ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় পবিত্র রমজানেও থেমে নেই ইসরায়েলি হামলা। বিভীষিকাময় অবস্থা বিরাজ করছে পুরো গাজাজুড়ে। সোমবার রমজানের প্রথম দিন উদ্যাপন করেছে ফিলিস্তিনিরা। খাবার সংকটের পাশাপাশি তাদের নিত্যসঙ্গী রোগ-শোক। প্রতিদিন ইসরায়েলি হামলায় মারা যাচ্ছে শত শত মানুষ।
নানা আয়োজনে সংযমের মাস রমজানকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মুসলমানরা। তবে গাজাবাসী সেই অবকাশ পায়নি। ইসরায়েলি বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে যাওয়া মানুষ কিংবা লাশের সন্ধানে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাদের।
রোজার সময়ে গাজাজুড়ে আরও বেশি অভাব অনুভব করছেন বাসিন্দারা। জাকি আবু মনসুর (৬৩) নামের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না, রোজা ভাঙার জন্য কী খাব। আমার কাছে কেবল একটি টমেটো ও শসা আছে। কিছু কেনার টাকাও নেই।’
গাজার দক্ষিণ সীমান্তে রাফাহ শহরে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ আল-মাসরি বলেন, ‘আমরা ইফতারে কোনো প্রস্তুতি নিতে পারিনি। বাস্তুচ্যুতদের কী আছে? আমরা রমজানের আনন্দ অনুভব করতে পারছি না। ঠাণ্ডায় তাঁবুতে জমে যাওয়া মানুষগুলোর দিকে একবার তাকান।’ খান ইউনিস থেকে বাস্তুচ্যুত ওম মুহাম্মদ আবু মাতারও বলেন, চলতি বছর রমজানে রক্ত, দুঃখ, বিচ্ছেদ এবং নিপীড়নের স্বাদ পাচ্ছে গাজাবাসী।
এ মাসে যুদ্ধবিরতির কথা চললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আলোচনা পিছিয়ে গেছে বারবার। মধ্যস্থতাকারী কাতার মঙ্গলবার জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির কাছাকাছি নেই ইসরায়েল ও হামাস। একই সঙ্গে পরিস্থিতি ‘খুবই জটিল’ বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
রমজান শুরুর আগে একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে চুক্তির লক্ষ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশর। তবে রমজান শুরু হলেও বহুল প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যায়নি।
এ পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা চুক্তির কাছাকাছি নেই। এর অর্থ আমরা উভয়পক্ষকে এমন কোনো একটা বিন্দুতে মিলিত হতে দেখছি না যাতে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানের মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব।
তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সব পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এটি কতদিনে সম্ভব হবে সেটির কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থলপথে ত্রাণ প্রবেশ করতে পারছে না, তবে অল্পসংখ্যক ত্রাণবাহী জাহাজ গাজার উপকূলে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে। সাইপ্রাস থেকে গাজা পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক করিডর ব্যবহার করে প্রথম ত্রাণবাহী জাহাজ রওনা হয়েছে সেখানে। মঙ্গলবার সাইপ্রাসের লারনাকা বন্দর ছেড়ে যায় জাহাজটি। অনেকে জাহাজটিকে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছে। তবে একটিমাত্র ত্রাণবাহী জাহাজ গাজা অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষের কবল থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না সেটিই বড় প্রশ্ন।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার কারণে গাজায় অন্তত ২৩ জন মারা গেছে। যাদের অধিকাংশই শিশু। এ বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান সিন্ডি ম্যাককেইন গত সোমবার বলেন, ‘আমাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি আমরা গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণের পরিমাণ দ্রুতগতিতে না বাড়াতে পারি, তবে দুর্ভিক্ষ আসন্ন।
গাজায় নিহত ৩১১৮৪, আহত ৭২৮৮৯
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৩১ হাজার ১৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে ৭২ হাজার ৮৮৯ জন। মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে তাদের। এ ছাড়া গাজার ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস। হামলায় ইসরায়েলের এক হাজার ২০০ জন নিহত হয়। এরপর গাজায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ইতোমধ্যেই দেশটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট শহরে দেশটির প্রথম ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ নির্মাণের পরিকল্পনা মাত্র তিন মাসের মাথায় বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আলটাস প্রপার্টি গ্রুপ জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় ট্রাম্প ব্র্যান্ডটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘টক্সিক’ বা নেতিবাচক হিসেবে গণ্য হওয়ায় তারা এই চুক্তি থেকে সরে এসেছে।
আলটাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড ইয়াং এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেন, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ায় এই ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে টাওয়ার নির্মাণের কাজ অব্যাহত থাকবে এবং সেখানে ট্রাম্পের নামের পরিবর্তে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করা হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে আলটাস প্রপার্টি গ্রুপ ৯১ তলা বিশিষ্ট এই বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল, যা হওয়ার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার উচ্চতম ভবন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সঙ্গে করা ওই চুক্তি অনুযায়ী, ভবনটিতে ২৮৫ কক্ষের একটি ফাইভ স্টার হোটেল, শপিং প্লাজা এবং আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট থাকার কথা ছিল।
ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প এই প্রকল্পের তদারকি করছিলেন। তবে ঘোষণার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এই উদ্যোগ। বিশেষ করে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও সামাজিক বিভাজনের প্রতিবাদে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এই প্রকল্প বন্ধের দাবিতে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেন।
পিটিশনটি শুরু করেছিলেন ‘সিকে’ ছদ্মনামের এক নারী, যিনি ট্রাম্প সমর্থকদের রোষানল থেকে বাঁচতে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার দৃশ্য দেখে তিনি এর প্রতিবাদ স্বরূপ এই পিটিশন চালু করেন।
ডেভিড ইয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সমালোচনাকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করলেও স্বীকার করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার কারণে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন একটি সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক কারণে অস্ট্রেলীয়রা এর বিরোধিতা করছে।
এদিকে গোল্ড কোস্টের মেয়র টম টেট, যিনি একসময় এই প্রকল্পের প্রবল সমর্থক ছিলেন, তিনি জানান, সিটি কাউন্সিলের কাছে কখনও এই ভবন নির্মাণের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি। মেয়রের মতে, নাম বাতিলের পেছনে কেবল রাজনৈতিক রোষ নয়, বরং আর্থিক জটিলতাও একটি বড় কারণ হতে পারে।
তার ধারণা, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন তাদের ব্র্যান্ড ব্যবহারের বিনিময়ে লভ্যাংশের একটি বিশাল অংশ দাবি করেছিল, যা হয়তো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক মনে হয়নি। ২০০৭ সালে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই প্রকল্পের যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল, প্রায় ২০ বছর পর এসে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক সামনে রেখেও তা আলোর মুখ দেখল না।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই একটি চীনা সুপারট্যাঙ্কার সফলভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুই মিলিয়ন ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহনকারী ‘ইউয়ান হুয়া হু’ নামক এই বিশালাকায় জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে নোঙর করে আছে। এই এলাকার ঠিক পাশেই মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি কোনো চীনা তেলবাহী ট্যাঙ্কারের হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার তৃতীয় ঘটনা। যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জাহাজ এই রুট ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করছে, তখন চীনের এই নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে ইরাক এবং পাকিস্তানের সাথে অঞ্চলটি থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের বিষয়ে ইরান নতুন কিছু চুক্তিতে উপনীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইরানের এই নতুন রণকৌশল কেবল চীন বা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জানা গেছে, আরও বেশ কিছু দেশ বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সাথে একই ধরনের চুক্তি করার উপায় খুঁজছে।
একদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ এবং অন্যদিকে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ—এই দ্বিমুখী উত্তেজনার মাঝে চীনা জাহাজের এই সফল পথ অতিক্রম প্রমাণ করে যে বেইজিং অত্যন্ত কৌশলে এই অঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এবং এর মধ্যদিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্থানগুলোতে মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাইকের শব্দ যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমার বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত ডেসিবেলের বেশি মাত্রায় লাউডস্পিকার বাজলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এরপরও কোথাও যদি জোরে মাইক বাজে, আর তা কোনো ধর্মীয় স্থান থেকে হয়, তবে জোর জবরদস্তি না করে আলোচনার মাধ্যমে শব্দ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দুর্গাপূজা, ঈদ বা কোনো কমিউনিটির বিশেষ উৎসব ছাড়া রোজ রোজ মাইক বাজানো হলে, সেই আওয়াজে আশপাশের মানুষের অসুবিধা হয়। তাই যাতে মাইকের আওয়াজ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। তবে শক্ত হাতে নয়, বুঝিয়ে করতে হবে।
তার এই নির্দেশনা সব ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে কলকাতার নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসির ইব্রাহিম বলেন, ‘আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
