মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাফায় বিমান হামলা শুরু ইসরায়েলের

কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫৭

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাফায় বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মিসরের সীমান্তবর্তী রাফা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এত দিন রাফাকে নিরাপদ মনে করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গাজার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা রাফায় আশ্রয় নিয়েছিল। এদিকে গাজার দেইর এল-বালাহ অঞ্চলে একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।

৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হামালায় গাজায় ২৯ হাজার ৬০৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৭ জন। তা ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাছে এ পরিকল্পনা উত্থাপন করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যত দিন পর্যন্ত হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক সক্ষমতা নির্মূল এবং সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনাসহ অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত না হবে, তত দিন গাজায় যুদ্ধ চলবে। যুদ্ধ শেষে স্থানীয় যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী দেশ ও গোষ্ঠীর কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তারা গাজা পরিচালনা করবেন। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে (পিএ) এতে রাখা হবে কি না, তা এ পরিকল্পনায় স্পষ্ট করা হয়নি।

তবে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা সামনে এনেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে ও এর মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

গাজায় শিশু ও নারীর মৃত্যু ৬ গুণ

৭ অক্টোবরের পর থেকে গত সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের একটানা আক্রমণে গাজায় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলের মারাত্মক বর্বরতার বহির্প্রকাশ। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

আনাদোলু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ান-ইউক্রেনীয় যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলনা করেছে। ইসরায়েল প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থলে আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোমাবর্ষণ করছে। ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, গাজায় হামলায় ৬৬ হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১৮৩ টন। এই আগ্রাসনে ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছে।

জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণে গাজা উপত্যকায় ২২ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে। এই অঞ্চলে সাহায্য আনার ক্ষেত্রে তেল আবিবের বাধার কারণেও ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে। উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিরা পশুখাদ্য পিষে ময়দা তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউএন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশন (এইচআরএমএমইউ) অনুসারে, রাশিয়ার আগ্রাসনে ইউক্রেনে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫৭৯ শিশু এবং ২ হাজার ৯৯২ জন নারীসহ মোট ১০ হাজার ৩৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩২ জন। এর মধ্যে মোট ৮ হাজার ৯৫টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এবং ২ হাজার ২৮৩টি রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে। এইচআরএমএমইউ ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও কিছু বেশি হতে পারে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজায় সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের হাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা দুই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যার প্রায় ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, হামলার কারণে লক্ষাধিক ইউক্রেনীয় নাগরিক, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের স্বাগতও জানিয়েছে। কিন্তু গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধের অধীনে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার (১৩৯ বর্গ মাইল) এলাকায় আটকা পড়ে আছে। হামলার কারণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো নিরাপদ জায়গাও নেই।

উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের কারণে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহ শহরের ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেও আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।


নির্বাচিত

ইরানকে ‘টোল’ আদায়ের সুযোগ দিতে সম্মত উপসাগরীয় দেশগুলো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে স্থবির হয়ে পড়া বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। ওমানের তৈরি করা একটি প্রস্তাবনায় সমর্থন জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান ‘স্বেচ্ছামূলক ফি’ সংগ্রহ করতে পারবে। বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কী রয়েছে ওমানের প্রস্তাবে?

ওমান ও ইরান—উভয় দেশই হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী: হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় কোনো একক কর্তৃত্ব থাকবে না; ওমান ও ইরান যৌথভাবে প্রণালীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে।

প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক ফি আরোপের পরিবর্তে ‘স্বেচ্ছামূলক ফি’ আদায় করা হবে।

এ ব্যবস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘মালাক্কা প্রণালী’র মডেলে তৈরি, যেখানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর পরিবেশ সুরক্ষা, নেভিগেশন সুবিধা এবং উদ্ধার কাজের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছামূলক সহায়তা ফি গ্রহণ করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার জবাবে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজের জন্য প্রণালীটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের বাধ্যতামূলক ফি আদায় বেআইনি। ওয়াশিংটন যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতি বজায় রেখে সব ধরনের ফি ছাড়া অবাধ জাহাজ চলাচলের পক্ষে। অন্যদিকে ইরান দাবি জানিয়েছিল তারা উপকূলীয় দেশ হিসেবে প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং সার্ভিস ফি নেবে। ওমানের প্রস্তাবিত ‘স্বেচ্ছামূলক ফি’ উভয়পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি নমনীয় সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর টানা দুই সপ্তাহের বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংকট সমাধানে আলোচনা চলছে। যদিও তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি নতুন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওমান ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।


