মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৮ বৈশাখ ১৪৩৩

মারা গেলেন চীনের সাবেক সেরা ধনী জং কিংহো

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:১১

চীনের সাবেক ধনী জং কিংহো রোববার মারা গেছেন। তার কোম্পানি একথা জানিয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। কিংহোর শীর্ষস্থানীয় কোমল পানীয় সংস্থা তাকে একসময় দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বানিয়েছিল।

কিংহো ছিলেন ওয়াহাহা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠানের ছিল বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, চা এবং অন্যান্য পণ্যে।

প্রতিষ্ঠানটি তার ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি শোক বার্তায় বলেছে, ‘অসুস্থতার শোক বার্তায় বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংজুতে কোম্পানির অফিসে বুধবার জং-এর জন্য স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, জং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু তিনি কী রোগে আক্রান্ত ছিলেন তার কোনো উল্লেখ করা হয়নি।

জং শুধুমাত্র তার ৪০-এর দশকে ব্যবসায় নেমেছিলেন। শিশুদের কাছে কোমল পানীয় বিক্রি করতো এবং কথিত আছে যে, নগদ অর্থের এত অভাব ছিল যে তিনি বেইজিংয়ের একটি সেতুর নীচে শুয়েছিলেন। কারণ, তার হোটেলে থাকার সামর্থ্য ছিল না।

তিনি ১৯৮৭ সালে ওয়াহাহা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে একটি পানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন। যার পানীয়গুলো চীন জুড়ে দোকান এবং সুপারমলে বিক্রি হতো।

২০১০ সালে জং ফোর্বস ম্যাগাজিন দ্বারা চীনের সবচেয়ে সেরা ধনী ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। তার সম্পদের মূল্য ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

টাইকুন এর আগে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ট্যাক্স কমানোর জন্য সমর্থন জানিয়েছিলেন কিংহো। ২০১৩ সালে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য কোনো সমস্যা নয়।

সেই সময়ে জং বলেছিলেন, ‘সম্পদ সৃষ্টিতে মানুষকে উৎসাহিত করাই উত্তম।’

বিষয়:

ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরে কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধ চলাকালে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। পরবর্তীতে ওই বিমানে থাকা এক পাইলট ও ক্রুকে বিশাল অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ইউনিট।

সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এমন খবর জানার পর নিজের সহযোগীদের ওপর কয়েক ঘণ্টা ক্ষোভে চিৎকার করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর যখন যুদ্ধবিমানের পাইলট ও ক্রুকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয় তখন ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে বাইরে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন একটি সূত্র। কার‌ণ ট্রাম্পের অধৈর্যতা উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটাবে বলে ধারণা ছিল তাদের।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পরই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যা পুরো বিশ্বে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারাও অবাক হয়ে যান ইরান এত দ্রুত ও সহজে কীভাবে হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবাক হন ট্রাম্পও। তিনি এমনও মন্তব্য করেন ‘শুধুমাত্র ড্রোন দিয়েই একজন কীভাবে হরমুজ বন্ধ করে দিতে পারে। ‘

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসসহ ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভিযানের হালনাগাদ তথ্য নিতে ‘সিচুয়েশন রুমে’ যুক্ত হন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাকে ফোনে তথ্য দেওয়া হচ্ছিল।

৩ এপ্রিল প্রথম ক্রু উদ্ধার হওয়ার পর, দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজে বের করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সময় ছিল খুবই কম। কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানি বাহিনী আগেই তাকে আটক করে ফেলতে পারে। অবশেষে প্রথম ক্রু উদ্ধার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়, দ্বিতীয়জনও উদ্ধার হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সহায়তায় এই উদ্ধার অভিযান সম্ভব হয়েছে। তারাই পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসকে ক্রুদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি ছিল খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কাজ। তবে এ ক্ষেত্রে সে সুই হলো এক সাহসী মার্কিন প্রাণ, যিনি পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন। সিআইএর বিশেষ প্রযুক্তি ছাড়া তাকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল।’

