বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ পৌষ ১৪৩২

দেশে দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১২

ভাষাশহীদদের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেসকো স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৯৯ সালে। সেই থেকে এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে গণমাধ্যমগুলোতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ভারতের কোলকাতা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দিবসটি পালনের খবর পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে মাতৃভাষা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটের সঙ্গে মিল রেখে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টায় ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

গতকাল বুধবার ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানিয়েছে বাসস। এতে বলা হয়, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশ্বজিত সাহার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশের ভাষাশহীদদের আত্মদানের বিনিময়ে আজ পৃথিবীব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাসহ পৃথিবীর অন্যান্য ভাষা সংরক্ষণ এবং উত্তরণে আমাদের সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখতে হবে’। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে গত ৩৩ বছর ধরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ভাষা দিবস পালনের গৌরবময় অধ্যায়ের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।

এ ছাড়া নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, প্রজন্ম একাত্তরের সভাপতি শিবলী ছাদিক এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার বক্তৃতা করেন।

এর আগে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বঙ্গমাতা পরিষদ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, প্রজন্ম ৭১, জ্যাকসন হাইটস মহানগর আওয়ামী লীগ, যুব লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জগন্নাথ হল এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, গাইবান্ধা সোসাইটি ইনক ও প্রবাসী মতলব সমিতি। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ এ সময় দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

কলকাতা

যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভারতের কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এই উপলক্ষে বুধবার কলকাতা বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ রাখা হয়।

সকালে কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে এক সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের হয়। হাতে বর্ণিল পোস্টার, ফুলের মালাসহ এই প্রভাতফেরিতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গান গেয়ে প্রভাতফেরি কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপহাইকমিশন প্রাঙ্গণে।

এরপর মিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সালাম-বরকত-জব্বারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপ -হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) শামসুল আরীফ, প্রথম সচিব (ভিসা) আলমাস হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে মিশন প্রাঙ্গণে মুজিব মঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। উপহাইকমিশনার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আলাদা আলাদাভাবে শহীদ বেদিতে ফুল দিয় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয় ইন্দো বাংলা প্রেস ক্লাব, কলকাতা প্রেসক্লাব, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি, বাংলাদেশ বিমান সোনালি ব্যাংকের তরফ থেকে। পরে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে।

এদিন বিকালে মিশন প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতাস্থ বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলা আমার তৃষ্ণার জল’।

বিকালে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

দিবস উপলক্ষে সোমবার রাতব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হওয়া রাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবে নাটক, বাউল, লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পীরাও যোগদান করেন। বুধবার সকালে প্রভাত ফেরির মধ্য দিয়ে সেই অনুষ্ঠানের শেষ হয়।

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্যতম স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে বনগাঁ পৌরসভার উদ্যোগে পেট্রাপোল বন্দরসংলগ্ন এলাকায় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন দুদেশের প্রতিনিধি ও ভাষাপ্রেমীরা।
শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও ভারত ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের অন্য ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে বাংলা গান গেয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে অংশ নেন।

বিশেষ এই দিনটিকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলোতে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় ‘অমর একুশে’। এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তরফে বিশেষ মর্যাদায় বিশেষ দিনটি পালন করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া

নয় দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

গত মঙ্গলবার দেশটির কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার টেলরস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সহযোগিতায় ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে বহুভাষিকতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।

খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেইলর’স বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্র্যান্ড হলে’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, প্যানেল আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং নয়টি দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ধারণ করা বক্তব্য প্রচার করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তব্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মরণে বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আয়োজিত ভিন্নমাত্রিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন সারা বিশ্বে ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাসহ শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করি।’

অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সভায় অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, পরিচালক, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, বাংলাদেশ এবং মিসেস মাকি কাতসুনো-হায়াশিকাওয়া, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইউনেসকো আঞ্চলিক অফিস, জাকার্তার ধারণরা বক্তব্য প্রচারিত হয়।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. অনিন্দিতা দাশগুপ্ত, বিভাগীয় প্রধান-স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, টেলরস ইউনিভার্সিটি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অফ ফিউচার ইন এডুকেশন অ্যান্ড সোসাইটির (এপিজেএফইএস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড. কালাই ভানি রাজন্দ্রাম এবং স্যার এম বিশ্বেশ্বরায়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ব্যাঙ্গালোরের শিক্ষক গৌথম কুমার। এ সময়, আলোচকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে সবার ঐক্যের চেতনার কথা বলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। গতকাল দিবসের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেসকোর প্রতিনিধিগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে, দূতাবাসে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত মো. তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষা আন্দোলনের সব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত মাতৃভাষা লালনের গুরুত্ব এবং জাতি গঠনে মাতৃভাষার মূল্যের ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাকার্তায় বসবাসরত শিশু-কিশোররা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।


