ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাফায় বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মিসরের সীমান্তবর্তী রাফা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এত দিন রাফাকে নিরাপদ মনে করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গাজার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা রাফায় আশ্রয় নিয়েছিল। এদিকে গাজার দেইর এল-বালাহ অঞ্চলে একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হামালায় গাজায় ২৯ হাজার ৬০৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৭ জন। তা ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাছে এ পরিকল্পনা উত্থাপন করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যত দিন পর্যন্ত হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক সক্ষমতা নির্মূল এবং সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনাসহ অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত না হবে, তত দিন গাজায় যুদ্ধ চলবে। যুদ্ধ শেষে স্থানীয় যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী দেশ ও গোষ্ঠীর কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তারা গাজা পরিচালনা করবেন। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে (পিএ) এতে রাখা হবে কি না, তা এ পরিকল্পনায় স্পষ্ট করা হয়নি।
তবে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা সামনে এনেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে ও এর মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
গাজায় শিশু ও নারীর মৃত্যু ৬ গুণ
৭ অক্টোবরের পর থেকে গত সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের একটানা আক্রমণে গাজায় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলের মারাত্মক বর্বরতার বহির্প্রকাশ। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
আনাদোলু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ান-ইউক্রেনীয় যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলনা করেছে। ইসরায়েল প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থলে আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোমাবর্ষণ করছে। ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, গাজায় হামলায় ৬৬ হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১৮৩ টন। এই আগ্রাসনে ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছে।
জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণে গাজা উপত্যকায় ২২ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে। এই অঞ্চলে সাহায্য আনার ক্ষেত্রে তেল আবিবের বাধার কারণেও ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে। উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিরা পশুখাদ্য পিষে ময়দা তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউএন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশন (এইচআরএমএমইউ) অনুসারে, রাশিয়ার আগ্রাসনে ইউক্রেনে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫৭৯ শিশু এবং ২ হাজার ৯৯২ জন নারীসহ মোট ১০ হাজার ৩৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩২ জন। এর মধ্যে মোট ৮ হাজার ৯৫টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এবং ২ হাজার ২৮৩টি রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে। এইচআরএমএমইউ ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও কিছু বেশি হতে পারে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজায় সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের হাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা দুই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যার প্রায় ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে।
কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, হামলার কারণে লক্ষাধিক ইউক্রেনীয় নাগরিক, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের স্বাগতও জানিয়েছে। কিন্তু গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধের অধীনে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার (১৩৯ বর্গ মাইল) এলাকায় আটকা পড়ে আছে। হামলার কারণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো নিরাপদ জায়গাও নেই।
উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের কারণে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহ শহরের ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেও আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ ১২ জনের বেশি বিশ্বনেতা অংশ নেন।
বিশ্বনেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ গত শনিবার সন্ধ্যায় বসে এ আয়োজন। নৈশভোজের খাবারের তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়েছে। নৈশভোজের পুরো মেনুই ছিল নিরামিষ। মাছ-মাংসের কোনো পদ রাখা হয়নি। তবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা ধরনের খাবার ছিল তালিকায়।
শুরুতে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় খান্ডভি মিলেফয় ও খুম্ব গালৌটি কাবাব। গুজরাটের জনপ্রিয় খাবার খান্ডভি বেসন দিয়ে তৈরি। এতে সর্ষে, নারকেল ও কারিপাতার ব্যবহার রয়েছে। কেসর আম, দই ও সবুজ পাতা দিয়ে সাজিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়।
