ভাষাশহীদদের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেসকো স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৯৯ সালে। সেই থেকে এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে গণমাধ্যমগুলোতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ভারতের কোলকাতা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দিবসটি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে মাতৃভাষা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটের সঙ্গে মিল রেখে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টায় ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
গতকাল বুধবার ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানিয়েছে বাসস। এতে বলা হয়, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশ্বজিত সাহার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশের ভাষাশহীদদের আত্মদানের বিনিময়ে আজ পৃথিবীব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাসহ পৃথিবীর অন্যান্য ভাষা সংরক্ষণ এবং উত্তরণে আমাদের সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখতে হবে’। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে গত ৩৩ বছর ধরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ভাষা দিবস পালনের গৌরবময় অধ্যায়ের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।
এ ছাড়া নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, প্রজন্ম একাত্তরের সভাপতি শিবলী ছাদিক এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার বক্তৃতা করেন।
এর আগে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বঙ্গমাতা পরিষদ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, প্রজন্ম ৭১, জ্যাকসন হাইটস মহানগর আওয়ামী লীগ, যুব লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জগন্নাথ হল এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, গাইবান্ধা সোসাইটি ইনক ও প্রবাসী মতলব সমিতি। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ এ সময় দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
কলকাতা
যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভারতের কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এই উপলক্ষে বুধবার কলকাতা বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ রাখা হয়।
সকালে কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে এক সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের হয়। হাতে বর্ণিল পোস্টার, ফুলের মালাসহ এই প্রভাতফেরিতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গান গেয়ে প্রভাতফেরি কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপহাইকমিশন প্রাঙ্গণে।
এরপর মিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সালাম-বরকত-জব্বারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপ -হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) শামসুল আরীফ, প্রথম সচিব (ভিসা) আলমাস হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে মিশন প্রাঙ্গণে মুজিব মঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। উপহাইকমিশনার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আলাদা আলাদাভাবে শহীদ বেদিতে ফুল দিয় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয় ইন্দো বাংলা প্রেস ক্লাব, কলকাতা প্রেসক্লাব, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি, বাংলাদেশ বিমান সোনালি ব্যাংকের তরফ থেকে। পরে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে।
এদিন বিকালে মিশন প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতাস্থ বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলা আমার তৃষ্ণার জল’।
বিকালে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দিবস উপলক্ষে সোমবার রাতব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হওয়া রাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবে নাটক, বাউল, লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পীরাও যোগদান করেন। বুধবার সকালে প্রভাত ফেরির মধ্য দিয়ে সেই অনুষ্ঠানের শেষ হয়।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্যতম স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে বনগাঁ পৌরসভার উদ্যোগে পেট্রাপোল বন্দরসংলগ্ন এলাকায় ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন দুদেশের প্রতিনিধি ও ভাষাপ্রেমীরা।
শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও ভারত ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের অন্য ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে বাংলা গান গেয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে অংশ নেন।
বিশেষ এই দিনটিকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলোতে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় ‘অমর একুশে’। এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তরফে বিশেষ মর্যাদায় বিশেষ দিনটি পালন করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া
নয় দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
গত মঙ্গলবার দেশটির কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার টেলরস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সহযোগিতায় ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে বহুভাষিকতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।
খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেইলর’স বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্র্যান্ড হলে’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, প্যানেল আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং নয়টি দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ধারণ করা বক্তব্য প্রচার করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তব্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মরণে বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আয়োজিত ভিন্নমাত্রিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন সারা বিশ্বে ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাসহ শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করি।’
অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সভায় অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, পরিচালক, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, বাংলাদেশ এবং মিসেস মাকি কাতসুনো-হায়াশিকাওয়া, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইউনেসকো আঞ্চলিক অফিস, জাকার্তার ধারণরা বক্তব্য প্রচারিত হয়।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. অনিন্দিতা দাশগুপ্ত, বিভাগীয় প্রধান-স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, টেলরস ইউনিভার্সিটি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অফ ফিউচার ইন এডুকেশন অ্যান্ড সোসাইটির (এপিজেএফইএস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড. কালাই ভানি রাজন্দ্রাম এবং স্যার এম বিশ্বেশ্বরায়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ব্যাঙ্গালোরের শিক্ষক গৌথম কুমার। এ সময়, আলোচকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে সবার ঐক্যের চেতনার কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। গতকাল দিবসের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেসকোর প্রতিনিধিগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে, দূতাবাসে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত মো. তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষা আন্দোলনের সব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রদূত মাতৃভাষা লালনের গুরুত্ব এবং জাতি গঠনে মাতৃভাষার মূল্যের ওপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাকার্তায় বসবাসরত শিশু-কিশোররা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর কোনো প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অবর্তমানে ইরানের ওপর নজিরবিহীন সামরিক আক্রমণ পরিচালনার জন্য তিনি ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন, “যদি আমার কিছু হয়, তাহলে তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমা ফেলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।”
ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরান তাঁকে হত্যার জন্য নতুন একটি গোপন ছক তৈরি করেছে। ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, তিনি অনেক আগে থেকেই তেহরানের হিট লিস্টে রয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় তাঁকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে প্রদর্শিত ব্যানারগুলোর প্রসঙ্গও টেনে আনেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমি আশা করি, আপনারা আমার শূন্যতা অনুভব করবেন।”
এদিকে সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের ওপর সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে বিভিন্ন সংকেত পাচ্ছিল, তবে ইসরায়েলের দেওয়া এই সর্বশেষ তথ্যটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা— ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার মাঝে এই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ওই অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ এই বিপর্যয়ের সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, গত ২৪ জুন পর পর সংঘটিত দুটি শক্তিশালী ভূকম্পনে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১১৮ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। বিশেষ করে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে এই দুর্যোগের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে এবং এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূকম্পনটি আঘাত হানে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যার ফলে অসংখ্য বহুতল ভবন মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশে যায়। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে নতুন করে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিক তল্লাশি অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার করে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রত্যাশায় অনেক পরিবার এখনো ব্যক্তিগতভাবে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানী কারাকাসে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কিছু ভবন দ্রুত খালি করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থা ও অবকাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় থাকায় এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের জরুরি আন্তর্জাতিক অর্থ সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রদ্রিগেজ গত বুধবার বলেন যে, “যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ থাকা ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩০ টন সোনা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আবেদন করেছেন।” বিপর্যয় পরবর্তী এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিসা নিয়ে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি জানিয়েছে, নতুন চালু করা সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের সুবিধা প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে ভ্রমণ আরও সহজ হবে। শুক্রবার (১০ জুলাই) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রাথমিকভাবে সদ্য চালু হওয়া ভিসা প্যাকেজ কর্মসূচির জন্য সাতটি দেশকে নির্বাচন করেছে। এসব দেশের নাগরিকরা এই কর্মসূচির আওতায় একটি সমন্বিত ভ্রমণ বুকিংয়ের অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে মিসর, জর্ডান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এ সুবিধা চালু করা হয়েছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন দেশের জন্য এ সেবা চালু করা হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি বুকিংয়ের মাধ্যমেই তাদের পুরো ভ্রমণের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রিটার্ন ফ্লাইট, অনুমোদিত পর্যটন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাকেজ কেনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে। ভ্রমণকারীরা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করার পর ইমেইলে তাদের ভিসা, ভ্রমণ বিমা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে যাবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত রিজারভাল ও আলমোসাফের নামে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি এ পরিষেবা প্রদানের অনুমতি পেয়েছে। ভিসাটির মেয়াদ হবে তিন মাস। এ ভিসায় একবার প্রবেশ করা যাবে এবং দুই দিন থেকে ৮৮ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি থাকবে।
