পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে সৌদি আরবে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এ বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করছেন এবং শুক্রবার আঙ্কারা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করে।
প্রায় দেড় মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র শিল্পের বিকাশ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। জোটটিকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষভাগে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এবার শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে বসেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের সচিবালয় ও বিভিন্ন ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা পবিত্র মক্কা নগরী ও সৌদি আরবের বেসামরিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিশানা করে চালানো হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটিকে ‘সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন কোনো ধারণা সামনে আনা হলে কিংবা নতুন কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে, এমন মানুষ থাকাটাই স্বাভাবিক, যারা তা মেনে নেবে না।’ তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সম্পন্ন হলে তিন দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে—এ বিষয়ে তাঁর ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব রিয়াদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করলে যেকোনো মুহূর্তে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামানো হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য নতুন বিদেশি আগ্রাসনের সমুচিত জবাব ‘নতুন সামরিক প্রযুক্তি’র ব্যবহারের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি। শনিবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, আধুনিক অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল অবলম্বন এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেকারচি উল্লেখ করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও উন্নত। দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শত্রুপক্ষের জন্য তেহরানের হাতে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। বাহিনীর বর্তমান প্রস্তুতি তুলে ধরে শেকারচির ভাষায়, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে।’ তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় গাছপালা ও খুঁটি উপড়ে পড়ে প্রায় এক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ভেঙে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে নগর আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত অপর চারজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে নগরীর ফায়ার সার্ভিস বিভাগ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধীরগতিতে উত্তর-পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নিউ জার্সির সার্ফ সিটিসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়ক উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। নিউ জার্সির সি ব্রাইট এলাকার মেয়র ব্রায়ান কেলি জানান, ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং কিছু সড়কে প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত পানি ওঠার আশঙ্কায় কয়েক শ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউ জার্সি ও ডেলাওয়ারের আটলান্টিক উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং সাগরে সর্বোচ্চ ২০ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
প্রবল বাতাসের মুখে নিউইয়র্ক নগরীতে গাছ ভেঙে পড়া ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৯০০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্ক ও বিনোদন বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণে কাজ করছেন। একই সাথে নিউ ইংল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৬৯ থেকে ৮৯ কিলোমিটার গতিতে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ের কারণে আকাশপথের যোগাযোগে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বোস্টন বিমানবন্দরসহ ম্যাসাচুসেটসের মার্থাস ভিনইয়ার্ড ও নানটাকেটের শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোয় সংগীতশিল্পী এড শিরানের দুটি নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল এবং বোস্টনের গুরুত্বপূর্ণ বেসবল ম্যাচ ফ্লোরিডায় স্থানান্তর করতে হয়েছে। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলাইনার হ্যাটেরাস দ্বীপে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া অন্তত ৪৫ জন অতিথি আটকা পড়েন, যাদের জন্য পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিকল্প ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে—এমন আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন বলে খবর প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো নির্দিষ্ট কোনো মতামত দেয়নি।
নিউ ইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওই ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার কাছে দেশটির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি যে, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বাংলাদেশের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই চমৎকার অবস্থায় রয়েছে।
নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে কাজ চলছে, আমরা তার পাশে রয়েছি। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলাটা সমীচীন মনে করছি না।’
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে না নিয়ে কীভাবে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব? এটাকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিচ্ছে?
জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি জটিল অংশে পড়েছে। আপনার পয়েন্ট হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বড় প্রতিবেশী দেশের পাশে অবস্থিত। আমরা সবসময় উৎসাহ দিই, প্রতিটি দেশ যেন তাদের পরিমণ্ডলে অবস্থান করে। আমরা আপনাদের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত রাখতে সহায়তা দিতে চাই; আপনাদের ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা দিতে চাই। আমরা বিকল্প কিছু তুলে ধরতে চাই। আমরা বলছি না যে, আপনাকে কাউকে বেছে নিতে হবে; আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প হতে চাই।
এ ব্রিফিংয়ের আগে নিউ ইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন।
আরব সাগরে যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন (৭৫ কোটি) ডলার মূল্যের মাদক জব্দ করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস হুনাইন ও পিএনএস ইয়ারমুক এ অভিযান চালায়। নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক একটি নৌযান শনাক্ত করে সেটিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে নৌযানটির গোপন কুঠরি থেকে ২ হাজার ৮০০ কেজির বেশি মাদক উদ্ধার করা হয়।
পাকিস্তান নৌবাহিনী বলেছে, এ অভিযান সমুদ্রে অবৈধ পাচার রোধ এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নজরদারি ও সতর্কতার প্রতিফলন।
এর আগে গত জুনে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বেলুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত অঞ্চল গোয়াদর উপকূলের কাছে প্রায় ২ হাজার কেজি মাদক জব্দ করেছিল পাকিস্তান নৌবাহিনী। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ছিল হাশিশ এবং ৫০০ কেজি ‘আইস’। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব মাদকের মূল্য প্রায় ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে জানানো হয়েছিল।
এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে আরব সাগরে পালতোলা নৌযান থেকে ৯৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের মাদক জব্দ করেছিল পাকিস্তান নৌবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস নেমেছে। গত ৩৬ বছরের মধ্যে কোনো প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার হারের ক্ষেত্রে এটিই সর্বনিম্ন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থনে অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৭ শতাংশে, যেখানে ৬১ শতাংশ ভোটার তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের পর থেকে পরিচালিত জরিপের ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটাই সবচেয়ে কম সমর্থনের নজির।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া প্রায় সাত মাসের দীর্ঘ যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের এই চরম জনপ্রিয়তাহীনতার প্রধান কারণ। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ে তার সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, যা রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে ২১ সেপ্টেম্বর কমে সর্বনিম্ন ৩২ শতাংশে নেমে আসে। এমনকি জো বাইডেনের সর্বনিম্ন ৩৫ শতাংশ অনুমোদনের চেয়েও এটি নিচে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অ্যাকশনের ক্ষেত্রে মার্কিন জনগণের সমর্থন কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে। জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর জন আস্থা হ্রাস পেয়ে ১৭ শতাংশে ঠেকেছে। সমর্থকদের ধরে রাখতে ট্রাম্প তেল কোম্পানিগুলোকে দায়ী করার পাশাপাশি ভোটারদের পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত ডিভিডেন্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
ভোটের এই নেতিবাচক প্রভাব ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেপ্টেম্বরের এক সপ্তাহে রিপাবলিকানদের মধ্যে তার সমর্থন ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশে নেমে এসেছে। জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রথমবারের মতো অধিকাংশ রিপাবলিকান বা ৫১ শতাংশ ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অন্যান্য জরিপ সংস্থাগুলোর মধ্যেও ট্রাম্পের রেটিং নিম্নমুখী। আমেরিকান রিসার্চ গ্রুপ তার সমর্থন ২৯ শতাংশ বললেও হার্ভার্ড ক্যাপস জরিপ ৪৪ শতাংশ দেখিয়েছে। সিলভার বুলেট তাদের গড়ে নিট অনুমোদন রেকর্ড সর্বনিম্ন বলে চিহ্নিত করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাকেই ব্যালটে আছে ধরে নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্টদের জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশের নিচে থাকলে ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া গ্যালাপ জরিপ অনুযায়ী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের দল গড়ে ৩৭টি আসন হারায়। এর ফলে আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েল সাধারণত সামরিক কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন রাখে। তবে এবার নিজেদের সরকারি ম্যাপিং ওয়েবসাইট ‘গভম্যাপ’-এ ভুলবশত গাজা উপত্যকার ধ্বংসযজ্ঞ এবং গোপন সেনাঘাঁটির স্পষ্ট স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে ফেলেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের নজরে প্রথম বিষয়টি আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তেল আবিব অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়েবসাইট থেকে ছবিগুলো সরিয়ে নেয়। পরে সেখানে আবার ঝাপসা ছবি প্রকাশ করা হয়।