মাশরুম দিয়ে তৈরি খুম্ব গালৌটি কাবাব পুদিনাপাতা দিয়ে গ্রিল করা হয়। পরে শিরমাল রুটির সঙ্গে এটি পরিবেশন করা হয়। মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, গুচ্চি মারমিক, ক্যারট বিন পোরিয়াল, থাক্কালি বেলে সারু ও মিলেট পোলাও।
উত্তর ভারতের জনপ্রিয় পদ পনির লাবাবদার তৈরি করা হয় ছোট পেঁয়াজ ও টমেটোর ঘন ঝোলে নরম পনির দিয়ে। আর হিমালয়ের বিশেষ গুচ্চি মাশরুমের সঙ্গে জাফরান, কিশমিশ ও কাঠবাদাম মিশিয়ে তৈরি করা হয় গুচ্চি মারমিক। ক্যারট বিন পোরিয়ালে গাজর ও বিভিন্ন ধরনের সবুজ বীজের সঙ্গে নারকেল তেল ও দক্ষিণ ভারতীয় মসলা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে থাক্কালি বেলে সারু হলো টমেটো, কারিপাতা ও ডাল দিয়ে তৈরি দক্ষিণ ভারতীয় একটি পদ।
সুগন্ধি বাসমতি চালের সঙ্গে বাজরা ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় মিলেট পোলাও। এর সঙ্গে ছিল দই মেশানো বিটরুটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।
নৈশভোজের শেষ পাতে ছিল পুরোনো দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ফ্রুটক্রিম ও জিলাপি। মৌসুমি ফলের সঙ্গে হালকা হুইপড ক্রিম মিশিয়ে তা জিলাপির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ছিল শাহুতুত ফিরনিও। দুধ, চাল, মিষ্টি মালবেরি ও খাবার উপযোগী সোনার পাত দিয়ে তৈরি করা হয় এ মিষ্টান্ন।
নৈশভোজে খাবারের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। এতে অংশ নেন ১৬০ জন শিল্পী। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও এতে অংশ নেন। পরিবেশিত হয় ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক।
তবে মোদির আয়োজিত নৈশভোজে আমন্ত্রিত নেতাদের সবাই উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদকেও সেখানে দেখা যায়নি।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত সব রাজ্যে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতাসীনদের এই উদ্যোগ ভারতে বসবাসকারী বিশাল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভারতে বসবাসকারী ১৪০ কোটি মানুষের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইন এক হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই বৈচিত্র্যময় ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সর্বজনীন আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল। ভারতের অন্তত চারটি রাজ্য ইতোমধ্যেই এই নতুন আইন চালু করেছে।
গত রোববার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমরা কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি এবং আমি আশাবাদী, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যের সবকটিতেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।’
একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের এই পদক্ষেপ বিশেষ করে মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এই আইনের সমর্থকরা দাবি করছেন, এটি বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ করবে, সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েদের সমানাধিকার নিশ্চিত করবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক করে মুসলিম নারীদের অধিকার সমপর্যায়ে নিয়ে আসবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে দেশটিতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম গোষ্ঠী।
সৌদি আরবের অত্যন্ত কৌশলগত ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় সচল করা সম্ভব না হলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত সম্পূর্ণ নিঃশেষ হওয়ার তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা সতর্ক করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক সংকট চরম আকার নিতে পারে। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হতো। তবে সাম্প্রতিক ক্ষতির মুখে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি কার্যক্রম চালানোর মতো জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া মিসরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরে সৌদি আরবের যে আপৎকালীন মজুত রয়েছে, সঞ্চালন সচল না হলে তাও দ্রুত ফুরিয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটির সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, মেরামতের পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ লেগে যেতে পারে, তবে বিকল্প সূত্রের মতে এর আগেই আংশিক সরবরাহ চালু করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, নৌপথের অস্থিরতা ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ে গত আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ বিগত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সংঘাতের পূর্বে গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল, আগস্টে তা হ্রাস পেয়ে মাত্র ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। সংস্থাটির আশঙ্কা, সামগ্রিক এই অচলাবস্থার জেরে চলতি বছর বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল বা মোট জোগানের ৬ শতাংশ জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্রিটিশ মুসলমানরা কতটা ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হতে পেরেছেন? এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি। এই জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশেরও বেশি মুসলমান।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ জানিয়েছে—১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রিন্স চার্লস (বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস) পূর্ব লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। ১৯৪৫ সালের পর থেকে সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসতি গড়ে তুলেছিলেন। তাদের জীবনযাত্রা দেখে চার্লস হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন—বাংলাদেশিদের বসবাস ও কর্মপরিবেশ ভারতীয় উপমহাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির মতোই খারাপ। পরে ব্রিটেনের ‘জাতিগত সমতাবিষয়ক কমিশন’-ও জানায়, বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দুর্বল এবং কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত কম।
