বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভিসা ছাড়াই ওমরাহ করতে পারবেন ২৯ দেশের নাগরিক

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:১৮

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭ দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ওমরাহ করতে পারবেন। ওমরাহ পালন করার জন্য তাদের আগে থেকে কোনো ভিসা নিতে হবে না।

আজ সোমবার সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। এ ছাড়া এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা অন-অ্যারাইভাল প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সৌদি সরকার। এমনকি, তারা ভ্রমণের উদ্দেশে এসেছেন নাকি ওমরাহ পালনের জন্য এসেছেন, সে বিষয়টিও ধরা হবে না। এটি ভিসাধারীদের নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমরাহ প্রক্রিয়া সহজ, উন্নতমানের সেবাসহ সৌদির সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য সৌদির ভিশন-২০৩০-এর অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হজের জন্য যোগ্য ব্যক্তিরা সহজেই নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন। চাইলে এসব দেশের নাগরিকরা সৌদিতে পৌঁছেই ওমরাহ করতে পারবেন।

এ ছাড়া ট্রানজিট ভিসার মাধ্যমেও ওমরাহ পালন করা যাবে। তবে তাদের সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমানে আসতে হবে। পুরো বিশ্বের মুসলিমদের জন্য ওমরাহ পালন সহজ করার অংশ হিসেবে এমন সুযোগ রেখেছে সৌদি আরব।

হজ ও ওমরাহর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। হজ হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমি নারী-পুরুষের জন্য হজ পালন বাধ্যতামূলক। আরবি বর্ষপঞ্জিকার শেষ মাস জিলহজে হজ পালন করা হয়। অন্যদিকে, ওমরাহ হলো একটি ঐচ্ছিক বিষয়। বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ পালন করা যায়। ওমরাহ করতে গিয়েও পবিত্র কাবা শরিফসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক অবকাঠামো দেখার সুযোগ পান মুসল্লিরা।

এদিকে, বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ওমরাহ বিমার সামগ্রিক খরচ ৬৩ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় গত ১০ জানুয়ারি থেকে খরচ কমিয়ে ২৩৫ থেকে ৮৭ সৌদি রিয়াল করেছে। ওমরাহর জন্য বিমা হলো- বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর হজ যাত্রীদের জন্য একটি সমন্বিত নীতি।

এই ভিসাপদ্ধতিতে চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, গর্ভাবস্থা, জরুরি প্রসব, জরুরি ডেন্টাল সেবা, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা, ডায়ালাইসিসসহ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণে স্থায়ী অক্ষমতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃত্যু, মরদেহ দেশে ফেরত দেওয়া ও আদালতের রায়ে জারি করা ব্লাড মানি, ফ্লাইট বিলম্বের ক্ষতিপূরণ এবং ফ্লাইট বাতিলের ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

সৌদি আরবে প্রবেশের দিন থেকে শুরু করে ৯০ দিন পর্যন্ত এ বিমা কাজ করবে এবং তা শুধু সৌদি আরবেই কার্যকর হবে। এই বিমার বিষয়ে সব তথ্যসামগ্রিক বিমা প্রোগ্রামের ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।


ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মধ্যেই ফের দিল্লির রাস্তায় কৃষকরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ দিল্লি চলো কর্মসূচির ধাক্কায় রাজধানী উত্তাল, অন্যদিকে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় পাঞ্জাবের শত শত কৃষকের পদযাত্রায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই বিশাল কৃষক বহরকে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ। সিমেন্টের ব্লক, লোহার কাঁটা ও উঁচু ব্যারিকেড বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করার এই দৃশ্য ২০২৪ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে বলে এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাজধানীতে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেওয়ার জন্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উভয় সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কৃষক নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেছেন যে, হরিয়ানা পুলিশ নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঞ্জাবের সীমানার ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করলেও পাঞ্জাব সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। তবে পাঞ্জাবের কৃষকরা সীমান্তে বাধাগ্রস্ত হলেও আম্বালা ও কুরুক্ষেত্রের হরিয়ানার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশ্যে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একত্রিত হয়ে এই কিষাণ মহাপঞ্চায়েতের ডাক দিয়েছে। কিষাণ মজদুর মোর্চা ও বিকেইউ একতা সংঘর্ষের মতো সংগঠনগুলোর সদস্যরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা হলেও শম্ভু সীমান্তে ব্যাপক বাধার মুখে পড়েন।