নির্বাচিত

ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২০:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জুলাই) মিশিগানে যাওয়ার পথে এই হুমকি দেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ভালো ও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান পাল্টা দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাংকার হামলা ও সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী আবারও নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে।

টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করে। টানা চার দিনের মতো সোমবারও মার্কিন হামলা স্থগিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত ও অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। এ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিতি ছিলেন। তারা দুজনই নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর ইরানে হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ হওয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে মিলে নৌযান চলাচলের নতুন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।


নির্বাচিত

মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিতে চায় যোগী সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রামপুরে মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিই গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্ররা। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছেন তারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সংখ্যালঘু এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিশানা করেছে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকার।

তবে রামপুর জেলা প্রশাসন অভিযোগ করেছে, ভবনগুলো অবৈধভাবে ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এক নোটিশে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব ‘অবৈধ’ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ভাঙলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালাবে এবং তার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।

পরে রাজ্য প্রশাসন এই আদেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরুদ্দিন জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে, ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আরডিএ-এর দেওয়া আগামী ৫ আগস্টের ডেডলাইনের মধ্যে ভবন ভাঙা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদালত থেকে এমন এক রায় চাচ্ছে যাতে এই ধ্বংসের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল বা খারিজ করা হয়।’

২০০৩ সালে গঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্টের মাধ্যমে তিন বছর পর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সমাজবাদী পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা আজম খান। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন আচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের এই আদেশকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য জাভেদ আলী খান। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আজম খান। দ্বিতীয়ত, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং। তৃতীয়ত, এটি উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং চতুর্থত, এটি একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়।’

অন্যদিকে ভবন ভাঙার এই আদেশকে আইনি প্রক্রিয়ার সংগতিপূর্ণ দাবি করে বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, আজম খান অবৈধ জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন? সমাজবাদী পার্টি সরকারের সময়ে তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন এবং অবৈধ ভবন নির্মাণ করেন। আমরা কেবল অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুসরণ করছি, আর তার মানে হলো এই বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা উচিত।’

রামপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিএ-এর ভাইস চেয়ারম্যান অজয় কুমার দ্বিবেদী জানান, তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা লিখিত জবাবও দিয়েছে। জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ৪০টি ভবনের মধ্যে কেবল ২টি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। বাকি ৩৮টি ভবনই অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

তবে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে উপাচার্য জহিরুদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সিংগনখেড়ায় আরডিএ-এর কোনো এখতিয়ার ছিল না। আমরা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়ে কোর্স পরিচালনা করছি, যা সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল অনুমোদন দেয়।’ আরডিএ-এর এই পদক্ষেপকে শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা স্বপ্নদ্রষ্টা আজম খানের বিরুদ্ধে একে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যিনি সংখ্যালঘু, গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন।’

২৫০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী এবং এক-তৃতীয়াংশের বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী।


নির্বাচিত

আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ পার্টির

সংবাদ সম্মেলনে ককরোচদের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২২:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দেশজুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগে আবারও রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছে সিজেপি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলে চাপের মুখে গত শনিবার দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালে এটি কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের বিরল এক ঘটনা।

দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরপরই মোদি সরকারের আশ্বাসের বরখেলাপ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার চুক্তি না মেনে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে তারা আবারও আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবেন।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় একটি আইনি তহবিল গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে সিজেপি। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনের মুখে বিহার পুলিশ কিছু মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এবং আসাম সরকারও গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভিন্ন। এই রাজ্যটিতে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ প্রদর্শনের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদির কার্টুন প্রদর্শনের জন্য অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধেও পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিবিরোধী পোস্ট মুছে ফেলার অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমালোচনামূলক পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছিল। এরপর গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের পর এই আন্দোলন দাবানলের মতো পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ভারতের সংবিধান স্বীকৃত। মূলত যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির করা এক কটূক্তির জবাব হিসেবেই অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন, যা আজ মোদি সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