উদ্ধার অভিযান চলার সময় ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় সিআইএ একটি প্রচারণা চালিয়েছিল। তারা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিল যে নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুসারে, ট্রাম্প মধ্যরাতের দিকে ট্রুথ সোশ্যালে অভিযানের সাফল্যের কথা প্রচার করেন এবং রাত দুইটায় ঘুমাতে যান। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ের শত্রুসীমানায় ছিলেন। শত্রুরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ও প্রতি ঘণ্টায় তারা তার আরও কাছে চলে আসছিল।’


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে শঙ্কা

তেহরানে ধ্বংসস্তূপের মাঝ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অগ্রাহ্য করার অভিযোগে ইরানের একটি কার্গো জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটক করেছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়েছে।

ইরানি জাহাজ আটকের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আমিন সাইক্যাল। আল জাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ সহজেই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি উভয় পক্ষ সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে চায়, তাহলে এখনই এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত যা সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে।’ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান প্রসঙ্গে সাইক্যাল বলেন, ‘একদিকে তিনি সংকটের সমাধান চান বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছেন। এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’

যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে উভয় পক্ষই ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের জন্য নতুন এক প্রতিরোধক শক্তি হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক গবেষক মোহাম্মদ এসলামি মনে করেন, ‘ইরান প্রণালিটি বন্ধ করেছে সেটি আবার খোলার জন্যই। এটি মূলত একটি দর-কষাকষির কৌশল।’

’যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইল বাঘেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বাঘেই অভিযোগ করেন, গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি প্রথম থেকেই ভঙ্গ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন প্রথম থেকেই চুক্তির শর্ত অমান্য করে নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে এবং অতীতে আলোচনার চলাকালীন সময়েও হামলা চালিয়েছে, যা তেহরান ভুলে যায়নি। এই বিষয়টি ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানকেও অবহিত করেছে ইরান।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিনিদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই, তবে তেহরান সর্বদা তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যাবে। বাঘেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো যুদ্ধের উসকানি দেয় বা সংঘাত শুরু করতে চায়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকে ইরান তাদের ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অসহযোগিতার কারণে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

বৈঠকে লেবানন প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই ইরানি কূটনীতিক বলেন, একটি সমঝোতা হয়েছিল যে লেবাননও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে। কিন্তু পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পরও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করে।

বাঘেই দাবি করেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের আগ্রাসী মনোভাবই দায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার টেবিলে বসেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার দরজা বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এখনো আশাবাদী। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর আসন্ন বৈঠকটি আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে তারা আর কোনো ‘অফলপ্রসূ’সংলাপে অংশ নেবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে মোট নিহত ৩ হাজার ৩৭৫

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৭৫ জনে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মাসজেদি জানান, ব্যবহৃত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্রতার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ মরদেহ প্রথমদিকে শনাক্ত করা যায়নি। পরে তেহরান, ইসফাহান ও হরমোজগানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষজ্ঞরা এসব মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের বড় অংশই ছিলেন সাধারণ মানুষ-শিশু, বয়স্ক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলাকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই ঘটনায় ১৬৮ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন দফায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে।


ইলন মাস্ককে ফ্রান্সে তলব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে তলব করেছে ফ্রান্সের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। শুধু মাস্কই নন, এক্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিন্ডা ইয়াক্কারিনোকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন জারি করেছে প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট প্রচার, ডিপফেক ছবি তৈরি এবং প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে মাস্কের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই তদন্ত করা হচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে প্যারিস প্রসিকিউটরের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এ তদন্ত শুরু করে। তাদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক্সের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’।

তদন্তকারীদের দাবি, গ্রোকের মাধ্যমে হলোকাস্ট বা নাৎসি গণহত্যাকে অস্বীকার করে আপত্তিকর তথ্য প্রচার এবং যৌন উত্তেজক ডিপফেক ছবি তৈরির মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

অপতথ্য ও ঘৃণামূলক তথ্য ছড়ানো বন্ধে কাজ করা সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট (সিসিডিএইচ) গত জানুয়ারির শেষ দিকে দাবি করেছিল, মাত্র ১১ দিনে গ্রোক প্রায় ৩০ লাখ আপত্তিকর ছবি তৈরি করেছে, যার মধ্যে ২৩ হাজার ছবি শিশুদের মতো দেখতে ছিল।