আন্দোলনকারী কৃষকদের প্রধান উদ্বেগ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, ২০২৬ সালের শরতের মধ্যে এই চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। কৃষকদের দাবি, এই চুক্তি কেবল সাধারণ ব্যবসা নয় বরং কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প ও ডিজিটাল বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে উন্মুক্ত করে দেবে। অতীতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা এবং পোল্ট্রির মতো পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কৃষকদের আশঙ্কা, আমেরিকার ভর্তুকিপ্রাপ্ত সস্তা কৃষিপণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না এবং জীবনযাত্রার সংকট দেখা দেবে।

কৃষক সংগঠনগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, ভারতের দুগ্ধ খাতের ওপর প্রায় ৮০ মিলিয়ন গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। এই খাতে বিদেশি আধিপত্য তৈরি হলে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি ধসে পড়বে। এছাড়া আলোচনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির যাবতীয় নথি অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা ছাড়া কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার জন্য তারা সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে। এমতাবস্থায় দিল্লি সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।


কুয়েতে মার্কিন রাডার ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি আইআরজিসির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনা নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রে সফল অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার পরিচালিত এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর উন্নত রাডার ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির প্রথম দফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর একটি দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারেও হামলা চালানো হয়, যার ফলে বেশ কয়েকটি সামরিক ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রথম বিবৃতির পর আইআরজিসি দ্রুতই দ্বিতীয় আরেকটি যৌথ ঘোষণা প্রদান করে। সেখানে বলা হয়েছে, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে থাকা আগাম সতর্কীকরণ রাডার, এফপিএস-১১৭ রাডার এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও আক্রমণ চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, পরবর্তী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আইআরজিসির সমান্তরালে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও পৃথক এক বিবৃতিতে তাদের অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, কুয়েতের তিনটি কৌশলগত মার্কিন অবস্থানে ‘কামিকাজে ড্রোন’ ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয়কারী অ্যান্টেনাসহ ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনা আবাসন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণেই মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ইরানি বাহিনীর এই দাবির প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কিংবা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যার ২০ প্রাণহানি, নিখোঁজ অনেক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তানের পূর্বদিকের নুরিস্তান প্রদেশে মৌসুমি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। এছাড়া বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সোমবার নুরিস্তানের প্রধান কেন্দ্র পারুন শহরে হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়লে বহু ঘরবাড়ি, সরাইখানা ও দোকানপাট মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) এখন পর্যন্ত ২০টি মরদেহ উদ্ধার করার তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে পারুনসহ নুরিস্তানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় প্রাদেশিক রাজধানীর মেয়র ও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এবং মরদেহগুলো উদ্ধারে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা শপৌল-এর প্রধান আশিকুল্লাহ সাফি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, ‘বন্যায় পারুন পৌর এলাকা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রবল স্রোত শহরে বড় বড় পাথর ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।’ উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর এই মৌসুমে নুরিস্তানে বন্যা হলেও এবারের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে চরম আবহাওয়ার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া বর্ষায় এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার ভারতের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে জুনের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আফগানিস্তানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান মাওলভি মাতিউল হক খালিস এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দেশে বন্যার ঘটনা বেড়ে গেছে এবং পরিবেশগত সংকট মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে।’


নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভ, সংসদ ঘেরাওয়ের চেষ্টায় উত্তাল ভারত

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সোমবার নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণের বিশাল জমায়েত প্রশাসনকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কয়েক স্তরের ব্যারিকেড এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের মতো কঠোর ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে যান। দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল জনস্রোত যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে সংসদের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম চলছিল।

