দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে কেজরিওয়ালের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সেই সঙ্গে বলেছেন, লোকসভা ভোটের আগে কেজরিওয়াল ও তার দল আম আদমি পার্টিসহ অন্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের যেভাবে লাগাতার গ্রেপ্তার-হয়রানি করা হচ্ছে, তা অগ্রহণযোগ্য এবং এ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে যাবে বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’র প্রতিনিধিদল।
এক্সপোস্টে মমতা লিখেছেন, ‘জনগণ নির্বাচিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করছি। আমি সুনীতা কেজরিওয়ালের (অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্ত্রী) সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছি এবং পাশে থাকার বার্তা দিয়েছি। বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে; কিন্তু বিজেপির সঙ্গে জোটে থাকলে ইডি, সিবিআইয়ের তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও ছাড় পাচ্ছেন, দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা গণতন্ত্রের ওপর নির্মম আঘাত।’
মমতা আরও লেখেন, ‘আমাদের ‘ইনডিয়া’জোটের সদস্যরা শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করবেন এবং আদর্শ আচরণবিধি প্রযুক্ত থাকার সময়ে বিরোধী নেতাদের এভাবে ‘টার্গেট’ করার বিরোধিতা করবেন। কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ইনডিয়া’র প্রতিনিধি দলে তৃণমূলের তরফে থাকবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং নাদিমুল হক।’
উল্লেখ্য, আবগারি ‘দুর্নীতি’ মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন ডিরেক্টরেট বা ইডি। এর আগে এই মামলায় তিনি পর পর আটবার তলব এড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবারও তাকে হাজিরা দিতে বলেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা; কিন্তু হাজিরা না দিয়ে কেজরিওয়াল দিল্লি হাইকোর্টে রক্ষাকবজের আবেদন জানান। তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পরেই রাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছায় ইডির তদন্ত দল, দুই ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয় বাড়িতে; কেজরিকে জিজ্ঞাসাবাদও করে ইডি। তারপর রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কেজরিওয়ালের বাসভবনের সামনে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেপ্তার হওয়ার পর পর আম আদমি পার্টির (আপ) পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না তিনি, প্রয়োজনে জেলে বসেই সরকার চালাবেন। উল্লেখ্য, কেজরিওয়ালই দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যাকে পদে থাকাকালীন অবস্থায় গ্রেপ্তর করা হল।
কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা জমা দিয়েছিলেন হেমন্ত। তার জায়গায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন চম্পই সোরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিনি দেশটির কাছে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন বলে জানা গেছে।
সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রথম মেয়াদে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহার করবেন, যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হয়েছিল।
যুদ্ধবিমান বিক্রির ওপর কংগ্রেসের নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প ঠিক কীভাবে এড়াবেন, তা স্পষ্ট ছিল না। তবে সফরের আগে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জন্য এমন একটি ‘উপহার’ নিয়ে তিনি তুরস্কে পৌঁছানোর ইচ্ছা রাখেন, যা তাকে খুব খুশি করবে।’
২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ট্রাম্প দেশটির ওপর মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, এবং এই পরিস্থিতির জন্য ওবামা প্রশাসনকে দায়ী করেন ও এরদোয়ানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা এক অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে বাধ্য হয়েছেন।’
২০২০ সালে কংগ্রেস এই নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনে পরিণত করে এবং বলে যে, তুরস্কের কাছে যদি আর এস-৪০০ না থাকে, তবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো হস্তান্তর করা যেতে পারে।
এদিকে, কংগ্রেসের অনেক রিপাবলিকান তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সন্দিহান, যেমনটা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। তিনি এই সপ্তাহে ফক্স নিউজে বলেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করবে, যা চূড়ান্তভাবে ইসরায়েলি আকাশ শ্রেষ্ঠত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অবস্থানের দ্বারা নিশ্চিত।’
কিন্তু ট্রাম্প এরদোয়ানকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেন এবং আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বিষয়টি পর্যালোচনা করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ৩৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় ৭ থেকে ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও থেমে থাকেনি ইরান। তেহরানের কড়া বার্তার মাঝে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। গত সোমবার মধ্যরাতে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজে থাকা কোনো ক্রু বা কর্মকর্তা এই ঘটনায় হতাহত হননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনাবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার ভোরে জানায় অন্য একটি ঘটনার কথা। ওমানের লিমা অঞ্চল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল (১৫ কিলোমিটার) পূর্ব দিকে সমুদ্রসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা দূরপাল্লার বস্তু আঘাত হেনেছে। দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়া ওই ট্যাংকারটির বাম দিকে (পোর্ট সাইড) আঘাত লাগার পরপরই সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো হতাহত কিংবা সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা নিরসনে এবং কূটনীতির সুযোগ দিতে দুই মাসের (৬০ দিন) একটি যুদ্ধবিরতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসার পর গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা কোনো স্থায়ী শান্তির আলো না দেখে শেষ হয়। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং খামেনির দাফন শেষ হওয়ার পরপর সমুদ্রে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে আসবে, অন্যথায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এ কাজ শেষ হবে।’
সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের হাতে পাওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরে জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শেষদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে ওই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শত্রুদের আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। সেটি হলো কাতারের এলএনজি শিল্পের রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন সংস্থা ‘নাকিলাত’-এর মালিকানাধীন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী ট্যাংকার আল রেখায়াত। ওমান উপসাগরের প্রণালীর মুখে থাকা অবস্থায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।
জাহাজ থেকে পাঠানো একটি জরুরি বার্তার রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে গেছে এবং পুরো জায়গা ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে সব ক্রু সুরক্ষিত আছেন এবং তারা জাহাজের ডান দিকে আশ্রয় নিয়েছেন।
কোম শহরে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে তার স্মরণে একটি বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি মঙ্গলবার সকালে খামেনির মরদেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার রাজধানী তেহরানের দক্ষিণের শহর কোমে অবতরণের দৃশ্য সম্প্রচার করে।
এর আগে, টানা তৃতীয় দিনের মতো তেহরানের রাজপথ ছিল শোকার্ত মানুষের দখলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য। তাদের মরদেহ বহনকারী একটি ট্রাক তেহরানের প্রধান প্রধান সড়ক হয়ে আজাদি স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এই শোকযাত্রায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল, যা ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঐতিহাসিক জানাজা স্মরণ করিয়ে দেয়।
কালো পোশাক পরা লাখ লাখ মানুষ তাদের নেতার কফিনের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এই কফিনগুলোর মধ্যে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সি নাতনির একটি ছোট্ট কফিনও ছিল, শিশুটিও খামেনির সঙ্গে হামলায় নিহত হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া হামিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানকে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের নেতা তা হতে দেননি। তার অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আমরা এসেছি।’ মারজিয়া নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা শহীদ নেতাকে বলতে এসেছি, আপনার রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা আপনার প্রতি আবারও আনুগত্যের শপথ নিচ্ছি।’
তবে বাবার জানাজা ও শোকযাত্রায় এখনও দেখা মেলেনি খামেনির ছেলে তথা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির। বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি পুরোপুরি আড়ালে আছেন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এখন অত্যন্ত ভঙ্গুর এক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই মুহূর্তে জটিল সব বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নতুন সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে এভাবে জনসমক্ষে আসা সম্ভব নয়।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রায় জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সোমবার রাজধানী তেহরানে কালো জ্যাকেট পরে, মুখে মাস্ক লাগিয়ে শোকাহত মানুষের ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে দেখা যায় তাকে।
যুদ্ধের প্রথম দিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হন। সে সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যমে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদও ‘নিহত’ হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল।
ধারণা করা হয়েছিল, তার বাড়ির কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় তিনি মারা গেছেন। এরপর কয়েক মাস তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার ভাগ্য নিয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্যও দেওয়া হয়নি। ফলে যুদ্ধের শুরুর দিককার বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
খামেনির শোকযাত্রায় ইরানের জীবিত অন্য দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানি অনুপস্থিত ছিলেন— এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে জনসমক্ষে আহমাদিনেজাদের দেখা মিলল। সমালোচকদের দাবি, তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।
শোকযাত্রায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।
তবে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবারও জনসমক্ষে আসেননি। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
গত রোববার খামেনির জানাজার নামাজে সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন তার তিন ছেলে—মোস্তাফা, মাসউদ ও মেইসাম। বাবার নিহত হওয়ার পর এই প্রথম তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত দেখা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রজুড়ে মানুষের ঢল দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, জানাজা ও শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