তবে, ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার আগেই আরেক এক্স ব্যবহারকারী সেগুলো সংরক্ষণ করে ফেলেন। পরে, তিনি ছবিগুলো জিওস্পেশাল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘সোর এটলাস’-এ প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) অভিযানে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরের ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। অনেক ভবন ও সড়ক প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মাটি সরানোর চিহ্ন এবং নতুন সড়কের মতো পথও দেখা গেছে।
পাশাপাশি, বাফার জোনের ভেতরে সামরিক যানসহ ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ১১টি ঘাঁটির অবস্থানও ছবিতে দেখা গেছে। গাজা সিটির যাইতুন ও জাবালিয়া এলাকার গোপন সেনাঘাঁটির অবস্থানও এসব ছবিতে প্রকাশ হয়ে পড়ে।
ছবিতে বেইত হানুনের আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও দেখা গেছে। অন্যদিকে, গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় অনেক ভবন ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাটি সরানোর চিহ্ন দেখা গেছে।
যাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কারনি ক্রসিংয়ের কাছেও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক যান ও বিভিন্ন অবস্থানের চিত্র দেখা গেছে। একইভাবে, পূর্ব জাবালিয়া এলাকায় সামরিক অবস্থান, যানবাহন এবং মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার চিহ্নও দেখা গেছে।
তবে, এসব স্যাটেলাইট ছবি ২০২৫ সালের। তাই ছবিতে দেখা চিত্র বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার আগেই আরেক এক্স ব্যবহারকারী সেগুলো সংরক্ষণ করেন। পরে তিনি ছবিগুলো ‘সোর এটলাস’ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
একই সময়ে, বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নের তথ্যমতে, গাজার আবাসিক ভবন, স্কুল ও হাসপাতালসহ ৮০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে।
মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ইকুয়েডরের নিরাপত্তা বাহিনী সিরিজ অভিযানে নেমেছে। সম্প্রতি এ রকমই একটি অভিযানে তিন সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নিহত ও আরও বহু সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এবার কেবল গোয়েন্দা তথ্য বা প্রশিক্ষণ নয়, এই অভিযানে সরাসরি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মার্কিন সেনাদের একটি দলও ইকুয়েডরের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নিয়েছে।
ইকুয়েডর সরকারের ঘোষিত এই যৌথ অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ লাতিন আমেরিকার মাদকবিরোধী যুদ্ধে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত, অপরাধী দলগুলোকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার পর এই উদ্যোগ আরও জোরদার হয়েছে।
গুয়ায়াকিল শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ৫০ জন মার্কিন সামরিক কর্মী ও ইকুয়েডরের ৩০০ জনের বেশি জাতীয় পুলিশ সদস্য যৌথভাবে অভিযান চালান। ইকুয়েডরের কর্মকর্তাদের মতে, মেক্সিকোর শক্তিশালী ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ককে ধরতে এই অভিযান চালানো হয়।
ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পোস্ট করা ছবিতে গুয়ায়াকিলের একটি অভিজাত এলাকার বাসভবনে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কাঁধে মার্কিন পতাকার ব্যাজ পরা মাস্ক পরিহিত মার্কিন সেনাদের দেখতে পাওয়া যায়। এই অভিযানে ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এর এক দিন আগে, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন বাহিনীর তদারককারী সংস্থা ‘ইউএস সাউদার্ন কমান্ড’-এর সহায়তায় ইকুয়েডরের সেনারা মানাবি উপকূলীয় প্রদেশে ‘চার্লি’ ছদ্মনামের এক স্থানীয় মাদক কারবারি ও তাঁর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। কর্মকর্তারা জানান, চার্লি ইকুয়েডরের কুখ্যাত ‘চোনোরোস’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন এবং মেক্সিকোর জালিস্কো কার্টেলের সঙ্গেও তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ইকুয়েডরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিয়ান কার্লো লোফ্রেডো বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, হয় কারাগার নয়তো জাহান্নাম; আর এই ব্যক্তি কারাগারে পৌঁছাতে পারেনি।’ ভিডিওর সঙ্গে রক্তে ভেজা রাস্তা ও গুলিবিদ্ধ ট্রাকের পাশে তিনটি মরদেহের ছবি প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইকুয়েডরসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশকে মাদকবিরোধী যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করলেও মাঠপর্যায়ে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অংশ নেওয়ার ঘটনা বিরল। ওয়াশিংটন অফিস অন লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম আইজ্যাকসন বলেন, ‘ইকুয়েডরে আমরা যা দেখছি, তা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও দেখা যায়নি। এটি যদি এই অঞ্চলে নতুন মডেল হিসেবে অনুসরণ করা হয়, তবে আমরা মার্কিন সেনাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে দেখব।’
ইউএস সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইকুয়েডরের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযান আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দেয়। তবে অপারেশনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে সংস্থাটি অস্বীকার করেছে।