এছাড়া, এক্স প্ল্যাটফর্মের পক্ষপাতমূলক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাকে ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্যারিসে এক্সের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোর পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়।

প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে মাস্ক এবং ইয়াক্কারিনোকে স্বেচ্ছায় সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের লক্ষ্য, এক্স প্ল্যাটফর্ম যাতে ফরাসি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া। তবে মাস্ক বা ইয়াক্কারিনো এই শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে, এই তদন্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফরাসি প্রসিকিউটররা মার্কিন বিচার বিভাগ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন।

তাদের দাবি, এক্স ও এক্সএআইর বাজারমূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ ফরাসি কর্তৃপক্ষের এই তদন্তে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ফ্রান্স তার ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মার্কিন ব্যবসার ক্ষতি করতে এবং বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।

সংকট এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ বা আরএসএফ এক্স প্ল্যাটফর্মে ভুল তথ্য বা ডিজইনফরমেশন ছড়ানোর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করেছে।

আরএসএফে’র মতে, এক্স প্ল্যাটফর্ম ডিজইনফরমেশনের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে, যার মধ্যে কিছু পোস্ট কয়েক লাখ ভিউ পেয়েছে। যদিও এলন মাস্কের প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, তবুও তারা আরএসএফের বারবার করা সতর্কবার্তাগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এটি এক্সের একটি ইচ্ছাকৃত নীতি, যা নির্ভরযোগ্য তথ্যের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটি নির্ভরযোগ্য তথ্যের অধিকার বারবার লঙ্ঘন করছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে বারবার আসা সতর্কবার্তাগুলোকেও ইচ্ছেকৃতভাবে উপেক্ষা করছে।

সব মিলিয়ে, ইলন মাস্কের এই প্ল্যাটফর্মটি এখন একদিকে ফরাসি আইনি ব্যবস্থার কঠোর চাপের মুখে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কে জড়িয়েছে।


মার্কিন রণতরী থেকে গুলির পর ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে সমুদ্রপথে বড় ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ওমান উপসাগর দিয়ে চলার সময় ‘তুসকা’ নামে একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে মার্কিন রণতরী থেকে সেটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানি জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার দেওয়া গতিরোধ করার সতর্কতা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস স্প্রুয়েন্স’ (USS Spruance) থেকে জাহাজটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এই গুলিবর্ষণে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত বা ছিদ্র হয়ে গেলে সেটি সমুদ্রের মাঝেই অচল হয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ হেফাজতে রয়েছে এবং সেটির ভেতরে সন্দেহজনক কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা অবৈধ পণ্য রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, গত রোববার উত্তর আরব সাগরীয় এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। ‘তুসকা’ নামের ওই জাহাজটি ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সমুদ্রবন্দর ‘বন্দর আব্বাস’-এর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর মার্কিন নৌবাহিনী এটিকে থামানোর নির্দেশ দেয়, যা পরবর্তীতে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।

এমন এক সময়ে এই ঘটনাটি ঘটল যখন বিশ্বের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চরম রাজনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন এই পদক্ষেপ ইরানের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একটি বড় ধরণের আঘাত এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের প্রতি একটি শক্ত বার্তা। ওমান উপসাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে আরও এক ধাপ সামনে নিয়ে গেল। তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই জাহাজ জব্দের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলোতে বড় ধরণের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো বিশ্ব গভীর উদ্বেগের সাথে এই উত্তপ্ত সমুদ্রপথের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।


জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইসলামাবাদ যাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা নিরসনে এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষে পুনরায় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সোমবার সন্ধ্যায় পৌঁছাচ্ছে মার্কিন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রতিনিধিরা আজ রাতেই পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, এই সংবেদনশীল মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

এই প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি থাকছেন ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিনিধিরা এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন। যদিও সেই আলোচনা থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি বা ফলাফল বেরিয়ে আসেনি, তবে দ্বিতীয় দফার এই প্রচেষ্টাকে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা মূলত আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি কৌশল।

