় রূপ নেয়।’

তিনি উল্লেখ করেন, আটক করা বেশ কয়েকজন ডলারের বিনিময়ে কাজ করার কথা স্বীকারও করেছেন, যা বিদেশি এনজিও এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমর্থনের দিকে ইঙ্গিত দেয়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো পরে ওই দাঙ্গা এবং সরকারবিরোধী হামলায় মোসাদ-সংশ্লিষ্ট উপাদানের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া উত্তর ইরাকে অবস্থিত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত উগ্রপন্থিরাও সহিংসতায় যোগ দিতে ইরানে প্রবেশ করেছিল। বছরের পর বছর ধরে ইরান কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানসহ সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর আন্তঃসীমান্ত হামলার শিকার হচ্ছে, যারা প্রায়ই বিদেশি মদদে কাজ করে থাকে।

ট্রাম্প এবং তার ইসরায়েলি সহযোগীরা বারবার বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের দমন-পীড়ন নিয়ে ‘সাজানো গল্প’ ব্যবহার করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সংঘাত ও যুদ্ধের দিকে এগোনো যায়।

ইরানকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের ‘নতুন ফাঁদ’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এনিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর তিনি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আদেশে কত শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে তা বলা হয়নি। তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ইরান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি বা অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করা হলে- এমন যেকোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

নির্বাহী আদেশটির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। তবে গত শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আবারও বলেছেন, ইরানের হাতে ‘কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না’।

এটি এমন সময়ে হলো যখন ওমানে আলোচনা করছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তারা। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হুমকি আসছিল উভয় পক্ষ থেকেই।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিজের সামাজিকমাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ-এ ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ ব্যবসা করে তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।

গত ১২ জানুয়ারি তিনি লিখেছিলেন, অবিলম্বে কার্যকর হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ওই সময় এই শুল্ক কিভাবে কার্যকর হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। প্রসঙ্গত, ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।

হোয়াইট হাউস বলছে, ইরানকে ঘিরে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির বিষয়টিই উঠে এসেছে সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে। তবে একইসঙ্গে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে এই আদেশে সংশোধন আনতে পারেন।

এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করছেন। এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, মিত্র দেশগুলো ও স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।


লাখ লাখ উটকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরব ঘোষণা দিয়েছে, তারা দেশটির লাখ লাখ উটের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মূল্যবান এই প্রাণীগুলোর আরও ভালো ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ উট পালন খাতকে আরো কার্যকর করে তুলবে এবং উটগুলোর পরিচয় ও মালিকানা সংক্রান্ত একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি করবে।

সৌদি সরকারের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে এই নথির ছবিও দেখানো হয়েছে। সেখানে সবুজ রঙের একটি পাসপোর্ট দেখা যায়, যার ওপর রয়েছে দেশের প্রতীক এবং সোনালি রঙের একটি উটের ছবি।

২০২৪ সালে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ২২ লাখ উট রয়েছে, যা প্রতি বছর দেশটির অর্থনীতিতে দুই বিলিয়ন রিয়ালের বেশি অবদান রাখছে।

আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি উট রয়েছে, যার মধ্যে এক কোটি ৭০ লাখ আরব বিশ্বে। আরব দেশগুলোর মধ্যে উটের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া। এরপর রয়েছে সুদান, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরব এবং ইয়েমেন।

উট সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ। দেশটিতে উটের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়, যেখানে সেরা উটগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়।

জাতীয় দিবস, বিশেষ ও ঐতিহাসিক উপলক্ষে সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী উটের উপস্থিতি ছাড়া যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। সৌদি আরব এবং সামগ্রিকভাবে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে উটের ভূমিকার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

উটের ইতিহাস

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০ শতকের শুরুর দিকে উটই ছিল ইসলামের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এমনকি সুদূর পূর্বাঞ্চল থেকে আসা হাজি ও হাজি কাফেলাগুলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উটের পিঠে করেই সৌদি আরবে পৌঁছাতেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের শুষ্ক মরুভূমিতে পরিবহনের জন্য উট ব্যবহারের ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী পুরোনো। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে পাথরে খোদাই করা উটের ভাস্কর্যগুলো বিশ্বে পশুপাখি নিয়ে আঁকা প্রাচীনতম চিত্র হতে পারে।

