থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ব্যাংককে তার নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
থাকসিন ১৫ বছরের স্বেচ্ছানির্বাচন শেষে দেশে ফেরার ঠিক ছয় মাস পর রোববার দুই মেয়ে পেতংটার্ন এবং পিন্টংটাকে সাথে নিয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে ব্যাংককের বাড়িতে ফেরেন।
থাকসিনকে এই পুলিশ হাসপাতালে ছয় মাস থাকতে হয়েছে। এদিকে হাসপাতালের সামনে মুষ্টিমেয় লোককে থাকসিনের মুক্তির প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।
দু’দুবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন ২০০৬ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। আগস্টে ফেরার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার আট বছরের কারাদন্ড হয়।
কিন্তু রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তার প্রত্যাবর্তনের কয়েকদিনের মধ্যে তার সাজা এক বছর কমিয়ে দেন। এদিকে গত সপ্তাহে সরকার বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ৭৪ বছর বয়সী থাকসিনকে মুক্তির ঘোষণা দেয়।
উল্লেখ্য, আধুনিক থাই ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিভাজনকারী ব্যক্তিত্ব সাবেক এই টেলিকম টাইকন। গ্রামাঞ্চলের লাখ লাখ লোক থাকসিনকে ভালোবাসত প্রবলভাবে। কিন্তু তিনি রাজকীয় ও সেনা সমর্থিত অভিজাত শ্রেনীর ছিলেন চক্ষুশূল।
তার বোন ইয়াংলাক সিনাওয়াত্রা ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকেও ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
বর্তমানে তার কন্যা পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রা পিউ থাই দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি। হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর পেন্টাগনের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলার সময় হঠাৎ চারটি ইরানি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন।
কতজন মার্কিন সেনা সেই জাহাজে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কতজন আহত হয়েছেন— সেই সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি পেন্টাগন সূত্র। তবে জানা গেছে, আহত সেনাদের আঘাত গুরুতর নয় এবং বর্তমানে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশের ‘কোনো একটি দেশে’ চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জাহাজটি কোথা থেকে রওনা হয়ে কোন গন্তব্যে যাচ্ছিল, সেই তথ্যও মেলেনি। তবে পেন্টাগন বলেছে হামলার শিকার জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বা সরকারি কোনো সংস্থার জাহাজ ছিল না। এটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।
এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ফক্স নিউজ, নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়। সেই অনুযায়ী সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়, কিন্তু সেন্টকমের কোনো মুখপাত্র এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ওয়াশিংটন কিংবা তেহরানও এখন পর্যন্ত এ ইস্যুতে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ পণ্য ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ভৌগলিকভাবে এই প্রণালী ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে ইচ্ছুক বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের এ সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ ঘোষণা করার পর দেশটির বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশ করতে বা বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারছে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের পর্বত ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পানিচক্রও ক্রমেই অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। কোথাও বাড়ছে খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি—জাতিসংঘ ও একদল জলবায়ু বিজ্ঞানীর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
এএফপি বলছে, গত আগস্টে চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ)। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো একক চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা ছিল না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন, হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট বা মাটির নিচে জমে থাকা বরফ গলে যাওয়া এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সমন্বিত ফল।
ডব্লিউডব্লিউএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়ে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বরফ জমাট থাকার সীমা আরও ওপরে উঠে গেছে। ফলে পাহাড়ের গভীরে থাকা বরফ ও পারমাফ্রস্ট দীর্ঘ সময় ধরে গলন তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকছে। এতে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে।
গত ২৬ আগস্ট লাংটাং লিরুং পর্বতের একটি বিশাল অংশের পাথর ও হিমবাহ ভেঙে পড়ে। এর ফলে পানি, বরফ ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে গিয়ে নিচের জনপদ ও অবকাঠামো ধ্বংস করে।
নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বত জলবিদ্যাবিদ ও গবেষণাটির সহলেখক ওয়াল্টার ইমারজেল বলেন, ‘ওই অঞ্চলে হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্টের অবনতির কারণে পাহাড়ের স্থিতিশীলতায় মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটছে।’