এ সময় শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষজন স্লোগান দেন, ‘আমার শহীদ নেতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে। আমার শহীদ পিতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে।’
শোকযাত্রায় খামেনির কফিনটি ছিল ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও একই ট্রাকে রাখা হয়।
গত শনিবার শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। এর আগে, ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় লাখ লাখ ইরানি সমবেত হচ্ছেন। কোনো হুমকিতে তারা বা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী—কেউই পিছু হটবে না। আপনারা আপনাদের স্বাক্ষরকে সম্মান করুন।’ এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা ‘তাদের শেষ করে দেবে’।”
গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেতুগুলো ভেঙে ফেলতে পারি। আমরা তাদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারি। তাদের কাছে এখন কোনো টাকা নেই। আমরা তাদের কোনো টাকা দিইনি।’
এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালিয়েছে ইরান। গত সোমবার মধ্যরাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ হামলা চালিয়েছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে মঙ্গলবার এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ‘নির্দেশনা অমান্য করলে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে প্রস্তুত।’
আক্রমণের শিকার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো নাকিলাতের মালিকানাধীন ও পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার আল রেকায়াত। এটি কাতারের এলএনজি শিল্পের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে আঘাত হেনেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামলার ফলে ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে জাহাজের ডান পাশে একত্রিত হয়েছেন।
ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থানকালে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করা জাহাজগুলোকে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে তেহরান।
মেরিন ট্র্যাফিক জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালীটিতে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতি ও শনিবার যথাক্রমে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাসহ এসব ঘটনার বেশিরভাগের জন্যই তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর থেকে নৌপথে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। তবে বর্তমানে এ সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক প্রায় ১৩০টি পারাপারের তুলনায় এখনও অনেক কম। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার অন্তত ৪৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। আর মঙ্গলবার ৩৪টি জাহাজ পার হয়েছে।
সৌদি আরব লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর ফলে দেশটি এবং সম্ভব হলে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করেই আরও বেশি তেল পরিবহন করতে পারবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গত মেতে বলেছিলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলোতে সরবরাহ করা হয় এবং প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির জন্য ব্যবহার করা হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইপলাইনের সক্ষমতা প্রতিদিন আরও ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত সম্ভাব্য বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি আরব তার কিছু প্রতিবেশীর সাথে প্রাথমিক আলোচনা করছে।
আরামকোর পরিকল্পিত সক্ষমতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন নাকি একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে পেট্রোলিয়াম বা তেলজাত পণ্যের জন্য একটি ছোট আকারের দ্বিতীয় পাইপলাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতার—সবারই হরমুজ প্রণালী এড়ানোর মতো বিকল্প পথের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে বিরোধ এবং বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তুরস্কের সাথে ইরাকের পাইপলাইনটি তার সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম কার্যকর রয়েছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নওয়াফ আল-সাবাহ গত মাসে আটলান্টিক কাউন্সিল গ্লোবাল এনার্জি ফোরামে বলেছিলেন, ‘কুয়েতের তেলের ব্যারেলগুলো সামঞ্জস্য করার জন্য আমাদের ভাই সৌদি আরব এবং আমিরাতের সাথে তাদের বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবস্থা কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায় তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’
দুটি সূত্র জানিয়েছে, এই সম্প্রসারণ প্রতিদিন ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ব্যারেলের জন্য হতে পারে, যেখানে পরিশোধিত তেলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগবে, শত শত কোটি ডলার খরচ হবে এবং সৌদি অপরিশোধিত তেলের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদকরা প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম অনেক বেড়ে যায়। গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি প্রাথমিক চুক্তির পর তেল প্রবাহ আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে, তবে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থার চেয়ে কম রয়েছে।
গত মেতে ইরাকের তেল উৎপাদন প্রতিদিন ৪৩ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ১৫ লাখ ব্যারেলেরও নিচে নেমে আসে, কুয়েত গত মার্চ মাসে চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের অক্ষমতা বা ‘ফোর্স ম্যুর’ ঘোষণা করে এবং বাহরাইনের সিত্রা শোধনাগার বেশ কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়।
