শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতে নিহত ৮

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৪ ২০:৪৪

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আনোয়ার শাহজাদ জানান, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বাড়িঘর ধসে পড়েছে। এতে অনেকেই চাপা পড়েন।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৩ থেকে ৭ বছর বয়সি ভাইবোন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানে এ বছর শীতকালীন বৃষ্টিপাত বিলম্বিত হয়েছে, যা নভেম্বরের পরিবর্তে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। পাকিস্তানে প্রতি বছর বর্ষা ও শীতকালীন বৃষ্টিপাত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিজনিত ঘটনায় প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়।

বিষয়:

ইরানের হামলার শঙ্কা: শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দামেস্কে হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের হত্যার ঘটনায় তেহরানের বদলার শঙ্কায় উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দেশটিতে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেন, ইসরায়েলের ওপর ‘চ্যালেঞ্জিং’ বড় ধরনের হামলা শিগগিরই হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মকভাবে প্রস্তুত।

বিবিসি জানায়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গালান্ট ও বিরোধী নেতা বেনি গানৎজের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, হামলায় শতাধিক ড্রোন, বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে ইরান। এগুলোর লক্ষ্য হতে পারে ইসরায়েলের সামরিক বিভিন্ন স্থাপনা।

এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ইরানের হামলার হুমকি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ এবং ওয়াশিংটন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানের হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিক ও কর্মকর্তাদের ইসরায়েলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের তেল আবিব, জেরুজালেম ও বির শেভার বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে।


৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের মাটিতে ইরান হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এক কূটনীতিক এ তথ্য জানিয়েছেন বলে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ১৩ জন নিহত হন।

ইসরায়েল ওই হামলার দায় স্বীকার না করলেও তেল আবিবকেই দায়ী করেছে ইরান। ওই হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে বলেও তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রিজাইয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ।

এ বিষয়ে পূর্ণ ধারণা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘ইসরায়েলের লক্ষ্য অন্যত্র থাকাকালে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মাটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে ইরান। আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো অন্তত তাই ইঙ্গিত করছে।’

ওই কূটনীতিক জানান, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হামলা চালাতে পারে ইরান। এ হামলা মোকাবিলায় নিজেদের ভূখণ্ডের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।

তেহরানের প্রতিক্রিয়া

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাইমস অফ ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, হামলার বিষয়ে তেহরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি বলে জানিয়েছেন ইরানের এক কর্মকর্তা।

আইআরজিসির এক উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইসরায়েলে হামলা চালাতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন আইআরজিসির কর্মকর্তারা। এর মধ্যে অত্যাধুনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টগুলোতেও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের দিমোনার পারমাণবিক স্থাপনা, হাইফার বিমানবন্দরের মতো স্থাপনা, তবে এসব পোস্টের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি টাইমস অফ ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যমটির খবরে উল্লেখ করা হয়, হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে, ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো কিছু করা হলে অবশ্যই তার পাল্টা জবাব দেবে তেল আবিব। এ ক্ষেত্রে দেশটি ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

প্রস্তুত ইসরায়েল

ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাগযুদ্ধ নতুন মাত্রা পায় বৃহস্পতিবার। ওই দিন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘(ইরান থেকে) আগত সব ধরনের হামলা মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

এর পরপরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে একাধিকবার তেহরানকে এমন কিছু না করতে সতর্ক করা হয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যেকোনো হামলার জন্য পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইসরায়েল। আমরা প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

‘আমরা নিজেদের প্রতিরক্ষার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের যেসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তা দিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করা হবে। তা ছাড়া আমাদের কৌশলগত মিত্ররাও এমন পরিস্থিতিতে আমাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।’

ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রল কমান্ডের জেনালের মাইকেল কুরিল্লা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে পৌঁছান। সেখানে তিনি আইডিএফের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেবির সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত হুমকি ও তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনার পরই আইডিএফের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে মিত্রদের কথা তুলে ধরে আইডিএফ।

