শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


আফ্রিকায় যৌনাঙ্গ উধাও হওয়ার গুজব, ৮০ জনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শরীরে সামান্য স্পর্শ বা পিঠে টোকা দিলেই পুরুষের যৌনাঙ্গ উধাও কিংবা ছোট হয়ে যাওয়ার কাল্পনিক গুজবকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার একাধিক দেশে চরম নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিবিসির গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এই কুসংস্কার ও ফেসবুক-টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের বলি হয়ে নিহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।

শতাব্দী প্রাচীন জাদুটোনা ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই গুজবের জেরে অপরিচিত ব্যক্তিদের 'যৌনাঙ্গ চোর' আখ্যা দিয়ে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা এই নৃশংস সহিংসতার প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তার বন্ধুকে প্রাণ হারাতে হয়েছে এবং অন্যত্র এক যুবককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে মোজাম্বিকে, যেখানে মাত্র ছয় সপ্তাহে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং মোজাম্বিক সরকার এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানবিরোধী বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া কেনিয়া ও মালাউইতেও একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটে চলেছে, যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের এক ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রূপ প্রকাশ করছে।


ইরানকে কোণঠাসা করতে সাহায্য করবে চীন: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলের প্রবাহ পুনরায় যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর তেহরান বর্তমানে তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ভ্যান্স বলেন, 'আপনি যদি তিন মাস আগের দিকে তাকান, তবে ইরানি হুমকির মুখে এই প্রণালী দিয়ে কী পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল? তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। আর এখন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতিতে প্রায় সবই ফিরে এসেছে।' তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরানের সাথে কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না আমেরিকা।

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় চীন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। যেহেতু চীন বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং ঐতিহাসিকভাবেই ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা, তাই তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বেইজিং এখন ওয়াশিংটনের কাছে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এদিকে দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার যে দাবি তেহরান করেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে ভ্যান্স নিশ্চিত করেন। গত মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন কুহেসতাক শহরে ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করে একে "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ভ্যান্স এই তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, 'আমি জানি যে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আমি বলব যে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যা যা ঘটেছে, সে সম্পর্কে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খুব একটা নির্ভরযোগ্য বা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তাই এই বিষয়ে আমি অত্যন্ত সংশয়ী।' মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ঘটনার সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও জানিয়েছে যে, 'মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।'


ইরান সরকারের পতন ঘটানোই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র দুই দিন আগে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, তেহরান অন্যান্য স্থানে আক্রমণ চালালেও কেবল ‘ভয়ে’ ইসরায়েলের ওপর কোনো হামলা করার সাহস দেখাচ্ছে না।

একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইরান আমাদের ওপর হামলা করছে না, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। তারা আমাদের বাদে সবার ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা আমাদের শক্তি জানে, আমাদের হামলার তীব্রতা জানে এবং আমাদের দৃঢ় সংকল্পের কথা জানে।” নেতানিয়াহুর মতে, ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং পাল্টা আঘাতের কঠোরতা সম্পর্কে তেহরানের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে বলেই তারা সরাসরি উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে।

তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত করাই ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্য বলে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তার দেশ। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “ইরানের সরকারের অবস্থা নড়বড়ে। এটি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল। এখন নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছে তারা।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস আমরা বিষয়টি একবারে সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারব— আরেক কথায় বলা যায়, ইরানের সরকারের পতন ঘটানো। এটি আমাদের মূল লক্ষ্য যা আমাদের সামনে রয়েছে। কিন্তু এটি খুবই কাছাকাছি অবস্থায় আছে। ইরানের সরকারের পতন ঘটানো অসম্ভব নয়। এটি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে তেহরানের বর্তমান ক্ষমতার পরিবর্তনকেই জেরুজালেম এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো আছে: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তিনি একই সাথে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় সামরিক তৎপরতার কারণে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সময় পুতিন উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে মধ্যস্থতা বা সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই কোনো সমাধানের জন্য মস্কো ও কিয়েভকেই শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে হবে বলে তিনি মনে করেন। যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। তার ভাষায়, ‘শান্তির সম্ভাবনা আছে কি? আমার মতে, হ্যাঁ, অবশ্যই আছে।’