অল ইন্ডিয়া ওরিয়েন্টাল একাডেমির প্রিন্সিপাল জয়ন্ত কুশারি বলেন, ‘প্রার্থনা মূলত ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক বিষয়। কোনো ধর্মগ্রন্থেই লাউডস্পিকার বাজানোর কথা বলা হয়নি। সবাইকে অবশ্যই জনসাধারণের সুবিধা ও অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান রক্ষা করে চলতে হবে।’
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের এই নির্দেশনার সঙ্গে অনেকেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মডেলের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশের ধর্মীয় স্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাউডস্পিকার ব্যবহারে কড়াকড়ি জারি করেন। প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে অবৈধ লাউডস্পিকার খুলে ফেলারও নির্দেশ দিয়েছে যোগী প্রশাসন।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জীর আমলের আলোচিত তিনটি দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) তদন্তের অনুমোদন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেসব কর্মকর্তার নাম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর, পৌর দপ্তর এবং সমবায় দপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে সিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় ‘নবান্ন’-এ গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছে যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনো তার বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বেশিরভাগ ঘাঁটি আবার সচল করে তুলেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস গত মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মে মাসের শুরুতে তৈরি করা ওই গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে— ইরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগের তুলনায় বর্তমানে ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র অক্ষত রয়েছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানজুড়ে মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশই এখন আংশিক বা পুরোপুরি সচল অবস্থায় রয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এই তথ্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরান ভালো করেই জানে যে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়। যারা মনে করছেন ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তারা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, নয়তো ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের হয়ে কথা বলছেন।’
হামলার সময় ট্রাম্প একের পর এক দাবি করেছিলেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। অথচ যুদ্ধকালীন সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কমপক্ষে একশটি ধাপে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি জানিয়েছিলেন, ‘যুদ্ধের আগের চেয়ে এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ যন্ত্রের সংখ্যা আরও বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও শত্রু জাহাজগুলোর দিকে তাক করে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই আঘাত হানতে তারা প্রস্তুত।’
এদিকে ইরান যুদ্ধের সংবাদ কাভারেজ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান সামরিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এমন প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভার্চুয়াল বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ‘‘শত্রুপক্ষকে’’ সহায়তা করছে এবং ইরানকে অযথা আশা দিচ্ছে। তবে কোন কোন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা তিনি বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা শত্রুকে সহায়তা করেই যাচ্ছে। এতে শুধু ইরান মিথ্যা আশা পাচ্ছে, যা তাদের পাওয়ার কথা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পরাজিত, অকৃতজ্ঞ ও বোকা লোকেরাই আমেরিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।’
আস্থা ভোটেও বড় জয় পেলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়। গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগামকে (টিভিকে) বিজয়ী করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা এই সুপারস্টার, তার দলের সাফল্যের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর ৬২ বছরের ডিএমকে-এআইএডিএমকে একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) নাটকীয় আস্থা ভোটে জয়লাভ করে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করলেন বিজয়।
ভোটাভুটিতে বিজয়ের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪৪টি, বিপক্ষে ২২টি এবং ৫ জন বিধায়ক কোনো পক্ষে ভোট দেননি। দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করায় এবং এআইএডিএমকে তাদের সদস্যদের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ফলাফল বিজয়ের পক্ষেই যায়।