মূলত অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেয়। বিক্ষোভের এই তীব্রতা সরকারের নীতিনির্ধারকদের নমনীয় হতে বাধ্য করেছে। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সৌরভ দাস জানান, সরকার প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তারা সরাসরি মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের সঙ্গে আলোচনার দাবিতে অনড় ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। বৈঠকের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, "আজ সকালে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব আসে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে আমাদের আলোচনা চলছে।"

বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। তাঁদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রথমে বিস্তারিত মৌখিক আলোচনা হয়। পরে বিকেলে তাঁরা একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আমি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছি।" অন্যদিকে, সংসদের ভেতর ও বাইরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীরা দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক ও চলমান ছাত্র আন্দোলন দমনে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণই ছিল এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে জড়ো হয়েছিলেন। উত্তর প্রদেশের আজমগড় থেকে আসা এক চাকরিপ্রত্যাশী যুবক নীতীশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।" নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথমে বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশনা থাকলেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ হার্ডলাইনে যায়। এর আগে অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন কর্মসূচি পুলিশি হস্তক্ষেপে পণ্ড হওয়ার ঘটনাটি এই ছাত্র আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরোক্ষ সমর্থন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নয়াদিল্লির রাজপথ এখন বিক্ষোভে উত্তাল।


সিজেপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র দিল্লি

জনতাকে লক্ষ্য করে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার আয়োজন করে। পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা। সিজেপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মেডিকেল কলেজগুলোর জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিটটের কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। যন্তর-মন্তর বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া প্রধানত তরুণদের এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি ও ডান্ডাও ব্যবহার করেছে। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে কিছু আন্দোলনকারী এবং পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিজেপি তার সমর্থকদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনকি আপনাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে এতে জয়ী হব।

পুলিশ রোববার এই আন্দোলনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারা সতর্কও করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতিসহ যন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইনকে শ্রদ্ধা করার, যে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ।

এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন অথবা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হন। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ মেট্রো স্টেশন রাজীব চকে যাত্রীদের বন্ধ প্রবেশ ও বাহির পথের গেটগুলোর কাছে ভিড় করতে দেখা গেছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’এবং ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি চালু করেছিলেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করে। এটি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থনও আকর্ষণ করে।

৩০ বছর বয়সি দিপকে, যিনি গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের পর শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে জুনে ভারতে ফিরে আসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন।

৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুককে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা উল্লেখ করে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক হাতে লেখা নোটে ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি শিক্ষাব্যবস্থায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা যদি তাকে আশ্বাস দেন যে তারা পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবেই কেবল তার অনশন ভাঙবে।

অভিজিৎকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা নেতা অভিজিৎ দিপকে-কে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) সংগঠনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারিতে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যখন দিল্লিতে উত্তাল বিক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই আটকের ঘটনা ঘটল।

এর আগে আন্দালনে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আটক হওয়ার সময় অপর দুই নেতা ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠক শেষে সৌরভ দাস জানান, তারা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত চিঠি জমা দিয়েছেন।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে কথা বলবেন। আন্দোলনকারীরা বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন।


ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম

অ্যান্ডি বার্নহাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার (২০ জুলাই) রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক আহ্বানের পর নতুন সরকার গঠন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টার্মারের অধ্যায়ের অবসান হলো।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন বার্নহ্যাম। অ্যান্ডি বার্নহাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং দুর্বল জনসেবার মতো জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারা নতুনভাবে সাজাবেন। তার আগে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বিদায়ী ভাষণে বলেন, ‘আমার কাজ শেষ হয়েছে। আমি হাসিমুখে ও সৌজন্যের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।’

বার্নহাম মন্ত্রিসভা গঠনের পর দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স করা ইউটিলিটি সেবাসহ নানা জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