দিল্লিতে পাল্টা আন্দোলনের ডাক

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে রাজনৈতিক দল বা শিক্ষার্থীদের পর এবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও আহতের ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জুলাই সেখানে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দিল্লি পুলিশ ফেডারেশন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২০ জুলাই সিজেপির পার্লামেন্ট অভিযান কর্মসূচি চলাকালে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। আন্দোলনস্থলে ঢুকে পড়া কিছু দুষ্কৃতকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এর প্রতিবাদে এবং আহত সহকর্মীদের প্রতি সংহতি জানাতে আগামী ৩১ জুলাই বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস ধরনা কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের কাছে আবেদন পাঠিয়েছে সাবেক কর্মকর্তাদের এই সংগঠনটি।

অন্যদিকে, গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থী আন্দোলনের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পরীক্ষা ও নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বিষয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানান, বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের আগের নিয়মকানুন মানা হয়নি এবং এই বিষয়ে নতুন প্রটোকল তৈরি করা জরুরি।

আন্দোলনের সময় সহিংসতার ঘটনায় কঠোর মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে কিংবা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।’ অপরাধীদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট না করা গেলে তদন্তের কোনো মূল্য থাকে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন সর্বোচ্চ আদালত।

ছাত্রদের ওপর ছোড়া হয় ছররা গুলি

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলাকালে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ছররা গুলি ছোড়েন র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) একজন ডেপুটি কমান্ড্যান্ট। দিল্লি পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনারের (ডিসিপি) সরাসরি নির্দেশে ওই গুলি চালানো হয়। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া এক সরকারি নথিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

নথি অনুযায়ী জানা গেছে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ‘ডিসিপির নির্দেশে’ আরএএফ-এর ডেপুটি কমান্ড্যান্ট দাঙ্গাবিরোধী বন্দুক থেকে ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি টিয়ার স্মোক গ্রেনেড ও ছররা গুলিভর্তি ব্যালিস্টিক কার্তুজসহ ২ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন।

গত ২১ জুলাই ‘দ্য হিন্দু’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আরএএফ সদস্যদের ছোড়া ওই ছররা গুলির আঘাতে মারাত্মক আহত দুই ব্যক্তিকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মুসা (আ.)-এর কবরের পাশে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপন

নবী হজরত মুসা (আ)-র মাজার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের নবী হজরত মুসা (আ)-এর ঐতিহাসিক কবরের পাশে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে নতুন অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে তুলেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সময়ে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেম ও জর্ডান উপত্যকার মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় চরম আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে গত কয়েক মাসে অবৈধ বসতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও। যেগুলো প্রায়শই ‘ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায়’ সংঘটিত হচ্ছে।

জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, সোমবার সকালে উগ্র ইসরায়েলি উপনিবেশকারীরা নবী মুসা (আ)-এর কবরের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে অস্থায়ী চৌকি ও অবকাঠামো নির্মাণ করা শুরু করে। মূলত ওই অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করা এবং জোরপূর্বক ভূখণ্ডের নতুন মালিকানা তৈরি করতেই এই নতুন বসতি গড়ে তোলা হয়েছে।

জেরুজালেম ও জর্ডান উপত্যকার মধ্যবর্তী এলাকায় ইসরায়েলিদের ভূখণ্ড দখলের এই প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। কেবল নতুন বসতি স্থাপনই নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের চারণভূমি ও কৃষিজমি দখল করে নেওয়ার কারণে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব ও জীবিকা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পুরো অধিকৃত পশ্চিম তীর বিশেষ করে জেরুজালেমের চারপাশের ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর ভৌগোলিক সংহতি ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ চালিত হচ্ছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ‘‘কোনো আইনি বৈধতা নেই’’ এবং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের ‘‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’’।’

পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা এবং বিদ্যমান বসতিগুলোকে বৈধতা দেওয়া ও নতুন বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। গুতেরেস বলেন, ‘এসব বসতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ‘‘ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সার্বিক শান্তি’’ প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বিষয়।’


নির্বাচিত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন কমছে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন কমছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, প্রতি তিন মার্কিনীর মধ্যে মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। প্রায় ৬৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে, ইরানের মাটিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী, তা ব্যাখ্যা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে রোববার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক জনসমর্থন সামান্য বেড়েছে। তবে বর্তমানে তার জনপ্রিয়তার হার ৩৭ শতাংশ, যা গত মাসের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেশি।

এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে অনেকেই অস্পষ্ট মনে করছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেন এ যুদ্ধে জড়িয়েছে ও তাদের লক্ষ্য কী, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ট্রাম্পের সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রতি ১০ জনের প্রায় চারজন এ মত দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এর ভাষ্য, জনমত জরিপ দেখে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন না। তার দাবি, ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য হলো, ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।

জরিপ অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই এ যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্য যুদ্ধের শুরুর সময়কার জনসমর্থনের তুলনায় এটি অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। আর ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধের শুরুতে সমর্থনের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, ‘কেন আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালাম, সেটাই পরিষ্কার নয়। আমার কোনো ধারণা নেই।’

অ্যালেক্স জানান, উপসাগরীয় যুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের ভূমিকা পছন্দ করেই তিনি রিপাবলিকান হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন কমে গেছে।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম এখন চার ডলারের কিছু বেশি, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় তিন ডলার।

রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স কোনান্ট বলেন, ‘যুদ্ধে অর্থনীতির বেহাল দশার কারণে রিপাবলিকানদের জন্য ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলবে না। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমালোচনাও বেড়েছে। যদিও ট্রাম্প বারবার বলেছেন, এ যুদ্ধের সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনো তুলনা চলে না।

জর্জিয়ার বাসিন্দা রায়ান অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের উচিত বিদেশের যুদ্ধ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো বেশি গুরুত্ব দেওয়া।’ রায়ান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগে দেশের মানুষের সমস্যার দিকে নজর দেওয়া উচিত। (ইসরায়েল) আমাদের মিত্র, ঠিক আছে। কিন্তু এ দেশেই (যুক্তরাষ্ট্র) অনেক মানুষ আছেন, যাদের এখন সাহায্য প্রয়োজন।’

রয়টার্স/ইপসোসের সবশেষ জরিপে ১ হাজার ২৪৬ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে ত্রুটির সম্ভাব্য সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।


নির্বাচিত

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের পথে শুভেন্দুর সরকার

শুভেন্দু অধিকারী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার । বিহার ও আসামের পর তৃতীয় রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ শিথিল করার পথে হাঁটছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এর আগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তারা কেন্দ্রকে স্মরণ করিয়ে দেন।

সিজেপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবারের মধ্যে সব বন্দিকে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

সংগঠনটির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে বিহার সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির উদ্যোগের কথা জানায়। পরে আসাম সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় আটক ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চার দফা নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। জানা গেছে, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলবে। যদিও ওই মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর আটক রাখা হবে না বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন।

এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধর্মতলার বিক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তদন্তে অন্তত ৭০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ, যাদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই বলে সরকারের দাবি।

সরকারের ভাষ্য, প্রকৃত আন্দোলনকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে। সে কারণেই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

উত্তর ইরাকের গ্যাসক্ষেত্রে বড় ধরনের ড্রোন হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে বড় ধরনের ড্রোন হামলা হয়েছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সুলাইমানিয়া প্রদেশে চালানো এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি। উল্লেখ্য যে, এই গ্যাসক্ষেত্রটি ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রায় একই সময় হামলার কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিল শহরেও একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

আল জাজিরা ও ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এরবিলের মার্কিন কনস্যুলেটের সন্নিকটস্থ এলাকাসহ অন্তত সাতটি স্থানে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। হামলার পরপরই এরবিলের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন টহল দিতে শুরু করে। এছাড়া লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার মধ্যেই এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। যদিও কিছু বিদেশী সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে এই স্থগিতাদেশ, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মূলত মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধেই হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার মিশিগান যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ভালো আলোচনা চলছে। ভালো কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।" তবে নতুন করে এই ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে পুনরায় জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


নির্বাচিত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় ৮ শিশুসহ ৩০ প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাডুনা রাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের বর্বরোচিত হামলায় ৮ শিশুসহ অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিদেশী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। গ্রাম প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিতভাবে গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করে এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে পুড়ে আট শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী সাউদার্ন কাডুনা পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডেরেক ক্রিস্টোফার জানান, রোববার গভীর রাতে কাডুনা রাজ্যের কাউরা এলাকার নারিডন গ্রামে এই পৈশাচিক হামলার ঘটনাটি ঘটে। সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত বছর ঠিক এই সময়েই একই গ্রামে হামলা চালিয়েছিল সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে সরকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার ইচ্ছা পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। আমি জানি না এই অসহায় মানুষদের পক্ষে লড়াই করার মতো আর কে বাকি আছে।’