বিজয় নিজে ভোটের পর বলেন, ‘বাঁশি (টিভিকে-র নির্বাচনী প্রতীক) ইতিহাস বদলে দিয়েছে। আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলতে চাই… এমন একটি সরকার, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করবে।’
গত ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ঘাটতি থাকায় আস্থা ভোটের মুখে পড়তে হয়।
১০ মে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আস্থা ভোটের আগে টিভিকে-র নিজস্ব শক্তি কিছুটা কমে দাঁড়ায়। স্পিকার পদ, বিজয়ের এক আসন থেকে পদত্যাগ এবং একটি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের বিধায়ক সংখ্যা কমে যায়। তবে উপস্থিত ১০৫ জন টিভিকে বিধায়কই বিজয়কে সমর্থন দেন।
বাইরের মিত্রদলগুলো (কংগ্রেস, বামেরা, ভিসিক, আইইউএমএল) মিলিয়ে ১৩টি ভোট দেয়। এ ছাড়া এআইএডিএমকে নেতা টিটিভি দিনাকরণের দলের একজন বিধায়কও সমর্থন দেন।
সবচেয়ে বড় চমক আসে এআইএডিএমকে থেকে। দলের নির্দেশ অমান্য করে ২৪ জন বিধায়ক বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। আরেকজন (যিনি টিভিকে-পন্থি বলে পরিচিত) ভোটদানে বিরত থাকেন। এই অতিরিক্ত সমর্থনেই বিজয় সহজেই আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে যান।
সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলালেন বিজয়
তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সমালোচনার মুখে এক জ্যোতিষীকে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (পলিটিক্যাল)’ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
রাধান পণ্ডিত ভেত্রিভেলকে দলীয় প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের দপ্তরে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই নিয়োগ ঘিরে বিরোধী দল ও সমালোচকদের পাশাপাশি টিভিকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়। ভিসিকে তাদের দুই আসনের সমর্থন দিয়ে বিজয় সরকারকে আস্থাভোটে সহায়তা করেছিল।
নিয়োগ প্রত্যাহারের আগে টিভিকে নেতা সি টি নির্মল কুমার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ভেত্রিভেল মূলত দলের মিডিয়া মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার কথা ছিল।’ তিনি দাবি করেন, ভেত্রিভেলের পেশা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য ছিল না।
নির্মল কুমার বলেন, ‘তিনি আমাদের মিডিয়া পারসন, মিডিয়া মুখপাত্র। তিনি যেকোনো পেশা থেকে আসতে পারেন। তাকে মিডিয়া হ্যান্ডলার হিসেবেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেত্রিভেল আগে থেকেই বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এমনকি তার পরামর্শেই অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়।
ফুজাইরাহ বন্দরকে ঘিরে উত্তাপ বাড়াচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌ-কর্তৃত্বের মধ্যেই এই বন্দরের অবস্থান। ফলে এই রুট দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজ ইরানের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়বে। সম্প্রতি বন্দরে একটি হামলার ঘটনা ঘটলেও তাতে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। এদিকে সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিশানা করে কড়া বার্তা দিচ্ছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি—ওয়াশিংটন বা তেল আবিব যদি পুনরায় কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে আমিরাতের ওপর নজিরবিহীন ও শক্তিশালী আঘাত হানা হবে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলী খেজরিয়ান চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আমিরাতের সঙ্গে আমাদের ‘প্রতিবেশী’ সুলভ সম্পর্কের তকমা আপাতত ঘুচে গেছে। দেশটিকে এখন আমরা ‘শত্রু ঘাঁটি’ হিসেবেই দেখছি।”
গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও চলতি মে মাসে হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আমিরাতকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলা হয়।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) জেনারেলদের নেতৃত্বাধীন যৌথ কমান্ড এক কড়া বার্তায় আমিরাতের নেতাদের বলেছে, তারা যেন নিজ দেশকে ‘মার্কিন-জায়নিস্টদের আস্তানা’ হতে না দেয়। এ ধরনের সামরিক সহযোগিতা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হবে বলেও তারা মন্তব্য করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান সামরিক, রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক এ অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইরানের দ্বীপ বা বন্দরগুলোতে পুনরায় আঘাত হানলে এমন ‘দাঁতভাঙ্গা ও চরম অনুশোচনামূলক’ জবাব দেওয়া হবে যা আমিরাত আগে কখনও দেখেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত দফায় দফায় ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সামরিক পন্থাসহ যেকোনো উপায়ে এই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আমিরাত সেখানে বছরের পর বছর ধরে থাকা ইরানিদের ভিসা বাতিল করেছে। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইরানি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক রুট, মুদ্রা বিনিময় নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন সংস্থা।
