পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দেশটিতে সরকার গঠন কারা করবে এ নিয়ে গোলকধাঁধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৭০টি নারী ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত। সরাসরি নির্বাচন হয় ২৬৬টি আসনে। তবে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৬৫টি আসনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইসিপি এখনো সব আসনের ফলাফল জানায়নি। এককভাবে সরকার গঠন করতে কোনো দলকে জিততে হবে ১৩৪টি আসনে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সব আসনের ফল প্রকাশের পর তাই বেশ কয়েকটি চিত্র সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের আর সুযোগ নেই। পাকিস্তানি বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেছেন, সব আসনের ফল প্রাথমিকভাবে প্রকাশের পর দুটি চিত্র সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দলের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বাকি দলগুলোর একটি জোট করে সরকার গঠন। এভাবে সরকার গঠন করলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ছাড়াও জোটে আসবে এমকিউএম, জামাত-ই-ইসলামী ও বাকিরা।
জাইঘাম খান বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি চিত্র আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে পিপিপিকে পিটিআইয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। কেননা এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে যেভাবেই সরকার গঠন করা হোক না কেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানে অচিরেই আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক জাইঘাম খান।
এদিকে, পিটিআই জানিয়েছে, তারা সব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভোটের ফল প্রকাশ শেষ হওয়ার আগেই দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা ও মেরুকরণ না করার তাগিদ দেন তিনি।
ডন বলছে, প্রকাশিত ২৫৩ আসনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯২টি আসনে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এন জিতেছে ৭১টিতে। ৫৪টি আসন পাওয়া পিপিপির সঙ্গে তারা জোটে রাজি হয়েছে বলে জানায়। এই জোট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন (৭১) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি (৫৪) জোটে রাজি হলেও এখনো তারা মিলে ১৩৪টি আসনে জিততে পারেনি। মোট জিতেছে ১২৫টিতে। আরও ১২টি আসনের ফল বাকি। একটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে কারাগারে থেকে ইমরান বলেছেন, তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দলও দাবি করছে, জোট বানিয়ে সরকার গঠন করবে পিটিআই। আবার পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ রীতিমতো জনসভা করে বিজয় ঘোষণা করেছেন। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন বলে জানান তিনি। তাকে সেনাবাহিনী সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে সংরক্ষিত আসন ছাড়াই অন্তত ১৩৪টি আসনে জয় পেতে হবে এবং সংরক্ষিত আসনসহ পেতে হবে ১৬৯টি।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নেওয়া নওয়াজ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই এরই মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই দল যদি জোট গঠনে একমত হতে পারে তাহলে সংরক্ষিত আসনসহ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে তারা। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েও বিপাকে ইমরান সমর্থিত জয়ী প্রার্থীরা। কারণ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় সংরক্ষিত আসনও পাবে না তারা। ফলে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা প্রায় অনিশ্চিত। কারণ পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরিক-ইনসাফ।
প্রশ্ন উঠছে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের করণীয় কী? পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে সরকার বা বিরোধী দল গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জোট সরকার গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি: বিলাওয়াল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পিপিপিকে ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে না। গতকাল শনিবার জিও নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, পিপিপি প্রতিটি প্রদেশে প্রতিনিধিত্ব করছে। কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো কথা বলার সময় আসেনি।
পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখনো ভোটের পুরো ফল জানি না, বিজয়ী স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্যরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, সেটাও আমরা জানি না। পিএমএল-এন, পিটিআই বা অন্যদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিলাওয়াল আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ কেন, সেটা চিহ্নিত করা ছাড়া কোনো সরকারই জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পিপিপির চেয়ারম্যান জানান, তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের জন্য সেটা কল্যাণকর হবে।
বিলাওয়াল বলেন, ‘পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এখন আমাদের যদি সেটা পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আরেকটি বৈঠক করতে হবে এবং সেই বৈঠকে আমরা কীভাবে এগোব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সরকার গঠন নিয়ে যা বললেন পিটিআই চেয়ারম্যান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সরকার গঠনের জন্য তার দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে গহর আলী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাবো এবং সরকার গঠন করব।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গণনা করে ফরম-৪৫ পূরণ করেছেন।
ইমরান খানের দলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কণ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠনের উদ্যোগকে দমন করা হলে অর্থনীতি তার ধাক্কা সইতে পারবে না।
