শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১ ফাল্গুন ১৪৩২

দেশে দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:১২

ভাষাশহীদদের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেসকো স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৯৯ সালে। সেই থেকে এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে গণমাধ্যমগুলোতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ভারতের কোলকাতা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দিবসটি পালনের খবর পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে মাতৃভাষা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটের সঙ্গে মিল রেখে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টায় ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

গতকাল বুধবার ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানিয়েছে বাসস। এতে বলা হয়, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশ্বজিত সাহার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশের ভাষাশহীদদের আত্মদানের বিনিময়ে আজ পৃথিবীব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাসহ পৃথিবীর অন্যান্য ভাষা সংরক্ষণ এবং উত্তরণে আমাদের সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখতে হবে’। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে গত ৩৩ বছর ধরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ভাষা দিবস পালনের গৌরবময় অধ্যায়ের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।

এ ছাড়া নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, প্রজন্ম একাত্তরের সভাপতি শিবলী ছাদিক এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার বক্তৃতা করেন।

এর আগে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বঙ্গমাতা পরিষদ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, প্রজন্ম ৭১, জ্যাকসন হাইটস মহানগর আওয়ামী লীগ, যুব লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জগন্নাথ হল এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, গাইবান্ধা সোসাইটি ইনক ও প্রবাসী মতলব সমিতি। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ এ সময় দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

কলকাতা

যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভারতের কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এই উপলক্ষে বুধবার কলকাতা বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ রাখা হয়।

সকালে কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে এক সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের হয়। হাতে বর্ণিল পোস্টার, ফুলের মালাসহ এই প্রভাতফেরিতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গান গেয়ে প্রভাতফেরি কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপহাইকমিশন প্রাঙ্গণে।

এরপর মিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সালাম-বরকত-জব্বারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপ -হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) শামসুল আরীফ, প্রথম সচিব (ভিসা) আলমাস হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে মিশন প্রাঙ্গণে মুজিব মঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। উপহাইকমিশনার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আলাদা আলাদাভাবে শহীদ বেদিতে ফুল দিয় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয় ইন্দো বাংলা প্রেস ক্লাব, কলকাতা প্রেসক্লাব, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি, বাংলাদেশ বিমান সোনালি ব্যাংকের তরফ থেকে। পরে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে।

এদিন বিকালে মিশন প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতাস্থ বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলা আমার তৃষ্ণার জল’।

বিকালে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

দিবস উপলক্ষে সোমবার রাতব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হওয়া রাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবে নাটক, বাউল, লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পীরাও যোগদান করেন। বুধবার সকালে প্রভাত ফেরির মধ্য দিয়ে সেই অনুষ্ঠানের শেষ হয়।

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্যতম স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে বনগাঁ পৌরসভার উদ্যোগে পেট্রাপোল বন্দরসংলগ্ন এলাকায় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন দুদেশের প্রতিনিধি ও ভাষাপ্রেমীরা।
শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও ভারত ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের অন্য ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে বাংলা গান গেয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে অংশ নেন।

বিশেষ এই দিনটিকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলোতে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় ‘অমর একুশে’। এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তরফে বিশেষ মর্যাদায় বিশেষ দিনটি পালন করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া

নয় দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

গত মঙ্গলবার দেশটির কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার টেলরস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সহযোগিতায় ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে বহুভাষিকতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।

খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেইলর’স বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্র্যান্ড হলে’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, প্যানেল আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং নয়টি দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ধারণ করা বক্তব্য প্রচার করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তব্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মরণে বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আয়োজিত ভিন্নমাত্রিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন সারা বিশ্বে ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাসহ শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করি।’

অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সভায় অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, পরিচালক, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, বাংলাদেশ এবং মিসেস মাকি কাতসুনো-হায়াশিকাওয়া, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইউনেসকো আঞ্চলিক অফিস, জাকার্তার ধারণরা বক্তব্য প্রচারিত হয়।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. অনিন্দিতা দাশগুপ্ত, বিভাগীয় প্রধান-স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, টেলরস ইউনিভার্সিটি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অফ ফিউচার ইন এডুকেশন অ্যান্ড সোসাইটির (এপিজেএফইএস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড. কালাই ভানি রাজন্দ্রাম এবং স্যার এম বিশ্বেশ্বরায়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ব্যাঙ্গালোরের শিক্ষক গৌথম কুমার। এ সময়, আলোচকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে সবার ঐক্যের চেতনার কথা বলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। গতকাল দিবসের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেসকোর প্রতিনিধিগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে, দূতাবাসে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত মো. তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষা আন্দোলনের সব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত মাতৃভাষা লালনের গুরুত্ব এবং জাতি গঠনে মাতৃভাষার মূল্যের ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাকার্তায় বসবাসরত শিশু-কিশোররা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।


আসন্ন রমজানে মুসল্লিদের নামাজ আদায় নিয়ে শঙ্কা, নিষিদ্ধ তরুণরা

আল-আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মুসলিমদের কাছে তৃতীয় সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান ফিলিস্তিনের ‘আল-আকসা’ মসজিদ। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে এই আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ আরও সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এতে ধর্মপ্রাণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ইকরিম সাবরি।

রমজান শুরুর প্রাক্কালে শায়খ সাবেরি বলেছেন, ইসরায়েলি প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত দুঃখজনক। আল-আকসা ইস্যুতে কঠোর নীতি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল আভসালোম পেলেদ এর নিয়োগ এমনি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি ‘দৈনিক হারেৎজ’ এ বিষয়ে লিখেছে, ‘মনে হচ্ছে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে যা করার সবই করছেন বেন-গাভির।’

মুফতি সাবেরি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তরুণদেরকে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য রমজানে কোনো বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কমে যেতে পারে।

সম্প্রতি পূর্ব জেরুজালেমের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার বিরুদ্ধেও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ। এছাড়া, পূর্ব জেরুজালেমে বিশেষ করে আল-আকসার আশপাশে ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে বাড়িঘর ভাঙার ঘটনাও বাড়ছে।

প্রতি বছর রমজানে শুধু আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পশ্চিম তীর থেকে বহু ফিলিস্তিনি মুসলিম পূর্ব জেরুজালেমে আসে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিক চেকপোস্টগুলোতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে জেরুজালেমে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

শায়খ সাবরি বলেন, ‘মুসলমানরা মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহ অনুসারে আশাবাদ নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানায়। কিন্তু জেরুজালেমের ক্ষেত্রে দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসায় আগত মুসল্লিদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

গত দুই বছরে অল্পসংখ্যক মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর বিশেষ অনুমতি পেয়েছিলেন। এ বছর রমজান উপলক্ষে এমন কোনো বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণাও দেওয়া হয়নি।

২০০৩ সাল থেকে স্থানীয় পুলিশ একতরফাভাবে ইসরায়েলি চরমপন্থীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে আসছে, যদিও ইসলামিক ওয়াক্‌ফ বিভাগ বারবার তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

এমন অবস্থায়, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর জনগণ ও নেতাদের প্রতি জেরুজালেম ও আল-আকসা ইস্যুতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন মুফতি শায়খ ইকরিম সাবরি।


ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে হয় সমঝোতা, নয়তো ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’ এর মতো সামরিক অভিযান চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এই হুমকি দেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় সামনের মাসের মাঝামাঝিতেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নয়তো যা ঘটবে তা হবে খুব ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি করতেই হবে ও এক্ষেত্রে ইরানকে এগিয়ে আসতে হবে। যদি তারা না এগোয় তাহলে ফের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার শুরু হবে ও এবার এই অপারেশন হবে আরও ভয়াবহ।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়েই তেহরানের বিরুদ্ধে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও এখনো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই।

এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ইরান সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করলে ট্রাম্প দেশটিতে সামরিক অভিযানের হুমকি দেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হয়ে যাওয়ার পর হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন ট্রাম্প।

কিন্তু একই সময়ে, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিনিধি দল, যার প্রধান ইস্যু ছিল ইরানের পরমাণু প্রকল্প। এ বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।


দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন ইমরান খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশই হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তির মাত্র ১৫ শতাংশ টিকে আছে।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া এক মেডিকেল প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে নিজের আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করেছিলেন ইমরান। সেই পিটিশন আমলে নিয়ে আদিয়ালা কারাগারে মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। মেডিকেল টিমের সঙ্গে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের প্রতিনিধি) হিসেবে সালমান সাফদারও ছিলেন। কারাগারে মেডিকেল টিম ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পিটিশনার (ইমরান খান) রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যা জানানোর পর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেই চিকিৎসা শুরুর পর থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, মাত্র ১৫ শতাংশ টিকে আছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান সাধারণত নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়ে অতীতে কখনও কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাননি। তবে দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকার শুরুর দিনগুলোতে তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ব্যাপারটি অবহিত করেছিলেন; কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ আমলে নেয়নি। গত অক্টোবর থেকে ইমরানের চোখের সমস্যা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সালমান সাফদার প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। যখন আমাদের সঙ্গে তিনি কথা বলছিলেন, বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছছিলেন তিনি।’

সালমান সাফদার আরও জানিয়েছেন, কারাগারে ইমরানকে নিজের আইনজীবী এবং পরিবারের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ-কথাবার্তার অনুমতি দিয়েছেন— কিন্তু ইমরান খান আমাদের অভিযোগ করেছেন যে তাকে আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ- কথাবার্তার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, কিংবদন্তী ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের শীর্ষ নির্বাহীর পদে কে আরোহন করবেন— তা নিয়ে সেনবাহিনীর সঙ্গে দন্দ্বের জেরে সংকটে পড়েন তিনি। পরে ২০২২ সালের পার্লামেন্টের বিরোধী সদস্যদের অনাস্থাভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।

এদিকে ক্ষমতা হারানোর পরপরই একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। সেসব মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে আছেন তিনি।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের খবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট, যার ফলে দলটির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে। ঘোষিত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১৩টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং এই ভূমিধস বিজয়ের সংবাদটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু করা তাদের ‘লাইভ নিউজ’ প্রতিবেদনে ‘২১১ আসনে জয়, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত বিএনপি ও জোটের’ শিরোনামে উল্লেখ করেছে যে, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয় যে জামায়াতে ইসলামী জোট ৭০টি আসন পেয়েছে এবং অন্যান্য দলগুলোর ঝুলিতে গেছে ছয়টি আসন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বিএনপির এই সাফল্যকে ২০০১ সালের ১৯৩ আসনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া অন্যতম বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী এই প্রথম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জানিয়েছে যে, বিশাল জয়ের পর বিএনপি কোনো প্রকার আনন্দ মিছিল বা সমাবেশের পরিবর্তে দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশের বিভিন্ন মসজিদে "সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হবে।" উল্লেখ্য যে, বিএনপির দীর্ঘদিনের নেত্রী খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন তাদের বিশ্লেষণে বলেছে যে, ‘জেন-জি’ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির বিপুল জয় দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বিএনপির এই বিজয়কে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বিএনপি ১৫০ আসনের সীমা অতিক্রম করে সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপি নিজেদের বিজয় দাবি করে জানিয়েছে যে, অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়ে তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


শ্রীলঙ্কায় গণঅভ্যুত্থানে সংসদ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় এক সংসদ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির এক আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির একটি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওই সাজা ঘোষণা করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তাম্বুয়া শহরে ৫৭ বছর বয়সি আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি আটকে দেয় বিক্ষোভরত জনতা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। পরে জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার হন তিনি।

আথুকোরালা একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও জনতা তাকে ঘিরে ফেলে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। তার দেহরক্ষীকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

২০২২ সালের মে মাসে দেশজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে দেশটি তখন প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয়ও বহন করতে পারছিল না।

গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আথুকোরালার মামলায় অভিযুক্ত আরও ২৩ জনকে খালাস দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যাবে।

১৯৭৬ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবে গুরুতর অপরাধে আদালত নিয়মিতভাবে দণ্ডিতদের ফাঁসির আদেশ দিয়ে থাকে।

