অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ছয় মাসের জন্য পেট্রোল রপ্তানি নিষিদ্ধ করল রাশিয়া। আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন, যা ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের শুরুর দিকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল রাশিয়া।
রাশিয়ার অন্য একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যালেকজান্ডার নোভাক এক চিঠির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেন। এতে তিনি অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদার কথাও উল্লেখ করেন।
নোভাক বলেন, পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছরে গড়িয়েছে। কবে থামবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ তার কোনো ইঙ্গিতও মিলছে না। তবে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়ার ওপর আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
যুদ্ধে ৩১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন তার তথ্য দেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ এটি রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা রাষ্ট্রগুলোর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’কে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। ফেডারেল কোর্টের সমমর্যাদাসম্পন্ন এই আদালত গত বৃহস্পতিবার এক রায়ে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘আইন বহির্ভূত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিন সদস্যের বিচারক বেঞ্চের মধ্যে দুই বিচারক এই রায়ের পক্ষে রায় দিলেও একজন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, আইইইপিএ নামের যে আইনের দোহাই দিয়ে ট্রাম্প ‘বেইসলাইন শুল্ক’ কার্যকর করেছিলেন, তা তাঁকে এ ধরনের নির্দেশ প্রদানের আইনি অনুমোদন দেয় না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, বর্তমান প্রশাসন যদি এই রায় বাতিলের আবেদন করতে চায়, তবে তাদের প্রথমে ওয়াশিংটনের ‘ইউএস কোর্ট অব আপিল ফর দ্য ফেডারেল সার্কিট’ আদালতে আপিল করতে হবে। সেখানেও যদি রায় বিপক্ষে যায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সর্বশেষ আইনি আশ্রয়স্থল হবে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএ-এর ক্ষমতা ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিতর্কিত এই শুল্কনীতি ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে বাণিজ্যিক সহযোগীদের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কার্যকর করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত এক বছরে কেবল এই অতিরিক্ত শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার জমা হয়েছে।
এর আগে চলতি ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও এক রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। আদালত তখন জানিয়েছিলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের আইনটি বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে, ফলে ওই আইনের আওতায় আরোপিত শুল্কও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই দিনই ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের অধীনে বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক লিখিত বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন যে, আগামী ১৫০ দিন এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সেই সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ২৪ জুলাই অস্থায়ীভাবে আরোপিত এই বিশেষ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও একে ‘পরাজয়’ হিসেবে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। খুব অল্প সময় মেয়াদ আছে তার সরকারের। কিন্তু তারপরে কী হবে?
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বিজেপি নেতারা ঠিক করেছেন ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তার অবস্থানে অনড় থাকলে শুক্রবার (৮ মে) মাঝের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমীভাবে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে- এমনটাই মত প্রবীণ আইনজ্ঞদের। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা অনেকেই গোটা ভারতে এর কোনো পূর্ব নজিরের কথা সাম্প্রতিক অতীতে মনে করতে পারছেন না।
সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময়ে শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটা একটা সাংবিধানিক সৌজন্যের প্রকাশ। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ার আগে তিনিই কাজ চালান।
কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে বুধবার (৬ মে)। সেখানেও নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তামিলনাড়ুর ফারাক আছে। কারণ, পরাজয়ের পরে এম কে স্ট্যালিন এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছে। রাজ্যপাল স্ট্যালিনকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেটি হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালের ‘সদিচ্ছায়’একটা রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন মেনে বৃহস্পতিবার, ৭ মে রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এর পরে এক মিনিটও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে তখন থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল বুধবার ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারিভাবে কবে শপথ নিতে চায়, তা-ও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ হবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি।
বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশ মতো তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার সিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। সেটা হলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে।’
সাংবিধানিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ
পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করায় পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক সংকট। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দেওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। সব রেকর্ড থাকুক।