২০১৮ সালে প্রথম এগুলো খনন করে বের করার সময় গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, সেগুলো প্রায় দুই হাজার বছর আগে নির্মিত।

জর্ডানের প্রাচীন নগরী পেত্রায় পাওয়া নিদর্শনের সঙ্গে সাদৃশ্যের কারণে এই অনুমান করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী গবেষণায় এসব উটের ছবির বয়স ৭ থেকে ৮ হাজার বছর বলে নির্ধারণ করা হয়।

পাথরের খোদাইয়ের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা গবেষকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ গুহাচিত্রের মতো এখানে সাধারণত কোনো জৈব উপাদান পাওয়া যায় না, যা পরীক্ষা করা সম্ভব। এই অঞ্চলে এত উচ্চমানের শিলাচিত্র পাওয়া যাওয়াও বিরল।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স সাময়িকীতে তাদের গবেষণার ফল প্রকাশ করে।

তারা ভাস্কর্যগুলোর ভাঙনের ধরন, বিভিন্ন চিহ্ন এবং ওই এলাকায় পাওয়া প্রাণীর হাড় বিশ্লেষণ করে নতুন করে এগুলোর বয়স নির্ধারণ করেন।

এই স্মৃতিস্তম্ভগুলোর প্রাচীনত্ব এমন যে, সেগুলো পাঁচ হাজার বছর পুরোনো প্রস্তর যুগেরও আগের কিংবা মিশরের গিজার পিরামিডের চেয়েও পুরোনো হতে পারে, যেগুলোর বয়স প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবো: আরাগচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ তার সরকারি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে আমরা আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা করবো না। তবে আমরা এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানবো।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। ওমানে দুপক্ষের পরোক্ষ আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বলেন, ইরান নিয়ে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করেছে ওয়াশিংটন, যা উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে পারবে।

ট্রাম্প ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের বিষয়েও আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। ইরান মনে হচ্ছে একটি চুক্তি করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে আবার দেখা করতে যাচ্ছি। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান চালিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তারা এমন কিছুর মুখোমুখি আর হতে চায় না।

গত বছরের জুনে চালানো ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানে অনুষ্ঠিত হওয়া আলোচনা ইতিবাচক এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে একটি ইতিবাচক কাঠামোতে পৌছানো সম্ভব হতে পারে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি বলেন, যদি আমরা এই ইতিবাচক পথে এগোতে পারি, তাহলে আমি বলতে পারি যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে একটি ইতিবাচক কাঠামোতে পৌছানো সম্ভব।


হার্ভার্ডের সঙ্গে সব একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে পেন্টাগন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে সামরিক শিক্ষা, ফেলোশিপ এবং সার্টিফিকেট কোর্স সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পেন্টাগন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

আইভি লিগভুক্ত প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ‘ওক’ আদর্শ বা অতি-উদারপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই বিরোধের জের ধরেই পেন্টাগন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিলো।

এনিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পেন্টাগন আমাদের সেরা এবং মেধাবী কর্মকর্তাদের হার্ভার্ডে পাঠিয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের লড়াকু সৈনিকদের গুরুত্ব ও মূল্য বুঝতে পারবে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘কিন্তু দেখা গেছে, আমাদের অনেক কর্মকর্তাই হার্ভার্ডের রঙে রঞ্জিত হয়ে ফিরে আসছেন। তাদের মাথা বিশ্বায়ন আর উগ্র আদর্শে ঠাসা, যা আমাদের বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে কোনো কাজে আসে না।’

পেন্টাগন জানায়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই বিচ্ছেদ কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে যেসব সামরিক কর্মকর্তা সেখানে অধ্যয়নরত আছেন, তারা তাদের কোর্স শেষ করার সুযোগ পাবেন।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে হেগসেথ লিখেন, ‘হার্ভার্ড হলো ‘ওক’ (অতি-উদারপন্থী); কিন্তু যুদ্ধ দপ্তর (পেন্টাগন) তা নয়।’

হেগসেথ আরও জানান, সামরিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার জন্য পেন্টাগন এখন আইভি লিগভুক্ত অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা আমাদের নিজস্ব সামরিক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছে, তা যাচাই করা।’