দুই দেশের সম্পর্কের এই অবনতি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় এক ধাক্কা। তেহরান তাদের আমদানির বড় অংশ, বিশেষ করে চীন থেকে আসা পণ্যগুলোর জন্য আমিরাতি বন্দরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।
মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইরানে খাদ্যের দাম এখন লাগামহীন। এই সংকট কাটাতে ইরানি প্রশাসন এখন সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্কের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্য দিয়ে স্থলপথ সচল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
বছরের পর বছর ধরে আমিরাতের মাটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে আবুধাবির উপকণ্ঠে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে কয়েক হাজার মার্কিন সৈন্য এবং অত্যাধুনিক রাডার ও গোয়েন্দা সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় এই ঘাঁটিই তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল।
২০২০ সালে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’র মাধ্যমে বাহরাইন ও মরক্কোর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি তার প্রথম মেয়াদে করা এই চুক্তির পরিধি আরও বাড়াতে চান এবং বিশেষ করে সৌদি আরবকে এতে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে গাজায় ইসরায়েলের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে এই প্রক্রিয়া আপাতত থমকে আছে।
ওপেক জোট থেকে আমিরাতকে বের করে আনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে এক ‘চতুর নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, নাহিয়ান এখন আর কারও ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কৌশলে এগোতে আগ্রহী।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সইয়ের পর থেকে ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। এমনকি ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’ উপসাগরীয় এই দেশটিতে তাদের একটি শাখা অফিসও খুলেছে।
চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল তাদের ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কয়েক ডজন সৈন্য আমিরাতে পাঠিয়েছে। আরব বিশ্বের অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েল এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ আগে কখনও নেয়নি।
গত মঙ্গলবার তেল আবিবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ‘অত্যাধুনিক রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন মূলত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আমিরাত-ইসরায়েল ‘অসাধারণ সম্পর্কের’ ফল।’
আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ গত ১৭ মার্চ বলেন, ‘আরব প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের হামলা মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।’
আমিরাতের দাবি, তাদের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব সম্পূর্ণ একটি ‘সার্বভৌম বিষয়’। আরব দেশগুলোর ভূখণ্ড ও আকাশপথ ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে— তেহরান এমন অজুহাত তুলে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার এবং তাদের হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ ছাড়াও গ্রেটার তুনব, লেসার তুনব এবং আবু মুসা দ্বীপ নিয়ে ইরানের সঙ্গে আমিরাতের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৭১ সাল থেকে এই দ্বীপগুলো ইরানের দখলে রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
যুদ্ধের সময় কেন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সে বিষয়ে গত মাসে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল-হাশিমি। তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক; এখানে দুই শতাধিক দেশের মানুষ মিলেমিশে থাকে এবং আমরা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে লালন করি।’
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ত্রিমুখী যুদ্ধ কেবল জ্বালানি তেল, সার, ওষুধ বা বৈশ্বিক অর্থনীতিকেই লণ্ডভণ্ড করছে না; এই যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব এখন পড়ছে সমুদ্রের বিশাল আকার প্রাণী তিমির ওপর। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় এলাকায় তিমির বসতিতে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধ এড়িয়ে চলা পণ্যবাহী জাহাজগুলো।
২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করলে প্রথম এই রুটে বিঘ্ন ঘটে। অতি সম্প্রতি, বর্তমানে ইরানের অবরোধের মুখে থাকা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের পথ ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে ঘুরপথে জাহাজ পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘পোর্টওয়াচ মনিটরের’ তথ্যানুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে পাড়ি দিয়েছে। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪টি।
দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় ৪০টিরও বেশি প্রজাতির তিমির বাস। দেশটির দক্ষিণপ্রান্ত ‘কেপ অব গুড হোপ’ মূলত সাউদার্ন রাইট হোয়েল, হাম্পব্যাক হোয়েল এবং ব্রাইডস হোয়েলের প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র। এ ছাড়া এখানে ওড়কা বা কিলার হোয়েল, স্পার্ম হোয়েল, মিঙ্ক হোয়েল এবং ডলফিন দেখা যায়।