লন্ডনভিত্তিক হার্ডক্যাসল অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জায়েদ বেলবাগী বলেন, ‘সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পাইপলাইন করিডোর বা পথ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা একটি বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতা প্রতিফলিত করে। এই সংঘাত আঞ্চলিক দেশগুলোর মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভর করার বিপদের দিকে কেন্দ্রীভূত করেছে।’
আরামকো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, অন্যদিকে সৌদি ও বাহরাইন সরকারের যোগাযোগ দপ্তর, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় এবং কাতার এনার্জি মন্তব্যের অনুরোধে অবিলম্বে কোনো সাড়া দেয়নি।
তিনটি সূত্র জানিয়েছে, কাতার—যা মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করে, তারা আরও বড় প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে পথসহ বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য বিকল্প বিবেচনা করছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো চালানো এই হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন। মাত্র কয়েকদিন আগে কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে একটি ‘নৃশংস হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রুশ বাহিনীর পুরোনো কৌশল এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা ইউক্রেন এবং এর সাধারণ মানুষের ওপর সর্বোচ্চ বেদনা ও ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিতে চায়।’
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি শহরে রুশ ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
তুরস্কের আংকারায় অনুষ্ঠিতব্য এই ন্যাটো সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। ঠিক এমন এক মুহূর্তে তিনি রাশিয়ার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে ন্যাটোর কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সফল হলেও সহজে প্রতিরোধ করা যায় না এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের পর্যাপ্ত আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র নেই।’ হামলার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বেও ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম উৎপাদন করা যাচ্ছে না, এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক।’
ন্যাটো সম্মেলন থেকে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশা করছে কিয়েভ। এর আগে আংকারায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে বলেন, ‘মিত্র দেশ এবং ন্যাটো অংশীদারদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন ইউক্রেন তার প্রয়োজনীয় সব সামরিক সহায়তা সময়মতো পায়।’
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সকালে কিয়েভের পদিলস্কি জেলার একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ভবনটিতে বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং এর মেঝেগুলো ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেন বাজার সময় তারা ১০টিরও বেশি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেছেন এবং আকাশে আলোর ঝলকানি দেখেছেন। এই হামলায় কিয়েভ রাজধানীতে ১৮ জন এবং শহরের ঠিক বাইরে ভিশনেভে এলাকায় আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সব মিলিয়ে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় হামলা যেখানে তারা বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে মিত্রদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে কিয়েভ।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, এই হামলায় রাশিয়া মোট ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরেও রুশ হামলায় আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানের পবিত্র শহর কোমের আকাশ-বাতাস আজ শোকাতুর মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের দ্বিতীয় জানাজা মঙ্গলবার সকালে পবিত্র জামকারান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জানাজায় অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ, যা কোমের রাজপথগুলোকে এক বিশাল শোকের জনসমুদ্রে পরিণত করেছে।
মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই কোমের জামকারান মসজিদ প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকাগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলির ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। এই শোকাবহ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় আলেম, সামরিক বাহিনীর কমান্ডার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে মরদেহবাহী শোকযাত্রাটি জামকারান মসজিদ থেকে হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)–এর পবিত্র মাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
এই বিদায় যাত্রায় অংশ নিতে সোমবার বিকেল থেকেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কোমে সমবেত হতে শুরু করেন। শোকাতুর মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিশেষ 'লাল পতাকা', যা ইরানি সংস্কৃতিতে রক্ত ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। অনেক ভক্ত পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই মিছিলে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক বিতর্কিত যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। দীর্ঘ চার মাস পর গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য মরদেহ রাখা হয়। সেখানে তেহরানবাসী তাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর পর এবার ধর্মীয় শহর কোমে জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হলো।
