শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

ইন্দোনেশিয়া উপকূলে শতাধিক রোহিঙ্গা নিয়ে নৌকাডুবি

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৪ ২২:২৪

শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের সাহায্য করতে যাওয়া একটি মাছ ধরার নৌকা বুধবার ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় ডুবে গেছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, সেখান থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজন স্রোতে ভেসে গেছে। খবর এএফপির।

পশ্চিম আচেহর ঐতিহ্যবাহী মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নন্দা ফেরদিয়ানিয়াহ বলেন, পশ্চিম আচেহর জেলেদের কাছ থেকে আমরা খবর পেয়েছি, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা মেউলাবোর কাছে সাগরে ডুবে গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে এক জেলে রোহিঙ্গাদের নৌকাডুবির দৃশ্য দেখতে পান।

তিনি বলেন, জেলেদের নৌকা তাদের কাছে আসতেই তারা সবাই নৌকায় উঠে পড়ে। তারা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ হওয়ায় জেলেদের নৌকাটিও ডুবে যায়।

রিজেন্সির জেলে সম্প্রদায়ের সেক্রেটারি জেনারেল পাওয়াং আমিরুদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিম আচেহর কুয়ালা বুবন সৈকতে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাটি ডুবে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া খবরে বলা হয়েছে, একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে এবং তারা উল্টে যাওয়া নৌকার হালে উঠে নিজেদের রক্ষা করেছে। আরও কয়েকজন প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। স্থানীয় জেলেরা এ পর্যন্ত ছয়জনকে উদ্ধার করেছে, চারজন নারী ও দুইজন পুরুষ।

স্থানীয় তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, উপকূল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাটিকে ডুবে যেতে দেখা গেছে। আমিরুদ্দিন বলেন, শরণার্থীরা বলেছে যে তারা মিয়ানমার থেকে এসেছিল এবং থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে তারা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশের দিকে যায়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলেছে, ‘তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দশ-বিশজনের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে’ উদ্ধার করা প্রয়োজন, তবে সঠিক সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেনি।

তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় একটি দল নৌকায় করে প্রাদেশিক রাজধানী বান্দা আচেহ ত্যাগ করেছে এবং বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তারা ডুবে যাওয়া এলাকায় পৌঁছাবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাব মতে, গত বছর অক্টোবরের পর থেকে দুই হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। মিয়ানমারের এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয়ে গত এক বছরে যারা ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে এসেছে, বিশেষ করে আচেহতে, এরা তাদেরই অংশ।

প্রতি বছর এপ্রিল থেকে নভেম্বর, যখন সমুদ্র শান্ত থাকে, রোহিঙ্গারা কাঠের নৌকায় চড়ে থাইল্যান্ড এবং মুসলিম-প্রধান বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমায়।

জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) জানুয়ারি মাসে জানায়, ২০২৩ সালে মিয়ানমার বা বাংলাদেশ থেকে পালানোর সময় যে ৫৬৯ জন রোহিঙ্গা মারা গিয়েছিলেন- এই সংখ্যা ২০১৪ সালের পর সর্বোচ্চ। কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গারা ইন্দোনেশিয়া আসছেন। ইউএনএইচসিআর বলছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত ১,৭৫২ জন উদ্বাস্তু, যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ এবং উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে এসেছেন। ২০১৫ সালের পর এটাই এই মুসলিম-প্রধান দেশে সবচেয়ে বেশি আগমন।

বিষয়:

ভিয়েতনামে ভূমিধসে ৭ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভিয়েতনামে ভূমিধসের ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। আজ শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসের নিচে একটি ভ্যান চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। খবর এএফপির।

উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে এক শিশুসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছে। তাদের কাছাকাছি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।

ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ফুটেজ এবং ভিডিওতে দেখা গেছে, কর্দমাক্ত পাহাড়ি রাস্তায় কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সেখানে বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্সও দেখা গেছে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে মোটরসাইকেলে করে ভ্রমণের জন্য হা জিয়াং প্রদেশ একটি জনপ্রিয় স্থান।

উত্তর ভিয়েতনামে এখন বর্ষাকাল। সে কারণে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যায় পাহাড়ি রাস্তা-ঘাটে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে হা গিয়াং প্রদেশের বাক মে জেলার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ভূমিধসের সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে একটি ভ্যান।

জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে বর্ষাকাল থাকে। এ সময়টাই উত্তর ভিয়েতনামে প্রায়ই ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগে গত জুন মাসে হা গিয়াং প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভিয়েতনামে প্রায় ১৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছে।


নাইজেরিয়ায় স্কুল ভবন ধসে ২১ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নাইজেরিয়ায় একটি স্কুল ভবন ধসে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্লাতেউ রাজ্যের সেইন্টস অ্যাকাডেমি কলেজে ক্লাস চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধাকারী, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। প্লাতেউর তথ্য কমিশনার মুসা আসোমস এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় ১২০ জন আটকা পড়েছিলেন। অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য স্কুলের ভাবনের কাঠামো হওয়ার বিষয়টিকে দোষারোপ করেছে। যেসব স্কুলের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে সেগুলো বন্ধ করে দিতে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি কতজন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক নিহত এবং আহত হয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে নিহতদের পাশাপাশি ২৬ জনকে একটি নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো শুক্রবার কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যুর খবর জানালেও, রেড ক্রসের একজন মুখপাত্র একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে কমপক্ষে ২১ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। খবর আল জাজিরা


ক্ষমতাচ্যুত হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প দাহাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দাহার। আজ শুক্রবার পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জোট সরকার থেকে দেশটির সবচেয়ে বড় দল নিজেদের গুটিয়ে নিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। খবর এপি।

গত ৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী পুষ্প দাহালের জোট সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় জোটের সবচেয়ে বড় দল ইউএমএল। ফলে সংবিধান অনুযায়ী বাধ্য হয়ে পুষ্পকে সংসদে আস্থাভোটের আয়োজন করতে হয়।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ২৭৫টি আসন রয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আস্থাভোটে জিততে কমপক্ষে ১৩৮টি ভোট প্রয়োজন। কিন্তু শুক্রবারের ওই আস্থা ভোটে পুষ্প পেয়েছেন মাত্র ৬৩টি ভোট। তার বিপক্ষে ২৫৮ জন আইনপ্রেণেতার মধ্যে ১৯৪ জন ভোট দিয়েছেন।

পুষ্প দাহালের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে ইউএমএল হাত মেলায় দেশটির অন্যতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে। এই জোট এখন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কমিউন্টি পার্টির নেতা খড়গ প্রসাদ অলিকে নির্বাচিত করবেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে নেপালে নির্বাচন হয়। এতে পুষ্প কামাল দাহালের দল সংসদে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েও প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ওই সময় থেকেই তার জোটটি নড়েবড়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত এ বছরের জুলাইয়ে এসে তাকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে। সবমিলিয়ে তিনি মাত্র ১৯ মাস প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।


কেনিয়ায় সব মন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মন্ত্রিসভার সব মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কয়েক সপ্তাহ পর দেশটির স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ ঘোষণা দেন। শুধু ডেপুটি প্রেসিডেন্ট রিগাথি গাচাগুয়া এবং প্রাইম কেবিনেট সেক্রেটারি মুসালিয়া মুদাভাদিকে তাদের স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে।

রাজধানী নায়রোবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট রুটো জানান ‘সামগ্রিক মূল্যায়ন এবং পর্যালোচনার’ পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যতটুকু উন্নয়ন আমরা করেছি, আমি খুবই ভালোভাবে জ্ঞাত যে আমার প্রতি কেনিয়ার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তারা বিশ্বাস করে এ প্রশাসন আমাদের জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।’

গত ২৫ জুন কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এতে অন্তত ২২ জন নিহত হন। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা দেশটির সংসদেও ঢুকে পড়েন। বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, তারা সংসদের ভেতর ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরের দিন ২৬ জুন আইনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট রুটো।

এত মানুষের মৃত্যু হওয়ার পর আইন প্রত্যাহার করায় বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ কমেনি। পরে তারা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করেন। এর জেরে মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট রুটো।


নেপালে ভূমিধস: নদীতে বাস পড়ে নিখোঁজ ৬৫ জন

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বৈরী আবহাওয়ায় হিমালয়ের দেশ নেপালে ভূমিধসে দুটি বাস নদীতে পড়ে আনুমানিক ৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার সকালে ত্রিশূলি নদীতে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, একইদিন পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন। খবর: ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্পা কমল দহল। সুষ্ঠুভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র দান বাহাদুর কারকি বলেন, কাঠমন্ডুর ৮৬ কিলোমিটার পশ্চিমে চিতান জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। কাঠমন্ডু থেকে গরের দিকে যাওয়া বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিল এবং বীরগঞ্জ থেকে কাঠমন্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বাসটিতে আরও ২৪ জন। ত্রিশূলি নদীতে উভয় বাস নিখোঁজ হয়েছে।