জেডি ভ্যান্সের এই সফর নিয়ে শুরুতে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল। গত রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তার খাতিরে ভ্যান্স এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন না। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভাইস প্রেসিডেন্টকেই এই মিশনের প্রধান হিসেবে পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে এখন কতটা মরিয়া।

এদিকে, এই আলোচনায় তেহরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো এক ধরণের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় তাঁরা পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী নয়। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, কোনো ধরণের শর্তহীন পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সংলাপে বসা তাঁদের জন্য কঠিন। প্রথম দফার আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল, তা নিরসন করাই হবে এবারের বৈঠকের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন পুনরায় ইসলামাবাদের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা আর কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই নতুন দফার আলোচনা যদি সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় ধরণের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে আলোচনার টেবিলে দুই দেশের অনড় অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক দিকে মোড় নেয় কি না, তা দেখার জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।


নির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’ মানার শর্তে বৈঠকে বসতে রাজি তেহরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে পাকিস্তানের পথে রয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে তেহরানও এই বৈঠকে বসতে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে, তবে এর বিনিময়ে তারা মার্কিন প্রশাসনের সামনে কিছু কঠোর শর্ত বা ‘লাল রেখা’ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তারা সংলাপে বিশ্বাসী হলেও যেকোনো মূল্যে বা শর্তহীনভাবে মাথা নত করবে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তেহরানের আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তারা অপর পক্ষের যেকোনো পদ্ধতি বা অযৌক্তিক দাবি মেনে নেবে। ইরান তাঁর জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিছু সুনির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’ বা সীমা নির্ধারণ করেছে, যা মার্কিন পক্ষকে অবশ্যই সম্মানের সাথে মেনে নিতে হবে। অন্যথায় এই সংলাপ ফলপ্রসূ হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি এখনো শতভাগ নিশ্চিত না হলেও, ইব্রাহিম আজিজি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সবকিছু নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা ‘ইতিবাচক সংকেতের’ ওপর। তিনি বলেন, ইরান কখনোই আলোচনার নীতিকে ভয় পায় না, তবে মার্কিন আলোচনাকারী দল এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা বার্তা কতটা গঠনমূলক ও ইতিবাচক হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই আজ বা আগামীকালের মধ্যে প্রতিনিধি পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তেহরান বর্তমানে পরিস্থিতির গভীর মূল্যায়ন করছে এবং একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের আগমনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, প্রথম দফার বৈঠক যেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলের আশপাশের সকল সংযোগ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় এক ধরণের ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি বজায় রাখছে পাকিস্তান সরকার। এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের যাত্রা নিশ্চিত করায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। সেই ব্যর্থতার রেশ কাটিয়ে দ্বিতীয় দফায় এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে, জে ডি ভ্যান্সের এই সফর এবং ইরানের দেওয়া ‘লাল রেখা’র মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রেখে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব হয় কি না। এই সংলাপের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান নাকি নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হবে।


নিজের সাত সন্তানসহ ৮ শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন পাষণ্ড বাবা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রেভপোর্টে এক পৈশাচিক ও মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক বাবা তাঁর নিজের সাত সন্তানসহ মোট আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে তিনটি আলাদা বাড়িতে হানা দিয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালান ঘাতক পিতা। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটি যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই অভাবনীয় নৃশংসতায় পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহত শিশুদের মধ্যে তিন জন ছেলে এবং পাঁচ জন মেয়ে ছিল, যাদের বয়স মাত্র ৩ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। পুলিশি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাত জনই ঘাতকের আপন সন্তান এবং অপর এক শিশু তাঁর নিকটাত্মীয় ছিল। নিহত শিশুরা হলো— জায়লা এলকিন্স (৩), শায়লা এলকিন্স (৫), কায়লা পিউ (৬), লায়লা পিউ (৭), মারকেডন পিউ (১০), সারিয়া স্নো (১১), খেডারিওন স্নো (৬) এবং ব্রেলন স্নো (৫)। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কোমলমতি এই শিশুদের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা কর্পোরাল ক্রিস বোর্ডেলোন জানিয়েছেন, ৩১ বছর বয়সী এই ঘাতক বাবার নাম শামার এলকিন্স। তিনি প্রথমে নিজের স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান, যাতে তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। স্ত্রীকে গুলি করার পর তিনি ক্ষান্ত হননি; বরং উন্মাদের মতো আরও দুটি বাড়িতে গিয়ে একে একে নিজের সন্তানদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় তাঁর গুলিতে শিশুদের মা এবং ঘাতকের এক নারী আত্মীয়ও গুরুতর জখম হন। বর্তমানে ওই শিশুদের মা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে চরম এই বিপদের মুখে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রাণে বেঁচে গেছে। ঘাতকের হাত থেকে বাঁচতে সে ছাদ থেকে লাফ দিলে শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে যায়, তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