২০২২ সালের বিক্ষোভের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সমর্থকরা কলম্বোয় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করে। এই ঘটনার জেরে দেশটির সরকারি দলের অন্তত ৭৫ আইনপ্রণেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

পরে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা ও তার ভাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন।

২০২২ সালের এপ্রিলে দেশটির সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ওই বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে রাজাপাকসের উত্তরসূরি রনিল বিক্রমাসিংহে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিক্রমাসিংহে বামপন্থি অনুরা কুমারা দিশানায়েকের কাছে পরাজিত হন। দিশানায়েকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যয় কমানোর নীতি বজায় রেখে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলেছেন।


‘সৌদির পরমাণু অস্ত্র আছে, যুক্তরাষ্ট্র সেটা জানে’

সৌদির সমরাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ ব্যাপারে অবগত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামী রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার হুসেইন কানানি।

গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিস্ফোরক দাবি করেন।

হুসেইন কানানি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি, সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবগত। এমনকি ইসরায়েলও এই ব্যাপারটি জানে।’

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কথা টেনে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আড়াল থেকে সব রকমভাবে বিক্ষোভ জারি রাখতে সহায়তা করেছে।’

কানানি আরও বলেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) লক্ষ্য শুধু ইরানের সরকার পতন নয়, বরং ইরানকে পুরোপুরি ভেঙেচুরে ফেলা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া।’

প্রায় দুই যুগ ধরে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চলছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই।

গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে সরকার কঠোর হাতে আন্দোলন দমন করে। নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে দুদেশের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজপ্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে, যা ইরানের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। কারণ, গত জুন মাসেও এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল এবং পরে তাতে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এবার ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের আগমনের পরদিনই হরমুজপ্রণালী এলাকায় সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান। ওই এলাকার আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা করে— তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।

আইআরজিসি এই বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েনের করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে হুসেইন কানানি দাবি করেছেন, যুদ্ধ যদি বেঁধেই যায়, তাহলে প্রাথমিকভাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে না ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

তিনি বলেছেন, ‘যদি ওয়াশিংটন হামলা করে, তাহলে সম্ভবত প্রথম পর্যায়ে তেহরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে না। তার চেয়ে বরং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।’

কানানি যুক্তরাষ্ট্র কটাক্ষ করে আরও বলেন, ‘তারা আসলে মুরগির খেলা খেলছে। তারা জানে না যে এই খেলায় ইরান তাদের চেয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে আছে।’


পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের বিষয়ে নতুন তথ্য দিলেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সংঘাতের সময় মোট ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। এর আগে তিনি এই সংখ্যাটি কম বলেছিলেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে বাণিজ্য নীতি ও শুল্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি সমাধান হয়েছে শুল্ক আরোপের হুমকির কারণে।

তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা যুদ্ধ বন্ধ না করো, তাহলে আমি শুল্ক আরোপ করবো। কারণ আমি মানুষকে মরতে দেখতে চাই না।

পাকিস্তান ও ভারতের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমার মতে, এটি পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারত। তারা সত্যিই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল। দশটি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল।

এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, এই সংঘাতে পাঁচটি, পরে সাতটি এবং এরপর আটটি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। এবার তিনি সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ বললেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নাকি তাকে বলেছেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে অন্তত এক কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমার মতে, তারা পারমাণবিক যুদ্ধের দিকেই যাচ্ছিল। শুল্কের চাপ না থাকলে এই যুদ্ধবিরতি হতো না।

এছাড়া তিনি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের দীর্ঘদিনের সংঘাত কমাতে নিজের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সব প্রেসিডেন্ট বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যর্থ ছিলেন, কিন্তু তিনি নন।


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সৈন্য। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সম্প্রতি ইসরায়েলের দখলদারি কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা এবং পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দুই ডজনেরও বেশি রাষ্ট্রদূত।

এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ কার্যত দখলকৃত পশ্চিম তীরে ডি ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ (বাস্তবিক অর্থে একতরফা অন্তর্ভুক্তি) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের পরিপন্থি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে।

তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের স্থিতাবস্থা রক্ষা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি দখলকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার (অ্যানেক্সেশন) বিপক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি যে পদক্ষেপগুলো অনুমোদন করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, আমি সংযুক্তির বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের ভাবার মতো যথেষ্ট বিষয় আছে। পশ্চিম তীর নিয়ে নতুন করে ঝামেলায় জড়ানোর প্রয়োজন নেই। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ।

ইইউ’র পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস এসব সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা বলে অভিহিত করেছে। রোববার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ অনুমোদন করে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—পশ্চিম তীরে ব্যক্তিগত ইসরায়েলিদের কাছে জমি বিক্রি নিষিদ্ধকারী আইন বাতিল, জমির মালিকানার নথি উন্মুক্ত করা, হেবরনের কাছে একটি বসতি এলাকায় নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা ফিলিস্তিনি পৌরসভা থেকে ইসরায়েলের সিভিল প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া।

পশ্চিম তীর প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মনোভাব

অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ার পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। সোমবার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হোয়াইট হাউসের এই কর্মকর্তার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার পক্ষে নন।

‘একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখে এবং ওই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,’ বলা হয় বিবৃতিতে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করার পরদিন হোয়াইট হাউজের এই মন্তব্য এল।

তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তার বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই নতুন পদক্ষেপের সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি কিংবা এমনকি এ বিষয়টি উল্লেখও করা হয়নি। ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন পদক্ষেপগুলোর ফলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনা সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।

ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং জর্ডান, এই আটটি মুসলিম প্রধান দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

দেশগুলো এই পদক্ষেপকে অবৈধ এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে উচ্ছেদ করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।

তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা থেকে আমাদের আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে বর্ণনা করেছে। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে। স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও পৃথকভাবে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিতর্কিত এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে হেবরন শহরে ভবন নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইসরায়েলের হাতে নেওয়া।

এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম তীরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, বেথলেহেমের কাছে রাহেলের সমাধি এবং হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদের (কেভ অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস) ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

ইইউ মুখপাত্র আনোয়ার এল আনোনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এটি আরও একটি ভুল পদক্ষেপ।’ স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এই ধরণের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নতুন করে সহিংসতার সৃষ্টি করতে পারে।

গাজায় ৮ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের শেষ দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজায় সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ইন্দোনেশিয়াই প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করল।

ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য মিশনের জন্য সেনাদের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, গাজায় মোতায়েন হলে ইন্দোনেশীয় সেনারা মূলত চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রকৌশলসংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করবে, সরাসরি যুদ্ধ কার্যক্রমে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গঠিত শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এই উদ্যোগের আওতায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এই বাহিনী গাজার সীমান্ত নিরাপত্তা, অঞ্চলটির অসামরিকীকরণ এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে।


মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

মাসুদ পেজেশকিয়ান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবে না তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রেক্ষাপটে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এই মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান অতিরিক্ত দাবির কাছে মাথা নত করবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ইরান কোনো আগ্রাসনের সামনে নতি স্বীকার করবে না। তবে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পূর্ণ শক্তি দিয়ে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ না হলে ইরানকে ‌‘খুব কঠিন কিছু’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরমাণু সমৃদ্ধকরণ থেকে শুরু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে তেহরান যদি তার দাবি মেনে না নেয়, তাহলে ইরানকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, নয়তো আমাদের খুব কঠোর কিছু করতে হবে।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার ফলাফল নিয়ে আলোচনা করার জন্য ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বৃদ্ধির কথা বলেছেন, কাছাকাছি জলসীমায় একটি বিশাল বহর পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।


৫ লক্ষাধিক নথিবিহীন অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন

স্পেনে অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্পেনে অনিয়মিত বা বৈধ নথিবিহীন অবস্থায় থাকা পাঁচ লাখের বেশি অভিবাসীকে নিয়মিতকরণের ঘোষণা দিয়েছে স্পেনের সরকার। এতে স্বস্তি ফিরেছে বহু অভিবাসীর।