কারকি আরও বলেন, কাঠমন্ডু থেকে ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) পশ্চিমের কাসকি জেলায় পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

চলতি বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে হিমালয়ের এই দেশটিতে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।


গাজাযুদ্ধ এখনই বন্ধ হওয়া উচিত: বাইডেন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে চলছে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন। এতে এরই মধ্যে যোগ দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। সেখানে গাজা ইস্যুতে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করছে নেতানিহুর সরকার।

মার্কিন সরকার যুদ্ধবিরতি কার্যকরে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেছেন বাইডেন। বর্তমান প্রস্তাবে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই রাজি। তবে আলোচনার পর্যায়ে কিছু জটিলতা রয়েছে।

বাইডেন বলেন, এখনো অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। বিষয়টি ইতিবাচক রয়েছে এবং চুক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমি বদ্ধপরিকর। তাছাড়া এই যুদ্ধ এখনই বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ ও গাজায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার প্রশাসন সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাটোর সম্মেলনকালে নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান এই মন্তব্য করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি বাহিনীর বেসামরিক নাগরিকদের নৃশংস হত্যা, হাসপাতাল ও ত্রাণ সেন্টারে হামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

বিষয়:

ত্রিপুরায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়েছে এইচআইভি

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহরকমভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এইচআইভি। ত্রিপুরার এইডস নিয়ন্ত্রণ সোসাইটির প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে সামনে এসেছে বিষয়টি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ত্রিপুরায় ৮২৮ শিক্ষার্থী এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৪৭ জন মারা গেছে। যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেছিল।

এই ৮২৮ শিক্ষার্থীর দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত।

৮শরও বেশি শিক্ষার্থীর এইচআইভি আক্রান্ত হওয়া নিয়ে রাজ্যে শোরগোল চলছে। অনেকে মনে করছেন এই শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে সংস্থাটি। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই তথ্যটি গত ১৭ বছরের।

আর যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বেঁচে আছে। এ ছাড়া তাদের সবাইকে সরকারি ওষুধও প্রদান করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এইচআইভি ত্রিপুরার ২২০টি স্কুল এবং ২৪টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের বাবা-মা সরকারি চাকরিজীবী অথবা আর্থিকভাবে সচ্ছল। এসব বাবা-মায়ের সন্তানরা যে পরিমাণ অর্থ চায় তা সহজেই পেয়ে যায়। এরপর এ অর্থ তারা মাদকের পেছনে ব্যয় করে। বাবা-মা যখন সন্তানের মাদকাসক্তির বিষয়ে জানতে পারেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

তবে গত ১৭ বছরে ৮২৮ শিক্ষার্থী এইচআইভিতে আক্রান্ত হলেও প্রতি বছর রাজ্যটিতে যে পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, তা খুবই উদ্বেগের। এইডস নিয়ন্ত্রণ সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী ত্রিপুরায় ২০২২-২৩ সালে ১ হাজার ৮৪৭ জন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৯০ জন।


বাইডেন হোয়াইট হাউজের দৌড়ে থাকবেন: ট্রাম্প

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাকে বাদ দেওয়ার আহ্বান সত্ত্বেও হোয়াইট হাউজের জন্য দৌড়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল সোমবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প ফক্স নিউজে শন হ্যানিটিকে বলেন, ‘আমি মনে করি আপনি জানেন তিনি খুব ভালোভাবে থাকতে পারেন।’ গত মাসের শেষের দিকে তাদের প্রেসিডেন্ট বিতর্কে বাইডেনের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এটি ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার। খবর এএফপির।

ট্রাম্প বলেন, তার এক ধরনের অহংকার আছে। তিনি ছাড়তে চান না। রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট আটলান্টায় সিএনএন আয়োজিত বিতর্কের বিশদ বিবরণ দেন। তিনি বলেন, সেই সময় বইডেন প্রায়শই তার চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং মাঝে মাঝে হতবাক হয়ে অসংলগ্ন কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, আমি বলব এটি এক অদ্ভুত বিতর্ক ছিল। কারণ, কয়েক মিনিটের মধ্যে তার দেওয়া উত্তরগুলো কোনো উত্তর ছিল না। সেগুলোর খুব একটা অর্থ ছিল না। সেগুলো ছিল কেবলমাত্র একত্রিত কিছু শব্দ যেগুলোর কোন অর্থ বা বোধোদয় হয় না।


