পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
সামরিক হামলা চালানো থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখতে মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন চারজন রিপাবলিকান সিনেটরও।
সিনেটে অনুষ্ঠিত ৫০-৪৭ ভোটের এই ফলাফলকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সাথে যোগ দেন রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং বিল ক্যাসিডি। তবে ডেমোক্র্যাট দলের জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটি ট্রাম্পকে এমন একটি যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার প্রথম পদক্ষেপ, যার জন্য তিনি কখনোই কংগ্রেসের অনুমতি নেননি।
রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন, ‘তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের সমর্থক হলেও হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখেছে।’ তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লুইজিয়ানার মানুষ, এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসন স্পষ্ট তথ্য না দেওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন বা যুদ্ধের মেয়াদ বৃদ্ধি সমর্থন করা যায় না।’
সিনেটের মাইনোরিটি লিডার চার্লস ই শুমার ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্ট একজন শিশুর মতো, যে কি না একটি লোড করা বন্দুক নিয়ে খেলছে। ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব সমর্থনের এটাই উপযুক্ত সময়।’
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার রেজ্যুলেশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কোনো সংঘাত শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেখান থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হয়। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে গত ১ মে এই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘শত্রুতা বন্ধ হয়েছে’, যদিও ইরানের ওপর এখনো মার্কিন নৌ-অবরোধ বলবৎ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির এই সময়টিই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্কের সঠিক সময়।’
জরিপ বলছে, এই যুদ্ধ আমেরিকানদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। ‘নিউইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা’র সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল, যেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন।
তবে এই প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হতে আরও বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হবে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এটি পাস হতে হবে এবং ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই এতে ‘ভেটো’ দেবেন। সেই ভেটো কাটাতে হলে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা অত্যন্ত কঠিন।
সিনেটর টিম কেইন মনে করেন, প্রতিটি ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে, আমেরিকান জনগণ এই যুদ্ধ পছন্দ করছে না। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তার জনপ্রিয়তার বিষয়ে পৃথিবীতে অন্য সবার চেয়ে বেশি সচেতন—আর এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ট্রাম্প-ভ্যান্সের ইতিবাচক বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইতিবাচক মন্তব্যের পরপরই বুধবার দুটি তেলবাহী চীনা ট্যাংকার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য (শিপিং ডেটা) বিশ্লেষণে এই চিত্র দেখা গেছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধ ‘খুব দ্রুতই’ শেষ হয়ে যাবে। একই সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে শান্তি চুক্তির জোরালো সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’
সংঘাত নিরসনে তেহরান নতুন একটি প্রস্তাব দেওয়ার পর ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজই (হামলার) হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলাম আমি, বড়জোর এক ঘণ্টা বাকি ছিল।’
তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতারা একটি চুক্তির জন্য অনুনয়-বিনয় করছেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হামলা চালানো হবে।’
প্রায় তিন মাস আগে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে শুরু করা এই যুদ্ধ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আবার চুক্তিতে রাজি না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকিও দিয়ে গেছেন।
আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে তেলের উচ্চমূল্য এবং জনপ্রিয়তায় ধস নামায় ট্রাম্পের ওপর দ্রুত এই সংকটের সমাধান করার জন্য প্রচণ্ড ঘরোয়া রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
শিপিং ডেটা অনুযায়ী, ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহনকারী সুপার ট্যাংকারগুলোর মধ্যে চীনের এই দুটি জাহাজ বুধবার সংকীর্ণ ওই প্রণালী পার হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে আসা এসব ইতিবাচক সংকেতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি ১১০.১৬ ডলারে নেমে আসে।