শামার এলকিন্সের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি এর আগেও সহিংস অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে একটি স্কুলের সামনে জনৈক ব্যক্তির গাড়িতে পাঁচটি গুলি চালানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ছাড়া, শামার এলকিন্স টানা সাত বছর লুইজিয়ানা আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২০ সালের আগস্টে তিনি সেখান থেকে বিদায় নেন। তবে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁকে কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়নি।

এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার এক পর্যায়ে শামার এলকিন্সকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই গণ-হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বন্দুক সহিংসতা এবং পারিবারিক কোন্দলের এমন চরম বহিঃপ্রকাশ নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।


সংস্কার ও শর্ত বাস্তবায়নের চাপে আইএমএফের ঋণের কিস্তি

* রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কারে চাপ * বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহারের শর্ত * বিলম্বিত হতে পারে কিস্তির অর্থ ছাড় * আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্কটি চ্যারিটি নয়, বাণিজ্যিক সম্পর্ক: অর্থমন্ত্রী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইমামুল ইসলাম

রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নসহ নানা শর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ঝুলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং জানিয়েছে, উভয়পক্ষই একমত হয়েছে যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং সংলাপের মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় অংশগ্রহণ শেষে গত শনিবার দেশে ফিরেছেন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেছেন, আইএমএফের সব শর্ত মেনে বর্তমান নির্বাচিত সরকার ঋণ নেবে—এমনটি ভাবার কারণ নেই। কারণ আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্কটি কোনো চ্যারিটি নয়, বরং এটি একটি বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
তিনি আরও বলেন, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। আরো ১৫ থেকে ২০ দিন চলতে পারে, এমনকি একমাসও চলতে পারে। আইএমএফ-এর সঙ্গে আলোচনায় আমরা পুরোপুরি একমত হতে পারিনি। আইএমএফ কি চাচ্ছে সেটা আমরা পর্যালোচনা করছি।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বিশ্লেষণে জানা যায়- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এ অবস্থায় চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার যে আশা করছে বাংলাদেশ, তা জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে না কি না- নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বর্তমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখনো মোট ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাবে, যার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হবে।
আইএমএফ আমাদের বলেছে, ঋণচুক্তির আওতায় রাজস্ব খাত ও ব্যাংক খাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করাসহ যেসব শর্ত ছিল, বাংলাদেশ সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায়, চলমান ঋণচুক্তির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি রিভিউ (পর্যালোচনা) না করে ঋণের কিস্তি ছাড় করার ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ যদি সব শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়, তবুও কোনো অর্থ ছাড় বিলম্বিত হতে পারে।
তবে গত মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জুনে কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।
গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, তিনি সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরুর সঙ্গে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময়।
আইএমএফ-এর ঋণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব নিয়ে আলোচনা হয়, এখানে অ্যামাউন্ট কোনো বিষয় নয়। অনেকে সেটি বুঝতে চায় না। আইএমএফ কী চাচ্ছে সেটা আমরা পর্যালোচনা করছি। আমাদেরও চাওয়া পাওয়া রয়েছে, আমরা একটি নির্বাচিত সরকার। কেউ কিছু চাইলেই আমরা সেটা মানব সেরকম না। বর্তমান সরকার জনগণের, ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বর্তমানে যে ঋণ কর্মসূচিটি রয়েছে, সেটি আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া এবং সেখানে অনেক শর্ত রয়েছে। আর এর মেয়াদ রয়েছে মাত্র সাত মাস। আওয়ামী লীগ সরকার যেসব শর্তে এই ঋণ নিয়েছিল, তার সবকিছু বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। জনগণের অসুবিধা হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান নির্বাচিত সরকার নেবে না। আমরা সিদ্ধান্ত নেব পরবর্তী প্রোগ্রামে যাব কি না।
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের স্প্রিং মিটিং-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে। গত শুক্রবার গণমাধ্যমে আসা এ খবরকে নাকচ করে দিয়েছে সরকার। ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে বলে গণমাধ্যমে যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’।
এতে বলা হয়, বৈঠকগুলোতেও এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং আলোচনাগুলো অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত’ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজস্ব খাতে কোনো সংস্কার হয়নি এবং পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি কমানোরও কোনো প্রচেষ্টা ছিল না। এ কারণেই আইএমএফ বর্তমান ঋণ কর্মসূচিতে অসন্তুষ্ট এবং এখন এটি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। আইএমএফ কর্মসূচির শেষ কিস্তিগুলো পর্যালোচনার আগে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় সরকার আইএমএফের সব শর্ত মেনে কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, অথবা শর্ত প্রত্যাখ্যান করে চুক্তি থেকে সরে আসবে।


