শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
২ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


নির্বাচিত

ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা, পাল্টা হামলা তেহরানের

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া ওঠার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৬:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ ও সংঘাতের তীব্রতা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে সম্পাদিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে এখন সরাসরি ও নিয়মিত এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের অভ্যন্তরে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে শক্তিশালী হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর জবাবে আজ শুক্রবার ভোররাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে নজিরবিহীন পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। দুই পরাশক্তির এই মরণপণ লড়াইয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি অবরুদ্ধ, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নজরদারি ব্যবস্থা চিরতরে পঙ্গু করে দিতেই এই ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং রণতরি ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামোসহ কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর হামলায় এবার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান প্রধান বেসামরিক অবকাঠামো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দক্ষিণ ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতু, উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইরানশাহর বিমানবন্দরকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছে। রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবর্ষণের ফলে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

নিজেদের ভূখণ্ডে এমন বিধ্বংসী হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একযোগে হামলা শুরু করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিসহ বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এবিসি নিউজ-এর এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিওর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন কমান্ড সেন্টার ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রেও ইরানি বাহিনী আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, বিস্ফোরণে উড়ে আসা ধাতব টুকরোর আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।

এই চরম উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন সম্পূর্ণ অচল। তেহরান এই নৌপথে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে এবং ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ জোরদার করেছে। রয়টার্স-এর সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জাতীয় গ্রিড বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো জাতীয় অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব প্রণালিও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ইরানের জন্য ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি ও আলোচনার প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের সাথে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও রণপ্রস্তুতি চললেও দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এই তথ্য জানান। খবর আল আরাবিয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে লেভিট বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাহলে প্রেসিডেন্ট তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করবেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের জন্যও প্রস্তুত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তবে আলোচনার প্রস্তাবের পাশাপাশি তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। লেভিট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে ইরান কোনো ধরনের পরিণতি এড়াতে পারবে না।’ মূলত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে গত জুন মাসে কার্যকর হওয়া একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এই চরম কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেও কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছিল সম্প্রতি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইরানে আটক থাকা একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক একে দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছিলেন। তবে মাঠপর্যায়ের সামরিক বাস্তবতা এখন ভিন্ন সংকটের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, তেহরান যদি গঠনমূলক আলোচনায় ফিরে না আসে, তবে মার্কিন হামলার পরিধি ও ভয়াবহতা আরও বাড়ানো হবে। সেক্ষেত্রে ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় বড় যোগাযোগ সেতুসহ দেশটির অতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোও মার্কিন নিশানায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একদিকে আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের এক জটিল সমীকরণ নিয়ে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।


নির্বাচিত

জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আকস্মিক সিদ্ধান্তে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। এই অপসারণের প্রতিবাদে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কিয়েভের রাজপথে শত শত তরুণ-তরুণী ও সাধারণ নাগরিক সমবেত হয়ে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘ফেদোরভকে সরানো চলবে না’ এবং ‘বিজয়ের পথে বাধা দেওয়া বন্ধ করো’ এর মতো জোরালো দাবি লক্ষ্য করা গেছে। জেলেনস্কির এই পদক্ষেপ কেবল সাধারণ মানুষই নয়, বরং দেশটির সামরিক বিশ্লেষক এবং সুশীল সমাজের একাংশের মাঝেও তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ইউক্রেনের মনোবল ও রণকৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেদোরভকে অপসারণের নেপথ্যে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে গুঞ্জন ছিল, যা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। ফেদোরভ নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্টকে সেনাপ্রধান ও চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফকে দায়িত্ব হতে সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে জেলেনস্কিও স্বীকার করেছেন যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেনারেল স্টাফের মধ্যে কাঠামোগত দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছিল এবং তাঁর প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতা ব্যতীত এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ফেদোরভ অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে তাঁদের নেওয়া অনেক কার্যকর উদ্যোগই পরিকল্পিতভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইয়েভহেন খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেছেন জেলেনস্কি। টেলিগ্রাম বার্তায় প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে খমারার নাম আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো হবে। যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন অভ্যন্তরীণ সংঘাত ইউক্রেনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বোদ্ধারা মনে করছেন।