জেডি ভ্যান্স অবশ্য ইরানের বিভক্ত নেতৃত্বের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তেহরানের আলোচক দলের অবস্থান সবসময় পুরোপুরি পরিষ্কার থাকে না।’ তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের নিজস্ব অবস্থান বা শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের এই নীতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ওই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বন্ধ করা।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ট্রাম্প হামলা স্থগিত করেছেন কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, ইরানের ওপর আক্রমণ করলে তার ‘কড়া সামরিক জবাব’ দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর বাসভবনের একাংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে নির্মাণের অভিযোগে গত সোমবার পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত দুটি পৃথক নোটিশ জারি করা হয়েছে। একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে অভিষেকের মালিকানাধীন সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে এবং অন্যটি দেওয়া হয়েছে তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরসভার দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮(এ) নম্বরে অবস্থিত অভিষেকের নিজস্ব বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের ১২১ নম্বরে লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সম্পত্তিতে বেশ কিছু অংশ আইনবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। বিল্ডিং বিভাগের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, এই নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। মূলত নকশা বহির্ভূত অংশগুলো শনাক্ত করেই এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদেশে আরও জানানো হয়েছে যে, এই নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অংশগুলো নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন করা না হয়, তবে মিউনিসিপাল কমিশনার স্বয়ং সেই বর্ধিত অংশ ভাঙার উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককেই বহন করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সাত দিনের মধ্যে বাড়িগুলোর সম্পূর্ণ কাঠামোগত তথ্য এবং 'অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িং' জমা দেওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী; তিনি পশ্চিমবঙ্গের সদ্য বিদায় নেওয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপন ভাইপো। ২০১১ সালে রাজনীতিতে আসা অভিষেক বর্তমানে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতো একজন প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে পুরসভার এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় ধরনের জয় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাজ্যজুড়ে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী বর্তমানে রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। এমন এক প্রতিকূল সময়ে দলীয় প্রধানের ভাইপোর বাড়িতে পুরসভার এই হানা এবং ভাঙার নোটিশ প্রদান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক মোড় নিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টির ওপর গভীর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের বিরুদ্ধে একটি গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মঙ্গলবার জেরুজালেমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্মোতরিচ নিজেই এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিধিমালা উপেক্ষা করে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন এবং আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্মোতরিচ ছাড়াও এই একই অভিযোগে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আরও তিনজন পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আইডিএফ-এর ওই কর্মকর্তাদের নাম ও পরিচয় এবং পরোয়ানা জারির সুনির্দিষ্ট তারিখ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিক্রিয়ায় বেজালেল স্মোতরিচ আইসিসি-কে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, আইসিসি চায় ইসরায়েল নিরাপত্তার দিক থেকে ‘আত্মহত্যা’ করুক। পক্ষপাতদুষ্ট কোনো সংস্থার ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’ নির্দেশনা ইসরায়েল সরকার গ্রহণ করবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তাঁর মতে, ইউরোপের অনেক দেশ এখনও ইসরায়েল ও ইহুদি প্রশ্নে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করে আসছে।
পশ্চিম তীরের দখলদারিত্বের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে স্মোতরিচ ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টেনে আনেন। তিনি বলেন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তৌরাত এবং বাইবেলে উল্লেখ আছে যে বর্তমান পশ্চিম তীর তথা জুদেয়া ও সামারিয়া হলো ইহুদিদের আদি মাতৃভূমি। ইসরায়েল সরকার কেবল সেই ভূমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং এটি কোনো অপরাধ হতে পারে না। মূলত এই আদর্শিক অবস্থান থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কড়া সমালোচনা সত্ত্বেও বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইসিসি’র এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের প্রভাবশালী এই রাজনীতিবিদদের বিদেশ ভ্রমণে বড় ধরণের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেহেতু আইসিসি’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই এই ঘটনাটি ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম তীরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আদালতের এই আইনি লড়াই আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক নতুন ও জটিল মাত্রা যোগ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলার এক নিরাপত্তাকর্মী, দুই পথচারীসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ নামের ওই মসজিদে দুই কিশোর বন্দুকধারী গুলি চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে সন্দেহভাজন ওই দুই হামলাকারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তারা নিজেদের গুলিতেই আত্মহত্যা করেছে।
সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এফবিআই সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় এই মসজিদে হওয়া হামলাটিকে একটি ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এই বন্দুক সহিংসতার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সোমবার (১৮ মে) বেলা আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে যখন এই গুলির ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদ কমপ্লেক্সের ডে-স্কুলে থাকা সমস্ত শিশু সুরক্ষিত ছিল এবং পরে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ প্রধান ওয়াহল জানান, গুলির ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে সন্দেহভাজন এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার ছেলে আত্মহত্যার প্রবণতায় ভুগছিল এবং সে তার মালিকানাধীন তিনটি বন্দুক ও গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। ওই মা আরো জানান, ছদ্মবেশী পোশাক পরা তার ছেলের সঙ্গে আরো একজন সঙ্গী রয়েছে।
পুলিশ যখন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি কাছের শপিং মল এবং ওই কিশোরের হাই স্কুলে টহল দল পাঠাচ্ছিল, ঠিক তখনই মসজিদে গুলির খবর আসে। তবে পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই কিশোর একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিল, যার বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।
ওয়াহল বলেন, এই ঘটনার আগে মসজিদ বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়, স্কুল বা শপিং মলে সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার হুমকির তথ্য পুলিশের কাছে ছিল না। তবে একাধিক অস্ত্রসহ ছদ্মবেশী পোশাক পরা কিশোরের পালিয়ে যাওয়ার খবর এবং ‘সাধারণ ঘৃণামূলক বক্তব্য বা প্রচারণার’ বিষয়টি মিলিয়ে পুলিশ একটি বড় ধরনের হুমকির আশঙ্কা করছিল। পবিত্র ঈদুল আজহা এবং হজ পালনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনো এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত নির্মম ও উদ্বেগজনক।’
ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা মসজিদের সঙ্গে যুক্ত তিন ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেন। কর্মকর্তারা জানান, নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সাহসী পদক্ষেপের কারণে আরো বড় ধরনের রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ মসজিদ থেকে কিছুটা দূরে একটি গাড়ির ভেতর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সি দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে বড় কিশোরটির বয়স ১৯ বছর বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ প্রধান জানান, সান ডিয়েগো এলাকার ৫০ থেকে ১০০ জন পুলিশ সদস্য ‘অ্যাক্টিভ শুটার’-এর খবর পেয়ে মাত্র চার মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে পুরো অভিযান চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো গুলি চালানো হয়নি। মসজিদে হামলার কাছাকাছি সময়েই কয়েক ব্লক দূরে একজন বাগানকর্মীর ওপরও গুলি চালানো হয়। তদন্তকারীরা এই দুটি ঘটনাকে সম্পর্কিত মনে করছেন। তবে ওই কর্মী মাথায় হেলমেট পরে থাকায় গুলি লেগেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এবং আহত হননি।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘৃণার কোনো স্থান নেই। উপাসনাকারীদের নিজেদের জীবন নিয়ে ভয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। আমরা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ্য করব না।’
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে ৫১৩ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি এই খবর জানিয়েছে। ডিআর কঙ্গো সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, এই সংক্রমণ এখন আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানায়, উগান্ডাতেও দুইজন নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইবোলা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই প্রাদুর্ভাবের কারণ ইবোলার ‘বুন্ডিবুগ্যো’ স্ট্রেইন (ধরন)।
ইবোলার বিস্তার বাড়লেও কঙ্গো সরকার আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ জানিয়েছে এবং বলেছে, তাদের কর্মীরা সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নিয়াকুন্ডে, বুটেম্বো ও গোমার মতো নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ডিআর কঙ্গোতে কর্মরত একজন মার্কিন চিকিৎসকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সিডিসি।
তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে বলে বিবিসির মার্কিন পার্টনার সিবিএস নিউজকে জানানো হয়েছে। সিডিসি আক্রান্ত চিকিৎসকের নাম জানায়নি। ওই চিকিৎসক সার্জ নামে একটি মিশনারি গ্রুপে কর্মরত। গ্রুপটি নিশ্চিত করে বলেছে, তাদের চিকিৎসক পিটার স্ট্যাফোর্ড ইবোলা পজিটিভ হয়েছেন।
সংস্থাটি জানায়, স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী রেবেকা এবং আরও একজন চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ভাইরাসের সংস্পর্শে এলেও তাদের মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি; তারা বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
সিবিএস নিউজ জানায়, অন্তত ছয়জন আমেরিকান এই প্রাদুর্ভাবের সময় ইবোলার সংস্পর্শে এসেছেন। সিডিসি জানিয়েছে, তারা সরাসরি আক্রান্ত কয়েকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সাহায্য করছে, তবে সঠিক সংখ্যাটি জানায়নি।