গালফ নিউজ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য ৪ হাজার সৌদি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতি অতিরিক্ত দিনের জন্য ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ হবে। ভিসা প্রদান ও ভ্রমণ বিমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল।
ভ্রমণকারীরা তাদের বুকিংয়ের সঙ্গে ইভেন্টের টিকিট এবং বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতার মতো ঐচ্ছিক পরিষেবাও যুক্ত করতে পারবেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্যাকেজগুলোতে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ-সম্পর্কিত কোনো পরিষেবা বা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে ভিসাধারীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কা ও মদিনাসহ দেশটির যেকোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন।
অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বা থাকার ব্যবস্থা বাতিল হলে অর্থ ফেরত এবং বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদিত ভ্রমণসেবা প্রদানকারীর নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কর্মসূচিটি আরও উন্নত করার পাশাপাশি এর আওতায় দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলমান থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলা ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অংশ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকর্মী ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা অনেক এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে চিকিৎসা সূত্র জানায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া গাজা সিটির পশ্চিমে আল-রিমাল এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে পৃথক এক ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৭ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ১১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লেবার পার্টির এমপিদের ব্যাপক সমর্থনে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার এখন প্রায় সময়ের ব্যাপার।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই লেবার পার্টির ৪০৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন পেয়েছেন বার্নহাম। একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তার এখন মাত্র ১টি মনোনয়ন প্রয়োজন। নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় বার্নহাম বলেন, ‘সবকিছু এখন খুব বাস্তব মনে হতে শুরু করেছে।’
লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৬ জুলাই। আগামী ১৭ জুলাই বার্নহামকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে এবং আগামী ২০ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বার্নহাম ৩২৩টি মনোনয়নে পৌঁছে গেলে অন্য কোনও প্রার্থীর পক্ষে এই প্রতিযোগিতায় নামার আর সুযোগ থাকবে না। কারণ স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থনের প্রয়োজন হবে, যা বাকি থাকা এমপিদের সংখ্যা অনুযায়ী আর কারও পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা ভোট দিতে পারেননি, তবে আগামী ১৩ জুলাই পার্লামেন্টে ফিরে তারা বার্নহামকেই সমর্থন দেবেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে সাবেক জুনিয়র প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস বার্নহামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিলে বার্নহামের নেতৃত্ব পাওয়ার পথটি কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে দলের বিপর্যয়কর ফলাফলের পর দলটির আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব ও নীতি পরিবর্তনের জোরালো দাবি ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কিয়ার স্টারমার।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আলমেইরিয়ায় দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ১৫০ জন দমকলকর্মী কাজ করছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিষয়কমন্ত্রী আন্তোনিও সানজ বলেছেন, এ দাবানল আমাদের অঞ্চলে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানল।
এর আগে, প্রাথমিকভাবে দাবানলে ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, লস গ্যালার্দোসে যে ছয়জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা এবং এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পৌরসভাগুলোর প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল। লস গ্যালার্দোস আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আলমেইরিয়া প্রদেশের একটি পৌরসভা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে স্পেনের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ফ্রান্সে একটি অনিয়ন্ত্রিত দাবানলের কারণে দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে স্পেনে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গত মে ও জুন মাসে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহের কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভূখণ্ড শুকিয়ে যাওয়ায় চলতি বছর এলাকাগুলো দাবানলের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপ মহাদেশটি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, যার ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহের প্রকোপ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে তার জন্মভূমি ও শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এ সময় লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরাক থেকে উড়োজাহাজে করে তার মরদেহ মাশহাদে আনা হয়।
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, দুপুরের পর থেকেই মাশহাদ শহরের সব প্রধান সড়ক ও গলিপথ সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ভরে ওঠে। একটি সুসজ্জিত ট্রাকে করে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার কফিনটি ভিড়ে ঠাসা রাস্তা দিয়ে ধীরগতিতে পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মাশদাহের আকাশ-বাতাস। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন করতে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে সমবেত হন লাখ লাখ মানুষ।
রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো শোকার্ত মানুষের চোখে-মুখে ছিল গভীর শোকের ছায়া। কালো পোশাকে আবৃত এই বিশাল শোকমিছিলে উপস্থিত জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা, প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি এবং নানা স্লোগানসংবলিত লাল রঙের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন।
শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই লাল প্ল্যাকার্ড ও পতাকাগুলো মূলত খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার হিসেবে বহন করা হচ্ছিল। খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ইমাম রেজা মাজার চত্বরে তার জানাজা ও দাফনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাকে এ পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি তার বাবা ও স্ত্রীর জানাজায়ও তিনি উপস্থিত হননি।
দাফনের দিনও থামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত
খামেনির দাফনের এই ঐতিহাসিক দিনেও পারস্য উপসাগর ও ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা হরমুজ প্রণালীর আশপাশসহ ইরানের ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, গত দুই দিনে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছিও হামলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বড় ধাক্কা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করা। তাদের দাবি, উপকূলীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোসহ ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
ট্যাংকার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কোর মেরিন পরিচালক ফিল বেলচার জানান, সংঘাত বাড়ার পর ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ রুট দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা জাহাজের সংখ্যা এখন এক অঙ্কে নেমে এসেছে।
তার ভাষ্য, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি জাহাজ চলাচল করছে। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ছিল প্রায় ৭০টি, আর যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় ১৩০টি। বিবিসিকে তিনি বলেন, সংঘাত কেবল ব্যবসাকেই নয়, সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদেরও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
খামেনির জানাজায় ছিল ৪ কোটির বেশি মানুষ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী জানাজায় প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। এত বিশাল জনসমুদ্রের কারণে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই আয়োজনকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে দেখা সবচেয়ে বড় শোকমিছিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
খামেনির বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশাল জানাজা ও শোকানুষ্ঠান মূলত পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হয়। শহরগুলো হলো—তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা এবং মাশহাদ।
গত শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে উন্মুক্ত জানাজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে খামেনির কফিন রাখা হয়েছিল এবং হাজার হাজার সাধারণ ইরানি তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন।
এই ঐতিহাসিক শোকানুষ্ঠানে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র সংগঠনগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে গাজার হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধি দল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে চায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় এবার সরাসরি জড়াতে চাইছে ইসরায়েল। ইসরায়েল এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে।
কান পাবলিক ব্রডকাস্টারের সূত্রবিহীন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টও জেরুজালেমের এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামীতে ইরানের ওপর যেকোনো হামলায় সরাসরি অংশ নিতে এবং পুরোদমে যুদ্ধ শুরু করতে প্রবল আগ্রহী ইসরায়েল।
ইরানে মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার ঠিক আগে, বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আবারও আক্রমণ করতে প্রস্তুত।’
সূত্রটি আরও জানায়, ইসরায়েল এমন কোনো আতঙ্কের দিনে ফিরে যেতে চায় না, যখন সাইরেনের শব্দে সাধারণ মানুষকে প্রাণভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হতো। কিন্তু তাই বলে 'ইরানে যা ঘটছে, তা কেবল নীরব দর্শক হয়ে এড়িয়ে যাওয়াও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই এর জন্য যদি আমাদের চরম মূল্য চোকাতেও হয়, আমরা সেই পরিস্থিতি মেনে নেব।'
সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর ওয়াশিংটন যদি সাহায্য চায়, তবে ইরানের ওপর পরবর্তী মার্কিন হামলায় যোগ দিতে প্রস্তুত আছে ইসরায়েল।
জেরুজালেমের একটি সূত্র বলেছে, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা আমেরিকার পাশে আছি। এতে আমেরিকার কোনো স্বার্থ আছে কি না তা আমি নিশ্চিত নই—তবে আমরা বুঝতে পারছি যে এখন আমাদের পেশিশক্তি দেখানোর সময় এসেছে।’
আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বুধবার ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার অনুমোদন দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘নিকৃষ্ট’, ‘শয়তান’, ‘উন্মাদ’ ও ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’ বলে তীব্র আক্রমণ করেন।
ওই দিন সন্ধ্যায় প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়—যা মঙ্গলবারের ৮০টির চেয়েও বেশি। লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল মিসাইল ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার স্টেশন এবং রেলপথের মতো রসদ সরবরাহের অবকাঠামো। ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরাসরি নতুন দফার হামলায় যোগ দেয়নি।
অবশ্য জেরুজালেমের ওই সূত্র বলেছে, ইসরায়েল ‘মানুষের আবার সাইরেন শুনে বাঙ্কারে বা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাওয়ার দিনগুলোতে ফিরে যেতে আগ্রহী নয়’। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে তেহরান যেভাবে ইহুদি রাষ্ট্রটির ওপর নিয়মিত মিসাইল ও ড্রোন হামলা করছিল করছিল, সেদিকে ইঙ্গিত করেই এই মন্তব্য।