রাশিয়ার সেনাবাহিনী থেকে ভারতীয়দের ছাড়তে বললেন মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দুই দিনের সফরে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গতকাল সোমবার রাতে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তৃতীয়বারের মতন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েচেন পুতিন।

নৈশভোজে পুতিনের কাছে একটি আবেদন জানান মোদী। তিনি বলেন, রাশিয়ায় যে ভারতীয়রা আছেন, বাধ্য হয়েই তাদের অনেককে যুদ্ধে অংশ নিতে হয়েছে। পুতিন যেন যুদ্ধ থেকে ভারতীয়দের অব্যাহতি দেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এরপর থেকে সেই যুদ্ধ চলছে। কর্মসূত্রে বহু ভারতীয় রাশিয়ায় বসবাস করেন। মোদীর অভিযোগ, এমন বহু ভারতীয়কে বাধ্য হয়ে রাশিয়ার সেনায় যোগ দিতে হয়েছে। লড়াইয়ে এখনো পর্যন্ত দুই ভারতীয়ের মৃত্যুর খবরও মিলেছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বহু ভারতীয় রাশিয়ায় আটকে পড়েছেন। তারা বড় বেতনের কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। এখন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ওই ভারতীয়রা যাতে দেশে ফিরে আসতে পারেন, মোদী সেই আবেদন জানিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, পুতিন আবেদনে সারা দিয়েছেন। ভারতীয়দের সেনাবাহিনী থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তারা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুতিন।

ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াবিরোধী মঞ্চ তৈরি করলেও ভারত কোনোপক্ষেই যোগ দেয়নি। তারা এখনো পর্যন্ত জাতিসংঘে এই বিষয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। শুধু তা-ই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কও অটুট রেখেছে ভারত। রাশিয়া থেকে তেল কিনছে মোদী সরকার, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের চাপের মুখেও পড়তে হয়েছে ভারতকে।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়াও ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। মোদীর রাশিয়া সফরও এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে অস্ট্রিয়ায় যাবেন মোদী। ৪১ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়ায় যাবেন।


ঝড়ে লণ্ডভণ্ড টেক্সাস, ১৩০০ ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় হারিকেন বেরিল প্রবল শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩ জন। বাতিল করা হয়েছে ১৩০০ এর বেশি ফ্লাইট। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন ২৭ লক্ষাধিক মানুষ।

আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ভোরে ভারি বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের সঙ্গে টেক্সাসের উপকূলীয় শহর মাটাগোর্ডার কাছে আছড়ে পড়ে ঝড় হারিকেন বেরিল। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সকালে যখন বেরিল প্রথম টেক্সাসে আঘাত হানে, তখন এটি একটি ক্যাটাগরি ওয়ান হারিকেন হিসাবে সেখানে আছড়ে পড়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে ধীরে ধীরে শক্তি কমে এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে।

বাতাস ও ১৫ ইঞ্চি (৩৮ সেমি) পর্যন্ত বৃষ্টি এবং ‘জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী’ ঝড়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া হিউস্টনের বৃহত্তম বিমানবন্দরে ১৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

টেক্সাসে সোমবার ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বাতাসের ধাক্কায় বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ায় এবং হ্যারিস কাউন্টিতে তার বাড়িতে গাছে ভেঙে পড়ে মারা গেছেন। মূলত গাছ ভেঙে বাড়ির ওপরে পড়ার ফলে তার ছাদ ধসে পড়ে।

একই কাউন্টিতে হিউস্টনের কিছু অংশও রয়েছে এবং সেখানে ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বাড়ির ছাদে গাছ ভেঙে পড়ার পরে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই বৃদ্ধার নাতনি পুলিশকে পরে খবর দেন।

সোমবারের এই ঝড়ের পর হিউস্টনের শহরতলিতে পুলিশ ইতোমধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। মার্কিন পূর্বাভাস প্রদানকারী সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের মতে, চলতি জুলাই মাসে টেক্সাসের জন্য এই ধরনের হারিকেনের আঘাত বেশ কিছুটা বিরল।

বিষয়:

সার্জন থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট কে এই পেজেশকিয়ান

মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থি মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি ছিলেন সংস্কারবাদী আইনপ্রণেতা। হৃদ্‌রোগবিষয়ক সার্জন থেকে এখন তিনি দেশটির ১৪তম প্রেসিডেন্ট। তার এ জয় সামাজিক স্বাধীনতা ও বাস্তবধর্মী পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশী ইরানের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

