মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
১০ আষাঢ় ১৪৩৩

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


মমতাকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৬ ২২:৩২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে দলের অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন, সেই দলের শীর্ষ পদ থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।

সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক হলেও ২০২২ সালের পর আর কোনো নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপর দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন।

সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান আনসারিকে। পাশাপাশি দলের অতীতের সব আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য বিশেষ নিরীক্ষক বা অডিটর নিয়োগের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।


রুশদের হাতে শেষ ঘাঁটি হারানোর পথে ইউক্রেন

ছবিঃ ব্রিটানিকা
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। শহরটি এখন তারা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, পুরো শহরটি বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’পরিণত হয়েছে।

কোস্ত্যন্তিনিভকা শহরটি দনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই শহরের পতন ঘটলে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের শেষ প্রধান দুটি ঘাঁটি—ক্রামাতোরস্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের দিকে সরাসরি অগ্রসর হতে পারবে। এর ফলে সমগ্র দনবাস অঞ্চল দখল করার যে লক্ষ্য ক্রেমলিন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা মস্কোর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

বিবিসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বলেন, ‘তারা (রুশ সেনারা) পেছনের দিক থেকে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ছে। শহুরে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া চরম কঠিন কাজ।’

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত সম্মুখভাগে স্থবির হয়ে ছিল। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি ছিল, তাঁরা এ বছর হারানোর চেয়ে বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছেন এবং রুশ সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ব্যাহত করতে পেরেছেন। কিন্তু কোস্ত্যন্তিনিভকায় রুশ সেনারা দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হয়ে এখন শহরের উত্তর প্রান্তেও অবস্থান নিয়েছে।

মস্কোর দাবি, তাদের বাহিনী কোস্ত্যন্তিনিভকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।

তবে কিয়েভ এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শহরটি প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্ডার বাকুলিন জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুরা সফল হতে পারেনি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো শহরের ভেতরে প্রায় ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে।

শহরের ভেতরে যুদ্ধরত এক ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মস্কোর দাবির মতো এতটা সংকটজনক না হলেও, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জনসমক্ষে যা স্বীকার করছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। তিনি বলেন, ‘শহরের ভেতরে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও আক্রমণকারী দল কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু রুশরা ক্রমাগত সেখানে আরও সেনা জড়ো করতে সক্ষম হচ্ছে।’

গ্রীষ্মের গাছপালার আড়াল এবং প্রতিটি ভবনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রুশ সেনারা অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন এড়াতে রুশ সেনারা অনেক সময় দিনে মাত্র ১০০ মিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে পার হচ্ছে।

বর্তমানে রুশ ড্রোন পাইলটরা ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট জানান, তাদের জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা যেহেতু শত্রু পাইলটদের খোঁজার চেয়ে তাদের পদাতিক বাহিনীকে ঠেকাতে বেশি ব্যস্ত থাকি, তাই তারা অনায়াসেই আমাদের অবস্থানগুলো শনাক্ত করে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং আমাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে।’

ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বড় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রুশ বাহিনী এখন এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছে যে তারা ইউক্রেনীয় অবস্থান শনাক্ত করতে সস্তা চীনা ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহ করা চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, সবকটি স্থলপথ এখন সরাসরি রুশ গোলন্দাজ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর আওতায় রয়েছে।

ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী প্রকল্প ‘ডিপস্টেট’ জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তিনিভকার পতন এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’। এটি ঘটলে এই অঞ্চলে ইউক্রেনের লজিস্টিক অপারেশন আরও জটিল হবে এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।


ভিসা ফি ৫ গুণ করল জাপান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করেছে জাপান। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে ভিসা ফি বাড়ানোর প্রথম ঘটনা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮.৬৯ মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।

১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ভিসা ফি সংশোধন করল টোকিও। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জাপানের বিকাশমান পর্যটনশিল্পে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে এটি জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

২০২১ সাল থেকে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েনের এই দরপতন এবং করোনা মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনও পরোক্ষভাবে এই ফি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