নির্বাচিত

মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি বানাচ্ছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবানন হতে ইসরায়েলি সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল চাপের মধ্যেই এক বিপরীতমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে স্থায়ী সেনাঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মারিভ’ তাদের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

আইডিএফ ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে মারিভ জানিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননের ওপর দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরবচ্ছিন্ন সামরিক নজরদারি বজায় রাখতেই এই স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কোন কোন স্থানে এই ঘাঁটিগুলো স্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য যে, গত ২ মার্চ হতে হিজবুল্লাহকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত বুধবার ইতালির রাজধানী রোমে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা হতে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তির কাঠামো ও শর্তাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ২৬ জুন একটি শান্তি চুক্তিতে লেবাননের দুটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত সংখ্যক সেনা রেখে বাকিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছিল। তবে বর্তমানে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের এই উদ্যোগ সেই শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরণের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই অব্যাহত সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এক ধরণের প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে থাকলেও নেতানিয়াহু তাঁর অভিযানে অনড় রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও দৃশ্যত ইসরায়েল তা অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ক্রমাগত চাপকে পাত্তা না দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১১৩ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যে পরিচালিত এক বিশেষ চিরুনি অভিযানে ৮১ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১১৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে হাবু এলাকার একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন প্রকল্পে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট এলাকার ১৪৫ জন বিদেশি কর্মীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়, যার মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই বড় সংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে ৮১ জন বাংলাদেশি পুরুষ ছাড়াও ২৯ জন ইন্দোনেশীয়, ২ জন নেপালি এবং ১ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ১১৩ জনের মধ্যে ১০৭ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি ব্যতীত মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ২৬ জনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান (ওভারস্টে) এবং আরও ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিবাসন বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাহাং অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া সকলকেই বর্তমানে পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এনফোর্সমেন্ট কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এই ব্যাপক অভিযানে পাহাং স্টেট এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এবং জেনারেল অপারেশনস ফোর্সের (পিজিএ) প্রায় ৭০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান এই কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত ভিসা নীতিতে আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে এখন থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগ (ডিএইচএস) এ সংক্রান্ত নতুন একটি বিধিমালা জারি করেছে।

নতুন এই নিয়মানুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা সাধারণত সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি পাবেন। তবে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য এই সময়সীমা আরও কমিয়ে এক দফায় সর্বোচ্চ ২৪০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে, তাঁদের জন্য অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে মাত্র ৯০ দিন। নির্ধারিত এই সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কেউ অবস্থান দীর্ঘায়িত করতে চান, তবে তাঁকে অবশ্যই যথাযথ কারণ দর্শিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। অন্যথায় তাঁকে দেশ ত্যাগ করতে হবে এবং পুনরায় প্রবেশের জন্য নতুন করে ভিসার আবেদন করতে হবে।

ডিএইচএস কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছর রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করায় তাঁদের ওপর কার্যকর নজরদারি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মূলত নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর এই নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এর আগে এটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই নতুন নীতির ফলে আসন্ন আগস্ট ও সেপ্টেম্বর সেশনের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়ার এই জটিলতা ও বাড়তি ব্যয়ভার যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও গবেষণার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে। এর ফলে উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যে সুদীর্ঘ সুনাম ও আকর্ষণ রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।