বিশেষ করে হাম্পব্যাক তিমির এক বিশাল দল এই এলাকায় খাবার খায় এবং এখান থেকেই অ্যান্টার্কটিকার দিকে তাদের বার্ষিক পরিভ্রমণ শুরু করে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি পৃথিবীতে পরিচিত হাম্পব্যাক তিমির বৃহত্তম দল। কিছু গবেষণায় এদের সংখ্যা ১১ হাজার থেকে ১৩ হাজার বলা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীতে বাণিজ্যিক শিকারের কারণে অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছিল। বর্তমানে সাউদার্ন রাইট ও হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা বাড়লেও অ্যান্টার্কটিক ব্লু, ফিন এবং সসেই তিমির মতো প্রজাতিগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার ‘রেড লিস্টে’ এখনো ‘বিপন্ন’ বা ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
জাহাজ চলাচল বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তিমির ওপর। প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অনেক সময় কার্গো জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের করা ভিডিওতে দেখা যায় তারা হাম্পব্যাক তিমির বিশাল পালের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।’
আইডব্লিউসি সভায় উপস্থাপিত এই গবেষণার প্রধান ভারমিউলেন বলেন, ‘তিমিরা প্রায়ই বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকে না, বিশেষ করে যখন তারা খাবার খেতে ব্যস্ত থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তারা লেখে—‘‘বাহ, দেখ কত সুন্দর সব তিমি দেখছি’’। কিন্তু তা দেখে আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়; কারণ আমি জানি ওই জাহাজগুলো হয়তো দু-একটি তিমিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দ্রুতগতির জাহাজ চলাচল (যা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) এখন এই এলাকায় চারগুণ বেড়েছে।’
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের ‘প্রটেক্টিং হোয়েলস অ্যান্ড ডলফিনস ইনিশিয়েটিভের’ বৈশ্বিক প্রধান ক্রিস জনসন বলেন, ‘তিমিরা এখনো জাহাজের গতির সাথে মানিয়ে নিতে শেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘আপনি হয়তো ভাবছেন বিকট শব্দ শুনলে তারা চলে যাবে। কিন্তু কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে তা ঘটে না।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেসে নীল তিমিরা যখন জাহাজের শব্দ শোনে, তখন তারা পালানোর বদলে উল্টো পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায়।
ব্লু ইকোনমি কনসালট্যান্ট কেন ফিন্ডলে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তিমির আচরণগত পরিবর্তনও তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকার হাম্পব্যাক তিমিরা ২০১১ সাল থেকে পশ্চিম উপকূলে খাবার সংগ্রহ শুরু করেছে, যা এখন অত্যন্ত ব্যস্ত একটি রুট।
গবেষকরা বলছেন, মানুষের তৎপরতা বাড়ার সাথে সাথে এই ঝুঁকিও বাড়ছে। ভারমিউলেনের দল ২০২২ সালের নভেম্বরে সাউদার্ন রাইট তিমির মৃত্যু নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছিল। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মোট ৯৭টি তিমির মৃত্যুর মধ্যে ১১টি সরাসরি জাহাজের ধাক্কায় হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৬টি তিমির শরীরে জাহাজের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল যা সরাসরি মৃত্যুর কারণ কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের ব্যবধান কাটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে তাঁকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ সালে তাঁর প্রথম দফার সফরের পর এশিয়ার এই পরাশক্তি দেশে এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। বিমানবন্দরে অবতরণের পর ট্রাম্পকে আড়ম্বরপূর্ণ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। আগামী কয়েক দিন তিনি বেইজিংয়ে অবস্থান করবেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সেশনে অংশ নেবেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের বেইজিং সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর সফরসঙ্গীদের উচ্চপর্যায়ের তালিকা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একঝাঁক শীর্ষ নির্বাহী এবং বিনিয়োগকারী এই সফরে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন। এই বিশেষ তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্কের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এক ডজনেরও বেশি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এই সফরে অংশ নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এই শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তবে ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে বেইজিং তাদের কূটনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও পরিষ্কার বার্তা প্রদান করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিং চারটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস প্রকাশিত এই তালিকার