বিশ্ব সংকটের জন্য দায়ী ক্রমবর্ধমান বিভাজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিদায়ী শরণার্থীবিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন সংঘাত ও সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তার মতে, বিভাজনের কারণে সহিংসতা ও যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি বৈরিতা বেড়েছে।’

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান হিসেবে নিজের এক দশকের পথচলার কথা স্মরণ করে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়ের একটি হলো- বিভাজনের কারণে বিশ্ব সংঘাত সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে না।’

ইতালীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘ভূরাজনীতির এই বিভাজন, যা এতগুলো সংকটের উত্থান ঘটিয়েছে, সম্ভবত সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্ব শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছে না এবং শান্তি স্থাপনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।’


নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬ সালকে বরণ করতে যখন হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী টাইমস স্কয়ারে ভিড় জমান, ঠিক তার আগেই পরিত্যক্ত এক সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। ওই স্টেশন আমেরিকার ‘গিল্ডেড এজ’ বা সমৃদ্ধির যুগে তৈরি করা হয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী জোহরান নববর্ষের আগের রাতে নিউইয়র্কের সিটি হলের নিচে অবস্থিত এ পরিত্যক্ত স্টেশনে শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে এ স্টেশন লোকাল ‘৫ নম্বর’ ট্রেনের ঘোরার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ব্যতিক্রমী জায়গা বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে মামদানি বলেন, এটি প্রতীকীভাবে একটি ‘নতুন যুগের সূচনা’–কে জাগিয়ে তুলছে।

জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ স্থাপনা এমন এক শহরের স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময় সুন্দর হওয়ার সাহস দেখাত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় কিছু গড়ে দিত। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে বা সিটি হলের সুড়ঙ্গের নিচে আটকা পড়ে না থাকে, সে জন্য এ আয়োজন। ওপরের ভবন (সিটি হল) থেকে যারা নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ পাবেন, তাদের লক্ষ্য হবে সে চেতনাকে ফিরিয়ে আনা।

জোহরান আরও যোগ করেন, নতুন সুযোগের এ যুগে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্য এবং শহরের এ মহান ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে পেরে নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।

১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে প্রথম চালু ২৮টি স্টেশনের একটি হচ্ছে এ স্টেশন। পরে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্কের ‘ল্যান্ডমার্ক’ এবং ২০০৪ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

নতুন মেয়র জোহরান মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। এরপর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে আরেকটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর ব্রডওয়েতে একটি বড় উৎসবের (ব্লক পার্টি) আয়োজন করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস বলেন, সাবওয়ে স্টেশন বেছে নেওয়াটা যথার্থ হয়েছে। কারণ, ট্রেনব্যবস্থা নিউইয়র্কবাসীর জন্য এক ‘মহাসাম্য’ বা সবাইকে এক করার জায়গা।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘জোহরান আমাদের পরবর্তী মেয়র। কারণ, তিনি বোঝেন, আমরা যে সাবওয়ে লাইনই ব্যবহার করি না কেন, একে অপরের পাশে থাকা সব নিউইয়র্কবাসীর এমন একটি শহর পাওয়ার অধিকার আছে, যেখানে তারা ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।’


নতুন বছরকে সবার আগে স্বাগত জানাল কিরিতিমাতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কিরিবাতি ও প্রথম অঞ্চল হিসেবে দেশটির কিরিতিমাতি নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ হলো কিরিবাতি। এটি হাওয়াইয়ের দক্ষিণ এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। দেশটি অসংখ্য প্রবাল প্রাচীরের দ্বারা গঠিত এবং এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত।

কিরিবাতির মানুষ নিজেদের দেশকে কিরিবাস নামে ডাকেন। এটি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হয়। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক রিজার্ভ এটি। দেশটির অনেক প্রবাল প্রাচীর আছে যেখানে কোনো প্রাণী বসবাস করে না। এগুলোর বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