সাধারণত নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ সরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু এবার সেই রীতি মানছেন না মমতা।
এ অবস্থায় সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদায়ী মন্ত্রিসভা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাই সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ২৯৩টি আসনের গেজেট নোটিফিকেশন ইতোমধ্যে রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সমর্থিত বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। দলটি জানিয়েছে, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ায় ঘনিয়ে আসছে চরম অস্থিরতা। প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানের ভয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন লোকচক্ষুর আড়ালে মাটির নিচের গোপন বাঙ্কারে সময় কাটাচ্ছেন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এই দাবি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড মহামারির সময় থেকেই পুতিন নিজেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলা এবং রাশিয়ার ভেতরে সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে তিনি মস্কোর বাসভবনের পরিবর্তে দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের মাটির নিচের সুরক্ষিত বাঙ্কারে মাসের পর মাস অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, পুতিনের কাছাকাছি কাজ করা রাঁধুনি, আলোকচিত্রী এবং দেহরক্ষীদের মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তাদের বাড়িতেও বসানো হয়েছে নজরদারি ক্যামেরা।
এদিকে পুতিন যে স্বাভাবিক আছেন তা বোঝাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়ই তার আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিও প্রচার করছে। সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ঠেকাতে প্রায়ই মস্কোর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুতিনের এই দীর্ঘ আইসোলেশন এবং জনবিচ্ছিন্নতা নিয়ে রাশিয়ার ভেতরেও জনমনে অসন্তোষ ডানা বাঁধছে। সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া বোনিয়া নামক এক জনপ্রিয় রুশ ব্লগারের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ১.৫ মিলিয়নের বেশি লাইক পেয়েছে, যেখানে তিনি সরাসরি বলেন যে— ‘মানুষ এখন প্রেসিডেন্টকে ভয় পাচ্ছে।’
প্রতিবেদন আরও বলা হয়, শুধু পুতিনই নন, রাশিয়ার শীর্ষ ১০ জেনারেলের নিরাপত্তার দায়িত্বও এখন গোয়েন্দা সংস্থা এফএসওর হাতে। গত বছরের শেষের দিকে বেশ কয়েকজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা ইউক্রেন-সংশ্লিষ্ট হামলায় প্রাণ হারানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন এখন কেবল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। জনগণের প্রত্যাশার সাথে প্রেসিডেন্টের এই ক্রমবর্ধমান দূরত্ব রাশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে বিশ্বজুড়ে আলোচনা।
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। বুধবার তেহরানের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। সূত্র জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবিগুলোর কোনো সুরাহা এতে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি দুটি হলো—ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে, তাই চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে দিনের শুরুতে ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে কিছুটা হতাশ ছিলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানে আবারও বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্প এর আগেও কয়েকবার আশার কথা শুনিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।
ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এক পৃষ্ঠার একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। পাকিস্তানি একটি সূত্র এবং মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অপর একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।
তবে গত সপ্তাহে ইরানের দেওয়া ১৪ দফার প্রস্তাবের সঙ্গে এই নতুন প্রস্তাবের ঠিক কী পার্থক্য রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়াকে ‘আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা’ (উইশ-লিস্ট) বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দুই পক্ষ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন খবরগুলোকে উপহাস করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে।’ গালিবাফ দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন খবর ছড়ানো হচ্ছে।
তেলের দামে পতন
সম্ভাব্য চুক্তির এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস-এর দাম একপর্যায়ে প্রায় ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে যায়। তবে পরে তা আবার ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে। জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
এর আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য দুই দিন ধরে চলা নৌঅভিযান স্থগিত করেন ট্রাম্প। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানায়, ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কারণ রয়েছে। সৌদি আরব এই অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের একটি ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ট্রাম্প পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।
এনবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করবে—ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত হয়েছিলেন। তারা ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেন, এই অভিযানের জন্য তারা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে সৌদি ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবেন না।
ট্রাম্প এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপের পরও এই সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে এনবিসি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
মার্কিন দাবিগুলো নেই প্রস্তাবে?
মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত সূত্রটি জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। উভয় পক্ষ এই প্রাথমিক চুক্তিতে একমত হলে, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে পরবর্তী ৩০ দিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।
ওই পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধের অবসান ঘটবে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে এবং আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়া হবে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, এই প্রাথমিক চুক্তির জন্য শুরুতে কোনো পক্ষকেই কোনো ছাড় দিতে হবে না। তবে ওয়াশিংটন এর আগে যেসব বড় দাবি জানিয়েছিল (যা ইরান সব সময় প্রত্যাখ্যান করেছে), সেগুলোর কোনো উল্লেখ এই প্রস্তাবে নেই। যেমন—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি মিলিশিয়াদের (ছায়াগোষ্ঠী) সমর্থন বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো এখানে নেই।
এমনকি ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় অস্ত্রের মাত্রার কাছাকাছি ৪০০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা নিয়েও চুক্তির খসড়ায় কোনো কথা বলা হয়নি।
এদিকে ট্রাম্পের মিত্র এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার জানান, ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প একমত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক একটি নথি প্রকাশ করেছেন, যেটিকে প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের লেখা সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিরকুট বলে অভিহিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) এই নথি প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।
কুখ্যাত এই অর্থ লগ্নিকারী ও যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের আগস্টে ম্যানহাটনের জেলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পরে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত নথি অনুসারে—এতে লেখা আছে, পৃথিবীকে ‘বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়।’
হাতে লেখা এই নোটটি এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট (একই কক্ষে থাকা বন্দি), খুনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন খুঁজে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই নোটটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টারটাগ্লিওনের মামলা তদারককারী মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস এটি প্রকাশ করেন।
বিচারক কারাস রায় দেন, নোটটি একটি ‘বিচার বিভাগীয় নথি’ হিসেবে গণ্য এবং এটি জনগণের দেখার অধিকার রয়েছে। কারণ, এটি টারটাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেওয়া হয়েছিল। টারটাগ্লিওন মাদক সংক্রান্ত খুনের ঘটনায় টানা চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
বিচারক এটিকে সিলমোহর করে রাখার কোনো আইনি কারণ খুঁজে পাননি। তবে তিনি এই নোটের সত্যতা নিশ্চিত করেননি কিংবা এটি কার কার হাত ঘুরে এসেছে (chain of custody) তাও মূল্যায়ন করেননি।
বরং নথিটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করেছেন। বিচারক তার রায়ে বলেন, ‘এমন কোনো পাল্টা বিবেচনা শনাক্ত করা যায়নি যা নোটটি সিলমোহর করে রাখাকে সমর্থন করে।’
হলুদ লিগ্যাল প্যাডে লেখা এই নোটটি টারটাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে জমা দিয়েছিলেন। টারটাগ্লিওন ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ম্যানহাটন জেলে এপস্টেইনের সেলমেট ছিলেন।
আদালতের নথিতে প্রকাশিত ছবির তথ্য অনুযায়ী, নোটটিতে লেখা আছে, ‘তারা আমার ব্যাপারে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি!!! যার ফলাফল হলো ১৫ বছর আগের এই অভিযোগগুলো। বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়। তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব!! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়!!’
এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে সেই মামলা বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তির কারণে তার স্বল্পমেয়াদী জেল হয়।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সংগ্রহ ও নির্যাতনের অভিযোগে যৌন পাচারের মামলা দেওয়া হয়। নোটটি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রথম সামনে আসে। তার কয়েকদিন আগেই এপস্টেইনকে তার ম্যানহাটন জেলের কক্ষে গলায় দাগসহ জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ সেটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছিল। টারটাগ্লিওনের জনসমক্ষে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, নোটটি তাদের কক্ষের একটি বইয়ের ভেতরে লুকানো ছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ২০১৯-এ এপস্টেইন একটি পৃথক ঘটনায় মারা যান, যা পরে আত্মহত্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়।
টারটাগ্লিওন গত বছর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই নোটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমসে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল তদন্তকারীরা এই নোটটি কখনও দেখেননি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথির মধ্যেও এটি ছিল না।
নথিটি উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো খারিজ করে দেন। তিনি এপস্টেইনের মৃত্যু এবং এই কথিত নোটটি নিয়ে জনসমক্ষে চলমান ব্যাপক আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন পর্যালোচনা করছে তেহরান। সবশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে। তবে দুই দেশের অবস্থান, দাবিদাওয়ার ভিন্নতা এবং আঞ্চলিক সমীকরণ এখনো চুক্তির পথে বড় বাধা।
চুক্তিতে রাজি না বলে তীব্র বোমাবর্ষণ হবে বলে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিজেই এখন চুক্তিতে আসতে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বায়ার এক লাইভ অনুষ্ঠানে জানান, ইরানের সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রেট বায়ার বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। আমি তাকে সময়সীমার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।’
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে ট্রাম্প তার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে হুমকিও দিয়েছেন। তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিতে আগের চেয়েও তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের সতর্ক অবস্থান
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবটি এখনো বিবেচনাধীন। পর্যালোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান তাদের অবস্থান জানাবে।
তবে ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি মার্কিন প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবিদাওয়ার তালিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইব্রাহিম রেজায়ি আরও বলেন, রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায়ের অপচেষ্টা করছে। ইরান কোনো ‘চাপের মুখে’ নতি স্বীকার করবে না। প্রয়োজনে পাল্টা আঘাতের জন্য দেশটির সেনারা প্রস্তুত আছেন।