কঙ্গোয় থাকা অল্প আমেরিকান নাগরিকদের ছোট একটি দলকে নিরাপদ কোনো কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইট ‘স্ট্যাট’-কে এমনটি জানিয়েছে একটি সূত্র।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়েবসাইটটি আরও জানায়, ওই দলটিকে জার্মানিতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। গত রোববারের সংবাদ সম্মেলনে সিডিসি ইবোলা আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
গত সোমবার এক হালনাগাদ তথ্যে জনস্বাস্থ্য সংস্থাটি জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম, তবুও দেশে রোগটির প্রবেশ ঠেকাতে তারা একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেবে।
২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। ১৯৭৬ সালে ভাইরাসটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ছিল। এই রোগ গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ১১ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জিন কাসেয়া বলেন, টিকা বা কার্যকর ওষুধের অভাবে মানুষের উচিত জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মগুলো মেনে চলা, বিশেষ করে মৃতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। এক দশক আগের বড় প্রাদুর্ভাবের শুরুতে স্বজনদের মরদেহ ধৌত করার মাধ্যমে অনেক মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিআর কঙ্গো এবং উগান্ডাকে সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে, যেন ভাইরাসটি ছড়িয়ে না পড়ে। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের নজরদারি ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা জানিয়েছে, তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কঙ্গো সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কড়াকড়ি করছে, আর নাইজেরিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঘোর প্রদেশে চরম দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে বহু পরিবার ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। কাজের অভাব, মূল্যস্ফীতি এবং কমে যাওয়া আন্তর্জাতিক সহায়তার মধ্যে অনেক বাবা-মা সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিদিন ভোরে ঘোর প্রদেশের রাজধানী চাঘচারানে একটি ধুলোময় চত্বরে শত শত মানুষ জড়ো হন। সামান্য কাজের আশায় তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেদিন সেটিই ঠিক করে দেয় যে কাজ মেলবে কি না, তাদের পরিবার খাবার পাবে কি না।
৪৫ বছর বয়সি জুমা খান জানান, গত ছয় সপ্তাহে তিনি মাত্র তিন দিনের কাজ পেয়েছেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল ১৫০ থেকে ২০০ আফগানি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকার সমান। তিনি বলেন, ‘টানা তিন রাত আমার সন্তানরা না খেয়ে ঘুমিয়েছে। স্ত্রী কাঁদছিল, সন্তানরাও কাঁদছিল। শেষে প্রতিবেশীর কাছে হাত পেতে আঁটা কেনার টাকা নিতে হয়েছে।’
জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে আফগানিস্তানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। দেশজুড়ে বেকারত্ব ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। একসময় লাখো মানুষের জন্য যে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছিল, তা এখন অনেক কমে গেছে। বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, দেশটিতে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রাবানি বলেন, ‘ফোনে শুনলাম আমার সন্তানরা দুই দিন ধরে কিছু খায়নি। তখন মনে হয়েছিল আত্মহত্যা করি। পরে ভাবলাম, এতে পরিবারের কী উপকার হবে? তাই এখনো কাজ খুঁজছি।’
তার মতো অনেকে কাজ খুঁজতে থাকেন। শহরজুড়ে ঘুরেও কোনো কাজ না পেয়ে আব্দুল রশিদ আজিমী নামের এক আফগান কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিবিসির প্রতিনিধিদের তার বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার দুই সন্তানকে ঘর থেকে বের করে আনেন। তারা সাত বছর বয়সি যমজ রোকিয়া ও রোহিলা। তিনি তাদের বুকে জড়িয়ে ধরেন, কেন তিনি এমন অসহনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা ব্যাখ্যা করতে ব্যাকুল হয়ে।
রশিদের ভাষায়, ‘আমি আমার মেয়েদের বিক্রি করে দিতেও রাজি।’ তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি গরিব, ঋণী এবং অসহায়।’ ভয়াবহ এ পরিস্থিতির আঁচ রাজধানী কাবুল পর্যন্ত পৌঁছেছে। কিন্তু তালেবান সরকার তাদের দায় স্বীকার করতে রাজি নয়। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলকারী তালেবান সরকার আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী প্রশাসনকেও এ অসহায় অবস্থার জন্য দায়ী করে। ওই প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত হতে বাধ্য করেছিল তালেবানই।
তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বিবিসিকে বলেন, ‘২০ বছরের আগ্রাসনের সময় মার্কিন ডলারের প্রবাহের কারণে একটি কৃত্রিম অর্থনীতি তৈরি করা হয়েছিল। আগ্রাসনের অবসানের পর আমরা দারিদ্র্য, দুর্দশা, বেকারত্ব এবং অন্যান্য সমস্যার উত্তরাধিকারী হয়েছি।’