কিরিবাতিতে সবমিলিয়ে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ থাকেন। যদিও হাওয়াইয়ের প্রায় সরাসরি দক্ষিণ দিকে দেশটির অবস্থান। কিন্তু কিরিবাতি হাওয়াইয়ের একদিন আগে নতুন বছরের উৎসব পালন করে।


ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রতি মোসাদ ‘আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, ময়দানেই আছি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে যত ধরনের ষড়যন্ত্র হয়, তার সব কিছুর সঙ্গেই যেন জড়িয়ে থাকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম। ইরানের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নেই।

সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে মোসাদ। রাজধানী তেহরান ও দেশের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘মাঠেই আছে’। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মোসাদের ফার্সি ভাষায় পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, ‘আপনারা সবাই একত্র হয়ে সড়কে নেমে আসুন। এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমরা শুধু দূরে বসে থেকে বা কথা বলে দায় সারছি না। আমরা আপনারে সঙ্গে ময়দানেই আছি।’

দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির দাবিতে গত রোববার থেকে তেহরানের খুচরা দোকানমালিকরা পথে নামে।

তাদের এই বিক্ষোভ অন্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি রিয়ালের মূল্যমান ডলার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বারবার কমেছে। যার ফলে আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এতে খুচরা দোকানিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক শেষে নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

বলেছেন, পরমাণু বা ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প পুনর্নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে তেহরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।

জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে জড়ায়। ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে এই সংঘাত শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলে দাবি করে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা বিঘ্নিত করা ও ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা।

ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেয় ইরান। একপর্যায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে পরমাণু স্থাপনার ওপর হামলায় যোগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘাতের অবসান ঘটে।

ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না ইরান। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও মোসাদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর অভিযোগ এনেছে তেহরান।

বিশেষত, পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংস ও বিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনায় মোসাদের সরাসরি সংযোগ আছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সরাসরি সমর্থন জোগানোর অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা বিশ্ব।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাবেক হামাস নেতা ইসমাঈল হানিয়াকে তেহরানে হত্যা করা হয়। ওই হামলায় মোসাদের সংযোগ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।


ইয়েমেনে হামলা সৌদি আরব ও আমিরাতের বিশ্বাসের ঘাটতি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলার পর দেশটি থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পদক্ষেপটি সৌদি–আমিরাত উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশ দুটির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও বিশ্বাসের ঘাটতি থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায়। এর পরপরই আরব আমিরাত তাদের সেনাদের ইয়েমেন ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

আরব আমিরাত বলেছে, তারা এ বিমান হামলার ঘটনায় বিস্মিত। এর ঠিক পরেই তারা ঘোষণা দেয় যে সেনাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইয়েমেন থেকে তাঁতার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতের মধ্যকার এ সংকটের সূত্রপাত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে। ওই সময় দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হঠাৎ অগ্রসর হতে শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর মধ্য দিয়ে তেল খাতে কোটাব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

সৌদি আরবের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি উপসাগরীয় সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, গত নভেম্বরে ওয়াশিংটনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রটি আরও বলেছে, ডিসেম্বর থেকে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও ফোনালাপ হয়েছে। তবে তা এখনো বাস্তব কোনো ফল দেয়নি।


জানুয়ারিতে সই হবে ট্রাম্পের ২০-পয়েন্ট শান্তি পরিকল্পনা : জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে ২০টি পয়েন্ট সংবলিত নতুন শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী জানুয়ারি মাসেই কিয়েভ ও মস্কো এই পরিকল্পনায় সই করবে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক ঘোষণায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ‘ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আমার সাম্প্রতিক বৈঠক সফল হয়েছে। আশা করছি, আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে এবং এটি স্বাক্ষরিত হবে।’

বিবরণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ বছর ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জেলেনস্কি এই মেয়াদ ৫০ বছরে উন্নীত করার জন্য আলোচনায় আছেন।

গত মঙ্গলবারের (৩০ ডিসেম্বর) ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করছি, ইউক্রেন এবং তার নাগরিকদের নিরাপত্তাগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেবল মার্কিন সেনাবাহিনীই ইউক্রেনে অবস্থান করবে। ইউক্রেনকে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের অগ্রণী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রদান করবে।

এ ছাড়া যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়েও জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন কোম্পানি ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করবে। আমাদের লক্ষ্য যুদ্ধ পরবর্তী নাগরিকদের গড় মজুরি বা আয় বৃদ্ধি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন, যার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’