বিজ্ঞানীদের মতে, ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ওই পাহাড়ের ঢাল কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক ধসের ক্ষেত্রে ভূমিকম্পটির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কতটা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চলতি বছর স্থানীয়ভাবে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ মাস ছিল জুলাই ও আগস্ট। এ ছাড়া, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভারী তুষারপাতের ফলে পরবর্তীতে গলিত পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও ধসের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের তিব্বত ও নেপালে ওই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৬ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ৬ হাজার ৬৬৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ১ হাজার ৪০৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনে ৪৩ জনের মৃত্যু ও ৫১৯ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নেপাল সরকার জানিয়েছে, ওই দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে প্রায় ৪৭৮ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
একই দিনে প্রকাশিত জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর পানিচক্রও ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। কোথাও পানির ঘাটতি, আবার কোথাও অতিরিক্ত পানি—এই দুই চরম অবস্থার মধ্যে দোলাচল বাড়ছে।
ডব্লিউএমও-এর স্টেট অব গ্লোবাল ওয়াটার রিসোর্সেস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের নদীগুলো গত তিন দশকের মধ্যে অন্যতম শুষ্ক অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। একই সময়ে পৃথিবীর সব অঞ্চলের হিমবাহের আকারও কমেছে।
ভূগর্ভ, নদী, হ্রদ, মাটি, উদ্ভিদ, বরফ ও তুষারে জমে থাকা মোট মিঠা পানির পরিমাণও টানা এক দশক ধরে কমছে।
ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানি ও হিমবাহের মতো ধীরে পরিবর্তিত পানির উৎসগুলো এতদিন পৃথিবীর ‘সঞ্চয়ী হিসাবের’ মতো কাজ করেছে। খরা বা শুষ্ক মৌসুমে এসব উৎস পানির সংকট সামাল দিতে সহায়তা করত। কিন্তু এখন সেই মজুতও দ্রুত কমে যাচ্ছে।”
প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে হিমবাহগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ গিগাটন পানি হারিয়েছে। এই পরিমাণ পানি দিয়ে প্রায় ৫৬ কোটি অলিম্পিক সুইমিং পুল ভরাট করা সম্ভব।
২০২৫ সালে পর্যবেক্ষণ করা বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভূগর্ভস্থ পানির কূপে পানির স্তর স্বাভাবিক মাত্রার বাইরে ছিল বলেও জানিয়েছে ডব্লিউএমও।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি এই অনিয়ম আরও বাড়াতে পারে। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টি ও বাতাসের ধরনকে প্রভাবিত করে।
ডব্লিউএমও মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে বাড়তে পারে বন্যার আশঙ্কা।
২০২৫ সাল গত ৩৫ বছরের মধ্যে নদীগুলোর প্রবাহের দিক থেকে সবচেয়ে শুষ্ক তিনটি বছরের একটি ছিল। ওই বছর মাত্র ৩৬ শতাংশ নদী অববাহিকায় পানির প্রবাহ স্বাভাবিক ছিল। একই পরিমাণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং ২১ শতাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রবাহ দেখা গেছে।
ডব্লিউএমও বলেছে, পানিচক্রের পরিবর্তন বুঝতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও আন্তসীমান্ত তথ্য বিনিময় জরুরি। কারণ একটি দেশের নদী বা হিমবাহের পরিবর্তনের প্রভাব অন্য দেশেও পড়তে পারে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের সাম্প্রতিক বিপর্যয়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, এক দেশে হিমবাহজনিত দুর্যোগ অন্য দেশেও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চলতি সপ্তাহটি বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। দেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক ঘটনায় তার প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
মেইল-ইন ভোটের নিয়ম বদলানোর উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টের বাধা, কেনেডি সেন্টার নিয়ে আইনি জটিলতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে চাপ বেড়েছে ট্রাম্পের ওপর।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে মতপার্থক্য এবং কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন।
মেইল-ইন ভোটে সুপ্রিম কোর্টের বাধা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল-ইন ভোটে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্পের প্রশাসন এমন একটি নিয়ম কার্যকর করতে চেয়েছিল, যাতে রাজ্যগুলোকে ভোটারদের তথ্য দিতে হতো এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে নির্দিষ্ট ধরনের খাম ও বারকোড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকত।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে এই নিয়ম আপাতত কার্যকর করা যায়নি।
এর পর ট্রাম্প তার নিয়োগ দেওয়া কয়েকজন বিচারপতির সমালোচনা করেন। বিশেষ করে বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ, নিল গোরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেটের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কেনেডি সেন্টার নিয়েও আইনি লড়াই
ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টার নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন আইনি বাধার মুখে পড়েছে। কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রটি দুই বছর পর্যন্ত বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একজন ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, এই পরিকল্পনা আগের আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না।
এর আগে ট্রাম্পের নাম কেনেডি সেন্টারের ভবনের সামনে যুক্ত করার উদ্যোগও আদালতে বাধার মুখে পড়ে। বিচারক বলেছেন, ভবনের নাম পরিবর্তনের মতো বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। নতুন সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদ বৃদ্ধি। নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে ফেডের সব নীতিনির্ধারক এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফেডের সিদ্ধান্তের পর তিনি আবারও কম সুদের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার এক শতাংশের কাছাকাছি থাকা উচিত। অন্যদিকে, ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এতে দলের ভেতরে ট্রাম্পের নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে ট্রাম্প এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি।
ওদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে। এই পথটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথ।
কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কানাডার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর করতে ইইউর সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্প এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ পদক্ষেপ মনে হলে ইউরোপের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এসব ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব এবং রিপাবলিকান পার্টির ঐক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মেইল-ইন ভোট, ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক নীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে দলের সব আইনপ্রণেতার অবস্থান মিলছে না।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ড ও ছাড়পত্র নিতে গিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিএমইটির নিবন্ধন ব্যবস্থা আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে বিএমইটি কার্ড বরাদ্দ বন্ধ থাকায় অনেকেই ক্লিয়ারেন্স কার্ড পাচ্ছেন না। এ নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণাও এসেছে। তবে তার অভিযোগ, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কার্ড না মিললেও ‘ব্যাক-চ্যানেলে’ বেশি টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে। এর মাধ্যমে নতুন সরকারের সময়েও ঘুসের চর্চা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য মূল প্রয়োজন একটি নির্ভুল নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেজ। প্লাস্টিক কার্ডের পরিবর্তে এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্য সমন্বয় করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা উচিত। এতে কোন নাগরিক কোন দেশে এবং কোন নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মরত আছেন, সে তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তার মতে, এ ধরনের ডেটাবেজ থাকলে প্রবাসী শ্রমিক অসুস্থ, কর্মহীন বা দুর্ঘটনার শিকার হলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি মৃতদেহ দেশে ফেরত আনা, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতের সময় শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং বেতন না পেলে দূতাবাসের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হবে।
বিএমইটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে হাসনাত বলেন, শ্রমিকদের নিবন্ধনকে প্লাস্টিক কার্ডনির্ভর ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে ডেটাবেজভিত্তিক করতে হবে। পাসপোর্ট ও এনআইডির তথ্য ম্যানুয়ালি না নিয়ে নিরাপদ এপিআইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগের কথা বলেন তিনি। এতে হার্ডকপি সার্টিফিকেট যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকবে না বলে মত দেন হাসনাত।
এ ছাড়া ভিসা যাচাই ও প্রবাসী দূতাবাসের অনুমোদন শতভাগ অনলাইন ও এপিআইভিত্তিক করার পাশাপাশি অনুমোদিত ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য রিয়েল-টাইমে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
হাসনাতের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় নিম্নমানের সফটওয়্যার ও কাগজপত্রনির্ভর যাচাইয়ের কারণে প্রবাসীদের হয়রানি হচ্ছে। তার দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থার সুযোগে দালালচক্র ও দুর্নীতির পথ তৈরি হয়। তিনি বিএমইটিকে ‘গেটকিপার’ না রেখে কার্যকর নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
ভারত ও নেপালের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এসব দেশের প্রবাসী শ্রমিক ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিকদের ক্ষেত্রেই ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হয়। নেপালও শ্রমিকদের বিদেশযাত্রার খরচ ও দালালনির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় প্রায় সর্বোচ্চ। বিভিন্ন শ্রমবাজারে গড় অভিবাসন ব্যয় ৪ দশমিক ১৭ লাখ টাকা এবং এই অর্থ তুলতে একজন শ্রমিকের গড়ে ১৭ দশমিক ৬ মাস সময় লাগে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, ঘুস, দালালচক্র ও অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হলে প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বিএমইটির নিবন্ধন ব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএমইটি কার্ডকেন্দ্রিক হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত, অনলাইন ও ডেটাবেজভিত্তিক সেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