বর্তমানে শান্তি আলোচনার পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তিনি ইউক্রেনের কিছু সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করার মতো অভিযোগ তুলে পুতিন বলেন, এসব ঘটনা সংলাপের পরিবেশকে ক্রমান্বয়ে জটিল করে তুলছে। তিনি কিয়েভের এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তার মতে, রাশিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের আনাগোনার কারণে ওই অঞ্চলে উড্ডয়ন ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ইউক্রেনের একমাত্র লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা এবং বেসামরিক উড়োজাহাজকে হুমকির মুখে ফেলার কোনো অভিপ্রায় তাদের নেই। এর আগে গত বুধবার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার আকাশসীমায় তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশসীমা আন্তর্জাতিক বেসামরিক চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।


ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী-সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত ৮১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী হুথি গোষ্ঠী এবং দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জন যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হতাহতের সংখ্যা জানা গেছে।

লোহিত সাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলের জনৈক সামরিক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৪ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি তায়েজ শহরের অভ্যন্তরীণ অংশে সংঘর্ষে আরও ১৫ জনের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন অন্য একজন সামরিক কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর সাথে মোকাবিলায় তাদের অন্তত ৪২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে ইয়েমেনে নতুন করে এই ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এই অভিযানে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের তীরবর্তী এলাকা ও তায়েজ অঞ্চলে রকেট ও ড্রোনের সহায়তায় বড় ধরনের স্থল হামলা পরিচালনা করে।

সরকারি সামরিক সূত্রের বরাতে এএফপি আরও জানায়, হুথি বিদ্রোহীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবরোধের মুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখাকে সরকারি অন্যান্য এলাকা থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। একইসাথে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির সন্নিকটে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপনের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।

ইয়েমেনে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব দেশটিতে পড়তে শুরু করে। ওই সময় থেকেই হুথিরা সৌদি আরবের সমর্থনে থাকা সরকারি বাহিনীর সাথে ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত লঙ্ঘন করে নতুন করে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়।


যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের ৩ পাইলটসহ ১৯ জনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইরানের তিন সামরিক পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত বৈমানিকদের মধ্যে মোজতবা বাঘেরি ও হামেদ ওকাতি নৌবাহিনীর এবং হোসেনই মাহদাভিয়ান বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এই তিন পাইলটের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তারা নিহত হওয়ার সময় কোনো যুদ্ধবিমানে দায়িত্বরত ছিলেন কি না কিংবা সরাসরি কোনো সশস্ত্র সংঘাতের অংশ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নীরবতা বজায় রেখেছে। এই তিন পাইলটের পাশাপাশি নৌবাহিনীর আরও ছয় সদস্যের প্রাণহানির সংবাদ আগেই প্রকাশ করেছিল ইরান।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান ও বোমা হামলায় অন্তত ১৯ জন ইরানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন এবং কেরমানশাহ প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডের চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য এবং ফার্স প্রদেশে আরও একজন মারা গেছেন।

অন্যদিকে, হরমুজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার ফলে চারজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইরানি কর্মকর্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খুজেস্তানে নিহত সাতজনের তালিকার মধ্যে পূর্বে ঘোষিত নৌবাহিনীর ছয় কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।


‘চিকেনস নেকে’ ২ হাজার কোটি রুপিতে নতুন মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরে যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে ২ হাজার ৭৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা থেকে শুরু হয়ে পানিটঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩২৭ নামে চিহ্নিত এই নতুন সড়কটি বর্তমান ন্যাশনাল হাইওয়ে-২৭-এর সমান্তরালে নির্মিত হবে, যেখানে উভয় মহাসড়কের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটারের দূরত্ব বজায় থাকবে।

ভৌগোলিকভাবে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এই করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ পথ। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। নেপাল ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকে ভারত সরকার কৌশলগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রকল্পটির অনুমোদনের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, 'কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মজবুত করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।' মন্ত্রী আরও যোগ করেন, 'এই চার লেনের সড়কটি বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কির যানজট দূর করবে, বাগডোগরা বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে এবং স্থানীয় চা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষি পণ্য দ্রুত বড় বাজারে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।'