প্রায় এক মাস আগে লেবার পার্টির এমপিদের ভোটে নেতৃত্ব হারানো স্টারমার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। এখন আমি দায়িত্ব অ্যান্ডি বার্নহামের হাতে তুলে দিচ্ছি এবং তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার পূর্ণ সমর্থন পাবেন বার্নহাম।’

বার্নহাম-এর কার্যালয় জানিয়েছে, ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে ভাষণ দিয়ে আরও স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল রাজনীতির রূপরেখা তুলে ধরবেন বার্নহাম। তিনি এ নিয়োগকে আত্মসমালোচনার একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের বাস্তব সমস্যাগুলো সম্পর্কে সৎ হওয়ার সময় এসেছে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমেই দেশের উন্নতি সম্ভব।’

গত শুক্রবার (১৮ জুলাই) লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহাম বলেছিলেন, গত ৪০ বছরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত।


ইসরাইলে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি রিফুয়েলিং সামরিক বিমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) সামরিক বিমান ইসরাইলে এসে পৌঁছেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়ালা দেশটির বিমানবাহিনীর জনৈক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রামন বিমানবন্দরে মোট ১০০টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে, তাহলে ইসরাইলে আরও বেশি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে এসব বিমান তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরেও অবতরণ করতে পারে।’

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বর্তমানে অন্তত ৩৩টি মার্কিন সামরিক বিমান অবস্থান করছে। পর্যটন মৌসুমে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ইসরাইলের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশটিতে সর্বমোট কতটি মার্কিন বিমান রয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক তথ্য ইসরাইল এখনো প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ইসরাইলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিন্যাস সংক্রান্ত পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরাইলকে অবহিত করেছে। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন সামরিক কেন্দ্রে আরও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পৌঁছানোর কার্যক্রম চলছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় অঞ্চলটিতে ফের যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিশালী সামরিক অবস্থান দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।


ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি, আমরা ভেনেজুয়েলা নই: আরাগচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এক ঐতিহাসিক ভুল করেছে এবং তেহরানের সামরিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল ছিল। তুরস্কের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাগচি বলেন, “ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভয় পায়নি। আমরা ভেনেজুয়েলা নই।” তাঁর মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল ইরানের ওপর আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদী হামলা চালিয়ে দেশটিকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হবে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তাঁদের ধারণার ঠিক বিপরীত।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য পাচারের ফলেই ইসরায়েল সুনির্দিষ্ট হামলা পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে যা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা জানত প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রতিদিন সকালে তাঁর দপ্তরে অবস্থান করেন এবং সেই অনুযায়ী তারা পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। তবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে ছিল না; সর্বোচ্চ নেতার ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা রণকৌশল ইরান আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছিল।

বর্তমান যুদ্ধাবস্থা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর আগে যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পূর্ণ অনুমোদন নিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছিল। ইরান মূলত কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের সুযোগটি যাচাই করতেই সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। অনাগত দিনে পুনরায় কোনো আলোচনায় বসা হবে কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আরাগচির এই কঠোর অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইরান বর্তমান সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।


পেরুতে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পেরুর রাজধানী লিমার পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশ জুনিনে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২১ জন। পেরুর জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের বরাত দিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাতে ৫.১ এবং ৩.৭ মাত্রার দুটি পৃথক কম্পন এলাকাটিকে প্রকম্পিত করে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত কেইকো ফুজিমোরি রবিবার এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান লুইস ভাসকেজ জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৪৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ১৮টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে অবশ্য মৃতের সংখ্যা ছয়জন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় জুনিনের চুপাকা শহরসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত কাঁচা মাটির ইট বা ‘অ্যাডোব’ দিয়ে নির্মিত ঘরগুলো ভূমিকম্প সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে তাঁদের এলাকাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্রথম কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ হতে ২৪ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য যে পেরু ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৬ বলে জানিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ হতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


মালিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ৫০ সেনা নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। আরও অন্তত ২৪ সেনাকে বন্দি করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রোববার এএফপিকে সূত্রগুলো জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস থেকে সেনারা সরে যাওয়ার সময় তাদের বহরে হামলা চালানো হয়। ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘হামলায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করা হয়েছে।’

জেএনআইএম ও এফএলএ হামলার দায় স্বীকার করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে একটি সূত্র বলেন, ‘এ হামলায় প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত ভারি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক সেনা নিহত ও অন্তত ২৪ জন বন্দি হয়েছেন।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণঘাতী হামলা। মালির সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ‘আমাদের কয়েকজন সদস্যকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। আমাদের কৌশলগত কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খতিয়ে দেখছি, কী কারণে আমাদের সদস্যরা এতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন।’

একাধিক সূত্র এএফপিকে জানায়, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই তাদের গন্তব্য গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, ‘কোনো রুশ সদস্য নিহত হননি। নিহতরা সবাই সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য।’ শনিবার মালি সেনাবাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের বহরটি ‘সন্ত্রাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাতা অতর্কিত হামলাশিকার হয়েছে। তবে তারা হতাহতের কোনো সংখ্যা জানায়নি।

২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুই সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালিতে সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্থিরতার পর নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা।


যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো দেশ থেকে ভিসার জন্য আবেদন করলে তা অনুমোদনের সুযোগ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসার আবেদনকারীদের উচিত নিজ নিজ দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অথবা কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজের দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে ভিসা পাওয়া বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে এই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া ভিসা ফি কোনো অবস্থাতে ফেরতযোগ্য নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।


ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ৪৩০ জনের বেশি সেনা আহত হয়েছেন। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুগপৎ হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর ১ মার্চ প্রথম মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।

একই দিন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত হন অপর এক সেনা। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তিনি মারা যান। ১২ মার্চ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। ওই উড়োজাহাজটি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা করছিল।

তবে ওয়াশিংটনের দাবি, এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। এর সঙ্গে শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত হামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে আরেকটি উড়োজাহাজ জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

১ জুলাই আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনো হামলার কারণে ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ ঘটনায় জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস ইন ইরানের (এইচআরএএনএ) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে এইচআরএএনএ সামরিক বাহিনীর নিহত সদস্যদের কোনো যাচাইকৃত সংখ্যা দেয়নি। পাশাপাশি রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

অন্যদিকে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের কর্তৃপক্ষের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি। তবে এই সংখ্যার মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন সামরিক সদস্য, সে বিষয়ে কোনো পৃথক তথ্য দেওয়া হয়নি।


সৌদি আরবকে পরমাণু কর্মসূচির অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে একটি পরমাণু চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলা হয়, এই খসড়া চুক্তিটি মূলত ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এটিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেননি।

মূলত, ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছুটা সময় নিচ্ছেন ট্রাম্প। কারণ চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য বেশিরভাগ দেশ সাধারণত অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজের জন্য নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রযুক্তিগত আইনি অধিকার পাবে। এটি মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সৌদিতে পারমাণবিক কাঁচামাল ও বেসামরিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি আইনি কাঠামো মাত্র।

এদিকে প্রস্তাবিত খসড়ায় জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ তদারকির নিয়মটি রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি চাইলেই সৌদির পরমাণু কেন্দ্রগুলো আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবে না। পরিবর্তে, তদারকি ব্যবস্থাটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যেহেতু পারমাণবিক বোমা তৈরিরও মূল উপায়, তাই কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ভবিষ্যতে এই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ সুগম হতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান যদি কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় সৌদি আরবও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে। ফলে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, মার্কিন প্রশাসন যদি সৌদিকে এই সুবিধা না দেয়, তবে রিয়াদ হয়তো চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে এই প্রযুক্তি সহজে পাওয়ার চেষ্টা করবে। এছাড়া এর মাধ্যমে মার্কিন পরমাণু শিল্পে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


banner close