সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা, ইমরান সমর্থিতদের কি সুযোগ আছে?

খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২১

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।

জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।

এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।

ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।

প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।

বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।

ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।

পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।

তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।

গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।


কারাগারে প্রেম ও পরিণয়, বিয়ের জন্য প্যারোল মুক্তি পেলেন দুই সাজাপ্রাপ্ত খুনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই কয়েদির মধ্যে কারাগারেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক, যা এখন পরিণয়ে রূপ নিতে যাচ্ছে। রাজস্থানের আলওয়ারে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রিয়া শেঠ (ওরফে নেহা শেঠ) এবং তাঁর হবু বর হনুমান প্রসাদ বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজস্থান হাইকোর্ট থেকে ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল লাভ করেছেন।

শুক্রবার আলওয়ারের বারোদামেভে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সাঙ্গানের ওপেন জেল নামক একটি উন্মুক্ত কারাগারে সাজা খাটার সময় প্রায় ছয় মাস আগে এই যুগলের পরিচয় ও প্রণয়ের সূচনা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের এই বিয়ে ও সাময়িক মুক্তির বিষয়টি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রিয়া শেঠের কারাবাসের নেপথ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের এক বীভৎস হত্যাকাণ্ড। মডেলিং পেশা ছেড়ে তিনি দুশ্যন্ত শর্মা নামের এক তরুণকে অপহরণ ও খুনের দায়ে দণ্ডিত হন। তৎকালীন প্রেমিকের ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তিনি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দুশ্যন্তের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তাঁকে একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়েছিলেন। দুশ্যন্তের বাবার কাছ থেকে আংশিক মুক্তিপণ পেলেও ধরা পড়ার ভয়ে প্রিয়া ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরিচয় গোপন রাখতে তাঁরা ভুক্তভোগীর মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে পাহাড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদ দণ্ডিত হয়েছেন তাঁর প্রেমিকা সন্তোষের স্বামী ও চার শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে প্রেমিকা সন্তোষের প্ররোচনায় তাঁর স্বামীকে খুন করতে গিয়ে সন্তানদের সামনে পড়ে যান হনুমান। ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষের নির্দেশে তিনি তাঁর তিন সন্তান এবং এক ভাতিজাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন। আলওয়ারের অন্যতম কুখ্যাত এই হত্যা মামলায় পাঁচজনকে খুনের দায়ে তিনি বর্তমানে সাজা ভোগ করছেন। জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ে থাকা দুই ভিন্ন মামলার এই সাজাপ্রাপ্ত খুনি এখন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে নতুন করে সংসার জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন।


চালু হওয়ার এক দিন পরেই অচল বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনরায় চালু হলেও মাত্র এক দিনের মাথায় আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছে। রাজধানী টোকিও থেকে ২২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নিগাতা বন্দরশহরে অবস্থিত ৪২০ হেক্টর আয়তনের এই বিশালাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে মোট সাতটি পরমাণু চুল্লি রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ৮ দশমিক ২ মেগাবাইট। জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি বা টেপকো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।

২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির প্রভাবে সৃষ্ট ফুকোশিমা ট্র্যাজেডির জেরে জাপানের ৫৪টি পরমাণু চুল্লি বিধ্বস্ত ও অচল হয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রের চুল্লিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে যে ৩৩টি চুল্লি মেরামতের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, তার মধ্যেই ছিল এই কেন্দ্রের চুল্লিগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় জাপান সরকারের সিদ্ধান্তে গত ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর তোড়জোড় শুরু হয় এবং মেরামতের কাজ শেষ করে টেপকো গত ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।

তবে পুনরায় চালুর আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; এক দিন পরই ২২ জানুয়ারি কেন্দ্রটির ৬ নম্বর চুল্লিতে গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে টেপকো কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যান্ত্রিক গোলযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রটির অ্যালার্ম ব্যবস্থাতেও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টেপকো তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “আমরা যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছি। কী কারণে এই সমস্যা দেখা গেল— তা জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে। আপাতত কাশিওয়াজাকি-কারিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ আছে। এই ত্রুটি সারানো বেশ সময়সাপেক্ষ। তাই কবে থেকে ফের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হবে— তা এখনই বলা যাচ্ছে না”। বর্তমান কারিগরি সংকট নিরসনে তদন্ত ও মেরামত কাজ চলমান থাকলেও উৎপাদন পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি।


পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার তেজস্ক্রিয় প্রভাবে ধুঁকছে বিশ্ব, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