নির্বাচিত

একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত, প্রেমিক নদীতে ঝাঁপ দিলেও পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একসাথে আত্মহত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনা নদীর ব্রিজে গিয়েছিলেন এক প্রেমিক যুগল। তবে চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ মুহূর্তে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন প্রেমিকা। প্রেমিক নদীতে ঝাঁপ দিলেও প্রেমিকা সেখানে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে শান্তভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে ‘নিউ যমুনা ব্রিজে’ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আনু গুপ্তা ও তাঁর প্রেমিকা আগে থেকেই আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে ব্রিজে এসেছিলেন। সেখানে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডার পর আনু সরাসরি নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তাঁর প্রেমিকা নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে প্রেমিককে তলিয়ে যেতে দেখেন এবং কোনো ধরণের চিৎকার বা সাহায্য প্রার্থনা ছাড়াই সেখান হতে হেঁটে চলে যান। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আনু গুপ্তাকে নদী হতে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পলাতক তরুণীর পরিচয় শনাক্ত ও তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ হতে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন বড় ধরণের হস্তক্ষেপ করেছে বলে আবারও অভিযোগ তুলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক বক্তৃতায় তিনি দাবি করেছেন যে, চীন অবৈধ উপায়ে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। ট্রাম্পের অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা চীনের এই কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোপন করে রেখেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সরকারি গোয়েন্দা মূল্যায়নের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ২০২১ সালে ট্রাম্প প্রশাসনেরই তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের নেতৃত্বে পরিচালিত এক যৌথ তদন্তে বলা হয়েছিল যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন বা ভোট গণনায় কোনো বিদেশি শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প নির্বাচনী নিরাপত্তাকে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দাবি তুলছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চীনের সাথে সম্পর্ক যখন কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং ট্রাম্পের এই অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন যে, চীন কখনোই মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাঁর প্রকাশিত নথিগুলো মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর উপস্থাপিত অনেক তথ্যের সাথে দাবির কোনো মিল নেই। সিআইএ-র কিছু নথিতে বলা হয়েছে যে, চীনা গোয়েন্দারা জো বাইডেনের প্রচারণার ওপর নজর রাখলেও নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো কোনো গোপন পরিকল্পনা তখন চীনের ছিল না। সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ট্রাম্পের এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।


নির্বাচিত

লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউরোপে পাড়ি জমানের সময় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রায় ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।

পূর্ব লিবিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপকূলীয় শহর তোবরুকের অদূরে বারদা দ্বীপের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ১০ জন অভিবাসী কোনোমতে সাঁতরে দ্বীপে উঠে নিজেদের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। নিখোঁজ বাকি অভিবাসীদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া অন্যতম প্রধান ট্রানজিট ও এক্সিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে ভূমধ্যসাগরের এই বিপদসংকুল রুটে প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মাত্র গত মাসেই পূর্ব লিবিয়ার উপকূলে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫১ জন অভিবাসী মারা যান বা নিখোঁজ হন।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত এক অভ্যুত্থানে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হয়েছিলেন। এরপর থেকেই মূলত দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

তবে এই অরাজক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধস্ত এবং দরিদ্রপীড়িত দেশগুলো থেকে পালিয়ে আস হাজার হাজার মানুষের জন্য লিবিয়া ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার অন্যতম প্রধান রুট হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো সাধারণত ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় গাদাগাদি করে তোলে। ফরে গভীর সমুদ্রে প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে-র মধ্যে কেবল ভূমধ্যসাগারীয় পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ৮ শতাধিক অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর গত বছর একই রুটে প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।


নির্বাচিত

আলজেরিয়ায় এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের একটি এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম বলছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোরের দিকে আলজেরিয়ার রাজধানীর পাশে অবস্থিত এতিমখানায় আগুন লেগে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটেছে।

সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাজধানী আলজিয়ার্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী মোহাম্মদিয়া জেলার এতিমখানায় ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

নিহতদের বয়স কত সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য না জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আগুনে এতিমাখানায় ১১ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে, দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা বলেছে, আহতদের মধ্যে ১০ জন মাঝারি ও গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া উদ্ধারকারী দল এতিমখানা থেকে পাঁচ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও বয়স প্রকাশ করা হয়নি এবং আগুন লাগার কারণও স্পষ্ট করা হয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলজেরিয়াজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস বলেছে, তীব্র গরমের মধ্যে গত ৮ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ৯১৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে; যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।


নির্বাচিত

বিজেপি শাসনের শেষ দেখার ঘোষণা মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ ও দলীয় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের বয়সকে উপেক্ষা করে দল পুনর্গঠন এবং বিজেপি শাসনের শেষ দেখার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় ও দলের একাধিক নেতার দলত্যাগের পর যখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখছেন, ঠিক তখনই তিনি এক ভার্চুয়াল বার্তায় এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