একটু পরপর আকাশ অন্ধকার করে উড়ে যাচ্ছে পাখির ঝাঁক। মুহূর্তেই নেমে আসছে দিঘির জলে। কেউ ডুব দিয়ে খাবার খুঁজছে, কেউ জলের ওপর ভেসে আছে, কেউবা গাছের ডালে বসে রোদ পোহাচ্ছে। হঠাৎ আবার একসঙ্গে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে শত শত পাখি। ডানার ঝাপটানিতে বাতাস কাঁপছে, আর তাদের কলকাকলিতে ভেঙে যাচ্ছে সকালের নীরবতা।
দিঘির জলে তখন আকাশের নীল আর পাখিদের ছায়া মিশে তৈরি করছে অপূর্ব এক দৃশ্য। পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যাচ্ছে সেই দৃশ্যে। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ নিঃশব্দে তাকিয়ে আছেন প্রকৃতির এই অবিশ্বাস্য আয়োজনের দিকে।
মনে হচ্ছে, শীতের নরম রোদে তাড়াশের মাটিতে যেন নেমে এসেছে এক টুকরো আকাশ—আর সেই আকাশজুড়ে উড়ছে হাজারো অতিথি।
এ দৃশ্য এখন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের উলুপুর দিঘিতে। শীতের অতিথি পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনায় দিঘিটি পরিণত হয়েছে প্রাণের এক অনন্য মিলনমেলায়। সকাল হলেই এখানে শুরু হয় পাখিদের ব্যস্ততা, আর সেই ব্যস্ততা দেখতে পাড়ে জমে ওঠে মানুষের ভিড়।
সকালের আলো ফুটতেই বদলে যায় উলুপুর দিঘির পরিবেশ। সাধারণ দিনে যে দিঘি শান্ত ও নিরিবিলি, পাখিদের উপস্থিতিতে সেটিই যেন হয়ে ওঠে প্রকৃতির এক জীবন্ত মঞ্চ।
জলের ওপর ভেসে থাকা পাখির দল, গাছের ডালে সারি সারি পাখি আর আকাশে উড়ে চলা ঝাঁক—সব মিলিয়ে তৈরি হয় অন্যরকম আবহ।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী রাজ শেখ, সোহাগ হাসান ও নাইম বলেন, উলুপুর দিঘির চারপাশের গাছপালা পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর শীত এলেই এখানে পাখির সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। পরিবেশটি রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি পাখির সমাগম ঘটতে পারে।
তাদের মতে, দিঘির পাড়ে মানুষের উপস্থিতিও এখন পাখি দেখার একটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে দর্শনার্থীদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তাদের কারণে পাখির স্বাভাবিক বিচরণে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
প্রকৃতির টানে সকাল-বিকেলে উলুপুর দিঘির পাড়ে ছুটে আসছেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই।
বারুহাস ইউনিয়ন থেকে পরিবার নিয়ে পাখি দেখতে আসা সাগর তালুকদার বলেন, পাখির বিচরণ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সারাক্ষণ কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখরিত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে। সুযোগ পেলে আবারও বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে আসবেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শাপলা খাতুন, নার্গিজ বেগম ও সামিউল হাসান জানান, দিঘির ওপর একসঙ্গে এত পাখির বিচরণ দেখতে তাদের খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে পাখির দলবদ্ধভাবে উড়ে যাওয়া এবং আবার একসঙ্গে পানিতে নেমে আসার দৃশ্য তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
দর্শনার্থীদের অনেকেই মনে করেন, উলুপুর দিঘিকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয়ভাবে পাখি দেখার একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।
শীত মৌসুমে শুধু উলুপুর দিঘি নয়, তাড়াশের বিস্তীর্ণ চলনবিলেও দেখা মেলে পরিযায়ী পাখির। বিলের জলাভূমি, দিঘি ও আশপাশের চরাঞ্চল হয়ে ওঠে নানা প্রজাতির পাখির বিচরণক্ষেত্র।
সোলি, বদর, লালমোন, শামুকখোল, বক, বালিহাঁসসহ বিভিন্ন পাখির আনাগোনায় এ সময় প্রাণ ফিরে পায় জলাভূমিগুলো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জলজ খাবারের সহজলভ্যতা এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে শীত মৌসুমে এসব এলাকায় পাখির আনাগোনা বাড়ে।
শীতপ্রধান অঞ্চলে তীব্র শীত ও খাদ্যসংকট দেখা দিলে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। বাংলাদেশের বিল, হাওর, জলাভূমি ও দিঘিগুলো তখন তাদের অস্থায়ী আবাস হয়ে ওঠে।
যমুনা সেতু পশ্চিম ইকোপার্কের ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের প্রকোপ কমে গেলে অতিথি পাখিরা আবার নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যায়। আপন ভূমিতে ফেরার জন্য তাদের আবারও হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়।
তিনি অতিথি পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীন জীবনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার। পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে, যা দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
তিনি আরো বলেন, এসব পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। পাখি শিকার বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত বলেন, অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ফসলের ক্ষতিকর পোকা খাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহার কমতে পারে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমে। পাশাপাশি পাখির বিষ্ঠা জমিতে প্রাকৃতিক সারের কাজ করে।