কট্টরপন্থিদের ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে নারীর অধিকার, অধিক সামাজিক স্বাধীনতা, পশ্চিমের সঙ্গে বৈরিতায় সতর্কতা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ৬৯ বছর বয়সি মধ্যপন্থি পেজেশকিয়ান। খবর: আল-জাজিরা ও রয়টার্সের।

ইরানে আগামী বছরের জুনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৯ মে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হলে আগাম নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

পেজেশকিয়ানের উত্থান

মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের দেশটির পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের বাসিন্দা। তিনি ১৯৫৪ সালে মাহাবাদ শহরে জন্ম নেন। তার বাবা ইরানি-আজেরি ও মা ইরানি-কুর্দি। পেজেশকিয়ান জেনারেল মেডিসিনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যখন মেডিকেলের তরুণ ছাত্র, তখন পাহলভি শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের দলে ভিড়েছিলেন।

মাসুদ পেজেশকিয়ান আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। তার ওপর দায়িত্ব ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসাকর্মীদের মোতায়েন করার। ১৯৯৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও এক সন্তান হারান তিনি। পরে আর বিয়ে করেননি। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট খাতামির শাসনামলে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের পার্লামেন্টে ২০০৮ সাল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ইরানের প্রধান সংস্কারপন্থি জোট তাকে সমর্থন দিয়েছে। সাবেক দুই সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানিরও সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

পেজেশকিয়ান ২০১৩ ও ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ২০১৩ সালে তিনি হাসেমি রাফসানজানিকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং ২০২১ সালে গার্ডিয়ান কাউন্সিল তার প্রার্থিতা বাতিল করে।

২০২২ সালে পেজেশকিয়ান মাশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেন। হিজাব-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মাশা আমিনি নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মারা যান। এ ঘটনায় দেশজুড়ে কয়েক মাস ব্যাপক বিক্ষোভ চলে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

পেজেশকিয়ান স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতি চাঙা করা, অব্যবস্থাপনার অবসান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে এক ভিডিও বার্তায় পেজেশকিয়ান ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘চেষ্টা করেও আমি যদি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হই, তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিদায় জানাব। তা আর চালিয়ে যাব না। আমাদের জীবনে ও প্রিয় জনগণের সেবা করার ক্ষেত্রে সময় নষ্টের সুযোগ নেই।’

সীমিত শক্তি

পেজেশকিয়ান অব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেহেতু নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খামেনির হাতে সীমাবদ্ধ, তাই অনেক ইরানি স্বদেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদে আগ্রহী। তবে বিদেশে ইরানের বিচ্ছিন্নতার অবসান চায় এমন ইরানিরা মনে করছেন, সংস্কারপন্থি পেজেশকিয়ান চেষ্টা করলেও দেশটির শাসক তাকে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন করতে দেবে না।

ইরানের কিশ দ্বীপের ৪৫ বছর বয়সি ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেইনি বলেন, ‘পেজেশকিয়ান হয়তো কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক স্বাধীনতা আনতে সক্ষম হবেন। তবে তিনি একজন দুর্বল প্রেসিডেন্টই হবেন। কেননা খামেনি ও তার মিত্ররা প্রেসিডেন্টের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।’

গত ২৮ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হয়। প্রথম দফায় চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে একমাত্র সংস্কারপন্থি প্রার্থী ছিলেন পেজেশকিয়ান। তবে নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার ভোট হয়। প্রথম দফায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং অতি রক্ষণশীল সাইদ জালিলির মধ্যে দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মাসুদ পেজেশকিয়ান পেয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ভোট। বিপরীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ জালিলি পেয়েছেন মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোট। অর্থাৎ মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রায় ৩৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে খামেনি-সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ জালিলিকে হারিয়েছেন।

পেজেশকিয়ান জয়ী হওয়ায় তাকে বিশ্বশক্তিগুলোর স্বাগত জানানোর কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানের দ্রুত বিকাশমান পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের তীব্র টানা-পোড়েনে একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারেন তিনি। এমনটাই ধারণা বিশ্লেষকদের।

তারা বলছেন, পেজেশকিয়ান এমন লোকদের সমর্থন পেয়েছেন, যারা মূলত শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলামি ভাবধারার বিপরীত কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানে ব্যাপকভাবে আশাহত হয়েছেন এ শ্রেণির ভোটাররা।


ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশিকিয়ান

মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন মাসুদ পেজেশিকিয়ান। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাঈদ জালিলিকে পরাজিত করে এই বিজয় অর্জন করেছেন তিনি।

দেশটির নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পেজেশকিয়ান।

নিজ মেয়াদের আড়াই বছরের মাথায় গত ২০মে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তার মৃত্যুর পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দেশটিতে ক্ষমতাসীন কট্টর ইসলামপন্থি সরকার। সেই তারিখ ছিল ২৮ জুন।

ভোটার টার্নআউটের হার নিম্ন হওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট বা রান-অফে গড়ায় নির্বাচন। সেই দ্বিতীয় দফা ভোটের তারিখ ছিল গতকাল ৫ জুলাই।

এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এরা হলেন মোস্তফা পুরমোহাম্মাদী, সাঈদ জালিলি, মোহাম্মদ বাকের কলিবফ, আলী রেজা যাকানি, সাইয়্যেদ আমির হোসেন কাজীজাদেহ হাশেমি ও মাসুদ পেজেশকিয়ান।

নির্বাচনে লড়াই হয়েছে মূলত সাঈদ জালিলি ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জালিলি কট্টরপন্থি এবং মাসুদ সংস্কারপন্থি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তবে উভয়েই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ।

গতকাল ভোটের পর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা গেছে, মাসুদ পেজেশকিয়ান পেয়েছেন ১ কোটি ৬৩ লাখ ভোট এবং সাঈদ জলিলি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পরপরই রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরে বিজয় উদযাপন করতে নেমেছেন পেজেশকিয়ানের সমর্থকরা।

ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অন্যান্য দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের মতো নয়। দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষে অবস্থান করেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। প্রেসিডেন্ট মূলত তার প্রধান সহকারী। তবে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরাধিকারী বাছাই সম্পর্কিত যে রাষ্ট্রীয় কমিটি রয়েছে, পদাধিকার বলে সেই কমিটির প্রধান সদস্য প্রেসিডেন্ট।


ইউরোপ যেতে নৌকা ডুবে ৮৯ প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে মৌরিতানিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৮৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে এক ডজনের বেশি মানুষ সাগরে নিখোঁজ রয়েছে। মৌরিতানিয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা দেশটির স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়।

সংবাদ সংস্থাটির দেখা তথ্য অনুযায়ী, মৌরিতানিয়ার এনডিয়াগো শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে গত ১ জুলাই মাছ ধরার বড় একটি নৌকা ডুবে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ওই নৌকায় থাকা ৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন দেশটির কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয় পাঁচ বছরের এক মেয়েসহ ৯ জনকে।

উদ্ধার ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনেগাল ও গাম্বিয়া সীমান্ত থেকে ১৭০ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি যাত্রা শুরু করে। সে হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৭২ জনে। স্থানীয় সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে একই তথ্য জানিয়েছেন।

শক্তিশালী স্রোতের কারণে আটলান্টিক অনেক বেশি বিপজ্জনক। বেশির ভাগ সময় সাগরে চলাচলের অনুপযোগী নৌকা দিয়ে এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এসব নৌকায় ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ওঠানো হয়। থাকে না পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার পানিও।

তবে ভূমধ্যসাগরে নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় আটলান্টিক মহাসাগর অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্পেন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ৩৯ হাজার ৯১০ অভিবাসী পা রাখেন, যা এক বছরের মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি। স্পেনের দাতব্য সংস্থা ক্যামিনান্দো ফ্রনটেরাসের তথ্য বলছে, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সমুদ্রপথে স্পেন পৌঁছাতে গিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। সংস্থাটি ২০০৭ সাল থেকে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করছে। তার পর থেকে এ পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা। মৃতদের সিংহভাগই আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

উত্তর আফ্রিকা উপকূলের কাছেই স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ। আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড থেকে দ্বীপপুঞ্জটির সবচেয়ে কাছের বিন্দুর দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। কিন্তু সেখানে যেতে কিছুটা দূরের পথ ব্যবহার করেন অভিবাসীরা। এ ক্ষেত্রে লম্বা কাঠ দিয়ে বানানো পিরগ না পাইরাগ নামের নৌকাবহুল ব্যবহৃত বাহন। অভিবাসীদের নিয়ে মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, মৌরিতানিয়া, গাম্বিয়া ও সেনেগাল থেকে ইউরোপের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এসব নৌকা।


banner close