ওই দিন রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গালান্ট। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ওপর ইরান ও এর আঞ্চলিক মিত্রদের ক্রমবর্ধমান হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সুদৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে।

‘ইরানি হামলা মোকাবিলায় মিস্টার গালান্ট যুক্তরাষ্ট্রকে গণনায় নিতে পারে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে’, উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

পরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘আমরা (লয়েড) অস্টিনকে জানিয়েছি যে, ইরান সরাসরি ইসরায়েলে হামলা করলে আমরাও তাদের একইভাবে জবাব দেব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনাকালে অস্টিন গালান্টের কাছে অভিযোগ করেন, ১ এপ্রিলের ঘটনার বিষয়ে আগে থেকে পেন্টাগনকে কিছুই জানানো হয়নি।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরানকে বিরত রাখতে চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

এদিকে ইসরায়েলে হামলায় নিরুৎসাহিত করার ব্যাপারে ইরানকে বোঝাতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে ওই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই।

শুধু এ ফোনালাপ নয়, হামাসকে সহযোগিতা বন্ধের জন্য ইরানকে চাপ দিতে চীনকে প্রকাশ্যে বারবার অনুরোধ জানিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কূটনীতিকদের ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

ক্রমবর্ধমান হামলার হুমকি থাকায় এরই মধ্যে নিজ দেশের কূটনীতিকদের ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তেল আবিব, জেরুজালেম এবং বির শেভা এলাকার বাইরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

নাগরিকদের সতর্ক করেছে ফ্রান্সও

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ দেশের নাগরিকদের ইরান, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ফ্রান্স।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্তেফান সেজোর্নের এক প্রতিনিধি শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ইরানভিত্তিক ফরাসি কূটনীতিকদের আত্মীয়রা ফ্রান্সে ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বেসামরিক নাগরিকদের ইরান, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে।

উত্তেজনা কমাতে চাইলেও প্রতিশোধের বিষয়ে বদ্ধপরিকর ইরান

ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা (ইসরায়েলের হামলার) এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।

সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় কোনো অবস্থাতেই তাড়াহুড়া করা হবে না বলে ইরানের সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান ‘খুব স্পষ্ট’ করে বলেছে যে, দামেস্কে দূতাবাসে হামলার জবাব তারা অবশ্যই দেবে। সে ক্ষেত্রে তা যেন ‘নিয়ন্ত্রিত’ হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করা হতে পারে বলেও ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, এরই মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মতো বিশ্ব মোড়লরাও ইরানকে সংযত হতে অনুরোধ জানিয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান বলেছে, ইসরায়েলের হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ব্যবস্থা নিলে প্রতিশোধের ‘আবশ্যকতা’ হয়তো এড়ানো যেত।

এ বিষয়ে এক্সে দেয়া পোস্টে জাতিসংঘে ইরানের মিশন লিখেছে, ‘নিরাপত্তা পরিষদ যদি (দামেস্কের কূটনৈতিক চত্বরে) আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলকে বিচারের মুখোমুখি করত, তাহলে ইরানের আর এই দুর্বৃত্তকে শাস্তি দেয়ার কথা চিন্তা করা লাগত না।’


ইসরায়েলে মার্কিন কুটনীতিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র তাদের কুটনীতিকদের নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছে। ইরানে ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধমুলক পাল্টা হামলার উদ্বেগের মধ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে বিমান হামলা হয়। এতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ১৩ জন নিহত হন। এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করছে ইরান। যদিও ইসরায়েল এই হামলায় দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ যেন আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলার মধ্যেই এই হামলা হয়।

মার্কিন দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেল আবিব, জেরুজালেম এবং বীরশীভা এলাকার বাইরে’ ভ্রমন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