ভিজিট ভিসায় হজ বন্ধ করল সৌদি, জরিমানসহ একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরব হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে নতুন কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো ধরনের ভিজিট ভিসা নিয়ে হজ পালন করা যাবে না। খবর গালফ নিউজ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধুমাত্র বৈধ হজ পারমিটধারীরাই মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন। জিলকদ মাসের শুরু থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ বা অবস্থান করলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথাও জানানো হয়েছে। ভিজিট ভিসাধারীরা হজ পালনের চেষ্টা করলে বা মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া হজ পালন করলে প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে পাঠানো হবে এবং তাদের ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হজকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘পারমিট ছাড়া হজ নয়’ স্লোগানের আওতায় এই অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।সাধারণ মানুষকে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি নম্বর ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে হজ পালন করা স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। তারা সতর্ক করেছে, নিয়ম মেনে চলাই হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


লিবিয়া উপকূলে বাংলাদেশিসহ ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমানোর নেশা আরও একবার পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জুয়ারা উপকূল থেকে গত কয়েক দিনে ১৭ জন অভিবাসীর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের একটি দল নিশ্চিত করেছে। শনাক্ত হওয়ার পর ওই বাংলাদেশির মরদেহ ত্রিপোলিতে অবস্থানরত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে ধর্মীয় ও আইনি নিয়ম মেনে দাফন করা হয়েছে। তবে এখনো ২জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি, যাদের শনাক্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার এই উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে এই হতভাগ্য মানুষদের মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। ইউরোপের স্বপ্ন নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া এই মানুষগুলো আজ শুধুই একেকটি লাশ।

২০১১ সালের পর থেকে লিবিয়া অবৈধভাবে ইউরোপ প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য আর বেকারত্ব থেকে বাঁচতে এশিয়া ও আফ্রিকার হাজারো মানুষ দালালদের প্রলোভনে পড়ে এই ভয়ংকর পথ বেছে নেন। ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিক বা রাবারের নৌকায় উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অথবা সাহারা মরুভূমিতে তীব্র পানি ও খাদ্য সংকটে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু প্রায়ই ঘটছে।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে যথাযথ ধর্মীয় ও আইনি নিয়মে দাফন করা হয়েছে। আর ২ জনের পরিচয় এখনো তদন্তাধীন রয়েছে, যাদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।


‘হরমুজ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলেই হামলা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালুর ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এটি এক নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তন।

ইরানের বার্তাসংস্থা গত শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই অবরোধ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। বিবৃতিতে হুঁশিয়ার করে আরো বলা হয়, আমরা সতর্ক করছি, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নোঙর করা কোনো ধরনের জাহাজই যেন নিজের জায়গা থেকে না সরে।

হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কোনো জাহাজ এই নির্দেশ অমান্য করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদে যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় জ্যেষ্ঠ ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আরও বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী কয়েক দিন ধরেই অবরোধ ঘোষণা করে আসছে। এটি একটি অদক্ষ ও অজ্ঞ সিদ্ধান্ত।’