১৯৮৫ সালে সরকারি এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশি শিশুদের শিক্ষাগত অর্জনকে ‘খুবই নিম্নমানের’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাদের অনেকেই গ্রামীণ বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে গিয়ে খুব সামান্য শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিল এবং ইংরেজিতেও দক্ষ ছিল না। অনেক শিক্ষকও তাদের কাছ থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা করতেন না। বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পেতেন।
সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ এখনো দরিদ্র। আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও তাদের প্রতি দুজনের একজনের আয় জাতীয়ভাবে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশের মধ্যে। একটি মধ্যম সারির বাংলাদেশি পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ পাউন্ডেরও কম; যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে গড় সম্পদ প্রায় ৩ লাখ পাউন্ড।
তবে শিক্ষাক্ষেত্রে চিত্রটি দ্রুত বদলেছে। ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জিসিএসই পরীক্ষায় শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ে পৌঁছে যায়। এখন তারা আরও অনেক এগিয়ে গেছে। ২০২১ সালে জিসিএসই দেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল; শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৮ শতাংশ। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে, আর চিকিৎসা ও দন্ত চিকিৎসায় বেড়েছে তিন গুণ।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হচ্ছে। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন; শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নারীদের ক্ষেত্রে হার ৭৯ শতাংশ। পেশাজীবী বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের চাকরিতেও ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশিরা পিছিয়ে নেই। একই বয়সী বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ এমন চাকরিতে ছিলেন—যা শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের প্রায় সমান।
বাংলাদেশিদের অগ্রগতির পেছনে লন্ডনের মতো অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল শহরে বসবাসও ভূমিকা রাখছে। গবেষকদের মতে, শিক্ষিত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নারীদের সামাজিক ও বৈবাহিক অবস্থানও ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। নতুন অভিবাসীদের আগমন অব্যাহত থাকায় সামগ্রিক অগ্রগতি অনেক সময় চোখে পড়ে না। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটিশ সমাজে বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ ধীরে হলেও স্পষ্টভাবেই এগিয়ে চলছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল–মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বলয়ে হুতিরা নিজেদের এক অপরিহার্য ও শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে জানান দিল।
একসময় হুতিদের একটি বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় ও সামরিক গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের উত্তরের বিশাল এলাকা এবং লোহিত সাগরের পুরো উপকূল নিয়ন্ত্রণ করছে।
হুতিরা মূলত জায়েদি সম্প্রদায়ের অনুসারী। এটি শিয়া ইসলামের একটি শাখা। এই শাখা সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ ইয়েমেনে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে জায়েদিদের ওপর ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে হুতিরা আন্দোলন শুরু করে। জায়েদিরা মূলত দেশটির উত্তরের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বসবাস করে।
হুতি আন্দোলন ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। এর নামকরণ করা হয়েছে গোষ্ঠীটির প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা বদরুদ্দিন আল-হুতি ও তার ছেলে হোসেনের নামানুসারে। ২০০৪ সালে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হাতে হোসেন নিহত হন।
পরে বদরুদ্দিনের আরেক ছেলে আব্দুল মালিক আন্দোলনের দায়িত্ব নেন। তিনি তার অগ্নিঝরা বক্তৃতার মাধ্যমে গোষ্ঠীটিকে উত্তর-পশ্চিমের একটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন। বর্তমানে আব্দুল মালিকের অধীনে কয়েক হাজার প্রশিক্ষিত যোদ্ধা রয়েছেন। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে তাদের।
ইয়েমেনের অধিকাংশ মানুষ হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই বাস করে, যদিও দেশটির ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হুতিদের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো ইয়েমেনের প্রতিবেশী তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলের জন্যও বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা শুরু করার পর তারা বারবার দখলদার দেশটিকে লক্ষ্য বানিয়েছে।