পরিবেশবিদদের মতে, পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শুধু পাখি শিকার বন্ধ করলেই হবে না। বিল, দিঘি ও চরাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
আর শীত এলেই আবার ভোরের নীরবতা ভেঙে আকাশজুড়ে উঠুক ডানার শব্দ—কলকাকলিতে জেগে উঠুক উলুপুর। পাখি বাঁচুক, জলাভূমি বাঁচুক; বেঁচে থাকুক প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস মস্কোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলা চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপসংক্রান্ত একটি বিস্তৃত আইন পাস করেছে। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে তৈরি এই বিলের লক্ষ্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো। বিলটি এখন আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিল পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে এই আইন একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হতে পারে, যা রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে সহায়তা করবে। ইউক্রেনের যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি প্রতীকী যে ইউক্রেনে আবারও ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার হামলার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট পাস করেছে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ওপর বিমান হামলা আরও বাড়িয়েছে মস্কো। এ সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ইউক্রেনে সংকটজনকভাবে কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতের হামলায় অনিক্স অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১৬০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে কতটি প্রতিহত করা হয়েছে, তা জানায়নি ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জরুরি। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শান্তির জন্য সব প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আমাদের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের আটটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মস্কো সুমি ও ওদেসা অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত নৌযানগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভে রাতভর আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেতের সাইরেন এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তখন জেটচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চলছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানিয়েছেন, শহরে ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের বেশির ভাগই একটি ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ তলা আবাসিক ভবনের বাসিন্দা। শহরের চারটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুদামঘর ও একটি পেট্রল স্টেশনও রয়েছে। এসব স্থাপনাও এখন প্রায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
হামলার কারণে দিনিপ্রো নদীর বাম তীরে পানির সরবরাহও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসায় ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় একটি ১৯ তলা আবাসিক ভবন, অন্যান্য আবাসিক ভবন এবং আরও কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্প স্থাপনায় আঘাত হানে এবং এর একটি অংশে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনও হামলা বাড়িয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বৃহস্পতিবার ওই অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল শহরের একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে একটি নতুন বিল পাস হয়েছে। এই বিলটি পাসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতসহ মোট ১০টি দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি মার্কিন শুল্কের ঝুঁকিতে থাকা অন্য দেশগুলো হলো—চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।
গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়। পরিষদের মোট ৪৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪২১ জন এই ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ২৬২ জন এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৫৯টি। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে আগেই পাস হওয়া এই বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তর হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। সেখানে প্রেসিডেন্ট বিলে স্বাক্ষর করলেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর আইনে পরিণত হবে।
এই বিলের মূল কারণ হিসেবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে শুরু হওয়া রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু যেসব দেশ সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়মিত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে তারা পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়াকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে। তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ওয়াশিংটনকে দেওয়া হয়েছে এই বিলে।