১৯৪৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নেতিবাচক প্রভাবে আজও ধুঁকছে বিশ্ববাসী। তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কারণে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অকাল মৃত্যু হয়েছে ৪০ লাখ মানুষের। আরও অনেকে রয়েছেন মৃত্যুঝুঁকিতে। নরওয়েজিয়ান পিপলস এইডের একটি নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। এরমধ্যেই নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।

একটি শহর ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিতে একটির বেশি দুটি পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন নেই। ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট এর ভয়াবহ নজিরও দেখেছে বিশ্ব। যার কারণে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার সেই দিনটিকে ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে আজও স্মরণ করা হয়। ৮০ বছর আগে লাখো মানুষের মৃত্যুতেও অভিশপ্ত পারমাণবিক অস্ত্রের ঝনঝনানি কমেনি। বরং দিনকে দিন বাড়ছে।

১৯৪৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী চালানো হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা। এ তালিকায় আছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, ভারত, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়া। এর নেতিবাচক প্রভাবে অকালমৃত্যু হয়েছে ৪০ লাখের বেশি মানুষের। পারমাণবিক বোমার বিকিরণে ক্যান্সার, হৃদরোগ, ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং জেনেটিক প্রভাবে আজও অকাল প্রাণহানির ঝুঁকি রয়ে গেছে।

অতীতে চালানো নিউক্লিয়ার টেস্টের সময়কার জীবিত প্রতিটি ব্যক্তি তাদের হাড়ে আজও তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বহন করে বেড়াচ্ছেন। নরওয়েজিয়ান ‘পিপলস এইড-এনপিএ’ নামক মানবিক সংস্থার প্রকাশিত ৩০৪ পৃষ্ঠার নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

এমনকি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের গবেষণা এবং অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিভিন্ন দেশ গোপন রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদা পূরণে ক্ষতিপূরণ প্রকল্পগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনটি এমন একসময় প্রকাশ করা হলো যখন পৃথিবীতে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। কারণ রাশিয়া ও চীন নিউক্লিয়ার টেস্ট অব্যাহত রেখেছে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রও পুনরায় তা শুরুর হুমকি দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ওয়াশিংটনের অভিযোগটি অস্বীকার করেছে মস্কো-বেইজিং।

পারমাণবিক সশস্ত্র রাষ্ট্রগুলোর কেউ কখনোই পরীক্ষার জন্য ক্ষমা চায়নি। এ অবস্থায় এ অভিশাপ থেকে বিশ্ববাসী মুক্তি পাবে কি না তাও বলা মুশকিল। কারণ ২০২২ সাল থেকে এখনও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। চীন-তাইওয়ান সংকট তো আছেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরোধ সমীকরণও দিন দিন জটিল হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুদ থাকা পরমাণু অস্ত্র দিয়ে পৃথিবীকে দেড়শো বার উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে গত বছর হুমকিও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যদিকে রাশিয়াও দাবি করছে, তাদের ভাণ্ডারে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু বোমা। যা হিরোশিমায় ফেলা লিটল বয়ের তুলনায় ৩ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এছাড়া বিভিন্ন পরিসংখ্যান তথ্য বলছে, ৯টি দেশে আছে ১২ হাজারের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র। যেখানে ওয়াশিংটনের চেয়েও এগিয়ে মস্কো।


জাপানে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা: পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশটির পার্লামেন্টের শক্তিশালী নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়েছেন এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণাপত্র পাঠ করার পর ৪৬৫ জন আইনপ্রণেতা ঐতিহ্যবাহী ‘বানজাই’ স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে সংসদ ত্যাগ করেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে ১২ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। গত অক্টোবরে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই বড় ধরনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশে অবস্থান করছে, যা কাজে লাগিয়ে তিনি শাসনব্যবস্থায় দলের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চীনের সাথে জাপানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) জোট নিম্নকক্ষে নামমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোটো মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সরাসরি ভোটে রূপান্তরিত হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, কারণ সাধারণ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম।

চীনের সাথে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতি এই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত নভেম্বরে সানায়ে তাকাইচি এক বিতর্কিত মন্তব্যে বলেছিলেন, ‘চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে জাপানও সেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’ এই বক্তব্যের পর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে এবং চীন জাপানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এই আগাম নির্বাচনকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি প্রত্যাশা করছেন যে, এই আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছ থেকে একটি নতুন ও জোরালো ম্যান্ডেট পাবেন, যা তাঁকে অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে আরও সাহসী করে তুলবে। তবে বিরোধী দলগুলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গতিপথ।


ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাতের তথ্য ফাঁস

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজসহ অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নেওয়ার পর দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের গোপন আঁতাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার জানানো হয়েছে যে, মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তাঁর ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। উচ্চপর্যায়ের চারটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই দুই ভাইবোন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের আগেই আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁরা মাদুরোর বিদায়কে স্বাগত জানাবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শরতেই ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং নভেম্বরের শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর ফোনালাপের পরও সেই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ওই সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেশ ছাড়ার প্রস্তাব মাদুরো প্রত্যাখ্যান করলেও ডিসেম্বর নাগাদ ডেলসি রদ্রিগেজ নিজের অবস্থানের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ডেলসি তখন বলেছিলেন, ‘মাদুরোকে যেতে হবে। এরপর যা ঘটবে, আমি সেটার সঙ্গে কাজ করব।’ শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারক মার্কো রুবিও এই যোগাযোগ নিয়ে সন্দিহান থাকলেও পরে তিনি মনে করেন যে, মাদুরোর বিদায়ের পর ভেনেজুয়েলায় অরাজকতা এড়াতে ডেলসি রদ্রিগেজের আশ্বাসই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।

গোপন সম্পর্কের এই খবর এর আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি, যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় ডেলসি রদ্রিগেজ নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন বলে গুঞ্জন ছিল। অন্যদিকে, রয়টার্সের তথ্যমতে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোও অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। তবে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজ সরাসরি মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন না; বরং তাঁরা কেবল মাদুরো পরবর্তী পরিস্থিতিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টের কাছে আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। তিনি বুঝেছেন।’

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কাতারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ডেলসির জন্য আলোচনার পথ সুগম করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল মাদুরোর অপসারণের পর ভেনেজুয়েলাকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া এবং গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করা। জানুয়ারির শুরুতে যখন মার্কিন হেলিকপ্টার কারাকাসে প্রবেশ করে, তখন ডেলসি রদ্রিগেজ প্রকাশ্যে না থাকায় তাঁর মস্কো পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সেই সংকটময় সময়ে তিনি ভেনেজুয়েলার পর্যটন এলাকা মার্গারিটা দ্বীপে অবস্থান করছিলেন। ক্ষমতা ও সম্পর্কের এই জটিল সমীকরণটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


কানাডাকে ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় কানাডাকে নিজের নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ থেকে বাদ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘অনুগ্রহ করে এই চিঠিটিকে এই মর্মে বিবেচনা করুন, কানাডার যোগদানের বিষয়ে বোর্ড অব পিস আপনাকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করছে।’ এই সিদ্ধান্তের আগে সম্প্রতি মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থায় একটি ‘ফাটল’ সৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন।

কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তারা এই বোর্ডে যোগ দিতে চায়। তবে ট্রাম্পের এই প্রকল্পে স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর জন্য ১ বিলিয়ন ডলার সদস্যপদ ফি প্রদানের শর্ত ছিল, যা পরিশোধে অটোয়া সম্প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। যদিও গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কার্নি নীতিগতভাবে ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণ গ্রহণের ইতিবাচক সংকেত দিয়েছিলেন, কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ওই পোস্টে ট্রাম্প কেন এই প্রস্তাব ফিরিয়ে নিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্নির দপ্তর থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বোর্ডটির পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে এরই মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আন্তোনিও কোস্তা জানিয়েছেন যে, বোর্ডটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের মনে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে, তবে গাজা সংকটের মতো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁরা এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য যে, এই ‘বোর্ড অব পিস’-এ চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে অসীম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের একটি শক্তিশালী ও নতুন বিকল্প সংস্থা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত ফি সংক্রান্ত বিরোধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে কানাডার এই বোর্ডে থাকা আর নিশ্চিত হলো না।


পবিত্র রমজানে সৌদি আরবে লাউড স্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: গালফ নিউজ
আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:১০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসজুড়ে নামাজের সময় মসজিদের বাইরের লাউড স্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও নির্দেশনমন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ আল শেখ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, সিয়াম সাধনার মাসে মসজিদের বাইরের স্পিকারের মাধ্যমে নামাজের কেরাত বা মোনাজাত প্রচারের অনুমতি দেওয়া হবে না। লাউড স্পিকারের ব্যবহার এখন থেকে কঠোরভাবে শুধু আজান এবং ইকামত (জামাত শুরুর দ্বিতীয় আহ্বান) দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রে রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সেখানে উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সরকারি নামাজের সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এশার নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণ এবং আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রমজানের ইফতারের আয়োজন শুধু মসজিদের নির্দিষ্ট উঠান বা আঙিনায় করতে হবে।