গত রোববার ইরানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলের দূতাবাসগুলো এখন আর নিরাপদ নয়। কোনো একটি কনস্যুলেট ভবনকে হামলার টাাের্গট করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োআভ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন, ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভ্রমণ সতর্কতা সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, কী কারণে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো, তা সুনির্দিষ্ট করে তিনি প্রকাশ করবেন না। তবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইসরায়েল যে হুমকিতে আছে, তার ওপর নজর রেখেছি।’


ইরানে সরাসরি হামলা চালানোর হুমকি দিল ইসরায়েল

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান যদি তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি ইরানে হামলা চালাবে বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্প্রতি সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে বিস্ফোরণে ইরানি জেনারেলদের হত্যার পর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ফার্সি ও হিব্রু উভয় ভাষায় এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ‘ইরান যদি তার ভূখণ্ড থেকে হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল পাল্টা জবাব দেবে এবং ইরানে হামলা চালাবে।’ চলতি মাসের শুরুতে দামেস্কে সৌদি কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বুধবার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য এলো।

তেহরান এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে, যাতে ভবনটি ধসে ১২ জন নিহত হয়েছে। তবে ইসরায়েল এ ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি। যদিও তারা এই হামলার বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, যা তাদের দীর্ঘকালীন স্নায়ু যুদ্ধের সম্প্রসারণ। মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসের শেষে প্রার্থনা অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, বিমান হামলা ছিল 'অন্যায়' এবং ইরানি ভূখণ্ডে হামলার অনুরূপ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, ‘আমাদের কনস্যুলেট এলাকায় হামলা চালানোর মানে আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো। দুষ্ট শাসকদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে এবং তারা শাস্তি পাবে।'

কাৎজ বা আয়াতুল্লাহ কেউই কীভাবে প্রতিশোধ নেবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ১ এপ্রিলের ওই বিস্ফোরণে নিহত ১২ জনের মধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সাতজন সদস্য, চারজন সিরীয় ও হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া বাহিনীর এক সদস্য রয়েছেন।

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন করায় পশ্চিমাদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনেরও সমালোচনা করেন খামেনি।

তিনি বলেন, 'আশা করা হচ্ছিল তারা (ইসরায়েল) এই দুর্যোগে প্রতিরোধ করবে। তারা তা করেনি। পশ্চিমা সরকারগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করেনি।’

ইরান ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে থাকে। তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না।


দক্ষিণ চীনের মুদি দোকানে আগুন: নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৩৯
বাসস

চীনের দক্ষিণে স্বায়ত্বশাসিত ‘গুয়াংজি ঝুয়াং’ নামক একটি অঞ্চলের মুদি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়া আজ মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।

কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানায়, উঝো শহরের ক্যাংউ কাউন্টিতে সোমবার ভোর ৩টার দিকে দোকানটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং তা দ্রুত সেখানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আগুন লাগার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

বিষয়:

তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ১৩ অভিবাসীর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিশিয়া উপকূলের কাছে নৌকা ডুবে অন্তত ১৩ জন অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটেছে। তিউনিশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় কয়েকটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ১ হাজার ৮৬৭ জনকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার তিউনিশিয়ার জাতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তিউনিসিয়া থেকে ইতালীয় উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী নৌকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিউনিশিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারের ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিউনিশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ছোট ছোট নৌকায় চেপে হাজার হাজার অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় কয়েকটি নৌকা ডুবে যায়। এসব নৌকায় নারী-শিশুসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ছিলেন। পরে তিউনিশিয়া উপকূল থেকে ১৩ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উপকূলীয় এলাকা থেকে ১৬টি লোহার নৌকা ও ৪৭টি সামুদ্রিক যান জব্দ করা হয়েছে।

দারিদ্র্য ও সংঘাত থেকে পালিয়ে ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ প্রায়ই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে অভিবাসীদের ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রস্থান পয়েন্ট হয়ে উঠছে তিউনিশিয়া। দেশটি নজিরবিহীন অভিবাসন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

দেশটির স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা তিউনিশীয় ফোরাম ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রাইটস বলেছে, গত বছর রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছিল। ওই সময় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ যায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি অভিবাসীর। উপকূল থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর ইউরোপগামী যাত্রা বন্ধ করার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)