আলোচিত এই ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ৭ আগস্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে তাঁর এই বিলটি পাস হয়। তবে বিলটি সিনেটে পাসের মাত্র চার দিন পর, ১১ আগস্ট ওয়াশিংটনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এই প্রবীণ মার্কিন সিনেটর।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ব্যয়ের পরিমাণ গত ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।
গত আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে।
সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে।’
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে।
সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে।
পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। গত ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে।
এদিকে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
পৃথিবীর কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মোতায়েন করেছে—এমন ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কী ধরনের অস্ত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে? মহাকাশে সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এই অস্ত্রের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত অস্ত্রটির বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে থাকা এই অস্ত্র প্রয়োজনীয়। তবে অস্ত্রটির ক্ষমতা কী, কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে বা কীভাবে এটি কাজ করে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) সহযোগী গবেষক এবং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোপলিটিকস বিশেষজ্ঞ ড. ব্লেডিন বোয়েন মনে করেন, এটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও সংকেত বাধাগ্রস্ত করার কোনো ব্যবস্থা হতে পারে।
বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, ‘এমন একটি অস্ত্র হলে সেটি তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাত্মক উপায়ে শত্রুর কৃত্রিম উপগ্রহের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে পারে। পৃথিবীতে এ ধরনের প্রযুক্তি আগে থেকেই রয়েছে। কোনো উপগ্রহের সঙ্গে মাটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারলে সেটি কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।’
তবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বোয়েনের মতে, এর মধ্যে থাকতে পারে এমন কোনো ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’, যা অন্য একটি উপগ্রহের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খেয়ে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে। আরেকটি সম্ভাবনা হতে পারে এমন কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ, যা অন্য উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে পর্যবেক্ষণ, আঁকড়ে ধরা বা তার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
মহাকাশে সামরিক কার্যক্রম অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। মহাকাশ যুগের শুরুর দিক থেকেই বিভিন্ন দেশ সেখানে সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ইস্ত্রেবিতেল স্পুতনিকভ’ বা ‘স্যাটেলাইট ডেস্ট্রয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এমন কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছিল, যেগুলো অন্য উপগ্রহের দিকে ধাতব টুকরো বা প্রজেক্টাইল ছুড়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারত।
বর্তমানে সামরিক শক্তিধর দেশগুলো মহাকাশে নানা ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপদ যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজে এসব উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহারও তত বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাশিয়া ও চীনের কাছেও কক্ষপথে একই ধরনের অস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
রুসির সাবেক গবেষক জুলিয়ানা সুয়েস বিবিসিকে বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন—দুই দেশই মহাকাশে এমন কিছু কার্যক্রম চালিয়েছে, যা তাদের সম্ভাব্য মহাকাশ অস্ত্র সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।’
রাশিয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা কক্ষপথে থাকা দুটি উপগ্রহের মধ্যে অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। কোনো একটি পরীক্ষায় কক্ষপথে প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে।
গত এক দশকে রাশিয়া ও চীন মহাকাশে ‘রেন্ডেভু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বা আরপিও বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে একটি উপগ্রহ অন্য একটি উপগ্রহের খুব কাছে গিয়ে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা অনুসরণ করতে পারে।
কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক ড. রড থর্নটনের মতে, এ ধরনের উপগ্রহ ভবিষ্যতে ‘হান্টার-কিলার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো অন্য উপগ্রহের সঙ্গে ধাক্কা দিতে পারে কিংবা সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
চীনের ‘স্পেস টাগ’ প্রযুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রযুক্তিতে একটি মহাকাশযান অন্য একটি উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে আঁকড়ে ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে।
এ ধরনের প্রযুক্তি মহাকাশের আবর্জনা সরানোর মতো শান্তিপূর্ণ কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। আবার একই প্রযুক্তি সক্রিয় সামরিক উপগ্রহ অচল করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস জাঙ্ক তৈরি হওয়া।