স্থানীয় এক যুবনেতা ইশায়া দাওয়া জানান, হামলাকারীরা মধ্যরাতের দিকে নারিডন গ্রামে তান্ডব চালিয়ে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়েছে। তিনি আরও জানান, কোনো কোনো বাসিন্দাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে জবাই করা হয়েছে এবং মরদেহগুলো ইতোমধ্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও বৃদ্ধদের সংখ্যাও অনেক। দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে গ্রামটির একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সকালে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। কাডুনা রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলার বিষয়ে শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।


নির্বাচিত

ইরান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান সংঘাত শুরুর পর এটিই দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। যদিও যুদ্ধ নিয়ে মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে প্রকাশ্য মতভেদ দেখা গেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই সেই উত্তেজনা নিরসনে সছেষ্ট হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান যুদ্ধ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, বর্তমানে ওয়াশিংটন তার কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। সাম্প্রতিক কিছু সংঘর্ষে ইসরায়েল সরাসরি যুক্ত না থাকলেও ইরান ইস্যুটি উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের অষ্টম বৈঠক হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে নেতানিয়াহু তার সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'আলোচনার সূচিতে থাকা সব বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলব। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইরান। একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমাদের চারপাশে শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।' তিনি আরও যোগ করেন, 'প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এমন জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা; দুটো নিয়েই এগোতে হয়।'

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে ‘খুবই কঠিন একজন ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু বিষয়টিকে কেবল ‘কৌশলগত মতপার্থক্য’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান যে, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। মঙ্গলবারের বৈঠকে লেবাননের সঙ্গে সম্পাদিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং স্থবির হয়ে পড়া গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ও সেখানকার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম উদ্বেগের বিষয়।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যান এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সফরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, 'আমার মনে হয়, প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকে, ইরানকে, এমনকি লেবাননসহ অন্য দেশগুলোকেও দেখানো যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ভাঙন বা বড় ধরনের মতবিরোধ নেই।' ফ্রিম্যান মনে করেন, 'দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধের চেয়ে মিলই অনেক বেশি।' মূলত ইরান পরিস্থিতি ও আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণই ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ‘হত্যার পর আত্মহত্যা’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে তাদের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে ম্যান্ডির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন আমান্ডা ম্যান্ডি কারোলকিয়েভিচ (৩৯) ও তার স্বামী ক্রিস্টোফার কারোলকিয়েভিচ (৪৭) এবং তাদের ছয় সন্তান। সন্তানদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অটোয়া কাউন্টি শেরিফ অফিসের ক্যাপ্টেন জেকবস স্পার্কস জানান, নিহতদের সবার পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি এবং তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণও পাওয়া যায়নি।

ক্যাপ্টেন স্পার্কস জানান, ঘটনাটিকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বাইরের কোনো সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে না। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ম্যান্ডির বোন মলি সেসনা মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘আমার ছোট বোন ম্যান্ডি, তার স্বামী এবং আমার ছয় ভাগনি-ভাগনে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সবকিছু ঝাপসা লাগছে। বন্ধুরা, দয়া করে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন। কী ঘটেছে, তা বোঝার চেষ্টা করছি। আমাদের হৃদয় পুরোপুরি ভেঙে গেছে। ‘মর্মান্তিক’ শব্দটিও এই ঘটনার গভীরতা প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট নয়।’

সমুদ্রসৈকতে তোলা একটি হাস্যোজ্জ্বল পারিবারিক ছবি শেয়ার করে সংক্ষিপ্ত এক শ্রদ্ধাবার্তা দেন ম্যান্ডির বাবা স্টিভ লউইল এবং মা বেকি লউইলও। তারা লেখেন, ‘তারা আমাদের জীবনে যে আনন্দ নিয়ে এসেছিল, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি।’

ম্যান্ডি গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলসের বিকল্প শিক্ষক (সাবস্টিটিউট টিচার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬ বছর আগে তিনি ক্রিস্টোফারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