তারা এখন আবেদনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী এপ্রিল থেকে এই ডিক্রির অধীনে আবেদন গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে।

গত ২৭ জানুয়ারি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট জোট সরকার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে একটি যুগান্তকারী রয়্যাল ডিক্রি অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে বৈধতার আওতায় আনার পথ খুলে যায়।

ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন নিয়মিতকরণের ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস এবং সর্বশেষ পর্তুগালে এ ধরনের উদ্যোগ দেখা গেলেও বর্তমানে ইউরোপজুড়ে নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া কঠোর শর্তে সীমাবদ্ধ।

ইউরোপের অনেক দেশে যখন অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তখন স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘স্পেন মর্যাদা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ের পথেই এগোচ্ছে।’

গত সপ্তাহান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ৪৬ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় ইংরেজিতে বক্তব্য দেন সানচেজ। সেখানে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন আমরা স্রোতের বিপরীতে যাচ্ছি। কিন্তু অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া কবে থেকে চরমপন্থা হয়ে গেল? আর সহানুভূতি কবে থেকে ব্যতিক্রমী বিষয় হলো?’

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই ডিক্রির মাধ্যমে যেসব মানুষ ইতোমধ্যে স্পেনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য বসবাসের একটি সুশৃঙ্খল ও আইনি পথ তৈরি হবে৷

সানচেজ বলেন, ‘এই লোকজনরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তারা বাজারে, গণপরিবহণে, স্কুলে সবখানে অংশ নেয়। তারা আমাদের বাবা-মায়ের দেখভাল করেন, মাঠে কাজ করেন এবং আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখেন।’

এই নিয়মিতকরণের প্রস্তাবের পেছনে ছিল একটি নাগরিক উদ্যোগ, যেখানে সাত লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ক্যাথলিক চার্চের বড় একটি অংশ এবং প্রায় নয়শটি সামাজিক সংগঠন এতে সমর্থন জানিয়েছে। ২০২৪ সালে সংসদে উত্থাপনের পর এটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলেও সম্প্রতি বামপন্থি পোদেমোস দলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পথে এগোয়।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই সানচেজকে অভিবাসন ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানের কারণে ‘অ্যান্টি-ট্রাম্প” হিসেবে আখ্যা দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় রাজনীতির চাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও তার অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

দক্ষিণ এশীয়দের প্রস্তুতি

স্পেনের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দেখা গেছে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে। পর্তুগালে নতুন নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় গত এক বছরে অনেক অনিয়মিত অভিবাসী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন৷ ফলে স্পেনের ঘোষণা তাদের জন্য নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে।

ইতোমধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিজ নিজ কনস্যুলেটের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। নিয়মিতকরণের আবেদনের জন্য পাসপোর্ট, নিজ দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ হালনাগাদ নাগরিক নথি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

এদিকে মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পরিস্থিতিকে বিশেষ হিসেবে বিবেচনা করে বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন শহরে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই ধরনের তৎপরতা ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

এই নিয়মিতকরণ মূলত তাদের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্রের অভাবে শ্রমশোষণ ও মৌলিক অধিকার বঞ্চনার শিকার হচ্ছিলেন।

সরকারি ডিক্রি অনুযায়ী, নিয়মিতকরণের আওতায় আসতে হলে আবেদনকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং আবেদনের সময় অন্তত টানা পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। স্পেন বা অন্য কোনো দেশে ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করে বর্তমানে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীরাও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। পাশাপাশি যাদের বৈধতা দেওয়া হবে, তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও সরাসরি পাঁচ বছরের বৈধ রেসিডেন্স পারমিট পাবেন।

নিয়মিতকরণ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশভিত্তিক বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপে প্রশ্নোত্তর ও তথ্য বিনিময় বাড়ছে। তবে ভাষাগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান আইনি সহায়তা ও ভাষা প্রশিক্ষণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কমিউনিটি সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘বৈধতা বিষয়ক ডিক্রি জারির পর এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা এক টাকার কাজের জন্য কয়েক গুণ পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। যেখানে একটি বাংলাদেশি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিজে আবেদন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে এর জন্য ২৫০ ইউরো পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।’