অন্যদিকে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনে আলাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ বন্ধে ইরান প্রস্তুত। তবে ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ফোনে আলাপে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসও প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালেই ইরানকে লক্ষ্য করে দুবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পেছন থেকে ছুরি মারার শামিল।
সমঝোতা স্মারকে কী থাকছে
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা সব বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়ে এখন মূল দর–কষাকষি চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এই মেয়াদ হবে অন্তত ১২ বছর। তবে একটি সূত্র জানায়, এটি ১৫ বছর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের দাবিতে অটল ছিল।
সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে এমন একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যাতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিয়ম ভাঙলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বেড়ে যাবে। আর এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।
সমঝোতা স্মারকে ইরান অঙ্গীকার করবে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ–সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াবে না তারা। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যেন কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করে, এমন একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করছে।
ওই কর্মকর্তার মতে, ইরানকে কঠোর তদারকি ব্যবস্থার আওতায় থাকতেও রাজি হতে হবে। ফলে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যেকোনো সময় ইরানি স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবেন।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৭ মে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইব্রাহীম আল জারওয়ান।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য।
ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ১৭ মে রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইউএই সময়) জন্ম নেবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ওইদিন সূর্যাস্তের প্রায় ৫৮ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে এবং দিগন্ত থেকে প্রায় ১০ ডিগ্রি উচ্চতায় অবস্থান করবে। ফলে অনুকূল আবহাওয়ায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে সোমবার ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। সে হিসাবে ২৬ মে মঙ্গলবার পবিত্র আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, এসব তারিখ বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।
রাশিয়ার একতরফা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইউক্রেনে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ বোমার আঘাতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। একটি গাড়ি মেরামতের কারখানা এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনে এই বোমা আঘাত হানে। চলতি বছরে ওই শহরে এটি অন্যতম বড় হামলা।
আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, এই হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বে দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি ক্রামাতোরস্কে রুশ হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিপ্রো শহরে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন।
রাতের আঁধারে পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেরহি কোরেটস্কি জানান, হামলায় তাদের তিন কর্মী এবং দুজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
কোরেটস্কি বলেন, ‘আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এটি ছিল ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের একটি সমন্বিত হামলা।’ তিনি আরও জানান, এই হামলার কারণে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
‘নিষ্ঠুর ও অর্থহীন হামলা’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, একদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে অন্যদিকে দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানোটা রাশিয়ার ‘চরম নিষ্ঠুরতা’।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লেখেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর ও অর্থহীন সন্ত্রাসী হামলা, যার কোনো সামরিক যৌক্তিকতা নেই। আমাদের শহর ও গ্রামে রুশদের এমন হামলা এক দিনের জন্যও থামে না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের স্মরণ এবং মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজ উপলক্ষে ৮ ও ৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল রাশিয়া। এর জবাবে ইউক্রেন বুধবার মধ্যরাত থেকে একটি উন্মুক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে রাশিয়াকে এতে সম্মতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
তবে মস্কোর কর্মকর্তারা ইউক্রেনের এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
এদিকে এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবীণ সেনাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনে লড়াই করা রুশ সেনাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা তাদের পূর্বপুরুষদের যোগ্য উত্তরসূরি এবং নির্ভরযোগ্যভাবে দেশ রক্ষা করছেন।’
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ১১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১৬৪টি ড্রোন ছুড়েছে। কিয়েভ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অড্রে ম্যাকআলপাইন জানান, রাশিয়ার মিসাইল হামলাগুলো ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন নিয়মিত ড্রোন ভূপাতিত করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা তাদের এখনো নেই। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চাচ্ছেন। কারণ, ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকাতে শুধু এই অস্ত্রগুলোই সক্ষম।’
ইউক্রেনের হামলায় নিহত ৭
২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করেছিল রাশিয়া। সেখানে মস্কোর নিয়োগ দেওয়া প্রধান সের্গেই আকসিওনভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, জাঙ্কয় শহরে ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার চুভাশ প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, সেখানে এক ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের প্রধান ওলেগ নিকোলায়েভ সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের কিরিশি শহরে ইউক্রেন হামলা চালায়। ওই অঞ্চলে রাশিয়ার অন্যতম বড় একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় বলে জানান গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো।