কেবল ভিসাই নয়, জাপানে বসবাসরত বা বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য অন্যান্য ফি-ও বড় আকারে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মে মাসে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির একটি বিল পাস হয়।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ ফি বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানের ৩০ গুণ।

এ ছাড়া রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। জাপানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ভিসা এবং আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ফি বেশ কম ছিল।

উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে অনাবাসী (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসা আবেদন ফি ১৮৫ ডলার থেকে ৩১৫ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাধারণ স্বল্পমেয়াদি ভিসার ফি ১৩৫ পাউন্ড (প্রায় ১৭০ ডলার)। সেই তুলনায় জাপানের নতুন নির্ধারিত ফি উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমকক্ষ হবে বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।


‘সমঝোতা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র’

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৬ ২০:০৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ওই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেব। তারা যদি সমঝোতা না করে, তাহলে সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করব।

এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সরাসরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব নিতে পারে। একই সঙ্গে ওই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বাস্তব অর্থ ও সম্ভাব্য নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকেও নতুন করে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ধরনের কঠোর অবস্থান নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুনে নিহত ১৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌতে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি তিনতলা ভবনে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা ভবনটি থেকে অন্তত ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটিতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনের ওপরের তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। তবে আগুন লাগার সময় ঠিক কতজন মানুষ সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানানো হয়নি।

ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আটকা পড়া মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টার থেকে পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী নিচে লাফিয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে বের হয়ে কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বেড়ার ওপর এবং পরে মাটিতে পড়ে যান। লাফ দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত একজনের হাড় ভেঙে গেছে এবং আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর উদ্ধারকাজ সরাসরি তদারকি করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। উদ্ধারকাজের অংশ হিসেবে দমকল কর্মীরা ভবনের কয়েকটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি লখনৌর স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।


ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: শাহবাজ শরিফ

শাহবাজ শরিফ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

তার দেওয়া তথ্যমতে, অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা (রোডম্যাপ) তৈরিতে সম্মত হয়েছেন।

উভয় পক্ষের এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং রাজনৈতিকভাবে তদারকি করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান তার সৎ এবং আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে একটি বড় ধরনের বরফ-গলা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর পটভূমিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শাহবাজ শরিফ। সুইজারল্যান্ডে চলমান এই কূটনৈতিক আসরে ট্রাম্পের ‘দূরদর্শী এবং অত্যন্ত গতিশীল নেতৃত্বের’ জন্য তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের বৈঠকস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যার সুনির্দিষ্ট ফল হিসেবে আজ আমরা সবাই এখানে এক টেবিলে বসতে পেরেছি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এই আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।

শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, এখানে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার কিছু আলোচনা হতে যাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বিগত কয়েক ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও ইরানকে ঢালাওভাবে ছাড় দেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি এখনো ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় তেহরানের ওপর চাপান। তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশকে এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি করেছে যেখানে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।


বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বিপাকে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিদেশে পড়তে যাওয়া নিয়ে ভয়াবহ বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি ও ভারতীয় রুপির দরপতনে এ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক মাসে ইউরোসহ বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ভারতীয় রুপির ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের ২৯ বছর বয়সি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রগতি প্রিয়া ইউরোপের একটি দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, চিন্তায় আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমি এমন কোনো ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে চাই না, যা সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব হবে না।

প্রিয়ার মতো ভারতের লাখ লাখ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থী একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, ১২ লাখেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। দেশটি কয়েক বছর আগেই এ ক্ষেত্রে চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রুপির ক্রমাগত অবমূল্যায়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ভিসার কঠোর নিয়মের কারণে এ অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ভারতের এডওয়াইজ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা সুশীল সুখওয়ানি বলেন, বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। গত দুই বছরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমেছে। আগামীতে এ হার আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমতে পারে।

ভিসা কড়াকড়ির কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়াশোনা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারির সেশনে যুক্তরাজ্যের ৭৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই হার প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।