খামেনির এই বিদায়ী শোকযাত্রা কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কোমের অনুষ্ঠান শেষে মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেও বিভিন্ন শোকানুষ্ঠান ও জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা শেষে এই মহান নেতার দাফন সম্পন্ন হবে। নেতার বিদায়ে পুরো ইরান জুড়ে এখন চলছে শোকের মাতম এবং এক অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তুরস্কের আদর্শিক সমর্থনের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে নেতানিয়াহু তুরস্কের কাছে উন্নত অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিক্রির বিষয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা বা যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফর এবং এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকেই তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার দায়ে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে এই কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি পেন্টাগন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এই প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর এমন অনুরোধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নেতানিয়াহু তাঁর উদ্বেগের কারণ হিসেবে এরদোয়ানের ক্রমাগত ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং জায়নবাদকে ‘গণহত্যার মতাদর্শ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মতে, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো চরমপন্থি আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন সমরাস্ত্র তুলে দিলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি দাবি করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
গাজা যুদ্ধ ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে গত দুই বছরে আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইতিমধ্যে ইসরায়েল সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্ক ও ইসরায়েল উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হলেও দেশ দুটির মধ্যকার এই বিরোধ এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ও এরদোয়ানের আসন্ন বৈঠকটি এ অঞ্চলের সামরিক রাজনীতির নতুন মেরুকরণ নির্ধারণ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে পরিচালিত এই হামলায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, হামলায় জাহাজের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে চরম অস্থিরতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার ভোরে জানিয়েছে, ওমানের লিমা অঞ্চল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি ট্যাংকার দক্ষিণ অভিমুখে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল সেটির বাম পাশে আঘাত হানে। এর ফলে জাহাজটিতে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, আক্রান্ত হওয়া জাহাজগুলোর একটি হলো কাতারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নাকিলাতের মালিকানাধীন ‘আল রেকায়াত’, যা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করছিল। প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে আঘাত হানায় সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামলার ঠিক আগেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে ওই এলাকায় চলাচলরত জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিল যে, "নির্দেশনা অমান্য করলে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে প্রস্তুত।" ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই সতর্কবার্তার একটি রেকর্ডিং উদ্ধৃত করে হামলার পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এনেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য সবচাইতে স্পর্শকাতর রুট হিসেবে পরিচিত। ওমান উপসাগরের প্রবেশমুখে এই হামলার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরণের সরাসরি হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে। হামলার পর ওই এলাকায় মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর নৌ-টহল জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে আক্রান্ত জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে।
গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। অবিরাম বর্ষণে ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে রাজধানী মুম্বাই, পুনে, ঠানেসহ রাজ্যের বেশ কিছু অংশ। মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় রোববার রাতে বাড়ি ভেঙে মারা গিয়েছেন ছ’জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। মহারাষ্ট্রে দুর্যোগের জেরে দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুসারে, পুনেতে একটি পাহাড়ের অংশ ধসে চাপা পাহাড়ের অংশ ধসে চাপা পড়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। এতে আটকা পড়েছেন অন্তত ৩০ জন। মহারাষ্ট্র দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের উদ্ধারর্মীদের তৎপরতায় সোমবার সকালের দিকে সেখান থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। বাকিদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ধসের কারনে সোমবার সকাল থেকে বন্ধ আছে মুম্বাই-পুনে সড়ক। ফলে রাজধানীর সঙ্গে পুণের যোগাযোগ যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, বিঘ্নিত হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। বাতিল হয়েছে অন্তত ১৬টি ট্রেন।
সোমবার এক পূর্বাভাসে মহারাষ্ট্রের আবহাওয়া ভবনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনই মুম্বাই আর পুনেতে থামছে না বৃষ্টি। মুম্বই, রায়গড়, ঠাণে, পালঘরে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে, সঙ্গে চলবে ঝোড়ো হাওয়া।
সবচেয়ে বেশি দুর্যোগের মধ্যে আছে মুম্বাই এবং পুনে। ইতোমধ্যে এ দুই শহরে লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাইয়ে সোমবার বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ, সরকারি দপ্তর। বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।