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালি স্বল্প সময়ের জন্য খুলে দিয়েছিল ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার জলপথটি ‘সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়।

কিন্তু ওই ঘোষণার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

আইআরজিসি অবস্থান পরিবর্তনের আগে এই কয়েক ঘণ্টায় এক ডজনের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইরানি গানবোট দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর গুলি চালিয়েছে। হামলার শিকার জাহাজ দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজে ‘গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটার’ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই অঞ্চলে থাকা কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তা পেয়েছে। ওই বার্তায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজকেই প্রণালি দিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।


রণতরী কিনছে অস্ট্রেলিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর বহরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটির চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। রোববার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত শনিবার মেলবোর্নে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লস এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কইজুমি শিনজিরো এই চুক্তির ঘোষণা দেন। এদিন এক বৈঠকে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ‘মোগামি মেমোরান্ডাম’ নামে পরিচিত এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে ‘ঘনিষ্ঠ শিল্প সহযোগিতাসহ’ সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, জাপানের মিতসুবিসি হেভি কারখানা নাগাসাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি স্টেলথ ফ্রিগেট নির্মাণ করবে। আর অস্ট্রেলিয়ার বাকি আটটি জাহাজ তৈরি করা হবে। জাপানে নির্মিত প্রথম যুদ্ধজাহাজটি ২০২৯ সালে সরবরাহ করা হবে এবং ২০৩০ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেবায় যুক্ত হবে।

মার্লস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের নৌবহর গত কয়েক দশকের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সাধারণ উদ্দেশ্যের ফ্রিগেটগুলো আমাদের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিনজিরো বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের জন্য প্রতিরক্ষা সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছে।’

গত বছর অস্ট্রেলিয়া সরকার জানায়, পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের জন্য মিতসুবিসি হেভি কারখানাকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ জন্য এ জন্য টোকিওভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জার্মানির থাইসেনক্রুপের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়া আগামী এক দশকে সামরিক খাতে রেকর্ড ৩০৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের অংশ। এর লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নৌ-শক্তি বৃদ্ধি করা। এই পরিকল্পনার অধীনে ২০৩৩ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। টোকিও ও ক্যানবেরা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ‘কোয়াড’ নিরাপত্তা জোটের সদস্য।


ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, শান্তি চুক্তি না হলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ন্যায্য এবং যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি আশা করি তারা (ইরান) এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’

ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়েছে—যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন!’

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইরান সম্প্রতি প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমাদের অবরোধ এমনিতেই সেটি বন্ধ করে রেখেছে। তারা না বুঝেই আসলে আমাদের সাহায্য করছে।’

ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, তবে শান্তি চুক্তি হবেই: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছে। তবে এরপরেও একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে এ কথা বলেছেন।’ জনাথন কার্ল বলেন, ‘ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ‘এটি (শান্তি চুক্তি) হবেই। কোনো না কোনোভাবে এটি হবে। হয় সহজভাবে, না হয় কঠিনভাবে; কিন্তু এটি ঘটবে। আপনি আমার উদ্ধৃতি দিতে পারেন।’

ট্রাম্পের ভোল বদল

মাত্র একদিনে কত কিছুই না ঘটে গেল! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি সচল হলো, তার জন্য ইরানকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; কিছুক্ষণ পরেই আবার জানালেন, ইরানি বন্দরের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলবে; এর জবাবে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ কমে যায়।

কিন্তু ভোল বদলাতে দেরি করেননি ট্রাম্প। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।

ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের জেরে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আবারও প্রণালিটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, মার্কিন অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালির দিকে আসা যেকোনো জাহাজকে শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

গত শনিবার ইরানি সামরিক বাহিনীও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলমান থাকলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। একই দিনে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে দুটি জাহাজে গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে ইরানি গানবোট জড়িত ছিল বলে জাহাজের ক্যাপ্টেন দাবি করেছেন।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত এক বিরল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনী ‘শত্রুকে নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিতে প্রস্তুত’। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে না আসা খামেনির এই বার্তা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, তবে এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মতবিরোধ রয়ে গেছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং চলমান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও, এটি বাড়ানো হবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।


banner close