পূর্ণ ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে গহর বলেন, ‘পিটিআইয়ের জন্য কোনো বাধা তৈরি করা ঠিক হবে না এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করা উচিত। আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ফল ফরম-৪৫-এ পূরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সব ফল পেয়েছি।’
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দল-সমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলের প্রতি অনুগত এবং তা-ই থাকবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে পিটিআই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্তর্দলীয় নির্বাচনে যাবে। জনগণ পিটিআইকে বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা সব মামলার অভিযোগ ভুয়া।
তিনি জানান, সংরক্ষিত আসন এবং কোন দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে খুব দ্রুত তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। যেসব আসনে ফলাফল এখনো স্থগিত হয়ে আছে, সেসব জায়গায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন।
গহর বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে সেটা হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে চলমান উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব এক দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, তেহরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালাতে ওয়াশিংটন তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। রিয়াদের এই বার্তা কার্যত ইরানের প্রতি সৌদি আরবের নমনীয় অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সৌদি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপি ও ডেইলি সাবাহ জানায়, মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সরাসরি তেহরানকে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন সতর্কতার পরপরই সৌদি আরব আগেভাগেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে নিল। এর বিপরীতে ইরানও এক কড়া বার্তায় জানিয়েছে যে, তাদের ওপর কোনো নতুন আক্রমণ হলে তারা মার্কিন সামরিক ও নৌ-স্থাপনাগুলোর ওপর ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানবে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, সৌদি আরব ইরানকে স্পষ্টভাবে অবহিত করেছে যে তারা কোনো সামরিক অভিযানের অংশ হবে না এবং এ ধরনের অভিযানে সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, এই অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের এমন কঠোর ঘোষণা আঞ্চলিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো বৃহৎ সামরিক সংঘাত এড়ানোর সুদূরপ্রসারী কৌশল হিসেবেই রিয়াদ এই শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উত্তর অংশের জাবালিয়া এলাকায় বসবাসরত কিশোর ওমর হালাওয়ার জীবনের গল্পটি এখন এক করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ইসরায়েলি আগ্রাসনে ডান পা হারানো ওমর প্রায়ই মনের ভুলে দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। তার শরীর ভুলে যায় যে তার একটি পা নেই। জাবালিয়া এলাকায় তাদের অস্থায়ী শিবিরের পাশেই কবর দেওয়া হয়েছে তার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পা। নিয়ম করে প্রতিদিন ওমর সেই কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকে, কখনও তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। নিজের এই পঙ্গুত্ব নিয়ে তার মনে এখন আর আফসোস নেই, বরং জন্ম নিয়েছে এক গভীর হতাশা ও ঘৃণা। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিশোর অকপটে বলেছে, তার আগেই তার পা জান্নাতে চলে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল তিন মাস আগে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর। তখন যুদ্ধবিরতি চলছিল, কিন্তু সেই সুযোগের আড়ালেই ইসরায়েল স্থল হামলা চালায়। সেদিন অন্য সবার মতো ওমরও পানি আনতে রাস্তায় বেরিয়েছিল। সঙ্গে ছিল তার ১১ বছর বয়সী বোন লায়ান, ১৩ বছরের চাচাতো ভাই মোয়াথ হালাওয়া এবং সমবয়সী বন্ধু মোহাম্মদ আল সিকসিক। বাড়ির কাছেই একটি পানির ট্যাঙ্কার এসেছিল। ওমর ও তার সঙ্গীরা নিজেদের নিরাপদ ভেবে দৌড় দিয়েছিল, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। এই হামলায় ওমরের চাচাতো ভাই ও বন্ধু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ওমর ও তার বোন লায়ান প্রাণে বেঁচে গেলেও ওমরকে তার ডান পা হারাতে হয়। ওমরের মা ইয়াসমিন হালাওয়া জানান, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরেই ওমর তার বন্ধুদের কথা জানতে চেয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে তারা আর বেঁচে নেই।
শারীরিক পঙ্গুত্বের পাশাপাশি মানসিক ট্রমা ওমর ও তার বোন লায়ানকে গ্রাস করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর সময় লায়ান জানালার কাঁচ ভেঙে আহত হয়েছিল। পরবর্তীতে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সময় রাস্তায় মাথাবিহীন মরদেহ দেখে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মা ইয়াসমিন জানান, লায়ান এখন ভয়ে বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলে এবং ওমর সামান্য শব্দেও চমকে ওঠে। টাকার অভাবে তারা উত্তর গাজাতেই মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তারা অন্তত ১৫ বার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ওমর প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং তার চুল পড়ে যাচ্ছে। তবুও সে স্বপ্ন দেখে একটি কৃত্রিম পা পাওয়ার, যা দিয়ে সে আবার ফুটবল খেলবে এবং সমুদ্রে সাঁতার কাটবে।