বিশাল এই কর্মযজ্ঞের অধীনে তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ এবং মহাসড়কের উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে শিলিগুড়ি করিডোরে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিকল্প যোগাযোগ পথ তৈরিতে দিল্লি বিশেষ জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত একটি হাই-স্পিড রেল করিডোর এবং শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের ঘোষণাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মতে, কৌশলগত কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার এখন বিহারের গালগালিয়া থেকে একটি বিকল্প ও সমান্তরাল মহাসড়ক নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে।

এই মহাসড়ক প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস নির্মাণ। কুরসিওং বন বিভাগের আওতাধীন বেশ কিছু এলাকা হাতি পারাপার অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, 'এই পাঁচটি আন্ডারপাস দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় হাতি মারা যাওয়া বা আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।' সাধারণত ধান কাটার মৌসুমে এই অঞ্চলে বন্যহাতির চলাচল কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়ে দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা বলেন, 'শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করলে, এই প্রকল্পটির তাৎপর্য কেবল আঞ্চলিক যোগাযোগের চেয়েও অনেক বেশি। এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জরুরি পণ্য, সেবা ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ করবে।' এছাড়াও বাগডোগরা বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা বিমানঘাঁটি থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি আর্জেন্টিনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আটলান্টিক মহাসাগরের বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আবারও নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই। শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই দ্বীপের নিকটবর্তী অঞ্চলে কোনো তেল কোম্পানি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করলে তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। মিলেই দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে “পরিবর্তনের হাওয়া’ আর্জেন্টিনার পক্ষে আছে।”

আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় অবস্থানের মূলে রয়েছে ফকল্যান্ডের অদূরে অবস্থিত সি লায়ন তেলক্ষেত্র। সেখানে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে জ্বালানি অনুসন্ধানের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে আর্জেন্টিনার জন্য একটি ‘স্পষ্ট ও বিরাজমান ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মিলেই। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফকল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়ায় আর্জেন্টিনার এই দাবি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।

তবে আর্জেন্টিনার এই দাবিকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ফকল্যান্ড তাদের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈদেশিক ভূখণ্ড এবং এটি ভবিষ্যতেও ব্রিটিশ শাসনেই থাকবে। এ বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইডি মিলিব্যান্ড। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বীপটির সিংহভাগ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের অধীনেই থাকতে আগ্রহী এবং তাদের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে; তারা জানিয়েছে, যতদিন এই দ্বীপের বাসিন্দারা চাইবেন, ততদিন এটি ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবেই বহাল থাকবে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি নিয়ে প্রায় চার দশক আগে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সেই যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আর্জেন্টিনা কখনোই নিজেদের দাবি ত্যাগ করেনি, যা এখনো দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্বে উৎস হয়ে আছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফকল্যান্ড থেকে মাত্র ১৩০ মাইল দূরে অবস্থিত সি লায়ন তেলক্ষেত্রে আনুমানিক ১৭ লাখ ব্যারেল তেলের বিশাল মজুত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলের দুটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এই তেলক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিতর্কিত এই অঞ্চলে কোনো অননুমোদিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আর্জেন্টিনা মেনে নেবে না। ফলে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


ইসরায়েলে হামলা হবে ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘শেষ সিদ্ধান্ত’: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তা হবে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার অন্যতম ‘শেষ সিদ্ধান্ত’। গত বুধবার সদেরোত অঞ্চলের আফিকি দাত হেজদের ইয়েশিভা পরিদর্শনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। গাজা উপত্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি দাবি করেন, ইরান পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও হুমকির পরিবেশ তৈরি করলেও ইসরায়েলের পালটা আঘাতের পরিণাম বুঝতে পেরে কোনো সরাসরি উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।