তবে ওই সূত্র এ-ও বলেছে যে, 'ইরানে যা ঘটছে, তা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। তাই এর জন্য যদি আমাদের কোনো মূল্য চোকাতে হয়, তবে আমরা সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তৈরি।'
’প্রয়োজনে তৃতীয়বারও ইরানে হামলা চালানো হবে’
প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল আবারও সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সেক্ষেত্রে ‘আরও বেশি শক্তি’ প্রয়োগ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক সামরিক অনুষ্ঠানে কাৎজ এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
তিনি বলেন, ‘আকাশসীমায় আধিপত্য পুনরুদ্ধার এবং হুমকি নির্মূলে ইরানে আবার হামলা চালানোর লক্ষ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে তৃতীয়বারও হামলা চালানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমাদের আবার ফিরতে হয়, আমরা ফিরব এবং আরও বেশি শক্তি নিয়ে ফিরব।’
বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ইরানের শহর ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, কোনারক, চাবাহার ও বুশেহর এবং উত্তর-পূর্ব ইরানের আক কালা শহরে হামলা চালায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় ইরান যেন বাধা দিতে না পারে, সেজন্য তাদের সামরিক শক্তি কমিয়ে আনাই এই হামলার লক্ষ্য।
আমেরিকার এই নতুন হামলা নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে গত মাসেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘প্রয়োজন দেখা দিলেই’ ইরানে হামলা চালাবে ইসরায়েল।
তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকির পর বুধবার রাতে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বিশেষ নিরাপত্তা বৈঠকে বসেন। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বৈঠকের খবর নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে আইডিএফ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলের আই২৪ নিউজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা ইউনিটগুলো অনবরত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ‘নিবিড় অপারেশনাল সমন্বয়’ বজায় রাখছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের রাশ পুতিন সহজেই টানছেন না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের সঙ্গে সব ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনাও প্রত্যাখ্যান করছেন।
ক্রেমলিন সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেনের সাম্প্রতিক বড় আকারের ড্রোন হামলাকে ‘যুক্তি’ হিসেবে ধরে নিয়ে দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সামনের মাসগুলোতে রাশিয়ার আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
তবে, বরাবরের মতোই যেন বাস্তবতার বিপরীত কথা বলতে পছন্দ করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যেমন তিনি অনেকদিন ধরে ভুল তথ্য দিয়ে এসেছেন তেমনি অসংলগ্ন মন্তব্য করেছেন রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতেও।
গত সোমবার (৬ জুলাই) তিনি বলেন, পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে চান এবং চুক্তি সম্পন্নের বিষয়টি মানুষের ধারণার চেয়ে দ্রুতগতিতে হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাতিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আলাদা আলাদা ফোনালাপও হয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কিও বলেছেন, শান্তি আনতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। পুতিন সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস অঞ্চলের বাকি অংশ দখলের মূল লক্ষ্য অর্জনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তার অবস্থানে অনঢ় রয়েছেন। জুনেও জেলেনস্কির দেওয়া যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন পুতিন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও এই বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে।
একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে জেলেনস্কির দপ্তর থেকেও। ইউক্রেনিয়ান প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছেন পুতিন। ইউরোপের অন্য কোনো দেশে আক্রমণের বিষয়টিও রাশিয়ার বিবেচনায় রয়েছে।
রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ্যেই এই যুদ্ধাভিযান সম্প্রসারণের আলোচনা করছেন। তবে, লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ জ্যাক ওয়াটলিং বলছেন, রাশিয়ানরা ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। তবে এই জোটকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালাতে পারে তারা। তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটোর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকিকে ব্যবহার করে ইউক্রেনে নিজের সামরিক অভিযান বিস্তৃতির ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন পুতিন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংকটের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তাকে বা তৃণমূল কংগ্রেসকে স্তব্ধ করতে চাইলে ‘‘তাকে হত্যা করতে হবে’’।’
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সাম্প্রতিক দলীয় বিদ্রোহ এবং টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। মমতা বলেন, ‘আমাকে চুপ করাতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে এবং হ্যাঁ, সে চেষ্টায় আপনাদের যেন কোনো ঘাটতি না থাকে।’
তিনি অভিযোগ করেন, টিএমসির একাধিক নেতা হামলা, অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মহুয়া মৈত্র, অভিষেক ব্যানার্জি ও কল্যাণ ব্যানার্জির নাম উল্লেখ করেন।
মমতা বলেন, ‘কাকে আক্রমণ করেননি? মহুয়াকে আক্রমণ করেছেন, অভিষেককে আক্রমণ করেছেন, কল্যাণকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা করেছেন।’
এমন সময়ে তার এই মন্তব্য এলো, যখন টিএমসি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ত্রিপুরাভিত্তিক ছোট রাজনৈতিক দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় মমতা আরও অভিযোগ করেন, আমার অনেক সহকর্মী লকআপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারও কোমরে দড়ি বেঁধে, পায়ে শিকল পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। কারও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে, আবার কারও গায়ে নোংরা পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে। এসব বলতেও লজ্জা লাগে।