গভর্নর দ্রোজদেনকো বলেন, ‘শত্রুদের মূল লক্ষ্য ছিল কিনেফ তেল শোধনাগার।’ তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হননি বলে জানান তিনি।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্রিমিয়া ও রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের ৯৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে তিন দিন আগে শুরু করা বিতর্কিত নৌমিশন স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপের পর বুধবার ইরান জানিয়েছে, তারা কেবল একটি ‘ন্যায্য’ শান্তি চুক্তিই গ্রহণ করবে। ট্রাম্পের এই নৌঅভিযান মূলত যুদ্ধের মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধবিরতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল।
গত রোববার ঘোষিত ট্রাম্পের 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' ওই নৌপথে উল্লেখযোগ্য কোনো যান চলাচল শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো এটি হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নতুন করে হামলার ঢেউ উসকে দিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায়, একটি ফরাসি শিপিং কোম্পানি বুধবার জানিয়েছে যে, আগের দিন তাদের একটি কন্টেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়েছে এবং আহত ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নৌঅভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনায় 'বিশাল অগ্রগতির' কথা উল্লেখ করেন, যদিও এর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, "আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি যে, যদিও অবরোধ পুরোপুরি বলবৎ থাকবে, তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা এবং স্বাক্ষর করা যায় কি না তা দেখার জন্য 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' (হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল) স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত করা হবে।"
ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প এই নৌ-অভিযান শুরু করেছিলেন। গত সপ্তাহে দেওয়া ইরানের ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং নৌ-চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হোক।
বুধবার চীন সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান একটি ‘ন্যায্য ও ব্যাপক সমঝোতার’ জন্য অপেক্ষা করছে। আরাকচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও জানান যে, তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং উত্তেজনা রোধে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইরান মূলত নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আলাদাভাবে নিজস্ব নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
মার্কিন নৌবাহিনীকে ব্যবহার করে প্রণালী খুলে দেওয়ার ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মিশন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো এটি ইরানের পক্ষ থেকে নতুন হামলার পথ খুলে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিধি বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালীর অপর প্রান্তে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করছে।
এই মিশন চলাকালীন ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বেশ কয়েকটি জাহাজে আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরীয় মালবাহী জাহাজ তাদের ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণের খবর দেয়। এছাড়া তেহরান বারবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে ফুজাইরার তেল শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়াম কেন্দ্রও রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী সোমবার দাবি করেছিল যে তারা বেশ কয়েকটি ছোট ইরানি বোট ধ্বংস করেছে।
আলোচনায় ঠিক কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে বা এই স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পুরো যুদ্ধজুড়ে ট্রাম্প যখনই তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন, তখনই কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইরানের সাথে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া যাবে না।
আরব সাগরে গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া একটি ভারতীয় জাহাজের পাঠানো বিপদ সংকেতে সাড়া দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। তারা খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আটকে পড়া নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তাদের উদ্ধারও করে এনেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এমভি গৌতম’ নামের জাহাজটি ওমান থেকে ভারতের পথে যাত্রাকালে গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে পড়ে সাগরের মাঝখানে আটকা পড়ে। মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চাইলে পাকিস্তান নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা অভিযান শুরু করে। জাহাজটিতে ছয়জন ভারতীয় ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক ছিলেন।
অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান নৌবাহিনী ‘পিএমএসএস কাশ্মীর’ নামের একটি জাহাজ পাঠায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। পাকিস্তানি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এমভি গৌতমের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও সহায়তা অভিযানে পাকিস্তান নৌবাহিনীকে সহায়তা করে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (পিএমএসএ)।
আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমস এই উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও টুইট করে প্রকাশ করেছে, যেখানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর নৌযানকে এমভি গৌতমের নাবিকদের সহায়তা করতে দেখা যায়।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তান জানায়, উত্তর আরব সাগরে পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর তাদের নৌবাহিনী ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার ও সরিয়ে নেয়। সে সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দ্রুত মানবিক অভিযানে পাকিস্তান নৌবাহিনী সফলভাবে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার ও সরিয়ে নেয়।
তাদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ছিলেন। জাহাজটি (এমভি গোল্ড অটাম) পাকিস্তানের উপকূল থেকে প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার) দূরে উত্তর আরব সাগরে অবস্থান করছিল।’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অন্তত চারজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) তিনজন জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত নিরাপত্তা কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
সহিংসতার প্রথম ঘটনায় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে জয় উদযাপনের সময় ৪৮ বছর বয়সী বিজেপি কর্মী যাদব বরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে নিউটাউনের বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মধু মণ্ডল নামে অপর এক বিজেপি কর্মী। অন্যদিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় নিখোঁজ তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয় এবং বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘটনায় নিহতের পরিবার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের দায়ী করে মামলা দায়ের করেছে।