কিংস কলেজ লন্ডনের মহাকাশ নিরাপত্তা ও অস্ত্রায়ন বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক হিলবোর্ন বলেন, ‘সরাসরি ভূমি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে।’
২০০৭ সালে চীনের একটি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদাহরণও সামনে এসেছে। ওই পরীক্ষার ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষের অনেক অংশ এখনও কক্ষপথে রয়েছে এবং বিপজ্জনক হয়ে আছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
মহাকাশে সামান্য একটি বস্তুতেও বড় ক্ষতি হতে পারে। কারণ কক্ষপথে বস্তুগুলো অত্যন্ত বেশি গতিতে চলাচল করে। ফলে ছোট একটি ধাতব বা প্লাস্টিকের টুকরোও কোনো উপগ্রহে আঘাত করলে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। থর্নটনের মতে, রাশিয়ার হাতে এমন স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা মহাকাশে উঠে নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহে আঘাত করতে পারে। উচ্চতা থেকে বিমান থেকেও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামাবাদের কূটনীতিককে তলব করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সাদ আহমদ ওয়ারাইচকে ডেকে এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
ভারতের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণ’ করেছে। ফলে ভারতীয় জাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তবে এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নৌযানের এই আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি পরিপন্থি। ওই চুক্তিতে সামরিক মহড়া, সামরিক গতিবিধি ও সেনা চলাচলের বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে।
পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিবাদ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সব সামরিক ইউনিটকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং দুদেশের মধ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানাতে বলা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি সামনের সারির যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে একটি পাকিস্তানি নৌযান ভারতীয় জাহাজটির খুব কাছে চলে আসে।
সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানি জাহাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে অনিরাপদ ও অপেশাদার কায়দায় গতিপথ পরিবর্তন করছিল। একপর্যায়ে সেটি ভারতীয় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
তবে সংঘর্ষে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনার পর দুদেশের জাহাজই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যায়। ঘটনায় কোনো ধরনের ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌযান জড়িত ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ বাবর এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ গোদাবরী একই ধরনের একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘটনাটি দুদেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমুদ্রপথে চলাচল ও সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় দেশের ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজারো মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে বাব আল মানদাব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।
ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক পরিবার অল্প সময়ের নোটিশে খুব সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। এরই মধ্যে স্থানীয় আশ্রয়স্থল ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও চলমান সংঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
ইরানসমর্থিত হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাব আল মানদাবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল মানদাব একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প নৌপথ হিসেবেও এ জলপথের গুরুত্ব বেড়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুজনই ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং উপজেলা আহত জুলাই যোদ্ধা সমিতির নেতা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)।
জেলা ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বৃষ্টি হোটেলের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাছান আলী ও মাহমুদুল হাসানকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
জেলা ডিবির উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁরা ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে এলেঙ্গায় এসেছিলেন। সেখানে ক্রেতার কাছে ইয়াবা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হাছান আলী ও মাহমুদুল হাসান নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা এবং মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’
আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’
ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালাল চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।’
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই; কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালাল চক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হব’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’