সব সময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন খালেদা জিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত নীতি নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। হাসিনা ভারতকে বন্ধুসুলভ হিসেবে দেখেন। খালেদা জিয়া তার প্রাথমিক বছরগুলোতে মোটামুটি সতর্ক। কখনো কখনো বিরোধী অবস্থান বজায় রাখেন। সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় ভারতের সঙ্গে স্থলপথ সংযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার প্রতি তার বিরোধিতা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এক প্রতিবেদনে এ কথা লিখেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ৮০ বছর বয়সে হৃদরোগ ও ফুসফুস সংক্রান্ত সংক্রমণ, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ছিলেন। তাকে কৃতিত্ব দেয়া হয় দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের জন্য। গত তিন দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা, এই দুই নারী প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।

এনডিটিভি আরও লিখেছে, বিএনপিকে ‘বাংলাদেশের স্বার্থের রক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খালেদা তার নীতিগুলোকে ‘ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা’ হিসেবে সাজিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে ঢাকায় এক সভায়, যখন হাসিনা প্রধানমন্ত্রী এবং খালেদা বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন তিনি ভারতের জন্য শুল্কমুক্ত সংযোগ প্রদানের কারণে হাসিনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ভারতের রাজ্য বানানোর চেষ্টা প্রতিরোধ করব।’ তবে খালেদার লক্ষ্য কেবল সংযোগের অধিকার প্রত্যাখ্যান করা ছিল না, বরং তার দেশের জন্য বাস্তব লাভ নিশ্চিত করা ছিল। ২০১৪ সালে ঢাকার একটি পত্রিকা তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে, সংযোগ অনুমতি অবশ্যই তিস্তা জল চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে তিনি সমালোচনা করেছেন। ১৯৭৫ থেকে কার্যকর এই চুক্তি। গঙ্গা থেকে হুগলির দিকে পানি প্রবাহের জন্য ব্যবহৃত হয় এই চুক্তি। সমালোচনায় তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশকে গঙ্গার পানি থেকে বঞ্চিত করছে। ২০০৭ সালে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে তারা বাঁধ খুলে দিয়ে দেশের বন্যা পরিস্থিতি খারাপ করেছে। সংযোগ ও অবকাঠামোর বাইরে প্রতিকূল অবস্থান ছিল তার কৌশলগত নীতির অংশ। ২০০২ সালে তিনি চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেন এবং ভারতের প্রতি উদাসীনতা দেখান। চীনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ঢাকার প্রধান সরবরাহকারী হয় ট্যাঙ্ক, ফ্রিগেট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।

ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সরাসরি কৌশলগত। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি এবং দিল্লি কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে, বিএনপি সরকারের উপর বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠন আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ আনে ভারত। খালেদার ভারতবিরোধী অবস্থান ছিল বাস্তবমুখী। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯২ সালের তিন বিঘা করিডোর লিজের কথা বলা যায়। এর ফলে ঢাকাকে দহগ্রাম-আঙরপোতা এলাকায় স্থায়ী অ্যাক্সেস দেয়, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে ২০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি এবং নতুন মাদক তস্কর বিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরও তার বাস্তবমুখী নীতি প্রমাণ করে। ২০১২ সালের দিল্লি সফরের পর ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকায় সফরে এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

যাইহোক, চাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০১৬-২০২৪ সালের মধ্যে তার ভারতবিরোধী ভাষণ, সীমান্ত হত্যা এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা, খালেদার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। আগস্ট ২০২৪-এর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বিএনপি সমান ও সম্মানজনক সম্পর্কের জন্য ইঙ্গিত দেয়। যখন তার স্বাস্থ্য অবনতি হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইটে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খবর জেনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তার মৃত্যুর পর তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি ২০১৫ সালে ঢাকায় তার সঙ্গে আমার উষ্ণ সাক্ষাৎ স্মরণ করি।’


‘এক কিংবদন্তি নেত্রীর বিদায়’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব রাজনীতিতে। দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রভাবশালী নেত্রীর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন দেশের মিশন, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এসব বিদেশি মিশন তাদের ফেসবুক পেজে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানায়। শোকবার্তায় তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ত্যাগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

পাকিস্তানের শোক- ‘একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধুকে হারালাম: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং ত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক আবেগঘন বার্তায় খালেদা জিয়াকে ‘পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে খালেদা জিয়ার আজীবন অবদান অবিস্মরণীয়। পাকিস্তান সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আলাদা বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্রদ্ধা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়নে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান সবসময় স্মরণ করা হবে। ২০১৫ সালে ঢাকা সফরের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ‘উষ্ণ সাক্ষাতের’ স্মৃতিচারণ করে মোদি আশা প্রকাশ করেন যে, খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারত্বকে পথ দেখাবে।