দেশগুলোর চাপে রয়েছে তিউনিসিয়া। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ বলেছেন, তার দেশ সীমান্তরক্ষী হিসাবে কাজ করবে না।


সৌদিতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, দেশটিতে ঈদ বুধবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের আকাশে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা যায়নি। দেশটি ৩০ রোজা পালন করা হবে। আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর পালন করা হতো। তাই মঙ্গলবার নয়, বুধবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র দুই মসজিদ কাবা এবং মসজিদে নববির রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজ ইনসাইড দ্য হারামাইনে নিশ্চিত করা হয়েছে এই তথ্য।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টা ২০ মিনিটে এক পোস্টে ইনসাইড দ্য হারামাইনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আজ সৌদি আরবের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

আজ সোমবার সৌদিতে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী পরশুদিন বুধবার।

এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে পরেরদিন ঈদ উদযাপন করা হয়। এই হিসেবে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানে ঈদ হবে তার পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার।


ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠার আগেই ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। আগামী ১০ এপ্রিল (বুধবার) ঈদ উদযাপন করবেন অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দারা।

দেশটির সরকারি সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল আজ সোমবার এক বিবৃতিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যদিও এখনও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, তবে স্থানীয় ও বৈশ্বিক জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ফতোয়া কাউন্সিল এই মর্মে নিশ্চিত হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার টাইমজোন অনুযায়ী সিডনি ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ৯ এপ্রিল ভোর ৪টা ২০ মিনিটে নতুন চাঁদ উদয় হবে। ওই দিন সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৯ মিনিটে এবং সূর্যাস্তের ১২ মিনিট পর, ৫ টা ৫১ মিনিটে দেখা মিলবে নতুন চাঁদের।’

‘আর পার্থসহ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় নতুন চাঁদের জন্ম হবে স্থানীয় সময় ৯ এপ্রিল দুপুর ২টা ২০ মিনিটে। এদিন সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে এবং সূর্যাস্তের ১৬ মিনিট পর সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে উদয় হবে শাওয়াল মাসের চাঁদ।’

‘ফলে, আগামী ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ায় বিদায় নিচ্ছে ১৪৪৫ হিজরি বর্ষের রমজান এবং এদিন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।’


আজ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আজ সোমবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটবে। এটির দৃশ্যমান এলাকা হলো পলিনেশিয়া, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ম্যাকারোনেশিয়া অঞ্চল। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

সোমবার গ্রহণটি ফ্রান্স পলিনেশিয়ার তুয়ামোতু দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে শুরু হবে। কুক আইল্যান্ডের ওমোকা সৈকত থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ৬টা ৮ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে। মেক্সিকোর নাজাস পৌরসভার উত্তর-পশ্চিমাংশে সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে।

আয়ারল্যান্ডের ক্যাসলটাউন থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৩৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হবে। পর্তুগিজের সান্তাক্রুজ দ্বীপ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ২৭ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে গ্রহণ শেষ হবে।


গাজায় হামলার ছয় মাস

নিহত ৩৩ হাজারের বেশি, আহত ৭৬ হাজার
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল রোববার। ইসরায়েলি হামলায় ছয় মাসে নিহত হয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৭ জন। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। ছয় মাস ধরে চলা হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ৭৬ হাজার ফিলিস্তিনি। খবর আল-জাজিরা ও আনাদোলু।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দখলদার ইসরায়েল গাজা উপত্যকার পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে চারটি গণহত্যা চালিয়েছে, যার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জন শহীদ ও আরও ৬৫ জন আহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

গত বছরের ৭ অক্টোবর সীমান্ত ভেঙে ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে সে দিন থেকেই গাজায় আকাশপথে হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। পরে স্থল অভিযানও শুরু করে দেশটি।

ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় পুরো গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