প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার অধীনে ইকুয়েডর ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণপন্থী লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর জোটে মূল অংশীদার হয়ে উঠেছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় ইকুয়েডর বর্তমানে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান রুট এবং ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে, যার ফলে দেশটিতে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের হার মারাত্মকভাবে বেড়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে নোবোয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো একক রাষ্ট্র একা এমন শত্রুকে পরাস্ত করতে পারে না, যার কোনো সীমান্ত নেই। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত অপরাধকে শুধু পুলিশের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু আজ আমরা জানি, এটি তার চেয়ে বড় সংকট।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালী এখন গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মার্কিন নৌঅবরোধ থেকে মুক্তি চায় ইরান। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। বর্তমানে প্রণালীটি তেহরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
নৌঅবরোধ তুলে নেওয়াসহ অন্যান্য শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান। তবে ওয়াশিংটন সব শর্ত মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।’
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এ জন্য সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নেওয়ার পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে প্রস্তুত তারা।
তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি।’
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন—ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এমন প্রতিবেদনের পর আনুষ্ঠানিক মার্কিন জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। তবে জার্নালের ওই প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিক হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে দুই পক্ষ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু করতে পারে বলেও জানান তিনি।
এই আলোচনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও থাকতে পারে। তবে শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান।’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়েও ইরান নমনীয় হবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌঅবরোধ তুলে নিতে হবে, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বন্ধের কথাও বলেছে তেহরান। এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরান তার দাবিগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। তিনি তার সহযোগীদের বলেছেন, নতুন করে ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্স এ প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এরই মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ থেকে স্বস্তি চাচ্ছে তেহরান।
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার বিষয়ে অবহিত করেছেন।
ইরান বর্তমানে এক পূর্ণাঙ্গ সম্মিলিত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পদাতিক বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি। এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
কমান্ডার কারামি জানান, সংজ্ঞানাত্মক বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষ সাধারণ মানুষের জনমত প্রভাবিত করতে এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে সংবাদমাধ্যম ও সাইবার জগতকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, তেহরান যেকোনো ধরনের অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
৭ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেবে ইরান
ইরানের উত্থাপিত সাতটি শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শাস্তি বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র ইরানকে চলমান সংঘাতের বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে জানান, দেশটি তার এই বিজয়কে ‘স্থায়ী কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থায়’ রূপান্তরিত করছে। এর অংশ হিসেবেই তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং তা পুনরায় খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
হোসেইন মোহেব্বি জানান, হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলের অবাধ সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তবে মার্কিন আগ্রাসনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা রাখতে সক্ষম হয়নি।’
ধারাবাহিক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে ইউক্রেনের সর্ববৃহৎ ইস্পাত কারখানা। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহে অবস্থিত এই ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী সংস্থা আর্সেলর মিত্তাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ইউক্রেন সরকারকে জানানো হয়েছে, অব্যাহত হামলার মুখে বর্তমানে কারখানাটিতে নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ বজায় রেখে উৎপাদন পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে কারখানা চত্বরে চার দফা তীব্র রুশ হামলায় অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে কর্মরত পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ইউক্রেনের জাতীয় অর্থনীতিতে ইস্পাত খাত ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অতীতে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশই আসত এই খাত থেকে। তবে রুশ আগ্রাসন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানামুখী বিধিনিষেধের কবলে পড়ে দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনীয় ইস্পাত শিল্প।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের বাণিজ্যিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ গ্রিড, কৃষ্ণসাগরের বন্দর এবং ইন্টারনেট ডেটা সেন্টারের মতো বেসামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা ও নিয়মিত কাজের সক্ষমতা ধ্বংস করতেই মস্কো এই কৌশল নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি বছর প্রতিরক্ষা খাত সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত ২৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে কিয়েভ। একই সাথে অভ্যন্তরীণ মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত তহবিল ছাড়ের ওপর জোর দিচ্ছেন জেলেনস্কি।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে চীনের প্রভাব কাজে লাগিয়ে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কিয়েভ প্রশাসন। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো অভিপ্রায় মস্কোর নেই, যদিও ন্যাটো নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের আমন্ত্রণ বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন ১৪ জন শীর্ষ মার্কিন সিনেটর। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক এমন প্ল্যাটফর্মে পুতিনের অন্তর্ভুক্তি রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) একটি সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের তালিকায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর দুজন শীর্ষ জেনারেলসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোয়াঙ্গো প্রদেশের কেঙ্গে শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উড়োজাহাজটি দেশটির কিকউইত শহর থেকে উড্ডয়ন করে রাজধানী কিনশাসার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মাঝআকাশে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বৈমানিক কেঙ্গে এলাকায় জরুরি অবতরণের উদ্যোগ নেন। কোয়াঙ্গো প্রদেশের উপগভর্নর রেমি সাকি বোকিন্ডা জানান, জরুরি অবতরণের চেষ্টা করা হলেও সেখানে কোনো রানওয়ে বা বিমানঘাঁটি না থাকায় উড়োজাহাজটি সরাসরি একটি আবাসিক এলাকার ওপর আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়।
কঙ্গো সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল এফোমি একেনগে জানান, বিমানটিতে থাকা আরোহীদের কেউই বেঁচে নেই। নিহত ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে ভস্মীভূত হওয়ায় তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি এবং পাইলটের মরদেহটি বিমানের ধ্বংসাবশেষের বাইরে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই জেনারেলের পাশাপাশি সরকারি প্রতিনিধিদল ও সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ছাড়াও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ডিআর কঙ্গো দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রুয়ান্ডা সীমান্তঘেঁষা পূর্বাঞ্চলের বহুমূল্য খনি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র সংঘাত চলছে। গত বছর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখলে যাওয়া কৌশলগত বিভিন্ন এলাকা ও শহর পুনর্দখলে কঙ্গোর সামরিক বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে।
ইউরোপে গিয়ে ভাগ্য বদলের আশায় ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ রাবারের নৌযানে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় গত এক সপ্তাহে মিসরের বিভিন্ন উপকূল থেকে অন্তত ১৬০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া এসব বাংলাদেশি বর্তমানে মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন।
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশির মধ্যে মাতরুহ উপকূল থেকে ৪৬ জন, পোর্ট সাইদ থেকে ৫৮ জন এবং দামিয়েত থেকে ৫৬ জন রয়েছেন। এসব অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সুদান, মিশরসহ অন্যান্য দেশের ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছাড়লেও ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ, অনিরাপদ নৌযান আর অনিশ্চিত গন্তব্য তাদের যাত্রাকে পরিণত করছে চরম জীবনঝুঁকিতে। ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই অনেকের স্বপ্ন থেমে যাচ্ছে সমুদ্রের মাঝপথে। উদ্ধার হওয়ার পর এখন তাদের সামনে অপেক্ষা দেশে ফেরার।
ভূমধ্যসাগর থেকে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক উদ্ধারের খবর পাওয়ার পরই ব্যস্ততা বাড়ছে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।
প্রথমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সেবা এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এ জন্য মিসরের পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ, আদালত, হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে হয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের।
উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করাই দূতাবাসের কাজের শেষ নয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতেও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
পরপর কয়েকটি ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্ধারের ফলে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের ওপর কাজের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য মিসরের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় একের পর এক বাংলাদেশি আটকা পড়া বা উদ্ধারের ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় যাত্রা করা এসব মানুষের অনেকেই শেষ পর্যন্ত ফিরে আসছেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে। সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন ভয়াবহ এক সমুদ্রযাত্রার স্মৃতি।