চীনের শোক- ‘পুরোনো বন্ধুর বিদায়’: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লি কিয়াং লিখেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন চীনের জনগণের একজন পুরোনো বন্ধু। তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালেই চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চীনের পক্ষ থেকে তার অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন- ‘আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার’: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের দপ্তর তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীর শোকাহত। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার এবং তার প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এ সময়ে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।’

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাস তাদের ফেসবুকে পেজে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্সের দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই শোকের সময়ে ফ্রান্স তার পরিবার, তার দল এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। তার অবদান স্মরণীয় হয়ে কবে।

জার্মানি দূতাবাসের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গত কয়েক দশকে তার সঙ্গে জার্মানির সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে জার্মানি। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশকা ফিশারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের সঙ্গে বৈঠক। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জার্মানির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

ফেসবুক পেজে আরও লেখা হয়েছে, এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তার (খালেদা জিয়া) অবদানকে সম্মান জানাচ্ছে এবং তার পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শান্তিতে বিশ্রাম নিক।

কানাডা হাইকমিশন তাদের ফেসবুকে লিখেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তার মৃত্যুতে তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কানাডা আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার যেন শক্তি ও সান্ত্বনা খুঁজে পায়—এ কামনা করেছে কানাডা।

যুক্তরাজ্যের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই সময়ে তার পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

জাপান দূতাবাস তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া দুবার জাপান সফর করেন এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে মূল্যবান অবদান রাখেন। তার নিষ্ঠা ও উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার আত্মা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিক।

অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন ফেসবুক পেজে লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।

ইরান দূতাবাস খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপির নেতা–কর্মীর প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছে।

শোক বার্তায় বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন বিশিষ্ট জাতীয় নেতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় ছিল।


জাতিসংঘকে ২ বিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ পাবে ১৭ দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশসহ মোট ১৭টি দেশ এই সহায়তা পাবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, ‘ছোট হও, খাও—নাহলে বিলুপ্ত হও।’ খবর এপির

মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে আরও ছোট করে নিতে চাইছে। একইসঙ্গে নতুন আর্থিক বাস্তবতায় সাহায্য দেওয়া সংস্থাগুলিকেও কঠোর বার্তা দিয়ে রেখেছে। মার্কিন প্রশাসন আগে যতটা সাহায্য করত সেই তুলনায় ২ বিলিয়ন ডলার অনেকটাই কম।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এটি একটি উদার অনুদান, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক দাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রাখবে।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ একটি আমব্রেলা ফান্ড (umbrella fund)–এর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট সংস্থা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এটি জাতিসংঘজুড়ে ব্যাপক সংস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পদ্ধতি মানবিক সহায়তাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে অনেক কর্মসূচি ও সেবায় বড় ধরনের কাটছাঁটও হয়েছে।

সংস্কার প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো এমন তহবিল গড়ে তোলা, যেগুলো নির্দিষ্ট কোনো সংকট বা সহায়তা–প্রয়োজনীয় দেশের দিকে সরাসরি পাঠানো যাবে। প্রাথমিকভাবে ১৭টি দেশকে রাখা হয়েছে এই তালিকায়। এরমধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও আছে কঙ্গো, হাইতি, সিরিয়া ও ইউক্রেন।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটাপন্ন দেশগুলোর একটি আফগানিস্তান এই তালিকায় নেই। একইভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনের জন্য সহায়তা আসবে ট্রাম্পের এখনো অসম্পূর্ণ গাজা শান্তি পরিকল্পনা থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই ২ বিলিয়ন ডলার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ-সমর্থিত কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত মানবিক সহায়তার খুবই সামান্য অংশ। একসময় এই সহায়তার পরিমাণ বছরে সর্বোচ্চ ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এর মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ছিল স্বেচ্ছা অনুদান। এ ছাড়া জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার চাঁদা দেয়।

সমালোচকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেরও সহায়তা কমানোর ফলে লাখো মানুষ ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