রুপির দরপতনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সুখওয়ানি জানান, গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে করে অনেক শিক্ষার্থীকে টিউশন ফির জন্য নতুন করে ঋণের আবেদন বা অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ভারতের মুদ্রার মান ৩৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

অন্যদিকে পড়াশোনা শেষে চাকরি করে আয় বাড়লেও ক্যারিয়ার গঠনের পথ দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘নর্থ আমেরিকা অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টসের’ প্রতিষ্ঠাতা সুধাংশু কৌশিক বলেন, শিক্ষার্থীরা দক্ষকর্মী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে আসেন। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত গিগ ইকোনমি বা অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন কাজে আটকে পড়ছেন। আগে এসব কাজ করে পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারলেও এখন তারা শেষ পর্যন্ত পূর্ণকালীন হকার বা ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, পেশা নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা ভারতের উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বিদেশে পড়াশোনাও আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

স্টুডেন্ট আবাসন বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের’ চিফ অপারেটিং অফিসার মায়াঙ্ক মাহেশ্বরী বলেন, কম টিউশন ফি, পড়াশোনা পরবর্তী কাজের সুবিধা এবং ভালো কর্মসংস্থানের কারণে জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির মতো দেশগুলো এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।


সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বড় অগ্রগতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপের পর ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এই অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং ট্রাম্পের হামলার হুমকির কারণে আলোচনার শুরুটা বেশ উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করতে একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতি অনুযায়ী, সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডের পার্বত্য রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষ লেবাননে সংঘাত থামানোর একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান রাজি হয়েছে।

গত সপ্তাহে সই হওয়া এক সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গতকাল রোববার ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এপ্রিল থেকে চলা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানো। সোমবার ভোররাত পর্যন্ত এই আলোচনা চলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়, বিদেশে আটকে থাকা কিছু সম্পদ ছাড় এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

আলোচনা আপাতত শেষ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরুর ঠিক আগে ফক্স নিউজ জানায়, ট্রাম্প ইরানের কর্মকর্তাদের এই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি আবারো হরমুজ প্রণালী বন্ধের চেষ্টা করে তবে ‘সেই দেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না’।

ট্রাম্প এই বলে আরও হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেবে এবং সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব কর বা টোল বসাবে। সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সূত্রের বরাতে জানায়, ট্রাম্পের হুমকির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধিরা আর আলোচনার কক্ষে ফিরতে রাজি হননি। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।

ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরুর আগে পুরনো চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ইরানিদের চলে যাওয়ার খবর ঠিক নয়। গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা হরমুজ প্রণালী, লেবানন পরিস্থিতি, পারমাণবিক ইস্যু এবং সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছি।

এক মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা গতকাল সোমবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিস্তারিত কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল সেখানে আরও কিছুদিন অবস্থান করবে।

সমঝোতা স্মারকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েল প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার বিপরীতে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

লেবাননে যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করতে পারেনি—এই অভিযোগ তুলে ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তারা আবারও ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরান আরও বলেছিল, রোববার আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বা মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কথা হবে না।

সুইজারল্যান্ডে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলাকালীন ভ্যান্স লেবানন পরিস্থিতিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, সেখানে যুদ্ধ অবসানের পথে অগ্রগতি হয়েছে। ভ্যান্সের মতে, ‘এ ধরনের বিষয়গুলো সবসময় কিছুটা জটিল বা অগোছালো হয়।’

এদিকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে না আনে, তবে তিনি আবারও ইরানে হামলা শুরু করবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘লেবাননে ইরানের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিদের এখনই অশান্তি সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে আমরা আবারো ইরানে কঠোর হামলা করব, ঠিক গত সপ্তাহের মতো—তবে এবার হামলা হবে আরও শক্তিশালী!’