স্কুলে গোলাগুলি: ইউরোপ সফর বাতিল করলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের একটি হাই স্কুলে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পর শোকাতুর দেশবাসীর পাশে থাকতে নিজের পূর্বপরিকল্পিত ইউরোপ সফর বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার পশ্চিমাঞ্চলের টাম্বলার রিজ নামক একটি প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এএফপিকে জানানো হয়েছে যে, দেশের এমন সংকটকালীন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। এই ঘটনায় পুরো কানাডা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এই প্রাণঘাতী হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, বন্দুকধারীসহ মোট ১০ জন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। কানাডার সিবিসি পাবলিক ব্রডকাস্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলের ভেতরেই ছয়জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া স্কুলের বাইরে আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যাদের মৃত্যুও একই বন্দুকধারীর গুলিতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, হামলাকারী ব্যক্তি নিজের অস্ত্রের গুলিতেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের এই প্রত্যন্ত জনপদে এমন সহিংসতা নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আরসিএমপি জানিয়েছে, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে ‘সক্রিয় বন্দুকধারীরা’ অতর্কিতে হামলা চালালে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক সংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দেশের ভেতরে এমন ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার চেয়ে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করাকেই প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে হামলার পেছনের মোটিভ বা কারণ উদ্ঘাটন করা যায়। কানাডার মতো শান্ত দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে স্তম্ভিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মার্ক কার্নি দেশেই অবস্থান করবেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিহতদের স্মরণে কানাডার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ মোমবাতি প্রজ্বলন ও শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


কানাডায় স্কুলে বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলা: হামলাকারীসহ নিহত ১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় একটি হাইস্কুল ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এক বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

আরসিএমপি সূত্রে জানা গেছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ কলম্বিয়ার টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল। বন্দুকধারী প্রথমে স্কুলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করলে ঘটনাস্থলেই ৬ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরও ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বাকি ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হামলাকারী বন্দুকধারীর মরদেহও ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে আরসিএমপি ধারণা করছে, হামলা চালানোর পর ওই ব্যক্তি নিজের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া স্কুলের নিকটবর্তী একটি বাড়ি থেকে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মৃত্যুর সঙ্গে স্কুলের এই হামলার গভীর যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পুলিশ ওই এলাকার অন্যান্য ঘরবাড়ি ও স্থাপনাগুলোতেও বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এখন পর্যন্ত হামলাকারীর নাম-পরিচয় বা কেন এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি কানাডীয় পুলিশ। তবে হামলার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল ও এর আশপাশে জারি করা জরুরি সতর্কতা মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত এই স্কুলটিতে মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। এই শোকাবহ ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাটি কানাডার জননিরাপত্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করছে ইন্দোনেশিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে ৮ হাজার সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সেনাবাহিনী এই বিশাল সংখ্যক সেনার তালিকা ও নিবন্ধন সম্পন্ন করে বর্তমানে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এই সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে গাজায় শান্তি ফেরাতে কার্যকর ও সরাসরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। গাজায় মোতায়েনের জন্য সেনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও তাদের যাত্রার চূড়ান্ত সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি। এ বিষয়ে তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।

গাজায় এই সেনা মোতায়েন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল এবং গাজা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ)। ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনী মূলত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবেই গাজায় অবস্থান করবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ নামক একটি আন্তঃদেশীয় পরিষদ। গাজার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী এই পরিষদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। গাজার পুনর্গঠন কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য এই পরিষদের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে ১০০ কোটি ডলার করে চাঁদা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো রাষ্ট্রগুলোও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এই বোর্ডের প্রথম সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গাজায় এই শান্তি মিশন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মহলে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে সমালোচনার মুখে পড়তে হলেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইন্দোনেশিয়ার নৈতিক দায়িত্ব। ইসরায়েলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ এবং খান ইউনিসের মাঝামাঝি একটি এলাকায় ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর জন্য ব্যারাক নির্মাণের জায়গা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ইন্দোনেশিয়ার এই সাহসী উদ্যোগকে গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি গাজায় দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।


banner close