তিনি দাবি করেন, এসব দমন-পীড়ন সত্ত্বেও টিএমসি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কিছু সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মধ্যাহ্নভোজে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ বিকল্প চালুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মমতা। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যস্ত।
তিনি বলেন, ‘স্কুলের শিশুদের মধ্যাহ্নভোজে ডিম দেওয়া হচ্ছে না। অথচ এসব অদ্ভুত কাজ নিয়েই সরকার ব্যস্ত। এটি কখনোই বাংলার সংস্কৃতি ছিল না। আমরা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম; কিন্তু কখনো পুলিশকে এ ধরনের কাজ করাইনি।’
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইরানের ৫ প্রদেশে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী চার দেশ কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং জর্ডানে মার্কিন স্থাপনায় হামলা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সন্ধ্যায় ইরানে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই পাল্টা হামলা পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবারের হামলায় কুয়েতের মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কাতারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিষয়ক পূর্ব সতর্কীকারণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইআরজিসি এই বিবৃতি প্রদানের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি এক বিবৃতিতে কুয়েত জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুয়েতকে লক্ষ্য একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং সবগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুয়েতে একজন নিহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার রাতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে সেগুলোর মধ্যে ৮টিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। বাকি দু’টিকে আটকানো সম্ভব না হলেও আজরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে কোনো প্রাণহানি বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে জর্ডানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ৩ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। তারপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে হামলার পর গত ৭ এবং ৮ জুলাই রানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, উপকূল অঞ্চলে নজরদারী স্থাপনা ও সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ডিপো, নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো।
মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত এবং বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দফা হামলা করেছিল ইরান। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা হামলা হলো।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলার জবাব দিতে ৭ ও ৮ জুলাই অভিযান চালিয়েছে সেন্টকম। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রুটে যুক্তরাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে সেখানে হামলা করা হয়েছিল।
লেবাননের ভূখণ্ড হতে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান বজায় থাকবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বৃহস্পতিবার তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিজেদের অনড় অবস্থানের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে কাটজ মন্তব্য করেছেন, “লেবাননে প্রবেশের জন্য আমরা কারও অনুমতি চাইনি। সেখানে থাকার জন্যও আমাদের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। গ্যালিলির বাসিন্দা ও ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অধিকার এবং দায়িত্ব।” উল্লেখ্য যে, গত বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে ইসরায়েল অচিরেই লেবানন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে বলে তার বিশ্বাস।
অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ভিন্ন এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলাগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরুর জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল এমন কিছু বিধ্বংসী আকাশ হামলা চালিয়েছে যার ফলে একাধিক পরিবারের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। এ ধরনের নৃশংস হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৭টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এবং আরও কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে মেহের নিউজ জানিয়েছে, বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে দুটি ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর বুশেহর এবং পার্শ্ববর্তী চোঘাদাক এলাকায়। এ প্রসঙ্গে বুশেহর নগর প্রশাসনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিভাগের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে বলেছেন, “বুশেহর শহরের সংলগ্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ২টি ক্ষেপাণস্ত্র বা ড্রোন জাতীয় সমরাস্ত্রকে আটকে দিয়ে ধ্বংস করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।” এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার কারণেই মূলত বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।
একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর কানারাকেও দুটি পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কানারাকের গভর্নর মোহাম্মদ ইউনুস হাক্কানি ইরনাকে জানিয়েছেন, “কানারাকে ইরানি নৌবাহিনীর একটি সেনানিবাস আছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সেখানে বোমা ফেলেছে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান।” এই ঘটনার নেপথ্য কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অবশিষ্ট তিনটি বিস্ফোরণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘন করে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের হামলার ঘটনার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।