২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হুতিরা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে ছয়টি যুদ্ধে জড়ায়। এমনকি ২০০৯-১০ সালে তারা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গেও যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ২০১২ সালে আরব বসন্তের সময় তারা বিক্ষোভে অংশ নেয়। এর ফলে তৎকালীন শাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। পরে এই সালেহর সঙ্গেই হুতিরা জোট গড়েছিল। তবে সেই বন্ধুত্ব শেষ পর্যন্ত টেকেনি। ২০১৭ সালে হুতিরাই তাকে হত্যা করে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করার মাধ্যমে হুতিরা তাদের শক্তির জানান দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব তাদের ওপর হামলা শুরু করে। এতে যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তাতে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়। দেশটিতে নেমে আসে চরম মানবিক বিপর্যয়।
২০২২ সালে সৌদি-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুতিদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দেশের উত্তরের বড় একটি অংশ এখনো তাদের দখলেই রয়েছে।
গত জুলাই মাসে নতুন করে সংকট শুরু হয়। ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা একটি ইরানি বিমানকে অবতরণ করতে দেয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে সরকারি বাহিনী হুতিদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
তেহরানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ অক্ষের অংশ হলো হুতিরা। এই জোটে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও রয়েছে।
সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই হুতিদের ইরানের ‘হাতের পুতুল’ বলে মনে করে। তাদের অভিযোগ, ইরান এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে, যদিও ইরান বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
তবে হিজবুল্লাহর মতো হুতিরা কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিজেদের চূড়ান্ত নেতা বলে মনে করে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অনেক গভীর হয়েছে। ২০২৪ সালে হুতিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করতেই তাদের এই হামলা।
হামলার কারণে অনেক কোম্পানির জাহাজ বাধ্য হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে হুতিরা ইরানের সমর্থনে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তারা ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও হুতিরা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখে। মূলত সামরিক সাহায্যের জন্যই তারা ইরানের ওপর নির্ভর করে।
ভারতের মাটিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে এক দিনের সফর শেষে নয়াদিল্লি ত্যাগ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গতকাল রোববার বিকালে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি করে তিনি সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। ২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্ত সংঘর্ষের দীর্ঘ অচলাবস্থা পেরিয়ে সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম ভারত সফর।
গত শনিবার ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে ভারতের রাজধানীতে পৌঁছান শি জিনপিং। সফরকালে তিনি কেবলমাত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেই একমাত্র আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। তবে সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে চীনা প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত ছিলেন।
সফর চলাকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লির অভিজাত হোটেল ‘তাজ প্যালেস’-এ অবস্থান করেন। তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হোটেলটিকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা বিমান চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন ছিল একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট এবং বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। কড়া তল্লাশি ও কঠোর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে হোটেলের সব কক্ষ আগেই সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।
চলতি বছর ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গত শনি ও গতকাল রোববারের এই ব্রিকস সম্মেলনটি বিশ্ব ভূরাজনীতিতে ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি করেছিল। এর আগে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হলেও ভারত একটি ‘চেয়ারস স্টেটমেন্ট’ প্রকাশ করে। তবে দিল্লির মূল সম্মেলনে গভীর বিভেদ দূর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি সামগ্রিক যৌথ বিবৃতি দিতে সক্ষম হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে মধ্যমণি করে যৌথ ছবি তোলার পর মূল অধিবেশনে অংশ নেন শি জিনপিং। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ স্বার্থের পক্ষে নয়। এই শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে ১১ সদস্যে সম্প্রসারিত ব্রিকস জোট বিশ্ব অর্থনীতি ও জনসংখ্যার একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। নয়াদিল্লি সম্মেলন থেকে অপ্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো নিয়ে বিশদ আলোচনার পাশাপাশি বৈশ্বিক লেনদেনে ‘সুইফট’-এর বিকল্প এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে ভারতের আপত্তির কারণে জোটটিতে পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার আবেদন স্থগিত রয়েছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর গতকাল রোববার বিকালে নিজের কর্মসূচি সম্পন্ন করে চীন অভিমুখে রওনা হন শি জিনপিং, যা পরবর্তী বছর বেইজিংয়ের ব্রিকস প্রেসিডেন্সি গ্রহণের প্রস্তুতি ও ভারত-চীন কৌশলগত সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মিরের তিন নেতা। তারা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।
বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তারা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।
মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মিরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।
২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মিরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মির নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।
ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মিরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মিরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।
খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’ তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মির ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মিরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখার পর ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি প্রথম ধাপের এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বন্ধের মুখোমুখি হওয়া ২৫২টি মাদ্রাসার অধিকাংশই কওমি ধারার। এর মধ্যে ৪৪টি মালদহ, ৩৭টি উত্তর দিনাজপুর, ৩২টি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসা অবস্থিত।
রাজ্যের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শোকজ করা মাদ্রাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে হবে। কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে, গত জুনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুমোদিত ও অননুমোদিত মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশনার পর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং বাকি ২২টি জেলাজুড়ে এক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনা করে। এতে মাদ্রাসাগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষার্থী ভর্তি, আয়ের উৎস এবং নিবন্ধনের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রী টুডু বলেন, ‘প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব মাদ্রাসায় অপেক্ষাকৃত গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে, এমন আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা বৈধ অনুমোদন দেখাতে না পারলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন নিয়ে চালু রয়েছে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।’
মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় কট্টরপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত করে সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ নিয়ে যেকোনো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড থামানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার সেই কাজটিই করেছে।’
বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেত্রী ও রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও এই প্রশাসনিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দেশবিরোধী শিক্ষা উসকে দিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা এসব অনুমোদনহীন মাদ্রাসায় আশ্রয় নিত। আমরা পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে চাই।
তবে এর বিরোধিতা করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, মাদ্রাসা একটি শিক্ষাব্যবস্থা মাত্র এবং মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর ঢালাওভাবে জঙ্গি তকমা দেওয়া একেবারেই অনুচিত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে সৌদি আরবসহ অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশকে এরই মধ্যে বিকল্প পথের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে, বিশেষ করে লোহিত সাগরমুখী পথের ওপর। কিন্তু ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। এই সরু জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে হুমকিতে পড়েছে লোহিত সাগর।
হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে। ইয়েমেন সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তারা পেরিম দ্বীপও দখল করেছে। দ্বীপটি সরাসরি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মধ্যে অবস্থিত। এসব ঘটনা এমন একটি নৌপথে জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে গোষ্ঠীটির সক্ষমতা বাড়াতে পারে, যে পথটি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর ফলে জ্বালানি বাজারের সামনে ক্রমেই কঠিন একটি প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—হরমুজ প্রণালী যদি কঠোরভাবে সীমিত থাকে এবং লোহিত সাগরের পথ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তাহলে এই অঞ্চলের তেল কীভাবে বিশ্ববাজারে পৌঁছাবে?