পিট হেগসেথ নিজেও আইভি লিগের ছাত্র ছিলেন। তিনি প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন। তবে খবর রয়েছে যে, তিনি হার্ভার্ডের ডিগ্রি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ফক্স নিউজের সাবেক এই সঞ্চালক আগে থেকেই হার্ভার্ডের বামপন্থী নীতির কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় হার্ভার্ডসহ অন্যান্য কলেজগুলো ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগে তারা আইনি ব্যবস্থা এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা দাবি করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এমন চাপে একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ডের সাবেক প্রেসিডেন্টসহ অনেক শিক্ষাবিদ।

এর আগে ট্রাম্প হার্ভার্ডের ২৬০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি অনুদান কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশের ওপরও কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি, যারা হার্ভার্ডের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।


ট্রাম্প প্রশাসনের মানচিত্রে ভারতের ভাগে গেল পুরো কাশ্মীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নয়া দিল্লির সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতার কথা জানাতে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে তাতে পুরো কাশ্মীরকেই ভারতের অন্তর্গত দেখানো হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এক্সে মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়ের পোস্টে ভারতের যে মানচিত্র দেওয়া হয়েছে তাতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীর তো বটেই এমনকি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরও স্থান পেয়েছে।

একই মানচিত্রে চীনের দখলে থাকা কাশ্মীরের অংশ ‘আকসাই চীনও’ রয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। তবে ভারতের অন্যসব গণমাধ্যমে কেবল পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ‘আজাদ কাশ্মীরের’ অংশই প্রাধান্য পেয়েছে।

এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কাশ্মীর ইস্যুতে কার্যত ভারতের দাবিই মেনে নিল বলে দাবি করছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভারতের যত মানচিত্র প্রকাশ করেছিল তাতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ছিল না, এবারই প্রথম এমনটা হয়েছে বলেও ভাষ্য তাদের।

একাধিক মার্কিন পণ্যের ভারতে ঢুকতে শুল্ক কমছে, এমনটা জানাতে গিয়ে ওই মানচিত্রসহ পোস্ট দেয় মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়। তাতে বলা হয়, কাঠবাদাম থেকে শুরু করে অসংখ্য পণ্য ভারতে নতুন বাজার পেতে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছিল। তার মধ্যে এমন মানচিত্র ইসলামাবাদের জন্য বড় ধাক্কা বলেই বিবেচিত হবে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্য বাড়াতে তৎপর। তারা এরই মধ্যে বেলুচিস্তানে শতাধিক কোটি ডলারের বিনিয়োগে রাজি হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে খবরও বেরিয়েছে।

পাকিস্তানের বিরল খনিজেও ওয়াশিংটনের চোখ রয়েছে, তারা পাকিস্তানের কাছে সামরিক সরঞ্জামও বেচছে।

শনিবার ভারতীয় সময় ভোরের দিকে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার কথা জানায় ভারত ও আমেরিকা।

এই বাণিজ্য-সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল পরে জানান, নতুন এ সমঝোতা কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের শুল্ক ১৮ শতাংশ হবে, ভারতের বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক, গৃহসজ্জা, রাসায়নিক শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা খুলে যাবে। এর পাশাপাশি অনেক ভারতীয় পণ্যের উপর কোনও শুল্ক চাপবে না ট্রাম্প প্রশাসন।

সমঝোতা অনুযায়ী মার্কিন কৃষিপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতও আমদানি শুল্ক কমাচ্ছে, কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে তুলেও নিচ্ছে, জানিয়েছে আনন্দবাজার।


ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক পরোক্ষ আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে উচ্চাশা প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর নিজের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে তাঁদের খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং আলোচনার এই ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী সপ্তাহে উভয় পক্ষ আবারও বৈঠকে বসবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে চরম উত্তেজনার যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, এই আলোচনাকে সেই যুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকলেও ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। ওমানে যখন দুই দেশের প্রতিনিধিরা টেবিলে বসেছিলেন, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ অনুযায়ী, যেসব দেশ ইরান থেকে পণ্য কেনা অব্যাহত রাখবে, তাদের রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র উচ্চহারে ‘সেকেন্ডারি শুল্ক’ আরোপ করবে। মূলত ইরানের অর্থনৈতিক উৎসগুলো বন্ধ করে এবং তাদের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে একটি স্থায়ী ও কঠিন চুক্তিতে বাধ্য করতেই ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কাটের এই বৈঠকে মূলত পরমাণু ইস্যু নিয়েই বিস্তারিত ও কারিগরি আলোচনা হয়েছে। তবে তেহরানের বিতর্কিত ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে এই দফায় কোনো কথা ওঠেনি। ইরান এই বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করবে না। এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’। তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো বা ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠানোর বদলে অন্য কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন সবার নজর আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার বৈঠকের দিকে।


মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা, ইতিবাচক বলছেন আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ইরানের আলোচক দল। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ওমান। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার গতিপ্রকৃতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, ওমান কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকগুলো পরোক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অপর পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিও আমাদের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটি একটি ভালো সূচনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি আমরা এই ইতিবাচক পথে এগোতে পারি, তাহলে আমি বলতে পারি যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে একটি ইতিবাচক কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব।’

এই বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি পরস্পরের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আরাঘচি। তিনি জানান, ইরানের উদ্বেগ, স্বার্থ এবং জনগণের অধিকারের বিষয়গুলো বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং অপর পক্ষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হয়েছে। গত জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর এটিই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।

প্রাথমিকভাবে মিশর, তুরস্ক ও কাতারের উদ্যোগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই বৈঠকের আয়োজন করার পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত ওমানকে ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এর আগেও গত বছর ওমানে এই ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই কূটনীতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে এই বৈঠকটি একটি ইতিবাচক সূচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ইসলামাবাদে মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জুমার নামাজের ধর্মীয় আবহ মুহূর্তেই রূপ নিল এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডিতে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ চলাকালে শক্তিশালী এক আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুরো মসজিদ এলাকা কেঁপে ওঠে এবং নিমিষেই চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর আহাজারি ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালে পেশোয়ারের মসজিদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এটিই পাকিস্তানে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী হতাহতের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বর্বরোচিত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১৬৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইসলামাবাদ প্রশাসন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘তারা চিকিৎসার জন্য ১৬৯ জনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’ ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনায় একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানিয়েছেন যে, ‘হামলকারীকে মসজিদের প্রবেশদ্বারে আটকে দেওয়া হয়। তখন তিনি নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।’ জুমার নামাজের ব্যস্ত সময়ে আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণটি ঘটায় বলে পুলিশ সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্যের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) এক সন্ত্রাসী এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের জানালার সব কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মুসল্লিদের নিথর দেহ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই অমানবিক ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।

ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ডিস্ট্রিক্ট জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সের গেটে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এমনকি ২০০৮ সালে ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ভয়াবহ ট্রাক বোমা হামলার স্মৃতি এখনো শহরবাসীর মনে আতঙ্ক জাগায়, যেখানে ৬৩ জন নিহত হয়েছিলেন। আজকের এই নতুন হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশাকে আবারও বিশ্ব দরবারে উন্মোচিত করল।

সূত্র: সিএনএন, এএফপি, আলজাজিরা


বৈঠক করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনার জন্য শিগগিরই ওমানে বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গেল মাসে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে সরকারের সহিংস অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পর এ আলোচনা হতে হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ওই দমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

আলোচনার স্থান ও পরিসর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় একপর্যায়ে এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ আলোচনা এগোচ্ছে। বিবিসি লিখেছে, দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। আলোচনা সফল হলে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ পরিত্যাগ করতে হবে। আলোচনায় ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নিজ নাগরিকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে।

তবে ইরান বলেছে, আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যের আদৌ সমাধান হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন, কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা, একটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষায় একে ‘নৌবহর’ বলা হচ্ছে।

ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা হলে তারা শক্ত হাতে জবাব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানবে।

ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী ‘আঙুল ট্রিগারে রেখেই’ প্রস্তুত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক। ওই যুদ্ধে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান দাবি করেছে, ওই হামলার পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

বিবিসি লিখেছে, নিজের দেশে চাপের মুখে থাকা ইরানি নেতৃত্বের জন্য এই আলোচনা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকানোর শেষ সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান সরকার সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন শুরু করলে ট্রাম্পের তরফে হুমকি দেওয়া হয়। গভীর অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভে অনেকেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান দাবি করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বলেছে, তারা অন্তত ৬,৮৮৩ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বর্তমান সংকট আবারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে, যা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির বহু বছরের বিরোধ।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অংশ। ইরান বলছে, নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আহ্বান তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিছু ছাড় দিতে তারা রাজি হতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য একটি আঞ্চলিক কনসোর্টিয়াম গঠন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আগে এ প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে ইসরায়েলের আকস্মিক যুদ্ধ শুরুর পর তা ভেস্তে যায়।