কিন্তু বিবিসির অনুসন্ধান বলছে, তালেবানের নিজস্ব নীতি, বিশেষ করে নারীদের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধও দাতাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রধান কারণ। এ ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা, সরকারি বাহিনী কর্তৃক নাগরিকদের অহেতুক হয়রানি, বিভিন্ন ব্যবসায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে না পারাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা সারাদেশে অসহায় মানুষের সংখ্যা বাড়াচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উঠিয়ে নিয়ে যান। জানুয়ারির ওই ঘটনা এখন পুরনো খবর। সে সময় থেকেই ট্রাম্প আভাস দিয়ে যাচ্ছেন, এ অঞ্চলে তার পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা। কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। গত ষাট বছরে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এই দুই দেশ। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কিউবা।
বেশ কিছুদিন দ্বৈরথের আগুন চাপা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিউবাকে ‘হুমকি’ হিসেবেই দেখছে। তাদের আশংকা। কিউবা বড় ‘হুমকি’। গুয়ান্তানামো বে ও ফ্লোরিডায় ড্রোন হামলা চালাতে পারে বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি দানা বেঁধে ওঠার আগেই তা দমন নীতির আওতায়’ খুব শিগগিরই কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় হামলা চালালে ‘রক্তবন্যা বয়ে যাবে এবং জান-মালের এমন ক্ষতি হবে, যা পরিমাপ করা যায় না।’ মঙ্গলবার (১৯ মে) বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে মিগেল দিয়াজ-কানেল, ‘কিউবা কোনো হুমকি নয়। কোনো দেশের বিরুদ্ধে তাদের কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা বা অভিলাষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং কখনো ছিলও না। ওই দেশের সরকারও বিষয়টি ভালো করেই জানে।’
প্রেসিডেন্ট দিয়াজ আরও জানান, কিউবা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বহুমাত্রিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে। ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ও বৈধ অধিকার আছে কিউবার’, যোগ করেন তিনি। তিনি মত দেন, চলমান পরিস্থিতিতে কিউবার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ক এতটা খারাপ অবস্থায় নামেনি।
কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্রে চলছে চরম জ্বালানি সংকট। মূলত ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলে, দিনের একটি বড় অংশজুড়ে কিউবার বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
গত সপ্তাহে কিউবার জ্বালানী মন্ত্রী ভিচেন্তে দে লা ও লেভি জানান, শেষ মুহূর্তে রাশিয়া থেকে কিছু তেল এসেছিল। অনুদান হিসেবে আসা সেই তেলের মজুতও ফুরিয়ে গেছে। যার ফলে, কিবার জনগণকে আরও কিছুদিন ভোগান্তি পোহাতে হবে।
সোমবার কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার দেশটির মূল গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ‘আগামীতে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’
এর আগেই কিউবার বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী ও বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর উপমন্ত্রীসহ ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে, ট্রাম্পের খড়গের ভয়ে দুইটি জাহাজীকরণ প্রতিষ্ঠান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কিউবায় পণ্য পরিবহন বন্ধ করতে যাচ্ছে তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের আইন মেনে হ্যাপাগ-লয়েড ও সিএমএ সিজিএম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কিউবার খাদ্য নিরাপত্তার প্রতি বড় হুমকি তৈরি করবে।
কৃষি খাতে ধস ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে কিউবার বেশিরভাগ খাবার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এক কালে চিনি, কফি ও তামাক উৎপাদনে বিশ্বসেরা হলেও কিউবার সেই সুদিন আর এখন নেই। এসব পণ্যও এখন আমদানি করতে হয় হাভানাকে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলা এলে দেশটির জনগণের দুর্ভোগ আরও বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।
আগ্রাসন চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কায় থাকা কিউবানরা এখন মনে করছেন, যে কোনো মুহূর্তে সত্যি সত্যিই সরাসরি আগ্রাসন চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জনে র্যাব টক্লিফের আকস্মিক হাভানা সফর এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
র্যাটক্লিফ হাভানা ছাড়ার পর খবর ছড়িয়ে পড়ে, মার্কিন প্রসিকিউটররা কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই গুঞ্জনে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এমনকি কয়েকজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে এবং পরিস্থিতি সরাসরি যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে।
এদিকে দ্বীপরাষ্ট্রটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে খাবার পচে যাচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে মিলছে না জরুরি ওষুধ, আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে উঠছে আবর্জনার স্তূপ। এই সপ্তাহেই কিউবার জ্বালানি মজুত সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ আসাও বন্ধ রয়েছে। ফলে সামনে খাদ্য সংকট আরও তীব্র রূপ নেবে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের প্রাক্কালে রাশিয়ার সেনাবাহিনী দেশজুড়ে তিন দিনের পারমাণবিক অস্ত্র মহড়া শুরু করেছে। ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের সময়জুড়ে মস্কো তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডরের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং বারবার সেগুলো ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে।