রাজ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে। তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে তাদের শতাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বিজেপি দাবি করেছে, তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ছড়াচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু রাজধানী শহর থেকেই ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকেও আটক করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে এবং পরমাণু ইস্যুতে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য কাঠামো নির্ধারণে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই মনে করছে হোয়াইট হাউস। এই বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং আরও দুটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দুই পক্ষ কোনো সমঝোতার এতটা কাছাকাছি এসেছে।
চুক্তির অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ (এনরিচমেন্ট) স্থগিতাদেশে সম্মত হবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করে দেবে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ওপর উভয় পক্ষের আরোপিত সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হবে।
তবে এই স্মারকে উল্লেখ করা অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। ফলে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা কিংবা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও মূল সমস্যার সমাধান হবে না। হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনো সন্দিহান যে, প্রাথমিক কোনো চুক্তিও আদৌ হবে কি না।
এর আগেও একাধিক দফা আলোচনায় এবং চলমান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে ঘোষিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মূলত আলোচনায় অগ্রগতির কারণে।
এই এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার এমওইউটি নিয়ে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা। আলোচনা হচ্ছে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও। বর্তমান খসড়ায় এমওইউটি অঞ্চলটিতে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘোষণা করবে এবং ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
এই আলোচনাগুলো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ওই ৩০ দিনের সময়কালে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া হবে। যদি আলোচনা ভেঙে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জারি করতে বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশের মেয়াদ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এটি কমপক্ষে ১২ বছর হতে পারে, আর একটি সূত্র ১৫ বছরকে সম্ভাব্য সমঝোতার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরান প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বছরের স্থগিতাদেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে ২০ বছর।
যুক্তরাষ্ট্র একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যেখানে ইরান যদি সমৃদ্ধকরণ চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে। মেয়াদ শেষ হলে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমাত্রার সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে। এমওইউতে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে—তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা অস্ত্রায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম চালাবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এমন একটি ধারা নিয়েও আলোচনা চলছে, যেখানে ইরান ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে।
এ ছাড়া, ইরান আরও কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থায় সম্মত হবে, যার মধ্যে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের হঠাৎ (স্ন্যাপ) পরিদর্শনের সুযোগও থাকবে। এমওইউর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেবে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এত দিন তেহরান এটি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। একটি সূত্র বলেছে, এই উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের একটি বিকল্প নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, ‘আমাদের এক দিনেই পুরো চুক্তির লিখিত রূপ তৈরি করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’ তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত জটিল এবং কারিগরি একটি বিষয়। তবে আমাদের একটি কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে—কোন বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং শুরুতেই কী ধরনের ছাড় দিতে রাজি, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থবহ হয়।’ তবে রুবিও ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ‘মাথায় সমস্যা আছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন এবং তারা আদৌ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সামনে আসছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজেপি সরকার গঠনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকেই অধিকারীকে বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে। জানা গেছে, দলের রাজ্য সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্য তার নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ তা ঘোষণা করবেন।
বৈঠকের পর অধিকারীসহ শীর্ষ নেতারা রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। পরদিন শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে, যা ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’র দিন অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
শুভেন্দু অধিকারী এর আগে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে তার ভূমিকা বিজেপির বড় জয়ের অন্যতম কারণ।
মুখ্যমন্ত্রী হতে শুভেন্দুকে পার হতে হবে আরও এক ধাপ
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপির শীর্ষ পছন্দ হয়ে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’র সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ গুরুত্ব থাকছে।
অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
এর আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন, যিনি বাঙালি, বাংলায় জন্মেছেন, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সেই মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যান।
বিজেপির সবচেয়ে বড় ভরসা শুভেন্দু
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। মাঠপর্যায়ের শক্ত অবস্থান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে এবারের নির্বাচনে তাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি আরও বড় চমক দেখিয়ে মমতার শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনও দখল করেন।
২০২০ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তৃণমূল ছাড়েন শুভেন্দু। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হন।
তৃণমূলে থাকাকালে তিনি বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী ছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সে সময় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।