প্রধান ইস্যুটি হলো তাইওয়ান। এছাড়া গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং দেশটির উন্নয়নের অধিকারকে বাকি তিনটি রেড লাইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও শি জিনপিং এই চারটি সীমারেখার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে, তবে তা অবশ্যই চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে হতে হবে। বিশ্ব রাজনীতি ও বর্তমান টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর এবং বড় বড় টেক জায়ান্টদের উপস্থিতি নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যের একটি জনাকীর্ণ বাজারে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি বলেছে, গত রোববার (১০ মে) দুপুরের দিকে ওই এলাকায় একাধিক সামরিক বিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সব বিমান পুনরায় ফিরে এসে জনাকীর্ণ বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়।
এর আগে, গত এপ্রিলে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার জিলি এলাকায় সাপ্তাহিক এক বাজারে একই ধরনের বিমান হামলায় অন্তত ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। দেশটির সেনাবাহিনী বর্তমানে ওই হামলার ঘটনার তদন্ত করছে।
হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরুর জন্য নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্থানীয়রা বলছেন, রোববার (১০ মে) জামফারার জুরমি জেলার দুর্গম তুমফা বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী। এক মাসের ব্যবধানে উত্তর নাইজেরিয়ার জনাকীর্ণ ওই বাজারে দ্বিতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, হামলায় আহত কয়েক ডজন মানুষকে জুরমি ও নিকটবর্তী শিনকাফি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মঙ্গলবার (১২ মে) গুয়াহাটির খানাপাড়ায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ বিজেপি ও এনডিএ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার পাঁচজন সদস্যও এদিন শপথ নেন। তারা হলেন-সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি, আসামগণ পরিষদের সভাপতি অতুল বরা, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের নেতা চরণ বোরো এবং বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী অজন্তা নেওগ।
অনুষ্ঠানে এনডিএ শাসিত ২২টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া পোশাকে মঞ্চে আসেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এ সময় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বিপুল জয় পেয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছে। ২০২১ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এবার দ্বিতীয়বারের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। একই সঙ্গে অসমে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করে উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও মজবুত করল বিজেপি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের (settlers) হামলায় ফিলিস্তিনি শিশুদের চরম মানবেতর পরিস্থিতির বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর মুখপাত্র জেমস এল্ডার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে শিশুরা এক অসহনীয় মূল্য দিচ্ছে।’
এল্ডার জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকে যখন ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ব্যাপক পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে, তখন থেকে গড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আরও অন্তত ৮৫০ জন শিশু আহত হয়েছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিহত বা আহত শিশুদের অধিকাংশেরই শরীরে সরাসরি গুলি ব্যবহার করা হয়েছে।’
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। এল্ডার জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের বেঁচে থাকার এবং বেড়ে ওঠার মৌলিক পরিবেশগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি শিশুদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হচ্ছে, পানির ব্যবস্থায় হামলা চালানো হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানোর পথ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে তাদের চলাচলের ওপরও আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তিন দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও রাশিয়ার সঙ্গে লড়াই অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, গত চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহ নেই।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৯ মে থেকে তিন দিনের এক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। তবে এই সময়ের মধ্যেও হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দায়ী করেছে।
যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে সোমবার (১১ মে) দেওয়া নিয়মিত ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আজও যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো নীরবতা ছিল না; লড়াই অব্যাহত ছিল। আমরা প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ রাখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে রাশিয়ার এই যুদ্ধ থামানোর কোনো সদিচ্ছা নেই। উল্টো তারা নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বৈঠকগুলোর বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে ইউরোপের এই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও সেখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং এতে মার্কিন জনগণের সমর্থন রয়েছে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা আড়ালে চলে যায়। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে আলোচনার আশা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেই এখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দলটির বহু এমপি ও মন্ত্রী চাইছেন, স্টারমার যেন তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও সেই মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, যারা স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছেন। এতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়েই বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের ভেতরে অস্থিরতা
সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীকে (পিপিএস) সরিয়ে দেয়। তারা কেউ পদত্যাগ করেছিলেন, আবার কেউ স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত লেবার পার্টির ৭২ জন এমপি স্টারমারের পদত্যাগ অথবা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
যারা পদত্যাগ করেছেন
সোমবার পদত্যাগকারীদের তালিকায় ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পিপিএস জো মরিস। ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। মরিস বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন আর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারছেন না।
এছাড়া পদত্যাগ করেছেন, উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড, ক্যাবিনেট অফিসমন্ত্রী ড্যারেন জোনসের পিপিএস নওশাবাহ খান, পরিবেশমন্ত্রী এমা রেনল্ডসের পিপিএস টম রাটল্যান্ড।
আরও দুজন সরাসরি স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তারা হলেন- পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেনের পিপিএস গর্ডন ম্যাকি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পিপিএস স্যালি জেমসন।
স্টারমারের অবস্থান
এর আগে এক ভাষণে স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, তিনি সন্দেহকারীদের ভুল প্রমাণ করবেন ও পদত্যাগ করছেন না। তিনি স্বীকার করেন, তার সরকার কিছু ভুল করেছে। তবে তার দাবি, বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।
কিন্তু এই বক্তব্যের পরও তার সরে যাওয়ার দাবিতে চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সমর্থকরা স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের দাবি তুলেছেন।
দলের ডানপন্থি অংশও চাপ দিচ্ছে
শুধু বামঘেঁষা অংশ নয়, লেবার পার্টির ডানপন্থি অংশ থেকেও দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠ নেতারাও দ্রুত স্টারমারের বিদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
নির্বাচনে ভরাডুবির পর চাপ
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ইংল্যান্ডজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর হারানোর পর থেকেই স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে ও গ্রিন পার্টিও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে লেবারের ভোটব্যাংকে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওয়েলসেও শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে লেবার।
স্কটিশ পার্লামেন্টে ১২৯ আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে মাত্র ১৭টি আসন, যা হোলিরুড নির্বাচনের ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফল।
এমপিদের ক্ষোভ
এক বিবৃতিতে হেক্সহামের এমপি জো মরিস বলেন, লেবার কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের এমন সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়েছে, যেগুলো তাদের ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ভোটাররা বিশ্বাস করছে না যে তিনি সেই পরিবর্তন আনতে পারবেন, যার জন্য তারা ভোট দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশ ও দলের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত একটি সময়সূচি ঘোষণা করা উচিত, যাতে নতুন নেতা জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন ও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
ইস্ট ওর্থিং অ্যান্ড শোরহামের এমপি টম রাটল্যান্ড বলেন, আমার কাছে পরিষ্কার যে প্রধানমন্ত্রী শুধু পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির ভেতরেই নয়, পুরো দেশেই তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন ও তিনি তা আর ফিরে পাবেন না।
গিলিংহ্যাম অ্যান্ড রেইনহামের এমপি নওশাবাহ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি রাজনীতিতে এসেছি ব্যর্থতা দেখে চুপ করে থাকার জন্য নয়। এখনই আমাদের পরিষ্কার দিক পরিবর্তন প্রয়োজন, কোনো রাজনৈতিক খেলা নয়।’