রাশিয়া ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি ভেঙে যাওয়ার কয়েক মাস পর এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পুতিন সম্প্রতি মস্কোর পারমাণবিক বাহিনীর শক্তিমত্তা নিয়ে ধারাবাহিক মন্তব্য করে আসছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯ থেকে ২১ মে, ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহারের মহড়া পরিচালনা করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ায় ৬৫ হাজারের বেশি সেনাসদস্য এবং ৭ হাজার ৮০০ ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। বিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং পারমাণবিক সাবমেরিনও এতে অংশ নেবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিউ স্টার্ট চুক্তির সমাপ্তির মাধ্যমে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
রাশিয়া কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে পুতিন একই সঙ্গে বলেছেন, ‘রাশিয়ার পারমাণবিক বাহিনীর উন্নয়ন একটি অগ্রাধিকার। এ মাসেই মস্কো পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নতুন দূরপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।’
মস্কো আরও জানিয়েছে, মহড়ায় বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্রের যৌথ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাশিয়া তার প্রতিবেশী মিত্র বেলারুশে, যা ন্যাটোর সীমান্তঘেঁষা, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিযোগ করেন, মস্কো বেলারুশ থেকে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর তিনি ইউক্রেনের উত্তর সীমান্তে সেনা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। পুতিনের দুদিনের চীন সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মস্কো এই মহড়ার ঘোষণা দেয়।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে চীন-রাশিয়া
মস্কো-বেইজিং সম্পর্ককে বিশ্বে একটি ‘স্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুদিনের চীন সফরের আগে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট গড়তে চায় না। এ দুদেশ ‘শান্তি ও সর্বজনীন সমৃদ্ধির’ জন্য একসঙ্গে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘এই চেতনা থেকেই মস্কো ও বেইজিং আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে রক্ষার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ব্রিকস এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের আওতায় সহযোগিতা জোরদার করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুদেশ সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে একে অপরকে সমর্থন দিচ্ছে।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভাষণে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ করছে এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করছে। মূলত দুদেশই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গভীরতর করা এবং উভয় জাতির কল্যাণে বৈশ্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করছে।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেশটির পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রায় চার বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি গোপন কূটনৈতিক তারবার্তা, যা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা ‘ড্রপ সাইট’। পাকিস্তানে এ ধরনের কূটনৈতিক বার্তা ‘সাইফার’ নামে পরিচিত। প্রকাশিত ওই বার্তায় উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পেছনে ওয়াশিংটনের ‘ভূমিকা’ ছিল।
এর আগে থেকেই ইমরান খান তার সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসছিলেন। বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি এই ‘সাইফার’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, তার সরকারকে হটানোর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ কাজ করেছে।
কেবল আই-০৬৭৮ নামে পরিচিত এই নথিতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডোনাল্ড লুর বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে মেয়াদপূর্তির প্রায় দেড় বছর আগে ইমরান খানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর এই ঘটনার প্রায় এক মাসে আগে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও ইকোনমিক টাইমসসহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ‘ফাঁস’ হওয়া তারবার্তায় পাওয়া তথ্য অনুসারে, ওয়াশিংটনের বিরাগভাজন হয়েছিলেন ইমরান খান।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে ইমরানের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি ওয়াশিংটনের অসন্তুষ্টির মূল কারণ। বার্তা অনুযায়ী—ডোনাল্ড লু মত দেন, ইমরানকে সরিয়ে দেওয়া হলে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ভালো হতে পারে।
নথিতে লু’র বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘আমার মতে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ভোট সফল হলে ওয়াশিংটন সব কিছু ক্ষমা করে দেবে।’
সাবেক তারকা ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, পাকিস্তানের শাসক পরিবর্তনের নেপথ্যে আছে ওয়াশিংটন। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার ইচ্ছা এবং রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক অবস্থানের সঙ্গে সুর মেলাতে অনীহার কারণেই ‘দূর থেকে কলকাঠি’ নেড়েছে ওয়াশিংটন।
