ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র হামলার কোনো লক্ষ্য বা ইচ্ছা রাশিয়ার নেই বলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানালেও তার কথায় পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার বাইডেন বলেন, পুতিনের পারমাণবিক হামলার কোনো ইচ্ছা না থাকলে কেন বারবার এটি নিয়ে কথা বলছেন? কেন তিনি পারমাণবিক হামলা ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি যেভাবে এমন বিষয় নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন তা খুব বিপজ্জনক।
ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ নাকচ সিউলের
ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ-সংক্রান্ত রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল গতকাল শুক্রবার জানান, তারা কিয়েভ সরকারকে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সহায়তা পাঠালেও কোনো অস্ত্র পাঠায়নি। আল-জাজিরা জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের দক্ষিণ কোরিয়ার সিদ্ধান্ত মস্কো-সিউলের সম্পর্ক ধ্বংস করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানায়, পুতিনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউন সুক-ইওল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনকে আমরা মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সহায়তা দিয়েছি। কিন্তু কখনোই প্রাণঘাতী অস্ত্র বা এ জাতীয় কোনো জিনিস তাদের দিইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের সার্বভৌমত্বের বিষয় এবং আমি জানাতে চাই যে, আমরা রাশিয়াসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করি।’
ইয়োনহাপ জানায়, সিউল ইউক্রেনে প্রাণঘাতী নয়- এমন সামরিক সরঞ্জাম যেমন বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, হেলমেটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে এবং কিয়েভের অস্ত্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
আল-জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে না। তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের বিবাদে যেতে চায় না। অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ কোরিয়ার নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করুক তা চায় না সিউল।
ইউক্রেনে দুদিনে ৩০টি ড্রোন হামলা
ইউক্রেনে দুদিনে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি এ কথা জানান। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮ হাজার বার বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি মস্কোর শক্তিধর বিমানবাহিনীর ডানা ছেটে দেয়ার অঙ্গীকার করেন।
জেলেনস্কি গত বৃহস্পতিবার রাতে কিয়েভের একটি সড়কে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় তার পাশে ভূপাতিত ড্রোন দেখা যায়। এটি ইরানের শহীদ ড্রোন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসী ড্রোন হামলাকে ভয়ংকর বলে সতর্ক করার পর জেলেনস্কি দুদিনে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার কথা তুলে ধরলেন।
সম্প্রতি কানাডার রাজধানী অটোয়া সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ হত্যায় রুশ বাহিনী প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। তারা ইউক্রেনে বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়ার কাছে ইরান ড্রোন সরবরাহ করছে। তবে মস্কো এবং তেহরান উভয়েই এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ ঘোষণা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী, গবেষক ও অন্যান্য ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় তথ্যের বিনিময়ে পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তথ্যদাতাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তাবিষয়ক বাধ্যবাধকতা ইরান না মানায় দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমে নজরদারি করতে পারছে না সংস্থাটি। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি ও মজুতের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালালে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে দেশটি তা ব্যবহার করত এবং মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করে দিত।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আট মাসের যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেশটি যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’
এদিকে নতুন করে যাতে যুদ্ধ শুরু না হয়, সে জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, তার সরকার এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে আরও দুয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি আছে। এর মধ্যে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সেখানে ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনা আছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে ইরান।
বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট পালন করেছেন লাখো শ্রমিক। কয়েক সপ্তাহ ধরে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এদিন কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধলে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্স বর্তমানে ভয়াবহ আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সামনে দেশটিতে নির্বাচন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের ভোটের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থিরা।
শ্রমিক সংগঠন সিজিটি জানিয়েছে, বিক্ষোভে পুরো ফ্রান্সে ১৬ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার। এর আগে দেওয়া ছয় লাখের হিসাব সংশোধন করে এ সংখ্যা জানায় মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন ৬০ হাজার মানুষ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৩ পুলিশ কর্মকর্তা। প্যারিসের সমাবেশে সিজিটি নেতা সোফি বেনে বলেন, ‘আজ প্রশ্নটা এই নয় যে, আমরা জিতব কিনা; বরং প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা আদায় করতে পারব।’
ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের ঢেউয়ের মধ্যেই এ ধর্মঘটের আয়োজন করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জার্মানি, স্পেন, গ্রিস, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের তরুণরাও একই ধরনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের মূল কারণ ছিল শিক্ষার নিম্নমান ও প্রতিকূল পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ। একই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈষম্য নিয়েও ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ এক পর্যায়ে রূপ নেয় সহিংস দাঙ্গায়। কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে সেটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা। সর্বশেষ শ্রমিক সংগঠনগুলো সব খাতে মজুরি বাড়ানো এবং করব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বিক্ষোভের ওপর পুলিশের বিধিনিষেধ নিয়েও অভিযোগ তুলেছে তারা।
মিছিলগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ থাকলেও লিওঁসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। লিওঁতে অন্তত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
লিওঁর বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আঙুর চাষি মার্টিন থিবার্জে বলেন, ফরাসি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে একত্র করেছে এই আন্দোলন। তিনি এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। আমরা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি চাই।’ মার্সেইয়ে ৩১ বছর বয়সি সমাজকর্মী লেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রতিটি পয়সার হিসাব করে চলতে চলতে আমি ক্লান্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সামাজিক আন্দোলন আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে।’ এদিকে প্যারিসে আইফেল টাওয়ার ও আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফ সারাদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
সরকার জানিয়েছে, দেশটির তিন হাজার ৭০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১টিতে অবরোধ করা হয়েছে। তবে একটি ছাত্র সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভের কারণে প্রায় এক হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ শিক্ষক ধর্মঘটে অংশ নেন। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনগুলো ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। পাশাপাশি রেলকর্মী, সরকারি হাসপাতাল ও ডাক বিভাগের কর্মীদের সংগঠনগুলোও এ কর্মসূচিতে যোগ দেয়।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ডাককর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও পরিবহনকর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ফ্রান্সের কয়েকটি বড় শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভের দিনটিতে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া স্কুলের মোট কর্মীর প্রায় ১৩ শতাংশ ধর্মঘটে অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) থেকে পদত্যাগ করেছেন তিন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ফ্লোরিডার মার্কিন অ্যাটর্নি ও জ্যেষ্ঠ ফেডারেল প্রসিকিউটর জেসন রেডিং কুইনোনস, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বিভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করছিলেন। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের চাহিদা অনুসারে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ শীর্ষ নেতৃত্বের তীব্র চাপের মুখে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন কুইনোনস। এর পাশাপাশি বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশনের প্রধান জন আইজেনবার্গ শুক্রবার নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান এবং সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন গত বৃহস্পতিবার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হয়ে কংগ্রেসের তদারকি ক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন তদন্ত শুরু হতে পারে। এমন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুখে বিচার বিভাগের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন যে প্রশাসনের অনুগত কট্টরপন্থিরা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কুইনোনসের দায়িত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ। সেখানে তিনি জানান, বিভাগটি ‘জেসনের নেতৃত্বের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ তবে ভেতরের খবর অনুযায়ী, কুইনোনস ও ধিলনের মতো কর্মকর্তারা শীর্ষ পর্যায়ে যেসব বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যার পরিণতিতেই এই বিদায়ের ঘটনা ঘটল।
এক বছরের দায়িত্বকালে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি অভিযোগ গঠন নিশ্চিত করেছিলেন কুইনোনস, যা ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়। তবে ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সের গ্র্যান্ড জুরিকে ব্যবহার করে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প ও তাঁর নির্বাচনী শিবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনাকারী সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি কোনো কার্যকর অভিযোগ দাঁড় করাতে পারেননি। এ ব্যর্থতা বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া সিনেট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের স্থায়ী অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মেয়াদকালের বাকি সময় বিচার বিভাগের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রেসিডেন্টকে স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডে বিদ্যমান মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো আর নতুন করে গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া এই দাবি তুলে ধরেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ২২৮টিরও বেশি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এমনকি এর মধ্যে বেশ কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোহাম্মদ আকরামনিয়া আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের কোনো মার্কিন ঘাঁটিরই সামরিক তৎপরতা চালানোর মতো কার্যক্ষমতা আর অবশিষ্ট নেই। এর ফলে যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয় জ্বালানি থেকে শুরু করে সেনাদের রসদসামগ্রী এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন।
ইরানি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কখনোই এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করতে দেব না।’
অবশ্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা সেগুলোর বর্তমান পরিচালনগত সক্ষমতা নিয়ে তেহরানের এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদে ঘরবাড়ি, জীবিকা ও নিরাপদ বসবাসের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু অভিযোজনের অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ৩১) সামনে রেখে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বরাতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনের আগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরছে ইউএনএইচসিআর। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে জলবায়ু দুর্যোগের ঝুঁকি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