একাত্তর বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান নেত্রী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিশেষ বক্তৃতায় বিরোধীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন যে ‘আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, মন ও মানসিক শক্তিই মানুষের বয়স নির্ধারণ করে’।

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে তিনি কখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে কথা বলেছেন কি না। বিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান যে নির্বাচনের ফলাফলের দিন বিজেপির লোকেরা তার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু কামনা করেছিল, কিন্তু তিনি এই সমস্ত চক্রান্তের শেষ না দেখে মাঠ ছাড়বেন না।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের বর্তমান কোন্দল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন যে যারা দল ছেড়ে চলে যেতে চান, তারা নির্দ্বিধায় চলে যেতে পারেন। দলের বিশ্বস্ত কর্মীদের নিজের ‘স্বর্ণখনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যে ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালের মতো সম্পূর্ণ একা লড়াই করে ২০২৬ সালে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করার সাহস ও ক্ষমতা তার রয়েছে।

তিনি ইতোমধ্যে তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছেন এবং বিপদের দিনে তাদের পাশে ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন বলে জানান। সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী ‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’ স্লোগান দিয়ে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি এখনই রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং দলের নিয়ন্ত্রণ মমতার হাত থেকে অনেকটাই ফসকে গেছে। রাজ্য বিধানসভা এবং দেশের লোকসভা উভয় ক্ষেত্রেই দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্য তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। অধিকাংশ বিধায়ক এখন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং ২০ জন লোকসভা সংসদ সদস্য একটি ক্ষুদ্র দলের সাথে একীভূত হয়ে দিল্লির এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আবেগপূর্ণ বার্তাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যার মাত্র কয়েক দিন পরেই আগামী ২১ জুলাই দলটির ঐতিহাসিক শহীদ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ দিনে এবার দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধানে পৃথক দুটি সমাবেশ করতে যাচ্ছে।

এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট এক বিশেষ রায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের অংশটিকে সেন্ট্রাল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক শহীদ দিবসের সভা করার অনুমতি প্রদান করেছে। উল্লেখ্য যে ১৯৯৩ সালে মমতার যুব কংগ্রেসের সভাপতিত্বের সময়ে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে এই দিবসটি প্রতি বছর পালন করা হয়।


নির্বাচিত

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পের কফিন, হত্যার হুমকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। বিলবোর্ডটিতে ট্রাম্পকে একটি খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কফিনটির গায়ে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা হয়েছে, ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)।

বিলবোর্ডটির পাশেই রয়েছে আলী খামেনির একটি বিশাল মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় নিহত এই নেতাকে ঘিরে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি কালো রঙের খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তার চুল এলোমেলো, চোখ ও মুখ বন্ধ। লাল টাইয়ের ওপর রাখা দুই হাত এবং কফিনের ওপরে সোজা উঁচু হয়ে থাকা দুই পা ছবিটিকে আরও প্রতীকী করে তুলেছে।

কফিনজুড়ে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’। একই সঙ্গে ফারসি ভাষায় শহীদ আলী খামেনিকে স্মরণ করে বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলবোর্ডে মিনাবের শিশুদের স্মরণে লেখা একটি বার্তাও রয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে যুদ্ধের শুরুতে এক বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু মারা যায়।

ইরানে জনপরিসরকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে যুদ্ধ, শহীদদের স্মরণ এবং বিভিন্ন আদর্শিক বার্তা নিয়ে অসংখ্য বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

এসব বিলবোর্ডকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারকৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পবিরোধী এ ধরনের বিলবোর্ড নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রতীকী চিত্র বসিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট’।

আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের ওপর বিশাল একটি মাছ ধরার জালে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান আটকা পড়ার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

ট্রাম্পকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ ফের উসকে দিতে চেয়েছিল ইসরায়েল! ট্রাম্পকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ ফের উসকে দিতে চেয়েছিল ইসরায়েল! তবে এই বিলবোর্ডটির ভাষা আগেরগুলোর তুলনায় একটু ভিন্ন। অনেক বেশি উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক। এর মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের রক্ষণশীল মহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী খামেনিসহ অন্য নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্র খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত, তাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করে। সে তালিকায় ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ আরও কয়েকজন পশ্চিমা নেতা।

এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন তার ছেলে ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গত বৃহস্পতিবার বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার দুই দিন পর এটি ছিল তার প্রথম বার্তা। লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা কেবল আমার বা আমাদের প্রশাসনের নয়, এটি আমাদের ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ইচ্ছা এবং এই প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবীভাবে বাস্তবায়িত হবে। বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেবই।’


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করলেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় নিজের পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চার দিনের সফরে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার কথা ছিল। সেখানে তিনি সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মৃতিসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তবে স্মরণসভার সময় পেছানোর কারণে আপাতত তিনি এই সফর স্থগিত করেছেন।

ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক ও ইরানের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সম্প্রতি মাত্র ৭১ বছর বয়সে ‘হঠাৎ ও সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার’ পর মারা যান। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী লিন্ডসে গ্রাহামকে তার ‘ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মিত্রতার শক্তিশালী স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি গ্রাহামের আজীবন প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।

নেতানিয়াহুকে সেনা সরিয়ে নিতে বললেন ট্রাম্প

সিরিয়া ও লেবানন থেকে ধীরে ধীরে সেনা সরিয়ে নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথা বলেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওরা সেখানে আপনাদের চায় না। সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত।’ একই বার্তা তিনি লেবাননের ক্ষেত্রেও দেন। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা প্রয়োজন।’

নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে টিকিয়ে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে জনরায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো কোনো বড় পদক্ষেপ নেবেন, কিংবা ইতোমধ্যে যেটুকু পুনর্মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তার বাইরে লেবাননে আরও সেনা পুনর্মোতায়েনের অনুমতি দেবেন, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ট্রাম্পের এই অনুরোধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা রোমে ইসরায়েলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বর্তমানে তাদের দখলে থাকা দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ করে দিতে সম্মত হয়েছে।


নির্বাচিত

‘চিকেনস নেক’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (মাঝে), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (বামে) ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুশ্চিন্তায় দেশটি। কারণ সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সংযোগ করেছে। এখান দিয়েই রাজ্যগুলোতে সব ধরনের রসদ, পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম যায়। ফলে এটি বন্ধ হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তৈরি হবে আঞ্চলিক অখণ্ডতায় হুমকি।

নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন সীমান্তের মিলনস্থল এই করিডরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এ জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে সফরে যাচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (১১ জুলাই) শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’ সচিবালয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন ও অনুপ্রবেশ রোধের মতো বিষয়গুলো এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হতে চলেছে। সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়টিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্য সচিব, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক (ডিএম) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কয়েক দফায় শিলিগুড়ি করিডর পরিদর্শন করেছেন।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, সুপরিকল্পিত পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করতে শহরটিকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ (এনএসআর) বা জাতীয় কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈরী সম্পর্কের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই জট কেটেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরে গড়িমসি করার অভিযোগ ছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির। তবে নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পেয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজও দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বিএসএফের হাতে ১ হাজার ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করেছে। এই জমির মোট দৈর্ঘ্য ১৭২ দশমিক ৬০৯২২ কিলোমিটার। এই উদ্যোগের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায় ও সবচেয়ে কম দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়িতে। জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের খতিয়ানে দেখা যায়, মালদহ জেলায় ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর, কোচবিহারে ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬ দশমিক ৪১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬ দশমিক ৬১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪ দশমিক ৩১ একর এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ২ দশমিক ১৭ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

উত্তরকন্যার বৈঠকে এই জমি হস্তান্তর ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলা মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে নদী ও জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার সীমান্তে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।

তবে অরক্ষিত এই নদী সীমান্তগুলোতে বিএসএফের টহল অনেক বাড়ানো হয়েছে। উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে কোচবিহারে সবচেয়ে দীর্ঘ অর্থাৎ ৫৫০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এরপর দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৫০ কিলোমিটার এবং উত্তর দিনাজপুরে ২২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি নেপাল ও ভারতের মধ্যকার ১ হাজার ৭৫১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close