টানা ছয় মাস ধরে আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলের চালানো হামলায় গাজায় তীব্র মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাড়ছে খাদ্যসংকট। এর ফলে গাজার ১০ লাখেরও বেশি মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে গাজায় নজিরবিহীন মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ১০ লাখের বেশি মানুষ ‘বিপর্যয়কর ক্ষুধার সম্মুখীন’।

এদিকে গাজায় গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে সংস্থাটি। ৪৭ সদস্যের সংস্থাটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ২৮টি। বিপক্ষে ৬টি ও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে ১৩ দেশ।


পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পূর্ব লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করে রোববার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরান-সমর্থিত এই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননের পূর্বে বালবেক অঞ্চলে সূত্রটি এএফপিকে জানিয়েছে, ‘ইসরায়েলের হামলায় বেকা উপত্যকার দুটি এলাকা, জান্তা এবং সিফ্রি লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে।’

জান্তা সিরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি একটি শুষ্ক, পার্বত্য অঞ্চল এবং সিফ্রি বেকা উপত্যকার কেন্দ্রে রয়েছে।

লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পরে গাজা যুদ্ধের শুরু থকে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ প্রায় প্রতিদিনই আন্তঃসীমান্ত গুলি বিনিময় করেছে। হিজবুল্লাহ সীমান্তের কাছাকাছি ইসরায়েলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, ইসরায়েল লেবাননের ভূখন্ডের গভীরে গিয়ে ইসলামি গোষ্ঠীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।

শনিবার সন্ধ্যায় হিজবুল্লাহ লেবাননের ভূখন্ডে একটি ইসরায়েলি হার্মিস ৪৫০ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরে পূর্ব লেবাননে সর্বশেষ এই হামলা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ‘লেবানিজ আকাশসীমায় পরিচালিত একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল’। এটি ভূমি থেকে আকাশে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। এটি লেবানন ভূখন্ডে পতিত হয়।

হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ শুক্রবার একটি টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, তার আন্দোলন এখনও তার ‘প্রধান’ অস্ত্র ব্যবহার করেনি এবং পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, গাজার যুদ্ধ শেষ হলেই হিজবুল্লাহ তাদের আক্রমণ বন্ধ করবে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত যুদ্ধে লেবাননে কমপক্ষে ৩৪৯ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই হিজবুল্লাহ যোদ্ধা, তবে কমপক্ষে ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।

যুদ্ধ দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলে কয়েক হাজার লোককে বাস্তুচ্যুত করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের ১০ সৈন্য এবং আটজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।


ইসরায়েলি বর্বরতায় এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনি হতাহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বর্বরতায় গত প্রায় ছয় মাসে এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। জানা গেছে, ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩৩ হাজার ৯১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ জন। এদিকে গাজায় গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে হামলা চালিয়ে ১৪ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার পর অভিযান শুরু করে ইসরায়েল, যা এখনো চলছে। গাজায় হতাহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, যুদ্ধের কারণে গাজায় নজিরবিহীন মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ১০ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি। তিনি বলেন, গত ৭ অক্টোবরে পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা থামছেই না। এতে এখন পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, গাজায় গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। কারণ ইসরায়েলের হামলায় এরই মধ্যে গাজায় ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে সংস্থাটি। ৪৭ সদস্যের সংস্থাটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ২৮টি। বিপক্ষে ৬টি ও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে ১৩ দেশ।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১৪ হাজার শিশু নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে হামলা চালিয়ে ১৪ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এটি মোট নিহতের ৪৪ শতাংশ। শুক্রবার ফিলিস্তিনের ৫ এপ্রিল বার্ষিক শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) নির্বিচারে হামলার কারণে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় চার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। নিখোঁজদের মোট সংখ্যার অন্তত ৭০ ভাগ নারী এবং শিশু। তাদের সংখ্যা অন্তত ৭ হাজার।

খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১১৭ জন শিশু নিহত এবং ৭২৪ জন আহত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলী সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের ফলে ফিলিস্তিনের ৮ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি শিশুর মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি, উদ্বেগ, বিষন্নতা এবং নিপীড়নের শিকার হওয়ায় তাদের এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের প্রয়োজন হচ্ছে।’

পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুমান করেছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ফিলিস্তিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা ২৪ লাখ ৩২ হাজারে দাঁড়াবে। যা মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ।

আদমশুমারি অনুসারে, গাজা উপত্যকায় প্রায় ৪৩ হাজার ৩৪৯ শিশু এতিম বা পিতামাতা ছাড়াই বসবাস করে। এই জাতীয় শিশুর সংখ্যা ২০২০ সালে ছিল ২৬ হাজার ৩৪৯।


গাজায় বেশিরভাগ ঘরবাড়ি ও স্থাপনাই ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত স্থাপনা। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
গাজায় সংঘাত শেষ হলেও অনেকেই আর নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে পারবেন না। কারণ সেখানকার বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর এবং স্থাপনাই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার এমন কোনো স্থান নেই যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী আগ্রাসন চালায়নি। ফলে সেখানকার কোনো স্থানই এখন আর নিরাপদ নয়। খবর আল জাজিরার।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গাজার অনেক মানুষেরই ফিরে যাওয়ার জন্য আর কোনো নিরাপদ স্থান থাকবে না। সেখানকার ৬২ শতাংশ ঘরবাড়ি ইতোমধ্যেই ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া গাজার ৭৫ শতাংশের বেশি জনসংখ্যাই এখন বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকজন এখনো জানেন না যে, সংঘাত কবে শেষ হবে।
প্রায় ৬ মাস ধরে গাজায় তাণ্ডব চালাচ্ছে ইসরায়েল। সেখানকার ঘরবাড়ি, মসজিদ, হাসপাতালসহ কোনো স্থাপনাই ইসরায়েলি হামলা থেকে বাদ পড়েনি। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৩৩ হাজার ৩৭ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সৈন্যদের হামলায় প্রতিদিনই সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছে।
গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, একটি বা দুই পা-ই হারিয়েছে গাজার এক হাজার শিশু।
ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ চায় মানবাধিকার কাউন্সিল
গাজায় গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। কারণ ইসরায়েলের হামলায় এরই মধ্যে গাজায় ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে সংস্থাটি। ৪৭ সদস্যের সংস্থাটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ২৮টি। বিপক্ষে ৬টি ও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে ১৩ দেশ।
জেনেভায় ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মেরাভ ইলন শাহার এই প্রস্তাবকে মানবাধিকার কাউন্সিল ও জাতিসংঘের জন্য একটি ক্ষত বলে নিন্দা করেছেন।
প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আরও লঙ্ঘন ও সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ করতে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি, হস্তান্তর বন্ধে দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় গণহত্যার যে ঝুঁকির কথা জানিয়েছিল সে বিষয়েও প্রস্তাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার ওআইসির পক্ষে মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রস্তাবটি পেশ করে পাকিস্তান। এতে দ্রুত যুদ্ধবিরতির ও জরুরি ত্রাণ প্রবেশের কথাও বলা হয়েছে।
গাজায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে
ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজাতে প্রায় ছয়মাস ধরে টানা যুদ্ধে হামলার পাশাপাশি ত্রাণ সরবরাহের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। এতে উপত্যকাটিতে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ। বিশেষ করে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা উত্তর গাজায়। সেখানে অনাহার এবং পানিশূন্যতায় বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে, গাজায় অনাহার এবং পানিশূন্যতায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর গাজার হাসপাতালগুলো ভরে যাচ্ছে অনাহারে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের দিয়ে। ওষুধ স্বল্পতার মধ্যেও তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন গাজার উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসকরা। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন তারা।
জাতিসংঘ বলছে, গাজায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলছে, উত্তর গাজায় দুই বছরের কম বয়সী ৩০ শতাংশ শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। এদিকে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছে দুই হাজারের বেশি শিশু।


banner close