পুণের জেলায় মাভাল উপজেলার লোহাগড় দুর্গের কাছে গভীর রাতে পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়েছে। তাতে চাপা পড়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েছেন অন্তত ৩০ জন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে নেমেছে। ৩০ জনের একটি দল সকাল থেকে ধসে পড়া মাটি-পাথরের স্তূপ সরানোর কাজ করছে।
ধসে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতেরা হলেন নন্দু তিকোনে (৬০), মৌলি তিকোনে (৩০), অনিতা তিকোনে (৫৫)।
পুণের সদাশিব পেঠে খালি করা হয়েছে একটি তিন তলা বাড়ি। রোববার রাতে মানখুর্দে একটি বাড়ি ভেঙে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ শিশু-সহ ছ’জন। এই শিশুদের বয়স দুই থেকে ১৪ বছর। এখনও পর্যন্ত দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের যে ১৩ জন মারা গেছেন, তাদের ১০ জনই মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ছিলেন। ঠানেতে রোববার সন্ধ্যায় কামবরী নদীতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১৭ বছরের এক কিশোরের। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
সোমবার সকালে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের দু’নম্বর টানেলের প্রস্থানপথে ধস নেমেছে। তার জেরে খোপোলি-কুসগাঁও মিসিং লিঙ্ক থেকে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য দিকে, মুম্বই থেকে পুণে যাওয়ার পুরনো যে সড়ক ছিল, তার বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন। মাভাল, তামহিনি ঘাট এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গাছ ভেঙে পড়ায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
এসব কারণে পুরনো সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যত ক্ষণ না পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, ততক্ষণ সড়কপথে মুম্বই থেকে পুণে যাতায়াত বন্ধ রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হবে। মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক উন্নয়ন করপোরেশন (এমএসআরডিসি) জানিয়েছে, মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সোমবার ভোর ৪টা থেকে মুম্বই-পুণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সে কারণে বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষ।
কেন্দ্রীয় রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোরে কারজাট-লোনাভলা ভোরঘাট বিভাগে ঠাকুরওয়াড়ির কাছে ধস নেমেছে। খান্ডালা এবং মাঙ্কি হিলের মাঝের অংশেও ধস নেমেছে। সে কারণে অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার। ন’টি ট্রেন অন্য পথে চলছে। সেন্ট্রাল রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক স্বপ্নিল নীলা জানিয়েছেন, ভোরঘাটে ধসের কারণে মুম্বাইগামী এবং পুণেগামী ট্রেনের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে কারণে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস, ডেকান কুইন, প্রগতি এক্সপ্রেসের মতো ট্রেন বাতিল হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার নেগোমবো কারাগারে কয়েদিদের সংঘাতে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন কারারক্ষীও আছেন। একই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও শ্রীলঙ্কার স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য মিরর।
দ্য মিররের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ‘কারাবিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়েছেন। রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোমবো হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কারাগারে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই দল কয়েদিদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ চলে। রাষ্ট্রায়ত্ত হাসপাতালটির পরিচালক পুষ্প গামলাথ এএফপিকে জানান, সেখানে ১৯ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।
১০০ জনেরও বেশি কারারক্ষী ও কয়েদিকে আহত অবস্থায় ভর্তির বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন। এএফপিকে ফোনে গামলাথ বলেন, ‘আহতদের কারো কারো গায়ে বুলেটের আঘাত চিহ্নিত হয়েছে।’
গত রোববার সন্ধ্যায় নেগোমবো কারাগারে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই কারাগারে প্রায় ১০ হাজার অপরাধীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডোদের ডেকে আনা হয়েছে। তবে তারা এখনো কারাগারের ভেতর প্রবেশ করেননি।
সোমবার কারাগারের বাইরে কয়েদিদের আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় জমাতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, তারা রাতভর গুলির শব্দ শুনেছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে ড্রোন মোতায়েন করেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘কয়েদিদের সংঘাত থামাতে যেয়ে চার কারারক্ষী নিহত হন। আজ সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অপর এক কারাগারে একই ধরনের ঘটনায় ১১ জন কয়েদি নিহত হয় এবং ১১৭ জন আহত হয়।
প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কার বেশিরভাগ কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে আটক রাখা হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সি এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত শনিবার বিকেলে ১১ বছর বয়সি ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর রোববার ভোরে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি তার অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে এবং ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামের এক সন্দেহভাজন যুবককে ধরে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে গণপিটুনির শিকার ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