ওয়াশিংটন বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ধরনের দাবিতে ‘সত্যতা নেই’ এবং ইমরান কখনোই তার এই দাবির স্বপক্ষে বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি—এমনটাই বলেছে ওয়াশিংটন।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নিতে বাধ্য হন ইমরান খান। এর আগে দেশটির কোনো নেতাকে এভাবে অপসারিত হতে হয়নি। এর এক বছর পর ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। তারপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বিরুদ্ধে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দলের ব্যানারে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তাদের ‘ক্রিকেট ব্যাট’ মার্কাও নিষিদ্ধ করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে অনেকে জয়লাভ করলেও পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে তাদের নিবন্ধন হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়েগো শহরের ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি মসজিদে দুই কিশোর বন্দুকধারীর নৃশংস হামলায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। বর্বরোচিত এই তাণ্ডব চালানোর পর হামলাকারী দুই কিশোর নিজেরাও গুলিতে আত্মঘাতী হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের একজনের বয়স ১৭ এবং অন্যজনের ১৯ বছর। যে স্থানে এই হামলা হয়েছে, সেটি সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইসলামিক সেন্টার।
মসজিদ চত্বরের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। হামলার সময় মসজিদের ভেতর শিশুরা নিয়মিত ক্লাসে ব্যস্ত ছিল। বিবিসি ও সিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ যখন এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন প্রাণভয়ে শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছিল। জননিরাপত্তার স্বার্থে সে সময় পার্শ্ববর্তী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করে দেওয়া হয়। পুলিশ এই হামলাকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরের খোঁজে তল্লাশি চলার সময়ই এই হামলার খবর আসে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। এর কিছুক্ষণ পরই খবর পাওয়া যায় যে, কাছেই এক মালির ওপর গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে সামান্য দূরত্বে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই হামলাকারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনেই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাক পরিহিত ছিল এবং নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে হামলাকারীদের রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর এই সাহসী প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরণের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সান দিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক হামলাকারীর মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ছেলে এবং আরেকজন বন্ধু অস্ত্রসহ সামরিক পোশাকে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। ওই তরুণ বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে উগ্র ও চরম বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা লেখা ছিল। যদিও এতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা স্থাপনার নাম উল্লেখ ছিল না, তবে সান দিয়েগোর প্রধান মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করায় এটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র থেকে অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিযোগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।’ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’ এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নেপালের কিংবদন্তি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপা গত রোববার এভারেস্টের চূড়ায় ৩২তমবারের মতো উঠে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন। অপর দিকে লাখপা শেরপা ১১তমবার চূড়ায় পৌঁছে নারীদের মধ্যে নিজের রেকর্ড ভেঙেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
নেপালের পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম বলেছেন, ‘এটা নেপালের পর্বতারোহণের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক।’
কামি রিতা শেরপা (৫৬) প্রথম ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক অভিযানের সদস্য হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তিনি পর্বতারোহীদের গাইড হিসেবে এভারেস্টে উঠছেন।
লাখপা শেরপা (৫২) ‘মাউন্টেন কুইন’ নামে পরিচিত। তিনি ২০০০ সালে প্রথম এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। তিনিই প্রথম নেপালি নারী যিনি এভারেস্ট জয় করে নিরাপদে নেমে আসতে পেরেছিলেন।
হিমাল গৌতম বলেন, ‘তাদের এই রেকর্ড অন্য পর্বতারোহীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি করবে। এভারেস্টে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেকর্ড গড়লে পর্বতারোহণ আরও নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুসংগঠিত হবে।’
২০২৪ সালে এভারেস্ট জয়ের পর কামি রিতা বলেছিলেন, তিনি শুধু কাজ করছেন, রেকর্ড গড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে শেরপার প্রথম এভারেস্ট জয়ের পর থেকেই পর্বতারোহন নেপালের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
চলতি মৌসুমে এভারেস্টে আরোহণের জন্য রেকর্ড সংখ্যক ৪৯২টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে নেপাল সরকার। পর্বতারোহী ও সহায়ক কর্মীদের নিয়ে এভারেস্টের পাদদেশে তৈরি হয়েছে বিশাল তাঁবুর শহর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তাহলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।’ ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি এখন ‘মুমূর্ষু অবস্থায়’ রয়েছে।’