সদেরোতের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাজার নিরাপত্তা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের দাবি করে নেতানিয়াহু জানান, বর্তমানে পুরো গাজা উপত্যকা তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইসরায়েলের জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে নির্মূল করা হচ্ছে। গাজায় হামাসের শিন বেত প্রধানকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে এখন মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি অবশিষ্ট নেই। এ সময় তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ার, ইসমাইল হানিয়াহ এবং হাসান নাসরুল্লাহর মতো নিহত শীর্ষ নেতাদের একটি তালিকা প্রদর্শন করে বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী প্রতিটি উপাদানকে উপড়ে ফেলছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বীরত্বের প্রশংসা করলেও হিব্রু গণমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদনে একটি ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সদেরোতের মেয়রের উপস্থিতিতে চলাকালীন এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে নেতানিয়াহুর সামনেই ফিলিস্তিনবিরোধী চরমপন্থী গান গাইতে দেখা যায়। ১৯৯৬ সালে নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতির স্মরণে তৈরি ডোভ শুরিনের একটি বিতর্কিত গানের পুনর্নির্মাণ করে তারা ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলার মতো উগ্র স্লোগান দেয়।

এদিকে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের যেকোনো হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান সম্ভবত পরবর্তী কোনো মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে অথবা তারা ইসরায়েলের সামরিক শক্তির পালটা জবাবের তীব্রতাকে ভয় পাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েলের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দেশটির অবশিষ্ট পারমাণবিক প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা। তেহরানের মূল শাসনকাঠামো বা সাধারণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে তারা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পদক্ষেপ বা মাইন নিষ্ক্রিয়করণের কাজগুলোকেও ইসরায়েল এই মুহূর্তে তাদের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে না।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের মূল কৌশলগত লক্ষ্য কেবল তেহরানের পরমাণু সক্ষমতা নস্যাৎ করা। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো বড় সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাইবেন না বরং বর্তমান অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলোকেই সুসংহত করার চেষ্টা করবেন। কারণ এই অবরোধের ফলে ইরান বর্তমানে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মধ্যে রয়েছে।


টেক্সাসে টেসলার চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ সেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পরিবহন খাতের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান উবার ও ওয়েমোর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় রোবোট্যাক্সি ‘সাইবারক্যাব’ চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গত বৃহস্পতিবার টেক্সাসের অস্টিনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই গাড়ির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নতুন এই সাইবারক্যাবটির নকশা প্রথাগত যানবাহনের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম প্রদর্শিত এই সোনালি রঙের গাড়িতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল নেই, এমনকি ব্রেক বা অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেলের বালাইও রাখা হয়নি। মূলত দুইজন যাত্রী পরিবহনের উপযোগী এই যানটি সম্পূর্ণ চালকহীনভাবে ট্যাক্সি সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অস্টিন শহরের রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে চলা সাইবারক্যাবের একটি ছবি প্রকাশ করে এই নবযাত্রার জানান দেন।

বর্তমানে টেসলার হালনাগাদ অ্যাপ ব্যবহার করে অস্টিনের যাত্রীরা এই নতুন যানবাহনটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অস্টিনের রাস্তায় ইতোমধ্যে সাইবারক্যাবের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা পর্যটক গ্রাহাম স্প্রিগ এএফপিকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এটি মানবজাতির জন্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’ তার মতে, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা রাখার চেয়ে পরিবহনকে একটি সেবা হিসেবে গ্রহণ করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব দ্রুতই অস্টিন শহরজুড়ে ব্যাপকভাবে এই ‘সাইবারক্যাব’ দেখা যাবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যানের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরাই প্রথম এই চালকবিহীন যানে চড়ার সুযোগ পান এবং শুক্রবার থেকে এটি সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার কথা রয়েছে। টেসলা তাদের এই উদ্ভাবনকে ‘সবার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবহনকে সহজলভ্য করার’ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

উল্লেখ্য যে, টেসলা গত বছর অস্টিনে তাদের মডেল ওয়াই এসইউভি ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোবোট্যাক্সি সেবা শুরু করেছিল, যা পরবর্তীতে ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে সম্প্রসারিত হয়। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন মানব তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমানে টেক্সাসে টেসলার ৩১৪টি নিবন্ধিত রোবোট্যাক্সি রয়েছে যার মধ্যে ৪৫টি সাইবারক্যাব।