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করত। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের উদ্ধৃত জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৯টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে। বৃহস্পতিবার কেপলার মাত্র ৯টি জাহাজকে এই প্রণালী অতিক্রম করতে দেখেছে।
মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের উপকূল থেকে দূরে, ওমানের কাছাকাছি জলসীমা দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই তৎপরতা ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে ওমানের কাছাকাছি জলসীমায় অন্তত ২৩টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ২২ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
এমনকি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে চলাচলে অভ্যস্ত জাহাজের মালিকেরাও হামলা বাড়তে থাকায় ওই এলাকায় জাহাজ পাঠাতে ক্রমেই অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছেন। রপ্তানির পরিসংখ্যানেও এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উইন্ডওয়ার্ডের বিশ্লেষক মিশেল উইজ বকম্যানের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগস্টে যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
সৌদি আরবের ঐতিহ্যগতভাবে কিছু অন্যান্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। দেশটি পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন দিয়ে নিজ ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে অপরিশোধিত তেল পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের টার্মিনাল থেকে তা রপ্তানি করতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিলে এই বিকল্পটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেখান থেকে জাহাজগুলো বাব আল-মান্দেব দিয়ে দক্ষিণ দিকে এশিয়ার দিকে যেতে পারে। আবার উত্তর দিকে সুয়েজ খাল ও ভূমধ্যসাগরের দিকেও যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালী উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির প্রচলিত পথ। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত। সেপ্টেম্বরে তা কমে গড়ে ১৯টিতে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরবের ভেতর দিয়ে লোহিত সাগরে তেল পৌঁছানো হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইনটি একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এশিয়ার দিকে যাওয়ার নৌপথের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে। মোখা ও পেরিমে হুথিদের দখল এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সুয়েজ-ভূমধ্যসাগরীয় পথ পথ সৌদি আরবের তেল লোহিত সাগর থেকে বের করে আনার আরেকটি সুযোগ দেয়। তবে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে এ পথে তেল পাঠাতে বেশি সময় ও বেশি খরচ হয়।
হরমুজ প্রণালী মারাত্মকভাবে সীমিত, বাব আল-মান্দেব হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এবং বিকল্প পথগুলোয় সময় ও খরচ দুটোই বাড়তে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। কিন্তু এখন সেই পথও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে।
হুতিদের মোখা ও পেরিম দখলের ফলে বাব আল-মান্দেবের আশপাশে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি আরও শক্তিশালী অবস্থান পেয়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে লোহিত সাগর থেকে বাব আল-মান্দেব দিয়ে মাত্র দুটি সৌদি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের হাতে এখনো আরেকটি বিকল্প রয়েছে। লোহিত সাগরে পৌঁছানো তেল দক্ষিণ দিকে বাব আল-মান্দেব দিয়ে না পাঠিয়ে উত্তরে সুয়েজ খাল ও ভূমধ্যসাগরের দিকে পাঠানো যেতে পারে।
তবে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের অনেকেই এশিয়ায় অবস্থিত। ফলে এশিয়ার উদ্দেশে তেলবাহী জাহাজ পাঠাতে এই পথে যাত্রা করলে সময় ও খরচ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, যে ভৌগোলিক অবস্থান একসময় সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সুবিধা দিয়েছিল, এখন সেই বিকল্প পথের দুই প্রান্তেই জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন। শনিবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড যদি এক হয়ে যায়, সেটা হবে চমৎকার একটা বিষয়।
ট্রাম্প বলেন, আমি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের বলছি, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। একদিন না একদিন এটা হবেই... আমার মনে হয়, এটা খুবই সুন্দর একটা ব্যাপার হবে।
প্রধানমন্ত্রী মার্টিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ট্রাম্পের কথা শুনেও তিনি নীরব থাকেন। লন্ডনে অবশ্য এ মন্তব্য ভালো লাগেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়ার প্রশ্নে বার্নহামের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে বুধবার পার্লামেন্টে উত্তর আয়ারল্যান্ডে গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে বার্নহাম বলেছিলেন, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই যেখানে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আরও একটা গণভোট চায়। পরিস্থিতি না বদলালে কোনো গণভোট হবে না।
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের গণভোট ডাকার ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতেই রয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমেই ‘দ্য ট্রাবলস’ নামের প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডিইউপির নেতা গ্যাভিন রবিনসন স্পষ্ট করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প ঠিক করবেন না। সেখানকার জনগণই ঠিক করবে। তিনি যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও জানেন নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের কোনো কথার ওপর নির্ভর করে এ সিদ্ধান্ত হবে না।