ওমরের মতো একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে গাজার হাজারো শিশুকে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনি শিশুরা বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে বসবাস করছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজারই শিশু। আহত হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার শিশু, যাদের অনেকের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। এছাড়া গাজায় অন্তত ৩৯ হাজার শিশু তাদের বাবা অথবা মা কিংবা উভয়কেই হারিয়ে এতিম হয়েছে। আধুনিক ইতিহাসে এমন এতিম সংকট আর দেখা যায়নি। ইউনিসেফের মুখপাত্র কাজেম আবু খালাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরেও ৯৫ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে এবং চার হাজারের বেশি শিশুর জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়া প্রয়োজন।
ওমরের মতোই আরেক ভুক্তভোগী ১৩ বছরের কিশোরী রহাফ আল নাজ্জার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পশ্চিম গাজার সুদানিয়া এলাকায় খাবার আনতে গিয়ে ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টারের গুলিতে তার দুই পা বিদ্ধ হয়। অপুষ্টি ও তীব্র শীতের মধ্যে সে এখন নিদারুণ যন্ত্রণায় দিন পার করছে। তার মা বুথাইনা আল নাজ্জার জানান, অর্থাভাবে তিনি মেয়ের জন্য পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করতে পারেন না। রহাফ নিজের চোখের সামনে বাবাকে মৃত্যুবরণ করতে দেখেছে। আহত বাবাকে সে হামাগুড়ি দিয়ে তাবুর ভেতরে আনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাবার শেষ কথাটুকু শুনেই তাকে বিদায় দিতে হয়। রহাফ এখন আবার স্কুলে ফেরার এবং ছবি আঁকার স্বপ্ন দেখে।
গাজার শিক্ষাব্যবস্থাও পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। গাজার শিক্ষা বিভাগের পরিচালক জাওয়াদ শেখ-খলিল জানান, এই যুদ্ধে তারা ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হারিয়েছেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৯০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাবু টাঙিয়ে প্রায় ৪০০টি অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করা হলেও ইসরায়েল খাতা, কলম বা চকের মতো শিক্ষা উপকরণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বাহজাত আল আখরাস সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় স্কুল থেকে দূরে থাকা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ট্রমায় আক্রান্ত অনেক শিশুর মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের সমস্যা এবং আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যাচ্ছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর তাদের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের আকাশসীমায় চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত নোটিশ বা নোটামের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর ফলে এখন একাধিক বিমানকে তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে এবং ফ্লাইট চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইরান সরকার এর আগে আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তেহরানের আকাশসীমা সাধারণ বিমানের জন্য বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র বেসামরিক কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি পাওয়া নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমন ফ্লাইট চলাচলের সুযোগ পেয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকাশসীমা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই আকাশসীমা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এল।
এদিকে ইরানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর ইচ্ছাকৃত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শন এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই জোট। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, এই বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন, যদিও ইরান সরকার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক এবং তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তেল বিক্রি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যেই ৫০ কোটি ডলার মূল্যের তেল বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক বিশেষ সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো দম্পতির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের মাত্র তিন দিন পর অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রথম চালান হিসেবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আসা তেলের প্রথম চালান বিক্রি করেই ৫০ কোটি ডলার আয় নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন মার্কিন তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা দেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে শীঘ্রই অন্তত ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরোক্ষভাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেও অধিকাংশ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টিতে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া দেননি। বিশেষ করে মার্কিন তেল কোম্পানি এক্সন মবিলের শীর্ষ নির্বাহী ড্যারেন উডস সাংবাদিকদের কাছে বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব নয় এবং এটি বিনিময়ের অযোগ্য। তার মতে, সেখানে বিনিয়োগ করতে হলে আগে অনেক আইনি এবং বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এসব নিশ্চিত হলেই কেবল বোঝা যাবে যে বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানিগুলো কী রিটার্ন পাবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য বিষয়ক সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে অন্তত ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের বিশাল মজুদ রয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশই রয়েছে এই দেশটিতে। তবে বিপুল মজুদ থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম, যা গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল প্রাকৃতিকভাবে ভারী ও ঘন হওয়ায় এটি উত্তোলন ও পরিশোধনে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হয়। তবে এই তেল পরিশোধন করে উৎকৃষ্ট মানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট এবং কারখানাসহ ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কোপেনহেগেন। গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সেনা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডেনমার্ক সরকার। এরই অংশ হিসেবে ডেনমার্ক সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিটকে সেখানে মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ডেনিশ সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিটগুলোর প্রধান কাজ হবে গ্রিনল্যান্ডে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণ করা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি। দলটির এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা গত সপ্তাহেই সরকারের কাছে এমন পদক্ষেপের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি আরও জানান, ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তার মতে, গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বড় শক্তি হামলা বা আগ্রাসন চালাতে চায়, তবে এই সেনা মোতায়েন হবে সেই শক্তির উদ্দেশে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ হলেও রাজনৈতিকভাবে ডেনমার্কের অধীনস্থ বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। প্রায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটির জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের কিছু বেশি, যাদের সিংহভাগই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীর। দ্বীপটি বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকলেও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এর ভূগর্ভে জ্বালানি তেলসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, স্থানীয় জনগণ চাক বা না চাক, যুক্তরাষ্ট্র এই ইস্যুতে পদক্ষেপ নেবে। ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে রাশিয়া বা চীন তা দখল করে নিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। যদিও ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তবুও ট্রাম্প মনে করেন, কেবল চুক্তি বা ঘাঁটি দিয়ে নিরাপত্তা বা মালিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন রুখতে যুক্তরাষ্ট্রকেই দ্বীপটির দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ফাঁসি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করার কথা ছিল। তবে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ এই দণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থেকেছে। এরফানের আত্মীয় সোমায়েহ নিশ্চিত করেছেন যে দণ্ডটি কার্যকর করা হয়নি, তবে এটি পুরোপুরি বাতিলও করা হয়নি। ফলে পরিবারটি এখনো চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং তারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
পেশায় একজন দোকানব্যবসায়ী এরফান সোলতানি ইরানের রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে কারাজ এলাকায় বসবাস করতেন। মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস-এর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটকের পর মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ফাঁসির মতো সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচার ব্যবস্থার এমন তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
রাজধানী তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কারাজ থেকে যখন এরফানকে গ্রেফতার করা হয়, তখন ওই এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ক্র্যাকডাউন শুরু করে। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এরফান তাদেরই একজন। আটকের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এরফানের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারি ইরানি কর্মকর্তারা এরফানের পরিবারকে ফাঁসির সাজার বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে আইনি প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত বিচার ও নির্বিচারে ফাঁসি কার্যকর করার কৌশল গ্রহণ করেছে। এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও পরিবারের শঙ্কা এখনো কাটেনি।
ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। বুধবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্রিটিশ নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ফলে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। আপাতত দূর থেকে বা রিমোটলি দূতাবাসের অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের আপাতত ইরানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া যারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদেরকে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়িয়ে সাবধানে চলাফেরা করতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে। বছরের পর বছর ধরে মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে ইরানের সাধারণ জনগণ হিমশিম খাচ্ছে। এই দুরবস্থার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। মূলত সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে চলমান এই ভয়াবহ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে ফক্স নিউজ। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
যাচাই-বাছাই ও স্ক্রিনিং পদ্ধতি পুনরায় মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। এ তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রাশিয়া ও ইরানের নামও রয়েছে। তবে এতে ভারতের নাম নেই। মূলত আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সে দেশের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন- এমন আশঙ্কায় ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।
ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে আসা স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি মেমোতে দেখা গেছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের অধীনে এসব দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভাগটি বর্তমানে তাদের স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় মূল্যায়ন করছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কনস্যুলারগুলোতে পাঠানো একটি বার্তায় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয় তারা যেন ইমিগ্রেশন আইনের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের অধীনে কঠোর নতুন নিয়মটি প্রয়োগ করেন।
নতুন নির্দেশনায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারে এমন সব আবেদনকারীকে ভিসা প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, আর্থিক অবস্থা এবং এমনকি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে কিনা- এমন সব বিষয় বিবেচনা করা হবে। এর ফলে বয়স্ক বা অসুস্থ আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এছাড়া যাদের অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে- আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বার্বাডোজ, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে এ আহ্বান জানান তিনি।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এর আগে, ইরানে বিক্ষোভের পেছনে কার আছে, সে বিষয়টিও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন ফিদান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষাপটে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে হাকান ফিদান বলেন, ইরানের বিক্ষোভগুলো ‘বিদেশ থেকে দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা প্রভাবিত এবং তারাই উসকানি দিচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করেন।
ফিদান বলেন, ‘মোসাদ এটি গোপনও করছে না। তারা নিজেদের ইন্টারনেট ও টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কার্যক্রমকে দেশটির ক্রমশ অবনতিশীল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিনি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়াকে ইরানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
কোনো তৃতীয় পক্ষ মস্কো ও তেহরানের সম্পর্কের প্রকৃতি বদলাতে পারবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।
লাভরভ আরও বলেন, তেল ও অন্য সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেশটিকে ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ করে তুলেছে।
মিসরের সেনাবাহিনীর গোপন রিজার্ভে মিসরের মোট বৈদেশিক ঋণের চেয়েও বেশি পরিমাণ অর্থ রয়েছে, এমন দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ ব্যাংকিং ও সরকারি কর্মকর্তারা। তবে দেশের ঋণ-সংকট সামাল দিতে সরকার সহায়তা চাইলেও বাহিনী সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর মিডল ইস্ট আইর।
এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মিসর তীব্র আর্থিক চাপে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে, অভ্যন্তরীণ তারল্য সংকুচিত হচ্ছে, আর সরকার হিমশিম খাচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। এই প্রেক্ষাপটে মিসরের অর্থনীতিতে সেনাবাহিনীর অস্বচ্ছ ও প্রভাবশালী ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার কথা ছিল মিসরের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় সরকার। শেষ পর্যন্ত ‘নীতিগতভাবে’ সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন আইএমএফ কিস্তি থেকে ওই অর্থ কেটে নেওয়া হবে এবং তার ওপর সুদ যোগ করা হবে।
তবে এই ব্যবস্থার শর্তাবলি কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মিসর সরকার ও আইএমএফ—উভয় পক্ষই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেনি। এক জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার তিন ট্রিলিয়ন মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৬৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার) ঋণ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারল্যসংকটের কথা বলে দেশীয় ব্যাংকগুলো তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।’
ওই জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ না থাকায় সরকার শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সাহায্য চায়।’ ওই কর্মকর্তা জানান, সামরিক বাহিনীর ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অথরিটির প্রধান সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছেও তোলা হলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবুলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল-মেজিদ সাকারকে ফোন করে আইএমএফের সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধে সহায়তার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই আবেদনও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওই কর্মকর্তা।
কেন প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির কাছে একই অনুরোধ করেননি, তা স্পষ্ট নয়। সিসি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং ধারণা করা হয়, এসব রিজার্ভের ওপর তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ মিসরের মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় দাঁড়ায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মিসরের সেনাবাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণ ডলার রিজার্ভ রয়েছে, যা বেসামরিক সরকারের নাগালের বাইরে। তাঁর দেওয়া হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ মিসরের মোট বৈদেশিক ঋণ—১৬১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যদিও মিডল ইস্ট আই এই অঙ্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করছে না।
সরকারি হিসাবের ওপর সরাসরি নজরদারি থাকা ওই কর্মকর্তা বলেন, এই সামরিক তহবিল ‘বাস্তব এবং আক্ষরিক অর্থেই বিদ্যমান’ এবং তা দেশের দুই প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইজিপ্ট ও বান্ক মিসরে রাখা আছে। তবে এই অর্থ পুরোপুরি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি বলেন, ‘এই অর্থ মিসরের ব্যাংকেই আছে, কিন্তু তা ব্যবহার করা বা ঋণ পরিশোধে লাগানো একেবারেই অসম্ভব।’