স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের ক্ষেত্রে টেক্সাসের আইন তুলনামূলক শিথিল হওয়ায় ওয়েমো ও জুক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সেখানে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের চালকবিহীন প্রযুক্তি ‘ওয়েমো’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে তাদের সেবা দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ইতাই মিখায়েলি এএফপিকে বলেন, সাইবারক্যাবের এই যাত্রা শুরুতে কিছুটা ধীরগতির হতে পারে এবং প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। নিউইয়র্কভিত্তিক নীতি গবেষক অ্যান্থনি টাউনসেন্ডের মতে, টেসলা আসলে মাত্র শুরু করেছে এবং চালকবিহীন ট্যাক্সি খাতে কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক মডেল দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নৌবাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এসবিএস-এর তথ্যের বরাতে শুক্রবার তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ নৌ-অভিযান পরিচালনার জন্য সিউল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এই অভিযানের প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী পি-৮ সামুদ্রিক টহল উড়োজাহাজ, একটি দক্ষ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং একটি রসদ সহায়তা জাহাজকে সেখানে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সিউল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটলেই কেবল তারা এই প্রণালিতে সেনা পাঠাবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে দেওয়ায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সিউলের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই দক্ষিণ কোরিয়ার এই নতুন সামরিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সামরিক বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অভিযানের মূল ভিত্তি এবং কৌশলগত ঘাঁটি নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার বিশেষ অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক সম্মতি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর দুই জনকে জীবিত উদ্ধার

সুড়ঙ্গ থেকে এক শ্রমিককে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালের ত্রিশূলি থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দীর্ঘ নয় দিন পর সঞ্জয় শাহ এবং কবির মহর্জন নামের দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে পড়া এই দুই ব্যক্তিকে নিরাপদে বের করে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বাসনেত। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কর্দমাক্ত শরীরে উদ্ধারকর্মীদের কাঁধে চড়ে সুড়ঙ্গ থেকে দীর্ঘ সময় পর আলোর মুখ দেখা সঞ্জয় শাহকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ত্রিশূলি সেনা ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল জানায়, নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় পাহাড়ী ঢলের সাথে আসা কাদা, পাথর ও পানির তীব্র স্রোতে নদীর উপত্যকা প্লাবিত হয়ে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরে আটকা পড়েন শ্রমিকেরা।

উদ্ধার অভিযানে শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সংসদ সদস্য ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেওপানে জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে আটকে পড়া অন্যান্যদের সন্ধানে সুড়ঙ্গের আরও গভীরে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গের গভীর থেকে মানুষের অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর শোনার পর উদ্ধার অভিযান নতুন মোড় নেয়। আটকা পড়াদের থেকে সাড়া পাওয়ার পরপরই নেপাল সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের একটি যৌথ দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযানের শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য নেওপানে বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উদ্ধারকর্মীরা চিৎকার করে বলেন, 'আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।' প্রতিউত্তরে ভেতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে জানানো হয়, 'ঠিক আছে।' এই কথোপকথনের মাধ্যমেই সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক ব্যক্তির প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ওই অঞ্চলের প্রধান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে নেপালের ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এখনো প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে আনুমানিক ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান উদ্ধারস্থলটিতে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। সুড়ঙ্গে আটকে থাকা বাকিদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বর্তমানে পূর্ণশক্তিতে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট


নিউইয়র্ক সিটির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২-কে (প্রাক-প্রাথমিক) থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানো এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস করা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর মেলিসা সামুয়েলস যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সিটির সরকারি স্কুলগুলোর প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হবে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ছোট বয়সেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক চিন্তাশক্তি, পড়াশোনা এবং শ্রেণিকক্ষের সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শেখার অভ্যাস গড়ে তোলা। কর্তৃপক্ষের মতে, ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি শিক্ষাদান পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর।

তবে উচ্চবিদ্যালয়ের (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের জন্য নীতিটি কিছুটা নমনীয়। তাদের জন্য এআই পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে বরং ‘এআই লিটারেসি’ বা এআই স্বাক্ষরতা শেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বড় শিক্ষার্থীরা এআই-এর কর্মপদ্ধতি, এর অপার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য সহায়ক হবে।

একই সাথে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ছোট শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে তাদের শেখার মৌলিক ভিত্তি শক্ত করার পাশাপাশি বড় শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার এক সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে।


banner close