ইউক্রেনের প্রতি ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া অভিযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। যদিও কিয়েভ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে এই ঘটনায় ইউক্রেনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, মস্কোর আক্রমণ বন্ধ করার আলোচনার মধ্যে এটি সঠিক সময় নয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, আপনি জানেন কে আমাকে এ সম্পর্কে বলেছে? প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি ভোরে আমাকে বলেছেন যে, তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এটি ভালো নয়। ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে অবস্থিত তার বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, এতে খুব ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, এটি একটি নাজুক সময়। এটি সঠিক সময় নয়। আক্রমণাত্মক হওয়া এক জিনিস কারণ তারা আক্রমণাত্মক। কিন্তু তার বাড়িতে আক্রমণ করা অন্য জিনিস। এটি কোনো কিছু করার সঠিক সময় নয়।

এদিকে পুতিনের বাসভবনে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালায়নি এবং মস্কো শান্তি আলোচনাকে ব্যহত করার চেষ্টা করছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন, কিয়েভ রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে ৯১টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, তারা এখন শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করবে। তবে ওই হামলার সময় পুতিন কোথায় ছিলেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জেলেনস্কি এই দাবিকে ‌‘রাশিয়ার মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ইউক্রেনের ওপর ক্রেমলিনের আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেওয়ার জন্যই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত সোমবার টেলিগ্রামে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে ল্যাভরভ বলেছেন, পুতিনের বাসভবনে যে ৯১টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল তার সবগুলোই রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আটকানো এবং ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার খবরে মোদির উদ্বেগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে মোদি বলেন, রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের বাসভবনকে লক্ষ্যবস্তু করার খবর নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকর পথ। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এসব প্রচেষ্টার ওপর মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানাই।

রাশিয়া অভিযোগ করেছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। কিন্তু মস্কোর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ। রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালায়নি এবং মস্কো শান্তি আলোচনাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন, কিয়েভ রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে ৯১টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, তারা এখন শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করবে। তবে ওই হামলার সময় পুতিন কোথায় ছিলেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জেলেনস্কি এই দাবিকে ‌‘রাশিয়ার মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ইউক্রেনের ওপর ক্রেমলিনের আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেওয়ার জন্যই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া এর আগে কিয়েভের সরকারি ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। জেলেনস্কি এক্সে এক পোস্টে বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে বিশ্ব এখন চুপ করে থাকবে না। আমরা রাশিয়াকে স্থায়ী শান্তি অর্জনের কাজকে দুর্বল করার অনুমতি দিতে পারি না।

গত সোমবার টেলিগ্রামে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে ল্যাভরভ বলেছেন, পুতিনের বাসভবনে যে ৯১টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল তার সবগুলোই রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আটকানো এবং ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, রাশিয়ার আমেরিকার সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসার কোনো ইচ্ছা নেই।


মিয়ানমারের পাতানো নির্বাচনে সেনাসমর্থিত দলের জয়ের দাবি

আপডেটেড ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর মিয়ানমারে গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল ভোটের বিজয়ের দাবি করেছে দেশটির জান্তাপন্থি রাজনেতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)।

সোমবার দলটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের দাবি করেছেন।

এর আগে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ওই ‘পাতানো’ নির্বাচন সামরিক শাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।

২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ক্ষমতায় আসার চার বছরের বেশি সময় পর দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় সামরিক জান্তা।

তিন ধাপে মাসব্যাপী এই নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার (২৮ ডিসেম্বর)। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সামরিক বাহিনী।

ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) জ্যেষ্ঠ ওই সদস্য এএফপিকে বলেছেন, ‌‌যেসব শহরে ভোট গণনা শেষ হয়েছে, সেখানকার নিম্নকক্ষের মোট ১০২টি আসনের মধ্যে আমরা ৮২টিতে জয়ী হয়েছি।

তার এই হিসাব অনুযায়ী, রোববার নিম্নকক্ষের যেসব আসনে ভোট হয়েছে, তার ৮০ শতাংশের বেশি আসনই পেয়েছে দলটি। ইউএসডিপিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বেসামরিক প্রক্সি দল হিসেবে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, রাজধানী নেপিদোর আটটি শহরের সবগুলোতেই ইউএসডিপি জয়ী হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের অনুমতি না থাকায় নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) কাছে ইউএসডিপির ভরাডুবি ঘটেছিল। অভ্যুত্থানের পর এনএলডি বিলুপ্ত ঘোষণা করে জান্তা এবং রোববারের ব্যালটে দলটির নাম ছিল না।