২০১৯ সালে স্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ক্রিস্টোফার লিখেছিলেন, ‘এই সুন্দরী নারীকে নিয়ে ১০ বছর পার হতে চলল। আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান।’ গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি মূল্যায়নে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, পিচ প্লেইনস এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ম্যান্ডি ‘নিজের সাধ্যের চেয়েও বেশি কাজ করেন।’ জেলা সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন পেরোস্কি শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেন, স্কুল-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে অটোয়া কাউন্টি শেরিফ অফিসের ক্যাপ্টেন জেকবস স্পার্কস ঘটনাস্থলটিকে অত্যন্ত ‘জটিল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি ‘সন্দেহজনক’ এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। এর আগে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়া গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।


নির্বাচিত

‘জিহাদ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই’

মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় বলেছেন, ‘জিহাদ এবং প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই’। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে রক্ষার পাশাপাশি লেবাননের অখণ্ডতা বজায় রাখাকে তেহরানের কৌশলগত দায়িত্ব বলে ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সমাপ্তির যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি হিজবুল্লাহর ধৈর্য ও ত্যাগের প্রশংসা করে তাদের প্রতিরোধ সংগ্রামের অগ্রভাগে থাকা এক অবিচল শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

খামেনি আরও জানান যে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির কোনো পথ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের ধৈর্য, সাবেক হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং এই লড়াইয়ে নিহত অন্য কমান্ডারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হিজবুল্লাহকে একটি সাধারণ সংগঠন থেকে পুরো মুসলিম বিশ্বের গর্বে পরিণত করার প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে লেবানন থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ, লেবাননের সেনাবাহিনীকে মার্কিন সহায়তা প্রদান এবং পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আমেরিকার বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ইচ্ছেমতো যুদ্ধ থামাতে পারবে না

যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ কিংবা শান্তির সময় নির্ধারণ করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ওয়াশিংটন নিজেদের তৈরি সংকটে নিজেরাই আটকে গেছে।

ইসমাইল বাঘেই তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটন নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যুদ্ধ থামানো বা শুরু করার সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নিতে পারে না। এর আগে রোববার ইরানের সামরিক মুখপাত্র আমির মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান যে যুক্তরাষ্ট্র দুই রাত ধরে হামলা স্থগিত রাখার পর ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে।

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানে নতুন করে আক্রমণ না চালানোর নির্দেশ দেওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহের নিয়মিত হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে তেহরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে উভয় দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


নির্বাচিত

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। সোমবার তিনি ইসরায়েল ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘ইসরায়েল ইন অ্যারাবিক’-এর সরকারি অ্যাকাউন্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের আমন্ত্রণেই ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু।

গত রোববার নেতানিয়াহু জানান, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির গ্রেপ্তার আহ্বান সত্ত্বেও তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

গত মঙ্গলবার মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দেন। এর পাশাপাশি নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে International Criminal Court (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তার পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মামদানি। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহুকে ‘গ্রেপ্তার করা হবে না’।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

আমি নিউইয়র্কে আসবমামদানিকে নেতানিয়াহু

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে মামদানি শহরে বিভাজন, ঘৃণা ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নেতানিয়াহু।

ফক্স নিউজের সানডে মর্নিং ফিউচার্স অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘মামদানির উদ্দেশে আমার জবাব হলো, আমি নিউইয়র্কে আসব। জাতিসংঘের মঞ্চে সত্য তুলে ধরব এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে কথা বলব।’

এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিউইয়র্কে স্বাগত নন। এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, মামদানির স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই হামলা উদযাপন করেছিলেন। তবে সাক্ষাৎকারে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, হামাসের লক্ষ্যই হলো ইসরায়েল ও ইহুদিদের ধ্বংস করা। তিনি অভিযোগ করেন, হামাস বেসামরিক মানুষের মধ্যে অবস্থান নেয় এবং তাদের নিরাপদ স্থানে যেতে বাধা দেয়।

সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘একজন মেয়রের দায়িত্ব হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু মামদানি এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন।’

নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের একটি সিনাগগের বাইরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন। তবে ওই হামলার সঙ্গে মামদানির বক্তব্যের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে- এমন প্রমাণ তিনি দেননি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সি রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে তিনি প্রথমে এক এশীয় ব্যক্তিকে এবং পরে একটি সিনাগগ থেকে বের হওয়া এক ইহুদি ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।


নির্বাচিত

banner close