ওই কর্মকর্তা যুক্তি দেন, তাত্ত্বিকভাবে সেনাবাহিনী চাইলে মিসরের সব বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ করতে পারে এবং ডলার-সংকটের সমাধান করতে পারে। কিন্তু তারা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চায় না। তার ভাষায়, সামরিক প্রকল্পের প্রকৃত পরিমাণ ও তহবিলের বিস্তারিত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন। এসব বিষয়ে কোনো ধরনের নজরদারি নেই। শুধু প্রেসিডেন্ট সিসি ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাই এসব জানেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একটি সূত্রও একই ধরনের অঙ্কের কথা উল্লেখ করেছে এবং দুই ব্যাংকে সেনাবাহিনীর আমানতের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে, তবে বিস্তারিত জানায়নি। এই গুরুতর অভিযোগ মিসরের সেনাবাহিনীর আর্থিক শক্তির অস্বচ্ছ দিকটি সামনে এনেছে। মিসরের ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের তথ্য গণমাধ্যমকে দেয় না। সেনাবাহিনীও তাদের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে না, যা পুরোপুরি বেসামরিক নজরদারির বাইরে।
নভেম্বরে স্থানীয় ব্যাংকগুলো সরকারকে দেড় লাখ কোটি মিসরীয় পাউন্ড ঋণ দেয়, যাতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ কিস্তি পরিশোধ করা যায়। এর ফলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় শেষ হয়ে যায়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মাদবুলি বলেন, বছরের শেষ নাগাদ সরকার ‘অভূতপূর্বভাবে ঋণ কমাবে।’
রাষ্ট্রক্ষমতার ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো তখন প্রচার করে, ঋণ কমানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘চমকপ্রদ’ ও ‘বিস্ফোরক’ ঘোষণা দেবেন। কিন্তু বছরের শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসেনি।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালে তীব্র ডলার-সংকটের সময় সেনাবাহিনী আর্থিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। তখন আমদানিকারকরা প্রয়োজনীয় ডলার না পাওয়ায় বন্দরে পণ্য আটকে যায়। তিনি বলেন, ‘সে সময় সেনাবাহিনী ১০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করে সংকট সামাল দেয়। প্রধানমন্ত্রী তখন এটিকে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেন, যদিও তিনি সরাসরি সেনাবাহিনীর কথা বলেননি।’
তিনি বলেন, ‘পরে সেনাবাহিনীকে মিসরের বৈদেশিক ঋণের পুরোটা বা অন্তত একটি অংশ পরিশোধে অবদান রাখার প্রস্তাব বারবার দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবারই তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এ বিষয়ে আর কথা তোলা যাবে না।’ এই অবস্থান এখনো বহাল, যদিও মিসরের বড় অংশের ঋণ অস্ত্র কেনা বা এমন বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, যেখান থেকে সেনাবাহিনী আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।
এমনকি সেনাবাহিনীর নিজের নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবও নাকচ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত এক ব্যাংকের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘সেনাবাহিনী বারবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে—এমনকি নিজের নামে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেও রাজি হয়নি।’ নিয়ন্ত্রণে।
একটি সূত্র বলেছে, ‘স্বর্ণখনি থেকে উৎপাদনের ৫০ শতাংশ সেনাবাহিনী পায়। এতে বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। এর বাইরে কাঁচা সোনা আমদানি, পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও পুনঃরপ্তানি থেকে বছরে বিলিয়ন ডলার আয় হয়।’
জুলাইয়ে আইএমএফ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানায়, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক মডেল মিসরের বেসরকারি খাতকে ধ্বংস করছে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে এবং দেশকে ঋণের চক্রে আটকে রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন সামরিক বাহিনী পরিচালনার মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটি জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন সাহায্য আসছে। এমন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের অবস্থান জানতে চাইলে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, জাতিসংঘ অবশ্যই, ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে সামরিক বাহিনীর মতো বক্তৃতা বৃদ্ধির বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামরিক বক্তব্যের পরিবর্তে সকল সদস্য রাষ্ট্রের কূটনীতির উপর জোর দেওয়া অপরিহার্য।’
ডুজারিক উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের বর্তমানে ইরান থেকে তার কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরবর্তীতে লিখিত জবাবে তিনি আরো জানান যে ইরানে ৪৬ জন আন্তর্জাতিক কর্মী এবং ৪৪৮ জন স্থানীয় নাগরিক কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরানের অর্থনীতির অবনতি এবং ইরানি রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়নের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছে।
বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ঘটনাসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই জনবল স্থানান্তরের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি এবং দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কাতারের আল উদেইদে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই সেনা সরানোর খবরটি প্রকাশ্যে এলো। এর আগেও গত বছর মার্কিন বিমান হামলার কয়েকদিন আগে কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সেনা ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টায় কাতারের এই ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।” মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটন তাদের এই কৌশলগত স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।