উপকূলীয় বাংলাদেশের সংকট: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর চাপ তৈরি করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বহু মানুষ। দুর্যোগের পরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাস ও জীবিকা পুনর্গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু নতুন করে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে না, বরং ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনও কঠিন করে তুলছে।
বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি: ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের টিকে থাকার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু অর্থায়ন পৌঁছানো জরুরি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশগুলোতে ফিরেছেন, যেগুলো নিজেরাই মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ফলে প্রত্যাবর্তনের পরও তাদের আবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।’
সিরিয়ায় সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ফিরে এসেছেন। কিন্তু দেশটিতে পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত। গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পানিসংকট ও তাপপ্রবাহে বিপন্ন জীবন: প্রতিবেদনে সুদানের এক শরণার্থীর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে আল-ফাশিরে যুদ্ধের সময় পালিয়ে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন তিনি।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে আশপাশের নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কখনো কখনো প্রায় এক সপ্তাহ বিশুদ্ধ পানি পান করা সম্ভব হয়নি। পানির বিকল্প উৎস খুঁজতে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৈনন্দিন সংকটের চিত্র তুলে ধরে। নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর পরও পানি, খাদ্য ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাবে তাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকছে।
অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ: ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, এল নিনোর প্রভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া অনেক দেশে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। চলতি বছরের শেষদিকে পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ সংঘাতপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত দেশগুলোতে পৌঁছায়। অথচ এসব দেশের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশ ও অর্থদাতা সংস্থাগুলোকে অভিযোজন তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ বসবাস এবং পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই সহায়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান 'উয়েনো'-র ধস এবং এর জেরে সৃষ্ট তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
ব্যাংকটির পতনের ফলে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন, যা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম স্থিতিশীল এই দেশটির অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির ভেতর নিজের রাজনৈতিক সমর্থন হারিয়ে ফেলা পেনা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জবাবদিহির অংশ হিসেবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করতে তিনি সিনেটের শুনানিতে উপস্থিত হবেন এবং আটকে থাকা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সচ্ছলতা না থাকার অভিযোগে উয়েনোর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে মূলত এই সংকটের সূত্রপাত হয়। ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেনশন তহবিলের প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল পরিচালনা করত এই ডিজিটাল ব্যাংকটি। এই পতনের পর ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদত্যাগ করেছেন এবং উয়েনোর আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন।
বিরোধী আইনপ্রণেতারা পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও পেনশন তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুললেও তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৩ সালে নির্বাচিত পেনার বিরুদ্ধে সাবেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেজের সাথে তার অতীতের সম্পৃক্ততা নিয়েও তীব্র নজরদারি চলছে।
বৃহস্পতিবার পেনার পদত্যাগপত্র জমা পড়ার পর সিনেট তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরায় সচল করে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সিনেটে তার বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিনি সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা বাড়ানোর আবেদন জানান, যা সিনেট নাকচ করে দেয়। ফলে উয়েনোর পতনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে প্যারাগুয়ের ক্ষমতার পালাবদল এখন এক জটিল মোড় নিয়েছে।
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে উগ্রপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এডিএফ) সন্দেহভাজন হামলায় অন্তত ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের বেনী অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে একযোগে এই হামলা চালানো হয়। বেনী অঞ্চলের নাগরিক সমাজের নেতা জাঁ কাতুহোর বরাতে শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, বিদ্রোহীরা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং বনের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় অসংখ্য বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অতর্কিত এই প্রাণঘাতী হামলার পর প্রাণভয়ে গ্রাম ছেড়ে আশপাশের তুলনামূলক নিরাপদ স্থানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন বহু স্থানীয় বাসিন্দা। এই নৃশংস ঘটনার ঠিক আগেই বৃহস্পতিবার উত্তর কিভু প্রদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কঙ্গোয় নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (মনুস্কো) প্রধান জেমস সোয়ান। ওই বৈঠকে তিনি অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে কঙ্গো কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সোয়ান উল্লেখ করেছিলেন যে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের মূল অগ্রাধিকার এবং এ জন্য সার্বক্ষণিক উপস্থিতি, নিয়মিত টহল ও যেকোনো বিপদে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