তবে পরিস্থিতি আরও উতপ্ত হয়ে ওঠে যখন হাজার হাজার মানুষ বারুইপুর-জয়নগর সড়ক অবরোধ করে এবং শিয়ালদহ-নামখানা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে গেলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরে ওই নির্যাতিতা কিশোরী তার বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। পরে রোববার সকালে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে আমরাই ধরে ফেলি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করি। তবে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’
তিনি শান্তনু মণ্ডল বলে যার নাম উল্লেখ করছিলেন, তিনি হলেন বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি।
অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের ওই পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।
যদিও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্ত কাউকেই পালাতে সাহায্য করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরাই ঘটনা শোনার পরে আইসির কাছে গিয়ে নালিশ নথিভুক্ত করি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন ব্যক্তিকে আমরা শনাক্ত করি যাকে ওই বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আমরাই তৎপরতার সঙ্গে তাকে ধরি এবং সে নিজের দোষ স্বীকার করে।’
এদিকে সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে, যেখানে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না।
ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করেছে পুলিশ। তবে রোববার রাতের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এলাকায় পরিস্থিতি এখনো থমথমে। নতুন অশান্তি ঠেকাতে ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার পরই তিনি নির্যাতিতা কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘আমি কালকেই ওই কিশোরীরর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এই জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। আমি তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি, পরিবার যেভাবে ন্যায় বিচার চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তারা পাবেন।’
রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে এই ঘটনায় যখন উত্তাল অবস্থা বারুইপুরে, তখন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, মমতার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করে ঘটনাস্থলে যেতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের আরেক সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট থেকে বলেন, ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রায় জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এত দিনের অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদকে এভাবে আটকে রাখা হলো কেন সেই উত্তর আমরা পুলিশ প্রশাসনের থেকে জানতে চাই।’
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মমতাকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ মিথ্যা। তবে অন্যান্য তৃণমূল নেতার মতো তাকেও যাতে ডিম ছুড়ে না মারা হয়, তার সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি সাক্ষাতের ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প একটি অদ্ভুত মিম বা ছবি শেয়ার করে দাবি করেছেন, মেলোনি তাঁর প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে বিদ্রুপের ছলে তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ জারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প মেলোনির সঙ্গে একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইতালির এই ডানপন্থী নেত্রী ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। সেই ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’। তুরস্কের আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে যখন জোটের ৩২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে এই দুই নেতারও উপস্থিত থাকার কথা, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এমন আচরণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ওই একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং মিশেল ওবামার একটি বিকৃত ছবিও পোস্ট করেছিলেন।
মূলত গত সপ্তাহে ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত দাবিকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, সাম্প্রতিক জি-সেভেন সম্মেলনের সময় মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার অনুনয় বা ‘ভিক্ষা’ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতালি। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন। ইতালীয় সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে চরম অপমানজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ এবং বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইতালি এবং আমি কখনোই কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করি না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি আমেরিকার বিরোধী নন এবং অতীতে যেমন কারও সামনে হাঁটু গেড়ে বসেননি, আজকেও বসবেন না। মেলোনির মতে, যেকোনো টেকসই ও মজবুত সম্পর্ক সবসময় স্পষ্টবাদিতার ওপর নির্ভর করে এবং তিনি নিজে একজন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী মানুষ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরেও এই বিরোধের পেছনে গভীর রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে ইতালির যোগ দিতে অনীহা এবং ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ক্রমাগত সমালোচনা এই ফাটলকে আরও গভীর করেছে। ট্রাম্প মনে করেন, অভিবাসন সমস্যা সমাধান না করলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলনের আগে দুই প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতার এই স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।