একইসঙ্গে ইরান বলেছে, তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং অঞ্চলে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। মিত্রগোষ্ঠীর জোটকে তেহরান ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বলে, যার মধ্যে গাজায় হামাস, ইরাকে মিলিশিয়া, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনে হুথিরা রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার বলেছেন, যদি ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ থাকে তাহলে তিনি আরাগচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনা চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আলোচনায় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে তেহরান। সরকারবিরোধীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দেশটির শাসকদের জন্য তা হবে জীবনরক্ষার সুযোগ।

আলোচনার ফলের ওপর নির্ভর করে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি থেকে সরে আসার একটি পথ তৈরি হতে পারে।


আরো বড় বহর নিয়ে পুনরায় গাজা অভিমুখে যাত্রা করবে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় আরোপিত দীর্ঘকালীন অবরোধ ছিন্ন করে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের একটি বিশাল নৌবহর পুনরায় সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্বজুড়ে সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে আগামী মাসে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করবে বলে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের একজন সদস্য।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামক এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৯ মার্চ নির্ধারিত নতুন এই মিশনটি হবে ‘ফিলিস্তিনের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ’, যেখানে ‘১০০টিরও বেশি দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ’ অংশ নেবেন।

অভিযাত্রার রুট ও পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রাজিলীয় কর্মী থিয়াগো আভিলা বলেন, ‘আমরা বার্সেলোনা, তিউনিস, ইতালি এবং আরো কয়েকটি বন্দর থেকে যাত্রা করব, যেগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।’ সংগঠনটির তথ্যমতে, জলপথের পাশাপাশি একই দিনে গাজার উদ্দেশে একটি স্থলপথের বহরও যাত্রা শুরু করবে, যদিও সেটি ঠিক কোথা থেকে রওনা হবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবরেও এই কর্মীরা সমুদ্রপথে ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী তাদের পথরোধ করে আটক ও পরে বহিষ্কার করে।

ইসরায়েল বর্তমানে গাজার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে প্রবেশকারী সকল ত্রাণ কঠোরভাবে যাচাইয়ের নীতি বজায় রাখলেও কর্মীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তারা তাদের এই উদ্যোগকে ‘গাজায় গণহত্যা, অবরোধ, ব্যাপক অনাহার এবং বেসামরিক জীবনের ধ্বংসের বিরুদ্ধে একটি অহিংস প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের প্রতি ক্রমবর্ধমান সমর্থন ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদ হিসেবেই এই বিশাল সম্মিলিত অভিযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


এপস্টেইনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন চমস্কি

নোয়াম চমস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে জেফরি এপস্টেইন ঘিরে যৌনপাচার সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ফাইলসে প্রখ্যাত মার্কিন ভাষাবিদ ও চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কির সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সখ্যতার কথা উঠে এসেছে।

জানা গেছে, ই-মেইলে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এপস্টেইনকে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শও দিতে চমস্কি।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেছে, যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারের অভিযোগ নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘নোংরা’ উল্লেখ করেছিলেন এপস্টেইন। আর এ বিষয়ে তিনি নোয়াম চমস্কির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন।

নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চমস্কির কাছে কিছু ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন। ই-মেইলে চমস্কির কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কী তাকে নিয়ে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় ‘আত্মরক্ষামূলক’ কিছু করবেন, না বিষয়টি ‘উপেক্ষা’র চেষ্টা করবেন।

ওই মেইলের জবাবে বলা হয়, বলতে কষ্ট হচ্ছে, তবে আমার মতে বিষয়টি উপেক্ষা করা সবচেয়ে ভালো।

এপস্টেইন ফাইলসের এসব তথ্যের বিষয়ে বিবিসির তরফে চমস্কির স্ত্রী ও তার মুখপাত্র ভ্যালেরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিবিসি বলছে, নথিতে চমস্কির নাম থাকা মানেই তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, বিষয়টি তা নয়।

২০২৩ সালে ৯৭ বছর বয়সী নোয়াম চমস্কি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রথম কথা হলো, এটি আপনার বা অন্য কারও জানার বিষয় নয়। দ্বিতীয়ত, আমি তাকে চিনতাম এবং মাঝেমধ্যে আমাদের দেখা হতো।


banner close