নোবেলজয়ী অং সান সু চি অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক রয়েছেন। অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিয়ানমারের এই একতরফা নির্বাচনের নিন্দা জানিয়েছেন।

তারা বিরোধী মত দমনে কঠোর দমন-পীড়ন ও প্রার্থীদের তালিকায় সামরিক বাহিনীর মিত্ররা জায়গা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ থিঙ্কট্যাংকের গবেষণা ফেলো মর্গান মাইকেলস বলেন, নির্বাচনে ইউএসডিপির আধিপত্য বিস্তার করাটা স্বাভাবিকই মনে হয়।

এএফপিকে তিনি বলেন, এই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়। আগেভাগেই জান্তা নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন কারচুপি করে, বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ, কিছু মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রেখে অথবা ভোট দিতে এলে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোটদানে বাধ্য করছেন।

মিয়ানমারের ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল এখনো প্রকাশ করেনি। আরও দুই ধাপে আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা মিন খান্ত বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার—আমি এই পাতানো নির্বাচনকে একেবারেই বিশ্বাস করি না।

২৮ বছর বয়সি ওই তরুণ বলেন, আমরা একনায়কতন্ত্রের অধীনে বাস করছি। তারা নির্বাচন করলেও ভালো কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ তারা সব সময়ই মিথ্যা বলে।

রোববার ভোট দেওয়ার পর সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে, কারণ তারা ক্ষমতা বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে তুলে দেবে। গত পাঁচ বছর ধরে মিয়ানমার শাসন করে আসছেন এই জান্তা।

নেপিদোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এই নির্বাচন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয়েছে, আমরা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারি না।

দেশটির ৩৩০টি শহরের মধ্যে ১০২টিতে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা তিন ধাপের ভোটের মধ্যে সবচেয়ে বড় পর্ব। তবে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে নিম্নকক্ষের প্রায় প্রতি পাঁচটির একটি আসনে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে জান্তা সরকার স্বীকার করেছে।


বিশ্বের প্রথম লেজার সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন বিম’ চালু ইসরায়েলে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবশেষে যেন সায়েন্স ফিকশন বই বা স্টার ওয়ার্সের কল্পকাহিনী বাস্তবে রূপ নিল। প্রথম ইসরায়েল আকাশ পথে আসা যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিহত করতে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। আয়রন ডোমের আদলে নতুন এই লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়রন বিম’। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এই লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূলে আছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন দপ্তর এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা খাতের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান রাফায়েল (রাফাল যুদ্ধবিমানখ্যাত ফরাসি দসল্ট রাফাল নয়)।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই দপ্তর ও রাফায়েলের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাহিনীর হাতে লেজার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণভার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেন, ‘বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি উচ্চ ক্ষমতার লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি সাফল্যের সঙ্গে বেশ কয়েকটি হামলা প্রতিহত করতে পেরেছে।’ এই পর্বতসম অর্জন আমাদের কাছের ও দুরের শত্রুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন না। ছুঁড়লে পরিণাম ভয়ংকর হবে’, বলেন ক্যাটজ।

প্রায় এক দশক ধরে এই প্রকল্পের কাজ চলছিল। এই অর্জনকে বিশ্লেষকরা বড় ধরনের মাইলফলকের আখ্যা দিয়েছেন।

রাফায়েলের চেয়ারম্যান ইউভাল স্টেনিৎজ বলেন, ‘বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েলের হাতে এখন আকাশ পথে আসা যেকোনো ধরনের হামলা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার একটি কার্যকর লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। এটা রকেট ও মিসাইলও ঠেকাতে সক্ষম।’

এটি ইসরায়েলের সুপরিচিত আয়রন ডোম ও ডেভিডেস স্লিং ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশটিকে সুরক্ষা দেবে। লেজার ব্যবস্থা প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে সাশ্রয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয়রন ডোমের মাধ্যমে ছোট পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া যায়। ডেভিলেস স্লিং ও কয়েক প্রজন্মের অ্যারো মিসাইল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্য যেকোনো ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা।

ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, লেজার ব্যবস্থার কাজ শেষ হয়েছে এবং মাসের শেষ নাগাদ এটি মোতায়েন করা হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা দৃশ্যমান হয়। তেহরান থেকে ছুটে আসা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থাকে কাঁচকলা দেখিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হানে।

ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, ওই যুদ্ধে ৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করেছে এবং এতে ২৮ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন।


banner close