পাশাপাশি মসজিদের প্রয়োজনীয় পানি বা খাদ্যসামগ্রী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত মজুত তৈরি না হয়। এ ছাড়া মসজিদের খাদেম ও রক্ষণাবেক্ষণ দলগুলোকে সম্পূর্ণ এলাকা পরিষ্কার, নিরাপদ এবং প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে নারীদের নামাজের জায়গার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই পদক্ষেপগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য একটি শান্ত, সুশৃঙ্খল এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা।


বাংলাদেশি অভিহিত করে অন্ধ্রপ্রদেশে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ৩২ বছর বয়সী মঞ্জুর আলম লস্করকে চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে গত বুধবার রাতে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর চলমান ধারাবাহিক সহিংসতার এটিই সর্বশেষ উদাহরণ। মঞ্জুর আলম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেখানে জরির কাজ করতেন এবং স্থানীয়দের কাছে পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অভিহিত করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসছিল হিন্দুত্ববাদীরা।

মঞ্জুরের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাকে প্রথমে অপহরণ করে ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। তার স্ত্রী গত মঙ্গলবার একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে কোনোভাবে ৬ হাজার রুপি জোগাড় করেছিলেন, কিন্তু বুধবার জানতে পারেন যে মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মঞ্জুরের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত উগ্রবাদীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানোর পাশাপাশি নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জরুরি সহায়তা প্রার্থনা করেছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রস্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটি তাদের অন্যতম প্রধান অর্থদাতাকে হারাল। মূলত কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংস্থাটিকে ‘অতিরিক্ত চীনঘেঁষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ডব্লিউএইচওর কথিত ‘ব্যর্থ ব্যবস্থাপনা’, সংস্কারে অক্ষমতা এবং সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলেছে। তবে ডব্লিউএইচও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এই প্রত্যাহারকে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাহার শুধু আমেরিকার নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ক্ষতিকর।

পোলিও, এইচআইভি/এইডস এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে ডব্লিউএইচওর অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র বাদে বিশ্বের সব সদস্য দেশই ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। ঐতিহ্যগতভাবে বৃহত্তম দাতা হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চাঁদা পরিশোধ না করায় বর্তমানে সংস্থাটি গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ডব্লিউএইচওর আইনজীবীরা বলছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬ কোটি ডলার বকেয়া পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবে ওয়াশিংটন এই অর্থ পরিশোধের কোনো কারণ দেখছে না। ইতিমধ্যে ডব্লিউএইচওতে সব সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার পাশাপাশি জেনেভা সদর দপ্তর ও বিশ্বের বিভিন্ন কার্যালয় থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যুক্ত শত শত কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ডব্লিউএইচও আমেরিকার সব অবদানকে কলঙ্কিত করেছে এবং নষ্ট করেছে’। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, সংস্থাটি তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে এবং এমনকি জেনেভা সদর দপ্তরে থাকা মার্কিন পতাকাও ফেরত দেয়নি। এখন থেকে রোগ পর্যবেক্ষণ ও জীবাণু বিনিময়ের মতো কাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও সে বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ডব্লিউএইচও এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ডব্লিউএইচও ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে অসংখ্য প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এলে তা বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার বয়ে আনবে। তবে মহামারির সময় লকডাউন আরোপে দেরি করার মতো যে প্রশাসনিক ত্রুটি উন্নত দেশগুলোর ছিল, তা-ও বর্তমানে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।


‘ট্রিগারে’ আঙুল আছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান আলোচনার বিষয়ে আগ্রহী বলে দাবি করার পরপরই আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর এই সতর্কবার্তা দেন।

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে আমরা একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা খুব সতর্ক আছি।’ এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, ইরানের পক্ষ থেকে তাঁর জীবনের ওপর কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ‘ভুল হিসাব’ এড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা না নিলে তাদের আরও ‘বেদনাদায়ক ও অনুশোচনামূলক পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস ও ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। সর্বাধিনায়কের নির্দেশ বাস্তবায়নে আমাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।’

পাকপুর আরও নিশ্চিত করেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সকল হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের প্রধান জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে ‘সব মার্কিন ঘাঁটি, স্বার্থ ও প্রভাবকেন্দ্র’ হবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্য’। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধের সময় ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দুর্বল করতে বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমাসহ নানা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।


ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত সেই বিমানের নিখোঁজ ১০ আরোহীর সবার মৃতদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে একটি মৎস্য নজরদারি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ১০ আরোহীর সবার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। উদ্ধারকারী দল শুক্রবার ভোরে বিমানের শেষ দুজন আরোহীর মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রমের সমাপ্তি টানে, তবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশে থাকা অবস্থায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট (আইএটি)-এর মালিকানাধীন এই বিমানটি ছিল এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের একটি টার্বোপ্রপ বিমান। বিধ্বস্ত বিমানটিতে সাতজন ক্রু সদস্য এবং তিনজন যাত্রীসহ মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন। বিমানে থাকা যাত্রীরা সবাই ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মী ছিলেন এবং মূলত মৎস্যসম্পদ পর্যবেক্ষণ অভিযানের উদ্দেশ্যেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিমানটি চার্টার করা হয়েছিল।


ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের নাম ‘শান্তি’ না হয়ে ‘টুকরো’ হওয়া উচিত ছিল

সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভায় ধনকুবের ইলন মাস্ক। দাভোস। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) একটি প্যানেলে ব্ল্যাকরক-এর সিইও ল্যারি ফিঙ্কের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত শান্তি পর্ষদকে নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। কৌতুকচ্ছলে তিনি মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্পের এই বোর্ডের নাম ‘শান্তি’ (Peace) না হয়ে ‘টুকরো’ (Piece) হওয়া উচিত ছিল। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাস্ক বলেন, ‘আমি যখন শান্তি সম্মেলনের কথা শুনলাম, আমি ভাবলাম এটা কি শান্তি, নাকি গ্রিনল্যান্ডের ছোট টুকরো অথবা ভেনেজুয়েলার ছোট একটা টুকরো।’ উপস্থিত দর্শকদের মৃদু হাসির মাঝে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তো কেবল শান্তিই চাই।’

ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত এই শান্তি পর্ষদটি প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা তদারকির লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের একটি ক্ষুদ্র দল হিসেবে ভাবা হলেও, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আরও প্রসারিত হয়েছে। ডজনখানেক দেশকে এই পর্ষদে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই বোর্ড বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, ইলন মাস্ক দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও গত এক বছরে তাঁদের সম্পর্কে নানা চড়াই-উতরাই দেখা গেছে। সম্প্রতি জনসমক্ষে বিবাদ মিটিয়ে তাঁদের সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও ঠিক এই সময়েই মাস্ক এমন মন্তব্য করলেন।

আলোচনা চলাকালে মাস্ক ভবিষ্যতের সমাজব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, রোবট একদিন মানুষের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে মানবজাতির ব্যাপক কল্যাণ সাধন করবে এবং রোবটই একসময় আরও নতুন রোবট তৈরি করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার কোনো অভাব হবে না। কারণ, মানুষের চেয়ে রোবটের সংখ্যা বেশি হবে।’ মাস্কের ধারণা অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তার বৃদ্ধ বাবা-মা বা সন্তানদের দেখাশোনার জন্য ব্যক্তিগত রোবটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে। এই লক্ষ্যেই আগামী বছরের শেষ নাগাদ টেসলা জনসাধারণের কাছে রোবট বিক্রি শুরু করবে বলে তিনি জানান।

ইলন মাস্ক এমন এক সময়ে দাভোসের এই সম্মেলনে যোগ দিলেন, যখন তাঁর স্টার্টআপ ‘এক্সএআই’–এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘গ্রোক’ আপত্তিকর ছবি তৈরির বিতর্কে জড়িয়েছে। এর আগে মাস্ক বহুবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই বার্ষিক সম্মেলনকে ‘অভিজাতদের আড্ডা’ এবং ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ তিনি এই আয়োজনকে ‘বিরক্তিকর’ এবং ‘অনির্বাচিত এক বিশ্ব সরকার, যা মানুষ কখনো চায়নি’ বলে ব্যঙ্গ করতেও দ্বিধা করেননি।


ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে জেলেনস্কি

ভলোদিমির জেলেনস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং আলোচনাগুলো এখন মাত্র একটি শেষ ইস্যুতে এসে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন, সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

এর আগে চলতি সপ্তাহে জেলেনস্কি বলেছিলেন, তিনি দাভোসে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নেবেন না এবং ইউক্রেনের জ্বালানি সংকটে মনোযোগ দিতে কিয়েভেই থাকবেন। রাশিয়ার বিমান হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলেনস্কি আরও জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল তখনই দাভোসে যাবেন, যদি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের সমাধান বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সুযোগ থাকে—যার মধ্যে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন তহবিল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি দাভোসে ইউক্রেনীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। জেলেনস্কির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১টা ৩০ মিনিট) তিনি একটি ভাষণ দেবেন।

স্টিভ উইটকফ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দাভোসে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে ফ্লোরিডায়ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তাছাড়া বৃহস্পতিবারই (২২ জানুয়ারি) মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তারা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, মস্কো সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে পুতিনের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


banner close