তবে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু করার অনুরোধ করেছেন।’একজন মার্কিন কূটনীতিক জানান, আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের বার্তা স্পষ্ট করা এবং যুদ্ধ বন্ধের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেন প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকে।


ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম

অ্যান্ডি বার্নহাম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রিটেনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ অ্যান্ডি বার্নহাম নিশ্চিত করে বলেছেন, তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে চান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

এর আগে, স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর ৫৬ বছর বয়সি বার্নহাম একটি সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সোমবার বার্নহাম লেখেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে (প্রার্থী হিসেবে) তুলে ধরব।’

এদিকে, লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে বার্নহামকে সমর্থন দিয়ে যাবেন। এর মাধ্যমে ওয়েস স্ট্রিটিং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র বার্নহাম কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা ছাড়াই দলের শীর্ষ নেতা হয়ে যেতে পারেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্যার কিয়ার স্টারমার তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন, তার প্রতিটির পেছনে ছিল দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি দেশকে ভালোবাসি, তার স্বার্থকে সবার আগে রাখতেই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বক্তব্যে স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার স্ত্রী সবসময় শক্ত ভিত্তি হিসেবে পাশে ছিলেন।

একইসঙ্গে স্টারমার তার সন্তানদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের জন্য একজন সেরা বাবা হতে চাই। তারা আমার গর্ব ও আনন্দ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম আলোচনায় এসেছে। লেবার পার্টির জন্য ঠিক এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার মতো কিছুটা সুযোগ এখন তৈরি হয়েছে।

স্টারমার ঘোষণা করেছেন, তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে যে, তাহলে কি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই কেউ সরাসরি জয়ী হতে যাচ্ছেন?

লেবার পার্টির ক্রমবর্ধমান সংখ্যক এমপি অন্তত তেমনই মনে করছেন। আর এই দৌড়ে সবচেয়ে ফেভারিট বা এগিয়ে আছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সব হিসাব-নিকাশ এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকেই ইঙ্গিত করছে যে, তিনিই খুব শিগগির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

দুই বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক আবেগঘন ভাষণে স্টারমার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, তা আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই নিয়েছি। এ কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’


নয়াদিল্লিতে অবস্থান ধর্মঘটে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

নয়াদিল্লিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্ট’। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের দাবিতে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা ও চরম প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে দেশটির তরুণদের জনপ্রিয় রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জন্ম নেওয়া এই ব্যতিক্রমী নাগরিক আন্দোলনের শত শত সমর্থক দিল্লির তীব্র গরমের মাঝেই গত দুই দিন ধরে রাজপথ ও ফুটপাতে রাত কাটিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা আন্দোলনের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে চলতি মাসের শুরুতে দেশে ফিরে আসেন। তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এই তুমুল ক্ষোভকে সরাসরি রাজপথের গণআন্দোলনে রূপান্তর করতে ভারতের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে একের পর এক ছাত্র সমাবেশের ডাক দেন।

ভারতের মোট ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষের বয়সই বর্তমানে ২৫ বছরের নিচে এবং সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফলের চরম অমিল নিয়ে দেশটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও গভীর হতাশা বিরাজ করছে।

তরুণদের এই তীব্র অসন্তোষকে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মঞ্চ দিতেই অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি গঠন করেন। মূলত গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ সমাজকে অবজ্ঞা করে তেলাপোকা বা ককরোচের সঙ্গে তুলনা করে একটি মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিজিৎ দিপকে লিখেছিলেন যে, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে দলবদ্ধ হয় তবে কেমন হবে?’

তার এই একটি সাধারণ পোস্ট মুহূর্তেই ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে গঠিত সিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসারী বা ফলোয়ার সংখ্যা বর্তমানে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে যা বিগত ১২ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা মূল শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির মোট ফলোয়ারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

চলতি জুনের ৬ তারিখে নয়াদিল্লিতে প্রথম বড় ধরনের সমাবেশের পর সিজেপি তাদের এই আন্দোলনকে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং নাগপুরের মতো ভারতের বড় বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরীগুলোতে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

দিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে মধ্যরাতে অবস্থান নেওয়া শচীন কুমার নামের এক আঠারো বছর বয়সি শিক্ষার্থী জানান যে তিনি দীর্ঘ এক বছর কঠোর পরিশ্রম করে গত মাসে দেশের শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর সরকার ওই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করলে তিনি মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েন।

এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা রোধ করতে ভারত সরকার সাময়িকভাবে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করলেও দেশের বোদ্ধা ও সমালোচকেরা সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি আইওয়াশ বা সাময়িক জোড়াতালির সমাধান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বাতিল হওয়া ওই মেডিকেল পরীক্ষার জন্য রোববার দেশজুড়ে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় বসলেও ক্ষুব্ধ শচীন কুমার পরীক্ষা বর্জন করে দিল্লির এই প্রতিবাদস্থলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দুই পরীক্ষার মধ্যবর্তী দিনগুলোতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্ন ফাঁসের গ্লানি ও অপমানে এক ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে বিগত ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই তরুণ প্রজন্ম অন্য কোনো রাজনৈতিক আমল চোখে দেখেনি।

সরকার বর্তমানের এই তরুণদের প্রতিবাদ দমন করতে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টিসহ যন্তর মন্তরে খাবার ও পানির সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তবে পুলিশের সমস্ত দমনপীড়ন ও বাধা উপেক্ষা করে গভীর রাতেও শত শত তরুণ রাজপথের ওপর গোল হয়ে বসে রাজনৈতিক আলোচনা ও হিপ-হপ গানের তালে নেচে তাদের এই অভিনব প্রতিবাদ জারি রেখেছেন।

আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অভিজিৎ দিপকে এবং তার সমর্থকেরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই দিল্লির এই ঐতিহাসিক রাজপথ ছেড়ে যাবেন না।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিগত ১২ বছরের মোদি সরকারের আমলে কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ করার নজির না থাকলেও দিপকে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ‘সরকার যদি ভেবে থাকে যে তারা আমাদের এভাবে ক্লান্ত করে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেবে, তবে তারা সম্পূর্ণ ভুলের স্বর্গে বাস করছে; আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অনড় থাকব।’


ইরানের তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে। একই সাথে লেবাননে চলমান যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, “ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।” যদিও বাজেয়াপ্ত সম্পদের সঠিক পরিমাণ বা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড়ের খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে।

বৈঠকের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ সেল গঠনে একমত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে যে এতে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর নিয়মিত রাজনৈতিক নজরদারি রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন তদারকি করতে একটি ‘মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ’ কাজ করবে। এই কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন সরাসরি যুদ্ধের হুমকির পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। এর জেরে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস

গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্পষ্ট করে বলেন যে, পানিসম্পদ রক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘যখনই আমরা মনে করব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা (যার অংশ পানি) হুমকির মুখে, তখন আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।’ পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘটা একটি নাশকতামূলক হামলার প্রেক্ষাপটে তারা এই চুক্তি স্থগিত করেছে। ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, পাকিস্তান-সমর্থিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, ভারত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে পানিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করছে এবং কৃত্রিমভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিশেষ করে সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে জানা গেছে, সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পানির ঘাটতি এখন চরম পর্যায়ে। নর্থ ওয়েস্ট ক্যানালে ৬৪.১ শতাংশ এবং দাদু ক্যানালে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুক্কুর ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় কৃষি ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানিসম্পদ নিয়ে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।


চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের রোডম্যাপে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) শেষ হওয়া এই আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি ‘রোডম্যাপে’ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।

আলোচনার শুরুটা বেশ উত্তপ্ত ও উত্তেজনাকর ছিল। একদিকে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং দুই দেশ লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হলেও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো চলতি সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেন, যা সোমবার ভোররাতে শেষ হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির জন্য একটি বিশেষ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে।

যদিও আলোচনার মাঝে ট্রাম্পের হুমকির কারণে এক পর্যায়ে ইরানি প্রতিনিধি দল টেবিল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে পাকিস্তানি ও কাতারের দূতিয়ালিতে আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়। একজন মার্কিন কূটনীতিক নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিনিধিরা গভীর রাত পর্যন্ত পরমাণু ইস্যু, লেবানন পরিস্থিতি এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন। চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং সব ধরনের শত্রুতা নিরসন করা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও দুই দেশের এই অগ্রগতিকে বিশ্ব শান্তির পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞরা।


banner close