এদিকে দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আগামী এক বা দুদিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে।’
এলমাসরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এর কারণ হলো বিভিন্ন ধরনের লোক ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের নিজের প্রশাসনেরই ‘অত্যন্ত যুদ্ধবাজ ব্যক্তিরা’ও রয়েছেন।’
এলমাসরি বলেন, ‘তিনি ইরানিদের কাছ থেকে যে ধরনের আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন এবং আশা করেছিলেন, তা পাননি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প ‘আলোচনা ভিন্নভাবে এগোবে বলেও আশা করেছিলেন’ এবং চীনে তার চীনা প্রতিপক্ষ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে তার উচ্চ প্রত্যাশা ছিল।
রাজধানী তেহরানে যখন রাত নেমে আসে, আলবোর্জ পর্বতমালার বরফে ঢাকা চূড়াগুলো যখন অন্ধকারে হারিয়ে যায়, ঠিক তখন শহরের রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয় অস্ত্র চালানো প্রশিক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের সমর্থকদের সংগঠিত করতে সরাসরি ইরান সরকারের সহায়তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামছেন। সেখানে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি চলছে অস্ত্র চালানো ও অন্যান্য সামরিক প্রশিক্ষণ।
তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরীশ স্কয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইরানি পতাকার এক বিশাল সমুদ্র। সেখানে অবিরাম বাজছে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগান। এই উৎসবমুখর ও উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যে রাস্তার হকাররা চা বিক্রি করছেন, সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে দেশপ্রেমের প্রতীক সংবলিত বেসবল ক্যাপ আর ব্যাজ।
এই গণজোয়ারের মাঝে দাঁড়িয়ে তিয়ানা নামের ইরানি পতাকার রঙের চশমা পরা এক তরুণী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার দেশ আর দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের সাধারণ মানুষ, পুরো সেনাবাহিনী আর সব কমান্ডার তাদের জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করতে সদা প্রস্তুত।’
এতে বোঝা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না এই তরুণী। রোববার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হুমকিমূলক পোস্ট করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় থমকে থাকা শান্তি আলোচনার কারণে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রায় ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, অন্যথায় তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
এই হুমকির জবাবে রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক বয়োবৃদ্ধ ইরানি তার হাতে লেখা ফার্সি প্ল্যাকার্ডটির অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সংবাদকর্মীকে। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘আমাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইরানের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এগুলো রক্ষা করবই। আমাদের পারমাণবিক শক্তি দরকার পরিচ্ছন্ন জ্বালানির জন্য, বোমার জন্য নয়। ট্রাম্প ভালো করেই জানেন আমাদের কোনো পারমাণবিক বোমা নেই, তাও তিনি আমাদের ওপর হামলা করতে চাচ্ছেন।’
বয়োবৃদ্ধ ইরানির এ মন্তব্যের কারণ হলো, ট্রাম্প এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এখন এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। লন্ডন ও দুবাইতে বড় হওয়া ফাতিমা নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা জানি এই যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প আসলে কোনো আলোচনা করবেন না। তিনি চান, আমরা যেন তার কথা শুনি, না হলে আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা তার কথা শুনলেও তিনি আমাদের ওপর হামলা করবেন।’
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানজুড়ে প্রতি সন্ধ্যায় এই ধরনের ‘রাত্রিকালীন সমাবেশ’ হয়ে আসছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছে। ইরানের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন সরকারি উদ্যোগে অস্ত্রের বুথ বসানো হয়েছে। বুথগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালানোর প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ইরানি সরকার তাদের জনগণকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলার জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভানাক স্কয়ারের একটি অস্ত্রের বুথের বিষয় উল্লেখ করে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালো চাদর পরা এক নারীকে ‘একে-৪৭’ অ্যাসাল্ট রাইফেল চালানো শেখাচ্ছেন সামরিক পোশাক পরা এক মুখোশধারী প্রশিক্ষক। অস্ত্রটি কীভাবে খুলতে হয় এবং আবার জোড়া লাগাতে হয় তা দেখানো হচ্ছে।
এই বুথ থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে একটি ছোট শিশুকে দেখা যায় একে-৪৭ আদলে তৈরি একটি কালাশনিকভ বন্দুক নিয়ে খেলতে। শিশুটি আকাশে তাক করে ট্রিগার চেপে হাসিমুখে বন্দুকটি তার প্রশিক্ষকের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
অস্ত্র প্রশিক্ষণ শুধু রাস্তা বা রাস্তার ধারে অবস্থিত বুথে সীমাবদ্ধ নেই। দেশবাসীকে অস্ত্র ধরার এই আহ্বান এখন সরাসরি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও সম্প্রচার করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপকদের লাইভ অনুষ্ঠানে হাতে রাইফেল নিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে।