পাকিস্তানে নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। জোট সরকার গঠনের দিকে যাচ্ছে দেশটি। সম্ভাব্য জোট সরকারে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী পদ ভাগাভাগি করতে পারে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদে প্রত্যেক দল থেকে আড়াই বছর করে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গতকাল সোমবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র বলেছে, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে জোট সরকার গঠনের চেষ্টায় গত রোববার দুই দলের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৩ সালে বেলুচিস্তানে পিএমএল-এন এবং ন্যাশনাল পার্টি (এনপি) একই পদ্ধতিতে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছিল। সে সময় দুই দলের দুই মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ বছরের মেয়াদ ভাগাভাগি করে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
লাহোরের বিলাওয়াল হাউসে রোববারের বৈঠকে পিপিপি-পিএমএলএন উভয় পক্ষই সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে পিপিপি-পার্লামেন্টারিয়ান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং পিএমএল-এন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
ভেতরের খবর
ভেতরের খবর বলছে, বৈঠকে পিএমএল-এন আনুষ্ঠানিকভাবে পিপিপি’কে জোট সরকারে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এসময় পিপিপি’কে স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থী এবং এমকিউএম-পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও অবহিত করেছে নওয়াজ শরিফের দলটি।
বৈঠকে পিএমএল-এন নেতারা দাবি করেন, তারাই প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখবেন। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দাবি করেন, পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির (সিইসি) মধ্যেই বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছে। এরপর দুই দলের নেতারা পাঁচ বছরের মেয়াদ অর্ধেক করে নিজ নিজ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন বলে জানা যায়।
এর আগে রোববার পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের তিন দিন পর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন ইসিপি।
সেখানে কোন দল সর্বশেষ কতটি আসন পেয়েছে সেটি জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বা দেশের সংসদের নিম্নকক্ষের জন্য ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০১টি আসন পেয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ৭৫টি আসন এবং বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৫৪টি।
পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের তিন দিন পর বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন ইমরান খানের পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন। সরকার গঠন করতে হলে ১৩৪টি আসন থাকতে হবে। এর মধ্যেই মুসলিম লিগ-এন এবং পিপলস পার্টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। তবে সংখ্যারগরিষ্ঠতা পেতে হলে তাদের আরও অন্তত পাঁচজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য অথবা অন্তত পাঁচজন নির্বাচিত এমপি রয়েছে, এমন দলের সমর্থন দরকার হবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশে বেশ বিলম্ব হওয়ায় ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে, যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে। তবে দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকার জানাচ্ছে, খারাপ আবহাওয়া ও দূরত্ব বেশি হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় দেরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্যমন্ত্রী জাম মোহাম্মদ আচকজাই জানিয়েছেন, বেলুচিস্তানের ফলাফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার কারণ এলাকাটা দুর্গম এবং আবহাওয়া সেখানে অনুকূলে নেই। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানান, যারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি তারা যেন ফলাফল মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা দেখায়। যদি কারও ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে তাহলে সেটা যথাযথ জায়গায় তারা প্রতিবাদ জানাতে পারে।
পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট গঠনের শর্ত হিসেবে বিলওয়াল ভুট্টো জারদারিকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিলওয়ালের বাবা আসিফ আলী জারদারি এ দাবি উত্থাপন করেছেন। সমর্থনের বিনিময়ে নতুন সরকারে পিপিপিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি দৈনিক দ্য নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ তার দলের নেতাদের সামনে পিপিপির দেওয়া এসব শর্তের কথা জানিয়েছেন।
এর আগে জানা গেছে, ইমরানপন্থিদের সরকার গঠন আটকাতে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে রাজি হয়েছে নওয়াজ শরিফ ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল। পরবর্তীতে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো ও তার বাবা আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন পিএমএল-এন সভাপতি ও নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ।
জুমার নামাজের ধর্মীয় আবহ মুহূর্তেই রূপ নিল এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডিতে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ চলাকালে শক্তিশালী এক আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুরো মসজিদ এলাকা কেঁপে ওঠে এবং নিমিষেই চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর আহাজারি ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালে পেশোয়ারের মসজিদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এটিই পাকিস্তানে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী হতাহতের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বর্বরোচিত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১৬৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইসলামাবাদ প্রশাসন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘তারা চিকিৎসার জন্য ১৬৯ জনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’ ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনায় একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানিয়েছেন যে, ‘হামলকারীকে মসজিদের প্রবেশদ্বারে আটকে দেওয়া হয়। তখন তিনি নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।’ জুমার নামাজের ব্যস্ত সময়ে আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণটি ঘটায় বলে পুলিশ সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্যের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) এক সন্ত্রাসী এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের জানালার সব কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মুসল্লিদের নিথর দেহ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই অমানবিক ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।
ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ডিস্ট্রিক্ট জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সের গেটে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এমনকি ২০০৮ সালে ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ভয়াবহ ট্রাক বোমা হামলার স্মৃতি এখনো শহরবাসীর মনে আতঙ্ক জাগায়, যেখানে ৬৩ জন নিহত হয়েছিলেন। আজকের এই নতুন হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশাকে আবারও বিশ্ব দরবারে উন্মোচিত করল।
সূত্র: সিএনএন, এএফপি, আলজাজিরা
সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনার জন্য শিগগিরই ওমানে বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গেল মাসে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে সরকারের সহিংস অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পর এ আলোচনা হতে হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ওই দমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
আলোচনার স্থান ও পরিসর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় একপর্যায়ে এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ আলোচনা এগোচ্ছে। বিবিসি লিখেছে, দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। আলোচনা সফল হলে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ পরিত্যাগ করতে হবে। আলোচনায় ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নিজ নাগরিকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে।
তবে ইরান বলেছে, আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যের আদৌ সমাধান হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন, কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা, একটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষায় একে ‘নৌবহর’ বলা হচ্ছে।
ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা হলে তারা শক্ত হাতে জবাব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানবে।
ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী ‘আঙুল ট্রিগারে রেখেই’ প্রস্তুত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক। ওই যুদ্ধে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান দাবি করেছে, ওই হামলার পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
বিবিসি লিখেছে, নিজের দেশে চাপের মুখে থাকা ইরানি নেতৃত্বের জন্য এই আলোচনা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকানোর শেষ সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান সরকার সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন শুরু করলে ট্রাম্পের তরফে হুমকি দেওয়া হয়। গভীর অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভে অনেকেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান দাবি করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বলেছে, তারা অন্তত ৬,৮৮৩ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমান সংকট আবারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে, যা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির বহু বছরের বিরোধ।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অংশ। ইরান বলছে, নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আহ্বান তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিছু ছাড় দিতে তারা রাজি হতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য একটি আঞ্চলিক কনসোর্টিয়াম গঠন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আগে এ প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে ইসরায়েলের আকস্মিক যুদ্ধ শুরুর পর তা ভেস্তে যায়।
একইসঙ্গে ইরান বলেছে, তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং অঞ্চলে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। মিত্রগোষ্ঠীর জোটকে তেহরান ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বলে, যার মধ্যে গাজায় হামাস, ইরাকে মিলিশিয়া, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনে হুথিরা রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার বলেছেন, যদি ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ থাকে তাহলে তিনি আরাগচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনা চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আলোচনায় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে তেহরান। সরকারবিরোধীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দেশটির শাসকদের জন্য তা হবে জীবনরক্ষার সুযোগ।
আলোচনার ফলের ওপর নির্ভর করে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি থেকে সরে আসার একটি পথ তৈরি হতে পারে।
গাজায় আরোপিত দীর্ঘকালীন অবরোধ ছিন্ন করে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের একটি বিশাল নৌবহর পুনরায় সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্বজুড়ে সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে আগামী মাসে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করবে বলে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের একজন সদস্য।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামক এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৯ মার্চ নির্ধারিত নতুন এই মিশনটি হবে ‘ফিলিস্তিনের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ’, যেখানে ‘১০০টিরও বেশি দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ’ অংশ নেবেন।
অভিযাত্রার রুট ও পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রাজিলীয় কর্মী থিয়াগো আভিলা বলেন, ‘আমরা বার্সেলোনা, তিউনিস, ইতালি এবং আরো কয়েকটি বন্দর থেকে যাত্রা করব, যেগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।’ সংগঠনটির তথ্যমতে, জলপথের পাশাপাশি একই দিনে গাজার উদ্দেশে একটি স্থলপথের বহরও যাত্রা শুরু করবে, যদিও সেটি ঠিক কোথা থেকে রওনা হবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবরেও এই কর্মীরা সমুদ্রপথে ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী তাদের পথরোধ করে আটক ও পরে বহিষ্কার করে।
ইসরায়েল বর্তমানে গাজার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে প্রবেশকারী সকল ত্রাণ কঠোরভাবে যাচাইয়ের নীতি বজায় রাখলেও কর্মীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তারা তাদের এই উদ্যোগকে ‘গাজায় গণহত্যা, অবরোধ, ব্যাপক অনাহার এবং বেসামরিক জীবনের ধ্বংসের বিরুদ্ধে একটি অহিংস প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের প্রতি ক্রমবর্ধমান সমর্থন ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদ হিসেবেই এই বিশাল সম্মিলিত অভিযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে জেফরি এপস্টেইন ঘিরে যৌনপাচার সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ফাইলসে প্রখ্যাত মার্কিন ভাষাবিদ ও চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কির সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সখ্যতার কথা উঠে এসেছে।
জানা গেছে, ই-মেইলে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এপস্টেইনকে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শও দিতে চমস্কি।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেছে, যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারের অভিযোগ নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘নোংরা’ উল্লেখ করেছিলেন এপস্টেইন। আর এ বিষয়ে তিনি নোয়াম চমস্কির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন।
নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চমস্কির কাছে কিছু ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন। ই-মেইলে চমস্কির কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কী তাকে নিয়ে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় ‘আত্মরক্ষামূলক’ কিছু করবেন, না বিষয়টি ‘উপেক্ষা’র চেষ্টা করবেন।
ওই মেইলের জবাবে বলা হয়, বলতে কষ্ট হচ্ছে, তবে আমার মতে বিষয়টি উপেক্ষা করা সবচেয়ে ভালো।
এপস্টেইন ফাইলসের এসব তথ্যের বিষয়ে বিবিসির তরফে চমস্কির স্ত্রী ও তার মুখপাত্র ভ্যালেরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিবিসি বলছে, নথিতে চমস্কির নাম থাকা মানেই তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, বিষয়টি তা নয়।
২০২৩ সালে ৯৭ বছর বয়সী নোয়াম চমস্কি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রথম কথা হলো, এটি আপনার বা অন্য কারও জানার বিষয় নয়। দ্বিতীয়ত, আমি তাকে চিনতাম এবং মাঝেমধ্যে আমাদের দেখা হতো।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি এলাকায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির জন্য একটি আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছে।
পরিকল্পনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়া একাধিক ব্যক্তির সূত্রে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, তারা এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নকশাও দেখেছে।
ওই নকশা অনুযায়ী, রাফার কাছে এই ‘ইউএই টেম্পোরারি এমিরেটস হাউজিং কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হবে। রাফায় একসময় প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করতো, কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর অনবরত হামলার মুখে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরটি এখন প্রায় জনমানবহীন।
হামাস-ইসরায়েল দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের পর জনবহুল উপকূলীয় ভূখণ্ডটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে পরিকল্পনা করেছেন তাতে মিসর সীমান্তের কাছে অবস্থিত এ রাফা শহর থেকেই গাজার পুনর্গঠন শুরু হওয়ার কথা।
কিন্তু হামাস নিরস্ত্র হতে রাজি না হলে গাজায় ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে এই আশঙ্কায় দাতারা এই পুনর্গঠন পরিকল্পনায় অর্থ ঢালতে ইতস্তত বোধ করছে।
আমিরাতের এই প্রকল্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক কূটনীতিক সন্দিহান। তাদের মতে, হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় থাকা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করতে রাজি নাও হতে পারেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজার জন্য দক্ষিণ ইসরায়েলভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। তার মধ্যেই আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন রাফাতে অস্থায়ী আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সেখানে মৌলিক সব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার বিস্তারিত শেয়ার করেছেন বলে জানিয়েছেন চার কূটনীতিক।
তাদের নকশা বলছে, আবাসন প্রকল্পটি হবে ইসরায়েল ও হামাস নির্ধারিত এলাকা বোঝাতে অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যে ‘হলুদ রেখা’ টানা হয়েছিল তার কাছাকাছি।
এ পরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে আমিরাতের এক কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই না করে বলেছেন, ‘উপসগারের দেশগুলো গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার মাত্রা বাড়াতে এখনও দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বর্তমানে গাজার ২০ লাখ ফিলিস্তিনির প্রায় সবাই হামাস-শাসিত এলাকায় তাঁবুতে বা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই আবাসন উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আবাসন সুবিধা তৈরি করা হলে ফিলিস্তিনিরা হামাস-শাসিত অঞ্চল ছেড়ে আসতে উৎসাহিত হবেন। এতে হামাসকে বেসামরিকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তাদের নিরস্ত্র করার পথও প্রশস্ত হবে।
নিরাপত্তা বিষয়ক থিংক ট্যাংক ‘দ্য সুফান সেন্টার’-এর মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ কেনেথ কাটজম্যান বলেন, এই ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হামাসকে ‘গলা টিপে ধরে’ পর্যায়ক্রমে ‘কাবু করা’।
‘স্রেফ হাতেগোনা কয়েকটি আবাসন প্রকল্প দিয়ে হামাসকে হটানো যাবে না। তাদেরকে রুখতে হলে এমন আবাসন প্রকল্প লাগবে যেখানে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি থাকতে পারবে,’ বলেছেন তিনি।
২০২০ সালে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা আমিরাত সবসময়ই হামাস ও ওই অঞ্চলের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি মনে করে।
ইসরায়েল এরই মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে শুরু করে রাফা পর্যন্ত বিশাল এলাকা খালি করে ফেলেছে আরব আমিরাতের প্রস্তাবিত আবাসনের মতো প্রকল্পগুলোর জন্য।
তবে এই আবাসন প্রকল্পগুলো গাজাকে স্থায়ীভাবে ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ন্ত্রিত অংশ’ এমন বিভক্তির দিকে ঠেলে দেবে কি না তা নিয়ে অনেক কূটনীতিক প্রশ্নও তুলছেন।
রাফাসহ গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মধ্যে রাফা শহরটি অন্যতম। তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকাতেই গাজার বিশাল জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবন যাপন করছে। ত্রাণকর্মীদের মতে, যেখানে মানুষের সংখ্যা বেশি সেখানেই মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত।
গাজার উদ্দেশে আবারও ‘গ্লোবাল সুমুদ’ ফ্লোটিলা
গাজা অভিমুখে নতুন ও আরও বড় একটি সাহায্যবাহী বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্টরা।
আগামী মার্চ মাসে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক এই মিশনে প্রায় ১০০টি নৌযান এবং এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। জোহানেসবার্গে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক বৈঠকে আয়োজকরা এটিকে ইসরাইলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের বৃহত্তম বেসামরিক মানবিক হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত বছর একই ধরনের একটি অভিযানে অংশ নেওয়া নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা জানান, এই অভিযানে চিকিৎসক এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সমুদ্রপথের এই যাত্রার পাশাপাশি প্রতিবেশী আরব দেশগুলো দিয়ে একটি স্থলপথের কনভয়ও পরিচালিত হবে, যাতে হাজার হাজার সমর্থক যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রায় ৪০টি নৌকা জব্দ করেছিল এবং মান্ডলা ম্যান্ডেলা ও গ্রেটা থুনবার্গের মতো পরিচিত মুখসহ প্রায় ৪৫০ জন অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেফতার করেছিল। যদিও ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই ধরনের উদ্যোগকে প্রচারণার কৌশল হিসেবে গণ্য করেন, তবে আয়োজকদের দাবি তারা গাজার ওপর আরোপিত ‘অবৈধ’ অবরোধ ভাঙতে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন।
বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও জাতিসংঘের মতে সেখানে মানবিক সহায়তার পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাক্টিভিস্ট সুসান আবদুল্লাহ জানান, যদিও তারা আগেরবার শারীরিকভাবে গাজায় পৌঁছাতে পারেননি, কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টা গাজাবাসীকে বার্তা দিয়েছে যে বিশ্ব তাদের পাশে আছে। আসন্ন মিশনে আবারও বাধার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তারা ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বিশ্ববাসীর নজরে আনতে এবং অবরোধ ভাঙতে অবিচল থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ওমানে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর আগেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো উপস্থাপন করেছে মধ্যস্থতাকারীরা তিন দেশ— কাতার, তুরস্ক ও মিসর।
আলোচনার সাথে পরিচিত দুটি সূত্রে বরাতে সেই কাঠামো প্রস্তাব তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন সূত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে- ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বহুলাংশে হ্রাস করতে হবে এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো এই অঞ্চলে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
এক ইরানি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা, সেটি তুরস্কের পরিবর্তে ওমানে অনুষ্ঠিত হবে।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে, যখন ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চল উদ্বিগ্ন। গত মাসে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব সাগরে মার্কিন সামরিক শক্তি জড়ো করার নির্দেশ দেন।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে যা আছে
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ইরান প্রথম তিন বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ রাখবে। এরপর তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে সীমিত রাখতে সম্মত হবে।
এছাড়াও ইরানের বর্তমান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, যার মধ্যে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা, তা তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করতে হবে।
মধ্যস্থতাকারীরা আরও প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান যেন অঞ্চলের তার অ-রাষ্ট্রীয় মিত্রদের কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি হস্তান্তর না করে। এছাড়া এই কাঠামোর আওতায় ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সূচনা করবে না। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবির চেয়ে কম, যেখানে ওয়াশিংটন চেয়েছিল ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত করুক।
তিন মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাবনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ‘অ-আগ্রাসন চুক্তি’ করার কথাও রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে—তা এখনো জানা যায়নি।
তবে ইরান আগেই জানিয়েছে, তাদের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার ‘লাল রেখা’ এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান দাবি করেছে– তারা আবার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত করছে। এমনকি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তা ব্যবহারেও দ্বিধা করবে না।
এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হতে যাওয়া আলোচনাকে শুধু পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেই ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করে তেহরান। তেহরানের আশঙ্কা ছিল, অন্য ভেন্যুতে আলোচনায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অতিরিক্ত ইস্যু যুক্ত হতে পারে। ফলে বৈঠকটি তুরস্কে হওয়ার কথা থাকলেও ইরান তা সরানোর অনুরোধ জানায়।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান চেয়েছিল বৈঠকটি ওমানে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগের দফার আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচ্যসূচিতে আরও বিষয় যুক্ত করতে আগ্রহী ছিল। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।
২০১৫ সালে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তিতে সই করেছিল। ওই চুক্তির আওতায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার কথা ছিল। কিন্তু তিন বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নেন।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু বিপদ বাড়ছে যুক্তরাজ্যে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগ করতে তার দলের এমপিরাই চাপ দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এক এমপি জানিয়েছেন, স্টারমারকে হয়তো বিদায় নিতে হবে। অথচ যে যুক্তরাষ্ট্রে কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ঘটেছে সেই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এপস্টাইন অধ্যায় ছেড়ে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়া উচিত।
যে কারণে চাপের মুখে স্টারমার:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। স্টারমার নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি কুখ্যাত যৌন অপরাধী হিসেবে পরিচিত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন। তবে এতটা গভীর ছিল সেই সম্পর্কে জানতেন না।
উল্লেখ্য, এপস্টাইন কারাগারে মারা যান ২০১৯ সালে। ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন স্টারমার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক ভাষণে এপস্টাইনের শিকার যারা হয়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
সিএনএন বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্ক ছিল। তবে সেটা কতটা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো চাপের মুখে তথা তদন্তের মুখে পড়েননি। কিন্তু এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও স্টারমারকে বিদায় নেওয়া লাগতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়েলসের এক লেবার এমপি বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্টারমারকে বিদায় নিতে হবে। বুধবার কমন্সে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে স্টারমার বলেন, লর্ড ম্যান্ডেলসন দোষী সাব্যস্ত শিশু যৌনকর্মী এপস্টাইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের পরিমাণ সম্পর্কে বারবার তাকে মিথ্যা বলেছিলেন।
চাপের মুখে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে যে, তারা লর্ড ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য প্রকাশ করবে। সংবেদনশীল নথিগুলো একটি দুই দলের সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার সম্ভবত কমিটিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন। অ্যাঞ্জেলা রেনার সম্ভবত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আরেক জন নাম প্রকাশ না করে ওয়েলশ লেবার এমপি বিবিসিকে বলেন, এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি।
তিনি আরো বলেন, স্যার কিয়ারের থাকা উচিত। কিন্তু তার প্রধান কর্মী মরগান ম্যাকসুইনিকে বরখাস্ত করা উচিত। কারণ অভিযোগ আছে যে ম্যাকসুইন স্টারমারকে খারাপ পরামর্শ দিয়েছেন।
ভারতের মেঘালয়ের তাসখাই অঞ্চলের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়াবহ ধস নামে। আর সেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন শ্রমিক। এখনও নিখোঁজ বহু। শঙ্কা, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। মনে করা হচ্ছে, মৃতদের অধিকাংশই অসমের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে ‘র্যাট হোল’ খনন করে ওই এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। সেখানে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকার একটি কয়লাখনিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি আই নোংরাং জানিয়েছেন, কয়লাখনিটি বেআইনি ভাবে চলছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের ফলে খনির মুখে ধস নামে এবং সেখান থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। ডিজি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ১৬টি দেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গিয়েছে। বিস্ফোরণের মুহূর্তে খনির ভিতর মোট কত জন শ্রমিক ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। আরও কয়েক জন ভিতরে আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
‘র্যাট হোল মাইনিং’-এর ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে সরু তিন-চার ফুটের গর্ত খোঁড়া হয়। গর্তগুলি এতটাই সরু হয় যে, এক বারে এক জনের বেশি সেখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। ওই গর্ত দিয়ে খনিতে নেমে কয়লা উত্তোলন করা হয়। সরু আনুভূমিক এই গর্তগুলিকেই ‘র্যাট হোল’ বলা হয়। ২০১৪ সালে মেঘালয়ে ‘র্যাট হোল মাইনিং’ বা ‘ইঁদুর গর্ত খনন’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত। এই ধরনের খননকার্যকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। পরে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলেছে।
ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে কয়লাখনির ঘটনায় আমি আন্তরিক দুঃখিত। দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনায় যারা প্রিয়জনকে হারালেন, তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে মেঘালয় সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে রাজ্য সরকার।
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তী হিলসের তাসখাই অঞ্চলে বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) একটি অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং খনির অভ্যন্তরে আরও অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই খনিটিতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই স্থানীয় পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের পরপরই খনির মুখ দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে এবং বাইরে থাকা শ্রমিকদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আর্তনাদ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই প্রতিবেশী রাজ্য আসামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে খনির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেঘালয় পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, খনির ভেতরের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেখানে কোনো বিষাক্ত গ্যাস জমে আছে কি না কিংবা নতুন করে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, উদ্ধারকারী দলগুলো তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখছে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে যে, খনির ভেতরে দাহ্য গ্যাস জমে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে অথবা অবৈধভাবে বিস্ফোরক ব্যবহারের জেরেও এই বিপর্যয় সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে অবৈধ খননকার্য ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে শঙ্কা ছিল, এই ঘটনা তাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের ডিসেম্বরে একই জেলায় একটি অবৈধ খনিতে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে মেঘালয় মানবাধিকার কমিশন ও হাইকোর্ট কর্তৃক নিযুক্ত একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি তদন্ত পরিচালনা করেছিল। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই পাহাড়ের উমথে গ্রামে অনুরূপ একটি অবৈধ খনিতে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়, যার ফলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকাটি সিল করে তদন্ত শুরু করেছিল। একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেও অবৈধ খননকার্য বন্ধ না হওয়ায় এই অঞ্চলের জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাইজেরিয়ার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের দুটি পৃথক ও নৃশংস হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্বোয়ারা ও কাটসিনা রাজ্যে এই রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি ব্যাপক লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্বোয়ারা রাজ্যের ওরো গ্রামে। স্থানীয় আইনপ্রণেতা সাইদু বাবা আহমেদ এবং মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল এই গ্রামেই অন্তত ১৭০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে গ্রামবাসীদের হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে পুরো গ্রামজুড়ে দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই বর্বরোচিত হামলার পর থেকে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওরো গ্রামের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরাঞ্চলীয় কাটসিনা রাজ্যে আরেকটি সশস্ত্র দল ঘরে ঘরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনীর কঠোর সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী একটি সমন্বিত অভিযানে অন্তত ১৫০ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছিল। ওরো গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন, হামলাটি বোকো হারামের সঙ্গে যুক্ত কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে। অন্যদিকে, কাটসিনা রাজ্যে দীর্ঘ ছয় মাসের শান্তিচুক্তি ভেঙে এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অবাধে বিচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে নাইজেরিয়া এক জটিল ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএসের মতো বৈশ্বিক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে, অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা সশস্ত্র দলগুলোর দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় নাইজেরিয়া সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মার্কিন বাহিনী দেশটিতে কয়েকটি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা চালানোর পর বর্তমানে নতুন করে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন। অটোমেটিক অস্ত্রসজ্জিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার অভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
পাকিস্তানের অস্থিতিশীল প্রদেশ বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সহিংসতাকে কেন্দ্র করে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ সরাসরি ভারতকে দায়ী করলেও নয়াদিল্লি সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে, যখন বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি ভবন ও স্কুলে ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই সহিংসতায় অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও পুলিশ বড় ধরনের অভিযান শুরু করে এবং দাবি করে যে তারা ১৭৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানের পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে দাবি করেন যে, ওই অঞ্চলে সক্রিয় ভারতীয় এজেন্ট ও তাদের সহযোগীদের তারা নির্মূল করে দিয়েছেন। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে বিএলএ ভারত থেকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা পায়, যদিও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
পাকিস্তানের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামাবাদের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরাতেই পাকিস্তান নিয়মিতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এ ধরনের পুরোনো কৌশল ব্যবহার করে থাকে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তোতাপাখির মতো অন্যকে দোষারোপ না করে পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অধিকারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া। রণধীর জয়সওয়াল আরও উল্লেখ করেন যে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বর্বরতা, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমননীতির বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে কারও অজানা নয়।
দুই দেশের এই কূটনৈতিক লড়াই কেবল সরকারি বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আন্তর্জাতিক ফোরামেও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান নিজের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পেরে নিয়মিতভাবে ভারতকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান মনে করছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা জিইয়ে রাখতে বিএলএ-কে মদত দিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বেলুচিস্তানের প্রকৃত অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ নিরসনের বিষয়টি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সামগ্রিকভাবে বেলুচিস্তানকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের এই নতুন দ্বৈরথ ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন বন্দিশালা থেকে মুক্ত করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী কারাকাস। প্রাণঘাতী এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও আটক হওয়ার এক মাস পূর্তিতে মঙ্গলবার হাজার হাজার সমর্থক রাজপথে নেমে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কারাকাসের রাজপথ এদিন ‘ভেনেজুয়েলার প্রয়োজন নিকোলাস’— এমন স্লোগানে মুখরিত ছিল। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তাঁদের নেতাকে দেশে ফিরিয়ে আনার এবং মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান।
এই বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়াদের একটি বড় অংশই ছিলেন সরকারি কর্মচারী। তাঁরা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। মিছিলের অনেককে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ প্রবর্তিত বামপন্থি পপুলিস্ট মতাদর্শ ‘চাভিস্তা’র প্রতীক হিসেবে লাল রঙের পোশাক পরে থাকতে দেখা যায়। রাজপথে ট্রাকে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে এবং ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা নেড়ে এক আবেগঘন ও প্রতিবাদী পরিবেশ তৈরি করেন সমর্থকরা। উল্লেখ্য, এক মাস আগে নাটকীয়ভাবে মার্কিন সেনাদের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরোকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদক মামলার বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে, যা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মাদুরোর এই অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগজ বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। একদিকে তাঁকে ওয়াশিংটনের সমর্থন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারে থাকা প্রবল মাদুরোপন্থী নেতা ও সাধারণ মানুষের অভ্যন্তরীণ চাপ সামলাতে হচ্ছে। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন।
এদিকে মাদুরোর সমর্থকরা যখন রাজপথে তাঁর মুক্তির দাবি তুলছেন, ঠিক সেই সময়েই দেশটির বিরোধী দলগুলো নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন জোরদার করছে। বিরোধী শিবিরের মতে, মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সব মিলিয়ে মাদুরোর আটক হওয়ার এক মাস পর ভেনেজুয়েলা এখন একদিকে মাদুরোপন্থীদের আবেগ আর অন্যদিকে বিরোধীদের নতুন নির্বাচনের দাবির মধ্যে এক চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন বন্দিশালায় মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, ভেনেজুয়েলার রাজপথ তত বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মুখ খুলেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সময় কাটানোকে নিজের জীবনের বড় ভুল হিসেবে স্বীকার করে তিনি এর প্রতিটি মিনিটের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত কয়েক লাখ চাঞ্চল্যকর নথি প্রকাশ করার পর এই ইস্যুটি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। প্রকাশিত নথিতে বিল গেটসকে নিয়ে কিছু বিতর্কিত তথ্য উঠে আসায় তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
প্রকাশিত নথিপত্রগুলোর মধ্যে থাকা একটি খসড়া ইমেইল নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ইমেইলে জেফরি এপস্টেইন দাবি করেছিলেন যে, বিল গেটস এক রুশ নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এমনকি সেই সম্পর্কের প্রভাবে গেটস অসুস্থ হয়ে পড়লে এপস্টেইন তাকে বিশেষ ওষুধ সরবরাহ করেছিলেন বলেও ইমেইলটিতে উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও অভিযোগ করা হয় যে, গেটস যেন অন্য বিবাহিত নারীদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন, সেজন্য এপস্টেইন তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন। মূলত এই ইমেইলের সূত্র ধরেই বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তবে এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিল গেটস। সংবাদমাধ্যম ৯নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই খসড়া ইমেইলটি কখনও কোথাও পাঠানো হয়নি এবং এতে উল্লেখিত সব তথ্যই বানোয়াট। বিল গেটস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি জানেন না কেন এপস্টেইন এমন ইমেইল লিখেছিলেন কিংবা তাকে আক্রমণ করার পেছনে কোনো বিশেষ মতলব ছিল কি না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য অনুতপ্ত এবং এর জন্য ক্ষমা চাই।" তাঁর মতে, এপস্টেইনের মতো একজন অপরাধীর সঙ্গে সামান্যতম যোগাযোগ রাখাও তাঁর জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
সম্পর্কের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে প্রথম তাঁর সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর পরবর্তী তিন বছরে তাঁরা কয়েকবার কেবল দাপ্তরিক বা সৌজন্যমূলক নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে পুনরায় বলেন যে, এপস্টেইনের মালিকানাধীন বিতর্কিত ক্যারিবিয়ান দ্বীপে তিনি কখনও যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগটি পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত। বিল গেটসের এক মুখপাত্রও একই দাবি করে জানিয়েছেন যে, এ ধরনের কোনো অনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে বিল গেটসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মূলত বিচার বিভাগীয় নথিতে নাম আসায় নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বিল গেটস এই জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা ও ব্যাখা প্রদান করেছেন।