জনমত জরিপগুলোতে এখনো অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও ব্যবধান কমছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের পর একীভূত আয়ারল্যান্ডের আলোচনা আবার জোরালো হয়েছে।
সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও দেখা করেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প যখন আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন, তখন শ্যানন বিমানবন্দরে কনলি তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। এবারও ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। অনেকে মার্কিন সামরিক নীতি, আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা এবং গাজায় ইসরায়েলের
প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সফরের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক সম্মেলন মানেই মূলত গুরুগম্ভীর আয়োজন। তবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে এসে ব্যাতিক্রম ঘটালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার সন্ধ্যার এক অনুষ্ঠানে বলিউডের জনপ্রিয় গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের আনন্দে মাতান তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সম্মেলনের নৈশভোজে তিনি কিংবদন্তি শিল্পী কিশোর কুমারের ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হকিকত’ পরিবেশন করেন। এস ডি বর্মনের সুরে ও মাজরুহ সুলতানপুরীর কথায় গানটি ‘তিন দেবিয়াঁ’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
লাইভ পিয়ানোর সঙ্গতে আনোয়ারের গান দ্রুতই অনুষ্ঠানের সবার নজর কাড়েন। কূটনীতি ও রাজনীতির আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মুহূর্তটি পরিণত হয় উষ্ণ সাংস্কৃতিক বিনিময়ে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, গুরু, একটু গান গাওয়ার অনুমতি দেবেন? ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার গায়কির প্রশংসা করেন।
ভারতীয় গান ও সিনেমার প্রতি আনোয়ারের ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি কিশোর কুমারের একই গান পরিবেশন করেছেন। ২০২৪ সালে দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে তিনি মুকেশের জনপ্রিয় গান ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’ও গেয়েছিলেন।
হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিও আনোয়ারের আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এর আগে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) ও পুরোনো তামিল চলচ্চিত্রের গানের প্রতি আনোয়ারের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীবাহী জাহাজ ‘ভিরগো ট্রান্সপোর্ট-৮’-এর ১০৩ জন আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ছাড়া উদ্ধার তৎপরতা চলাকালে একজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌযানটিতে থাকা অবশিষ্ট নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে সমুদ্রজুড়ে এখনও ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
রবিবার সকালে পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া বন্দর থেকে কালিমানথান প্রদেশের বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাওয়ার পথে জাহাজটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার মুহূর্তে নৌযানটিতে সর্বমোট ২৪৩ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য অবস্থান করছিলেন। বানজারমাসিন উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানকালে নৌযানটি বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সেটির সর্বশেষ চিহ্নিত অবস্থানের দিকে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠায়।
উদ্ধারকাজ চলাকালে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ অনুসন্ধানকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সুদায়ানা জানান, আড়াই মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ অতিক্রম করে উদ্ধারকর্মীদের ওই অঞ্চলে কাজ করতে হচ্ছে। বৈরী পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জাহাজগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি আমাদের ৪০ মিটার দীর্ঘ বাসারনাসের জাহাজটিও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য নৌযানই অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে প্রায়ই আকস্মিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং দুর্বল নিরাপত্তা বিধিমালার কারণে দেশটিতে বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী জিজান প্রদেশে একটি মসজিদসহ একাধিক বসতবাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জিজানের আল-তুয়াল এলাকায় সংঘটিত এই আকস্মিক হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোকে নিশানা করে পরিচালিত এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এই হামলার পর সৌদি-ইয়েমেন সীমান্ত রেখায় পুনরায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
হামলার দায় স্বীকারের ক্ষেত্রে হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও দেশটির আভা, খামিস মুশাইত, জিজান এবং নাজরান অঞ্চলে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালায় হুথিরা, যাতে নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হয়েছিলেন।
সীমান্তবর্তী হামলার পাশাপাশি সম্প্রতি ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী কৌশলগত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে সরকারি বাহিনীর ওপর জোরালো স্থল অভিযান শুরু করেছে হুথি গোষ্ঠী। কয়েক দিনের ব্যবধানে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে কয়েকশ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে পাঁচ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৫০ সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় সীমান্ত অঞ্চলে আপেক্ষিক শান্তি বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ধারাবাহিক হামলায় সেখানে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।