হামলার পেছনে দায়ী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এডিএফ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের (দায়েশ) সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বেশ কয়েক বছর ধরেই কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। বিদ্রোহীদের এই দৌরাত্ম্য রুখতে ২০২১ সাল থেকে উগান্ডা ও কঙ্গোর সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এডিএফের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতা সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে বিদ্রোহীদের অতর্কিত চোরাগোপ্তা হামলা ও সহিংসতা থামানো যাচ্ছে না।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের গত জুলাই মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই কঙ্গোয় এডিএফের হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এখনো ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক সশস্ত্র দল হিসেবে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারে ইউরোপজুড়ে গড়ে ওঠা বিশালাকার ডেটা সেন্টারগুলোর লাগামহীন সম্প্রসারণের প্রতিবাদে অঞ্চলজুড়ে সমন্বিত গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘স্টপ ডার্টি ডেটা সেন্টারস’ নামের একটি নাগরিক ও পরিবেশবাদী জোট শুক্রবার ও শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে। অবিলম্বে ইউরোপে বৃহৎ পরিসরের ডেটা সেন্টার নির্মাণে কার্যকর স্থগিতাদেশ (মোরাটোরিয়াম) জারির দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
আন্দোলনকারী গোষ্ঠীটি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন শহর ও লোকালয়ে এআই ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তার পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তার দায়ভার বহন করা আর সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে এসব ডেটা সেন্টারের কারণে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পানি অপচয় এবং চলমান জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এ ছাড়া আবাসিক সংকটের সৃষ্টি, সাধারণ মানুষের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিষাক্ত সরবরাহ চেইনের মতো নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে আয়োজকেরা সতর্ক করেছেন।
জনস্বার্থবিরোধী এই প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণের পেছনে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আধিপত্যকে দায়ী করে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামোর বিস্তার গণতন্ত্রকে করপোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি করছে। একই সঙ্গে নাগরিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লোভ নয়, বরং মানুষের কল্যাণ ও পৃথিবীর সুরক্ষায় এআই ও ডেটা সেন্টারগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত স্থানীয়, জাতীয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা জরুরি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে জনমত গড়ে তুলতে শুক্রবার ও শনিবার ইউরোপের অন্তত ১২টি দেশে একযোগে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ড। পরিবেশ ও জীবনযাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব দেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে রাজপথে নামছে।
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে প্যারাগুয়ের প্রায় অর্ধেক মানুষ নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তুলতে না পারায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
তবে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কংগ্রেস আপাতত পদত্যাগ গ্রহণ স্থগিত রেখেছে। ফলে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য তাকেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ঘটনার সূত্রপাত দুই দিন আগে। প্রেসিডেন্ট পেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা উয়েনো ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ব্যাংক আমানত আটকে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অবসরভোগীরাও রয়েছেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানী আসুনসিওনে কংগ্রেস ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের ‘আমাদের টাকা ফেরত দাও’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এর আগে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী আন্দ্রেস মালদোনাদো এএফপিকে বলেন, ‘আমার পরিবারের টাকা শেষ হয়ে গেছে। হাতে কোনো নগদ অর্থ নেই। সান্তিয়াগো পেনা একজন অপরাধী। তাকে কারাগারে যেতে হবে।’
ব্যাংকিং সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, অসদাচরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার পেনার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট পেনা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অভিশংসন বিচারে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে তিনি প্যারাগুয়ের জনগণের কাছে ক্ষমাও চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পেনা বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা নিজেদের সঞ্চয় আমাদের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে জমা রেখেছেন, সেই প্যারাগুয়ের জনগণের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দূর করা।’
এদিকে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনরিক রিয়েরাও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেয়েছেন কার্লোস বেনিতেজ।
প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূলধনের গুরুতর ঘাটতির কারণে উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা নাদিয়া গনজালেজ এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম বাড়ি কেনার জন্য উয়েনো ব্যাংক ঋণ অনুমোদন করেছিল। কিন্তু সেই অর্থ কখনো ছাড় করা হয়নি। এখন আমাদের মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই।’
মঙ্গলবার ও বুধবার রাজধানী আসুনসিওনে উয়েনো ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সামনে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট পেনার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ছিল। তবে গত বছর তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করে দেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কার্লোস কারভালোর পদত্যাগের অনুরোধ জানান। কারভালো তাতে সম্মত হন। পাশাপাশি ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার পেনার পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে, নাকি তা প্রত্যাখ্যান করে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়।
তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য উপস্থিত না থাকায় অধিবেশনে কোরাম পূরণ হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো ভোটাভুটি করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী আরেকটি বিশেষ অধিবেশনে শুক্রবার সকালে পেনার অভিশংসন বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, পেনার পদত্যাগ কার্যকর হলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত আগস্টে তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ আক্রান্ত দেশের পাশে দাঁড়াবে এবং সহযোগিতা করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী শক্তি সৌদি আরব একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় যুক্ত হলো।
ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে তুরস্কের।
অন্যদিকে, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টে ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন আইনপ্রণেতা।
পার্লামেন্টে আলোচনার সময় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) আইনপ্রণেতা জিয়া আলতুনইয়ালদিজ বলেন, এ চুক্তি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে তা প্রতিরোধ করাই এর উদ্দেশ্য।
সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহর, তেল স্থাপনা ও নৌপরিবহন লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
গত জুলাইয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
ফিলিপাইনের কাছে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসের বিক্রি বাড়াতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিনটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির আওতায় ফিলিপাইনকে প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হতে পারে। এতে মোট প্রায় ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সম্ভাব্য এই চুক্তির আর্থিক মূল্য হতে পারে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের প্রথম চুক্তির আওতায় ফিলিপাইন নৌবাহিনীর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই নতুন এই বৃহৎ সামরিক ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক সংঘর্ষ ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক বাহিনী আধুনিকায়ন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ম্যানিলা। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্সেনিও অ্যান্ডোলং রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অতিরিক্ত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া গত বুধবার ‘দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগ’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জানান, ফিলিপাইনের ভৌগোলিক পরিবেশ ও প্রতিরক্ষা চাহিদার সঙ্গে আরও উপযোগী করে তুলতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর দেশ দ্রুতই অতিরিক্ত ব্রহ্মস ইউনিট সংগ্রহের প্রত্যাশা করছে।
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যা স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি মাধ্যম থেকেই সমান দক্ষতায় নিক্ষেপ করা সম্ভব। গত বছর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের সময় ভারত প্রথমবারের মতো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে; যার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। যদিও চলমান এই নতুন চুক্তি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিলিপাইন ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের বাজার দ্রুত বিস্তার করছে ভারত। গত জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মস সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ভিয়েতনামের সঙ্গেও চুক্তি সম্পন্ন করেছে দিল্লি। এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরে ভারতের মোট প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপি বা ৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কয়েকশ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারির তদন্তের অংশ হিসেবে তুরস্কের সাবেক এক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন ও অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে ইস্তাম্বুলের একটি আদালত বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
কায়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তুরস্কের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) উপপ্রধান ছিলেন।
প্রধান বিরোধী দল ইয়েনি পার্টির পক্ষ থেকে ফাতমার বিরুদ্ধে বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বিপুল অর্থ লাভের অভিযোগ ওঠার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, কায়া ও তার স্বামী বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আয় করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই তারা ওই শেয়ার বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের (ইনসাইডার ট্রেডিং) অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরে কায়া ক্ষমতাসীন দল থেকেও পদত্যাগ করেন।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগ তহবিলসংক্রান্ত কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তুরস্ক। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপকভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা।
গত মঙ্গলবার তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, এ ঘটনায় বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে শুক্রবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই তারা ফোনালাপ করলেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একের পর এক কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন— এমন আশঙ্কার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
কাতারের আমিরের দপ্তর আমিরি দিওয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প ফোন করার পর দুই নেতা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের নেওয়া ‘কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো’ নিয়ে আলোচনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমির শেখ তামিম বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সংলাপ অব্যাহত রাখা ও কূটনৈতিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।